× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Mass competition in politics
hear-news
player
google_news print-icon

রাজনীতিতে জনসমাবেশের প্রতিযোগিতা

রাজনীতিতে-জনসমাবেশের-প্রতিযোগিতা
রাজধানীতে আওয়ামী লীগ ও খুলনায় বিএনপির সমাবেশে দল দুটির নেতা-কর্মীরা। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
হরতাল বা অবরোধ নয়, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সক্রিয়তা হঠাৎ করে সভা-সমাবেশমুখী হয়েছে। সমাবেশ ডেকে সেগুলোতে বিপুল লোকসমাগমের প্রতিযোগিতায় নেমেছে রাজনৈতিক দলগুলো। এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের নেতারা একে-অপরের জনসমাবেশের আকার নিয়েও তর্কযুদ্ধে লিপ্ত হচ্ছেন। 

নির্বাচনের এক বছর আগেই সমাবেশ করে শক্তি প্রদর্শনের রাজনীতিতে নেমেছে রাজনৈতিক দলগুলো। দেশের প্রধান দুটি দল এখনই বড় সমাবেশ করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

বিষয়টিকে দেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক মোড় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তারা এই বলে সতর্ক করছেন যে, এভাবে শক্তি প্রদর্শন যাতে কোনোভাবে সংঘর্ষে রূপ না নেয়।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সমাগমের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতি নির্বাচনমুখী হচ্ছে, তবে সংঘর্ষের দিকে না গিয়ে দুই দলকেই সহনশীল হতে হবে।

রাজনীতিতে সমাবেশমুখিতার সূত্রপাত গত ৮ অক্টোবর বিএনপির কর্মসূচিকে ঘিরে। ওই দিন নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারসহ আরও দাবিতে প্রতি শনিবার বিভাগীয় শহরে সমাবেশের ঘোষণা দেয় বিএনপি।

প্রথম শনিবার চট্টগ্রামে সমাবেশ করে দলটি। এরপর দ্বিতীয় শনিবার ময়মনসিংহ, তৃতীয় শনিবার খুলনা, তার পরের শনিবার রংপুরে সমাবেশ করেছে দলটি। ৫ নভেম্বর বরিশালে সমাবেশ। আগামী ১০ ডিসেম্বর রাজধানীতেও বড় ধরনের সমাবেশের ঘোষণা আছে।

বিভাগীয় এ কর্মসূচিগুলো ছাড়াও বিএনপি, তার সহযোগী সংগঠনগুলো ঢাকায় যেসব সমাবেশ করছে, সেগুলোতে নেতা-কর্মীদের ব্যাপক সমাগম দেখা যাচ্ছে, যা দলটির গত কয়েক বছরের সমাবেশে দেখা যায়নি।

বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ রয়েছে, সরকার সাজানো পরিববহন ধর্মঘট ও পুলিশের ধরপাকড়ের মাধ্যমে বিএনপির সমাবেশগুলোতে লোকসমাগম কমানোর চেষ্টা করছে।

এদিকে বিএনপির জনসমাবেশের পাল্টা হিসেবে আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক কর্মসূচিগুলোতেও ব্যাপক লোকসমাগম হচ্ছে। আগে থেকে চলমান জেলা সম্মেলনগুলোতে শোডাউন দিচ্ছে ক্ষমতাসীনরা। আগামী জেলা সম্মেলনগুলোতে আরও বেশি লোকসমাগম করার ইঙ্গিতও মিলেছে দলের নেতাদের বক্তব্যে।

ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ব্যাপক লোকসমাগম ঘটিয়ে কাউন্সিল অধিবেশনকে জনসভায় রূপ দেয়া হয়। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অবশ্য রোববার বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যে সাংগঠনিক কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে, তা বিএনপির কর্মসূচির পাল্টাপাল্টি নয়।’

ওই দিনই দলের এক সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, এখন থেকে প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভাপতি প্রতি মাসে ঢাকার বাইরে দুটি করে কর্মসূচিতে যোগ দেবেন।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পাল্টাপাল্টি কোনো কর্মসূচি দেখানোর ব্যাপার না। আমরা যে কর্মসূচি করছি, তা তো নির্ধারিত এক মাস আগেই। আমাদের জেলা সম্মেলনগুলো এক থেকে দেড় মাস আগেই নির্ধারিত হয়েছে। আমাদের আরও ৩৮টি জেলা সম্মেলনের তারিখ দেয়া আছে। এসব সম্মেলনে ঢাকা জেলার সম্মেলনের চেয়েও বেশি লোকের জমায়েত হবে।’

আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে লোকসমাগমকে বিরোধের রাজনীতি কিংবা পাল্টাপাল্টি অবস্থান বলতে মোটেও রাজি নন দলের কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যতম এ সদস্য।

বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘কোনো বিরোধের রাজনীতি না। বিএনপিই তো বিরোধের কথা বলে, আমরা তো বলি না।

‘বিএনপির মিটিংয়ে কর্মীদের সঙ্গে সারা দেশের সন্ত্রাসীদেরও নিয়ে আসা হয়। আর আমাদের মিটিংয়ে নেতা-কর্মীরা আসেন।’

বিএনপির টানা কর্মসূচিতে সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে বাধা দেব না। আমরা তো সংঘর্ষের রাজনীতি করি না। আমরা আমাদের কর্মসূচি পালন করছি। পাল্টা কিছু করছি না, আমাদেরটা আমরা করছি।’

গত আগস্ট থেকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে লোকসমাগম করার ওপর বেশ গুরুত্ব দিয়ে আসছে সংসদের বাইরে মাঠের রাজনীতিতে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি।

আগস্ট থেকে দলটি শুধু তাদের নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেই সমাবেশ করে। আর ১৭ আগস্ট পাল্টা সমাবেশ করে নিজেদের শক্তি দেখিয়ে দেয় আওয়ামী লীগ।

গত সেপ্টেম্বরে প্রায় পুরো মাসজুড়ে নয়াপল্টনে নেতা-কর্মীদের নিয়ে সমাবেশ করেছে বিএনপি। প্রায় প্রতিদিন নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করে নিজেদের শক্তির জানান দেয়ার ইঙ্গিত দেয় দলটির নেতারা। যদিও কয়েক বছর ধরেই শীর্ষ নেতাদের ছাড়া রাজনীতির মাঠে সরব থাকার চেষ্টা করছে দলটি।

গত ১ সেপ্টেম্বর দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রাজনীতিতে একটি বড় ধরনের শোভাযাত্রা করে নিজেদের শক্তি জানান দেয় বিএনপি। সে দিন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রা শুরুর আগে এক সমাবেশে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এ মিছিলের মধ্য দিয়ে বিএনপি দেশবাসীকে জানিয়ে দেবে বিএনপি এখন দেশের সবচেয়ে বড় দল।’

এরপর বিভিন্ন সমাবেশে নেতা-কর্মীদের জমায়েত করে মূলত নিজেদের শক্তির জানান দিয়ে আসছে দলটি। বিএনপি নেতাদের পক্ষ থেকে ‘খেলা হবে’ বলে যে ঘোষণা এসেছে, সেটি ছিল এই সমাগমের স্পষ্ট ইঙ্গিত।

এরপর গত ৮ অক্টোবর বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান ১০ ডিসেম্বরকে সামনে এনে একটি ডেডলাইন দেন। সেদিন ব্যাপক লোকসমাগমের তাগিদ দেন নেতা-কর্মীদের। ওই দিনের পর আর সরকারের কথায় দেশ চলবে না বলেও বেশ জোরের সঙ্গে দাবি করেন আমান, যদিও তার এই বক্তব্যকে ধারণ করেনি দলের হাই কমান্ড। কারণ এটিকে ‘রাজনৈতিক কথার কথা’ বলে অনেকটা উড়িয়ে দিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ডিসেম্বরের পর দলটির কর্মসূচি কেমন হবে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা এখনও সিদ্ধান্ত নিইনি। সিদ্ধান্ত নিলে পরবর্তী সময়ে জানানো হবে। আমাদের দলের মুখপাত্ররা গণমাধ্যমে জানাবেন।’

বিএনপির টানা কর্মসূচির কারণে দেশে সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন কি না জানতে চাইলে দলটির জ্যেষ্ঠ এ নেতা বলেন, ‘আমি জানি না। তোমরা সাংবাদিক, তোমরাই এ বিষয়ে গবেষণা করো, বের করো কী হবে?’

বিএনপির দেখাদেখি আওয়ামী লীগও নিজেদের সমাবেশে লোকসমাগম করেছে বলে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বিএনপি নেতারা।

গত ২৩ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ শহরের ইসদাইর ওসমানী পৌর স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ব্যাপক লোকসমাগমের মধ্য দিয়ে নিজেদের শক্তি দেখানো শুরু করে দলটি। সেই সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ‘আগামী ডিসেম্বরে আসল খেলা হবে’ বলে সাফ জানিয়ে দেন। বিএনপির সমাবেশের ছবি বড় করে দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

সর্বশেষ গত শনিবার ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ব্যাপক লোকসমাগম করে ক্ষমতাসীন দল। রাজধানীর শেরেবাংলানগরে বাণিজ্য মেলার পুরোনো মাঠটি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। সম্মেলনস্থল শেরেবাংলানগর হলেও জাতীয় সংসদের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, আসাদ গেট, ফার্মগেট, মিরপুর, শ্যামলী– পুরো এলাকায়ই মানুষের ভিড় জমে। সম্মেলন শুরু হওয়ার পরও ছোট ছোট ভ্যান, বাস ও ট্রাকে করে নেতা-কর্মীরা সম্মেলনস্থলে আসেন।

একই দিন বিএনপিও রংপুর বিভাগীয় সমাবেশ করে। একই দিনে ভিন্ন জায়গায় দুই প্রধান দলের সমাবেশ কার্যত নিজ নিজ শক্তিমত্তা প্রদর্শনের উপলক্ষ হয়ে ওঠে। দুই দলের নেতাদের সেদিনের বক্তব্যেও প্রতিযোগিতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ওই দিন সমাবেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আপনারা জানেন রংপুরে একটি সমাবেশ হচ্ছে। সেখানে তিন দিন আগে থেকে লোকজন নিয়ে গিয়ে স্টেজে শুয়ে আছেন, মাঠে শুয়ে আছেন, রাস্তায় শুয়ে আছেন। আর টাকার বস্তার ওপর শুয়ে আছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সম্মেলনের নামে টাকা আসছে, আর তারা টাকার ওপর শুয়ে আছেন।’

যা বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা

সমাবেশমুখী রাজনীতির বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর এই যে লোকসমাগম, তা রাজনীতিকে চাঙা করছে, তবে আমাদের রাজনীতিতে মানুষের অধিকারের বিষয়গুলো মিসিং।’

জনসমাগমের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতি নির্বাচনমুখী হচ্ছে বলে মনে করেন এই গবেষক। তিনি বলেন, ‘এটি ইতিবাচক হলেও এটি নতুন মাত্রা বলে আমার কাছে মনে হয় না। নির্বাচনের দূরবর্তী হলেও সেটির সঙ্গে এই লোকসমাগমের একটি যোগ আছে।’

বিএনপি দীর্ঘদিন পর মাঠে নামার সুযোগ পেয়ে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে বলেও মনে করেন সাব্বির আহমেদ। তিনি বলেন, ‘যেভাবেই হোক স্পেস পেয়ে বিএনপি তো জনসমাগমের চেষ্টা করবেই, এটাই স্বাভাবিক। আওয়ামী লীগও ক্ষমতাসীন দল হওয়ায় পাল্টা লোক সমাগম করবেই।’

দুই দলের এই লোক সমাগমে ভয়ের কারণও দেখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ অধ্যাপক। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সম্পর্ক এতই শত্রুভাবাপন্ন যে, এই লোক সমাগমের ফলে সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দেয়।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মতো বড় দলে অনেক ক্ষেত্রে কেন্দ্রের কোনো কন্ট্রোল তৃণমূলের ওপরে থাকে না। কারণ আওয়ামী লীগের মধ্যে বহু দিকের লোক ঢুকে গেছে, যারা মনে করেন, বিএনপির সমাবেশে বাধা দিলে দলের কেন্দ্রের দৃষ্টি তার ওপর গিয়ে পড়বে। তখন সংঘর্ষ হতে পারে, তবে মূল সহিংসতা তৃণমূল থেকে আসতে পারে, যার সম্ভাবনা ধীরে ধীরে বাড়বে।’

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শামসুল আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জনসমাগমকে ঘিরে যে শক্তি প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা চলছে, তাতে রাজনৈতিক দলগুলোকে আরও সহনশীল হতে হবে। তাদের কথাবার্তা যদি সংযত হয়, তাহলে আরও ভালো হয়।’

জনসমাগম নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘রাজনীতিতে তো গণতান্ত্রিক দলগুলো এভাবেই সভা-সমাবেশ করে থাকে। দুই দল যতই সহনশীল হবে, ততই গণতান্ত্রিক স্থিরতা বিরাজ করবে।’

তার ভাষ্য, ‘বিএনপিকে তো এতদিন অনেক কিছুই করতে দেয়া হয়নি। এখন সুযোগ পেয়ে তারা তো সমাবেশ করবেই। সে ক্ষেত্রে সরকারি দলকে সহনশীলতা দেখাতে হবে।’

আরও পড়ুন:
এই লড়াই শেষ লড়াই, এই লড়াই জাতিকে রক্ষার জন্য: ফখরুল
নারী নেতৃত্বের কোটা পূরণে ব্যর্থ সব দল
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে শঙ্কিত বিএনপি
বগুড়া বিএনপি: ১১ বছর পর কারা হচ্ছেন দুর্গের কান্ডারি
ধর্মঘট ডাকা মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়ন আ.লীগের কব্জায়

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Aspirants worried about age at BCL conference today

ছাত্রলীগের সম্মেলন আজ, বয়স নিয়ে চিন্তায় পদপ্রত্যাশীরা

ছাত্রলীগের সম্মেলন আজ, বয়স নিয়ে চিন্তায় পদপ্রত্যাশীরা
এবার ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হতে আগ্রহী ১৫৪ জন আবেদন করেছেন। এর মধ্যে সভাপতি পদে ৯৬ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ৫৮ জন।

আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৩০তম জাতীয় সম্মেলন আজ (মঙ্গলবার)। সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই সম্মেলন শুরু হবে। সম্মেলন উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সম্মেলন ঘিরে এরই মধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে সংগঠনটি। তবে বয়স নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন পদপ্রত্যাশীরা। কেননা এখন পর্যন্ত প্রার্থী হওয়ার বয়সের সময়সীমা নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়া হয়নি।

পদপ্রত্যাশীরা বলছেন, প্রতি দুই বছর পর পর সম্মেলন ও কমিটি হওয়ার কথা থাকলেও এবার প্রায় ৫ বছর পর সম্মেলন হচ্ছে। এ কারণে সংগঠনের নেতৃত্ব দেয়ার মতো অনেক যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মী বয়সের ফাঁদে বাদ পড়তে পারেন। এমনটা যাতে না হয় সে জন্য নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে কমিটি দেয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তবে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বহীনতা ও পদ না ছাড়ার ইচ্ছা থেকেই কমিটি গঠনের বিষয়ে কালক্ষেপণ করেছেন তারা।

দলীয় সূত্র জানায়, এবার ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হতে আগ্রহী ১৫৪ জন আবেদন করেছেন। এর মধ্যে সভাপতি পদে ৯৬ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ৫৮ জন।

জানতে চাইলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, ‘আমরা সম্মেলনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। ইতোমধ্যে প্রার্থীদের আবেদনপত্র নিয়েছি। সেগুলো দায়িত্বশীলরা যাচাই-বাছাই করছেন।

বয়স নিয়ে নেত্রীর চিন্তাভাবনা আছে। তিনিই সম্মেলনের দিন বিষয়টি জানিয়ে দেবেন। তার সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই নতুন কমিটি হবে।’

প্রসঙ্গত, ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের অ্যাসেম্বলি হলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। প্রতিষ্ঠার সময় এর নাম ছিল পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ। পরবর্তী সময়ে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের পর সংগঠনটি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নাম গ্রহণ করে।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি দুই বছর পর ছাত্রলীগের সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও এবার তা হচ্ছে প্রায় পাঁচ বছর পর। সংগঠনটির চলতি কমিটি নিয়ে রয়েছে নানা বিতর্ক।

সর্বশেষ ২০১৮ সালের মে মাসে সম্মেলন হলেও কমিটি ঘোষণা করা হয় জুলাইয়ে। এতে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান রেজওয়ানুল হক চৌধুরী ও গোলাম রাব্বানী।

পরে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে পদ হারান দু’জন। তাদের স্থলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয় আল নাহিয়ান খান ও লেখক ভট্টাচার্যকে।

২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আল নাহিয়ান খান ও লেখক ভট্টাচার্যকে ‘ভারমুক্ত’করা হয়। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কমিটি নিয়ে বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে।

এবার সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা নিয়েও হয় নানা নাটকীয়তা। প্রথমে ৩ ডিসেম্বর সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা দেয়া হলেও তা সংশোধন করে পরে ৮ ও ৯ ডিসেম্বর করা হয়।

সর্বশেষ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ঘোষণা দেন, বিএনপির ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ নির্বিঘ্ন করতে ছাত্রলীগের সম্মেলন একদিনে করা হবে এবং তারিখ এগিয়ে নিয়ে সেটা হবে ছয় ডিসেম্বর।

এদিকে ছাত্রলীগের সম্মেলন উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। আগে থেকে প্রস্তুত করা আছে মঞ্চ। সম্মেলনে যোগ দিতে জেলা-উপজেলা থেকে কাউন্সিলর-ডেলিগেটরা ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন।

এদিকে ছাত্রলীগের সম্মেলনকে ঘিরে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

ডিএমপি জানায়, ছাত্রলীগের সম্মেলন উপলক্ষে যানজট নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে রাজধানীর কাটাবন ক্রসিং, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং, কাকরাইল মসজিদ ক্রসিং, কাকরাইল চার্চ ক্রসিং, ইউবিএল ক্রসিং, হাইকোর্ট ক্রসিং, দোয়েল চত্বর ক্রসিং, ঢাবি মেডিক্যাল সেন্টার, জগন্নাথ হল ক্রসিং, ঢাবি ভাস্কর্য ক্রসিং, উপাচার্য ভবন ক্রসিং এলাকায় সম্মেলন শেষ না হওয়া পর্যন্ত ট্রাফিক ডাইভারশন চলবে।

এক্ষেত্রে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশপাশের এলাকা এড়িয়ে চলাচলে নগরবাসীকে ভিন্ন রাস্তা ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

আরও পড়ুন:
ঢাবি ছাত্রলীগের সম্মেলন: নেতৃত্বের দৌড়ে যারা
জবির ১৬ বিভাগে ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা
ছাত্রলীগের সংঘর্ষে ফের উত্তপ্ত চবি, আহত ৮
‘শাসন করতে’ ছাত্রলীগ নেতার জুতাপেটা
ছাত্রলীগের বয়সসীমা ‘উনত্রিশ’ই থাকছে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
After Chittagong A League prepares for the mass of people in Coxs Bazar

এবার কক্সবাজারে জনসমুদ্রের প্রস্তুতি আ.লীগের

এবার কক্সবাজারে জনসমুদ্রের প্রস্তুতি আ.লীগের কক্সবাজারে নবনির্মত বিকেএসপির আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। ছবি: নিউজবাংলা
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল মোস্তফা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এখানে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প দিয়েছে। যার সুফল পেতে শুরু করেছে জনগণ। তাই সব স্তরের মানুষ এ সমাবেশে আসবে। সমাবেশকে জনসমুদ্রে রূপ দিতে আমরা কাজ করছি।’

চট্টগ্রামে বিশাল সমাবেশের তিন দিন পর সাগর-কন্যা কক্সবাজার সফর। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি দলটির সমর্থন প্রমাণের সুযোগ হিসেবে দেখছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ।

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে বিভাগীয় শহরগুলোতে বিএনপির সমাবেশের মধ্যে আওয়ামী লীগও তাদের শক্তি দেখানোর চেষ্টায়। শেখ হাসিনাকে সামনে রেখেই হচ্ছে তাদের জমায়েতগুলো।

গত ২৪ নভেম্বর যশোরের পর ৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে সমাবেশে নেতা-কর্মীদের উপচে পড়া ভিড়ের মধ্যে বুধবার কক্সবাজার শহরের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের জনসভা ঘিরেও দলের ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে।

পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে সাড়ে তিন লাখ কোটি টাকায় ছোট-বড় যে ৭২টি প্রকল্প চলছে, তার মধ্যে কাজ শেষ হওয়া ২৩টির উদ্বোধন করতে সেদিন সকালে প্রধানমন্ত্রী যাবেন কক্সবাজার।

সেদিন কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের ইনানী সৈকতে তিন দিনের আন্তর্জাতিক নৌশক্তি প্রদর্শন মহড়াও উদ্বোধন করবেন তিনি। বাংলাদেশ নৌবাহিনী আয়োজিত এ মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন ও ভারতসহ ৩০টির বেশি দেশের অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে।

সেখান থেকে বেলা ২টার দিকে শেখ হাসিনা যাবেন আওয়ামী লীগের জনসভায়।

শেখ কামাল স্টেডিয়ামে সোমবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, ‘দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এক অপ্রতিরোধ্য গতিতে। এই এগিয়ে যাওয়া বিএনপি-জামায়াতসহ স্বাধীনতাবিরোধীদের পছন্দ নয়। তাই তারা দেশের এগিয়ে যাওয়া এবং উন্নয়নের গতি ব্যাহত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।

‘তারা আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, অরাজগতা সৃষ্টি করে দেশের শান্ত পরিস্থিতি বিনষ্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্য যে কোনো উপায়ে ক্ষমতা দখল করে লুটপাট, দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস করে হাওয়া ভবনের মতো আরেকটি ভবন সৃষ্টি করা। পাকিস্তানি ভাবধারায় অনুন্নত ও অস্থিতিশীল বাংলাদেশে রূপান্তর করা।’

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল মোস্তফা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এখানে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প দিয়েছে। যার সুফল পেতে শুরু করেছে জনগণ। তাই সবস্তরের মানুষ এ সমাবেশে আসবে। সমাবেশকে জনসমুদ্রে রূপ দিতে আমরা কাজ করছি।’

এবার কক্সবাজারে জনসমুদ্রের প্রস্তুতি আ.লীগের
সাড়ে তিন লাখ কোটি টাকায় ৭২টি প্রকল্পের অন্যতম এ রেললাইন

সফরে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কী দাবি

সংবাদ সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মেয়র মুজিবুর রহমানের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, সরকার প্রধানের কাছে কক্সবাজারে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, মেডিক্যাল কলেজকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত, কক্সবাজার সদরের সঙ্গে মহেশখালীর সংযোগ সেতু এবং বাঁকখালী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ, কুতুবদিয়া-মগনামা ফেরি সার্ভিস চালু, পর্যটন গবেষণা ইনস্টিটিউট, চার লেনে মেরিন ড্রাইভ সড়ক, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীতকরণ, পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা, কক্সবাজার সিটি কলেজকে সরকারি করা এবং উচ্ছেদ করা ঝিনুক ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনবে ক্ষমতাসীন দল।

শুধু উন্নয়ন প্রকল্প নয়, নাগরিকদের দাবিও তুলে ধরতে হবে জানিয়ে কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের মূখপাত্র এইচ এম নজরুল ইসলাম বলেন, ‘কক্সবাজারে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চালু, রোহিঙ্গা সংকট সমাধান, ক্যাম্পের বাইরে থাকা রোহিঙ্গাদের তালিকা তৈরি, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও নির্মাণ বন্ধ, পর্যটন ও পরিবেশবান্ধব শহর রক্ষা বাঁধ, বাঁকখালী নদী দখলমুক্ত করা ও সৈকত দখলবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারসহ আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্র করতে বিশেষ নীতির ঘোষণাসহ প্রধানমন্ত্রীর মুখে সুস্পষ্ট বক্তব্য আশা করছি।’

এবার কক্সবাজারে জনসমুদ্রের প্রস্তুতি আ.লীগের

কী বলছে প্রশাসন

জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মামুনুর রশিদ বলেন, ‘কক্সবাজারকে একটি উন্নত ও পরিপূর্ণ পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ নজর রয়েছে। সম্প্রতি শেষ হওয়া আরও ২৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’

কক্সবাজার গণপূর্ত বিভাগের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহজাহান বলেন, ‘এ নগরীকে পরিকল্পিতভাবে সাজাতে গণপূর্ত বিভাগের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে তিনটির কাজ শেষ হওয়ায় উদ্বোধনের তালিকায় রয়েছে। আমরা প্রকল্প তিনটির কাজ সুন্দর ও সফলভাবে শেষ করেছি।’

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (এলজিইডি) আনিসুর রহমান বলেন, ‘১৩৫ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান প্রকল্পের মধ্যে ১০টি শেষ হয়েছে। যার সুফলও পাচ্ছে স্থানীয়রা।’

সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহে আরেফীন বলেন, ‘৪৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে লিংক রোড-লাবনী মোড়, টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপ হাড়িয়াখালী হতে শাহপরীর দ্বীপ সড়ক এবং রামু-ফতেখাঁরকুল-মরিচ্যা সড়কের উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।’

আরও পড়ুন:
আ.লীগের সম্মেলনে উৎসাহ নেই নেতাকর্মীর
সম্মেলন: টেন্ডারবাজমুক্ত কমিটি চায় আ.লীগের তৃণমূল
আ.লীগের সম্মেলনে সংঘর্ষ, গুলি: আহত ১৫
রংপুর জেলা আ.লীগ সভাপতিকে অব্যাহতি একাংশের
আ.লীগের সম্মেলন: রাসেল, আজমত ও বুদ্দিন আলোচনায়

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Anticipatory bail for 150 BNP activists

বিএনপির ১৫০ নেতাকর্মীর আগাম জামিন

বিএনপির ১৫০ নেতাকর্মীর আগাম জামিন
‘১০ ডিসেম্বরের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সারাদেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা হচ্ছে। যার মধ্যে নাশকতা, গাড়ি ভাঙচুর ও বিস্ফোরকের অভিযোগ রয়েছে। এসব মামলায় আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করি। আদালত ছয় সপ্তাহের জামিন দিয়েছে।’

নাশকতার অভিযোগে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল জেলায় করা ৫ মামলায় বিএনপির ১৫০ নেতাকর্মী হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পেয়েছেন।

সোমবার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আমিনুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ জামিন তাদেরকে জামিন দেয়।

আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে জামিনপ্রাপ্তাদের বিচারিক আদালতের আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে।

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন রুহুল কুদ্দুস কাজল, আব্দুল জব্বার ভূইয়া ও মাহবুবুর রহমান খান।

মাহবুবুর রহমান জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘১০ ডিসেম্বরের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সারাদেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা হচ্ছে। যার মধ্যে নাশকতা, গাড়ি ভাঙচুর ও বিস্ফোরকের অভিযোগ রয়েছে। এসব মামলায় আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করি। আদালত ছয় সপ্তাহের জামিন দিয়েছে।’

জামিনপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছে-ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতা সাবেক কমিশনার আনোয়ার পারভেজ বাদল, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এম এইচ মামুন ও মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম সজলসহ চার জেলার প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী।

আরও পড়ুন:
প্রধান বিচারপতির কাছে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের নালিশ
১০ ডিসেম্বরের সমাবেশে তাকিয়ে গোটা বিশ্ব: ফখরুল
সড়কে সমাবেশের অনুমতি পাচ্ছে না বিএনপি
রিজভীকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ
সোহরাওয়ার্দীর বিকল্প পূর্বাচল: বিএনপিকে তথ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Chhatra League Conference Avoid all the roads

ছাত্রলীগের সম্মেলন: এড়িয়ে চলবেন যেসব সড়ক

ছাত্রলীগের সম্মেলন: এড়িয়ে চলবেন যেসব সড়ক ছাত্রলীগের সম্মেলনস্থল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশপাশের বিভিন্ন সড়ক এড়িয়ে চলার নির্দেশনা দিয়েছে ডিএমপি।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাপক জনসমাগম হবে। এ অবস্থায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ আশপাশের এলাকা এড়িয়ে চলার নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৩০তম জাতীয় সম্মেলন মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলন উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কাউন্সিলর ও ডেলিগেটরা রাজধানীতে সমবেত হতে শুরু করেছেন।

এদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায় প্রচুর জনসমাগম হবে। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়সহ আশপাশের এলাকা এড়িয়ে চলার নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। সম্মেলন ঘিরে নেয়া হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা।

ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ছাত্রলীগের সম্মেলন উপলক্ষে যানজট নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে রাজধানীর কাঁটাবন ক্রসিং, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং, কাকরাইল মসজিদ ক্রসিং, কাকরাইল চার্চ ক্রসিং, ইউবিএল ক্রসিং, হাইকোর্ট ক্রসিং, দোয়েল চত্বর ক্রসিং, ঢাবি মেডিক্যাল সেন্টার, জগন্নাথ হল ক্রসিং, ঢাবি ভাস্কর্য ক্রসিং, উপাচার্য ভবন ক্রসিং এলাকায় সম্মেলন শেষ না হওয়া পর্যন্ত ট্রাফিক ডাইভারশন চলবে।

এ ক্ষেত্রে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশপাশের এলাকা দিয়ে চলাচলে নগরবাসীকে ভিন্ন রাস্তা ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি।

এদিকে সম্মেলন ঘিরে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সংগঠনটি। সম্মেলন উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। আগে থেকে প্রস্তুত করা আছে মঞ্চ।

প্রসঙ্গত, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি দুই বছর পর ছাত্রলীগের সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও এবার তা হচ্ছে প্রায় পাঁচ বছর পর। সর্বশেষ ২০১৮ সালের মে মাসে সম্মেলন হলেও কমিটি ঘোষণা করা হয় জুলাইয়ে। এতে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান রেজওয়ানুল হক চৌধুরী ও গোলাম রাব্বানী।

পরে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে পদ হারান দুজন। তাদের স্থলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয় আল নাহিয়ান খান ও লেখক ভট্টাচার্যকে।

২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আল নাহিয়ান খান ও লেখক ভট্টাচার্যকে ‘ভারমুক্ত’ করা হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তাদের বিরুদ্ধে কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে।

আরও পড়ুন:
ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ কর্মীদের অবরোধ প্রত্যাহার
জয়কে আটকে কমিটি দাবি ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের
ছাত্রলীগের দেয়াল লিখন মুছে দিল হল কর্তৃপক্ষ
ঢাবি ছাত্রলীগের সম্মেলন: নেতৃত্বের দৌড়ে যারা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
After Rizvi Ishrak was also ordered to be arrested

রিজভীর পর ইশরাককেও গ্রেপ্তারের নির্দেশ

রিজভীর পর ইশরাককেও গ্রেপ্তারের নির্দেশ রুহুল কবির রিজভী (বাঁয়ে) ও ইশরাক হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য ইশরাক হোসেন ও তার ব্যক্তিগত সহকারীকে সোমবার বিকেল থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর পর এবার দলটির আলোচিত নেতা ইশরাক হোসেনের বিরুদ্ধে জারি হলো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। দুই বছর আগে নাশকতার এক মামলায় হাজিরা না দেয়ায় এই পরোয়ানা জারি হয়েছে।

রিজভীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল এক দশক আগে। সেটিতেও তিনি জামিনে ছিলেন এবং আদালতে হাজিরা না দেয়ায় তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়া হয়।

সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরীর আদালতে হাজিরার কথা থাকলেও যাননি ইশরাকসহ ১৩ জন। তারা সময়ের আবেদন করলেও না গ্রহণ করেননি বিচারক।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২০ সালের ১২ নভেম্বর ঢাকা-১৮ আসনের নির্বাচন বানচাল করার জন্য আসামিরা একত্র হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিপরীত পাশে অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পুড়িয়ে মারার উদ্দেশে গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন।

এ ঘটনায় পুলিশের তৎকালীন উপপরিদর্শক আতাউর রহমান ভুইয়া ইশরাকসহ ৪২ জনের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় মামলা করেন।

গত ৬ এপ্রিল সকালে মতিঝিল এলাকায় লিফলেট বিতরণের সময় শাপলা চত্বরের পাশ থেকে ইশরাককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিকেলে তাকে আদালতে নিলে জামিন আবেদন নাকচ হয়। তাকে পাঠানো হয় কারাগারে।

ছয় দিন পর ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেনের আদালত বিএনপি নেতাকে জামিন দিলে তিনি মুক্তি পান।

ইশরাককে গ্রেপ্তারের নির্দেশ আসার দিনই জানাজানি হয় রিজভীকে গ্রেপ্তারের পরোয়ানার বিষয়টি, যদিও তার বিরুদ্ধে পরোয়ানাটি জারি হয় ১ ডিসেম্বর।

২০১২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সিটি করপোরেশনের একটি ময়লার গাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও রুহুল কবির রিজভীসহ বেশ কয়েকজকে আসামি করে মামলা করা হয়।

১ ডিসেম্বর মামলাটির অভিযোগ গঠন শুনানির তারিখ ছিল। সেদিন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ তিনজন হাজিরা দেন। কিন্তু রিজভীসহ তিনজন হাজির হননি। এরপর বিচারক তাদের জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

ইশরাক ও তার ব্যক্তিগত সহকারী নিখোঁজের দাবি

এদিকে ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য ইশরাক হোসেন তার ব্যক্তিগত সহকারীসহ নিখোঁজ রয়েছেন বলে দাবি করেছে বিএনপি।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য কাদের গনি চৌধুরী সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করে সোমবার রাতে বলেন, এদিন বিকেল থেকে ইশরাক ও তার ব্যক্তিগত সহকারীর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

তাৎক্ষণিকভাবে ইশরাকের ব্যক্তিগত সহকারীর নাম জানা যায়নি।

আরও পড়ুন:
হঠাৎ অসুস্থ ইশরাক
ইশরাকদের বরিশাল যাত্রা ঠেকাতে ফেরি বন্ধ
ইশরাকের খালাসের বিরুদ্ধে দুদকের আপিল
ইশরাকের বাসায় হামলা
বাংলাদেশে থাকতে হলে জিয়াকে মানতে হবে: গয়েশ্বর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The whole world is watching the rally on December 10 Fakhrul

১০ ডিসেম্বরের সমাবেশে তাকিয়ে গোটা বিশ্ব: ফখরুল

১০ ডিসেম্বরের সমাবেশে তাকিয়ে গোটা বিশ্ব: ফখরুল গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সোমবার বিকেলে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা। ছবি: নিউজবাংলা
‘১০ ডিসেম্বরের দিকে শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বের মানুষ তাকিয়ে আছে। যেকোনো মূল্যে আমাদের সমাবেশ সফল করতে হবে। মামলা-হামলা গ্রেপ্তার উপেক্ষা করে আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। পেশাজীবীদের এগিয়ে আসতে হবে। সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমাদের আন্দোলন বেগবান করতে হবে।’

১০ ডিসেম্বর রাজধানীতে বিএনপি যে সমাবেশ ডেকেছে, তাতে কেবল বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বেরই চোখ থাকবে বলে দাবি করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বলেছেন, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ফিরে পেতে চাইলে যেকোনো মূল্যে এই গণসমাবেশ সফল করতে হবে।

সোমবার বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক মতবিনিময়ে তিনি এসব কথা বলেন। আগামী শনিবার বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ সফল করতে বিএনপিপন্থি বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সঙ্গে বসে দলটি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘১০ ডিসেম্বরের দিকে শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বের মানুষ তাকিয়ে আছে। যে কোনো মূল্যে আমাদের সমাবেশ সফল করতে হবে। মামলা-হামলা গ্রেপ্তার উপেক্ষা করে আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। পেশাজীবীদের এগিয়ে আসতে হবে। সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমাদের আন্দোলন বেগবান করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এখন শুধু তারেক রহমান বা বিএনপির অস্তিত্বের প্রশ্ন নয়, আজকে গোটা জাতির জন্য অস্তিত্বের লড়াই।

দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে জানিয়ে বিএনপি নেতা বলেন, ‘এটা আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিপন্ন। আওয়ামী লীগ দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো ধ্বংস করে দেশে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছে।’

ফখরুলের দাবি, ক্ষমতায় এলেই আওয়ামী লীগ লুটপাট করে। তারা ভয় দেখিয়ে শাসন করে। তারা জনগণের সঙ্গে থাকে না বরং প্রতারণা করে। ভুল বুঝিয়ে ভোট নেয়। এখন তাদের আসল চেহারা বের হয়ে গেছে।

সারা দেশে মানুষ জেগে উঠেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিগত ৯টি বিভাগীয় গণসমাবেশে লাখ লাখ মানুষ অংশগ্রহণ করেছে। নদী সাঁতরে, হেঁটে, সাইকেলে চড়ে, চিড়া-মুড়ি গুড় নিয়ে সমাবেশে অংশ নিয়েছে।

‘দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার, খালেদা জিয়াকে মুক্ত এবং তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে শরিক হয়েছিলেন। তারা সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনে যুক্ত হয়েছিলেন। তারা কিছুই চাননি। শুধু মুক্তি চান’- বলেন ফখরুল।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘বিএনপির সমাবেশ ঘিরে একটি গোষ্ঠী হামলা-মামলা চালাচ্ছে। ইনশা আল্লাহ আমাদের ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ মহাসমাবেশে রূপ লাভ করবে। ইতোমধ্যে অনেক লোক ঢাকা আসা শুরু করেছে। পল্টন এলাকায় গেলেই দেখা যাবে লোকে লোকারণ্য। আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমেই সরকারের পতন হবে। অতীতেও তা-ই হয়েছে।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম বলেন, ‘নয়াপল্টনে সমাবেশের অনুমতি না দিলে গোটা ঢাকায় সমাবেশ হবে। তা না সেটা কিন্তু ঠেকানো যাবে না।’

বিএনপিপন্থি চিকিৎসক নেতা ফরহাদ হালিম ডোনার জানান, বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশে বিনা মূল্যে অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসা সেবা দেবেন তারা।

বিএসপিপির আহ্বায়ক এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্ব ও সদস্যসচিব কাদের গনি চৌধুরীর পরিচালনায় সভায় পেশাজীবী নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রকৌশলী আখতার হোসেন, অধ্যাপক সদরুল আমিন, অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু, চিকিৎসক মামুন আহমেদ ও সেলিম ভুঁইয়া।

চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমানও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
রিজার্ভ লুট করে এখন ডিফেন্সিভ পজিশনে: ফখরুল
জনগণের উত্তাল তরঙ্গে আ.লীগ ভেসে যাবে: ফখরুল
ভোট নিয়ে জাপানি দূতের বক্তব্য চরম সত্য কথা: ফখরুল
১০ ডিসেম্বরের উত্তেজনায় ফখরুলের জল
আন্দোলন ভিন্ন খাতে নিতে আ.লীগ আগুন সন্ত্রাসের কথা বলছে: ফখরুল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Dont be afraid of election duty EC Rasheda Sultana

নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে ভয় পেলে চলবে না: ইসি রাশেদা

নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে ভয় পেলে চলবে না: ইসি রাশেদা নির্বাচন ভবনের নিজ কার্যালয়ে কমিশনার রাশেদা সুলতানা। ফাইল ছবি
‘আগের নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী ১২৬ প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে নতুন করে ভোটের দায়িত্বে আনার সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে ওই উপজেলায় না হলে পাশের উপজেলা থেকে কর্মকর্তা আনতে হবে।’

সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাহসের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার রাশেদা সুলতানা। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘আমি সরকারি কর্মচারী। এটা আমার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। আমাকে ভয় পেলে চলবে না। ভয়ের ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করতে হবে।’

সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ করে রাশেদা সুলতানা বলেন, ‘আমার মেসেজ একটাই। আপনারা সাহস নিয়ে কাজ করেন। ভয় পাওয়ার তো কারণ দেখি না৷ ভয় পাবেন কেন?’

এর আগে ১ ডিসেম্বর গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচনে অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মেলায় রিটার্নিং কর্মকর্তা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশের পাঁচ উপ-পরিদর্শকসহ ১৩৪ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তাদের মধ্যে ১২৬ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা রয়েছেন।

১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে চরম অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় ভোট শেষের দেড় ঘণ্টা আগে তা বন্ধ ঘোষণা করে কাজী হাবিবুল আউয়াল কমিশন।

সে ক্ষেত্রে নতুন করে যারা এই ভোটের দায়িত্ব নেবেন তাদের ভয়ের ঊর্ধ্বে থাকার পরামর্শ দেন কমিশনার রাশেদা সুলতানা।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘গাইবান্ধার নির্বাচন খুব দ্রুতই হবে। এ সপ্তাহের শেষ দিকে তফসিল ঘোষণা হবে। ১৫ জানুয়ারির আগেই নির্বাচন হবে।’

‘আগের নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী ১২৬ প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে ভোটে দায়িত্ব দেয়ার প্রশ্নই আসে না। যারা দোষী হয়েছে তাদের আনার আর সুযোগ নেই। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগে আইনে যা বলা আছে, সে অনুযায়ী কর্মকর্তা নিয়োগ হবে। এক্ষেত্রে ওই উপজেলায় না হলে পাশের উপজেলা থেকে কর্মকর্তা আনতে হবে।’

রিটার্নিং কর্মকর্তা কে হবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কমিশন বৈঠক করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। আর রিটার্নিংয়ের দায়িত্ব দেয়ার মতো আমাদের বহু কর্মকর্তা আছেন।’

গাইবান্ধায় সুষ্ঠু ভোট হবে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘গাইবান্ধার পরে যে কয়টা ভোট করেছি, কোথাও কোনো ঝামেলা হয়নি। আশা করি এবারও হবে না। একটা ভালো নির্বাচন করতে পারব৷’

গাইবান্ধা-৫ আসনের ১৪৫ ভোটকেন্দ্রেই ভোট হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তবে নতুন প্রার্থী হওয়ার কোনো সুযোগ নেই৷ আইনে সেভাবে বলা আছে।’

গাইবান্ধার তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে কোনো আলোচনার দরকার নেই বলে মনে করেন এই কমিশনার। বলেন, ‘যথারীতি সিসি ক্যামেরা থাকবে, আমরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করব। আমাদের অধীন যত নির্বাচন হবে, সেখানে ভোটাররা আসবেন, সুষ্ঠুভাবে ইচ্ছামতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এটাই আমাদের চাওয়া।’

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে আরপিও বিধান সংশোধনের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে এই কমিশনার বলেন, ‘যাচাই-বাছাই চলছে। খুব দ্রুত অগ্রগতি জানা যাবে।’

আরও পড়ুন:
এইচএসসি পাসে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চাকরি
গাইবান্ধা-৫ উপনির্বাচন: ১৩৪ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ইসির
গাইবান্ধা ‍উপনির্বাচনের প্রতিবেদন: হঠকারী সিদ্ধান্ত নেবেন না সিইসি
গাইবান্ধা ভোটে অনিয়ম: দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আগামী সপ্তাহে

মন্তব্য

p
উপরে