× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Great yield of aman amid food scare
hear-news
player
google_news print-icon

খাদ্য নিয়ে শঙ্কার মধ্যে আমনের দারুণ ফলন

খাদ্য-নিয়ে-শঙ্কার-মধ্যে-আমনের-দারুণ-ফলন
আমন মৌসুমে দারুণ ফসলের আভাস পাচ্ছেন চাষিরা। ছবি: নিউজবাংলা
ঠাকুরগাঁওয়ে প্রতি হেক্টর জমিতে ৩ দশমিক ১৩ টন ধান উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হলেও পাওয়া গেছে ৩ দশমিক ২৭ টন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল আজিজ বলেন, ‘আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে জেলাতে। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে এবার আমনের উৎপাদন।’

বিশ্বজুড়ে খাদ্য দিয়ে যে শঙ্কার কথা বলাবলি হচ্ছে, তার মধ্যে আমন মৌসুমে দারুণ ফলনের আভাস দিচ্ছে স্বস্তির ইঙ্গিত।

উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আগাম জাতের আমন ধানে যে ফলন হয়েছে, তা লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে। এবার সেচসহ নানা কারণে উৎপাদন খরচ বেশি পড়লেও কৃষক যে দাম পাচ্ছেন, তাতে মুনাফা হচ্ছে।

এ বছর জেলায় ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬০ হেক্টর জমিতে আমনের চাষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত কাটা হয়েছে ৬ হাজার ৭৬০ হেক্টর। প্রতি হেক্টর জমিতে ৩ দশমিক ১৩ টন ধান উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হলেও পাওয়া গেছে ৩ দশমিক ২৭ টন।

জেলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা গেছে আমনের ফসলি মাঠে ধান কাটার কাজ করছেন কিষাণ-কিষাণীরা৷ কেউ করছেন মাড়াই। পুরুষের সঙ্গে সমানতালে কাজ করতে দেখা গেছে নারীদেরও। মাড়াই-কাটাইয়ে উঠান ভরে থাকছে আমনের ঘ্রাণে।

কৃষি অফিস বলছে, আমন ধান থেকে এবার ৪ লাখ ২৯ হাজার ৭১৬ টন চাল পাওয়ার আশা করছেন তারা।

কৃষকেরা বলছেন, চাষ, সেচ, সার, কীটনাশক সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতি বিঘাতে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা উৎপাদন খরচ বেড়েছে আমন চাষে। সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে ১৫ থেকে ১৭ হাজার টাকা৷

বর্তমানে দুই মণ বস্তা ধান বিক্রি করছেন ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ২৫০ টাকা।

সদর উপজেলার রহিমানপুর এলাকার কৃষক মোহম্মদ নুরুল্লাহ্ বলেন, ‘প্রতি বিঘাতে ধান পাব ১৮ থেকে ২০ মণ। আমার প্রতি মণ ধান উৎপাদনে খরচ প্রায় এক হাজার টাকা।’

চিলারং এলাকার কৃষক হাসেম আলী বলেন, ‘এবার বৃষ্টি কম হওয়ায় সেচ দিতে হয়েছে। ধানে কিছু পোকাও এসেছিল। তাই কীটনাশকে বাড়তি টাকা লেগেছে৷ আগাম ধানের দাম আরেকটু বাড়তি হলে স্বস্তি পেতাম আমরা।’

সদর উপজেলার আকচা মুন্সীপাড়া গ্রামের ক্ষুদ্র কৃষক আতাউর রহমানের প্রতি বিঘাতে উৎপাদন খরচ হয়েছে সব মিলিয়ে ১৩ হাজার টাকা৷

এক বিঘা জমির ধান কেটে কৃষকের উঠানে তুলে দিতে দূরত্বভেদে তিন থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা নেন শ্রমিকেরা। বিঘাপ্রতি ধান মাড়াইয়ে নেন আরও দুই হাজার টাকা।

শ্রমিক রুস্তম আলী বলেন, ‘যে এলাকায় শ্রমিক যত বেশি সে এলাকায় মজুরি তত শাশ্রয়।’

সদর উপজেলার ধান ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘গত বছরের চেয়ে এ বছর কৃষক ধানের দাম বেশি পাচ্ছে। আমনের মোটা ধান আমরা কিনছি ১ হাজার ১০০ টাকা মণ, আর চিকন ধান কিনছি ১ হাজার ২০০ টাকা মণ। বর্তমানে ধানের বাজার অনুযায়ী কৃষকেরা গত বছরের চেয়ে ভালো দাম পাচ্ছেন।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল আজিজ বলেন, ‘আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে জেলাতে। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে এবার আমনের উৎপাদন।’

তিনি বলেন, ‘এ বছর জেলাতে মোট চাষের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল তার চেয়ে ১০ হেক্টর বেশি জমিতে আমনের চাষ হয়েছে। উৎপাদন ও দাম দুটোই ভালো পাবে কৃষক।’

আরও পড়ুন:
বর্ষায় নেই বৃষ্টি, সেচযন্ত্রেই ভরসা
বন্যার পর খরায় আমন চাষির হাত মাথায়
চাহিদার সময়ই বাড়ল ইউরিয়া সারের দাম
প্রত্যাশা ছাপিয়ে আমনের আবাদ
ধানপাতা খাচ্ছে মাজরা পোকা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Women have taken up vegetable cultivation in Thakurgaon

ঠাকুরগাঁওয়ে সবজি চাষে নেমেছেন নারীরা

ঠাকুরগাঁওয়ে সবজি চাষে নেমেছেন নারীরা
নাজমা বেগম বলেন, ‘বলাবলি হচ্ছে সামনের বছর নাকি খাদ্যসংকট দেখা দিবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী পরিত্যক্ত জায়গা ফেলে না রেখে শাকসবজি চাষাবাদ করতে বলেছেন। আমিও চিন্তা করে দেখলাম বাসার পুরুষরা চাকরি ও ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত। আমি নিজেই এর পরিচর্যা করতে পারব।’

নেট দিয়ে ঘের দেয়া একখণ্ড জমি। জমির কিছু অংশে পেঁয়াজ, রসুন, ও কিছু শীতকালীন শাকসবজির চাষ করেছেন নাজমা বেগম নামের এক গ্রামীণ নারী। সেই জমিতে শাকসবজির উৎপাদন বাড়াতে প্রতিনিয়ত পরিচর্যা করেন তিনি।

সোমবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা মুন্সিপাড়া গ্রামে গিয়ে কথা হয় ৪০ বছর বয়সী নাজমা বেগমের সঙ্গে। তিনি জানান, বাড়ির পাশে জমিতে একটি লিচুর বাগান ছিল তার। কিন্তু বাগানে গত পাঁচ বছর ধরে ফলন আসছে না। তাই বাগান কেটে এবারই প্রথম শাকসবজি চাষ শুরু করেছেন।

নাজমা বেগম বলেন, ‘বলাবলি হচ্ছে সামনের বছর নাকি খাদ্যসংকট দেখা দিবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী পরিত্যক্ত জায়গা ফেলে না রেখে শাকসবজি চাষাবাদ করতে বলেছেন। আমিও চিন্তা করে দেখলাম বাসার পুরুষরা চাকরি ও ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত। আমি নিজেই এর পরিচর্যা করতে পারব। এতে ব্যবসা না হোক, নিজের পরিবারের শাকসবজির চাহিদা মিটবে আমার।’

গ্রামের রাস্তা দিয়ে একটু সামনে এগোতেই দেখা গেল বাড়ির উঠানের পাশে পরিত্যক্ত আরেক খণ্ড জমিতে একই রকম নেটের ঘের। ভেতরে কাজ করছেন নাসিমা আক্তার নামের এক বিধবা নারী।

তিনি জানান, এটা তার স্বামীর ভিটা। স্বামী মারা গেছেন প্রায় এক যুগ। তিন বছর আগে গ্রামের আরেক জায়গায় নতুন বাড়ি করেছেন তারা। সন্তান নিয়ে সেখানেই আছেন। জায়গাটা পড়ে ছিল। বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংকট দেখা দেবে এমন কথা শোনার পর পুরোনো ভিটেতে প্রথমবারের মতো শাক ও সবজির কিছু চারা রোপণ করেছেন। সঙ্গে রসুন বুনেছেন। এ ছাড়া মরিচসহ আরও কিছু সবজির চারা রোপণ করার পরিকল্পনা আছে তাদের।

নাসিমা বেগম বলেন, ‘বাজারে শাকসবজির অনেক দাম বেড়েছে। আয়ের অংশ থেকে কোনো সঞ্চয় হয় না। সংসারের চাপ সামলাতে ও পরিবারের চাহিদা মেটাতে আমরা অনায়াসে শাকসবজি চাষ করতে পারি। এই একখণ্ড জমি থেকেই সারা বছর শাকসবজির চাহিদা মেটানো সম্ভব।’

গ্রামের শিক্ষার্থী এমদাদুল হক বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে সংকটের কথা বলাবলি হচ্ছে। এ কথাগুলো সত্যি আতঙ্কের। তবে যাদের আশপাশে পরিত্যক্ত জমি আছে, সেগুলো ফেলে না রেখে আমরা যদি একটা দুটো সবজির গাছ রোপণ করি, তবে না খেয়ে মরব না। একে অপরের সঙ্গে সবজি বিনিময় করে হলেও চলব। আমাদের উৎপাদন করতে হবে। অনেকের জমি নেই, তাদের যেন সহযোগিতা করতে পারি এমন প্রস্তুতি নিতে হবে। যেকোনো দুর্যোগ আমাদের মোকাবিলা করতে হবে।’

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোহম্মদ আজিজ বলেন, ‘বাড়ির উঠানের পাশে জমি, পুকুরপাড় ইত্যাদি জায়গাগুলোতে আমরা মসলাজাতীয় ফসল, শাকসবজি ও ফলের গাছ রোপণের পরামর্শ দিচ্ছি। মাঠপর্যায়ে গিয়ে লোকজনের সঙ্গে কথা বলছি, যেন তারা এক ইঞ্চি জমিও ফেলে না রাখে।’

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজারের চাপের মধ্যে আরও একটি আইপিও আবেদন শুরু
ফের ঢালাও পতন, মাথা উঁচু করে জীবনবিমা
বস্তায় আদা চাষ
নওগাঁয় বাজারে নতুন আলুর কেজি ২০০ টাকা
ঘুমন্ত পুঁজিবাজারে হঠাৎ চাঙা জীবনবিমা, আগ্রহ ব্যাংকেও

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Self sufficiency in agriculture is the focus now on safe food

কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, নজর এখন নিরাপদ খাদ্যে

কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, নজর এখন নিরাপদ খাদ্যে খাদ্য নিরাপত্তায় এখন জোর দিচ্ছে সরকার। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
১৯৭১ সালে দেশে যেখানে মোট দানাদার খাদ্যশস্য উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ১৮ লাখ টন, সেখানে ২০২১ সালে ৪ কোটি ৬৫ লাখ ৮২ হাজার টন খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়েছে। অনেক ফসলের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বে শীর্ষ ১০ দেশের একটি।

স্বাধীনতার ৫০ বছরে দেশে কৃষি খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জিত হলেও নিরাপদ খাদ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভাগ বলছে, সরকারের নজর এখন খাদ্য নিরাপত্তায়। এ নিয়ে পদক্ষেপও নেয়া হচ্ছে।

দেশে এখন একফসলি জমিতেও আবাদ হচ্ছে গড়ে দুটি ফসল। এলাকাভেদে এ চাষাবাদ গড়িয়েছে তিন থেকে চার ফসলেও। এতে বিশ্বের গড় উৎপাদন হারকে পেছনে ফেলে জনসংখ্যার হিসেবে নবম স্থানে থাকা বাংলাদেশ খাদ্যে হয়ে উঠেছে স্বনির্ভর।

প্রধান খাদ্যশস্য ধান উৎপাদনে বিশ্বে এখন তৃতীয় থেকে চতুর্থ অবস্থানে ওঠানামা করছে বাংলাদেশ। স্বাধীনতার আগে বেশি পরিমাণ জমি চাষাবাদে ফসল মিলত কম।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ধানের পাশাপাশি সবজি উৎপাদনেও বাংলাদেশ এখন সারা বিশ্বে তৃতীয়। আম ও আলু উৎপাদনে সপ্তম এবং পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম স্থানে।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ বলছে, বিশ্বজুড়ে প্রতি হেক্টরে শস্যের গড় উৎপাদন হার যেখানে প্রায় তিন টন, সেখানে বাংলাদেশে তা সোয়া চার টনে উন্নীত হয়েছে। ৫০ বছরে বাংলাদেশে গমের উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছে। সবজি উৎপাদন বেড়েছে পাঁচ গুণ। ভুট্টার উৎপাদন বেড়েছে ১০ গুণ।

১৯৭১ সালে দেশে যেখানে মোট দানাদার খাদ্যশস্য উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ১৮ লাখ টন, সেখানে ২০২১ সালে ৪ কোটি ৬৫ লাখ ৮২ হাজার টন খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়েছে। ২০২০ সালে খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়েছে প্রায় সোয়া ৪ কোটি টন। তবে দেশে সর্বোচ্চ উৎপাদনের রেকর্ড হয় ২০১৭ সালে। সে বছর দেশে খাদ্যশস্যের উৎপাদন হয় ৫ কোটি ৪২ লাখ ৬২ হাজার টন।

একই সঙ্গে ঘটছে কৃষির যান্ত্রিকীকরণ। গত ১০ বছরে সরকারি হিসেবেই প্রায় ৬৯ হাজার কৃষিযন্ত্র গ্রহণ করেছে কৃষক। এসব যন্ত্রে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার।

কৃষির যান্ত্রিকীকরণের জন্য সরকার ৩ হাজার ২০ কোটি টাকার একটি বড় প্রকল্প নেয়, যেটির তৃতীয় ধাপ ২০২০ সালে শুরু হয়। শেষ হবে ২০২৪ সালে।

দানাদার খাদ্যশস্যের সঙ্গে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদেও সমৃদ্ধির স্বাক্ষর রেখেছে বাংলাদেশ। সবজি ও মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান এখন বিশ্বে তৃতীয়। ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথম। বিশ্বে ইলিশ উৎপাদনের ৮৬ শতাংশই হয় এ দেশে।

মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য মতে, ২০০৮ থেকে ২০০৯ অর্থবছরে দেশে ইলিশের উৎপাদন ছিল ২ লাখ ৯৯ হাজার মেট্রিক টন। ২০১৯ থেকে ২০২১ অর্থবছরে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৫ লাখ ৮৯ হাজার মেট্রিক টন। এ সময় উৎপাদন বেড়েছে ২ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন বা দ্বিগুণের কাছাকাছি।

পাট উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। তবে পাট রপ্তানিতে বিশ্বে বাংলাদেশই প্রথম। ছাগল উৎপাদনেও অবস্থান চতুর্থ। আর ছাগলের মাংস উৎপাদনে পঞ্চম। আলু ও আম উৎপাদনে সপ্তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। চা উৎপাদনে অবস্থান নবমে। সার্বিক ফল উৎপাদনে রয়েছে দশম অবস্থানে। গবাদি পশু পালনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে দ্বাদশ অবস্থানে রয়েছে।

কৃষি তথ্য সার্ভিসের উপপরিচালক (গণযোগাযোগ) ড. শামীম আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা এখন কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমাদের এখন প্রধান লক্ষ্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা। আমাদের প্রধান বার্তা হচ্ছে নিরাপদ কৃষি। সবজি, মাছ, পোলট্রি– এসবের উৎপাদন নিরাপদ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার এখন কৃষকদের ভর্তুকি দিচ্ছে, যাতে উৎপাদন ঠিক থাকে। এটা আমাদের প্রায়োরিটি প্রজেক্ট। আগে আমরা খাদ্য চাহিদা পূরণের জন্য কৃষির প্রতি গুরুত্ব দিয়েছি, তবে এখন নিরাপদ কৃষির দিকে যাচ্ছি।’

শামীম আহমেদ বলেন, ‘এখন আমরা অনাবাদি জমিগুলোকে আবাদি করে তুলছি। আমাদের ধানের উৎপাদন বেড়েছে। আগে ছিল ২৯ আর এখন সেটা ৮৯ হয়েছে। আমাদের ধান গবেষণা ইউস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা কিন্তু এই বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে। আর কৃষক সেটাকে গ্রহণ করেছে।’

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের শস্যমান ও পুষ্টি বিভাগের সিএসও ড. মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন ধানে স্বয়ংসস্পূর্ণ বলা যাবে। অনেক প্রজাতির ধান অবমুক্ত করা হচ্ছে এখন। এখন আমাদের মূল লক্ষ্য পুষ্টি ও নিরাপদ খাদ্য ও কৃষি।’

মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী বলনে, ‘আমরা কিন্তু ডায়াবেটিক রোগীর জন্যেও বাজারে চাল এনেছি। এটার নাম বিআর১৬, বিআর৪৬ ও বিআর৬৯। এ ছাড়া জিংকসমৃদ্ধ চালও বাজারে অবমুক্ত করা হয়েছে। এগুলোর নাম বিআর৬৪, বিআর৮৪ ও বিআর৭৪।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. বেনজীর আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের খাদ্য উৎপাদন আরও বাড়াতে হবে। প্রতি বছর ২২ থেকে ২৫ লাখ শিশু জন্ম নিচ্ছে। তাদের বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে খাদ্যের চাহিদাও বাড়ছে।’

তিনি পশুশিল্পের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘বছরে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ গরুর খাবারের প্রয়োজন হয়। যদি এক কেজি করেও খাওয়ানো হয়, তবে বছরে সাড়ে ৩৬ মেট্রিক টন লাগবে। এ ছাড়া পোলট্রি ও মাছেও খাবার লাগছে। এর জন্য তো আমাদের খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে।’

তিনি বলনে, ‘আমরা এখন নিরাপদ খাদ্য নিয়েও কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে এই বিষয়ে।’

আরও পড়ুন:
বিশৃঙ্খলা করলে বিএনপিকে ‘হেফাজতের মতো দমন’
বাগেরহাটের কচুয়ায় আখ বিক্রি বছরে ২৭ কোটি টাকা
২৫ চাকরি দিচ্ছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর
‘বিএনপি একটা পর্যায়ে নির্বাচনে আসবে’
চিনিকলের পতিত জমি চাষের আওতায় আনার নির্দেশ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Ginger cultivation in bags

বস্তায় আদা চাষ

বস্তায় আদা চাষ বস্তায় হচ্ছে আদা চাষ। ছবি: নিউজবাংলা
সিমেন্ট বা আলুর বস্তায় ফলানো যায় আদা। এই পদ্ধতিতে একদিকে যেমন মাটিবাহিত রোগের আক্রমণ অনেক কমে যায়, অন্যদিকে প্রাকৃতিক বিপর্যয় হলে বস্তা অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়।

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় বাণিজ্যিকভাবে বস্তা পদ্ধতিতে আদা চাষ শুরু হয়েছে। এ পদ্ধতিতে ফলন ভালো হচ্ছে বলে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা।

প্রতিবছর উপজেলার সব ইউনিয়নের ফসলি জমিতে আদা চাষ করা হতো। এতে অনেক কৃষক লাভের মুখ দেখতে পায়নি। ফলে তারা বস্তা পদ্ধতিতে আদা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। ইতিমধ্যে উপজেলাটির পুটিজানা ও এনায়েতপুর ইউনিয়নে বেশকিছু কৃষক আদা চাষে এই পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।

পুটিজানা ইউনিয়নের বেড়িবাড়ী গ্রামের কৃষক শংকর চন্দ্র পাল বলেন, ‘আমার ৩০ শতাংশ পতিত জমিতে প্রায় ৬ হাজার বস্তা আদা চাষ করেছি। বস্তা, আদা, সার কেনা এবং পরিচর্যাসহ প্রতি বস্তায় খরচ হয়েছে প্রায় ৩২ টাকা।’

বস্তায় আদা চাষ

এনায়েতপুর ইউনিয়নের কৃষক শফিকুল ইসলাম জানান, তিনি ৬০০ বস্তায় আদা চাষ করেছেন। বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি আদার দাম কমপক্ষে ৬০ টাকা। ৬০০ বস্তায় ১ হাজার ২০০ কেজি উৎপাদন হলে বাজারে ৭২ হাজার টাকা দাম পাওয়া যাবে। এতে খরচ বাদে অর্ধ লক্ষাধিক টাকা লাভ হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জেসমিন নাহার বলেন, সিমেন্ট বা আলুর বস্তায় ফলানো যায় আদা। এই পদ্ধতিতে একদিকে যেমন মাটিবাহিত রোগের আক্রমণ অনেক কমে যায়, অন্যদিকে প্রাকৃতিক বিপর্যয় হলে বস্তা অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। বাড়ির উঠান, প্রাচীরের কোল ঘেঁষে বা বাড়ির আশেপাশের ফাঁকা জায়গা অথবা ছাদে যেখানে খুশি রাখা যায়। এর জন্যে আলাদা জমি ও পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না।

চাষাপদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রথমে একটি বস্তায় ৩ ঝুড়ি মাটি, ১ ঝুড়ি বালি, ১ ঝুড়ি গোবর সার ও দানাদার কীটনাশক ফুরাডান ৫জি ২৫ গ্রাম নিতে হবে। মাটির সঙ্গে এগুলো ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে।

এবার একটি বালিভর্তি টবে তিন টুকরো অঙ্কুরিত আদা পুঁতে দিতে হবে। আদার কন্দ লাগানোর আগে ছত্রাকনাশক অটোস্টিন ২ গ্রাম এক লিটার পানিতে দিয়ে শোধন করে নিতে হবে। অন্য ছত্রাকনাশকও ব্যবহার করা যাবে।

শোধনের পর কন্দগুলো আধাঘণ্টা ছায়ায় রেখে শুকিয়ে নিতে হবে। ২০ থেকে ২৫ দিন পর গাছ বের হবে। তখন আদার চারা সাবধানে তুলে বস্তার মুখে ৩ জায়গায় বসিয়ে দিতে হবে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আদা গাছ বড় হয়ে যাবে।

জেসমিন নাহার বলেন, এ উপজেলায় ২৫ হেক্টর জমিতে আদা চাষ হয়েছে। এ বছর প্রথম বেশকিছু কৃষক বস্তায় আদা চাষ করেছেন। তাঁদের সব ধরনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের উপপরিচালক মতিউর রহমান বলেন, বস্তায় চাষ করলে অতিবৃষ্টি বা বন্যায় ফসল ডুবে নষ্ট হওয়ার ভয় নেই। একবার ফসল তোলার পর সেখানে আলাদা করে কোনো সার ছাড়াই আরেকটি ফসল ফলানো যায়। ফলে খরচ একেবারেই কম।

আরও পড়ুন:
দামে কারসাজি: ইউনিলিভার, সিটি, প্যারাগন, কাজীর বিরুদ্ধে মামলা
৩০০ টাকা থেকে মরিচ এখন ৪০
ঝাঁজ কমল কাঁচা মরিচের, কমল সবজির দামও
কমেছে সবজির দাম, বেড়েছে মাংসের
ঈদের ছুটিতে কাঁচা মরিচের ডাবল সেঞ্চুরি, শসার সেঞ্চুরি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Submission of returns of paddy traders every week

ধান-চাল ব্যবসায়ীদের রিটার্ন জমা প্রতি সপ্তাহে

ধান-চাল ব্যবসায়ীদের রিটার্ন জমা প্রতি সপ্তাহে
মন্ত্রী বলেন, ‘বোরো মৌসুম থেকে ধান-চাল ব্যবসায়ীদের প্রতি সপ্তাহের রিটার্ন জমা দেয়ার নিয়ম চালু করা হয়েছে। যারা ধানের আড়তের ব্যবসা করছেন তারা প্রতি সপ্তাহে কতটুকু ধান কিনছেন, কতটুকু ধান কোন মিলে বিক্রি করছেন তার হিসাব সরকারকে দিতে হবে। চালকল মালিকদেরও এই নিয়ম মেনে চলতে বলা হচ্ছে।’

ধান-চাল ব্যবসায়ীদের প্রতি সপ্তাহের রিটার্ন জমা দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

নওগাঁ জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে আমন ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে খাদ্যমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘বোরো মৌসুম থেকে ধান-চাল ব্যবসায়ীদের প্রতি সপ্তাহের রিটার্ন জমা দেয়ার নিয়ম চালু করা হয়েছে। যারা ধানের আড়তের ব্যবসা করছেন তাদের প্রতি সপ্তাহে কতটুকু ধান কিনছেন, কতটুকু ধান কোন মিলে বিক্রি করছেন তার হিসাব সরকারকে দিতে হবে। চালকল মালিকদেরও এই নিয়ম মেনে চলতে বলা হচ্ছে।

‘যারা এই হিসাব দেবেন না তাদের শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে। এবার ব্যবসায়ীদের প্রতি সপ্তাহের রিটার্ন জমার কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। যে সব মিলার করপোরেট গ্রুপের কোনো ব্র্যান্ডের নামে চাল বাজারজাত করার চেষ্টা করবেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, লাইসেন্স নেই এমন অনেক ব্যক্তি ধান-চাল কিনে মজুত করে রাখছেন। এতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়ে থাকে। বিনা লাইসেন্সে কোনো ব্যক্তি ধান-চালের ব্যবসা করতে পারবে না। লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করলে আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

খাদ্য নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই বলে উল্লেখ করে সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খাদ্যসংকট হতে পারে বলে আভাস দেয়া হচ্ছে। তবে বাংলাদেশের মানুষের খাদ্য নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

‘এবার আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে খাদ্যশস্য আমদানি করা হচ্ছে। কৃষকদের এই পরিস্থিতিতে দেশের জন্য কাজ করতে হবে। নিজেদের যেসব জমি আছে তার সবটা জুড়ে ফসল আবাদ করলে বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে খাদ্য আমদানি করতে হবে না।’

কৃষকদের প্রতি সরকারি গুদামে ধান বিক্রির আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার কৃষকদের চাষাবাদে উৎসাহিত করতে সার ও বিদ্যুতে হাজার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। কৃষকদের দায়িত্ব রয়েছে, তাদের উৎপাদিত ধানের কিছু কিছু সরকারি গুদামে দেয়া।

‘২০১৮-১০১৯ সালে ধানের দাম বাজারে অতিরিক্ত পরিমাণে কমে যায়। তখন কৃষক হা-হুতাশ করতে শুরু করে। এই পরিস্থিতিতে সরকার কৃষকদের ধানের নায্য দাম নিশ্চিত করতে মৌসুমের শুরুতেই ধান-চাল কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে ধানের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন বলেই কৃষক ধান চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।’

তিনি বলেন, ‘খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, সরকারি গুদামে ধান বিক্রির সময় কোনো কৃষক বা মিলার যেনো কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হন। মধ্যস্বত্বভোগীরা যেন গুদামে ধান দিতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’

ধান-চাল সংগ্রহের সময় খাদ্যর অপচয় বা নষ্ট না করে ভালোভাবে সংরক্ষণের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

চলতি বোরো মৌসুমে ধানের উৎপাদন ও সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা বিষয়ে তথ্য তুলে ধরেন নওগাঁর জেলা প্রশাসক খালিদ মেহেদী হাসান।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁর পুলিশ সুপার রাশিদুল হক, রাজশাহী বিভাগীয় আঞ্চলিক খাদ্য কর্মকর্তা জিএম ফারুক হোসেন পাটোয়ারী।

নওগাঁ জেলায় চলতি আমন মৌসুমে ১১ হাজার ৪৫৪ টন ধান এবং ২২ হাজার ১৩৬ টন সেদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ধান ক্রয় ২৮ ফেব্রুয়ারি ও ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত সিদ্ধ চাল ক্রয় করা হবে।

অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী নওগাঁ, কুষ্টিয়া, নেত্রকোণা ও দিনাজপুর জেলার সরকারি কর্মকর্তা, কৃষক, চালকল মালিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন।

আরও পড়ুন:
সিঙ্গাপুরের উদ্যোক্তাদের দেশে বড় বিনিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
হজযাত্রীদের হয়রানি করলে কঠোর শাস্তি: প্রধানমন্ত্রী
জ্বালানি শোধনাগার নির্মাণে কুয়েতের প্রস্তাব বাস্তবায়নের নির্দেশ
হজযাত্রী পাঠানোর জাহাজকে প্রমোদতরি বানান জিয়া: শেখ হাসিনা
সুপ্রিম কোর্টে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারে নতুন দিগন্ত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
WFP does not see the threat of famine in Bangladesh

‘বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষের শঙ্কা দেখছে না ডব্লিউএফপি’

‘বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষের শঙ্কা দেখছে না ডব্লিউএফপি’ বুধবার আমন ধান কাটার সময় নওগাঁর কৃষকের মুখে হাসি। ছবি: রিফাত সবুজ/নিউজবাংলা
বাংলাদেশে এখন আমন কাটা চলছে। তিনি (ডমেনিকো) আমাকে বলেছেন যে, তাদের কাছ তথ্য আছে, কোনো ক্রমেই বাংলাদেশে খাদ্য সংকট বা দুর্ভিক্ষ হওয়ার সামান্যতম আশঙ্কা নেই। তবে যেহেতু এটি একটি রাজনৈতিক ইস্যু তাই তিনি এটা নিয়ে সরাসরি কথা বলবে না। আমি জানতে চেয়েছিলাম, তাকে রেফার করতে পারব কিনা। তিনি সম্মতি দিয়েছেন: ডব্লিউএফপি প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে খাদ্যমন্ত্রী

সারা বিশ্বে খাদ্য সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষের কোনো শঙ্কা দেখছে না বলে কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাককে জানিয়েছেন বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি বা ডব্লিউএফপির বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডমেনিকো স্কালপেলি।

বিষয়টি রাজনৈতিক বলে সেই প্রতিনিধি সরাসরি গণমাধ্যমের কাছে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাননি। তবে বরাত দিয়ে মন্ত্রী গণমাধ্যমকে এ কথা বলতে পারেন বলে অনুমতি দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন রাজ্জাক।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে ডব্লিউএফপির প্রতিনিধি দল।

তাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন আমন কাটা চলছে। তিনি (ডমেনিকো) আমাকে বলেছেন যে, তাদের কাছ তথ্য আছে, কোনো ক্রমেই বাংলাদেশে খাদ্য সংকট বা দুর্ভিক্ষ হওয়ার সামান্যতম আশঙ্কা নেই।

‘তবে যেহেতু এটি একটি রাজনৈতিক ইস্যু তাই তিনি এটা নিয়ে সরাসরি কথা বলবে না। আমি জানতে চেয়েছিলাম, তাকে রেফার করতে পারব কিনা। তিনি সম্মতি দিয়েছেন।’

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে টালমাটাল বিশ্বে খাদ্য সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ডব্লিউএফপি দেশে দেশে সংকটের আশঙ্কা করছে, এমনকি দুর্ভিক্ষের পূর্বাভাসও আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও নানা সময় বিশ্বে দুর্ভিক্ষ আসছে জানিয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করেছেন, যেটি নিয়ে রাজনৈতিক বাদনুবাদ চলছে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন মাল্টিলেটারাল ডোনার অনুমান করছে পৃথিবীতে একটি খাদ্য সংকট হওয়ার আশঙ্কা আছে অতিসত্ত্বর। কাজেই এটাকে বিবেচনায় নিয়েই সরকার কাজ করছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ও কাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির কান্ট্রি রিপ্রেজেনটিটিভ আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। সংকটের কথা অনেকেই বলছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে তারা কীভাবে দেখছে এবং কীভাবে ভবিষ্যতে এখানে তারা কাজ করবে, এসব অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

স্বাধীনতার পর থেকেই খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বিডব্লিউএফপি বাংলাদেশকে সহযোগিতা করলেও এখন সামান্য সাহায্যই দেয় জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা গত ১৫ বা ১২-১৩ বছর ধরে নেই নাই।…ইউএসএইড বছরে এক লাখ টনের মতো গম আমাদের দেয়। এটা ছাড়া বিদেশ থেকে আমরা কোনো খাদ্য সহযোগিতা বিদেশ থেকে গ্রহণ করি নাই।’

তবে গত ছয় বছর ধরে রোহিঙ্গাদের জন্য যে খাদ্য প্রয়োজন, সেটিও বিশ্ব খাদ্য সংস্থার মাধ্যমেই দেয়া হয় বলে মন্ত্রী জানান

‘এই মুহূর্তে খাদ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা নেই’

মন্ত্রী গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হওয়ার দিন সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১২ টাকা আর চিনির দাম কেজিতে ১৩ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা এসেছে। তবে রাজ্জাক দাবি করলেন, এই মুহূর্তে দেশে খাদ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা নেই।

গত তিন চার দিনে শীতকালীন সবজির দাম অর্ধেক হয়ে গেছে দাবি করে তিনি এও বলেছেন, আগামীতে দাম আরও কমে আসবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্যের দাম কমেছে বলেই মূদ্রাস্থীতি গত মাসে কমে এসেছে। তবে আমি মনে করি এখন আমনের মৌসুম, ধান কাটার মাস, দাম আরও কমা উচিত ছিল।

‘আমি বলি, গবিব মানুষ আছে, তাদের কষ্ট হচ্ছে. সীমিত বা নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট হচ্ছে। তবে টাকা নিয়ে খাবার কিনতে পারছে না এমন পরিস্থিতি হয়নি।’

শঙ্কার মধ্যেও এবার আমনের ভালো ফলন হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। বলেন, ‘শ্রাবণ মাসে মাত্র একদিন বৃষ্টি হয়েছে। আমরা ভেবেছিলাম কৃষকরা হয়ত ধান লাগাতেই পারবে না, উৎপাদন কমে যাবে। কিন্তু এই প্রতিকুলতার মধ্যেও সেচ দিয়ে কৃষকরা ঠিকই ধান লাগিয়েছে। সবাই বলছে যে, স্মরণাতীতকালে সবচেয়ে ভালো ধান হয়েছে।’

বর্ষায় বৃষ্টি কম হওয়ার কারণে আমন চাষ বেশি হয়েছে বলেও জানান রাজ্জাক। বলেন, ‘অনেক নিচু এলাকায় অন্য সময় ধান লাগানো যেত না। কারণ, বিলে পানি এসে যায়, ডুবে যায়। এ বছর বৃষ্টি না হওয়ায় এই বিলের জমিতেও ধান লাগিয়েছে। তারা বলে যে অতীতে যে কোনো সময়ের চেয়ে ভালো আমন পাবে। আমাদের এবার যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল, তার চেয়েও ভালো ধান হয়েছে।’

আগামী মৌসুমের জন্য দেশে পর্যাপ্ত সার মজুদ আছে বলেও জানান মন্ত্রী। বলেন, ‘আগামী আলু ও বোরোর জন্য যে সার দরকার আমাদের তা আছে। আমাদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি আছে।’

উৎপাদনে সমস্যা না থাকলেও দাম কি বণ্টন সমস্যা বাড়ছে- এমন প্রশ্নে রাজ্জাক বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য খুব বিব্রতকর। উৎপাদন আসলেই খুব ভালো হচ্ছে। এগুলোর সামাজিক-রাজনৈতিক কিছু সমস্যা আছে। আমি এটা অস্বীকার করবো না।

‘ক্যারিং খরচ, তারপর নানা ভোগান্তি তো আছেই। আমার মনে হয় আগামী ৬-৭ দিনে সারাদেশ শীতের সবজিতে ভরে যাবে এবং এগুলো কেনার মানুষ পাওয়া যাবে না। তিন চারদিনেই দাম অর্ধেক হয়ে গেছে।’

ডলার সংকটের কারণে খাদ্য আমদানিতে সমস্যা হচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নে জবাব আসে, ‘আমরা বলেছি সার আমদানিতে কোনো সমস্যা তৈরি করা যাবে না। এটার পেমেন্ট স্মুথ করতে হবে।

‘খাদ্য আমদানিতে কিছু প্রভাব পড়ছে। গত জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত গত ৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পরিমাণ খাদ্য আমদানি হয়েছে। এই যে এত সংকটের কথা বলা হচ্ছে, এত কম আমদানির পরেও কি দেশে খাদ্য নিয়ে কোনো কথা আছে? হয়নি তো।’

বিদেশে উচ্চমূল্যের কারণে আমদানি করে ব্যবসায়ীদের লাভ হচ্ছে না বলেও দাবি করেন মন্ত্রী। বলেন, ‘প্রায় আট শ প্রতিষ্ঠানকে চাল আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ২-৩ লাখ টনও আসেনি।’

চাঁদাবাজি বন্ধে কী করা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা সম্মিলিতভাবে করতে হবে। ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি। দেখা যায় দুয়েক দিন বন্ধ থাকে, আবার শুরু হয়। আমি বলছি না যে ব্যবস্থাপনায় একদম ঘাটতি নেই। কিন্তু অনেক কমে এসেছে।’

আরও পড়ুন:
দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা নাকচ কৃষিমন্ত্রীর
‘আন্দোলনের নামে পুলিশের ওপর হামলা করছে বিএনপি’
দেশে কোনো খাদ্যসংকট হবে না: কৃষিমন্ত্রী
৯ পণ্যের দাম বেঁধে দেয়ার সিদ্ধান্তে কৃষিমন্ত্রীর দ্বিমত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Millionaires sell palm seedlings

খেজুরের চারা বেচে কোটিপতি

খেজুরের চারা বেচে কোটিপতি ভালুকায় গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি ছোট-বড় খেজুর বাগান। ছবি: নিউজবাংলা
কয়েক বছরে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি ছোট-বড় খেজুর বাগান। একজনের সাফল্য দেখে আরেকজন খেজুর চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। গত প্রায় দুই যুগে চারা বিক্রি করে বিপুল আয় করেছেন আব্দুল মোতালেব। পরিচিতরা তাকে ‘কোটিপতি খেজুর মোতালেব’ বলে অভিহিত করছে। তার বাগানে উৎপাদিত চারা যাচ্ছে সারা দেশে।

দেশে ভোজনরসিকদের কাছে সবচেয়ে প্রিয় সৌদি আরবের খেজুর। একসময় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ, পাকিস্তান ও ভারত থেকেও খেজুর আমদানি হতো। বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে সৌদি খেজুরের চাষ গড়ে উঠেছে বাংলাদেশে। উৎপাদন হচ্ছে বিপুল পরিমাণ খেজুর।

খেজুরসহ চারা বিক্রির মাধ্যমে চাষিরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি শৌখিন ব্যক্তিরাও খেজুর চাষে ঝুঁকছেন।

কয়েক বছরে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি ছোট-বড় খেজুরবাগান। একজনের সাফল্য দেখে আরেকজন খেজুর চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। গত প্রায় দুই যুগে চারা বিক্রি করে বিপুল আয় করেছেন আব্দুল মোতালেব। পরিচিতরা তাকে ‘কোটিপতি খেজুর মোতালেব’ বলে অভিহিত করছে। তার বাগানে উৎপাদিত চারা যাচ্ছে সারা দেশে।

আব্দুল মোতালেবের বাড়ি ভালুকা উপজেলার পাড়াগাঁও গ্রামে। ১৯৯৮ সালে সৌদি আরব গিয়ে একটি খেজুর বাগান দেখাশোনার কাজ করেন তিনি। নিয়মিত কাজ করে চারা উৎপাদনসহ খেজুর উৎপাদনে পারদর্শী হয়ে ওঠেন তিনি। এরপর দেশে খেজুর চাষের পরিকল্পনা করেন। তিন বছর পর ৩৫ কেজি বিভিন্ন জাতের খেজুর নিয়ে দেশে ফেরেন তিনি। ২০০১ সালে নিজের বাড়ির পাশে শুরু করেন খেজুরের বাগান তৈরির কাজ।

গত বছর প্রায় ১২০টি গাছ থেকে ৬ লাখ টাকার খেজুর বিক্রি করেছেন তিনি। ছোট আকৃতির প্রতিটি চারা ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা এবং ফলধারক একটি গাছ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেন।

খেজুরের চারা বেচে কোটিপতি

আব্দুল মোতালেবের বাগানে এখন ২ হাজার ছোট-বড় গাছ রয়েছে। প্রতিটি পূর্ণ বয়স্ক গাছে ২৫০ কেজি খেজুর ধরে। আজোয়া জাতের খেজুর প্রতি কেজি ২ হাজার টাকা, আমবাগ প্রতি কেজি ২ হাজার টাকা, সুকারি ১৫০০ টাকা ও বরকি ১৫০০ টাকা কেজি বিক্রি হয়।

আব্দুল মোতালেব একসময় পরিবার নিয়ে মাটির ঘরে বসবাস করতেন। খেজুর বাগান থেকে আয়ের টাকায় তিনি দ্বিতল ভবনের বাড়ি করেছেন, ছয় বিঘা জমি কিনেছেন, যার মূল্য কোটি টাকার ওপরে।

মরুভূমির উত্তপ্ত আবহাওয়ায় উৎপাদিত ফল এ দেশে চাষ করার ক্ষেত্রে মোতালেবের ব্যাপক সাফল্য দেখে এ অঞ্চলের অনেক বেকার যুবক এখন সৌদি খেজুরের চাষ করছেন।

তাদের একজন আফাজ পাঠান। তিনি পাশের পাড়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। ২০১৬ সালের শেষের দিকে দুই বিঘা জমিতে বীজ বপন করেন তিনি। সে বছরই আড়াই হাজার চারা হয়। বর্তমানে ১০ বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন খেজুর বাগান। সৌদি আরবের ১০ জাতের খেজুরের প্রায় ৫ হাজার গাছ ও ৫ হাজার চারা আছে তার বাগানে। প্রতিটি চারা ২ থেকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।

আরেকটি খেজুর বাগানের মালিক আজিজুল হক। মোতালেবের বাগান দেখে তিনিও দুই একর জায়গায় বাগান শুরু করেন। খেজুরের চেয়ে চারা বিক্রি করেই লাভবান তিনি। স্থানীয় লোকজনসহ দূর-দূরান্তের লোকজন বাড়ির আঙিনায় কিংবা বিভিন্ন রিসোর্টের শোভাবর্ধনের জন্য কিনে নিচ্ছেন খেজুরের চারা।

তবে অনেকের প্রশ্ন : আসলেই কি কিনে নেয়া ওইসব গাছ থেকে সব মাটিতেই ফল ধরছে? নাকি হুজুগে চারা কিনে প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা?

এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ উপজেলায় উৎপাদিত চারা সারা দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় বিক্রি করা হচ্ছে। বিভিন্ন রিসোর্টের শোভাবর্ধনসহ গাছের টাটকা ফল খেতে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে কিনে নিচ্ছেন চারা। বেশির ভাগ ক্রেতার গাছে ধরছে ফল। তবে ফল ধরানো নিশ্চিত করতে বাগানিদের সঙ্গে আলাদা চুক্তি করতে হয়। ভালো টাকা পেলে নিজ হাতে চারা লাগানোসহ সবধরনের পরিচর্যা করে ওই গাছে খেজুর ফলিয়ে দেন তারা।

উপজেলার মাস্টারবাড়ি এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম খেজুর চাষি মোতালেবের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছেন দশটি চারা। ফল ধরেছে কিনা জানতে কথা হয় তার সাথে। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মোতালেব সৌদির খেজুর চাষে আলোড়ন তুলেছেন জানতে পেরে তার সঙ্গে যোগাযোগ করি। গত ৭ বছর আগে দশটি চারা সংগ্রহ করি। এর মধ্যে তিনটি গাছে খেজুর ধরেছে। স্বাদও সৌদি আরবের খেজুরের মতোই।’

জহির উদ্দিন নামে আরেক বাগানি বলেন, ‘আমি আফাজ পাঠানের কাছ থেকে তিনটি চারা কিনেছিলাম। এর মধ্যে একটি গাছে খেজুর ধরছে। পরে চাষিকে জানালে তিনি আরও একটি চারা কিনতে বলেন। সে অনুযায়ী বেশি দামে আরেকটি চারা কিনে লাগালে চাষি মাঝেমধ্যে এসে নিজেই পরিচর্যা করার পাশাপাশি কৌশল শিখিয়ে দেন। গত বছর ওই গাছেও খেজুর ধরেছে।’

জানতে চাইলে মোতালেব নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেশে ফিরে আমার বাড়ির পাশে একটি জমিতে খেজুরের চারা রোপণ করি। কিন্তু প্রায় সব গাছই পুরুষ হয়ে যাওয়ায় খেজুর হয়নি। আবার গাছ লাগালে আবারও একই অবস্থা। তৃতীয় দফায় দুটি গাছে খেজুর হয়। সেই দুই গাছ থেকে বর্তমানে ২ হাজার চারা উৎপাদন করেছি। প্রতি বছর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে মুকুল আসে এবং জুন-জুলাইয়ে ফল পাকবে।

খেজুরের চারা বেচে কোটিপতি

‘গত বছর ২০০ গাছের খেজুর ৬ লাখ টাকায় বিক্রি করেছি। ওই বছর চারা বিক্রি করে ২৫ লাখ টাকা লাভ হয়েছে। চলতি বছর আরও বেশি টাকার চারা বিক্রি সম্ভাবনা আছে।’

মোতালেব বলেন, ‘ভালুকার মাস্টারবাড়ি, ঢাকার উত্তরা, বনানী, চট্টগ্রাম ও মানিকগঞ্জে প্রচুর চারা বিক্রি হয়েছে। অনেকে বাগান করার জন্য শতাধিক চারা একসঙ্গে কিনতে আসেন। লিখিত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে তাদের কাছে চারা বিক্রি করা হয়। তারা বেশি দামে চারা কেনেন। আমিও নিজ হাতে চারা রোপণ করে দিয়ে আসি। যাদের চারা দিয়েছি, সবাই জানিয়েছে খেজুর ধরেছে। তবে কিছু পুরুষ চারা হওয়ায় ও পরিচর্যা যথাযথভাবে না পাওয়ায় ফল আসেনি।’

আফাজ পাঠান বলেন, ‘মানুষের মধ্যে ধারণা ছিল, খেজুর সব মাটিতে হয় না। এটি আমি ভুল প্রমাণিত করেছি। ঢাকার বনানী, আব্দুল্লাহপুর, কেরানীগঞ্জ, সিলেট , নীলফামারীর সৈয়দপুরসহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় বিপুল পরিমাণ চারা বিক্রি করেছি। সব জায়গায় লাগানো গাছে ফল এসেছে। স্বাদে, গন্ধে ও রসে টইটম্বুর খেজুর।’

তিনি বলেন, ‘সৈয়দপুরে এরা গার্মেন্সের মালিক সালাউদ্দিন ১০০টি গাছের চারা নিয়েছেন। এর মধ্যে সাত গাছে খেজুর ধরেছে। বাকিগুলোতেও ধীরে ধীরে ফলন আসবে। যারা চারা কেনেন, তাদের মোবাইল নম্বরে পরিচর্যার বিষয়ে বিভিন্ন সময় পরামর্শ দেওয়া হয়।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের উপপরিচালক মো. মতিউর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পৃথিবীতে প্রায় ১ হাজারের বেশি খেজুরের জাত রয়েছে, এর মধ্যে সৌদি আরবে ৪০০ এর বেশি জাতের খেজুর উৎপাদন হয়। বাংলাদেশে জনপ্রিয় জাতের মধ্যে আজওয়া, বেরহি, সামরান, জাহেদি, মরিয়ম, আনবারাহ, আসমাউল হাসনা, ইয়াবনি অন্যতম। এর মধ্যে আজওয়া, বেরহি এবং মরিয়ম জাতের খেজুর বেশি চাষ হচ্ছে।’

তিনি জানান, বীজ থেকে তৈরি গাছে প্রকৃত জাতের গুণাগুণ থাকে না বা কম থাকে। এ কারণে বীজের চেয়ে চারার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। খেজুর চাষের ক্ষেত্রে পুরুষ ও স্ত্রী গাছের চারা নির্বাচনে চাষীদের সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়। কারণ অধিকাংশ চারা পুরুষ হয়ে যায়। এ জন্য সতর্কতার সঙ্গে চারা নির্বাচন করতে হয়। ভালুকার লাল মাটিতে খেজুরের উৎপাদন বাড়ছে। খেজুর চাষে কেউ আগ্রহী হলে সব ধরনের পরামর্শ দেয়া হবে।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল কাদের নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশের আবহাওয়া এখন আগের চেয়ে অনেক উষ্ণ হয়ে উঠেছে। গ্রীষ্মের ভাব বেশি সময় ধরে থাকে। এ ছাড়া বাংলাদেশের মাটিতে এখন আগের চেয়ে লবণাক্ততার পরিমাণও অনেক বেড়েছে। কারণে এ দেশে সৌদি আরবের খেজুর উৎপাদন হচ্ছে।’

খেজুরের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে তিনি জানান, খেজুরে প্রচুর প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল আছে। রক্তশূন্যতা ও ডায়রিয়া নিরাময়ে এবং সুস্থ গর্ভধারণে এ ফল উপকারী। এ ছাড়া হজমশক্তি বাড়ানো, রক্তস্বল্পতা দূর করাসহ কোষ্ঠকাঠিন্য সারাতেও কাজ করে খেজুর।

আরও পড়ুন:
হাটটি কেবল খেজুরের গুড় কেনাবেচার
খেজুরের রসে সচ্ছল আলী আকবর
কীভাবে তৈরি হয় খেজুরের গুড়
খেজুরের রস যেখানে দুধের চেয়ে দামি
মাদারীপুরে ১০ বছরে উধাও ৩৭ হাজার খেজুরগাছ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
200000 tons are being imported to ease the fall in fertilizer prices in the world market

বিশ্ববাজারে সারের পড়তি দামে স্বস্তি, আমদানি হচ্ছে ২ লাখ টন

বিশ্ববাজারে সারের পড়তি দামে স্বস্তি, আমদানি হচ্ছে ২ লাখ টন ধানের ক্ষেতে সার দিচ্ছেন কৃষক। ফাইল ছবি
আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় গত ১ আগস্ট ইউরিয়া সারের দাম কেজিতে ছয় টাকা বাড়িয়ে দেয় সরকার। তবে বোরো মৌসুম সামনে রেখে আগের চেয়ে এবার অনেক কম দামে বিশ্ববাজার থেকে সার কিনছে সরকার।

আসছে বোরো মৌসুমে সারের জোগান নিশ্চিতে ২ লাখ ১০ হাজার টন সার ও সারের কাঁচামাল আমদানি করবে সরকার। সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও কানাডা থেকে কৃষি উৎপাদনের জন্য অতিপ্রয়োজনীয় এসব সামগ্রী আমদানি করা হবে।

সুখবর হচ্ছে, বিশ্ববাজারে দাম কমায় এবার সার আমদানিতে খরচ আগের চেয়ে কম পড়ছে।

সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে বুধবার কৃষি মন্ত্রণালয় ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের এ-সংক্রান্ত দুটি প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে এ বৈঠক হয়। বৈঠক পরবর্তী সংবাদ ব্রিফিংয়ে অর্থমন্ত্রী ছিলেন না।

সাঈদ মাহবুব খান বলেন, ‘ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানির জন্য ৩০ হাজার টন ফসফরিক অ্যাসিড আমদানির প্রস্তাব দিয়েছিল বিসিআইসি। এ ধরনের কেনাকাটায় আগেরবার প্রতি টনে ৮২০ ডলার খরচ হয়েছে; এবার খরচ হচ্ছে ৬৭৪ ডলার। সব মিলিয়ে এবার ফসফরিক অ্যাসিড কিনতে খরচ হবে ২১৫ কোটি ১৪ লাখ ৭০ হাজার ৮৮০ টাকা।’

তিনি জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগ্লোবাল ডিস্ট্রিবিউশনের কাছ থেকে ১৮৯ কোটি ২৮ লাখ ৪৭ হাজার ৩৬৯ টাকায় ৩০ হাজার টন ইউরিয়া সার কিনতে বিসিআইসির একটি প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে। এর আগের লটে প্রতি টনে ৬২৬ দশমিক ৬৭ ডলার খরচ হলেও এবার দাম পড়েছে ৫৯৪ দশমিক ১৭ ডলার।

বিসিআইসির আরেক প্রস্তাবে সৌদি আরবের সাবিক এগ্রিনিউট্রেন্টের কাছ থেকে ৩০ হাজার টন ইউরিয়া সার কেনা হবে। তাতে প্রতি টন সারের দাম পড়ছে ৫৯৪ দশমিক ১৭ ডলার, আগের লটে খরচ হয়েছিল ৬২৫ দশমিক ৮৩ ডলার। এই কেনাকাটায় মোট খরচ হচ্ছে ১৮৯ কোটি ২৮ লাখ ৪৭ হাজার ৩৬৯ টাকা। এর পরের লটে একই দামে সাবিক এগ্রি থেকে আরও ৩০ হাজার টন ইউরিয়া কেনার প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিষ্ঠান বিএডিসি কানাডা থেকে ৫০ হাজার টন এমওপি এবং সৌদি আরব থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি সার কেনার প্রস্তাব দিয়েছিল, যা ক্রয় কমিটির অনুমোদন পেয়েছে।

সাঈদ মাহবুব খান বলেন, ‘আগের কেনাকাটায় প্রতি টন এমওপি সারের জন্য ৮২১ ডলার খরচ করতে হলেও এবার লাগবে ৭৮৮ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় খরচ হচ্ছে ৪১৬ কোটি ৫৩ লাখ ৬৮ হাজার টাকা।

‘সৌদি আরব থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি সার কিনতে এবার খরচ হচ্ছে ৩০৮ কোটি ৭৮ লাখ ২৪ হাজার ৪০০ টাকা। আগের কেনাকাটায় প্রতি টন ডিএপি সার ৮২৬ দশমিক ৫০ ডলারে কেনা হয়েছিল, এবার দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৭২৫ দশমিক ২৫ ডলার।’

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় গত ১ আগস্ট ইউরিয়া সারের দাম কেজিতে ছয় টাকা বাড়িয়ে দেয় সরকার। ডিলার পর্যায়ে ইউরিয়া সারের সর্বোচ্চ খুচরামূল্য প্রতি কেজি ১৪ থেকে বাড়িয়ে ২০ টাকা এবং কৃষক পর্যায়ে প্রতি কেজি ১৬ থেকে বাড়িয়ে ২২ টাকা পুনর্নির্ধারণ করে সরকার। এখনও এই দামেই বাজারে সার বিক্রি হচ্ছে।

দাম বাড়ানোর কারণ হিসেবে সে সময় ইউরিয়ার ব্যবহার যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কথা বলে কৃষি মন্ত্রণালয় বলেছিল, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি কেজি ইউরিয়ার সারের বর্তমান দাম ৮১ টাকা। এতে ছয় টাকা দাম বাড়ানোর পরও সরকারকে প্রতি কেজিতে ৫৯ টাকা ভর্তুকি দিতে হবে।

ময়মনসিংহ অঞ্চলে হবে ১২টি গ্রিড উপকেন্দ্র

ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে দেশের ময়মনসিংহ অঞ্চলে ১২টি গ্রিড উপকেন্দ্র নির্মাণসংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব বলেন, ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিতরণ লাইন উন্নয়নের অংশ হিসেবে সেখানে ৭টি নতুন ৩৩/১১ কেভি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণ, তিনটি উপকেন্দ্র সংস্কার এবং দুটি উপকেন্দ্র ৩৩ কেভিতে সম্প্রসারণের প্রস্তাব দিয়েছিল বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।

‘বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন, ময়মনসিংহ জোন’ প্রকল্পের জিডি-১ প্যাকেজের পঞ্চম লটের আওতায় বাংলাদেশের আইডিয়াল ইলেক্ট্রিক্যাল এন্টারপ্রাইজকে মোট ১০২ কোটি ৬১ লাখ ৮৬ হাজার ৩৫৯ টাকায় কাজটি দেয়া হয়েছে বলে জানান সাঈদ মাহবুব।

আরও পড়ুন:
যে কারণে বিদেশ থেকে বেশি দামে চাল কিনছে সরকার
সার মজুত করায় লাখ টাকা জরিমানা, ১২০০ বস্তা জব্দ
মিয়ানমার থেকে ৪৪ টাকা কেজি দরে চাল কিনছে সরকার
সরকারিভাবে আসছে ১০ লাখ ৩০ হাজার টন খাদ্যশস্য
অতিরিক্ত খাদ্য আমদানির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

মন্তব্য

p
উপরে