× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Observance of World Food Day amid threat of famine
google_news print-icon

দুর্ভিক্ষের শঙ্কার মধ্যে বিশ্ব খাদ্য দিবস পালন

দুর্ভিক্ষের-শঙ্কার-মধ্যে-বিশ্ব-খাদ্য-দিবস-পালন
প্রতীকী ছবি
২০২৩ সালে বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দার পূর্বাভাস দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বলছে, যুদ্ধ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে দুর্ভিক্ষও দেখা দিতে পারে। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে ১৬ অক্টোবর রোববার পালন হচ্ছে ‘বিশ্ব খাদ্য দিবস’।

মানুষের মৌলিক চাহিদা হিসেবে বিবেচিত অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার মধ্যে প্রথমটির জোগানের একমাত্র মাধ্যম কৃষি, কিন্তু জনসংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকা বিশ্বের ৭০০ কোটি মানুষের মধ্যে সাড়ে ১৩ কোটি এখনও ধুঁকছে খাদ্যের অভাবে।

দুই বছরের করোনাভাইরাস মহামারির ধাক্কা না কাটতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ গোটা বিশ্বকে চরম খাদ্য সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ইতোমধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি ৫০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ উচ্চতায় উঠে ৯ শতাংশের কাছাকাছি দাঁড়িয়েছে।

ইউরোপের প্রায় সব দেশ, চীন, কানাডাসহ সব রাষ্ট্রেই মূল্যস্ফীতির পারদ চড়ছেই। আরও বাড়বে বলে শঙ্কার কথা শোনাচ্ছে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থা। দেশে দেশে খাদ্য সংকট দেখা দিতে শুরু করেছে।

২০২৩ সালে বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দার পূর্বাভাস দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বলছে, যুদ্ধ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে দুর্ভিক্ষও দেখা দিতে পারে।

এমন কঠিন পরিস্থিতিতে ১৬ অক্টোবর রোববার পালন হচ্ছে ‘বিশ্ব খাদ্য দিবস’। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘কাউকে পশ্চাতে রেখে নয়; ভালো উৎপাদনে উত্তম পুষ্টি, সুরক্ষিত পরিবেশ এবং উন্নত জীবন’।

দুর্ভিক্ষের শঙ্কার মধ্যে বিশ্ব খাদ্য দিবস পালন

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে নেয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি।

বিশ্বব্যাপী সচেতনতা, ক্ষুধার মোকাবিলা এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্য নিশ্চিত করার সংকল্পকে সামনে রেখে প্রতি বছর দিনটি পালন হয়।

গত কয়েক দশকে পৃথিবীর আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে চাষযোগ্য জমি সংরক্ষণ, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, কৃত্রিম বনায়ন, আন্তর্জাতিক উন্নয়নের মতো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো; বৈশ্বিক, আঞ্চলিক ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলো বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ব্যস্ত হয়ে আছে বিশ্বের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)।

কৃষিকে কেন্দ্র করে বিশ্বের মানুষের প্রয়োজনীয় খাদ্যের জোগান, দারিদ্র্য ও পুষ্টিহীনতা দূর করে ক্ষুধামুক্ত পৃথিবী গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে ১৯৪৫ সালের ১৬ অক্টোবর জন্ম নেয় জাতিসংঘের সংস্থাটি। লাতিন ভাষায় এর স্লোগান ‘ফিয়াত পানিস’ তথা ‘সবার জন্য রুটি’। বর্তমানে ১৯৮টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে পরিচালিত এফএও।

আন্তর্জাতিক খাদ্য ও কৃষি সংস্থা গঠনের ধারণাটি সর্বপ্রথম দেন আমেরিকান কৃষিবিদ ডেভিড লুবিন। ১৯৪৫ সালের ১৬ অক্টোবর কানাডার কুইবেক শহরে ‘আন্তর্জাতিক কৃষি ইনস্টিটিউট’ গঠন হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আনুষ্ঠানিকভাবে এ সংগঠনের ইতি ঘটে। পরে এটি খাদ্য ও কৃষি সংস্থা নামে আত্মপ্রকাশ করে।

গত শতাব্দীর চল্লিশের দশকের শেষ সময় থেকে এফএও জাতিসংঘের কাঠামোর মধ্যে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

১৯৭৯ সালে বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ২০তম সাধারণ সভায় হাঙ্গেরির তৎকালীন খাদ্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. প্যাল রোমানি এফএওর জন্মদিনটি বিশ্বব্যাপী উদযাপনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৮১ সাল থেকে বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রতিষ্ঠার দিনটি (১৬ অক্টোবর, ১৯৪৫) দারিদ্র্য ও ক্ষুধা নিবৃত্তির লক্ষ্যে এবং বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে গুরুত্বের সঙ্গে পালন হয়ে আসছে।

১৯৮১ সালেই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিটি দেশের সরকার ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ক্ষুধা, অপুষ্টি ও দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করার সংগ্রামে যুক্ত করার প্রতিপাদ্য নিয়ে ‘বিশ্ব খাদ্য দিবস’ উদযাপন শুরু হয়। এ দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো ক্ষুধা, অপুষ্টি ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তোলা, কৃষির উন্নতিতে মনোযোগ দেয়া, কৃষিভিত্তিক উৎপাদনে উৎসাহদান, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তা গ্রহণে উৎসাহদান, গ্রামীণ জনগণ, মূলত নারী ও পিছিয়ে পড়া মানুষের অবদানে উৎসাহ দান এবং প্রযুক্তির সমৃদ্ধিকে বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়া।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা বিশ্বের উন্নত, উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশে আধুনিক ও উন্নত কৃষি, প্রাণী, বনায়ন ও মৎস্য চাষে সহায়তা করে যাচ্ছে। বিশ্বব্যাপী খাদ্য ও পুষ্টির নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এর প্রধান উদ্দেশ্য। তাই বিভিন্ন দেশে কৃষি ও খাদ্যের সঙ্গে জড়িত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে এফএও বিশ্বের অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে মিলে একসঙ্গে নানা প্রকল্প হাতে নিয়ে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দেয়, যাতে করে সবার জন্য খাদ্য ও পুষ্টির নিশ্চয়তার সুযোগ তৈরি হয়।

সংস্থাটির নিরলস প্রচেষ্টায় ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাপী যে সাফল্যগুলো অর্জন হয়েছে, তার অন্যতম ৩০টিরও বেশি দেশের সাংবিধানিক কাঠামোতে জনগণের জন্য খাদ্য লাভের অধিকারকে প্রধান মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি ও নিশ্চিতকরণ, সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড কোডেক্স অ্যালিমেন্টারিয়াস তৈরি, অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত মাছ ধরা নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রথম আন্তর্জাতিক চুক্তি প্রণয়ন, গবাদিপশুর প্লেগ নির্মূলকরণ, লাতিন আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনা, খাদ্য ও কৃষিতে বিশ্বের বৃহত্তম এবং সর্বাধিক বিস্তৃত পরিসংখ্যানীয় ডেটাবেজ বজায় রাখা।

এ ছাড়া ২০১৫ সালের মধ্যে বিশ্বে গরিবের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনতে জাতিসংঘ প্রণীত সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) বাস্তবায়নে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব প্রতিষ্ঠায় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে ফলপ্রসূ সহযোগিতা করে যাচ্ছে। বৈশ্বিক উষ্ণতাসহ সবার জন্য খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ সংস্থাটির গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যগুলোর একটি।

সারা বিশ্বে ক্ষুধার সঙ্গে স্থুলতা ও অপুষ্টিজনিত সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এফএও প্রতিষ্ঠার এ দিনটিতে নতুন নতুন থিম নিয়ে বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশ নানা কর্মসূচি পালন করে থাকে, তবে এবার যেমন নাজুক বিশ্ব অর্থনীতি ও খাদ্য সংকটের দুঃসংবাদের মধ্যে দিবসটি পালন হচ্ছে, আগে তা কখনোই হয়নি।

দুর্ভিক্ষের শঙ্কার মধ্যে বিশ্ব খাদ্য দিবস পালন

বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে একুশে পদকপ্রাপ্ত কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জ্বালানি তেলের সংকট, মূল্যস্ফীতি, দীর্ঘ খরাও অপ্রতুল খাদ্য সরবরাহ বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত সমস্যা। অবস্থাদৃষ্টে ধারণা করা যায়, বিশ্বের অর্থনীতি ক্রমেই সংকটের দিকে এগোচ্ছে। নিকট ভবিষ্যতে একটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক মন্দা ও দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা করছে অনেকে।’

তিনি বলেন, ‘গত ১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে শুরু হওয়া বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভায় এ আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। আবার গত অক্টোবর প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক আউটলুক প্রতিবেদনে আইএমএফ বলেছে, ২০২৩ সালে একটি মারাত্মক মন্দার মুখোমুখি হতে পারে বিশ্ব অর্থনীতি। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নেমে যেতে পারে ২ দশমিক ৭ শতাংশে।

‘পরিস্থিতি যে ভয়াবহ, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমরাও এ থেকে আলাদা নই, তবে এটাও বলে রাখা প্রয়োজন, বাংলাদেশ অনেক দেশের চেয়ে ভালো অবস্থায় আছে। আমাদের সরকারি গুদামে এখনও ১৮ লাখ টনের মতো খাদ্য মজুত আছে। বেসরকারি পর্যায়েও প্রচুর খাদ্য মজুত আছে। চলতি আমন মৌসুমে ভালো ফলন হলে দেড়-দুই বছর সমস্যা হবে না। সমস্যা হচ্ছে দাম এবং আগামী দিনগুলোতে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখা।’

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘অসহায়-গরিব মানুষকে কম দামে খাবার পৌছে দেয়া অব্যাহত রাখতে হবে। সেই সঙ্গে যেহেতু জ্বালানি তেল, সারের দাম বাড়ায় কৃষি উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে, সে কারণে কৃষককে নগদ টাকা দিয়ে সহয়তা করতে হবে, যাতে তারা বেশি উৎপাদন করতে পারে।’

অতীতে দেশে কৃষককে সরকার নগদ টাকা দিয়ে সহায়তা করেছে বলে জানান জাহাঙ্গীর আলম।

রাষ্ট্রপতির বাণী

​রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন।

বাণীতে তিনি বলেন, “বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও বিশ্ব খাদ্য দিবস-২০২২ উদযাপনের উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। এ বছর বিশ্ব খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ‘কাউকে পশ্চাতে রেখে নয়; ভালো উৎপাদনে উত্তম পুষ্টি, সুরক্ষিত পরিবেশ এবং উন্নত জীবন’, যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে যথার্থ হয়েছে বলে আমি মনে করি।”

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে দারিদ্র্য হ্রাস ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় কৃষিই অন্যতম প্রধান নিয়ামক। কৃষি জনগণের খাদ্য ও পুষ্টি সরবরাহ, কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগ সৃষ্টিসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের কাঁচামাল সরবরাহের নিশ্চয়তা প্রদান করে। কৃষির গুরুত্ব অনুধাবন করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সদ্যস্বাধীন দেশ পুনর্গঠনে কৃষি বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন। তিনি কৃষির উন্নয়নে কৃষকদের মাঝে খাস জমি বিতরণ, ভর্তুকি মূল্যে সার, কীটনাশক, উন্নত বীজ, সেচ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করেন। এরই ধারাবাহিকতায় সরকারের যুগোপযোগী নীতি ও পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে দেশ দানাদার খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। ফসলের পাশাপাশি প্রাণিজ আমিষ খাতেও ব্যাপক সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

‘প্রযুক্তির বিকাশ ও প্রভাবের ফলে বিশ্বব্যাপী অর্থনীতি, সংস্কৃতি এবং জনসংখ্যা ক্রমবর্ধমানভাবে আন্তঃসংযুক্ত হয়ে উঠছে। প্রায় ৭৫ শতাংশ দরিদ্র ও খাদ্য নিরাপত্তাহীন মানুষ তাদের জীবনযাত্রার জন্য কৃষি এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভর করে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বর্তমানে মহামারি, সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন কারণে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি উর্ধ্বমুখী দেখা দেওয়ার প্রেক্ষাপটে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করা গেলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি খাদ্যপণ্য উচ্চমূল্যে বিশ্ববাজারে রপ্তানির মাধ্যমে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে। একই সঙ্গে আমাদের খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

‘প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় পরিমিত পরিমাণে নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ মৌসুমি ফলমূল, শাকসবজি, প্রাণিজ আমিষ খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। আমি আশা করি, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তাকে টেকসই করতে ফসলের পুষ্টিসমৃদ্ধ নতুন নতুন জাত ও লাগসই প্রযুক্তির উদ্ভাবন এবং তা সম্প্রসারণে কৃষিবিজ্ঞানী, সম্প্রসারণকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সকলে নিরলস প্রয়াস অব্যাহত রাখবে।’

প্রধানমন্ত্রীর বাণী

​প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব খাদ্য দিবসে দেয়া বাণীতে বলেন, “জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও ১৬ অক্টোবর বিশ্ব খাদ্য দিবস- ২০২২ পালন হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘কাউকে পশ্চাতে রেখে নয়; ভালো উৎপাদনে উত্তম পুষ্টি, সুরক্ষিত পরিবেশ এবং উন্নত জীবন’ বর্তমান সংকটাপূর্ণ বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে যথাযথ ও সময়োপযোগী হয়েছে বলে আমি মনে করি।

“সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ার অভিপ্রায়ে কৃষি ও পরিবেশের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব গৃহীত কৃষি ও পরিবেশ উন্নয়ন পরিকল্পনা ও কার্যক্রমের ধারাবহিকতায় আমরা বিগত সাড়ে ১৩ বছরে কৃষিবান্ধব ও বাস্তবমুখী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। কৃষির উন্নয়ন ও কৃষকের কল্যাণকে সর্বোচ্চ বিবেচনায় এনে ‘রুপকল্প-২০৪১’ -এর আলোকে জাতীয় কৃষিনীতি-২০১৮, নিরাপদ খাদ্য আইন, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট-২০৩০ এবং ডেল্টা প্ল্যান-২১০০সহ উল্লেখযোগ্য কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।”

তিনি বলেন, ‘...বন্যা, খরা, লবণাক্ততা সহিষ্ণু ফসলের জাত উদ্ভাবনসহ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ভাসমান চাষ, বৈচিত্র্যময় ফসল উৎপাদন, ট্রান্সজেনিক জাত উদ্ভাবন, পাটের জেনোম সিকোয়েন্স উন্মোচন ও মেধাস্বত্ব অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। কৃষির উন্নয়নে আমরা কৃষকদের জন্য সার, বীজসহ সকল কৃষি উপকরণের মূল্যহ্রাস, কৃষকদের সহজ শর্তে ও স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা প্রধান, ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগসহ তাদের নগদ সহায়তা প্রদান করছি। কৃষি, শিক্ষা-গবেষণা খাতে আরও বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে যার ধারাবাহিকতায় খোরপোশের কৃষি আজ উৎপাদনমুখী ও বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তরিত হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সরকারের গৃহীত কৃষিবান্ধব নীতি ও কার্যক্রমে দানাদার খাদ্য, মাছ, মাংস ও ডিম উৎপাদনে বাংলাদেশ আজ স্বয়ংসম্পূর্ণ ও দুধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দ্বারপ্রান্তে। ধান, পাট, আম, পেয়ারা আলু প্রভৃতি ফসল ও ফল উৎপাদনে বাংলাদেশ শীর্ষ আটটি দেশের মধ্যে রয়েছে। কৃষির উন্নয়নে এ সাফল্য সারা বিশ্বে বহুলভাবে প্রশংসিত ও নন্দিত হচ্ছে। নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিতসহ কৃষি পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে উত্তম কৃষি চর্চা নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থাপন করা হয়েছে অ্যাক্রিডিটেড ল্যাব ও আধুনিক প্যাকিং হাউজ। আমরা দেশব্যাপী ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি। এতে কৃষিনির্ভর শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহের স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনসহ ব্যাপক কর্মসংস্হান সৃষ্টি হবে।

‘রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার নিরবচ্ছিন্ন, সাশ্রয়ী ও দ্রুত যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছি। এ সেতুর মাধ্যমে নদীবিধৌত উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি ও মৎস্যসম্পদ আহরণ এবং সারা দেশে দ্রুত বাজারজাতকরণের ফলে এ অঞ্চলের কৃষি ও কৃষকের জীবনমান আরও উন্নত হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, সরকারের পাশাপাশি সকলের অংশগ্রহণে নিরাপদ খাদ্যের মাধ্যমে পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে এবং ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করে ২০৪১ সালের মধ্যে জাতির পিতার স্বপ্নের সুখী, সমৃদ্ধ ও উন্নত সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব।’

আরও পড়ুন:
ধেয়ে আসছে ভয়াল দুর্ভিক্ষ!

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
How to make Mothers Day memorable

যেভাবে মা দিবসকে করে রাখতে পারেন স্মরণীয়

যেভাবে মা দিবসকে করে রাখতে পারেন স্মরণীয় প্রতীকী ছবি
ব্যস্ততার কারণে আপনি হয়তো মায়ের কাছাকাছি থাকতে পারেন না, কিন্তু বিশেষ দিনে উপহার দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা তো জানাতেই পারেন। নিজে উপস্থিত না থাকতে পারলেও উবারের ডেলিভারি সার্ভিস উবার কানেক্ট আপনার উপহার ঠিকই মায়ের কাছে পৌঁছে দেবে।    

মা আমাদের সবার কাছেই বিশেষ এক মানুষ। বিশেষ মানুষের জন্য বিশেষ দিন মা দিবসও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

মায়ের জন্য স্মরণীয় কিছু করে তাকে চমকে দিতে সবারই নানা পরিকল্পনা থাকে। সেই পরিকল্পনার একটি অংশ হতে পারে মাকে নিয়ে কোথাও ঘুরে আসা। আর এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আপনাকে সাহায্য করতে পারে উবারের মতো রাইড শেয়ারিং সার্ভিসগুলো।

যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গা থেকে রাইড বুক করা যায় বলে রাইড শেয়ারিং সার্ভিসগুলো সুবিধাজনক বিবেচিত হতে পারে। একই সঙ্গে এ সার্ভিস অপেক্ষাকৃত সাশ্রয়ীও।

মাকে নিয়ে শপিং, সিনেমা হল বা পছন্দের কোনো রেস্তোরাঁয় যাওয়ার জন্য বেছে নিতে পারেন এক্স বা প্রিমিয়ারের মতো সার্ভিস। আরেকটু কম খরচে ঘুরতে চাইলে আছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা সার্ভিস।

যদি আপনার একই দিনে একাধিক জায়গায় যাওয়ার পরিকল্পনা থাকে, তাহলে রেন্টালস সার্ভিস হবে আপনার জন্য যথার্থ। এ সার্ভিসের আওতায় ১০ ঘণ্টার জন্য রাইড শেয়ারিংয়ের গাড়িটি আপনার সঙ্গে রাখার সুযোগ পাবেন। আর শহরের বাইরে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার জন্য ইন্টারসিটি সার্ভিস চমৎকার।

ব্যস্ততার কারণে আপনি হয়তো মায়ের কাছাকাছি থাকতে পারেন না, কিন্তু বিশেষ দিনে উপহার দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা তো জানাতেই পারেন। নিজে উপস্থিত না থাকতে পারলেও উবারের ডেলিভারি সার্ভিস উবার কানেক্ট আপনার উপহার ঠিকই মায়ের কাছে পৌঁছে দেবে।

তা ছাড়া রাইড শেয়ারিং সার্ভিসগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে নিজের ও মায়ের নিরাপত্তা নিয়েও আপনি থাকতে পারেন নিশ্চিন্ত।

ব্যস্ততা আমাদের অবসর দেয় না। তারপরও যতটা সম্ভব, বিশেষ দিনটি মায়ের সঙ্গে কাটাতে চান অনেকে। এমন দিনে নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে পাশে থাকবে রাইড শেয়ারিং সার্ভিসগুলো।

আরও পড়ুন:
উপজেলা নির্বাচন: গজারিয়ায় সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় আরেক মামলা
চকরিয়ায় সাংবাদিকের ওপর হামলায় ১৫ জনের নামে মামলা
প্রতারণার মামলায় প্রধান শিক্ষক কারাগারে
চট্টগ্রামে বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার
‘সোর্ড অফ অনার’সহ নানা প্রাপ্তি অসিম জাওয়াদের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
How Donkey Day came

যেভাবে এলো গাধা দিবস

যেভাবে এলো গাধা দিবস ফাইল ছবি
প্রাণী নিয়ে গবেষণা করা বিজ্ঞানী আর্ক রাজিক গাধা দিবসের প্রতিষ্ঠাতা। গাধা সমাজের মানুষের জন্য যে পরিশ্রম করছে বা অবদান রাখছে, তার কোনো স্বীকৃতি নেই- এই ভাবনা থেকে গাধা দিবস পালনের চিন্তা করেন তিনি। ফেসবুকে একটি গ্রুপ খুলে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনার পর গাধা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয়।

বহু বছর ধরে মানুষের জন্য সেবা দিয়ে আসা এক প্রাণী হলো গাধা। বিশেষ করে ভার বহনে গাধা হয়ে আছে আস্থার প্রতীক। বৈরি আবহাওয়া কিংবা কঠিন ভূখণ্ডেও গাধা টিকতে পারে সহজেই। প্রতি বছর ৮ মে পালন করা হয়ে থাকে বিশ্ব গাধা দিবস। ২০১৮ সাল থেকে চালু হয়েছে এই দিবস। এ হিসেবে বুধবার পালন করা হচ্ছে এই দিবস।

যেভাবে এলো গাধা দিবস

প্রাণী নিয়ে গবেষণা করা বিজ্ঞানী আর্ক রাজিক গাধা দিবসের প্রতিষ্ঠাতা। গাধা সমাজের মানুষের জন্য যে পরিশ্রম করছে বা অবদান রাখছে, তার কোনো স্বীকৃতি নেই- এই ভাবনা থেকে গাধা দিবস পালনের চিন্তা করেন তিনি। ফেসবুকে একটি গ্রুপ খুলে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনার পর গাধা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয়।

গাধার ব্যবহার

আধুনিক সময়ে এসে যে গাধাগুলো দেখা যায়, এগুলো এসেছে সোমালি বন্য গাধা এবং নুবিয়ান বন্য গাধা থেকে। উভয়ই আফ্রিকান বন্য গাধার উপ-প্রজাতি। কয়েক শ বছর ধরে মানুষকে সেবা দিয়ে আসছে এই প্রাণীটি।

গাধা বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন উদ্দেশে ব্যবহার করা হয়। বিদ্যুৎ বা বাষ্পশক্তি উদ্ভাবনের আগে সমাজের উন্নয়নে গাধা দ্বারা উৎপাদিত শক্তি ব্যবহার হতো নানা ক্ষেত্রে। বহু পথ অতিক্রম করতে পারে গাধা। ঘণ্টায় ৩১ মাইল যেতে পারে একটি গাধা। গাধা বাঁচে গড়ে ৫০ থেকে ৫৪ বছর।

গাধার বৈশিষ্ট্য

একবার কোনো পথ দিয়ে গেলে সেই পথের কথা মনে থাকে গাধার। পথ চিনতে পারে এই প্রাণীটি। গাধা সাধারণত সতর্ক থাকে এবং এমন পরিস্থিতিতে ভয় পায় যা তারা বিপদজনক বলে মনে করে।

পরিষ্কার থাকতে পছন্দ করে গাধা। নিজেরা দেখতে কেমন, সে ব্যাপারে গুরুত্ব দেয় এই প্রাণীটি। প্রাণীটি উষ্ণ ও শুষ্ক পরিবেশ যেমন মরুভূমির মতো জায়গা পছন্দ করে। যখন একটি গাধার সঙ্গীকে তার কাছ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়, তখন প্রাণীটি কষ্ট পায়।

বিশ্বে ১৮৬ বা এর চেয়ে বেশি ধরনের গাধা আছে। এ প্রাণীটির শ্রবণশক্তি এতই বেশি যে, অনেক দূর থেকে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে সহজেই।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Engineers committed to building Smart Bangladesh IEB President

স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রকৌশলীরা অঙ্গীকারবদ্ধ: আইইবি প্রেসিডেন্ট

স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রকৌশলীরা অঙ্গীকারবদ্ধ: আইইবি প্রেসিডেন্ট রাজধানীর রমনায় আইইবির প্রধান কার্যালয়ে মঙ্গলবার দেশের সবচেয়ে প্রাচীন পেশাজীবী প্রতিষ্ঠানটির ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত র‌্যালিতে উপস্থিত প্রকৌশলীরা। ছবি: নিউজবাংলা
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় আইইবি প্রেসিডেন্ট আবদুস সবুর বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ, ‘ভিশন-২০৪১’ ও ‘ডেল্টা প্ল্যান- ২১০০’ বাস্তবায়নে প্রকৌশলীরা দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ৷ সরকারকে প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান বিষয়ে যেকোনো পরামর্শ দিতে আইইবি সক্ষম। আইইবির প্রকৌশলীর সদা প্রস্তুত রয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে প্রকৌশলীরা অঙ্গীকারবদ্ধ বলে দাবি করেছেন ইনস্টিটিউশন অফ ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী আবদুস সবুর।

রাজধানীর রমনায় আইইবির প্রধান কার্যালয়ে মঙ্গলবার দেশের সবচেয়ে প্রাচীন পেশাজীবী প্রতিষ্ঠানটির ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় দেয়া বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন।

‘উন্নত জগৎ গঠন করুন’ স্লোগানে ১৯৪৮ সালের ৭ মে আইইবি প্রতিষ্ঠা করা হয়, যে প্রতিষ্ঠানের বর্তমান সদস্য প্রায় ৭০ হাজার।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটি নানা কর্মসূচি পালন করে।

আইইবি সদরদপ্তরে সকাল আটটায় জাতীয় পতাকা ও প্রতিষ্ঠানটির পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

সকাল সাড়ে আটটায় কেক কাটার পর আলোচনা সভা শুরু হয়।

আইইবির ১৮টি কেন্দ্র, ৩৪টি উপকেন্দ্র ও ১৪টি ওভারসিজ চ্যাপ্টারে একই সময়ে কর্মসূচি পালন করা হয়।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় আইইবি প্রেসিডেন্ট আবদুস সবুর বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ, ‘ভিশন-২০৪১’ ও ‘ডেল্টা প্ল্যান- ২১০০’ বাস্তবায়নে প্রকৌশলীরা দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ৷ সরকারকে প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান বিষয়ে যেকোনো পরামর্শ দিতে আইইবি সক্ষম। আইইবির প্রকৌশলীর সদা প্রস্তুত রয়েছে।”

অনুষ্ঠানে দেশের প্রকৌশল পেশার মানোন্নয়নে আইইবির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী এস এম মঞ্জুরুল হক মঞ্জু বলেন, ‘আমরা সুনির্দিষ্ট করে আইইবির পক্ষ থেকে দাবি জানাচ্ছি। সেই দাবিগুলো বাস্তবায়ন করতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।’

প্রকৌশলীদের দাবি

১. প্রকৌশলীদের পদোন্নতি ও পদায়ন নিশ্চিত করা।

২. পলিটেকনিক শিক্ষকদের বর্তমান চাকরি কাঠামো পরিবর্তন।

৩. বিভিন্ন প্রকৌশল সংস্থাকে (এলজিইডি) বিসিএস ক্যাডারভুক্ত করা, বিসিএস পানিসম্পদ ক্যাডার, বিসিএস টেলিকম, বিসিএস টেক্সটাইল ক্যাডার চালু করা।

৪. প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রকৌশল উইং সৃষ্টি

৫. বিভিন্ন প্রকল্পে কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রজেক্ট ডিরেক্টর (পিডি) নিয়োগ করা।

৬. বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিত করা

আরও পড়ুন:
‘ঘুষের’ টাকাসহ পাউবোর দুই প্রকৌশলী আটক
ভৈরব নদে চীনা প্রকৌশলীর মরদেহ
চসিক প্রকৌশলীর উপর হামলার বিচারের দাবি আইইবির
প্রকৌশলীকে চড়: ‘নেতার কাছে দুঃখ প্রকাশ’ বানি আমিনের
প্রকৌশলীকে মারধর, ৪ ঠিকাদার আটক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The Pulitzer Prize is being awarded today

পুলিৎজার পুরস্কার দেয়া হচ্ছে আজ

পুলিৎজার পুরস্কার দেয়া হচ্ছে আজ সাংবাদিকতা ছাড়াও সাহিত্য, সংগীত ও নাটকে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯১৭ সাল থেকে এ পুরস্কার দেয়া হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
গত ৭ অক্টোবর হামাসের অতর্কিত ইসরায়েলে হামলা ও তার পর থেকে গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসন এবারের পুলিৎজার প্রদানের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাংবাদিকতার ‘নোবেল’ হিসেবে খ্যাত পুলিৎজার পুরস্কার দেয়া হচ্ছে আজ। যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির একটি বোর্ড প্রতি বছর এ পুরস্কার ঘোষণা করে।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সোমবার বিকেল তিনটা থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বলে জানায় বার্তা সংস্থা ইউএনবি।

সাংবাদিকতার ১৫টি বিভাগে এ পুরস্কার দেয়া হয়। সাংবাদিকতা ছাড়াও সাহিত্য, সংগীত, নাটকে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯১৭ সাল থেকে এ পুরস্কার দেয়া হচ্ছে।

২০২৩ সালে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলির ওপর করা সংবাদের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন বিভাগে এ বছর পুরস্কার ঘোষণা করা হবে। বছরের সবচেয়ে বড় খবর কভার করা সাংবাদিকরাই সাধারণত এ সম্মাননা পান।

গত ৭ অক্টোবর হামাসের অতর্কিত ইসরায়েলে হামলা ও তার পর থেকে গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসন এবারের পুলিৎজার প্রদানের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসরায়েলি আগ্রাসনের শুরু থেকে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে এ পর্যন্ত গাজায় অন্তত ৯৭ জন সংবাদকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। বিষয়টি পুরস্কার প্রদান কমিটি বিশেষভাবে বিবেচনায় রাখবে। এ ছাড়া ফিলিস্তিনের কোনো সাংবাদিকের কাজকে এবার স্বীকৃতি দেয়া হয় কি না, পর্যবেক্ষকরা সেটি দেখতেও মুখিয়ে আছেন।

ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ নিয়ে খবর প্রকাশের জন্য গত বছর পুলিৎজার পুরস্কার পায় বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)। এ ছাড়া এ যুদ্ধ নিয়ে খবরাখবর তুলে ধরায় যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসকেও পুরস্কৃত করা হয়।

আরও পড়ুন:
আইনজীবী ফাওজিয়ার হাতে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সাহসী নারী পুরস্কার
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার হস্তান্তর
ক্লাইমেট মোবিলিটি চ্যাম্পিয়ন লিডার অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
‘বুকার’ পুরস্কার জিতলেন আইরিশ লেখক পল লিঞ্চ
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিতরণ সন্ধ্যায়

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Shakib Tamim Jyoti Happy New Year to the countrymen

দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা সাকিব জ্যোতি তামিমদের

দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা সাকিব জ্যোতি তামিমদের সাকিব আল হাসান, নিগার সুলতানা জ্যোতি ও তামিম ইকবাল। কোলাজ: নিউজবাংলা
নতুন বছরের আগের দিন শনিবার রাতে ফেসবুকে ভেরিফায়েড পেজে এক পোস্টে সাকিব লিখেন, ‘শুভ নববর্ষ! আশা করি আমাদের সবার জীবনে এই নতুন বছর অঢেল সুখ, শান্তি এবং আনন্দ নিয়ে আসবে।’

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেশের আলোচিত ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল ও নিগার সুলতানা জ্যোতি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তারা বাংলা নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানান।

নতুন বছরের আগের দিন শনিবার রাতে ফেসবুকে ভেরিফায়েড পেজে এক পোস্টে সাকিব লিখেন, ‘শুভ নববর্ষ! আশা করি আমাদের সবার জীবনে এই নতুন বছর অঢেল সুখ, শান্তি এবং আনন্দ নিয়ে আসবে।’

নিজ ভেরিফায়েড পেজে ‘শুভ নববর্ষ ১৪৩১’ লেখা একটি পোস্টার শেয়ার করে ওপেনার তামিম ইকবাল এক বাক্যে লিখেন, ‘সবাইকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা।’

এ দুই তারকা ছাড়াও অনেকেই নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বলে বার্তা সংস্থা বাসসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ডানহাতি পেসার তাসকিন আহমেদ নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে লিখেন, ‘নববর্ষে নবরূপ রাঙিয়ে দিক প্রতিটি মুহূর্ত। সুন্দর সমৃদ্ধ হোক আগামীর দিনগুলো। শুভ নববর্ষ সকলকে।’

নিজ ফেসবুক অ্যাকাউন্টে অলরাউন্ডার মেহেদি হাসান মিরাজ লিখেন, ‘আনন্দ, উন্নতি ও শুভকামনার বার্তা নিয়ে নতুন বছরের সূচনায় ভরে উঠুক সকলের জীবন। সবাইকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা। শুভ নববর্ষ ১৪৩১।’

জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি লিখেন, ‘নববর্ষে নবরূপ রাঙিয়ে দিক প্রতিটি মুহূর্ত। সুন্দর সমৃদ্ধ হোক আগামীর দিনগুলো। শুভ নববর্ষ।’

আরও পড়ুন:
‘কী কথা, কাহার সনে’, লাইভে জানাবেন তামিম
বেটিং তদন্তে উঠে এল সাকিবের বোনের নাম
ওয়ানডে অলরাউন্ডার র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান হারালেন সাকিব
সব ফরম্যাটে অধিনায়ক শান্ত, বিসিবির একাধিক পদে পরিবর্তন
চোখের চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন সাকিব

মন্তব্য

বাংলাদেশ
A two day Baisakhi fair in Kamalganj on the occasion of Bengali New Year

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে কমলগঞ্জে দুই দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে কমলগঞ্জে দুই দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী বৈশাখী মেলায় বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সব পণ্যের পসরা সাজানো হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা
পহেলা বৈশাখের দিন রোববার থেকে শুরু হওয়া এ মেলা চলবে সোমবার পর্যন্ত। মেলায় উঠেছে হরেক রকমের পণ্য।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ বাংলা নববর্ষ-১৪৩১ উদযাপন উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন করে হয়েছে।

উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের শহীদনগর বাজারে রোববার নববর্ষ উদযাপন কমিটি ও শাপলা সবুজ সংঘের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী ৩১তম বৈশাখী মেলা শুরু হয়।

বর্ষবরণ উপলক্ষে কমলগঞ্জে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রা শেষে মাইজগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের নিয়ে দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে কমলগঞ্জে দুই দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা

বর্ষবরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নববর্ষ উদযাপন কমিটির সভাপতি পতনঊষার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান অলি আহমদ খান সভাপতিত্ব করেন। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পতনঊষার ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার তওফিক আহমদ বাবু, বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক আবদুল হান্নান চিনু, আবুল ফজল চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিছবাউর রহমান চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম, পতনঊষার ইউপি সদস্য তোয়াবুর রহমান তবারক, শাপলা সবুজ সংঘের সভাপতি নারায়ণ মল্লিক সাগর, শহীদনগর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল বশর জিল্লুল, প্রবাসী ইমদাদুল হক ইমরান, নববর্ষ উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাকসহ অনেকে।

এদিকে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী বৈশাখী মেলায় বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সব পণ্যের পসরা সাজানো হয়েছে।

পহেলা বৈশাখের দিন রোববার থেকে শুরু হওয়া এ মেলা চলবে সোমবার পর্যন্ত। মেলায় উঠেছে হরেক রকমের পণ্য।

মেলা দেখতে ভিড় করেছে শিশু, কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সীরা। দীর্ঘদিন পর মেলা হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে আগত দর্শনার্থীরা।

আরও পড়ুন:
লাউয়াছড়া উদ্যান সংলগ্ন টিলায় ফের আগুন
মৌলভীবাজারে আসামি ধরতে গিয়ে আহত ৪ পুলিশ
কমলগঞ্জে আগুনে পুড়ল বসতঘর গবাদি পশু
শ্রীমঙ্গলে জাল টাকা ও ভারতীয় রুপিসহ একজন গ্রেপ্তার
ডোবার পানিতে ভাসছিল দুই শিশুর মরদেহ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Bengali welcomes the New Year with a colorful Mars procession

বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রায় বাংলা নতুন বছরকে বরণ

বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রায় বাংলা নতুন বছরকে বরণ চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হয় বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস
উৎসাহী অংশগ্রহণকারীদের নেতৃত্বে মঙ্গল শোভাযাত্রা শাহবাগ, ঢাকা ক্লাব এবং শিশু পার্কের মতো ঐতিহাসিক স্থান হয়ে ঢাকার ব্যস্ত রাস্তা অতিক্রম করে। বর্ণিল পোশাকে সজ্জিত ও প্রতীকী নিদর্শন সম্বলিত শোভাযাত্রাটি বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিধ্বনি করে এবং আনন্দ-উল্লাসে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়

পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদ থেকে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা হয়েছে।

ঐক্য, সাংস্কৃতিক গর্ব ও স্থিতিস্থাপকতার প্রতীক শোভাযাত্রাটি ঐতিহ্যবাহী শিল্পীসত্তা ও চেতনার মন্ত্রমুগ্ধকর প্রদর্শনীর মধ্যে দিয়ে রোববার সকাল ৯টা ১৮ মিনিটে আরম্ভ হয়। খবর ইউএনবির

উৎসাহী অংশগ্রহণকারীদের নেতৃত্বে মঙ্গল শোভাযাত্রা শাহবাগ, ঢাকা ক্লাব এবং শিশু পার্কের মতো ঐতিহাসিক স্থান হয়ে ঢাকার ব্যস্ত রাস্তা অতিক্রম করে। বর্ণিল পোশাকে সজ্জিত ও প্রতীকী নিদর্শন সম্বলিত শোভাযাত্রাটি বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিধ্বনি করে এবং আনন্দ-উল্লাসে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়

সৃজনশীলতা ও শৈল্পিক প্রকাশের লালনের জন্য পরিচিত চারুকলা অনুষদ সাংস্কৃতিক তাৎপর্যের সূচনা স্থান। অনুষদের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের আয়োজিত এই আয়োজনে বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক সৌন্দর্যের প্রচার ও সংরক্ষণে প্রতিষ্ঠানটির অঙ্গীকারের দৃষ্টান্ত ফুটে ওঠে।

শোভাযাত্রাটি টিএসসিতে সমাপ্তির পথে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে সেখানকার বাতাস হর্ষধ্বনি, সংগীত এবং অংশগ্রহণকারী ও দর্শকদের সম্মিলিত উল্লাসে অনুরণিত হয়। মঙ্গল শোভাযাত্রা শুধু বাংলা নববর্ষের আগমনই উদযাপন করে না, প্রতিকূলতার মধ্যেও বাঙালি মানুষের সহনশীলতা ও চেতনার সাক্ষ্য বহন করে।

আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে এই জাতীয় আয়োজন ঐক্য, স্থিতিস্থাপকতা ও একাত্মতার বোধকে লালন করার ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্ব নিশ্চিত করে।

মন্তব্য

p
উপরে