× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
86 percent of the torture and murder of journalists are not prosecuted
hear-news
player
google_news print-icon

সাংবাদিক নির্যাতন ও হত্যার ৮৬ ভাগেরই বিচার হয় না

সাংবাদিক-নির্যাতন-ও-হত্যার-৮৬-ভাগেরই-বিচার-হয়-না
ইউনেস্কো বলেছে, বিশ্বব্যাপী সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের ৮৬ শতাংশেরই কোনো বিচার হয় না। ছবি: সংগৃহীত
সাংবাদিক হত্যাকাণ্ড-নির্যাতনের দায়মুক্তি দিবসে ইউনেস্কো প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘২০২০-২০২১ সময়কালে বিশ্বব্যাপী সংঘটিত ঘটনাবলীর আলোকে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এই সময়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হত্যার শিকার হয়েছেন ১১৭ জন সাংবাদিক। ৯১ জন কাজের বাইরে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।’

বিশ্বব্যাপী সাংবাদিক নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিচার হয় না। ব্যতিক্রম নয় বাংলাদেশও। এর বড় উদাহরণ ‘সাগর-রুনি’ হত্যাকাণ্ডের ১১ বছরেও মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা না পড়া। সাংবাদিক নির্যাতন-নিপীড়নের অন্য নানা ঘটনায়ও প্রশাসনের অবস্থান থাকে বিপরীত মেরুতে।

সাংবাদিক হত্যাকাণ্ড-নির্যাতনের দায়মুক্তি দিবস ছিল বুধবার, ২ নভেম্বর। এ উপলক্ষে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘের সংস্কৃতি বিষয়ক এ সংস্থাটি সংবাদমাধ্যম নিয়েও কাজ করে।

ইউনেস্কো বলেছে, বিশ্বব্যাপী সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের ৮৬ শতাংশেরই কোনো বিচার হয় না। এটা অগ্রহণযোগ্য।

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ যথাযথ তদন্ত এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও বিচারের মুখোমুখি করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

ইউনেস্কোর মহাপরিচালক আদ্রি আজুলে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ততদিন বাক-স্বাধীনতা সুরক্ষিত হবে না যতদিন পর্যন্ত সাংবাদিক নির্যাতন ও হত্যার এত বেশিসংখ্যক মামলা অমীমাংসিত থাকবে। বিচার না হওয়ায় অনুসন্ধানীমূলক সাংবাদিকতায়ও এর প্রভাব পড়েছে।’

তবে গত দশকের তুলনায় বিচার না হওয়ার বিষয়টি ৯ ভাগ কমেছে জানিয়ে এটিকে স্বাগত জানিয়েছে ইউনেস্কো। একইসঙ্গে সংস্থাটি বলছে, এটি সহিংসতা বন্ধে পর্যাপ্ত নয়।

ইউনেস্কো ২০২০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী সংঘটিত ঘটনাবলীর আলোকে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এই সময়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হত্যার শিকার হয়েছেন ১১৭ জন সাংবাদিক। ৯১ জন কাজের বাইরে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।

ইউনেস্কো বলেছে, তারা জাতীয় সংবাদমাধ্যম আইন এবং নীতি তৈরি ও কার্যকরে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে কাজ করছে।

বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠু এ বিষয়ে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সাংবাদিক হত্যা, নির্যাতন ও নিগ্রহের প্রেক্ষাপটে দায়মুক্তির কথা বলতে গেলে প্রথমেই আমাদের দুই সহকর্মীর ক্ষেত্রে ঘটে যাওয়া দুঃখজনক ঘটনার উল্লেখ করতে হয়।

‘বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর বড় উদাহরণ সাগর ও রুনী হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা। তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে পেশ করার সময় ৯০ বারের বেশি পিছিয়েছে। এভাবে বিচারহীনতায় ১১ বছর হয়ে গেছে। অথচ তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত শেষ করার কথা বলেছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘এই একটি ঘটনাই প্রমাণ করে আমরা আসলে কতটা নিগ্রহের শিকার। সাংবাদিকদের ওপর হামলা-নির্যাতন, হয়রানির বিষয়গুলো আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এগোয় না। আইন তার নিজের পথে চলে না।’

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব দীপ আজাদ বলেন, ‘সাংবাদিক নির্যাতন, নিগ্রহ ও হত্যার ঘটনায় সব সময় সরকারি দলের অবস্থান থাকে বিপরীত মেরুতে। এসব ক্ষেত্রে সব সময় সরকারি দল নীরব আর বিরোধী দল সরব থাকে।

‘অন্যান্য হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন বা ঘটনায় প্রশাসন যে ভূমিকা রাখে বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে প্রশাসন সেই অবস্থানে থাকে না। বরং ঠিক উল্টো রোল প্লে করে। আমরা দেখছি বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিক নির্যাতনের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে আইনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সাংবাদিক নির্যাতন বেশি হচ্ছে বাংলাদেশে।’

বিএফইউজে মহাসচিব বলেন, ‘আমরা দেখেছি জোট সরকারের আমলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বিশেষ করে খুলনা ও যশোরে অনেক সাংবাদিক হত্যার শিকার হয়েছেন। কোনো বিচার হয়নি। এখনও যেসব সাংবাদিক হত্যা বা নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন, বিচার হচ্ছে না।

‘সম্প্রতি এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমরা চিঠি দিয়েছি। তাতে সাংবাদিক নির্যাতন, নিগ্রহ ও হত্যার বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট একটি সেল গঠন করা বা নির্দিষ্ট কাউকে দায়িত্ব দেয়ার দাবি জানিয়েছি আমরা।’

তিনি জানান, ৩০ অক্টোবর বিএফইউজে’র বৈঠকে সব আঞ্চলিক ইউনিয়নকে এ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে পাঠানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এই তালিকা দেখে সরকারের কাছে আমরা একটি লিগ্যাল ফ্রেমে পদক্ষেপ আশা করব। তারপরও কোনো পদক্ষেপ না এলে দেশব্যাপী কর্মসূচি দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
সাবেক ডিসির দণ্ড মওকুফ: হতাশ সাংবাদিক আরিফুল
কুড়িগ্রামের সাবেক সেই ডিসির দণ্ড মওকুফ
সাবেক ডিসি সুলতানাসহ ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রিট
সাংবাদিক আরিফকে মাদকে ফাঁসানোর মূলে আরডিসি নাজিম
ডিসি সুলতানা পারভীনের বেতন বাড়বে না দুই বছর

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Russia Ukraine like debacle should be avoided Chinese ambassador

রাশিয়া-ইউক্রেনের মতো বিপর্যয় এড়িয়ে চলা উচিত: চীনের রাষ্ট্রদূত

রাশিয়া-ইউক্রেনের মতো বিপর্যয় এড়িয়ে চলা উচিত: চীনের রাষ্ট্রদূত সোমবার পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত লি জিমিং। ছবি: নিউজবাংলা
চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ইউরোপ বিপর্যয়ে পড়েছে। বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলের দেশগুলোর বিষয়টি মাথায় রেখে বিপর্যয় এড়িয়ে চলা উচিত।

এশিয়ার দেশগুলোকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতির মতো অবস্থা এড়িয়ে চলা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং। তিনি বলেন, ‘ইউরোপের উন্নত ও অর্থনৈতিক শক্তিসম্পন্ন দেশগুলো রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিপর্যয়ে পড়েছে। বাংলাদেশসহ আমাদের অঞ্চলের দেশগুলোর বিষয়টি মাথায় রেখে বিপর্যয় এড়িয়ে চলা উচিত।’

সোমবার পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের সঙ্গে দেখা করতে আসেন চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত লি জিমিং। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘৩ বছর চার মাস আগে আমি বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পাই। বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত থাকার সময়টা আমি খুব উপভোগ করেছি। বাংলাদেশ একটি অসাধারণ দেশ। বাংলাদেশের মানুষ খুবই বন্ধুবৎসল।

‘চীনা প্রেসিডেন্ট আমাকে বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক উন্নয়নের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। আমি মনে করি গত ৩ বছর চার মাসে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে বেশ কিছু অর্জন আছে। করোনার সময় বাংলাদেশ-চীন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে। দুই দেশ বেশকিছু প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। বেশ কিছু প্রকল্প শেষ হয়েছে। সামনে বেশ কিছু প্রকল্প শেষ হবে।’

লি জিমিং বলেন, ‘বাংলাদেশের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। দেশটি অর্থনৈতিকভাবে ভালো করছে। সামনের দিনে বাংলাদেশ আরও অনেক ভালো করবে বলে আমি আশাবাদী।’

বিআরটি প্রকল্পে দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় চীনা কোম্পানির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারের এখতিয়ার।’

বাংলাদেশের সঙ্গে চীন, ভারত ও আমেরিকার সম্পর্ক নিয়ে জানতে চাইলে লি জিমিং বলেন, ‘সবাই সবার বন্ধু হওয়া উচিত। এখানে কেউ কারও বিরুদ্ধে কৌশলে লিপ্ত হওয়া উচিত নয়। আমরা যদি ইউরোপের দিকে তাকাই তাহলে বিষয়টি বোঝা যাবে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে তারা বিপর্যয়ে পড়েছে। বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলের দেশগুলোর বিষয়টি মাথায় রেখে বিপর্যয় এড়িয়ে চলা উচিত।’

বিদায়ের সময় চীনের রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পিঠা উপহার দেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

আরও পড়ুন:
অর্থনৈতিক উন্নয়নে শৃঙ্খলা জরুরি: পরিকল্পনামন্ত্রী
অক্টোবর থেকেই ঘুরে দাঁড়াবে অর্থনীতি: এম এ মান্নান
বাংলাদেশকে ৫০ কোটি ডলার সহায়তা দেবে এডিবি
দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর কাজ শিগগির: পরিকল্পনামন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
After Chittagong A League prepares for the mass of people in Coxs Bazar

এবার কক্সবাজারে জনসমুদ্রের প্রস্তুতি আ.লীগের

এবার কক্সবাজারে জনসমুদ্রের প্রস্তুতি আ.লীগের কক্সবাজারে নবনির্মত বিকেএসপির আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। ছবি: নিউজবাংলা
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল মোস্তফা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এখানে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প দিয়েছে। যার সুফল পেতে শুরু করেছে জনগণ। তাই সব স্তরের মানুষ এ সমাবেশে আসবে। সমাবেশকে জনসমুদ্রে রূপ দিতে আমরা কাজ করছি।’

চট্টগ্রামে বিশাল সমাবেশের তিন দিন পর সাগর-কন্যা কক্সবাজার সফর। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি দলটির সমর্থন প্রমাণের সুযোগ হিসেবে দেখছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ।

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে বিভাগীয় শহরগুলোতে বিএনপির সমাবেশের মধ্যে আওয়ামী লীগও তাদের শক্তি দেখানোর চেষ্টায়। শেখ হাসিনাকে সামনে রেখেই হচ্ছে তাদের জমায়েতগুলো।

গত ২৪ নভেম্বর যশোরের পর ৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে সমাবেশে নেতা-কর্মীদের উপচে পড়া ভিড়ের মধ্যে বুধবার কক্সবাজার শহরের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের জনসভা ঘিরেও দলের ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে।

পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে সাড়ে তিন লাখ কোটি টাকায় ছোট-বড় যে ৭২টি প্রকল্প চলছে, তার মধ্যে কাজ শেষ হওয়া ২৩টির উদ্বোধন করতে সেদিন সকালে প্রধানমন্ত্রী যাবেন কক্সবাজার।

সেদিন কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের ইনানী সৈকতে তিন দিনের আন্তর্জাতিক নৌশক্তি প্রদর্শন মহড়াও উদ্বোধন করবেন তিনি। বাংলাদেশ নৌবাহিনী আয়োজিত এ মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন ও ভারতসহ ৩০টির বেশি দেশের অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে।

সেখান থেকে বেলা ২টার দিকে শেখ হাসিনা যাবেন আওয়ামী লীগের জনসভায়।

শেখ কামাল স্টেডিয়ামে সোমবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, ‘দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এক অপ্রতিরোধ্য গতিতে। এই এগিয়ে যাওয়া বিএনপি-জামায়াতসহ স্বাধীনতাবিরোধীদের পছন্দ নয়। তাই তারা দেশের এগিয়ে যাওয়া এবং উন্নয়নের গতি ব্যাহত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।

‘তারা আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, অরাজগতা সৃষ্টি করে দেশের শান্ত পরিস্থিতি বিনষ্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্য যে কোনো উপায়ে ক্ষমতা দখল করে লুটপাট, দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস করে হাওয়া ভবনের মতো আরেকটি ভবন সৃষ্টি করা। পাকিস্তানি ভাবধারায় অনুন্নত ও অস্থিতিশীল বাংলাদেশে রূপান্তর করা।’

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল মোস্তফা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এখানে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প দিয়েছে। যার সুফল পেতে শুরু করেছে জনগণ। তাই সবস্তরের মানুষ এ সমাবেশে আসবে। সমাবেশকে জনসমুদ্রে রূপ দিতে আমরা কাজ করছি।’

এবার কক্সবাজারে জনসমুদ্রের প্রস্তুতি আ.লীগের
সাড়ে তিন লাখ কোটি টাকায় ৭২টি প্রকল্পের অন্যতম এ রেললাইন

সফরে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কী দাবি

সংবাদ সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মেয়র মুজিবুর রহমানের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, সরকার প্রধানের কাছে কক্সবাজারে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, মেডিক্যাল কলেজকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত, কক্সবাজার সদরের সঙ্গে মহেশখালীর সংযোগ সেতু এবং বাঁকখালী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ, কুতুবদিয়া-মগনামা ফেরি সার্ভিস চালু, পর্যটন গবেষণা ইনস্টিটিউট, চার লেনে মেরিন ড্রাইভ সড়ক, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীতকরণ, পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা, কক্সবাজার সিটি কলেজকে সরকারি করা এবং উচ্ছেদ করা ঝিনুক ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনবে ক্ষমতাসীন দল।

শুধু উন্নয়ন প্রকল্প নয়, নাগরিকদের দাবিও তুলে ধরতে হবে জানিয়ে কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের মূখপাত্র এইচ এম নজরুল ইসলাম বলেন, ‘কক্সবাজারে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চালু, রোহিঙ্গা সংকট সমাধান, ক্যাম্পের বাইরে থাকা রোহিঙ্গাদের তালিকা তৈরি, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও নির্মাণ বন্ধ, পর্যটন ও পরিবেশবান্ধব শহর রক্ষা বাঁধ, বাঁকখালী নদী দখলমুক্ত করা ও সৈকত দখলবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারসহ আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্র করতে বিশেষ নীতির ঘোষণাসহ প্রধানমন্ত্রীর মুখে সুস্পষ্ট বক্তব্য আশা করছি।’

এবার কক্সবাজারে জনসমুদ্রের প্রস্তুতি আ.লীগের

কী বলছে প্রশাসন

জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মামুনুর রশিদ বলেন, ‘কক্সবাজারকে একটি উন্নত ও পরিপূর্ণ পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ নজর রয়েছে। সম্প্রতি শেষ হওয়া আরও ২৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’

কক্সবাজার গণপূর্ত বিভাগের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহজাহান বলেন, ‘এ নগরীকে পরিকল্পিতভাবে সাজাতে গণপূর্ত বিভাগের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে তিনটির কাজ শেষ হওয়ায় উদ্বোধনের তালিকায় রয়েছে। আমরা প্রকল্প তিনটির কাজ সুন্দর ও সফলভাবে শেষ করেছি।’

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (এলজিইডি) আনিসুর রহমান বলেন, ‘১৩৫ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান প্রকল্পের মধ্যে ১০টি শেষ হয়েছে। যার সুফলও পাচ্ছে স্থানীয়রা।’

সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহে আরেফীন বলেন, ‘৪৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে লিংক রোড-লাবনী মোড়, টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপ হাড়িয়াখালী হতে শাহপরীর দ্বীপ সড়ক এবং রামু-ফতেখাঁরকুল-মরিচ্যা সড়কের উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।’

আরও পড়ুন:
আ.লীগের সম্মেলনে উৎসাহ নেই নেতাকর্মীর
সম্মেলন: টেন্ডারবাজমুক্ত কমিটি চায় আ.লীগের তৃণমূল
আ.লীগের সম্মেলনে সংঘর্ষ, গুলি: আহত ১৫
রংপুর জেলা আ.লীগ সভাপতিকে অব্যাহতি একাংশের
আ.লীগের সম্মেলন: রাসেল, আজমত ও বুদ্দিন আলোচনায়

মন্তব্য

বাংলাদেশ
In Brahmanbaria the death of a pregnant woman is accused of Rs

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রসূতির মৃত্যু, টাকায় রফার অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রসূতির মৃত্যু, টাকায় রফার অভিযোগ চিকিৎসকের অবহেলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে গর্ভের সন্তানসহ প্রসূতি মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ছবি: নিউজবাংলা
প্রসূতির নাম খাদিজা বেগম। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের খেওয়াই গ্রামের সৌদি প্রবাসী নয়ন মিয়ার স্ত্রী। ৫ সন্তানের জননী খাদিজা ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের গ্রীন ভিউ স্পেশালাইজড হাসপাতালে রোববার রাত পৌনে ৮টার দিকে মৃত্যু হয় খাদিজার।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় গর্ভের সন্তানসহ প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনা এক লাখ টাকা রফা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শহরের গ্রীন ভিউ স্পেশালাইজড হাসপাতালে রোববার রাত পৌনে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

প্রসূতির নাম খাদিজা বেগম। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের খেওয়াই গ্রামের সৌদি প্রবাসী নয়ন মিয়ার স্ত্রী। ৫ সন্তানের জননী খাদিজা ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে খাদিজার বুকে ব্যাথা ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। ১১টার দিকে তাকে জেলা শহরের কুমারশীল মোড় এলাকার অবস্থিত গ্রীন ভিউ স্পেশালাইজড হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্বজনরা।

সেখানে গাইনি চিকিৎসক জিনিয়া খানের তত্ত্বাবধানে তাকে ভর্তি করা হয়। এর কিছু পর শারীরিক পরীক্ষা-নীরিক্ষা শেষে তাকে সিলিন্ডারের মাধ্যমে অক্সিজেন দেয়া হয়।

শনিবার রাতভর সন্তান নড়াচড়া করেনি। রোববার সকাল ১১টায় পর্যন্তও খাদিজার কোনো খোঁজ না নেয়ায় স্বজনরা চিকিৎসককের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। তখন চিকিৎসক তাদের আল্ট্রাসনোগ্রাম করাতে বলেন। আল্ট্রাসনোগ্রামে খাদিজার গর্ভে থাকা নবজাতক মৃত বলে জানা যায়। এরপর চিকিৎসক সাধারণ প্রক্রিয়ায় খাদিজার মৃত সন্তানটিকে প্রসব করানোর সিদ্ধান্ত নেন।

গাইনী চিকিৎসক জিনিয়া খান রোববার সন্ধ্যায় প্রসূতির মৃত সন্তানকে সাধারণ প্রক্রিয়ায় প্রসবের চেষ্টা করেন। এসময় খাদিজার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়; এক পর্যায়ে খিঁচুনি ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। রাত পৌনে ৮টার দিকে মারা যান খাদিজা।

পরে নিহতের স্বজনরা হাসপাতালে ভিড় করে হৈহুল্লোর শুরু করেন। রাত ৯টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নিহতের স্বামী নয়ন মিয়া বলেন, ‘অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে (সিজারিয়ান অপারেশন) মৃত নবজাতককে অপসারণের জন্য চিকিৎসককে অনুরোধ করেছিলাম। তবে তারা শুনেননি। একপর্যায়ে খিঁচুনি ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, কিছুক্ষণর মধ্যেই খাদিজা মারা যায়।

অভিযোগের স্বরে নয়ন মিয়া বলেন, ‘খাদিজার মরদেহ হাসপাতালে থাকা অবস্থায়ই চিকিৎসক ও মালিকপক্ষের লোকজন ঘটনাটির দামাচাপা দিতে ব্যস্ত হয়ে উঠেন।

‘হাসপাতাল আমার অনেক আত্মীয়-স্বজন ছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বজনদের কাছে এক লাখ টাকা দিয়েছেন। তবে তা আমার হাতে পৌঁছেনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রসূতির মৃত্যু, টাকায় রফার অভিযোগ

এ বিষয়ে গাইনি চিকিৎসক জিনিয়া খান বলেন, ‘তার (খাদিজা) গর্ভের সন্তান হয়তো আরও আগেই মারা গিয়েছিল। গর্ভে মৃত সন্তান থাকলে রক্তচাপ বাড়তে পারে এবং খিঁচুনি আসতে পারে। জরুরি অবস্থায় তাকে সব ধরনের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। রোগীর স্বজনরা অস্ত্রোপচার করার কথা বললে, আমরা তা করতাম। কিন্তু স্বজনরা এমন কিছু বলেননি।

‘এখানে চিকিৎসকের কোনো অবহেলা ছিল না।’

হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও অভিযুক্ত চিকিৎসক জিনিয়া খানের স্বামী আবু হামেদ রোগীর স্বজনদের ১ লাখ টাকা দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘হাসপাতালের চিকিৎসা, ওষুধ ও অ্যাম্বুলেন্সের খরচ আমরা মওকুফ করে দিয়েছি।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম বলেন, ‘নিহতের পরিবার থেকে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়নি। পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
মোসাদকে সহায়তা, ইরানে ৪ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
পদ্মায় নিখোঁজ জেলের মরদেহ উদ্ধার
নান্দাইলে বাসায় শিশু গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ
নবজাতকের রক্তাক্ত মরদেহ রাস্তার পাশে
সাড়ে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণ-হত্যায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Anticipatory bail for 150 BNP activists

বিএনপির ১৫০ নেতাকর্মীর আগাম জামিন

বিএনপির ১৫০ নেতাকর্মীর আগাম জামিন
‘১০ ডিসেম্বরের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সারাদেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা হচ্ছে। যার মধ্যে নাশকতা, গাড়ি ভাঙচুর ও বিস্ফোরকের অভিযোগ রয়েছে। এসব মামলায় আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করি। আদালত ছয় সপ্তাহের জামিন দিয়েছে।’

নাশকতার অভিযোগে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল জেলায় করা ৫ মামলায় বিএনপির ১৫০ নেতাকর্মী হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পেয়েছেন।

সোমবার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আমিনুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ জামিন তাদেরকে জামিন দেয়।

আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে জামিনপ্রাপ্তাদের বিচারিক আদালতের আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে।

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন রুহুল কুদ্দুস কাজল, আব্দুল জব্বার ভূইয়া ও মাহবুবুর রহমান খান।

মাহবুবুর রহমান জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘১০ ডিসেম্বরের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সারাদেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা হচ্ছে। যার মধ্যে নাশকতা, গাড়ি ভাঙচুর ও বিস্ফোরকের অভিযোগ রয়েছে। এসব মামলায় আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করি। আদালত ছয় সপ্তাহের জামিন দিয়েছে।’

জামিনপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছে-ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতা সাবেক কমিশনার আনোয়ার পারভেজ বাদল, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এম এইচ মামুন ও মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম সজলসহ চার জেলার প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী।

আরও পড়ুন:
প্রধান বিচারপতির কাছে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের নালিশ
১০ ডিসেম্বরের সমাবেশে তাকিয়ে গোটা বিশ্ব: ফখরুল
সড়কে সমাবেশের অনুমতি পাচ্ছে না বিএনপি
রিজভীকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ
সোহরাওয়ার্দীর বিকল্প পূর্বাচল: বিএনপিকে তথ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Indebtedness Farmers expressed their anger before the inquiry committee

ঋণখেলাপ: তদন্ত কমিটির সামনে ক্ষোভ ঝাড়লেন কৃষকরা

ঋণখেলাপ: তদন্ত কমিটির সামনে ক্ষোভ ঝাড়লেন কৃষকরা কৃষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঋণের বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছে তদন্ত কমিটি। ছবি: নিউজবাংলা
ঋণ ও সুদের টাকা পরিশোধ না করায় ২০২১ সালে ৩৭ জন কৃষকের নামে ব্যাংক মামলা করে। সম্প্রতি আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে গত ২৫ নভেম্বর ১২ জন কৃষককে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ। বিষয়টি নিউজবাংলাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়।

বকেয়া ঋণ কারও ছিল ৪০০ টাকা, কারও ৯০০ টাকা। কেউ আবার পুরো টাকাই সুদসহ পরিশোধ করেছেন। তারপরও ঋণখেলাপের দায়ে জেল খাটতে হয়েছে পাবনার ঈশ্বরদীর ভাড়ইমারী গ্রামের কৃষকদের।

সোমবার ভাড়ইমারী গ্রামে অভিযুক্ত কৃষকদের বাড়ি বাড়ি অনুসন্ধানে গিয়ে এসব বিষয় জানতে পেরেছেন তদন্ত কমিটির তিন সদস্য। কয়েক কৃষক তাদের সামনে ক্ষোভও প্রকাশ করেন।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভাড়ইমারী উত্তরপাড়া সবজি চাষি সমবায় সমিতির সভাপতি বিলকিস নাহারের বাড়িতে যান তদন্ত দলের সদস্যরা।

বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের ডিজিএম (পরিদর্শন) আহসানুল গণির নেতৃত্বে এ কমিটিতে রয়েছেন ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপক (পরিদর্শন ও আইন) আব্দুর রাজ্জাক ও সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রকল্প ঋণ) আমিনুল ইসলাম রাজীব।

এ সময় উপস্থিত কৃষক আব্দুস সামাদ, মজনু প্রামানিক ও আতিয়ার রহমানের সঙ্গে তদন্ত দলের সদস্যরা কথা বলেন। পরে তারা ঋণখেলাপে অভিযুক্ত কৃষকদের বাড়িতে যান।

এ সময় কৃষকদের কাছে তারা জানতে চান- ঋণের টাকা তারা কেন পরিশোধ করেননি, ঋণের কিস্তি পরিশোধের রশিদ আছে কি-না এবং কার কাছে তারা কিস্তির টাকা জমা দিয়েছেন।

এ ছাড়াও মামলার আগে ব্যাংক তাদের ঋণ পরিশোধের কোনো নোটিশ দিয়েছিল কি-না।

তদন্ত দলের দেয়া তথ্যানুযায়ী, ঋণের দায়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া ৩৭ কৃষকের মধ্যে আতিয়ার রহমান ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে সুদসহ ৪৯ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন। তার বকেয়া রয়েছে মাত্র ৪৩৩ টাকা। এরপরও তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

মোছা. রহিমা বেগম নামে এক নারী কৃষক ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ৪৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন। তার বকেয়া রয়েছে ৯০০ টাকা।

মজনু প্রামাণিক নামে অপর একজন ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে পরিশোধ করেছেন ৫৫ হাজার টাকা।

তদন্ত দল কৃষকদের কাছে ঋণ পরিশোধের তথ্য জানতে চাইলে কৃষকেরা তেমন কোনো রশিদ দেখাতে পারেননি। তবে তারা মুখে মুখে পরিশোধের হিসাব ও তারিখ জানান। সেসব তথ্য ব্যাংকের স্টেটমেন্টের সঙ্গেও মিলে যায়।

এ সময় কয়েকজন নিজেদের সামান্য বকেয়ার কথা শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তারা তদন্ত দলের কাছে প্রশ্ন তোলেন- টাকা পরিশোধ করেও কেন জেল খাটতে হলো?

কৃষকদের এমন প্রশ্নে তদন্ত দলের সদস্যরা চুপ হয়ে যান।

গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগের শিকার কৃষক আব্দুস সামাদ বলেন, ‘সব টাকা পরিশোধ করেছি। তারপরও কেন আমাকে তিন দিন কারাগারে থাকতে হলো। এ দায়ভার ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। আমাদের হয়রানি করা হয়েছে।’

কৃষক আব্দুল হান্নান বলেন, ‘চল্লিশ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে সুদসহ সমুদয় টাকা পরিশোধ করেছি। এরপরও কারাগারে যেতে হয়েছে। এজন্য ব্যাংক কর্মকর্তারা দায়ী। যদি ঋণ পরিশোধ না করে থাকি, তবে কেন আমাদের বিরুদ্ধে উকিল নোটিশ পাঠানো হয়নি। উকিল নোটিশ পাঠালেই জানতে পারতাম ঋণ পরিশোধ হয়নি। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তা না করে সরাসরি আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে এবং পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে। এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না।’

ভাড়ইমারী উত্তরপাড়া সবজি চাষি সমবায় সমিতির সভাপতি বিলকিস নাহার বলেন, ‘ব্যাংকের মাঠকর্মীরা এসে কৃষকের কাছ থেকে কিস্তি নিয়েছেন। কিস্তির টাকা তারা ব্যাংকে জমা দিয়েছেন কি-না জানি না। ব্যাংক আমার বিরুদ্ধেও চেক জালিয়াতির একটি মামলা করেছে। আমি সেই মামলায় নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছি।’

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মহির মণ্ডল জানান, এলাকার ৩৭ জন কৃষকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার বিষয়ে কোনো কৃষকই আগে জানতেন না। ঋণ পরিশোধের জন্য তাদের কোনো নোটিশও দেয়া হয়নি। তদন্ত কমিটির সদস্যরাও কৃষকদের বিরুদ্ধে মামলার আগে নোটিশ দেয়া হয়েছে এমন কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি।

তদন্তকে লোক দেখানো বলেও মন্তব্য করেন মহির মণ্ডল।

এ প্রসঙ্গে তদন্ত দলের প্রধান আহসানুল গণি বলেন, ‘মূলত গ্রুপ ঋণের কারণেই সবার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এখানে ব্যাংকের কিছু করার ছিল না। তবে যাদের কম টাকা বকেয়া, তাদের বাদ দেয়া যেত। এটা হয়তো ভুলবশত হয়েছে। পরবর্তীতে বিষয়টি দেখা হবে।’

১০ লাখ টাকা পরিশোধের পরও এত বকেয়া কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘১৫ শতাংশ সুদ হারে ঋণ দেয়া হয়েছিল। কিছু কৃষক টাকা পরিশোধ না করায় চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ বেড়ে গেছে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে ঈশ্বরদী উপজেলার ভাড়ইমারী গ্রামের ৪০ জন কৃষক দলগত ঋণ হিসেবে ১৬ লাখ টাকা গ্রহণ করেছিলেন। এর মধ্যে কেউ ২৫ হাজার, কেউ ৪০ হাজার টাকা করে ঋণ পান।

ঋণ ও সুদের টাকা পরিশোধ না করায় ২০২১ সালে ৩৭ জন কৃষকের নামে ব্যাংক মামলা করে। সম্প্রতি আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে গত ২৫ নভেম্বর ১২ জন কৃষককে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ।

বিষয়টি নিউজবাংলাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়। এ অবস্থায় গত ২৭ নভেম্বর পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক শামসুজ্জামান গ্রেপ্তার ১২ কৃষকসহ ৩৭ জনের জামিন মঞ্জুর করেন।

আরও পড়ুন:
ঋণখেলাপি মামলায় ১২ কৃষক কারাগারে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Death of baby Maisha That hospital in Dhaka was running without approval

শিশু মাইশার মৃত্যু: অনুমোদন ছাড়াই চলছিল ঢাকার সেই হাসপাতাল

শিশু মাইশার মৃত্যু: অনুমোদন ছাড়াই চলছিল ঢাকার সেই হাসপাতাল শিশু মাইশা (বাঁয়ে) এবং ঢাকার আলম মেমোরিয়াল হাসপাতাল। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
একটি ৯ তলা ভবনের ওপরের দিকে চারটি ফ্লোরে কয়েক মাস ধরে চলছিল আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালের কার্যক্রম। সম্প্রতি এর মালিকানা কিনে নেন জিকরুল্লাহ স্বপন। স্বপনের দাবি, তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা।  

হাতের আঙুলে অস্ত্রোপচারের সময় মারা যাওয়া কুড়িগ্রামের ছয় বছর বয়সী শিশু মারুফা জাহান মাইশাকে ঢাকার যে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় সেটি অনুমোদন ছাড়াই চলছিল।

মাইশার মৃত্যুর পর থেকে রাজধানীর রূপনগরের আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালটির সব কার্যক্রম বন্ধ। মাইশাকে ওই হাসপাতালে পাঠানো এবং অস্ত্রোপচার নিয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বক্তব্যে রয়েছে অস্পষ্টতা। তারাসহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন মাইশার বাবা।

একটি ৯ তলা ভবনের ওপরের দিকে চারটি ফ্লোরে কয়েক মাস ধরে চলছিল আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালের কার্যক্রম। সম্প্রতি এর মালিকানা কিনে নেন জিকরুল্লাহ স্বপন। স্বপনের দাবি, তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা।

আগের মালিক ডা. সৈয়দ মাসুদ রহমান একসময়ে মিরপুরে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালাতেন। তবে ঘটনার পর থেকে তার ফোন বন্ধ। তার চিকিৎসা-সংক্রান্ত অনুমোদন আছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

কুড়িগ্রাম পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভেলাকোপা ব্যাপারী পাড়ার মোজাফফর আলী ও বেলি আক্তারের মেয়ে মাইশা। তার ডান হাতের আঙুল ৯ মাস বয়সে পুড়ে বাঁকা হয়ে যায়।

মোজাফফর হোসেন মেয়ের চিকিৎসার জন্য গত ২৮ নভেম্বর মিরপুর ১১-এর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে আসেন। ওই হাসপাতালে রোগী দেখেন জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক (সার্জারি) ডা. আহসান হাবীব। মাইশাকে তার কাছেই দেখানো হয়।

মোজাফফর হোসেনের অভিযোগ, ডা. আহসান হাবীব মাইশার হাতে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন। পরদিন অভিভাবকেরা সম্মতি দিলে ডা. হাবীব তাদের জানান, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করতে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা লাগবে। আর রূপনগর আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালে খরচ হবে ৭০ হাজার টাকা।

আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিজের শেয়ার থাকায় কম খরচে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করতে পারবেন বলেও জানান ডা. হাবীব।

স্বজনদের দাবি, ৩০ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালে মাইশার অস্ত্রোপচার শুরু হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ডা. হাবীব অপারেশন থিয়েটার থেকে বের হয়ে জানান অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। হাতের আঙুলে প্রতিস্থাপনের জন্য চামড়া নেয়া হয়েছে মাইশার পেট থেকে।

তবে বেলা দেড়টার দিকে ডা. হাবীব স্বজনদের জানান মাইশার জ্ঞান ফিরছে না। তাকে অন্য হাসপাতালের আইসিইউতে পাঠাতে হবে। তিনি নিজেই অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করে একজন নার্স, ওয়ার্ড বয়সহ মিরপুর মাজার রোডের গ্লোবাল স্পেশালাইজড হসপিটালে নিয়ে যান। তবে সেখানকার চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে জানান মাইশা আগেই মারা গেছে।

এ ঘটনায় সোমবার দুপুরে রাজধানীর রূপনগর থানায় অভিযোগ জমা দেন মাইশার বাবা। সন্ধ্যায় সেটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে পুলিশ।

অভিযোগে মাইশার বাবা বলেন, মাইশার মৃত্যুর পর ডা. হাবীব তড়িঘড়ি করে অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। সেই সঙ্গে অস্ত্রোপচারের আগাম ফি হিসেবে জমা দেয়া ৫০ হাজার টাকা ফেরত দেয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়, মরদেহ দাফনের আগে গোসলের সময় দেখা যায় মাইশার নাভির নিচে আড়াআড়িভাবে পুরো পেট কাটা এবং সেখানে ১৭টি সেলাই রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্বজনরা ডা. হাবীবকে ফোন করলে তিনি তখন জানান, অস্ত্রোপচার তিনি করেননি, সেটি করেছেন ডা. শরিফুল ইসলাম ও ডা. রনি।

এরপরেই আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালের অবস্থান যেখানে সেই রূপনগর থানায় মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয় মাইশার পরিবার। তাদের অভিযোগ, মাইশাকে ‘হত্যা’ করা হয়েছে।

শিশু মাইশার মৃত্যু: অনুমোদন ছাড়াই চলছিল ঢাকার সেই হাসপাতাল
মাইশার অস্ত্রোপচার চলে এই অপারেশন থিয়েটারে

পার্টি সেন্টারের স্টেজের ওপরেই হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার

রূপনগরের আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় একটি ৯ তলা ভবনের ওপরের দিকের চারটি ফ্লোরে এর অবস্থান।

ভবনের নিচতলায় খাবার হোটেলসহ তিনটি দোকান রয়েছে। এরপর দুই, তিন ও চারতলায় পার্টি সেন্টার। চতুর্থ তলার পার্টি সেন্টারে গান-বাজনার স্টেজের ঠিক ওপরেই পঞ্চম তলায় হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার। সেখানেই মাইশার দেহে অস্ত্রোপচার করা হয়।

ভবনের ষষ্ঠ তলায় আল-আরাফাহ ইসলামী জীবনবিমার অফিস। এর পরের সপ্তম তলায় হাসপাতালের ওয়ার্ড, অষ্টম তলায় কেবিন ও নবম তলায় কনসালটেশন সেন্টার।

মাইশার মৃত্যুর পর থেকে অনুমোদনহীন এই হাসপাতালের সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। চারটি ফ্লোরই সোমবার সকালে তালাবন্ধ দেখা গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালটি চালু ছিল, রোগীও ভর্তি ছিলেন। তবে এরপর থেকে কোনো কার্যক্রম নেই।

ভবনের অন্য প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, ৩০ নভেম্বর মাইশার মৃত্যুর পর হাসপাতালের দায়িত্ব আগের মালিকের কাছ থেকে বুঝে নিয়েছেন স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা জিকরুল্লাহ স্বপন।

অবৈধ হাসপাতালের নতুন মালিক

মাইশার অস্ত্রোপচার হয়েছে যেখানে সেই আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালের কোনো অনুমোদন নেই বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বিল্লাল হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালের কোনো নিবন্ধন নেই এবং এ জন্য তারা আবেদনও করেনি। ওই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি জানার পরই আমরা কালক্ষেপণ না করে পরিচালকের নির্দেশে সেখানে যাই এবং হাসপাতালটি বন্ধ করে দিই।’

তিনি বলেন, ‘সেখানে গিয়ে দেখি সব কক্ষ তালা দেয়া। শুধু ফজলুল রহমান রাব্বি নামে একজনকে পাওয়া যায়। তিনি আমাদের পরিচালকের স্বাক্ষরিত নোটিশটি রিসিভ করেন।

‘নোটিশে নির্দেশনা দেয়া হয় কোনো চিকিৎসক যেকোনো হাসপাতালে কাজ করতে গেলে আগে দেখে নেবেন সেটি নিবন্ধিত কিনা। যদি না থাকে তবে তিনি কাজ করতে পারবেন না। করলে দায়ভার তাকেই নিতে হবে।’

শিশু মাইশার মৃত্যু: অনুমোদন ছাড়াই চলছিল ঢাকার সেই হাসপাতাল
আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালের কার্যক্রম এখন বন্ধ

অনুমোদন ছাড়াই ঢাকার বুকে এভাবে একটি হাসপাতাল কীভাবে চলল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা নিয়মিত অভিযান চালাই। তবে আমাদের লোকবল কম। অলিগলিতে গিয়ে সব তো দেখা সম্ভব হয় না। অভিযানে যেগুলো অনিবন্ধিত নজরে আসে, সেগুলো বন্ধ করা হয়।’

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আলম মেমোরিয়াল হাসপাতাল গড়ে তোলেন ডা. সৈয়দ মাসুদ রহমান নামে এক ব্যক্তি। ৯ তলা ভবনটির মালিকানাও তার। আগে তিনি মিরপুরে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক ছিলেন। ৩০ নভেম্বরের পর হাসপাতালটির মালিকানায় পরিবর্তন এসেছে, এখন এটির মালিক জিকরুল্লাহ স্বপন।

স্বপন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি নিজে একজন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক এবং মিরপুর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি। বর্তমান বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদের সহসম্পাদক।

‘এই হাসপাতালের আগের মালিক ছিলেন ডা. সৈয়দ মাসুদ রহমান। প্রায় চার মাস ধরে হাসপাতালের কার্যক্রম চলছে। আমার কাছে মালিকানা হস্তান্তর হয়েছে ডিসেম্বরের ১ তারিখ।’

ডা. সৈয়দ মাসুদ রহমানের সঙ্গে পরিচয় কীভাবে জানতে চাইলে স্বপন বলেন, ‘তার সঙ্গে আমার দেখা হয় মিরপুর মেডিট্যাগ অথবা মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। এখন নামটা সঠিক মনে নেই।’

হাসপাতালের আগের মালিক এখন কোথায় আছেন সে ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানের কেউ তথ্য দিতে পারেননি। তার ব্যবহৃত ফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া গেছে।

ডা. মাসুদের বিষয়ে জানতে চাইলে জিকরুল্লাহ স্বপন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তিনি আগে মিরপুর ১২-তে মিম জেনারেল হাসপাতালে বসতেন। পরে নিজেই মিরপুরে ডায়াগনস্টিক সেন্টার দিয়ে সেখানে বসতেন। সবশেষে আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালে কাজ শুরু করেন এ বছরের জুলাই-আগস্ট থেকে।

‘আমি ওনার কোনো কাগজপত্র দেখিনি। যতটুকু জানি উনি এমবিবিএস ডাক্তার এবং রাশিয়া থেকে এমডি ডিগ্রি নিয়ে এসেছেন। এটা তো অনেক বড় ডিগ্রি।’

অনুমোদনহীন একটি হাসপাতাল কেন কিনলেন, এমন প্রশ্নে আগের বক্তব্য থেকে সরে আসেন ছাত্রলীগ নেতা স্বপন। এবার তিনি দাবি করেন, প্রতিষ্ঠান কেনেননি, ভাড়া নিয়েছেন।

স্বপন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি হাসপাতাল কিনিনি। শুধু হাসপাতালের মালামাল কিনেছি। এটার অনুমোদন পেতে তিন-চার মাস ধরে আলোচনাও হচ্ছে। আমি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছি।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অবশ্য জানিয়েছে এ ধরনের কোনো আবেদন তারা পায়নি।

জিকরুল্লাহ স্বপন নিজেকে মিরপুর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ও বর্তমানে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদের সহসম্পাদক দাবি করলেও সংগঠনের নেতারা তা অস্বীকার করছেন।

ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক এবং মঙ্গলবারের কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী জাকওয়ান হোসাইন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জিকরুল্লাহ স্বপন নামে কাউকে আমি চিনতে পারছি না। সহসম্পাদক পদে অনেককেই চিঠি দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ হলেও হতে পারে, তবে আমি তাকে চিনতে পারছি না।’

মিরপুরে ছাত্রলীগের সবশেষ পূর্ণাঙ্গ কমিটি ২০ বছর আগে ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেড় বছর আগে একটি কমিটি ঘোষণা করা হলেও সেখানে শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ছিল। আর এবারের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সামনে রেখে ১ ডিসেম্বর আরেকটি কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে সেখানেও শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম রয়েছে।’

আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালের চারটি ফ্লোর ঘুরে কেবল ফজলুর রহমান রাব্বি নামে প্রতিষ্ঠানের এক কর্মীকে পেয়েছে নিউজবাংলা।

মার্কেটিংয়ের কর্মী দাবি করা রাব্বি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চলতি মাসের ১ তারিখ স্বপন ভাই এই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নিয়েছেন। এখানে যে অকারেন্সটা হয়েছে সেটা গত মাসের ৩০ তারিখে। আমি যতটুকু শুনেছি মাইশার আঙুলের অপারেশন ছিল। এসব ক্ষেত্রে বেশির ভাগ সময় ডাক্তাররা চামড়া নেয় রান (ঊরু) থেকে। তার রান চিকন হওয়ায় সেখান থেকে চামড়া নিতে পারেনি। পরে পেট থেকে চামড়া নিয়ে অ্যাডজাস্ট করেছে।’

শিশু মাইশার মৃত্যু: অনুমোদন ছাড়াই চলছিল ঢাকার সেই হাসপাতাল
পার্টি সেন্টারের রেস্তোরাঁর স্টেজের ঠিক ওপরেই আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার

হাসপাতালে এখন কোন রোগী ভর্তি আছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন কোনো রোগী নাই। হাসপাতাল ফাঁকা। আমাদের হাসপাতালের কিছু কাজ বাকি আছে। এগুলো শেষ করে রোগী ভর্তি নেব।’

আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালের পাশের সুজন পেইন্ট অ্যান্ড স্যানিটারি দোকানের কর্মচারী মো. ফয়সাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই হাসপাতালের কার্যক্রম চলছে পাঁচ-ছয় মাসের বেশি সময় ধরে। রোগী আসা-যাওয়া দেখেছি। এখন শুনলাম হাসপাতাল নাকি বন্ধ।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালের পাশের একটি ভবনের কেয়ারটেকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পাঁচ-ছয় মাস ধরে এই হাসপাতাল চালু আছে। সিজারসহ বিভিন্ন ধরনের অপারেশন হতো। যখন রোগী আসত তখন ডাক্তার আসত। ডা. মাসুদ এই হাসপাতালে নিয়মিত ৯ তলায় বসতেন। তিনি মেডিসিনের ডাক্তার। মাসুদ হাসপাতাল এবং এই ভবনের মালিক।’

তিনি বলেন, ‘ডা. মাসুদের বোন হাসপাতালের পাশের সাততলা ভবনের মালিক। তারা কেউ এখানে পরিবার নিয়ে থাকেন না। পল্লবীর বাসায় থাকেন। ডা. মাসুদ প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে ২টা এবং আবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নিয়মিত আসতেন।’

দায় নিচ্ছেন না চিকিৎসকেরা

মাইশাকে আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালে পাঠানো চিকিৎসক ডা. আহসান হাবীব দাবি করছেন হাসপাতালের শেয়ার হোল্ডার তিনি নন। শিশু মাইশার মৃত্যুর ঘটনাটি ‘দুঃখজনক’ মন্তব্য করে তিনি বলেন এর কারণ বুঝতে পারছেন না।

ডা. হাবীব নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মেয়েটির হাতের চামড়া ঠিক করতেই পেট থেকে চামড়া নেয়া হয়। সেখানে ডা. শরিফুল ইসলাম অপারেশন করেন। পুরো সময়টা আমি ছিলাম তাদের সঙ্গে।’

মাইশার পরিবারকে তিনি ওই হাসপাতালের শেয়ারহোল্ডার হিসেবে থাকার কোনো তথ্য দেননি দাবি করে ডা. হাবীব বলেন, ‘এগুলো বানোয়াট। আমি, ডা. শরিফুল ইসলাম এবং এনেস্থিসিয়া স্পেশালিস্ট রনি অপারেশনের সময় ছিলেন। সেখানে মেয়ের হাতের ছবি তোলা হয়েছে। সিসিটিভি আছে, পুরোটা দেখা যাবে। আর আমি কোনো শেয়ারহোল্ডার না।’

সিসিটিভি ফুটেজ চাইলে অবশ্য তিনি দিতে রাজি হননি।

অনুমোদনহীন একটি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনুমোদনের ব্যাপারটি প্রক্রিয়াধীন ছিল। আমরা সার্জন। বিভিন্ন জায়গায় সার্জারি করি। এটা প্লাস্টিক সার্জারি ছিল, তাই ডা. শরিফুলকে রেফার করেছিলাম।’

মাইশার অস্ত্রোপচার করেন বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যালের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শরিফুল ইসলাম।

অনুমোদনহীন আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত থাকা নিয়ে প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অনুমোদন আছে কি না, এটা তো আমি জানি না। আহসান হাবীব জানেন।’

মাইশার মৃত্যুর জন্য অ্যানেস্থেশিওলজিটদের দায় দিচ্ছেন ডা. শরিফুল।

তিনি বলেন, ‘প্লাস্টিক সার্জারিতে আমাদের মেইন কাজ হচ্ছে তলপেট থেকে অথবা থাই থেকে স্কিন নিয়ে আরেক জায়গায় দিই। তবে হাত পুড়ে গেলে সেখানে থাইয়ের স্কিন দেয়া যায় না। কারণ, থাইয়ের স্কিনের পুরুত্ব বেশি। ভালো রেজাল্টের জন্য স্কিন পেট থেকে নেয়া হয়।’

মাইশা কেন মারা গেল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা এনেস্থেশিয়া যিনি দিয়েছেন তিনি ভালো বলতে পারবেন। আমি অপারেশন শেষ করতে পারিনি। এনেস্থেশিয়ায় প্রব্লেম হয়েছিল। তখন তাড়াতাড়ি ডা. আহসান হাবীব আসেন। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন থেকে একজন এনেস্থেশিয়া স্পেশালিস্ট আসছিলেন তখন। তার নামটা মনে নেই। হাবীব ভাই ভালো বলতে পারবেন। তিনি তাকে নিয়ে এসেছিলেন। দুঃখজনক হচ্ছে রোগীকে বাঁচানো যায়নি।’

আইসিইউ হাসপাতালে নেয়ার আগেই মারা যায় মাইশা

আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর মাইশাকে মিরপুর-১ মাজার রোডের গ্লোবাল স্পেশালাইজড হাসপাতালে পাঠানোর আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়।

গ্লোবাল স্পেশালাইজড হাসপাতালে নির্বাহী পরিচালক এম এম নেয়ামত উল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের এখানে তো রোগীকে ভর্তিই করিনি। হাসপাতালে ঢুকতে দেয়া হয়নি। কারণ মাইশাকে আমরা অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরেই মৃত পেয়েছি।

‘তাদের সঙ্গে দুইজন ডাক্তার ও ওটির লোক এসেছিলেন। তারা আমাকে নানাভাবে অনুরোধ করে চেষ্টা করেছেন ম্যানেজ করে রোগীকে আইসিউতে ঢোকানোর জন্য। কিন্তু একজন মরা বাচ্চাকে কেন আমরা আইসিউতে ঢোকাব?’

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ট্রমাটোলজি অ্যান্ড অর্থোপেডিক রিহাবিলিয়েশন হসপিটালের শল্যবিদ আওলাদ হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শরীরের কোনো অংশ থেকে অন্য অংশে চামড়া কেটে লাগানোকে বলে স্কিন গ্রাফটিং। এটি সাধারণত ঊরু বা থাই থেকে নেয়া হয়। তবে ঊরু চিকন হলে পেটের ওপরের অংশ বা হাতের শোল্ডার থেকে নেয়া যায়। এই সেলাই চামড়ার ওপরেই থাকে। চিকিৎসক মনে করলে যেকোনো সুবিধাজনক জায়গা থেকেই চামড়া নিতে পারেন।’

পাঁচ দিনের মাথায় মামলা

মায়েশাকে হত্যা করার অভিযোগ তুলে সোমবার ঢাকার রূপনগর থানায় মামলা করেছেন তার বাবা মোজাফফর হোসেন।

রূপনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল রহমান সরদার নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘মাইশার মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবার আমাদের থানায় মামলা করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার জসীম উদ্দীন মোল্লা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ বিষয়ে যা যা করণীয় সব ব্যবস্থাই নেয়া হচ্ছে। আমরা কাজ শুরু করে দিয়েছি।’

আরও পড়ুন:
ভুয়া প্রেসক্রিপশনে সরকারি ওষুধ তুলে পাচার
ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতালে ভাঙচুর-সংঘর্ষ
রিপোর্ট আনতেই ডাক্তারের সময় শেষ
মেডিক্যাল কলেজ আছে, ভবন নেই
চালুর দেড় বছর পর চট্টগ্রাম এভারকেয়ার হাসপাতালের উদ্বোধন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Directorate of Consumer Affairs is interested in monitoring dining canteens of DU

ঢাবির ডাইনিং-ক্যান্টিন তদারকিতে আগ্রহী ভোক্তা অধিদপ্তর

ঢাবির ডাইনিং-ক্যান্টিন তদারকিতে আগ্রহী ভোক্তা অধিদপ্তর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এএইচএম সফিকুজ্জামান। ছবি: নিউজবাংলা
অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাইনিং এ ক্যান্টিনগুলোতে খাবারের মান নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন ওঠে। সেখানে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে খাবার রান্না ও পরিবেশন হয় কি না তা তদারকি করতে চাই আমরা।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রাবাসের ডাইনিং ও ক্যান্টিনগুলো তদারকি করতে চায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে।

সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ মিলনায়তনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ বিষয়ে একটি সেমিনারে এ নিয়ে আলোচনা হয়।

অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাইনিং এ ক্যান্টিনগুলোতে খাবারের মান নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন ওঠে। সেখানে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে খাবার রান্না ও পরিবেশন হয় কি না তা তদারকি করতে চাই আমরা।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) করারও প্রস্তাব দেন তিনি। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল একমত হন। তারা একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের খাবারে কোনো মূল্য তালিকা নেই। মঙ্গলবারের মধ্যে সেখানে মূল্য তালিকা টানানোরও সিদ্ধান্ত হয় সেমিনারে।

ভোক্তা অধিকারের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি শিক্ষার্থীদের নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। আইনটি ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণে কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে সে বিষয়ে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন।

পরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। পরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এবিএম শহিদুল ইসলাম, মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক মীজানুর রহমানও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবি পূরণে সময় নিলেন ঢাবি উপাচার্য
উৎসবমুখরতায় শেষ হলো ঢাবি’র ৫৩তম সমাবর্তন

মন্তব্য

p
উপরে