× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
The killers of freedom fighters will be tried on November 7 Home Minister
hear-news
player
google_news print-icon

৭ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যাকারীদের বিচার হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

৭-নভেম্বর-মুক্তিযোদ্ধাদের-হত্যাকারীদের-বিচার-হবে-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আলোচনা সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁনসহ অতিথিরা। ছবি: নিউজবাংলা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘৭ নভেম্বর বিপ্লব বা ক্যু-এর নাম করে অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছে। অনেক সন্তানের বাবাকে, কারও স্বামীকে কারও, দাদাকে হত্যা করা হয়েছে। কারণে-অকারণে যারা মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছেন তাদের বিচারও এই বাংলার মাটিতে হবে। এই বিষয়ে একটা রুলও জারি করা হয়ে গেছে। তদন্ত কমিটিও হচ্ছে।’

৭ নভেম্বর বিপ্লব বা ক্যু-এর নাম করে যারা মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে তাদের বিচার করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

সোমবার দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে ‘মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবসের’ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘৭ নভেম্বর বিপ্লব বা ক্যু-এর নাম করে অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছে। অনেক সন্তানের বাবাকে, কারও স্বামীকে কারও, দাদাকে হত্যা করা হয়েছে।

‘কারণে-অকারণে যারা মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছেন তাদের বিচারও এই বাংলার মাটিতে হবে। এই বিষয়ে একটা রুলও জারি করা হয়ে গেছে। তদন্ত কমিটিও হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধাপরাধীসহ আরও অনেকের বিচার করেছেন। ৭ নভেম্বর হত্যার শিকার হওয়ার ব্যক্তিদের স্বজনেরা জীবিত থাকতে তাদের বাবা-ভাই স্বামী হত্যার বিচার দেখে যাবেন ইনশা আল্লাহ।’

‘মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস’ উপলক্ষে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর হত্যার শিকার শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের উদ্যোগে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কথায় কথায় মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা, কথায় কথায় মুক্তিযোদ্ধাদের বিরূপ অবস্থায় নিয়ে যাওয়া; এই ষড়যন্ত্র, এই রক্তের হোলি খেলা যারা করেছেন তাদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।'

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ একটা ধ্বংসস্তূপ ছিল। ব্রিজ ছিল না, টাকা ছিল না। এমনকি আজকে যে আমরা কাপড় পরছি সেটাও ছিল না। কাপড়ের জন্য মুক্তিযুদ্ধের পর লাইন ধরে দাঁড়াতে হতো।

‘সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে ঘুরে দাঁড় করালেন। সাড়ে তিন বছরে তিনি যে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তগুলো দিয়েছেলেন সর্বক্ষেত্রে; এখনও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেগুলোকে কার্যকর মনে করছেন। ওই দিকনির্দেশনাগুলোর জন্য আজকে তাকে অনেক কিছু চিন্তা করতে হচ্ছে না।’

মন্ত্রী বলেন,‘বঙ্গবন্ধু যে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, যেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারেন নাই; সেগুলোই আজকে তার কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একে একে বাস্তবায়ন করছেন বলেই বাংলাদেশের চেহারা পাল্টে গিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবার হত্যা করা হয়েছে। তাদের আশঙ্কা ছিল, যার মধ্যেই বঙ্গবন্ধুর রক্ত প্রবাহিত হবে সেই ঘুরে দাঁড়াতে পারে। তাদের আশঙ্কা ঠিকই ছিল। বঙ্গবন্ধুকন্যা আজকে বাংলাদেশকে ঘুরে দাঁড় করিয়েছেন।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নীলফামারী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট, ৩ নভেম্বর জেল হত্যা এবং ৭ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা একই সুতোয় গাঁথা। ১৯৬৬ সালের ৬ দফা উত্থাপনের মাধ্যমেই ষড়যন্ত্র শুরু হয়। যার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে একদল এখনো সচেষ্ট। এরা বাংলাদেশকে ধ্বংস করতে চায়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করতে চায়।’

বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘যে দল বঙ্গবন্ধু পরিবারকে হত্যা করেছে, মুক্তিযোদ্ধাদের ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়েছে; গণতন্ত্রের নামে সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ চালায়, ধর্মের নামে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে, অগ্নিসন্ত্রাস করে সেই দলের বাংলাদেশে রাজনীতি করার কোনো সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না।’

আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘জিয়াউর রহমানকে অনেকে মুক্তিযোদ্ধা বলেন৷ তিনি বরং আমাদের ভেতর অনুপ্রবেশকারী ছিলেন৷ জিয়াউর রহমানকে সীমান্তে কোনো সম্মুখযুদ্ধে পাওয়া যায়নি৷ তার অনুপ্রবেশ একটি দীর্ঘমেয়াদি সুদূরপ্রসারি ষড়যন্ত্রের ফল।’

আলোচনা সভায় বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ড. খন্দকার বজলুল হক সভায় সভাপতিত্ব করেন।

সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর শহীদ কর্নেল খন্দকার নাজমুল হুদা বীর বিক্রমের মেয়ে সংসদ সদস্য নাহিদ ইজাহার খান, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর শহীদ মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ বীর উত্তমের মেয়ে মাহজাবিন খালেদ।

এ ছাড়াও, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. আমিনুল ইসলাম, মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম হেলাল মোর্শেদ খান বীর বিক্রম, বীর মুক্তিযোদ্ধা বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক এবং সশস্ত্র বাহিনীতে হত্যাকাণ্ড নিয়ে গবেষক আনোয়ার কবির।

আরও পড়ুন:
কর্মসূচির নামে জনদুর্ভোগ তৈরি করলে ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মিয়ানমারের জন্য মাদক নিয়ন্ত্রণ সফল হচ্ছে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দস্যুতার জাল ছিঁড়ে আটকে মামলার জটে

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Aman Ani who spread tension on December 10 is in police custody

১০ ডিসেম্বর নিয়ে ‘উত্তেজনা ছড়ানো’ আমান-এ্যানি পুলিশ হেফাজতে

১০ ডিসেম্বর নিয়ে ‘উত্তেজনা ছড়ানো’ আমান-এ্যানি পুলিশ হেফাজতে বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমানকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা
আমান বলেছিলেন, ‘এই বাংলাদেশ আগামী ১০ ডিসেম্বরের পরে চলবে বেগম খালেদা জিয়ার কথায় ও দেশনায়ক তারেক রহমানের কথায়।’ এ্যানি বলেন, ‘খুব শিগগির তারেক রহমান যুক্তরাজ্য থেকে দেশে আসবেন। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এখনও ষড়যন্ত্র চলছে।’

১০ ডিসেম্বর থেকে দেশ খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নির্দেশে চলবে, এমন ঘোষণা দিয়ে বিএনপির এই বিভাগীয় সমাবেশ নিয়ে উত্তেজনা ছড়ানো নেতা আমান উল্লাহ আমান ও শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

সমাবেশের তিন দিন আগে বুধবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত নয়াপল্টনে বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর দলটির দুই নেতাকে নিয়ে যায় পুলিশ।

সংঘর্ষ থামার পর বিকেল সোয়া ৪টা পর দিকে এ্যানি নয়াপল্টন কার্যালয় থেকে বের হয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে যেতে চান। এ সময় সেখানে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে নিজেদেরে হেফাজতে নেন। বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে চলেন।’

তবে তাকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি পুলিশ কর্মকর্তারা।

একই এলাকা থেকে সন্ধ্যা ৬টার পর পুলিশ নিয়ে যায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানকে। কার্যালয়ের সামনে থেকে ধরার পর তাকে প্রিজন ভ্যানে করে নিয়ে যায় বাহিনীটি। আমানের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিক কিছু জানানো হয়নি।

পরে সন্ধ্যায় নয়াপল্টনে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বিল্পব কুমার সরকার বলেন, ‘সেইফটি এবং সিকিউরিটিকে যারা নষ্ট করতে চায় তাদের কোনোভাবে ঢাকা মহানগর পুলিশ ছাড় দেবে না। এরই অংশ হিসেবে আমরা যখন দেখলাম জনগণের জানমালের জন্য হুমকিস্বরূপ কার্যক্রম হচ্ছে নয়াপল্টন এলাকায় এবং পুলিশের ওপর হামলা ও বোমা নিক্ষেপ হয়েছে, তখন আমরা অভিযান পরিচালনা করেছি। পল্টন থেকে অবৈধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করেছি। অসংখ্য সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার করেছি। এ ছাড়া অসংখ্য বোমা উদ্ধার করা হয়েছে।’

১০ ডিসেম্বর নিয়ে ‘উত্তেজনা ছড়ানো’ আমান-এ্যানি পুলিশ হেফাজতে
বিএনপি নেতা শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ

কয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে গ্রেপ্তারের সংখ্যা বলা যাবে না। আমরা এখন অ্যাকশনে আছি। তবে গ্রেপ্তারের সংখ্যা অসংখ্য।’

আমান ও এ্যানিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারা এখন পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।’

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে গত ৮ অক্টোবর থেকে বিএনপি ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করে আসার পর ১০ ডিসেম্বর শনিবার রাজধানীতে জমায়েতের ঘোষণা দিয়েছে।

তবে এই সমাবেশের স্থল নিয়ে তৈরি হয়েছে বিরোধ। বিএনপি সমাবেশ করতে চায় নয়াপল্টনে। কিন্তু পুলিশ অনুমতি দিয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। কিন্তু তারা সেখানে যাবে না।

পুলিশ জানিয়েছে, সড়কে সমাবেশ করা যাবে না। এরপর বিএনপি আরামবাগে সমাবেশ করার কথা জানায় মৌখিকভাবে। তবে সে আবেদন মৌখিকভাবেই নাকচ করা হয়।

সমাবেশস্থলের কথা না জানিয়েই বিএনপি জনসভায় অংশ নেয়ার প্রচার চালাচ্ছিল। এর মধ্যে নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টনে অবস্থানও নিতে থাকেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে এসে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস দুপুরের আগে বলেন, তারা যেখানে অনুমতি চেয়েছেন, সমাবেশ সেখানেই হবে। কোনো গ্রহণযোগ্য বিকল্প প্রস্তাব থাকলে সেটি দিতে হবে পুলিশ বা সরকারকে।

পুলিশের কাজ পুলিশ করবে, বিএনপির কাজ বিএনপি করবে- দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদের নেতার পক্ষ থেকে এই বক্তব্য আসার কিছুক্ষণ পরেই শুরু হয় সংঘর্ষ। এতে একজনের মৃত্যু হয়। পুলিশ বিএনপি কার্যালয়ে প্রবেশ করে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে গ্রেপ্তার করে। আটক করা হয় আরও কয়েকজনকে।

১০ ডিসেম্বর নিয়ে উত্তেজনা ছড়ান আমান-এ্যানি

যে সংবাদ সম্মেলনে আব্বাস নয়াপল্টনে সমাবেশ করার ঘোষণা দেন, সেখানে ছিলেন আমানও, যিনি কোনো বক্তব্য দেননি।

তবে গত ৮ অক্টোবর বিএনপি চট্টগ্রামে তার প্রথম বিভাগীয় সমাবেশের দিন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক আলোচনা ১০ ডিসেম্বর নিয়ে জ্বালাময়ী বক্তব্য রাখেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সেই আলোচনায় তিনি বলেন, ‘এই বাংলাদেশ চলবে না, এই বাংলাদেশ চলবে আগামী ১০ ডিসেম্বরের পরে চলবে বেগম খালেদা জিয়ার কথায় ও দেশনায়ক তারেক রহমানের কথায়। এর বাইরে কোনো দেশ চলবে না কারও কথায়।’

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায়ে কঠোর কর্মসূচি আসছে জানিয়ে নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বানও জানান আমান। বলেন, ‘আপনারা নির্বিঘ্নে নিশ্চিন্তে আল্লাহর নামে শহীদ হওয়ার প্রস্ততি নিন, প্রয়োজনে শহীদ হব, এই বাংলাদেশে হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভায়েরা প্রস্তুতি নিন, ওই কাঁচপুর ব্রিজ, ওই টঙ্গী ব্রিজ, এই দিকে মাওয়া রোড, ওই দিকে আরিচা রোড, সারা বাংলাদেশ, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথুরিয়া কর্মসূচি আসছে। সারা বাংলাদেশ বন্ধ করে দেব।’

১০ ডিসেম্বর নিয়ে ‘উত্তেজনা ছড়ানো’ আমান-এ্যানি পুলিশ হেফাজতে
নয়াপল্টনে বিএনপিকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাঁধে

দুই দিন পর লক্ষ্মীপুরে বিএনপির এক সমাবেশে এ্যানি বলেন, ‘১০ ডিসেম্বরের আগে সংসদ ভেঙে দিতে হবে। ১০ তারিখের পর দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশ চলবে। আর কোনোভাবে ছাড় দেয়া হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘খুব শিগগির তারেক রহমান যুক্তরাজ্য থেকে দেশে আসবেন। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এখনও ষড়যন্ত্র চলছে। কোনো ষড়যন্ত্রই কাজে আসবে না। অনতিবিলম্বে তাদের সব মামলা প্রত্যাহার ও খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে।’

বিএনপির এই দুই নেতা এই বক্তব্য রাখার পর আওয়ামী লীগ নেতারা জবাব দিতে থাকেন। তারা বলতে থাকেন, ১০ ডিসেম্বর কোনো নাশকতা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পরে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ১০ ডিসেম্বরের উত্তেজনা কমিয়ে গত ১৭ নভেম্বর ঢাকায় এক আলোচনায় তিনি বলেন, ‘এমন কোনো কর্মসূচি আমরা নেব না, যেটা তো জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিপদগ্রস্ত হবে। আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জনগণের দাবিগুলো নিয়ে আন্দোলন করছি শান্তিপূর্ণভাবে। আর শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে যাব।’

তবে এই জনসভাটি কোথায় হবে, এই ইস্যুতে শেষ পর্যন্ত বিরোধটি সংঘাতেই রূপ নিল।

আরও পড়ুন:
বিএনপি কার্যালয় ঘিরে পুলিশের পাশাপাশি সোয়াট
নয়াপল্টনে সংঘর্ষের সময় গুলিতে নিহত ১, আহত ১৮
সরকার উৎখাতের পরিকল্পনার অভিযোগে আটক ২০
নয়াপল্টনে পুলিশ-বিএনপি ব্যাপক সংঘর্ষ
রিজভী, ইশরাকের পর এবার সোহেলকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Mayor Tapas returned without inaugurating the attempted attack ground

হামলার চেষ্টা, মাঠ উদ্বোধন না করেই ফিরলেন মেয়র তাপস

হামলার চেষ্টা, মাঠ উদ্বোধন না করেই ফিরলেন মেয়র তাপস মেয়র তাপস বুধবার বকশী বাজারে একটি মাঠ উদ্বোধন করতে গেলে আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে পড়েন। ছবি: নিউজবাংলা
মেয়র তাপস স্থানীয় একটি মাঠ উদ্বোধনের জন্য গেলে ঢাকা সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা সেটি নিজেদের বলে দাবি করেন। এ নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনার এক পর্যায়ে মাঠ উদ্বোধন না করেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাহারায় স্থান ত্যাগ করেন তাপস।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের ওপর হামলার চেষ্টা হয়েছে। রাজধানীর বকশীবাজারে বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় একটি মাঠ উদ্বোধনের জন্য উপস্থিত হয়েছিলেন মেয়র তাপস। এ সময় ঢাকা সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ওই মাঠ নিজেদের বলে দাবি করেন। উত্তেজনার এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা মেয়রের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। পরে মাঠ উদ্বোধন না করেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিরাপত্তা প্রহরীদের পাহারায় স্থান ত্যাগ করেন মেয়র।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। এ সময় পুলিশ একজনকে আটক করে বলে দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা।

অবস্থানরত পুলিশ সদস্যরা জানান, মেয়র চলে যাওয়ার সময় বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা মাঠের ভেতর থেকে চেয়ার ছুড়তে থাকে। পরে পুলিশ ধাওয়া দিলে তারা দৌড়ে মাঠের অপর প্রান্তে গিয়ে ইটপাটকেল ছোড়ে। এ সময় বেশ কিছুক্ষণ ধাওয়া-পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

লালবাগ জোনের ডিসি মো. জাফর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হামলার চেষ্টা চালানো সবাই ঢাকা সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। আপাতত এইটুকু পরিচয় জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। হামলাকারীদের পরিচয় বের করা হবে।’

তবে কোনো শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে কিনা এমন তথ্য তিনি জানাতে পারেননি। স্থানীয় থানায় খোঁজ নিয়ে জানাবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি। পরে যোগাযোগ করা হলে তিনি আর সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আবদুর রশিদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখানে কারাগার ও ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার মধ্যে মাঠ মিয়ে মামলা চলমান। মামলার রায়ের আগে বলা যাবে না যে মাঠটি আমাদের বা তাদের। শিক্ষার্থীদের দাবি হলো মাঠের নাম নিয়ে। আমরা এ বিষয়ে সমঝোতার চেষ্টা করছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের এক ছাত্রকে পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়। পরে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা নিজেরাই তাকে মাদ্রাসায় পৌঁছে দিয়ে যায়৷ আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে সে বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দাবি থাকলেই শিক্ষার্থীরা কারো ওপর হামলা করতে পারে না। আর পুলিশ আটক করবে এটাও কাম্য নয়।’

এর আগে বুধবার দুপুর ১২টা থেকে আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মাঠের মূল ফটক অবরোধ করে রাখেন।

আরও পড়ুন:
প্রতিবেশীকে চিনতে রাজধানীতে ‘পাড়া উৎসব’
ভবন নির্মাণে লাগবে সিটি করপোরেশনের অনুমতিও
মাঠ দখলমুক্ত করে ফুটবল খেললেন মেয়র আতিকুল
‘গাড়ির সংখ্যা কম, আমার আর নিয়ন্ত্রণ করা লাগছে না’
ফিরিয়ে দাও খেলার মাঠ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
DMP warns BNP about Nayapaltan

নয়াপল্টন নিয়ে বিএনপিকে ডিএমপির হুঁশিয়ারি

নয়াপল্টন নিয়ে বিএনপিকে ডিএমপির হুঁশিয়ারি ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে জরুরি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
পল্টনের সামনে ১০ লাখ লোকের জায়গা হবে না। সর্বোচ্চ এক লাখ লোক পল্টনে দাঁড়াতে পারবে। বাকি ৯ লাখ লোক ঢাকা শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ছড়িয়ে পড়বে। যার উপর বিএনপির কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। এতে জনদূর্ভোগ ও জননিরাপত্তা জন্য তাদের পল্টনে সমাবেশ করতে দেয়া হবে না। একই সঙ্গে এই ১০ লাখ লোক ঢাকার সমস্ত রাস্তা দখল করলে ঢাকাবাসীর জন্য একটা চরম দুর্ভোগের বিষয় হবে। ডিএমপি কমিশনার।

অনুমতি ছাড়াই নয়াপল্টনেই সমাবেশ করার বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে ঘোষণা আসার পর পুলিশের সঙ্গে নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ শেষে ঢাকার পুলিশ কমিশনার দলটিকে সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আইন অমান্য করার চেষ্টা করা হলে তারা সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেবেন। সেই সঙ্গে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গেলে দলটিকে সব ধরনের নিরাপত্তা দেয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছেন।

তিনি এও বলেছেন, জননিরাপত্তা ও জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে নয়াপল্টন দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপিকে সামাবেশের অনুমতি দেয়া যাবে না।

আগামী ১০ ডিসেম্বর শনিবার বিএনপি ঘোষিত এই সমাবেশের স্থল নিয়ে রাজনীতিতে উত্তাপের মধ্যে বুধবার সন্ধ্যায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে জরুরি সংবাদ সম্মেলন আসেন ঢাকার পুলিশ প্রধান।

তিনি বলেন, ‘পল্টনের সামনে ১০ লাখ লোকের জায়গা হবে না। সর্বোচ্চ এক লাখ লোক পল্টনে দাঁড়াতে পারবে। বাকি ৯ লাখ লোক ঢাকা শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ছড়িয়ে পড়বে। যার উপর বিএনপির কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। এতে জনদূর্ভোগ ও জননিরাপত্তা জন্য তাদের পল্টনে সমাবেশ করতে দেয়া হবে না।’

‘একই সঙ্গে এই ১০ লাখ লোক ঢাকার সমস্ত রাস্তা দখল করলে ঢাকাবাসীর জন্য একটা চরম দুর্ভোগের বিষয় হবে’-বলেন তিনি।

‘আইন অমান্য করলে বিএনপির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে’- দলটির প্রতি সতর্কবার্তাও দিয়ে রাখেন রাজধানীর পুলিশ প্রধান।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘আমরা গোয়েন্দা সংস্থা এবং মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি বিএনপি ঢাকা শহরে ১০ লাখ লোক জামাতের মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। কাজেই পার্টি অফিসের সামনে জনদুর্ভোগ করে এবং ঢাকার আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন করে তাদেরকে সেখানে অনুমতি দেয়া যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা যে কোনো খোলা মাঠে যেতে পারেন বা অন্য কোনো প্রস্তাব দিতে পারেন। অন্য প্রস্তাব হিসেবে তাদেরকে বলা হয় ইজতেমা মাঠ আছে, সেখানে আপনারা ১০ লাখ লোক জমায়াত করতে পারবেন। পূর্বাচলে বাণিজ্য মেলার মাঠ আছে, সেখানে যেতে পারেন।’

ঢাকার পুলিশ প্রধান বলেন, ‘সার্বিক দিক বিবেচনা করে তাদেরকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুমতি দেয়া হয়। পরে মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারি তারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে আগ্রহী না। তারা পল্টন বা তার আশেপাশে কোন রাস্তায় করতে আগ্রহী।

‘এ প্রসঙ্গে আমাদের ডিএমপির সুস্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বা এর মতো কোনো খোলা মাঠে সমাবেশ করতে হবে। আমরা জনদুর্ভোগ এবং জননিরাপত্তা বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

‘সোহরাওয়ার্দী আসুন, নিরাপত্তার দায়িত্ব আমার

বিএনপি সোহরাওয়ারাদীতে সমাবেশ করলে সার্বিক নিরাপত্তা দেয়ার আশ্বাসও দেন ডিএমপি কমিশনার।

তিনি বলেন, ‘উনারা এর আগেও সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশ করেছেন। উনারা সোহরাওয়ার্দীতে মিটিং করলে সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব আমার। আমি নিরাপত্তা দেবো। উনাদের নিরাপত্তার সামান্যতম কোনো ঘাটতি হবে না। কোনো প্রকার বাধা দেয়া হবে না।’

বুধবার সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আজকে অফিশিয়াল ডে, তারা নয়াপল্টনে রাস্তা দখল করে সমাবেশ করছে। গাড়ি চলাচলের বিঘ্ন ঘটিয়ে... কোনো সমাবেশ নাই, এটা তো আইনানুগ কাজ উনারা করেন নাই।’

ঢাকার প্রবেশমুখে চৌকি বসিয়ে যাত্রীদের নামিয়ে মোবাইল ফোনে বিএনপির কোনো ছবি বা নেতাদের নম্বর পেলে তাকে আটক করার বিষয়ে দলটির পক্ষ থেকে যে অভিযোগ এসেছে, সেটিরও জবাব দেন ডিএমপি প্রধান।

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কোনো তথ্য নেই। আমাদের নিয়মিত চেকপোস্ট চলছে। কারণ হলো, সামনে ১ থেকে ১৫ তারিখ একটা বিশেষ অভিযান ঘোষণা করেছি। এই মাসে ১৪ ডিসেম্বর, ১৬ ডিসেম্বর, ২৫ ডিসেম্বর আছে, বড় বড় ৫ টা প্রোগ্রাম আছে। কোনো নাশকতা যেন না ঘটে সেজন্য আমরা ঢাকার অভিমুখে চেকপোস্ট বসিয়েছি। কোনো যাত্রীর ঢাকা আসা আমরা বন্ধ করি নাই।’

অনুমতি ছাড়াই সমাবেশের ঘোষণা বিএনপির

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে গত ৮ অক্টোবর থেকে বিএনপি ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করে আসার পর আগামী ১০ ডিসেম্বর শনিবার রাজধানীতে জমায়েতের ঘোষণা দিয়েছে।

তবে এই সমাবেশের স্থল নিয়ে তৈরি হয়েছে বিরোধ। বিএনপি সমাবেশ করতে চায় নয়াপল্টনে। কিন্তু পুলিশ অনুমতি দিয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। কিন্তু তারা সেখানে যাবে না।

পুলিশ জানিয়েছে, সড়কে সমাবেশ করা যাবে না। এরপর বিএনপি আরামবাগে সমাবেশ করার কথা জানায় মৌখিকভাবে। তবে সে আবেদন মৌখিকভাবেই নাকচ করা হয়।

নয়াপল্টন নিয়ে বিএনপিকে ডিএমপির হুঁশিয়ারি
নয়াপল্টনে বিএনপিকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়

সমাবেশ স্থলের কথা না জানিয়েই বিএনপি জনসভায় অংশ নেয়ার প্রচার চালাচ্ছিল। এর মধ্যে নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টনে অবস্থানও নিতে থাকে।

বিএনপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে এসে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস দুপুরের আগে বলেন, তারা যেখানে অনুমতি চেয়েছেন, সমাবেশ সেখানেই হবে। নয়াপল্টনের বিকল্প কোনো প্রস্তাব থাকলে সেটি দিতে হবে পুলিশ বা সরকারকেই।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যদি গ্রহণযোগ্য পছন্দনীয় জায়গা বের না করে তাহলে পল্টনই আমাদের পছন্দের জায়গা। পল্টনেই হবে সমাবেশ।’

পুলিশ বাধা দিলে কী হবে, জানতে চাইলে জবাব আসে, ‘পুলিশের কাজ পুলিশ করবে, আমাদের কাজ আমরা করব।

আব্বাসের ঘোষণার পরপরই সংঘর্ষ

বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পর্ষদের নেতার পক্ষ থেকে এই বক্তব্য আসার কিছুক্ষণ পরেই শুরু হয় সংঘর্ষ।

নেতা-কর্মীরাও নয়াপল্টন ঘিরে জমায়েত হচ্ছিল আগের রাত থেকেই। সেখানে দুটি ট্রাকে অস্থায়ী মঞ্চ করে সকাল থেকে চলছিল বক্তৃতা। জনসাধারণকে শনিবারের সমাবেশে যোগ দেয়ার আহ্বানের পাশাপাশি বিতরণ করা হচ্ছিল লিফলেট। এক পর্যায়ে নেতা-কর্মীদের চাপে নয়াপল্টনের সামনের সড়ক লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়।

নয়াপল্টন নিয়ে বিএনপিকে ডিএমপির হুঁশিয়ারি
Caption

সকাল থেকে কার্যালয় ঘিরে ছিল শ খানেক‍ ‍পুলিশ। জড়ো হওয়া নেতা-কর্মীদের চাপে সামনের সড়কের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে দুপুরের দিকে তারা এসে হস্তক্ষেপ করে। তখন শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি।

বিএনপির নেতা-কর্মীরা ছুড়তে থাকে ইটপাটকেল। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ছুড়ে দেয় জবাব।

মিনিট দশেক এই সংঘর্ষ চলে। বেলা আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশের শ দুয়ের রিজার্ভ ফোর্স। আসে দুটি সাঁজোয়া গাড়িও। কাঁদানে গ্যাসের কয়েকটি ভ্যানও আসে সেখানে।

বিএনপি নেতা-কর্মীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ করতে থাকলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। শুরু হয় সংঘর্ষ।

বাড়তি পুলিশ আসার পর বাহিনীটির সদস্যরা ব্যাপক আকারে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়তে থাকেন। একপর্যায়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। কেউ কেউ দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন। সেখানেও কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়।

সেখানে আহতদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার পর বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি কার্যালয় থেকে বের হয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ কার্যালয়ে যেতে চান। পুলিশই তাকে সঙ্গে নিয়ে যায় সেখান থেকে।

নয়াপল্টন নিয়ে বিএনপিকে ডিএমপির হুঁশিয়ারি
বিএনপি কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে পুলিশ

বেলা ৩টার দিকে আসেন সোয়াট সদস্যরা। এরপর শুরু হয় তাদের টহল। ততক্ষণে নেতা-কর্মীরা আর সড়কে ছিলেন না।

বিকেল চারটার দিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যান নয়াপল্টনে। তিনি পুলিশের আচরণের প্রতিবাদে কার্যালয়ের সামনের ফুটপাতে বসে যান। সঙ্গে ছিলেন ব্যক্তিগত সহকারী মোহাম্মদ ইউনুস।

বেলা পাঁচটার দিকে পুলিশ সদস্যরা বিএনপি কার্যালয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে অবস্থানকারী দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ১ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে জারি হয়েছিল গ্রেপ্তার পরোয়ানা।

রিজভী ছাড়াও আরও কয়েকজন নেতাকে আটকের কথা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান।

আরও পড়ুন:
নয়াপল্টনে সংঘর্ষের সময় গুলিতে নিহত ১, আহত ১৮
সরকার উৎখাতের পরিকল্পনার অভিযোগে আটক ২০
নয়াপল্টনে পুলিশ-বিএনপি ব্যাপক সংঘর্ষ
রিজভী, ইশরাকের পর এবার সোহেলকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা
পুলিশের কাজ পুলিশ করবে, সমাবেশ নয়াপল্টনেই: বিএনপি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Militant robbery Order to send 10 accused to jail after remand

জঙ্গি ছিনতাই: রিমান্ড শেষে ১০ আসামি কারাগারে

জঙ্গি ছিনতাই: রিমান্ড শেষে ১০ আসামি কারাগারে সিসিটিভি ফুটেজে জঙ্গিদের পালানোর দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত
দুই জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় করা মামলায় ১০ আসামিকে দ্বিতীয় দফা রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।

ঢাকার বিচারিক আদালত প্রাঙ্গণ থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় করা মামলায় ১০ আসামিকে দ্বিতীয় দফার রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।

বুধবার দ্বিতীয় দফায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে তাদের ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসিমের আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

১ ডিসেম্বর ওই ১০ আসামিকে দ্বিতীয় দফায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকা মহানগর হাকিম শফি উদ্দিন।

এর আগে ২০ নভেম্বর একই আদালত তাদের ১০ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেয়।

কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন- শাহীন আলম ওরফে কামাল, শাহ আলম ওরফে সালাউদ্দিন, বি এম মজিবুর রহমান, সুমন হোসেন পাটোয়ারী, আরাফাত রহমান, খাইরুল ইসলাম ওরফে সিফাত, মোজাম্মেল হোসেন, শেখ আব্দুল্লাহ, আ. সবুর, রশিদুন্নবী ভূঁইয়া প্রমুখ।

গত ২০ নভেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত প্রাঙ্গণ থেকে দুই জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় ২০ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা করেন পুলিশ পরিদর্শক জুলহাস উদ্দিন আকন্দ। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়।

সেদিন সকালে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলার ১২ আসামিকে কাশিমপুর-২ কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে ঢাকার আদালতে আনা হয়। সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকার প্রসিকিউশন বিভাগে আসামিদের হাজিরা দেয়ার জন্য সিজেএম আদালত ভবনে সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনাল ৮-এ নিয়ে যাওয়া হয়।

মামলার শুনানি শেষে জামিনে থাকা দুই আসামি মো. ঈদী আমিন ও মেহেদী হাসান অমি ওরফে রাফি আদালত থেকে বের হয়ে যান।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কোর্টের শুনানি শেষে প্রথমে চারজনকে নিচে নামিয়ে আনা হয়। দুটি হাতকড়া দিয়ে দু’জনকে আটকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। বাকি আসামিরা তখন উপরে ছিলেন।

চার জনের মধ্যে মইনুল হাসান ও আবু সিদ্দিককে জঙ্গিরা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তবে মো. আরাফাত ও মো. সবুরকে নিতে পারেনি। জঙ্গিরা পিপার স্প্রে ব্যবহার করে। এতে একজন সিকিউরিটি গার্ড, একজন পুলিশ সদস্যসহ কয়েকজন সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হন।’

আরও পড়ুন:
জঙ্গি আরাফাতকে ছিনিয়ে নেয়াই ছিল মূল লক্ষ্য
জামিনে থাকা জঙ্গি অমি গ্রেপ্তার
পলাতক জঙ্গিরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকি: পুলিশ
জঙ্গি ছিনতাইয়ের মূল হোতার পরিচয় পেয়েছে সিটিটিসি
আদালতপাড়ায় জঙ্গি ছিনতাই নাটক: রিজভী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Police arrested Rizvi in ​​BNP office by breaking the door and detained many

দরজা ভেঙে বিএনপি কার্যালয়ে পুলিশ, রিজভী গ্রেপ্তার, আটক বহু

দরজা ভেঙে বিএনপি কার্যালয়ে পুলিশ, রিজভী গ্রেপ্তার, আটক বহু বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে আটক করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা
দুপুরে ঘণ্টা দেড়েকের সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। বিকেলে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াটও। বিএনপির শতাধিক নেতা-কর্মী একপর্যায়ে অবস্থান নেন দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে। বিকেলে দরজা ভেঙে কার্যালয়ে ঢোকে পুলিশ।

সংঘর্ষের পর এবার নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। নেতা-কর্মীরা ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে রাখলেও পুলিশ সেটি ভেঙে ভেতরে ঢোকে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীসহ বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়।

কার্যালয়ের সামনে দুটি ট্রাকে অস্থায়ী মঞ্চ বানিয়ে সকাল থেকে যে বক্তব্য চলছিল, সেগুলোও সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

আগামী শনিবার অনুমতি না থাকলেও নয়াপল্টনে সমাবেশ করার ঘোষণায় অটল বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ‍পুলিশের এই সংঘর্ষ শুরু হয় দুপুরের পরপর।

ঘণ্টা দেড়েকের সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। বিকেলে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াটও।

বিএনপির শতাধিক নেতা-কর্মী একপর্যায়ে অবস্থান নেন দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে। তাদের উদ্দেশ করে দুই দফা কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। আহতদের নিয়ে আসতে অ্যাম্বুলেন্সকেও বাধা দেয়ার অভিযোগ করছে ‍বিএনপি।

বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ সদস্যরা কার্যালয়ে ঢুকতে গিয়ে বাধা পান। ভেতর থেকে দরজা বন্ধ ছিল। একপর্যায়ে পুলিশ সে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে।

ভেতরে অবস্থান করছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যার বিরুদ্ধে ১ ডিসেম্বর নাশকতার এক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। ২০১২ সালে ঢাকা সিটি করপোরেশনের একটি গাড়িতে আগুন দেয়ার মামলায় সেদিন আদালতে হাজিরা ছিল তার। কিন্তু বিএনপি নেতা হাজিরা না দেয়ার পর তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ আসে।

রিজভী ছাড়াও বিএনপি চেয়াপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকেও আটক করা হয়।

দরজা ভেঙে বিএনপি কার্যালয়ে পুলিশ, রিজভী গ্রেপ্তার, আটক বহু
কার্যালয়ের ভেতর থেকে বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রিজভীসহ বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকে পুলিশ প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে গেছে।’

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে গত ৮ অক্টোবর থেকে বিএনপি ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করে আসার পর আগামী ১০ ডিসেম্বর শনিবার রাজধানীতে জমায়েতের ঘোষণা দিয়েছে।

তবে এই সমাবেশের স্থল নিয়ে তৈরি হয়েছে বিরোধ। বিএনপি সমাবেশ করতে চায় নয়াপল্টনে। কিন্তু পুলিশ অনুমতি দিয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। কিন্তু তারা সেখানে যাবে না।

পুলিশ জানিয়েছে, সড়কে সমাবেশ করা যাবে না। এরপর বিএনপি আরামবাগে সমাবেশ করার কথা জানায় মৌখিকভাবে। তবে সে আবেদন মৌখিকভাবেই নাকচ করা হয়।

সমাবেশস্থলের কথা না জানিয়েই বিএনপি জনসভায় অংশ নেয়ার প্রচার চালাচ্ছিল। এর মধ্যে নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টনে অবস্থানও নিতে থাকেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে এসে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস দুপুরের আগে বলেন, তারা যেখানে অনুমতি চেয়েছেন, সমাবেশ সেখানেই হবে। কোনো গ্রহণযোগ্য বিকল্প প্রস্তাব থাকলে সেটি দিতে হবে পুলিশ বা সরকারকে।

পুলিশের কাজ পুলিশ করবে, বিএনপির কাজ বিএনপি করবে- দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদের নেতার পক্ষ থেকে এই বক্তব্য আসার কিছুক্ষণ পরেই শুরু হয় সংঘর্ষ।

আরও পড়ুন:
সরকার উৎখাতের পরিকল্পনার অভিযোগে আটক ২০
নয়াপল্টনে পুলিশ-বিএনপি ব্যাপক সংঘর্ষ
রিজভী, ইশরাকের পর এবার সোহেলকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা
পুলিশের কাজ পুলিশ করবে, সমাবেশ নয়াপল্টনেই: বিএনপি
খুলনায় বিএনপির গ্রেপ্তার নেতা-কর্মী বেড়ে ৫৫

মন্তব্য

বাংলাদেশ
A procession of pro BNP lawyers in the capital

রাজধানীতে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের মিছিল

রাজধানীতে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের মিছিল ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ উপলক্ষে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের মিছিল। ছবি: নিউজবাংলা
মিছিল শেষে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ নয়াপল্টনেই করার জন্য আমরা অনড় আছি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কোনো জনসভা করব না।’

১০ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ সফল করতে মিছিল করেছে বিএনপিপন্থি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় আইনজীবীরা এই মিছিল করেন।

মিছিলটি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবন থেকে শুরু করে হাইকোর্ট মাজারগেট দিয়ে মূল সড়কে যায়। এরপর শিক্ষা ভবন, কদম ফোয়ারা, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের পাশের গেট দিয়ে আবার সমিতি ভবনে ফিরে আসে। পরে আইনজীবী সমিতির ভবনে তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন।

মিছিল শেষে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ নয়াপল্টনেই করার জন্য আমরা অনড় আছি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কোনো জনসভা করব না।’

তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা রাজপথে নেমেছে গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার পুনরুদ্ধার এবং তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের জন্য। নিশিরাতের অবৈধ শাসকগোষ্ঠীকে বিদায় দেয়ার জন্য সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে।’

মিছিলের নেতৃত্ব দেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সুপ্রিম কোর্ট শাখার সভাপতি আব্দুল জাব্বার ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম সজল। এতে শতাধিক বিএনপিপন্থি আইনজীবী অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন:
বিএনপি কার্যালয়ের ভেতরে কাঁদানে গ্যাস
বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ফখরুলের অবস্থান
বিএনপি কার্যালয় ঘিরে পুলিশের পাশাপাশি সোয়াট

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The police prevented the ambulance from taking the injured

বিএনপি কার্যালয়ের ভেতরে কাঁদানে গ্যাস

বিএনপি কার্যালয়ের ভেতরে কাঁদানে গ্যাস বিএনপি কার্যালয়ের ভেতর অভিযান চালায় পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা
সংঘর্ষ শুরুর পর অসংখ্য নেতা-কর্মীর সঙ্গে আহত ব্যক্তিরাও বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে অবস্থান নেন। সে সময় পুলিশ কার্যালয়ের ভেতর কাঁদানে গ্যাসের কয়েকটি শেল ছোড়ে। তখন বিএনপির পক্ষ থেকে চারটি অ্যাম্বুলেন্স আনা হয় আহতদের সরিয়ে নিতে। কিন্তু গাড়িগুলো নয়াপল্টন কার্যালয়ের সমানে এলে সেগুলোকে দাঁড়াতে দেয়নি পুলিশ। তখন আরও গ্যাস ছোড়া হয়।

নয়াপল্টনে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে আসা অ্যাম্বুলেন্সকে বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।

বিএনপির নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, সংঘর্ষের একপর্যায়ে তাদের দলের বেশ কিছু কর্মী দলীয় কার্যালয়ে আটকা পড়লে তাদের উদ্দেশ করে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। এতে তারা আহত হয়ে পড়লে হাসপাতালে নিয়ে যেতে আনা হয় অ্যাম্বুলেন্স। কিন্তু পুলিশ গাড়িগুলোকে আসতে দেয়নি।

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে গত ৮ অক্টোবর থেকে ধারাবাহিকভাবে বিভাগীয় সব শহরে সমাবেশ থেকে ১০ ডিসেম্বর শনিবার রাজধানীতে সমাবেশ ঘিরে রাজনীতিতে উত্তাপের মধ্যে বুধবার নয়াপল্টন ঘিরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল।

বিএনপি এই সমাবেশটি করতে চায় নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে। তবে পুলিশ অনুমতি দিয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। কিন্তু সেখানে যেতে চায় না তারা। বিকল্প হিসেবে মৌখিকভাবে আরামবাগে জমায়েতের প্রস্তাব দিলেও তা মৌখিকভাবেই নাচক করে পুলিশ।

দুপুরের আগে সংবাদ সম্মেলনে এসে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, তাদের সমাবেশ নয়াপল্টনেই হবে। পুলিশের কাজ পুলিশ করবে, তাদের কাজ তারা করবেন।

আগের রাত থেকেই নয়াপল্টনে অবস্থান নিতে থাকেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। সকাল থেকে ট্রাকে অস্থায়ী মঞ্চ বানিয়ে চলতে থাকে বক্তব্য। দুপুরের দিকে সামনের সড়কে নেতা-কর্মীরা ‍পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পর পুলিশ দেয় বাধা। শুরু হয় সংঘর্ষ পাল্টাপাল্টি ধাওয়া।

সকাল থেকে সেখানে উপস্থিত শখানেক পুলিশ সদস্য যখন পেরে উঠছিলেন না, তখন বেলা আড়াইটার দিকে ডাকা হয় অতিরিক্ত পুলিশকে। সাঁজোয়া গাড়িসহ আরও শ দুয়েক পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার পর কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ছুড়তে থাকে তারা।

বেলা পৌনে তিনটার দিকে আসে পুলিশের বিশেষায়িত বাহিনী সোয়াট। তবে তারা এসে অ্যাকশনে না গিয়ে টহল দিতে থাকে। অবশ্য তারা আসার আগেই পরিস্থিতি অনেকটা পুলিশের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

তবে পুলিশ যখন অ্যাকশনে ছিল তখন আহত অবস্থায় বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে যেতে দেখা যায়। পরে এদের একজনের মৃত্যুও হয় হাসপাতালে।

সংঘর্ষ শুরুর পর অসংখ্য নেতা-কর্মীর সঙ্গে আহতরাও বিএনপি পার্টি অফিসের ভেতরে অবস্থান নেন। সে সময় পুলিশের সদস্যরা কার্যালয়ের ভেতর কাঁদানে গ্যাসের কয়েকটি শেল ছোড়ে।

বিএনপি কর্মীরা দাবি করেন, ভেতরে অবস্থান নেয়া অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন আহত ছিলেন। কাঁদানে গ্যাসের কারণে তাদের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।

তখন বিএনপির পক্ষ থেকে চারটি অ্যাম্বুলেন্স আনা হয় আহতদের সরিয়ে নিতে। কিন্তু গাড়িগুলো নয়াপল্টন কার্যালয়ের সমানে এলে সেগুলোকে দাঁড়াতে দেয়নি পুলিশ। তাদের বাধায় দুটি অ্যাম্বুলেন্স ফিরে যায়। এরপর পুলিশ সদস্যদের আবার দলীয় কার্যালয়ের ভেতর কাঁদানে গ্যাস ছুড়তে দেখা যায়।

আহতদের নিয়ে যেতে অ্যাম্বুলেন্সকে বাধা দেয়া এবং দলীয় কার্যালয়ে আবদ্ধ পরিবেশে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার বিষয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:
রিজভী, ইশরাকের পর এবার সোহেলকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা
পুলিশের কাজ পুলিশ করবে, সমাবেশ নয়াপল্টনেই: বিএনপি
খুলনায় বিএনপির গ্রেপ্তার নেতা-কর্মী বেড়ে ৫৫
১৫০০ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ বিএনপির
দ্বিধা নয়, ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ হবেই: ফখরুল

মন্তব্য

p
উপরে