× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Money given to baby born with stomach rupture in bank DC
hear-news
player
google_news print-icon

পেট ফেটে জন্ম নেয়া শিশুকে দেয়া টাকা ব্যাংকে: ডিসি

পেট-ফেটে-জন্ম-নেয়া-শিশুকে-দেয়া-টাকা-ব্যাংকে-ডিসি
শিশু ফাতিমা। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এই অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করছেন শিশুর অভিভাবক দাদা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ত্রিশাল। এখানে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। যৌক্তিক প্রয়োজনে শিশু ও তার পরিবারের কল্যাণের জন্য এই অ্যাকাউন্ট থেকে খরচ করা হবে।’

ময়মনসিংহের ত্রিশালে ট্রাকচাপায় মায়ের পেট ফেটে জন্ম নেয়া শিশু ফাতিমার ক্ষতিপূরণের পাঁচ লাখ টাকা ‘রত্না আক্তার রহিমার নবজাতক শিশু ও দুই সন্তানের সহায়তা হিসাবে’ ব্যাংকে জমা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক।

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি পোস্ট দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।

পোস্টে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘‘ট্রাস্টি বোর্ড, বিআরটিএ তহবিল থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পিতা-মাতার নবজাতক শিশুর অভিভাবককে ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রাপ্ত পাঁচ লাখ টাকার ক্রস চেক সোনালী ব্যাংক, ত্রিশাল শাখায় ‘রত্না আক্তার রহিমার নবজাতক শিশু ও অপর দুই সন্তানের সহায়তা হিসাব’-এ জমা আছে। এই টাকার পাশাপাশি অন্যান্য ব্যক্তিবর্গের প্রদত্ত টাকাও ওই অ্যাকাউন্টে জমা হচ্ছে।’’

আরও বলা হয়, ‘এই অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করছেন শিশুর অভিভাবক দাদা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ত্রিশাল। এখানে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। যৌক্তিক প্রয়োজনে শিশু ও তার পরিবারের কল্যাণের জন্য এই অ্যাকাউন্ট থেকে খরচ করা হবে।’

২৭ অক্টোবর পর্যন্ত এই হিসাবে ১৪ লাখ ২৮ হাজার ৫০২ টাকা জমা হয়েছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এর মধ্যে ব্যয় হয়েছে ৩০ হাজার ২৫ টাকা। বর্তমানে জমা আছে ১৩ লাখ ৯৮ হাজার ৪৭৭ টাকা। শিশুটি বর্তমানে সরকারি খরচে ঢাকার ছোটমণি নিবাসে চিকিৎসাসহ উন্নতমানের সেবাসহ লালিতপালিত হচ্ছে।

‘নবজাতকের দাদিকে প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড দেয়া হয়েছে। ওই পরিবারের যেন কোনো সমস্যা না হয় সেদিকে সার্বক্ষণিক নজর রাখছেন ত্রিশাল উপজেলা সমাজসেবা অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার। ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য একটি পাকা ঘর তৈরি করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।’

এর আগে শিশু ফাতেমার কল্যাণে ব্যয় করার জন্য ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পাঁচ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য গঠিত ট্রাস্টি বোর্ড। গত ৩১ আগস্ট ওই টাকা অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়। তবে জেলা প্রশাসক সেই টাকা ‘শিশু ফাতেমার কল্যাণে ব্যয়ের ব্যবস্থা না করে শিশুর পরিবারের অন্য সদস্যদের নামে অ্যাকাউন্ট খুলে জমা রেখেছেন’- এমনটি জানিয়ে বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে রিট করা হয়।

সেই রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সৈয়দ মাহসিব হোসাইন। পরে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসককে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে শিশু ফাতেমাকে দেয়া টাকার বিষয়ে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দেয়।

আইনজীবী সৈয়দ মাহসিব হোসাইন নিউজবাংলাকে সেদিন বলেন, ‘শিশু ফাতেমার কল্যাণের জন্য হাইকোর্টের নির্দেশে ৫ লাখ টাকা দেয়া হয়। সেই টাকা ওই শিশুর কল্যাণে ব্যয় না করে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক শিশুটির পরিবারের অন্য সদস্যদের নামে ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলে জমা রেখেছেন।

‘আমাদের বক্তব্য হলো এই টাকা দেয়া হয়েছে এই শিশুর কল্যাণে ব্যয় করার জন্য। সেটা না করে যদি তা ব্যাংকে রেখে দেয়া হয়, ১৮ বছর পর এই টাকার মূল্য কী হবে? তা ছাড়া সে সময় এই টাকা ওই শিশুর জীবনে যতটা না কাজে আসবে তার থেকে এখন টাকাটা বেশি প্রয়োজন। এ কারণে বিষয়টি আমরা আদালতের নজরে আনি।’

চলতি বছরের ১৬ জুলাই ত্রিশাল পৌর শহরের খান ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ওই দুর্ঘটনায় ত্রিশালের রাইমনি গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম, তার স্ত্রী রত্না বেগম এবং মেয়ে সানজিদা খাতুন মারা যায়। মৃত্যুর আগে রত্নার গর্ভ ফেটে ভূমিষ্ঠ হয় নবজাতক। পরে নবজাতকটিকে উদ্ধার করে নেয়া হয় হাসপাতালে।

একটি বেসরকারি হাসপাতালে কয়েক দিন চিকিৎসা দেয়ার পর ১৯ জুলাই শিশুটিকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে ২৯ জুলাই স্বজনদের সম্মতিতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে শিশুটিকে রাজধানীর আজিমপুরে ছোটমণি নিবাসে পাঠায় জেলা শিশু কল্যাণ বোর্ড। বর্তমানে সেখানেই বেড়ে উঠছে শিশু ফাতিমা।

আরও পড়ুন:
ট্রাকচাপায় পেট ফেটে শিশুর জন্ম: চালক ২ দিনের রিমান্ডে
ট্রাকচাপায় পেট ফেটে শিশুর জন্ম: চালকের রিমান্ড চায় পুলিশ
ট্রাকচাপায় পেট ফেটে ভূমিষ্ঠ শিশুকে ৫ লাখ টাকা দেয়ার নির্দেশ
পেট ফেটে জন্ম শিশুর: সেই ট্রাকচালক গ্রেপ্তার
সেই নবজাতক ও তার ভাই-বোনের জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
The science of evidence destruction sees Crime Petrol

আলামত নষ্ট করার বিদ্যা ‘ক্রাইম পেট্রল’ দেখে

আলামত নষ্ট করার বিদ্যা ‘ক্রাইম পেট্রল’ দেখে নিখোঁজ শিশু আয়াত (বামে) ও তাকে হত্যার সন্দেহে গ্রেপ্তার আবির। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
শ্বাসরোধে শিশু আয়াতের মৃত্যুর পর তার মরদেহ বাবার বাসায় পলিথিন দিয়ে পেঁচিয়ে নিজ বাসায় নিয়ে যান আবির। সেখানে বটি ও অ্যান্টি-কাটার দিয়ে মরদেহ ছয় টুকরো করে দুটি পলিথিনে নিয়ে চট্টগ্রামের সাগরপাড় এলাকায় সাগরে ফেলে দেন।

২১ বছর আগে বিয়ে করে নগরীর ইপিজেড থানার বন্দরটিলা নয়ারহাট এলাকায় মঞ্জুর হোসেনের ভাড়া বাসায় ওঠেন রংপুরের আজহার-আলেয়া দম্পতি। এর দুই বছর পর এই দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় আবির আলী।

এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়। আজহার-আলেয়া দম্পতি কিছুদিনের জন্য অন্যত্র গেলেও আবার ফিরে আসেন মঞ্জুরের বাসায়। দীর্ঘদিন একসাথে বাস করায় মঞ্জুর হোসেনের পরিবারের সাথে এ দম্পতির তৈরি হয় সুসম্পর্ক।

অভিযোগ করা হয়েছে, সেই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে জন্মের ১৯ বছর পর সেই আবির আলি অপহরণ করে খুন করেন মঞ্জুর হোসেনের একমাত্র নাতনি আয়াতকে। আর খুনের পর ছোট্ট আয়াতের মরদেহ ছয় টুকরো করে ফেলেছেন সাগরে। ক্রাইম পেট্রল দেখে চেষ্টা করেছেন খুনের সব আলামত নষ্ট করার।

১৫ নভেম্বর নগরীর ইপিজেড থানার বন্দরটিলা নয়ারহাট বিদ্যুৎ অফিস এলাকার বাসা থেকে পার্শ্ববর্তী মসজিদে আরবি পড়তে যাওয়ার সময় নিখোঁজ হয় আলিনা ইসলাম আয়াত। অনেক খোঁজাখুজির পরও তাকে না পেয়ে পরদিন থানায় ডায়েরি করেন আয়াতের বাবা সোহেল রানা। এর পরের ৯ দিনেও আয়াতের হদিস পায়নি পুলিশ। এমনকি বিভিন্ন গণমাধ্যমে আয়াতকে ফিরিয়ে দেয়ার বিনিময়ে যে কোনো অংকের মুক্তিপণ দিতে রাজি থাকার জানায় পরিবার। তারপরও খোঁজ মেলেনি আয়াতের।

এরপর সিসিটিভি ফুটেজে আবিরকে একটি ব্যাগ নিতে দেখে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সন্দেহ হয়। সেই সন্দেহ থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে আকমল আলী সড়কের পকেট গেইট এলাকা থেকে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পিবিআই। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে আয়াতকে অপহরণের কথা স্বীকার করেন আবির।

এই ঘটনায় পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার নাঈমা সুলতানার নেতৃত্বে অনুসন্ধান ও আবিরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন পরিদর্শক ইলিয়াস খান।

তার সাথে কথা হয় নিউজবাংলার। তিনি জানান, মাঝে দুই মাস তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি করলেও কাজ ভালো না লাগায় চাকরি ছেড়ে দেন আবির। চাকরি ছাড়ার পর বেকার হয়ে যান তিনি। আবির আয়াতকে অপহরণ করে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করেন ঘটনার দুমাস আগে। সনি টিভির অপরাধ বিষয়ক সিরিয়াল ‘ক্রাইম পেট্রল’-এর নিয়মিত দর্শক আবির ওই সিরিয়াল দেখেই পরিকল্পনা করেন অপহরণ ও হত্যার। পরিচয় গোপন রাখতে একটি বেনামি মোবাইল সিম প্রয়োজন হয় তার। ঘটনার পাঁচ থেকে ছয় দিন আগে একটি সিম জোগাড়ও করেন তিনি। এরপর নামেন অপহরণ মিশনে।

এর মধ্যে সম্প্রতি বাবা-মায়ের ঝগড়ার জেরে আকমল আলী সড়কে আলাদা বাসা নিয়ে পোশাক শ্রমিক মাকে নিয়ে বাস করতে শুরু করেন আবির। পুরোনো বাসা থেকে সেটা দেড় কিলোমিটার দূরে। পুরোনো বাসায় আবিরের বাবা আজহারুল ইসলাম এখনও বসবাস করেন। আবির মাকে নিয়ে অন্যত্র থাকলেও বাবার বাসায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল। বাবার বাসা থেকে বিভিন্ন সময় আকমল আলী সড়কের বাসায় নানা জিনিসপত্রও নিয়ে যেতেন তিনি।

আলামত নষ্ট করার বিদ্যা ‘ক্রাইম পেট্রল’ দেখে

পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার নাঈমা সুলতানা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঘটনার দিন বাসা থেকে বের হলে আয়াতকে কোলে করে অপহরণের চেষ্টা করেন আবির। তখন আয়াত চিৎকার করলে তার নাক-মুখ চেপে ধরেন আবির। এতে শ্বাসরোধে আয়াতের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর আয়াতের মরদেহ বাবার বাসায় (আয়াতের পরিবারের ভাড়া বাসা) নিয়ে যান আবির। সেখান থেকে মরদেহটি পলিথিন দিয়ে পেঁচিয়ে আকমল আলী সড়কের বাসায় নিয়ে যান তিনি। সেখানে বটি ও অ্যান্টি-কাটার দিয়ে ছয় টুকরো করে দুটি পলিথিনে নিয়ে সাগরপাড় এলাকায় সাগরে ফেলে দেন।’

পরিদর্শক ইলিয়াস খান বলেন, ‘আবির দম্ভ করেই আমাদের বলছিলেন যে তিনি কোনো আলামতই রাখেননি খুনের। মানে ক্রাইম পেট্রল দেখে তিনি সব আলমতই নষ্ট করে ফেলেছেন। তবে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটি ও অ্যান্টিকাটার উদ্ধার করেছি আমরা। আয়াতের মরদেহের খণ্ডিতাংশও উদ্ধারের চেষ্টা চলছে এখনও।’

এদিকে আয়াতের মৃত্যুর খবরে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো এলাকা। নিখোঁজের পর থেকেই নাওয়া খাওয়া ছেড়ে দিয়েছিল আয়াতের বাবা মা। মৃত্যুর খবরে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তারা।

আয়াতের দাদা মঞ্জুর হোসেন এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না স্বভাবজাত দুষ্টুমি আর প্রাণচাঞ্চল্যে সারা বাড়ি মাতিয়ে রাখা আয়াত আর নেই। শুক্রবার দুপুর বারোটার দিকে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুলিশ বলছে আয়াতকে মেরে ফেলছে। কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি এখনও। তাকে অবশ্যই ফিরে পাব আমরা।’

তার চাচা (বাবার চাচাত ভাই) জুবায়ের হোসেন বাবুল বলেন, ‘তারা ২০০১ সাল থেকে এখানে থাকে। মাঝে অন্য বাসায় চলে গিয়েছিল, পরে আবার আসছে। দীর্ঘদিন এখানে থাকায় তাদের একটা ভালো সম্পর্ক ছিল। আয়াত আবিরকে চিনত। তার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর বাসার সবাই বারবার কাঁদতে কাঁদতে বেহুশ হয়ে আছে। তাদের কী সান্তনা দেব, আমি নিজেই থাকতে পারছি না।’

আরও পড়ুন:
শিশু আয়াতকে হত্যার পর ৬ টুকরা করেন সাবেক ভাড়াটিয়া
কোথায় গেল ছোট্ট আয়াত!
শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ প্রতিবেশীর ঘরে
শিশুর মরদেহ মিলল নির্মীয়মাণ বাড়ির সামনে
নালায় শিশুর মরদেহ: ১০০ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ-হত্যা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Dead bodies of 2 brothers in school room father arrested

স্কুলকক্ষে ২ ভাইয়ের মরদেহ: বাবা আটক

স্কুলকক্ষে ২ ভাইয়ের মরদেহ: বাবা আটক দিনাজপুরের বিরলের ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কক্ষে দুই শিশুর মরদেহ পাওয়া যাওয়ার খবরে স্থানীয়দের ভিড়। ছবি: নিউজবাংলা
নিহত দুই শিশুর দাদী উম্মে কুলসুম সকালে বলেছিলেন, ‘গতকাল (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যার পর থেকে দুই শিশু নিখোঁজ ছিল। আমরা রাত থেকেই দুই বাচ্চাকে খোঁজাখুঁজি করি, কিন্তু তাদের কোনো সন্ধান পাই না। আজ সকালে আমার ছেলে শরিফুল আমাদের ফোন করে বলে স্কুলে আমার দুই নাতির লাশ পড়ে আছে।’

দিনাজপুরের বিরলে একটি স্কুলের কক্ষ থেকে উদ্ধার মৃত দুই শিশুর বাবাকে আটক করেছে পুলিশ।

উপজেলার মঙ্গলপুর এলাকা থেকে শুক্রবার সন্ধ্যায় শরিফুল ইসলাম নামে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

নিউজবাংলাকে এসব নিশ্চিত করেছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আসলাম উদ্দিন।

তিনি জানান, তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাকে সুস্থ অবস্থায় আটক করা হয়।

শিশুদুটির মা কুলসুম বানু ঢাকায় থাকেন জানিয়ে বিরল থানার ওসি রেজাউল হাসান রেজা বলেন, ‘নিহত দুই শিশুর মা এখনও এসে পৌঁছাননি। তিনি এসে পৌঁছালে মামলা করা হবে।’

ওসি জানান, পরিবারের সদস্যদের কাছে তিনি শুনেছেন যে শিশুদের মা ঢাকায় একটি কারখানার শ্রমিক।

ওই স্কুলকক্ষে শুক্রবার সকালে পাওয়া যায় মরদেহদুটি। পাশে পাওয়া যায় বিষের বোতল।

স্কুলকক্ষে ২ ভাইয়ের মরদেহ: বাবা আটক
নিহত দুই শিশুর বাবা শরিফুল ইসলাম

নিহতরা হলো ৭ বছর বয়সী মো. রিমন ও ৩ বছর বয়সী মো. ইমরান। তাদের বাড়ি শংকরপুরের ঘোড়ানীর গ্রামে।

স্থানীয় এক ব্যক্তি সকালে বলেন, ‘দুই সন্তানকে বাবা বিষ খাইয়ে হত্যা করে নিজেও বিষ খাইছে। তবে তার বাবা কোথায় আছেন তা কেউ বলতে পারছে না।’

নিহত দুই শিশুর দাদী উম্মে কুলসুম সকালে বলেছিলেন, ‘গতকাল (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যার পর থেকে দুই শিশু নিখোঁজ ছিল। আমরা রাত থেকেই দুই বাচ্চাকে খোঁজাখুঁজি করি, কিন্তু তাদের কোনো সন্ধান পাই না।

‘আজ সকালে আমার ছেলে শরিফুল আমাদের ফোন করে বলে স্কুলে আমার দুই নাতির লাশ পড়ে আছে। পরে আমরা স্কুলে আসলে নাতিদের লাশ কোথাও পাই না। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে একটা ভাঙা রুমে আমার নাতিদের লাশ পাই।’

আরও পড়ুন:
রাতে শিশুটিকে ডোবায় ফেলে এসে ঘুমিয়ে পড়েন বাবা
শিশুকে নদীতে চুবিয়ে হত্যা, নারী কবিরাজের আমৃত্যু কারাদণ্ড
শিশুকে হত্যার পর মাটিচাপা, সৎ মা কারাগারে
শিশুকে হত্যার পর মাটিচাপা, সৎমা আটক
শিশুকে শাবলের আঘাতে হত্যার মামলায় চাচি কারাগারে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The strike called in protest against taking the bus to the police station has been called off

বাস থানায় নেয়ার প্রতিবাদে ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাহার

বাস থানায় নেয়ার প্রতিবাদে ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাহার
পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সুজাউল কবির বলেন, ‘জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মহোদয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। এটির একটি সুন্দর সমাধান হয়েছে। আমরা অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের কর্মসূচি প্রত্যাহার ঘোষণা করছি।’

সড়কে রাখা তিনটি বাস থানায় নিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে ডাকা পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) জাহাঙ্গীর হোসেন এবং পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ এহসান শাহ্-এর সঙ্গে পরিবহন শ্রমিক নেতাদের সভা শেষে আসে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা।

পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সুজাউল কবির বলেন, ‘জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মহোদয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। এটির একটি সুন্দর সমাধান হয়েছে। আমরা অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের কর্মসূচি প্রত্যাহার ঘোষণা করছি।’

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রিপন কুমার মদক সন্ধ্যায় জানান, যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

জেলার ওয়েজখালী এলাকার সড়ক থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে শ্যামলী, মামুন ও সাকিল পরিবহনের তিনটি বাস জব্দ করে পুলিশ।

এ ঘটনায় চালক-শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ধর্মঘটের ঘোষণা দেন বৃহস্পতিবার রাতেই। এরপর শুক্রবার সকাল থেকে বন্ধ হয়ে যায় বাস চলাচল।

বাস থানায় নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) এহসান শাহ্ বলেন, ‘সড়কের ওপরে বাস রাখলে জনগণের ভোগান্তি হয়। প্রতি আইনশৃঙ্খলা সভাসহ বিভিন্ন সভায় এ বিষয়টি বারবারই আলোচনা হয়।

‘তাই ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য তিনটি বাস পুলিশ লাইনসে এনে রাখা হয়েছে। এটিকে ইস্যু করে ধর্মঘট ডেকে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলা যুক্তিযুক্ত হবে না।’

আরও পড়ুন:
থানায় বাস, প্রতিবাদে পরিবহন ধর্মঘট সুনামগঞ্জে
হবিগঞ্জে চলছে বাস ধর্মঘট, চার দিনে ক্ষতি ৫ কোটি
পরিবহনসহ অত্যাবশ্যকীয় সেবায় ধর্মঘট ডাকলে সাজা
সিলেটে চলছে পরিবহন ধমর্ঘট
জ্বালানি, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটিতে ধর্মঘট ডাকলে সাজা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
After killing Shishu Ayat the young man cut him into 6 pieces
নিউজবাংলাকে পিবিআই

শিশু আয়াতকে হত্যার পর ৬ টুকরা করেন সাবেক ভাড়াটিয়া

শিশু আয়াতকে হত্যার পর ৬ টুকরা করেন সাবেক ভাড়াটিয়া চট্টগ্রামের ইপিজেড থানা এলাকা থেকে নিখোঁজ সাত বছর বয়সী আয়াতকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার নাঈমা সুলতানা বলেন, ‘আবির জানিয়েছে, মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে ঘটনার দিন বিকেলে আয়াতকে সে অপহরণের চেষ্টা করে। এ সময় চিৎকার করলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে সে। পরে মরদেহ আকমল আলী সড়কের বাসায় নিয়ে ছয় টুকরা করে।’

চট্টগ্রামের ইপিজেড থানা এলাকা থেকে নিখোঁজ পাঁচ বছর বয়সী আয়াতকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ ছয় টুকরা করে নদীতে ফেলে দেয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় জড়িত আবির আলী নামের এক যুবককে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার নাঈমা সুলতানা।

আবির আয়াতের দাদা বাড়ির সাবেক ভাড়াটিয়া। তিনি নগরের আকমল আলী সড়কে মায়ের সঙ্গে থাকেন।

১৯ বছর বয়সী এ যুবক তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।

নাঈমা সুলতানা বলেন, ‘মুক্তিপণ দাবির উদ্দেশ্যে তাকে (আয়াত) অপহরণ করে তাদের সাবেক ভাড়াটিয়া আবির আলী। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাকে গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাত ১১টার দিকে আকমল আলী সড়ক থেকে আটক করা হয়। সে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আবির জানিয়েছে, মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে ঘটনার দিন বিকেলে আয়াতকে সে অপহরণের চেষ্টা করে। এ সময় চিৎকার করলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে সে। পরে মরদেহ আকমল আলী সড়কের বাসায় নিয়ে ছয় টুকরা করে।

‘খণ্ডিত মরদেহ দুটি ব্যাগে নিয়ে বেড়িবাঁধ এলাকায় নদীতে ফেলে দেয়। সেসব আমরা উদ্ধারের চেষ্টা করছি, তবে মরদেহ টুকরা করার কাজে ব্যবহার করা বঁটি ও অ্যান্টি কাটার উদ্ধার করা হয়েছে।’

এর আগে গত ১৫ নভেম্বর চট্টগ্রামের ইপিজেড থানার বন্দরটিলার নয়ারহাট বিদ্যুৎ অফিস এলাকার বাসা থেকে পার্শ্ববর্তী মসজিদে আরবি পড়তে যাওয়ার সময় নিখোঁজ হয় আলিনা ইসলাম আয়াত। পরদিন এ ঘটনায় ইপিজেড থানায় নিখোঁজের ডায়েরি করেন তার বাবা সোহেল রানা।

আরও পড়ুন:
কোথায় গেল ছোট্ট আয়াত!
শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ প্রতিবেশীর ঘরে
শিশুর মরদেহ মিলল নির্মীয়মাণ বাড়ির সামনে
নালায় শিশুর মরদেহ: ১০০ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ-হত্যা
নিখোঁজ শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ নালায়

মন্তব্য

বাংলাদেশ
In another caste marriage is the result of life

অন্য বর্ণে বিয়ের খেসারত জীবন দিয়ে

অন্য বর্ণে বিয়ের খেসারত জীবন দিয়ে গত সপ্তাহে আয়ুশি চৌধুরীর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ছবি: সংগৃহীত
প্লাস্টিকে মোড়ানো আয়ুশির দেহটি একটি লাল স্যুটকেসে বন্দি অবস্থায় শুক্রবার উত্তর ভারতের মথুরা শহরের কাছে পাওয়া যায়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে আয়ুশির বাবা নীতেশ কুমার যাদব এবং মা ব্রজবালাকে। পুলিশের ধারণা, অনার-কিলিংয়ের শিকার হয়েছেন মেয়েটি।   

আয়ুশি চৌধুরীর ২২তম জন্মদিন আগামী ১ ডিসেম্বর। দিনটা আর উদযাপন করা হবে না তার। কারণ ৯ দিন আগে পুলিশের সামনেই আয়ুশির মরদেহ দাহ করা হয়েছে।

প্লাস্টিকে মোড়ানো আয়ুশির দেহটি একটি লাল স্যুটকেসে বন্দি অবস্থায় শুক্রবার উত্তর ভারতের মথুরা শহরের কাছে পাওয়া যায়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে আয়ুশির বাবা নীতেশ কুমার যাদব এবং মা ব্রজবালাকে। পুলিশের ধারণা, অনার-কিলিংয়ের শিকার হয়েছেন মেয়েটি।

সম্মান রক্ষার্থে হত্যা বা অনার-কিলিং হলো কাউকে নিজের পরিবার বা গোত্রের সম্মানহানির দায়ে ওই পরিবার বা গোত্রের অপর ব্যক্তি কর্তৃক হত্যা করা। এর মাধ্যমে এই সম্মানহানির উপযুক্ত প্রতিকার হয় বলে মনে করা হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় অনার কিলিং সংঘটিত হলেও, ভারতে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। এই অনার কিলিংয়ের প্রধান শিকার নারীরা।

পুলিশের অভিযোগ, রাজধানী দিল্লির কাছে নিজ বাড়িতে ১৭ নভেম্বর বাবার গুলিতে নিহত হন আয়ুশি। অন্য জাতের এক পুরুষকে বিয়ে করা নিয়ে সেদিন পরিবারের সঙ্গে তর্কাতর্কি হয়েছিল আয়ুশির। খুনের পর তার বাবা-মা মরদেহ যমুনা এক্সপ্রেসওয়ের কাছে ফেলে এসেছিলেন।

দম্পতি এখন পুলিশ হেফাজতে। তবে তারা এখন পর্যন্ত কিছু শিকার করেননি। পুলিশ মামলাটি তদন্ত করছে।

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড গোটা ভারতকে নাড়িয়ে দিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে বছরে নারীর প্রতি সহিংসতার লাখ লাখ অভিযোগ জমা পড়ে।

অন্য বর্ণে বিয়ের খেসারত জীবন দিয়ে
ঘরের তাকে সুন্দর করে সাজানো আয়ুশির বইগুলো

বিবিসি হিন্দি যখন দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির বদরপুরে আয়ুশির বাড়িতে যায়, তখন স্বাভাবিকভাবে ব্যস্ত পাড়াটি হতাশায় আচ্ছন্ন ছিল। এক প্রতিবেশী জানান, আয়ুশির কী হয়েছে শুনে দুদিন ধরে তিনি ঠিকমতো খাননি।

‘সে পড়াশোনায় খুব ভালো ছিল, হাই স্কুলের পরীক্ষায় অনেক ভালো নম্বর পেয়েছিল’... তিনি স্মরণ করেন।

আয়ুশি একটি বেসরকারি কলেজ থেকে কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনে স্নাতক করছিলেন। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্নে বিভোর ছিলেন।

বাড়ির প্রথম তলায় ছিল আয়ুশি ঘর। এখানে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ছাপ পাওয়া যায়। প্রতিটি আসবাবে ছড়িয়ে আছে আয়ুশির দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট আনন্দ... জাগতিকতা।

অন্য বর্ণে বিয়ের খেসারত জীবন দিয়ে
এই লাল স্যুটকেসটিতে পাওয়া যায় আয়ুশির মরদেহ

এখনও আয়ুশির বইগুলো তার পড়ার টেবিলের তাকে সুন্দর করে সাজানো রয়েছে। দেয়ালে ঝুলছে বাবা-মা, ছোট ভাই আর দাদির সঙ্গে আয়ুশির হাস্যোজ্জ্বল একটি ছবি।

ছোট্ট আলমারিটাতে থাকা নেইলপলিশ, লিপস্টিকসহ সাজসজ্জার জিনিসগুলো আর ব্যবহার করা হবে না আয়ুশির। তার বিছানার কাছে ঝুলে থাকা ডোরেমন পুতুলটি যেন এখনও খুঁজছে আয়ুশিকে।

আয়ুশির দাদি জামবন্তি জানান, শান্ত স্বভাবের মেয়ে ছিল আয়ুশি। বেশির ভাগ সময় তার ঘরে পড়াশোনায় মগ্ন থাকত তার নাতনি।

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে জামবন্তি বলেন, ‘গত ১৫ হাসপাতালে ছিলাম। যখন আমি ফিরে আসি, তখন পুলিশ এসে আমার ছেলে ও পুত্রবধূকে ধরে নিয়ে যায়।’

অন্য বর্ণে বিয়ের খেসারত জীবন দিয়ে
আয়ুশির ঘরের দেয়ালে ঝুলছে তার খেলনাগুলো

পুলিশের বরাতে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়, আয়ুশি গত বছর তার বাবা-মায়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে অন্য বর্ণের এক পুরুষকে বিয়ে করেছিলেন।

পুলিশ কর্মকর্তারা বিবিসি হিন্দিকে বলেন, ‘এ বিষয়টি নিয়ে আয়ুশির সঙ্গে তার বাবা-মায়ের দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছিল। যার ফলে প্রায়শই ঝগড়া হতো।’

পরিবারের দাবি, খুনের দিন আয়ুশি বাড়িতে কাউকে কিছু না জানিয়ে বাইরে চলে গিয়েছিলেন। ফিরে আসার পর তার বাবা ভীষণ খেপে যান।

ময়নাতদন্তে আয়ুশির মাথা, মুখ এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পুলিশ জানায়, বুকে দুবার গুলি করা হয়েছে আয়ুশিকে। এতেই তার মৃত্যু হয়।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Chhatra Dal leader Nayan murder Court did not take case against police

ছাত্রদল নেতা নয়ন হত্যা: পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা নেয়নি আদালত

ছাত্রদল নেতা নয়ন হত্যা: পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা নেয়নি আদালত বাঞ্ছারামপুরে বিএনপির সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে গুলিবদ্ধ ছাত্রদল নেতা নয়ন মিয়া মারা গেছেন। ছবি: নিউজবাংলা
নয়নের বাবা আবেদনে অভিযোগ করেন, গত শনিবার বিকেল ৪টার দিকে পুলিশ ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের ওপর হামলা করে। সে সময় নেতা-কর্মীরা কুমিল্লায় বিএনপির সমাবেশ ঘিরে লিফলেট বিতরণ করছিলেন। কনস্টেবল বিশ্বজিৎ নেতা-কর্মীদের দিকে গুলি চালালে ছাত্রদল নেতা নয়ন গুলিবদ্ধ হন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ছাত্রদল নেতা নয়ন হত্যার ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে করা মামলার আবেদন খারিজ করেছে আদালত।

মুখ্য বিচারিক হাকিম সামিউল আলম বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়নের বাবা রহমত উল্লাহর করা ওই আবেদন খারিজ করেছেন।

জেলা জজ আদালতের পরিদর্শক কাজী দিদারুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার ওই আবেদনে নয়ন হত্যায় অভিযুক্ত করা হয়েছিল জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হোসেন রেজা, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম, পরিদর্শক (তদন্ত) তরুণ দে, উপপরিদর্শক (এসআই) আফজাল হোসেন খান, এসআই বিকিরণ চাকমা, কনস্টেবল বিশ্বজিৎ বিশ্বাস ও কনস্টেবল শফিকুল।

এর মধ্যে কনস্টেবল বিশ্বজিৎকে প্রধান অভিযুক্ত বলা হয়েছিল।

নয়নের বাবা আবেদনে অভিযোগ করেন, গত শনিবার বিকেল ৪টার দিকে পুলিশ ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের ওপর হামলা করে। সে সময় নেতা-কর্মীরা কুমিল্লায় বিএনপির সমাবেশ ঘিরে লিফলেট বিতরণ করছিলেন। কনস্টেবল বিশ্বজিৎ নেতা-কর্মীদের দিকে গুলি চালালে ছাত্রদল নেতা নয়ন গুলিবদ্ধ হন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

নয়ন উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি ছিলেন।

উপজেলা বিএনপি ও স্থানীয় লোকজন জানান, ২৬ নভেম্বর কুমিল্লায় বিএনপির সমাবেশ সফল করতে গত শনিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বাঞ্ছারামপুরে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপজেলা সদরে প্রচারপত্র বিলি করেন। একপর্যায়ে বিএনপি নেতা সায়েদুজ্জামান কামালের নেতৃত্বে মোল্লা বাড়ি থেকে তারা মিছিল বের করেন।

সেখানে বাঞ্ছারামপুর থানার ওসি নূরে আলমের নেতৃত্বে অবস্থান নেন পুলিশ সদস্যরা। পুলিশ এ সময় সায়েদুজ্জামানকে আটক করতে যায়। একপর্যায়ে বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের হাতাহাতি ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। বিএনপির নেতা-কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। এ সময় ছাত্রদল নেতা নয়ন গুলিবিদ্ধ হন।

এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর থানার ওসি নূরে আলম বলেন, বিকেলে বিএনপির এক শ থেকে দেড় শ নেতা-কর্মী আকস্মিক মিছিল নিয়ে থানার সামনে জড়ো হয়ে পুলিশকে উদ্দেশ করে ইটপাটকেল ছোড়া শুরু করেন। সেখানে টহল দলের দুই কনস্টেবলের কাছ থেকে তারা অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় কনস্টেবল এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন।

আরও পড়ুন:
ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সভাপতি-সেক্রেটারির গাড়িবহরে হামলা
বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে মামলা, ৬৬ নেতা-কর্মী আসামি
কিশোর অপরাধ দমনে পুলিশের ‘হোন্ডা পার্টি'
ছাত্রলীগের বহরে বিস্ফোরণ: যুবদল নেতাসহ ১২ জনের নামে মামলা
কুমিল্লায় ধর্মঘট দিলে এক মাস আগেই সরকারপতন: বিএনপি নেতা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
66 leaders activists accused in BNP police clash

বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে মামলা, ৬৬ নেতা-কর্মী আসামি

বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে মামলা, ৬৬ নেতা-কর্মী আসামি
ওসি বাদল বলেন, ‘মঙ্গলবার বিকেলে বিক্ষোভ সমাবেশে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে পুলিশের ওপর। এ ঘটনায় ৬ পুলিশ সদস্য আহত হন।’ জেলা বিএনপির সভাপতি মো. মাহমুদুল হক রুবেলের দাবি, পুলিশের হামলায় বিএনপির শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।

শেরপুরে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা হয়েছে। সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুর রহমান মঙ্গলবার রাতে এই মামলা করেছেন; মামলায় আসামি করা হয়েছে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ৬৬ জনকে। অজ্ঞাতপরিচয় আরও দেড়শ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বছির আহমেদ বাদল এসব নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সংঘর্ষের ঘটনার পর আটক ১৫ জনকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

ওসি বাদল বলেন, ‘মঙ্গলবার বিকেলে বিক্ষোভ সমাবেশে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে পুলিশের ওপর। এ ঘটনায় ৬ পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১০১ রাউন্ড শটগানের গুলি এবং ২২ রাউন্ড টিয়ারশেল ছোড়া হয়েছে। পরে এ অভিযোগে রাতে পুলিশ মামলা করেছে।’

জেলা বিএনপির সভাপতি মো. মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাত্রদল নেতা নয়ন মিয়াকে হত্যার প্রতিবাদে দুপুরে শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ ছিল। আমরা মিছিল নিয়ে রঘুনাথপুর মোড় অতিক্রমের সময় ডিবি পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।’

তার দাবি, পুলিশের হামলায় বিএনপির শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন:
ছাত্রলীগের বহরে বিস্ফোরণ: যুবদল নেতাসহ ১২ জনের নামে মামলা
কুমিল্লায় ধর্মঘট দিলে এক মাস আগেই সরকারপতন: বিএনপি নেতা
সবকিছুর জবাব নেব: রুমিন ফারহানা
বিএনপি এলে দুধের সাগর বইবে না, সমর্থন নিঃশর্ত নয়: মান্না
১০ শর্তে কুমিল্লায় বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি

মন্তব্য

p
উপরে