× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
The Prime Minister is going to Japan on November 29
hear-news
player
google_news print-icon

২৯ নভেম্বর জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

২৯-নভেম্বর-জাপান-যাচ্ছেন-প্রধানমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সফরটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। দুই দেশ এখন সফর নিয়ে কাজ করছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন জাপান সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারত্ব পর্যায়ে বাঁক দিতে চায় টোকিও। আগামী নভেম্বরের শেষের দিকে এই সফর হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘সফরটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। দুই দেশ এখন সফর নিয়ে কাজ করছে।’

এদিকে সফর উপলক্ষে বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন এতে সভাপতিত্ব করেন।

সভা শেষে মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা মহসিন রেজা পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার আমন্ত্রণে ২৯ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপান সফর করবেন। এ সফরে বাংলাদেশ ও জাপান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ পর্যায়ে উন্নীত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই সফরকে ঘিরে ইতোমধ্যে ঢাকায় এসেছেন জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়াবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী/মহাপরিচালক আরিমা ইউটাকা। তিনি বৃহস্পতিবার সকালে পররাষ্ট্রসচিব রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

এ সময় দুই কূটনীতিকের বৈঠকে উভয় পক্ষই দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বিশেষ করে ২০১৪ সালের মে মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান সফরের কথা তুলে ধরেন, যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ‘বিস্তৃত অংশীদারত্ব’ স্তরে উন্নীত করেন।

এরপর সে বছরের সেপ্টেম্বরে ফিরতি সফরে ঢাকা আসেন আবে। এ সফরে জাপানের ‘বিগ- বি’ প্রকল্পের অধীনে ঢাকা ও টোকিও গভীর অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ঘোষণা দেয়।

ঢাকা সফররত জাপানের সহকারী মন্ত্রী আরিমা ইউটাকা আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ-জাপান বন্ধুত্বের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন জাপান সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরে বাংলাদেশ ও জাপান উন্নয়ন সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি, আইসিটি, শিক্ষা, প্রতিরক্ষা সংলাপ ও বিনিময়, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ, প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে গভীর অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তুলবে।

২৯ নভেম্বর জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী আরিমা ইউটাকা

বৃহস্পতিবারের বৈঠকে উভয় পক্ষই জলবায়ু পরিবর্তন, জাতিসংঘের সংস্কার, নিরস্ত্রিকরণ এবং অপ্রসারণ ইত্যাদি বিষয়ে আন্তর্জাতিক ফোরামে সহযোগিতা বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করে।

বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল) রাসেল পারভেজ যোগ দেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন জাপান সফরের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করতে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী/মহাপরিচালক দুই দিনের সফরে ঢাকায় আসছেন।

আরও পড়ুন:
সিত্রাং মনিটরিং সেল: তদারকি করছেন প্রধানমন্ত্রী
শি জিন পিংকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন
ইতালির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন মেলোনি
ট্রাফিক আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
রূপপুরে উচ্চক্ষমতার চুল্লি দেবে রাশিয়া

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
The project director was beaten and vandalized by the contractors in Chittagong

চট্টগ্রামে প্রকল্প পরিচালককে ঠিকাদারদের মারধর, ভাংচুর

চট্টগ্রামে প্রকল্প পরিচালককে ঠিকাদারদের মারধর, ভাংচুর রোববার প্রকল্প পরিচালককে ঠিকাদারদের মারধরের পর সিসিটিভি ফুটেজ দেখছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা। ছবি: সংগৃহীত
প্রকল্প পরিচালক মো. গোলাম ইয়াজদানীর দপ্তরে ৮-১০ জন ঠিকাদার ঢুকে তর্ক জুড়ে দেন। একপর্যায়ে তারা প্রকল্প পরিচালকের ওপর হামলা চালান। ঠিকাদাররা তাকে উপর্যুপরি কিল-ঘুষি মারতে থাকেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) একটি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালককে মারধর করেছেন কয়েকজন ঠিকাদার। নগরের টাইগারপাসে চসিকের অস্থায়ী কার্যালয়ের চারতলায় রোববার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ঠিকাদাররা প্রকল্প পরিচালকের কক্ষের টেবিল ও বাইরের নামফলক ভাংচুর করেন।

চট্টগ্রাম সিটি মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, স্বচ্ছতার মাধ্যমে হওয়া টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কাজ না পেয়ে ঠিকাদাররা ওই হামলা চালিয়েছেন।

সূত্র বলছে, চট্টগ্রাম নগরীর সড়ক উন্নয়নে ২ হাজার ৪৯০ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ হচ্ছে। এর মধ্যে এখন ই-গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্টের (ইজিপি) মাধ্যমে ২২০ কোটি টাকার দরপত্র প্রক্রিয়ার মূল্যায়ন চলছে। নানা কারণে হামলাকারীরা সেই প্রক্রিয়ায় কাজ পাচ্ছেন না। তাতে ক্ষুব্ধ ছিলেন তারা।

হামলার শিকার মো. গোলাম ইয়াজদানী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী। তাকে গত বছরের ১৪ আগস্ট ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আওতায় এয়ারপোর্ট রোডসহ বিভিন্ন সড়কসমূহ উন্নয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

চসিক সূত্র বলেছে, রোববার নগরের আন্দরকিল্লায় পুরোনো নগর ভবনে সাধারণ সভা হয়। সেই সভা শেষ করে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে টাইগারপাসে অস্থায়ী প্রধান কার্যালয়ে নিজের দপ্তরে আসেন প্রকল্প পরিচালক মো. গোলাম ইয়াজদানী। তিনি দপ্তরে ঢোকার পর পরই ৮-১০ জন ঠিকাদার অনুমতি ছাড়াই তার কক্ষে ঢুকে তর্ক জুড়ে দেন। একপর্যায়ে তারা অতর্কিতভাবে প্রকল্প পরিচালকের ওপর হামলা চালান। ঠিকাদাররা তাকে উপর্যুপরি কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। অফিস সহকারী তিলক দে প্রকল্প পরিচালককে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। হামলার পর দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন ওই ঠিকাদাররা।

রোববার সন্ধ্যায় প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, নামফলক ভেঙে ফেলা হয়েছে। কার্যালয়ের এখানে-ওখানে ভাঙা কাচ। এ সময় মো. গোলাম ইয়াজদানী বলেন, ‘আমি ঘটনার পর থেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় আছি। এ নিয়ে এখন আর কথা বলতে চাচ্ছি না।’

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের প্রকল্প পরিচালককে মারধরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি। অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে চট্টগ্রাম সিটির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘হামলাকারী ঠিকাদারদের মধ্যে মো. সাহাবুদ্দিন, মো. ফেরদৌস, হাবিব, সুভাস, কঙ্কন, নাজিম ও ফিরোজ ছিলেন। এই সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।’

হামলার বিষয়ে রোববার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম সিটি মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা অবশ্যই অ্যাকশনে যাচ্ছি। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে কারা ছিলেন। ছবি বের করছি। সাহাবুদ্দিন নামে একজনের নেতৃত্বে হামলা হয়েছে। স্বচ্ছতার মাধ্যমে কাজ দেয়া হচ্ছে। এখানে তো মামার বাড়ির কোনো আবদার নেই। নিয়ম অনুযায়ী যদি এই ঠিকাদাররা কাজ না পান আমাদের কী করার আছে? আমরা মামলা করব।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদার সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘আমি রোববার সিটি করপোরেশনে যাইনি। হামলার অভিযোগ সঠিক নয়।’

আরও পড়ুন:
বরিশালে শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ
যাত্রীর অন্তর্বাসে দেড় কোটি টাকার স্বর্ণ
সার্ভার হ্যাক করে ৫ হাজার জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরি
আদালত থেকে পালানো আসামি ফের মাদক নিয়ে গ্রেপ্তার
চট্টগ্রামে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষ, আটক ২০

মন্তব্য

বাংলাদেশ
A mountain of complaints against SI Taj including passenger harassment

যাত্রী হয়রানিতে ‘‌পটু’ এসআই তাজ

যাত্রী হয়রানিতে ‘‌পটু’ এসআই তাজ কক্সবাজার বিমানবন্দরের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) উপ-পরিদর্শক (এসআই) তাজ। ছবি: নিউজবাংলা
পুলিশ ও বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের নভেম্বরের বিমানবন্দরে একযাত্রীর ব্যাগে পাওয়া ৫ লাখ টাকাকে ৫০ হাজার দেখিয়ে বাকিটা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে এসআই তাজের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিভাগীয় ব্যবস্থার জন্য সুপারিশ করেছে জেলা পুলিশ, কিন্তু এসআই তাজের বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

কক্সবাজার বিমানবন্দরের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) উপ-পরিদর্শক (এসআই) তাজের বিরুদ্ধে যাত্রী হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। পর্যটকদের লাগেজ বা মালামাল বেশি থাকলে কৌশলে চাঁদা দাবি করেন তিনি। না দিলে শুরু করেন তল্লাশির নামে হয়রানি, যা নিয়ে বিব্রত বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এসআই তাজ।

২০২২ সালের ২৪ নভেম্বর ছুটি না নিয়ে ৫ লাখ টাকাসহ গোপনে বাড়ি যাচ্ছিলেন কক্সবাজার কোর্ট পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রবিউল ইসলাম। ওইদিন বিমানবন্দরে স্ক্যানারে ওই টাকাসহ ধরা পড়েন তিনি। এরপর রবিউলের পুরো টাকাকে ৫০ হাজার দেখিয়ে বাকিটা আত্মসাত করেন বলে অভিযোগ ওঠে তাজের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিভাগীয় ব্যবস্থার জন্য সুপারিশ করেছে জেলা পুলিশ, কিন্তু এসআই তাজের বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। যার ফলে নিয়মিত চাঁদাবাজি করে যাচ্ছেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা জানান, তাজের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত অভিযোগ আসছে। যাত্রীদের নানাভাবে হয়রানি করছেন তিনি।

ভুক্তভোগী ঢাকাগামী যাত্রী সামিয়া ও তাসনিম জাহিদ দম্পতি জানান, যাবার পথে অতিরিক্ত লাগেজ থাকার অজুহাতে তাদেরকে বিমানবন্দরের গেটেই হয়রানি শুরু করেন এসআই তাজ। এক পর্যায়ে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার হুমকিও দেন তিনি।

জসিম মাহমুদ নামের আরেক যাত্রী জানান, টাকা না দেয়ায় প্রায়ই তাজের হয়রানির শিকার হতে হয় তার।

অভিযোগ উঠেছে শুধু পর্যটক নয়, স্থানীয় বাসিন্দা,রাজনৈতিক নেতারাও তাজের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। কয়েকদফা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও কোনো সুরাহা আসেনি। এর আগে এসব ঘটনায় মুচলেকাও দিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এসআই তাজ।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ৮ আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক ফজলে রাব্বী বলেন, ‘‌ আমি বিষয়টি শুনেছেন। এ ব্যাপারে বিস্তারিত জেনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রীর জনসভা: মিছিলে সরব নারীরা
প্রধানমন্ত্রীর জনসভা: কক্সবাজারে আ.লীগ নেতা-কর্মীদের ঢল
সমুদ্র ছুঁয়ে বিমান নামার পথ খুলছে কক্সবাজারে
কক্সবাজার সৈকতে অবৈধ স্থাপনা নয়: হাইকোর্ট
তলবে হাইকোর্টে হাজির কক্সবাজারের ডিসি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Body on fire due to quarrel with husband

স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার জেরে গায়ে আগুন

স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার জেরে গায়ে আগুন ফাহমিদা আক্তার। ছবি: সংগৃহীত
স্ত্রী ফাহমিদাকে উদ্ধার করতে গিয়ে স্বামী পারভেজ খানও দগ্ধ হয়েছেন। তাদেরকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

ঢাকার কেরানীগঞ্জে স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়ায় ফাহমিদা আক্তার নামে এক গৃহবধূ দগ্ধ হয়েছেন। এ সময় তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে স্বামী পারভেজ খানও দগ্ধ হয়েছেন। তাদেরকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

কেরানীগঞ্জ থানাধীন আমবাগিচার বাসায় রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

পারভেজ খান জানান, তিনি লঞ্চে লস্কর পদে কর্মরত। তার স্ত্রী ফাহমিদা আক্তার পোশাক শ্রমিক। রোববার বিকেলে বাজার থেকে মাছ ও মুরগি এনে ফ্রিজে রাখতে বললে স্ত্রী অপারগতা প্রকাশ করেন। এতে স্ত্রীর সঙ্গে তার সামান্য তর্ক-বিতর্ক হয়। এই ঘটনার জের ধরে ফাহমিদা অভিমান করে রান্নাঘর থেকে কেরোসিন নিয়ে নিজের গায়ে ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে তিনিও দগ্ধ হন।

বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. এস এম আইউব হোসেন জানান, ফাহমিদা আক্তারের শরীরের ৯৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

আরও পড়ুন:
শুটিং স্পটে দগ্ধ অভিনেত্রী আঁখি
ধামরাইয়ে দগ্ধ ৫ জনই মারা গেলেন
ধামরাইয়ে গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ আরেকজনের মৃত্যু
গ্যাস লিকেজ থেকে আগুন: দগ্ধ শিশুর মৃত্যু
উত্তরখানে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Former UP member stabbed to death

সাবেক ইউপি সদস্যকে টেঁটা দিয়ে হত্যা

সাবেক ইউপি সদস্যকে টেঁটা দিয়ে হত্যা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ফাইল ছবি
নবীনগর ও বাঞ্ছারামপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিরাজুল ইসলাম জানান, সাবেক ইউপি সদস্য অলি মিয়ার সঙ্গে একই এলাকার ইকবালের বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে প্রতিপক্ষ তাকে টেঁটা বিদ্ধ করে কুপিয়ে হত্যা করে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে টেঁটা বিদ্ধ করে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে ওলি মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে। তিনি ওই এলাকার মৃত শহীদ মিয়ার ছেলে এবং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য।

রোববার রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার সলিমাবাদ ইউনিয়নের তাতুয়াকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নবীনগর ও বাঞ্ছারামপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিরাজুল ইসলাম জানান, সাবেক ইউপি সদস্য অলি মিয়ার সঙ্গে একই এলাকার ইকবাল হোসেনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তবে অলি মিয়া বাড়িতে থাকতেন না। একজনের জানাযা নামাজে শরিক হতে দীর্ঘদিন পর তিনি নিজ বাড়িতে আসেন।

পূর্ববিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষ তাতোয়াকান্দি গ্রামে ওলি মিয়াকে একা পেয়ে হামলা চালায়। অলি মিয়া দৌড় দিলে হামলাকারীরা তার দিকে টেঁটা ছুড়ে মারে। টেঁটা তার মুখ ও গলায় বিদ্ধ হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করে প্রতিপক্ষ।

ইকবাল ও তার সমর্থকরা চলে গেলে স্থানীয়রা ওলি মিয়াকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সিরাজুল ইসলাম আরও জানান, ইকবালের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতিসহ অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তী অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
নায়িকা শিমু হত্যা মামলায় মেয়ের সাক্ষ্য
‘গাড়ি চালকের সাহায্যে বাসায় ঢুকে সাংবাদিক আফতাবকে হত্যা’
বরিশালে বিষ মিশিয়ে দুই নারীকে হত‌্যা: পুলিশ
প্রেমিকের পিটুনিতে প্রাণ গেল মেয়ের বাবার
মাকে পাঁচ টুকরো করে হত্যার মামলায় ছেলেসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

মন্তব্য

বাংলাদেশ
BNP threw Sattar in the dustbin

‘বিএনপি সাত্তারকে ডাস্টবিনে ছুড়েছে’

‘বিএনপি সাত্তারকে ডাস্টবিনে ছুড়েছে’ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইলে বিএনপি থেকে বহিষ্কার হওয়া সাবেক এমপি উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়ার সমর্থনে বক্তব্য রাখছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, বিএনপি তাকে (উকিল আব্দুস সাত্তার) টিস্যু পেপারের মতো ছুড়ে ফেলে দিয়েছে ডাস্টবিনে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা এই অসহায় মানুষটির পাশে দাঁড়ালেন। সাত্তার ভাই আমাদের দলের কেউ নন। তার সুহৃদ আমরা। তাকে বিএনপি লাথি মেরেছে। তাই তার পাশে আমরা দাঁড়িয়েছি, আপনারাও তার পাশে থাকবেন।

বিএনপি উকিল আব্দুস সাত্তারকে টিস্যু পেপারের মতো ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইলে বিএনপি থেকে বহিষ্কার হওয়া সাবেক এমপি উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়ার সমর্থনে এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রোববার তিনি এমন মন্তব্য করেন।

আহমদ হোসেন বলেন, ‘‌বিএনপি তাকে (উকিল আব্দুস সাত্তার) টিস্যু পেপারের মতো ছুড়ে ফেলে দিয়েছে ডাস্টবিনে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা এই অসহায় মানুষটির পাশে দাঁড়ালেন। সাত্তার ভাই আমাদের দলের কেউ নন। তার সুহৃদ আমরা। তাকে বিএনপি লাথি মেরেছে। তাই তার পাশে আমরা দাঁড়িয়েছি, আপনারাও তার পাশে থাকবেন। ’

তিনি আরও বলেন, ‘‌বিএনপি একটি বিচিত্র দল। একটি মানুষ পাঁচবার এমপি হলো, জীবনের অনেক কিছু দিল। আর তাকে এভাবে ফেলে দিলো। এক ছাগলের তিন বাচ্চা। দুইটা দুধ খায়, আর একটা লাফায়। বাংলাদেশে ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা হচ্ছে বিএনপি।’

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, সংরক্ষিত এমপি উন্মে ফাতেমা নাজমা বেগম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার, সিনিয়র সহসভাপতি হেলাল উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল বারী চৌধুরী মন্টু, উপজেলা চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজমুল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ঠাকুর রাব্বি প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
পার্চিংয়ে কমছে খরচ, বাড়ছে ফলন
৫ সপ্তাহ আগেই অস্ত্রোপচার, জন্ম নিল চার শিশু
ছাত্রদের বের করে দিয়ে আ.লীগের বর্ধিত সভা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কবে হলো ‘রাশিয়া-ইউক্রেনপন্থিদের’ সংঘর্ষ
পিঠা উৎসবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভালো দিক উপস্থাপনের ডাক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
2 ships with goods from Ruppur center in Mongla

রাশিয়া থেকে রূপপুরের মালামাল নিয়ে ২ জাহাজ মোংলায়

রাশিয়া থেকে রূপপুরের মালামাল নিয়ে ২ জাহাজ মোংলায় রাশিয়া থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মেশিনারি নিয়ে মোংলা বন্দরে ভিড়েছে জাহাজ আনকা সান। ছবি: নিউজবাংলা
ভানুয়াতুর পতাকাবাহী ‘এমভি আনকা সান’ জাহাজটি বন্দরের ৭ নম্বর এবং লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘এমভি স্পোডিল্লা’ জাহাজটি মোংলা বন্দরের ৮ নম্বর জেটিতে নোঙ্গর করেছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালামাল নিয়ে বাগেরহাটের মোংলা সমুদ্র বন্দরে পৌঁছেছে রাশিয়ার দুটি জাহাজ। রোববার বিকেল সাড়ে ৫টায় জাহাজ দুটি মোংলা বন্দরে ভেড়ে।

ভানুয়াতুর পতাকাবাহী ‘এমভি আনকা সান’ জাহাজটি বন্দরের ৭ নম্বর এবং লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘এমভি স্পোডিল্লা’ জাহাজটি বন্দরের ৮ নম্বর জেটিতে নোঙ্গর করেছে।

জাহাজ দুটি রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ এবং নভরসতি বন্দর থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালামাল বহন করে এনেছে।

আরও পড়ুন: আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা: রূপপুরের পণ্যসহ রুশ জাহাজকে ভিড়তে মানা

‘এমভি আনকা সান’ জাহাজে রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১৯৭৯ প্যাকেজের ১৪০০ দশমিক ৪২ টন মেশিনারি এসেছে। এছাড়া ‘এমভি স্পোডিল্লা’ জাহাজে এসেছে ৪৩৬ প্যাকেজের ৫১৮ দশমিক ৪২১ টন মেশিনারি পণ্য।

রাশিয়া থেকে রূপপুরের মালামাল নিয়ে ২ জাহাজ মোংলায়
মোংলা বন্দরের ৮ নম্বর জেটিতে ভিড়েছে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি স্পোডিল্লা’। ছবি: নিউজবাংলা

বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শাহীন মজিদ বলেন, ‘রাশিয়া থেকে আসা জাহাজ দুটিতে রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের এক হাজার ৯শ’ টন মেশিনারি এসেছে। এসব মেশিনারি দুই দিনের মধ্যে খালাস করে সড়ক পথে রূপপুরের নির্মাণাধীন বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
রুশ জাহাজ ফের‌তেও ‘পেছাবে না রূপপুরের কাজ’
রাশিয়া জেনেশুনেই নিষেধাজ্ঞার জাহাজ পাঠিয়েছে: মোমেন
আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা: রূপপুরের পণ্যসহ রুশ জাহাজকে ভিড়তে মানা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Awami League does not run away but works with the people Sheikh Hasina

আওয়ামী লীগ পালায় না, জনগণকে নিয়ে কাজ করে: শেখ হাসিনা

আওয়ামী লীগ পালায় না, জনগণকে নিয়ে কাজ করে: শেখ হাসিনা রোববার রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিআইডি
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কখনো পালায় না। আওয়ামী লীগ জনগণকে নিয়ে কাজ করে। এই সংগঠন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের হাতে গড়া সংগঠন। এই সংগঠন যখনই ক্ষমতায় এসেছে, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার জন্য রাজশাহীর মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আগামী নির্বাচনে আবারও নৌকায় ভোট চাইলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আগামী নির্বাচন আসবে এই বছরের শেষে অথবা আগামী বছরের শুরুতেই। আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন কি না ওয়াদা চাই।

রোববার বিকেলে রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আধ ঘণ্টাব্যাপী বক্তব্যের অনেকটা অংশ জুড়েই প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তথ্য তুলে ধরেন। জনসভায় বক্তব্য দেয়ার আগে তিনি রাজশাহীর ২৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন এবং ৬টি উন্নয়ন কাজের ভিত্তি স্থাপন করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জনগণকে দিতে আসে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে জনগণ পায়। এটা হলো বাস্তব কথা।’

‘৯৬ সালে সরকার গঠন করার পরই আমরা চেষ্টা করেছি বাংলাদেশকে উন্নত গড়তে। ৪০ লাখ টন খাদ্য ঘাটতি ছিল। জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া- কেউই এদেশের মানুষের খাদ্যের নিরাপত্তা দেয়নি বা চিন্তাও করেনি। আওয়ামী লীগ সরকার এসে বাংলাদেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করে।’

সরকার প্রধান বলেন, ‘আজকে বিরোধী দল অনেক কথাই বলে। তারা আমাদেরকে নোটিশ দেয়। আবার বলে আমরা নাকি পালানোর পথ পাব না। বিএনপি-জামায়াত জোটকে জিজ্ঞাসা করি- পালায় কে? আওয়ামী লীগ কখনো পালায় না। পিছু হটে না। জিয়াউর রহমান তো বাধা দিয়েছিলেন, আমাকে দেশে আসতে দেবেন না। আমি বাধা অতিক্রম করেই দেশে ফিরেছিলাম।

‘আবার ২০০৭ সালে যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসে, তখন‌ও আমি বিদেশে গিয়েছিলাম। আমাকে দেশে ফিরতে দেবে না। আমি জোর করে দেশে ফিরে এসেছিলাম। আমার বিরুদ্ধে মার্ডার কেস দেয়া হয়েছিল। আমি বলেছিলাম- আমি যাব, এই কেস আমি মোকাবেলা করব। আমি দেশে ফিরে এসেছি শুধু বাংলার মানুষের কথা চিন্তা করে।’

আওয়ামী লীগ পালায় না, জনগণকে নিয়ে কাজ করে: শেখ হাসিনা

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, আওয়ামী লীগ পালায় না। পালায় বিএনপির নেতারাই। বিএনপি নাকি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করবে। কাকে নিয়ে? দুর্নীতিতে সাজাপ্রাপ্ত তাদের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে। যে নাকি ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে স্ট্যাম্পে মুচলেকা দিয়েছিল। আর কোনোদিন রাজনীতি করবে না বলে দেশ থেকে ভেগে গিয়েছিল, পালিয়ে গিয়েছিল।

দুর্নীতিতে সাজাপ্রাপ্ত খালেদা-তারেক। এমনকি খালেদা জিয়া তারেক-কোকোর মাধ্যমে যে টাকা পাচার করেছিলেন মানি লন্ডারিং করে, ৪০ কোটি টাকা আমরা বাংলাদেশে ফেরত নিয়ে এসেছি। তাদের পাচার করা টাকা। এর জবাব কি তারা দিতে পারবে?’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কখনো পালায় না। আওয়ামী লীগ জনগণকে নিয়ে কাজ করে। এই সংগঠন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের হাতে গড়া সংগঠন। এই সংগঠন যখনই ক্ষমতায় এসেছে, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে।

‘আজ বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। ৪০ ভাগ দারিদ্র সীমা আমরা ২০ ভাগে নামিয়েছি। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, দুস্থ মুক্তিযোদ্ধা ভাতা- সব ভাতা দিয়ে যাচ্ছি। মা-বোনদের মাতৃত্বকালীন ভাতা আমরা দেই। দেশের একটা মানুষও গৃহহীন থাকবে না, ভূমিহীন থাকবে না। এটাই আমাদের লক্ষ্য। কোনো মানুষ না খেয়ে কষ্ট পাবে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই রাজশাহী সব সময় অবহেলিত ছিল। কিছুক্ষণ আগেই আমরা কতগুলো প্রকল্প উদ্বোধন করলাম। ২০০৯ সাল থেকে এই ১৪ বছরে শুধু রাজশাহী জেলা ও মহানগরে ১০ হাজার ৬৬০ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্প আমরা বাস্তবায়ন করে দিয়েছি। কিছুক্ষণ আগে ১ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকার ২৬টি প্রকল্প উদ্বোধন করলাম। ৩৭৫ কোটি টাকার ৬টি প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করলাম। এই প্রকল্পগুলো আমি আপনাদের জন্য উপহার হিসেবে দিয়ে গেলাম।’

তিনি বলেন, ‘এই রাজশাহীর কী অবস্থা ছিল আপনারা একবার চিন্তা করে দেখুন। ২০০১ সালের কথা চিন্তা করেন। বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায়। প্রতিনিয়ত রাজশাহীতে ঘটেছে হত্যা, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, ধর্ষণ আর নির্যাতন। এই রাজশাহীর ফাহিমা, মহিমা, রাজুফার ওপর কিভাবে পাশবিক অত্যাচার করেছে বিএনপির ক্যাডার বাহিনী এবং জামায়াত জোট। একটা বাচ্চা মেয়েকে গ্যাং রেপ করা হলো তার বাবা-মা নৌকায় ভোট দিয়েছিল বলে।

‘আরে নৌকায় ভোট না দিলে দেশ স্বাধীন হতো না। দেশ স্বাধীন না হলে তাদের নেতা জিয়াউর রহমান মেজর থেকে মেজর জেনারেল প্রমোশন পেত না। এটা তারা ভুলে যায়। দেশ স্বাধীন না হলে কোনোদিন ক্ষমতায় আসতে পারত না খালেদা জিয়া। প্রধানমন্ত্রী হতে পারত না। সেই নৌকার ওপর এত রাগ কেন?’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের কোনো ভালো তারা সহ্য করতে পারে না। এটাই হলো বাস্তবতা। খুনিদেরকে খালেদা জিয়া পুরস্কৃত করে, জিয়াউর রহমান পুরস্কৃত করে। জনগণের ভোট চুরি করে তদেরকে পার্লামেন্টে বসায়। যুদ্ধাপরাধীদের জিয়াউর রহমান এমপি-মন্ত্রী পর্যন্ত বানিয়েছে।

‘আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছি। সেই ডিজিটালের মাধ্যমে তারা আমাদের গীবত গায়, অপপ্রচার চালায়। আর মানুষকে উস্কানি দেয়। এটাই তাদের কাজ।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং করোনার জন্য বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে। আমরা যে জিনিস ৬ ডলারে কিনতাম তা কিনতে হবে ৬৮ ডলারে। যে জিনিস ২০০ ডলারে কিনতাম তা কিনতে হবে ৬০০ ডলারে। তারপরও আমরা থেমে থাকিনি। আমরা এক কোটি মানুষের জন্য টিসিবির কার্ড করে দিয়েছি।

‘চাল, ডাল, তেল, চিনি- প্রতিটি জিনিস অতিরিক্ত দাম দিয়ে কিনে আনলেও আমরা তা কম মূল্যে সাধারণ মানুষকে দিচ্ছি; যেন মানুষের কোনো কষ্ট না হয়। আমরা এদেশের প্রতিটি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করে যাচ্ছি।’

সরকার প্রধান বলেন, ‘আমরা যে ওয়াদা দেই তা রক্ষা করি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বলেছিলাম, রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়ন করব। আল্লাহর রহমতে আমরা তা করেছি। ২০২০-এ জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী আর ২০২১-এ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী করে আজকের বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ। আগামীতে বাংলাদেশকে আমরা আরও উন্নত করতে চাই। প্রতিটি মানুষ কাজ পাবে। শিল্প-কলকারখানা করে দিচ্ছি।

‘এই রাজশাহীতে মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগই ছিল না। এখন ডিজিটাল সেন্টার, ট্রেনিং সবকিছু করে দিয়েছি। এখানে শিল্প-কলকারখানা হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করে দিয়েছি। এখানে মানুষের আরও ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। এখানে আন্তর্জাতিক কোনো ক্রিকেট খেলা হয় না। কারণ এখানে উন্নত মানের কোননোহোটেল নাই। অনেক বিত্তশালী আছে রাজশাহীতে। তাদেরকে বলব, আপনার একটা উন্নতমানের হোটেল করেন। আমরা যেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এখানে করতে পারি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘করোনার সময়ে আমি আসতে পারিনি। আজকে আপনাদের মাঝে এসে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আপনারা ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। গত নির্বাচনে নৌকা মার্কায় আপনারা ভোট দিয়েছেন। আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলছি- আগামী নির্বাচনে আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন কি না ওয়াদা চাই। ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ যেন করতে পারি সেজন্য আপনারা নৌকায় ভোট দেবেন প্রত্যাশা করি।

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামারের সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, কাজী জাফরউল্লাহ, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
পুলিশকে পাশে পেলে মানুষ যেন আশ্বস্ত হয়: প্রধানমন্ত্রী
৪০০ বাস-ট্রাকে রাজশাহী যাচ্ছেন নওগাঁ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা
সারদায় পুলিশের কুচকাওয়াজে প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থলে জড়ো হচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা
প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় রাজশাহী

মন্তব্য

p
উপরে