× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
The BNP leaders and workers are going to the rally with piecemeal processions and slogans
hear-news
player
google_news print-icon

খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশে বিএনপির নেতা-কর্মীরা

খণ্ড-খণ্ড-মিছিল-নিয়ে-সমাবেশে-বিএনপির-নেতা-কর্মীরা-
মিছিল আর স্লোগান দিয়ে রংপুরে সমাবেশের মাঠে বিএনপির নেতা-কর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা
খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থল রংপুর কালেক্টরেট মাঠে যাচ্ছেন নেতা-কর্মীরা। জাতীয় ও দলীয় পতাকা, হাতে ধানের শীষ, বিভিন্ন স্লোগান-সংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে ছুটেছেন তারা।

পরিবহন-সংকট এবং পুলিশের বাধার মুখে পড়েও নানা কৌশলে সমাবেশে যোগ দিতে রংপুরে ঢুকছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থল রংপুর কালেক্টরেট মাঠে যাচ্ছেন তারা।

নেতা-কর্মীদের মিছিলে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো শহর। জাতীয় ও দলীয় পতাকা, হাতে ধানের শীষ, বিভিন্ন স্লোগান-সংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে ছুটেছেন তারা।

শনিবার সকাল থেকে রংপুরের বিভিন্ন প্রবেশমুখ ঘুরে দেখা গেছে, শহরের প্রত্যেকটি প্রবেশমুখে শত শত নেতা-কর্মী। কেউ স্লোগান দিচ্ছেন। কেউ কেউ অপেক্ষা করছেন এখনো রংপুর আসতে না পারা নেতা-কর্মীদের জন্য।

নগরীর ভেতরে যান চলাচল প্রায় বন্ধ। সামান্যসংখ্যক অটোরিকশা চললেও সেগুলো ব্যবহার করছেন বিএনপির কর্মীরা। বেলা ১১টার দিকে সমাবেশস্থল রংপুর কালেক্টরেট মাঠ কানায় কানায় ভরে গেছে।

বিএনপির এই সমাবেশ ঘিরে নগরীজুড়ে সতর্ক অবস্থানে আছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রবেশদ্বার এবং গৃরুত্বপূর্ণ স্পটগুলোতে রয়েছে পুলিশ। পোশাকি ছাড়াও সাদাপোশাকে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে তারা।

সমাবেশের মাঠে তপ্তরোদে থাকতে না পাড়া কর্মীরা মাঠের বাইের অলিগলিতে অবস্থান নিয়েছেন। বিএনপির নেতা-কর্মীদের অধিকাংশ স্লোগানই সরকারবিরোধী।

‘গণতন্ত্র ফিরিয়ে দাও, খালেদা জিয়কে মুক্তি দাও’, ‘হটাও হাসিনা বাঁচাও দেশ তারেক জিয়ার বাংলাদেশ’ বলে স্লোগান দিচ্ছেন কেউ কেউ।

লালমনিরহাটের তুষভান্ডার থেকে আসা আপন নামে এক বিএনপিকর্মী বলেন, ‘আমরা সকালে আসছি, আমাদর মা মাটি ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে বন্দি করে রাখছে এই সরকার। তার মুক্তি চাই।’

রংপুর নগর বিএনপির আহ্বায়ক সামছুজ্জামান সামু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রংপুরে আসা নেতা-কর্মীদের রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হয়রানি করেছে। আপনারাই দেখেন, কোনো বাধাই কিন্তু আমাদের আটকাতে পারেনি। তারা সমাবেশস্থলে আসছেন, আসবেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এই সমাবেশ থেকে মেসেজ দিতে চাই, জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে, আজ সাধারণ মানুষ যে নির্যাতিত-নিপীড়িত তার বড় উদাহরণ এই সমাবেশ, এখানে শুধু বিএনপি নয় সাধারণ মানুষই বেশি।’

সামছুজ্জামান সামু বলেন, ‘আমরা খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি চাই, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। মিথ্যা মামলা হামলা বন্ধ করতে হবে। দ্রব্যমূল্যরোধ করতে হবে।’

নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ নানা দাবিতে বিএনপি দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে গণসমাবেশ করছে। ৮ অক্টোবর চট্টগ্রাম, ১৫ অক্টোবর ময়মনসিংহ ও ২২ অক্টোবর খুলনায় সমাবেশ করেছে দলটি। এরই ধারাবাহিকতায় ২৯ অক্টোবর রংপুর কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে চতুর্থ গণসমাবেশের ঘোষণা রয়েছে তাদের।

আরও পড়ুন:
বিএনপির সমাবেশ: ভরসা অটোরিকশা-বাইক
মঞ্চে খালেদা জিয়ার চেয়ার সংরক্ষিত
এবারও আগের রাতে সমাবেশস্থলে বিএনপি নেতা-কর্মীরা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Sheikh Hasina is our only commander Amu

শেখ হাসিনা আমাদের একমাত্র সেনাপতি: আমু

শেখ হাসিনা আমাদের একমাত্র সেনাপতি: আমু রোববার পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে বক্তব্য দেন আমির হোসেন আমু। ছবি: নিউজবাংলা
পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে আমির হোসেন আমু বলেন, ‘আবার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। সেই ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলের প্রতিটি নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

আওয়ামী লীগ উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা আমাদের একমাত্র সেনাপতি। তার নির্দেশ অনুযায়ী আমরা চলব। তিনি যেভাবে নির্দেশ দেবেন সেভাবেই কমিটি ঘোষণা করা হবে। কে সভাপতি আর কে সাধারণ সম্পাদক এটা আমাদের দেখার বিষয় নয়।’

রোববার পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমির হোসেন আমু এসব কথা বলেন।

পিরোজপুর শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ চত্বরে এই সম্মেলন ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

আমির হোসেন আমু বলেন, ‘শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে ঘোষণা দিয়েছিলেন- বঙ্গবন্ধু হত্যা ও যুদ্ধাপরাধের বিচার করে বাংলাদেশকে পাপমুক্ত করবো। তিনি অসীম সাহসিকতার সঙ্গে সে কাজটি করেছেন।

‘শেখ হাসিনার প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল কণ্টকাকীর্ণ। প্রতিটি পদক্ষেপে ছিল মৃত্যুর ঝুঁকি। ১৯বার তার প্রাণনাশের চেষ্টা হয়েছে। তিনি পিছপা হননি। অকুতোভয়ে এগিয়ে গেছেন। আজ তিনি সফলতা এনেছেন।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে আওয়ামী লীগের এই বর্ষীয়াণ নেতা বলেন, ‘আজ আবার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। সেই ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আপনাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম আউয়ালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ।

বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্ত্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ হাকিম হাওলাদার, সংসদ সদস্য আমিরুল আলম মিলন ও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান মালেক।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় ভাগে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে কাউন্সিলে এ কে এম আউয়ালকে সভাপতি ও এম এ হাকিম হাওলদারকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।

আরও পড়ুন:
আমরা অনেক ভালো আছি: আমু
তারা দেশপ্রেমিক নয়: আমু
সামরিক স্বৈরশাসনের অনুসারীরা আজ গণতন্ত্র শেখাতে চায়: আমু
সংবিধান মেনেই নির্বাচন হবে: আমু 

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The fall of the government is inevitable Fakhrul

সরকারের পতন অনিবার্য: ফখরুল

সরকারের পতন অনিবার্য: ফখরুল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
মির্জা ফখরুল বলেন, জনবিস্ফোরণ দেখে আওয়ামী লীগ নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। বিএনপি এবং বিরোধী দলগুলোর সভা-সমাবেশসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও মানবিক কর্মসূচির ওপর বেপরোয়া হামলা শুরু করেছে।

সরকার জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে জনবিস্ফোরণ ঠেকাতে পারবে না। তাদের পতন অনিবার্য বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপুর সই করা বিবৃতি রোববার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।

বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান সরকার বিরোধী দলহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েমের মাধ্যমে নিজেদের অবৈধ ক্ষমতাকে দীর্ঘকাল ভোগ করার বাসনায় লিপ্ত। তাই তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় সন্ত্রাসীদের দিয়ে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে লাগামহীনভাবে বাধা দিচ্ছে। নির্যাতন চালিয়ে সরকার ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনকে দমাতে পারবে না।

জনবিস্ফোরণ দেখে আওয়ামী লীগ নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। বিএনপি এবং বিরোধী দলগুলোর সভা-সমাবেশসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও মানবিক কর্মসূচির ওপর বেপরোয়া হামলা শুরু করেছে।

অবৈধ সরকারের লুটেরা বাহিনী বিদেশে বিপুল অর্থবিত্তের পাহাড় গড়ছে। অন্যদিকে দেশের কৃষক যারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসল উৎপাদন করছে তাদের ওপর চলছে সীমাহীন জুলুম ও অত্যাচার। কৃষকরা এখন অভাব ও দেনার দায়ে জর্জরিত। ক্ষোভ-হতাশা ও বঞ্চনায় তারা আত্মহত্যাও করছে।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, নেত্রকোণা জেলার বারহাট্টা উপজেলায় কৃষকদল নেতাদের ওপর হামলা চালিয়েছে স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা। বারহাট্টা উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল আলম, কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক সুধীন্দ্র চন্দ্র দাসসহ অনেকে আহত হন এ ঘটনায়।

এছাড়া পাবনার ইশ্বরদী উপজেলায় ঋণ নিয়ে ফেরত না দেয়ার অভিযোগে ৩৭ জন কৃষকের নামে মামলা হয়েছে। ১২ কৃষককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ঝামেলা না করে নয়াপল্টন দিন: পুলিশকে ফখরুল
রিজার্ভ লুট করে এখন ডিফেন্সিভ পজিশনে: ফখরুল
জনগণের উত্তাল তরঙ্গে আ.লীগ ভেসে যাবে: ফখরুল
ভোট নিয়ে জাপানি দূতের বক্তব্য চরম সত্য কথা: ফখরুল
১০ ডিসেম্বরের উত্তেজনায় ফখরুলের জল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Japans Ambassador Good Man Misunderstood as Villain Momen

জাপানের দূত ভালো মানুষ, ভুল বুঝিয়েছে দুষ্টু লোক: মোমেন

জাপানের দূত ভালো মানুষ, ভুল বুঝিয়েছে দুষ্টু লোক: মোমেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ও ঢাকায় জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি।
‘ওকে (ইতো নাওকি) কোনো দুষ্টু লোক ভুল তথ্য দিয়েছে। তিনি সাধাসিধে মানুষ, বাংলাদেশের ভালো বন্ধু। তাকে বলা হয়েছে পুলিশ এসে ভোট দিয়েছে। সেই কথা সে বলে ফেলেছে। তিনি ভালো মানুষ। এটা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন নই।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ঢাকায় জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকির বক্তব্যে সরকারের পক্ষ থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এখন বলেছেন, তারা উদ্বিগ্ন নন। তার দৃষ্টিতে জাপানি দূত একজন ভালো মানুষ। তাকে কিছু দুষ্টু লোক ভুল বুঝিয়েছে।

রোববার দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ঘুম’ বিষয়ক চিকিৎসকদের এক ওয়ার্কশপ শেষে সাংবাদিকদের মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ওকে (ইতো নাওকি) কোনো দুষ্টু লোক ভুল তথ্য দিয়েছে। তিনি সাধাসিধে মানুষ, বাংলাদেশের ভালো বন্ধু। তাকে বলা হয়েছে পুলিশ এসে ভোট দিয়েছে। সেই কথা সে বলে ফেলেছে। তিনি ভালো মানুষ। এটা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন নই।’

একাদশ জাতীয় নির্বাচনে রাতে ভোট নিয়ে ঢাকায় জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাও‌কির সাম্প্রতিক বক্তব্যে নিয়ে ঢাকা উদ্বিগ্ন নয় বলেও জানান মন্ত্রী।

১৪ নভেম্বর রাজধানীতে একটি ‘মিট দ্য অ্যাম্বাসেডর’ অনুষ্ঠানে জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে বৈশ্বিক মতামতের একটা গুরুত্ব আছে। জাপান ২০১৮ সালের নির্বাচনের পরপর উদ্বেগ জানিয়েছিল। আমরা নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরে রাখার কথা শুনেছি, যা পৃথিবীর আর কোথাও শুনিনি। আমি আশা করব, এবার তেমন সুযোগ থাকবে না বা এমন ঘটনা ঘটবে না।’

দুই দিন পর মেহেরপুরে একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। সেদিন সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘জাপান কেন, কোনো রাষ্ট্রদূতই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে নাক গলাবেন, এটা আমরা কখনোই মেনে নিতে পারি না।

‘তাদের আবারও সতর্ক করা হবে। বাংলাদেশ স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র। একটি রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা এ দেশকে স্বাধীন করেছি। ফলে কারও কাছে পদানত হওয়া বা দেশের আত্মমর্যাদা রক্ষায় আমরা কাউকে ছাড় দেব না।’

মন্ত্রী এই বক্তব্য রাখার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইতোকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় তলব করেন পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন। সেখানেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ১৪ নভেম্বর এক অনুষ্ঠানে দেয়া রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।

‘রিজার্ভ নিয়ে গণমাধ্যমের বক্তব্যে তাজ্জব হই’

বাংলাদেশের রিজার্ভ নিয়ে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের গণমাধ্যমের ভূমিকার সমালোচনাও করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আপনারা (গণমাধ্যম) মাঝেমধ্যে উল্টাপাল্টা বলেন, আমাদের রিজার্ভ নাই, আমি তাজ্জব হই।

‘আপনারা মাঝেমধ্যে উল্টাপাল্টা বলেন, আমাদের রিজার্ভ নাই। আমি তাজ্জব হই। আগে আমাদের তিন থেকে চার বিলিয়ন রিজার্ভ হলে আপনারা খুশিতে থাকতেন। আর এখন আমার ৩৪ থেকে ৩৭ বিলিয়ন রিজার্ভ, তারপরও আপনারা বলেন। এগুলো পাগলের প্রলাপ না হয় তো কী!

মোমেন বলেন, ‘আপনি (গণমাধ্যম) বলেন, ব্যাংকে টাকা নাই। আমার ট্রিলিয়ন টাকা ব্যাংকে আছে। আপনারা বিভিন্ন রকমের প্রোপাগান্ডা করেন ব্যাংকে টাকা নাই। বাড়িতে নিয়ে রাখেন তখন চুরি করতে পারবে।’

বাংলাদেশ জাপানের কাছে বাজেট সহায়তা হিসেবে ঋণ চেয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এসব আমি জানি না। এগুলো আপনারাই জানেন। আমাদের কোনো প্রয়োজন নাই। ইউ আর ভেরি সলিড ইকোনমি।’

আরও পড়ুন:
নির্বাচন নিয়ে জাপানি দূতের বক্তব্যে মর্মাহত পুলিশ
কূটনীতিকদের আরও ভেবেচিন্তে কথা বলা উচিত: ইসি আনিছুর
জাপানি রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব
রাতের ভোট: জাপানি দূতের বক্তব্যে নাখোশ সরকার
রাতে ব্যালট বাক্স ভরার কথা আর কোথাও শুনিনি: জাপানি রাষ্ট্রদূত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Prime Ministers visit postponed due to political unrest in Japan

প্রধানমন্ত্রীর সফর স্থগিত ‘জাপানে রাজনৈতিক অস্থিরতায়’

প্রধানমন্ত্রীর সফর স্থগিত ‘জাপানে রাজনৈতিক অস্থিরতায়’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। ফাইল ছবি
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর আমরা স্থগিত করেছি। তারা (জাপান) প্রস্তুত আছে। কিন্তু আমরা একাধিক কথা চিন্তা করে সফর স্থগিত করেছি। গত এক মাসে তাদের তিনজন প্রভাবশালী মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। এমন অবস্থায় আমরা যেতে চাইনি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকার সিদ্ধান্তেই প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর স্থগিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। জাপানে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও করোনার প্রকোপ বিবেচনায় ঢাকার এমন সিদ্ধান্ত বলেও জানান তিনি।

রোববার দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ঘুম’ বিষয়ক চিকিৎসকদের এক ওয়ার্কশপ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

এক প্রশ্নে মোমেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর আমরা স্থগিত করেছি। তারা (জাপান) প্রস্তুত আছে। কিন্তু আমরা একাধিক কথা চিন্তা করে সফর স্থগিত করেছি। গত এক মাসে তাদের তিনজন প্রভাবশালী মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। এমন অবস্থায় আমরা যেতে চাইনি।’

গত ২৭ অক্টোবর পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নভেম্বরের শেষে জাপান সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিউজবাংলাকে তিনি বলেছিলেন, ‘সফরটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। দুই দেশ এখন সফর নিয়ে কাজ করছে।’

ওই দিন সফর উপলক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার আমন্ত্রণে ২৯ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপান সফর করবেন।

তবে ২৪ নভেম্বর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানান এই সফর স্থগিত হয়েছে।

সেদিন রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শোনসুকে তাকেইয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা এখনও প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের আনুষ্ঠানিক দিনক্ষণ ঘোষণা করিনি। তবে অন্য যেখান থেকে তারিখটা শুনেছিলেন, সেই তারিখে সফরটা হচ্ছে না। সুবিধা-অসুবিধা সবারই থাকে। দুই দেশই নতুন তারিখ খুঁজে নেবে।’

জাপানের প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘একটি নতুন তারিখে সফরটি হবে। দুই দেশ এটা নিয়ে কাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাওয়াত দিয়েছেন। এ দাওয়াতটা আমরা দুই বছর আগে পেয়েছিলাম। কোভিডের কারণে দুই বছরের অধিক সময় হলেও যাওয়া যায়নি। এবার সব ফাইনাল হলো। কিন্তু সম্প্রতি জাপান সরকারের মধ্যে একটা অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পরপর তিনজন প্রভাবশালী মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। আমরা বিষয়গুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছিলাম।

‘এর মধ্যে আমরা খবর পেয়েছি জাপানের সংসদে কিছু প্রস্তাব আসবে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে। বেচারা খুব ব্যস্ত আছেন। দ্বিতীয়ত কোভিডের কারণ। জাপানের এখনও কোভিডের জন্য কোয়ারেন্টাইন করতে হয়। তারা ১০ জনের মতো অনুমতি দেবে। আমরা তো বিরাট দল যাব। ব্যবসায়ীরা যাবে। আমরা ব্যবসায়ীদের নিয়ে যেতে চাই, যেন আমাদের দেশে বিনিয়োগ বাড়ে।’

তিনি বলেন, 'ভবিষ্যতে আমরা অবশ্যই জাপানে যাব। এই সফর নিয়ে চিন্তার কিছূ নেই। জাপানের সঙ্গে আমাদের গভীর সম্পর্ক। জাপান আমাদের ভালো বন্ধু।’

আরও পড়ুন:
আবার ভোট দিন, যা চাইবেন তার বেশি দেব: শেখ হাসিনা
রিজার্ভ ও ব্যাংকের টাকা নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর আপাতত স্থগিত
দেশের অর্থনীতি নিরাপদে: প্রধানমন্ত্রী
যশোরে প্রধানমন্ত্রী, বক্তব্য দিচ্ছেন প্যারেড গ্রাউন্ডে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
10 were injured in the conflict at the beginning of the conference of A League

আ.লীগের সম্মেলনের শুরুতেই সংঘাত, আহত ১০

আ.লীগের সম্মেলনের শুরুতেই সংঘাত, আহত ১০ নবীনগর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে রোববার দুপুরে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ছবি: নিউজবাংলা
নেতা-কর্মীরা জানান, সম্মেলনের অতিথিরা দুপুর সোয়া ১২টার দিকে মাঠে হাজির হন। তারা জাতীয় সংগীত ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন শেষে মঞ্চে ওঠেন। এ সময় হঠাৎ কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, শুরু হয় চেয়ার ছোড়াছুড়ি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের শুরুতেই সংঘাতে জড়িয়েছেন কর্মী-সমর্থকরা।

প্রার্থীর সমর্থনে স্লোগান দেয়াকে কেন্দ্র করে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে চেয়ার ছোড়াছুড়িতে আহত হয়েছেন ১০ জন।

রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় উপজেলার নবীনগর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সম্মেলনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আবু সাঈদ আল মাহমুদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নেতা-কর্মীরা জানান, সম্মেলনের অতিথিরা দুপুর সোয়া ১২টার দিকে মাঠে হাজির হন। তারা জাতীয় সংগীত ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন শেষে মঞ্চে ওঠেন। এ সময় হঠাৎ কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, শুরু হয় চেয়ার ছোড়াছুড়ি।

তারা জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফয়জুর রহমান এবং বর্তমান সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এবাদুল করিমের নামে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেন নেতা-কর্মীরা। এ সময় চেয়ার ছোড়াছুড়িতে এক বৃদ্ধসহ উভয় পক্ষের অনন্ত ১০ জন আহত হন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী মাইকে বলেন, ‘অনেক সম্মেলন করেছি। এই প্রথম অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটল। এটি লজ্জাজনক। কারও পক্ষে স্লোগান হবে না।’

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকার বলেন, ‘সমর্থকরা অতি উত্তেজনায় এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন। তেমন কিছুই হয়নি। স্থানীয় নেতা-কর্মী ও পুলিশের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সুন্দরভাবে সম্মেলন শেষ হয়েছে।’

পুলিশ দুপুর পৌনে ১টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিলে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী সম্মেলন উদ্বোধন করেন।

সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য এ বি তাজুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি হেলাল উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল বারী চৌধুরী মন্টু।

বেলা সাড়ে ৩টার দিকে উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী নবীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করেন। ফয়জুর রহমান বাদল আবারও সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক পদে নতুন মুখ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন জহির উদ্দিন চৌধুরী।

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুদ্দিন আনোয়ার বলেন, স্লোগান অতিরঞ্জিত হওয়ায় সমর্থকরা একে-অপরের বিপক্ষে ঝামেলা করেছেন। তবে তাতে বেশি কিছু হয়নি। দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
এবার বিএনপিকে জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ নানকের
‘বিএনপির সন্ত্রাস’ প্রতিরোধে ফরিদপুরে আ.লীগের মিছিল
কুমিল্লা মহানগর আ.লীগের দায়িত্ব বাহার-রিফাতের হাতেই
আ.লীগের উৎসবমুখর সম্মেলন শেষ হলো ভাঙচুরে
আওয়ামী লীগের কাউন্সিল ২৪ ডিসেম্বর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Ranga is interested in resolving the Kader Roshan conflict

কাদের-রওশন দ্বন্দ্বের মীমাংসায় আগ্রহী রাঙ্গা

কাদের-রওশন দ্বন্দ্বের মীমাংসায় আগ্রহী রাঙ্গা দেশে ফিরেছেন রওশন এরশাদ। বিমানবন্দরে কথা বলেনি তিনি। সেখানেই কথা বলেন মশিউর রহমান রাঙ্গা। ছবি: নিউজবাংলা
‘এরশাদ সাহেবের সময়ও আমরা অস্থিরতা দেখেছি। যেটা অন্যান্য দলে হয়তো এতটা না। অস্থিরতা বিভিন্ন কারণে, একটা দল ৩২ বছর ক্ষমতার বাইরে, মনোমালিন্য থাকতেই পারে।’

জিএম কাদের ও রওশন এরশাদ এক সঙ্গে বসলেই জাতীয় পার্টিতে দ্বন্দ্বের মীমাংসা হয়ে যাবে বলে মনে করেন দলের বহিষ্কৃত নেতা মশিউর রহমান রাঙ্গা। বলেছেন, ওই দ্বন্দ্বের মীমাংসায় তিনি ভূমিকা রাখবেন।

৫ মাস চিকিৎসা শেষে রোববার দেশে ফেরা রওশন এরশাদকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাগত জানিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘জি এম কাদের ও রওশন এরশাদের মধ্যে মনোমালিন্য আছে। এটা আগেও বলেছি, দুই জন এক সঙ্গে বসলে এটার সমাধান হয়ে যাবে ‘

জাতীয় পার্টিতে এই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয় রওশন থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার এক চিঠিকে কেন্দ্র করে। গত ৩১ অক্টোবর হঠাৎ করেই ২৬ নভেম্বর দলের সম্মেলনের ডাক দেন। পরে অবশ্য তা স্থগিত করা হয়।

জি এম কাদের ও তার অনুসারীরা রওশনের এই ঘোষণার তীব্র প্রতিবাদ জানান। তারা বলেন, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী রওশন এমনটা করতে পারেন না। এরপর রওশনকে বিরোধীদলীয় নেতার পদ থেকে সরিয়ে দিতে গিয়ে জি এম কাদেরকে সেই পদে বসাতে স্পিকারকে চিঠি দেয় জাতীয় পার্টির সংসদীয় দল। পরে দলে শুরু হয় বহিস্কার ও অব্যাহতি দেওয়া। শুরুর দিকে রওশনের পক্ষে কথা বলায় রাঙ্গাকেও দলের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

২০১৯ সালে দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পরও জিএম কাদের ও রওশন পন্থিদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। তখন দ্বন্দ্ব মীমাংসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন রাঙ্গা।

এবারও একই ভূমিকা রাখার আশা করে তিনি বলেন, ‘যদি তাদের (রওশন ও জিএম কাদেরে) মীমাংসা করা দরকার পড়ে, আই উইল ডু ইট।’

জাতীয় পার্টিতে এমন অস্থিরতা কেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এরশাদ সাহেবের সময়ও আমরা অস্থিরতা দেখেছি। যেটা অন্যান্য দলে হয়তো এতটা না। অস্থিরতা বিভিন্ন কারণে, একটা দল ৩২ বছর ক্ষমতার বাইরে, মনোমালিন্য থাকতেই পারে।’

রওশন দেশে ফিরলেও নেতা কর্মী তাকে সংবর্ধনা দিতে যাননি। এর কারণ কী- এমন প্রশ্নে রাঙ্গা বলেন, ‘অনেক নেতাকর্মী বিভিন্ন কারণে হয়তো আসেনি। এটা বিভক্তির কারণে নয়, অনেকে আসছিলেন, রাস্তা থেকেও তারা ঘুরে গেছে।

‘তাদের ভয় দেখানো হয়েছে, গেলে মনোনয়ন দেবো না, এইভাবে বলা হয়েছে। সবাই তো আমাদের মতো সাহসী না, অনেক এমপি, প্রেসিডিয়াম মেম্বার ঝামেলা এড়াতে চেয়েছেন।’

রওশন আলাদা কাউন্সিল ডাকার পর জাতীয় পার্টি থেকে এক থেকে দেড় শ নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা সবাই দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ ছিল। তাদেরকে বিভিন্ন কারণে বের করে দেয়া হয়েছে। এই নেতাকর্মীরা ফিরে আসলে দলটা বিরাট শক্তিতে পরিণত হবে। আমি মনে করি, মনোনমালিন্যটা দলের ভালোর জন্যই হয়েছে, আগামীতেও ভালো হবে।’

আরও পড়ুন:
দ্বন্দ্ব মেটাতে কাদেরের সঙ্গে আলোচনা হবে: রওশন
দেশে ফিরলেন রওশন এরশাদ
রওশন দেশে ফিরছেন রোববার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
There is no question of alliance with BNP

বিএনপির সঙ্গে জোটের প্রশ্নই আসে না

বিএনপির সঙ্গে জোটের প্রশ্নই আসে না রওশন এরশাদ। ফাইল ছবি
দেশে ফিরে বিমানবন্দরে লিখিত বক্তব্যে রওশন এরশাদ বলেন, ‘বিএনপির অধীনে জাতীয় পার্টি খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এবং আমি ও আমার নাবালক সন্তানসহ দলের হাজার হাজর নেতাকর্মী জেল খেটেছিলেন। তখন আমাদের জনসভাও করতে দেয়া হয়নি।

আগামী জাতীয় নির্বাচনি বিএনপির সঙ্গে কোনো জোট হতে পারে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ। পাঁচ মাস চিকিৎসা শেষে থাইল্যান্ড থেকে দেশে ফিরে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের উদ্দেশে এক লিখিত বক্তব্যে রওশন এরশাদ এ কথা বলেন।

বিমানবন্দরের তাকে শুভেচ্ছা জানাতে যান জি এম কাদেরপন্থি হিসেবে পরিচিত নেতা এবং দলের কো চেয়ারম্যান রুহুল আমিন হাওলাদার ও শফিকুল ইসলাম সেন্টু।

লিখিত বক্তব্যে রওশন এরশাদ বলেন, ‘বিএনপির অধীনে জাতীয় পার্টি খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এবং আমি ও আমার নাবালক সন্তানসহ দলের হাজার হাজর নেতাকর্মী জেল খেটেছিলেন। তখন আমাদের জনসভাও করতে দেয়া হয়নি।

‘ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অনেক জনসভায় হামলা চালিয়ে কত শত নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল। সেই অন্ধকার দিনগুলো আমরা ভুলবো কী করে? তা ছাড়া আমরা তাদের শাসনামলে হাওয়া ভবনের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও অপতৎপরতা দেখেছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘জনগণ উন্নতি ও শান্তি জন্য পরিবর্তন চায়। জাতীয় পার্টিই দিতে পারে সেই শান্তি। অবশ্যই তা বিএনপি নয়। বিএনপির সঙ্গে জোটের প্রশ্নই আসে না।’

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নির্বাচনি জোট মহাজোটের অংশ হিসেবে জাতীয় পার্টি দু দফায় নির্বাচনে অংশ নিলেও ২০১৮ সালের সর্বশেষ নির্বাচনের পর তারা সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়ে মহাজোট ত্যাগ করে।

আরও পড়ুন:
‘জি এম কাদেরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে’
রওশন-কাদের বিরোধে রংপুরে মনোনয়ন জটিলতা
‘তত্ত্বাবধায়কের অধীনে নির্বাচনের ধারণায় জাপা বিশ্বাস করে না’
রওশনের পক্ষে আছি বলায় অব্যাহতি: জিয়াউল মৃধা
কাদেরকে বিরোধীদলীয় নেতা না করলে জাপার ‘বিকল্প চিন্তা’

মন্তব্য

p
উপরে