× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Garo hill illuminated by the candle light of thousands of prayers
google_news print-icon

হাজারও প্র‍ার্থনার মোমের আলোয় আলোকিত গারো পাহাড়

হাজারও-প্র‍ার্থনার-মোমের-আলোয়-আলোকিত-গারো-পাহাড়
এ উৎসবের প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে মোমবাতি প্রজ্জলন করে আলোক মিছিল করা। ছবি: নিউজবাংলা
এ উৎসবের প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে মোমবাতি প্রজ্বালন করে আলোক মিছিল করা। তবে গত দুই বছর করোনার কারণে সীমিত পরিসরে পালন করা হয় এ উৎসব। এ বছর উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল তীর্থ উৎসব।

প্র‍তি বছরের মতো এবারও ক্যাথলিকদের মোমের আলোক মিছিলে আলোকিত হলো শেরপুরের গারো পাহাড়। শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার গারো পাহাড়ের বারোমারী সাধু লিওর খ্রিষ্টধর্ম পল্লীতে ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের সর্ববৃহৎ উৎসব তীর্থযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

এ উৎসবের প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে মোমবাতি প্রজ্বালন করে আলোক মিছিল করা। তবে গত দুই বছর করোনার কারণে সীমিত পরিসরে পালন করা হয় এ উৎসব। এ বছর উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল তীর্থ উৎসব।

‘মিলন, অংশগ্রহণ ও প্রেরণকর্মে ফাতেমা রাণী মা মারিয়া’ এই মূল সুরে তীর্থ উৎসবে যোগ দিয়েছেন প্রায় অর্ধলক্ষ দেশি-বিদেশি রোমান ক্যাথলিক খ্রিষ্টভক্ত। ‘ভ্রাতৃত্ব সমাজ গঠনে ফাতেমা রাণী মা মারিয়া’ এই সুরের ওপর ভিত্তি করে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার বারমারী সাধু লিওর খ্রিষ্টধর্ম পল্লীতে দুই দিনব্যাপী ২৫তম বার্ষিক ফাতেমা রাণীর তীর্থ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পবিত্র খ্রিষ্টযাগের মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে শুরু হয় দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় তীর্থ উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। পরে রাত ৯টায় আলোক শোভাযাত্রা, আরাধ্য সাক্রান্তের আরাধনা, নিরাময় অনুষ্ঠান ও নিশি জাগরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় প্রথম দিনের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান।

হাজারও প্র‍ার্থনার মোমের আলোয় আলোকিত গারো পাহাড়

প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা মহা ধর্মপ্রদেশের বিকার জেনারেল রেভারেন্ড ফাদার গ্যাব্রিয়েল কোরাইয়া।

এতে পৌরহিত্য করেন ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশের বিকার জেনারেল রেভারেন্ড ফাদার সিমন হাচ্চা।

জানা যায়, প্রতি বছর অক্টোবরের শেষ বৃহস্পতি ও শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয় ফাতেমা রাণীর তীর্থ উৎসব। শুধু শেরপুর নয়, দেশ-বিদেশের প্রায় লাখো পুণ্যার্থী অংশ নেয় এই তীর্থ যাত্রায়। ১৯৪২ সালে প্রায় ৪২ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত বারমারী সাধু লিওর ধর্মপল্লীটিতে ১৯৯৮ সাল থেকে বার্ষিক তীর্থস্থান হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে। ময়মনসিংহ ধর্ম প্রদেশের প্রয়াত বিশপ ফ্রান্সিস এ গমেজ ১৯৯৮ সালে এ ধর্মপল্লীকে ‘ফাতেমা রাণীর তীর্থস্থান’ হিসেবে ঘোষণা করেন। আর তখন থেকেই পালন করা হচ্ছে তীর্থ উৎসব।

তীর্থে আগত খ্রিষ্ট ভক্তরা তাদের নানা মান্নত পূরণ করতে ঈশ্বর জননী মা মারিয়ার প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধা জানান এবং তার অকৃপণ সাহায্য প্রার্থনা করেন। রাত ৯টায় অনুষ্ঠিত হয় বিশাল আলোক শোভাযাত্রা।

হাজারও প্র‍ার্থনার মোমের আলোয় আলোকিত গারো পাহাড়

তীর্থযাত্রায় অংশ নেয় সারা দেশ থেকে আসা প্রায় অর্ধলক্ষ রোমান ক্যাথলিক খ্রিষ্টভক্ত। তাদের হাতে মোমবাতি জ্বালিয়ে খ্রিষ্টভক্তরা নিজেদের পাপ মোচনে জ্বলন্ত মোমবাতি হাতে খালি পায়ে ধর্মীয় বাণী উচ্চারণ করে তীর্থস্থানের উঁচু-নিচু পাহাড়ি টিলায় পরিভ্রমণ করেন। প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এ আলোক মিছিলে আলোকিত হয় গারো পাহাড়। এ ছাড়াও রাতব্যাপী মা মারিয়ার ৪৮ ফুট উঁচু মূর্তির সামনের চত্বরে চলে সাক্রামেন্টের আরাধনা, নিশি জাগরণ ও নিরাময় পাপ স্বীকার।

শুক্রবার সকালে জীবন্ত ক্রুশের পথ পরিভ্রমণ শেষে মহা খ্রিষ্টজাগের মাধ্যমে তীর্থ উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।

তীর্থ উৎসবকে ঘিরে সবার মাঝে ব্যাপক আনন্দ সৃষ্টি হয়েছে।

হালুয়াঘাট থেকে আসা ইলিয়াস বলেন, ‘এই তীর্থে মানুষ মান্নতের জন্য আসে। আমিও এসেছি একটা মান্নতের জন্য। এখানে এলে মা মারিয়া সবার আশা পূরণ করে, তাই আসি।’

নেত্রকোণার বিরিশিরি থেকে আসা তৃপ্তি ম্র‍ং বলেন, ‘আমরা নিজেদের পাপমোচনসহ নানা সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মা মারিয়ার কাছে ছুটে এসেছি। আমি পড়াশোনা করছি। পড়াশোনায় ভালো করার জন্য তীর্থে প্রার্থনার জন্য এসেছি।’

আরেক ভক্ত সিনভিয়া তনুজা চাম্বু গং বলেন, ‘আমি পড়াশোনা শেষ করে চাকরি করছি। মা মারিয়ার কাছে মান্নত করতে এসেছি যেন আরও ভালো কিছু করতে পারি।’

হাজারও প্র‍ার্থনার মোমের আলোয় আলোকিত গারো পাহাড়

শিক্ষার্থী বিনিসিং ম্র‍ং বলেন, ‘আমরা যেন ভালোভাবে শিক্ষা অর্জন করতে পারি। আগামী এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করতে পারি- এ জন্য মা মারিয়ার সাহায্যের জন্য এসেছি।’

অর্থি বলেন, ‘অনেকে এখানে অনেক ধরনের মান্নত করতে আসে। আর মান্নত পূরণ হয়। আমিও মান্নত করলাম।’

তীর্থযাত্রা উপলক্ষে আয়োজন করা হয় মেলার। মেলায় এবার কেনাকাটা অন্য বছরের চেয়ে ভালো হয়েছে বলে জানান মেলায় আসা ব্যবসায়ীরা।

মেলার ব্যবসায়ী কবির মিয়া বলেন, ‘আমি এবার ব্যাগ বিক্রি করতে আসছি প্রথম। বেচাকেনা ভালোই হয়েছে।’

মেলার আরেক ব্যবসায়ী রহমান জানান, এবার আগের বছরের থেকে লোকজন অনেক বেশি তাই বেচাকেনাও বেশি। তারা এবার কিছুটা লাভবান হতে পারবে।

মেলায় নতুন নতুন জিনিস পেয়ে খুশি ক্র‍েতারা।

হাজারও প্র‍ার্থনার মোমের আলোয় আলোকিত গারো পাহাড়

পূর্ণতা চিরাণ বলেন, ‘আমি মেলা থেকে নতুন নতুন জিনিস কিনলাম। ভালোই লাগল, মান্নতও করা হলো জিনিসও কিনা হলো।’

মেলায় আসা ইমরান হাসান জয় বলেন, ‘আমরা তীর্থ দেখতে আসি। কারণ আমি তাদের ধর্মের লোক নয়। তীর্থ দেখা শেষে মেলা থেকে কেনাকাটা করি। আর মেলায় অনেক নতুন নতুন জিনিস পাওয়া যায়।’

পাপ্র‍ী আরেং বলেন, ‘এ রকম মেলা আসলে সব জায়গায় হয় না। এখানে ভালো মানের জিনিস পাওয়া যায়। আর অনেক জিনিস একসঙ্গে পাওয়া যায়। অনেকে কিনেও নেয়, তাই ভালোই লাগে। আমিও মেলা থেকে কিছু কেনাকাটা করলাম।’

হাজারও প্র‍ার্থনার মোমের আলোয় আলোকিত গারো পাহাড়

তীর্থ উৎসবের সমন্বয়কারী বারোমারি ধর্মপল্লীর ফাদার রেভারেন্ড তপন বনোয়ারি জানান, প্রতি বছর একটি মুলসুরের ওপর ভিত্তি করে বারোমারি ধর্মপল্লীতে দুই দিনব্যাপী ফাতেমা রাণীর তীর্থ উৎসব উদযাপিত হয়। এবার ২৫তম তীর্থের মুলসুর হলো ‘মিলন, অংশগ্রহণ ও প্রেরণা কর্মে মা মারিয়া’।

বারমারী খ্রিষ্টধর্মপল্লীর সহসভাপতি, সাবেক ট্রাইবাল চেয়ারম্যান ও তীর্থ উৎসব আয়োজক কমিটির সভাপতি মি. লুইস নেংমিনজা জানান, দুই বছর করোনার কারণে সীমিত পরিসরে তীর্থাযাত্রা হয়েছে। করোনা-পরবর্তী সময়ের এবারের তীর্থ উৎসবে হাজার হাজার খ্রিষ্টভক্ত অংশগ্রহণ করছে। আমরা খুবই আনন্দিত।

এদিকে তীর্থযাত্রা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বিভাগের পক্ষ থেকে নেয়া হয় নিরাপত্তাব্যবস্থা। নিয়োজিত থাকেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ৩০০ সদস্য। তিন স্তরের নিরাপত্তা বিধানে সাদা পোশাকেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী নিয়োজিত থাকে। এ ছাড়া পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়।

হাজারও প্র‍ার্থনার মোমের আলোয় আলোকিত গারো পাহাড়

এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান বিপিএম বলেন, 'আমরা এ তীর্থ উৎসবকে সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। এটা এ অঞ্চলের খ্রিষ্ট সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। এখানে বাইরে থেকেও অনেক খ্রিষ্টভক্ত তীর্থযাত্রী রয়েছেন। সবার নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সর্বদা তৎপর রয়েছে। সবার সহযোগিতায় এ উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়।

ঢাকা মহাধর্মপদেশের ভিকার জেনারেল ফাদার গাব্রিয়েল কুরাইয়া বলেন, ‘এবারের তীর্থযাত্রায় বিশ্বমানবতার কল্যাণে বিশেষ করে বাংলাদেশের সব সমস্যার সমাধানের জন্য প্রার্থনা করা হচ্ছে। এ উৎসব শুধু ক্যাথলিকদের নয়, সবার। কারণ মা মারিয়া সবার মঙ্গল করে থাকেন।’

আরও পড়ুন:
গারো কিশোরী ধর্ষণ: রিমান্ডে ৫ সংশোধন কেন্দ্রে ১
নাচে-গানে ওয়ানগালায় মেতেছেন গারোরা
তীর্থযাত্রায় আলোকিত গারো পাহাড়

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
The mayor of Patuakhali does not obey the code of conduct
পৌরসভা নির্বাচন

আচরণবিধি মানছেন না পটুয়াখালীর মেয়র

আচরণবিধি মানছেন না পটুয়াখালীর মেয়র মেয়র প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদের ভোটের প্রচারে দেদারসে পলিথিনে মোড়ানো পোস্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা
পটুয়াখালী পৌরসভা নির্বাচনের প্রচারে সব প্রার্থী পলিথিনবিহীন পোস্টার ব্যবহার করলেও আচরণবিধি মানছেন না মেয়র প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদ। তিনি দেদারসে পলিথিনে মোড়ানো পোস্টারে প্রচার চালাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে অন্য প্রার্থীরা ক্ষুব্ধ।

পটুয়াখালী পৌরসভা নির্বাচনে আচরণবিধি মানছেন না মেয়র প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদ। প্রতীকসহ পোস্টার টানানোর ক্ষেত্রে অন্য প্রার্থীরা পলিথিন ব্যবহার না করার নিষেধাজ্ঞা মেনে চললেও মেয়র মহিউদ্দিন দেদারসে তা করে যাচ্ছেন।

নির্বাচন কমিশন ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পরপরই প্রায় সব প্রার্থী নিয়ম অনুযায়ী পোস্টার ব্যবহার করছেন। কিন্তু গত রাত থেকে মেয়র প্রার্থী মহিউদ্দিন আহমেদ নির্বাচন অফিসের নির্দেশনা অমান্য করছেন। এ নিয়ে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ ইলেকশন কমিশনের পরিপত্র ২-এর ২১ নং ক্রমিকে স্পষ্টভাবে বলা আছে, ‘স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ পূর্বক প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা এবং নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহারে প্লাস্টিকে মোড়ানো বা পোস্টার প্লাস্টিক পলিথিন লেমিনেটিং করে ব্যবহার না করাসহ ইতিপূর্বে নির্দেশনা প্রদান করতে হবে।’

আচরণবিধি মানছেন না পটুয়াখালীর মেয়র

এই ধারার উল্লেখ করে প্রতীক বরাদ্দের দিন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা স্পষ্টভাবেই জানিয়ে দিয়েছেন যে, পোস্টারে পলিথিন ব্যবহার করা যাবে না।

অথচ মেয়র প্রার্থী মহিউদ্দিন আহমেদ পলিথিন মোড়ানো পোস্টার টানিয়েছেন গোটা শহরে। এ নিয় অন্য প্রার্থীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। কারণ ২৩ তারিখ থেকে রোববার রাত পর্যন্ত তাদের টানানো পলিথিনবিহীন পোস্টার গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি আর কুয়াশায় নষ্ট হয়েছে কয়েকবার।

অথচ শহরের পৌরসভা মোড়, সিঙ্গারা পয়েন্ট, কলেজ রোড, জুবিলী স্কুল সড়কসহ বেশকিছু সড়কে জগ প্রতীকের মেয়র প্রার্থী মহিউদ্দিনের টানানো পোস্টারে পলিথিন ব্যবহার করতে দেখা গেছে।

মেয়র প্রার্থী ডা. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সকালে পোস্টার টানানোর পর বিকেলে হাল্কা বৃষ্টি হওয়ায় সেসব পোস্টার নষ্ট হয়ে যায়। তাই পরদিন সকালে আবার পোস্টার লাগাই। তবু পোস্টারে পলিথিন ব্যবহার করিনি।

অথচ আচরণবিধির তোয়াক্কা না করে একজন প্রার্থী তার নির্বাচনি প্রচারের পোস্টারে পলিথিন ব্যবহার করছেন। এগুলো কি নির্বাচন কর্মকর্তা দেখেন না? এমনিতেই জেলা নির্বাচনের কার্যক্রম নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মিডিয়ায় আর্থিক অনিয়ম নিয়ে মেয়র মহিউদ্দিনের পক্ষাবলম্বনের রিপোর্ট আসছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি দেখার।’

পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী বর্তমান কাউন্সিলর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘প্রতীক বরাদ্দের দিন জেলা নির্বাচন অফিস থেকে আমাদেরকে বলা হয়েছে যে পোস্টারে পলিথিন ব্যবহার করা যাবে না। এটা দণ্ডনীয় অপরাধ। সে কারণে আমরা পোস্টারে পলিথিন ব্যবহার করিনি।’

৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. খলিলুর রহমান জানান, নির্বাচন অফিসের নিষেধাজ্ঞা থাকায় পোস্টারে পলিথিন লাগাইনি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেয়র প্রার্থী মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ওগুলো ভুলে লাগানো হয়েছে। যারা লাগিয়েছে তারা ভুল করেছে। আমি তাদেরকে সরিয়ে ফেলতে বলেছি।’

পটুয়াখালী জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলার জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা খান আবি শাহানুর খান জানান, নির্বাইন আচরণবিধিতে বলা হয়েছে যে কোনো প্রার্থী তাদের পোস্টারে পলিথিন ব্যবহার করতে পারবেন না। কেউ পলিথিন ব্যবহার করে থাকলে আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।’

জগ প্রতীকের মেয়র প্রার্থী পলিথিনে মোড়ানো পোস্টার টানিয়েছেন- এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এমন একটা অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি দেখছি।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Video of school teacher students drinking on educational trip goes viral

শিক্ষাসফরে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মদ্যপান, ভিডিও ভাইরাল

শিক্ষাসফরে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মদ্যপান, ভিডিও ভাইরাল শনিবার শিক্ষাসফর থেকে ফেরার পরপরই মদ্যপানের ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। কোলাজ: নিউজবাংলা
বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মা বলেন, ‘শিক্ষকরা কোনো শিক্ষার্থীর অভিভাবককে সঙ্গে যেতে দেয়নাই। শিক্ষকদের সামনেই যদি এমন কর্মকাণ্ড হয়, তবে আর কিছুই বলার থাকে না।’

মাদারীপুরের শিবচরের একটি স্কুল থেকে শিক্ষাসফরে গিয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে শিক্ষকদের মদ্যপানের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে ভাইরাল।

ভাইরাল ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক মো. ওয়ালিদ মদের বোতল হাতে নিয়ে মদ ঢালছেন, শিক্ষার্থীদের হাতে বোতল দিচ্ছেন। আবার বিদেশি মদের বোতল থেকে শিক্ষককে মদ ঢেলে দিচ্ছে এক শিক্ষার্থী, আবার শিক্ষকের সামনেই শিক্ষার্থীরা আনন্দ উল্লাস করে মদ্যপান করছে।

শনিবার শিবচর উপজেলার বন্দরখোলা ইউনিয়নের শিকদার হাট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে শিক্ষাসফর শেষে ফেরার পথে ওই ভিডিওটি করা হয় বলে খোঁজ জানা গেছে।

জানা যায়, শনিবার ভোরে বিদ্যালয়ের ১৬ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ৪১ শিক্ষার্থীকে নিয়ে শিক্ষাসফরের উদ্দেশ্যে নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁও যান। সফরে শিক্ষার্থীদের কোনো অভিভাবককে সঙ্গে নেয়া হয়নি।

স্থানীয় সুত্র জানায়, শিক্ষাসফর শেষে শিক্ষার্থীরা এলাকায় ফেরার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও টিকটকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মদ্যপানের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এমন ভিডিও দেখে অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার মেয়েও শিক্ষাসফরে গিয়েছিল। শিক্ষকরা কোনো শিক্ষার্থীর অভিভাবককে সঙ্গে যেতে দেয়নাই।’

ভিডিওটির ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের সামনেই যদি এমন কর্মকাণ্ড হয়, তবে আর কিছুই বলার থাকে না।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষাসফরের আগের দিন আমি ঢাকায় ছিলাম। সেখান থেকে সরাসরি শিক্ষা সফরের স্পটে যোগ দিয়েছি। এর আগে বাসের মধ্যে কী হয়েছে, আমি জানি না।’

তিনি বলেন, ‘সফরকালে বাসের দায়িত্বে ছিলেন শিউলি ম্যাডাম। আমি বাসে ওঠার পর এমন কোনো ঘটনা ঘটেনাই।’

এ ব্যাপারে বন্দরখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান বলেন, ‘শিক্ষাসফরের ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মদ খেয়ে নেচেছে বলে শুনেছি ও ভিডিও দেখেছি।’

মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার খন্দকার মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এই ব্যাপারে শিবচর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি করা হবে। শিক্ষকরা যদি এর সঙ্গে জড়িত থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The body of another drug dealer in the house of a drug dealer

মাদক কারবারির বাড়িতে আরেক কারবারির মরদেহ

মাদক কারবারির বাড়িতে আরেক কারবারির মরদেহ
পুলিশ জানায়, মোরসালিন ও আব্দুল্লাহ দুজনই চিহ্নিত মাদক কারবারি। আব্দুল্লাহর কাছে মোরসালিন ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা পেত। শনিবার রাতে বড় ভাই আব্দুল হাকিমের দোকানের সামনে থেকে শিবনগর গ্রামের সোহেল মোরসালিনকে ডেকে নিয়ে যায়। রোববার আব্দুল্লাহর বাড়িতে তার বস্তাবন্দি মরদেহ পাওয়া যায়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় মাদক কারবারির বাড়ি থেকে মোরসালিন নামে আরেক মাদক কারবারির বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই মাদক কারবারি মো. আব্দুল্লাহ পরিবারের লোকজনসহ বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে।

এ ঘটনায় সোমবার নিহতের ভাই আব্দুল হাকিম ভূইয়া থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

পরিবার অভিযোগ ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, মোরসালিন ও আব্দুল্লাহ দুজনই এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি। আব্দুল্লাহর কাছে মোরসালিন ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা পেত। শনিবার রাতে বড় ভাই আব্দুল হাকিমের দোকানের সামনে থেকে শিবনগর গ্রামের তালু মিয়ার ছেলে সোহেল মোরসালিনকে ডেকে নিয়ে যায়। পরদিন রোববার আব্দুল্লাহর বাড়িতে তার মরদেহ পাওয়া যায়।

বড় ভাই আব্দুল হাকিম বলেন, ‘জানতে পারি যে শিবনগর গ্রামের আব্দুল্লাহ ও হৃদয়ের কাছে আমার ভাই দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা পাওনা ছিল। শনিবার দুপুরে নাকি আরেক ভাই রায়হানকে একটি কাগজে হিসাব লিখে দিতে বলে মোরসালিন। পরদিন সোহেল আমার দোকানের সামনে থেকে ভাইকে ডেকে নিয়ে যায়। সেই রাতে রায়হান বাড়ি ফেরেনি। পরের দিন রোববার বিকেলে শিবনগরে আব্দুল্লাহর ঘরে আমার ভাইয়ের লাশ পাওয়া গেছে। আমার ভাই পোল্ট্রি মুরগির ব্যবসা করতো। আব্দুল্লাহ আমার ভাইকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে।’

আখাউড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে শিবনগর গ্রামে আব্দুল্লাহর ঘরের তালা ভেঙে বস্তাবন্দি অবস্থায় মোরসালিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মরদেহে গলায় কালো দাগ রয়েছে। তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সোমবার নিহতের বড় ভাই আব্দুল হাকিম ভূইয়া আব্দুল্লাহকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা করেন। পলাতক আব্দুল্লাহকে খুঁজছে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
ভুট্টাখেতের আড়ালে চলছিল আফিম চাষ
মেহেরপুরে মাদক মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার 
মাদক কারবারি ধরতে গিয়ে অবরুদ্ধ ডিবি, উদ্ধার থানা পুলিশের
২ কেজি হেরোইনসহ রাজশাহীতে যুবক আটক
পার্সেল ডেলিভারি সার্ভিসের অফিস থেকে অবৈধ পণ্য জব্দ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
SSC exam candidate killed four arrested in Sherpur gang attack

শেরপুরে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় এসএসসি পরীক্ষার্থী খুন

শেরপুরে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায়  এসএসসি পরীক্ষার্থী খুন শেরপুরের শ্রীবরদীতে কিশোর গ্যাং এর হামলায় প্রাণ হারানো শিক্ষার্থী বিপ্লব। ছবি: নিউজবাংলা
শ্রীবরদী থানার ওসি কাইয়ুম খান সিদ্দিকী জানান, এ ঘটনায় দোষীদের গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে। রাতেই চারজনকে আটক করা হয়। তবে এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা করেনি নিহতের পরিবার।

শেরপুরের শ্রীবরদীতে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় এক এসএসসি পরীক্ষার্থী খুন হয়েছে।

উপজেলার দহেরপাড় এলাকায় রোববার রাতে ওয়াজ শুনে বাড়িতে যাওয়ার পথে এই হামলার শিকার হয় সে। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে।

প্রাণ হারানো ১৬ বছরের মো. বিপ্লবের বাবার নাম মিয়া কাবিল। তার গ্রামের বাড়ি জামালপুরের বকশিগঞ্জ উপজেলার দড়িপাড়ায়।

বিপ্লব শ্রীবরদীর দহেরপাড়ে তার নানার বাড়িতে থেকে মোহাম্মদ আলী মেমোরিয়াল বিদ্যানিকেতনে লেখাপড়া করতো। এ বছর সে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছিল। তার নানার নাম হাজি আবদুল মজিদ।

পুলিশ জানায়, শ্রীবরদী উপজেলার মামদামারি কান্দাপাড়ায় ২৫ ফেব্রুয়ারি রাত ১টার দিকে এবতেদায়ী মাদ্রাসায় ওয়াজ শুনতে এসেছিল বিপ্লব। ওয়াজ শোনার সময় পাশের চরশিমুলচুরা এলাকার স্থানীয় কিশোর গ্যাং নেতা আরিফ হোসেনদের সঙ্গে স্কুল শিক্ষার্থী বিপ্লবের তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়।

পুলিশ আরও জানায়, পরে ওয়াজ শুনে নানার বাড়ি ফেরার পথে আরিফ ও তার সহযোগীরা বিপ্লবের ওপর হামলা চালায় ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় বিপ্লবকে প্রথমে শ্রীবরদী উপজেলা হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে সেখান থেকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে সোমবার সকালে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক বিপ্লবকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্ত আরিফ, মোখলেস, মনির ও ডিপটিকে আটক করেছে।

শ্রীবরদী থানার ওসি কাইয়ুম খান সিদ্দিকী জানান, এ ঘটনায় দোষীদের গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে। রাতেই চারজনকে আটক করা হয়। তবে এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা করেনি নিহতের পরিবার।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Four children died in hospital due to food poisoning in Sirajganj

সিরাজগঞ্জে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় শিশুর মৃত্যু, চারজন হাসপাতালে

সিরাজগঞ্জে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় শিশুর মৃত্যু, চারজন হাসপাতালে
চিকিৎসক জানান, খাদ্যে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত পাঁচজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে এক শিশু হাসপাতালে আনার আগেই মারা যায়। বাকি চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মা পারভিন ও মেয়ে রিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের আরও চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

মারা যাওয়া শিশুটির নাম জিমহা। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুটির মা পারভিন, শিশু কন্যা রিয়া, নূরী ও ভাগ্নি মিথিলা। তাদের বাড়ি বেলকুচি উপজেলার বৈলগাছি গ্রামে।

স্বজনরা জানান, সোমবার সন্ধ্যায় ইফতার করার সময় মহল্লার দোকান থেকে স্যালাইন কিনে সরবত তৈরি করের পারভিন। ইফতারের সময় সবাই মিলে তা পান করে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েন।

ক্রমেই অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সবাইকে সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে চিকিৎসক শিশু জিমহাকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকিদের তাৎক্ষণিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সন্ধ্যার পর খাদ্যে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত পাঁচজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী খাবার স্যালাইন খেয়েই তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে এক শিশু হাসপাতালে আনার আগেই মারা যায়। বাকি চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মা পারভিন ও মেয়ে রিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

আরও পড়ুন:
ছাড়পোকার ওষুধের বিষক্রিয়ায় ২ বোনের মৃত্যুর অভিযোগ
নাশতা খেয়ে হাসপাতালে বিচারক দম্পতি, ভাতিজি ‘পলাতক’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Withdrawal of the decision to name Sugandha Beach as Bangabandhu Beach

সুগন্ধা বিচকে ‘বঙ্গবন্ধু বিচ’ নামকরণের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার

সুগন্ধা বিচকে ‘বঙ্গবন্ধু বিচ’ নামকরণের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্ট। ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত
আগের প্রজ্ঞাপন বাতিল করে রোববার প্রকাশিত নতুন বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘পূর্বে পাঠানো নির্দেশনার ওপর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করার জন্য নির্দেশনাক্রমে অনুরোধ করা হলো। একইসঙ্গে পূর্বে পাঠানো পত্রটিও বাতিল বলে গণ্য করা হলো।’

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা বিচকে ‘বঙ্গবন্ধু বিচ’ ও কলাতলী ও সুগন্ধা বিচের মাঝখানের এলাকাকে ‘মুক্তিযোদ্ধা বিচ’ নামকরণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। সুগন্ধা বিচকে ‘বঙ্গবন্ধু বিচ’ নামকরণের সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা সমালোচনার এক সপ্তাহ পর আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করা হলো।

রোববার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহকারি সচিব মো. সাহেব উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সুগন্ধা পয়েন্টের নাম পরিবর্তন করে ‘বঙ্গবন্ধু বিচ’ ও কলাতলী ও সুগন্ধা বিচের মাঝখানের এলাকাকে ‘মুক্তিযোদ্ধা বিচ’ নামকরণ করে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

তবে সেই প্রজ্ঞাপন বাতিল করে রোববার প্রকাশিত নতুন বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘পূর্বে পাঠানো নির্দেশনার ওপর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করার জন্য নির্দেশনাক্রমে অনুরোধ করা হলো। একইসঙ্গে পূর্বে পাঠানো পত্রটিও বাতিল বলে গণ্য করা হলো।’

উল্লেখ্য, সুগন্ধা বিচকে ‘বঙ্গবন্ধু বিচ’-এ নামকরণের জন্য মুক্তিযুদ্ধা সংসদ কমান্ডের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান মো. সোলায়মান মিয়া আবেদন করেছিলেন। পরে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির ১৩তম সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এছাড়া সুপারিশ করা হলে সেটি বাস্তবায়নের বিষয়ে নির্দেশনা দেয় মন্ত্রণালয়।

আরও পড়ুন:
বদলে যাচ্ছে কক্সবাজার সৈকতের দুই পয়েন্টের নাম

মন্তব্য

বাংলাদেশ
31 tourists lost their way in the Sundarbans and call 999 to rescue them

সুন্দরবনে পথ হারিয়ে ৯৯৯-এ ফোন, ৩১ পর্যটক উদ্ধার

সুন্দরবনে পথ হারিয়ে ৯৯৯-এ ফোন, ৩১ পর্যটক উদ্ধার শিক্ষার্থীসহ ৩১ পর্যটককে সোমবার সুন্দরবনের গহীন থেকে উদ্ধার করে মোংলা থানা পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা
মোংলা থানার ওসি কে এম আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘বাগেরহাটের চিতলমারি থেকে শিক্ষার্থীসহ ৩১ জনের একটি দল সোমবার সকালে করমজল এলাকায় ভ্রমণে যায়। কিছুক্ষণ পর তারা পথ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় এক শিক্ষার্থী ৯৯৯ নম্বরে কল দিলে গহীন বন থেকে তাদেরকে উদ্ধার করা হয়।

সুন্দরবনে ঘুরতে গিয়ে গভীর বনে ঢুকে পড়ে ৩১ জন পর্যটকের একটি দল। গহীন অরণ্যে এক পর্যায়ে পথ হারিয়ে ফেলেন পর্যটকরা। এভাবেই কেটে যায় কয়েক ঘণ্টা। বন থেকে বেরিয়ে আসার পথ না পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তারা। অবশেষে ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে তাদেরকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মোংলা থানার ওসি কে এম আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘বাগেরহাটের চিতলমারি থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ ৩১ জনের একটি দল সোমবার সকালে সুন্দরবনের করমজল এলাকায় ভ্রমণে যায়। বনে প্রবেশের কিছুক্ষণ পরই তারা পথ হারিয়ে ফেলেন।

‘এসব কিশোর পর্যটকের মধ্যে ফেরদৌস নামে একজন বুদ্ধি খাটিয়ে তার মোবাইল ফোন থেকে ৯৯৯ নম্বরে কল দেয়। এ সময় কল সেন্টার থেকে তাদেরকে সরাসরি মোংলা থানায় কথা বলিয়ে দেয়া হয়।

‘ফেরদৌস জানায় যে তার ফোনে চার্জ নেই। এ অবস্থায় আমি ওই দলের সদস্যদের আরও দুটি মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করি। এরপর মোবাইলে যোগাযোগের মাধ্যমে বিকেলে তাদের সন্ধান মিলে। তারা ঘুরতে ঘুরতে গভীর বনে ডুকে পড়ছিল।’

তিনি জানান, অবশেষে প্রায় ৩ ঘণ্টা পর সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র সংলগ্ন গহীন বন থেকে পথ হারিয়ে ফেলা ওই ৩১ পর্যটককে উদ্ধার করে মোংলা থানা-পুলিশ।

কিশোর ফেরদৌস জানায়, তার মোবাইলে ব্যালেন্স ছিল না। কিন্তু সে জানত যে ব্যালেন্স না থাকলেও ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা যায়। তাই সে বুদ্ধি খাটিয়ে ৯৯৯-এ ফোন করে বন থেকে উদ্ধারে সহযোগিতা চায়।

আরও পড়ুন:
উপকূলের ‘সুন্দরবন দিবস’ আজ
সুন্দরবনে বেড়েছে ‘বাঘের খাদ্য’ হরিণসহ ৫ প্রাণী
মৌসুমে সাত হাজার টন গোলপাতা আহরণের লক্ষ্য
পর্যটকদের ব্ল্যাকমেইল করে লুট করতেন তারা
ট্যুরিস্ট পুলিশ কার্যালয়ের পাশেই ছিনতাইকারীর কবলে ৫ পর্যটক

মন্তব্য

p
উপরে