× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Age consideration should be stopped in university admissions Education Minister
hear-news
player
google_news print-icon

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে বন্ধ হোক বয়স বিবেচনা: শিক্ষামন্ত্রী

বিশ্ববিদ্যালয়ে-ভর্তিতে-বন্ধ-হোক-বয়স-বিবেচনা-শিক্ষামন্ত্রী
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের অনুষ্ঠানে ডা. দীপু মনি। ছবি: নিউজবাংলা
যেকোনো সময় যেকোনো মানুষ জ্ঞান অর্জনের জন্য ভর্তি হতে পারে। যেকোনো সময় যেকোন মানুষের শিক্ষার অধিকার আছে। তার বয়স বিবেচনা করে পরীক্ষার মাধ্যমে তাকে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কৃপণতা থেকে সরে আসতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে বয়স বিবেচনা বন্ধ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তবুদ্ধিচর্চার কেন্দ্র। আমাদের এত প্রতিবন্ধকতা কেন? একবারের বেশি ভর্তি পরীক্ষা দেয়া যাবে না, দুই বারের বেশি দেয়া যাবে না, নির্দিষ্ট বয়সের পরে আসা যাবে না, পড়াশোনার মধ্যে গ্যাপ থাকলে ভর্তি হওয়া যাবেনা- বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে এসব দেয়ালগুলো তুলে দিতে হবে।

শুক্রবার দুপুরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ডা. দীপু মনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষা তো হবে জীবনব্যাপী। শিক্ষার মধ্যে দেয়াল তোলা হচ্ছে কেন? যেকোন সময় যেকোন মানুষ জ্ঞান অর্জনের জন্য ভর্তি হতে পারে। যেকোন সময় যেকোন মানুষের শিক্ষার অধিকার আছে। তার বয়স বিবেচনা করে পরীক্ষার মাধ্যমে তাকে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কৃপণতা থেকে সরে আসতে হবে।’

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পাচঁ-ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া আমাদের দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির ক্ষেত্রে গুচ্ছ পদ্ধতিতে এসেছে। শিক্ষার্থী-অবিভাবকদের অর্থ সাশ্রয় ও হয়রানি কমানোর জন্য এটি প্রয়োজন। আমরাই তো সারাক্ষণ পাশ্চাত্যের বিভিন্ন দেশের দিকে তাকিয়ে থাকি। তারা যদি একটা পরীক্ষা দিয়ে হার্ভাডে, এমআইটিতে বা কমিউনিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে, তাহলে আমাদের গুচ্ছ পরীক্ষার মান নিয়ে এতো প্রশ্ন কেন?

এ সময় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নুরুল আলম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) শেখ মনজুরুল হক, গাণিতিক ও পদার্থ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ফরিদ আহমদ, বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক তাহমিনা ফেরদৌস, অধ্যাপক এ এ মামুন।

আরও পড়ুন:
গুচ্ছে ভর্তির আবেদন ১৭-২৭ অক্টোবর
গুচ্ছের ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষা শনিবার
গুচ্ছের ‘বি’ ইউনিটে সেরা দিগন্ত, আগ্রহ অর্থনীতিতে
গুচ্ছের ‘এ’ ইউনিটে পাস ৫৫.৬৩%
গুচ্ছের ‘এ’ ইউনিটের প্রশ্ন নিয়ে নানা ‘প্রশ্ন’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
How are visually impaired students studying?

কীভাবে পড়াশোনা করছেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা

কীভাবে পড়াশোনা করছেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের শিক্ষালাভ ও পরীক্ষা দিতে স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে ব্রেইল ব্যবস্থা উন্নত করতে কিছু কাজ হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ফাইল ছবি
শনিবার আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস। দেশে এটি পালিত হচ্ছে জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস হিসেবে। বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের শিক্ষালাভ ও পরীক্ষা দেয়া এখনও স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর নির্ভরশীল। ব্রেইল ব্যবস্থাকে উন্নত করতে কিছু কাজ হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

দেশের ২ দশমিক ৮০ শতাংশ মানুষ শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধি। এদের মধ্যে নারীর তুলনায় পুরুষের সংখ্যা বেশি। আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে বিশ্বের মোট জনগোষ্ঠীর শতকরা ১৫ শতাংশ কোনো না কোনোভাবে প্রতিবন্ধী।

দেশে সরকারি সংজ্ঞা অনুযায়ী অন্তত একটি প্রতিবন্ধিতা রয়েছে এমন ব্যক্তিকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বলা হয়। শনিবার সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস। একই সাথে দেশেও এই দিনে জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস পালন করা হয়। এ বছর এই দিবসটি হবে আন্তর্জাতিকভাবে ৩১তম ও জাতীয়ভাবে ২৪তম।

এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘অন্তরভূর্ক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য পরিবর্তনমুখী পদক্ষেপ, প্রবেশগম্য ও সমতাভিত্তিক বিশ্ব বিনির্মাণে উদ্ভাবনের ভূমিকা।’

পূর্ণ পরিসংখ্যান না থাকলেও বেসরকারি হিসেবে বাংলাদেশে প্রতিবন্ধীদের সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি বলে ধারণা করা হয়। দেশটিতে এই বিপুল পরিমাণ প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশই শিক্ষার সুযোগ পায় না। আর উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এই সংখ্যা খুবই নগণ্য।

সরকারি তথ্য অনুযায়ি, দেশে ১২ ধরনের প্রতিবন্ধিতার শিকার ব্যক্তির সংখ্যা ২১ লাখ ৭৭ হাজার ৯৮১ জন। এর মধ্যে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি ৩ লাখ ৬৪৯ জন। বিবিএসের জরিপের তথ্যমতে দেশে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যা মোট প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যার শূন্য দশমিক ৩৯ শতাংশ।

কীভাবে পড়াশোনা করছেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের বি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী। ফাইল ছবি

বাংলাদেশে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পড়াশোনার একমাত্র সহায়ক হচ্ছে ব্রেইল পদ্ধতি। মূলত কাগজের ওপর ছয়টি বিন্দুকে ফুটিয়ে তুলে লিখবার একটি পদ্ধতি। দৃষ্টিহীন ব্যক্তিরা এই উন্নীত বা উত্তল বিন্দুগুলোর ওপর আঙ্গুল বুলিয়ে ছয়টি বিন্দুর নকশা অনুযায়ী কোনটি কোন অক্ষর তা অনুধাবন করতে সক্ষম হন এবং লেখার অর্থ বুঝতে পারেন।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা বলছেন, ডিজিটাল সুবিধা অনেক বাড়লেও দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতির কোনো বিকল্প নেই। ব্রেইল পদ্ধতির নানা উপকরণ আরও সহজলভ্য হলে তাদের জন্য শিক্ষাগ্রহণ আরও সুবিধার হবে।

কীভাবে চলছে পড়াশোনা ও পরীক্ষা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ৭১ জন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে ৩১ জন রয়েছেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। ভলান্টিয়ার শিক্ষার্থীরা এখানে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের শিখন কাজে সাহায্য করা হয়ে থাকে।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সংগঠন ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন বা পিডিএফ-এর সভাপতি তানভীর আহমেদ তন্ময় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্রেইল পদ্ধতিতে কিছু সমস্যা আছে, তাই বিশ্ববিদ্যালয় ডিজিটাল পদ্ধতির কথা ভাবছে। আমরা কয়েকবার এই বিষয়ে উপাচার্যের সাথে কথাও বলেছি। আমাদেরকে এই বিষয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছে।’

ঢাকার অদূরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান সকল শিক্ষাবর্ষে সব মিলিয়ে শারিরীক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭৫ জন। এর মধ্যে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী রয়েছেন ৩৪ জন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করা পিডিএফ জানাচ্ছে, আবাসিক এই বিশ্ববিদ্যালয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য এখনও কোনো কারিকুলাম তৈরি হয়নি। এমনকি তাদের শিক্ষার জন্য অপরিহার্য ব্রেইল পদ্ধতিও নেই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে। শিক্ষার্থীরা শ্রুতিলেখকের সহায়তা নিয়ে বিভিন্ন একাডেমিক পরীক্ষায় অংশ নেন।

সংগঠনের সভাপতি ৪৭তম আবর্তনের শিক্ষার্থী আব্দুল গাফফার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের এখানে আমাদের সংগঠন থেকেই এই ৩৪ জনকে পড়াশোনা করার জন্য সাহায্য করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এখনও তাদের জন্য কোনো বিশেষ সুবিধা চালু হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘ক্লাসের সব লেকচার রেকর্ড করে দেওয়া হয় তাদের। এরপর যখন পরীক্ষা শুরু হয়, তখন আমাদের একজন ভলান্টিয়ার তাদের পরীক্ষা দেওয়ার জন্য রেডি থাকেন। তবে এটা খুবই উদ্বেগজনক হয়ে পড়ে যখন আমাদের কোনো ভলান্টিয়ারের নিজের পরীক্ষা থাকে। তখন তিনি হয়ত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে সাহায্য করতে পারেন না।’

গাফফার বলেন, ‘আমরা অনেক দিন ধরেই তাদের পরিপূর্ণ কারিকুলামের জন্য আন্দোলন করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে একটা ডিজ্যাবিলিটি কর্নার করা হবে। দুই মাস আগেও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) একটা সভায় আমরা কারিকুলামের কথা বলেছি। ইউজিসি জানত না এত শিক্ষার্থী (দৃষ্টি প্রতিবন্ধী) পড়াশোনা করছে। তারা কারিকুলামের জন্য উদ্যোগ নিবে এমন আশ্বাস দিয়েছেন।’

শুধু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দেশের কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা করে কোনো সুযোগ চালু হয়নি।

সারা দেশে কী অবস্থা

মৌলভীবাজারের সমন্বিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষা কার্যক্রম এর রিসোর্স শিক্ষক স্বপন চন্দ্র কর্মকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি নিজেও দৃষ্টিহীন। আর আমাদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতি ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই।’

তিনি বলনে, ‘একজন শিশু যদি জন্মগতভাবেই দৃষ্টিহীন হয়ে থাকে, তবে তার শিক্ষার একমাত্র উপায় ব্রেইল। আগে আমাদের বইপত্র নিয়ে সমস্যা হলেও এখন চাহিদা অনুযায়ী জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) থেকে ব্রেইল বইপত্র সরবরাহ করা হচ্ছে।’

তবে ব্রেইল লেখার সামগ্রী পাচ্ছেন না বলে জানান স্বপন চন্দ্র। তিনি বলেন, ‘লেখার জন্য রাইটিং ফ্রেইম, বোর্ড এইগুলো পাচ্ছি না ঠিকমত।’

দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরা হাতের সাহায্য ছাড়া পড়তে পারবে না। তাই ছোটবেলা থেকেই তাদের ব্রেইল পদ্ধতির সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। একটা সময় পর্যন্ত ব্রেইল পদ্ধতিতে শিক্ষাগ্রহণ করলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর সঠিক কারিকুলাম বা ব্রেইল সরঞ্জাম পান না তারা। এ ক্ষেত্রে নিহে হয় শ্রুতি লেখকের সাহায্য।

দৃষ্টিহীন এই শিক্ষক বলেন, ‘ব্রেইল পদ্ধতি থাকলে উচ্চশিক্ষার জন্য অবশ্যই ভালো হবে। তবে শ্রতিলেখকও লাগবে।’

তিনি বলেন, ‘স্কুলে টেস্ট বা নির্বাচনি পরীক্ষা পর্যন্ত ব্রেইল পদ্ধতি থাকছে। কিন্তু যখন পাবলিক পরীক্ষা দিচ্ছে, তখন তো খাতা আমার এখানে থাকবে না। বোর্ডে তো ব্রেইলের প্রতিকার নেই। তার জন্য শ্রুতিলেখকের সাহায্য লাগবেই।’

প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য প্রাথমিকের শিক্ষা সহজতর হলেও উচ্চ পর্যায়ের শিক্ষা কঠিন হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের অধিকাংশ স্কুলই শুধুমাত্র প্রাথমিক পর্যায়ে। মাধ্যমিকে এই শিক্ষার্থীদের জন্য মূলধারার প্রতিষ্ঠান ছাড়া বিকল্প নেই। আবার থাকলেও নেই উপযুক্ত শিক্ষা উপকরণ।

২০২১ শিক্ষাবর্ষে প্রথম থেকে নবম শ্রেণির ৯ হাজার ১৯৬ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য সরকার ব্রেইল পদ্ধতির বই ছেপেছে।

সফটওয়্যার ও শ্রুতিলেখক প্যানেল

গত আগস্টে দৃষ্টিহীনদের হাতে লেখা ব্রেইল লিপি বাংলায় রূপান্তর করার একটি সফটওয়্যারের প্রোটোটাইপ তৈরি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষক দল। প্রাথমিকভাবে এ সফটওয়্যারে ৯৭ শতাংশ নির্ভুল ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন গবেষকেরা।

এই গবেষণায় যুক্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক আহমেদুল কবীর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমদের বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী আছেন, তাদের কথা ভেবেই আমরা এই সফটওয়্যার তৈরি করেছি।’

তিনি বলেন, ‘সাধারণত মাধ্যমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের পড়াশোনায় ব্রেইল থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে সেটি নেই। তারা ব্রেইলে যদি লিখেও থাকেন, সেটি পড়ার সক্ষমতা নেই। আমরা যে সফটওয়্যার বানিয়েছি, সেটি ব্রেইল লেখাকে বাংলায় রূপান্তর করতে পারবে। এটার মোবাইল স্ক্যান পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা চলছে।’

আহমেদুল কবীর বলেন, ‘ব্রেইলে লেখা কাগজ স্ক্যান করে সেটা সফটওয়্যারের মাধ্যমে দিলে ৯৭ ভাগ নির্ভুল এডিট করা যাবে এমন ওয়ার্ড ফাইল বা পিডিএফ লেখা আসবে। নেক্সট সেমিস্টারে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাহায্যে একটা পরীক্ষা নেওয়া হবে। সেখানে আমরা আরও কিছু বিষয় পর্যবেক্ষণ করব।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তারিক আহসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি যখন বুঝব আমার এখানে এই ধরনের শিক্ষার্থী আছেন, তখন আমি পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তনের কথা ভাবতে পারি। শুধু লিখে পরীক্ষা দেওয়ার বাইরেও অন্য কিছু পদ্ধতি যোগ করলে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের সুবিধা হবে।’

এই অধ্যাপক শ্রুতি লেখকের উপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, ‘যদি এমন কোনো উপায় থাকে যে লিখতেই হবে, সে ক্ষেত্রে শ্রুতি লেখকের জন্য একটা প্যানেল করা উচিত। এই প্যানেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তৈরি করবে। এটা অবশ্যই একটা রি-এনফোর্সমেন্ট ভিত্তিতে হতে হবে। যারা এখানে কাজ করবে, তাদের একটা সার্টিফিকেট দিতে হবে। অথবা সময় দেওয়ার জন্য সম্মানী দিতে হবে। যখন কোনো দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়কে তার পরীক্ষার সময় জানাবে, তখন বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সেই সহযোগিতা দেবে।’

শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের এই অধ্যাপক ব্রেইল পদ্ধতিরও উন্নতির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমাদের গ্রন্থাগারে ব্রেইল প্রিন্টার আছে, কিন্তু সেটা সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। কারণ অনেকেই জানেন না এটা কীভাবে কাজ করে। সেখানে অভিজ্ঞ লোক নিয়োগ দিতে হবে। তাতে উচ্চশিক্ষার পথ সুগম হবে।’

আরও পড়ুন:
প্রধান শিক্ষককে ছোড়া বল্লমে ছাত্রের মৃত্যুতে দুই মামলা
প্রধান শিক্ষককে ছোড়া বল্লমে প্রাণ গেল ছাত্রের
লেখাপড়ার চাপে বেড়েছে আত্মহত্যার প্রবণতা
যৌন হয়রানির অভিযোগে শাবির ৭ ছাত্রকে বহিষ্কার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Another girls body hanging in the washroom of the madrasa after a month and a half

মাদ্রাসার শৌচাগারে দেড় মাসের ব্যবধানে আরেক মেয়ের ঝুলন্ত দেহ

মাদ্রাসার শৌচাগারে দেড় মাসের ব্যবধানে আরেক মেয়ের ঝুলন্ত দেহ
দুই ছাত্রীর মরদেহ একইভাবে মাদ্রাসায় পাওয়া যাওয়ার বিষয়টি দুর্ঘটনা বলেই জানালেন মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সামছুল আলম বকুল। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দায় কতটুকু জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনা ঘটে গেছে, আমরা বুঝতে পারিনি।’

নরসিংদীর মাধবদীতে একই মাদ্রাসার শৌচাগারে দেড় মাসের ব্যবধানে দুই ছাত্রীর মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। দুটি ঘটনাকেই মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আত্মহত্যা বলে জানিয়েছে। তবে সবশেষ ঘটনাটিকে মৃত শিশুর পরিবার হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করেছে।

মেহেরপাড়া ইউনিয়নের শেখেরচরে কুঁড়েরপাড় জামিয়া ক্বওমিয়া মহিলা মাদ্রাসায় এই দুটি ঘটনা ঘটেছে। সেখানকার শৌচাগারে বৃহস্পতিবার বিকেলে পাওয়া যায় ১০ বছরের মাইশা আক্তারের ঝুলন্ত দেহ। এর আগে গত ১৯ অক্টোবর এই মাদ্রাসার শৌচাগারে পাওয়া যায় ১৪ বছর বয়সি আফরিন আক্তারের ঝুলন্ত দেহ।

মাধবদী থানার ওসি মো. রকিবুজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মৃত মাইশার বাড়ি মাধবদীর মেহেরপাড়া ইউনিয়নের ভগীরথপুর গ্রামে। তার মৃত্যুর বিষয়টি জানাজানি হয়েছে শুক্রবার। এদিন সন্ধ্যায় তাকে হত্যা করা হয়েছে জানিয়ে বিচারের দাবিতে এলাকাবাসি বিক্ষোভ মিছিল করেছে। বিচারের পাশাপাশি মাদ্রাসাটি বন্ধের দাবিও তুলেছেন তারা।

আরও পড়ুন: মেয়েকে জোর করে মাদ্রাসায় পাঠালেন বাবা, পেলেন মৃতদেহ


মাদ্রাসার মুহতামীম মুফতি আসানউল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আসরের নামাজের সময় ছাত্রীরা এস্তেঞ্জা করতে গিয়ে মাইশাকে শৌচাগারের পানির পাইপের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে হুজুর ও খাদেমকে জানায়। শিক্ষকদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আমিই মাইশাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেই। ডাক্তার তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

‘লাশের ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার বাদ আসর ভগীরথীপুর কবরস্থানে মাইশার দাফন হয়।’

মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সামছুল আলম বকুল নিউজবাংলাকে জানান, ‘আমি শেখেরচর হাটে ছিলাম। শিক্ষকরা আমাকে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে হাসপাতাল মেয়েটিকে মৃত ঘোষণা করে। তবে ঘটনাটি কীভাবে ঘটলো, আমি বলতে পারছি না।

‘মেয়েটা আত্মহত্যা করেছে বলেই শুনেছি, মাদ্রাসার শিক্ষকরা বলেছেন।’

শিশু মাইশার চাচা মাওলানা মোছলেহ উদ্দিন নিউজবাংলাকে জানান, ‘মাইশার বাবা নেছারউদ্দিন সকালে মেয়েকে মাদ্রাসায় গিয়ে নাস্তা করিয়ে রেখে আসে। পরে দুপুরে পারিবারিক একটি দাওয়াতে মাইশার পরিবারসহ আমরা আত্মীয়ের বাড়িতে যাই।

‘বিকেল ৪টার দিকে মাদ্রাসার হুজুরদের ফোন থেকে কল করে জানানো হয় আপনাদর মেয়ে অসুস্থ। তাকে আমরা নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে আসছি, আপনারা আসেন। সবাই গিয়ে দেখতে পায় মাইশা মৃত। ডাক্তার জানায় মাইশাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।’

মাদ্রাসার শৌচাগারে দেড় মাসের ব্যবধানে আরেক মেয়ের ঝুলন্ত দেহ

শিশুর ফুপা আইনুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মাইশার শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম দেখতে পাই। দেখেই বুঝা যায় এটা একটা হত্যা। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’

মাইশার মায়ের অভিযোগ, মাদ্রাসার শিক্ষকরা এতে জড়িত; তাদের মেয়েকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

ঘটনাস্থল বৃহস্পতিবার রাতেই পরিদর্শন করেছেন নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ ও মাধবদী থানার ওসি।

শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মাইশার পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত কোনো অভিযোগ আসেনি জানিয়ে ওসি বলেন, ‘মৃত্যুর কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’

দুই ছাত্রীর মরদেহ একইভাবে মাদ্রাসায় পাওয়া যাওয়ার বিষয়টি দুর্ঘটনা বলেই জানালেন মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সামছুল আলম বকুল। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দায় কতটুকু জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনা ঘটে গেছে, আমরা বুঝতে পারিনি।’

মাদ্রাসার শৌচাগারে দেড় মাসের ব্যবধানে আরেক মেয়ের ঝুলন্ত দেহ

দেড় মাস আগে মৃত আফরিনের বাড়ি সদর উপজেলার মাধবদী থানার দড়িগাজীরগাঁও এলাকায়। সে ওই মাদ্রাসায় ফাজিল প্রথম বর্ষে পড়ত। তার বাবার নাম ডালিম মিয়া।

মাদ্রাসার শিক্ষক মো. আসানউল্লাহ সে সময় নিউজবাংলাকে জানান, সেদিন সকাল ৮টার কিছু আগে আফরিনকে নিয়ে আসেন তার বাবা ডালিম। আফরিন মাদ্রাসার গেট দিয়ে ঢুকতে চাচ্ছিল না। তাকে জোর করে ভেতরের দিকে ঠেলে দিতে দেখা যায় ডালিমকে।

মাদ্রাসার গেটম্যান ইদ্রিস আলী সে সময় নিউজবাংলাকে বলেন, “বাড়ি থেকে নির্যাতন করে ওই ছাত্রীকে মাদ্রাসায় নিয়ে এসেছিলেন বাবা। এ সময় আফরিন বলছিল, ‘আমি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করব না, বেশি জোর করলে ফাঁস লাগিয়ে মারা যাব।’

“তখন আমার সামনেই তার বাবা বলছিল, ‘মরলে মাদ্রাসার ভেতরেই মর, আমি এসে মরদেহ নিয়ে যাব।’ এর আগেও অনেকবার জোর করে মেয়েকে এখানে দিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।”

শিক্ষক আসানউল্লাহ ও আফরিনের সহপাঠীরা জানায়, মাদ্রাসায় এসে সকালে যথারীতি ক্লাস করছিল আফরিন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চারতলার শৌচাগারে যায় সে। এরপর আর ক্লাসে ফিরে না আসায় কয়েকজন ছাত্রী তাকে খুঁজতে যায়।

তারা শৌচাগারে আফরিনকে দেয়ালের পাইপের সঙ্গে নিজের ওড়নায় ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। মাদ্রাসার শিক্ষকরা গিয়ে তাকে নামিয়ে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

আফরিনের মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে অগ্রগতি আছে কি না জানতে ওসিকে কল করা হলে ‘মিটিংয়ে আছি’ বলে কল কেটে দেন তিনি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কে. এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ নিউজবাংলাকে জানান, ওই ঘটনায় আফরিনের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যুর অভিযোগ করা হয়েছিল। তবে আত্মহত্যার কারণ তিনি সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে পারেননি।

আরও পড়ুন:
শিশু পর্নোগ্রাফি: গুগলের তথ্যে ধরা বরগুনার মাদ্রাসাছাত্র
যুবকের ঝুলন্ত মৃতদেহ, হারপিক পান তরুণীর
ডেমরায় কিশোরীর ঝুলন্ত দেহ
শিশুকে মাদ্রাসার ভেতরে ধর্ষণ, নিরাপত্তাকর্মী গ্রেপ্তার
মা-মেয়ের আত্মহত্যাচেষ্টা: অভিযুক্ত আ.লীগ নেতা কারাগারে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
11th admission application through digital system started on December 8

ডিজিটাল পদ্ধতিতে একাদশে ভর্তি, আবেদন শুরু ৮ ডিসেম্বর

ডিজিটাল পদ্ধতিতে একাদশে ভর্তি, আবেদন শুরু ৮ ডিসেম্বর ২৮ নভেম্বর চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুলের শিক্ষার্থীরাও আনন্দ-উচ্ছ্বাস মেতে ওঠে। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি তপন কুমার সরকার বলেন, ‘আগামী ৮ ডিসেম্বর থেকে একাদশে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হবে, যা চলবে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। শিক্ষার্থীরা সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম দিয়ে আবেদন করতে পারবে।’

উচ্চ মাধ্যমিক বা একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের ভর্তির অনলাইনে আবেদন শুরু হবে আগামী ৮ ডিসেম্বর, যা চলবে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এ বছর আবেদন করতে হবে আগের বছরের মতো ডিজিটাল পদ্ধতিতে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি তপন কুমার সরকার এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘আগামী ৮ ডিসেম্বর থেকে একাদশে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হবে, যা চলবে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। শিক্ষার্থীরা সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম দিয়ে আবেদন করতে পারবে।’

তপন কুমার সরকার বলেন, ‘বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত একাদশে ভর্তিবিষয়ক এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।’

এর আগে গত সোমবার ফল প্রকাশের দিন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানিয়েছিলেন, উচ্চ মাধ্যমিকের ভর্তি যে পদ্ধতিতে হয়, এবারও সেই একই পদ্ধতিতে হবে। কোনো ব্যত্যয় হবে না।

এ বছর ৯টি শিক্ষা বোর্ড এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মাধ্যমিক ও সমমানের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৯ লাখ ৯৪ হাজার ১৩৭ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ১৭ লাখ ৪৩ হাজার ৬১৯ জন পাস করেছে। তবে সরকারি ও বেসরকারি কলেজ মিলিয়ে ২৫ লাখের মতো শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ রয়েছে একাদশ শ্রেণিতে।

গত ২৮ নভেম্বর চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ করা হয়। পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৮৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ, যা আগের বছর ছিল ৯৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

এবার সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৮৮ দশমিক ১০ শতাংশ। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৮২ দশমিক ২২ শতাংশ আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৮৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
এসএসসিতে এক লাখ বেশি ফেলের পেছনে কী কারণ
পা দিয়ে লিখে জিপিএ ফাইভ পেল মানিক
উপযুক্ত শিক্ষকের অভাব আছে: শিক্ষামন্ত্রী
৪৫ বছরে এসএসসি দিয়ে পেলেন জিপিএ ফাইভ
বাবার মরদেহ রেখে পরীক্ষা দেয়া সুমাইয়া পেল জিপিএ ফাইভ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The spirit of liberation war must be spread to build a prosperous country DU Vice Chancellor

সমৃদ্ধ দেশ গড়তে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিতে হবে: ঢাবি উপাচার্য

সমৃদ্ধ দেশ গড়তে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিতে হবে: ঢাবি উপাচার্য মহান বিজয় দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিজয় শোভাযাত্রা বের হয়। ছবি: নিউজবাংলা
‘মহান বিজয়ের মাস গৌরবের মাস। উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক মূল্যবোধের চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে সর্বদা জাগ্রত রাখতে হবে।’

উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থীসহ সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার মহান বিজয় দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে বিজয় শোভাযাত্রা শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা চত্বরে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এই আহ্বান জানান।

উপাচার্য বলেন, ‘মহান বিজয়ের মাস গৌরবের মাস। উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক মূল্যবোধের চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। এই চেতনা তাদের মধ্যে সর্বদা জাগ্রত রাখতে হবে।’

বক্তব্যের শুরুতে উপাচার্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী শহীদ, মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিত মা-বোনসহ দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু-কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে।’

অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে বেলুন উড়িয়ে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন উপাচার্য। সেটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংগীত ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন।

শোভাযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য, রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হলের প্রাধ্যক্ষ, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভাগীয় প্রধান, প্রক্টর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির প্রতিনিধি ও শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

আরও পড়ুন:
সমাবর্তনে ভুল: বিদেশিদের কাছে সম্মানহানির শঙ্কায় ঢাবি উপাচার্য
ঢাবিতে ঢুকলে জাবি অধ্যাপককে জীবন বিপন্নের হুমকি
৫২ ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীরা মুক্ত করল ভাসানীর অবরুদ্ধ ভিসিকে
গবেষণার কল্যাণে দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ : শিল্পমন্ত্রী
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকাশনা মেলা ২২-২৩ অক্টোবর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
New alliance of left 8 student organizations to oust the government

সরকার উচ্ছেদে বাম ৮ ছাত্র সংগঠনের নতুন জোট

সরকার উচ্ছেদে বাম ৮ ছাত্র সংগঠনের নতুন জোট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে বাম ৮ ছাত্র সংগঠনের নতুন জোট গঠনের ঘোষণা দেয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা
‘গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট’ভুক্ত সংগঠনগুলো হলো- সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলন।

আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার উচ্ছেদ করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন জোট গঠন করেছে বামপন্থী আট ছাত্র সংগঠন। নতুন এই জোটের নাম দেয়া হয়েছে ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট’।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে নতুন এই জোট গঠনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

জোটভুক্ত সংগঠনগুলো হলো- সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলন।

নতুন এই জোটের সমন্বয়ক এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের (মার্কসবাদী) সভাপতি সালমান সিদ্দিকী সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

সালমান বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ গভীর সংকটময় সময় পার করছে। ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচন এবং ২০১৮ সালের ভোট ডাকাতির মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন রয়েছে আওয়ামী লীগ। বুর্জোয়া সংসদীয় ব্যবস্থার কবর রচনা করে মানুষের ন্যূনতম গণতান্ত্রিক অধিকার ভোট দেয়ার ক্ষমতাটুকুও কেড়ে নিয়েছে তারা।

‘বর্তমান সরকার দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে শোষণ, লুণ্ঠন, অর্থপাচার, দুর্নীতির মাধ্যমে দেশে এক দুর্বৃত্ত শ্রেণীর রাজত্ব কায়েম করেছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ নানা কালাকানুন দিয়ে স্বাধীন মতপ্রকাশে বাধা ও বিরোধী মত দমন করছে।’

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘সরকার গণতান্ত্রিক আন্দোলনে পুলিশি আক্রমণ, মিছিলে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যাসহ গুম-খুনের মাধ্যমে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন দীর্ঘায়িত করে চলেছে। জনগণের মতামতের তোয়াক্কা না করে প্রতিনিয়ত বাড়াচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম।

‘আওয়ামী উন্নয়নের স্লোগান পরিণত হয়েছে ফাঁপা বুলিতে। আওয়ামী শাসনের ১৪ বছরে গ্যাসের দাম বেড়েছে আড়াই গুণ, বিদ্যুতের দাম বেড়েছে দুই গুণ, ৭ বার বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম, ওয়াসার পানির দাম বেড়েছে ১৩ বার, বেড়েছে সারের দাম। সাম্প্রতিক সময়ে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ২০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে এবং গ্রাহক পর্যায়েও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

‘নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। মানুষের আয় বাড়েনি কিন্তু ব্যয় বাড়ছে প্রতিনিয়ত। বিশ্ব খাদ্য সংস্থার রিপোর্টে এসেছে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে খাদ্য ব্যয় কমাতে বাধ্য হয়েছে প্রায় ৭৩ ভাগ মানুষ আর প্রতিরাতে না খেয়ে ঘুমাতে যায় প্রায় ৫ কোটি মানুষ। ‘দেশে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা একদলীয় ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনে জনজীবনে নেমে এসেছে সীমাহীন দুর্ভোগ। তৈরি হয়েছে এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি।’

সালমান সিদ্দিকী বলেন, ‘উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে ছাত্র সমাজসহ আপামর জনগণ মুক্তি চাইছে। দেশের যেকোনো দুঃসময়ে এদেশের ছাত্র সমাজ কখনো চুপ থাকেনি। আমরা মনে করি এই ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ছাত্র আন্দোলন গড়ে তোলা সময়ের কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

‘এই অনুধাবন থেকেই আমরা ৮টি ছাত্র সংগঠন সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান থেকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলা এবং পরিচালনার জন্য একত্রিত হয়েছি। আমরা ফ্যাসিবাদী এই সরকারকে জনগণের আন্দোলনের মাধ্যমে উচ্ছেদ করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

সংবাদ সম্মেলনে জোটের পক্ষ থেকে ১৩ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো- আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের পদত্যাগ; সার্বজনীন, বৈষম্যহীন, বিজ্ঞানভিত্তিক, গণতান্ত্রিক একই ধারার শিক্ষানীতি প্রণয়ন; শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করে গণরুম-গেস্টরুম বন্ধ করা, ডাকসুসহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা।

নবগঠিত জোটের দাবিগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে- পদাধিকারবলে রাষ্ট্রীয় প্রধান আচার্য এই বিধান বাতিল করে বরেণ্য ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য শিক্ষাবিদকে আচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়া; শিক্ষা খাতে জাতীয় বাজেটের ২৫ শতাংশ বরাদ্দ করা; ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ওটিটি নিয়ন্ত্রণ নীতিমালাসহ সব গণবিরোধী ও অগণতান্ত্রিক আইন বাতিল করা; দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় বাণিজ্য চালু করা; শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি ও কৃষকের উৎপাদিত ফসলের লাভজনক মূল্য নিশ্চিত করা; নারী স্বার্থবিরোধী আইন বাতিল করা এবং ঘরে-বাইরে নারী নির্যাতন বন্ধ করা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এসব দাবি দাবিতে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের পক্ষ থেকে ১৮ ডিসেম্বর সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ছাত্র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

আরও পড়ুন:
ঢাবিতে ঢুকলে জাবি অধ্যাপককে জীবন বিপন্নের হুমকি
আইএমএফের ঋণ নেয়ার কৈফিয়ত দিতে হবে: বাম জোট
গবেষণার কল্যাণে দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ : শিল্পমন্ত্রী
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকাশনা মেলা ২২-২৩ অক্টোবর
ঢাবির হল প্রাধ্যক্ষকে ‘মৃত’ ঘোষণা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Kubi Teachers Associations Vote Pand to Occupy the Centre

কেন্দ্র দখল, কুবি শিক্ষক সমিতির ভোট পণ্ড

কেন্দ্র দখল, কুবি শিক্ষক সমিতির ভোট পণ্ড কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচন এক পক্ষের শিক্ষকদের বাধায় পণ্ড হয়ে গেছে। ছবি: নিউজবাংলা
শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি ও নীল দলের সদস্য প্রফেসর ড. আবু তাহের বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন গঠনতন্ত্র মোতাবেক তফসিল ঘোষণা করে। একটা পক্ষ তখন নির্বাচন করার ঘোষণা দেয়নি। আমরা ভোট দিতে এসে দেখি তারা কেন্দ্র দখল করে বসে আছে। তারা নির্বাচন বানচাল করতে চায়।’

ভোটকেন্দ্র দখল করে এক পক্ষের শিক্ষকদের বাধায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শিক্ষক সমিতির নির্বাচন পণ্ড হয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরুর কথা ছিল। এ সময় এক পক্ষের শিক্ষকরা ভোটকেন্দ্র দখল করে নির্বাচন কমিশনকে ভোট গ্রহণ শুরু করতে দেননি।

সকাল ৯টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের সামনে গিয়ে দেখা যায় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে একটি গ্রুপের শিক্ষকদের বাগবিতণ্ডা চলছে। এ নিয়ে উত্তেজনাকর পরিবেশ তৈরি হয়।

নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু পরিষদের একাংশের সাইদুল আল আমিন ও মো. মুর্শেদ রায়হানের অংশটি নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। অন্যদিকের কাজী ওমর সিদ্দিকী ও কাজী জাহিদ হাসানের পক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন ও ভোটের তারিখের বিরোধিতা করে আসছিল।

বৃহস্পতিবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, নির্বাচন বাতিল পক্ষের গ্রুপ কেন্দ্র দখল করে বসে আছে। ভোট গ্রহণের পক্ষে থাকা শিক্ষকরা কেন্দ্রের বাইরে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছেন। এ সময় শিক্ষকদের দুই গ্রুপের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনারদের বাগবিতণ্ডায় উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে।

শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি ও নীল দলের সদস্য প্রফেসর ড. আবু তাহের বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন গঠনতন্ত্র মোতাবেক তফসিল ঘোষণা করে। একটা পক্ষ তখন নির্বাচন করার ঘোষণা দেয়নি। আমরা ভোট দিতে এসে দেখি তারা কেন্দ্র দখল করে বসে আছে। তারা নির্বাচন বানচাল করতে চায়।’

অন্য গ্রুপের সদস্য শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. তোফায়েল হোসেন মজুমদার বলেন, ‘নির্বাচন শিক্ষক লাউঞ্জে হচ্ছে না, এ কথা আমাদের আগে জানানো হয়নি।’

প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. জি এম মনিরুজ্জামান বলেন, ‘নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে শিক্ষক সমিতির বর্তমান কার্যনির্বাহী পরিষদ। ২২ নভেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। আগে নির্বাচন শিক্ষক লাউঞ্জে হতো। এবার সেখানে একই দিনে আরেকটি প্রোগ্রাম থাকায় রেজিস্ট্রার ও ট্রেজারার শিক্ষক লাউঞ্জে ভোট গ্রহণের অনুমতি দেননি।’

আমরা তিনটি স্থান থেকে বাছাই করে বুধবার রাতে এই স্থান বাছাই করি। এটা সব বিভাগের চেয়ারম্যানদের মেইল করে জানিয়ে দেয়া হয়। সবকিছু নিয়মমাফিক হওয়ার পরও একটি অংশ নির্বাচনের বিরোধিতা করার কারণ খুঁজে পাচ্ছি না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ভোটার বলেন, ‘বিদ্রোহী গ্রুপ ভোট গ্রহণে বাধা দেয়ার নানা কারণ রয়েছে। ভোটাররা বলছেন, বিদ্রোহীরা চায় নির্বাচন যেন ১২ ডিসেম্বরের পরে করা হয়। এ সময়ে বেশ কয়েকজন শিক্ষক নিয়োগ দেবে বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষক নিয়োগ হলে সেসব শিক্ষকদের বিদ্রোহীরা দলে টানতে পারবে। তাই নানা ছুঁতোয় বিদ্রোহীরা ভোট হতে দেয়নি। বিদ্রোহীরা এসব করেছে উপাচার্যের মদতে।’

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এফ এম আবদুল মঈন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষক নির্বাচনে কোনোভাবেই পক্ষপাতিত্ব করতে পারে না। এমনকি কাউকে মদত দেয় নাই। কেউ যদি এসব কথা বলে থাকেন, সেটা প্রচণ্ড রকম ভুল।’

ভিসি আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের বিষয়ে আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। উল্টো আমি দুই পক্ষকে ডেকে বলেছি, আপনারা নির্বাচন করেন সমস্যা নেই। তবে এই নির্বাচন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম যেন নষ্ট না হয়, সেদিকটা সবাই খেয়াল রাখবেন।’

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি নির্বাচনে ভোটার ২৬৪ জন।

আরও পড়ুন:
শিক্ষক নিয়োগ: খাতা অবমূল্যায়নের অভিযোগ স্বর্ণপদক পাওয়া শিক্ষার্থীর
‘ফেসবুক পোস্ট’ কেন্দ্র করে কুবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার চেষ্টা
গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় জিপিএর নম্বর কমানোর দাবি শিক্ষার্থীদের
প্রথম প্রো-ভিসি পেল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা শুরু, উৎসবমুখর ক্যাম্পাস

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Inauguration of academic and administrative building at MIST

এমআইএসটিতে একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন উদ্বোধন

এমআইএসটিতে একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন উদ্বোধন এমআইএসটি-এর ফাইল ছবি।
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ সোমবার রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসে এমআইএসটি-তে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ফ্যাকাল্টি টাওয়ার ৩, ৪, অ্যাডমিন টাওয়ার ও হল অফ ফেমের ভবন উদ্বোধন করেন।

মিলিটারি ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে (এমআইএসটি) আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা সংবলিত একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার ফ্যাকাল্টি টাওয়ার ৩, ৪, অ্যাডমিন টাওয়ার ও হল অফ ফেমের উদ্বোধন করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানিয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমআইএসটির সাবেক কমান্ড্যান্টবৃন্দ, সেনাবাহিনী সদর দপ্তরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারগণ এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

স্থাপনাগুলো উদ্বোধনের মাধ্যমে এমআইএসটির প্রতিটি অনুষদের বিপরীতে একটি করে স্বতন্ত্র টাওয়ার বিল্ডিং-এ একাডেমিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সহজ হবে। উদ্বোধন করা ফ্যাকাল্টি টাওয়ারগুলোতে সর্বাধুনিক (স্টেট অফ আর্টস) গবেষণাগার রয়েছে, যা এমআইএসটি তথা বাংলাদেশের গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে বিশেষ অবদান রাখবে বলে আশা করা যায়।

আইএসপিআর জানায়, হল অফ ফেম-এর দেয়ালে সংরক্ষিত হয়েছে এমআইএসটির প্রতিষ্ঠা থেকে এ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, সব স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের নাম, আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতাগুলোর উল্লেখযোগ্য সাফল্য।

সেনাপ্রধানের উদ্বোধনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা এমআইএসটির পেট্রোলিয়াম ও লুব্রিকেটিং স্টেটিং ল্যাব বাংলাদেশে ব্যবহৃত পেট্রোলিয়ামজাত জ্বালানির সঠিক মান নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। সেনাপ্রধান একইসঙ্গে সাইবার সিকিউরিটিতে উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য নির্মিত সাইবার রেঞ্জও পরিদর্শন করেন।

নতুন প্রশাসনিক ভবনে ৪৫ হাজার বর্গফুটের এমআইএসটির সেন্ট্রাল লাইব্রেরি রয়েছে। লাইব্রেরির একটি অংশে একাডেমিক বইয়ের পাশাপাশি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ওপর প্রায় চার হাজার বই সংবলিত ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ কর্নার স্থাপন করা হয়েছে। একইসঙ্গে লাইব্রেরিতে আনুমানিক আড়াই হাজার বই নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে বিশেষ ‘শেখ রাসেল আঙ্গিনা’, যা শেখ রাসেল সম্পর্কে ছাত্র-ছাত্রীদের জানতে সাহায্য করবে।

১৯৯৯ সালে নতুন কোনো অবকাঠামো নির্মাণ ছাড়াই সেনাবাহিনীর নিজস্ব স্থাপনায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ৪০ জন ছাত্র অফিসার নিয়ে মিরপুর সেনানিবাসে যাত্রা শুরু করে এমআইএসটি। বর্তমানে চারটি অনুষদের অধীনে ১৩টি বিভাগে ২ হাজার ৯১৭ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাশাপাশি এমআইএসটিতে ৮টি বিভাগে এমএসসি, ৩টি বিভাগে এমফিল এবং ৭টি বিভাগে পিএইচডি প্রোগ্রাম চালু আছে।

মন্তব্য

p
উপরে