× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Increase food production as much as you can
hear-news
player
google_news print-icon

যে যা পারো খাবার উৎপাদন বাড়াও: প্রধানমন্ত্রী

যে-যা-পারো-খাবার-উৎপাদন-বাড়াও-প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যখনই ইউক্রেন আর রাশিয়ার যুদ্ধটা (শুরু) হলো, সারা বিশ্বে এটার একটা অর্থনীতিতে আঘাতটা আসল, কিন্তু শুধু আমাদের ওপরে না, পুরা ইউরোপ, আমেরিকা, ইংল্যান্ড থেকে শুরু করে ডেভেলপড কান্ট্রির ওপরেও এটার প্রভাবটা অনেক ব্যাপকভাবে পড়ল, যার জন্য আমি ইতিমধ্যে আমাদের সবাইকে বলছি, যার যেখানে যতটুকু জমি আছে, যে যা পারো নিজের খাবার উৎপাদন বাড়াও।’

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব উন্নত দেশগুলোর অর্থনীতিতেও পড়েছে জানিয়ে আসন্ন খাদ্য ঘাটতি মোকাবিলায় দেশবাসীকে উৎপাদন বাড়ানোয় জোর দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

একই সঙ্গে মিতব্যয়ী ও সঞ্চয়ী হওয়ার আহ্বানও ছিল তার কণ্ঠে।

গণভবনের বুধবার সকালে ভোগ্যপণ্য আমদানি ও রপ্তানিকারকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘যখনই ইউক্রেন আর রাশিয়ার যুদ্ধটা (শুরু) হলো, সারা বিশ্বে এটার একটা অর্থনীতিতে আঘাতটা আসল, কিন্তু শুধু আমাদের ওপরে না, পুরা ইউরোপ, আমেরিকা, ইংল্যান্ড থেকে শুরু করে ডেভেলপড কান্ট্রির ওপরেও এটার প্রভাবটা অনেক ব্যাপকভাবে পড়ল, যার জন্য আমি ইতিমধ্যে আমাদের সবাইকে বলছি, যার যেখানে যতটুকু জমি আছে, যে যা পারো নিজের খাবার উৎপাদন বাড়াও।’

জনগণের জন্য কাজ করতে এসেছেন উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘সেখানে আমরা মানুষকে বলেছি, যে যা পারো, উৎপাদন করো; উৎপাদন করে নিজেরটা নিজে ব্যবস্থা করো, সঞ্চয় করো, সাশ্রয়ী হও।’

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউসের পাশাপাশি ভোগ্যপণ্য আমদানি ও রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের অনেকেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
ট্রাফিক আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
রূপপুরে উচ্চক্ষমতার চুল্লি দেবে রাশিয়া
ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারব: প্রধানমন্ত্রী
রূপপুরে দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনকাজ শুরু
তখন মানবাধিকার কোথায় ছিল: প্রধানমন্ত্রী

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
The value of gourd eggplant is increasing

কদর বাড়ছে লাউ বেগুনের

কদর বাড়ছে লাউ বেগুনের লাউ বেগুন চাষে আগ্রহ বাড়ছে কুমিল্লার কৃষকদের। ছবি: নিউজবাংলা
চান্দিনা উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকতা গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘এই বেগুন প্রথমবার কুমিল্লায় চাষ শুরু হয়েছে। আমার এরিয়াতে কৃষকরা বেশ উদ্বুদ্ধ হয়েছে লাউ বেগুন চাষে। মাঠে এসে কৃষকদের সব সময় পরামর্শ দিচ্ছি কীভাবে পাখি ও কীটপতঙ্গ থেকে বেগুন রক্ষা করা যায়।’

মাঝারি গাছের ডালে দোল খাচ্ছে বড় বড় সবুজ বেগুন। দূর থেকে দেখলে মনে হবে বেগুন গাছে লাউ ঝুলছে। এমন বেগুন চাষে আগ্রহ বাড়ছে কুমিল্লার কৃষকদের।

একটি বেগুনের ওজন ৮০০ গ্রাম থেকে এক কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। আকারে বড়, নরম ও স্বাদে পুষ্টিমানে অনন্য বারি বেগুনের বাজার চাহিদা অনেক।

সরেজমিনে কুমিল্লা্র চান্দিনা উপজেলার বড় গোবিন্দপুর গিয়ে দেখা যায় বিস্তৃত জমিতে কাজ করছেন কৃষকরা। যতদূর চোখ যায় সবুজ আর সবুজ। তার মাঝে লাউ বেগুনের জমিতে চোখ আটকে যায় সবার।

কৃষক আমির হোসেন জানান, কৃষি অফিস থেকে বারি-১২ জাতের বেগুনের বীজ এনেছেন তিনি। ৩০ শতক জমিতে প্রথমবারের মত লাউ বেগুন চাষ করেছেন। ফলন ভালো হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রতি কেজি বেগুন ৩৫-৪০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। বাজারে নিতে হয় না। গ্রাহকরা জমিতে এসেই বেগুন নিয়ে যায়৷’

লাউ বেগুন আকারে বড় এবং অনেক নরম। তাই পাখির প্রিয় খাবার এই লাউ বেগুন। এতে কৃষকরা চিন্তা করেন পাখির ঠোঁট থেকে কীভাবে তাদের লাউ বেগুনকে রক্ষা করবে।

কৃষক শাহজাহান ভূইয়া বলেন, ‘লাউ বেগুন খুব নরম বলে পাখি ও পোকামাকড়ের প্রিয় খাবার। তাই এ বেগুন রক্ষায় জাল দিয়ে পুরো জমি ঢেকে দিয়েছি। না হয় জমিতে বেগুন থাকবে না।’

চান্দিনা উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকতা গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘এই বেগুন প্রথমবার কুমিল্লায় চাষ শুরু হয়েছে। আমার এরিয়াতে কৃষকরা বেশ উদ্বুদ্ধ হয়েছে লাউ বেগুন চাষে। মাঠে এসে কৃষকদের সব সময় পরামর্শ দিচ্ছি কীভাবে পাখি ও কীটপতঙ্গ থেকে বেগুন রক্ষা করা যায়।’

কদর বাড়ছে লাউ বেগুনের

চান্দিনা উপজেলা কৃষি কমকর্তা মনিরুল হক রোমেল বলেন, ‘আমরা প্রথমে ২০ গ্রাম বীজ থেকে চারা উৎপাদন করি। পাইলট প্রকল্প হিসেবে কয়েকজন কৃষককে বাছাই করি। কৃষি অফিসার ও কৃষকদের আন্তরিকতায় প্রথম বছরই ভালো ফলন হয়েছে। আমরা আশাকরি আগামী বছর আমরা পুরো উপজেলায় ছড়িয়ে পড়বে বারি-১২ জাতের এই বেগুন।’

কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মিজানুর রহমান জানান, এ বছর পুরো জেলায় দেড় হেক্টর জমিতে বারি ১২ জাতের বেগুন চাষ হয়েছে। এই বেগুন আকারে অনেক বড় হয়। প্রতিটা বেগুন ৮০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের হয়। এই বেগুনের টিস্যু অনেক নরম। খেতে সুস্বাদু। আশা করি আগামী বছর কুমিল্লায় সবজির একটা বড় অভাব পূরণ হবে বারি ১২ জাতের বেগুনে।

কুমিল্লা নগরীর রাজগঞ্জ কাঁচা বাজারের তরকারী ব্যবসায়ী সোহেল মিয়া বলেন, ‘এত বড় বেগুন আগে দেখি নাই। খুব বড় এবং নরম। এ বেগুনের প্রচুর চাহিদা আছে বাজারে।’

আরও পড়ুন:
বেগুনে ক্ষতিকর ধাতু, মাটিদূষণে অন্য সবজি নিয়েও শঙ্কা
বেগুনের ভালো ফলন, বেড়েছে চাহিদাও

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Mustard in the mango orchard

আমবাগানের ফাঁকে সরিষা

আমবাগানের ফাঁকে সরিষা নওগাঁয় আমবাগানের ফাঁকে সরিষা চাষে বাড়তি আয়ের আশা চাষিদের। ছবি: নিউজবাংলা
পোরশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার বলেন, ‘ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে কৃষকদের আম বাগানের ফাঁকে জায়গাগুলোতে সরিষার আবাদ করতে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। ফলনও ভালো হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে চাষিদের আমরা পরামর্শ ও সাধ্যমত সহায়তা করে থাকি।’

উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা নওগাঁ। জেলার অন্তবর্তী ঠাঁ ঠাঁ বরেন্দ্র অঞ্চল নামে পরিচিত পোরশা উপজেলা। গত কয়েক বছর আগে যেখানে বৃষ্টিনির্ভর আমন ধান ছাড়া আর কিছুই উৎপাদন করা সম্ভব হতো না।

বর্তমানে জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে আমের জন্য বিখ্যাত পোরশা উপজেলা। আমের জন্য বিখ্যাত হলেও উপজেলার বাগানে বাগানে আম গাছের ফাঁকে ফাঁকে শোভা ছড়াচ্ছে হলুদ সরিষার ফুল। একই জমিতে দুই ফসল হওয়ায় বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে কৃষকদের মাঝে। অল্প সময়ে স্বল্প খরচে বাড়তি ফসল করে বাড়তি আয়ের আশা চাষিরা।

স্থানীয় উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় সরিষার আবাদ হয়েছে চার হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে। আমের আবাদ হয়েছে ১০ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে আম বাগানে চাষ হয়েছে এক হাজার ৭৭৫ হেক্টর জমিতে।

জেলার কয়েকজন কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিকল্প চাষ হিসেবে আম বাগানের ভেতর সরিষার চাষের দিকে ঝুঁকছেন তারা।

পোরশা উপজেলার সরাইগাছী গ্রামের চাষি জিয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘চলতি বছর ১০ বিঘা জমিতে আমের আবাদ করেছি। এ ছাড়া এ বাগানের অবশিষ্ট ফাঁকা জায়গায় সরিষার আবাদ করেছি। এর আগে কখনো এমনভাবে আবাদ করিনি। এই প্রথম আম বাগানে সরিষার আবাদ করলাম। কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি।’

একই এলাকার মেজবাউল হক নামের আরেক চাষি বলেন, ‘আমবাগানে সরিষার আবাদ এই প্রথম করলাম। সরিষার ফলনও ভালো হয়েছে। তেমন কোনো রোগবালাই নাই। আমি ১৫বিঘা জমিতে আম ও সরিষার আবাদ করেছি। পরীক্ষামূলকভাবেই এবার আম বাগানে সরিষার আবাদ করেছি। এর আগে এমন উদ্যোগ কেউ নেয়নি। এবার সঙ্গে দুই ফসল পাচ্ছি। এতে আমরা বাড়তি আয় করতে পারব।’

উপজেলার নিতপুর গ্রামের মোবারক হোসেন বলেন, ‘ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার কৃষি অফিসের পরামর্শে আমার পাঁচ বিঘা আমার বাগানের ফাঁকে সরিষার আবাদ করেছি। ফলনও ভালো হয়েছে। আমাদের এখানে বৃষ্টিনির্ভর আমান আবাদ ছাড়া তেমন কোনো ফসল হতো না। গত কয়েক বছর আমার আবাদ হচ্ছে। আর এইবার আমরা আমের পাশাপাশি বাগানে সরিষারও আবাদ করেছি। ফুল ধরেছে। রোগবালাই হয়নি। আম গাছেরও কোনো ক্ষতি হয়নি। আশা করছি আম ও সরিষার দুই আবাদই ভালো হবে।’

পোরশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার বলেন, ‘এই প্রথম জেলার পোরশায় এবার সরিষার আবাদ হয়েছে চার হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে আম বাগানে চাষ হয়েছে ১৭৭৫ হেক্টর জমিতে। ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে কৃষকদের আম বাগানের ফাঁকে জায়গাগুলোতে সরিষার আবাদ করতে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। ফলনও ভালো হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে চাষিদের আমরা পরামর্শ ও সাধ্যমত সহায়তা করে থাকি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামীতে আম বাগনে যেন সরিষার আবাদ বৃদ্ধি পায় সেজন্য চাষিদের নিয়ে মাঠদিবস, উঠান বৈঠকসহ নানার ধরনের উদ্যোগ নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
‘কৃষি বাণিজ্য মেলা’ করবে ডিএনসিসি
সরিষা ফুলে ভরে গেছে ঝিনাইদহের মাঠ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দিচ্ছে প্রথম শ্রেণির চাকরি
কৃষিঋণে ব্যর্থ ব্যাংকগুলোর অর্থ জমা রাখতে তহবিল
৬০ বছর হলে পেনশন চান ক্ষেতমজুররা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Jamuna Fertilizer factory stopped production by pressing wrong button

‘ভুল বাটনে চাপ’, যমুনা সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ

‘ভুল বাটনে চাপ’, যমুনা সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ যমুনা সার কারখানা। ফাইল ছবি
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, তানাজি এস পন্দেকার গত রোববার বিকেলে অ্যামোনিয়া প্লান্টের এনজি বুস্টার কমপ্রেসার পরিদর্শন করছিলেন। এ সময় তিনি একটি ভুল বাটনে চাপ দিলে বিকট আওয়াজে অ্যামোনিয়া প্লান্ট বন্ধ হয়ে যায়।

দেশের সর্ববৃহৎ ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সার কারখানায় (জেএফসিএল) বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। বেসরকারি আন্তর্জাতিক কোম্পানি ইনগার্সল-রেন্ড (ইন্ডিয়া) লিমিটেডের বিশেষজ্ঞ এক ব্যক্তির হাত ‘ভুল বাটনে’ পড়লে বিকট শব্দে অ্যামোনিয়া প্লান্ট বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় সোমবার পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। দুর্ঘটনার বিষয়টি রহস্যজনক হওয়ায় কারখানার ভেতরে ও বাইরে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

জেএফসিএল সূত্র জানায়, সম্প্রতি যমুনা সার কারখানার অ্যামোনিয়া প্লান্টের এনজি বুস্টার কমপ্রেসারে মাত্রাতিরিক্ত নাইট্রোজেন অপচয়সহ নানা সমস্যা দেখা দেয়। কর্তৃপক্ষ এনজি বুস্টার ক্রয় ও পুনঃস্থাপনের জন্য বিষয়টি আন্তর্জাতিক কোম্পানি ‘ইনগার্সল-রেন্ড (ইন্ডিয়া) লিমিটেড’কে অবগত করে। পরে ইনগার্সল-রেন্ড কর্তৃপক্ষ কারখানা পরিদর্শনের জন্য তাদের ডেপুটি ম্যানেজার (সার্ভিস) ও ভারতীয় বিশেষজ্ঞ তানাজি এস পন্দেকারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের টিম পাঠায়। ওই টিমের অন্য দুই সদস্য হলেন ইনগার্সল-রেন্ডের টেরিটরি ম্যানেজার (সার্ভিস) ইমামুল সর্দার এবং মার্কেটিং প্রতিনিধি কসমো মার্কেটিং কনসালটেন্টস প্রাইভেট লিমিটেডের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম।

কারখানা সূত্রে জানা গেছে, তানাজি এস পন্দেকার গত রোববার বিকেলে অ্যামোনিয়া প্লান্টের এনজি বুস্টার কমপ্রেসার পরিদর্শন করছিলেন। এ সময় তিনি একটি ভুল বাটনে চাপ দিলে বিকট আওয়াজে অ্যামোনিয়া প্লান্ট বন্ধ হয়ে যায়। এতে মুহূর্তেই ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। বিকট শব্দে কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি প্রথমে স্বাভাবিক বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলেও গতকাল সোমবার সকাল থেকে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হয়।

কারখানার ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক (এমটিএস) আফাজ উদ্দিন জানান, তিনি ও কারখানার মেশিনারিজপ্রধান ভূপতি চন্দ্র বিশ্বাসের সঙ্গে ভারতীয় বিশেষজ্ঞ তানাজি এস পন্দেকার এনজি বুস্টার কমপ্রেসারের বিভিন্ন প্যারামিটার ঘুরে দেখছিলেন। এ সময় এমটিএস বিভাগের কয়েকজন কর্মচারী ওভারটাইম সংশ্লিষ্ট জটিলতা নিয়ে তার কাছে আসেন। তাদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলার কারণে ভূপতি চন্দ্র বিশ্বাস অ্যামোনিয়া শিফট ইনচার্জ ফজলুল হককে বিশেষজ্ঞের সঙ্গে থাকার জন্য বলেন। পরিদর্শন চলাকালে বেলা ৩টা ৪৫ মিনিটে হঠাৎ অ্যামোনিয়া কমপ্রেসার বন্ধ হয়ে যায়। এতে অ্যামোনিয়া ও ইউরিয়া সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যদের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ। কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় পরিদর্শকের সঙ্গে থাকা আফাজ উদ্দিনকে তদন্ত কমিটির প্রধান ও ভূপতি চন্দ্র বিশ্বাসসহ চারজন সদস্য রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
৬ মাস পর ইউরিয়া উৎপাদনে যমুনা সার কারখানা
কেঁচো সারের খামারে উৎসাহ কৃষকের
নারী দর্শক-শ্রোতাদের জন্য কনসার্ট
‘ব্যান্ড মিউজিক ডে’র উদ্বোধন, শুক্রবার বড় কনসার্ট
বরিশালে বাসচালককে মারধর, সার্জেন্ট ক্লোজড

মন্তব্য

বাংলাদেশ
In the modern system of modern farming the cost will be reduced and the yield will be increased

সমলয় চাষাবাদে কমবে খরচ, বাড়বে ফলন

সমলয় চাষাবাদে কমবে খরচ, বাড়বে ফলন সমলয় পদ্ধতিতে চাষাবাদে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। বুধবার দুপুরে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার শোভারামপুর থেকে তোলা। ছবি: নিউজবাংলা
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপপরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, ‘গত দুই বছর ধরে কুমিল্লার একাধিক উপজেলায় আমরা আধুনিক পদ্ধতিতে ধান চাষাবাদ করছি। এবার কুমিল্লার বুড়িচং, লাকসাম ও সদর দক্ষিণ উপজেলার প্রায় ৪০০ একর জমিতে ট্রান্সপ্লান্ট রাইস মেশিনের মাধ্যমে চাষাবাদ করা হচ্ছে।’

কুমিল্লার তিন উপজেলার প্রায় ৪০০ একর জমিতে এবার ট্রান্সপ্লান্ট রাইস মেশিনের সাহায্যে আধুনিক পদ্ধতিতে সমলয় চাষাবাদে বোরো ধান রোপণ করা হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি বোরো মৌসুমে বুড়িচং উপজেলাতে ১৫০ বিঘা জমিতে এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা হবে। এ পদ্ধতিতে চাষাবাদে খরচ কমবে, সঙ্গে ফলন বাড়বে। এ ছাড়া পরিপক্ব ধান পেতে সময়ও কমে আসবে।

বুড়িচং উপজেলায় রামপুর গ্রামের কৃষক ওমর ফারুকের জমিতে বুধবার এ আধুনিক পদ্ধতিতে মেশিনের মাধ্যমে ধান চাষের উদ্বোধন করা হয়। গ্রামের শত শত কৃষক ও উৎসুক জনতা রোপণ পদ্ধতি দেখতে এ সময় ভিড় করেন।

রামপুর গ্রামের কৃষক শাহ আলম ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি এবার দুই বিঘা জমি আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করব। দুই বিঘা জমি রোপণে আমার ন্যূনতম আট হাজার টাকা খরচ হতো। এ ছাড়া কৃষি শ্রমিক পেতে খুব কষ্ট হতো। এ মৌসুমে বিনামূল্যে ধান রোপণ করছি। পরবর্তী মৌসুম থেকে আমার মাত্র দুই হাজার ৪০০ টাকা খরচ হবে। কৃষি শ্রমিক খোঁজার হয়রানিও কমে যাবে।’

এতবারপুর গ্রামের কৃষক ওহিদ মিয়া বলেন, ‘আধুনিক পদ্ধতিতে ধান চাষাবাদ নিয়ে আমাদের মধ্যে ভুল ধারণা ছিল। কিন্তু এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে আমাদের প্রশিক্ষণ করানো হয়। প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার পর আমাদের ভুল ভেঙে যায়। আমরা সবাই এখন উচ্ছ্বসিত।’

রামপুর গ্রামের কৃষক ওমর ফারুক বলেন, আগে ধান রোপণে অনেক পরিশ্রম করতে হতো। আজ দশ মিনিটেই আমার ১৫ শতাংশ জমির ধান রোপণ হয়ে গেছে।

মোহাম্মদ এগ্রিকালচারাল মেশিনারিজের স্বত্বাধিকারী ইমরান হোসেন বলেন, ‘প্রতি একর জমিতে ধান রোপণে আমাদের মাত্র আড়াই লিটার ডিজেল খরচ হয়। একর প্রতি আমরা মাত্র সাড়ে তিন হাজার টাকার খরচ নিই। যদি একসঙ্গে বেশি জমিতে রোপণ করি, তাহলে খরচ নিই তিন হাজার টাকা।’

বুড়িচং উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা বানিন রায় বলেন, ‘প্রথম চ্যালেঞ্জ ছিল এ এলাকার কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা। আমরা তাদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছি। এখন তারা এ পদ্ধতিতে ধান চাষে আগ্রহী। আমরা এ মৌসুমে সবাইকে সুযোগ দিতে পারছি না। এবার প্রণোদনার আওতায় থাকা ১০৯ জন কৃষক এ সুবিধা পাচ্ছেন।’

তিনি জানান, জমির মালিকানা হিসাবে কৃষক প্রতি শতাংশ জমির জন্য ৯০০ গ্রাম ইউরিয়া, ৬০০ গ্রাম ডিএপি ও ৫০০ গ্রাম হারে এমওপি সার পাবেন। ইতোমধ্যে ৩০০০ কেজি ডিএপি ও ২৫০০ কেজি এমওপি সার কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

৪৫০০ কেজি ইউরিয়া সার প্রথম উপরি প্রয়োগের পূর্বেই আগামী ১০ দিনের মধ্যে বিতরণ করা হবে। রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের সাহায্যে ৫০ একর জমি রোপণের উদ্দেশ্যে চার হাজার ৫০০ ট্রেতে চারা উৎপাদন করা হয়েছে। সকল জমি কর্মসূচির অর্থায়নে রোপণ করে দেয়া হবে। মৌসুম শেষে সকল জমি কম্বাইন হারভেস্টারের মাধ্যমে কাটার ব্যবস্থা করা হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপপরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, ‘গত দুই বছর ধরে কুমিল্লার একাধিক উপজেলায় আমরা আধুনিক পদ্ধতিতে ধান চাষাবাদ করছি। এবার কুমিল্লার বুড়িচং, লাকসাম ও সদর দক্ষিণ উপজেলার প্রায় ৪০০ একর জমিতে ট্রান্সপ্লান্ট রাইস মেশিনের মাধ্যমে চাষাবাদ করা হচ্ছে।

‘এ কর্মসূচিটা আমরা ব্যক্তি উদ্যোগে গ্রহণ করি। আধুনিক পদ্ধতিতে ধান চাষের কারণে সময় কমে আসবে। জমিতে তিন ফসলের পরিবর্তে চার ফসল হবে।’

আরও পড়ুন:
মেহেরপুরে গমের বীজসংকট, দিশেহারা কৃষক
কমলা-মাল্টা চাষে একরামুলের বছরে আয় ৭০ লাখ
শিম চাষে ভাগ্য বদল চাকরি হারানো যুবকের
বাজার চড়া, তাই আগাম মাঠে লবণ চাষিরা
বগুড়ায় কমলার চাষ শুরু যার হাত দিয়ে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The lost glory of Kamala is returning to Sylhet

ফিরছে সিলেটের কমলার হারানো গৌরব

ফিরছে সিলেটের কমলার হারানো গৌরব সিলেটের কমলা। ছবি: নিউজবাংলা
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেটের উপপরিচালক খায়ের উদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘এখন প্রায় ৩০০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়। এবার সিলেটে প্রায় ৩ হাজার টন কমলা উৎপাদন হবে বলে আশা করছি। উৎপাদন বাড়ানোর পাশপাশি কমলার গুণগত মান এবং পুরনো স্বাদ ফিরিয়ে আনারও চেষ্টা চলছে।’

চা আর কমলা এই দুই কৃষিপণ্যের জন্য খ্যাতি ছিল সিলেটের। চা সেই সুনাম ধরে রাখলেও খ্যাতি হারিয়েছে কমলা। নানা কারণে কমেছে উৎপাদন। তবে কয়েকবছর ধরেই সিলেটের কমলার সুদিন ফেরানোর চেষ্টা চলছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এই উদ্যোগে গত কয়েকবছরে সিলেটে কমলার চাষ বেড়েছে প্রায় চারগুণ।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, সিলেটে কমলার হারানো গৌরব ফেরাতে চলতি শতকে দুটি বড় প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। একটি প্রকল্প এখনো চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে চাষিদের প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও উন্নতজাতের চারা দেয়া হচ্ছে। এর সুফলও মিলতে শুরু করেছে বলে জানান তারা।

কমলার জন্য সবচেয়ে বিখ্যাত ছিল সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার জলঢুপ গ্রাম। দেশের বাইরেও রপ্তানি হতো জলঢুপের কমলা। এই গ্রামের প্রতিটি বাড়িতেই রয়েছে ছোট-বড় কমলার বাগান। তবে পরিচর্যার এখানকার বেশিরভাগ বাগানের উৎপাদন কমে আসে। এতে অব্যাহত লোকসানের কারণে বেশিরভাগ চাষিই কমলা চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।

তবে গত কয়েকবছরে এই অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে জানিয়ে জলঢুপ গ্রামের প্রবীণ চাষি আব্দুল আলিম বলেন, ‘আমারও একটি বাগান রয়েছে। বেশ পুরনো হয়ে যাওয়ায় এটিতে আর তেমন ফলন হতো না। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া, বৈরি আবহাওয়ার কারণেও কমলা চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলাম। তবে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে ভালোভাবে পরিচর্যা করায় গত দুই বছরে উৎপাদন কিছুটা বেড়েছে। এ বছর কমলা বিক্রি করেও লাখখানেক টাকা লাভ করতে পারব বলে আশা করছি।

ফিরছে সিলেটের কমলার হারানো গৌরব

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সিলেট কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সিলেট অঞ্চলে কমলা চাষ বাড়াতে ২০০১ সালে ‘বৃহত্তর সিলেট সমন্বিত কমলা চাষ উন্নয়ন’ নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে কৃষি সম্প্রসারণে অধিদপ্তর। আট বছরের ওই প্রকল্প শেষে এই অঞ্চলে কমলার চাষ বেড়ে যায় দ্বিগুণ।

এরপর ২০১৯ সালের শেষদিকে সিলেট অঞ্চলে ‘লেবু জাতীয় ফসলের সম্প্রসারণ, ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প’ নামে আরেকটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সিলেট ও মৌলভীবাজারের নয় উপজেলায় কমলার উৎপাদন বাড়াতে উদ্যোগ নেয়া হয়। ২০২৩ সালব্যাপী এই প্রকল্পের কাজ চলবে।’

তবে ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের সুফল পাওয়া গেছে জানিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেটের উপপরিচালক খায়ের উদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘এ প্রকল্প নেয়ার আগে প্রায় ৭৫ হেক্টর জমিতে কমলা চাষ হতো। আর এখন প্রায় ৩০০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়। এবার সিলেটে প্রায় ৩ হাজার টন কমলা উৎপাদন হবে বলে আশা করছি। উৎপাদন বাড়ানোর পাশপাশি কমলার গুণগত মান এবং পুরনো স্বাদ ফিরিয়ে আনারও চেষ্টা চলছে।’

কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সিলেটের বেশিরভাগ বাগান বেশ পুরনো। উৎপাদন কমে যাওয়ায় এগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। পুরনো বাগানগুলো কীভাবে পরিচর্যার মাধ্যমে ভালো ফলন সম্ভব- এ ব্যাপারে আমরা চাষিদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। এ ছাড়া অনেক বাগানের মালিক প্রবাসী। এতে বাগানগুলোর গাছ ও মাঠির সঠিক পরিচর্যা হয়না। সেগুলোও ঢেলে সাজানোর চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া অনেকগুলো নতুন বাগানও তৈরি করা হয়েছে।’

ফিরছে সিলেটের কমলার হারানো গৌরব

এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে কমলার আমদানি ব্যয় কমিয়ে আনা, কৃষকদের আয় বাড়ানো, নতুন বাগান তৈরি করা, পুরনো বাগানগুলো ঢেলে সাজানোর কাজ চলছে জানিয়ে এই কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘এর মধ্য দিয়ে সিলেট অঞ্চলে ফলটির উৎপাদন ১৫-২০ শতাংশ বাড়ানো সম্ভব হবে বলে আশা করছি।’

উৎপাদন বাড়ার প্রভাব বাজারেও পড়ছে জানিয়ে নগরের বন্দরবাজার এলাকার ফল বিক্রেতা নিতাই দাস বলেন, ‘কয়েকবছর আগেও বাজারে স্থানীয় প্রজাতির কমলা পাওয়াই যেত না। আমদানি করা কমলাই বিক্রি করতাম, যাতে কোনো স্বাদ-গন্ধ নেই। তবে এখন কিছু কিছু স্থানীয় কমলা বাজারে আসছে। মূলত মৌসুমের প্রথমেই সিলেট অঞ্চলের কমলা বাজারেও বেশি ছিল।’

সিলেটের কমলার স্বাদ ও ঘ্রাণে অতুলনীয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই কমলার চাহিদা এবং দামও বেশি।’

ফিরছে সিলেটের কমলার হারানো গৌরব

সিলেটের গোলাপগঞ্জের বাঘা ইউনিয়নের গৌরাবাড়ি গ্রামের কমলাচাষি গুণেন্দ্র দেব। বাগানে ১০০টির মতো কমলা গাছ রয়েছে তার।

তিনি জানান, কমলা চাষের ক্ষেত্রে বড় একটি সমস্যা অর্থায়নের অভাব। কমলা বাগানের বিপরীতে প্রয়োজনীয় ঋণ পাওয়া যায় না। এত ক্ষুদ্র চাষিদের ক্ষেত্রে চাইলেও বড় অংকের বিনিয়োগ করা সম্ভব হয় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এবারের মৌসুমে প্রায় ৫০ হাজার টাকার কমলা বিক্রি করেছি। সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা কিংবা ঋণ সুবিধা পেলে বাগানে কমলা গাছের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হবে। এতে উৎপাদন বাড়বে। বাড়তি আয় করা যাবে।’

আরও পড়ুন:
কমলাপুরে রনিকে প্রশ্ন করে জনতার ধাওয়া খেলেন আ.লীগ ‘কর্মী’
কমলাপুর ছেড়ে শাহবাগে অবস্থান নিয়েছেন রনি
রনির কর্মসূচিতে ব্যারিস্টার সুমন
রনির ছয় দফা: নিজেদের পক্ষে সাফাই গাইল মন্ত্রণালয়
শাহবাগে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা রনির

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Broiler chicken meat is not risky Agriculture Minister

ব্রয়লার মুরগির মাংস ঝুঁকিপূর্ণ নয়: কৃষিমন্ত্রী

ব্রয়লার মুরগির মাংস ঝুঁকিপূর্ণ নয়: কৃষিমন্ত্রী ব্রয়লার মুরগির মাংস মানবস্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী। ছবি: পোল্ট্রি ওয়ার্ল্ড
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়ন ও উদ্যোগে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের অধীনে ব্রয়লার মুরগির মাংস নিরাপদ কি না, তা জানতে গত বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এ গবেষণা চালানো হয়। গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্রয়লার মুরগির মাংসে, হাড়ে, কম্পোজিটে (কলিজা, কিডনি ও গিজার্ডের সমন্বয়) এবং মুরগির খাদ্যে কী পরিমাণ অ্যান্টিবায়োটিক ও ভারী ধাতু আছে, তা নির্ণয় করা।

ব্রয়লার মুরগির মাংস জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয় বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক।

সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত গবেষণার ফল প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

ওই সময় প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমও তার সঙ্গে ছিলেন।

গবেষণার ফল তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘ব্রয়লার মুরগির মাংস, হাড় এবং কম্পোজিটে মূলত দুইটি অ্যান্টিবায়োটিক-অক্সিটেট্রাসাইক্লিন ও ডক্সিসাইক্লিন এবং তিনটি হেভি মেটাল আর্সেনিক, ক্রোমিয়াম ও লেডের সামান্য উপস্থিতি রয়েছে, যা অস্বাভাবিক নয় এবং তা সর্বোচ্চ সহনশীল সীমার অনেক নিচে। খামার এবং বাজারে প্রায় ব্রয়লার মাংসের চেয়ে সুপারশপের ব্রয়লার মাংসে অ্যান্টিবায়োটিক এবং হেভি মেটালের পরিমাণ কম রয়েছে।

‘ব্রয়লার মুরগির মাংস খাওয়া নিরাপদ কি না, এ নিয়ে আমাদের অনেকের মধ্যেই ভ্রান্ত ধারণা বা দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক প্রচারণায় দেখা যায় যে, ব্রয়লার মাংসে অ্যান্টিবায়োটিক, হেভি মেটাল এবং অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থের উপস্থিতি রয়েছে, যা মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এ ধরনের বিভ্রান্তিমূলক তথ্যের ফলে সাধারণ জনগণের মাঝে অনেক সময় ব্রয়লার মাংস সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্রয়লার মাংস খাওয়া কমিয়ে দেয়।

‘ফলে ব্রয়লার শিল্পের ওপর একটি বড় ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। সম্প্রতি তার নজির আমরা প্রত্যক্ষ করেছি ২০২০ সালে শুরু হওয়া কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবে। রোগটির প্রকোপের প্রথম দিকে পুষ্টিসমৃদ্ধ ব্রয়লার মাংস খাওয়া অনেক কমে যায়।’

তিনি বলেন, ‘দেশে ব্রয়লার মুরগি খুবই সম্ভাবনাময় একটি খাত। চাহিদা বৃদ্ধি করতে পারলে দেশে যে পরিমাণ খামার ও অবকাঠামো রয়েছে, তার পুরোপুরি ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন আরও বহু গুণে বৃদ্ধি করা সম্ভব। সে জন্য মানুষের কাছে মুরগির মাংস জনপ্রিয় করতে হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘এটি করতে পারলে একদিকে আমিষের চাহিদা পূরণের মাধ্যমে সুস্থ, সবল ও মেধাবী জাতি গঠন সহজতর হবে। অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগির বাজার দ্রুত বিকশিত হবে, মুরগীর মাংস প্রক্রিয়াকরণ শিল্প স্থাপন বৃদ্ধি পাবে, কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং রপ্তানির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন করা সম্ভব হবে।

‘এ ছাড়া সুস্থ ও মেধাবী জাতি গঠনে, আমিষের চাহিদা পূরণে ও কর্মসংস্থান তৈরিতে ব্রয়লার মুরগির মাংস খাওয়ার বিষয়ে প্রচারণা ও জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘পোল্ট্রি খাতে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। একটা সময় গ্রামে নিজস্ব আঙিনায় হাঁস-মুরগি পালন করা হতো। এখন এটা শিল্পে পরিণত হয়েছে। দেশের মানুষের আমিষের একটা বড় চাহিদা মেটায় এ খাত। ফলে নিজ উদ্যোগে অনেকেই এ খাতে এসে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছেন, তবে কিছু ভুলভ্রান্তিমূলক তথ্যের কারণে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

‘এ জন্য আমরা একটি গবেষণা পরিচালনা করেছি। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পোল্ট্রি খাত বড় ভূমিকা পালন করছে। তাই আমরা চেষ্টা করছি পোলট্রি খাতকে আরও আধুনিক করা এবং এ খাতের বিকাশকে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দিতে। এ লক্ষ্যে পোল্ট্রি খাদ্য আমদানিতে শুল্কে রেয়াত দিতে এনবিআরকে অনুরোধ করেছি। পোল্ট্রি খাতকে সামনে নিয়ে একটি কল্যাণকর মঙ্গলকর অধ্যায় রচনার জন্য কাজ করছি।’

গবেষণার প্রকাশিত ফলে বলা হয়, বাজার এবং খামার থেকে সংগৃহীত ব্রয়লার মুরগির খাদ্যে গড়ে ১৯.২ পিপিবি ডক্সিসাইক্লিন, ৪.১৯ পিপিবি টাইলোসিন, ৭.৬ পিপিবি আর্সেনিক, ২১৫৩.৩ পিপিবি ক্রোমিয়াম, ০.৮ পিপিবি অক্সিটেট্রাসাইক্লিন এবং ৪৭৮.৬ পিপিবি লেড রয়েছে, যা আর্সেনিকের ক্ষেত্রে ১৮৪.২ গুণ, ক্রোমিয়ামের ক্ষেত্রে ৯.২ গুণ এবং লেডের ক্ষেত্রে ২০.৮ গুণ সর্বোচ্চ অবশিষ্ট সীমার চেয়ে নিচে রয়েছে।

বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রি সেন্ট্রাল কাউন্সিলের (বিপিআইসিসি) তথ্য অনুসারে, বর্তমানে দেশের জিডিপিতে পোল্ট্রি খাতের অবদান দেড় থেকে ১.৬ শতাংশ। এ ছাড়া এ খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ যুক্ত। মোট পোল্ট্রি শিল্পের ৪০ শতাংশ ব্রয়লার বা মাংস উৎপাদনকারী মুরগি। দেশে প্রতিদিন প্রায় এক কোটি ব্রয়লার বাচ্চা উৎপাদন হচ্ছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ছোট-বড় মিলে পোল্ট্রি খামার রয়েছে (বাণিজ্যিক খামার) প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার ২৩১টি। নিবন্ধিত পোল্ট্রি খামার ৮৭ হাজার ২৭৩টি।

দেশে ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩৮ দশমিক ৪৪ লাখ টন পোল্ট্রি মাংস উৎপাদন হয়েছে (মোট মাংস উৎপাদন ৯২ দশমিক ৬৫ লাখ টন, যার মধ্যে গবাদিপশু থেকে উৎপাদন হয় ৫৪ দশমিক ২১ লাখ টন)।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়ন ও উদ্যোগে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের অধীনে ব্রয়লার মুরগির মাংস নিরাপদ কি না, তা জানতে গত বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এ গবেষণা চালানো হয়।

গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্রয়লার মুরগির মাংসে, হাড়ে, কম্পোজিটে (কলিজা, কিডনি ও গিজার্ডের সমন্বয়) এবং মুরগির খাদ্যে কী পরিমাণ অ্যান্টিবায়োটিক ও ভারী ধাতু আছে, তা নির্ণয় করা।

বাংলাদেশের পাঁচটি জেলা শহরের (ঢাকা, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, রাজশাহী এবং বরিশাল) ব্রয়লার খামার (ছোট, মাঝারি এবং বড়) এবং বাজার থেকে ব্রয়লারের মাংস, হাড় ও কম্পোজিট এবং ব্রয়লার খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি ঢাকা জেলার তিনটি সুপার শপ থেকে ব্রয়লার মুরগির নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

সংগৃহীত প্রায় ১ হাজার ২০০টি ব্রয়লার মুরগি এবং ৩০টি ব্রয়লার মুরগির খাদ্য থেকে ৩১৫টি নমুনা প্রস্তুত করে বহুল ব্যবহৃত ১০টি অ্যান্টিবায়োটিক এবং তিনটি ভারী ধাতুর অবশিষ্টাংশের পরিমাণ পরীক্ষা করা হয়।

আরও পড়ুন:
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ মুরগির মাংস-ডিমে ‘সাফল্য’
ব্রয়লার মুরগি খাওয়ার ক্ষতিকারক দিক
ব্রয়লারের দামে ধস, হতাশ খামারিরা
মুরগি-ডিমের দাম বৃদ্ধির যত কারণ
মরা মুরগির মাংস হোটেলে দিচ্ছিলেন তিনি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Agreement signed on financing agriculture

কৃষিতে অর্থায়নে চুক্তি সই

কৃষিতে অর্থায়নে চুক্তি সই কৃষি পুনঃঅর্থায়ন প্রকল্পের জন্য চুক্তি সই করেছে ইসলামী ব্যাংক। ছবি: সংগৃহীত
চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার এবং ডেপুটি গভর্নর একেএম সাজেদুর রহমান খান উপস্থিতি ছিলেন।

দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত ও উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে কৃষি পুনঃঅর্থায়ন প্রকল্পের আওতায় ইসলামী ব্যাংকের সাথে চুক্তি সই করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার এবং ডেপুটি গভর্নর একেএম সাজেদুর রহমান খানের উপস্থিতিতে এ চুক্তি সই হয়। এতে ইসলামী ব্যাংকের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ও সিইও মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ বিভাগের পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।

এ সময় ব্যাংকের এগ্রিকালচার ইনভেস্টমেন্ট ডিভিশনের প্রধান ড. মো. রুহুল আমিনসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
কৃষি ব্যাংক ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে নতুন এমডি
কৃষি ব্যাংকের এমডির দায়িত্বে চানু গোপাল
করোনার পর ‘সব কিছুতেই ভয় পেতেন’ জিএম পারভিন

মন্তব্য

p
উপরে