× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Two sentenced to death in Dinajpur housewife rape case
hear-news
player
google_news print-icon

দিনাজপুরে গৃহবধূ ধর্ষণ মামলায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড

দিনাজপুরে-গৃহবধূ-ধর্ষণ-মামলায়-দুজনের-মৃত্যুদণ্ড
দিনাজপুরের আদালত প্রাঙ্গণে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন। ছবি: নিউজবাংলা
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২০ সালের ২০ নভেম্বর বিকেলে ফুলবাড়ী উপজেলার পশ্চিম মীরপুর (জলেশ্বর) গ্রামের শ্বশুরবাড়ি থেকে রাগ করে বাবার বাড়িতে যাচ্ছিলেন ওই গৃহবধূ। পথে একটি জমিতে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন দুজন।

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় গৃহবধূকে ধর্ষণ মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন বিচারক।

জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শরীফ উদ্দিন আহমেদ বুধবার দুপুরে এ আদেশ দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন ৪০ বছর বয়সী বুদু ও ৩২ বছর বয়সী মো. সাগর।

বুদু ফুলবাড়ী উপজেলার মীরপুর গ্রামের হানিফ হাজির ছেলে। সাগর একই এলাকার মোখলেছার রহমানের ছেলে।

বিচারক মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামিদ্বয়কে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২০ সালের ২০ নভেম্বর বিকেলে ফুলবাড়ী উপজেলার পশ্চিম মীরপুর (জলেশ্বর) গ্রামের শ্বশুরবাড়ি থেকে রাগ করে বাবার বাড়িতে যাচ্ছিলেন ওই গৃহবধূ। পথে ওই গ্রামে বুদুর সঙ্গে দেখা হলে একটি ইজিবাইকের ব্যবস্থা করে দেয়ার অনুরোধ করেন গৃহবধূ।

সম্পর্কে গৃহবধূর দূরসম্পর্কের মামা হন বুদু। বুদু শর্টকাটে সড়কে নিয়ে গিয়ে ইজিবাইকে উঠিয়ে দেবেন বলে জমির আইল দিয়ে স্থানীয় এবরারের জমিতে নিয়ে যান ওই নারীকে।

বিবরণে উল্লেখ করা হয়, যাওয়ার সময় বুদু মোবাইল ফোনে তার বাড়ির কাজের ছেলে আসামি সাগরকেও ডেকে নেন। পরে এবরারের জমিতে গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন দুজন। ওই সময় বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় গৃহবধূকে। পরে নারীর চিৎকার স্থানীয়রা এগিয়ে এলে দুই আসামি পালিয়ে যান।

ঘটনার পরদিন ২১ নভেম্বর গৃহবধূ বাদী হয়ে বুদু ও সাগরকে আসামি করে ফুলবাড়ী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলার পর ফুলবাড়ী থানা পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারের পর আসামিরা প্রথমে ১৬১ ধারায় পুলিশের কাছে এবং পরে ১৬৪ ধারায় বিচারকের কাছে জবানবন্দি দেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। মামলায় ৭ সাক্ষীর সাক্ষ্য নেয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি তৈয়বা বেগম বলেন, ‘আমরা মামলাটি খুবই দ্রুতভাবে শেষ করতে সক্ষম হয়েছি। মামলার রায়ে আমরা খুশি। মামলাটি যত দ্রুত শেষ হয়েছে, তত দ্রুত রায় কার্যকর হবে বলে আমরা আশা করছি।’

আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মাজহারুল ইসলাম সরকার।

আরও পড়ুন:
ব্যবসায়ী সোহেল হত্যা : এক আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল
যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে হত্যায় মৃত্যুদণ্ড
ব্যবসায়ী হত্যা: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৩ আসামির সাজা কমে যাবজ্জীবন
হত্যা মামলায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড
হত্যার ১১ বছর পর ২ জনের মৃত্যুদণ্ড

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
A case involving the death of a woman who was dragged by a private car

প্রাইভেট কারে টেনেহিঁচড়ে নেয়া নারী নিহতের ঘটনায় মামলা

প্রাইভেট কারে টেনেহিঁচড়ে নেয়া নারী নিহতের ঘটনায় মামলা প্রাইভেট কারের নিচে ফেলে রুবিনাকে টিএসসি থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত টেনে নিয়ে যান ঢাবির সাবেক শিক্ষক আজহার জাফর শাহ। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
সড়ক পরিবহন আইনে মামলা হয়েছে জানিয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ বলেন, প্রাইভেট কারের চালক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক মোহাম্মদ আজহার জাফর শাহকে মামলায় আসামি করা হয়েছে, যিনি ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রাইভেট কারের নিচে ফেলে টেনেহিঁচড়ে নেয়া নারী নিহত হওয়ার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।

রুবিনা আক্তারের ভাই জাকির হোসেন বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে শাহবাগ থানায় মামলাটি করেন।

সড়ক পরিবহন আইনে এ মামলা হয়েছে জানিয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ বলেন, প্রাইভেট কারের চালক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আজহার জাফর শাহকে মামলায় আসামি করা হয়েছে, যিনি ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন।

কী ঘটেছিল

প্রতি সপ্তাহে রাজধানীর তেজকুনিপাড়ার বাসা থেকে হাজারীবাগে যেতেন গৃহবধূ রুবিনা আক্তার। অন্যান্য সপ্তাহের মতো শুক্রবার ননদের স্বামীর মোটরসাইকেলে চড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে হাজারীবাগ যাচ্ছিলেন তিনি।

বিকেল সোয়া ৩টার দিকে চারুকলা অনুষদের বিপরীতে পাশের রাস্তা ধরে যাওয়ার সময় একটি প্রাইভেটকারের ধাক্কায় পড়ে যান রুবিনা। চালক গাড়ি না থামিয়ে দ্রুতগতিতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

এ অবস্থায় টিএসসি, ভিসি চত্বর হয়ে মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের কাছাকাছি পর্যন্ত রুবিনাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায় গাড়িটি।

এরপর লোকজন গাড়িটি আটকে নিচ থেকে রুবিনাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান।

গাড়িচালক আজহার জাফর শাহকে মারধর করেন পথচারীরা। শাহবাগ থানার পুলিশ পরে জানতে পারে, আজহার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক। আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

‘এটা হত্যাকাণ্ড’

রুবিনার মৃত্যুকে ‘হত্যাকাণ্ড’ উল্লেখ করে পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মো. শহিদুল্লাহ বলেন, ‘এটা অবশ্যই একটি হত্যাকাণ্ড।’

তিনি বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, নিহত মহিলা দেবরের সঙ্গে বাইকে করে শ্বশুরবাড়ি থেকে তার বাপের বাড়ি হাজারীবাগে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে তারা যখন শাহবাগ থেকে টিএসসির আগে কাজী নজরুলের মাজারের উল্টো দিকের রাস্তায় পৌঁছান, তখন প্রাইভেট কারটি মোটরসাইকেলে ধাক্কা দিলে তিনি পড়ে প্রাইভেট কারের সঙ্গে আটকে যান।

‘এরপরও উনি গাড়িটি না থামিয়ে টেনেহিঁচড়ে চলে যান। তাকে থামানোর অনেক চেষ্টা করা হয়। উনি টিএসসি পৌঁছালে আমাদের মোবাইল টিমও তাকে থামানোর চেষ্টা করে। তারপরও উনি না থামিয়ে আরও জোরে গাড়ি চালিয়ে নীলক্ষেত মোড়ে গেলে উত্তেজিত জনতা তাকে থামতে বাধ্য করে। এই সম্পূর্ণ সময় সেই নারীটি গাড়ির সঙ্গে ছেঁচড়ে গেছেন।’

আরও পড়ুন:
বাসচাপায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত
মেয়েকে মাদ্রাসায় দিতে গিয়ে বাসচাপায় মা-বাবাও নিহত
সড়ক দুর্ঘটনায় এসআই ও এক নারীর মৃত্যু
কুকুরকে বাঁচাতে অটোর সঙ্গে সংঘর্ষ, বাইকআরোহী ২ তরুণ নিহত
দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ২

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Speech impaired girl burnt to death Accused arrested

বাকপ্রতিবন্ধী তরুণীকে পুড়িয়ে হত্যা: একমাত্র আসামি গ্রেপ্তার

বাকপ্রতিবন্ধী তরুণীকে পুড়িয়ে হত্যা: একমাত্র আসামি গ্রেপ্তার
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র নিউজবাংলাকে জানিয়েছে, পরিকল্পিতভাবেই মেয়েটির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন আসামি। এরপর বিয়ে করার কথা বলে তাকে ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সুভাট্টা এলাকায় নিয়ে যান।

ঢাকার কেরানীগঞ্জে বাকপ্রতিবন্ধী তরুণীকে পুড়িয়ে হত্যা মামলার একমাত্র আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র নিউজবাংলাকে জানিয়েছে, ওই তরুণীকে ধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। আসামি বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেছিলেন।

আসামিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান। তবে আসামির পরিচয় বা গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তিনি দেননি। শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবেন বলে জানিয়েছেন।

কেরানীগঞ্জের সুবাড্ডা সাবান ফ্যাক্টরির গলি চিতা খোলা এলাকা থেকে গত সোমবার রাত ১১টার দিকে দগ্ধ ওই তরুণীকে উদ্ধার করা হয়। তার বাড়ি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে বাদল্লাপুর এলাকায়।

শরীরের ৬৫ শতাংশ পুড়ে যাওয়া ওই তরুণীকে সোমবার রাতেই শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। সেখানে মঙ্গলবার রাতে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা করা হয়েছে।

তরুণীর ছোট বোনের অভিযোগ ছিল, হত্যার আগে তাকে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় তরুণীর ছোট ভাই হত্যা মামলা করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র নিউজবাংলাকে জানিয়েছে, ওই তরুণীর সঙ্গে ঘটনার ১০ থেকে ১২ দিন আগে আলাপ হয় আসামির। পরিকল্পিতভাবেই মেয়েটির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি। এরপর বিয়ে করার কথা বলে তাকে ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সুভাট্টা এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন।

আরও পড়ুন:
ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টায় সংগীত শিক্ষকের কারাদণ্ড
বীর মুক্তিযোদ্ধা হত্যা: কাশিমপুর কারাগারে একজনের ফাঁসি কার্যকর
সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড
এবার উদ্ধার আয়াতের মাথা
৯৪ বার পেছাল সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
It will be murder case DC Ramana

এটি হত্যাকাণ্ড, মামলা হবে: ডিসি রমনা

এটি হত্যাকাণ্ড, মামলা হবে: ডিসি রমনা নারীকে রিকশা থেকে ফেলে টিএসসি থেকে নীলক্ষেত থেকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায় প্রাইভেট কারটি। এক পর্যায়ে চালককে আটকে পিটুনি দেয় পথচারীরা। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
পুলিশের রমনা বিভাগের ডিসি শহীদুল্লাহ বলেন, ‘যেহেতু এটা মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা, তাই আমরা একটা মামলা নেব। গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি। সড়ক আইন অনুযায়ী রেকলেস ড্রাইভিংয়ে মৃত্যু ঘটনার শাস্তির বিধান আছে। এই আইনে তার যাতে সর্বোচ্চ শাস্তি হয়, সেটি আমরা চেষ্টা করব।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নারীকে প্রাইভেট কারের নিচে ফেলে টিএসসি থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড বলে উল্লেখ করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় মামলা হবে জানিয়ে রমনা বিভাগের ডিসি শহীদুল্লাহ বলেন, ‘এটি অবশ্যই একটি হত্যাকাণ্ড।’

শুক্রবার রাতে শাহবাগ থানায় সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

ডিসি শহীদুল্লাহ্ বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, ওই নারী দেবরের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবার বাড়ি হাজারীবাগে যাচ্ছিলেন। তারা যখন শাহবাগ থেকে টিএসসির আগে কাজী নজরুলের মাজারের উল্টো দিকের রাস্তায় পৌঁছান, তখন প্রাইভেট কারটি মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে ওই নারী সড়কে পড়ে যান ও প্রাইভেট কারের সঙ্গে আটকে যান।

‘তবে চালক গাড়িটি না থামিয়ে টেনে-হিঁচড়ে তাকে নিয়ে যান। অনেক চেষ্টা করেও তাকে থামানো যায়নি। উনি টিএসসি পৌঁছালে আমাদের মোবাইল টিমও তাকে থামানোর চেষ্টা করে। তারপরও উনি গাড়ি না থামিয়ে নীলক্ষেত মোড়ের দিকে চলে যান। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে থামায়।’

তিনি বলেন, ‘গাড়ির চালক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক। উত্তেজিত জনতার পিটুনিতে তার অবস্থাও সঙ্কটাপন্ন।’

ডিসি আরও বলেন, ‘যেহেতু এটা মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা, তাই আমরা একটা মামলা নেব। গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সড়ক আইন অনুযায়ী রেকলেস ড্রাইভিংয়ে মৃত্যু ঘটনার শাস্তির বিধান আছে। এই আইনে তার যাতে সর্বোচ্চ শাস্তি হয়, সেটি আমরা চেষ্টা করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার পর আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ওই শিক্ষকের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। একটা নম্বর পেয়েছি। তবে ঘটনা জানাতে যোগাযোগের পর থেকে মোবাইল ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তাদের কারও সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পেলে সাবেক ওই শিক্ষক সুস্থ নাকি অসুস্থ ছিলেন সে বিষয়ে জানা যেত।’

নিহতদের পক্ষে এখন পর্যন্ত কেউ মামলা করতে আসেননি জানিয়ে ডিসি শহীদুল্লাহ্ বলেন, ‘উনারা হয়তো ব্যস্ত আছেন। কিছুক্ষণ পর আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।’

এ বিষয়ে দুর্ঘটনার শিকার নারীর পরিবারকে সর্বোচ্চ আইনগত সহযোগিতা দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো নারী রুবিনা আক্তার তিনি গৃহবধূ ছিলেন। থাকতেন তেজগাঁওয়ে। তার ১২ বছরের একটি ছেলে আছে। দুই বছর আগে তার স্বামী মারা গেছেন।

অন্যদিকে গাড়িচালক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আজাহার জাফর শাহ।

আরও পড়ুন:
টিএসসিতে চাপা দিয়ে নারীকে নীলক্ষেত পর্যন্ত টেনে নিল গাড়ি
মতিঝিলে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
বাবা-ছেলেকে পিষ্ট করে হোটেলে কাভার্ড ভ্যান, নিহত ৫
বাসচাপায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত
মেয়েকে মাদ্রাসায় দিতে গিয়ে বাসচাপায় মা-বাবাও নিহত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Shishu Ayats father is also threatened to be cut into 6 pieces

হত্যার হুমকি পাওয়ার অভিযোগ আয়াতের বাবার

হত্যার হুমকি পাওয়ার অভিযোগ আয়াতের বাবার শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে আয়াত হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে এলাকাবাসী। ছবি: নিউজবাংলা
আয়াতের বাবা সোহেল বলেন, “একমাত্র মেয়েকে হারিয়েছি। অচেনা নম্বর থেকে আমাকে টেক্সট দিয়ে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। ওই নম্বর থেকে এসএমএস দিয়ে সে বলছে, ‘তোর মেয়েকে ছয় টুকরা করেছি, তোকেও করব।’ আমি পুলিশকে জানাইছি। সে ভয়েস বার্তাও দিছে।”

চট্টগ্রামে শিশু আয়াতকে হত্যায় কেবল আসামি আবির নয়, একটি চক্র জড়িত বলে দাবি করেছেন আয়াতের বাবা সোহেল রানা।

তার অভিযোগ, আয়াতের মতো তাকেও হত্যার পর ৬ টুকরা করা হবে বলে হোয়াটসঅ্যাপে হুমকি দেয়া হয়েছে। পুলিশকে তিনি বিষয়টি জানিয়েছেন।

আয়াত হত্যার প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে এসব অভিযোগ জানান সোহেল।

তিনি বলেন, “একমাত্র মেয়েকে হারিয়েছি। অচেনা নম্বর থেকে আমাকে টেক্সট দিয়ে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। ওই নম্বর থেকে এসএমএস দিয়ে সে বলছে, ‘তোর মেয়েকে ছয় টুকরা করেছি, তোকেও করব।’ আমি পুলিশকে জানাইছি। সে ভয়েস বার্তাও দিছে।”

সোহেল আরও বলেন, ‘আমার মেয়েকে এমন নৃশংসভাবে শুধু কি আবির আলীই হত্যা করেছে? এখানে একটা চক্রও থাকতে পারে। তারা মিলেমিশে এ ঘটনা ঘটিয়েছে কি না তা তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

‘তা না হলে আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাওয়া থেকে সরে যেতে কারা হুমকি দিচ্ছে?’

হোয়াটসঅ্যাপে পাওয়া বার্তা প্রসঙ্গে সোহেল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাকে মেসেজ দিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। আবার ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে বলছে, আবিরকে নাকি সে (হুমকিদাতা) পালিয়ে যেতে বলেছিল। পালিয়ে না যাওয়ায় পুলিশ ধরে ফেলছে। আমার মেয়েকে ছয় টুকরা করছে, আমাকেও নাকি ছয় টুকরা করবে। তাছাড়া মারার আগে আয়াতকে নাকি ধর্ষণ করা হয়েছিল।

‘২৮ তারিখ প্রথম মেসেজ দিয়েছিল। তখন তেমন গুরুত্ব দেইনি। কিন্তু পরে দেখি আরও মেসেজ পাঠিয়েছে। সকালে ভয়েস মেসেজ দিয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছে। আমরা পুলিশকে জানাইছি।’

আয়াত হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মনোজ কুমার দে বলেন, ‘আমাকে মঞ্জুর সাহেব (আয়াতের দাদা) ফোন করেছিলেন। আমি আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছি। স্থানীয় থানায় ডায়েরি করারও পরামর্শ দিয়েছি।’

নগরীর ইপিজেড থানার বন্দরটিলা নয়ারহাট বিদ্যুৎ অফিস এলাকার বাসা থেকে গত ১৫ নভেম্বর নিখোঁজ হয় আলিনা ইসলাম আয়াত। পরদিন ইপিজেড থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন তার বাবা সোহেল রানা।

এর ৯ দিন পর সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িত সন্দেহে আয়াতের পরিবারের ভাড়াটিয়া আবির আলীকে আটকের কথা জাানায় পিবিআই।

পিবিআইয়ের দাবি, আটকের পর আয়াতকে খুন ও লাশ গুম করার কথা স্বীকার করেছেন আবির। ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের জন্য আয়াতকে অপহরণচেষ্টার সময় শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

এরপর শনিবার প্রথমবার আবিরকে দুই দিনের রিমান্ডে পায় পুলিশ। পরে তাকে নিয়ে আয়াতের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারে সাগরপাড়ে অভিযান চালায় পিবিআই। এরপর সোমবার আবিরকে দ্বিতীয় দফায় সাত দিনের রিমান্ডে পায় পুলিশ। দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডের প্রথম দিন মঙ্গলবার আবিরের মা-বাবার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।

দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডের দ্বিতীয় দিনে আকমল আলী সড়ক এলাকার সাগরপাড় স্লুইস গেটের পাশ থেকে আয়াতের খণ্ডিত দুই পা উদ্ধার করে পিবিআই। পরদিন একই এলাকা থেকে আয়াতের টুকরা মাথা উদ্ধার করা হয়।

আয়াত নিখোঁজের ১৭তম দিন শুক্রবারও মরদেহের বাকি অংশের খোঁজে সাগরপাড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছে পিবিআই।

আরও পড়ুন:
শিশুর রক্তাক্ত মরদেহ বস্তায়
আলামত নষ্ট করার বিদ্যা ‘ক্রাইম পেট্রল’ দেখে
স্কুলকক্ষে ২ ভাইয়ের মরদেহ: বাবা আটক
শিশু আয়াতকে হত্যার পর ৬ টুকরা করেন সাবেক ভাড়াটিয়া
স্কুলকক্ষে ২ ভাইয়ের মরদেহ, মিলছে না বাবার খোঁজ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Another girls body hanging in the washroom of the madrasa after a month and a half

মাদ্রাসার শৌচাগারে দেড় মাসের ব্যবধানে আরেক মেয়ের ঝুলন্ত দেহ

মাদ্রাসার শৌচাগারে দেড় মাসের ব্যবধানে আরেক মেয়ের ঝুলন্ত দেহ
দুই ছাত্রীর মরদেহ একইভাবে মাদ্রাসায় পাওয়া যাওয়ার বিষয়টি দুর্ঘটনা বলেই জানালেন মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সামছুল আলম বকুল। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দায় কতটুকু জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনা ঘটে গেছে, আমরা বুঝতে পারিনি।’

নরসিংদীর মাধবদীতে একই মাদ্রাসার শৌচাগারে দেড় মাসের ব্যবধানে দুই ছাত্রীর মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। দুটি ঘটনাকেই মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আত্মহত্যা বলে জানিয়েছে। তবে সবশেষ ঘটনাটিকে মৃত শিশুর পরিবার হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করেছে।

মেহেরপাড়া ইউনিয়নের শেখেরচরে কুঁড়েরপাড় জামিয়া ক্বওমিয়া মহিলা মাদ্রাসায় এই দুটি ঘটনা ঘটেছে। সেখানকার শৌচাগারে বৃহস্পতিবার বিকেলে পাওয়া যায় ১০ বছরের মাইশা আক্তারের ঝুলন্ত দেহ। এর আগে গত ১৯ অক্টোবর এই মাদ্রাসার শৌচাগারে পাওয়া যায় ১৪ বছর বয়সি আফরিন আক্তারের ঝুলন্ত দেহ।

মাধবদী থানার ওসি মো. রকিবুজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মৃত মাইশার বাড়ি মাধবদীর মেহেরপাড়া ইউনিয়নের ভগীরথপুর গ্রামে। তার মৃত্যুর বিষয়টি জানাজানি হয়েছে শুক্রবার। এদিন সন্ধ্যায় তাকে হত্যা করা হয়েছে জানিয়ে বিচারের দাবিতে এলাকাবাসি বিক্ষোভ মিছিল করেছে। বিচারের পাশাপাশি মাদ্রাসাটি বন্ধের দাবিও তুলেছেন তারা।

আরও পড়ুন: মেয়েকে জোর করে মাদ্রাসায় পাঠালেন বাবা, পেলেন মৃতদেহ


মাদ্রাসার মুহতামীম মুফতি আসানউল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আসরের নামাজের সময় ছাত্রীরা এস্তেঞ্জা করতে গিয়ে মাইশাকে শৌচাগারের পানির পাইপের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে হুজুর ও খাদেমকে জানায়। শিক্ষকদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আমিই মাইশাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেই। ডাক্তার তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

‘লাশের ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার বাদ আসর ভগীরথীপুর কবরস্থানে মাইশার দাফন হয়।’

মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সামছুল আলম বকুল নিউজবাংলাকে জানান, ‘আমি শেখেরচর হাটে ছিলাম। শিক্ষকরা আমাকে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে হাসপাতাল মেয়েটিকে মৃত ঘোষণা করে। তবে ঘটনাটি কীভাবে ঘটলো, আমি বলতে পারছি না।

‘মেয়েটা আত্মহত্যা করেছে বলেই শুনেছি, মাদ্রাসার শিক্ষকরা বলেছেন।’

শিশু মাইশার চাচা মাওলানা মোছলেহ উদ্দিন নিউজবাংলাকে জানান, ‘মাইশার বাবা নেছারউদ্দিন সকালে মেয়েকে মাদ্রাসায় গিয়ে নাস্তা করিয়ে রেখে আসে। পরে দুপুরে পারিবারিক একটি দাওয়াতে মাইশার পরিবারসহ আমরা আত্মীয়ের বাড়িতে যাই।

‘বিকেল ৪টার দিকে মাদ্রাসার হুজুরদের ফোন থেকে কল করে জানানো হয় আপনাদর মেয়ে অসুস্থ। তাকে আমরা নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে আসছি, আপনারা আসেন। সবাই গিয়ে দেখতে পায় মাইশা মৃত। ডাক্তার জানায় মাইশাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।’

মাদ্রাসার শৌচাগারে দেড় মাসের ব্যবধানে আরেক মেয়ের ঝুলন্ত দেহ

শিশুর ফুপা আইনুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মাইশার শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম দেখতে পাই। দেখেই বুঝা যায় এটা একটা হত্যা। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’

মাইশার মায়ের অভিযোগ, মাদ্রাসার শিক্ষকরা এতে জড়িত; তাদের মেয়েকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

ঘটনাস্থল বৃহস্পতিবার রাতেই পরিদর্শন করেছেন নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ ও মাধবদী থানার ওসি।

শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মাইশার পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত কোনো অভিযোগ আসেনি জানিয়ে ওসি বলেন, ‘মৃত্যুর কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’

দুই ছাত্রীর মরদেহ একইভাবে মাদ্রাসায় পাওয়া যাওয়ার বিষয়টি দুর্ঘটনা বলেই জানালেন মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সামছুল আলম বকুল। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দায় কতটুকু জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনা ঘটে গেছে, আমরা বুঝতে পারিনি।’

মাদ্রাসার শৌচাগারে দেড় মাসের ব্যবধানে আরেক মেয়ের ঝুলন্ত দেহ

দেড় মাস আগে মৃত আফরিনের বাড়ি সদর উপজেলার মাধবদী থানার দড়িগাজীরগাঁও এলাকায়। সে ওই মাদ্রাসায় ফাজিল প্রথম বর্ষে পড়ত। তার বাবার নাম ডালিম মিয়া।

মাদ্রাসার শিক্ষক মো. আসানউল্লাহ সে সময় নিউজবাংলাকে জানান, সেদিন সকাল ৮টার কিছু আগে আফরিনকে নিয়ে আসেন তার বাবা ডালিম। আফরিন মাদ্রাসার গেট দিয়ে ঢুকতে চাচ্ছিল না। তাকে জোর করে ভেতরের দিকে ঠেলে দিতে দেখা যায় ডালিমকে।

মাদ্রাসার গেটম্যান ইদ্রিস আলী সে সময় নিউজবাংলাকে বলেন, “বাড়ি থেকে নির্যাতন করে ওই ছাত্রীকে মাদ্রাসায় নিয়ে এসেছিলেন বাবা। এ সময় আফরিন বলছিল, ‘আমি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করব না, বেশি জোর করলে ফাঁস লাগিয়ে মারা যাব।’

“তখন আমার সামনেই তার বাবা বলছিল, ‘মরলে মাদ্রাসার ভেতরেই মর, আমি এসে মরদেহ নিয়ে যাব।’ এর আগেও অনেকবার জোর করে মেয়েকে এখানে দিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।”

শিক্ষক আসানউল্লাহ ও আফরিনের সহপাঠীরা জানায়, মাদ্রাসায় এসে সকালে যথারীতি ক্লাস করছিল আফরিন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চারতলার শৌচাগারে যায় সে। এরপর আর ক্লাসে ফিরে না আসায় কয়েকজন ছাত্রী তাকে খুঁজতে যায়।

তারা শৌচাগারে আফরিনকে দেয়ালের পাইপের সঙ্গে নিজের ওড়নায় ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। মাদ্রাসার শিক্ষকরা গিয়ে তাকে নামিয়ে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

আফরিনের মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে অগ্রগতি আছে কি না জানতে ওসিকে কল করা হলে ‘মিটিংয়ে আছি’ বলে কল কেটে দেন তিনি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কে. এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ নিউজবাংলাকে জানান, ওই ঘটনায় আফরিনের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যুর অভিযোগ করা হয়েছিল। তবে আত্মহত্যার কারণ তিনি সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে পারেননি।

আরও পড়ুন:
শিশু পর্নোগ্রাফি: গুগলের তথ্যে ধরা বরগুনার মাদ্রাসাছাত্র
যুবকের ঝুলন্ত মৃতদেহ, হারপিক পান তরুণীর
ডেমরায় কিশোরীর ঝুলন্ত দেহ
শিশুকে মাদ্রাসার ভেতরে ধর্ষণ, নিরাপত্তাকর্মী গ্রেপ্তার
মা-মেয়ের আত্মহত্যাচেষ্টা: অভিযুক্ত আ.লীগ নেতা কারাগারে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Arrest 4 with cocktail in Bisik area

বিসিক এলাকায় ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৪

বিসিক এলাকায় ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৪ কুমিল্লা বিসিক শিল্প নগরী এলাকায় অস্ত্রসহ চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, বাগিচাগাঁও এলাকার নয়ন চক্রবর্তী, অশোকতলা বিসিক এলাকার রবিউল হোসেন, একই এলাকার ইয়াছিন হোসেন মাসুম, দৌলতপুর কলোনি এলাকার গোলাম হোসেন সজিব।

কুমিল্লা বিসিক শিল্প নগরী এলাকায় দেশীয় অস্ত্র, ককটেল ও ইয়াবাসহ চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার সন্ধ্যায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে তাদেরকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

কুমিল্লা কোতোয়ালী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ হানিফ সরকার এসব তথ্য জানান।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, বাগিচাগাঁও এলাকার নয়ন চক্রবর্তী, অশোকতলা বিসিক এলাকার রবিউল হোসেন, একই এলাকার ইয়াছিন হোসেন মাসুম, দৌলতপুর কলোনি এলাকার গোলাম হোসেন সজিব।

পুলিশ কর্মকর্তা হানিফ সরকার বলেন, ডিসেম্বরের বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে কুমিল্লা বিসিক শিল্প নগরীতে অভিযান পরিচালনা করি। এ সময় চারজনকে গ্রেপ্তার করি। তাদের কাছ থেকে প্রচুর দেশীয় অস্ত্র, ১৪টি ককটেল, ২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন:
বিএনপির মিছিল থেকে ককটেল, আহত পুলিশ
বিএনপির মিছিল থেকে ককটেল হামলার অভিযোগ
নওগাঁর নিয়ামতপুরে ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ৪
ছাত্রলীগের বহরে বিস্ফোরণ: যুবদল নেতাসহ ১২ জনের নামে মামলা
ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল বহরে ককটেল হামলা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The body of the missing woman is in the drain behind the house

নিখোঁজ নারীর মরদেহ বাড়ির পেছনের নালায়

নিখোঁজ নারীর মরদেহ বাড়ির পেছনের নালায় রাউজান থানা। ছবি: ফেসবুক
ওসি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ির পেছনের শৌচাগারের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামীকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে।’

চট্টগ্রামের রাউজানে নিখোঁজের ৪ দিন পর গৃহবধূর মরদেহ বাড়ির পেছনের নালা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে তার স্বামীকে।

নিহতের মা এ ঘটনায় ৬ জনকে আসামি করে শুক্রবার মামলা করেছেন রাউজান থানায়।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল হারুন।

নিহত ২৮ বছর বয়সী রোকসানা আক্তার উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের পাঠান পাড়া এলাকার মো. আজমের স্ত্রী। তিনি রোববার সকালে শ্বশুরবাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। তার স্বামীয় থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন।

ওসি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ির পেছনের শৌচাগারের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামীকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জমি বিক্রির টাকা নিয়ে আজমের পরিবারের সঙ্গে তাদের নিকটাত্মীয় ইসহাকের বিরোধ ছিল। সেই বিরোধ থেকে মারামারির ঘটনাও ঘটেছে। সেখান থেকে এই হত্যার ঘটনা ঘটেছে কি না আমরা তদন্ত করছি।’

আরও পড়ুন:
খাগড়াছড়িতে যুবকের মরদেহ উদ্ধার
সন্তানকে হত্যার দায়ে মায়ের যাবজ্জীবন
সাবেক স্ত্রীকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড
বীর মুক্তিযোদ্ধা হত্যা: কাশিমপুর কারাগারে একজনের ফাঁসি কার্যকর
এবার উদ্ধার আয়াতের মাথা

মন্তব্য

p
উপরে