× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Cauliflower farmers of Sherpur fear diamondback moth
google_news print-icon

ডায়মন্ডব্যাক মথ আতঙ্কে শেরপুরের ফুলকপিচাষিরা

ডায়মন্ডব্যাক-মথ-আতঙ্কে-শেরপুরের-ফুলকপিচাষিরা
সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বেশি লাভের আশায় আগাম লাগাইছিলাম। কিন্তু এই সেঙ্গায় তো সব শেষ করে দিচ্ছে। বাজারের বিষে কাজ হচ্ছে না। কৃষি অফিসাররাও কোনো পরামর্শ দিচ্ছেন না।’

শীতকালীন আগাম সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে এবার শেরপুরে। ব্রহ্মপুত্র নদের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে সবজি আবাদ করে এবার কৃষকের মুখে মুখে হাসি। তবে আতঙ্ক ছড়িয়েছে ফুলকপির ডায়মন্ডব্যাক মথ রোগ নিয়ে।

স্থানীয় নামে ‘সেঙ্গা’ জাতীয় পোকার আক্রমণে পচে যাচ্ছে চাষিদের ফুলকপি, মরে যাচ্ছে গাছও!

সরেজমিনে দেখা গেছে, ১৬ শতাংশ জমিতে ফুলকপির চাষ করেছিলেন শেরপুরের ব্রহ্মপুত্রপারের কৃষক শমসের আলী। সম্প্রতি তার গাছগুলোতে পচন ধরেছে।

দুশ্চিন্তাগ্রস্ত শমসের বলেন, ‘আগাম বেচতে ফুলকফি লাগাইলাম। কিন্তু পচা যে ধরল তা তো আর ছাড়াবার পারছি না। দোকান থেকে সার-বিষ এনে দিলাম। কিন্তু কী যে দিল- কাজ তো হচ্ছে না! এখন আমরা কী করব!’

একই অবস্থা চরপক্ষীমারী এলাকার ময়না বেগমের। জানালেন, অনেক চেষ্টা করেও ফুলকপির ক্ষেত থেকে তিনি পোকা সরাতে পারছেন না। জমিতে প্রায় ৮০ হাজার টাকা খরচ করে সেই টাকা ওঠানো নিয়েই এখন যত চিন্তা।

ডায়মন্ডব্যাক মথ আতঙ্কে শেরপুরের ফুলকপিচাষিরা

শুধু শমসের আর ময়না নন, ফুলকপি চাষ করা বেশির ভাগ কৃষকের মাঠেই দেখা গেছে এমন চিত্র। নির্দিষ্ট কীটনাশক না পেয়ে তাদের মধ্যে বাড়ছে আতঙ্ক। মাঠপর্যায়ে এখনও পৌঁছায়নি কৃষি অফিসের পরামর্শও।

স্থানীয় কৃষক জালাল উদ্দিন বলেন, ‘কোনো কৃষি অফিসার আমাদের খোঁজ নিতে আসেন না।’

সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বেশি লাভের আশায় আগাম লাগাইছিলাম। কিন্তু এই সেঙ্গায় তো সব শেষ করে দিচ্ছে। বাজারের বিষে কাজ হচ্ছে না। কৃষি অফিসাররাও কোনো পরামর্শ দিচ্ছেন না।’

এ বিষয়ে শেরপুর খামারবাড়ির অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) হুমায়ুন কবির বলেন, ‘জেলায় ইতোমধ্যে ১০০ হেক্টর জমিতে ফুলকপির আবাদ করা হয়েছে। ক্ষেতে ক্ষেতে ছড়িয়ে পড়া পোকাটির নাম ডায়মন্ডব্যাক মথ। নির্দিষ্ট বালাইনাশক ব্যবহার করে ক্ষতির পরিমাণ কমানো সম্ভব। আমরা মাঠপর্যায়ে দ্রুত পরামর্শ দেয়ার ব্যবস্থা করছি। ইতোমধ্যেই কার্যত্রম শুরু হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
বাঁধাকপি কাটল কে
গ্রীষ্মে শীতের সবজি চাষে দ্বিগুণ লাভ
সবজির দাম কমলেও খুচরায় প্রভাব নেই
এক মাস পর যুক্তরাজ্যে সবজি রপ্তানি শুরু
আরও ৩০টি ডোনেট বাক্সে দেয়া হচ্ছে বিনা মূল্যে সবজি

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
BADCs seed rice and wheat are now bird food

বিএডিসির বীজ ধান ও গম এখন পাখির খাবার

বিএডিসির বীজ ধান ও গম এখন পাখির খাবার রাজশাহীর এক পাখির খাবারের দোকানে মিলেছে বিএডিসির বস্তায় ভরা বীজ গম ও ধান। কোলাজ: নিউজবাংলা
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) বীজ ধান ও গম কৃষকদের না দিয়ে বিক্রি করা হয়েছে পাখির খাবারের দোকানে। রাজশাহীর এক পাখির খাবারের দোকানে মিলেছে বিএডিসির বস্তায় ভরা এসব বীজ গম ও ধান।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ভালো মানের বীজ উৎপাদন ও সংগ্রহ করে তা ডিলারদের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেয়। ভালো ফসল উৎপাদন করতেই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটির এই কার্যক্রম।

অবাক করা বিষয় হলো, বিএডিসির বীজ ধান ও গম কৃষকদের না দিয়ে বিক্রি করা হয়েছে পাখির খাবারের দোকানে। রাজশাহীর এক পাখির খাবারের দোকানে মিলছে বিএডিসির বস্তায় ভরা এসব বীজ গম ও ধান। প্রকাশ্যেই এসব বিক্রি করা হচ্ছে।

বিএডিসি বলছে, ডিলারদের অবিক্রীত বীজ তারা যেখানে ইচ্ছা বিক্রি করতে পারে। খেতেও পারে।

তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, পাখি কিংবা মানুষ কেউই এই বীজ ধান-গম খেতে পারে না। কেননা এগুলোতে রাসায়নিক মিশ্রিত থাকে। এগুলোর দোকানে বিক্রির ঘটনায় বেশ ক্ষুব্ধ তারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজশাহী নগরীর গ্রেটার রোড মসজিদের বিপরীতে পাখির খাবারের দোকান সেলিম এন্টারপ্রাইজ। এখানে নানা ধরনের পাখির খাবার বিক্রি করা হয়। সেখানে সারি সারি সাজানো আছে বিএডিসির বীজ ধান ও গমের বস্তা। এসব বস্তায় বিএডিসির সিলও মারা রয়েছে। বস্তা কেটে বিক্রি করা হচ্ছে এসব বীজ। প্রতি কেজি ধান বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায় আর গম বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়।

দোকানটিতে ঢুকতেই দেখা মিলছে বীজের বস্তা। এসব বস্তা আর বীজ প্রত্যয়নও দেয়া আছে। তাতে লেখা রয়েছে ট্যাগ নম্বর, ধানের জাতের নাম, লট নম্বর, প্রত্যায়ন ইস্যুর তারিখ, বৈধতার মেয়াদ, নেট ওজন। প্রতিটি ১০ কেজি ওজনের বস্তা। এসব বীজ যশোর জোনের।

বুধবার সন্ধ্যায় সেখানে দিয়ে দেখা যায়, ভ্যানে করে এসব বীজ আসছে। চটের বস্তায় মোড়ানো এসব বীজ সরাসরি দোকানে তোলা হলো। প্রায় ৩০টি বস্তা সেখানে ঢুকানো হলো। দোকানের সামনে রাখা হলো আরও ৮টি বস্তা। কিছুক্ষণ পর সেই বস্তার মুখ খুলে সরাসরি বিক্রি শুরু করলেন দোকানি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সেলিম এন্টারপ্রাইজের মালিক সেলিম হোসেন বলেন, ‘আমরা হরিয়ানের এক ডিলারের কাছ থেকে এগুলো এনেছি। এগুলো তারা বিক্রির পর অবশিষ্ট বীজ নিলামে বিক্রি করে দেয়। আমরা দ্বিতীয় হাত থেকে কিনে নিয়েছি।’

রাসায়নিক মিশ্রিত বীজ গম ও ধান সরাসরি পাখির খাবার হিসেবে বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এসব বীজে যাতে পোকার আক্রমণ না হয় সেজন্য কিছুটা বিষ দেয়া থাকে। তবে সেগুলো বাইরে। সরাসরি ধানে বা গমে নয়। আর এগুলো খেয়ে যদি ক্ষতি হতো তবে এতে অনেক পাখি মারা যেত। এখন পর্যন্ত তো সেরকম কিছু শুনিনি।’

বিএডিসি যশোর জোনের উপ-সহকারী পরিচালক (বীজ বিপণন) মুসা আহমেদ এ বিষয়ে বলেন, ‘চলতি ধান ও গমের মৌসুম শেষ। ডিলাররা উত্তোলন করার পরও কিছু বীজ থেকে যায়। সব বীজ তো আর বিক্রি হয় না। তখন তারা কম দামে বিক্রি করতে পারে। এটা তাদের ব্যাপার। এ বিষয়ে একান্ত এখতিয়ার ডিলারদের।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ডিলাররা কেন বিক্রি করলেন সেটি আমরা বলতে পারব না। আমাদের বীজ বেচার দরকার আমার বীজ তাদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছি। এই বীজগুলো ২৪ মৌসুমের। এসব বীজে আগামী বছর ফসল ফলবে না। আমরা মনে করি এটি বাইরে বিক্রি করা যৌক্তিক না হলেও তা ডিলারদের বিষয়। আমাদের নয়।’

বিএডিসি রাজশাহীর উপ-পরিচালক কেএম গোলাম সরওয়ার বলেন, ‘এসব বীজে সামনের বছরে আর ফসল হবে না। এই বীজ আর চলে না। আর বীজের চাহিদা নির্ণয় করা হয় মন্ত্রণালয় থেকে। চাহিদা দেয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এরপর এনএসবি মিটিএয় কে কত বীজ উৎপাদন করবে সেটির অনুমোদন দেয়া হয়।’

তিনি বলেন, ‘বীজের যাতে সংকট না হয় সেটি বিএনডিসি দেখভাল করে। কোনো কোনো বছর আবাদ একটু কম হয়। ওই বছর তখন বীজ বেচে যায়। এখন সিজন শেষ। ডিলার যারা এই বীজ নিয়েছেন তারা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

‘ধরুন, তাদের ৬১ টাকায় কিনে ৬৯ টাকায় বিক্রি করার কথা। সিজনের পর এসব বীজ খাদ্য বা পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হবে। একটা সময় আমরা এগুলো ফুডকেও দিয়ে দিতাম।’

তবে রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাজদার হোসেন বলেন, ‘এসব বীজ পাখির খাওয়ার উপযোগী নয়। মানুষের খাওয়ারও উপযোগী নয়। অনেক কেমিক্যাল মেশানো হয়। আমরা এর পক্ষে নই। এটা কেন হচ্ছে আপনারা তদন্ত করতে পারেন।’

তিনি বলেন, ‘যেখানে ধান ও গমের বীজের চাহিদা আছে সেখানে দেয়া হয়নি। অথবা যেখানে চাহিদা নেই সেখানে বেশি আনা হয়েছে। এ কারণে এগুলো হয়েছে।’

রাজশাহী গম গবেষণাগারের সাবেক প্রধান বিজ্ঞানী ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘আমি গত মাসেই যশোরে বদলি হয়ে এসেছি। আমরা অনেক কষ্ট করে এসব বীজ উৎপাদন করি। এরপর বিএডিসিকে দিয়ে দেয়া হয়। এবার ব্যাপক চাহিদা ছিল গমের বীজের। তারপরও কেন এমনটি হলো আমার জানা নেই।’

তিনি বলেন, ‘বিএডিসির কাছে আমরা জানতে চাইব এটি কেন হলো। এটি হওয়ার কথা নয়। বিএডিসির মাধ্যমে বীজ তো কৃষক পাবে। এটি পাখির খাবারের জন্য নয়। পাখির খাবারের জন্য তো আলাদা গম উৎপাদন হয়।’

আরও পড়ুন:
পুকুরে বিলীন তিন ফসলি জমি
পাথরে ফুটেছে ফুল
মাটি ভরাটে বন্ধ সেচযন্ত্র, মুন্সীগঞ্জে ধান চাষ ব্যাহতের শঙ্কা
পরিবেশবান্ধব ভার্মি কমপোস্টে বাড়তি আয়
পাঁচ বছরে ৫০০ কোটি টাকার কৃষিপণ্য রপ্তানির আশা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Wheat farmers of Meherpur are in danger without listening to the agriculture department

কৃষি বিভাগের কথা না শুনে বিপদে মেহেরপুরের গমচাষিরা

কৃষি বিভাগের কথা না শুনে বিপদে মেহেরপুরের গমচাষিরা দূর থেকে দেখলে পেকে গেছে মনে হলেও আসলে ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে পুড়ে গেছে বাঁ পাশের খেতের গম। ছবি: নিউজবাংলা
চলতি মৌসুমে জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক গম চাষ হওয়ায় কৃষি বিভাগ স্বস্তিতে থাকলেও গম খেতে আবারও দেখা দিয়েছে ব্লাস্ট রোগ। ফলে অস্বস্তিতে রয়েছেন জেলার অনেক কৃষক।

বারি-৩৩ ও ডাব্লিউএমআইআর দগম-৩ নামের ব্লাস্ট প্রতিরোধী দুটি গমের জাত আবিষ্কারে ফলে গম চাষে আগ্রহ বেড়েছে কৃষিনির্ভর মেহেরপুরের চাষিদের।

চলতি মৌসুমে ফসলটির উৎপাদন লক্ষ‍্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। তবে এই দুটি জাতের বাইরে অন‍্য জাতের গম আবাদ করে ব্লাস্ট রোগের আক্রমণে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কায় রয়েছে জেলার অনেক চাষি।

চলতি মৌসুমে জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক গম চাষ হওয়ায় কৃষি বিভাগ স্বস্তিতে থাকলেও গম খেতে আবারও দেখা দিয়েছে ব্লাস্ট রোগ। ফলে অস্বস্তিতে রয়েছেন জেলার অনেক কৃষক।

জেলার তিন উপজেলা- গাংনী, মেহেরপুর সদর ও মুজিবনগরের মাঠ ঘুরে দেখা যায়, ফসলি জমিতে থাকা গম এখনও পূর্ণ পরিপক্ব হয়ে কাটার মতো হতে সময় লাগবে কম পক্ষে তিন সপ্তাহ।

জেলার অনেক এলাকার দূর থেকে দেখে মনে হবে, গম পরিপক্ব হয়ে কাটার উপযোগী হয়ে গেছে। প্রকৃতপক্ষে তা মাইজ থেকে শিষ শুকিয়ে মরে গিয়ে হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে। এটিই গমের ব্লাস্ট রোগের লক্ষণ। ফসলের আশি শতাংশ পর্যন্ত ফলন বিপর্যয় ঘটাতে পারে এ রোগ।

কৃষি বিভাগের কথা না শুনে বিপদে মেহেরপুরের গমচাষিরা

কৃষি বিভাগ চাষিদের সর্বদা বলেছে, নতুন উদ্ভাবিত গমের ব্লাস্ট প্রতিরোধী উচ্চ ফলনশীল যে দুটি জাত আবিস্কার হয়েছে, তা চাষ করতে। এমনকি প্রণোদনা হিসেবেও দেয়া হয়েছে সার ও গম বীজ।

ঝোড়াঘাট গ্রামের গমচাষি আকমল হোসেন বলেন, ‘আমাদের মাঠে এবার ব‍্যাপক গমের আবাদ হয়েছে। আমিও দুই বিঘা জমিতে গম আবাদ করেছি। তবে সপ্তাহখানেক হবে, গম সব হলুদ হয়ে কাটার মত অবস্থা হয়ে গেছে। কীটনাশক প্রয়োগ করেও কাজ হচ্ছে না।’

তার চাষ করা গম ‘প্রদীপ’ জাতের বলে জানান তিনি।

নওদা মটমুড়া গ্রামের চাষি মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি নিজের সংগ্রহে থাকা বীজ দিয়ে গমের আবাদ করেছি। গমও খুব ভালো হয়েছিল। মাঠে থাকা গম এখনও কাটার মত হয়নি। তবে এখনই সব গম হলুদ হয়ে গেছে। এই গমে ভালো ফলন পাওয়া যাবে না। এ বছর গমে ধরা খায়ি গেলাম।’

তেরাইল গ্রামের চাষি আজিজুল হক বলেন, ‘ব্লাস্ট প্রতিরোধী গমের জাত বের হয়েছে বলে শুনেছি। তবে আমরা সবসময়ই বাড়িতে সংগ্রহে থাকা বীজ থেকে গমের আবাদ করি। এ বছরও তাই করেছি।’

তিনি বলেন, ‘শুরুতে গম খুব ভালো হয়েছিল। শেষের দিকে এসে সব গম শুকিয়ে হলুদ হয়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে দশ হাজার টাকার মত খরচা হয়েছিল গম চাষে। সামনের বার আর বাড়ির বীজ দিয়ে গম চাষ করব না।’

মেহেরপুর জেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কৃষ্ণ কুমার হালদার বলেন, ‘চলতি মৌসুমে মেহেরপুরে গম চাষের লক্ষ‍্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১০ হাজার হেক্টর জমি। আবাদ হয়েছে ১৩ হাজার হেক্টর জমি। কৃষি বিভাগ পক্ষ থেকে চাষিদের উদ্দেশে সবসময় বলা হয়েছে, ব্লাস্ট প্রতিরোধী উচ্চফলনশীল জাতের গম চাষ করতে। এমনকি পাঁচ হাজার চাষিকে প্রণোদনা হিসেবে বীজ ও সার দেয়া হয়েছে। যারা কৃষি বিভাগের কথা না শুনে বাড়িতে সংগ্রহে থাকা গম বীজ ব‍্যবহার করেছেন, তাদের খেতে ব্লাস্ট আক্রমণ করেছে।’

আরও পড়ুন:
নিবন্ধিত হলো ধানের দুটি ও গমের একটি জাত
মাঠে দুলছে গমের শিষ, ভালো দামের আশায় চাষিরা
নতুন গমের দামে ও ফলনে খুশি মেহেরপুরের চাষিরা
ব্লাস্ট প্রতিরোধী জাতের গমে আশা মেহেরপুরের কৃষকদের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
It is possible to prevent insect attack on brinjal by using insect repellent sex pheromone traps

বেগুনে পোকার আক্রমণে দিশেহারা কৃষক, ‘সেক্স ফেরোমন ফাঁদ’ পাতার পরামর্শ

বেগুনে পোকার আক্রমণে দিশেহারা কৃষক, ‘সেক্স ফেরোমন ফাঁদ’ পাতার পরামর্শ বেগুনের খেতে ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক। ছবি: নিউজবাংলা
দুর্ভোগে পড়া কৃষকদের উদ্দেশে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বার্তা দিয়েছে, কীটনাশক দিলেও কাজ হবে না। ‘সেক্স ফেরোমন ফাঁদ’ পাতলে এ আক্রমণ ঠেকানো সম্ভব। 

শেরপুরে বেগুনের খেতে পোকার আক্রমণ দেখা দেয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। লাভের আশায় ধার করে বিনিয়োগ করেছিলেন তারা, কিন্তু বেগুন খেতে ব্যাপকভাবে ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা আক্রমণ দেখা দিয়েছে। কীটনাশক ছিটিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন অধিকাংশ কৃষক।

এমন দুর্ভোগে পড়া কৃষকদের উদ্দেশে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বার্তা দিয়েছে, কীটনাশক দিলেও কাজ হবে না। ‘সেক্স ফেরোমন ফাঁদ’ পাতলে এ আক্রমণ ঠেকানো সম্ভব।

শেরপুর সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের ডাকপাড়ার বেগুনচাষী আব্দুল আজিজ বলেন, ‘লাভের আশায় এ বছর সাত বিঘা জমিতে গোল বেগুনের আবাদ করেছিলাম। ধার করে ছয় লাখেরও বেশি টাকা খরচ করেছি, কিন্তু বেগুন ক্ষেতে ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণে বেশির ভাগ বেগুনই নষ্ট হয়ে গেছে। কীটনাশক ব্যবহার করেও কোনো কাজ হয়নি।

‘এতে পোকার আক্রমণে ছিদ্র করা অধিকাংশ বেগুনই ফেলে দিতে হয়েছে। ফলে খেতে বিক্রি হয়েছে সাড়ে তিন লাখ টাকার বেগুন। বাকি টাকা উঠবে না। এখন জমিজমা বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করতে হবে । তাই চরম হতাশায় দিন কাটছে।’

বেগুন চাষী আব্দুল আজিজ বলেন, ‘এবার বাগুন টালে ধরা, বাগুন ক্ষেতে এবার প্রচুর পোকা। এক মন বাগুন তুললে, এক মন
বাগুনেই পোকা থাকে। অনেক বিষ দিলাম, কিন্তু কোনো কাজ হইলো না। বিষ কোম্পানির নোক আইয়া যে বিষ দিবার কইতাছে, ওডেই দিতাছি কিন্তু কোনো কাম অইতাছে না। বাগুন তুইলে গরুরেই খাওয়াইছি বেশি, সাড়ে তিন লাখ টেহার মতো বেচছি। যে বেগুন আছে ঐডি দিয়া আর বাকি টেহা তুলবার পামুনা। এহন ঋণ দিবার গেলে জমি বেচা ছাড়া, আমার কোন বুদ্ধি নাই। সরকারি কৃষি অফিসার আহনের কথা আছিলো, আহেনাই কোনোদিনও।’

কৃষক ওসমান আলী বলেন, ‘গত বছর গোল বেগুন চাষ করে লাভ করেছিলাম। তাই এইবার বেশি কইরা লাগাইছিলাম। কিন্তু এ বছর বেগুনের টাকা পোকার পেটে চলে গেছে। কি! কইরা এহন চলি।’

কৃষকদের অভিযোগ সরকারি কৃষি বিভাগের লোকজন তাদের কাছে আসেন না। তাই তারা বাজার থেকেই কীটনাশক এনে ক্ষেতে স্প্রে করেন। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। এতে তারা আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কৃষকরা মহাজনের টাকা পরিশোধ করতে পারছেন না। তাই সরকারিভাবে সহায়তা চান ক্ষতিগ্রস্তরা।

বেগুন চাষি সামিদুল হক বলেন, ‘গত বছর মনে করেন, এইখানি টাল দিয়ে খরচপাতি বাদ দিয়া লাখ খানি টেহা লাভ করছিলাম। এবার বছর পোকা জরজরা কইরা ফেলাইছে। এবার চালানই তুলা হাইতাছিনা। দশ হাজার টেহা টাইনা আইনা দিছিলাম, এই টেহাডাও তুলবার পাই নাই।’

বেগুন চাষি হোসেন বলেন, ‘টাল দেয়ার পরে যে পোহা ধরছে, এই পোহা আর ছাড়াবার পাই নাই। যে কারণে বাগুন টালে যে টেহা খরচ করছিলাম, তা আরো লছ, বাগুনের টেহা তুলবার পাই নাই। বাজারে গেলে যে বিষ দিবার কয়, সেটাই দিতাছি কিন্তু কোন কাজ অইতাছে না। এবার ঋণের টেহা গরু বেইছা দেওন লাগবো। বিএসরাও আহে না। কোম্পানির লোক পাঠাই দিছে। ওরা তো আহেনা।’

বেগুন চাষি খায়রুল বলেন, ‘বাগুন টালের আবাদ আর করন যাবে না। পোহাই সব খাইয়া হেলায়। আমরা অনেক টেহা ধরা খাইছি। আমরা সরকারের কাছে জানাইতেছি, আমগোরে কিছু একটা করুক। গুল বেগুনের চাহিদা বেশি। কিন্তু আমরা কুলেবার পাইতাছি না। পোহা সব শেষ কইরা ফালাইছে।’

শেরপুরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, বেগুন চারা বেড়ে ওঠার সঙ্গে পোকা মারার ‘সেক্স ফেরোমন ফাঁদ’ পাতলে এ আক্রমণ ঠেকানো সম্ভব হতো।

সেক্স ফেরোমন হচ্ছে এক ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থ- যা কোনো প্রজাতির স্ত্রী পোকা কর্তৃক একই প্রজাতির পুরুষ পোকাকে প্রজনন কার্যে আকৃষ্ট করার জন্য প্রাকৃতিকভাবে তৈরি করা হয়। সেক্স ফেরোমনের গন্ধে পুরুষ পোকা আকৃষ্ট হয়ে স্ত্রী পোকার সঙ্গে মিলনের জন্য এসে ফাঁদে পড়ে প্রাণ হারায়।

শফিকুল ইসলাম বলেন, পোকা ছিদ্র করে বেগুনের ভেতর প্রবেশ করলে কীটনাশক দিলেও তখন তেমন কাজ হয় না। চলতি মৌসুমে শেরপুর জেলায় সাড়ে পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে বেগুনের আবাদ করা হয়েছে। এখানে উৎপাদিত বেগুন জেলার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Three crop fields lost in the pond

পুকুরে বিলীন তিন ফসলি জমি

পুকুরে বিলীন তিন ফসলি জমি সিরাজগঞ্জ জেলায় ফসলি জমি কেটে পুকুর তৈরি করছেন অনেকে। ছবি: নিউজবাংলা
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিরাজগঞ্জের উপপরিচালক বাবলু কুমার সূত্রধর বলেন, ‘এই জেলার মতো উর্বর এবং তিন থেকে চার ফসলি জমি দেশের খুব কম এলাকায় আছে। সে কারণে সিরাজগঞ্জ জেলা শস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত। ভবিষ্যতে সেই সুনাম ধরে রাখা সম্ভব হবে না। দেড় দশকে ১ হাজার ৯২০ হেক্টর আবাদি জমি কমেছে।’

মাছ চাষে লাভ বেশি হওয়ায় উত্তরবঙ্গের অন্যতম শস্যভান্ডার সিরাজগঞ্জে ফসলি জমিতে হিড়িক পড়েছে পুকুর কাটার।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, পুকুর কাটায় জেলায় গত দেড় দশকে কমেছে ১ হাজার ৯২০ হেক্টর জমি।

জেলার ৯ উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ধানের আবাদ হয় তাড়াশে। এ উপজেলায় এক্সক্যাভেটর দিয়ে তিন ফসলি উর্বর জমি কেটে পুকুর খনন করার ফলে প্রতি বছর আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে।

সিরাজগঞ্জে বিপুল পরিমাণ ধান, গম, খিড়া, শসা, পাট, বেগুন, ডাল, রসুন, কাঁচামরিচ, আখসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদন হয়, যার উদ্বৃত্ত অংশ দেশের অন্যত্র বিক্রি হয়, কিন্তু দিন দিন কৃষিজমি কমতে থাকলে জেলায় খাদ্য সংকট দেখা দেয়ার শঙ্কা রয়েছে, যার প্রভাব পড়তে পারে সারা দেশে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দেড় দশকে ২ হাজার ৫৩৯টি পুকুর খনন করা হয়েছে। এ সময়ে ১ হাজার ৯২০ হেক্টর আবাদি জমি কমেছে।

পুকুরে বিলীন তিন ফসলি জমি

পুকুর থেকে তোলা মাটি বহনকারী ডাম ট্রাক ও ট্রাক্টর চলাচলের কারণে সড়ক-মহাসড়কেরও ক্ষতি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জেল-জরিমানা করেও পুকুর খনন বন্ধ করা যাচ্ছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে ধানের উৎপাদন কমে আসবে। দ্রুত এর অবসান না হলে জলাবদ্ধতাসহ পরিবেশে বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখে দেবে।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া গ্রামে ফসলি জমিতে পুকুর খনন করছেন হাজি বাবু নামের একজন। ভায়াট গ্রামের আলামিন জমি ইজারা নিয়ে পুকুর খনন করছেন। লালুয়া মাঝিড়া গ্রামের উত্তর মাঠে একটি বড় পুকুর খনন করছেন খোকা নামের এক ব্যক্তি।

রাষ্ট্রীয় দপ্তরের অসৎ কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অধিকাংশ গ্রামে রাতের আঁধারে কৃষিজমির ওপর এমন ধ্বংসযজ্ঞ চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চললেও কৃষিজমিসহ নদী ও খাস জমি দখল করে চলছে পুকুর খনন।

বাঁশবাড়িয়া গ্রামের পুকুর খননকারী হাজি বাবু ও আলামিন জানান, কয়েক বছর ধরে তাড়াশের বিভিন্ন স্থানে পুকুর খনন করা হচ্ছে। তাই তারাও করছেন। সবারটা বন্ধ হলে তারাও আর খনন করবেন না।

কালিদাসনিলি গ্রামের তারিকুল ইসলাম, শাজাহান আলী ও আখতার হোসেন জানান, হাজি বাবু বাঁশবাড়িয়া গ্রামে আবাদযোগ্য ৪৫ থেকে ৫০ বিঘা জমিতে একটি পুকুর খনন করছেন। পুকুরটির খনন শেষ হলে উত্তর ও দক্ষিণের মাঠের পানি নামতে পারবে না। তখন জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেবে।

ট্রাকের মালিকদের কাছ থেকে জানা যায়, প্রতিটি গাড়ি মাটি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায়।

পুকুরে বিলীন তিন ফসলি জমি

কালিদাসনিলি এলাকার জহুরুল ইসলাম নামের এক মাদ্রাসার শিক্ষক বলেন, ‘আমার ১০ কাঠা জমি ছিল। সলঙ্গা থানার কুমার গাইলজানি গ্রামের সাচ্চু নামের একজন মাঠের ১৫ জন কৃষকের জমি ইজারা নিয়েছেন পুকুর খননের জন্য। শেষমেশ আমিও দিতে বাধ্য হই। নয়তো আমার ওইটুকু জমি পুকুরের এক কোনায় পানিতে তলিয়ে থাকত।’

জানতে চাইলে তাড়াশ থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ভূমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা লঙ্ঘন করে পুকুর খনন করার অপরাধে গত ১ মাসে জমির মালিকদের বিরুদ্ধে ২০টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ বাদী হয়ে ৮টি, ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ১০টি এবং সাধারণ কৃষকরা বাদী হয়ে দুটি মামলা করেছে।’

তাড়াশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালিদ হাসান বলেন, ‘পুকুর খননের তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক অভিযান চালানো হচ্ছে। এ পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালতে বেশ কয়েকজনকে জেল ও জরিমানা করা হয়েছে।

‘সগুনা ইউনিয়নের খরখড়িয়া গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠের আবাদযোগ্য উর্বর জমি কেটে পুকুর খনন করার অপরাধে গত ১ জানুয়ারি এক ব্যক্তিকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৩ মাসের জেল দেয়া হয়েছে। নওগাঁ ইউনিয়নের ভায়াট গ্রামে পুকুর খনন করায় সুমন মোল্লা ও সাদ্দাম হোসেনকে এক মাস করে জেল দেয়া হয়েছে। পৌষার গ্রামে পুকুর খনন করার অপরাধে শাজাহান নামের এক ব্যক্তিকে ৬ মাসের জেল দেয়া হয়।’

তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘তাড়াশের বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে বছরে তিন ফসলিসহ বিভিন্ন জাতের ধান ও রবিশস্যের আবাদ হয়। তারপরও কৃষকরা তাদের জমি কেটে পুকুর খনন করছেন। মূলত মধ্যস্বত্বভোগী একটি চক্র কৃষকের সব দায়ভার নিয়ে পুকুর খনন করে দিতে উৎসাহিত করছেন।’

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিরাজগঞ্জের উপপরিচালক বাবলু কুমার সূত্রধর বলেন, ‘এই জেলার মতো উর্বর এবং তিন থেকে চার ফসলি জমি দেশের খুব কম এলাকায় আছে। সে কারণে সিরাজগঞ্জ জেলা শস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত। ভবিষ্যতে সেই সুনাম ধরে রাখা সম্ভব হবে না। দেড় দশকে ১ হাজার ৯২০ হেক্টর আবাদি জমি কমেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ কেন বুঝতে চাচ্ছে না যে, আবাদি জমি কমে গেলে তাদের জীবন সংকটাপন্ন হবে? ফসলি জমিতে পুকুর খনন বা শিল্পায়ন কঠোর হাতে দমন করা হবে।’

আরও পড়ুন:
মাটি ভরাটে বন্ধ সেচযন্ত্র, মুন্সীগঞ্জে ধান চাষ ব্যাহতের শঙ্কা
ভাঙনে যমুনায় মিশছে শাহজাদপুরের একের পর এক গ্রাম
পরিবেশবান্ধব ভার্মি কমপোস্টে বাড়তি আয়
পিতার জমি লিখে নিতে বহিরাগতদের দিয়ে হুমকির অভিযোগ
পাঁচ বছরে ৫০০ কোটি টাকার কৃষিপণ্য রপ্তানির আশা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
157 farmers got loans of more than crore rupees

১৫২ কৃষক পেলেন কোটি টাকার বেশি ঋণ

১৫২ কৃষক পেলেন কোটি টাকার বেশি ঋণ দিনাজপুরে ১৫২ কৃষক পেলেন এক কোটি ১৬ লাখ টাকার ঋণ। ছবি: নিউজবাংলা
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান বলেন, ‘দিনাজপুর একটি কৃষি প্রধান জেলা। এই জেলার বিভিন্ন ধরনের খাদ্যশস্য উৎপাদন করা হয়। পাশাপাশি এই জেলার মাটি ভুট্টা আবাদের জন্য খুবই উপযোগী। তাই এই জেলার কৃষকদের পাশে আমরা দাঁড়িয়েছি।’

দিনাজপুরের খানসামায় ১৫২ জন ভুট্টা চাষিকে প্রায় এক কোটি ১৬ লাখ টাকার ঋণ দিয়েছে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।

এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার গোয়ালডিহি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ভুট্টা চাষি ও কৃষি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে খানসামা উপজেলার ১৫২ জন কৃষকের মাঝে এক কোটি ১৬ লাখ ৭০ হাজার টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান বলেন, ‘দিনাজপুর একটি কৃষি প্রধান জেলা। এই জেলার বিভিন্ন ধরনের খাদ্যশস্য উৎপাদন করা হয়। পাশাপাশি এই জেলার মাটি ভুট্টা আবাদের জন্য খুবই উপযোগী। তাই এই জেলার কৃষকদের পাশে আমরা দাঁড়িয়েছি।

‘ভুট্টা চাষ করার জন্য স্বল্প সুদে কৃষকদের মাঝে ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে আমরা এই এলাকার কৃষকদের মাঝে ঋণ বিতরণ করেছি। ঋণগ্রহিতারা সময়মতো ঋণের টাকা ফেরত দিয়েছে। তাই আমরা এবার আরও বেশি ঋণ প্রদান করছি।’

তিনি জানান, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক গ্রামের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কাজ করছে। ঋণ বিতরণ কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও বাড়ানো হবে।

আরও পড়ুন:
কৃষিকাজের ফাঁকে ইংরেজি চর্চা মুন্ডা সম্প্রদায়ের কৃষকের
নওগাঁয় সেচমূল্য নিয়েও পানি না দেয়ার অভিযোগ কৃষকদের
বিশ্বব্যাংক থেকে ঋণ মিলবে ১১০ কোটি ডলার, ৫ চুক্তি
শেরপুরে অসময়ে তরমুজ চাষ, কৃষকের ভাগ্য বদলের আশা
মহাসড়কে সবজি ঢেলে প্রতিবাদ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The wrath of the miscreant in the banana plantation of three farmers

তিন কৃষকের কলাবাগানে দুর্বৃত্তের কোপ

তিন কৃষকের কলাবাগানে দুর্বৃত্তের কোপ তিন বিঘা জমির কলাগাছ কেটে দেয়ায় কৃষকের মাথায় হাত। ছবি: নিউজবাংলা
গত ২১ জানুয়ারি একই উপজেলার বালিয়াঘাট গ্রামের এক চাষির পাঁচ বিঘা জমির ১৫ শ’ কলার কাঁদি কেটে দিয়েছিল দুর্বৃত্তরা। সে ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক, এমনকি শনাক্তই করতে পারেনি প্রশাসন।

কৃষিনির্ভর মেহেরপুরে প্রতিনিয়তই ঘটে চলেছে ফসল নষ্ট করার ঘটনা। তারই ধারাবাহিকতায় এবার তিন কৃষকের সমন্বিত উদ্যোগে চাষের ১ হাজার কলা গাছ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

শুক্রবার রাতের কোনো এক সময় এ সর্বনাশ করেছে দুর্বৃত্তরা। গাংনী উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ড চরগোয়াল গ্রামে কলা চাষ করেছিলেন সোহাগ সরদার, ইমারুল ও আমজাদ নামের তিন কৃষক।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রশাসন অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে না পারার কারণে অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে বেড়ে চলেছে এ ধরনের ঘটনা।

কৃষি বিভাগের তথ‍্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলাটিতে ২ হাজার ৫১৬ হেক্টর জমিতে কলার আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮২৬ হেক্টর জমি বেশি। এবার কলার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার ৭৩৬ টন, যার আনুমানিক মূল‍্য ২ শ’ কোটি টাকা।

কৃষক ইমারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা তিনজন মিলে লিজ নিয়ে একশ বিঘা জমিতে পার্টনারশিপে কলার আবাদ করি। এই দাগে পাঁচ বিঘা জমিতে কলাগাছ ছিল। কিছুদিন থেকে ফুল আসা শুরু হয়েছে, কিছু কলার কাঁদিও প্রায় পুষ্ট, রমজানে কলাগুলো বিক্রি করা যেত। অথচ গাছগুলো কাল রাতে মাটিতে মিশিয়ে দিয়ে গেল!’

মাসখানেক আগেও পাশের গ্রাম বালিয়াঘাটে সাত বিঘা জমির কলা গাছ দুর্বৃত্তরা কেটে দেয় বলে জানান তিনি।

তিন কৃষকের কলাবাগানে দুর্বৃত্তের কোপ

আমজাদ হোসেন বলেন, ‘এই বাগান ছাড়াও আমাদের আরও প্রায় ৯০ বিঘা জমিতে কলার আবাদ রয়েছে। ওইসব জমির কলা বাগানগুলো নিয়ে এখন খুব দুশ্চিন্তার মধ‍্যে রয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সব জমি এই অঞ্চলের মানুষের কাছ থেকে বছর-চুক্তিতে লিজ নেয়া। তাছাড়া বিভিন্ন ব‍্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে কলার চাষ করেছি। এখন এভাবে যদি দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে আমাদের পথে বসতে হবে। তখন আত্মহত্যা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না।’

কৃষক সোহাগ সরদার বলেন, ‘রাতের অন্ধকারে কলা গাছগুলো কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সকালে মাঠের কৃষকরা কলাখেত বিনষ্টের কথা জানায়।’

তিকনি জানান, দুর্বৃত্তরা এ মাঠের তিন বিঘা জমির কলাখেত কেটে নষ্ট করেছে। এতে অন্তত ১৫ শ’ কলা গাছ নষ্ট হয়েছে বলে দাবি তার।

এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে, সেজন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ওই তিন কৃষকসহ স্থানীয়রা।

ওই এলাকার আরেক চাষি মুন্নাফ আলী বলেন, ‘ভোটের দুই দিন আগে এ মাঠে থাকা আমার কলা গাছ কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনা প্রতি বছরই ঘটছে আমাদের এলাকায়।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাংনী থানার ওসি তাজুল ইসলাম জানান, পুলিশ বিষয়টির খোঁজ খবর নিচ্ছে। যদি কেউ অভিযোগ করে, তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ২১ জানুয়ারি একই উপজেলার বালিয়াঘাট গ্রামের এক চাষির পাঁচ বিঘা জমির ১৫ শ’ কলার কাঁদি কেটে দিয়েছিল দুর্বৃত্তরা। সে ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক, এমনকি শনাক্তই করতে পারেনি প্রশাসন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Research of 300 varieties of pulses of Canada is going on in Pabna

কানাডার ৩০০ জাতের ডালের গবেষণা চলছে পাবনায়

কানাডার ৩০০ জাতের ডালের গবেষণা চলছে পাবনায় ছবি: নিউজবাংলা
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ওয়াহিদা আক্তার বলেন, ‘আমাদের দেশের আবহওয়ার কারণে ডালচাষে রোগ-বালাই ধরে যায়, কিন্তু এই গবেষণার মাধ্যমে উৎপাদিত ডাল একইসঙ্গে উচ্চ ফলনশীল এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন।’

কানাডা থেকে ৩০০ জাতের ডাল এনে সেগুলোর গবেষণা চলছে পাবনার ঈশ্বরদীতে। বাংলাদেশে কানাডা সরকারের সহযোগিতায় এই ডাল ফসলের ওপর গবেষণা কার্যক্রম এবং বিভিন্ন ডাল গবেষণা মাঠ পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডিয়ান হাইকমিশনার ড. লিলি নিকোলস।

বৃহস্পতিবার দুপুরে পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত ডাল গবেষণা কেন্দ্র ও আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে এই কার্যক্রম পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ওয়াহিদা আক্তার।

ড. লিলি নিকোলস পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান পাবনা জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানসহ গবেষণা কেন্দ্রের কর্মকর্তরা। পরে আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের হলরুমে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. দেবাশীষ সরকারের সভাপতিত্বে গবেষণা কার্যক্রমের ওপর বক্তব্য দেন কানাডিয়ান হাইকমিশনার ড. লিলি নিকোলস, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ওয়াহিদা আক্তার, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কৃষি বিজ্ঞানী ডাল ফসলের প্রজননবিদ ড. আশুতোষ সরকার, বাংলাদশে কৃষি গবষেণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার প্রমুখ।

সেখানে গবেষণা কার্যক্রমের ওপর প্রতিবেদন তুলে ধলেন উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শাহিনুজ্জামান।

ডাল গবেষণা কেন্দ্র ও আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আলতাফ হোসেনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় পরিদর্শনকালে পরিদর্শন টিমের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বগুড়া অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক সরকার শফিউদ্দিন আহম্মেদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. জামাল উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুবীর কুমার দাশ, ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শাহিনুজ্জামানসহ বিজ্ঞানী ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ওয়াহিদা আক্তার বলেন, ‘কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আমাদের ডাল নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম চলছে। কানাডা থেকে ৩০০ জাতের ডাল আমরা নিয়ে এসে এখানে গবেষণা কার্যক্রম করছি। আমরা দেশের তিনটি স্থানে এটির কার্যক্রম চলছে। এগুলো দেখতেই কানাডিয়ান হাইকমিশনার এখানে এসেছেন।

‘আমাদের দেশের আবহওয়ার কারণে ডালচাষে রোগ-বালাই ধরে যায়, কিন্তু এই গবেষণার মাধ্যমে উৎপাদিত ডাল একইসঙ্গে উচ্চ ফলনশীল এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন।’

গবেষণা মাঠ পরিদর্শনকালে বাংলাদেশের সঙ্গে ডাল নিয়ে চলা গবেষণা কার্যক্রম এগিয়ে নেয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন কানাডিয়ান হাইকমিশনার ড. লিলি নিকোলস।

মন্তব্য

p
উপরে