× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
One and a half million deaths per year from cancer
hear-news
player
google_news print-icon

ক্যানসারে মৃত্যু বছরে লাখের বেশি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ক্যানসারে-মৃত্যু-বছরে-লাখের-বেশি-স্বাস্থ্যমন্ত্রী
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন। ছবি: নিউজবাংলা
নারীদের মধ্যে ব্রেস্ট ক্যানসার ও জরায়ু ক্যানসারে অনেক বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এ ব্যাপারে নিজেদের প্রথমে সচেতন হতে হবে। তারপর স্ক্রিনিং এর মাধ্যমে শনাক্ত করতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশে ক্যানসারের রোগী সংখ্যা ১৫ থেকে ১৮ লাখ এবং বছরে এক লাখের বেশি মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন। বলেছেন, করোনাভাইরাতে গত দুই বছরে যত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তার তিন গুণ বেশি মৃত্যু হয়েছে ক্যানসারে।

এই মৃত্যুর একটি বড় অংশই হয় জরায়ু মুখ ও স্তন ক্যানসারে। প্রতি ১৩ হাজার মানুষের মধ্যে ৭ স্তন ক্যানসারে এবং প্রতি ৮ হাজারের মধ্যে ৫ জন জরায়ু ক্যানসারে মারা যায়।

বুধবার রাজধানীতে জরায়ু মুখ ও স্তন ক্যান্সার নিয়ে এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘নারীদের মধ্যে ব্রেস্ট ক্যানসার ও জরায়ু ক্যানসারে অনেক বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এ ব্যাপারে নিজেদের প্রথমে সচেতন হতে হবে। তারপর স্ক্রিনিং এর মাধ্যমে শনাক্ত করতে হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের আগে জানতে হবে রোগগুলো কেন হয়। পরিবেশ দূষণের কারণে হয়, পানি যদি পরিষ্কার না থাকে, আর্সেনিক থাকে তাহলেও রোগ হয়। খাবারে রঙ মেশানো হয়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি খাবার আমরা খাচ্ছি। আমরা ধূমপান করি, তামাক সেবন করি। যার ফলে গলার ক্যানসার, পেটের ক্যানসার- এ রকম বিভিন্ন দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হই।’

উচ্চতর চিকিৎসা এবং চিহ্নিত করার জন্য স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে ক্যানসার শনাক্ত করা যায় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা স্ক্রিনিং করতে আসবে, তাদেরকে পরীক্ষা করে ডাটা সংগ্রহ করে বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানো হবে।’

এ জন্য ২০০ টি স্ক্রিনিং স্পট চালু করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘স্ক্রিনিং করেই থেমে থাকা যাবে না। তার পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে হবে।’

স্তন ক্যানসার শনাক্তে মেমোগ্রাফি নামে উচ্চতর স্ক্রিনিং ব্যবস্থা প্রতিটি হাসপাতালে চালু হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘শুধু জরায়ু এবং স্তন ক্যানসার নয়, সব ধরনের ক্যানসারের চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা আমরা করব।’

বাংলাদেশ করোনা নিয়ন্ত্রণ করে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম এবং বিশ্বে পঞ্চম স্থান অর্জন করেছে বলেও দাবি করেন মন্ত্রী। বলেন, ‘এই সফলতার জন্য আমাদের সব কিছু এখন স্বাভাবিকভাবে চলছে।

‘চিকিৎসক, নার্স এবং চিকিৎসক সমাজের পরিশ্রমের বিনিময়ে আমরা এটি নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি বলেই শিল্প কারখানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিকভাবে চলছে। প্রধানমন্ত্রী ভ্যাকসিন হিরো হয়েছেন।’

প্রতিটি উপজেলায় কমিউনিটি পর্যায়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছি। ডায়রিয়া, কলেরা, পোলিও এখন নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু বিশ্বে বাংলাদেশসই অসংক্রামক ব্যাধিতে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। ক্যানসার, কিডনি, হৃদরোগের মতো রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ অনিয়মিত জীবনযাপনের জন্য।’

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শরফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ক্যান্সারে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুবরণ করে। থার্ড বা ফোর্থ স্টেজে আসার পর ডাক্তারদের আর কিছু করার থাকে না।

‘আমরা স্তন এবং জরায়ু ক্যানসারের স্ক্রিনিং এর জন্য আরও একটি ভবন তৈরি করতে যাচ্ছি। সবার সহযোগিতায় আমরা এই সেক্টরেও সফলতা অর্জন করব।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ ও শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক একেএম আমিনুল মুরশিদ, বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও নার্সরাও।

আরও পড়ুন:
স্তন ক্যানসারে দেশে বছরে ৬৭৮৩ মৃত্যু
স্তন ক্যানসারে কেমোর চেয়েও কার্যকর ওষুধের সন্ধান
ক্যানসার চিকিৎসায় মেডিক্যাল ফিজিসিস্টদের কাজে লাগানোর আহ্বান

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Mobile phones increase the risk of stroke

মোবাইলের অতিরিক্ত ব্যবহার বাড়ায় স্ট্রোকের ঝুঁকি

মোবাইলের অতিরিক্ত ব্যবহার বাড়ায় স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রতীকী ছবি
‘খাবারে বাড়তি লবণ না খাওয়া, ডায়াবেটিস কন্ট্রোল করা, নিয়মিত শরীর চর্চা করা, স্ট্রেস না নেয়া, ধূমপান না করার ওপর জোর দিতে হবে। মোবাইল ফোন কম ব্যবহার করতে হবে। অধিক সময় মোবাইল ফোন নিয়ে বসে থাকলে স্ট্রেস বেড়ে গিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।’

দেশে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ক্রমাগত বাড়ছে। অন্য কারণের পাশাপাশি অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। সঠিক সচেতনতা এবং সমন্বিত চিকিৎসা কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে স্ট্রোকের মৃত্যুঝুঁকি ও পঙ্গুত্ব কমানো সম্ভব।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) রোববার আয়োজিত স্ট্রোক বিষয়ক এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা এমন তথ্য তুলে ধরেন।

বিএসএমএমইউ-এর শহীদ ডা. মিল্টন হলে এই সেমিনারের আয়োজন করে নিউরো সার্জারি বিভাগ।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেয়া সম্ভব হলে অনেক মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব। তবে স্ট্রোকের চিকিৎসা করার চেয়ে স্ট্রোক প্রতিরোধ করাটা জরুরি। এজন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে।

‘খাবারে বাড়তি লবণ না খাওয়া, ডায়াবেটিস কন্ট্রোল করা, নিয়মিত শরীর চর্চা করা, স্ট্রেস না নেয়া, ধূমপান না করার ওপর জোর দিতে হবে। মোবাইল ফোন কম ব্যবহার করতে হবে। অধিক সময় মোবাইল ফোন নিয়ে বসে থাকলে স্ট্রেস বেড়ে গিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।’

বিশ্ব স্ট্রোক দিবস পালিত হয়েছে ২৯ অক্টোবর, শনিবার। ‘জানুন স্ট্রোকের লক্ষণ, মিনিটেই বাঁচিয়ে দিন বহু জীবন’ স্লোগান নিয়ে বিএসএমএমইউ-তে দিবসটি পালিত হয়।

ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার সকালে বিএসএমএমইউ-এর নিউরোলজি, নিউরো মেডিসিন ও নিউরো সার্জারি বিভাগ পৃথক শোভাযাত্রার আয়োজন করে। এছাড়াও নিউরো সার্জারি বিভাগ আয়োজন করে বৈজ্ঞানিক সেমিনার।

সেমিনারে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী মানুষের মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ স্ট্রোক। বিশ্বে প্রতি মিনিটে ১০ জন স্ট্রোকের কারণে মারা যাচ্ছে। বিশ্বে প্রতি হাজারে ৮ থেকে ১০ জন মানুষ স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছে। আর স্ট্রোক আক্রান্ত রোগীর ৪৮ শতাংশের উচ্চ রক্তচাপ থাকে।

বিশ্বে প্রতি লাখে ২ থেকে ১৩টি শিশু স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়। শিশুদের স্ট্রোকের অর্ধেক হয় রক্ত চলাচল বন্ধ হওয়ার কারণে। বাকি অর্ধেক হয় মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের মাধ্যমে। ২৫ ভাগ শিশু বার বার স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়। স্ট্রোকে আক্রান্ত ৬৬ ভাগ শিশুর হাত-পায়ের দুর্বলতা ও খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। স্ট্রোক শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ব্যাঘাত ঘটায়।

বাংলাদেশে স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। স্ট্রোকের চিকিৎসার জন্য দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াটা জরুরি। এই সময়ের মধ্যে জরুরি চিকিৎসা সেবা দেয়া সম্ভব হলে রোগীর মৃত্যু ও পঙ্গুত্ব কমানো সম্ভব। শতকরা ৮০ ভাগ স্ট্রোক আক্রান্ত রোগী ওষুধের মাধ্যমেই সুস্থ হয়।

সেমিনারে আরও বলা হয়, স্ট্রোক প্রতিরোধে ৭টি পদক্ষেপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খাবারে তেল ও লবণের ব্যবহার কমানো, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়মিত শরীরচর্চা করা, ধূমপান ও অ্যালকোহল সেবন থেকে বিরত থাকা, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ থাকলে নিয়ন্ত্রণে রাখা, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা ও স্ট্রেস কমাতে নামাজ, উপাসনা বা মেডিটেশন করা।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিএসএমএমইউ-এর নিউরো সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আখলাক হোসেন খান।

অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হোসেন, অধ্যাপক ডা. হারাধন দেবনাথ, অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল, অধ্যাপক ডা. আবু নাসার রিজভী, অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ আরাফাত, অধ্যাপক ডা. ধীমান চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. মওদুদুল হক, অধ্যাপক ডা. আইউব আনসারী, অধ্যাপক ডা. সুকৃতি দাস, অধ্যাপক ডা. হাসান জাহিদুর রহমান, অধ্যাপক ডা. কনোজ কুমার বর্মন, অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ, অধ্যাপক ডা. সুভাষ কান্তি দে, সহযোগী অধ্যাপক ডা. কে এম তারিকুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক ডা. শামসুল আলম, সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. রকিবুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক ডা. রেজাউল আমিন ও ডা. খায়রুন নবী খানসহ অন্যান্য শিক্ষক ও চিকিৎসকবৃন্দ সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন যুবকেরাও, চিকিৎসায় দেরিতে ক্ষতি বেশি
স্ট্রোক মোকাবিলায় প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ
কম বয়সীদের স্ট্রোক বাড়ছে
বছরে ১৮ লাখের বেশি স্ট্রোকের রোগী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Children bring changes in the brains of fathers

সন্তান পরিবর্তন আনে বাবাদের মস্তিষ্কেও

সন্তান পরিবর্তন আনে বাবাদের মস্তিষ্কেও গবেষণায় দেখা গেছে, পিতৃত্বের অভিজ্ঞতা পাওয়া বাবাদের মস্তিষ্কে পরিবর্তনের বিষয়টি সর্বজনীন। ছবি: সংগৃহীত
বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, পিতৃত্বের অভিজ্ঞতা লাভ করা পুরুষদের কর্টেক্সে বিশেষ পরিবর্তন ঘটে থাকে। বিশেষ করে মনোযোগ, পরিকল্পনা এবং প্রয়োগ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত মস্তিষ্কের বাইরের স্তরে এই পরিবর্তন সুস্পষ্ট। বিপরীতে নিঃসন্তান পুরুষদের গ্রুপে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি।

সন্তান জন্মদান কেন্দ্র করে মায়ের শরীরের নানান পরিবর্তনের তথ্য কমবেশি সবার জানা। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে সন্তানের কারণে বাবার শরীরেও আসে পরিবর্তন। বিশেষ করে পিতৃত্বের অভিজ্ঞতা লাভ করা বাবাদের মস্তিষ্কে ঘটে গঠনগত রূপান্তর।

মগজের এই পরিবর্তনের কারণে সন্তানের প্রতি বাবাদের বাৎসল্যের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, সেই সঙ্গে তৈরি হয় নতুন দায়িত্ববোধ।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমন প্রমাণ পেয়েছেন স্নায়ুবিজ্ঞানীরা। সেরিব্রাল কর্টেক্স জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা নিবন্ধে তারা বলছেন, বাবা হওয়ার অভিজ্ঞতা লাভ করা পুরুষ সামাজিক মিথস্ক্রিয়া ও দৃশ্যমানতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত মস্তিষ্কের কর্টিকাল অঞ্চলে স্পষ্ট পরিবর্তন অনুভব করেন।

মাতৃত্বের অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যাওয়া নারীদের মস্তিষ্কে পরিবর্তন পর্যালোচনার জন্য গবেষণাটি শুরু হয়েছিল। তবে পরে এর সঙ্গে পুরুষের মস্তিষ্কে পরিবর্তনের বিষয়টিও যাচাই করা হয়।

বিজ্ঞানী দলের সদস্য ছিলেন মাদ্রিদের ইনস্টিটিউটো ডি ইনভেস্টিগেশন স্যানিটরিয়া গ্রেগোরিও মারাননের স্নায়ুবিজ্ঞানী ম্যাগডালেনা মার্টিনেজ-গার্সিয়া।

তিনি বলছিলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল গর্ভাবস্থা ও প্রসবোত্তর পরিস্থিতির সঙ্গে মাতৃমস্তিষ্কের অভিযোজনকে পর্যবেক্ষণ করা। এ জন্য আমরা প্রজনন অভিজ্ঞতার বাইরের কারণ- যেমন শিশুর সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার মতো বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের পরিবর্তনের দিকটি আলাদা করতে চেয়েছি। আর সেটি করতে গিয়েই বাবাদের মস্তিষ্ক নিয়ে অধ্যয়নের সুযোগ তৈরি হয়।’

গবেষণায় ম্যাগডালেনা মার্টিনেজ ও তার সহকর্মীরা প্রথম সন্তানের জন্মের আগে ও পরে ৪০ জন পুরুষের স্ট্রাকচারাল নিউরোইমেজিং ডেটা পরীক্ষা করেছেন। পাশাপাশি নিঃসন্তান ১৭ পুরুষের মস্তিষ্কও পর্যবেক্ষণ করেছেন তারা।

বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, পিতৃত্বের অভিজ্ঞতা লাভ করা পুরুষদের কর্টেক্সে বিশেষ পরিবর্তন ঘটে থাকে। বিশেষ করে মনোযোগ, পরিকল্পনা এবং প্রয়োগ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত মস্তিষ্কের বাইরের স্তরে এই পরিবর্তন সুস্পষ্ট। বিপরীতে নিঃসন্তান পুরুষদের গ্রুপে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি।

গবেষণায় দেখা গেছে, বাবাদের ক্ষেত্রে ভিজ্যুয়াল সিস্টেম এবং মস্তিষ্কের স্বাভাবিক নেটওয়ার্কের মধ্যে থাকা কর্টিকাল উপাদানের মাত্রা কমে যায়। ফলে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার দিকে বেশি মনোযোগী হন পুরুষ। অতীতের অভিজ্ঞতাকে বেশি মাত্রায় বিশ্লেষণে সক্ষম হয় মস্তিষ্ক। গবেষকেরা বলছেন, এর মাধ্যমে নবজাতকের প্রতি মায়ের পাশাপাশি বাবাদের বাৎসল্যের মাত্রাও বাড়তে থাকে।

ম্যাগডালেনা মার্টিনেজ বলছেন, ‘মায়ের গর্ভাবস্থা এবং প্রসবোত্তর কাল- দুটি সময়েই বাবা-মায়ের মস্তিষ্কের একধরনের পুনর্গঠন হয়।’

বাবা হওয়া যে ৪০ জনের মস্তিষ্কের গঠন পর্যালোচনা করা হয়েছে তাদের মধ্যে অর্ধেক স্পেনের নাগরিক, বাকি ২০ জন যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা। মজার বিষয় হলো, দুটি মহাদেশের এবং দুটি ভিন্ন সংস্কৃতির পুরুষদের বেছে নেয়া হলেও সবার ক্ষেত্রেই কর্টেক্সে একই ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর মাধ্যমে বলা যায় পিতৃত্বের অভিজ্ঞতা পাওয়া বাবাদের মস্তিষ্কে পরিবর্তনের বিষয়টি সর্বজনীন।

ম্যাগডালেনা মার্টিনেজ বলছেন, ‘কর্টিকাল অঞ্চলে এই পরিবর্তন সামাজিক জ্ঞান, মনোযোগ এবং সহানুভূতিবোধের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। আমরা বাবা-মা দুজনের ক্ষেত্রেই কর্টেক্সের পরিবর্তন খুঁজে পেয়েছি। এই পরিবর্তন সন্তানের প্রতি তাদের মনোযোগ আরও গভীর করতে সাহায্য করে।’

আরও পড়ুন:
মানুষের আদি উৎসের সন্ধান দিলেন নোবেলজয়ী এসভান্তে পেবো
শূন্য থেকে বস্তুকণা বানালেন বিজ্ঞানীরা
দস্যি শিশুকেও ১৩ মিনিটে ঘুম পাড়াবেন যেভাবে
মদে লবণ মেশালে কি সিরকা হয়?
৩১ হাজার বছর আগেই ছিল দক্ষ শল্যচিকিৎসা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Babuland plays a role in the development of the child

শিশুর বিকাশে ভূমিকা রাখছে ‘বাবুল্যান্ড’

শিশুর বিকাশে ভূমিকা রাখছে ‘বাবুল্যান্ড’
‘ঢাকায় খেলার মাঠের অভাব ঘুচাতে বর্তমানে শিশুরা উদ্বেগজনক হারে ইন্টারনেট ও স্মার্ট ফোনে আসক্ত হয়ে পড়ছে। এটা মনস্তাত্ত্বিকভাবেও তাদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ অবস্থায় বাবুল্যান্ড শিশুদের বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।’

যান্ত্রিক এই রাজধানী শহরে শিশুদের জন্য নেই পর্যাপ্ত খেলার মাঠ। সে কারণে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শিশুদের সেই চাহিদা পূরণে কাজ করছে ‘বাবুল্যান্ড’।

রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় ‘বাবুল্যান্ড’-এ শনিবার আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এমন অভিমত ব্যক্ত করেন।

‘বাবুল্যান্ড’ দেশের সবচেয়ে বড় ইনডোর প্লে-গ্রাউন্ড। এখানে প্রতি মাসে প্রায় ৪০ হাজার শিশুকে পরিষেবা দেয়া হয়ে থাকে।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, ঢাকায় খেলার মাঠের অভাব ঘুচাতে বর্তমানে শিশুরা উদ্বেগজনক হারে ইন্টারনেট ও স্মার্ট ফোনে আসক্ত হয়ে পড়ছে। এটা মনস্তাত্ত্বিকভাবেও তাদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ অবস্থায় ‘বাবুল্যান্ড’ শিশুদের বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

সেমিনারে প্রধান বক্তা প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইশনাদ চৌধুরী বলেন, ‘ঢাকা শহরে মাত্র ২৯৪ একর খেলার মাঠ রয়েছে, যেখানে প্রয়োজন ১৮৭৬ একর বা ১৬ শতাংশ। এ অবস্থায় প্রতিদিন ৭৭ শতাংশ শিশু পর্যাপ্ত শারীরিক ব্যায়াম থেকে বঞ্চিত হয়। এটা পরবর্তীতে তাদের জন্য বিভিন্ন হৃদরোগ, এমনকি ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বয়ে আনতে পারে। নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর ইনডোর প্লে-গ্রাউন্ডের মাধ্যমে এই শূন্যতা পূরণ করতে এবং পরবর্তী প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়তাই আমাদের এই উদ্যোগের লক্ষ্য।’

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ প্ল্যানার্সের (বিআইপি) জরিপমতে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় ২৩৫টি খেলার মাঠ রয়েছে, যেখানে প্রয়োজন দুই হাজার চারশ’টি।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান উই আর সোশ্যাল ও হুট স্যুটের দেয়া তথ্যমতে, খেলাধুলার সুযোগের অভাবে শিশুরা প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা সময় ইন্টারনেটে কাটাচ্ছে। অল্প বয়স থেকে এমন বিঘ্নিত মনস্তাত্ত্বিক বিকাশ পরবর্তীতে কিশোরদের মধ্যে তৈরি করতে পারে হতাশা ও আত্মহত্যার প্রবণতা।

প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনামুল হক বলেন, “শিশুদের সেবা ও সঠিক যত্ন নিশ্চিত করতে আমরা ‘বাবুল্যান্ড সায়েন্স’ তৈরি করেছি। আমাদের শাখাগুলোতে রয়েছে অভিজ্ঞ ‘হ্যাপি হেলপার’, যাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সেবা বৃদ্ধিতে আমরা প্রচুর পরিমাণে বিনিয়োগ করি। একইসঙ্গে নিয়মিত সুপার ফান ইভেন্ট, ভালো ভালো অভ্যাস গড়ার চর্চা, অ্যাক্টিভিটি ক্লাস ইত্যাদিও এখানে আয়োজন করা হয়।”

বর্তমানে রাজধানীর বাড্ডা, মিরপুর, উত্তরা ও ওয়ারীতে বাবুল্যান্ডের চারটি শাখা রয়েছে। সম্প্রতি বাবুল্যান্ড এঞ্জেল বিনিয়োগকারীর মাধ্যমে ৪ কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগ পেয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানটিকে দেশব্যাপী তাদের সেবার মান সম্প্রসারণ করতে এবং এর ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেল চালুর মাধ্যমে আনন্দকে আরও ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করবে।

সেমিনারে প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়িক অংশীদারসহ শিশু বিকাশে কাজ করছেন এমন ব্যক্তিরা আলোচনা করেন।

আরও পড়ুন:
সবচেয়ে অসহায় অবস্থায় জন্ম হয় মানবশিশুর
শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী দিল নগদ ও শিশুস্বর্গ
কারখানার পড়ে যাওয়া ফটকের চাপায় শিশু নিহত
আপনার শিশুর চোখ ‘অলস’ না তো?
গালি দেয়ায় শিশুকে মেরে ইটভাটার চুল্লিতে ফেলে দেয়া হয়

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Sudden breakup? How to handle?

হঠাৎ ব্রেকআপ? সামলাবেন কীভাবে?

হঠাৎ ব্রেকআপ? সামলাবেন কীভাবে? আকস্মিক বিচ্ছেদের যন্ত্রণা সামাল দেয়া সবার জন্যই কঠিন। ছবি: সংগৃহীত
এমন কিছু মানুষ আছেন, যাদের পক্ষে ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক ভুলে যাওয়া খুব কঠিন। এসব মানুষের জন্য দরকার হতে পারে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ। এ ছাড়া এমন অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যারা গেছেন, তারাও হতে পারেন আদর্শ।

গভীর প্রেমের সম্পর্ক নিমেষেই ভেঙে গেছে? যাকে প্রাণপণ ভালোবেসেছেন সেই মানুষটিই ছুড়ে ফেলেছে আপনাকে?

নিঃসন্দেহে সময়টি খুব খারাপ কাটছে আপনার, বেখাপ্পা লাগছে এতদিনের ভালোলাগা গানের কলি। বুকে চেপে বসা ভীষণ যন্ত্রণা তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে সারাক্ষণ। কারও সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছা করছে না, সাড়া দিচ্ছেন না ফোনকলে। ফেসবুকের ওয়ালটি বড্ড পানসে লাগছে।

প্রতিটি সম্পর্কের আকস্মিক ফাটলের পেছনের গল্পগুলো সাধারণত এ রকমই। যে মানুষটি হয়ে উঠেছিলেন প্রাণের অবলম্বন, তার বিদায়পর্ব মেনে নেয়ার কাজটি মোটেই সহজ নয়। পুরো দুনিয়া আপনার কাছে ঠেকতে পারে স্বার্থপর, আকস্মিক ভীষণ একা হয়ে পড়তে পারেন আপনি।

তবে সত্যিটা হলো, সময় ধীরে ধীরে মনের সব ক্ষত সারিয়ে দেয়। একটা সময় পর আমরা আবার স্বাভাবিকতায় অভ্যস্ত হতে শুরু করি। নতুন করে সাজিয়ে নিই জীবন।

তবে এমন কিছু মানুষ আছেন, যাদের পক্ষে ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক ভুলে যাওয়া খুব কঠিন। এসব মানুষের জন্য দরকার হতে পারে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ। এ ছাড়া এমন অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যারা গেছেন, তারাও হতে পারেন আদর্শ।

ব্রেকআপের ধাক্কা সামলানোর কিছু উপায় জানিয়েছে সংবাদ ও কারেন্ট অ্যাফেয়ার্সভিত্তিক সাইট ভাইস। সেগুলো তুলে ধরা হলো নিউজবাংলার পাঠকের জন্য।

বিচ্ছেদ যন্ত্রণাকে অনুভব করতে দিন

বেলজিয়ামের এন্টওয়ার্প শহরের শিক্ষক শার্লট ভ্যান গিন্সবার্গেনের বয়স ৩৬। ব্রেকআপের পর একেবারেই ভেঙে পড়েছিলেন শার্লট। তিনি বলেন, ‘ব্রেকআপটি আমার জন্য একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল। অনেক বছর আমরা একসঙ্গে ছিলাম। ভেবেছিলাম সারা জীবন এভাবেই কাটবে। ব্রেকআপের পর প্রায়ই মনে হতো, আবার হয়তো সব ঠিক হয়ে যাবে।

‘ফেসবুক মেসেঞ্জারে ও আমাকে ছেড়ে যাওয়ার কথাটি জানিয়েছিল। ও তখন দেশে ছিল না। বিদেশ থেকেই আমার সঙ্গে প্রতারণা করে।’

আপনি যদি জীবনে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন তবে শুরুতেই নিজের প্রতি মনোযোগী হতে হবে। মনে রাখবেন, বিচ্ছেদের যন্ত্রণা খুব স্বাভাবিক। ঘুম ভাঙলেই মনে হতে পারে আপনি জলন্ত উনুনে পুড়ছেন। কষ্টের এই মুহূর্তটিকে এড়ানোর চেষ্টা করার দরকার নেই।

সাইকোথেরাপিস্ট লরি সিঙ্গার বলেন, ‘ভালো না লাগা বিষয়গুলো মেনে নেয়া আমাদের জন্য কঠিন। তবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে গেলে প্রথমেই মেনে নিতে হবে এই কষ্ট পাওয়া খুবই স্বাভাবিক। দুঃসময় থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা শুরুর প্রথম ধাপ এটাই হতে পারে।’

যোগাযোগ একদম বন্ধ করে দিন

যার সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আপনি কথা বলেছেন, বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ রেখেছেন, তাকে নিমেষে অগ্রাহ্য করা সহজ কিছু না। ব্রেকআপের পর আপনি বারবার প্রাক্তনের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য অধীর হয়ে উঠতে পারেন। ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুকে তার কোনো পোস্টে কমেন্ট করতে ব্যাকুল হতে পারে মন। তবে একদম এটা করবেন না। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করুন।

জৈবিক নৃতাত্ত্বিক এবং ডেটিং অ্যাপ ম্যাচের প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা ডা. হেলেন ফিশার বলেন, ‘এটা প্রমাণিত, যখন ব্রেকআপ হয় তখন আসক্তি থেকে মস্তিষ্কের মৌলিক অঞ্চলের ক্রিয়াকলাপ অব্যাহত থাকে।

‘যে মানুষটি মদ খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন তিনি তার টেবিলে মদের বোতল রাখবেন না। ছেড়ে যাওয়া মানুষের ছবি, চিঠি দূরে রাখুন। তাকে ফোন করবেন না, মেসেজ দেবেন না। ফেসবুকে মিচ্যুয়াল ফ্রেন্ডের মাধ্যমে তাকে খুঁজবেন না। মনে রাখবেন সে আপনার মাথায় ঘাঁটি গেড়ে বসে থাকতে চাইছে। তাকে আপনার ঝেড়ে ফেলতে হবে।’

সঙ্গীর সিদ্ধান্ত মেনে নিন

‘প্রাক্তনকে কীভাবে ফিরিয়ে আনবেন’ শিরোনামে কিছু বাজে নিবন্ধ অনলাইনে ছড়িয়েছিটিয়ে আছে। এতে সম্পর্ক ফিরিয়ে আনতে ন্যূনতম ৩০ দিন সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়, যাতে এ সময়ের মধ্যে প্রাক্তন তার ভুল ভুল বুঝতে পারেন।

তবে এভাবে প্রাক্তনের মন পরিবর্তনের ভাবনা মাথা থেকে দূর করুন। চলে যাওয়া সঙ্গীর সিদ্ধান্তকে সম্মান জানান। তার জন্য অপেক্ষা বন্ধ করুন। কারণ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সঙ্গী ফিরে আসে না।

কঠিন হলেও এটা বাস্তবতা। আপনি এমন কারও জন্য কেন অপেক্ষা করবেন যিনি তার জীবন থেকে আপনাকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে!

নিজেকে সম্মান করা শিখুন। নিজেকে বেশি বেশি ভালোবাসুন।

অনুসরণ করা বন্ধ করুন

রাত গভীর হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপনি কি প্রাক্তনের ছায়া অনুসরণ করছেন? ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুকে অন্যের ট্যাগ করা কোনো ছবিতে তাকে খুঁজছেন? প্রাক্তন কী করছেন, কাদের সঙ্গে তার মেলামেশা তা নিয়ে নানান অনুমানে নিজেকে মগ্ন রাখছেন? এসবই বন্ধ করুন।

উইল্টশায়ারের ২২ বছরের তরুণী সাশা মেইনকে তিন বছর আগে আকস্মিক তার সঙ্গী ছেড়ে যান। সে সময়ে অনেক ভুগেছেন সাশা। তিনি বলছিলেন, ‘আমার মনে হয় তখন যে কাজটি আমাকে সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছে সেটি হলো তাকে ফেসবুকে ব্লক না করা।’

প্রাক্তন কী করছেন তা জানার চেষ্টা করা অবশ্যই স্বাভাবিক, তবে আপনি যা-ই খুঁজে পান না কেন তা আপনাকে প্রশান্তি দেবে না।

সাশা বলেন, ‘তখন করোনার কারণে লকডাউন চলছিল। সব সময় ওর ফেসবুক প্রোফাইল চেক করতাম। নতুন গার্লফ্রেন্ডের সঙ্গে যখন ওর ছবি দেখতাম, তখন ভেঙে পড়তাম।

সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ এবং ডেটিং অ্যাপ সো সিঙ্কডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জেসিকা অ্যাল্ডারসন বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাক্তনের প্রোফাইল ঘেঁটে আপনি কখনোই ইতিবাচক কিছু অনুভব করবেন না। আপনাকে আসলে ভাবতে হবে কী করলে আনন্দিত হবেন। মনে রাখবেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারও স্ট্যাটাস দেখে মানুষের সত্যিকারের অবস্থান বোঝা বেশ কঠিন।’

নিজের প্রতি মনোযোগ দিন

এখনই সেই সময় যখন আপনাকে বিশ্বের সবচেয়ে স্বার্থপর ব্যক্তি হতে হবে। আপনি যা চান তার সবকিছু করুন। রেস্তরাঁয় সঙ্গীর অপছন্দের কারণে যে খাবারটি এতদিন মুখে তোলেননি, সেটি এবার পেটপুরে খান। তার কারণে যদি আপনি যদি নাকে ছিদ্র না করে থাকেন, তাহলে এখনই সময়। পারলারে ছুটে যান।

ইচ্ছা থাকলেও যে সিনেমাগুলো সঙ্গীর কারণে দেখেননি, সেগুলো চুটিয়ে দেখতে বসুন। নতুন নতুন রান্নাপ্রণালি আবিষ্কারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয় করুন। সপ্তাহান্তে কোথাও ঘুরে আসুন।

বিশ্বাস করুন আপনি পারবেন। আপনাকে আনন্দ দেয়া বিষয়গুলো খোঁজা অনেক জরুরি। এই অন্বেষণ আপনার হৃদয়ের ক্ষত পূরণে সাহায্য করতে পারে।

শার্লট বলেন, ‘বছরের পর বছর মনে হতো সে ছিল আমার পারফেক্ট ম্যাচ। এমন সঙ্গী জীবনে আর পাব না। এই ভাবনা আমাকে পিছিয়ে দিয়েছিল। আসলে কেউ কারও জন্য পারফেক্ট নয়। এটা করে নিতে হয়।’

আপন গতিতে এগিয়ে যান

বলা হয়ে থাকে, কাউকে পেতে হলে তার কাছে নিজেকে উজাড় করে দিতে হয়। এটা কি সত্যিই জরুরি? উষ্ণ কোনো নতুন শরীর অবশ্যই আপনাকে পুরোনো সুখ দিতে পারে। তবে তাই বলে বিচ্ছেদের যন্ত্রণা কাটাতে হুট করে কারও সঙ্গে জড়িয়ে পড়বেন না। এটা দুই পক্ষের জন্যই ক্ষতিকর হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্য সম্পর্কে জড়াতে তাড়াহুড়ো করা ঠিক নয়। খারাপ সময় কাটিয়ে ওঠার জন্য নিজেকে আগে সময় দিন। আপনি নতুন একটি সম্পর্কে যেতে চান কিংবা সম্পর্কে থাকা দরকার কি না, তা আগে ভাবুন। সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত না নিলে পরে পস্তাতে হতে পারে।

প্রাক্তনের স্বাভাবিক জীবন দেখতেও নিজেকে তৈরি করুন

আপনার সাবেক সঙ্গী এখন হয়তো অন্য কারও সঙ্গে বিছানা গরম করছেন। আপনাকে নিয়ে তিনি যে রেস্তরাঁয় যেতেন সেখানে হয়তো যোগ হয়েছেন নতুন কেউ।

যেভাবে আপনাকে প্রথম চুমু খেয়েছিলেন, সেই চুমুর অভিজ্ঞতা নেয়ার ঠোঁট এখন হয়তো অন্য কারোর। শুরুর দিকে এসব ভাবনা আপনাকে যন্ত্রণাকাতর করতেই পারে। তবে প্রাকৃতিকভাবেই ধীরে ধীরে এই অনুভূতি হালকা হয়ে আসবে।

নতুন এই সময়ের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। পরিস্থিতি হাসিমুখে গ্রহণ করতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘আপনাকে মনে রাখতে হবে যে সম্পর্কটি অস্বাস্থ্যকর ছিল। আপনি এখন এগিয়ে যাচ্ছেন, অভিজ্ঞতা থেকে অনেক কিছু শিখছেন।’

মনে রাখবেন একদিন আর কষ্ট হবে না

শার্লট বলেন, ‘সবকিছু যেভাবে চলছিল, সেভাবে সম্পর্ক এগিয়ে নেয়ার সুযোগ ছিল না। আমরা একে-অপরকে সময় দেয়া কমিয়ে দিয়েছিলাম। আমাদের বয়স কম ছিল। জানতাম না একটা সম্পর্ক কীভাবে এগিয়ে নিতে হয়। সেটা বোঝার চেষ্টাও করিনি। আমার দারুণ যুগল ছিলাম। ভালোবাসায় পূর্ণ ছিল আমাদের জীবন।

‘আমি মনে করি শেষ পর্যন্ত আমরা দুজনেই একে অপরের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। আমরা একসঙ্গে প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছি এবং সময়ের পরিক্রমায় একে অপরকে হারিয়েছি।’

হয়ত শিগগিরই, হয়তো এখন থেকে কয়েক বছর পর আপনি বুঝতে পারবেন, ওই সম্পর্কটি আপনার পুরো পৃথিবী ছিল না; কিছু সময়ের জন্য প্রাক্তনের সঙ্গে আপনার পৃথিবী ভাগ করে নিয়েছিলেন মাত্র।

সঙ্গী চলে যাওয়া পর ইচ্ছামতো কাঁদুন, বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে যান। কিছুদিন পর নতুন সঙ্গী খুঁজে নিন। মনে রাখবেন, জীবন খুবই চমৎকার, যদি সেটা আপনি নিজের মতো গড়ে নিতে পারেন।

আরও পড়ুন:
মানুষের আদি উৎসের সন্ধান দিলেন নোবেলজয়ী এসভান্তে পেবো
কিউবায় বৈধতা পেল সমলিঙ্গের বিয়ে
শূন্য থেকে বস্তুকণা বানালেন বিজ্ঞানীরা
দস্যি শিশুকেও ১৩ মিনিটে ঘুম পাড়াবেন যেভাবে
মদে লবণ মেশালে কি সিরকা হয়?

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Being lonely is suddenly increasing age?

নিঃসঙ্গ বলেই কি বাড়ছে বয়স?

নিঃসঙ্গ বলেই কি বাড়ছে বয়স?
এক গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে, হতাশা, অসুখী জীবন কিংবা একাকিত্ব বার্ধক্যের গতিকে ত্বরান্বিত করে। বয়স বাড়ার ক্ষেত্রে এগুলোর প্রভাব ধূমপানের চেয়েও বেশি।

কিছুদিন ধরে কি বুড়িয়ে যাচ্ছেন? চোখের নিচে জমছে কালি, স্পষ্ট হচ্ছে মুখের বলিরেখা?

বয়সের গতি হঠাৎ এভাবে বেড়ে যাওয়ার পেছনে কারণ থাকতে পারে অনেক, কিন্তু একবার তলিয়ে দেখুন তো সময়টি আপনার অসুখী যাচ্ছে কিনা?

আশপাশে অসংখ্য মানুষ ঘিরে থাকলেও নিজেকে চরম নিঃসঙ্গ বোধ করছেন কিনা? মনের কথা শোনার মানুষটি দূরের হয়ে গেছে কিনা?

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে, হতাশা, অসুখী জীবন কিংবা একাকিত্ব বার্ধক্যের গতিকে ত্বরান্বিত করে। বয়স বাড়ার ক্ষেত্রে এগুলোর প্রভাব ধূমপানের চেয়েও বেশি।

গবেষকেরা দেখেছেন, মনস্তাত্ত্বিক এসব কারণ মানুষের দেহগত বয়সের সঙ্গে বাড়তি ১.৬৫ বছর যোগ করতে পারে, যেখানে ধূমপানে বার্ধক্যের মাত্রা বাড়াতে পারে ১.২৫ বছর।

স্বাস্থ্যবিষয়ক জার্নাল এইজিংয়ে গত ২৭ সেপ্টেম্বর গবেষণা নিবন্ধটি প্রকাশিত হয়েছে।

এতে ১১ হাজার ৯১৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক চীনা নাগরিকের রক্ত ​​এবং বায়োমেট্রিক ডেটা মূল্যায়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তির সাহায্য নেয়া হয়। গবেষণায় বার্ধক্যের গতির সঙ্গে একাকিত্ব এবং অসুখী জীবনের তাৎপর্যপূর্ণ সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

গবেষকেরা দেখেছেন, বার্ধক্য ত্বরান্বিত হওয়ার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোষের আণবিক ক্ষতির মাত্রা বাড়তে থাকে এবং গুরুতর রোগ যেমন স্ট্রোক, লিভার সংক্রমণ ও ফুসফুসের জটিলতা সৃষ্টি করে।

গবেষক দলের প্রধান এবং হংকংয়ের চাইনিজ ইউনিভার্সিটির শিক্ষক হেলেন এইচ. ফাং বলছেন, ‘আমাদের গবেষণার ফল থেকে দেখা যাচ্ছে মনস্তাত্ত্বিক কারণগুলোর ওপরেও জোর দেয়া উচিত। এ জন্য কর্মক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।’

গবেষক দলটি বলছে, মানসিক অস্থিরতায় না ভোগা ব্যক্তিরা কর্মক্ষেত্রে ভালো পারফরম্যান্স করেন। পাশাপাশি তারা দীর্ঘকাল বাঁচেন এবং বয়সের তুলনায় মনস্তাত্ত্বিক বা জৈবিকভাবে বুড়িয়ে যান না।

আরও পড়ুন:
মদে লবণ মেশালে কি সিরকা হয়?
৩১ হাজার বছর আগেই ছিল দক্ষ শল্যচিকিৎসা
বিকট নাক ডাকলে ঝুঁকি বেশি ক্যানসারের
প্লাস্টিক বোতলকে হীরা বানাতে চাইলে যা করতে পারেন
গবেষণা বাড়াতে ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্টে আসছে নতুন আইন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Recruitment of school psychologists at the district level is in progress Education Minister

জেলাপর্যায়ে ‘স্কুল সাইকোলজিস্ট’ নিয়োগের কাজ চলছে: শিক্ষামন্ত্রী

জেলাপর্যায়ে ‘স্কুল সাইকোলজিস্ট’ নিয়োগের কাজ চলছে: শিক্ষামন্ত্রী ঢাবির ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে ১৫তম মনোবিজ্ঞান সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। ছবি: নিউজবাংলা
ডা. দীপু মনি আরও বলেন, ‘স্কুল-কলেজের তরুণদের মাঝেও আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তাই শুধু শারীরিক নয়, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।’

প্রতি জেলায় অন্তত একজন করে বিশেষজ্ঞ স্কুল-সাইকলজিস্ট নিয়োগ দেয়া হবে এবং এই নিয়োগের জন্য পদ সৃষ্টির কাজ চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

শুক্রবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে ১৫তম মনোবিজ্ঞান সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। ২০০৯ সালের দিকে তিনি প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজন করে ‘স্কুল সাইকোলজিস্ট’ নিয়োগের কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা এখনই সে পর্যায়ে যেতে পারছি না।’’

‘মানবকল্যাণে মনোবিজ্ঞান’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ মনোবিজ্ঞান সমিতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মনোবিজ্ঞান বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

তার আগে সকালে দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘‘শিক্ষকরা যেন শিক্ষার্থীদের মানসিক সমস্যা চিহ্নিত করতে পারে। তার জন্য প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অন্তত দু’জন করে কাউন্সিলিং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক নিশ্চিত করা হবে। এজন্য শিক্ষকদের ‘সাইকোলোজিক্যাল ফার্স্ট এইড’ এর ওপর ইতোমধ্যে প্রশিক্ষণ প্রদান কার্যক্রম চলছে।’’

তিনি বলেন, ‘এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে মনোবিজ্ঞানীরা প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল তৈরির পাশাপাশি প্রশিক্ষকের ভূমিকা পালন করছেন। আমদের মূল্য লক্ষ দুই লাখ শিক্ষককে এই প্রশিক্ষণ দেয়া, যা ইতোমধ্যে চলছে।’

মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. দীপু মনি আরও বলেন, ‘স্কুল-কলেজের তরুণদের মাঝেও আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তাই শুধু শারীরিক নয়, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

‘মানসিক স্বাস্থ্যের বেলায় মানুষের অনাগ্রহ দেখা যায়। কারণ মানসিক অসুস্থার কথা বললে অনেকে নেতিবাচকভাবে নেয়। ফলে মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি নজর না দেয়ায় পরিবার ও সমাজে অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে।’

এ ক্ষেত্রে সচেতনা বাড়াতে মনোবিজ্ঞানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনে মনোবিজ্ঞান সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুর রহমান সভাপতিত্ব করেন।

এ সময় অন্যদের মধ্যে সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এম শামসুদ্দিন ইলিয়াস ও সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. এম রওশন আলি এবং মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আজিজুর রহমানসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।

এর আগে সকালে উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, এই সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের মনোবিজ্ঞানীদের মধ্যে পারস্পরিক গবেষণা, মতামত ও জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে বিশেষ করে করোনা পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও প্রতিকূলতা মোকাবিলায় মনোবিজ্ঞানীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবার মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মনোজাগতিক উন্নয়নেও এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, বস্তুনিষ্ঠতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে মানবকল্যাণে সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য তিনি মনোবিজ্ঞানী, শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ মনোবিজ্ঞান সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও মালয়েশিয়ার মনোবিজ্ঞানীরা অংশ নেন।

সম্মেলনের পাঁচটি সায়েন্টিফিক সেশনে দেশ-বিদেশের মনোবিজ্ঞানীরা ৩০টি পেপার এবং চারটি মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন।

আরও পড়ুন:
ম্যানেজিং কমিটি না থাকার খবর ভিত্তিহীন
এমপিওভুক্তি থেকে বাদ পড়লে আপিল ২১ জুলাইয়ের মধ্যে
এমপিওভুক্ত হয়নি ৩২ উপজেলার কোনো প্রতিষ্ঠান
এমপিওভুক্ত হচ্ছে ২৭১৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
অনুদান পাচ্ছেন কারিগরি ও মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

মন্তব্য

p
উপরে