× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
BNP accused of attacking the houses of leaders and workers before the rally
hear-news
player
google_news print-icon

সমাবেশের আগে নেতা-কর্মীদের বাড়িতে হামলার অভিযোগ বিএনপির

সমাবেশের-আগে-নেতা-কর্মীদের-বাড়িতে-হামলার-অভিযোগ-বিএনপির
বুধবারও সমাবেশস্থল পরিদর্শন করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ও ফরিদপুর জেলার নেতারা।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বিভাগীয় গণসমাবেশের প্রধান সমন্বয়কারী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘কতজনকে গ্রেপ্তার করবেন? দেশের মানুষ জেগে ওঠেছে। একজনকে গ্রেপ্তার করবেন এক শ জন জেগে উঠবে।’

ফরিদপুরে বিভাগীয় গণসমাবেশের আগে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে গ্রেপ্তার ও মা-বোনদের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বিভাগীয় গণসমাবেশের প্রধান সমন্বয়কারী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

বুধবার দুপুরে ফরিদপুর প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘গতকাল রাতে গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে নগরকান্দায় ৮ জন ও ফরিদপুরে ১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

ফরিদপুরের বিএনপি নেতা মিনান, পংকজ চেয়ারম্যান, লুৎফর, শাজাহান ও বাবুলের বাড়িতে হামলা ছাড়াও ছাত্রদল নেতা মোনায়েমকে থানায় আটকে রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জাহিদ বলেন, ‘কতজনকে গ্রেপ্তার করবেন? দেশের মানুষ জেগে ওঠেছে। একজনকে গ্রেপ্তার করবেন এক শ জন জেগে উঠবে।’

তার অভিযোগ, ১২ নভেম্বর ফরিদপুরের বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠানের জন্য রাজেন্দ্র কলেজের মাঠ চেয়ে চিঠি দিলেও অনেক টালবাহানা করে আব্দুল আজিজ ইন্সটিটিউট মাঠে অনুমতি দেয়া হয়েছে।

বাস মিনিবাস মালিক সমিতি শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে শনিবার সন্ধা ৬টা পর্যন্ত ধর্মঘট ডেকেছে। সমিতির নাম ব্যবহার করে আসলে পেছন থেকে সুতা টানছে সরকার।

বুধবার বিকেলে গণসমাবেশস্থল পরিদর্শনকালে ডা. জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘১২ নভেম্বর শনিবার সকাল ১১টা থেকে কোমরপুর স্কুল মাঠে গণসমাবেশ শুরু হবে। তবে যানবাহনে বাধা সহ সরকারের পক্ষ থেকে নানাভাবে বিঘ্ন সৃষ্টির কারণে বৃহস্পতিবার থেকেই নেতাকর্মীরা গণসমাবেশস্থলে অবস্থান নেবেন। সরকারের বাধার কারণে এই গণসমাবেশ ১০ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে শনিবার পর্যন্ত তিনদিন ধরে অনুষ্ঠিত হবে।’

এদিকে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ বলেছেন, আগামী ১২ নভেম্বর ফরিদপুরে বিএনপির গণসমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত হবে। ফরিদপুর বিভাগের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে এ সমাবেশে যোগ দিবে বিএনপির নেতা-কর্মীরা।

বুধবার দুপুরে ফরিদপুর প্রেস ক্লাবে আগামী ১২ নভেম্বর ফরিদপুর বিভাগীয় গণসমাবেশকে সামনে রেখে বিএনপির জেলা নেতাদের আয়োজনে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমাদের সমাবেশকে নস্যাৎ করতে আগের দিন আওয়ামী লীগ একটি কর্মসূচি দিয়েছে। অন্যদিকে ১১ ও ১২ নভেম্বর পরিবহন ধর্মঘটও ডাকা হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, তবুও সব বাঁধা উপেক্ষা করে ফরিদপুরে বিএনপির সমাবেশ সফল হবে। আমাদের নেতাক-র্মীরা এ সমাবেশ সফল করবে।’

সাংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ফরিদপুর বিভাগীয় গণসমাবেশের প্রধান সমন্বয়কারী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মাশুকুর রহমান মাসুক, মো. সেলিমুজ্জামান সেলিম, সাবেক সাংসদ খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, কেদ্রীয় মহিলাদলের যুগ্ম-সম্পাদক চৌধুরী নায়াবা ইউসুফ, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি মাহবুবুল হাসান ভুঁইয়া পিংকু, ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপনসহ আরও জেলার বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
অর্থনীতিকে ধ্বংসের কিনারায় নিয়ে গেছে সরকার: মোশাররফ
আগুন সন্ত্রাস করেছে আ.লীগের লোকজন: মির্জা আব্বাস
ফরিদপুরে সমাবেশের ‘বড় প্রস্তুতি’ বিএনপির
ঢাকায় সমাবেশ নিয়ে বিএনপিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সতর্কবার্তা
জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হলে আগুন সন্ত্রাসের বিচার হবে: আমীর খসরু

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
5 members of Ansar Al Islam remanded for seven days

জঙ্গি ছিনতাই: আনসার আল ইসলামের ৫ সদস্য ৭ দিনের রিমান্ডে

জঙ্গি ছিনতাই: আনসার আল ইসলামের ৫ সদস্য ৭ দিনের রিমান্ডে সিএমএম আদালত/ফাইল ছবি
ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত প্রাঙ্গণ থেকে গত ২০ নভেম্বর দুই জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় ২০ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা করেন পুলিশ পরিদর্শক জুলহাস উদ্দিন আকন্দ। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়।

ঢাকার বিচারিক আদালত প্রাঙ্গণ থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় করা মামলায় ৫ আসামিকে ৭ দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

যাত্রাবাড়ী থানার ২০১৪ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আলাদা একটি মামলায় তাদের রিমান্ডে পাঠায় আদালত।

ঢাকা মহানগর হাকিম শফি উদ্দিনের আদালত বুধবার রিমান্ডের এ আদেশ দেন।

পাঁচ আসামির মধ্যে রয়েছে খাইরুল ইসলাম ওরফে জামিল, মোজাম্মেল হোসেন সাইমন, আরাফাত রহমান, শেখ আব্দুল্লাহ ও আ. সবুর। তারা সবাই জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্য।

এই ৫ আসামিকে যাত্রাবাড়ী থানার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনসহ ১৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিটিটিসির উপ-পরিদর্শক মুহাম্মদ মুসাদ্দিমুল হক।

ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত প্রাঙ্গণ থেকে গত ২০ নভেম্বর দুই জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় ২০ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা করেন পুলিশ পরিদর্শক জুলহাস উদ্দিন আকন্দ। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়।

সেদিন সকালে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলার ১২ আসামিকে কাশিমপুর-২ কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে ঢাকার আদালতে আনা হয়।

সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকার প্রসিকিউশন বিভাগে আসামিদের হাজিরা দেয়ার জন্য সিজেএম আদালত ভবনে সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনাল-৮-এ নিয়ে যাওয়া হয়। মামলার শুনানি শেষে জামিনে থাকা দুই আসামি মো. ঈদী আমিন ও মেহেদী হাসান অমি ওরফে রাফি আদালত থেকে বের হয়ে যান।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কোর্টের শুনানি শেষে প্রথমে চারজনকে নিচে নামিয়ে আনা হয়। দুটি হাতকড়া দিয়ে দুজনকে আটকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। বাকি আসামিরা তখন ওপরে ছিলেন।

চারজনের মধ্যে মইনুল হাসান ও আবু সিদ্দিককে জঙ্গিরা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তবে মো. আরাফাত ও মো. সবুরকে নিতে পারেনি। জঙ্গিরা পেপার স্প্রে ব্যবহার করে। এতে একজন সিকিউরিটি গার্ড, একজন পুলিশ সদস্যসহ কয়েকজন সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হন।’

আরও পড়ুন:
জঙ্গি ছিনতাইয়ের আসামি ঈদী আমিনের ৩ আশ্রয়দাতা কারাগারে
জঙ্গি ছিনতাই মামলায় ১০ আসামি আরও ৫ দিনের রিমান্ডে
জঙ্গি ছিনতাই মামলায় একজনের আত্মসমর্পণ, চার দিনের রিমান্ড
২৯ বছর ধরে ঝুলে থাকা মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ
‘কারাবন্দি জঙ্গি ও ছিনতাই টিম সমন্বয় করেন অমি’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Mother arrested for the death of 2 children in a locked room

তালাবদ্ধ ঘরে পুড়ে ২ শিশুর মৃত্যুতে মা গ্রেপ্তার

তালাবদ্ধ ঘরে পুড়ে ২ শিশুর মৃত্যুতে মা গ্রেপ্তার
ওসি মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘শিশুদের বাবা মানিক বৈদ্য ৪ থেকে ৫টি মামলার আসামি। একটি মামলায় তিনি এখন কারাগারে। তার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই কলহ চলছিল স্ত্রী পূর্ণিমার। তিনি অভিমানে ঘরে আগুন দিয়ে পালিয়ে যান।’

মাদারীপুর সদরে তালাবদ্ধ ঘরে পুড়ে দুই ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় তাদের মাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সন্তানদের হত্যার কথা তিনি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন ওসি।

রাজধানীর কাকরাইল এলাকা থেকে মঙ্গলবার বিকেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন চৌধুরী।

গ্রেপ্তার পূর্ণিমা বৈদ্য সদর উপজেলার শিরখাড়া ইউনিয়নের শ্রীনদী এলাকার মানিক বৈদ্যর স্ত্রী। সদর উপজেলার ঝিকরহাটি এলাকার টিনশেড ঘরে দুই সন্তানকে নিয়ে তারা ভাড়া থাকতেন।

ওই ঘরে গত সোমবার দুপুরে হঠাৎ আগুন জ্বলতে দেখে প্রতিবেশীরা। বাইরে থেকে তালা দেয়া দরজা ভেঙে পানি দিয়ে তারা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। ততক্ষণে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিভিয়ে ভেতরে দুই শিশুকে পুড়ে যাওয়া অবস্থায় পায়। এর মধ্যে দেড় বছরের মানদ ঘটনাস্থলেই মারা যায়। আড়াই বছরের রুদ্রকে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর থেকেই লাপাত্তা ছিলেন শিশুদের মা।

ওসি মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘শিশুদের বাবা মানিক বৈদ্য ৪ থেকে ৫টি মামলার আসামি। একটি মামলায় তিনি এখন কারাগারে। তার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই কলহ চলছিল স্ত্রী পূর্ণিমার। তিনি অভিমানে ঘরে আগুন দিয়ে পালিয়ে যান।

‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পূর্ণিমা সন্তানদের হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। শিশু দুটির চাচি রত্মা রানী থানায় পূর্ণিমার নামে মামলা করেছেন।’

আরও পড়ুন:
পুলিশের সামনে থেকে ধরে নিয়ে যুবলীগ নেতাকে হত্যা
কিশোরকে হত্যার অভিযোগ প্রেমিকার পরিবারের বিরুদ্ধে
রায়পুরায় কলাবাগানে দুই মরদেহ: একজনের পরিচয় শনাক্ত
ঘুমন্ত অবস্থায় আগুন লেগে কনস্টেবলের মৃত্যু
সগিরা মোর্শেদ হত্যা: সাক্ষ্য গ্রহণ ১২ ডিসেম্বর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Action against doctors for providing services in unregistered hospitals

নিবন্ধনহীন হাসপাতালে সেবা দিলে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

নিবন্ধনহীন হাসপাতালে সেবা দিলে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ঢাকার অনুমোদনহীন আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালে (ডানে) শিশু মাইশার মৃত্যুর পর চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
সম্প্রতি ঢাকার রূপনগরের আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালে হাতের আঙুলে অস্ত্রোপচারের সময় মারা যায় কুড়িগ্রামের ছয় বছর বয়সী শিশু মারুফা জাহান মাইশা। এরপর বেরিয়ে আসে হাসপাতালটি অনুমোদন ছাড়াই চলছিল। বিষয়টি নিয়ে সোমবার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজবাংলা। এর এক দিন পরেই চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা দিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

নিবন্ধনহীন হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সেবা দেয়ার বিষয়ে চিকিৎসকদের সতর্ক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের নোটিশে বলা হয়েছে, নিবন্ধনহীন এসব প্রতিষ্ঠানে সেবা দিলে দায়ভার সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে বহন করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিষয়টি জানতে পারলে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক মাজহারুল হক তপনের সই করা নোটিশে মঙ্গলবার এ কথা জানানো হয়। বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন, অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল) মাহমুদুর রহমান।

সম্প্রতি ঢাকার রূপনগরের আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালে হাতের আঙুলে অস্ত্রোপচারের সময় মারা যায় কুড়িগ্রামের ছয় বছর বয়সী শিশু মারুফা জাহান মাইশা। এরপর বেরিয়ে আসে হাসপাতালটি অনুমোদন ছাড়াই চলছিল।

বিষয়টি নিয়ে সোমবার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজবাংলা। এর এক দিন পরেই চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা দিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

আরও পড়ুন: শিশু মাইশার মৃত্যু: অনুমোদন ছাড়াই চলছিল ঢাকার সেই হাসপাতাল

মাইশার মৃত্যুর পর থেকে রাজধানীর রূপনগরের আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালটির সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। মাইশাকে ওই হাসপাতালে পাঠানো এবং অস্ত্রোপচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন মাইশার বাবা।

অধিদপ্তরের নোটিশে বলা হয় দেশের সব বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে অনলাইন নিবন্ধন ও লাইসেন্স প্রক্রিয়ায় আনার চেষ্টা চলছে। বেশির ভাগ ক্লিনিক, হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেটাবেসে অন্তর্ভুক্ত। সবগুলোর সেন্টারের ডিসপ্লেতে তাদের লাইসেন্স নম্বর দেখানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়, এখনও কিছু বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত না হয়ে অবৈধভাবে চলছে। তাই সব চিকিৎসককে কোনো হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নিবন্ধন সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে সেবাদানের নির্দেশ দেয়া হলো।

‘এরপরও নিবন্ধনহীন এসব প্রতিষ্ঠানে সেবা দিলে তার দায়ভার সেই চিকিৎসক বহন করবেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ বিষয়ে জানতে পারলে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আহমেদুল কবির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কোনো চিকিৎসক অনিবন্ধিত জানার পরেও কোনো প্রতিষ্ঠানে সেবাদান করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আমরা বিএমডিসিকে সুপারিশ করব। আমরা কখনোই সেই চিকিৎসকের হয়ে কথা বলব না। কারণ তাদের বলাই হয়েছে নিবন্ধন আছে কি না, দেখে নিতে।

‘তাদের তো চোখ আছে। এরপরও সেটা না মানলে তার রেজিস্ট্রেশন পর্যন্ত বাতিল হয়ে যেতে পারে। আর এ ব্যাপারটি দেখভাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সচেষ্ট থাকবে।’

আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালের ঘটনা জানার পর নির্দেশনা দেয়ার বিষয়টি জোরদার হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের এই প্রক্রিয়া প্রায় ৭-৮ মাস ধরে চলমান ছিল। এই ঘটনাটা বিষয়টিকে আরও বেশি নজরে এনেছে। মাইশার অস্ত্রোপচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনজন চিকিৎসকের ব্যাপারেও বিএমডিসি সিদ্ধান্ত নেবে।’

আরও পড়ুন:
এক দিন রোগী ভুগিয়ে কাজে ফিরলেন চিকিৎসকরা
চিকিৎসক ধর্মঘটে অবর্ণনীয় কষ্টে রোগীরা
স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য পেছাল
৬২৭ ফার্মাসিস্ট নিচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
কাশিয়ানী হাসপাতালে অতিপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ সরবরাহ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Death of Tarek Mishuk Dr Haque is respectful despite the anger of fellow passengers

তারেক-মিশুকের ‍মৃত্যু: সহযাত্রীদের ক্ষোভেও শ্রদ্ধাশীল ড. হক

তারেক-মিশুকের ‍মৃত্যু: সহযাত্রীদের ক্ষোভেও শ্রদ্ধাশীল ড. হক তারেক মাসুদ, মিশুক মুনীর ও চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্সের বাসের চালক জামির হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
অধ্যাপক সামছুল হকের গবেষণাকে ‘বিজ্ঞানের দোহাই দেয়া মনগড়া’ আখ্যায়িত করে বিবৃতি দিয়েছেন ক্যাথরিন মাসুদ, নাহিদ মাসুদ, দিলারা বেগম জলি, ঢালী আল মামুন, মনিস রফিক, মো. সাইদুল ইসলাম সাঈদ ও মঞ্জুলী কাজী। এর পরিপ্রেক্ষিতে ড. সামছুল হক বলছেন, তিনি মাইক্রোবাসে তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরদের সহযাত্রী-স্বজনদের ক্ষোভের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, তবে তার অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য ‘বিজ্ঞানের রূঢ় বাস্তবতা’।

মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় খ্যাতিমান চিত্রপরিচালক তারেক মাসুদ এবং শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরীর ছেলে এটিএন নিউজের সাবেক প্রধান নির্বাহী মিশুক মুনীর নিহত হওয়ার মামলায় বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পান বাসচালক জামির হোসেন।

বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল নিষ্পত্তির আগেই কারাবন্দি অবস্থায় ২০২০ সালের ১ আগস্ট মারা যান জামির। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকার সময়ে ঈদের দিন তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন, পরে রাজধানীর একটি হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান।

দুর্ঘটনার জন্য বিচারিক আদালতে জামির দোষী সাব্যস্ত হলেও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. সামছুল হকের অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, বাসচালক জামির ছিলেন ‘নির্দোষ’। তিনি মনে করছেন, জামির হোসেন নয়, ওই দুর্ঘটনার মূল দায় ছিল তারেক মাসুদদের বহনকারী মাইক্রোবাসের চালক মোস্তাফিজুর রহমানের। দুর্ঘটনায় মোস্তাফিজও মারা যান।

তবে অধ্যাপক সামছুল হকের গবেষণাকে ‘বিজ্ঞানের দোহাই দেয়া মনগড়া’ আখ্যায়িত করে তা প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিয়েছেন ক্যাথরিন মাসুদ, নাহিদ মাসুদ, দিলারা বেগম জলি, ঢালী আল মামুন, মনিস রফিক, মো. সাইদুল ইসলাম সাঈদ ও মঞ্জুলী কাজী।

তাদের অভিযোগ, অধ্যাপক হক বাস মালিক-শ্রমিক নেতাদের মতো ‘স্বার্থান্বেষী মহলের মদতপুষ্ট হয়ে’ এমন কাজ করেছেন।

তারেক-মিশুকের ‍মৃত্যু: সহযাত্রীদের ক্ষোভেও শ্রদ্ধাশীল ড. হক
তারেক মাসুদ (বাঁয়ে) ও মিশুক মুনীর

এই বিবৃতির পরিপ্রেক্ষিতে ড. সামছুল হক বলছেন, তিনি মাইক্রোবাসে তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরদের সহযাত্রী-স্বজনদের ক্ষোভের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, তবে তার অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য ‘বিজ্ঞানের রূঢ় বাস্তবতা’।

যা আছে বিবৃতিতে

নাহিদ মাসুদ শুক্রবার সবার পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমে বিবৃতিটি পাঠান।

এতে বলা হয়, ‘মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক অধ্যাপক সামছুল হক যে অপপ্রচার চালাচ্ছেন আমরা ওই দুর্ঘটনায় আহত এবং নিহত চলচ্চিত্র কর্মীদের স্বজন ক্ষুব্ধ, আশ্চর্য ও মর্মাহত।

“দুর্ঘটনার এক দশক পরে, এ ব্যাপারে মাননীয় আদালতে একটি মামলার রায় নিষ্পত্তি হওয়ার পর এবং একটি মামলা এখনও বিচারাধীন থাকা অবস্থায় এই শিক্ষক ও তার সহযোগী গোষ্ঠী সুপরিকল্পিতভাবে তার ভাষায় একটি ‘বিজ্ঞানসম্মত’ ব্যাখ্যা দিয়ে বলছেন– বাসের চালক নয়, একটি ভ্যানচালক ও চলচ্চিত্র কর্মীদের গাড়ির চালক ভুল দিকে ছিল বলে সংঘর্ষ হয়েছে।”

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘দুই বছর আগেও তিনি এই নিয়ে আলোচনা সভা করেছেন ও অনলাইন মিডিয়াতে তার মতবাদ প্রকাশ করেছেন। আমরা তখন কোনো জবাব দিইনি, কারণ যা সত্য তা অনেক আগেই প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। সম্প্রতি তিনি একই মতবাদ আবার শুধু নিজে প্রচার নয়, উচ্চপর্যায়ের সরকারি ও সরকারি দলের কর্তা ব্যক্তিদের মাঝে প্রচারণা ও উসকানি ছড়াচ্ছেন।

‘কর্তা ব্যক্তিদের একজন এমন মন্তব্য করেছেন যা শুধু আমাদের কেন, আইনের শাসনব্যবস্থার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন। আমরা মনে করি, এহেন একজন ব্যক্তিবিশেষের মতবাদকে সত্য বলে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বাস মালিক শ্রমিক নেতাদের মতো স্বার্থান্বেষী মহলের মদদপুষ্ট।’

তারেক-মিশুকের ‍মৃত্যু: সহযাত্রীদের ক্ষোভেও শ্রদ্ধাশীল ড. হক
তারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদ

ঘটনাস্থলের যেসব ছবি, ভিডিও এবং অডিও দিয়ে অধ্যাপক হক তার মতবাদ জোরালো করেছেন তা দুর্ঘটনার দিন থেকে জনগণের কাছে উন্মুক্ত ছিল বলেও উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।

এতে বলা হয়, ‘দুর্ঘটনাস্থলে কোনো সিসিটিভি ছিল না, কাজেই ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শী এবং গাড়ির জীবিত যাত্রীরা প্রকৃত ঘটনার সবচেয়ে সুনির্দিষ্ট বর্ণনা দিতে পারবেন। অধ্যাপক হকের তথাকথিত বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ, তার প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি ধারণামাত্র। তার কাছে যদি তথ্য থেকেও থাকে তবে তা বড়জোর আংশিক, কারণ তিনি গাড়ির জীবিত কোনো যাত্রীর সঙ্গে কথা বলেননি।

‘মামলা চলাকালীন আদালতে সাক্ষ্য দেয়ার কথাও ভাবেননি আর মামলার বিবাদী পক্ষও তাকে সাক্ষী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেনি। অন্যদিকে জীবিত সাক্ষীরা আদালতে জবানবন্দিতে আমরা যা দেখেছি তাই বলেছি– মাইক্রোবাস বাঁ লেনেই ছিল। ওই ভয়ানক মুহূর্তটি আমরা কখনও ভুলব না।’

তারেক-মিশুকের ‍মৃত্যু: সহযাত্রীদের ক্ষোভেও শ্রদ্ধাশীল ড. হক
মানিকগঞ্জে সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর প্রশস্ত করা হয়েছে রাস্তার বাঁক, বসানো হয়েছে ডিভাইডার

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমাদের আশঙ্কা বাস মালিক-শ্রমিক নেতাদের স্বার্থ রক্ষার্থে এই অপপ্রচার করা হচ্ছে। আমরা আহ্বান জানাব, এ ধরনের অপপ্রচারের মাধ্যমে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সবাইকে আর অপমানিত করা হবে না।

‘এই সড়ক দুর্ঘটনার মীমাংসিত ও চলমান মামলাগুলোকে বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় একটি যুগান্তকারী মাইলফলক, তাকে অযথা প্রশ্নবিদ্ধ করলে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত যাত্রী ও চালকদের পরিবার ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করার বিশ্বাস হারিয়ে ফেলবে। এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না।’

বিজ্ঞান রূঢ়, কিন্তু বিজ্ঞান দিয়েই বিশ্লেষণ করেছি: ড. সামছুল হক

এই বিবৃতির পরিপ্রেক্ষিতে পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপক ড. সামছুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওনারা যেহেতু ভিকটিমের ফ্যামিলি, আমি তাদের শ্রদ্ধা জানাই। প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই তারা তাদের মতো করে দেবেন। তবে আমরা যারা গবেষণা করি তারা কোনো পক্ষে-বিপক্ষে নয়, বরং বিজ্ঞানের মাধ্যমে সত্যটাকে অনুধাবনের জন্য করি।’

তিনি জানান, নিজের গবেষণাটি তিনি আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে ও মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী সারা হোসেনকে অনেক আগেই দেখিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আইনমন্ত্রী নিজেও বলেছেন, সড়কের দুর্ঘটনা রিপোর্টগুলো আমাদের প্রচলিত পদ্ধতিতে দেয়া উচিত নয়।’

গবেষণাটি করার পেছনে দুটি লক্ষ্য রয়েছে অধ্যাপক সামছুল হকের। প্রথমটি হলো, বিচারিক আদালতে এ ধরনের মামলার বিচারের ক্ষেত্রে যেন একটি বিশেষ কারিগরি কমিটি গঠন করা যায়। অন্যটি হলো, এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেন আর না ঘটে।

তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনার পেছনে গাড়ির ত্রুটি দায়ী থাকতে পারে, অপারেশনে ত্রুটি থাকতে পারে, এনফোর্সমেন্ট ত্রুটি থাকতে পারে এগুলো বেশ জটিল। বাইরের দেশে ইনস্যুরেন্স ক্লেইম দিতে হয়ে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক একটি আলাদা তদন্ত হয়। তবে বাংলাদেশে এমন ব্যবস্থা বা তদন্তের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।’

তারেক-মিশুকের ‍মৃত্যু: সহযাত্রীদের ক্ষোভেও শ্রদ্ধাশীল ড. হক
পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপক ড. সামছুল হক

ড. হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই মেসেজটা দেয়াই ছিল আমার মূল উদ্দেশ্য, যাতে করে আমরা এ ধরনের বিচারগুলো বিশেষ দৃষ্টিতে দেখি এবং এ ধরনের ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয়।’

তিনি বলেন, ‘আমার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টে দুর্ঘটনাটির প্রথম দায় দিয়েছি সড়ক বিভাগকে। আমার কমিউনিটি, আমার শিক্ষার্থীরা এতে রাগ করবেন কি না, আমি সেটা বিবেচনায় নিইনি। তথ্য-উপাত্ত নির্দেশ করছিল, ওই রাস্তার যথেষ্ট ত্রুটি ছিল। এর দায় তারা এড়াতে পারে না।

‘সেই সঙ্গে বিআরটিএ দায় এড়াতে পারে না। গাড়িটি দুই বছর ধরে ফিটনেসবিহীন, রুট পারমিটবিহীন চলছিল। পুলিশও এর দায় এড়াতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘তারপর আমি এসেছি বিচার-বিশ্লেষণে। এতে দেখেছি যেভাবে তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করে বাসচালকের দায় নির্ধারণ করা হয়েছে, সেই প্রক্রিয়াটি বিশুদ্ধ ছিল না। আমার দৃষ্টিতে এখানে একটা নিরপেক্ষ বিচার হয়নি। আমি সেই বার্তাটি দিতে চেয়েছি। আমি যদি ভিকটিম পরিবারের হতাম, হয়তো আমিও এতে ক্ষুব্ধ হতাম।’

ড. সামছুল হকের মতে, বিজ্ঞান হলো এমন একটা বিষয় যা সব সময় সত্যকে তুলে ধরে।

তিনি বলেন, ‘আমি তাদের (বিবৃতি দানকারীদের) অনুভূতিকে শ্রদ্ধা জানাই। সেখানে তথাকথিত বা এ ধরনের অন্য কিছু তারা বলে থাকলেও, আমি মনে করি এটা অনুভূতির একটি বহিঃপ্রকাশ। তবে বিজ্ঞান রূঢ়। এই বিজ্ঞানের সাহায্যে আমি ঘটনাটিকে বিশ্লেষণ করেছি।

‘আমার মোদ্দা কথা হলো, কোথাও আগুন ধরার ঘটনা পরে বিচারিক আদালতে গড়ালে, সেখানে কিন্তু বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট বা ইলেকট্রিক ম্যালফাংশনের বিষয়গুলো চিহ্নিত করতে একটা বিশেষজ্ঞ টিম থাকে। এটা হলো টেকনিক্যাল ব্যাপার। পুরো পৃথিবীতে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে যে তদন্তটি হয় সেটি সবচেয়ে জটিল।’

মাইক্রোবাস আরোহীদের সঙ্গে কথা না বলা, সিসিটিভি ফুটেজ না থাকার যে বিষয়গুলো বিবৃতিতে এসেছে তা নিয়েও কথা বলেন ড. সামছুল হক।

তিনি বলেন, ‘বিশ্লেষণ যদি পুরোটা দেখা হয়, তাহলে দেখা যাবে কী পরিমাণ তথ্য-উপাত্ত সেখানে রয়েছে। তারা বললেন, এই দুর্ঘটনার ছবি সবার কাছে আছে। কিন্তু ‍তারা যদি এটার বিশ্লেষণটা দেখতেন, আমার ধারণা তারা এভাবে কথা বলতেন না।’

তারেক-মিশুকের ‍মৃত্যু: সহযাত্রীদের ক্ষোভেও শ্রদ্ধাশীল ড. হক
ড. সামছুল হকের অনুসন্ধানের ভিত্তিতে নির্মিত ডক্যুফিল্ম ‘সোশ্যাল ক্রসফায়ার’-এর একটি দৃশ্য

অনুভূতি বা প্রতিক্রিয়া এবং বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানকে আলাদা রাখতে চান অধ্যাপক হক। তিনি বলেন, ‘ছবি-তথ্য সবার কাছে আছে, কিন্তু একজনও রিড করতে পারেননি। দুর্ঘটনা বড় গাড়ি ও ছোট গাড়ির মধ্যে হলে কে কাকে ঠেলে সরিয়ে দেয়? প্রথমটি হলো সংঘর্ষ ঘটার অবস্থান, অপরটি সর্বশেষ অবস্থান। সর্বশেষ অবস্থানটা কিন্তু দুর্ঘটনার স্থান নয়।

‘ওনারা সত্যিকার অর্থে আমার প্রেজেন্টশনটা দেখলে হয়তো এটা বলতেন না। তখন তারা বিষয়টি জানতেন, তখন এমন কথা বলতে গেলে দ্বিধা হতো।’

সবার জন্য তার গবেষণাটি উন্মুক্ত জানিয়ে সামছুল হক বলেন, ‘আমি ওপেন মাইন্ডেড। যে কেউ যদি ব্যাখ্যা চায়, আমি আছি। দ্বিমত থাকতে পারে, কিন্তু আমি প্রচুর সময় দিয়ে বিশ্লেষণটি করেছি। যাতে বিজ্ঞানকে আমার মতো করে ব্যাখ্যা না করি।

‘দ্রুত ও বেপরোয়া গতির গতানুগতিক ধারণার বাইরেও যে বিজ্ঞান আছে, এর বাইরেও যে অন্য কোনো পক্ষের দায় থাকতে পারে, এই সিদ্ধান্তে আসতে গেলে উদারদৃষ্টি থাকতে হয়। উদার দৃষ্টি তৈরি হয় বিশ্লেষণগুলো দেখার পর। আমার কাজটি ছিল সেই বিশ্লেষণ তুলে ধরা। কেউ যদি স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে ব্যাখ্যা চায় আমি দিতে প্রস্তুত। কারণ জ্ঞান সমাজের জন্য, দেশের জন্য, উন্নয়নের জন্য।’

কী আছে ড. সামছুল হকের অনুসন্ধানে

মর্মান্তিক ওই সড়ক দুর্ঘটনাটি নিয়ে নিউজবাংলাকে এর আগে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছিলেন অধ্যাপক সামছুল হক। সে সময় তিনি বলেন, ‘তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরের মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। ওই দুর্ঘটনার পর পরই আমি এর কারণ গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে শুরু করি। অনুসন্ধানের একদম শুরুতে কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সাংবাদিক আমাকে ব্যাপক সহযোগিতা করেছিলেন।

‘তারা প্রথম দিনে ঘটনাস্থলের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছবি আমাকে পাঠিয়েছিলেন। কিছু ছবি তোলা হয়েছিল উঁচু গাছ থেকে, যেগুলো আমার কাছে ছিল সারকামসটেন্সিয়াল এভিডেন্সের মতো। সেসব ছবি দেখে আমি বুঝেছিলাম, এখানে অনেক কিছু বলার মতো বিষয় লুকিয়ে আছে।’

তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের কাছ থেকে আরও বেশ কিছু কনটেন্ট পেয়েছিলাম। এর মধ্যে একটি ভিডিও ছিল, যেখানে বাসের উইন্ডশিল্ডের কাছে বসা একজন নারীর কথা ছিল। তার সাবলীল বিবরণ থেকে আমি বুঝতে পেরেছিলাম, দুর্ঘটনাস্থল থেকে অনেক নতুন কিছু পাওয়ার আছে।’

তারেক-মিশুকের ‍মৃত্যু: সহযাত্রীদের ক্ষোভেও শ্রদ্ধাশীল ড. হক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাখা সেই মাইক্রোবাসটির সামনে ক্যাথরিন মাসুদ

ড. সামছুল হক নিজেও পরদিন দুর্ঘটনাস্থলে যান। বিভিন্ন আলামত নিবিড় পর্যবেক্ষণ করার পাশাপাশি কথা বলেন স্থানীয় লোকজন ও তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘একে একে বিভিন্ন বিষয় আমার কাছে স্পষ্ট হচ্ছিল, সেই সঙ্গে সাধারণ বিবরণের মধ্যে গোঁজামিলগুলোও ধরা পড়ছিল। তখনও আমি দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসটি ভালোভাবে দেখতে পারিনি। ওটা একদম চ্যাপ্টা হয়ে গিয়েছিল। মাইক্রোবাসে কে কার পাশে বসেছিলেন, সেটা তখনও আমি জানতাম না।’

তিনি বলেন, ‘অনুসন্ধানের পাশাপাশি তদন্ত কমিটির রিপোর্টের অপেক্ষা করছিলাম। তিন সদস্যের এ কমিটির সঙ্গে আমার একজন সাবেক ছাত্রও যুক্ত ছিলেন। তিনি আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন। একই সঙ্গে আমার কাছে যেসব তথ্য-প্রমাণ ছিল, সেগুলো একসূত্রে গাঁথার চেষ্টা করছিলাম। তবে এর মধ্যে খণ্ড খণ্ড বেশ কিছু মিসিং লিংক ছিল।

‘এর মধ্যেই ডেইলি স্টারে তারেক মাসুদের সহকারী মনিস রফিকের একটি সাক্ষাৎকার ছাপা হয়। মনিস ছিলেন মাইক্রোবাসচালকের ঠিক পাশের আসনে; দুর্ঘটনায় তিনিও সামান্য আহত হন। মনিসের বক্তব্য থেকে এমন কিছু বিষয় পাই, যেটি আমার প্রাথমিক অনুসন্ধানকে একটি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে সাহায্য করে।’

ড. সামছুল হক বলেন, ‘সাধারণভাবে যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগে গাড়ির হার্ড ব্রেক কষার কথা। হার্ড ব্রেক অ্যাপ্লাই করলে রাস্তায় একটি স্কিড মার্ক পাওয়া যায়। আর সেই স্কিড মার্ক পেলে গাড়ির আসল অবস্থান চিহ্নিত করা যায়। অথচ আমি রাস্তায় কোনো স্কিড মার্ক পাইনি।

‘আমরা যারা দুর্ঘটনা বিষয়ে কাজ করি, তাদের কাছে বিষয়টি গোলমেলে। আমি তখন ভাবার চেষ্টা করছিলাম, বৃষ্টির কারণেই রাস্তায় হয়তো স্কিড মার্ক নেই। তবে সেটা মিলছিল না। স্কিড মার্ক এমন একটি বিষয় যার কোনো না কোনো চিহ্ন থাকবেই। কারণ এ সময় চাকার প্রচণ্ড ঘর্ষণে রাস্তার পাথরকুচি উঠে যায়।’

তারেক-মিশুকের ‍মৃত্যু: সহযাত্রীদের ক্ষোভেও শ্রদ্ধাশীল ড. হক
মানিকগঞ্জ থেকে ঢাকায় ফেরার পথে তারেক মাসুদ, মিশুক মুনীরদের দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাস

তিনি বলেন, ‘তাহলে কেন এ ধরনের চিহ্ন নেই- সেটি নিয়ে ঘুরপাক খাচ্ছিলাম। অবশেষে সেই প্রশ্নের জবাব পাওয়া গেল মনিস রফিকের সাক্ষাৎকারে। তিনি বলেছিলেন, সেদিন মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। মাইক্রোবাসের পেছন দিকে যাত্রীরা মুখোমুখি বসে তুমুল আড্ডায় মেতেছিলেন। তার কথার প্রতিটি বিষয় আমার সামনে একেকটি চিত্র তৈরি করছিল। মাইক্রোবাসে মুখোমুখি কী করে বসা যায়! তার মানে সেটির আসনে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। মনিস আরও বলেন, হঠাৎ একটি বাস দৈত্যের মতো তাদের মাইক্রোবাসে আঘাত করে।’

এই ‘হঠাৎ’ শব্দটি অনেক প্রশ্নের জবাব পাইয়ে দেয় ড. শামছুল হককে। তিনি বলেন, ‘হঠাৎ হলেই তো গাড়ির স্কিড মার্ক পাওয়া যায় না! কিছু দূর আগে থেকে দেখতে পেলেও হার্ড ব্রেক কষা সম্ভব, কিন্তু কী এমন পরিস্থিতি সেখানে তৈরি হয়েছিল যে কারণে বাসটিকে তারা হঠাৎ দেখতে পেলেন!’

এরপর আবার দুর্ঘটনাস্থলে যান ড. সামছুল হক। এ সময় স্থানীয় একজনের বক্তব্য পাওয়া যায়। এ ছাড়া পত্রিকায় প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের বক্তব্য ছাপা হয়।

এসব থেকে পরিষ্কার হয়, দুর্ঘটনার ঠিক কিছু আগে একটি বড় বাস রাস্তার বাঁকে দাঁড়িয়ে থাকা একটি অটোরিকশাকে ওভারটেক করে। ওই বাসটির পিছু পিছু একই দিকে যাচ্ছিল তারেক মাসুদদের মাইক্রোবাস। ওই বাসটির পিছু নিয়ে তারেক মাসুদদের মাইক্রোবাসটি অটোরিকশাকে একইভাবে ওভারটেক করতে বাঁকের মুখে নিজের ডান লেনে চলে গিয়েছিল। এ সময়েই বাঁকের বিপরীত দিক থেকে আসা জামির হোসেনের বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির সংঘর্ষ হয়।

তারেক-মিশুকের ‍মৃত্যু: সহযাত্রীদের ক্ষোভেও শ্রদ্ধাশীল ড. হক
ড. সামছুল হকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দুর্ঘটনার ঠিক আগমুহূর্তে মাইক্রোবাস ও বাসের অবস্থান

ড. সামছুল হক বলেন, ‘অটোরিকশাকে ওভারটেক করা বাসটির চালক কিন্তু বাঁকের অন্য প্রান্তে বিপরীত দিক থেকে আসা চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্সের বাসটিকে দেখতে পেয়েছিলেন। এর পরও তিনি ক্যালকুলেটেড (হিসাব করা) ঝুঁকি নিয়ে অটোরিকশাকে ওভারটেক করে আবার নির্ধারিত বাঁ লেনে বাসটিকে ফিরিয়ে নিয়ে যান। মহাসড়কে চলাচলকারী বাস-ট্রাক সাধারণত এ ধরনের হিসাবি ঝুঁকি নিতে অভ্যস্ত।

‘তারেক মাসুদদের মাইক্রোবাসটিও সামনের বাসটিকে অনুসরণ করে ডান লেনে চলে যায়। তবে একজন শহুরে চালকের জন্য কাজটি ছিল মারাত্মক ভুল। সামনের বাসের মতো তিনি আর মাইক্রোবাসকে আবার বাঁ লেনে নিতে পারেননি। আর এই ভুলের কারণেই বিপরীত দিক থেকে আসা চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্সের বাসটির সঙ্গে মাইক্রোবাসের সংঘর্ষ হয়।’

বিপরীত দিকের বাসের চালক জামির বাঁকের মুখে নিজের সঠিক বাঁ লেনেই ছিলেন বলে মনে করছেন ড. সামছুল হক।

তিনি বলেন, ‘উল্টো দিকে আকস্মিকভাবে ভুল লেনে চলে আসা মাইক্রোবাসের বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্সের বাসচালক জামির হোসেনের কোনো প্রস্তুতি ছিল না। কারণ বাঁকের উল্টো দিক থেকে তিনি মাইক্রোবাসটিকে দেখতেই পাননি। আর এ জন্যই সেই হঠাৎ দুর্ঘটনা, যেখানে বাসচালক ব্রেক কষারও সময় পাননি।’

তারেক-মিশুকের ‍মৃত্যু: সহযাত্রীদের ক্ষোভেও শ্রদ্ধাশীল ড. হক
মাইক্রোবাসের সঙ্গে যেভাবে বাসের সংঘর্ষ

দুর্ঘটনার পর মাইক্রোবাসটিকে বিধ্বস্ত অবস্থায় রাস্তায় এর বাঁ দিকের লেনে পাওয়া যায়। ফলে মামলার রায়ে বিচারিক আদালতের বিচারক বিষয়টির উল্লেখ করে বলেন, ‘অবস্থাদৃষ্টে প্রতীয়মান হয় যে মাইক্রোবাসটি তার সঠিক লেনেই ছিল।’

তবে ড. সামছুল হক বলেন, এখানে বোঝার ভুল আছে। বিষয়টির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা ড. সামছুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, “সাংবাদিক বন্ধুদের কাছ থেকে আমি দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসটির টার্মিনাল পজিশনের বেশ কিছু ছবি পেয়েছিলাম। একটি দুর্ঘটনাকে বিশ্লেষণের জন্য ‘টার্মিনাল পজিশন’ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা হলো দুর্ঘটনার পর মাইক্রোবাসটির চূড়ান্ত অবস্থান।”

তারেক-মিশুকের ‍মৃত্যু: সহযাত্রীদের ক্ষোভেও শ্রদ্ধাশীল ড. হক
মাইক্রোবাসে যাত্রীদের অবস্থান এবং যেভাবে আঘাত

তিনি বলেন, “এখানে লক্ষ করার বিষয় হলো, একটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষের পর কোনো মাইক্রোবাস যদি তার ‘সঠিক’ লেনে থাকে (যদিও সে অবস্থানটিও ছিল রাস্তার মাঝ বরাবর), তাহলে ধরে নিতে হবে দুর্ঘটনার আগের চিত্র ছিল অন্যরকম। কারণ একটি বাসের যে ভর ও গতি, তাতে সংঘর্ষের পর মূল অবস্থান থেকে মাইক্রোবাসটির বেশ কিছুটা দূরে সরে যাওয়ার কথা। মাইক্রোবাসের জীবিত আরোহীদের বক্তব্যেও সেটি জানা গেছে। ফলে দুর্ঘটনার পর মাইক্রোবাসটিকে রাস্তার মাঝ বরাবর পাওয়ার অর্থ হলো, প্রকৃতপক্ষে সেটি রং সাইডে ছিল। ধাক্কা খাওয়ার পর এর টার্মিনাল পজিশনটি পাওয়া গিয়েছিল মধ্যরাস্তায়।

“আর দুর্ঘটনার আগে মাইক্রোবাসটি সত্যিই নিজের বাঁ লেনে থাকলে ধাক্কা খাওয়ার পর সেটির রাস্তার কিনারায় বা রাস্তার পাশে চলে যাওয়ার কথা ছিল। এটাই হলো বিজ্ঞান। অথচ বিচারপ্রক্রিয়ায় এই বিজ্ঞানকে বিবেচনায় নেয়া হয়নি।”

তারেক-মিশুকের ‍মৃত্যু: সহযাত্রীদের ক্ষোভেও শ্রদ্ধাশীল ড. হক
দুর্ঘটনার পর মাইক্রোবাস ও বাসটির অবস্থান

তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর মাইক্রোবাসের অবস্থা দেখে পরিষ্কার বোঝা গেছে, বাসের সঙ্গে এর আংশিক মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছিল। ডিভাইডারবিহীন একটি সড়কে এ ধরনের আংশিক মুখোমুখি সংঘর্ষ হতে হলে দুটি যানের যেকোনো একটিকে রং সাইডে থাকতে হয়। এ ক্ষেত্রে মাইক্রোবাস ও বাসের অবস্থান এবং সংঘর্ষে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দেখে পরিষ্কার বোঝা যায়, মাইক্রোবাসটিই ওভারটেক করতে গিয়ে রং সাইডে ছিল। দুর্ঘটনার পর সরকারের গঠিত তদন্ত কমিটি ও মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশের প্রতিবেদনেও বিষয়টির উল্লেখ রয়েছে। তবে মামলার বিচারের ক্ষেত্রে সেটি বিবেচনায় নেয়া হয়নি।’

দুর্ঘটনার জন্য সে সময় রাস্তার ‘অবৈজ্ঞানিক’ বাঁককেও দায়ী করছেন ড. সামছুল হক।

তিনি বলেন, ‘১১ ফুট প্রশস্ত ওই রাস্তায় কোনো বাঁক থাকলে রাস্তার বক্রতার ধরন অনুসারে অংশটি অন্তত ১৩ ফুট চওড়া হওয়ার কথা ছিল। তবে বাস্তবে তা ছিল না। একই সঙ্গে বাঁকটিতে গাছপালা থাকায় দৃষ্টিসীমা ছিল একদম কম।

‘ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যেসব ব্ল্যাকস্পট ছিল, এই বাঁকটি তার একটি। মানিকগঞ্জের জোকায় তখন প্রতিবছর তিনটির বেশি করে দুর্ঘটনা ঘটছিল। এখন সেখানে ডিভাইডার করা হয়েছে, রাস্তা চওড়া হয়েছে, ফলে এখন আর দুর্ঘটনা হচ্ছে না।’

সারা দেশকে নাড়া দেয়া ২০১১ সালের ওই সড়ক দুর্ঘটনায় তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীর ছাড়াও তাদের মাইক্রোবাসচালক মোস্তাফিজুর রহমান, প্রডাকশন সহকারী মোতাহার হোসেন ওয়াসিম ও জামাল হোসেন মারা যান। তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ, শিল্পী ঢালী আল-মামুনসহ আহত হন পাঁচজন।

২০১১ সালের ১৩ আগস্ট মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কয়েক দিন পরই জামির হোসেন মেহেরপুর গাংনীর চৌগাছা থেকে গ্রেপ্তার হন। তবে কয়েক মাস পরই জামিনে মুক্তি পান তিনি। এরপর ২০১৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়ার দিন থেকে মৃত্যুর আগপর্যন্ত তিনি কারাগারে ছিলেন।

রায় ঘোষণা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিচারক দণ্ড ঘোষণার সময় আদালতের কাঠগড়ায় ‘নির্লিপ্ত’ দেখা যাচ্ছিল জামিরকে। রায়ের পর পুলিশ তাকে হাতকড়া পরিয়ে কারাগারে পাঠায়।

তারেক-মিশুকের ‍মৃত্যু: সহযাত্রীদের ক্ষোভেও শ্রদ্ধাশীল ড. হক
রায় ঘোষণার পর পুলিশ হেফাজতে বাসচালক জামির হোসেন

বিচারক আদেশে বলেন, ‘জামির হোসেনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০৪ ও ৪২৭ ধারার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তাকে ৩০৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হলো। আর দণ্ডবিধির ৪২৭ ধারার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হলো।’

আসামির উভয় দণ্ড একসঙ্গে চলবে বলেও আদেশ দেন বিচারক।

আরও পড়ুন: সেই বাসচালক জামিরের মৃত্যুর ২ বছরেও ঘূর্ণিজাল, জীবন সংশয়ে স্ত্রী

বিচার চলার সময় ৩২ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়। এর মধ্যে ছিলেন প্রত্যক্ষদর্শী ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কর্মকর্তা। আসামির পক্ষে দুজন সাফাই সাক্ষ্য দেন।

বিচারক রায়ে বলেন, ‘এজাহার, অভিযোগপত্র, খসড়া মানচিত্র, বিআরটিএর চিঠি, জব্দ করা ভুয়া ও মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স, নিশ্চিত মৃত্যু থেকে বেঁচে যাওয়া প্রত্যক্ষদর্শীর অভিন্ন ও অকাট্য সাক্ষ্যের ভিত্তিতে বলা যায়, আসামি বাসটিকে বৃষ্টি ও বাঁকের মধ্যে অবহেলার সঙ্গে বেপরোয়া গতিতে চালিয়ে একটি মিনিবাসকে ওভারটেক করে মাইক্রোবাসটিকে নির্মমভাবে আঘাত করেন। ফলে তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরসহ পাঁচটি তরতাজা প্রাণ ঝরে যায়। আসামির বেপরোয়া আচরণ ও অবহেলার কারণেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়।’

আসামির পক্ষে আদালতে সাফাই সাক্ষ্য দেন চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্সের বাসটির যাত্রী শাহনেওয়াজ রয়েল ও অধ্যাপক নাসরিন আশরাফী।

তবে বিচারক রায়ে বলেন, ‘তাদের কেউই ওই বাসের যাত্রী হওয়ার প্রমাণ হিসেবে বাসের টিকিট আনেননি। এ দুজন সারা জীবনে এবং ঘটনার পর থেকে অসংখ্যবার বাসে ওঠার কথা। একটি নির্দিষ্ট দিনে কোন বাসে উঠেছিলেন তা মনে রাখা দুঃসাধ্য। তারা যদি ঘটনার পর কোনো ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে সাক্ষ্য দিতেন, তাহলে অনেকটাই বিশ্বাসযোগ্য হতো।

‘এ ছাড়া শাহনেওয়াজ সাক্ষ্য দেয়ার সময় বলেছেন, দুর্ঘটনাস্থলে কোনো বাঁক নেই। আর তিনি ছিলেন বাসের বাঁ দিকে চার আসন পেছনে। ফলে ডান দিকের বিষয় দেখা সম্ভবপর নয়। আর নাসরিন আশরাফীও বলেছেন, সেখানে বাঁক ছিল না। তার চশমার পাওয়ার ৩.৫০। ক্ষীণ দৃষ্টিশক্তির একজন বয়স্ক মহিলার পক্ষে দীর্ঘদিনের আগের বৃষ্টির মধ্যে সংঘটিত কোনো ঘটনার সঠিক বিবরণ দেয়া আদৌ সম্ভবপর নয়।’

তারেক-মিশুকের ‍মৃত্যু: সহযাত্রীদের ক্ষোভেও শ্রদ্ধাশীল ড. হক
বাসচালক জামির হোসেন

দুর্ঘটনার দুই বছর পর ২০১৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি নিহতদের পরিবারের সদস্যরা মানিকগঞ্জে মোটরযান অর্ডিন্যান্সের ১২৮ ধারায় বাসমালিক, চালক ও ইনস্যুরেন্স কোম্পানির কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ চেয়ে দুটি মামলা করেন।

পরে সংবিধানের ১১০ অনুচ্ছেদ অনুসারে জনস্বার্থে হাইকোর্টে বদলির নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করলে ক্ষতিপূরণের মামলা দুটি হাইকোর্টে চলে আসে।

দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ৩ ডিসেম্বর তারেক মাসুদের পরিবারকে ৪ কোটি ৬১ লাখ ৪৫২ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বাসমালিক, চালক ও সংশ্লিষ্ট ইনস্যুরেন্স কোম্পানিকে নির্দেশ দেয় বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি কাজী ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ। রায়ের কপি পাওয়ার তিন মাসের মধ্যে টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়।

ক্ষতিপূরণের অর্থের মধ্যে বাসের (চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স) তিন মালিকের ৪ কোটি ৩০ লাখ ৮৫ হাজার ৪৫২ টাকা, বাসচালক জামির হোসেনের ৩০ লাখ টাকা এবং রিলায়েন্স ইনস্যুরেন্স কোম্পানির ৮০ হাজার টাকা দেয়ার কথা। এ টাকা ক্যাথরিন মাসুদ, তারেক মাসুদের ছেলে নিষাদ মাসুদ ও বৃদ্ধ মা নুরুন নাহার পাবেন বলে রায়ে বলা হয়।

হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে বাস মালিকপক্ষ, সেটি এখন আপিলে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। অন্যদিকে মিশুক মুনীরের পরিবারের ক্ষতিপূরণ চেয়ে করা মামলাটি হাইকোর্টে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Indebtedness Farmers expressed their anger before the inquiry committee

ঋণখেলাপ: তদন্ত কমিটির সামনে ক্ষোভ ঝাড়লেন কৃষকরা

ঋণখেলাপ: তদন্ত কমিটির সামনে ক্ষোভ ঝাড়লেন কৃষকরা কৃষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঋণের বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছে তদন্ত কমিটি। ছবি: নিউজবাংলা
ঋণ ও সুদের টাকা পরিশোধ না করায় ২০২১ সালে ৩৭ জন কৃষকের নামে ব্যাংক মামলা করে। সম্প্রতি আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে গত ২৫ নভেম্বর ১২ জন কৃষককে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ। বিষয়টি নিউজবাংলাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়।

বকেয়া ঋণ কারও ছিল ৪০০ টাকা, কারও ৯০০ টাকা। কেউ আবার পুরো টাকাই সুদসহ পরিশোধ করেছেন। তারপরও ঋণখেলাপের দায়ে জেল খাটতে হয়েছে পাবনার ঈশ্বরদীর ভাড়ইমারী গ্রামের কৃষকদের।

সোমবার ভাড়ইমারী গ্রামে অভিযুক্ত কৃষকদের বাড়ি বাড়ি অনুসন্ধানে গিয়ে এসব বিষয় জানতে পেরেছেন তদন্ত কমিটির তিন সদস্য। কয়েক কৃষক তাদের সামনে ক্ষোভও প্রকাশ করেন।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভাড়ইমারী উত্তরপাড়া সবজি চাষি সমবায় সমিতির সভাপতি বিলকিস নাহারের বাড়িতে যান তদন্ত দলের সদস্যরা।

বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের ডিজিএম (পরিদর্শন) আহসানুল গণির নেতৃত্বে এ কমিটিতে রয়েছেন ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপক (পরিদর্শন ও আইন) আব্দুর রাজ্জাক ও সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রকল্প ঋণ) আমিনুল ইসলাম রাজীব।

এ সময় উপস্থিত কৃষক আব্দুস সামাদ, মজনু প্রামানিক ও আতিয়ার রহমানের সঙ্গে তদন্ত দলের সদস্যরা কথা বলেন। পরে তারা ঋণখেলাপে অভিযুক্ত কৃষকদের বাড়িতে যান।

এ সময় কৃষকদের কাছে তারা জানতে চান- ঋণের টাকা তারা কেন পরিশোধ করেননি, ঋণের কিস্তি পরিশোধের রশিদ আছে কি-না এবং কার কাছে তারা কিস্তির টাকা জমা দিয়েছেন।

এ ছাড়াও মামলার আগে ব্যাংক তাদের ঋণ পরিশোধের কোনো নোটিশ দিয়েছিল কি-না।

তদন্ত দলের দেয়া তথ্যানুযায়ী, ঋণের দায়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া ৩৭ কৃষকের মধ্যে আতিয়ার রহমান ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে সুদসহ ৪৯ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন। তার বকেয়া রয়েছে মাত্র ৪৩৩ টাকা। এরপরও তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

মোছা. রহিমা বেগম নামে এক নারী কৃষক ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ৪৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন। তার বকেয়া রয়েছে ৯০০ টাকা।

মজনু প্রামাণিক নামে অপর একজন ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে পরিশোধ করেছেন ৫৫ হাজার টাকা।

তদন্ত দল কৃষকদের কাছে ঋণ পরিশোধের তথ্য জানতে চাইলে কৃষকেরা তেমন কোনো রশিদ দেখাতে পারেননি। তবে তারা মুখে মুখে পরিশোধের হিসাব ও তারিখ জানান। সেসব তথ্য ব্যাংকের স্টেটমেন্টের সঙ্গেও মিলে যায়।

এ সময় কয়েকজন নিজেদের সামান্য বকেয়ার কথা শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তারা তদন্ত দলের কাছে প্রশ্ন তোলেন- টাকা পরিশোধ করেও কেন জেল খাটতে হলো?

কৃষকদের এমন প্রশ্নে তদন্ত দলের সদস্যরা চুপ হয়ে যান।

গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগের শিকার কৃষক আব্দুস সামাদ বলেন, ‘সব টাকা পরিশোধ করেছি। তারপরও কেন আমাকে তিন দিন কারাগারে থাকতে হলো। এ দায়ভার ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। আমাদের হয়রানি করা হয়েছে।’

কৃষক আব্দুল হান্নান বলেন, ‘চল্লিশ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে সুদসহ সমুদয় টাকা পরিশোধ করেছি। এরপরও কারাগারে যেতে হয়েছে। এজন্য ব্যাংক কর্মকর্তারা দায়ী। যদি ঋণ পরিশোধ না করে থাকি, তবে কেন আমাদের বিরুদ্ধে উকিল নোটিশ পাঠানো হয়নি। উকিল নোটিশ পাঠালেই জানতে পারতাম ঋণ পরিশোধ হয়নি। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তা না করে সরাসরি আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে এবং পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে। এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না।’

ভাড়ইমারী উত্তরপাড়া সবজি চাষি সমবায় সমিতির সভাপতি বিলকিস নাহার বলেন, ‘ব্যাংকের মাঠকর্মীরা এসে কৃষকের কাছ থেকে কিস্তি নিয়েছেন। কিস্তির টাকা তারা ব্যাংকে জমা দিয়েছেন কি-না জানি না। ব্যাংক আমার বিরুদ্ধেও চেক জালিয়াতির একটি মামলা করেছে। আমি সেই মামলায় নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছি।’

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মহির মণ্ডল জানান, এলাকার ৩৭ জন কৃষকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার বিষয়ে কোনো কৃষকই আগে জানতেন না। ঋণ পরিশোধের জন্য তাদের কোনো নোটিশও দেয়া হয়নি। তদন্ত কমিটির সদস্যরাও কৃষকদের বিরুদ্ধে মামলার আগে নোটিশ দেয়া হয়েছে এমন কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি।

তদন্তকে লোক দেখানো বলেও মন্তব্য করেন মহির মণ্ডল।

এ প্রসঙ্গে তদন্ত দলের প্রধান আহসানুল গণি বলেন, ‘মূলত গ্রুপ ঋণের কারণেই সবার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এখানে ব্যাংকের কিছু করার ছিল না। তবে যাদের কম টাকা বকেয়া, তাদের বাদ দেয়া যেত। এটা হয়তো ভুলবশত হয়েছে। পরবর্তীতে বিষয়টি দেখা হবে।’

১০ লাখ টাকা পরিশোধের পরও এত বকেয়া কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘১৫ শতাংশ সুদ হারে ঋণ দেয়া হয়েছিল। কিছু কৃষক টাকা পরিশোধ না করায় চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ বেড়ে গেছে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে ঈশ্বরদী উপজেলার ভাড়ইমারী গ্রামের ৪০ জন কৃষক দলগত ঋণ হিসেবে ১৬ লাখ টাকা গ্রহণ করেছিলেন। এর মধ্যে কেউ ২৫ হাজার, কেউ ৪০ হাজার টাকা করে ঋণ পান।

ঋণ ও সুদের টাকা পরিশোধ না করায় ২০২১ সালে ৩৭ জন কৃষকের নামে ব্যাংক মামলা করে। সম্প্রতি আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে গত ২৫ নভেম্বর ১২ জন কৃষককে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ।

বিষয়টি নিউজবাংলাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়। এ অবস্থায় গত ২৭ নভেম্বর পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক শামসুজ্জামান গ্রেপ্তার ১২ কৃষকসহ ৩৭ জনের জামিন মঞ্জুর করেন।

আরও পড়ুন:
ঋণখেলাপি মামলায় ১২ কৃষক কারাগারে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Limons attempted murder case against RAB is also displeased with the PBI report

র‌্যাবের বিরুদ্ধে লিমন হত্যাচেষ্টা মামলা, পিবিআই প্রতিবেদনেও নারাজি

র‌্যাবের বিরুদ্ধে লিমন হত্যাচেষ্টা মামলা, পিবিআই প্রতিবেদনেও নারাজি বাবা-মায়ের সঙ্গে পা হারানো লিমন হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা
বর্তমানে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনবিভাগের সহকারী প্রভাষক লিমন বলেন, ‘র‌্যাব অন্যায়ভাবে আমাকে গুলি করে পঙ্গু করে দিয়েছে। আমি অনেক কষ্ট করে মানুষের ভালোবাসায় পড়াশোনা শেষ করেছি ঠিকই, কিন্তু আমার পা হারানোর কষ্ট ভুলতে পারছি না।’

অভিযোগ ছিল, ২০১১ সালের ২৩ মার্চ ঝালকাঠির রাজাপুরে সেই সময়ের কলেজছাত্র লিমন হোসেনকে হত্যার উদ্দেশে গুলি করেছিল র‌্যাব। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ লিমনের একটি পা কেটে ফেলতে হয়।

ওই বছরেরই ১০ এপ্রিল র‌্যাবের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলাটি করেন লিমনের মা হেনোয়ারা বেগম।

দীর্ঘ ১১ বছর পর গত ১৭ সেপ্টেম্বর আদালতে মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

তবে এ প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে সোমবার আদালতে নারাজিপত্র দিয়েছেন মামলার বাদী হেনোয়ারা বেগম।

সোমবার বেলা ১২টায় ঝালকাঠির জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে নারাজিপত্রটি দাখিল করা হয়। এ অবস্থায় নারাজির শুনানির জন্য আগামী ৩ জানুয়ারি দিন ঠিক করেছেন আদালতের বিচারক এ এইচ এম ইমরুনুর রহমান।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র নিয়োজিত লিমনের মায়ের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আককাস সিকদার নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৩ মার্চ ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামে র‌্যাব-৮ এর সদস্যরা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর সময় তৎকালীন কলেজছাত্র লিমন হোসেন গুলিবিদ্ধ হন।

পরে লিমনের বাম পা হাটু থেকে কেটে ফেলেন রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালের চিকিৎসকরা। এ ঘটনায় বরিশাল র‌্যাব-৮ এর তৎকালীন ডিএডি লুৎফর রহমান, কর্পোরাল মাজহারুল ইসলাম, কনস্টেবল মো. আব্দুল আজিজ, নায়েক মুক্তাদির হোসেন, সৈনিক প্রহ্লাদ চন্দ এবং কার্তিক কুমার বিশ্বাস সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬ র‌্যাব সদস্যকে অভিযুক্ত করে ঝালকাঠির আদালতে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন লিমনের মা।

ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজাপুর থানা পুলিশের এসআই আব্দুল হালিম তালুকদার ২০১২ সালের ১৪ আগস্ট আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে র‌্যাব সদস্যদের অব্যাহতির সুপারিশ করেন।

লিমনের মা হোনোয়রা বেগম ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ৩০ আগস্ট ঝালকাঠির জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে নারাজি দাখিল করেন।

আদালত ২০১৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি তার নারাজি আবেদন খারিজ করে দেয়। পরে খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ২০১৩ সালের ১৮ মার্চ রিভিশন আবেদন করেন হেনোয়রা বেগম।

২০১৮ সালের ১ এপ্রিল অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এস কে এম তোফায়েল হাসান রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করেন। রিভিশন মঞ্জুর হওয়ার পর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেলিম রেজা মামলাটি তদন্তের জন্য ২০১৮ সালের ২২ এপ্রিল পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে নির্দেশ দেন।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে পিবিআই প্রধান কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর আদালতে আবারও থানা পুলিশের মতো চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন।

প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেছেন, লিমনের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা সত্য। তবে কারা তাকে গুলি করেছে তার কোনো সাক্ষী প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে সাক্ষী ও প্রমাণ পাওয়া গেলে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করা হবে।

তবে এই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দাখিল করে লিমনের মা দাবি করেন, তার ছেলে সন্ত্রাসী ছিলেন না। একটি ভালো ছেলেকে র‌্যাব গুলি করে পঙ্গু করে দিয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু ও সঠিক বিচার দাবিও করেন তিনি।

উল্লেখ্য র‌্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধে পা হারানো লিমন হোসেন ২০১৩ সালে এইচএসসি, ২০১৮ সালে আইন বিষয়ে অনার্স, ২০১৯ সালে এল এল এম পাস করেন।

২০২০ সালে তিনি সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনবিভাগের সহকারী প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন।

সাংবাদিকদের লিমন বলেন, ‘র‌্যাব অন্যায়ভাবে আমাকে গুলি করে পঙ্গু করে দিয়েছে। আমি অনেক কষ্ট করে মানুষের ভালোবাসায় পড়াশোনা শেষ করেছি ঠিকই, কিন্তু আমার পা হারানোর কষ্ট ভুলতে পারছি না। যতদিন বেঁচে আছি ততদিন যারা আমাকে পঙ্গু করেছে তাদের বিচার দাবি করবো।’

২০১১ সালে ঘটনার পর লিমনকে সন্ত্রাসী দাবি করে র‌্যাব লিমনসহ আট জনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে এবং সরকারি কাজে বাধাদানের অভিযোগে দুটি মামলা করেছিল। দুটি মামলাতেই লিমনসহ বাকি আসামিরা আদালত থেকে ২০১৮ সালে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছিলেন।

ঘটনার শুরু থেকে লিমনকে আইনি সহায়তা দিচ্ছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।

আরও পড়ুন:
জঙ্গি ছিনতাইয়ের আগাম গোয়েন্দা তথ্য না থাকা ব্যর্থতা: র‌্যাব
বিএনপির সমাবেশ ঘিরে থাকবে র‌্যাবের চেকপোস্ট-হেলিকপ্টার
তুমব্রু সীমান্তে ডিজিএফআই কর্মকর্তা নিহত: ৩১ জনের নামে মামলা
তুমব্রু সীমান্তে সংঘর্ষ: আহত র‍্যাব সদস্যের মাথায় অস্ত্রোপচার
মাদকবিরোধী অভিযানে সংঘর্ষে ডিজিএফআই কর্মকর্তা নিহত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Murder of Sagira Morshed Testimony on 12 December

সগিরা মোর্শেদ হত্যা: সাক্ষ্য গ্রহণ ১২ ডিসেম্বর

সগিরা মোর্শেদ হত্যা: সাক্ষ্য গ্রহণ ১২ ডিসেম্বর ১৯৮৯ সালে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন সগিরা মোর্শেদ। ছবি: সংগৃহীত
সগিরা মোর্শেদ হত্যা মামলায় আদালত সাক্ষ্যগ্রহণের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছে। মামলায় এখন পর্যন্ত ৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ হয়েছে।

রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীতে ৩২ বছর আগে দুর্বৃত্তের গুলিতে সগিরা মোর্শেদ নিহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ পিছিয়েছে। আদালত আগামী ১২ ডিসেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছে।

সোমবার (৫ ডিসেম্বর) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক রফিকুল ইসলামের আদালতে মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য্য ছিল। কিন্তু এদিন সগিরা মোর্শেদের মেয়ে সাদিয়া চৌধুরী অসুস্থ থাকায় আদালতে হাজির হতে পারেননি। পরে আদালত সাক্ষ্যগ্রহণের নতুন তারিখ নির্ধারণ করে। মামলায় এখন পর্যন্ত ৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ হয়েছে।

আলোচিত এ মামলায় ২০২০ সালের ২ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। গত বছরের ১৬ জানুয়ারি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম আদালতে মামলাটির অভিযোগপত্র জমা দেন।

৩২ বছর আগের আলোচিত এই মামলার আসামিরা হলেন সগিরা মোর্শেদের ভাশুর ডা. হাসান আলী চৌধুরী, হাসান আলীর স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা ওরফে শাহিন, শ্যালক আনাছ মাহমুদ রেজওয়ান ও ভাড়াটে অপরাধী মারুফ রেজা। তাদের মধ্যে সায়েদাতুল মাহমুদা জামিনে আছেন। বাকি তিনজন কারাগারে।

গত বছরের ২ ডিসেম্বর আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরুর আদেশ দেয়।

মামলায় বলা হয়েছে, ১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই সগিরা মোর্শেদ বাসা থেকে বের হয়ে তার দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়া বড় মেয়ে সারাহাত সালমাকে নিতে স্কুলের দিকে যাচ্ছিলেন। স্কুলের সামনে পৌঁছামাত্রই দুষ্কৃতকারীরা তার হাতের বালা ধরে টান দেয়। বালা দিতে অস্বীকার করায় সগিরাকে গুলি করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত বলে জানান।

ওই দিনই রমনা থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন সগিরার স্বামী সালাম চৌধুরী। প্রত্যক্ষদর্শী রিকশাচালক ঘটনায় জড়িত দুজনকে শনাক্ত করলেও গোয়েন্দা পুলিশ মন্টু ওরফে মরণ নামে একজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।

পরে আদালতের নির্দেশে পুনরায় তদন্তে বর্তমান আসামিদেরও নাম আসে।

১৯৯১ সালের ১৭ জানুয়ারি আসামি মন্টুর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু বকর সিদ্দীক। সাক্ষ্য নেয়া হয় সাতজনের।

সাক্ষ্যে বাদীপক্ষ থেকে বলা হয়, তদন্তের সময় আসামি মন্টু এবং তৎকালীন (১৯৮৯) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসানের নিকটাত্মীয় মারুফ রেজা গ্রেপ্তার হন। কিন্তু মারুফ রেজার নাম বাদ দিয়েই অভিযোগপত্র দেয়া হয়।

সাক্ষ্য গ্রহণ চলার সময় মারুফ রেজার নাম আসায় রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে ১৯৯১ সালের ২৩ মে মামলার অধিকতর তদন্তের আদেশ দেয় ঢাকার বিচারিক আদালত। ওই আদেশের বিরুদ্ধে মারুফ রেজা রিভিশন আবেদন করেন।

এ অবস্থায় ১৯৯১ সালের ২ জুলাই হাইকোর্ট মামলাটির অধিকতর তদন্তের আদেশ ও বিচারকাজ ছয় মাসের জন্য স্থগিতের পাশাপাশি অধিকতর তদন্তের আদেশ কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দেয়।

পরের বছর ২৭ আগস্ট জারি করা রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মামলার বিচারকাজ স্থগিত থাকবে বলে আদেশ দেয় হাইকোর্ট।

এ মামলার সবশেষ তদন্ত কর্মকর্তা গত বছর বিষয়টি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের নজরে আনলে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেয় রাষ্ট্রপক্ষ।

এরপর বিষয়টি বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চে তোলা হয়। আদালত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নিলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

আরও পড়ুন:
গফরগাঁওয়ে যুবক খুন, আটক ৩
হত্যার হুমকি পাওয়ার অভিযোগ আয়াতের বাবার
৯৪ বার পেছাল সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন
আয়াতের দেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার
নায়িকা শিমু হত্যা মামলায় স্বামীসহ দুইজনের বিচার শুরু

মন্তব্য

p
উপরে