× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Online Gaming Earn 30 Lakhs per day by selling chips
google_news print-icon

অনলাইনে গেমিং: চিপস বেচে দিনে আয় ৩০ লাখ টাকা

অনলাইনে-গেমিং-চিপস-বেচে-দিনে-আয়-৩০-লাখ-টাকা
গেমসের রেজিস্ট্রেশনের পর একজন গ্রাহককে খেলার জন্য কিছু চিপস ফ্রি দেয়া হয়। পরে গেমস খেলার জন্য অর্থের বিনিময়ে চিপস কিনতে হয়। মূলত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে চিপস কেনার টাকা লেনদেন হয়। প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার কোটি চিপস বিক্রি হয় এবং প্রতি কোটি চিপস বিভিন্ন পর্যায়ে ৪৬-৬৫ টাকায় বিক্রি করা হয়। বিভিন্ন বট প্লেয়ার বা রোবট প্লেয়ারের মাধ্যমে মূল গেইমারদের কৌশলে হারিয়ে প্লেয়ারদের পরে আরও চিপস কিনতে উৎসাহিত করা হতো। এভাবে করে গেইমারদের হারিয়ে দিত উল্কা গেমসের হয়ে কাজ করা রোবটরূপী ব্যক্তিরা।

দেশে অনলাইন গেমস ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান হিসেবে ২০১৯ সালে যাত্রা শুরু করে উল্কা গেমস প্রাইভেট লিমিটেড। অনলাইন গেমস ডেভেলপ করার কথা বলে ব্যবসায়িক অনুমোদন নিলেও তারা এর আড়ালে শুরু করে অনলাইন জুয়া।

ভারতের কর্ণাটকের গেইমিং প্রতিষ্ঠান মুনফ্রগ ল্যাবের সঙ্গে কাজ শুরু করে উল্কা গেমস। মুনফ্রগকে দেয়া হয় উল্কা গেমসের ৯৯.৯৯ শতাংশ শেয়ার। বাকি ০.০১ শতাংশ শেয়ার ছিল উল্কা গেমসের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জামিলুর রশিদের কাছে।

জামিলুর রশিদ ও তার সঙ্গীরা দেশের বাজারে 'তিন পাত্তি গোল্ড' নামক অনলাইন জুয়ার অ্যাপটি জনপ্রিয় করে তোলেন।

জামিলুর রশিদ র‌্যাবকে জানান, তিন পাত্তি গোল্ড খেলার জন্য সারা দেশে গেইমার রয়েছে ৯ লাখের বেশি। যাদের কাছে দিনে প্রায় ৩০ লাখ টাকার চিপস বিক্রি করা হতো। আর এই চিপস বিক্রির কাজটি করত দেশের বিভিন্ন প্রান্তের থাকা ১৪ জন লেভেল-১ ডিস্ট্রিবিউটর। তাদেরও সাব-ডিস্ট্রিবিউটর রয়েছে।

বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে চিপস বিক্রির টাকা ডিস্ট্রিবিউটরদের থেকে সংগ্রহ করা হতো।

উল্কা গেমসের সিইও জামিলুর রশিদসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তারের পর সোমবার দুপুরে র‌্যাব জানায়, বর্তমানে উল্কা গেমসের ৪টি অ্যাকাউন্টে ৮০ কোটি টাকার বেশি আছে। এ ছাড়া গত দুই বছর তারা মুনফ্রগ ল্যাবকে ব্যাংকের মাধ্যমে ২৯ কোটি টাকা দিয়েছে।

উল্কা গেমসের ৩৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিল। বেতন দেয়াসহ অফিস পরিচালনায় প্রতি মাসে প্রায় ৩০ লাখ টাকা খরচ হতো। এ ছাড়াও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাৎসরিক বেতনের ৩০ থেকে ৯০ শতাংশ হারে বোনাস দিত প্রতিষ্ঠানটি। উল্কা গেমস প্রায় ২০০ কোটি টাকা দেশের বাইরে পাঠিয়েছে।

যেভাবে উল্কা গেমসের যাত্রা

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, ২০১৭ সালে ভারতের প্রতিষ্ঠান মুনফ্রগ ল্যাবের সঙ্গে পরিচয় হয় উল্কা গেমসের সিইও জামিলুর রশিদের। ২০১৮ সালে তিনি মুনফ্রগ ল্যাবের বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে দেড় লক্ষাধিক টাকা বেতনে যুক্ত হন।

মুনফ্রগ ল্যাবের অনলাইন অ্যাপ তিন পাত্তি গোল্ডের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় গেমটিকে আরও বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করেন। কয়েকজন আইনজীবীর পরামর্শে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে ২০১৯ সালের শুরুর দিকে জামিরুল রশিদ ‘উল্কা গেমস প্রা. লি.’ নামে একটি গেমিং ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন নেন।

২০১৯ সালে মুনফ্রগের ০.০১ শতাংশ উল্কা গেমসকে দেয়ার মাধ্যমে দেশে গেমিং খাতে উন্নয়নের জন্য প্রায় দেড় কোটি টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়। দেশে গেইম ডেভেলপমেন্টের অনুমোদন থাকলেও অনলাইন জুয়া/ক্যাসিনোর অনুমোদন না থাকায় উল্কা গেমস বিভিন্ন ভুল তথ্য উপস্থাপন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে আইনি বৈধতা নেয়ার ব্যবস্থা করে। এভাবেই তিন পাত্তি গোল্ড যাত্রা শুরু করে শহর নগরে ছড়িয়ে পড়ে।

উল্কা গেমসের যাত্রা গেমিং ডেভেলপমেন্টের উদ্দেশ্যে শুরু হলেও তারা বস্তুত গেম ডেভেলপমেন্ট না করে অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশের বাইরে পাঠাচ্ছিল।

চিপস বিক্রি

তিন পাত্তি গোল্ড মূলত একটি অ্যাপ, যা মোবাইলে ডাউনলোড করে খেলা যায়। এই অ্যাপের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ মুনফ্রগ ল্যাবের কাছে। অ্যাপে তিন পাত্তি গোল্ড ছাড়াও ‘রাখি’, ‘আন্দর বাহার’ ও ‘পোকার’ নামেও অনলাইন জুয়ার গেমস রয়েছে।

র‌্যাব জানায়, গেমসের রেজিস্ট্রেশনের পর একজন গ্রাহককে খেলার জন্য কিছু চিপস ফ্রি দেয়া হয়। পরে গেমস খেলার জন্য অর্থের বিনিময়ে চিপস কিনতে হয়। মূলত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে চিপস কেনার টাকা লেনদেন হয়।

প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার কোটি চিপস বিক্রি হয় এবং প্রতি কোটি চিপস বিভিন্ন পর্যায়ে ৪৬-৬৫ টাকায় বিক্রি করা হয়। বিভিন্ন বট প্লেয়ার বা রোবট প্লেয়ারের মাধ্যমে মূল গেইমারদের কৌশলে হারিয়ে প্লেয়ারদের পরে আরও চিপস কিনতে উৎসাহিত করা হতো। এভাবে করে গেইমারদের হারিয়ে দিত উল্কা গেমসের হয়ে কাজ করা রোবটরূপী ব্যক্তিরা।

বাংলাদেশে তিন পাত্তি গোল্ডের চিপস বিক্রির কাজটি ১৪টি অফিশিয়াল ডিস্ট্রিবিউটর বা এজেন্টের মাধ্যমে পরিচালনা করা হয়। এসব ডিস্ট্রিবিউটরের সাব-ডিস্ট্রিবিউটর রয়েছে।

প্রাইভেট টেবিল অপশনের মাধ্যমে অন্য প্লেয়ার থেকেও চিপস কেনা যায়।

গেইমাদের সঙ্গে প্রতারণা এবং অনলাইন জুয়া পরিচালনার বড় দায় ভারতীয় প্রতিষ্ঠান মুনফ্রগ ল্যাবের বলে জানিয়েছে র‌্যাব। বাহিনীটির মুখপাত্র খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘বিদেশি প্রতিষ্ঠানটির ইনভলভমেন্ট অনেক বেশি।’

গ্রেপ্তার ছয়জনের পরিচয়

উল্কা গেমসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জামিলুর রশিদ ছাড়াও ধরা পড়েছেন সায়মন হোসেন, রিদোয়ান আহমেদ, রাকিবুল আলম, মুনতাকিম আহমেদ ও কায়েস উদ্দিন আহম্মেদ।

জামিলুর রশিদ ঢাকার একটি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে প্রাচ্যের একটি দেশ থেকে ২০১২ সালে অর্থনীতিতে স্নাতক পাস করে দেশে ফিরে আসেন। ছোটকাল থেকেই মোবাইল গেমসে আগ্রহী ছিলেন তিনি।

২০১৫ সাল থেকে মোবাইল গেমস তৈরির কাজ শুরু করেন। হিরোজ অব '৭১ ও মুক্তি ক্যাম্প নামে দুটি গেমস তৈরির জন্য ২০১৭ সালে সরকারের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা অনুদান পান।

২০১৭ সালে মুনফ্রগ ল্যাবের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। পরের বছর গেমস ডিজাইন কনসালট্যান্ট ও বাংলাদেশে নিযুক্ত কর্মকর্তা হিসেবে মুনফ্রগ থেকে দেড় লক্ষাধিক টাকা বেতনে যুক্ত হন।

২০১৯ সালে উল্কা গেমস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সিইও হিসেবে কাজ শুরু করে মুনফ্রগ থেকে মাসিক প্রায় ৪ লাখ টাকা বেতন পেতেন। এ ছাড়া বাৎসরিক আয়ের ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ বোনাস পেতেন।

রিদোয়ান আহমেদ ঢাকার একটি কলেজ থেকে বিবিএ ও এমবিএ করে ২০১৬ সালে পোর্ট ব্লিস নামের একটি গেমিং প্রতিষ্ঠানের অ্যাডমিন অফিসার হিসেবে কাজ করতেন। তখন জামিলুর রশিদের সঙ্গে তার পরিচয়। ২০১৯ সালে ৪০ হাজার টাকা বেতনে তিনি উল্কা গেমসে যোগ দেন। প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় কেনাকাটা, ভেন্ডর ম্যানেজমেন্ট, ইভেন্ট আয়োজনসহ অফিস পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছিলেন। বর্তমানে তার বেতন এক লাখের বেশি।

কায়েস উদ্দিন একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিংয়ে বিবিএ পাস করে বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেছেন। ২০২১ সালে তিনি উল্কা গেমসের হেড অব সেলস হিসেবে যোগ দেন। তার নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় ডিস্ট্রিবিউটররা ভার্চ্যুয়াল চিপস বিক্রি, টার্গেট অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করত। তিনি মাসে ২ লাখ টাকার বেশি বেতন পেতেন।

সায়মন হোসেন ঢাকার একটি কলেজ থেকে বিবিএ ও এমবিএ পাস করে ২০২০ সালে উল্কা গেমসে ৪০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি শুরু করেন। তিনি প্রতিষ্ঠানটিতে প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ছিলেন। মুনফ্রগের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক লেনদেনের দায়িত্বও পালন করে আসছিলেন। তার বেতন ছিল প্রায় এক লাখ টাকা।

রাকিবুল আলম একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ পাস করে ২০১৯ সালে উল্কা গেমসে ‘তিন পাত্তি গোল্ড’-এর চিপস বিক্রির পরিবেশক হিসেবে কাজ শুরু করেন। তিনি মাঠপর্যায়ে ‘কে অ্যান্ড কে এন্টারপ্রাইজ’-এর নামে গ্রাহকের কাছে ভার্চ্যুয়াল চিপস বিক্রি করতেন। প্রতি মাসে ২ থেকে ৩ কোটি টাকা বিক্রি ছিল।

মুনতাকিম আহমেদ বাংলাদেশে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে প্রাচ্যের একটি দেশ থেকে বিবিএ ও এমবিএ করে দেশে ফিরে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। ২০১৬ সাল থেকে ট্যাক্স ও ভ্যাটের কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০১৯ সালে উল্কা গেমসের পরামর্শক হিসেবে যুক্ত হন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন কৌশলে কর ফাঁকি দিয়ে ভার্চ্যুয়াল চিপস বিক্রির টাকা দেশের বাইরে পাঠানোর অভিযোগ আছে। উল্কা গেমসে তার তার বেতন দেড় লক্ষাধিক টাকা।

আরও পড়ুন:
২০০ কোটি টাকা সরিয়েছে উল্কা গেমস: র‌্যাব
৭৭৫ কোটি টাকায় উল্কা গেমস, মুনফ্রগ ল্যাব কিনল স্টিলফ্রন্ট

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Attack on Ghulam Mawla Ronis car in Dubai

ঢাবিতে গোলাম মওলা রনির গাড়িতে হাতুড়ি নিয়ে হামলা

ঢাবিতে গোলাম মওলা রনির গাড়িতে হাতুড়ি নিয়ে হামলা গোলাম মওলা রনির গাড়িতে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা
শাহবাগ থানার ওসি মোস্তাজিরুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওনার গাড়িতে হামলার ঘটনা শুনেছি। তবে উনি এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি। তারপরও আমরা হামলার বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মওলা রনির গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। মোটরসাইকেলযোগে আসা হামলকারীরা গাড়িতে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেছে।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বর সংলগ্ন তিন নেতার মাজারের সামনে হামলার শিকার হয় রনির গাড়ি। তবে এই হামলায় তিনি আহত হয়েছেন কিনা তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

জানা যায়, মোটরসাইকেলযোগে কয়েকজন যুবক অতর্কিত এসে গাড়িতে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়।

ঢাবিতে গোলাম মওলা রনির গাড়িতে হাতুড়ি নিয়ে হামলা
সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মওলা রনি। ফাইল ছবি

শাহবাগ থানার ওসি মোস্তাজিরুর রহমান গাড়িতে হামলার বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘ওনার গাড়িতে হামলার ঘটনা শুনেছি। তবে উনি এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি। তারপরও আমরা হামলার বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।’

এদিকে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে নিজের গাড়িতে হওয়া হামলার ঘটনা তুলে ধরেছেন গোলাম মওলা রনি।

‘মেরে ফেলার জন্যই এই আক্রমণ’ উল্লেখ করে স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘বাসা থেকে অফিসে আসার ক্ষেত্রে সর্বদা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস হয়েই আসতে শান্তি অনুভব করি! আজ আমার গাড়ি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেট্রো রেলের স্টেশন পাড়ি দিয়ে পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগের উল্টো দিক দিয়ে যাচ্ছিল ঠিক তখন ইউটার্ন নেয়ার জায়গায় ৪/৫ জন যুবক হাতুড়ি এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আমার গাড়ির উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো। হাতুড়ি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে গাড়ির গ্লাস ভেঙে ফেললো।

‘হতচকিত ড্রাইভার প্রথমে গাড়ি ব্রেক করলেন। তারপর আবার দ্রুত টান মেরে জল্লাদদের কবল থেকে বাঁচার চেষ্টা করলেন। হাতুড়ি বাহিনী পেছনে ছুটল আর অকথ্য ভাষায় গালাগাল দিতে লাগলো।’

তিনি লিখেছেন, ‘অফিসে এসে আমি বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানালাম। তারা বেশ আন্তরিকতা নিয়ে প্রতিকারের আশ্বাস দিলেন। আমি ছাত্রলীগ সভাপতি জনাব সাদ্দামকেও (সাদ্দাম হেসেন) ফোন করে ঘটনা জানালাম। তিনিও সান্ত্বনা দিলেন।’

ফেসবুক পোস্টে রনি আরও লিখেছেন, ‘আমার কপালে আগামী দিনে কী ঘটবে তা আমি জানি না। এটা নিয়ে আমার কোন উদ্বেগ বা উৎকণ্ঠাও নেই। কারণ আমি জন্ম থেকেই ছন্নছাড়া মানুষ।

‘জীবনের প্রতি মায়া, বেঁচে থাকার স্বপ্ন বা কোন কিছু পাওয়ার লোভ কোনদিন আমাকে তাড়িত করেনি। সুতরাং মরে যাওয়া বা কেউ আমাকে মেরে ফেলবে এটা নিয়ে হৈচৈ করার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Rickshaw driver arrested while casting fake vote in Kurigram

কুড়িগ্রামে জাল ভোট দিতে গিয়ে রিকশাচালক আটক

কুড়িগ্রামে জাল ভোট দিতে গিয়ে রিকশাচালক আটক আটক আবুল কালাম। ছবি: নিউজবাংলা
প্রিজাইডিং কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আবুল কালাম একবার এসে ভোট দিয়ে গেছেন। পরে আরও একবার ভোট দিতে আসলে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে আটক করে। পরে তাকে ১৫ দিনের জেল দেয়া হয়েছে।’

কুড়িগ্রামে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে জাল ভোট দিতে যাওয়া এক রিকশা চালককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের থেতরাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আটক করা হয়।

আটক আবুল কালাম (৩৫) ওই ইউনিয়নের কুমার পাড়া এলাকার বাসিন্দা।

থেতরাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের দায়িত্বরত প্রিজাইডিং কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আবুল কালাম একবার এসে ভোট দিয়ে গেছেন। পরে আরও একবার ভোট দিতে আসলে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে আটক করে। পরে তাকে ১৫ দিনের জেল দেয়া হয়েছে।’

এ ছাড়াও ওই উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের দলদলিয়া আদর্শ হাইস্কুল কেন্দ্রে দলদলিয়া গ্রামের ফেরদৌস হাসান (১৮) নামে একজনকে আটক করার কথা নিশ্চিত করেন প্রিজাইডিং অফিসার শামসুল আলম।

তিনি বলেন, ‘যুবককে আটকিয়ে রাখা হয়েছে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এদিকে বজরা ইউনিয়নের খামার বজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে তাসরিফ আলম আমিন নামে একজন জাল ভোট দিতে গিয়ে আটক হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান প্রিজাইডিং অফিসার সালগিরা।

আরও পড়ুন:
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ শিক্ষিকার
‘ভোটের টাকা’ বিলি করতে গিয়ে পিটুনি খেলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান
আ.লীগ নেতার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল; শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন
বেনাপোল দিয়ে ভারতে যাওয়ার সময় মিয়ানমারের একজনসহ আটক ৪
৬১৫ কেন্দ্রে ব্যালট যাবে আগের দিন, বাকিগুলোতে ভোটের সকালে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
7 lakh Yaba smuggled by affixing government logo 4

সরকারি লোগো লাগিয়ে ৭ লাখ ইয়াবা পাচার, আটক ৪

সরকারি লোগো লাগিয়ে ৭ লাখ ইয়াবা পাচার, আটক ৪ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারকৃতরা। ছবি: নিউজবাংলা
র‌্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের সহ-অধিনায়ক মেজর শরীফুল আহসান বলেন, ‘তল্লাশি করলে গাড়ির পেছনের সিটের নিচে বিশেষ কায়দায় রাখা দুটি বড় বস্তার ভেতরে পাওয়া যায় ৭ লাখ ইয়াবা। জব্দ করা হয় ইয়াবা পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত গাড়িটিও। এসব ইয়াবার আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি টাকারও বেশি।’

কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কে আত্মসমর্পণ করে সাজা ভোগকারী মাদকের গডফাদারসহ চার মাদক কারবারিকে আটক করেছে র‌্যাব। এ সময় তাদের ব্যবহৃত প্রাইভেট কার থেকে সাত লাখ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

র‌্যাব জানিয়েছে, আটককৃতরা সবাই পরস্পর নিকটাত্মীয় এবং সংঘবদ্ধ মাদক কারবারি চক্রের সদস্য।

সোমবার দুপুরে র‌্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন ব্যাটালিয়নটির সহ-অধিনায়ক মেজর শরীফুল আহসান।

আটককৃতরা হলেন- টেকনাফ পৌরসভার ডেইল পাড়ার ৪০ বছর বয়সী আব্দুল আমিন, একই এলাকার ২৬ বছর বয়সী জাফর আলম, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের গোদারবিল এলাকার ৩৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও একই এলাকার ২৮ বছর বয়সী নুরুল আবছার।

র‌্যাব জানায়, আটককৃতদের মধ্যে আব্দুল আমিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভূক্ত মাদক কারবারি। তিনি ২০১৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে প্রথম দফায় আত্মসমর্পণ করেছিলেন। পরে সাজাভোগ শেষে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তিনি ইয়াবার বড় একটি চক্র নিয়ন্ত্রণ করেন। তার বিরুদ্ধে টেকনাফসহ দেশের বিভিন্ন থানায় ১১টি মামলা রয়েছে।

সরকারি লোগো লাগিয়ে ৭ লাখ ইয়াবা পাচার, আটক ৪

এছাড়া মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ একজন চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী। তিনি আব্দুল আমিনের ভাগ্নে। তার বিরুদ্ধে ২টি মাদক মামলা রয়েছে। আটক নুরুল আবছার অপর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর ভগ্নিপতি। তার বিরুদ্ধেও মাদক আইনে একটি মামলা রয়েছে। অপরজন জাফর আলম সংঘবদ্ধ মাদক কারবারি চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং বড় মাদকের চালান পাচারে তথ্য সরবরাহের দায়িত্ব পালন করতেন।

সংবাদ সম্মেলনে শরীফুল আহসান বলেন, ‘সোমবার মধ্যরাতে কুখ্যাত মাদক সম্রাট আব্দুল আমিনের নেতৃত্বে তার সিন্ডিকেটের সদস্যরা প্রাইভেট কারযোগে মাদকের বড় একটি চালান টেকনাফ থেকে কক্সবাজার শহরের দিকে পাচারের খবর পায় র‌্যাব। এ তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাবের একটি দল মেরিন ড্রাইভ সড়কের উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের পাটুয়ারটেক এলাকায় অস্থায়ী তল্লাশী চৌকি স্থাপন করে। এক পর্যায়ে রাত সোয়া ২টার দিকে টেকনাফ দিক থেকে সড়ক ও জনপদ বিভাগের স্টিকার লাগানো বিলাসবহুল একটি প্রাইভেট কার সেখানে পৌঁছালে থামার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়, কিন্তু গাড়িতে থাকা লোকজন না থেমে দ্রুত চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এরপর তাদের তাড়াকেরে থামাতে সমর্থ হয় র‌্যাব। এরপর গাড়িতে থাকা লোকজনের আচরণ ও গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদে মাদকের চালান থাকার তথ্য স্বীকার করেন তারা।’

সরকারি লোগো লাগিয়ে ৭ লাখ ইয়াবা পাচার, আটক ৪

তিনি বলেন, ‘তল্লাশি করলে গাড়ির পেছনের সিটের নিচে বিশেষ কায়দায় রাখা দুটি বড় বস্তার ভেতরে পাওয়া যায় ৭ লাখ ইয়াবা। জব্দ করা হয় ইয়াবা পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত গাড়িটিও। এসব ইয়াবার আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি টাকারও বেশি।’

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘আটকরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারোক্তি দিয়েছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অবস্থানকারী জনৈক সিরাজের মাধ্যমে আব্দুল আমিনের নেতৃত্বের সিন্ডিকেটের সদস্যরা বড় বড় মাদকের চালান নিয়ে আসত। সীমান্তে সাগর ও নদীপথে মাদকের এসব চালান টেকনাফে এনে নিজেদের হেফাজতে মজুত রাখত। পরে কক্সবাজার শহরে আনার পর সিন্ডিকেটের সদস্যদের মাধ্যমে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাচার করা হতো।’

আটকদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে উখিয়া থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানান র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
ভৈরবে হেফাজতে নারী আসামির মৃত্যু তদন্ত করবে র‌্যাব
র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার প্রশ্নে কী বলল যুক্তরাষ্ট্র
জেলে সেজে ইয়াবা উদ্ধার করল পুলিশ
র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের নতুন পরিচালক আরাফাত ইসলাম
সেনাবাহিনীতে চাকরির ভুয়া নিয়োগপত্র, টাকা আত্মসাতের অভিযোগে একজন আটক 

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Teacher accuses former UP chairman of rape

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ শিক্ষিকার

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ শিক্ষিকার শিক্ষিকার সংবাদ সম্মেলন। ছবি: নিউজবাংলা
অভিযুক্ত আরিফুল ইসলাম জুয়েল বলেন, ‘আমি বর্তমানে দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে একজন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। এসব অভিযোগ সত্য নয়; মিথ্যা ও বানোয়াট।’

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার ৮ নম্বর বোগলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আরিফুল ইসলাম জুয়েলের বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

সোমবার দুপুরে সুনামগঞ্জ শহরের পৌরবিপনী মার্কেটের দোতলার একটি কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ আনেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ওই শিক্ষিকা জানান, ২০১৭ সালের ২৮ মার্চ ইদুকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিনি নিয়োগ পান। বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকাকালে তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম জুয়েলের সঙ্গে বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তার পরিচয় হয়।

এক পর্যায়ে জুয়েল তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। শুরতে সাবেক ওই চেয়ারম্যানের স্ত্রী সন্তান থাকায় তার প্রস্তাব গ্রহণ করেননি ভুক্তভোগী দাবি করা শিক্ষিকা।

পরবর্তীতে ২০২০ সালের দিকে ধীরে ধীরে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে ফের বিয়ের করার জন্য চাপ দিলে এক পর্যায়ে কক্সবাজারে গিয়ে বিয়ে হবে বলে ২০২১ সালের ১৮ মার্চ শিক্ষিকাকে বিমানে করে সেখানে নিয়ে যান চেয়ারম্যান। সেখানকার একটি হোটেলে তিনদিন তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। এরপর ওই শিক্ষিকা বিয়ের জন্য চাপ দিলেও টালবাহানা শুরু করেন অভিযুক্ত চেয়ার‌ম্যান। শুধু তাই নয়, অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ, এমনকি হুমকি-ধমকিও দেয়া হয় বলে অভিযোগ সংবাদ সম্মেলনকারীর।

ওই নারীর অভিযোগ, বিবাহের প্রলোভন দেখিয়ে ও ফ্ল্যাট কেনার কথা বলে তার কাছ থেকে পর্যায়ক্রমে ২০ লাখ টাকাও নিয়েছেন অভিযুক্ত।

তিনি বলেন, ‘আমি নিরুপায় হয়ে সংবাদ সম্মেলন করছি। আমি আরিফুল ইসলাম জুয়েলের স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি চাই। যদি সে আমাকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি না দেয়, আমাকে মুসলিম শরিয়া মোতাবেক বিয়ে না করে, তাহলে আমি তার উপযুক্ত বিচার দাবি করছি।’

এ বিষয়ে সোমবার সকালে জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন ওই সহকারী শিক্ষক।

অভিযুক্ত আরিফুল ইসলাম জুয়েলের সঙ্গে এ ব্যপারে কথা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন।

তিনি বলেন, ‘আমি বর্তমানে দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে একজন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। এসব অভিযোগ সত্য নয়; মিথ্যা ও বানোয়াট।’

আরও পড়ুন:
‘ভোটের টাকা’ বিলি করতে গিয়ে পিটুনি খেলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান
আ.লীগ নেতার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল; শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন
১৫৬ উপজেলায় ভোট কাল
বাগেরহাটের দুই ওসিকে বদলির নির্দেশ ইসির

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The former UP chairman played a beating while distributing the vote money

‘ভোটের টাকা’ বিলি করতে গিয়ে পিটুনি খেলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান

‘ভোটের টাকা’ বিলি করতে গিয়ে পিটুনি খেলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আহত ছালেক মিয়া। ছবি: নিউজবাংলা
চা শ্রমিক ফটিক কুর্মি বলেন, ‌‘শুনেছি চেয়ারম্যান ছালেক বাগানে টাকা বিতরণ করে ভোট কিনছিলেন। শ্রমিকরা তাকে পিটিয়ে আমার বাড়ির দিকে ধাওয়া করলে তিনি আমার বাড়িতে আহত হয়ে আশ্রয় নেন।’

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর পক্ষে টাকা বিলি করতে গিয়ে গণপিটুনি খেয়েছেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নেতা ছালেক মিয়া।

রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের করিমপুর চা বাগানের হাইতলা এলাকায় টাকা বিলির সময় এ ঘটনা ঘটে।

আহত ছালেক মিয়া মুন্সিবাজার ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং তিনি মোটরসাইকেল প্রতীকের উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী র‌ওনক আহমদ অপুর সমর্থক।

স্থানীয়রা জানান, আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে র‌ওনক আহমদ অপুর সমর্থনে কাজ করছেন ছালেক মিয়া। নির্বাচনি প্রচারের শেষ দিন ছালেক মিয়া ও তার ভাই বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাবলু আহমদকে নিয়ে প্রাইভেট কারে চা বাগান এলাকায় যান। এরপর মোটরসাইকেল প্রতিকের প্রার্থীর পক্ষে টাকা বিলি করা হচ্ছে- এমন দৃশ্য দেখে চা শ্রমিকরা বাধা দেন। এ সময় কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে উত্তেজিত শ্রমিকরা গণপিটুনি দেয়। পরে তিনি পালিয়ে ফটিক কুর্মি নামের এক চা শ্রমিকের বাড়িতে আশ্রয় নেন। এ সময় প্রায় ২ ঘণ্টা পর তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন চা শ্রমিকরা। খবর পেয়ে রাজনগর থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করে।

ফটিক কুর্মি বলেন, ‌‘শুনেছি চেয়ারম্যান ছালেক বাগানে টাকা বিতরণ করে ভোট কিনছিলেন। শ্রমিকরা তাকে পিটিয়ে আমার বাড়ির দিকে ধাওয়া করলে তিনি আমার বাড়িতে আহত হয়ে আশ্রয় নেন।’

চা শ্রমিক নিয়তি রিকমন বলেন, ‘ছালেক মিয়া আমাদের ৫০০ টাকা দিয়ে মোটরসাইকেলে ভোট দিতে বলেন। এতে আমরা রাজি হ‌ইনি, তাই মানুষে তাকে মেরেছে।’

রাজনগর ওসি (তদন্ত) মির্জা মাজহারুল আনোয়ার বলেন, ‘খবর পেয়ে ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। আহত চেয়ারম্যানকে উদ্ধার করে নিয়ে আসি।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে আহত ছালেক মিয়াকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

আরও পড়ুন:
আ.লীগ নেতার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল; শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন
১৫৬ উপজেলায় ভোট কাল
বাগেরহাটের দুই ওসিকে বদলির নির্দেশ ইসির

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Four dead bodies including a couple were recovered from Savar

সাভারে দম্পতিসহ চার মরদেহ উদ্ধার

সাভারে দম্পতিসহ চার মরদেহ উদ্ধার সোমবার আশুলিয়ার ইউসুফ মার্কেট এলাকায় ভাড়া বাড়িতে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ দেখে ভিড় জমায় উৎসুক প্রতিবেশীরা। ছবি: নিউজবাংলা
পুলিশ জানায়, সোমবার বিকেলে আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের ইউসুফ মার্কেট এলাকায় ফজলুল করিমের বাড়ি থেকে রুহুল আমিন ও তার স্ত্রী মনি বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া পৃথক স্থান থেকে দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

রাজধানীর অদূরে সাভারে পৃথক ঘটনায় এক দম্পতিসহ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার বিকেল পর্যন্ত আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের ইউসুফ মার্কেট, টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের ইউনিক বাস স্ট্যান্ড ও আশুলিয়া থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।

যাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে তাদের মধ্যে রুহুল আমিন হাওলাদার ও মনি বেগম স্বামী-স্ত্রী। এই দম্পতি আশুলিয়ার ইউসুফ মার্কেট এলাকায় ফজলুল করিমের মালিকানাধীন টিনশেড বাড়ির একটি কক্ষে ভাড়া থাকতেন।

তাদের মধ্যে রুহুল আমিনের বাড়ি পটুয়াখালী সদর থানার কুড়িপাইকা গ্রামে। বাবার নাম হাকিম আলী হাওলাদার। আর মনি বেগমের বাবার নাম সোবহান মৃধা। তার বাবার বাড়ি বরগুনার আমতলী থানার দক্ষিণ রাওগা গ্রামে।

উদ্ধার হওয়া আরেকটি মরদেহ নাজমুল হাসান নামের এক যুবকের। তিনি নাটোর সদর থানার পিরজিপাড়া গ্রামের আব্দুল আওয়ালের ছেলে।

আরেকজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ।

আশুলিয়া থানা পুলিশ জানায়, সোমবার বিকেল ৪টার দিকে আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের ইউসুফ মার্কেট এলাকায় ফজলুল করিমের বাড়ি থেকে রুহুল আমিন ও তার স্ত্রী মনি বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রুহুল আমীনের মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় ও তার স্ত্রী মনির মরদেহ বিছানায় পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেয় স্থানীয়রা।

এদিকে একই ইউনিয়নের ইউনিক বাস স্ট্যান্ড এলাকা থেকে নাজমুল হোসেন নামে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সকালে স্ত্রী কর্মস্থল পোশাক কারখানায় চলে যাওয়ার পর দুপুরে তিনি ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পারিবারিক কলেহের জের ধরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এছাড়া আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকা থেকে অপর একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে প্রাথমিকভাবে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাসুদুর রহমান বলেন, ‘আজ (সোমবার) আশুলিয়ার বিভিন্ন স্থান থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় সময়সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
নিখোঁজের ৪ দিন পর যুবকের হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার
মাছের ঘেরের পাশ থেকে ২ জেলের মরদেহ উদ্ধার
ছেলের চিকিৎসার ‘খরচ চালাতে না পেরে আত্মহত্যা’ মায়ের
নওগাঁয় ভুট্টাক্ষেত থেকে কৃষকের মরদেহ উদ্ধার
রেললাইনে নারীর দ্বিখণ্ডিত মরদেহ, বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
EC orders transfer of two OCs of Bagerhat
উপজেলা নির্বাচন

বাগেরহাটের দুই ওসিকে বদলির নির্দেশ ইসির

বাগেরহাটের দুই ওসিকে বদলির নির্দেশ ইসির
বাগেরহাটের ফকিরহাট মডেল থানার ওসি আশরাফুল আলম ও জেলা ডিবির ওসি স্বপন রায়ের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাচনের প্রচারে পক্ষপাতের অভিযোগ আনা হয়েছিল ইসিতে। এক প্রার্থীর করা ওই অভিযোগের ভিত্তিতে কমিশন তাদের বদলির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বাগেরহাটের ফকিরহাট মডেল থানার ওসি ও জেলা ডিবির ওসিকে বদলির নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে এক প্রার্থীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন এ নির্দেশনা দিয়েছে।

সোমবার ইসির উপ-সচিব মো. মিজানুর রহমান নির্দেশনাটি খুলনা রেঞ্চের উপমহাপুলিশ পরিদর্শককে পাঠিয়েছেন।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফুল আলম ও বাগেরহাট জেলা ডিবির ওসি স্বপন রায়কে ডিআইজি, খুলনা রেঞ্জ, খুলনায় নির্বাচনের সময় পর্যন্ত সংযুক্ত করে ওই কর্মকর্তাদ্বয়ের পরবর্তী কোনো কর্মকর্তাকে ফকিরহাট মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এবং ডিবি ওসির দায়িত্ব প্রদানের জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে।

সম্প্রতি ওই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাচনের প্রচারে পক্ষপাতের অভিযোগ আনা হয়েছিল ইসিতে। এক প্রার্থীর করা অভিযোগের ভিত্তিতে কমিশন তাদের বদলির সিদ্ধান্ত দিয়েছে।

আরও পড়ুন:
ভোটের হার কম হলে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই: ইসি আলমগীর
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নির্বাচন স্থগিত
ভোট কম পড়ার বড় কারণ বিএনপির বর্জন: ইসি আলমগীর
উপজেলা নির্বাচন: দ্বিতীয় ধাপে ৪৫৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
১৫৭ উপজেলায় রোববার মাঠে নামছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী

মন্তব্য

p
উপরে