× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
There is no office the address is wrong but I want to register
hear-news
player
google_news print-icon

অফিস নেই, ঠিকানা ভুল, তবু নিবন্ধনের বাসনা

অফিস-নেই-ঠিকানা-ভুল-তবু-নিবন্ধনের-বাসনা
রাজধানীর পরীবাগ ডিসিসি সুপার মার্কেটে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক জোট (পিডিএ) পার্টির দুই কক্ষের কেন্দ্রীয় কার্যালয়। বাইরে আবর্জনা, দলের কোনো সাইনবোর্ড নেই। ছবি: নিউজবাংলা
 গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, নিবন্ধন পেতে গেলে নতুন রাজনৈতিক দলের একটি সক্রিয় কেন্দ্রীয় কার্যালয় অবশ্যই থাকতে হবে। তবে নির্বাচন কমিশনে যে ৯৩টি নতুন দল এবার নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে, তাদের বেশ কয়েকটির উল্লেখ করা ঠিকানায় গিয়ে নিউজবাংলার প্রতিবেদক তুলে এনেছেন এক করুণ চিত্র।

ঢাকার পল্টনের তোপখানা রোডের মেহেরবা প্লাজা। সেই ভবনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ঠিকানা দিয়ে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন চেয়েছে ‘বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক মুক্তি আন্দোলন’ (বিজিএমএ) নামের একটি রাজনৈতিক দল। ঠিকানা ধরে সেই ভবনে গিয়ে জানা গেল, এ দলের নামে সেখানে কোনো অফিস নেই।

শুধু ‘বিজিএমএ’-ই নয়, এমন অনেক দল পাওয়া গেছে, যাদের ঠিকানা অনুযায়ী কার্যালয় পাওয়া যায়নি। কেউ অন্যের অফিসের একাংশ ভাড়া নিয়ে দায়সারা অফিস বসিয়েছে। অনেকে নিজের পেশাগত কাজে ব্যবহৃত অফিসকেই দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় বলে ঘোষণা দিয়ে আবেদন করেছেন।

নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করা কয়েকটি নতুন রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনে নেই দলের কোনো সাইনবোর্ড। দেখে বোঝার উপায় নেই সেগুলো কোনো রাজনৈতিক দলের অফিস। কোনো স্টিকার বা পোস্টার নেই। কোনো কোনোটি মাত্র এক রুমের অফিস। তাতে ১৫ থেকে ২০ জনের বসার জায়গা হয় না।

সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার কোনো নজির বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি এমন কার্যালয়ও চোখে পড়েছে। কেউ আবার ওষুধপত্র বিক্রির দোকানকেই কেন্দ্রীয় কার্যালয় দাবি করছেন। কোনো দলের আবার যে ঠিকানা দেয়া হয়েছে, সেখানে কোনো কার্যালয়ই নেই। কোনো দল আবার নিজস্ব কার্যালয়ের ঠিকানাই দেয়নি।

এমনও রাজনৈতিক দল পাওয়া গেছে, যেটির কার্যালয় ভবনের নিরাপত্তা প্রহরী পর্যন্ত জানেন না এই ভবনে একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয় আছে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, নিবন্ধন পেতে গেলে নতুন দলের একটি সক্রিয় কেন্দ্রীয় কার্যালয় অবশ্যই থাকতে হবে। শুধু তা-ই না, সারা দেশে অন্তত ২১টি প্রশাসনিক জেলায় কার্যকর কমিটি থাকতে হবে।

এবার ৯৩টি দল নির্বাচন কমিশনে তাদের নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে। এগুলোর মধ্যে ৯টি পাওয়া গেছে যাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ঠিকানা দেয়া হয়েছে ঢাকা মহানগরীর বাইরে বিভিন্ন জেলায়। জেলাগুলো হলো সাতক্ষীরা, জয়পুরহাট, টাঙ্গাইল, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ। তবে বেশির ভাগ দলই ঢাকা মহানগরের পল্টন, তোপখানা রোড ও মতিঝিল এলাকায়।

নতুন দলগুলোর কাছে গত ২৬ মে আবেদন আহ্বান করে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন কমিশন। পরে অবশ্য গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী অনুরোধ করে আসার পর নতুন দলের নিবন্ধনের সময় দুই মাস বাড়ায় কমিশন।

গত রোববার আবেদনের সময় শেষ হওয়ার পর ইসির জনসংযোগ শাখা থেকে জানানো হয় ৮০টি দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে। তবে পরদিন সোমবার সংস্থাটির জনসংযোগ পরিচালক জানান আবেদনকারী নতুন রাজনৈতিক দলের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৮। পরে আবার সংশোধন করে নতুন তালিকা তৈরি করে ইসি। সে হিসাব অনুযায়ী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৩টি দলে।

মেহেরবা প্লাজায় গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক মুক্তি আন্দোলন (বিজিএমএ) নামে কোনো অফিস এ ভবনে কোনোকালে ছিল না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এখানকার এক নিরাপত্তাকর্মী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ নামে কোনো অফিস তাদের ভবনে নেই।’

যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক মুক্তি আন্দোলনের (বিজিএমএ) চেয়ারম্যান আশরাফ হাওলাদার দাবি করেন, তারা অল্প কিছুদিন হলো ভবনটি ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অফিস ছেড়ে দিয়েছি নিবন্ধনের আবেদন জমা দেয়ার পর। নতুন অফিস নিব।’

অফিসবিহীন একটি দলকে নিবন্ধন দেয়া উচিত কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটা নির্বাচন কমিশনের ব্যাপার, তাদের এখতিয়ার।’

পরীবাগ ডিসিসি সুপারমার্কেটে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ঠিকানা দিয়েছে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক জোট (পিডিএ)। সেই ঠিকানায় গিয়ে দেখা যায়, নিচতলায় দুটি কক্ষ রয়েছে, যেখানে কোনো সাইনবোর্ড বা কোনো পরিচিতিমূলক চিহ্ন নেই। একটি কক্ষে একটি টেবিল, দুটি চেয়ার। আরেক কক্ষে দুটি টেবিল ও কিছু চেয়ার রয়েছে। দুজন লোক আলাপচারিতায় ছিলেন। তাদের কাছে রাজনৈতিক দলের নেতা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তারা বলেন, ‘ওনারা এখানেই বসেন। ফোন দিয়া আইসেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দলের চেয়ারম্যান মহিনউদ্দীন চৌধুরী বিপ্লব নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দলের কোনো সাইনবোর্ড নেই এটা সত্য।’ কার্যালয় সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এটা মূলত আমরাই ব্যবহার করি। আসলে আমাদের কোনো বাইরের ফান্ড নাই। চাঁদাবাজি করি না। তবে আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম আছে। নিবন্ধন দেয়ার মতো অবস্থা সৃষ্টি করতে পারছি বলেই আবেদন করছি।'

অফিস নেই, ঠিকানা ভুল, তবু নিবন্ধনের বাসনা
পরীবাগে ডিসিসি সুপারমার্কেটে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক জোট (পিডিএ) পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়। ছবি: নিউজবাংলা

‘মুক্ত রাজনৈতিক আন্দোলন’ নামে আরেকটি দল শাহবাগ চাঁদ মসজিদ কমপ্লেক্সের যে ঠিকানা দিয়েছে, সেখানে গিয়ে সার্ভোয়ার ডেন্টাল ওষুধ বিক্রির একটি দোকানের সন্ধান পাওয়া যায়। সেই দোকানের স্বত্বাধিকারী তানভীর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা অবশ্যই বিব্রতকর। আমার এখানে আগে এ রকম একটা কিছু ছিল শুনেছিলাম। কিন্তু এখনো সেই ঠিকানা ব্যবহার করছে। এটা অবশ্যই আমাদের জন্য বিব্রতকর।’

অফিস নেই, ঠিকানা ভুল, তবু নিবন্ধনের বাসনা
ঠিকানা অনুযায়ী মুক্ত রাজনৈতিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় হওয়ার কথা থাকলেও গিয়ে পাওয়া যায় ওষুধের দোকান। ছবি: নিউজবাংলা

‘মুক্ত রাজনৈতিক আন্দোলন’-এর সভাপতি স্বরূপ হাসান শাহীন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কোনা দিয়া ডেন্টালের দোকান আছে। ডান হাতের কোনা দিয়া অফিস আছে। কোনো সাইনবোর্ড নাই। আপনি শুক্রবার আসেন। শুক্রবার আমরা অফিস করি।’

অফিস নেই, ঠিকানা ভুল, তবু নিবন্ধনের বাসনা
বাংলাদেশ জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয় হলেও এখানে গিয়ে দেখা যায় বাংলাদেশে কর্মসংস্থা্ন দলের ব্যানার। এর চেয়ারম্যানই জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান। ছবি: নিউজবাংলা

একটি রাজনৈতিক দলের অফিস শুধু শুক্রবার খোলা থাকে কেন– এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা অদলীয় রাজনৈতিক সংগঠন। আমাদের অন্য কাজ থাকে।’

এমন দলকে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন দেয়া উচিত কি না জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘এগুলো কথা ওভারফোনে বলার দরকার নাই।’

অফিস নেই, ঠিকানা ভুল, তবু নিবন্ধনের বাসনা
বাংলাদেশ জাস্টিস অ্যান্ড ডেভোলোফমেন্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের বাইরের সাইনবোর্ড থাকলেও রুমের ভেতরে গিয়ে দেখা যায় বাংলাদেশে কর্মসংস্থা্ন দলের ব্যানার। এটির চেয়ারম্যান যিনি, তিনিই আবার জাস্টিস অ্যান্ড ডেভলোপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান। ছবি: নিউজবাংলা

‘বাংলাদেশ জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি’র অফিসের ঠিকানায় গিয়ে দেখা যায় একটি আবাসিক ভবনের ৯ তলার ফ্ল্যাটের বাইরে একটি ছোট সাইনবোর্ড ঝুলছে। ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, অন্য নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যানার, যাতে লেখা: ‘বাংলাদেশ কর্মসংস্থান আন্দোলন’।

এ বিষয়ে দলের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘তারা কর্মসংস্থানের নামেই গত নুরুল হুদা কমিশনে আবেদন করেছিলেন। সেটার মামলা চলমান থাকায় এবার আরেকটি দলের নামে নিবন্ধন আবেদন করেছি, যে দলটি এ বছরই প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।’

দেলোয়ার হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের দলের কোনো সাইনবোর্ড নাই, এটা সত্য। তবে সারা দেশে আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম আছে। সেখানে অফিস আছে। তবে কোনো সাইনবোর্ড নাই।’

নির্বাচন কমিশন তদন্ত শুরুর আগে তারা সাইনবোর্ড লাগিয়ে ফেলবেন দাবি করে দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আগে সাইনবোর্ড টানাইলে লোকজন বাধা দিতে পারে। সরকারি দলসহ অন্যান্য দলের অতি উৎসাহী কিছু লোকজন, যারা ঝামেলা করবে, তাদের ভয়ে।’

এখনকার বাস্তবতায় গ্রামগঞ্জে নতুন একটা দলের আলোচনা করা মুশকিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অফিস নেই, ঠিকানা ভুল, তবু নিবন্ধনের বাসনা
বাংলাদেশ জনমত পার্টির ঠিকানায় গিয়ে দেখা যায় একটি আইনজীবীর অফিস। যেখানে পার্টির কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি। ছবি: নিউজবাংলা

‘বাংলাদেশ জনমত পার্টি’র তোপখানা রোড সেগুনবাগিচার ঠিকানা ধরে একটি ভবনের সংকীর্ণ সিঁড়ি বেয়ে উঠে দেখা যায়, সেটি একটি ফ্ল্যাট। তিন-চারটি টেবিল আর রুমজুড়ে আইনবিষয়ক বই। দেখে বোঝা যায়, এটা উকিলের চেম্বার।

উপস্থিত এক ব্যক্তির কাছে জনমত পার্টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটাই পার্টির অফিস।’

তার পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি জনমত পার্টির কেউ না। শুনছি তারা নাকি এইটা অফিস বানাবে। আমার বস যে মালিক আজিজ উল্লাহ, উনি বলতে পারবেন। পুরোপুরি ডিটেইলস জানি না। এই তিনটা টেবিলে পার্টির কার্যক্রম চালাবে।’

অফিস নেই, ঠিকানা ভুল, তবু নিবন্ধনের বাসনা
হাতিরপুলের ইস্টার্ন প্লাজা মার্কেটে ডেমোক্রেটিক পার্টির অফিস। গিয়ে তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। বাইরে গিয়ে ভিন্ন দুটি প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড চোখে পড়ে। ছবি: নিউজবাংলা

রাজধানীর ইস্টার্ন প্লাজা মার্কেটের পাশের ভবনেই ‘ডেমোক্রেটিক পার্টি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয় বলে নির্বাচন কমিশনে ঠিকানা দেয়া হয়েছে। এ ঠিকানায় গিয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির অফিস কয় তলায় জানতে চাইলে নিরাপত্তা প্রহরী আক্তার-উজ-জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ডেমোক্রেটিক পার্টি আবার কবে খুলল? এই নামে তো কোনো অফিস নাই।’

পরে দলটির আহ্বায়ক এস এম আশিক বিল্লাহর সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি জানান, সেখানে তার একটা অফিস আছে। তার নির্দেশনা অনুযায়ী গিয়ে দেখা যায়, একটি কাচঘেরা অফিসকক্ষের বাইরে ‘ঢাকা কনসালট্যান্সি লিমিটেড’ ও ‘এবি বাজার ডট কম.বিডি’ নামে একটি পোস্টার লাগানো। কক্ষটি তালাবদ্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে জানতে পার্টির আহ্বায়ক এস এম আশিক বিল্লাহর সঙ্গে আবার যোগাযোগ করা হলে ফোনের ওপাশ থেকে বলা হয়, তিনি ঘুমাচ্ছেন। পরে ফোন দিতে হবে। পরে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

অফিস নেই, ঠিকানা ভুল, তবু নিবন্ধনের বাসনা
তোপখানা রোডের মেহেরবা প্লাজায় রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের ‘অস্থায়ী’ কার্যালয়। এখানে গিয়ে অফিস তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। ছবি: নিউজবাংলা

তোপখানা রোডের মেহেরবা প্লাজায় অস্থায়ী কার্যালয় দেখিয়ে নিবন্ধন পেতে চাওয়া রাজনৈতিক দল রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। সেখানে গিয়ে দলটির একটি অফিসের দেখা মিললেও সেটি ছিল বন্ধ।

‘বৈরাবরী পার্টি’র জন্য নিবন্ধনের আবেদন করেছেন টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার পীর সৈয়দ আলমগীর হোসেন। নিউজবাংলার টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে সৈয়দ আলমগীর হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তরিকার পাশাপাশি জনসেবাই আমাদের দলের আদর্শ। দলের আর্থিক সচ্ছলতা নেই। ব্যাংক হিসাব আছে, কিন্তু কোনো টাকা নেই। আমাদের মূল সম্পদ হচ্ছে বৈরাবরী পীরের ভক্তরা। অর্থের অভাবে ঢাকায় কেন্দ্রীয় কার্যালয় নিতে পারি নাই। তাই মির্জাপুরের কুড়িপাড়া নিজ বসতবাড়ির ঠিকানা দিয়ে দলের নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছি।’

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, কমিশনের তিনটি শর্তের মধ্যে একটি পূরণ হলে একটি দল নিবন্ধনের যোগ্য বিবেচিত হয়। এগুলো হলো: ১. দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যেকোনো জাতীয় নির্বাচনে যদি আগ্রহী দলটির অন্তত একজন সংসদ সদস্য থাকেন; ২. যেকোনো একটি নির্বাচনে দলের প্রার্থী অংশ নেওয়া আসনগুলোয় মোট প্রদত্ত ভোটের ৫ শতাংশ পান। ৩. দলটির যদি একটি সক্রিয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়, দেশের কমপক্ষে এক-তৃতীয়াংশ [২১টি] প্রশাসনিক জেলায় কার্যকর কমিটি এবং সদস্য হিসেবে অন্তত ১০০টি উপজেলা/মেট্রোপলিটন থানার প্রতিটিতে কমপক্ষে ২০০ ভোটারের সমর্থনসংবলিত দলিল থাকে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, নতুন দলের নিবন্ধন পেতে তৃতীয় শর্তটি পূর্ণ করতেই হবে। ১ ও ২ নম্বর শর্ত নতুন দলের পূরণের সুযোগ নেই।

নিবন্ধিত দলগুলোকেই জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর কে এম নুরুল হুদা কমিশন নিবন্ধন শর্তের প্রথম দুটি বাদ দেওয়ার জন্যে খসড়াও প্রস্তুত করে। কিন্তু তা আর চূড়ান্ত রূপ পায়নি।

সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালে এ টি এম শামসুল হুদা কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসে। নিবন্ধন পাওয়ার আশায় সেবার ১১৭টি দল আবেদন করেছিল। যাচাই-বাছাইয়ের পর নিবন্ধন পায় ৩৯টি দল।

শামসুল হুদা, কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ ও কে এম নুরুল হুদা তিন কমিশন মোট ৪৪টি দলকে নিবন্ধন দিয়েছিল। তাদের মধ্যে শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় ও আদালতের নির্দেশে পাঁচটি দলের নিবন্ধন বাতিলও করা হয়। ফলে বর্তমানে ইসিতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে ৩৯টি।

২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধন করা নিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে নির্বাচন কমিশন। ওই সময় ৭৬টি রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছিল। তবে কোনো দলকে ইসি নিবন্ধন দেয়নি। পরে আদালতের আদেশে ২০১৯ সালের ৩০ জানুয়ারি ববি হাজ্জাজের জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) এবং একই বছরের ৯ মে বাংলাদেশ কংগ্রেসকে নিবন্ধন দেয় ইসি।

এ পর্যন্ত যে পাঁচটি দলের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে সেগুলো হলো: জামায়াতে ইসলামী, ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন, ফ্রিডম পার্টি, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টি (পিডিপি) ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)।

আরও পড়ুন:
বিডিপির নামে আসলে কারা নিবন্ধন চাইল

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Death of baby Maisha That hospital in Dhaka was running without approval

শিশু মাইশার মৃত্যু: অনুমোদন ছাড়াই চলছিল ঢাকার সেই হাসপাতাল

শিশু মাইশার মৃত্যু: অনুমোদন ছাড়াই চলছিল ঢাকার সেই হাসপাতাল শিশু মাইশা (বাঁয়ে) এবং ঢাকার আলম মেমোরিয়াল হাসপাতাল। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
একটি ৯ তলা ভবনের ওপরের দিকে চারটি ফ্লোরে কয়েক মাস ধরে চলছিল আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালের কার্যক্রম। সম্প্রতি এর মালিকানা কিনে নেন জিকরুল্লাহ স্বপন। স্বপনের দাবি, তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা।  

হাতের আঙুলে অস্ত্রোপচারের সময় মারা যাওয়া কুড়িগ্রামের ছয় বছর বয়সী শিশু মারুফা জাহান মাইশাকে ঢাকার যে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় সেটি অনুমোদন ছাড়াই চলছিল।

মাইশার মৃত্যুর পর থেকে রাজধানীর রূপনগরের আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালটির সব কার্যক্রম বন্ধ। মাইশাকে ওই হাসপাতালে পাঠানো এবং অস্ত্রোপচার নিয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বক্তব্যে রয়েছে অস্পষ্টতা। তারাসহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন মাইশার বাবা।

একটি ৯ তলা ভবনের ওপরের দিকে চারটি ফ্লোরে কয়েক মাস ধরে চলছিল আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালের কার্যক্রম। সম্প্রতি এর মালিকানা কিনে নেন জিকরুল্লাহ স্বপন। স্বপনের দাবি, তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা।

আগের মালিক ডা. সৈয়দ মাসুদ রহমান একসময়ে মিরপুরে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালাতেন। তবে ঘটনার পর থেকে তার ফোন বন্ধ। তার চিকিৎসা-সংক্রান্ত অনুমোদন আছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

কুড়িগ্রাম পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভেলাকোপা ব্যাপারী পাড়ার মোজাফফর আলী ও বেলি আক্তারের মেয়ে মাইশা। তার ডান হাতের আঙুল ৯ মাস বয়সে পুড়ে বাঁকা হয়ে যায়।

মোজাফফর হোসেন মেয়ের চিকিৎসার জন্য গত ২৮ নভেম্বর মিরপুর ১১-এর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে আসেন। ওই হাসপাতালে রোগী দেখেন জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক (সার্জারি) ডা. আহসান হাবীব। মাইশাকে তার কাছেই দেখানো হয়।

মোজাফফর হোসেনের অভিযোগ, ডা. আহসান হাবীব মাইশার হাতে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন। পরদিন অভিভাবকেরা সম্মতি দিলে ডা. হাবীব তাদের জানান, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করতে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা লাগবে। আর রূপনগর আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালে খরচ হবে ৭০ হাজার টাকা।

আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিজের শেয়ার থাকায় কম খরচে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করতে পারবেন বলেও জানান ডা. হাবীব।

স্বজনদের দাবি, ৩০ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালে মাইশার অস্ত্রোপচার শুরু হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ডা. হাবীব অপারেশন থিয়েটার থেকে বের হয়ে জানান অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। হাতের আঙুলে প্রতিস্থাপনের জন্য চামড়া নেয়া হয়েছে মাইশার পেট থেকে।

তবে বেলা দেড়টার দিকে ডা. হাবীব স্বজনদের জানান মাইশার জ্ঞান ফিরছে না। তাকে অন্য হাসপাতালের আইসিইউতে পাঠাতে হবে। তিনি নিজেই অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করে একজন নার্স, ওয়ার্ড বয়সহ মিরপুর মাজার রোডের গ্লোবাল স্পেশালাইজড হসপিটালে নিয়ে যান। তবে সেখানকার চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে জানান মাইশা আগেই মারা গেছে।

এ ঘটনায় সোমবার দুপুরে রাজধানীর রূপনগর থানায় অভিযোগ জমা দেন মাইশার বাবা। সন্ধ্যায় সেটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে পুলিশ।

অভিযোগে মাইশার বাবা বলেন, মাইশার মৃত্যুর পর ডা. হাবীব তড়িঘড়ি করে অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। সেই সঙ্গে অস্ত্রোপচারের আগাম ফি হিসেবে জমা দেয়া ৫০ হাজার টাকা ফেরত দেয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়, মরদেহ দাফনের আগে গোসলের সময় দেখা যায় মাইশার নাভির নিচে আড়াআড়িভাবে পুরো পেট কাটা এবং সেখানে ১৭টি সেলাই রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্বজনরা ডা. হাবীবকে ফোন করলে তিনি তখন জানান, অস্ত্রোপচার তিনি করেননি, সেটি করেছেন ডা. শরিফুল ইসলাম ও ডা. রনি।

এরপরেই আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালের অবস্থান যেখানে সেই রূপনগর থানায় মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয় মাইশার পরিবার। তাদের অভিযোগ, মাইশাকে ‘হত্যা’ করা হয়েছে।

শিশু মাইশার মৃত্যু: অনুমোদন ছাড়াই চলছিল ঢাকার সেই হাসপাতাল
মাইশার অস্ত্রোপচার চলে এই অপারেশন থিয়েটারে

পার্টি সেন্টারের স্টেজের ওপরেই হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার

রূপনগরের আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় একটি ৯ তলা ভবনের ওপরের দিকের চারটি ফ্লোরে এর অবস্থান।

ভবনের নিচতলায় খাবার হোটেলসহ তিনটি দোকান রয়েছে। এরপর দুই, তিন ও চারতলায় পার্টি সেন্টার। চতুর্থ তলার পার্টি সেন্টারে গান-বাজনার স্টেজের ঠিক ওপরেই পঞ্চম তলায় হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার। সেখানেই মাইশার দেহে অস্ত্রোপচার করা হয়।

ভবনের ষষ্ঠ তলায় আল-আরাফাহ ইসলামী জীবনবিমার অফিস। এর পরের সপ্তম তলায় হাসপাতালের ওয়ার্ড, অষ্টম তলায় কেবিন ও নবম তলায় কনসালটেশন সেন্টার।

মাইশার মৃত্যুর পর থেকে অনুমোদনহীন এই হাসপাতালের সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। চারটি ফ্লোরই সোমবার সকালে তালাবন্ধ দেখা গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালটি চালু ছিল, রোগীও ভর্তি ছিলেন। তবে এরপর থেকে কোনো কার্যক্রম নেই।

ভবনের অন্য প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, ৩০ নভেম্বর মাইশার মৃত্যুর পর হাসপাতালের দায়িত্ব আগের মালিকের কাছ থেকে বুঝে নিয়েছেন স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা জিকরুল্লাহ স্বপন।

অবৈধ হাসপাতালের নতুন মালিক

মাইশার অস্ত্রোপচার হয়েছে যেখানে সেই আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালের কোনো অনুমোদন নেই বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বিল্লাল হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালের কোনো নিবন্ধন নেই এবং এ জন্য তারা আবেদনও করেনি। ওই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি জানার পরই আমরা কালক্ষেপণ না করে পরিচালকের নির্দেশে সেখানে যাই এবং হাসপাতালটি বন্ধ করে দিই।’

তিনি বলেন, ‘সেখানে গিয়ে দেখি সব কক্ষ তালা দেয়া। শুধু ফজলুল রহমান রাব্বি নামে একজনকে পাওয়া যায়। তিনি আমাদের পরিচালকের স্বাক্ষরিত নোটিশটি রিসিভ করেন।

‘নোটিশে নির্দেশনা দেয়া হয় কোনো চিকিৎসক যেকোনো হাসপাতালে কাজ করতে গেলে আগে দেখে নেবেন সেটি নিবন্ধিত কিনা। যদি না থাকে তবে তিনি কাজ করতে পারবেন না। করলে দায়ভার তাকেই নিতে হবে।’

শিশু মাইশার মৃত্যু: অনুমোদন ছাড়াই চলছিল ঢাকার সেই হাসপাতাল
আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালের কার্যক্রম এখন বন্ধ

অনুমোদন ছাড়াই ঢাকার বুকে এভাবে একটি হাসপাতাল কীভাবে চলল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা নিয়মিত অভিযান চালাই। তবে আমাদের লোকবল কম। অলিগলিতে গিয়ে সব তো দেখা সম্ভব হয় না। অভিযানে যেগুলো অনিবন্ধিত নজরে আসে, সেগুলো বন্ধ করা হয়।’

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আলম মেমোরিয়াল হাসপাতাল গড়ে তোলেন ডা. সৈয়দ মাসুদ রহমান নামে এক ব্যক্তি। ৯ তলা ভবনটির মালিকানাও তার। আগে তিনি মিরপুরে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক ছিলেন। ৩০ নভেম্বরের পর হাসপাতালটির মালিকানায় পরিবর্তন এসেছে, এখন এটির মালিক জিকরুল্লাহ স্বপন।

স্বপন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি নিজে একজন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক এবং মিরপুর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি। বর্তমান বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদের সহসম্পাদক।

‘এই হাসপাতালের আগের মালিক ছিলেন ডা. সৈয়দ মাসুদ রহমান। প্রায় চার মাস ধরে হাসপাতালের কার্যক্রম চলছে। আমার কাছে মালিকানা হস্তান্তর হয়েছে ডিসেম্বরের ১ তারিখ।’

ডা. সৈয়দ মাসুদ রহমানের সঙ্গে পরিচয় কীভাবে জানতে চাইলে স্বপন বলেন, ‘তার সঙ্গে আমার দেখা হয় মিরপুর মেডিট্যাগ অথবা মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। এখন নামটা সঠিক মনে নেই।’

হাসপাতালের আগের মালিক এখন কোথায় আছেন সে ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানের কেউ তথ্য দিতে পারেননি। তার ব্যবহৃত ফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া গেছে।

ডা. মাসুদের বিষয়ে জানতে চাইলে জিকরুল্লাহ স্বপন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তিনি আগে মিরপুর ১২-তে মিম জেনারেল হাসপাতালে বসতেন। পরে নিজেই মিরপুরে ডায়াগনস্টিক সেন্টার দিয়ে সেখানে বসতেন। সবশেষে আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালে কাজ শুরু করেন এ বছরের জুলাই-আগস্ট থেকে।

‘আমি ওনার কোনো কাগজপত্র দেখিনি। যতটুকু জানি উনি এমবিবিএস ডাক্তার এবং রাশিয়া থেকে এমডি ডিগ্রি নিয়ে এসেছেন। এটা তো অনেক বড় ডিগ্রি।’

অনুমোদনহীন একটি হাসপাতাল কেন কিনলেন, এমন প্রশ্নে আগের বক্তব্য থেকে সরে আসেন ছাত্রলীগ নেতা স্বপন। এবার তিনি দাবি করেন, প্রতিষ্ঠান কেনেননি, ভাড়া নিয়েছেন।

স্বপন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি হাসপাতাল কিনিনি। শুধু হাসপাতালের মালামাল কিনেছি। এটার অনুমোদন পেতে তিন-চার মাস ধরে আলোচনাও হচ্ছে। আমি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছি।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অবশ্য জানিয়েছে এ ধরনের কোনো আবেদন তারা পায়নি।

জিকরুল্লাহ স্বপন নিজেকে মিরপুর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ও বর্তমানে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদের সহসম্পাদক দাবি করলেও সংগঠনের নেতারা তা অস্বীকার করছেন।

ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক এবং মঙ্গলবারের কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী জাকওয়ান হোসাইন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জিকরুল্লাহ স্বপন নামে কাউকে আমি চিনতে পারছি না। সহসম্পাদক পদে অনেককেই চিঠি দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ হলেও হতে পারে, তবে আমি তাকে চিনতে পারছি না।’

মিরপুরে ছাত্রলীগের সবশেষ পূর্ণাঙ্গ কমিটি ২০ বছর আগে ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেড় বছর আগে একটি কমিটি ঘোষণা করা হলেও সেখানে শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ছিল। আর এবারের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সামনে রেখে ১ ডিসেম্বর আরেকটি কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে সেখানেও শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম রয়েছে।’

আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালের চারটি ফ্লোর ঘুরে কেবল ফজলুর রহমান রাব্বি নামে প্রতিষ্ঠানের এক কর্মীকে পেয়েছে নিউজবাংলা।

মার্কেটিংয়ের কর্মী দাবি করা রাব্বি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চলতি মাসের ১ তারিখ স্বপন ভাই এই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নিয়েছেন। এখানে যে অকারেন্সটা হয়েছে সেটা গত মাসের ৩০ তারিখে। আমি যতটুকু শুনেছি মাইশার আঙুলের অপারেশন ছিল। এসব ক্ষেত্রে বেশির ভাগ সময় ডাক্তাররা চামড়া নেয় রান (ঊরু) থেকে। তার রান চিকন হওয়ায় সেখান থেকে চামড়া নিতে পারেনি। পরে পেট থেকে চামড়া নিয়ে অ্যাডজাস্ট করেছে।’

শিশু মাইশার মৃত্যু: অনুমোদন ছাড়াই চলছিল ঢাকার সেই হাসপাতাল
পার্টি সেন্টারের রেস্তোরাঁর স্টেজের ঠিক ওপরেই আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার

হাসপাতালে এখন কোন রোগী ভর্তি আছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন কোনো রোগী নাই। হাসপাতাল ফাঁকা। আমাদের হাসপাতালের কিছু কাজ বাকি আছে। এগুলো শেষ করে রোগী ভর্তি নেব।’

আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালের পাশের সুজন পেইন্ট অ্যান্ড স্যানিটারি দোকানের কর্মচারী মো. ফয়সাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই হাসপাতালের কার্যক্রম চলছে পাঁচ-ছয় মাসের বেশি সময় ধরে। রোগী আসা-যাওয়া দেখেছি। এখন শুনলাম হাসপাতাল নাকি বন্ধ।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালের পাশের একটি ভবনের কেয়ারটেকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পাঁচ-ছয় মাস ধরে এই হাসপাতাল চালু আছে। সিজারসহ বিভিন্ন ধরনের অপারেশন হতো। যখন রোগী আসত তখন ডাক্তার আসত। ডা. মাসুদ এই হাসপাতালে নিয়মিত ৯ তলায় বসতেন। তিনি মেডিসিনের ডাক্তার। মাসুদ হাসপাতাল এবং এই ভবনের মালিক।’

তিনি বলেন, ‘ডা. মাসুদের বোন হাসপাতালের পাশের সাততলা ভবনের মালিক। তারা কেউ এখানে পরিবার নিয়ে থাকেন না। পল্লবীর বাসায় থাকেন। ডা. মাসুদ প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে ২টা এবং আবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নিয়মিত আসতেন।’

দায় নিচ্ছেন না চিকিৎসকেরা

মাইশাকে আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালে পাঠানো চিকিৎসক ডা. আহসান হাবীব দাবি করছেন হাসপাতালের শেয়ার হোল্ডার তিনি নন। শিশু মাইশার মৃত্যুর ঘটনাটি ‘দুঃখজনক’ মন্তব্য করে তিনি বলেন এর কারণ বুঝতে পারছেন না।

ডা. হাবীব নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মেয়েটির হাতের চামড়া ঠিক করতেই পেট থেকে চামড়া নেয়া হয়। সেখানে ডা. শরিফুল ইসলাম অপারেশন করেন। পুরো সময়টা আমি ছিলাম তাদের সঙ্গে।’

মাইশার পরিবারকে তিনি ওই হাসপাতালের শেয়ারহোল্ডার হিসেবে থাকার কোনো তথ্য দেননি দাবি করে ডা. হাবীব বলেন, ‘এগুলো বানোয়াট। আমি, ডা. শরিফুল ইসলাম এবং এনেস্থিসিয়া স্পেশালিস্ট রনি অপারেশনের সময় ছিলেন। সেখানে মেয়ের হাতের ছবি তোলা হয়েছে। সিসিটিভি আছে, পুরোটা দেখা যাবে। আর আমি কোনো শেয়ারহোল্ডার না।’

সিসিটিভি ফুটেজ চাইলে অবশ্য তিনি দিতে রাজি হননি।

অনুমোদনহীন একটি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনুমোদনের ব্যাপারটি প্রক্রিয়াধীন ছিল। আমরা সার্জন। বিভিন্ন জায়গায় সার্জারি করি। এটা প্লাস্টিক সার্জারি ছিল, তাই ডা. শরিফুলকে রেফার করেছিলাম।’

মাইশার অস্ত্রোপচার করেন বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যালের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শরিফুল ইসলাম।

অনুমোদনহীন আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত থাকা নিয়ে প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অনুমোদন আছে কি না, এটা তো আমি জানি না। আহসান হাবীব জানেন।’

মাইশার মৃত্যুর জন্য অ্যানেস্থেশিওলজিটদের দায় দিচ্ছেন ডা. শরিফুল।

তিনি বলেন, ‘প্লাস্টিক সার্জারিতে আমাদের মেইন কাজ হচ্ছে তলপেট থেকে অথবা থাই থেকে স্কিন নিয়ে আরেক জায়গায় দিই। তবে হাত পুড়ে গেলে সেখানে থাইয়ের স্কিন দেয়া যায় না। কারণ, থাইয়ের স্কিনের পুরুত্ব বেশি। ভালো রেজাল্টের জন্য স্কিন পেট থেকে নেয়া হয়।’

মাইশা কেন মারা গেল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা এনেস্থেশিয়া যিনি দিয়েছেন তিনি ভালো বলতে পারবেন। আমি অপারেশন শেষ করতে পারিনি। এনেস্থেশিয়ায় প্রব্লেম হয়েছিল। তখন তাড়াতাড়ি ডা. আহসান হাবীব আসেন। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন থেকে একজন এনেস্থেশিয়া স্পেশালিস্ট আসছিলেন তখন। তার নামটা মনে নেই। হাবীব ভাই ভালো বলতে পারবেন। তিনি তাকে নিয়ে এসেছিলেন। দুঃখজনক হচ্ছে রোগীকে বাঁচানো যায়নি।’

আইসিইউ হাসপাতালে নেয়ার আগেই মারা যায় মাইশা

আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর মাইশাকে মিরপুর-১ মাজার রোডের গ্লোবাল স্পেশালাইজড হাসপাতালে পাঠানোর আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়।

গ্লোবাল স্পেশালাইজড হাসপাতালে নির্বাহী পরিচালক এম এম নেয়ামত উল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের এখানে তো রোগীকে ভর্তিই করিনি। হাসপাতালে ঢুকতে দেয়া হয়নি। কারণ মাইশাকে আমরা অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরেই মৃত পেয়েছি।

‘তাদের সঙ্গে দুইজন ডাক্তার ও ওটির লোক এসেছিলেন। তারা আমাকে নানাভাবে অনুরোধ করে চেষ্টা করেছেন ম্যানেজ করে রোগীকে আইসিউতে ঢোকানোর জন্য। কিন্তু একজন মরা বাচ্চাকে কেন আমরা আইসিউতে ঢোকাব?’

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ট্রমাটোলজি অ্যান্ড অর্থোপেডিক রিহাবিলিয়েশন হসপিটালের শল্যবিদ আওলাদ হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শরীরের কোনো অংশ থেকে অন্য অংশে চামড়া কেটে লাগানোকে বলে স্কিন গ্রাফটিং। এটি সাধারণত ঊরু বা থাই থেকে নেয়া হয়। তবে ঊরু চিকন হলে পেটের ওপরের অংশ বা হাতের শোল্ডার থেকে নেয়া যায়। এই সেলাই চামড়ার ওপরেই থাকে। চিকিৎসক মনে করলে যেকোনো সুবিধাজনক জায়গা থেকেই চামড়া নিতে পারেন।’

পাঁচ দিনের মাথায় মামলা

মায়েশাকে হত্যা করার অভিযোগ তুলে সোমবার ঢাকার রূপনগর থানায় মামলা করেছেন তার বাবা মোজাফফর হোসেন।

রূপনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল রহমান সরদার নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘মাইশার মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবার আমাদের থানায় মামলা করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার জসীম উদ্দীন মোল্লা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ বিষয়ে যা যা করণীয় সব ব্যবস্থাই নেয়া হচ্ছে। আমরা কাজ শুরু করে দিয়েছি।’

আরও পড়ুন:
ভুয়া প্রেসক্রিপশনে সরকারি ওষুধ তুলে পাচার
ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতালে ভাঙচুর-সংঘর্ষ
রিপোর্ট আনতেই ডাক্তারের সময় শেষ
মেডিক্যাল কলেজ আছে, ভবন নেই
চালুর দেড় বছর পর চট্টগ্রাম এভারকেয়ার হাসপাতালের উদ্বোধন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Annual subscription to Thattari Bazar is Rs

ঠাটারী বাজারের আড়তে বছরে চাঁদা কোটি টাকা

ঠাটারী বাজারের আড়তে বছরে চাঁদা কোটি টাকা কাপ্তানবাজারের ঠাটারী বাজারে ১৯৯টি দোকানের ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজি ও ইজারার প্রতিবাদে আন্দোলন করছেন। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
ঠাটারী বাজার মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি মো. বাহাউদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা চাঁদা দেব না। ইজারাদারের বিষয়টা নিয়ে আদালতের স্থিতাবস্থা আছে। আমরা আর চাঁদাবাজদের কাছে জিম্মি থাকতে চাই না।’

রাজধানীর কাপ্তানবাজারের ঠাটারী বাজারে ১৯৯টি মাছ ও তরকারির আড়ত থেকে দুই বছরে ২ কোটি টাকার বেশি চাঁদা তোলার অভিযোগ উঠেছে। এই টাকা জমা পড়েনি সরকারি কোষাগারে।

আড়তের ব্যবসায়ীরা সিটি করপোরেশন থেকে দোকান বরাদ্দ পেলেও সম্প্রতি নিয়োগ করা হয়েছে ইজারাদার। দুই বছর চাদাঁবাজি চলার পর ইজারাদার নিয়োগের ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক ক্ষোভ।

বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে রিট করেছেন ব্যবসায়ীরা। আদালত এ বিষয়ে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ইজারা কার্যক্রমে স্থিতাবস্থা দিলেও তা লঙ্ঘনের চেষ্টা চলার অভিযোগ উঠেছে।

ঠাটারী বাজারের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, স্থানীয় কাউন্সিলর আহমেদ ইমতিয়াজ মন্নাফীর ছত্রচ্ছায়ায় তার চাচাতো ভাই ইয়াছির দৈনিক ভিত্তিতে দুই বছর চাঁদা তুলেছেন। ইয়াছির চাঁদা টাকা তুলতেন জামাল নামে একজন ব্যবসায়ীকে দিয়ে। এরপর গত অক্টোবরে ইজারাদার নিয়োগ দেয় দক্ষিণ ঢাকা সিটি করপোরেশন। তিনিও স্থানীয় কাউন্সিলরের অনুসারী।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কাউন্সিলর ইমতিয়াজের দাবি, সরকারিভাবে রাজস্ব আদায়ের উদ্যোগ নেয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার’ চলছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ব্যবসায়ী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘১৯৯৬ সালে মেয়র মোহাম্মদ হানিফের সময় ঠাটারী বাজারে একতলা একটি ভবনে ১৯৯ ব্যক্তিকে দোকান বরাদ্দ দেয়া হয়। এরপর মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন তাদের চূড়ান্ত বরাদ্দপত্র দেন। দোকানপ্রতি মাসিক ভাড়া ৮০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘২০২০ সালে করোনার সময় ঝামেলা শুরু হয়। ঝুঁকিপূর্ণ দাবি করে ভবনটি ভেঙে ফেলে সিটি করপোরেশন। তখন কথা ছিল নতুন ভবন নির্মাণ করে আগের চুক্তি অনুযায়ী দোকান বরাদ্দ দেয়া হবে।

‘তবে এখনও সেই ভবন নির্মাণ করা হয়নি। আর ওই জায়গায় ব্যবসায়ীদের অস্থায়ী দোকানে শুরু হয় কাউন্সিলর আহমেদ ইমতিয়াজ মন্নাফীর চাচাতো ভাই ইয়াছিরের চাঁদাবাজি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যবসায়ী বলেন, ‘কাউন্সিলর শুরুতে টিনের ঘের দিয়ে বাজারের জায়গাটি আটকে দিতে চেয়েছিলেন। আমরা জায়গাটি উন্মুক্ত রাখার অনুরোধ করলে তিনি জানান, ব্যবসা করতে হলে রাজস্ব দিতে হবে। তবে এই রাজস্ব সরকারকে নয়, দিতে হবে তার চাচাতো ভাই ইয়াছিরকে। এরপর ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত একটানা চলে চাঁদাবাজি।’

ঠাটারী বাজারের আড়তে বছরে চাঁদা কোটি টাকা
ঠাটারী বাজারের বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা (বাঁয়ে) এবং কাউন্সিলর আহমেদ ইমতিয়াজ মন্নাফী

ঠাটারী বাজারের ষাটোর্ধ্ব এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘শুরুতে দিনে প্রতি দোকান থেকে ২০০ টাকা করে দিতে বলেছিলেন ইয়াছির। পরে তা একটু কমানো হয়। ওই বছর প্রথম ছয় মাস প্রতিদিন এই ১৯৯ দোকান থেকে দেয়া হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা করে। পরের ছয় মাস কাউন্সিলরের লোকজন দিনপ্রতি নেন ২৮ হাজার করে টাকা। গত বছরের অক্টোবর থেকে দিনে ৩১ হাজার করে টাকা নিয়েছেন। এ বিষয়ে মেয়রকেও লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।’

দুই বছর ধরে নীরবে চাঁদা দেয়ার কারণ জানতে চাইলে এক ব্যবসায়ী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের দোকান বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ভবন ভাঙার পর তো ব্যবসা করারই সুযোগ ছিল না। ফলে ব্যবসা করার জন্য কমিশনার ও তার লোকদের টাকা দেয়া ছাড়া কোনো উপায় ছিল না।’

সম্প্রতি জায়গাটি মো. কামরুজ্জামান নামে একজনকে বছরে ৩৮ লাখ টাকায় ইজারা দেয় সিটি করপোরেশন। এর বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীরা হাইকোর্টে রিট করলে আদালত স্থিতাবস্থা দেয়।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আদালতের আদেশ অমান্য করে গত ২৮ নভেম্বর ইজারাদার কামরুজ্জামানের পক্ষে ঠাটারী বাজারে মাইকিং করে একটি পক্ষ। বলা হয়, ১ ডিসেম্বর থেকে ইজারাদারকে অর্থ দিতে হবে। এর প্রতিবাদে ওই দিন দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দোকান বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করেন দোকান মালিকরা।

উচ্চ আদালতের আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ৩০ নভেম্বর রাতে ডিএমপির ওয়ারী থানায় ব্যবসায়ীরা সাধারণ ডায়েরিও করেন।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, জিডি করার পর থানা থেকে ঠাটারী বাজার ফেরার পথে স্থানীয় কাউন্সিলরের লোকজনের হামলায় অন্তত ২০ জন আহত হন। এর প্রতিবাদে ১ ডিসেম্বর সকাল থেকে ঠাটারী বাজারের মৎস্য ও তরকারি আড়তের ১৯৯টি দোকান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়। অবশ্য পুলিশের আশ্বাসে শুক্রবার দোকান খুলেছেন ব্যবসায়ীরা।

আদালতের আদেশ না মেনে টোল আদায়ের চেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করছেন ইজারাদার মো. কামরুজ্জামান। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সিটি করপোরেশন এখনও আমাকে বাজার বুঝিয়ে দেয়নি। আমি এখনও বাজারে যাইনি। সিটি করপোরেশন বুঝিয়ে দেয়ার পর যাব।’

তবে ডিএসসিসি বলছে, ইজাদারকে অনেক আগেই বাজার বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা (উপসচিব) মো. রাসেল সাবরিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ইজারাদারকে বাজার বুঝিয়ে দিয়েছি। তবে জায়গার মাপ নিয়ে একটু সমস্যা আছে, যেটা কয়েক দিনের মধ্যে সমাধান করে দেয়া হবে।’

আদালতের স্থিতাবস্থা জারির বিষয়ে প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা যা করছি, সবই আদালতের নির্দেশনার মধ্যে থেকেই করছি।’

বাজার থেকে দুই বছরে ২ কোটি টাকার বেশি চাঁদা তোলার সঙ্গে নিজের স্বজন বা অনুসারীদের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করছেন ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আহমেদ ইমতিয়াজ মন্নাফী। তার দাবি, চাঁদাবাজির সঙ্গে ব্যবসায়ীদের একটি অংশই জড়িত।

ইমতিয়াজ মন্নাফী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। এত বছর ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে একটা শ্রেণি চাঁদা নিত। এবারই প্রথম ইজারার মাধ্যমে সিটি করপোরেশনের তহবিলে টাকা জমার বিষয়টি এসেছে। এতে ওই চাঁদাবাজ লোকজন লসে পড়েছে।

‘তাই প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তারা এখন আমার নামে বদনাম করছে। আমি বা আমার কাছের লোকজনের নামে যে তথ্য ছড়াচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন।’

বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা য়ায়, কাপ্তানবাজারসংলগ্ন অংশে ঠাটারী বাজারের অবস্থান। ৩৮ নং কাউন্সিলরের অফিস থেকে অদূরে সেদিন বাজারের সব দোকান বন্ধ ছিল। ইজারা বাতিল ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি নিয়ে সোচ্চার ব্যবসায়ীরা।

ঠাটারী বাজারের আড়তে বছরে চাঁদা কোটি টাকা
স্থানীয় শ্রমিক লীগ নেতা আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের হুমকি দেয়ার অভিযোগ রয়েছে

ব্যবসায়ীদের এই অবস্থান চলার সময় দুপুর দেড়টার দিকে স্থানীয় শ্রমিক লীগ নেতা আব্দুর রহমান ২০-২৫ জনকে নিয়ে স্লোগান দিতে দিতে ঘটনাস্থলে আসেন।

বাহাউদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ীকে হুমকি দিতে দেখা যায় আব্দুর রহমানকে। তিনি উচ্চকণ্ঠে বলছিলেন ‘দোকান বন্ধ রাখা যাবে না। আমাদের সঙ্গে ঝামেলা করতে আইসেন না। আমরা এলাকাতেই থাকমু। দোকান খোলেন।’

আব্দুর রহমান সম্পর্কে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উনি কাউন্সিলরের লোক। এখানে মাস্তানি করতে আসছেন। জোর করে ওরা সব আদায় করতে চায়।’

ঠাটারী বাজার মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি মো. বাহাউদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাজারের ব্যবসায়ীদের গ্রাস করার জন্য ওরা আমাদের ওপর হামলা করছে। আমরা জিডি করে আসার সময় লাঠিসোঁটা নিয়ে ব্যবসায়ীদের মারছে। দোকানের শাটার ভাঙার চেষ্টা করছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা চাঁদা দেব না। ইজারাদারের বিষয়টা নিয়ে আদালতের স্থিতাবস্থা আছে। আমরা আর চাঁদাবাজদের কাছে জিম্মি থাকতে চাই না।’

ইজারাদার কামরুজ্জামানও কাউন্সিলরের লোক বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। তাদের দাবি, এলাকায় অপরিচিত কামরুজ্জামানের নাম ব্যবহার করে কাউন্সিলরই ইজারা নিয়েছেন।

কামরুজ্জামানের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করছেন না কাউন্সিলর আহমেদ ইমতিয়াজ মন্নাফী।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘ঠিক আছে। কার লোক কী বিষয়, এটা তো সরকার দিয়েছে। সরকার এটার জন্য রাজস্ব পেয়েছে। এই টাকা বাজারের যারা আছে তারা কখনও সরকারকে দেয়নি।’

ব্যবসায়ীদের দোকান বরাদ্দ পাওয়া নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘যারা এখন বাজারে আছে তাদের কাছে কি মালিকানার কোনো ডকুমেন্ট আছে? তাদের কাগজ দেখাতে বলেন। আমি তো আমার কাগজ (ইজারা) দেখাইছি। দেশে তো আইন আছে। আইনের বাইরে তো যাব না। আমি একজন জনপ্রতিনিধি।

‘ল্যান্ডের মালিক সিটি করপোরেশন। আমি এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে সিটি করপোরেশনকে সার্ভ করি। এ জন্য আমার নাম আসবে, এটা ন্যাচারাল। এই বাজারে এক্স ওয়াই জেডরা তাদের বেনিফিট হারাচ্ছে, এখন গর্ভমেন্ট রাজস্ব পাবে। এটা তারা মানতে পারছে না।‘

বাজারে চাঁদাবাজির ঘটনায় চাচাতো ভাইসহ ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের নাম আসার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কাউন্সিলরের যারা পলিটিক্যাল লোক থাকে, তাদের সবারই নাম আসবে। আমি কাপ্তানবাজার মালিক সমিতির সভাপতি। অন্যদিকে ময়না ও বাহাউদ্দিন দুজনই আমার এলাকার বাসিন্দা না। তারাই মাছ বাজার থেকে টাকা ওঠাত। আমি যখন এটাকে গর্ভমেন্ট রাজস্বে ফালাইছি তখন থেকেই তারা মানতে পারছে না।’

আরও পড়ুন:
অপহরণ-চাঁদাবাজি: সাঁথিয়া ছাত্রলীগ সেক্রেটারিসহ গ্রেপ্তার ৫
হাইওয়ে পুলিশের ‘চাঁদাবাজি’, চালকদের মহাসড়ক অবরোধ
সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে পিটুনি
বরিশালের অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ
সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মারধর-চাঁদাবাজির অভিযোগ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Durant Biplab was not killed but drowned in the Buriganga

দুরন্ত বিপ্লব খুন হননি, বুড়িগঙ্গায় ডুবে মৃত্যু

দুরন্ত বিপ্লব খুন হননি, বুড়িগঙ্গায় ডুবে মৃত্যু দুরন্ত বিপ্লবের নৌকাকে ধাক্কা দেয়া লঞ্চ মর্নিংসান-৫ (বাঁয়ে) এবং ডুবে যাওয়া নৌকা থেকে উদ্ধার বিপ্লবের জুতা। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
দুরন্ত বিপ্লবের জুতা শনাক্ত করার বিষয়ে জানতে চাইলে তার ছোট বোন শাশ্বতী বিপ্লব শনিবার সন্ধ্যায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দাদা (বিপ্লব) এ ধরনের জুতাই পরতেন। আগামীকাল (রোববার) ডিবি একটি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে। সেখানে তারা নৌকাডুবিতে মৃত্যুর কথাই জানাবে।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কৃষি খামারি দুরন্ত বিপ্লব বুড়িগঙ্গায় ডুবে মারা গেছেন। তাকে হত্যা করা হয়নি। একটি লঞ্চের ধাক্কায় নৌকাডুবে পানিতে তলিয়ে যান তিনি।

ঘটনার ছায়া তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কর্মকর্তারা নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

কৃষিখামারি দুরন্ত বিপ্লব ৭ নভেম্বর নিখোঁজ হন। এর পাঁচ দিন পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বুড়িগঙ্গা নদীতে ভাসমান অবস্থায় একটি মরদেহ পায় পুলিশ। সেদিন রাতে মরদেহটি বিপ্লবের বলে নিশ্চিত করেন তার স্বজনরা। পরদিন দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বিপ্লবের মরদেহের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক নারায়ণগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার মফিজ উদ্দিন প্রাথমিকভাবে জানান, বিপ্লবকে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

তবে বিপ্লব নিখোঁজের দিন সন্ধ্যায় বুড়িগঙ্গা নদীর সোয়ারীঘাট এলাকায় একটি নৌকাডুবির তথ্য জানিয়েছিল দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পুলিশ।

দুরন্ত বিপ্লব খুন হননি, বুড়িগঙ্গায় ডুবে মৃত্যু
ঘটনার দিন নিজের খামার থেকে রওনা দেয়ার পর একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় দুরন্ত বিপ্লবের ছবি

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার (ওসি) শাহ জামান ১৩ নভেম্বর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সোয়ারীঘাটের দিকে নৌকা থেকে একজনের পড়ে যাওয়ার কথা আমরা শুনেছি। জিঞ্জিরার বিপরীতে নদীতে ঘটনাটি ঘটে। ওনার (বিপ্লব) মোবাইল কললিস্ট ও নেটওয়ার্ক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যেখানে ঘটনাটি ঘটে, সেখানেই ওনার অবস্থান ছিল।

‘বুড়িগঙ্গার এই অংশটায় নৌকা দিয়েই পারাপার হতে হয়। সোয়ারীঘাট, পানঘাট, আরও অনেকগুলো ঘাট রয়েছে ওখানে। তবে উনি নৌকা থেকে পড়েই মারা গেছেন, এমনটা আমরা এখনই বলছি না। আমরা তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে নিশ্চিতভাবে মৃত্যুর কারণ বলা যাবে।’

বিষয়টি নিয়ে ছায়া তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই-এর ঢাকা জেলার উপ পরিদর্শক সালেহ ইমরান শনিবার নিউজবাংলাকে জানান, দুরন্ত বিপ্লব নৌকাডুবিতেই প্রাণ হারিয়েছেন বলে তারা অনুসন্ধানে নিশ্চিত হয়েছেন।

দুরন্ত বিপ্লব খুন হননি, বুড়িগঙ্গায় ডুবে মৃত্যু
খেয়াঘাটে পৌঁছাতে অটোরিকশায় চড়ার আগে দুরন্ত বিপ্লব

তিনি জানান, ৭ নভেম্বর বিকেল ৫টার পর কেরানীগঞ্জের বটতলা ঘাট থেকে বুড়িগঙ্গা পাড়ি দিয়ে সোয়ারীঘাট আসছিলেন বিপ্লব। ওই নৌকার মালিক ও মাঝি ছিলেন শামসু নামের একজন।

একই সময়ে ঢাকা-বরিশাল রুটের মর্নিংসান-৫ লঞ্চটি সোয়ারীঘাট থেকে সদরঘাটের উদ্দেশে যাত্রা করে।

উপ পরিদর্শক সালেহ ইমরান বলেন, ‘দুরন্ত বিপ্লবসহ আরও চারজনকে বহন করা শামসু মাঝির নৌকাটি নদীর দুই-তৃতীয়াংশ পাড়ি দেয়ার পর মর্নিংসান-৫ লঞ্চটির ডান পাশে ধাক্কা লাগে। এতে উল্টে যায় নৌকাটি।’

দুর্ঘটনার পর আশপাশের নৌকা গিয়ে চার যাত্রী ও শামসু মাঝিকে উদ্ধার করে। তবে নিখোঁজ হন এক যাত্রী।

দুর্ঘটনার পর শামসু মাঝি তার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরে পালিয়ে গেলেও তাকে সম্প্রতি আটক করেছে পিবিআই। ষাটোর্ধ শামসু মাঝি নদীতে ডুবে যাওয়া যাত্রীর যে বিবরণ দিয়েছেন তার সঙ্গে দুরন্ত বিপ্লবের মিল রয়েছে। এছাড়া, ডুবে যাওয়া নৌকার পাটাতনের নিচ থেকে বিপ্লবের জুতা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পিবিআই।

অন্যদিকে মর্নিংসান-৫ লঞ্চের চালকসহ কয়েকজন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে আছেন বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র।

পিবিআই ঢাকা জেলার উপ পরিদর্শক সালেহ ইমরান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুরন্ত বিপ্লবের লাশ উদ্ধারের পরই আমরা ছায়া তদন্ত শুরু করি। যে নৌকায় তিনি নদী পার হচ্ছিলেন সেই নৌকার মাঝিকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তিনি জানিয়েছেন, তার নৌকার পাঁচ যাত্রীর মধ্যে চার জনকে উদ্ধার করা হলেও দুরন্ত বিপ্লবকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

‘আমরা শামসু মাঝির নৌকা থেকে দুরন্ত বিপ্লবের একটি জুতাও উদ্ধার করেছি। জুতাটি যে দুরন্ত বিপ্লবের তা তার বোন ও খামারের ম্যানেজার নিশ্চিত করেছেন। তিনি (বিপ্লব) সাঁতারও জানতেন না। নৌকাটি উল্টে যাওয়ার পর অন্যরা সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসার আগেই তিনি তলিয়ে যান। দুরন্ত বিপ্লবকে হত্যা করা হয়নি, তিনি ডুবে মারা গেছেন।’

ছাত্রলীগের সাবেক নেতা দুরন্ত বিপ্লব কয়েক বছর ধরে কেরানীগঞ্জে ‘সোনামাটি অ্যাগ্রো’ নামে একটি কৃষি খামার পরিচালনা করছিলেন। ৭ নভেম্বর বেলা ৩টার দিকে মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি জানান, ঢাকার মোহাম্মদপুরের মায়ের বাসায় তিনি আসছেন।

তবে মায়ের বাসায় আসেননি দুরন্ত বিপ্লব। তার কোনো সন্ধান না পেয়ে ৯ নভেম্বর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে পরিবার। এরপর ১২ নভেম্বর তার ভাসমান দেহ উদ্ধার করা হয়।

দুরন্ত বিপ্লবের জুতা শনাক্ত করার বিষয়ে জানতে চাইলে তার ছোট বোন শাশ্বতী বিপ্লব শনিবার সন্ধ্যায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দাদা (বিপ্লব) এ ধরনের জুতাই পরতেন। আগামীকাল (রোববার) ডিবি একটি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে। সেখানে তারা নৌকাডুবিতে মৃত্যুর কথাই জানাবে।’

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় যেভাবে দুর্ঘটনা

বুড়িগঙ্গার আলোচিত খেয়াঘাটের দুই তীরে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর খোঁজ পেয়েছে নিউজবাংলা। তারা জানান, ৭ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে জিঞ্জিরার বটতলা ঘাট থেকে পাঁচ জন যাত্রী নিয়ে সোয়ারীঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে যায় শামসু মাঝির নৌকা। তবে সোয়ারীঘাটে পৌঁছানোর আগেই লঞ্চের ধাক্কায় নৌকাটি তলিয়ে যায়।

বটতলা ঘাটের টোল আদায়কারী সিদ্দিকুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের ঘাটে শামসু নামের একজন মাঝি আছেন। উনি জিঞ্জিরার বটতলা ঘাট থেকে সেদিন পাঁচ জন যাত্রী নিয়ে সোয়ারীঘাটের দিকে যাচ্ছিলেন। তখন একটা লঞ্চ ব্যাক দিছে, লঞ্চের নিচে পইরা নৌকা ডুইবা গেছে। এইখান (বটতলা) দিয়া মাঝিরা গিয়ে যাত্রী ও মাঝিরে উদ্ধার করছে। আমি জিগাইলাম, সব লোক উঠছে, ওরা কইলো উঠছে।’

তিনি বলেন, ‘এখন শুনি এক লোকরে পায় নাই। এক লোক ডুইবা গেছে। মাঝিরা আমারে সত্য তথ্য দেয় নাই। সত্য দিলে আমি থানায় জানায়ে দিতাম। পুলিশ খবর দিতাম, ডুবারও খবর দিতাম। ওই দিনের পরে আর শামসু ঘাটে আহে নাই।’

দুরন্ত বিপ্লবের মরদেহ উদ্ধারের পর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ শরীফ নামে একজন প্রত্যক্ষদর্শীর সন্ধান পায়। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সোয়ারীঘাটে একটা লঞ্চ ঘুরাইবার সময় একটা নৌকা ডুইবা গেছে। নৌকায় পাঁচ জন যাত্রী ছিল। পাঁচ জনের ভিতর চার জন উঠছে, একজনের শুধু হাত দেখা গেছে। আর কিছুই দেখা যায় নাই। চারজন নৌকা ধইরা বইসা ছিল। আর একজন তলাইয়া গেছে।’

অনুসন্ধানে জানা যায়, সোয়ারীঘাট বিআইডাব্লিউটিএ ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যায় দুটি লঞ্চ সদরঘাটে গিয়ে নির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় প্রথমে মর্নিংসান-৫ ও পরে পারাবাত-১৫ লঞ্চটি সদরঘাট গিয়েছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পারাবাত-১৫ এর একজন কর্মচারী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের আগে মর্নিংসান-৫ ছাইড়া গেছে। এরপর আমরা গেছি। মর্নিংসান-৫ যাওয়ার সময় একটা নৌকারে ধাক্কা দেয়। ধাক্কা লাইগা নৌকাটা উল্টায়া যায়। দুই পার থাইকাই মাঝিরা আইসা যাত্রীগো উদ্ধার করে। আমরা লঞ্চ থাইকা এই ঘটনাটা দেখছি।’

দুরন্ত বিপ্লব খুন হননি, বুড়িগঙ্গায় ডুবে মৃত্যু
খেয়াঘাটে নৌকায় চড়ার আগে দুরন্ত বিপ্লব

দুরন্ত বিপ্লবের খেয়া ঘাটে যাওয়ার ছবি সিসিটিভি ক্যামেরায়

তদন্তকারীদের অনুসন্ধানে জানা গেছে ঘটনার দিন বিকেল ৪টা ৪৭ মিনিটে দুরন্ত বিপ্লব নিজের খামার থেকে ঢাকার উদ্দেশে বের হন। তার খামারের পাশের একটি পেট্রল পাম্পের সিসিটিভি ক্যামেরায় এ দৃশ্য ধরা পড়েছে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, দুরন্ত বিপ্লবের পরনে ছিল পাঞ্জাবি ও প্যান্ট, পায়ে ছিল চামড়ার স্যান্ডেল। হেঁটেই তিনি কোনাখোলা মোড়ের অটোরিকশা স্ট্যান্ডে আসেন।

আরেকটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুরন্ত বিপ্লব অটোরিকশা স্ট্যান্ডে পৌঁছান ৪টা ৫৫ মিনিটে। এরপর বিল্লাল নামের একজনের অটোরিকশায় চড়ে জিঞ্জিরার বটতলা ঘাটে পৌঁছান। ঘাট এলাকার একটি সিসিটিভি ফুটেজে দুরন্ত বিপ্লবকে দেখা গেছে বিকেল ৫টা ২৭ মিনিটে। এ সময় তিনি একাই ছিলেন।

পিবিআই তদন্ত কর্মকর্তা সালেহ ইমরান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুরন্ত বিপ্লব ওখান থেকে শামসু মাঝির নৌকায় চড়েন। এরপর লঞ্চের ধাক্কায় তার নৌকাটি ডুবে যায়। নৌকার মাঝি আমাদেরকে বলেছেন, চার যাত্রীকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও একজন ডুবে যান।’

দুরন্ত বিপ্লবের শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকার বিষয়ে পিবিআই কর্মকর্তা ইমরান বলেন, ‘নৌকা থেকে পরে যাওয়ার পর উনি পাঁচদিন নদীতে ছিলেন। শত শত লঞ্চ, স্টিমার, নৌকা, বাল্কহেড নদীতে চলাচল করে। ভাসতে ভাসতে ৮-৯ কিলোমিটার যাওয়ার পথে এগুলোর সঙ্গে ধাক্কা লাগতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘খামার থেকে দুরন্ত বিপ্লব বের হওয়ার পর যেখানে তিনি গেছেন প্রতিটা স্পটে আমরা গিয়েছি। যে নৌকায় দুর্ঘটনা ঘটছে ওই নৌকার মাঝির স্টেটমেন্ট পেয়েছি। তার জুতা পেয়েছি। এসব থেকে স্পষ্ট তিনি হত্যার শিকার হননি। পানিতে ডুবে মারা গেছেন।’

আরও পড়ুন:
জাবি ছাত্রলীগের সাবেক নেতা দুরন্ত বিপ্লবকে খুনের সন্দেহ
বুড়িগঙ্গায় পাওয়া মরদেহ কৃষি খামারি দুরন্ত বিপ্লবের
বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী ঢাবি শাখার আহ্বায়ক কমিটি গঠিত
মাদক মামলার তদন্তে মিলল ২ বছর আগে নিখোঁজের দেহাবশেষ
বাড়ি ছেড়ে যাওয়া ৩ জনসহ জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধকারী গ্রেপ্তার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
BUET student Fardin went to Chanpara by autorickshaw

ফারদিন অটোরিকশায় যান চনপাড়ায়, গুম প্রাইভেট কারে

ফারদিন অটোরিকশায় যান চনপাড়ায়, গুম প্রাইভেট কারে লেগুনা থেকে নামার পর চনপাড়ামুখী অটোরিকশায় ফারদিন; চনপাড়ায় তাকে হত্যার পরে মরদেহ সরিয়ে নেয়া হয় প্রাইভেট কারে করে। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
নিউজবাংলার হাতে আসা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ৪ নভেম্বর রাত ২টা ৩ মিনিটে যাত্রাবাড়ী মোড় থেকে একটি লেগুনায় চড়েন ফারদিন। এর ১০ মিনিট পর চার যুবকের সঙ্গে যাত্রাবাড়ী-ডেমরা মহাসড়কের স্টাফ কোয়ার্টার মোড়ে নামেন। এর মিনিটখানেকের মধ্যে ফারদিন ওই চার ব্যক্তির সঙ্গে একটি অটোরিকশায় চড়ে চনপাড়ার দিকে যান।

বুয়েট ছাত্র ফারদিন নূর পরশ হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার কিছুক্ষণ আগে একটি অটোরিকশায় পৌঁছান রূপগঞ্জের আলোচিত চনপাড়া বস্তিতে।

চনপাড়া বস্তিমুখী অটোরিকশায় ফারদিনের ওঠার দৃশ্য ধরা পড়েছে সিসিটিভি ক্যামেরায়। সেই ফুটেজ পেয়েছে নিউজবাংলা। সিসিটিভি ফুটেজটি দেখানোর পর ফারদিনের বাবা কাজী নূর উদ্দিন ছেলেকে শনাক্ত করেছেন।

ফারদিন চনপাড়া যাওয়ার ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে মাদক কারবারিদের বেদম পিটুনির শিকার হয়ে প্রাণ হারান। এরপর একটি প্রাইভেট কারে তুলে নিয়ে তার মৃতদেহ নদীতে ফেলে দেয়া হয়।

নিউজবাংলার হাতে আসা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ৪ নভেম্বর রাত ২টা ৩ মিনিটে যাত্রাবাড়ী মোড় থেকে একটি লেগুনায় চড়েন ফারদিন। এর ১০ মিনিট পর চার যুবকের সঙ্গে যাত্রাবাড়ী-ডেমরা মহাসড়কের স্টাফ কোয়ার্টার মোড়ে নামেন। সেখান থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরেই চনপাড়া বস্তি।

ফারদিন অটোরিকশায় যান চনপাড়ায়, গুম প্রাইভেট কারে
বুয়েট ছাত্র ফারদিন নূর পরশ। ছবি: সংগৃহীত

লেগুনা থেকে নামার মিনিটখানেকের মধ্যে ফারদিন ওই চার ব্যক্তির সঙ্গে একটি অটোরিকশায় চড়ে চনপাড়ার দিকে যান।

আরও পড়ুন:সেই রাতে ফারদিনের চনপাড়ায় যাওয়ার ছবি সিসি ক্যামেরায়

যে সিসিটিভি ক্যামেরায় ফারদিনের সিসিটিভি ফুটেজে স্টাফ কোয়ার্টার মোড়ে নামা এবং চনপাড়ামুখী অটোরিকশায় চড়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে, সেটির সময় রিয়েল টাইমের চেয়ে ১০ মিনিট পিছিয়ে রাখা ছিল। ফলে সিসিটিভিতে ফারদিনকে রাত ২টা ৩ মিনিটে লেগুনা থেকে নামতে দেখা গেলেও প্রকৃত সময় তখন ছিল রাত ২টা ১৩ মিনিট।

এর আগে নিউজবাংলার অনুসন্ধানে চনপাড়া এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে যেসব মাদক কারবারি শনাক্ত হন, তাদের সঙ্গেই ফারদিন লেগুনা থেকে নেমে অটোরিকশায় চড়েছিলেন।

ফারদিন অটোরিকশায় যান চনপাড়ায়, গুম প্রাইভেট কারে
সিসিটিভি ফুটেজে স্টাফ কোয়ার্টার মোড়ে ফারদিনের নামা এবং চনপাড়ামুখী অটোরিকশায় চড়ার দৃশ্য।

চনপাড়ার পরবর্তী সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ২টা ২৩ মিনিটে ওই চার ব্যক্তি অটোরিকশা থেকে নেমে হেঁটে ৬ নম্বর ওয়ার্ডে প্রবেশ করছেন। বস্তির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ফারদিন বস্তি এলাকায় ঢোকেন অটোরিকশায় চড়ে। পরে তাকে র‌্যাবের সোর্স সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করে রায়হান বাহিনী।

আরও পড়ুন: ফারদিন হত্যার পর মরদেহ সরানো হয় প্রাইভেট কারে

সিসিটিভি ফুটেজে চার যুবকের ঢোকার আগে-পরে বেশ কয়েকটি অটোরিকশাকে ওই পথে দেখা গেছে।

কাঁচপুর ব্রিজের আশপাশের নদীতে ফেলা হয় মৃতদেহ

চনপাড়া বস্তির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র নিউজবাংলাকে জানায়, সে রাতে ফারদিনের সঙ্গে থাকা চার যুবকের আরেকটি উদ্দেশ্যও ছিল। সেটি হলো মাদক গ্রহণের পর চলে যাওয়ার সময় ফারদিনের কাছ থেকে বাকি টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়া। এ কারণেই তারা বস্তিতে ঢোকার আগে অটোরিকশা থেকে নেমে যান।

তবে এর আগেই স্থানীয় মাদক কারবারি রায়হান আহমেদের অনুসারীরা র‌্যাবের সোর্স মনে করে পিটিয়ে ফারদিনকে হত্যা করে। হত্যার পর রায়হানের বন্ধু ও বোনজামাই ফাহাদ আহমেদ শাওনের প্রাইভেট কারে করে ফারদিনের মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে সরানো হয়।

আরও পড়ুন: মাথায় ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতে ফারদিনের মৃত্যু

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, ফারদিন হত্যার খবর পেয়ে শাওন তার বাসার সামনে থেকে প্রাইভেট কারটি নিয়ে রাত ২টা ৫২ মিনিটে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। সিসিটিভি ফুটেজেও এ দৃশ্য ধরা পড়েছে।

এরপর রাত ৩টা ৩ মিনিটে গলি থেকে বেরিয়ে বালুব্রিজ হয়ে মূল সড়ক ধরে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টারের দিকে চলে যায় শাওনের সাদা রঙের এক্সিও প্রাইভেট কারটি। এরপর সেখান থেকে বামে মোড় নিয়ে সুলতানা কামাল সেতুর দিকে চলে যায় গাড়িটি। এটির গতিবিধি ধরা পড়েছে- সিসিটিভির এমন ফুটেজও পেয়েছে নিউজবাংলা।

ফারদিন অটোরিকশায় যান চনপাড়ায়, গুম প্রাইভেট কারে
গলি থেকে বেরিয়ে বালুব্রিজ হয়ে মূল সড়ক ধরে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টারের দিকে চলে যায় শাওনের সাদা রঙের এক্সিও প্রাইভেট কারটি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ধারণা, এরপর সেতুতে ওঠার আগে ডানে মোড় নিয়ে সাইনবোর্ডে যাওয়ার রাস্তা বেছে নেয় গাড়িটি। পরে সাইনবোর্ড এলাকার আগে বামে মোড় নিয়ে নদীতীরের নির্জন রাস্তা ধরে কাঁচপুর ব্রিজ এলাকায় গিয়ে শীতলক্ষ্যায় ফেলে দেয়া হয় ফারদিনের মরদেহ।

সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বাবা নির্বাক

যাত্রাবাড়ী-ডেমরা মহাসড়কের স্টাফ কোয়ার্টার মোড়ের সিসিটিভি ফুটেজে ফারদিনের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন তার বাবা কাজী নূর উদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘আমি ৯০ পারসেন্ট নিশ্চিত যে, দুটি ফুটেজেই আমার ছেলে ফারদিন রয়েছে। ওর কালো প্যান্ট আর জুতাটা বোঝা যাচ্ছে। তাছাড়া আমার ছেলের দেহের গড়নেই তো তাকে চোখের পলকে ধরা যায়।’

আবেগতাড়িত বাবা বলেন, ‘আমি শুধু চাই আমার ছেলে হত্যাকরীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, এখন আর কোনো চাওয়া নেই।’

তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে কখনও সিগারেটের ধোঁয়া পর্যন্ত সহ্য করতে পারে না। এই ছেলে হঠাৎ কেন মাদকের স্পটের দিকে যাবে- এটা আমার কোনোভাবেই মাথায় আসছে না। আমার ছেলে নিশ্চয়ই কোনো কিছু নিয়ে ডিপ্রেশনে ছিল, নইলে এমন কিছু করার সিদ্ধান্ত কেন নেবে!’

আরও পড়ুন:
সেই রাতে ফারদিনের চনপাড়ায় যাওয়ার ছবি সিসি ক্যামেরায়
মাথায় ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতে ফারদিনের মৃত্যু
যাত্রাবাড়ীতে ফারদিনের উপস্থিতি শনাক্তের দাবি ডিবির
তদন্তে কোথাও একটা ফাঁকি আছে: ফারদিনের বাবা
ফারদিন হত্যায় গ্রেপ্তার বুশরার জামিন মেলেনি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The picture of Fardin going to Chanpara that night is on the CC camera

সেই রাতে ফারদিনের চনপাড়ায় যাওয়ার ছবি সিসি ক্যামেরায়

সেই রাতে ফারদিনের চনপাড়ায় যাওয়ার ছবি সিসি ক্যামেরায় লেগুনা থেকে নেমে চনপাড়ামুখী অটোরিকশায় ফারদিন। ছবি: নিউজবাংলা
নিউজবাংলার হাতে আসা একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, যাত্রাবাড়ী মোড় থেকে ছেড়ে আসা লেগুনায় চারজনের সঙ্গে যাত্রাবাড়ী-ডেমরা মহাসড়কের স্টাফ কোয়ার্টার মোড়ে নামেন ফারদিন। সেখান থেকে একটি অটোরিকশায় চড়ে চনপাড়ার দিকে যান। এই ফুটেজ ফারদিনকে শনাক্ত করেছেন তার বাবা।   

বুয়েট ছাত্র ফারদিন নূর পরশ হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার কিছুক্ষণ আগেই গিয়েছিলেন রূপগঞ্জে মাদকের জন্য আলোচিত চনপাড়া বস্তি এলাকায়। তিনি সেখানে যাওয়ার ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে মাদক কারবারিদের বেদম পিটুনির শিকার হয়ে প্রাণ হারান। এরপর একটি প্রাইভেট কারে তুলে নিয়ে তার মৃতদেহ নদীতে ফেলে দেয়া হয়।

চনপাড়া বস্তিমুখী অটোরিকশায় ফারদিনের ওঠার দৃশ্য ধরা পড়েছে সিসিটিভি ক্যামেরায়। সেই ফুটেজ পেয়েছে নিউজবাংলা। সিসিটিভি ফুটেজটি দেখানোর পর ফারদিনের বাবা কাজী নূর উদ্দিন ছেলেকে শনাক্ত করেছেন।

ফারদিনের মৃতদেহ বহনকারী প্রাইভেট কারের নদীর দিকে যাওয়ার আরেকটি সিসিটিভি ফুটেজও রয়েছে নিউজবাংলার কাছে। এর আগে চনপাড়া বস্তিতে ওই প্রাইভেট কারটির ঢোকা ও বেরিয়ে যাওয়ার সিসিটিভি ফুটেজ নিউজবাংলা প্রকাশ করে।

বুয়েট ছাত্র ফারদিন নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। বর্তমানে হত্যা মামলাটির তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পাশাপাশি র‌্যাবসহ আরও কয়েকটি সংস্থা ছায়াতদন্ত করছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন, ৪ নভেম্বর গভীর রাতে ফারদিনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক অনুযায়ী তার সবশেষ অবস্থান শনাক্ত হয় রূপগঞ্জের চনপাড়া বস্তি এলাকায়।

সেই রাতে ফারদিনের চনপাড়ায় যাওয়ার ছবি সিসি ক্যামেরায়
ফারদিন নূর পরশ

তবে ফারদিন হত্যা মামলার তদন্ত কর্তৃপক্ষ ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানান, ফারদিনের চনপাড়া বস্তিতে যাওয়ার প্রমাণ এখনও মেলেনি, তাকে অন্য কোথাও হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, ‘ঘটনার রাত সোয়া ২টার কাছাকাছি সময়ে সবশেষ যাত্রাবাড়ী মোড়ে ফারদিনকে দেখা গেছে। সাদা গেঞ্জি পরা অবস্থায় এক যুবক তাকে একটি লেগুনায় তুলে দেয়। ওই লেগুনায় আরও চারজন ছিল। লেগুনাটি তারাবোর দিকে নিয়ে যায়। ওই লেগুনার চালক ও সহযোগীদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

‘ফারদিনের মৃত্যুর কারণ এখনও জানা যায়নি। কোথায় তাকে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।’

তবে নিউজবাংলার অনুসন্ধানে নিহত হওয়ার কিছুক্ষণ আগে ফারদিনের চনপাড়ায় যাওয়ার বিষয়ে তথ্য মিলেছে। নিউজবাংলার হাতে আসা একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, যাত্রাবাড়ী মোড় থেকে ছেড়ে আসা লেগুনায় চারজনের সঙ্গে যাত্রাবাড়ী-ডেমরা মহাসড়কের স্টাফ কোয়ার্টার মোড়ে নামেন ফারদিন। সেখান থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরেই চনপাড়া বস্তি।

লেগুনা থেকে নামার মিনিটখানেকের মধ্যে ফারদিন ওই চার ব্যক্তির সঙ্গে একটি অটোরিকশায় চড়ে চনপাড়ার দিকে যান।

সেই রাতে ফারদিনের চনপাড়ায় যাওয়ার ছবি সিসি ক্যামেরায়
ফারদিনসহ পাঁচ যাত্রী নিয়ে চনপাড়ামুখী অটোরিকশা

যে সিসিটিভি ক্যামেরায় ফারদিনের সিসিটিভি ফুটেজে স্টাফ কোয়ার্টার মোড়ে নামা এবং চনপাড়ামুখী অটোরিকশায় চড়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে, সেটির সময় রিয়েল টাইমের চেয়ে ১০ মিনিট পিছিয়ে রাখা ছিল। ফলে সিসিটিভিতে ফারদিনকে রাত ২টা ৩ মিনিটে লেগুনা থেকে নামতে দেখা গেলেও প্রকৃত সময় তখন ছিল রাত ২টা ১৩ মিনিট।

ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বৃহস্পতিবার সকালে জানিয়েছিলেন, তাদের কাছে থাকা সিসিটিভি ফুটেজে রাত সোয়া ২টার কাছাকাছি সময় ফারদিনকে যাত্রাবাড়ী থেকে লেগুনায় চড়তে দেখা গেছে। নিউজবাংলার পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজ বলছে, রাত ২টা ৩ মিনিটে যাত্রাবাড়ী থেকে লেগুনায় চড়ার কিছু সময় পরই তিনি স্টাফ কোয়ার্টার মোড়ে নামেন।

সেই রাতে ফারদিনের চনপাড়ায় যাওয়ার ছবি সিসি ক্যামেরায়
যাত্রাবাড়ীতে লেগুনায় চড়ার সময় ফারদিন

এর আগে নিউজবাংলার আরেকটি অনুসন্ধানে চনপাড়া এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে যেসব মাদক কারবারি শনাক্ত হন, তাদের সঙ্গেই ফারদিন লেগুনা থেকে নেমে অটোরিকশায় চড়েছিলেন।

চনপাড়ার পরবর্তী সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ২টা ২৩ মিনিটে ওই চার ব্যক্তি অটোরিকশা থেকে নেমে হেঁটে ৬ নম্বর ওয়ার্ডে প্রবেশ করছেন। বস্তির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ফারদিন বস্তি এলাকায় ঢোকেন অটোরিকশায় চড়ে। পরে তাকে র‌্যাবের সোর্স সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করে রায়হান বাহিনী।

আরও পড়ুন: ফারদিন হত্যার পর মরদেহ সরানো হয় প্রাইভেট কারে

সিসিটিভি ফুটেজে চার যুবকের ঢোকার আগে-পরে বেশ কয়েকটি অটোরিকশাকে ওই পথে দেখা গেছে।

ফারদিন চনপাড়ায় যান মাদকের খোঁজে

ফারদিনের নিখোঁজের পর তার ফোনের সিডিআর বিশ্লেষণ করে সবশেষ অবস্থান পাওয়া যায় চনপাড়া বস্তির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আলোর জ্যোতি ফার্নিচার ও পাশের একটি অটোরিকশার গ্যারেজের মধ্যবর্তী স্থানে। তখনই ফারদিনের মাদকসংশ্লিষ্টতার বিষয়টি আলোচনায় আসে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত হন, সেদিন রাত ১০টার দিকে সবশেষ বন্ধু বুশরার সঙ্গে রামপুরা টিভি সেন্টারের পাশের গলির মুখে ছিলেন ফারদিন। সেখান থেকে বুশরা রিকশায় তার মেসে চলে যান। এরপর ফারদিনকে আর কোনো সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা যায়নি।

আরও পড়ুন: ফারদিন হত্যায় বুশরার যোগসাজশ মিলছে না

তবে তার মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্কের তথ্য যাচাই করে তদন্তসংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত হন, ফারদিন বুশরাকে বিদায় জানিয়ে বাসে চড়ে গুলিস্তান হয়ে বাবুবাজার ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় যান। সেখান থেকে জনসন রোড, ধোলাইখাল, জুরাইন এলাকা হয়ে যাত্রাবাড়ীর বিবির বাগিচা এলাকা হয়ে চনপাড়ায় যান।

তবে এসব পথের কোথাও ফারদিনের দৃশ্যমানতার কোনো সিসিটিভি ফুটেজ না পাওয়ায় তদন্তকারীরা ধারণা করেন, ফারদিন অপহরণের শিকার হতে পারেন অথবা অপরাধীদের খপ্পরে পড়তে পারেন। তাকে কেউ প্রলুব্ধ করে বা জোর করে চনপাড়া এলাকার আশপাশে নিয়ে হত্যা করতে পারে।

সেই রাতে ফারদিনের চনপাড়ায় যাওয়ার ছবি সিসি ক্যামেরায়
যাত্রাবাড়ী-ডেমরা মহাসড়কের স্টাফ কোয়ার্টার মোড়ে লেগুনা থেকে চারজনের সঙ্গে নামেন ফারদিন

তবে যাত্রাবাড়ী এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে ফারদিনকে একা হেঁটে লেগুনায় চড়তে দেখা গেছে। একইভাবে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় লেগুনা থেকে নেমে ফারদিন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে ওই চার ব্যক্তির সঙ্গে অটোরিকশায় চড়েন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট বাহিনীর এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, সে রাতে বুশরাকে নামিয়ে দিয়ে ফারদিন মাদকের জন্য রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যান। পরে একজন মাদক সরবরাহকারীর সঙ্গে তার হোয়াটস অ্যাপে যোগাযোগ হয়।

এই দলটির সঙ্গেই ফারদিন যাত্রাবাড়ী থেকে লেগুনায় চড়ে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টারের উদ্দেশে রওনা দেন। এরপর যান চনপাড়ায়। তবে মাদকের দাম নিয়ে বিতণ্ডা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সোর্স হিসেবে সন্দেহ করে তাকে মাদক কারবারিরাই হত্যা করে।

কাঁচপুর ব্রিজের আশপাশের নদীতে ফেলা হয় মৃতদেহ

চনপাড়া বস্তির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র নিউজবাংলাকে জানায়, সে রাতে ফারদিনের সঙ্গে থাকা চার যুবকের আরেকটি উদ্দেশ্যও ছিল। সেটি হলো মাদক গ্রহণের পর চলে যাওয়ার সময় ফারদিনের কাছ থেকে বাকি টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়া। এ কারণেই তারা বস্তিতে ঢোকার আগে অটোরিকশা থেকে নেমে যান।

তবে এর আগেই স্থানীয় মাদক কারবারি রায়হান আহমেদের অনুসারীরা র‌্যাবের সোর্স মনে করে পিটিয়ে ফারদিনকে হত্যা করে। হত্যার পর রায়হানের বন্ধু ও বোনজামাই ফাহাদ আহমেদ শাওনের প্রাইভেট কারে করে ফারদিনের মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে সরানো হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, ফারদিন হত্যার খবর পেয়ে শাওন তার বাসার সামনে থেকে প্রাইভেট কারটি নিয়ে রাত ২টা ৫২ মিনিটে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। সিসিটিভি ফুটেজেও এ দৃশ্য ধরা পড়েছে।

সেই রাতে ফারদিনের চনপাড়ায় যাওয়ার ছবি সিসি ক্যামেরায়
ফারদিনের মরদেহ আনতে যাওয়ার সময়ে শাওনের প্রাইভেট কার

এরপর রাত ৩টা ৩ মিনিটে গলি থেকে বেরিয়ে বালুব্রিজ হয়ে মূল সড়ক ধরে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টারের দিকে চলে যায় শাওনের সাদা রঙের এক্সিও প্রাইভেট কারটি। এরপর সেখান থেকে বামে মোড় নিয়ে সুলতানা কামাল সেতুর দিকে চলে যায় গাড়িটি। এটির গতিবিধি ধরা পড়েছে- সিসিটিভির এমন ফুটেজও পেয়েছে নিউজবাংলা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ধারণা, এরপর সেতুতে ওঠার আগে ডানে মোড় নিয়ে সাইনবোর্ডে যাওয়ার রাস্তা বেছে নেয় গাড়িটি। পরে সাইনবোর্ড এলাকার আগে বামে মোড় নিয়ে নদীতীরের নির্জন রাস্তা ধরে কাঁচপুর ব্রিজ এলাকায় গিয়ে শীতলক্ষ্যায় ফেলে দেয়া হয় ফারদিনের মরদেহ।

আরও পড়ুন: মাথায় ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতে ফারদিনের মৃত্যু

চনপাড়া এলাকায় শাওনের স্ত্রীকে খুঁজে পেয়েছে নিউজবাংলা। তবে তিনি নিজের নাম জানাননি। তিনি বৃহস্পতিবার দাবি করেন, শাওন মাদক কারবার করলেও পেশায় মূলত একজন গাড়িচালক। আগে সাইনবোর্ড এলাকায় বাসের চালক ছিলেন।

শাওন এখন কোথায় আছেন তা জানেন না দাবি করে তিনি বলেন, র‌্যাবের সঙ্গে গোলাগুলিতে স্থানীয় সন্ত্রাসী সিটি শাহিন নিহত হওয়ার পর শাওন আতঙ্কে বাড়ি ছেড়েছেন, আর ফেরেননি। ৪ নভেম্বর রাতে শাওন গাড়ি নিয়ে কোথায় গিয়েছিলেন জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে চলে যান।

সাবেক একজন ইউপি মেম্বার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চনপাড়া বস্তির পুরোটাই মাদকের সাম্রাজ্য। এখানে ৬৪টি মাদকের স্পট রয়েছে। এগুলোর অধিকাংশ নিয়ন্ত্রণ করতেন সম্প্রতি র‌্যাবের অভিযানের সময় গোলাগুলিতে নিহত রাশেদুল ইসলাম শাহিন ওরফে সিটি শাহিন।

‘রায়হান, শাওন ছিলেন শাহিনের আস্থাভাজন বন্ধু। শাহিনকে গ্রেপ্তারে গত কয়েক মাসে একাধিক অভিযান চালায় র‌্যাব। তবে অনুসারীদের হামলার কারণে এসব অভিযান ব্যর্থ হয়।’

সেই রাতে ফারদিনের চনপাড়ায় যাওয়ার ছবি সিসি ক্যামেরায়
লেগুনা থেকে নেমে অটোরিকশায় চড়ার আগে ফারদিন

সাবেক ওই জনপ্রতিনিধি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সবশেষ গত ২৭ সেপ্টেম্বর র‌্যাব শাহিনকে ধরতে গেলে অল্পের জন্য তিনি হাত ফসকে যান। এরপর শাহিন ও তার সহযোগীরা এলাকায় নিজেদের মতো করে পাহারা জোরদার করে।

‘মাদক কারবারিরা বিশেষ করে রাতে দলে দলে ভাগ হয়ে টহল দিতে শুরু করে। ঘটনার রাতে ময়নার বাড়িতে আসা যুবক মাদকের দাম নিয়ে তর্কে জড়ানোয় তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সোর্স হিসেবে সন্দেহ করে মাদক কারবারিরা।’

স্থানীয় কয়েকজন পরিচয় গোপন রাখার শর্তে নিউজবাংলাকে জানান, সোর্স সন্দেহে পিটিয়ে মারার কারণেই ফারদিনের মোবাইল, মানিব্যাগ কিছুই ছিনিয়ে নেয়া হয়নি। মাদক কারবারিরা ভেবেছিলেন এগুলো রেখে দিলে পরে বিপদ হতে পারে। আর সোর্স হিসেবে বিবেচনা করার কারণেই মরদেহ সরাসরি এলাকার পাশের নদীতে না ফেলে প্রাইভেট কারে করে বেশ কিছুটা দূরে নিয়ে ফেলে দেয়া হয়।

সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বাবা নির্বাক

যাত্রাবাড়ী-ডেমরা মহাসড়কের স্টাফ কোয়ার্টার মোড়ের সিসিটিভি ফুটেজে ফারদিনের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন তার বাবা কাজী নূর উদ্দিন।

সেই রাতে ফারদিনের চনপাড়ায় যাওয়ার ছবি সিসি ক্যামেরায়
চনপাড়ামুখী অটোরিকশায় চড়ার আগে ফারদিন

ফুটেজ দেখার পর বৃহস্পতিবার নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমি ৯০ পারসেন্ট নিশ্চিত যে, দুটি ফুটেজেই আমার ছেলে ফারদিন রয়েছে। ওর কালো প্যান্ট আর জুতাটা বোঝা যাচ্ছে। তাছাড়া আমার ছেলের দেহের গড়নেই তো তাকে চোখের পলকে ধরা যায়।’

আবেগতাড়িত বাবা বলেন, ‘আমি শুধু চাই আমার ছেলে হত্যাকরীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, এখন আর কোনো চাওয়া নেই।’

তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে কখনও সিগারেটের ধোঁয়া পর্যন্ত সহ্য করতে পারে না। এই ছেলে হঠাৎ কেন মাদকের স্পটের দিকে যাবে- এটা আমার কোনোভাবেই মাথায় আসছে না। আমার ছেলে নিশ্চয়ই কোনো কিছু নিয়ে ডিপ্রেশনে ছিল, নইলে এমন কিছু করার সিদ্ধান্ত কেন নেবে!’

তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিবিপ্রধান পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বৃহস্পতিবার রাতে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা যতটুকু পেয়েছি, তা জানিয়েছি। নতুন কোনো তথ্য পেলে আমরা সেগুলো যাচাই করব। আমাদের তদন্ত শেষ হয়নি, তদন্ত চলমান রয়েছে।'

সেই রাতে ফারদিনের চনপাড়ায় যাওয়ার ছবি সিসি ক্যামেরায়
মাদক কারবারি রায়হান (বাঁয়ে) ও শাওন

এ ঘটনার ছায়া তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাবের গোয়েন্দাপ্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল মশিউর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ফারদিনের ঘটনাস্থলে যাওয়ার ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট পেয়েই নিশ্চিত হয়েছিলাম, তিনি চনপাড়ায় গিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তিনি যে সুলতানা কামাল সেতু পাড়ি দিয়ে তারাবোর দিকে যাননি সেটাও নিশ্চিত ছিলাম। কারণ সেতু পাড়ি দিলেই অন্য নেটওয়ার্ক টাওয়ারের অধীনে তার মোবাইল ফোনের অবস্থান পাওয়া যেত।

‘এখন আমরা যেহেতু ফারদিনের চনপাড়ায় প্রবেশের চিত্র পেয়েছি, নতুন করে আর কিছু বলার নেই। এখন শুধু অপরাধীদের ধরে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’

আরও পড়ুন:
ফারদিন হত্যায় এখনও কোনো প্রমাণিত তথ্য নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
চনপাড়া বস্তিতে ফারদিনের যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন বাবার
ফারদিন হত্যার পর মরদেহ সরানো হয় প্রাইভেট কারে
‘ফারদিনের মৃত্যু মাদক কিনতে গিয়ে’: নিশ্চিত নয় ডিবি
ফারদিন ও বুশরার পরিচয় চার বছরের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Fardins death due to blunt force injury to the head

মাথায় ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতে ফারদিনের মৃত্যু

মাথায় ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতে ফারদিনের মৃত্যু ফারদিন নূর পরশ। ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. এ এফ এম মশিউর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ফারদিনের মাথায় ৪-৫টি এবং বুকের দুই পাশে ২-৩টি ভোঁতা দেশীয় অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়।’

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র ফারদিন নূর পরশের মৃত্যু হয় মাথায় রক্তক্ষরণের কারণে। ভোঁতা কোনো দেশীয় অস্ত্র বা লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয় বলে মনে করছেন ময়নাতদন্তকারীরা।

নারায়ণগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক শেখ ফরহাদ হোসেনের উপস্থিতিতে ময়নাতদন্ত করেন ডা. মফিজ উদ্দিন। এসংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে জমা দেয়া হয়েছে।

বুয়েট ছাত্র ফারদিন নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। বর্তমানে হত্যা মামলাটির তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পাশাপাশি র‌্যাবসহ আরও কয়েকটি সংস্থা ছায়াতদন্ত করছে।

মৃতদেহের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি পেয়েছে নিউজবাংলা। এতে বলা হয়, ফারদিনের মাথার সামনে, পেছনে, ডানে, বামে অর্থাৎ পুরো মাথায়ই আঘাতের কালশিটে দাগ রয়েছে। একইভাবে পাঁজরের ডান ও বাম পাশে কালশিটে দাগ রয়েছে।

মদনাতদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ফারদিনের শরীরের কোনো হাঁড় ভাঙেনি। ফুসফুসে জমাট বাঁধা কিছুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. এ এফ এম মশিউর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ফারদিনের মাথায় ৪-৫টি এবং বুকের দুই পাশে ২-৩টি ভোঁতা দেশীয় অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়।

‘তার পাকস্থলীতে খাবারের সঙ্গে অন্য কিছু ছিল কি না সেটা পুলিশ জানতে চেয়েছিল। এ জন্য আমরা কেমিক্যাল অ্যানালাইসিস ও ভিসেরা রিপোর্টের জন্য নমুনা পাঠিয়েছি।’

ফারদিন হত্যা মামলার তদন্ত কর্তৃপক্ষ ডিবি প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঘটনার রাত সোয়া ২টার দিকে যাত্রাবাড়ী মোড়ে ফারদিনকে দেখা গেছে। সাদা গেঞ্জি পরা অবস্থায় এক যুবক তাকে একটি লেগুনায় তুলে দেয়। ওই লেগুনায় আরও চারজন ছিল। লেগুনাটি তারাবোর দিকে নিয়ে যায়। ওই লেগুনার চালক ও সহযোগীদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে।’

হারুন অর রশীদ বলেন, ‘ফারদিনের মৃত্যুর কারণ এখনও জানা যায়নি। কোথায় তাকে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।’

অন্যদিকে র‌্যাব কর্মকর্তাদের ধারণা, রূপগঞ্জের চনপাড়ায় খুন হন ফারদিন। মামলার সার্বিক তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মশিউর রহমান গত রোববার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা একেবারেই ক্লুলেস একটা ঘটনা। অনেক প্রশ্নের উত্তরই মিলছে না। ফারদিনের মোবাইল ফোনের লাস্ট লোকেশন থেকে বডি পাওয়া গেছে বেশ দূরে। সেখানে কীভাবে গেল তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি সব কিছুই খুব সূক্ষ্মভাবে আমরা তদন্ত করছি।

‘আমরা খুব চেষ্টা করছি ফারদিনের লাস্ট লোকেশনে উপস্থিতি কীভাবে হলো সেটা জানার। কারণ আমরা রামপুরা থেকে ওর কেরানীগঞ্জ, যাত্রাবাড়ী, তারপর চনপাড়া যাওয়ার ফুটপ্রিন্ট পেয়েছি। এতগুলো জায়গা সে কেন ঘুরল এটা জানাটা জরুরি। আমরা কাজ করছি। আশা করি, সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে।’

আরও পড়ুন:
তদন্তে কোথাও একটা ফাঁকি আছে: ফারদিনের বাবা
টাকার বস্তা খালি, গলার জোর কমে ডিফেন্সিভ মুডে ফখরুল: কাদের
ফারদিন হত্যায় গ্রেপ্তার বুশরার জামিন মেলেনি
দুদকের মামলায় চীনের নাগরিকসহ ৬ জনের কারাদণ্ড
বাগান থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
After killing Fardeen the body was moved in a private car

ফারদিন হত্যার পর মরদেহ সরানো হয় প্রাইভেট কারে

ফারদিন হত্যার পর মরদেহ সরানো হয় প্রাইভেট কারে বুয়েট ছাত্র ফারদিন নূর পরশের মরদেহ সরাতে এই প্রাইভেট কারটি ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
৪ নভেম্বর রাত পৌনে দুইটা থেকে আড়াইটার মধ্যে ফারদিনকে হত্যার ঘটনা ঘটে। সে সময়ে এলাকার কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পেয়েছে নিউজবাংলা। এতে ঘটনায় জড়িত একাধিক ব্যক্তি ও মরদেহ সরিয়ে নিতে ব্যবহৃত প্রাইভেট কার দেখা গেছে।

বুয়েট ছাত্র ফারদিন নূর পরশকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সোর্স সন্দেহে রূপগঞ্জের চনপাড়া বস্তি এলাকায় পিটিয়ে হত্যা করেন মাদক কারবারিরা। ৪ নভেম্বর গভীর রাতে এ ঘটনার পর একটি প্রাইভেট কারে করে তার মরদেহ সরিয়ে নিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেয়া হয়।

ফারদিন হত্যা মামলার তদন্তে যুক্ত একটি বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মরদেহ সরিয়ে নেয়ার কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটি শনাক্ত হয়েছে সিসিটিভি ফুটেজে।

ঘটনাস্থলের বেশ কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ নিউজবাংলার কাছেও এসেছে। সেগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে ঘটনার আগে-পরে চনপাড়া বস্তি ঘিরে অস্বাভাবিক তৎপর ছিলেন মাদক কারবারিরা।

বুয়েট ছাত্র ফারদিন নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। বর্তমানে হত্যা মামলাটির তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পাশাপাশি র‌্যাবসহ আরও কয়েকটি সংস্থা ছায়াতদন্ত করছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন, ৪ নভেম্বর গভীর রাতে ফারদিনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক অনুযায়ী তার সবশেষ অবস্থান শনাক্ত হয় রূপগঞ্জের চনপাড়া বস্তি এলাকায়।

চনপাড়া বস্তি এলাকা পুরোটাই মাদক বিক্রির এলাকা হিসেবে পরিচিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, ফারদিনকে চনপাড়া বস্তি এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় হত্যা করা হয়। এরপর একটি প্রাইভেট কারে তুলে তার মরদেহ শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেন মাদক কারবারিরা।

৪ নভেম্বর রাত পৌনে দুইটা থেকে আড়াইটার মধ্যে ফারদিনকে হত্যার ঘটনা ঘটে। সে সময়ে ওই এলাকার কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পেয়েছে নিউজবাংলা। এতে ঘটনায় জড়িত একাধিক ব্যক্তি ও মরদেহ সরিয়ে নিতে ব্যবহৃত প্রাইভেট কার দেখা গেছে।

এরই মধ্যে ঘটনায় জড়িত স্থানীয় দুই মাদক কারবারিকে হেফাজতে নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আলাদা দুটি ইউনিট। জব্দ করা হয়েছে প্রাইভেট কারটিও।

সিসিটিভি ফুটেজে মাদক কারবারিদের তৎপরতা দৃশ্যমান

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ফারদিনের মোবাইল ফোনের শেষ লোকেশন শনাক্ত করে চনপাড়া এলাকায়। এরপর ফোন নম্বরের সিডিআর বিশ্লেষণ করে বস্তির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আলোর জ্যোতি নামের ফার্নিচারের দোকান ও তার পাশের একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার গ্যারেজের মধ্যবর্তী অংশ চিহ্নিত করা হয়।

সেখানেই রাত ২টা ৩৫ মিনিটে ফারদিনের মোবাইলটি সবশেষ চালু ছিল। নিউজবাংলার হাতে আসা সেই রাতের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চনপাড়া বস্তি এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওই নির্দিষ্ট জায়গাটি ঘিরে রাত দেড়টার দিক থেকে পরবর্তী দুই ঘণ্টা স্থানীয় মাদক কারবারিদের অস্বাভাবিক তৎপরতা ছিল।

ফারদিন হত্যার পর মরদেহ সরানো হয় প্রাইভেট কারে

রাত ১টা ২৮ মিনিটে স্থানীয় ৬ যুবক ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গলি থেকে বেরিয়ে চনপাড়া-রূপগঞ্জ মূল সড়কে উঠে হাতের বাঁয়ে মোড় নিয়ে ১ নম্বর ওয়ার্ডের দিকে চলে যান।

এর ঠিক ২৩ মিনিট পর ১টা ৫১ মিনিটে তারা আবাব ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দিকে ফিরে আসেন।

এরপর রাত ২টা ২৩ মিনিটে দ্রুত পায়ে চারজন যুবক বালু ব্রিজ এলাকা থেকে ৬ নম্বর ওয়ার্ডে আসেন। তারা স্থানীয় একটি মাদ্রাসা মাঠে অপেক্ষায় থাকা একজনের সঙ্গে উদ্বিগ্ন ভঙ্গিতে কথা শুরু করেন। তাদের অভিব্যক্তিতে পরিষ্কার কোনো ঘটনার খবর পেয়ে তারা তাৎক্ষণিক ছুটে এসেছেন।

এর পরবর্তী ২০ মিনিটে একাধিক যুবক ঘটনাস্থলের দিকে যান।

রাত ২টা ৪৪ মিনিটে দুই যুবক গলির মুখে এসে অনেকটা পাহারা দেয়ার মতো করে পায়চারি করতে থাকেন।

ঠিক ২টা ৫২ মিনিটে বালু ব্রিজ এলাকা থেকে দ্রুতগতির একটি সাদা রঙের টয়োটা এক্সিও গাড়ি এসে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ঘটনাস্থল দিকে যায়। একই সঙ্গে গলির মুখে পাহারা দেয়া দুই যুবক গলি থেকে বেরিয়ে যান।

এর ঠিক ১১ মিনিট পর দ্রুত গতিতে সাদা প্রাইভেট কারটি ৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে বেরিয়ে যেদিক থেকে এসেছিল ঠিক সেদিকেই অর্থাৎ বালু ব্রিজের দিকে চলে যায়।

ফারদিন হত্যার পর মরদেহ সরানো হয় প্রাইভেট কারে

গাড়িটির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গলি অতিক্রমের সময় স্থানীয় যুবকদের দুইজন গাড়ির দুই পাশ দিয়ে পায়ে হেঁটে গাড়িটিকে গলি পার করে দেন।

সিসিটিভি ফুটেজে প্রাইভেট কারটি ঢোকার সময় তাতে চালক ছাড়া আর কাউকে দেখা না গেলেও বের হওয়ার সময় পেছনের আসনে আরোহী দেখা গেছে।

ফারদিনের সবশেষ অবস্থানের ফুটেজ কেন নেই

ফারদিন হত্যারহস্য তদন্তে নেমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক ইউনিট শুরুতে প্রযুক্তিগত তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে। তারা ফারদিনের মোবাইল ফোনের লোকেশন ধরে চনপাড়া বস্তির ৬ নম্বর ওয়ার্ডকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়।

তবে ওই এলাকায় একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও সেগুলোর কোনোটিতে মূল ঘটনাস্থলের (হত্যাকাণ্ডের স্থান হিসেবে ধরণা করা জায়গা) কোনো ছবি ধরা পড়েনি।

এর কারণ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা ও স্থানীয় লোকজন বলছেন, স্থানীয় মাদক কারবারি রাশেদুল ইসলাম শাহিন বা সিটি শাহিন গ্রুপের সঙ্গে র‌্যাব সদস্যদের সংঘর্ষ হয়। এরপর থেকে মাদক কারবারিরা এলাকার সব দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরার মুখ রাস্তার দিক থেকে ঘুরিয়ে দেন। গুরুত্বপূর্ণ কিছু জায়গার ক্যামেরা ভাঙচুরও করেন। এর মধ্যে অন্যতম এই ৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকাটি। সিটি শাহিনের বাড়িও এই ওয়ার্ডে।

সিটি শাহিন ১১ নভেম্বর গোলাগুলিতে নিহত হন। র‌্যাবের দাবি, মাদক কারবারিদের মধ্যে গোলাগুলিই তার মৃত্যুর কারণ।

ফারদিনের মোবাইল ফোনের সবশেষ লোকেশন পাওয়া গেছে সিটি শাহিনের বাসার গলি থেকে কিছুটা উত্তর দিকে অফিসঘাট অভিমুখে। সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোর মুখ রাস্তা থেকে উল্টো দিকে ঘোরানো থাকায় সেখান থেকে ফারদিনের উপস্থিতির কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া না গেলেও ওই এলাকার সোর্সের পাশাপাশি স্থানীয় এক বয়স্ক প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনার দিন দায়িত্বরত এক নৈশপ্রহরীর কাছ থেকে সে রাতের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পায় তদন্তকারী একটি বাহিনী।

ওই বাহিনীর দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, চনপাড়া ৬ নম্বর ওয়ার্ডের যে জায়গায় ফারদিনের মোবাইল লোকেশন পাওয়া গেছে তার ঠিক বিপরীত পাশেই পূর্ব দিকে ৪ নম্বর ওয়ার্ড। সেখানে মাদক কারবার চালান মনেয়ারা বেগম মনু নামের প্রভাবশালী এক নারী।

ফারদিন হত্যার পর মরদেহ সরানো হয় প্রাইভেট কারে
মাদক কারবারি মনেয়ারা বেগম মনু (বাঁয়ে) এবং এখন তার তালাবদ্ধ ঘর

বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা মাদকসেবীরা তার ঘরে বসে মাদক সেবন করেন। ওই রাতে আনুমানিক ২টার দিকে ফেনসিডিল খেয়ে টাকা কম দিতে চাওয়া এক যুবকের সঙ্গে মনুর লোকজনের বিবাদ হয়। একপর্যায়ে পাশের তিনতলা ভবন মালিক স্থানীয় প্রভাবশালী আরেক মাদক কারবারি রায়হান ও তার অনুসারীও ওই যুবকের ওপর চড়াও হন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক র‌্যাবের একজন কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ’আমরা ঘটনাটির ছায়াতদন্ত করতে গিয়ে ঘটনাস্থলের ফারদিনের উপস্থিতির সিসিটিভি ফুটেজ এখনও পাইনি। কারণ কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা ঘটনাস্থল কাভার করে না। সব ক্যামেরার মুখ আগে থেকেই উল্টো দিকে ঘোরানো ছিল।

‘যেহেতু ফারদিনের মোবাইলটি তার কাছেই পাওয়া গেছে আর মোবাইল নেটওয়ার্কের সবশেষ লোকেশন ওখানকার, তাই আমরা নিশ্চিত ফারদিন যেভাবেই হোক সেখানে অবশ্যই গিয়েছিলেন।

‘তিনি কোনো মোটরসাইকেলে চড়ে আসেননি। তেমনটা হলে প্রধান সড়কের ক্যামেরায় তার আসার দৃশ্যটি ধরা পড়ত। হয়তো কোনো অটোরিকশায় করে এসেছিলেন, তাই তার আসার দৃশ্য ধরা পড়েনি।’

ফারদিনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সোর্স সন্দেহে হত্যা

ফারদিন হত্যার ঘটনাস্থল হিসেবে দাবি করা চনপাড়া ৬ নম্বর ওয়ার্ডের এলাকাটি ঘুরে দেখার পাশাপাশি স্থানীয় বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছে নিউজবাংলা। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফারদিনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সোর্স হিসেবে সন্দেহ করেছিলেন ওই এলাকার মাদক কারবারিরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নারী মাদক কারবারি ময়নার বাসায় যাওয়া ফারদিনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সোর্স হিসেবে সন্দেহ করেন স্থানীয় মাদক কারবারি রায়হান আহমেদের অনুসারীরা।

রায়হানের বাসা ও মাদক স্পট ময়নার বাসার ঠিক পাশেই। সিসিটিভি ফুটেজে রাত ১টা ২৮ মিনিটে ৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে বেরিয়ে ২৩ মিনিট পর আবার ফিরে আসা ৬ যুবকই রায়হানের অনুসারী। তারা ফারদিনকে বেদম পিটিয়ে হত্যা করেন।

ফারদিন নিথর হয়ে গেলে রায়হানের ফোন পেয়ে ২টা ২৩ মিনিটে দ্রুত পায়ে ৪ যুবক বালু ব্রিজ এলাকা থেকে ৬ নম্বর ওয়ার্ডে আসেন। তারা মাদ্রাসার গেটে অপেক্ষমাণ একজনের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানতে চান।

রায়হানের পারিবারিক আত্মীয় হলেন একই এলাকার অপর শীর্ষ মাদক কারবারি ফাহাদ আহমেদ শাওন। ঘটনার পর শাওন তার দুই মাস আগে কেনা টয়োটা এক্সিও গাড়িটি নিয়ে সেখানে আসেন। এরপর ফারদিনের মরদেহ গাড়ির ট্রাঙ্কে তুলে ৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে বেরিয়ে যান শাওন ও তার সহযোগীরা।

ফারদিন হত্যার পর মরদেহ সরানো হয় প্রাইভেট কারে
মাদক কারবারি রায়হান (বাঁয়ে) ও শাওন

সিসিটিভিতে ধরা পড়া প্রাইভেট কারটি শাওনের বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি। তারা নিউজবাংলাকে জানান, দুই মাস আগে কেনা গাড়িটি শাওন নিজেই চালাতেন।

সোর্স সন্দেহে ফারদিনকে পিটিয়ে মারার বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় একাধিক সূত্র। সাবেক একজন ইউপি মেম্বার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চনপাড়া বস্তির পুরোটাই মাদকের সাম্রাজ্য। এখানে ৬৪টি মাদকের স্পট রয়েছে। এগুলোর অধিকাংশ নিয়ন্ত্রণ করতেন সম্প্রতি র‌্যাবের অভিযানের সময় গোলাগুলিতে নিহত রাশেদুল ইসলাম শাহিন ওরফে সিটি শাহিন।

‘রায়হান, শাওন ছিলেন শাহিনের আস্থাভাজন বন্ধু। শাহিনকে গ্রেপ্তারে গত কয়েক মাসে একাধিক অভিযান চালায় র‌্যাব। তবে অনুসারীদের হামলার কারণে এসব অভিযান ব্যর্থ হয়।’

ফারদিন হত্যার পর মরদেহ সরানো হয় প্রাইভেট কারে
গোলাগুলিতে নিহত শাহিনের (বাঁয়ে) সঙ্গে শাওন

সাবেক ওই জনপ্রতিনিধি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সবশেষ গত ২৭ সেপ্টেম্বর র‌্যাব শাহিনকে ধরতে গেলে অল্পের জন্য তিনি হাত ফসকে যান। এরপর শাহিন ও তার সহযোগীরা এলাকায় নিজেদের মতো করে পাহারা জোরদার করে।

‘মাদক কারবারিরা বিশেষ করে রাতে দলে দলে ভাগ হয়ে টহল দিতে শুরু করে। ঘটনার রাতে ময়নার বাড়িতে আসা যুব্ক মাদকের দাম নিয়ে তর্কে জড়ানোয় তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সোর্স হিসেবে সন্দেহ করে মাদক কারবারিরা।’

স্থানীয় কয়েকজন পরিচয় গোপন রাখার শর্তে নিউজবাংলাকে জানান, সোর্স সন্দেহে পিটিয়ে মারার কারণেই ফারদিনের মোবাইল, মানিব্যাগ কিছুই ছিনিয়ে নেয়া হয়নি। মাদক কারবারিরা ভেবেছিলেন এগুলো রেখে দিলে পরে বিপদ হতে পারে। আর সোর্স হিসেবে বিবেচনা করার কারণেই মরদেহ সরাসরি এলাকার পাশের নদীতে না ফেলে প্রাইভেট কারে করে বেশ কিছুটা দূরে নিয়ে ফেলে দেয়া হয়।

ঘটনার পর হত্যাকারীরা ও নারী মাদক কারবারি ময়না এলাকাতেই ছিলেন। গত শুক্রবার শাহিন বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার পর তারা সবাই পালিয়ে যান।

তবে বরিশাল থেকে রায়হানকে এবং রাজধানীর গুলিস্তান থেকে ওই প্রাইভেট কারসহ শাওনকে গ্রেপ্তার করেছে আলাদা ‍দুটি আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা। অবশ্য এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।

ফারদিন হত্যা মামলার সার্বিক তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মশিউর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা একেবারেই ক্লুলেস একটা ঘটনা। অনেক প্রশ্নের উত্তরই মিলছে না। ফারদিনের মোবাইল ফোনের লাস্ট লোকেশন থেকে বডি পাওয়া গেছে বেশ দূরে। সেখানে কীভাবে গেল তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি সবকিছুই খুব সূক্ষ্মভাবে আমরা তদন্ত করছি।

‘আমরা খুব চেষ্টা করছি ফারদিনের লাস্ট লোকেশনে উপস্থিতি কীভাবে হলো সেটা জানার। কারণ, আমরা রামপুরা থেকে ওর কেরানীগঞ্জ, যাত্রাবাড়ী, তারপর চনপাড়া যাওয়ার ফুটপ্রিন্ট পেয়েছি। এতগুলো জায়গা সে কেন ঘুরল এটা জানাটা জরুরি। আমরা কাজ করছি। আশা করি, সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে।’

ডিবি মতিঝিল বিভাগে উপকমিশনার রাজিব আল মাসুদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অনেকগুলো বিষয় সামনে রেখে আমাদের তদন্ত চলছে। আমরা সম্ভাব্য সব বিষয় মাথায় রেখেই তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। এখনও মন্তব্য করার মতো কোনো কিছু সামনে আসেনি।’

আরও পড়ুন:
ফারদিনের লাশ শীতলক্ষ্যায় গেল কীভাবে যাচাই হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বুয়েটছাত্র ফারদিন হত্যা মামলা: ৫ দিনের রিমান্ডে বান্ধবী বুশরা
ফারদিন হত্যা মামলা যাচ্ছে ডিবিতে
বুয়েটছাত্র ফারদিন হত্যা মামলায় বান্ধবী গ্রেপ্তার
বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিনের দাফন

মন্তব্য

p
উপরে