× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Childrens park has become the arena of drug addicts
google_news print-icon

শিশুপার্ক হয়েছে মাদকসেবীদের আখড়া

শিশুপার্ক-হয়েছে-মাদকসেবীদের-আখড়া
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলা শিশু পার্কে শুধু জমিটুকু পড়ে আছে, অযত্নে। এটি নামকাওয়াস্তে শিশুপার্ক। দেখভালের কেউ নেই। সন্ধ্যার পর মাদক কারবারীরা এখান থেকেই মাদক ব্যবসা করে। পাশেই হরিপুর থানা। কোনো কিছুর তোয়াক্কা করা হয় না।

উপজেলা প্রশাসন শিশুপার্কের চারদিকে সীমানা দেয়াল না থাকায় এটির ভেতর দিয়ে যাতায়াত করছে স্থানীয়রা। পার্কের ভেতর প্রকাশ্যে চলছে কিশোর ও যুবকদের মাদক সেবন। সংস্কার কাজ স্থবির হয়ে যাওয়ায় মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে এ শিশু পার্ক।

ঠাকুরগাঁওয়ের ভারত সীমান্ত ঘেঁষা হরিপুর উপজেলা প্রশাসন পার্কে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় এমন চিত্র।

উপজেলা ডাকবাংলো রোড দিয়ে একটু সামনে এগোলেই হাতের ডান পাশে ঠাঁয় দাঁড়ানো সীমানা প্রাচীরবিহীন পার্কের মূল ফটক। ভেতরে মাঝখানে গোল টিনশেডের ঘর, যেগুলো পার্কের জন্য তৈরি বসার স্থান। এসব ঘরে বসে আড্ডা দিচ্ছেন স্থানীয় কয়েকজন কিশোর।

তাদের অভিযোগ, পার্কের ভেতর প্রকাশ্যে মাদক সেবন করা হয়। অন্য কিশোররা এসব দেখে দেখে উৎসাহিত হচ্ছে।

পার্কের শুধু জমিটুকু পড়ে আছে অযত্নে। নামকাওয়াস্তে শিশুপার্ক। এখানে দেখার বা বলার মতো কেউ নেই।

তারা আরও জানান, সন্ধ্যার পর মাদক কারবারীরা এখান থেকেই মাদক ব্যবসা করে। অথচ পাশেই হরিপুর থানা। কোনো কিছুর তোয়াক্কা করা হয় না।

শিশুপার্ক হয়েছে মাদকসেবীদের আখড়া

২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে বিস্তর জায়গা জুড়ে ‘উপজেলা প্রশাসন শিশু পার্ক’ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। পার্কটি চালু হয় ২০১৮ সালের শেষের দিকে।

হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের তথ্যমতে, প্রকল্পের প্রায় ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ থেকে পার্কে তারকাঁটার বেড়া, একটি গেট, কয়েকটি বসার বেঞ্চ ও কিছু সংখ্যক গাছ রোপনের পেছনে ব্যয় করা হয়েছে। তার মধ্যে ছাতা নির্মাণের কাজ এখনও বাকি রয়েছে।

তখনকার ইউপি সদস্য ও প্রকল্প সভাপতি ছিলেন ফজলুর করিম। তার কাছে মোট ব্যয় ও কাজের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বরাদ্দ থেকে এসব কাজ করা হয়েছে বলে জানান। এ ছাড়া শিশুদের দোলনা এডিপি বরাদ্দ থেকে এসেছে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় কলেজ শিক্ষার্থী মাসুম রানা বলেন, ‘যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, সেভাবে কাজ হয়নি পার্কের। কিছু ফুলগাছ লাগানো হয়েছিল, সেগুলো যত্নের অভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে পার্কটি নেশাখোরদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এটি দ্রুত সংস্কার করে সুন্দর করে গড়ে তোলা দরকার।’

এরই মাঝে দুই জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বদলি হয়েছেন। বর্তমানে যিনি দায়িত্বে আছেন তিনি নতুন। তিনি সব হিসাব বুঝে নিয়ে পার্কটি সুসজ্জিত করে তুলতে পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন প্রত্যাশা উপজেলাবাসীর।

মাদ্রাসা শিক্ষার্থী মোহম্মদ সাইফুল্লাহ্ বলেন, ‘পার্কটি যখন কাজ শুরু হয় তখন এই ভেবে আমাদের খুব গর্ব হচ্ছিল যে, হরিপুর সীমান্তবর্তী একটি উপজেলায় শিশুদের বিনোদনের জন্য পার্কের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কিন্তু বর্তমানে এটি উল্টো শিশুদের বিচরণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা হয়ে উঠেছে। বখাটেদের উৎপাত, মাদক সেবন, ইভটিজিং সবই চলে এখানে।’

পার্কে শিশু সন্তান নিয়ে বেড়াতে আসা অভিভাবক জামাল ইকবাল বলেন, ‘শিশুদের খেলার একটি মাত্র স্লিপার। মরিচা পড়ে গেছে, নিচের অংশে ফেটে গেছে। তার মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে শিশুরা উঠানামা করছে। দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ভেতরে একটি পুকুর আছে, যেটিতে বেড়া নেই, খেলনা সরঞ্জাম একটি কে বা কারা খুলে নিয়ে গেছে। সব মিলিয়ে এখানে এটির কোনো তত্ত্বাবধান নেই।একবার কেউ এখানে এলে পরের বার আসার ইচ্ছা পোষণ করবে না।’

শিশুপার্ক হয়েছে মাদকসেবীদের আখড়া

বেলি আক্তার নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘দিনেদুপুরেও পার্কের ভেতরে আসা যায় না। স্থানীয় ও বহিরাগত ছেলেরা আড্ডা দেয়, নেশা করে ও মেয়েদের উত্যক্ত করে। হরিপুর উপজেলায় বিনোদনের কোনো জায়গা নেই। উপজেলা প্রশাসন পার্কটি সুন্দর করে সাজালে এবং সেইরকমভাবে দেখভাল করলে নিশ্চয় সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি হবে। শিশুসহ সব বয়সী মানুষদের বিনোদনের জায়গা হবে পার্কটি।’

স্থানীয় বাসিন্দা জেসমিন রহমান বলেন, ‘পার্কটি প্রায় আট বিঘা জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। সীমানা প্রাচীর দিয়ে ফুটপাত করে দিলে অবসরে গ্রামের নারীরাও হাঁটাহাঁটি করতে আগ্রহ পাবে। শিশুদের জন্য খেলার সরঞ্জাম পর্যাপ্ত থাকলে মায়েরা তাদের সন্তানদের পার্কে আনতে আগ্রহী হবে।’

হরিপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা বহ্নি শিখা আশা জানান, মাদক নির্মূলে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট করা হচ্ছে। শিশু পার্কের ভিতরেও মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়েছে।

পার্ক সংস্কারের বিষয়ে ইউএনও বলেন, ‘এলজিএসপি ও এডিপির বরাদ্দ থেকে পার্ক উন্নয়নের কাজ করা হয়। পার্কটি অনেক বড়, তাই আর্থিক বরাদ্দ সংকটের কারণে খুব বেশি কাজ করা হয়নি। শিঘ্রই সামনে বরাদ্দ থেকে পার্ক সংস্কারের কাজ করা হবে। সীমানা প্রাচীর দেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
লাইসেন্স ছাড়া মাদকদ্রব্য আমদানির এলসি নয়
উত্তরার বারে অভিযান নিয়ে ডিএনসি ও পুলিশের দ্বন্দ্ব
টঙ্গীতে গাঁজার কারখানা, পাঁচ কারবারি গ্রেপ্তার
মাদক কারবারি ধরতে গিয়ে মার খেলেন ৮ জন, গ্রেপ্তার ৭
নিখোঁজের দুই বছর পর মিলল যুবকের বস্তাবন্দি দেহ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Journalists boycott the Labor Ministers meeting in Thakurgaon

ঠাকুরগাঁওয়ে শ্রম প্রতিমন্ত্রীর সভা বয়কট সাংবাদিকদের

ঠাকুরগাঁওয়ে শ্রম প্রতিমন্ত্রীর সভা বয়কট সাংবাদিকদের সভাকক্ষ ছেড়ে এসে রোববার দুপুর ১২টার দিকে ডিসি কার্যালয়ের নিচে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে কিছু সময় কর্মবিরতি পালন করেন সাংবাদিকরা। ছবি: নিউজবাংলা
ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবের সহসম্পাদক তানভীর হাসান তানু বলেন, ‘আমাদের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে প্রেস ক্লাবকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও সভাপতির কোনো আসন বিন্যাস করা হয়নি। এটি পরিকল্পিত অপমান। তাই আমরা এর প্রতিবাদ জানাই।’  

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম চৌধুরীর শিশুশ্রম নিরসনবিষয়ক মতবিনিময় সভায় আসন না দেয়া ও ঢুকতে না দেয়ার প্রতিবাদে কর্মসূচি বয়কট করেছেন স্থানীয় সংবাদিকরা।

সভাকক্ষ ছেড়ে এসে রোববার দুপুর ১২টার দিকে ডিসি কার্যালয়ের নিচে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে কিছু সময় কর্মবিরতি পালন করেন সাংবাদিকরা।

ঠাকুরগাঁওয়ে কর্মরত সময় টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার জিয়াউর রহমান বকুল বলেন, ‘ভেতরে সাংবাদিকদের কোনো আসন রাখা হয়নি এবং প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। এটি খুব অপমানজনক।

‘এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সভা বয়কট করে সভাকক্ষ ছেড়েছি জেলার সমস্ত ঐক্যবদ্ধ সাংবাদিকরা।’

ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবের সহসম্পাদক তানভীর হাসান তানু বলেন, ‘আমাদের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে প্রেস ক্লাবকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও সভাপতির কোনো আসন বিন্যাস করা হয়নি। এটি পরিকল্পিত অপমান। তাই আমরা এর প্রতিবাদ জানাই।’

ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আমিন সরকার বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে সকল সাংবাদিকদের দাওয়াত দেয়া হয়। দাওয়াত দেয়ার পরও তাদের প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি এবং তাদের বসার কোনো জায়গা দেয়া হয়নি। এরই প্রতিবাদে আজকে আমরা জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের নিচে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতেছি।’

একই অভিযোগ স্থানীয় আওয়ামী লীগ সহসভাপতি মাহাবুবুর রহমান খোকনের।

তিনি বলেন, ‘আমাকে পদবি উল্লেখ করে আমন্ত্রণ জানানো হলেও কোনো আসন রাখা হয়নি। তাই আমি কথা না বাড়িয়ে সসম্মানে চলে যাচ্ছি।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ডিসি মাহবুবুর রহমান তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আরও পড়ুন:
তাজউদ্দীন হাসপাতালে সাংবাদিক প্রবেশ ছবি তোলায় ‘লাগবে অনুমতি’
ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে যুবক নিহত
রাজধানীতে ১৩ বছর অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ গৃহকর্মীর
পাবনায় সংবাদ সংগ্রহের পথে সাংবাদিকের ওপর হামলা
স্ত্রীর সামনে পান ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়ার অভিযোগ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The body of the sacked municipal councilor was recovered in Naogaon

নওগাঁয় বরখাস্তকৃত পৌর কাউন্সিলরের মরদেহ উদ্ধার

নওগাঁয় বরখাস্তকৃত পৌর কাউন্সিলরের মরদেহ উদ্ধার নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বরখাস্তকৃত কাউন্সিলর মিজানুর রহমান মিতু। ছবি: নিউজবাংলা
পত্নীতলা থানার ওসি মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, তবে তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে কিছু ধারণা করতে পারেনি পুলিশ।’ 

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বরখাস্তকৃত কাউন্সিলর মিজানুর রহমান মিতুর (৪৮) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

উপজেলার পাটিচরা ইউনিয়নের সালিগ্রাম এলাকার বুড়িদহ বিল থেকে রোববার বেলা ১১টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

প্রাণ হারানো মিজানুর রহমান মিতু উপজেলার ছোট চাঁদপুর গ্রামের আফসার কেরানির ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, তবে তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে কিছু ধারণা করতে পারেনি পুলিশ।’

এ বিষয়ে নজিপুর পৌরসভার মেয়র রেজাউল কবির চৌধুরী বলেন, ‘প্রায় তিন বছর আগে পৌরসভার অফিসের ভেতরে ঢুকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় চেয়ার তুলে আমাকে মারতে গিয়েছিল (মিতু)। এ ছাড়াও মাঝেমধ্যে সে নেশা করে অফিসের স্টাফদের সাথে খারাপ আচরণ করত।

‘সার্বিক বিষয়ে পর্যালোচনা করে বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়। পরে মন্ত্রণালয় থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সকালে জানলাম পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঠিক কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, তা পুলিশ তদন্ত করে বের করবে সেই আশা করছি। তার মৃত্যুর সঠিক কারণ তদন্ত করে বের করা হোক।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
APBN member injured in shelling at Rohingya camp

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গোলাগুলিতে এপিবিএন সদস্য আহত

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গোলাগুলিতে এপিবিএন সদস্য আহত উখিয়ার মধুরছড়া ৪-এক্সটেনশন রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় পুলিশ সদস্যদের অবস্থান। ছবি: নিউজবাংলা
৮ এপিবিএনের অধিনায়ক অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (এডিআইজি) মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, ‘রোববার ভোরে উখিয়ার মধুরছড়া ৪-এক্সটেনশন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এফ-ব্লকে এপিবিএন পুলিশের ৯ সদস্য নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিল। একপর্যায়ে ক্যাম্পের কাঁটাতারের সীমানার বাহির থেকে ৩০ থেকে ৩৫ জন সদস্য প্রবেশ করে অতর্কিত এপিবিএন সদস্যদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। আত্মরক্ষার্থে এপিবিএন সদস্যরাও পাল্টা গুলি ছোড়ে। গোলাগুলির একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।’

কক্সবাজারের উখিয়ার একটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রোববার আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সঙ্গে গোলাগুলিতে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) এক সদস্য আহত হয়েছেন।

উপজেলার মধুরছড়া ৪-এক্সটেনশন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এফ-ব্লকে ভোরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (এডিআইজি) মোহাম্মদ ইকবাল।

গুলিবিদ্ধ এপিবিএন সদস্য মো. শাহরাজ (২৫) মধুরছড়া পুলিশ ক্যাম্পে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত।

মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, ‘রোববার ভোরে উখিয়ার মধুরছড়া ৪-এক্সটেনশন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এফ-ব্লকে এপিবিএন পুলিশের ৯ সদস্য নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিল। একপর্যায়ে ক্যাম্পের কাঁটাতারের সীমানার বাহির থেকে ৩০ থেকে ৩৫ জন সদস্য প্রবেশ করে অতর্কিত এপিবিএন সদস্যদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। আত্মরক্ষার্থে এপিবিএন সদস্যরাও পাল্টা গুলি ছোড়ে। গোলাগুলির একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

‘উভয় পক্ষের গোলাগুলিতে সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে মো. শাহরাজ নামের এপিবিএনের এক সদস্য গুলিবিদ্ধ হন। এতে তার ডান ঊরু ও ডান হাতের আঙুল আঘাতপ্রাপ্ত হয়।’

এডিআইজি আরও বলেন, ‘গোলাগুলি থেমে গেলে গুলিবিদ্ধ এপিবিএন সদস্যকে উদ্ধার করে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।’

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর বিষয়ে ইতিবাচক মিয়ানমার
পাহাড়ধস: কক্সবাজারে এক দিনে নিহত চার, আহত তিন
কক্সবাজারে পাহাড় ধসে শিশুসহ দুজন নিহত
সীমান্তের অরক্ষিত জায়গা দিয়ে আসছে রোহিঙ্গারা
ক্যাম্পে রোহিঙ্গা যুবককে তুলে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
One person was killed when a truck collided with a truck on the Bangabandhu Expressway

বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়েতে ট্রাকের পেছনে ট্রাকের ধাক্কা, একজন নিহত

বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়েতে ট্রাকের পেছনে ট্রাকের ধাক্কা, একজন নিহত মুন্সীগঞ্জে বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়েতে রোববার সকালে দুর্ঘটনার শিকার একটি ট্রাক ঘিরে ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা। ছবি: ফায়ার সার্ভিস
শ্রীনগর ফায়ার স্টেশন অফিসার দেওয়ান আজাদ হোসেন জানান, সকালে ট্রাক দুটি একই লেনে মাওয়ার দিকে যাচ্ছিল। পথে ষোলঘর এলাকায় বড় ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয় ছোট ট্রাকটি। এতে ধাক্কা দেয়া ট্রাকের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। ওই সময় ধাক্কা দেয়া ট্রাকটির হেলপার দুই ট্রাকের মাঝে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে রোববার বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়েতে একটি ট্রাকের পেছনে আরেক ট্রাকের ধাক্কায় একজন নিহত হয়েছেন।

উপজেলার ষোলঘর ফুলতলি এলাকায় সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তি ধাক্কা দেয়া ট্রাকের হেলপার ছিলেন বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। তার নাম জানা যায়নি।

শ্রীনগর ফায়ার স্টেশন অফিসার দেওয়ান আজাদ হোসেন জানান, সকালে ট্রাক দুটি একই লেনে মাওয়ার দিকে যাচ্ছিল। পথে ষোলঘর এলাকায় বড় ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয় ছোট ট্রাকটি। এতে ধাক্কা দেয়া ট্রাকের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। ওই সময় ধাক্কা দেয়া ট্রাকটির হেলপার দুই ট্রাকের মাঝে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস মরদেহ উদ্ধার করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।

আরও পড়ুন:
নেপালে ভূমিধসে দুই বাসের ৬২ যাত্রী নিখোঁজ
বগুড়ায় ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানসহ নিহত ৪
ঈশ্বরগঞ্জে ইজিবাইকে ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ৩
রথযাত্রায় পাঁচজনের মৃত্যু তদন্তে কমিটি
নরসিংদীতে ট্রেনে কাটা পড়ে পাঁচজন নিহত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Students agitation should be stopped Home Minister

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থামানো উচিত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থামানো উচিত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শনিবার ময়মনসিংহ পুলিশ লাইন্সে গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ও সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। ছবি: নিউজবাংলা
আসাদুজ্জামান খান বলেন, ছাত্র ভাইদের কিছু বলার থাকলে তারা রাস্তাঘাট বন্ধ না করে আদালতে এসে বলতে পারেন। রাস্তাঘাট বন্ধ করলে জনগণের দুর্ভোগ বাড়ে, হাসপাতালগামী রোগীদের দুর্ভোগ বাড়ে। সেই সাধারণ মানুষের যে কী অভিব্যক্তি তা ছাত্রদের শোনা উচিত।’

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে দেশব্যাপী চলমান শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘আমি মনে করি, ছাত্রদের একটু অপেক্ষা করা উচিত, আন্দোলন থামানো উচিত।’

শনিবার বিকেলে ময়মনসিংহ পুলিশ লাইন্সে ‘মুক্তিযুদ্ধে পুলিশ: ময়মনসিংহ জেলা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন এবং সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ছাত্র ভাইদের কিছু বলার থাকলে তারা রাস্তাঘাট বন্ধ না করে আদালতে এসে বলতে পারেন। রাস্তাঘাট বন্ধ করলে জনগণের দুর্ভোগ বাড়ে, হাসপাতালগামী রোগীদের দুর্ভোগ বাড়ে। সেই সাধারণ মানুষের যে কী অভিব্যক্তি তা ছাত্রদের শোনা উচিত।’

আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘পৃথিবীর সব জায়গায় কিন্তু কোটা রয়েছে। সব দেশেই কিছু অনগ্রসর জায়গা থাকে, যেমন আমাদের ক্ষুদ্র জাতি-গোষ্ঠীর জন্য কোটা রয়েছে এবং সংবিধানেও সেটি বলা আছে। এটি বাতিল করে দিলে এরা কোনো দিন সমাজের মূল স্রোতে আসতে পারবে না। আমরা মনে করছি, সবাই যেন একসঙ্গে চলতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী কোটা উঠিয়ে দিয়েছিলেন। বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। বিচার বিভাগ থেকে বার্তা এসেছে, কোটা আবার চালু হবে। এতে সংক্ষুব্ধ হয়েছেন আমাদের ছাত্ররা।

‘প্রধান বিচারপতি কিন্তু স্পষ্ট করে নির্দেশনা দিয়েছেন, আদালত যে রায়টি দিয়েছিলেন সেটি স্থগিত করা হয়েছে এবং ছাত্রদেরও বলেছেন, তারা যেন উচ্চ আদালতে যেখানে বিচারটি চলছে, সেখানে গিয়ে তাদের কথা বলেন। তারা বললে সে অনুযায়ী বিচারপতিদের বিচার করতে সুবিধা হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘করোনার সময় যখন সন্তান বাবা-মায়ের কাছে যায়নি, তখন পুলিশ গেছে। এখানের পুলিশ সবার হৃদয় জয় করেছে। পুলিশ শুধু জনগণকে ভালোবাসে না, দেশের ইতিহাসকেও রক্ষা করে। নির্বাচনে পুলিশের কোনো পক্ষপাতিত্ব ছিল না। তার উদাহরণ বর্তমান আইজিপির ভাই নৌকা নিয়ে দাঁড়ালেও পরাজিত হয়েছেন। পুলিশ বাহিনী সব নির্বাচনে সঠিক দায়িত্ব পালন করেছে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) শাহ আবিদ হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভূঞা।

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শরীফ আহমেদ এমপি, মোহাম্মদ মোহিত উর রহমান এমপি, মাহমুদুল হক এমপি, নজরুল ইসলাম এমপি, আবদুল মালেক সরকার এমপি, এ বি এম আনিছুজ্জামান এমপি, মাহমুদ হাসান এমপি, ফাহ্‌মী গোলন্দাজ এমপি, আবদুল ওয়াহেদ এমপি, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়র ইকরামুল হক, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এমদাদুল হক, ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার উম্মে সালমা তানজিয়া, জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইউসুফ খান পাঠান, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এহতেশামুল আলম, ময়মনসিংহ চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি আমিনুল হক, নাট্যব্যক্তিত্ব ম. হামিদ প্রমুখ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এর আগে ময়মনসিংহ পুলিশ লাইন্সে এসে জেলা পুলিশের ১১টি প্রকল্প এবং জেলা পুলিশের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর উদ্বোধন করেন।

আরও পড়ুন:
জানমালের অনিশ্চয়তা দেখা দিলে পুলিশ বসে থাকবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আন্দোলনকারীদের প্রতি কঠোর হবে না পুলিশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মিয়ানমারকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে পাল্টা গুলি চালাব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রতি জেলায় হবে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র
এমপি আনার চোরাচালানে জড়িত ছিলেন তা বলিনি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
50 year old shop is being swallowed by the river

‘৫০ বছরের দোকান নদী গিলে খাইছে’

‘৫০ বছরের দোকান নদী গিলে খাইছে’ মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলার দীঘিরপাড় বাজারে পদ্মা নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা। ছবি: নিউজবাংলা
দীঘিরপাড় বাজারে শুক্রবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, স্রোতের তীব্রতায় শাখা নদীর তীরের মাটি ভেঙে আছড়ে পড়ছে। বড় বড় ঢেউয়ের আঘাতে বাজারের তীরঘেঁষা দোকানপাটের ভিটেমাটি পড়ছে নদীর বুকে। বাজারের পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকের ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে সবচেয়ে বেশি ভাঙনের চিত্র চোখে পড়ে।

‘বছরের পর বছর ধরে কাজ করে আইতাছি এই দোকানেই। চোখের সামনেই ৫০ বছরের সেই দোকান নদী গিলে খাইছে। এহন কই যামু এই বয়সে? কী কইর‌্যা খামু? পেটও তো বাঁচাইতে অইব।’

পদ্মার শাখা নদীর ভাঙনে নিজের দোকানঘর হারিয়ে এসব কথা বলেই আক্ষেপ করছিলেন মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলার দীঘিরপাড় বাজারের কামার সুনীল মন্ডল (৭৫)।

তার ভাষ্য, কিশোর বয়সেই বাবার হাত ধরে এ পেশায় আসেন। বাবার মৃত্যুর পর পাঁচ দশক ধরে বাবার রেখে যাওয়া দোকানে লোহার সঙ্গে হাতুড়ি পেটার কাজ করে আসছেন।

নদীর দুই দিনের ভাঙনে দীঘিরপাড় বাজারের কামার সুনীল মন্ডলের মতোই পাঁচজন কামার দোকানঘর হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার সকালে ভাঙন শুরু হয়। শুক্রবারও ভাঙন অব্যাহত ছিল। এ দুই দিনে ভাঙনের কবলে বাজারের অন্তত ১৫টি দোকানঘর নদীতে বিলীন হয়ে যায়।

প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো ওই বাজারের পুরোটই এখন ভাঙনের কবলে পড়েছে। ভাঙনের তীব্রতায় অনেকেই দোকানঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অন্য জায়গায় সরিয়ে নিচ্ছেন।

দীঘিরপাড় বাজারে শুক্রবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, স্রোতের তীব্রতায় শাখা নদীর তীরের মাটি ভেঙে আছড়ে পড়ছে। বড় বড় ঢেউয়ের আঘাতে বাজারের তীরঘেঁষা দোকানপাটের ভিটেমাটি পড়ছে নদীর বুকে। বাজারের পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকের ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে সবচেয়ে বেশি ভাঙনের চিত্র চোখে পড়ে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ভাঙনের মুখে বাজারের কামারপট্টির সাতটি দোকানঘর, দুটি পাটের আড়ত, দুটি সারের দোকান ও চারটি মুদি দোকানঘর নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙনে নিঃস্ব হয়ে পড়েন কামার গৌতম মন্ডল, দিলীপ মন্ডল, অনীল মন্ডল, সুনীল মন্ডল, শ্যামল মন্ডল, উত্তম মন্ডল ও কালু মন্ডল। এ ছাড়া ভাঙনে অলি বেপারী ও আলমাছ বেপারীর পাটের আড়ত এবং নজির হালদারের দুটি সারের দোকান বিলীন হয়েছে। দোকান হারিয়েছেন আরও চার মুদি দোকানি।

এদিকে ভাঙন প্রতিরোধে চলমান স্থায়ী বাঁধ নির্মাণকাজ ধীরগতিতে চলার কারণেই এ ভাঙনের কবলে পড়েছেন বলে অভিযোগ বাজারের দোকানিদের।

তারা জানান, আড়াই যুগ ধরেই পদ্মা ও পদ্মার শাখা নদীতে বর্ষা মৌসুমে ভাঙন চলে আসছে। এতে ভাঙন প্রতিরোধে বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু হয় বছর দুয়েক আগে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার খড়িয়া থেকে টংগিবাড়ী উপজেলার দীঘিরপাড় বাজার পর্যন্ত পদ্মা তীরে ৪৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯ দশমিক ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থায়ী বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২২ সালের মে মাসে। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে কয়েকটি ভাগে একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়েছে।

দীঘিরপাড় বাজার ঘেষে বাঁধ নির্মাণ করছে সিগমা ইঞ্জিনিয়ার্স কোম্পানি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির নদীর তীরে জিও ব্যাগ ফেলে ও ব্লক দিয়ে বাঁধ নির্মাণের কথা রয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির।

দীঘিরপাড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাইজুদ্দিন বেপারী বলেন, ‘বর্ষা এলেই এখানে ভাঙন দেখা দেয়। অথচ শুষ্ক মৌসুমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টুকিটাকি করে বাঁধ নির্মাণ কাজ করে আসছে। আমরা এক মাসে আগেও অনুরোধ করেছি ব্লক ফেলে এখানে বাঁধ নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য।

‘আমাদের কথা কর্ণপাতই করেনি। আজকের মধ্যে যদি জিও ব্যাগ ও ব্লক ফেলা হয়, তাতেও বাজারটি রক্ষা পাবে।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিগমা ইঞ্জিনিয়ার্সের ব্যবস্থাপক মোশারফ হোসেন বলেন, ‘আগামী বছরের জুন মাস পর্যন্ত আমাদের কাজের সময় বাড়ানো হয়েছে। কাজেই যথাসময়েই বাঁধ নির্মাণকাজ শেষ করা হবে। আকস্মিক ভাঙন ঠেকাতে সেখানে জিও ব্যাগ ফেলানো হবে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ড মুন্সীগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আর্থিক বরাদ্ধ দিতে না পারার পাশাপাশি কিছু সমস্যার কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সময় বাড়ানো হয়েছে, তবে বর্তমানে আকস্মিক ভাঙন ঠেকাতে প্রতিষ্ঠানটিকে জিও ব্যাগ ফেলার জন্য বলা হয়েছে।

‘ইতোমধ্যে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ট্রলারে রাখা আছে। তীব্র স্রোতের কারণে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
টাঙ্গাইলে যমুনার পানি কমতে শুরু করছে
শীতলক্ষ্যায় ভাঙনে গৃহহারা ৫ পরিবার
আতঙ্ক ছড়িয়ে যমুনায় ভাঙন শুরু
৭২ ঘণ্টায় পানি বাড়তে পারে উত্তরাঞ্চল, সিলেটের বিভিন্ন নদীর
মাছ ধরতে নদীতে বাঁধ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
ICU in district hospitals soon Health Minister

জেলা হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ শিগগিরই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জেলা হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ শিগগিরই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী নীলফামারী সদর উপজেলার সংগলশী ইউনিয়নের দীঘলডাঙ্গি গ্রামে শনিবার সকালে সঞ্জীব-মালতী কমিউনিটি ক্লিনিকের উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। ছবি: নিউজবাংলা
মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘নীলফামারী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জমি অধিগ্রহণ সমস্যার সমাধান হয়েছে। খুব শিগগিরই অন্যান্য সমস্যা সমাধান করে দ্রুত নীলফামারী মেডিক্যাল কলেজকে পূর্ণাঙ্গ রূপে চালু করা হবে। সারা দেশের ৫০ শয্যা হাসপাতালগুলো ক্রমান্বয়ে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে।’

জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) ও কার্ডিওলজি ইউনিট স্থাপন শিগগিরই বাস্তবায়ন হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন‌।

নীলফামারী সদর উপজেলার সংগলশী ইউনিয়নের দীঘলডাঙ্গি গ্রামে শনিবার সকালে সঞ্জীব-মালতী কমিউনিটি ক্লিনিকের উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘নীলফামারী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জমি অধিগ্রহণ সমস্যার সমাধান হয়েছে। খুব শিগগিরই অন্যান্য সমস্যা সমাধান করে দ্রুত নীলফামারী মেডিক্যাল কলেজকে পূর্ণাঙ্গ রূপে চালু করা হবে। সারা দেশের ৫০ শয্যা হাসপাতালগুলো ক্রমান্বয়ে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে।

‘২৫০ শয্যায় উন্নীত হওয়া নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, জনবল পদায়ন এবং নতুন ভবনের আসবাবপত্রের চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ প্রদান করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কমিউনিটি ক্লিনিক মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর খুব পছন্দের। আমি আশা করি এই কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করবে। আমরা সিজারিয়ান সেকশন কমানোর জন্য চেষ্টা করছি।

‘আর কমিউনিটি হেলথ কেয়ার ক্লিনিকগুলোকে যদি আমরা আরও সচল করতে পারি, তাহলে অনেক রোগ কমিউনিটি ক্লিনিকই মনিটর করতে পারবে। তাই কমিউনিটি ক্লিনিকে আপনারা আসবেন এবং সবসময় যোগাযোগ রাখবেন।’

উদ্বোধন শেষে সঞ্জীব-মালতী কমিউনিটি ক্লিনিক পরিদর্শন করে সেখানে নিজের ব্লাড প্রেশার চেক করান মন্ত্রী। পরে ক্লিনিক প্রাঙ্গণে তিনটি গাছের চারা রোপণ করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
আরও এক সপ্তাহ স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত আসছে
চিকিৎসকের ওপর হামলা বা চিকিৎসায় অবহেলা কোনোটাই মেনে নেব না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
‘পশুপাখির মধ্যেও অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বিস্তার লাভ করেছে’
ঈদের দিন আকস্মিক তিন হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ঈদের ছুটিতে দুই হাসপাতাল পরিদর্শন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

মন্তব্য

p
উপরে