× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Hefajat wants to be strengthened so Ulama conference
hear-news
player
google_news print-icon

চাঙ্গা হতে চায় হেফাজত, তাই উলেমা সম্মেলন

চাঙ্গা-হতে-চায়-হেফাজত-তাই--উলেমা-সম্মেলন---
মহানবীকে নিয়ে ভারতের বিজেপি নেতাদের অবমাননাকর বক্তব্যের জেরে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে হেফাজতে ইসলামের মানববন্ধন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের বিক্ষোভ মিছিল, মহানবী (সা.)-এর কার্টুন প্রদর্শনের ঘটনায় ফ্রান্সের পণ্য বর্জন ও দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাঁখোর ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে সমাবেশ, জুমার নামাজের পর হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন ঝিমিয়ে থাকা সংগঠনে চাঙ্গাভাব আনতে এমন কর্মসূচি দিয়েছেন তারা। তবে এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। সংগঠনের নেতারা বলছেন, উলেমা সম্মেলনে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরা হবে, যার মধ্যে অন্যতম হবে কারাগারে থাকা আলেমদের মুক্তি।

কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম আগামী ১৭ ডিসেম্বর ঢাকায় জাতীয় উলেমা মাশায়েখ সম্মেলনের ঘোষণা দিয়েছে। গত বছর মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তীর সময়ে হরতালের মতো কর্মসূচি দিয়ে তাণ্ডব চালানোর পর দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় ছিল ধর্মভিত্তিক এই সংগঠনটি।

ঝিমিয়ে পড়া হেফাজত এমন একসময় কমসূচি দিল, যখন দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জনসমাবেশ ও পাল্টা জনসমাবেশের প্রতিযোগিতা চলছে। রাজনীতির মাঠ ক্রমে গরম হয়ে উঠছে।

হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন ঝিমিয়ে থাকা সংগঠনে চাঙ্গাভাব আনতে এমন কর্মসূচি দিয়েছেন তারা। তবে এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই।

সংগঠনের নেতারা বলছেন, উলেমা সম্মেলনে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরা হবে, যার মধ্যে অন্যতম হবে কারাগারে থাকা আলেমদের মুক্তি।

গত রোববার দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসায় সংগঠনের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

এ বিষয়ে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতারা বলেছেন, তারা এখন তাদের সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার দিকে নজর দিচ্ছেন। ওই সম্মেলনের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়টি নাকচ করে দেন তারা। তবে তারা বলছেন, সরকারের কাছে কারাগারে থাকা নেতা-কর্মীদের মুক্তি ছাড়াও মামলা প্রত্যাহারসহ বেশ কিছু দাবি তুলে ধরবেন তারা।

‘সংগঠনের নেতারা বলছেন, হেফাজতে ইসলামের প্রভাবশালী নেতা শাহ আহমেদ শফি, জুনায়েদ বাবুনগরী ও নুরুল ইসলাম জিহাদীর মৃত্যুর পরে সংগঠন দুর্বল হয়ে যায়। এ ছাড়া সংগঠনের বর্তমান কমিটি নেতৃত্বে আসার আগে থেকেই অনেক নেতা-কর্মী কারাগারে থাকায় তেমন কোনো কর্মসূচি পালন করেনি হেফাজতে ইসলাম। একই সঙ্গে ঢাকার নতুন নেতৃত্বে অরাজনৈতিক নেতারা আসায় তেমন কোনো কর্মসূচি এত দিন দেয়া হয়নি। কিন্তু এখন আবারও চাঙ্গা হতে চান তারা।

হেফাজতে ইসলাম ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছিল ২০১৩ সালে ঢাকার শাপলা চত্বরের সমাবেশকে কেন্দ্র করে। এরপর বরাবর রাজনৈতিকভাবে সংগঠনটিকে সক্রিয় দেখা যায়। হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব নুরুল ইসলাম জেহাদীর মৃত্যুর পর থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে সংগঠনের কর্মকাণ্ড।

গত রোববার হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে সারা দেশে সাংগঠনিক পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রায় এক বছর পর চট্টগ্রামে কেন্দ্রীয় কমিটির ওই বৈঠক ডাকেন সংগঠনের আমির মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী। জেলাপর্যায়ে কমিটি করার জন্য সংগঠনের মহাসচিব সাজিদুর রহমানসহ পাঁচজনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠা থেকে ধর্মভিত্তিক এই সংগঠনটির সব কর্মকাণ্ড পরিচালনা হতো চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে। কিন্তু সংগঠনের আমির জুনায়েদ বাবুনগরীর মৃত্যুর পর থেকে ফটিকছড়ি মাদ্রাসা থেকে নেতৃত্ব পরিচালনা করছেন হেফাজতে ইসলামের বর্তমান কমিটি। তবে সর্বশেষ কেন্দ্রীয় বৈঠকটি ফের হাটহাজারী মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত হয়।

এ বিষয়ে হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মির ইদ্রিস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা তো অনেক দিন ধরে চাঙ্গাভাবে আসতে পারিনি। কেউই পারেনি। এখন চেষ্টা করা হবে। আগে কর্মসূচি পালন করিনি বলে কি এখন করব না?’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সর্বশেষ কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে ঢাকার কমিটি সম্প্রসারণ ছাড়াও চট্টগ্রামের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া আগামী ছয় মাসের মধ্যে জেলার কমিটি করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফর প্রতিরোধ করা নিয়ে ২০২১ সালের মার্চ-এপ্রিলে ধর্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। সে সময় বক্তৃতা-বিবৃতিতে সরকারের পতন ঘটানোর কথা বলেন তখনকার নেতারা। মোদির সফর চলাকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নারায়ণগঞ্জে তাণ্ডবের পর ২৮ মার্চ হরতাল ডাকে সংগঠনটি। এ সময় বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলা করে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় হেফাজত সমর্থকরা।

গত বছরের এপ্রিলে মামুনুল হকসহ হেফাজতের আরও বেশ কয়েকজন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই সঙ্গে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে তাণ্ডবের পুরোনো মামলাগুলো সচল হয়। গ্রেপ্তার অভিযানের পর হেফাজতের পক্ষ থেকে বলা হয়, রাজনীতি নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই। এরপর থেকে রাজনৈতিক কোনো ইস্যু দূরে থাক, ধর্মীয় কোনো বিষয়েও দেশজুড়ে কোনো কর্মসূচি নেই সংগঠনটির।

এখন কেন উলামা সম্মেলন– জানতে চাইলে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মহিউদ্দিন রাব্বানী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আসলে আমাদের তো অনেক দিন কর্মসূচিই নেই। নুরুল ইসলাম জেহাদী সাহেবের ইন্তেকালের পর আর তো কোনো কর্মসূচি ছিল না। এ জন্য এই কর্মসূচি হাতে নেওয়া, অন্য কিছু না। একটি সংগঠনের কিছু কর্মসূচি নিয়ে হয়, সংগঠনকে বাঁচায় রাখতে হলেও তো লাগে, নেতা-কর্মীদের অনুপ্রাণিত করতেও তো লাগবে।’

ওই সম্মেলনে সারা দেশ থেকেই আলেমরা আসবেন বলে জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মির ইদ্রিস।

রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা অস্বীকার

হতে যাওয়া সম্মেলনটির কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য অস্বীকার করেন মহিউদ্দিন রাব্বানী। তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্ক নেই। কারও সঙ্গে আমাদের যোগাযোগও নেই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা অরাজনৈতিক সংগঠন। ধর্মীয় বিষয়ে কথা বলতেই এই সম্মেলনের আয়োজন করেছি। তবে কী বার্তা দেওয়া হবে সেটা এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। একটি বার্তা তো অবশ্যই থাকবে। ক্ষমতায় কে যাবে, না যাবে– তা নিয়ে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা ধর্মীয় বিষয় নিয়ে কথা বলব।’

হল রুম ভাড়া করে ঘরোয়া পরিবেশে সম্মেলন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে সারা দেশ থেকে আলেমদের এই সম্মেলনে নিয়ে আসা হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা সম্মেলনটি রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে করার ইচ্ছা রাখি, তবে এখনও কোনো কিছু ঠিক হয়নি।’

এ বিষয়ে হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মির ইদ্রিস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হেফাজতে ইসলামের কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা নেই।’

হেফাজতের দাবি কী

সম্মেলনে হেফাজতে ইসলামের আমির কী বার্তা দেবেন জানতে চাইলে মুহিউদ্দিন রাব্বানী বলেন, ‘কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু অনেক মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে কী বার্তা উনি দেবেন। তবে অবশ্যই আমাদের কিছু দাবি থাকবে। সে বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি। ওই দিন (রোববার) কেন্দ্রীয় কমিটির মিটিংয়ে কর্মসূচিই শুধু নির্ধারণ হয়েছে। আর কোনো আলোচনা হয়নি।’

ওই সম্মেলন থেকে কারারুদ্ধ আলেমদের মুক্তির বিষয়ে সরকারের কাছে দাবি করা হতে পারে বলে জানান তিনি। বলেন, ‘আমাদের সব কর্মসূচিতেই এই দাবিটি থাকে। ২০১৩ সাল থেকে সবার বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘এ ছাড়া কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা দাবি, ধর্মীয় শিক্ষাকে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তির দাবি আমাদের দীর্ঘদিনের।’

সম্মেলন কেন ডিসেম্বরেই

আগামী ডিসেম্বরে সারা দেশে রাজনৈতিক দলগুলো ব্যাপক কর্মসূচি পালনের ইঙ্গিত দিয়েছে। এই ডিসেম্বরেই কেন হেফাজত উলেমা সম্মেলনের আয়োজন করছে, জানতে চাইলে মহিউদ্দিন রাব্বানী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যেহেতু হেফাজতে ইসলাম কওমি মাদ্রাসানির্ভর, সে কারণে ডিসেম্বরে আলেম-উলেমাদের সময়-সুযোগের বিষয় আছে। এর আগে মাদ্রাসাগুলোয় পরীক্ষা চলবে। আলেম-উলেমারা সবাই মাদ্রাসায় সম্পৃক্ত। সময় বিবেচনা করে ডিসেম্বরেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচির সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।’

এ বিষয়ে হেফাজতের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মীর ইদ্রিস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখন মাহফিলের মৌসুম শুরু হবে। অনেক আলেম বড় বড় মাহফিল করবেন। এ কারণে সময়-সুযোগ করে ডিসেম্বরেই এটা করা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেবেন হেফাজতের আমির

কারাগারে থাকা আলেমদের মুক্তির দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চিঠি দেওয়া হবে বলে সর্বশেষ কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব মহিউদ্দিন রাব্বানী। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, উনাকে (প্রধানমন্ত্রী) চিঠি দিলে উনি হেফাজতের আমিরের কথা রাখবেন। ফলে আমাদের গ্রেপ্তারে থাকা আলেমদের মুক্তি দিয়ে দেবেন।’

হেফাজতের সাংগঠনিক সম্পাদক মির ইদ্রিস বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তো আমাদের প্রয়াত আমির শাহ আহমেদ শফীর কাছে ওয়াদা করেছিলেন যে ২০১৩ সালের মামলাগুলো প্রত্যাহার করবেন। সে বিষয়টিসহ কারাগারে থাকা আলেমদের মুক্তির জন্য আমাদের বর্তমান আমির উনার (প্রধানমন্ত্রী) কাছে চিঠি লিখবেন।’

গত বছরের ২৬ মার্চ ও এর পরবর্তী সময়ে হেফাজতের তাণ্ডবের পর যে গ্রেপ্তার অভিযান চলে সেখানে বিভিন্ন মামলায় শীর্ষস্থানীয় ৩০ নেতাসহ সারা দেশে ১ হাজার ২৩০ জনেরও বেশি কর্মী-সমর্থককে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। এর পর থেকে কারাগারে থাকা নেতাদের মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছেন সংগঠনের নেতারা। হেফাজতের শীর্ষস্থানীয় নেতারা আর উত্তেজক কোনো বক্তব্য না দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে বেশ কয়েকবার দেনদরবার করেন তাদের নেতাদের মুক্তির দাবি নিয়ে।

২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠাতা আমির শাহ আহমেদ শফীর মৃত্যুর পর নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে জুনাইদ বাবুনগরীকে আমির করে ১৫১ সদস্যের যে কমিটি গঠন করা হয়, তাতে সিংহভাগই বিএনপি জোটের শরিক বিভিন্ন ইসলামী দল থেকে নেয়া হয়। তবে নেতাদের গ্রেপ্তারের মধ্যে ২০২১ সালের এপ্রিলে সেই কমিটি বিলুপ্ত করে দেন তৎকালীন আমির জুনায়েদ বাবুনগরী।

এর মাস দেড়েক পর ৭ জুন বাবুনগরী ৩৩ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন করেন। এই কমিটির কেউ সরাসরি রাজনীতিতে জড়িত নন। সে সময় হেফাজতের বলিষ্ঠ কোনো অবস্থান না নেয়াকে কেন্দ্র করে সংগঠনে হতাশা দেখা দেয়। বিভিন্ন ফেসবুক পেজে কর্মী-সমর্থকরা নানাভাবে সমালোচনা করতে থাকেন। এর মধ্যে গত ১৯ আগস্ট মারা যান বাবুনগরীও। ২৯ নভেম্বর মারা যান মহাসচিব নুরুল ইসলাম জিহাদী। পরে হেফাজতের আমিরের দায়িত্ব পান জুনায়েদ বাবুনগরীর মামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী।

যেভাবে আলোচনায় হেফাজত

২০১০ সালে হেফাজতে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই সময় চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে নারী নীতিমালার বিরুদ্ধে সংগঠনটির যাত্রা। তবে সংগঠনটি জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি লাভ করে ২০১৩ সালে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের পাল্টা অবস্থান নিয়ে। শাহবাগ থেকে ইসলাম সম্পর্কে কটূক্তি হচ্ছে এমন অভিযোগ তুলে ওই বছরের ৬ এপ্রিল সংগঠনটি ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ করে। তাদের এই শোডাউন ব্যাপক নজর কাড়ে বিভিন্ন মহলের।

এর এক মাস পর ৫ মে ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচিতে শাপলা চত্বরে অবস্থানকালে মধ্যরাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে পালাতে বাধ্য হন হেফাজতের নেতা-কর্মীরা। এরপর সংগঠনটি অনেকটা চুপসে যায়। পরে সরকারের সঙ্গেও দেশের শীর্ষ এই আলেমের যোগাযোগ বাড়ে। কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস সনদের সরকারি স্বীকৃতি দেয়া হয়। এতে কৃতজ্ঞ হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শোকরিয়া মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘কওমি জননী’ উপাধিও দেয়া হয়। তবে আল্লামা শফীর মৃত্যুর পর হেফাজত বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ আলেমদের নিয়ন্ত্রণ চলে আসায় সংগঠনটি সরকারবিরোধী অবস্থানে চলে যায়।

আরও পড়ুন:
ধর্ষণ মামলা: মামুনুলের বিরুদ্ধে আরও ২ পুলিশের সাক্ষ্য
পেটে পীড়া নিয়ে হাসপাতালে হেফাজতের আমির
পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু: কনস্টেবল প্রত্যাহার
পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু নিয়ে বিক্ষোভ টাঙ্গাইলে
হেফাজতে মৃত্যু: লাশ হস্তান্তর নিয়ে স্বজন-পুলিশের বিপরীত বক্তব্য

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Has peace returned to the mountains in 25 years?

২৫ বছরে শান্তি কি ফিরেছে পাহাড়ে?

২৫ বছরে শান্তি কি ফিরেছে পাহাড়ে? পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি চুক্তির ২৫ বছরেও হয়নি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন। ফাইল ছবি
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ভেঙে এখন চারটি সংগঠন। তাদের মধ্যে মারামারি লেগে আছে। ২০১৪ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত পাহাড়ে ৫৩৬ জন অপহরণ এবং ৩৭৬ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। পার্বত্যাঞ্চলে প্রতি বছর প্রায় ৪০০ কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয়ে থাকে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিচুক্তির ২৫ বছরেও বন্ধ হয়নি রক্তপাত। হয়নি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন। সরকার বলছে, শান্তিচুক্তির কারণে পার্বত্য এলাকায় উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে।

পার্বত্য এলাকায় নৃগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অধিকারের দাবিতে দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে চলে সহিংসতা। গড়ে ওঠে শান্তি বাহিনী নামের একটি সশস্ত্র সংগঠন। সংঘাতে অসংখ্য পাহাড়ি-বাঙালি নিহত-আহত হন। একসময় পাহাড় ছিল আতঙ্কের নাম।

শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ সময় অস্ত্র জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরেন শান্তি বাহিনীর প্রায় ২ হাজার সদস্য। শান্তি ফিরতে শুরু করে পাহাড়ে।

এ চুক্তি পার্বত্যাঞ্চলের জনগণের বিশেষ মর্যাদা ও অবস্থানের স্বীকৃতি নিশ্চিত করেছে। চুক্তিটি চার খণ্ডে বিভক্ত, যেখানে ক খণ্ডে চারটি; খ খণ্ডে ৩৫টি; গ খণ্ডে ১৪টি এবং ঘ খণ্ডে ১৯টি অর্থাৎ মোট ৭২টি ধারা রয়েছে। অবশ্য অল্প সময়ের মধ্যে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, যদিও সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, চুক্তির ৭২টির মধ্যে ৬৫টিরও বেশি শর্ত পূরণ করা হয়েছে।

২৫ বছরে শান্তি কি ফিরেছে পাহাড়ে?

সরকার বলছে, শান্তি চুক্তির কারণে পার্বত্য এলাকায় উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। ফাইল ছবি

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং নিউজবাংলাকে বলেন, ‘একসময় এ এলাকায় মানুষ যেতে চাইত না। সরকারি কর্মকর্তারা সেখানে বদলি হলে তাদের মধ্যে একটা আতঙ্ক থাকত যে আমি কোথায় যাব? এখন কিন্তু সেখানে সবাই যেতে চায়। এটা এখন আর শাস্তির এলাকা নেই। প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের কারণে সেখানে একটি আমূল পরিবর্তন এসেছে। এখানে এখন প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক আসছেন। এ উদ্যোগের কারণে মানুষের মধ্যে উন্নয়ন হয়েছে। যোগাযোগ, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, কৃষি প্রতি ক্ষেত্রে উন্নয়ন হয়েছে।

‘সেখানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে, মেডিক্যাল কলেজ হয়েছে। তিন জেলায় প্রায় ২৬টি উপজেলার প্রত্যেকটিতে কলেজ হয়েছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা হাসপাতাল হয়েছে। স্কুলগুলো এমপিওভুক্ত হয়েছে, অনেক স্কুল সরকারিকরণ হয়েছে। প্রত্যেক উপজেলাতেই বিদ্যুৎ পৌঁছেছে। একদম রিমোট যে এলাকাগুলো রয়েছে, সেগুলোতেও বিশেষ ব্যবস্থায় ৫২ হাজার সোলার সিস্টেম বিনা পয়সায় বিতরণ করেছি। এই চুক্তির ফসলই হলো এই উন্নতি। চুক্তির যে ধারাগুলো রয়েছে ৭২টি, এর মধ্যে ৬৫টিরও বেশি বাস্তবায়ন হয়েছে। আশা করি, এগুলোও বাস্তবায়ন হবে।’

যে জনসংহতি সমিতির নেতৃত্বে শান্তি বাহিনী গড়ে উঠেছিল, সেটির শক্তিও অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। সংগঠনটি এখন চার থেকে পাঁচটি গ্রুপে বিভক্ত। বিভিন্ন সময়েই এই গ্রুপের সদস্যরা একে অন্যের ওপর হামলা চালিয়ে সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন।

সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, শান্তি চুক্তির অন্যতম শর্ত অস্ত্র সমর্পণ গত ২৫ বছরেও পূরণ হয়নি। এসব অবৈধ অস্ত্র দিয়ে সশস্ত্র দলগুলো স্থানীয় পর্যায়ে অপহরণ, হত্যা ও চাঁদাবাজিতে ব্যবহার হয়ে থাকে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হিসাবে, পার্বত্যাঞ্চলে প্রতি বছর প্রায় ৪০০ কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয়ে থাকে। ২০১৪ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত পাহাড়ে ৫৩৬ জন অপহরণ এবং ৩৭৬ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।

২৫ বছরে শান্তি কি ফিরেছে পাহাড়ে?

২০১৪ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত পাহাড়ে ৩৭৬ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ফাইল ছবি

বিভিন্ন সময় পাহাড়ে রক্তপাত হয়, এটা কি চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ার জন্য? জানতে চাইলে বীর বাহাদুর উশৈসিং বলেন, ‘সেখানে কি যুদ্ধাবস্থা আছে? যারা এগুলো করছে তারা কি এটা বলছে যে চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় এগুলো হচ্ছে? এটা তো বলছে না। এটা সিম্পলি, তাদের মধ্যে অনেক গ্রুপিং। এটা হলো চাঁদাবাজি, কিডন্যাপিং… এটা হলো অর্থ উপার্জন বা চাঁদাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে গোলাগুলি, কাটাকাটি হয়।

‘কিন্তু এগুলো হলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী তৎপর আছে। চুক্তি বাস্তবায়ন তো যুদ্ধের মাধ্যমে হবে না। হয়নি বলেই তো আমরা একটি জায়গায় এসেছি। হয়তো একটু দেরি হচ্ছে, কিন্তু থেমে তো নেই। চুক্তি বাস্তবায়নের সঙ্গে এগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই। এখানে তো কথা বলার সুযোগ আছে। এ জন্য আমরাও দাবি করছি যে, অবৈধ অস্ত্র যেন উদ্ধার করা হয়। সেখানে সবাইকে বলব, সন্ত্রাস করে এলাকায় শান্তি ফিরবে না। সম্মিলিত প্রয়াস থাকতে হবে।’

পাহাড়ে একের পর এক সংগঠন

শান্তি চুক্তিকে কালো চুক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রসিত বিকাশ খীসার নেতৃত্বে ১৯৯৮ সালে আত্মপ্রকাশ করে ইউনাইটেড পিপল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) নামে একটি দল। পাহাড়ে বেড়ে যায় পিসিজেএস ও ইউপিডিএফের মধ্যে ব্যাপক সংঘাত। এতে পাহাড়ের দলীয় কর্মীসহ সাধারণ মানুষও প্রাণ হারান।

২০০৭ সালে জনসংহতি সমিতি আবার ভেঙ্গে জন্মলাভ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা সংস্কারপন্থি) নামে আরেকটি আঞ্চলিক দল। ইউপিডিএফ ভেঙ্গে ২০১৭ সালে ১৫ নভেম্বর তপন জ্যোতি চাকমার নেতৃত্বে খাগড়াছড়িতে গঠিত হয় ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) নামে আরেক আঞ্চলিক সংগঠন। বিশেষ করে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় এ চারটি সংগঠনের আধিপত্য লক্ষ্য করা যায়। বান্দরবানেও পিজেএসএসের আধিপত্য।

দুর্গম এ পাহাড়ি অঞ্চলে চার সংগঠনের মধ্যে হানাহানি লেগে আছে। তবে পিজেএসএস অভিযোগ, সরকারের শাসকগোষ্ঠীর ষড়যন্ত্রে পাহাড়ে এসব আঞ্চলিক দলের সৃষ্টি হয়েছে।

এ চার সংগঠনের বাইরেও সক্রিয় আছে বেশ কয়েকটি গ্রুপ। এর মধ্যে বান্দরবানের গহীন জঙ্গলে অবস্থান রয়েছে আরাকান লিবারেশন পার্টির (এএলপি)। পরবর্তী সময়ে এটি ভেঙে ২০১৮ সালে গঠিত হয় মগ পার্টি।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাবেক রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা বলেন, ‘এক পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে শান্তি চুক্তির অনেকটা এখনও বাস্তবায়ন হচ্ছে না। অন্যদিকে বাস্তবায়ন কমিটি থেকে বলা হচ্ছে, আমরা অধিকাংশ বাস্তবায়ন করেছি। সে ক্ষেত্রে আমার মনে হয় যে, বাকি ধারাগুলো বাস্তবায়নে দুই পক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবার বলে যাচ্ছেন, আমরা শান্তিচুক্তি করেছি, আমরাই বাস্তবায়ন করব। তিনি সবসময় বলেছেন, চুক্তির যে রূপরেখা ছিল, প্রত্যেকটি আমরা বাস্তবায়ন দেখতে চাই।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) নেতা এবং সাবেক সাংসদ ঊষাতন তালুকদার বলেন, ‘সরকারের সাথে আমাদের বোঝাবুঝির অভাব রয়েছে। সরকারের কী ভাবনা সেটা পরিষ্কার হওয়া দরকার। সরকার যতই সময় ক্ষেপন করবে ততই দলবাজি, নানান অস্ত্রবাজি হবে, নানা চাঁদাবাজি হবে। তখন পরিস্থিতি আরো জটিল হবে। মূল কথা হচ্ছে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন করা ছাড়া বিকল্প নেই।’

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘ভূমি কমিশন আইন তো ঠিকমত হয়েছে। এখন বিধিমালা তো সরকার করছে না। বিধিমালাটা করে ভূমি কমিশন কার্যকর করেন। সরকারের কিছু কিছু গাড়ি আছে, গাড়ির অনুমোদন আছে, কিন্তু গাড়ি নাই। ঠিক তেমনি এখন ভূমি কমিশন চলতে পারে না। আমরা চুক্তির সব একসঙ্গে বাস্তবায়ন চাচ্ছি না। একটা একটা করেন। কোনটা কখন করবেন, কখন কোন বিষয় বাস্তবায়ন করবেন, তা লিখিতভাবে সরকার জানিয়ে দিক এবং সেভাবে কর্মসূচি গ্রহণ করুক এবং সেটাই হবে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির রোডম্যাপ।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরকারী খাদ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদার এমপি বলেন, ‘আমরা রোডম্যাপ করতে চাচ্ছি না তা বলব না। কিন্তু রোডম্যাপ হলেই যে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়িত হবে এটার কোনো গ্যারিন্টি আছে? শান্তিচুক্তির বাস্তবায়ন আমরাও চাই, তারাও চায়, এমনকি প্রধানমন্ত্রীও এ ক্ষেত্রে খুবই আন্তরিক। সে ক্ষেত্রে আমাদের উভয়ের বোঝাপোড়ায় আসতে হবে। কিন্তু এগুলো হচ্ছে না।’

দীপংকর তালুকদার এমপি আরও বলেন ‘শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন করতে গেলে উভয় পক্ষকে শক্তিশালী হতে হবে এবং উভয় পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কিন্তু আমরা দেখছি শান্তিচুক্তির স্বাক্ষরকারী আওয়ামী লীগ রাঙ্গামাটি-বান্দরবান-খাগড়াছড়ি এ তিন জেলার যতগুলো আওয়ামী লীগের লোক আছে, তাদের বলা হচ্ছে আওয়ামী লীগ করা যাবে না। আওয়ামী লীগকে যদি নিশ্চিহ্ন করে দেয় তারা, তাহলে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন করবে কে? যার কারণে একে অপরের প্রতি আস্থা, বিশ্বাসের সংকটটা তৈরি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সবাইকে ইতিবাচক ভূমিকা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে, তবেই শান্তিচুক্তি বাস্তবায়িত হবে।’

আরও পড়ুন:
জঙ্গিবিরোধী অভিযান : চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় পর্যটক নিষিদ্ধ
প্রকল্প শেষে কী হবে পাহাড়ের ৪ হাজার কর্মীর
পাহাড়ে শান্তির কপোত কি অধরা?

মন্তব্য

বাংলাদেশ
BNP rally in Comilla 4 scriptures in Rajshahi?

কুমিল্লায় বিএনপির সমাবেশে ৪ ধর্মগ্রন্থ, রাজশাহীতে কী?

কুমিল্লায় বিএনপির সমাবেশে ৪ ধর্মগ্রন্থ, রাজশাহীতে কী? কুমিল্লায় বিএনপির সমাবেশে কোরআন তেলাওয়াতের পর পবিত্র গীতা পাঠ করছেন পুরোহিত। ফাইল ছবি
কুমিল্লায় সমাবেশের আয়োজকদের দাবি, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত থেকেই তারা চার ধর্মগ্রন্থ পাঠের ব্যবস্থা রেখেছিলেন। আর রাজশাহীর বিএনপি নেতারা বলছেন, তাদের সমাবেশেও এটি রাখা যায় কি না, তা নিয়ে হাইকমান্ডের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, কুমিল্লায় সব ধর্মগ্রন্থ পাঠ সাধুবাদ পাওয়ার মতো ঘটনা হলেও এটি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে হয়নি।

বিএনপির চলমান বিভাগীয় সমাবেশের মধ্যে সবশেষ গত ২৬ নভেম্বর কুমিল্লায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজির দেখা গেছে। ওই সমাবেশের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের পাশাপাশি গীতা ও ত্রিপিটকের বাণীও পাঠ করা হয়। ছিল বাইবেল পাঠের পরিকল্পনাও, তবে নির্ধারিত ব্যক্তির স্বজনের অসুস্থতার কারণে শেষ পর্যন্ত সেটি হয়নি।

এরপরে শনিবার রাজশাহীতে হচ্ছে বিএনপির সমাবেশ, আর ঢাকায় সমাবেশ হবে ১০ ডিসেম্বর। প্রশ্ন উঠেছে এই দুটি কর্মসূচিতেও কি সব ধর্মগ্রন্থ পাঠের ব্যবস্থা থাকবে?

কুমিল্লায় সমাবেশের আয়োজকদের দাবি, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত থেকেই তারা চার ধর্মগ্রন্থ পাঠের ব্যবস্থা রেখেছিলেন। আর রাজশাহী বিএনপির নেতারা বলছেন, তাদের সমাবেশেও এটি রাখা যায় কি না, তা নিয়ে হাইকমান্ডের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

তবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, কুমিল্লায় সব ধর্মগ্রন্থ পাঠ সাধুবাদ পাওয়ার মতো ঘটনা হলেও এটি দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে হয়নি। পরবর্তী সমাবেশে এটা থাকবে কি না, তা নিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে আলোচনারও প্রয়োজন নেই।

কুমিল্লায় ২৬ নভেম্বর বেলা ১১টায় বিএনপির সমাবেশের শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয়। এরপরই পবিত্র গীতা ও ত্রিপিটক পাঠ করা হয়। তবে পরিবারের সদস্যের অসুস্থতাজনিত কারণে বাইবেল পাঠ করতে পারেননি পাস্টর ডা. লরেন্স তীমু বৈরাগী।

আরও পড়ুন: সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ কুমিল্লার সমাবেশ

এর আগে ১২ অক্টোবর চট্টগ্রামে, ২২ অক্টোবর খুলনায়, ২৯ অক্টোবর রংপুরে, ৫ নভেম্বর বরিশালে, ১২ নভেম্বর ফরিদপুরে ও ১৯ নভেম্বর সিলেটে সমাবেশ করে বিএনপি। এর কোনোটিতেই পবিত্র কোরআন ছাড়া আর কোনো ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা হয়নি।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম জানান, তাদের সমাবেশে সব ধর্মগ্রন্থ পাঠের আয়োজনের বিষয়টি ছিল দলীয় সিদ্ধান্ত।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটি আসলে আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত। সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই আমরা আয়োজনটি করেছি।’

তবে বিষয়টি নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে জানতে চাইলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা একটি অসাম্প্রদায়িক দল। কুমিল্লায় এমনটা হয়েছে এটি সাধুবাদ জানানোর মতোই। আমার নিজের এলাকাতেও সব ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা হয়।

‘কুমিল্লায় যারা আয়োজক তারা নিজেরা এটা করেছেন। এর সঙ্গে দলীয় সিদ্ধান্তের কোনো সম্পর্ক নেই। আর সামনের সমাবেশগুলোতে এমনটা হবে কি না, তা দলীয়ভাবে আলোচনা করার মতো ইম্পর্ট্যান্ট বিষয় বলে আমি মনে করি না।’

দলের মহাসচিবের এমন মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্ত বলতে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ডিরেক্ট এই নির্দেশনাগুলো আমাদের দেন। আমাদের সমাবেশের প্রস্তুতি সভাতে তিনি সরাসরি অনলাইনে যুক্ত হয়ে এ নির্দেশনাগুলো দিয়েছেন, আমরা সেভাবেই পালন করেছি।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্যও বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটি অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ বলে আমি মনে করি। যদিও এটি সত্য আমরা সব জায়গায় এমনটি করিনি।’

সামনের সমাবেশগুলোতে আবারও ঘটনাটি দেখা যাবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি আসলে এ বিষয়ে তেমন কিছু জানি না। তাই বলতে পারছি না।’

একই রকম বক্তব্য দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্ত কি না, তা আমার জানা নেই। তবে এটি ভালো উদ্যোগ।’

অন্যদিকে প্রশ্ন শোনার পর বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

দুদিন বাদে শনিবার রাজশাহীতে সমাবেশ করতে যাচ্ছে বিএনপি। রাজশাহী বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সমাবেশের আয়োজক কমিটির সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বিষয়টি নিয়ে দলের হাইকমান্ডের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবায়নের আগ্রহ জানিয়েছেন।

প্রশ্ন শুনে তিনি নিউজবাংলা প্রতিবেদককে বলেন, ‘আপনি এটা বলে খুব ভালো করেছেন। কুমিল্লার বিষয়টি আমি জানতাম না। এটা চমৎকার উদ্যোগ। আমি অবশ্যই হাইকমান্ডের কাছে এই প্রস্তাব রাখব, এটি নিয়ে আলোচনা করব।’

আরও পড়ুন:
রাজশাহীতে পরিবহন ধর্মঘটে ভোগান্তি
পরিবহন ধর্মঘটের আগেই রাজশাহীর সমাবেশে নেতা-কর্মীরা
সকাল থেকে রাজশাহী বিভাগে পরিবহন ধর্মঘট
নাশকতা মামলা: মানিকগঞ্জে বিএনপির ২ নেতা গ্রেপ্তার
বিএনপির মিছিল থেকে ককটেল হামলার অভিযোগ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Green channel open in all ports in April

এপ্রিলে সব বন্দরে ‘গ্রিন চ্যানেল’ চালু

এপ্রিলে সব বন্দরে ‘গ্রিন চ্যানেল’ চালু চট্টগ্রাম বন্দরে রাখা সারি সারি কনটেইনার। ছবি: নিউজবাংলা
এনবিআরের কাস্টমস নিরীক্ষা মূল্যায়ন কমিশনারেটের কমিশনার এনামূল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যাকে তাকে গ্রিন চ্যানেল ব্যবহারের সুবিধা দেয়া যায় না। অতীত রেকর্ড স্বচ্ছ, কোনো ধরনের মামলা-মোকদ্দমা নেই, নিয়মিত কর দিয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠান গ্রিন চ্যানেল ব্যবহারের সুবিধা পেয়েছে, তাদের কাস্টমসে কোনো পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে না। ফলে তাদের পণ্য-আনা নেয়া সহজ হবে এবং ব্যবসার খরচ কমবে।’

আগামী বছরের এপ্রিলে সব বন্দরে ‘গ্রিন চ্যানেল’ চালু করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এতে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ব্যয় ও সময় কমবে।

এনবিআর সূত্র বলেছে, সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করছে এবং অতীত রেকর্ড ভালো এমন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এ ‘গ্রিন চ্যানেল’ সুবিধা পাবে। আর যোগ্য প্রতিষ্ঠান নিবার্চনের জন্য একটি নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। তার আলোকেই সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হবে।

গ্রিন চ্যানেল ব্যবহার করলে আমদানি-রপ্তানি পণ্যের কায়িক কোনো পরীক্ষার প্রয়োজন পড়বে না। বন্দরে জাহাজ ভেড়ার পর বিল অফ এন্ট্রি দাখিল করলেই প্রযোজ্য শুল্ক-কর পরিশোধ করে দ্রুত পণ্য খালাস করা যাবে। একইভাবে রপ্তানিকারকরাও তাদের পণ্য দ্রুত শিপমেন্ট করতে পারবেন।

এনবিআর কর্মকর্তা বলেন, যেসব দেশীয় প্রতিষ্ঠান গ্রিন চ্যানেল ব্যবহারের সুবিধা পাবে, তাদের মালামাল খালাস ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হবে। সে সুবাদে বন্দরে মালামাল আটকে থাকার জন্য যে ক্ষতি হয়, তা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে। পণ্য লোড-আনলোড বা ওঠানামার খরচ লাগবে না। লিড টাইম (ক্রেতার কাছে পণ্য পৌঁছাতে) কমবে। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ হওয়ার পাশাপাশি খরচ কমবে।

তারা আরও বলেন, কাস্টমসকে আধুনিকায়ন করতে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। তারই অংশ হিসেবে গ্রিন চ্যানলে চালু করা হচ্ছে। অথরাইজড ইকনোমিক অপারেটর বা এইওর আওতায় এটি চালু করা হচ্ছে।

কাস্টমসকে আধুনিকায়ন করার লক্ষ্যে অথরাইজড ইকনোমিক অপারেটর চালু করা হয় ২০১৯ সালে। এটি চালুর উদ্দেশ্য হলো আমদানি পণ্য দ্রুত খালাস ও রপ্তানি পণ্য দ্রুত শিপমেন্ট করা। যেসব প্রতিষ্ঠান যোগ্য বিবেচিত হবে, শুধু তারাই গ্রিন চ্যানেল ব্যবহার করতে পারবে।

বিশ্ব শুল্ক সংস্থা (ডব্লিউওসি) ২০০৫ সালে পণ্যের নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য এইও কর্মসূচি চালু করে। কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা সহজ করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১৭ সালে বিদ্যমান শুল্ক আইন সংশোধন করে।

২০১৮ সালে এনবিআর এইও সুবিধা পাওয়ার মানদণ্ড উল্লেখ করে একটি আদেশ জারি করে। পরের বছর ওষুধ খাতের তিনটি প্রতিষ্ঠানকে এ সুবিধা দেয়া হয়। যদিও প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও গ্রিন চ্যানেলের সুবিধা পায়নি।

সূত্র বলেছে, এ পর্যন্ত ৬১টি প্রতিষ্ঠান অথরাইজড ইকনোমিক অপারেটর (গ্রিন চ্যানেল) সুবিধা পাওয়ার জন্য এনবিআরের কাছে আবেদন করেছে। এর মধ্যে ২৪টিকে যোগ্য বলে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।

অথরাইজড ইকনোমিক অপারেটর প্রক্রিয়ার সঙ্গে এনবিআরের কাস্টমস নিরীক্ষা মূল্যায়ন কমিশনারেট যুক্ত।

কমিশনার এনামূল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যাকে তাকে গ্রিন চ্যানেল ব্যবহারের সুবিধা দেয়া যায় না। অতীত রেকর্ড স্বচ্ছ, কোনো ধরনের মামলা-মোকদ্দমা নেই, নিয়মিত কর দিয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।

‘যেসব প্রতিষ্ঠান গ্রিন চ্যানেল ব্যবহারের সুবিধা পেয়েছে, তাদের কাস্টমসে কোনো পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে না। ফলে তাদের পণ্য আনা-নেয়া সহজ হবে এবং ব্যবসার খরচ কমবে।’

এ পর্যন্ত তিনটি প্রতিষ্ঠানকে অথরাইজড ইকনোমিক অপারেটরের মর্যাদা দেয়া হয়েছে। এগুলো হলো বেক্সিমকো, স্কয়ার ও ইনসেপটা। যদিও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বলেছে, পণ্য খালাসে কোনো হেরফের হয়নি এখনও।

এনবিআর বলেছে, এইও চালুর জন্য কিছু প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। আশা করা যাচ্ছে, এপ্রিলে এটি চালু করা যাবে।

কাস্টমস সূত্র বলেছে, আরও তিনটি প্রতিষ্ঠানকে গ্রিন চ্যানেল ব্যবহারের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। শিগগিরই তাদের অনুমোদন দেবে এনবিআর। পাইপলাইনে আছে আরও পাঁচটি প্রতিষ্ঠান।

কাস্টমস নিরীক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, যারা গ্রিন চ্যানেল ব্যবহারের অনুমতি পাবে, তাদের আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত তথ্য দেখভাল করার জন্য বিশেষ সফটওয়্যার ডেভেলপ করা হচ্ছে। এই সফটওয়্যার এনবিআরের এসআই কুডা সিস্টেমের সঙ্গে ডিজিটাল সংযোগ বা কানেক্ট করা হবে। এটা করা হলে যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্রীয়ভাবে এনবিআরে বসে‌ই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

কমিশনার এনামূল হক বলেন, ‘ডিজিটাল সংযোগ করা হলে বন্দরে পণ্য খালাসের সময় ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশনের দরকার হবে না। অফিসে বসেই মনিটর করা যাবে।’

কয়েকটি নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে এইও সুবিধা দেয়া হয়। এর মধ্যে কাস্টমস, ভ্যাট ও আয়কর আইনের আওতায় সন্তোষজনক কমপ্লায়েন্স রেকর্ড থাকতে হবে। আবেদনকারীকে আগের তিন বছর অপরাধমুক্ত থাকতে হবে। কোনো রাজস্ব বকেয়া থাকা যাবে না; যেকোনো মামলায় জরিমানার পরিমাণ মোট পণ্য বা সেবামূল্যের ১ শতাংশের বেশি হওয়া যাবে না।

এ ছাড়া আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত মূলধন কমপক্ষে ১৫ কোটি টাকা ও পরিশোধিত মূলধন অন্তত ৫ কোটি টাকা হতে হবে। আর বার্ষিক আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ ন্যূনতম ৫ কোটি টাকা হতে হবে।

এ ব্যবস্থা পরীক্ষামূলক চালু হওয়ার সময় এনবিআরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, এক মাসের মধ্যে টেক্সটাইল, ওষুধ ও চামড়া খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে আরও ১০টি প্রতিষ্ঠানকে এইও সনদ দেয়ার জন্য বাছাই করা হবে, কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনটি প্রতিষ্ঠানকে এইওর আওতায় আনা হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এনবিআর প্রক্রিয়াটি আরও উন্নত ও জনপ্রিয় করতে না পারায় অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর উদ্যোগে ভাটা পড়ে। তা ছাড়া কাস্টমস কর্মকর্তাদের মনোভাব পরির্বতন করা দরকার।

এদিকে সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সে এখনও আগের মতোই তিন থেকে চার দিন সময় লাগছে। এ জন্য কাস্টমসের আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকে দায়ী করেন তারা।

এ বিষয়ে এনবিআরের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, সনদপ্রাপ্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হলেও তারা তা করছে না। সে কারণে এইও সুবিধা পাচ্ছে না কোম্পানিগুলো।

ডব্লিউসিওর তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে এইও সনদ পাওয়া প্রতিষ্ঠান ১১ হাজার ২০টি। ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ১৭ হাজার ৮৯৫টি, চীনে ৩ হাজার ২০৩টি, দক্ষিণ কোরিয়ায় ৮৪৫টি এবং জাপানে ৭০৬টি।

বিশ্বব্যাংকের সবশেষ ২০২০ সালের ‘ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস’ প্রতিবেদনে ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৬৮তম। কাস্টমস ও বন্দরে দক্ষতার অভাব বাংলাদেশের এই পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ।

এ ছাড়া বিশ্বব্যাংকের ২০১৮ সালের লজিস্টিক পারফরম্যান্স ইনডেক্স (এলপিআই) অনুযায়ী চীন, ভিয়েতনাম, ভারত, কম্বোডিয়াসহ প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর চেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ। এই সূচকেও বাংলাদেশ কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সে সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্স করেছিল।

এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম আরও বেশিসংখ্যক প্রতিষ্ঠানকে এইও সনদ দেয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, ‘এ উদ্যোগ বন্দরে জট কমানোর পাশাপাশি ব্যবসায় সময় ও খরচ কমাতে সাহায্য করবে।’

আরও পড়ুন:
শাহজালাল বিমানবন্দরে মশা নিধনে ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টের নির্দেশ
রিজার্ভ কেউ চিবিয়ে খায়নি: প্রধানমন্ত্রী
দ্রুত পণ্য খালাসের উদ্যোগে সাড়া নেই
৩ কেজি স্বর্ণসহ দুবাইফেরত দুই যাত্রী গ্রেপ্তার
গ্রিড বিপর্যয়েও সচল বন্দর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Jamaat separation secret of BNP in two considerations

দুই বিবেচনায় জামায়াত-বিচ্ছেদ গোপন বিএনপির

দুই বিবেচনায় জামায়াত-বিচ্ছেদ গোপন বিএনপির ইফতার মাহফিলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে জামায়াতের সাবেক দুই আমির মতিউর রহমান নিজামী ও মকবুল আহমাদ। এর মধ্যে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ২০১৬ সালে ফাঁসির দড়িতে ঝুলেছেন নিজামী। আর ২০২১ সালে হাসপাতালে মৃত্যু হয় মকবুলের। ছবি: সংগৃহীত
জামায়াতকে বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির আবার সম্ভাব্য জোটকে মোকাবিলায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে। আবার জামায়াত জোটে থাকলে যুগপৎ আন্দোলনে অন্য দলগুলোকে কাছে পাওয়ার বাসনাও পূরণ হওয়া নিয়ে আছে অনিশ্চয়তা। এর অংশ হিসেবেই দলটি থেকে দূরত্ব রাখার কৌশল আছে।

বিএনপির সঙ্গে জোট নেই, দলের নেতা-কর্মীদের জানিয়ে দিয়েছেন জামায়াতের আমির। কিন্তু ‘রা’ নেই বিএনপির মুখে। এর মধ্যে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির বর্জনের মুখেও জামায়াতের প্রার্থী দেয়ার মধ্যে রাজনৈতিক সমীকরণটাও স্পষ্ট। তবু সম্পর্ক স্পষ্ট করছে না বিএনপি। কেবল দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, এখন থেকে বিএনপি-জামায়াত আর নয়।

কেবল জামায়াত নয়, ২০-দলীয় জোটের বেশির ভাগ শরিকের সঙ্গেই বিএনপির যোগাযোগ একেবারে তলানিতে। যুগপৎ আন্দোলনের পরিকল্পনার কথা বলে গত জুলাই থেকে রাজপথে কর্মসূচি বাড়িয়ে কেবল শরিকদের নয়, যাদের সঙ্গে সংলাপ, তাদেরও ডাকছে না দলটি।

কেন জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি বিএনপি স্পষ্ট করে না, এমন প্রশ্নে ২০-দলীয় জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘১০ ডিসেম্বরের পর এসব নিয়ে প্রশ্ন করেন। এখন আমরা অনেক ব্যস্ত আছি।’

বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বললে তারাও নিশ্চিত করেন, জামায়াতের সঙ্গে এখন কোনো পর্যায়ে রাজনৈতিক যোগাযোগ নেই। এমনকি বিএনপি বিভিন্ন দল ও জোটের শরিকদের সঙ্গেও যুগপৎ আন্দোলন নিয়ে যে সংলাপ করেছে, সেখানেও ডাকা হয়নি জামায়াতকে।

এর মধ্যে গত আগস্টের শেষে কুমিল্লা জামায়াতের একটি রুকন সম্মেলনে ভার্চ্যুয়ালি যোগ দিয়ে দলটির আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা এতদিন একটা জোটের সঙ্গে ছিলাম। আপনারা শুনে হয়তো ভাবছেন কী হয়েছে এখন। হ্যাঁ, হয়ে গেছে।’

বিএনপির প্রতি দোষ দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই বিষয়টি এখন আমাদের কাছে স্পষ্ট, দিবালোকের মতো পরিষ্কার এবং তারা আমাদের সঙ্গে বসে এটা স্বীকার করেছে। …বছরের পর বছর এই ধরনের অকার্যকর জোট চলতে পারে না।…একটা জোটের সঙ্গে কি কেয়ামত পর্যন্ত থাকব?... কোনো অ্যালায়েন্স আপনারা করবেন না, বাস্তবতাও নাই, পারবেনও না।’

বিএনপির পক্ষ থেকে এই বক্তব্যের বিপরীতে কোনো জবাব দেয়া হয়নি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এ বিষয়ে তারা কিছুই বলবেন না। সাংবাদিকদের প্রশ্নে এ-ও বলেছেন, কিছু না বলতে চাওয়া তার গণতান্ত্রিক অধিকার।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জোট ভেঙে গেছে অনেক আগেই। নানা প্রতিকূলতা আর সিদ্ধান্তহীনতার কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হচ্ছে না।’

কী সেই প্রতিকূলতা আর সিদ্ধান্তহীনতা?- এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘প্রতিকূলতা বলতে দলের সিদ্ধান্তহীনতার কথাই বলছি। সেটা বিএনপিরও হতে পারে, জামায়াতেরও হতে পারে। এটা তো খোলাসা করে বলা মুশকিল।’

তবে এই সিদ্ধান্তহীনতা দূর হবে- এমন প্রশ্নে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তই হয়নি।’

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘জোট আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে দেয়া হয়নি, ফলে এখনও আছে।

‘সংলাপে জোটের শরিক দলগুলো একমত হয়েছে, তারা যুগপৎ আন্দোলনটা শুরু করবে। যার যার অবস্থান থেকে আন্দোলন শুরু হয়ে চলতে থাকবে। যারা আন্তরিকতার সঙ্গে সেই আন্দোলনে থাকবে, তারা কোনো একপর্যায়ে গিয়ে আবার ঐক্যবদ্ধ হবে কি না সেটা এখনই বলা যাবে না। আন্দোলনের গতি-প্রকৃতির ওপর সেটা নির্ভর করবে।’

দুই বিবেচনায় জামায়াত-বিচ্ছেদ গোপন বিএনপির
২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে সে সময়ের চারদলীয় জোটের নেতারা এক মঞ্চে। ফাইল ছবি

বিএনপির না হয় নানা হিসেবনিকেশ। রংপুরে প্রার্থী দিয়ে বিএনপির সঙ্গে মতভিন্নতা স্পষ্ট করার পরও জামায়াতের গোপনীয়তার কী বাকি- এমন প্রশ্ন নিয়ে দলটির মুখপাত্র মতিউর রহমান আকন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করে হতাশ হতে হয়।

নারী কণ্ঠে প্রশ্ন শুনে তিনি কথা বলতেই চাননি। পরে অন্য একজনকে দিয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি জোট নয়, কথা বলেন যুগপৎ আন্দোলন নিয়ে।

তিনি বলেন, ‘যুগপৎ আন্দোলন চূড়ান্ত হলে আমাদের সঙ্গে (বিএনপির) সংলাপ হবে।’

বিএনপির ‘দুই ভয়’

ভোটের সমীকরণের হিসাবনিকাশের কারণে স্বাধীনতাবিরোধী দলটির সঙ্গে বিচ্ছেদের ঘোষণা দিয়ে দেয়াও কঠিন। জামায়াতকে বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির আবার সম্ভাব্য জোটকে মোকাবিলায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে। এ কারণে শেষ পর্যন্ত জোটের বিষয়ে ধোঁয়াশা রেখে দেয়ার একটি ভাবনা আছে।

জামায়াতের একটি ভোটব্যাংক আছে উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, উত্তর-পূর্ব ও চট্টগ্রাম বিভাগে। সব মিলিয়ে ৭০ থেকে ৮০টি আসনে ভোটের লড়াইয়ে বিএনপিকে সুবিধা এনে দেয় তা।

আবার জামায়াত জোটে থাকলে যুগপৎ আন্দোলনে অন্য দলগুলোকে কাছে পাওয়ার বাসনাও পূরণ হওয়া নিয়ে আছে অনিশ্চয়তা। এর অংশ হিসেবেই দলটি থেকে দূরত্ব রাখার কৌশল আছে।

২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনেই বিএনপি বিষয়টি নিয়ে ভুগেছে। ভোটের আগে আগে ভারতীয় একটি প্রভাবশালী দৈনিককে দেয়া সাক্ষাৎকারে বিএনপির জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছিলেন, জামায়াত জোটে আছে জানতে পারলে তারা বিএনপির সঙ্গে সম্পর্কই গড়তেন না।

এবারও বৃহত্তর বা যুগপৎ আন্দোলনের ক্ষেত্রে জামায়াত ইস্যু কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায় কি না, এই ভাবনা থেকে দলটির সঙ্গে কোনো প্রকাশ্য আলোচনায় যায়নি দলটি। যদিও গত আগস্টে এই জোট ভেঙে যাওয়ার কথা জানিয়ে কুমিল্লা ইউনিটের রুকন সম্মেলনে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে আপত্তি নেই তাদের।

ভোটের হিসাবনিকাশ

পাকিস্তান আমলে ১৯৭০ সালের নির্বাচন এবং স্বাধীন বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় নির্বাচনের ফল বিবেচনা করে দেখা যায়, জামায়াতে ইসলামীর ভোট ৫ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যেই থাকে। এর মধ্যে ১৯৯১ সালেই কেবল তা লাফ দিয়েছিল, তবে সে সময় বিএনপির সঙ্গে অঘোষিত সমঝোতা একটি কারণ হতে পারে।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে ৬ শতাংশ ভোট পাওয়া জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষে অস্ত্র ধরে যুদ্ধ শেষে নিষিদ্ধ হয়। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের শাসনামলে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ পাওয়ার পর ১৯৮৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে তারা অংশ নেয়। সেই নির্বাচনে দলটি ভোট পায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। আসন পায় ১০টি।

বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সমঝোতায় ভোটের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব পড়ে, সেটি বোঝা গেছে ১৯৯১ ও ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে।

এরশাদ পতনের পর প্রথমবারের ভোটে আওয়ামী লীগকে দ্বিতীয় অবস্থানে ঠেলে দিয়ে বিএনপির ক্ষমতায় আসা নিয়ে এখনও আলোচনা হয় যে, এটা কীভাবে হলো।

ওই নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের নায়েবে আমির মুজিবুর রহমানের লেখা একটি বইয়ের তথ্য বলছে, পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে জামায়াতকে অঘোষিতভাবে ৩৫ আসনে সমর্থন দেয় বিএনপি। আর বিএনপিকে শতাধিক আসনে ভোট দেয় দলটি।

সেই নির্বাচনে বিএনপি আসন পায় ১৪০টি, জামায়াত পায় ১৮টি। আর আওয়ামী লীগ পায় ৮৮ আসন।

ওই নির্বাচনে দুই প্রধান দলের ভোট ছিল একেবারেই কাছাকাছি। ধানের শীষ নিয়ে বিএনপি পায় মোট ভোটের ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ। আর নৌকা নিয়ে আওয়ামী লীগ পায় ৩০ দশমিক ১০ শতাংশ।

জামায়াতের বাক্সে পড়ে ১২ দশমিক ১০ শতাংশ ভোট। দলটির রাজনৈতিক ইতিহাসে স্বাভাবিক হারের দ্বিগুণের বেশি ভোট পাওয়াতেই এটা স্পষ্ট হয় যে নেপথ্যে কিছু একটা ছিল।

২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক জোটই করে দল দুটি। সঙ্গে ছিল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি থেকে বের হয়ে আসা একটি অংশ, যারা এরশাদ জোট ছাড়ার পরেও বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে থেকে যায়। একই সঙ্গে ছিল কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক দলগুলোর মোর্চা ইসলামী ঐক্যজোট।

এই সম্মিলিত শক্তিতে আওয়ামী লীগকে বলতে গেলে উড়িয়ে দেয় তারা। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে এই জোট আসন পায় দুই শতাধিক, যার মধ্যে বিএনপি একাই পায় ১৯৩টি, জামায়াত পায় ১৭টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি বা বিজেপি পায় চারটি, ইসলামী ঐক্যজোট পায় দুটি আসন।

ওই বছর আওয়ামী লীগ আসন পায় ৬২টি। এর মধ্যে উপনির্বাচনে দলটি আরও চারটি আসন হারিয়ে ফেলে। শেষ পর্যন্ত আসন দাঁড়ায় ৫৮তে।

সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ভোটের পার্থক্য ছিল কম। বিএনপি পায় মোট ভোটের ৪১ দশমিক ৪০ শতাংশ। আর আওয়ামী লীগ পায় ৪০ দশমিক ০২ শতাংশ।

জামায়াতের আসন ১৭টি হলেও তাদের ভোট ছিল ৪ দশমিক ২৮ শতাংশ।

মাঝে ১৯৯৬ সালে যে দুইবার ভোট হয়, তার মধ্যে ১৫ ফেব্রুয়ারির ভোট আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মতো বর্জন করে জামায়াতও। ওই বছরের ১২ জুন সব দল একক শক্তিতে যে নির্বাচন করে, তাতে জামায়াতের ভোট আবার কমে যায়।

ওই বছর মোট ভোটের ৩৭ দশমিক ৪০ শতাংশ পড়ে আওয়ামী লীগের বাক্সে। দলটি আসন পায় ১৪৬টি। বিএনপি ১১৬টি আসন পায়। মোট ভোটের ৩৩ দশমিক ৬০ শতাংশ পায় দলটি।

অর্থাৎ এই নির্বাচনেও যদি বিএনপি ও জামায়াতের সমঝোতা থাকত, তাহলে তারা আওয়ামী লীগের চেয়ে বেশি ভোট পেতে পারত। আর এরশাদ সরকারের পতনের পর যে দুটি নির্বাচনে বিএনপি ভোট কিছুটা বেশি পেয়েছে, দুটিতেই আসন অনেক বেশি নিয়ে সরকার গঠন করেছে।

২০০৮ সালের পর নতুন সমীকরণ

২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে তৈরি হয় নতুন সমীকরণ। ওই বছর আওয়ামী লীগও ভোটে নামে জোটের শক্তি নিয়ে। জাতীয় পার্টির একটি উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোট যোগ হওয়ার পর বিএনপির জোট আর পাত্তা পায়নি।

এই নবম সংসদ নির্বাচনে ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগ আসন পায় ২৩০টি। এই ভোটের মধ্যে জাতীয় পার্টি ও অন্য শরিকদের সমর্থকদের অংশগ্রহণও ছিল।

আর বিএনপির ধানের শীষে ভোট পড়ে ৩২ দশমিক ৫০ শতাংশ। আসন হয় ৩০টি।

জোটের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে জাতীয় পার্টিও পায় ২৭টি আসন। আওয়ামী লীগের ভোটাররাও লাঙ্গলে সিল দেয়ার পর দলটির ভোট দাঁড়ায় ৭ দশমিক ০৪ শতাংশ, যা ছিল আগের নির্বাচনের চেয়ে বেশি।

ওই নির্বাচনে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লায় ভোট পড়ে ৪ দশমিক ৭০ শতাংশ, যা আগের নির্বাচনের চেয়ে বেশি, তবে আসন কমে হয় দুটি।

দুই বিবেচনায় জামায়াত-বিচ্ছেদ গোপন বিএনপির
২০০৬ সালে পল্টনে লগি-বৈঠা হাতে থাকা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন প্রাণহানি হয়। সে সময় সরকারের পক্ষ থেকে কাঙ্ক্ষিত সহায়তা পায়নি জামায়াত। ফাইল ছবি

ঘোষণা দিয়ে বিএনপির জোট ছেড়েছে যারা

বিএনপি জোট থেকে গত কয়েক বছরে বের হয়ে গেছে বেশ কয়েকটি দল। এর মধ্যে রয়েছে প্রয়াত আবুল হাসনাত আমিনীর নেতৃত্বাধীন ইসলামী ঐক্যজোট, আন্দালিভ রহমান পার্থের বিজেপি, জেবেল রহমান গানির বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ, মুহম্মদ ইসহাকের নেতৃত্বাধীন খেলাফত মজলিস, প্রয়াত নূর হোসেন কাসেমীর জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এনডিপি ও হামদুল্লাহ আল মেহেদীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ লেবার পার্টি।

অবশ্য এই দলগুলো ২০-দলীয় জোট ছেড়ে গেলেও জোটে দলের সংখ্যা কমেনি একটিও। কারণ, যে দল জোট ছেড়েছে, সে দলের কয়েকজন নেতা একই নামে দল করে ২০-দলীয় জোটের শরিক হিসেবে থেকে গেছে।

আরও পড়ুন বিএনপির ওপর জামায়াত নাখোশ ‘তিন কারণে’

বিএনপি-জামায়াতের বিচ্ছেদে কতটা পাল্টাবে রাজনীতি

আরও পড়ুন:
ভালোয় ভালোয় কেটে পড়ুন: সরকারকে ফখরুল
চব্বিশে আমরা ক্ষমতায়: রুমিন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
In October the plane touches the sea and lands in Coxs Bazar

সমুদ্র ছুঁয়ে বিমান নামার পথ খুলছে কক্সবাজারে

সমুদ্র ছুঁয়ে বিমান নামার পথ খুলছে কক্সবাজারে সমুদ্রের বুকে রানওয়ে সম্প্রসারণসহ কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের কাজ ৪২ শতাংশ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
কক্সবাজার বিমানবন্দর ঘিরে বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের কাজ শেষ হবে জুনে। রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ শেষ হবে আগামী অক্টোবরে।

কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। সমুদ্রের বুকে রানওয়ে সম্প্রসারণের ৪২ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল (যাত্রী প্রান্তিক ভবন) নির্মাণকাজও ৮২ শতাংশ এগিয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের মধ্যে প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ পুরোপুরি শেষ হবে বলে আশা করছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এ ছাড়া, আকাশপথে কক্সবাজার যেতে শুধু দিনে অপেক্ষার সময় শেষ হতে চলেছে। এখন রাতেও ফ্লাইট নামবে সাগরঘেঁষা রানওয়েতে। একইভাবে সারা দিন কাটিয়ে রাতে ফেরা যাবে উড়োজাহাজে। বাংলাদেশের প্রধান পর্যটন নগরীতে অবকাঠামোর সংকটে এখন পর্যন্ত সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত ফ্লাইট ওঠানামা করতে পারে। তবে সংকট আর থাকছে না। রাতেও ফ্লাইট ওঠানামার সব প্রস্তুতি শেষ। যেকোনো দিন ফ্লাইট শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, কক্সবাজার বিমানবন্দর ঘিরে চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। একদিকে চলছে সমুদ্রের বুকে রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ, অপরদিকে চলছে আন্তর্জাতিক যাত্রী প্রান্তিক ভবন নির্মাণের কাজ। সমুদ্র তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ব্যস্ত শ্রমিকরা। চারপাশে রাস্তাও নির্মাণ করা হচ্ছে।

সমুদ্র ছুঁয়ে বিমান নামার পথ খুলছে কক্সবাজারে

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজে মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকার বেশি। আর আন্তর্জাতিক যাত্রী প্রান্তিক ভবন নির্মাণে ব্যয় হবে ২৭৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পটির অনুমোদন দেয় সরকার।

কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ইউনুস ভুঁইয়া বলেন, ‘সমুদ্রতীরবর্তী জমি পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ করে সরকার বিমানবন্দটির আরও উন্নয়ন ঘটানোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রকল্পের আওতায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের প্রভাব থেকে রানওয়ের সুরক্ষার জন্য সমুদ্রতীরে রক্ষাপ্রদ বাঁধ নির্মাণ এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে চারপাশে রাস্তাও নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় সমুদ্রগর্ভে আরও প্রায় ২ হাজার ২০০ ফুট দীর্ঘ প্রিসিশন অ্যাপ্রোচ লাইট স্থাপনসহ বিদ্যমান রানওয়েতে ক্যাট-২ এজিএল সিস্টেম স্থাপন করা হবে।

তিনি বলেন, ‘প্রকল্পের কাজ শেষ হলে নতুন ১৭০০ ফুটসহ এই বিমানবন্দরের রানওয়ে হবে ১০ হাজার ৭০০ ফুট, তাই দেশের দীর্ঘতম রানওয়ে সমৃদ্ধ বিমানবন্দর হবে কক্সবাজার। তখন সমুদ্র ছুঁয়ে বি-৭৭৭-৩০০ ইআর, বি-৭৪৭-৪০০ এর মতো বড় আকারের বিমানগুলো এই বিমানবন্দরে অবতরণ করতে পারবে।’

দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে আন্তর্জাতিক যাত্রী প্রান্তিক ভবন নির্মাণের কাজও। এ প্রকল্পের আওতায় অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা-সংবলিত ১৪ হাজার বর্গমিটার আন্তর্জাতিক যাত্রী প্রান্তিক ভবন, একটি বোর্ডিং ব্রিজ স্থাপন, ৩৬ হাজার ৩০০ বর্গমিটার সুপরিসর বিমান পার্কিং অ্যাপ্রন ও ১৯০টি অভ্যন্তরীণ/ আন্তর্জাতিক যাত্রী এবং ৩৫টি ভিআইপি ভেহিক্যাল পার্কিংবিশিষ্ট কারপার্ক নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে ৮২ শতাংশ কাজ।

কক্সবাজার বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক গোলাম মোর্তজা হোসেন বলেন, ‘বর্তমানে কক্সবাজার বিমাবন্দরে প্রতিদিন গড়ে ২৫-৩০টি যাত্রীবাহী বিমান ও ৬-৮টি কার্গো বিমান ওঠানামা করছে। রাতে বিমান ওঠানামার জন্যও প্রায় প্রস্তুত। সমুদ্রগর্ভে আরও লাইটিং সিস্টেম স্থাপনের কাজ চলছে।’

পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হলে এই বিমানবন্দর শুধু পর্যটন নয়, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক বিকাশে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমরা খুবই উজ্জীবিত। রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে শেষ হতে যাচ্ছে। একই সাথে আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ২০২৩ সালের জুন মাসে চালু হবে-এমন লক্ষ্য আছে। বিমানবন্দর এবং রেলপথের কাজ যেভাবে এগাচ্ছে, সেভাবে যদি আমরা এগোতে পারি, তাহলে কক্সবাজার সত্যিকার অর্থে একটি আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন স্থান হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হবে। আমরা মনে করি, বাংলাদেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে জিডিপিতেও কক্সবাজার জেলা অবদান রাখবে।’

২০১৭ সালের ৬ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রানওয়েতে বোয়িং ৭৩৭-৮০০ জাতীয় বিমান অবতরণের মাধ্যমে ‘কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন (প্রথম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সিভিল, ন্যাভ-এইড ও এজিএল কাজের উদ্বোধন করেন। এ প্রকল্পের আওতায় ২৯০ হেক্টর ভূমি বন্দোবস্ত এবং ৮ দশমিক ৩৭ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের আওতায় বিদ্যমান রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৬ হাজার ৭৭৫ ফুট থেকে ৯ হাজার ফুটে এবং চওড়া ১০০ ফুট থেকে ২০০ ফুটে উন্নীত করা হয়। এ ছাড়া সুপরিসর বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণের লক্ষ্যে বিদ্যমান রানওয়ের পিসিএন ১৭ হতে ৯০ এ উন্নীতকরণসহ আইএলএস, ডিডিওআর, ক্যাট-১ এজিএল লাইট স্থাপন, নিরাপত্তা সীমানা প্রাচীর ও ড্রেনেজ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এতে ঠিকাদারি কাজের ব্যয় দাঁড়ায় ৬৫৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

এরপর ২০২১ সালের ২৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমুদ্রগর্ভে আরও ১ হাজার ৭০০ ফুট রানওয়ে বর্ধিতকরণের লক্ষ্যে ‘কক্সবাজার বিমানবন্দরে রানওয়ে সম্প্রসারণ’ প্রকল্প কাজের উদ্বোধন করেন। এ প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়েতে পূর্ণ লোডে সুপরিসর বিমান তথা বি-৭৭৭-৩০০ ইআর, বি-৭৪৭-৪০০ জাতীয় বিমান উড্ডয়ন-অবতরণ নিশ্চিত হবে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিওয়াইডব্লিউইবি-সিসিইসিসি জেভি প্রকল্প কাজ বাস্তবায়নে নিয়োজিত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ২০৩৫ সালের মধ্যে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর তথা রিজিওনাল হাব হিসেবে দিতে ‘কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন (দ্বিতীয় পর্যায়)’ নামে একটি প্রকল্প তৈরির কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
BIWTA destroyed farmers potato fields

বিআইডাব্লিউটিএ নষ্ট করল কৃষকের আলুর ক্ষেত

বিআইডাব্লিউটিএ নষ্ট করল কৃষকের আলুর ক্ষেত দিনাজপুরে নদী খননের নামে বিআইডাব্লিউটিএ কৃষকদের আবাদ করা আগাম জাতের আলুর ক্ষেত নষ্ট করছে। ছবি: নিউজবাংলা
দিনাজপুরে পুনর্ভবা নদী খনন শুরু করছে বিআইডাব্লিউটিএ। নদীর দুই পারে ৫০০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন কৃষকরা। সেগুলো নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষকরা বলছেন, তাদের এক মাসের সময় দেয়া হোক।

আগামী দিনে দেশে খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সব ধরনের জমিতে ফসল আবাদ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি পতিত জমিতেও ফসল চাষাবাদ করার নির্দেশনা দিলেও দিনাজপুরে নদী খননের নামে বিআইডাব্লিউটিএ কৃষকদের আবাদ করা আগাম জাতের আলুর ক্ষেত নষ্ট করছে। এমনকি ব্যক্তিগত আলুর ক্ষেতও এস্কাভেটর মেশিন দিয়ে খুঁড়ে দিয়েছে সরকারি এ প্রতিষ্ঠান।

এভাবে কয়েক একর জমির আলুর ক্ষেত নষ্ট করে দিয়েছে বিআইডাব্লিউটিএ। ফসল ওঠা পর্যন্ত কৃষকরা সময় চাইলেও তাদের কথা শোনা হচ্ছে না।
সম্প্রতি দিনাজপুর সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের মহব্বতপুর, উলিপুর ও খাড়িপাড়ার শতাধিক ভুক্তভোগী কৃষক দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক বরাবর একটি অভিযোগ দিয়েছেন।

চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুর শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত পুনর্ভবা নদীর খনন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। নদীটির খনন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে বিআইডাব্লিউটিএ।

নদীর ৩৩ কিলোমিটার খনন করতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৩ কোটি ৯৫ লাখ ৬৯ হাজার ৫৬০ টাকা। পৃথক পাঁচটি প্যাকেজে পাঁচটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে নদীর পাশে জমিতে বিভিন্ন চাষাবাদ করে আসছি। সেই আলোকে আমরা আগাম জাতের আলু রোপণ করেছি। আর কয়েক দিন পরই আলু বাজারে ওঠানোর মতো অবস্থায় চলে আসবে। কিন্তু এরই মধ্যে জানতে পারলাম যে বিআইডাব্লিউটিএ কর্তৃক পুনর্ভবা নদী খনন শুরু হবে। ইতোমধ্যে তারা কয়েকজন কৃষকের আলুর ক্ষেত খুঁড়ে দিয়েছে। এভাবে খুঁড়তে থাকলে ৫০০ বিঘা জমির আলু নষ্ট হবে। তাই আমাদের এক মাসের সময় দেয়া হোক। নইলে আমাদের অপূরণীয় ক্ষতি হবে।’

উলিপুর গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে পুনর্ভবা নদী। নদীটির পাশেই চরে মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে সারি সারি নতুন আলুর গাছ। আর কয়েক দিন পরে এই ক্ষেতে আলু বাজারে উঠতে শুরু করবে। কিন্তু কৃষকের হাসি বিষাদে রূপ নিতে শুরু করেছে বিআইডাব্লিউটিএর কারণে। আগাম জাতের আলুর ক্ষেত নষ্ট করে নদী খনন কার্যক্রম পরিচালনা করছে তারা। অনেক কৃষকের আলুর ক্ষেত খুঁড়ে মাটি সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। এতে করে কৃষকরা ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে। বারবার সময় চেয়েও পাচ্ছে না কৃষকরা। এমনকি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিকে নদীর জমি হিসেবে চিহ্নিত করে খুঁড়ে দেয়া হচ্ছে।

বিআইডাব্লিউটিএ এমন কার্যক্রমের ফলে অসহায় হয়ে পড়েছে ওই গ্রামের বহু কৃষক। নদী খনন কার্যক্রম চলমান থাকলে প্রায় ১ কোটি টাকার আলুর ফলন নষ্ট হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন কৃষকরা।

কিষানি নুর বানু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই জমি আমাদের। আমরা একজনকে বর্গা দিছি। কিন্তু বিআইডাব্লিউটিএ সরকারের জমি বলে খুঁড়ে দিছে। এখন তো ওই লোকের অনেক ক্ষতি হলো। আলুর গাছ খুঁড়ে নষ্ট করে দেয়া হলো।’

কৃষক আব্দুল জলিল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যদি এই জমিগুলো সরকারের হয়, তাহলে তো আমাদের মাইকিং করে জানাতে পারত। কিন্তু এখন আলুর ক্ষেত নষ্ট করে দেয়া হচ্ছে। এখানে এক বিঘা জমিতে ৪০ মণ আলু পাওয়া যায়। আমরা ঋণ ও ধারদেনা করে এই আলুর চাষাবাদ করতেছি।

‘নদী খনন হলে ৫০০ থেকে ৭০০ একর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ইতিমধ্যে আমার জমির পাশেই এক একর জমির ফসল নষ্ট করে দিয়েছে। আমরা তো এই জমি খেয়ে ফেলতেছি না। আমরা তো খাদ্য উৎপাদন করতেছি। তাই আমরা তাদের কাছে এক মাসের সময় চাচ্ছি।’

কৃষক আরিফ আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই জমি আমার রেকর্ডভুক্ত সম্পত্তি। অথচ এখন নদী খনন করতে এসে তারা সরকারের জমি বলে দাবি করতেছে। এখানে জমি বর্গা দিয়েছি। বর্গা চাষিদের ফসল নষ্ট করে দিল। পাশাপাশি আমার জমি খুঁড়ে শেষ করে দিল। জমির সব ধরনের কাগজপত্র আমার কাছে আছে। কিন্তু তাদের কাছে কাগজপত্র দেখতে চাইলে তারা কাগজপত্র দেখাতে পারছে না।’

তরুণ উদ্যোক্তা মোসাদ্দেক হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই জমিগুলোর আলু আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই উঠতে শুরু করবে। জমি খুঁড়ে ফেলার ফলে কৃষকদের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। খনন কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে এই এলাকার প্রায় ১ কোটি টাকার আলু নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই কৃষক ও জাতির স্বার্থে খনন কার্যক্রমটি ২০ দিন অথবা এক মাস বন্ধ রাখার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি অনুরোধ রাখছি।’

এ ব্যাপারে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক খালেদ মোহাম্মদ জাকীকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এমনকি খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তার কোনো জবাব দেননি।

আরও পড়ুন:
বিচারক বদলি, পেছাল ঘোড়াঘাটের ইউএনও হত্যাচেষ্টা মামলার রায়
যুগ পর কাউন্সিলের তারিখে বিএনপি নেতাদের দৌড়ঝাঁপ
গৃহায়নের প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগ, অবরুদ্ধ কার্যালয়

মন্তব্য

বাংলাদেশ
What is the reason behind more than one lakh drop in SSC

এসএসসিতে এক লাখ বেশি ফেলের পেছনে কী কারণ

এসএসসিতে এক লাখ বেশি ফেলের পেছনে কী কারণ এসএসসির একটি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীরা। ফাইল ছবি
কয়েকটি বছরের ফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, গত বছরের পরিসংখ্যান বাদ দিলে এর আগের বছরগুলোর তুলনায় পাসের হারে এবার বড় ধরনের হেরফের নেই। বরং ২০১৯ বা ২০২০ সালের তুলনায় এবার পাসের হার খানিকটা বেশি।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয়া ১৯ লাখ ৯৪ হাজার ১৩৭ শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেনি ২ লাখ ৫০ হাজার ৫১৮ জন। অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এই সংখ্যা গত বছরের চেয়ে এক লাখেরও বেশি।

এ বছর ২ হাজার ৯৭৫টি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে, তবে ৫০টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়নি। গত বছর এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ১৮। ২০২১ সালে শতভাগ পাসের প্রতিষ্ঠান ছিল ৫ হাজার ৪৯৪।

প্রশ্ন উঠেছে, আগের বছরের তুলনায় এবার পাসের হারে কেন এত অবনতি? এটি ধারাবাহিক ঘটনা কি না, কী এর কারণ- তেমন প্রশ্নও উঠছে।

তবে কয়েকটি বছরের ফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, গত বছরের পরিসংখ্যান বাদ দিলে এর আগের বছরগুলোর তুলনায় পাসের হারে এবার বড় ধরনের হেরফের নেই। বরং ২০১৯ বা ২০২০ সালের তুলনায় এবার পাসের হার খানিকটা বেশি।

চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সামগ্রিকভাবে পাসের হার ৮৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ। অর্থাৎ এ বছর ১২ দশমিক ৫৬ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

আগের বছর ২০২১ সালে মাত্র ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেনি।

তবে ২০২০ সালে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৮২ দশমিক ৮৭ শতাংশ, অর্থাৎ সে বছর ১৭ দশমিক ১৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

তারও আগের বছর ২০১৯ সালে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থী ছিল ১৭ দশমিক ৮০ শতাংশ। চারটি বছরের ফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, গত বছরটিতেই কেবল আকস্মিকভাবে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ব্যাপক হারে কমে আসে।

এসএসসির ফলে বিশেষ উন্নতির পেছনে কী কারণ ছিল ২০২১ সালে?

শিক্ষা বোর্ড এবং বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকেরা বলছেন, করোনাকালীন বিশেষ পরিস্থিতি ২০২১ সালের পরীক্ষায় বিস্ময়কর পাসের হারে ভূমিকা রেখেছে। করোনা মহামারির অচলাবস্থার পর গত বছরের এসএসসিতে মাত্র তিনটি পরীক্ষা নেয়া হয়।

গত বছর বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, জীববিদ্যা/উচ্চতর গণিত বিষয়ে তিনটি পরীক্ষা হয়। মানবিকে ছিল ভূগোল ও পরিবেশ, বাংলাদেশের ইতিহাত ও বিশ্বসভ্যতা, পৌরনীতি ও নাগরিকতা/অর্থনীতির ওপর তিনটি পরীক্ষা। আর ব্যবসায়ে শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা হিসাববিজ্ঞান, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং এবং ব্যবসায়িক উদ্যোগ বিষয়ে পরীক্ষা দেয়।

অন্য বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে নম্বর যোগ হয় জেএসসি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে। ফলে অনেক চাপমুক্ত থেকে পরীক্ষা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। অকৃতকার্যের হারও ছিল অনেক কম। বিপরীতে এ বছর নয়টি বিষয়ে পরীক্ষা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

পরীক্ষাসংশ্লিষ্টরা বলছেন এ বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল কেমন হলো তা সঠিক পর্যালোচনা করতে তুলনাটি করতে হবে করোনা স্থবিরতা তৈরি হওয়ার আগের বছরগুলোর সঙ্গে। আর সে ক্ষেত্রে দেখা যায়, ২০২০ সাল বা ২০১৯ সালের তুলনায় পাসের হার এবার বেড়েছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান তপন কুমার সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের এবারের ফলের সঙ্গে ২০২১ সালের তুলনা করা উচিত হবে না। তুলনা করতে হলে ২০১৯ বা ২০২০ সালের সঙ্গে করা উচিত।

‘২০২১ সালে শিক্ষার্থীরা সুবিধা পেয়েছে বেশি। অর্ধেক নম্বরের ওপর পরীক্ষা ছিল। এবার কিন্তু তা ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘২০১৯ অথবা ২০২০ সালে পরীক্ষার্থীদের জন্য কোনো আলাদা সুযোগ ছিল না। করোনা পূর্ববর্তী সময়ের হওয়াতে সবগুলো বিষয়ের ওপর ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হয়েছিল।’

যশোর শিক্ষা বোর্ডের প্রধান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গতবার কম বিষয়ের কারণে পাসের হারও বেশি ছিল। শর্ট সিলেবাসে তারা বেশি সুযোগ পেয়েছে। এবার সিলেবাসও কম ছিল আবার পরীক্ষায় অপশন বেশি ছিল। তবে এবার যারা পাস করেছে তারা সবাই ভালো করেছে।’

রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরজাহান বেগম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যদি আমরা ফলাফল ও শিখনের ওপর গুরুত্ব দিই তবে আমাদের এবারের ফল ২০২০ সালের চেয়ে ভালো। ২০২১ সালে মাত্র তিনটি বিষয়ে অর্ধেক নম্বরের ওপর পরীক্ষা হলেও এবার নম্বর ও বিষয় বেড়েছে।’

বরিশাল জিলা স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক বিশ্বনাথ সাহা অবশ্য মনে করছেন এবারের ফলের ওপরেও করনাকালীন পরিস্থিতির প্রভাব রয়ে গেছে।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনার একটা প্রভাব থেকেই যাবে। যত সুযোগ দেয়া হোক না কেন একটা শিখন ঘাটতি থাকবে। অনেকেই সে সময় ঝরে গেছে, যারা ছিল তারাই ভালো করেছে। এটা ঠিক হতে কিছু বছর সময় লাগবে।’

প্রভাব ফেলেছে বন্যাও

এসএসসি পরীক্ষার সময়ে সিলেট বিভাগে বন্যা ওই অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। এবার সিলেট বোর্ডে সবচেয়ে কম ৭৮ দশমিক ৮২ শতাংশ শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সোমবার ফলের বিস্তারিত তুলে ধরার শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনিও এ বিষয়টি তোলেন।

পরীক্ষায় পাসের হার নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই সব শিক্ষার্থী পাস করবে। আমাদের সবকিছুই ঠিক ছিল, তবে একটা কারণে (বন্যা) সেটা হয়নি। সবকিছু বাদ দিয়েছি। নতুন করে আবার রুটিন দিয়েছি। এ কারণে কিন্তু শিক্ষার্থীর ওপর একটা চাপ পড়ে। একরকম প্রিপারেশন থাকে, সেটা ব্যাহত হয়।’

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন বোর্ডের রেজাল্ট কিন্তু একটা আলাদা আলাদা প্রভাব ফেলে। যশোর বোর্ডে যেমন ৯৫ ভাগ আছে, আবার কোথাও কোথাও ৭৮ ভাগ। বন্যার কারণে এটা হতেই পারে। অনেক স্কুলে সমস্যা হয়েছে, অনেক পরীক্ষার্থীকে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে হয়েছে।’

কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্য পাসের হার নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকবার এটা নিয়ে যে ব্যবস্থা নিই, এবারও সেটা নেব। আমরা কতটা সাপোর্ট দিয়ে থাকি আর কোথায় ঘাটতি আছে সেটা দেখতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘একটা লার্নিং গ্যাপ আছে। এটা সারা বিশ্বেই আছে। তবে এটা পরিবর্তন করতে হবে। আমাদের লার্নিং গ্যাপ করোনার সময় বাড়েনি। অনেক দেশে এটা অনেক বেড়েছে। এখানে সে সময় ৯৩ ভাগ শিক্ষার্থীর কাছে অ্যাসাইনমেন্টপদ্ধতি পৌঁছে গিয়েছিল, এতে তারা নিজেরাই শিখন ঘাটতি পূরণ করেছে।’

গত বছরের চেয়ে এবার বেড়েছে জিপিএ ফাইভ

গত বছরের চেয়ে এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার কমলেও জিপিএ ফাইভ বেড়েছে প্রায় ১ লাখ। চলতি বছর জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ শিক্ষার্থী। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮৩ হাজার ৩৪০ শিক্ষার্থী।

এবার সাধারণ বোর্ডে জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৭৬৩ শিক্ষার্থী। পাসের হার ৮৮ দশমিক ১০ শতাংশ।

দাখিলে জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ১৫ হাজার ৪৫৭ শিক্ষার্থী। পাসের হার ৮২ দশমিক ২২ শতাংশ।

কারিগরি বোর্ডে জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ১৮ হাজার ৬৫৫ শিক্ষার্থী। পাসের হার ৮৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে কমেছে পাসের হার, বেড়েছে জিপিএ ফাইভ
এসএসসির সাফল্যে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস
পাসের হারে সিলেট কেন তলানিতে
এবার পরীক্ষার্থী কমলেও ফেল বেড়েছে লাখের বেশি
পাসের হারে শীর্ষে যশোর, তলানিতে সিলেট

মন্তব্য

p
উপরে