× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Date palm juice came
google_news print-icon

খেজুরের রস এলো বলে

খেজুরের-রস-এলো-বলে
হাতে দা, কোমরে রশি বেঁধে নিপুণ হাতে খেজুরের রস পেতে গাছ তৈরি করছেন নওগাঁর গাছিরা। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
গাছিরা বলছেন, আর মাত্র ১০-১৫ দিন পরই রস পাওয়া শুরু হবে। খেজুরগাছ থেকে রস পাওয়ার জন্য তৈরি করাকে তারা আঞ্চলিকভাবে ‘গাছ তোলা’ বলে থাকেন। প্রথমবার গাছ তোলার সাতদিন পরই হালকা কেটে নলি লাগানো হয়। পরে সেখান থেকে রস সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। সেই কাজগুলো এখন করা হচ্ছে।

উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা নওগাঁতে জানান দিচ্ছে শীতের আগামনী বার্তা। এ জেলায় দিনের বেলায় তেমন একটা ঠান্ডা অনুভব না হলেও গভীর রাত এবং সকালে সূর্য ওঠার আগ পর্যন্ত বোঝা যাচ্ছে শীতের আমেজ।

বাংলার ঘরে ঘরে শীতকাল মানেই অনেকটা পিঠাপুলির উৎসব। শীতের মৌসুমের সময়গুলোতে তৈরি হয় নানা রকম পিঠা। আর সেই পিঠার মধ্যে অন্যতম উপাদান হচ্ছে খেজুর রসের লালি ও গুড়।

শুধু কি তাই? খেজুরের রস দিয়ে তৈরি গুড়ের রসগোল্লা, পায়েস, মোয়া ও সন্দেশ যেন অন্য রকম তৃপ্তি এনে দেয় মুখে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা। চলছে গাছ তৈরি ও নলি বসানোর কাজ। খেজুরের রস সংগ্রহে গাছ তৈরিতে তাই শীতের শুরুতে দম ফেলার মত যেন সময় নেই গাছিদের।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, জেলায় ১৭০ হেক্টর জমিতে খেজুরগাছ রয়েছে। চলতি বছর এসব গাছ থেকে গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৬০ টন।

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, জমির আইল, রাস্তার পাশে এমনকি পুকুর পাড়ে সারিসারি খেজুর গাছের ডাল কেটে পরিষ্কার করছেন। হাতে দা, কোমরে রশি বেঁধে নিপুণ হাতে গাছ তৈরি করছেন গাছিরা। এরই মধ্যে অনেকে রস সংগ্রহের জন্য গাছে নলি গাঁথাও শুরু করেছেন।

গাছিরা বলছেন, আর মাত্র ১০-১৫ দিন পরই রস পাওয়া শুরু হবে। খেজুরগাছ থেকে রস পাওয়ার জন্য তৈরি করাকে তারা আঞ্চলিকভাবে ‘গাছ তোলা’ বলে থাকেন।

প্রথমবার গাছ তোলার সাতদিন পরই হালকা কেটে নলি লাগানো হয়। পরে সেখান থেকে রস সংগ্রহ করা হয়ে থাকে।

নওগাঁ সদর উপজেলার বর্ষাইল গ্রামের গাছি তোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘এবার ১৫টি গাছ থেকে রস সংগ্রহ করব। খেজুর গাছগুলো আমার নিজের। সকল প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। এখন অপেক্ষা রস সংগ্রহের।’

রাণীনগর উপজেলার নওদুলি গ্রামের গাছি সুসান্ত কুমার বলেন, ‘২০টি গাছ থেকে এবার রস সংগ্রহ করব। নিজের ১০টি গাছ আর ১০টি গাছ চুক্তি করে নিয়েছি একজন গাছ মালিকের কাছে থেকে। প্রতি গাছ থেকে মালিককে দিতে হবে সাত কেজি করে লালি।

‘একটি খেজুরগাছ থেকে প্রতিদিন চার কেজির মতো রস পাওয়া যায়। আর ছয় কেজি রস থেকে এক কেজি গুড় পাওয়া যায়। লালির ক্ষেত্রে তিন কেজি রসে মেলে এক কেজি।’

বদলগাছী উপজেলার ভাণ্ডারপুর গ্রামের গাছি রবিউল ইসলাম বলেন, ‘৩০টি গাছ একজন মালিকের কাছ থেকে নিয়েছি। মালিককে এক সিজনের জন্য দিতে হবে ১৫ হাজার টাকা। জ্বালানিসহ আমার প্রতিদিন খরচ হবে প্রায় ৪০০ টাকার মতো।

‘গত বছর গুড় বিক্রি করেছিলাম ৮০ টাকা কেজিতে। আর লালি ৭০-৭৫ টাকা কেজি দরে। এবার যদি সেই রকম দাম থাকে তবে প্রতিদিন ৭০০-৮০০ টাকার মতো করে লাভ করতে পারব সব খরচ বাদ দিয়ে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নওগাঁর উপ-পরিচালক আবু হোসেন জানান, জেলায় ১৭০ হেক্টর জমিতে খেজুর গাছ রয়েছে। সেই হিসাবে গাছের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৭ হাজারের মতো। চলতি বছর ৮৭০ টন গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে গত বছরের চেয়ে এবার গাছের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। কৃষি অফিস থেকে গাছিদের মাঠপর্যায়ে খেজুরগাছ থেকে রস লামানের লালি বা গুড় উৎপাদনের বিষয়ে পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নাভাবে গাছিদের পরামর্শ দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন:
খেজুরের রসে সচ্ছল আলী আকবর
কীভাবে তৈরি হয় খেজুরের গুড়
খেজুরের রস যেখানে দুধের চেয়ে দামি
মাদারীপুরে ১০ বছরে উধাও ৩৭ হাজার খেজুরগাছ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
157 farmers got loans of more than crore rupees

১৫২ কৃষক পেলেন কোটি টাকার বেশি ঋণ

১৫২ কৃষক পেলেন কোটি টাকার বেশি ঋণ দিনাজপুরে ১৫২ কৃষক পেলেন এক কোটি ১৬ লাখ টাকার ঋণ। ছবি: নিউজবাংলা
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান বলেন, ‘দিনাজপুর একটি কৃষি প্রধান জেলা। এই জেলার বিভিন্ন ধরনের খাদ্যশস্য উৎপাদন করা হয়। পাশাপাশি এই জেলার মাটি ভুট্টা আবাদের জন্য খুবই উপযোগী। তাই এই জেলার কৃষকদের পাশে আমরা দাঁড়িয়েছি।’

দিনাজপুরের খানসামায় ১৫২ জন ভুট্টা চাষিকে প্রায় এক কোটি ১৬ লাখ টাকার ঋণ দিয়েছে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।

এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার গোয়ালডিহি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ভুট্টা চাষি ও কৃষি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে খানসামা উপজেলার ১৫২ জন কৃষকের মাঝে এক কোটি ১৬ লাখ ৭০ হাজার টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান বলেন, ‘দিনাজপুর একটি কৃষি প্রধান জেলা। এই জেলার বিভিন্ন ধরনের খাদ্যশস্য উৎপাদন করা হয়। পাশাপাশি এই জেলার মাটি ভুট্টা আবাদের জন্য খুবই উপযোগী। তাই এই জেলার কৃষকদের পাশে আমরা দাঁড়িয়েছি।

‘ভুট্টা চাষ করার জন্য স্বল্প সুদে কৃষকদের মাঝে ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে আমরা এই এলাকার কৃষকদের মাঝে ঋণ বিতরণ করেছি। ঋণগ্রহিতারা সময়মতো ঋণের টাকা ফেরত দিয়েছে। তাই আমরা এবার আরও বেশি ঋণ প্রদান করছি।’

তিনি জানান, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক গ্রামের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কাজ করছে। ঋণ বিতরণ কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও বাড়ানো হবে।

আরও পড়ুন:
কৃষিকাজের ফাঁকে ইংরেজি চর্চা মুন্ডা সম্প্রদায়ের কৃষকের
নওগাঁয় সেচমূল্য নিয়েও পানি না দেয়ার অভিযোগ কৃষকদের
বিশ্বব্যাংক থেকে ঋণ মিলবে ১১০ কোটি ডলার, ৫ চুক্তি
শেরপুরে অসময়ে তরমুজ চাষ, কৃষকের ভাগ্য বদলের আশা
মহাসড়কে সবজি ঢেলে প্রতিবাদ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The wrath of the miscreant in the banana plantation of three farmers

তিন কৃষকের কলাবাগানে দুর্বৃত্তের কোপ

তিন কৃষকের কলাবাগানে দুর্বৃত্তের কোপ তিন বিঘা জমির কলাগাছ কেটে দেয়ায় কৃষকের মাথায় হাত। ছবি: নিউজবাংলা
গত ২১ জানুয়ারি একই উপজেলার বালিয়াঘাট গ্রামের এক চাষির পাঁচ বিঘা জমির ১৫ শ’ কলার কাঁদি কেটে দিয়েছিল দুর্বৃত্তরা। সে ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক, এমনকি শনাক্তই করতে পারেনি প্রশাসন।

কৃষিনির্ভর মেহেরপুরে প্রতিনিয়তই ঘটে চলেছে ফসল নষ্ট করার ঘটনা। তারই ধারাবাহিকতায় এবার তিন কৃষকের সমন্বিত উদ্যোগে চাষের ১ হাজার কলা গাছ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

শুক্রবার রাতের কোনো এক সময় এ সর্বনাশ করেছে দুর্বৃত্তরা। গাংনী উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ড চরগোয়াল গ্রামে কলা চাষ করেছিলেন সোহাগ সরদার, ইমারুল ও আমজাদ নামের তিন কৃষক।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রশাসন অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে না পারার কারণে অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে বেড়ে চলেছে এ ধরনের ঘটনা।

কৃষি বিভাগের তথ‍্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলাটিতে ২ হাজার ৫১৬ হেক্টর জমিতে কলার আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮২৬ হেক্টর জমি বেশি। এবার কলার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার ৭৩৬ টন, যার আনুমানিক মূল‍্য ২ শ’ কোটি টাকা।

কৃষক ইমারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা তিনজন মিলে লিজ নিয়ে একশ বিঘা জমিতে পার্টনারশিপে কলার আবাদ করি। এই দাগে পাঁচ বিঘা জমিতে কলাগাছ ছিল। কিছুদিন থেকে ফুল আসা শুরু হয়েছে, কিছু কলার কাঁদিও প্রায় পুষ্ট, রমজানে কলাগুলো বিক্রি করা যেত। অথচ গাছগুলো কাল রাতে মাটিতে মিশিয়ে দিয়ে গেল!’

মাসখানেক আগেও পাশের গ্রাম বালিয়াঘাটে সাত বিঘা জমির কলা গাছ দুর্বৃত্তরা কেটে দেয় বলে জানান তিনি।

তিন কৃষকের কলাবাগানে দুর্বৃত্তের কোপ

আমজাদ হোসেন বলেন, ‘এই বাগান ছাড়াও আমাদের আরও প্রায় ৯০ বিঘা জমিতে কলার আবাদ রয়েছে। ওইসব জমির কলা বাগানগুলো নিয়ে এখন খুব দুশ্চিন্তার মধ‍্যে রয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সব জমি এই অঞ্চলের মানুষের কাছ থেকে বছর-চুক্তিতে লিজ নেয়া। তাছাড়া বিভিন্ন ব‍্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে কলার চাষ করেছি। এখন এভাবে যদি দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে আমাদের পথে বসতে হবে। তখন আত্মহত্যা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না।’

কৃষক সোহাগ সরদার বলেন, ‘রাতের অন্ধকারে কলা গাছগুলো কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সকালে মাঠের কৃষকরা কলাখেত বিনষ্টের কথা জানায়।’

তিকনি জানান, দুর্বৃত্তরা এ মাঠের তিন বিঘা জমির কলাখেত কেটে নষ্ট করেছে। এতে অন্তত ১৫ শ’ কলা গাছ নষ্ট হয়েছে বলে দাবি তার।

এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে, সেজন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ওই তিন কৃষকসহ স্থানীয়রা।

ওই এলাকার আরেক চাষি মুন্নাফ আলী বলেন, ‘ভোটের দুই দিন আগে এ মাঠে থাকা আমার কলা গাছ কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনা প্রতি বছরই ঘটছে আমাদের এলাকায়।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাংনী থানার ওসি তাজুল ইসলাম জানান, পুলিশ বিষয়টির খোঁজ খবর নিচ্ছে। যদি কেউ অভিযোগ করে, তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ২১ জানুয়ারি একই উপজেলার বালিয়াঘাট গ্রামের এক চাষির পাঁচ বিঘা জমির ১৫ শ’ কলার কাঁদি কেটে দিয়েছিল দুর্বৃত্তরা। সে ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক, এমনকি শনাক্তই করতে পারেনি প্রশাসন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Research of 300 varieties of pulses of Canada is going on in Pabna

কানাডার ৩০০ জাতের ডালের গবেষণা চলছে পাবনায়

কানাডার ৩০০ জাতের ডালের গবেষণা চলছে পাবনায় ছবি: নিউজবাংলা
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ওয়াহিদা আক্তার বলেন, ‘আমাদের দেশের আবহওয়ার কারণে ডালচাষে রোগ-বালাই ধরে যায়, কিন্তু এই গবেষণার মাধ্যমে উৎপাদিত ডাল একইসঙ্গে উচ্চ ফলনশীল এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন।’

কানাডা থেকে ৩০০ জাতের ডাল এনে সেগুলোর গবেষণা চলছে পাবনার ঈশ্বরদীতে। বাংলাদেশে কানাডা সরকারের সহযোগিতায় এই ডাল ফসলের ওপর গবেষণা কার্যক্রম এবং বিভিন্ন ডাল গবেষণা মাঠ পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডিয়ান হাইকমিশনার ড. লিলি নিকোলস।

বৃহস্পতিবার দুপুরে পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত ডাল গবেষণা কেন্দ্র ও আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে এই কার্যক্রম পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ওয়াহিদা আক্তার।

ড. লিলি নিকোলস পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান পাবনা জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানসহ গবেষণা কেন্দ্রের কর্মকর্তরা। পরে আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের হলরুমে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. দেবাশীষ সরকারের সভাপতিত্বে গবেষণা কার্যক্রমের ওপর বক্তব্য দেন কানাডিয়ান হাইকমিশনার ড. লিলি নিকোলস, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ওয়াহিদা আক্তার, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কৃষি বিজ্ঞানী ডাল ফসলের প্রজননবিদ ড. আশুতোষ সরকার, বাংলাদশে কৃষি গবষেণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার প্রমুখ।

সেখানে গবেষণা কার্যক্রমের ওপর প্রতিবেদন তুলে ধলেন উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শাহিনুজ্জামান।

ডাল গবেষণা কেন্দ্র ও আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আলতাফ হোসেনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় পরিদর্শনকালে পরিদর্শন টিমের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বগুড়া অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক সরকার শফিউদ্দিন আহম্মেদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. জামাল উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুবীর কুমার দাশ, ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শাহিনুজ্জামানসহ বিজ্ঞানী ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ওয়াহিদা আক্তার বলেন, ‘কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আমাদের ডাল নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম চলছে। কানাডা থেকে ৩০০ জাতের ডাল আমরা নিয়ে এসে এখানে গবেষণা কার্যক্রম করছি। আমরা দেশের তিনটি স্থানে এটির কার্যক্রম চলছে। এগুলো দেখতেই কানাডিয়ান হাইকমিশনার এখানে এসেছেন।

‘আমাদের দেশের আবহওয়ার কারণে ডালচাষে রোগ-বালাই ধরে যায়, কিন্তু এই গবেষণার মাধ্যমে উৎপাদিত ডাল একইসঙ্গে উচ্চ ফলনশীল এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন।’

গবেষণা মাঠ পরিদর্শনকালে বাংলাদেশের সঙ্গে ডাল নিয়ে চলা গবেষণা কার্যক্রম এগিয়ে নেয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন কানাডিয়ান হাইকমিশনার ড. লিলি নিকোলস।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Flowers bloomed on the stone

পাথরে ফুটেছে ফুল

পাথরে ফুটেছে ফুল সিলেটের কোম্পানিগঞ্জে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে বিস্তীর্ণ জমিতে আবাদ হচ্ছে সরিষা। ছবি: নিউজবাংলা
সিলেটের গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট উপজেলায় মোট ৮টি পাথর কোয়ারি রয়েছে। এসব কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা জারির পর বেকার হয়ে পড়া বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠী এখন ঝুঁকেছে সরিষা আবাদের দিকে।

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার তোয়াকুল ইউনিয়নের বীরকুলী গ্রামের বাসিন্দা ফখরুল ইসলাম আগে পাথর ব্যবসায় জড়িত ছিলেন। উপজেলার জাফলং কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন করে বিক্রি করতেন। কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা জারির পর বেকার হয়ে পড়েন তিনি। আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে পড়েন বিপাকে।

পরবর্তীতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শে নিজের পতিত জমিতে শুরু করেন সরিষা চাষ। এতে মিলেছে সাফল্যও। পাথরের ওপর নির্ভরতাও কমে এসেছে।

ফখরুল বলেন, ‘কৃষি বিভাগের উৎসাহে এ বছর ৬৬ শতক জমিতে সরিষা চাষ করেছি। প্রথমবার সফলতা অর্জন করায় দ্বিতীয়বারের মতো সরিষা চাষ করতে আগ্রহী হই। আমাকে দেখে এলাকার অনেকেই সরিষা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। পাথর উত্তোলন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর যে বিপদে পড়েছিলাম তা এখন কাটিয়ে উঠছি।’

পাথর-সমৃদ্ধ অঞ্চল সিলেটের গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট উপজেলা। বাংলাদেশ খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যমতে, কোম্পানীগঞ্জে ৪টি, গোয়াইনঘাটে ২টি এবং কানাইঘাট ও জৈন্তাপুরে ১টি করে মোট ৮টি পাথর কোয়ারি রয়েছে।

এসব কোয়ারিতে পাথর ব্যবসা ও উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কয়েক লাখ লোক। তবে অপরিকল্পিত ও যান্ত্রিক পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনের ফলে এসব কোয়ারি এলাকার পরিবেশে মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দেয়। পরিবেশগত দিক বিবেচনা করে মন্ত্রিপরিষদের ‘সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি’-এর সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালে এসব কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

পাথর উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা জারির পর বিপাকে পড়েন এর সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। জীবিকার উৎস বন্ধ হয়ে পড়ায় পরিবার নিয়ে সংকটে পড়েন তারা। তাদের অনেকের এখন বিকল্প আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে কৃষি। বিশেষত সরিষা চাষে মনোযোগী হয়েছেন এই চার উপজেলার পাথর উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত অনেকে। ফলে সিলেট অঞ্চলে সরিষার আবাদও ব্যাপক হারে বেড়েছে।

সম্প্রতি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র সাদাপাথর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিঘার পর বিঘা বিস্তীর্ণ সরিষার ক্ষেতজুড়ে হলদে ফুল ফুটে আছে। এ যেন পাথরে ফুটেছে ফুল।

প্রায় দুই দশক পাথর ব্যবসায় জড়িত ছিলেন এই এলাকার রিয়াজ উদ্দিন। কোয়ারি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বছর কয়েক বেকার ছিলেন তিনি। এরপর মন দেন কৃষিতে।

রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘আগে এই অঞ্চলে সবই পাথরকেন্দ্রিক ছিল। আমারও একটা ক্রাশার মিল ছিল। সব মিলিয়ে বছরে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা আয় ছিল। পাথর উত্তোলন বন্ধ হওয়ায় বেকার ছিলাম। বাধ্য হয়ে ক্রাশার মেশিন কেজি দরে ভাঙারির কাছে বিক্রি করেছি। টিকে থাকতে এখন কৃষিতে মনোনিবেশ করেছি।’

কোম্পানীগঞ্জ কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর কোম্পানীগঞ্জে ছয় হাজার ১৬৫ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। এটা ২০২১ মৌসুমের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। ওই বছর উপজেলায় সরিষা চাষ হয়েছিল রেকর্ড তিন হাজার ১১২ বিঘা জমিতে। পরে তা বেড়ে হয় তিন হাজার ৯২২ বিঘা। গত বছর তা বেড়ে পাঁচ হাজার ৩২ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বলেন, ‘এ অঞ্চলের মাটি সরিষা চাষের উপযোগী হওয়ায় দিন দিন আবাদ বাড়ছে। কয়েক বছর ধরে উপজেলায় সরিষার চাষ ও ফলন বেড়েছে। আবাদ বাড়াতে চাষিদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এখানে প্রচুর পরিমাণ জমি অনাবাদি পড়ে থাকত। সবারই দৃষ্টি ছিল কেবল পাথর ব্যবসার দিকে। আমাদের প্রণোদনা এখন তাদের দারুণ উদ্বুদ্ধ করেছে। অনেকেই কৃষিতে মনোযোগী হয়েছে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেট আঞ্চলিক কার্যালয় জানায়, এ অঞ্চলের কৃষকরা সাধারণত পাঁচটি জাতের সরিষা আবাদ করে থাকেন। সেগুলো হচ্ছে- উচ্চ ফলনশীল (উফশী) সরিষা বিনা-৯, বিনা-৪, বারী-১৪, বারী-১৭ ও টরি-৭।

কেবল কোম্পানীগঞ্জই নয়, পুরো সিলেট অঞ্চলেই সরিষা চাষে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। এবার সিলেট অঞ্চলে ২৪ হাজার ৯৩১ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ২১ হাজার ২৮ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সিলেট আঞ্চলিক কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক মতিউজ্জামান বলেন, ‘সরকার ভোজ্যতেল আমদানি কমাতে চায়। সে জন্য তেলজাতীয় শস্য উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

‘আমরা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষকদের প্রণোদনার ব্যবস্থা করেছি। সরিষা চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে রাজস্ব খাত থেকে সহায়তা, যন্ত্রপাতি, বীজ, সার বিতরণসহ নানা সহায়তা করে যাচ্ছি। সিলেটের গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর, ওসমানীনগর উপজেলায় প্রচুর সরিষা আবাদ হয়েছে।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Pulses production increased 4 times

ডাল উৎপাদন ৪ গুণ বেড়েছে

ডাল উৎপাদন ৪ গুণ বেড়েছে  ফাইল ছবি
ডালের গুরুত্বকে তুলে ধরার জন্য জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) প্রতি বছর ১০ ফেব্রুয়ারিকে বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক ডাল দিবস হিসেবে উৎযাপন করে আসছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য মাটি ও মানুষের পুষ্টির জন্য ডাল।

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুস শহীদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির কল্যাণে এবং দেশের বিজ্ঞানীরা কিছু উন্নত জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ফলে গত ১৫ বছরে দেশে ডালের উৎপাদন বেড়েছে ৪ গুণের বেশি।

তিনি আরও বলেন, ২০০৮-২০০৯ সালে যেখানে মাত্র ২ লাখ টনের মতো ডাল উৎপাদন হতো, সেখানে ২০২২-২৩ সালে উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ৯ লাখ টনের মতো। কিন্তু তা দেশের চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ। সেজন্য, আমাদের এখন লক্ষ্য ডালে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া।

শনিবার রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ানে আন্তর্জাতিক ডাল দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) আয়োজিত আন্তর্জাতিক সেমিনারে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। খবর বাসসের

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ডালের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন, মানসম্পন্ন বীজের পর্যাপ্ত সরবরাহ এবং আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। উন্নত প্রযুক্তি যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে গবেষণা এবং কৃষকের মাঠের মধ্যে ফলনের ব্যবধান কমিয়ে ফলন বাড়ানো যেতে পারে। এ ছাড়াও আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাথে সহযোগিতার মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীল জাত উদ্ভাবনের মাধ্যমে লবণাক্ত, খরা ও চরাঞ্চলে ডালের চাষ বাড়াতে হবে। সেলক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষিসচিব ওয়াহিদা আক্তার। এছাড়া, কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ মো. বখতিয়ার, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক দেবাশীষ সরকার, খাদ্য ও কৃষি সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিয়াওকুন শি, গেইনের কান্ট্রি ডিরেক্টর রুদাবা খন্দকার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১৫০ জন অংশগ্রহণকারী অংশগ্রহণ করেন।

বারির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা একেএম মাহবুবুল আলম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, দেশে ডালের চাহিদা প্রায় ২৫ লাখ মেট্রিক টন। এ চাহিদার এক তৃতীয়াংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হচ্ছে। বাকি চাহিদা মেটাতে ডাল আমদানি করতে হয়। গতবছর প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে ডাল আমদানিতে।

ডাল উৎপাদনে পিছিয়ে থাকার বিষয়ে উপস্থাপনায় জানান হয়, দেশে চাষযোগ্য জমির ৭৬ শতাংশ জমিতে ধান চাষ হয়, অথচ ডালের চাষ হয় মাত্র ২.৪০ শতাংশ জমিতে। অন্য ফসলের সাথে প্রতিযোগিতায় ঠিকতে না পারা, উন্নত জাত ও বীজের অপর্যাপ্ততা, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষিযন্ত্রের অপ্রতুলতা প্রভৃতি কারণে ডালের উৎপাদন কম বলে জানান তিনি।

ডালের গুরুত্বকে তুলে ধরার জন্য জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) প্রতি বছর ১০ ফেব্রুয়ারিকে বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক ডাল দিবস হিসেবে উৎযাপন করে আসছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য মাটি ও মানুষের পুষ্টির জন্য ডাল। টেকসই খাদ্য উৎপাদন এবং সুস্থ জাতি গঠনে দেশে ও বিশ্বব্যাপী ডালের উপকারিতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বার্তা ছড়িয়ে দেয়াই এর লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে ডাল ফসলের গবেষণা ও উৎপাদনে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনজন বিজ্ঞানীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Irrigation activities to save electricity from 11 pm to 7 am

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সেচ কার্যক্রম রাত ১১টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সেচ কার্যক্রম রাত ১১টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত ফাইল ছবি
চলতি সেচ মৌসুমে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে কৃষকদেরকে অফ-পিক আওয়ারে (রাত ১১টার পর থেকে পরের দিন সকাল ৭টা পর্যন্ত) সেচ যন্ত্র পরিচালনার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সেচ কার্যক্রম নিয়ে নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। সবমিলিয়ে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৮ ঘণ্টা সেচ যন্ত্র চালানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

বুধবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে এক তথ্যবিবরণীতে এ কথা জানানো হয়।

এতে বলা হয়, চলতি সেচ মৌসুমে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে কৃষকদেরকে অফ-পিক আওয়ারে (রাত ১১টার পর থেকে পরের দিন সকাল ৭টা পর্যন্ত) সেচ যন্ত্র পরিচালনার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Irrigation machine stopped due to soil filling there is fear of disruption of paddy cultivation in Munshiganj

মাটি ভরাটে বন্ধ সেচযন্ত্র, মুন্সীগঞ্জে ধান চাষ ব্যাহতের শঙ্কা

মাটি ভরাটে বন্ধ সেচযন্ত্র, মুন্সীগঞ্জে ধান চাষ ব্যাহতের শঙ্কা সেচযন্ত্র বন্ধ হওয়ায় মুন্সীগঞ্জে ধান চাষ ব্যাহতের শঙ্কা। ছবি: নিউজবাংলা
মাটি ভরাটের বিষয় জাহাঙ্গীর ব্যাপারী বলেন, ‘ড্রেনলাইন ও সেচযন্ত্রটি আমার জমিতে, আমার জমি আমি ভরাট করেছি। করিম শেখ ডিপ চালাতে চাইলে আশপাশের অন্য কোনো জমিতে বসিয়ে চালাতে বলেন।’

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে জমির মাটি ভরাটের কারণে কৃষি কাজে ব্যবহৃত সেচযন্ত্র (ডিপ টিউবওয়েল) মাটির নিচে চাপা পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে জমিতে সেচ না পেয়ে এবার ইরি ধান চাষ নিয়ে শঙ্কায় আছেন কৃষকরা।

স্থানীয়রা জানায়, ৩৫ বছর আগে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) আওতায় উপজেলার গাঁওদিয়া ইউনিয়নের ফলপাকর মৌজায় একটি ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়। যেখানে প্রায় ১০০ বিঘা জমি এ সেচের আওতায় পানি সেচ সুবিধা পেয়ে আসছে।

ফলপাকর গ্রামের মো. করিম শেখ নিজেকে ডিপ টিউবওয়েলটির বর্তমান মালিক বলে দাবি করছেন। তিনি ১০ বছর ধরে ইরি ধান জমির ব্লকে সেচ কাজের দায়িত্ব পালন করে আসছেন বলে জানান।

করিমের অভিযোগ, ডিপ টিউবওয়েলটির পাশের জমির মালিক জাহাঙ্গীর ব্যাপারী নিজ জমি দাবি করে মাটি ভরাট করে সেচ কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন।

করিম বলেন, ‘গত বছর কৃষি মৌসুম শেষে সেচযন্ত্রটির পাশে কৃষি জমির মালিক জাহাঙ্গীর ব্যাপারী খনন যন্ত্র দিয়ে পকেট কেটে তার নিজ জমিটি বর্ষা মৌসুমে ভরাট করে নেয়। এতে সেচের পানি প্রবাহের চ্যানেল ও সেচযন্ত্র ডিপ টিউবওয়েলটি ভরাট হওয়া মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়। এতে এ ব্লকে ইরি জমিগুলো নিয়ে অনাবাদি শঙ্কায় রয়েছে কৃষকরা।’

ভরাটের বিষয় জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর ব্যাপারী বলেন, ‘ড্রেনলাইন ও সেচযন্ত্রটি আমার জমিতে, আমার জমি আমি ভরাট করেছি। করিম শেখ ডিপ চালাতে চাইলে আশপাশের অন্য কোনো জমিতে বসিয়ে চালাতে বলেন। মাটি ভরাটের সময় তাকে জানিয়েছি, তখন সে ঢাকায় ছিল।’

সেচযন্ত্র মালিক করিম শেখের অভিযোগ, তাকে না জানিয়ে জাহাঙ্গীর ব্যাপারী বেকু দিয়ে মাটি ভরাট করে ড্রেন লাইন ও ডিপ টিউবওয়েল বন্ধ করে দিয়েছেন। এখন মাটি সরাতে দিচ্ছেন না।

পানির কারণে জমিতে ধান রোপণ করতে পারছেন না জানিয়ে কৃষক টিপু মুন্সি বলেন, ‘অন্য সব ব্লকে জমিতে ধান রোপণ হয়ে গেছে। সেচ চালু না হলে আমার জমি অনাবাদি রয়ে যাবে।’

কালুরগাও গ্রামের কৃষক মো. রাসেদ বলেন, ‘এই ব্লকে আমি আরও আগে ধান রোপণ শেষ করেছি, এখন পানির জন্য জমিতে মাটি ফেটে রয়েছে, রোপণ করা ধানের চারা মরে যাচ্ছে।’

কৃষক মুনছুর বলেন, ‘সেচ চালু না হওয়ায় আমার আট গন্ডা জমিতে এখনও ধান রোপণ করতে পারি নাই।

গাঁওদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম জানান, ডিপ টিউবওয়েলের বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে। সমস্যা সমাধানে কথা জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেনও।

আরও পড়ুন:
কৃষিমন্ত্রী হলেন আব্দুস শহীদ
কৃষিমন্ত্রী হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিয়েছেন: রিজভী
বিএনপিকে নিয়ে দেয়া বক্তব্যে ভুল কিছু বলিনি: কৃষিমন্ত্রী
দলের নেতা-কর্মীদের নৌকার বাইরে কাজ করার সুযোগ নেই: কৃষিমন্ত্রী
এবারের ভোটে বিএনপি বিলুপ্ত হয়ে যাবে: কৃষিমন্ত্রী

মন্তব্য

p
উপরে