× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Masdar Hossain wants to fulfill all the points of the judicial department
hear-news
player
google_news print-icon

বিচার বিভাগ আলাদার সব দফা পূরণ চান মাসদার হোসেন

বিচার-বিভাগ-আলাদার-সব-দফা-পূরণ-চান-মাসদার-হোসেন
নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ আলাদা করার সব দফা পূরণ না হওয়ায় হতাশা জানিয়েছেন সাবেক বিচারক মাসদার হোসেন। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
সাবেক বিচারক মাসদার হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মামলার চূড়ান্ত রায়ে ১২ দফা নির্দেশনা ছিল। তার মধ্যে ৮ দফায় ছিল সংসদ এবং নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণমুক্ত ও স্বাধীন বিচার বিভাগ হবে। কিন্তু এখনও নির্বাহী বিভাগ অর্থাৎ আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জজদের বদলি, বেতন, ছুটি, প্রমোশন সব কিছু হয়ে থাকে। এটা এখনও কার্যকর হয়নি।’

আলোচিত মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ আলাদা করার সিদ্ধান্ত হয়। সেই থেকে ১ নভেম্বর বিচার বিভাগ পৃথককরণ দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।

স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও কাগজে-কলমে বিচার বিভাগ আলাদা হলেও বাস্তবে এখনও আইন মন্ত্রণালয় ও সরকারের মুখাপেক্ষী হয়ে রয়েছে বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা। আর বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করে ২৩ বছর আগের চূড়ান্ত রায়ের ১২ দফা নির্দেশনা সম্পূর্ণ রূপে বাস্তবায়িত না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন মামলাটির বাদী সাবেক বিচারক মাসদার হোসেন।

দিবসটি উপলক্ষে সোমবার নিউজবাংলার সঙ্গে কথা হয় মাসদার হোসেনের। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওই মামলার চূড়ান্ত রায়ে ১২ দফা নির্দেশনা ছিল। তার মধ্যে ৮ দফায় ছিল সংসদ এবং নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণমুক্ত ও স্বাধীন বিচার বিভাগ হবে। কিন্তু এখনও নির্বাহী বিভাগ অর্থাৎ আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জজদের বদলি, বেতন, ছুটি, প্রমোশন সব কিছু হয়ে থাকে। এটা এখনও কার্যকর হয়নি।

তিনি বলেন, এ ছাড়া আলাদা পে-কমিশন করার কথা ছিল, সেটাও হয়নি। একইভাবে বিচারকদের নিয়োগের ক্ষেত্রে লোয়ার জুডিশিয়ারিতে তুলনামূলকভাবে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা দিয়ে মেরিট যাচাই করে জজ নিয়োগ হয়। কিন্তু হায়ার জুডিশিয়ারিতে সেটা হয় না। এটা কিন্তু রায়ের সেই নির্দেশনার পরিপন্থি।

তিনি বলেন, ‘কর্মপরিবেশ, লজিস্টিক বাজেট এগুলোও যথাযথভাবে হয় না। সর্বোপরি বিচারকদের সংখ্যা বৃদ্ধি না পাওয়ায় সাধারণ মানুষ বিচার প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বর্তমানে লাখ লাখ মামলা আদালতে ঝুলছে। বিচারকদের সংখ্যা বাড়িয়ে দিলে এ সমস্যার অনেকটা সমাধান হয়।

মামলার সংখ্যা বেশি থাকায় প্রতিটি মামলার শুনানির তারিখ ছয় মাস পরও পড়ে। এ কারণে বিচার শেষ হতে অনেক দিন লেগে যায়। এভাবে চললে বিচারপ্রার্থীরা বিচার বিভাগের ওপর আস্থা হারাবে। এ জন্য জরুরি ভিত্তিতে বিচারকের সংখ্যা বাড়ানো উচিত বলে মনে করেন সাবেক এ বিচারক।

পৃথককরণ দিবস ঘোষণার ১৫ বছরেও রায়ের নির্দেশনা সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন না করায় সরকারের অবহেলা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকার এটাতে গুরুত্ব দিচ্ছে না। জনস্বার্থে এটার অবশ্যই গুরুত্ব দেয়া উচিত।

মাসদার হোসেন বলেন, ‘এখন রাজনীতিবিদ যারা আছেন তাদের মুখে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা নাই। এটা নিয়ে তারা সোচ্চারও না।

‘সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্র বিচার বিভাগকে পৃথক করবে, কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও সরকার সংবিধানের সেই বাধ্যবাধকতা পালন করেনি। এমনকি কোনো সচেতন মহলও এটা নিয়ে এগোয়নি। শেষমেশ আমরা নিম্ন আদালতের বিচারকরা এগোলাম। তিন-চার যুগ পর রায় হলো, এখন রায়ও যথাযথভাবে কার্যকর হচ্ছে না। এক প্রশ্নের জবাব তিনি বলেন, একেবারেই হচ্ছে না, তা না। বিচার বিভাগ আলাদা হয়েছে, বিচারকাজ বিচারকরাই করছেন। কিন্তু কর্মপরিবেশসহ বিচারকদের আর্থিক সচ্ছলতা না থাকলে এবং নিয়ন্ত্রণমুক্তভাবে বিচার করার স্বাধীনতা না থাকলে, কিভাবে বিচার প্রার্থীরা ন্যায়বিচার পাবেন।

তিনি বলেন, ‘একটা দেশে যদি শক্তিশালী বিচার বিভাগ থাকে, তাহলে দুর্নীতি বন্ধ হয়ে যাবে। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে বিচারকরা যদি কঠোর হস্তে দমন করে, তাহলে দেশের দুর্নীতি কমবে, অর্থনীতি প্রবৃদ্ধি হবে, ছিনতাই-রাহাজানি, মাদকমুক্ত হবে সমাজ। এগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু এটার অথরিটি যারা, রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালনার সঙ্গে আছেন তাদের সদিচ্ছা থাকতে হবে। এভাবে সিস্টেম গড়ে তুলতে হবে।

‘বিচার বিভাগ শক্তিশালী হলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে, বিচার বিভাগ শক্তিশালী হলে দেশে শান্তিশৃঙ্খলা বহাল থাকবে। মানুষ ন্যায়বিচার পাবে। সবার আগে এটা ঠিক করা দরকার।’

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পরিপূর্ণতা পায়নি। সরকার এটাকে কুক্ষিগত করে রেখেছে। মাসদার হোসেন মামলার আলোকে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা বারবার তাগিদ দিলেও পরে আর সেটি টিকল না।’

‘পৃথক সচিবালয় থেকে শুরু করে নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি নিয়ে বারবার সিনহা সাহেব তাগিদ দিলেও কোনো কাজ হয়নি।’

আইনজীবী মনজিল মোরসেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিচার বিভাগ সত্যিকার অর্থে যেভাবে পৃথক হওয়ার দরকার ছিল, সেভাবে তো হয় নাই। নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি নিয়ে আইন মন্ত্রণালয় যে খসড়া করেছিল। সে সময় আপিল বিভাগ তাতে আপত্তি দিয়েছিল। পরে বিভিন্ন টানাপড়নে সেটি আর হলো না। এরপর যেটা হয়েছে সেটা তো মন্ত্রণালয়ের এক ধরনের কর্তৃত্ব রেখেই করা হয়েছে।

‘পরে অবশ্যই ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আব্দুল ওয়াহহাব মিয়ার সময় সেটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কাজেই তারা (আইন মন্ত্রণালয়) বলতে পারে এটি সুপ্রিম কোর্ট অনুমোদন দিয়েছে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে মাসদার হোসেন মামলার আলোকে যেভাবে হওয়ার কথা ছিল সেটি আসলে হয়নি বলেই আমার মনে হচ্ছে।

বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করতে এক রিট মামলায় ১৯৯৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ চূড়ান্ত রায় দেয়।

রায়ে ১২ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়। ১২ দফা নির্দেশনা হচ্ছে: ১. সংবিধানের ১৫২ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় সব বিভাগের কাজ সার্ভিস অফ রিপাবলিকের ভেতরে পড়বে। তবে বিচার বিভাগের কাজ ও অবকাঠামোর সঙ্গে প্রজাতন্ত্রের সিভিল সার্ভিসের অনেক ভিন্নতা রয়েছে। বিচার বিভাগকে অন্যান্য সিভিল সার্ভিসের সঙ্গে একত্রিত করা যাবে না

২. বিচারিক (জুডিশিয়াল) ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করতে হবে এবং নির্বাহী বিভাগের ম্যাজিস্ট্রেটরা বিচারিক কাজ করতে পারবেন না। সংবিধানের ১১৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদের পদ সৃষ্টি, নিয়োগ পদ্ধতি, নিয়োগ বদলিসহ অন্যান্য কাজের বিধিমালা প্রণয়ন করতে পারবেন।

৩. সিভিল সার্ভিস অর্ডার ১৯৮০ অনুযায়ী সব ম্যাজিস্ট্রেটকে পিএসসির অধীনে বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে একসঙ্গে নিয়োগ দেয়া হয়। একসঙ্গে নিয়োগ দেওয়া সংবিধান পরিপন্থি।

৪. এই রায় পাওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন বিধিমালা এবং কমিশন গঠন করতে হবে। এই কমিশনে সুপ্রিম কোর্টের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকবে। এই কমিশনে নারী ও পুরুষ বলে কোনো বৈষম্য থাকবে না।

৫. সংবিধানের ১১৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি জুডিশিয়ারির সবার চাকরির বিধিমালা (নিয়োগ, পদায়ন, বদলি পদোন্নতি ও ছুটিসহ অন্যান্য) প্রণয়ন করবেন।

৬. সংবিধানের ১১৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন বিধিমালা প্রণয়ন করবেন।

৭. সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের থাকবে।

৮. বিচার বিভাগ জাতীয় সংসদ বা নির্বাহী বিভাগের অধীনে থাকবে না এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটসহ সব বিচারক স্বাধীনভাবে কাজ করবেন।

৯. জুডিশিয়ারির (নিম্ন আদালত) বার্ষিক বাজেট প্রণয়নের ওপর নির্বাহী বিভাগের কোনো হাত থাকবে না। এই বাজেট সুপ্রিম কোর্ট প্রণয়ন এবং বরাদ্দ করবে।

১০. জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যরা প্রশাসনিক আদালতের আওতাভুক্ত থাকবেন।

১১. এই রায় অনুযায়ী বিচার বিভাগ পৃথককরণের জন্য সংবিধানে কোনো সংশোধন করার প্রয়োজন নেই। তবে পৃথককরণ আরও অর্থবহ করতে যদি সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হয়, তবে তা করা যাবে।

১২. জুডিশিয়াল পে-কমিশন: জুডিশিয়াল পে-কমিশন জুডিশিয়ারির সদস্যদের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে যতদিন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ না করবে, ততদিন পর্যন্ত বর্তমান অবকাঠামো অনুযায়ী তার সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।

আরও পড়ুন:
ওয়ান ব্যাংকের ১১ কোটি টাকা আত্মসাৎ: ১১ আসামিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ
ঘুষের প্রতিবাদ করে আইনজীবী বহিষ্কার নিয়ে হাইকোর্টে রিট
আগস্টে হাইকোর্টে মামলার চেয়ে নিষ্পত্তি বেশি
বরিশালে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্টে বহাল
বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
After 5 days of disappearance the businessman was rescued and arrested 6

নিখোঁজের ৫ দিন পর ব্যবসায়ী উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৬

নিখোঁজের ৫ দিন পর ব্যবসায়ী উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৬
এজাহার অনুযায়ী, গত ২২ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে মেহেদী ও তার কর্মচারী ইউসুফ আলী দোকানেই ছিলেন। এ সময় ৬ থেকে ৭ জন সাদা হায়েস মাইক্রোবাসে করে সেখানে আসে। ৫ জন গাড়ি থেকে নেমে মেহেদীকে টেনেহিঁচড়ে তুলে নেয়।

ঢাকার সাভারে নিখোঁজের ৫ দিন পর ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাকে অপহরণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৬ জনকে।

এসব তথ্য রোববার নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আল মামুন কবির।

তিনি জানান, আশুলিয়ার ইউনিক এলাকায় নাম্বান ওয়ান স্মার্ট ফার্নিচার অ্যান্ড ডোর নামে নিজ দোকান থেকে গত ২২ নভেম্বর সন্ধ্যায় তুলে নেয়া হয় ব্যবসায়ী মেহেদী হাসানকে। পুরো ঘটনা রেকর্ড হয় দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায়। পরদিন মেহেদীকে অপহরণের অভিযোগে আশুলিয়া থানায় মামলা করেন তার স্ত্রী মোরশেদা খাতুন।

গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন- যশোর জেলার মনিরামপুর থানার কেরতপুর গ্রামের কেরামুন হোসেন সম্রাট, টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানার ধাউরা নয়াপাড়ার আব্দুল আউয়াল, একই থানার আন্দুরার বাবুল মিয়া, পেকুরা গ্রামের রফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী মোছা. খাদিজা এবং একই জেলার বাসাইল থানার রাসেল মিয়া।

এজাহারে বলা হয়েছে, ৩৫ বছর বয়সী মেহেদী হাসান মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর উপজেলার পশ্চিম কলিয়া গ্রামের পান্নু মিয়ার ছেলে। দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে তিনি আশুলিয়ার শিমুলতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। উত্তর গাজীরচট এলাকার মনির মন্ডলের বাড়ির নিচতলায় দোকান ভাড়া নিয়ে ফার্নিচারের ব্যবসা করেন।

এজাহার অনুযায়ী, গত ২২ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি ও তার কর্মচারী ইউসুফ আলী দোকানেই ছিলেন। এ সময় ৬ থেকে ৭ জন সাদা হায়েস মাইক্রোবাসে করে সেখানে আসে। ৫ জন গাড়ি থেকে নেমে মেহেদীকে টেনেহিঁচড়ে তুলে নেয়। পরদিন সন্ধ্যায় তার স্ত্রীকে কল করে মেহেদী জানান, তাকে অপরিচিত স্থানে আটকে রাখা হয়েছে।

এসআই আল মামুন কবির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্যবসায়ীকে অপহরণের ঘটনায় গতকাল (শনিবার) রাতে ৬ জনকে টাঙ্গাইল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপহৃতকে উদ্ধারসহ একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
অপহরণ মামলায় খালাস সিরিয়াল কিলার রসু খাঁ
অপহরণের অভিযোগ পেয়ে ঘণ্টার মধ্যে যুবককে উদ্ধার
৬ মামলার আসামির উৎপীড়নে বন্ধ স্কুলছাত্রীর পড়ালেখা
র‍্যাব পরিচয়ে অটোরিকশাচালককে অপহরণ, গ্রেপ্তার ২
জুয়ায় হেরে নিজেকে ‘অপহরণ’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Corruption weakens foundation of state Chief Justice

দুর্নীতি রাষ্ট্রের ভিত্তি দুর্বল করে: প্রধান বিচারপতি

দুর্নীতি রাষ্ট্রের ভিত্তি দুর্বল করে: প্রধান বিচারপতি রোববার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি আয়োজিত আলোচনায় সভায় বক্তব্য দেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। ছবি: নিউজবাংলা
প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, ‘দুর্নীতি জনগণকে বিক্ষুব্ধ করে, জন্ম দেয় ক্রোধের। এজন্য দুর্নীতিকে নির্মূল করতে হবে। রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গের প্রতি জনগণের আস্থা দৃঢ় করতে সবাইকে সামান্যতম দুর্নীতি থেকেও দূরে থাকতে হবে। সামান্যতম দুর্নীতিও আস্থার জায়গা ধ্বংস করে দেয়।’

প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেছেন, দুর্নীতি এমন একটি ক্যান্সার যা গণতন্ত্রকে নষ্ট করে, দেশকে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়, রাষ্ট্রের ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়।

সংবিধান দিবস উপলক্ষে রোববার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি আয়োজিত এক আলোচনায় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, দুর্নীতি জনগণকে বিক্ষুব্ধ করে, জন্ম দেয় ক্রোধের। এজন্য দুর্নীতিকে নির্মূল করতে হবে। রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গের প্রতি জনগণের আস্থা দৃঢ় করতে সবাইকে সামান্যতম দুর্নীতি থেকেও দূরে থাকতে হবে। সামান্যতম দুর্নীতিও আস্থার জায়গা ধ্বংস করে দেয়।

আগামী প্রজন্মকে দুর্নীতিমুক্ত একটি রাষ্ট্র উপহার দিতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আসুন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পতাকাবাহীদের জন্য আমরা একটি দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রযন্ত্র রেখে যাই, যাতে তারা আরও উজ্জ্বল আলোয় প্রজ্বলিত হয়।

আইনজীবীদের আন্দোলনের গৌরবময় অধ্যায় তুলে ধরে বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, অগণতান্ত্রিক সামরিক শাসন আমলে এ দেশে বিচার বিভাগ নিয়ে অশুভ ও অবাস্তব অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছিল। এরই অংশ হিসেবে অসাংবিধানিক উপায়ে হাইকোর্ট বিভাগকে খণ্ড খণ্ড করে দেশের বিভিন্ন জেলায় বেঞ্চ স্থাপন করা হয়েছিল। গণতন্ত্র নস্যাতের সেই সময়ে আইনজীবীরা তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন।

তিনি বলেন, আমাদের সংবিধানের ধারক ও বাহক হিসেবে দেশের সব আইন ও আইনগত কার্যক্রমে সাংবিধানিক চেতনার প্রতিফলন নিশ্চিত করার সুমহান দায়িত্ব বিচার বিভাগের। একটি শক্তিশালী বিচার বিভাগ বাংলার মানুষের আজন্ম লালিত স্বপ্ন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল তারা এবং তাদের বংশধররা চায় বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের মানুষকে যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন তা বাস্তবায়ন না হোক। তারা চান, এদেশের মানুষ আবার তাদের প্রজা হয়ে থাক।

খুনিরা সামরিক শাসনের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে এদেশের মানুষের মন থেকে মুছে ফেলতে চেয়েছিল।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ এক ও অবিচ্ছেদ্য। তাই এই দুটোকে যেমন বিচ্ছিন্ন করে ফেলা যাবে না, তেমনি ভোলাও যাবে না।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আবার গণতন্ত্রের পথে ফিরে এসেছে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ বিনির্মাণে তিনি চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আমরা যদি সেই চেষ্টায় সহযোগিতা করি, তাহলে শুধু বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন পূরণ হবে না, সেই সোনার বাংলায় যে মানুষ থাকবে তারাও উপকৃত হবেন।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোমতাজ উদ্দিন ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান, বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এম এনায়েতুর রহিম, অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন, সিনিয়র আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় রফিক উল হকের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য: প্রধান বিচারপতি
এসব মৃত্যুর শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়: প্রধান বিচারপতি
রাসুল (সা.)-এর দেখানো পথেই আমাদের চলতে হবে: প্রধান বিচারপতি
বঙ্গবন্ধু হত্যার পেছনের চক্রকে চিহ্নিত করতে হবে: প্রধান বিচারপতি
বিচারপ্রার্থীরা আস্থা হারালে বিচার ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে: প্রধান বিচারপতি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Online violence against women increased by 132 percent

অনলাইনে নারী সহিংসতা বেড়েছে ১৩.২ শতাংশ

অনলাইনে নারী সহিংসতা বেড়েছে ১৩.২ শতাংশ রোববার ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ ‘অনলাইনে নারীর প্রতি সহিংসতা: বাধা এবং উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সমীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা
অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ পরিচালিত অনলাইন সমীক্ষার তথ্য বলছে, ২০২২ সালে দেশে ৬৩ দশমিক ৫১ শতাংশ নারী অনলাইনে নারী হয়রানি ও সহিংসতার শিকার হয়েছে, যা গত বছর  ছিল ৫০ দশমিক ১৯ শতাংশ। সাতক্ষীরা, সুনামগঞ্জ, পটুয়াখালী, বান্দরবান, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলায় সমীক্ষাটি চালানো হয়।

দেশে অনলাইনে নারী হয়রানি ও সহিংসতা বেড়েছে। গত এক বছরে এই বৃদ্ধির হার ১৩ দশমিক ২ শতাংশ। ২০২২ সালে দেশে ৬৩ দশমিক ৫১ শতাংশ নারী অনলাইনে নারী হয়রানি ও সহিংসতার শিকার হয়েছে, যা গত বছর ছিল ৫০ দশমিক ১৯ শতাংশ।

চলতি বছরে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ পরিচালিত এক অনলাইন সমীক্ষায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

১৬ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উদযাপন উপলক্ষে রোববার ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ আয়োজিত ‘অনলাইনে নারীর প্রতি সহিংসতা: বাধা এবং উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এই সমীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়।

সাতক্ষীরা, সুনামগঞ্জ, পটুয়াখালী, বান্দরবান, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট- এই ছয় জেলায় অনলাইন জরিপের মাধ্যমে সমীক্ষাটি করা হয়। এতে ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ৩৫৯ জন নারী অংশগ্রহণ করেন।

সমীক্ষায় বলা হয়, ২০২২ সালে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মধ্যে নারীরা সবচেয়ে বেশি ৪৭ দশমিক ৬০ শতাংশ অনলাইন সহিংসতার শিকার হন ফেসবুকে। এছাড়া ম্যাসেঞ্জারে ৩৫ দশমিক ৩৭, ইনস্টাগ্রামে ৬ দশমিক ১১, ইমোতে ৩ দশমিক ০৬, হোয়াটসঅ্যাপে ১ দশমিক ৭৫ ও ইউটিউবে ১ দশমিক ৩১ শতাংশ নারী অনলাইন সহিংসতার সম্মুখীন হন। এর বাইরে ৪ দশমিক ৮০ শতাংশ নারী বলেছেন যে তারা ভিডিও কল, মোবাইল ফোন ও এসএমএস-এর মাধ্যমে হয়রানির সম্মুখীন হয়েছেন।

চলতি বছরের সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৮০ দশমিক ৩৫ শতাংশ নারী অনলাইন সহিংসতার মধ্যে ঘৃণ্য ও আপত্তিকর যৌনতাপূর্ণ মন্তব্য, ৫৩ দশমিক ২৮ শতাংশ নারী ইনবক্সে যৌনতাপূর্ণ ছবি গ্রহণ ও যৌন সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব এবং ১৯ দশমিক ১৭ শতাংশ নারী বৈষম্যমূলক মন্তব্যের শিকার হয়েছেন।

১৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তাদের নামে অন্য কেউ অনলাইনে নকল আইডি তৈরি করায় হয়রানির শিকার হয়েছেন। ১৬ দশমিক ১৬ শতাংশ বলেছেন যে তাদের কার্যকলাপ সবসময় সাইবার স্পেসে অনুসরণ করা হয় এবং ১৩ দশমিক ১০ শতাংশ সমকামীদের অধিকার নিয়ে কথা বলার জন্য ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হয়েছেন। ১১ দশমিক ৭৯ শতাংশ বলেছেন যে তাদের ব্যক্তিগত ছবি অনুমতি ছাড়াই সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করা হয়েছে এবং ১১ দশমিক ৭৯ শতাংশ যৌন নিপীড়নের হুমকি পেয়েছেন।

এই সমীক্ষায় অংশগ্রহণ করা ৩ দশমিক ০৬ শতাংশের মতে, যৌন নিপীড়নের সময় তাদের ছবি তোলা বা ভিডিও রেকর্ড করা হয়েছিল এবং সেগুলো পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হয়। ২ দশমিক ৬২ শতাংশ নারী বলেছেন, তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি গোপনে পোস্ট করা হয় এবং পরে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের হুমকি দিয়ে অর্থের জন্য ব্ল্যাকমেইল করা হয়। ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ বলেছেন যে তাদের ছবি সম্পাদনা করে পর্নোগ্রাফি সাইটে প্রকাশ করা হয়।

সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, অনলাইন সহিংসতার কারণে নারীদের জীবনে সবচেয়ে গুরুতর প্রভাব হলো মানসিক আঘাত, হতাশা এবং উদ্বেগ- ৬৫ দশমিক ০৭ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রভাব হলো সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় থাকা বা মতামত প্রকাশ করার ক্ষেত্রে আস্থা হারানো- ৪২ দশমিক ৭৯ শতাংশ। ২৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ ট্রমার শিকার হয়েছেন এবং ২৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ আত্মমর্যাদা হারিয়েছেন।

সমীক্ষায় আরও প্রকাশ করা হয়েছে যে, অনলাইন সহিংসতা ও হয়রানির কারণে সৃষ্ট মানসিক যন্ত্রণা নারীর আত্মবিশ্বাস এবং স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে সংকুচিত করছে।

সমীক্ষায় আরও বলা হয়, ১৪ দশমিক ৯১ শতাংশ নারী অনলাইন সহিংসতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছেন এবং ৮৫ শতাংশের বেশি ভুক্তভোগী কোনো অভিযোগ জমা না দিয়ে নীরব ছিলেন। যদিও তারা বিভিন্ন উপায়ে অনলাইনে হয়রানির শিকার হয়েছেন।

অভিযোগকারীদের মধ্যে ৪৪ দশমিক ১২ শতাংশ সোশ্যাল মিডিয়া রিপোর্টিংয়ের মাধ্যমে, ২০ দশমিক ৫৯ শতাংশ পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন-এর ফেসবুক পেজের মাধ্যমে, ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ জাতীয় জরুরি পরিষেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে, ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ নিকটস্থ থানায়, ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ সাইবার ক্রাইমের ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন, সিটিটিসি ও ডিএমপির মাধ্যমে অভিযোগ করেছেন।

সমীক্ষায় আরও প্রকাশ করা হয়, বেশিরভাগ নারী মনে করেন বিদ্যমান অভিযোগের প্রক্রিয়াগুলো কার্যকর নয়। তাই ২৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ নারী কোনো অভিযোগ জমা দিতে আগ্রহ দেখাননি। ৬৪ দশমিক ৭১ শতাংশ তাদের জমা দেয়া অভিযোগের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিকার বা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখেননি। সামাজিক কলঙ্ক, ভুক্তভোগী দোষারোপ এবং গোপনীয়তা হারানোর ভয়ে ৭৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ নারী অনলাইনের মাধ্যমে বেনামে অভিযোগ করতে চান।

সমীক্ষায় অংশগ্রহণ করা ৫৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ নারীই বলেছেন, তারা অনলাইনে সহিংসতা ও নারীর প্রতি হয়রানির বিষয়ে কোনো সচেতনতামূলক প্রচারণা দেখেননি। ৭৩ দশমিক ০৯ শতাংশ বলেছেন, তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা পর্যবেক্ষণ করেছেন। এছাড়া ৩৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ টিভি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে, ২০ দশমিক ০৮ শতাংশ ইনফ্লুয়েন্সারের মাধ্যমে এবং ৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম দেখেছেন।

অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা নতুন কিছু নয় এবং এটি এখনও বিভিন্ন মাধ্যমে বিদ্যমান। পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র- প্রতিটি ক্ষেত্রে নারী নির্যাতন হচ্ছে এবং এর নানারকম বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে। এর নতুন এক মাধ্যম হলো অনলাইন, এই প্রযুক্তির যুগে অনলাইনে নারীদের প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে কিশোরী ও ১৮ বছরের নিচের কন্যা শিশুরা এর শিকার বেশি হচ্ছে। সবাই একত্রিত হয়ে কাজ করলে নারীর প্রতি সহিংসতা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Driver dies in Tejgaon accident

তেজগাঁওয়ে দুর্ঘটনায় চালকের মৃত্যু

তেজগাঁওয়ে দুর্ঘটনায় চালকের মৃত্যু প্রতীকী ছবি
‘দুর্ঘটনার পর প্রাইভেটকার তল্লাশি করে ১৪৯৩ ক্যান বিয়ার পাওয়া যায়। ৪১৮টি খালি বিয়ারের ক্যান ছিল সেখানে। কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে গুলশান ও যাত্রাবাড়ী থানায় মাদক আছে।’

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় জখম প্রাইভেটকার চালক কামাল হোসেনের মৃত্যু হয়েছে হাসপাতালে। গাড়িটি মাদক পাচারে ব্যবহার হচ্ছিল বলে পুলিশের দাবি।

রোববার সকাল ১০ টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ৪৫ বছর বয়সী কামাল হোসেন।

গত ১৫ নভেম্বর সকালে গুলশান লিংক রোডের নিপ্পন বটতলা নামক স্থানে দুর্ঘটনার শিকার হন কামাল হোসেন। চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি আইল্যান্ডে ধাক্কা খায়।

শিল্পাঞ্চল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আইল্যান্ডে ধাক্কা খেলে চালক বুকে আঘাত পান। তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

‘দুর্ঘটনার পর প্রাইভেটকার তল্লাশি করে ১৪৯৩ ক্যান বিয়ার পাওয়া যায়। ৪১৮টি খালি বিয়ারের ক্যান ছিল সেখানে। কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে গুলশান ও যাত্রাবাড়ী থানায় মাদক আছে।’

২৫ নভেম্বর কামাল হোসেনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার তিনি মারা যান।

ময়নাতদন্তের জন্য কামালের মরদেহ ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে।

স্বজনরা জানান, কামাল হোসেনের বাড়ি জামালপুর সদর উপজেলার চর গজারিয়ায়। ঢাকায় তিনি যাত্রাবাড়ী এলাকায় থাকতেন।

ছেলে রাকিব হাসান পুলিশের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে হাসপাতালে যান। তবে পিতার মৃত্যু ও মাদক মামলা নিয়ে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

আরও পড়ুন:
মেয়েকে মাদ্রাসায় দিতে গিয়ে বাসচাপায় মা-বাবাও নিহত
বাইকে ট্রলির ধাক্কায় প্রাণ গেল তিনজনের
সড়ক দুর্ঘটনায় এসআই ও এক নারীর মৃত্যু
পিকআপ-অটোরিকশা মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১
কুকুরকে বাঁচাতে অটোর সঙ্গে সংঘর্ষ, বাইকআরোহী ২ তরুণ নিহত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Surrender of one person in militant robbery case four days remand

জঙ্গি ছিনতাই মামলায় একজনের আত্মসমর্পণ, চার দিনের রিমান্ড

জঙ্গি ছিনতাই মামলায় একজনের আত্মসমর্পণ, চার দিনের রিমান্ড সিসিটিভি ফুটেজে জঙ্গিদের পালানোর দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত
জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় করা মামলার এজাহারে ইদি আমিনের নাম রয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

ঢাকার নিম্ন আদালত প্রাঙ্গণ থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গি ছিনিয়ে নেয়ার মামলায় ইদি আমিন নামে এক আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন।

রোববার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেনের আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তিনি।

জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় করা মামলার এজাহারে ইদি আমিনের নাম রয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে ১০ দিন রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) পরিদর্শক মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ। উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

২০ নভেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত প্রাঙ্গণ থেকে দুই জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় ২০ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা করেন পুলিশ পরিদর্শক জুলহাস উদ্দিন আকন্দ। মামলায় অজ্ঞা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার ১২ আসামিকে ২০ নভেম্বর সকালে কাশিমপুর-২ কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে ঢাকার আদালতে আনা হয়। সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকার প্রসিকিউশন বিভাগে আসামিদের হাজিরা দেয়ার জন্য সিজেএম আদালত ভবনে সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনাল-৮ এ নিয়ে যাওয়া হয়। মামলার শুনানি শেষে জামিনে থাকা দুই আসামি ইদি আমিন ও মেহেদী হাসান অমি ওরফে রাফি আদালত থেকে বের হয়ে যান।

সিটিটিসি ইউনিটের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কোর্টের শুনানি শেষে প্রথমে চারজনকে নিচে নামিয়ে আনা হয়। দুটি হাতকড়া দিয়ে দুই-দুইজনকে আটকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। বাকি আসামিরা তখন উপরে ছিলেন।

‘চারজনের মধ্যে মইনুল হাসান ও আবু সিদ্দিককে জঙ্গিরা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তবে মো. আরাফাত ও মো. সবুরকে নিতে পারেনি। এই কাজে জঙ্গিরা পিপার স্প্রে ব্যবহার করে। এতে একজন সিকিউরিটি গার্ড, একজন পুলিশ সদস্যসহ কয়েকজন সাধারণ মানুষ আক্রন্ত হন।’

আরও পড়ুন:
পলাতক জঙ্গিরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকি: পুলিশ
জঙ্গি ছিনতাইয়ের মূল হোতার পরিচয় পেয়েছে সিটিটিসি
আদালতপাড়ায় জঙ্গি ছিনতাই নাটক: রিজভী
ঢাকার বিচারিক আদালতে নিরাপত্তা জোরদার
ছিনিয়ে নেয়া দুই জঙ্গিকে গ্রেপ্তারে অভিযানে র‌্যাব

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Life sentence for 2 accused in the murder case of 2 years ago

দুই যুগ আগের হত্যা মামলায় ২ আসামির যাবজ্জীবন

দুই যুগ আগের হত্যা মামলায় ২ আসামির যাবজ্জীবন
১৯৯৮ সালের ১৬ নভেম্বর বিকেলে কলেজছাত্র এম এ মাসুদ চৌধুরীকে হত্যা করে আসামিরা। পরের বছর ৩০ অক্টোবর তিনজনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট আদালতে দেয় পুলিশ। ২০০১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় বিচারকাজ।

চট্টগ্রামে কলেজছাত্রকে গুলি করে হত্যার দায়ে দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

তারা হলেন মো. রফিক ও আজিম উদ্দিন।

অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আরেক আসামি অনুপ মল্লিককে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শরীফুল আলম ভূঁইয়ার আদালত রোববার দুপুরে এই রায় দেয়।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী ওমর ফুয়াদ।

১৯৯৮ সালের ১৬ নভেম্বর বিকেলে বাসার গলিতে গুলি করে কলেজছাত্র এম এ মাসুদ চৌধুরীকে হত্যা করে আসামিরা। পরের বছর ৩০ অক্টোবর তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ। ২০০১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় বিচারকাজ।

ওমর ফুয়াদ বলেন, ‘আসামিদের বিচার শুরুর পর ২৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্য নেয় আদালত। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে রোববার রায় ঘোষণা হয়। রায়ে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডসহ দুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত।’

রায় ঘোষণার সময় আসামিদের মধ্যে মো. রফিক আদালতে ছিলেন বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
স্কুলকক্ষে ২ ভাইয়ের মরদেহ, মিলছে না বাবার খোঁজ
বাবুল আক্তারকে গ্রেপ্তারে আদেশ
অন্তঃসত্ত্বাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা, ৫ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড
মাঠে দম্পতির মরদেহ, গলায় ওড়না
জামিনে মুক্ত ফেনীর সেই সাংবাদিক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Order to dispose of cases pending for 29 years

২৯ বছর ধরে ঝুলে থাকা মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ

২৯ বছর ধরে ঝুলে থাকা মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ হাইকোর্ট। ফাইল ছবি
অস্ত্র আইনে চট্টগ্রামের বাঁশখালি থানার চম্বল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবুল হক চৌধুরীসহ দুই জনের বিরুদ্ধে মামলা হয় ২৯ বছর আগে। এক আসামি অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করলে মামলার কার্যক্রম ঝুলে যায়।

চট্টগ্রামের বাঁশখালি থানার চম্বল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবুল হক চৌধুরীসহ দুই জনের বিরুদ্ধে ২৯ বছর স্থগিত থাকা একটি অস্ত্র মামলার কার্যক্রম নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

এ সংক্রান্ত এক আবেদনের শুনানি নিয়ে রোববার বিচারপতি আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি শাহেদ নূর উদ্দিনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মহিউদ্দিন দেওয়ান।

পরে আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভুঁইয়া বলেন, অস্ত্র আইনে চট্টগ্রামের বাঁশখালি থানার চম্বল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবুল হক চৌধুরীসহ দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এ মামলায় ১৯৯২ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের বাঁশখালি থানা অভিযোগপত্র দেয়। পরবর্তীতে এ মামলার একজন আসামি আহম্মদ ছফা ১৯৯৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর মামলার অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করেন। সে সময় হাইকোর্ট রুল জারি করে।

এ মামলার আসামি মজিবুল হক পলাতক। দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে মামলাটি স্থগিত হয়ে আছে। এ অবস্থায় ন্যায়বিচারে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে এমন বিষয় উপস্থাপন করে হাইকোর্টের নজরে আনেন একলাছ উদ্দিন ভুঁইয়া। পরে শুনানি করে আদালত রুল জারি করেন। সেই রুলের বিষয়ে কয়েকটি শুনানি করা হয়। শুনানি শেষে আদালত স্থগিত থাকা এ মামলার কার্যক্রম নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেয়।

আরও পড়ুন:
‘কারাবন্দি জঙ্গি ও ছিনতাই টিম সমন্বয় করেন অমি’
জঙ্গি ছিনতাই মামলায় গ্রেপ্তার মেহেদী ৭ দিনের রিমান্ডে
জামিনে থাকা জঙ্গি অমি গ্রেপ্তার
ঢাকার বিচারিক আদালতে নিরাপত্তা জোরদার
পলাতক দুই জঙ্গি ও সহায়তাকারীরা দ্রুতই ধরা পড়বে: সিটিটিসি

মন্তব্য

p
উপরে