× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Shipwreck in the sea 4 bodies recovered in Magura
google_news print-icon

সাগরে জাহাজডুবি: ৪ মরদেহ উদ্ধার, সবার বাড়ি মাগুরায়

সাগরে-জাহাজডুবি-৪-মরদেহ-উদ্ধার-সবার-বাড়ি-মাগুরায়
‘এমভি সুলতান সানজা’ ডুবে মৃত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের বাড়ি মাগুরা মহম্মদপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। এখন পর্যন্ত চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় বঙ্গোপসাগরের বহির্নোঙরে লাইটারেজ ‘এমভি সুলতান সানজা’ ডুবির ঘটনায় চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কোস্টগার্ড শুক্রবার সকাল ও বিকেলে মরদেহগুলো উদ্ধার করেছে। এখনও নিখোঁজ আছেন দুইজন।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন কোস্টগার্ড পূর্ব জোনের কমান্ডার ক্যাপ্টেন কাজী শাহ্‌ আলম।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, “এমভি আকিজ লজিস্টিক-২৩ লাইটারেজের ধাক্কায় ‘এমভি সুলতান সানজা’ ডুবির ঘটনায় শুক্রবার চারটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো দুইজন নিখোঁজ রয়েছেন। কোস্টগার্ড উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।”

বঙ্গোপসাগরের পতেঙ্গায় মঙ্গলবার বিকেলের এই দুর্ঘটনার পর তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

এদিকে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে মাছ ধরার জাহাজ ‘এফভি মাগফেরাত’ ডুবির ঘটনায় এখনও নিখোঁজ আছেন দুইজন।

এই দুর্ঘটনাও ঘটে মঙ্গলবার। সেদিন জীবিত উদ্ধারের পর আহতদের হাসপাতালে নেয়া হলে পরদিন একজনের মৃত্যু হয়। উদ্ধার অভিযানে পাওয়া যায় ৫ জনের মরদেহ।


পতেঙ্গা জাহাজডুবে মৃত ও নিখোঁজদের বাড়ি মাগুরায়

‘এমভি সুলতান সানজা’ ডুবে মৃত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের বাড়ি মাগুরা মহম্মদপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। সেসব পরিবারে চলছে আহাজারি।

সাগরে জাহাজডুবি: ৪ মরদেহ উদ্ধার, সবার বাড়ি মাগুরায়

ওই ব্যক্তিরা হলেন, মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার মণ্ডলগাতি গ্রামের নূরুল হোসেন মোল্যার দুই ছেলে শিমুল ও জাহিদ, মো. খসরু বিশ্বাসের ছেলে মো. সুরুজ, গোলাম রসূল মোল্যার ছেলে নূর মোহাম্মদ, একই উপজেলার খলিসাখালি গ্রামের কামাল মোল্যার ছেলে মনির হোসেন এবং বাবুখালী ইউনিয়নের দাতিয়াদাহ গ্রামের রঘুনাথপুর পাড়ার আকরাম হোসেনের ছেলে নাজমুল হাসান।

উদ্ধার হওয়া চার মরদেহের পরিচয় এখনও শনাক্ত হয়নি। তবে একটি মরদেহ নাজমুল হাসানের বলে দাবি করেছেন তার বাবা আকরাম মোল্যা।

জাহাজে কর্মরত মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার যশোবন্তপুর গ্রামের রুবেল এবং খলিসাখালী গ্রামের রবিউল ইসলাম জাহাজডুবির পর সাঁতরে তীরে এসে পড়েন।

রুবেল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা পাথর নিয়ে বড় ট্রলারে করে কর্ণফুলির দিকে যাচ্ছিলাম। এ সময় পেছন থেকে একটি লাইটার জাহাজ আমাদের জাহাজে আঘাত করে।

‘সে সময় আমাদের জাহাজে মহম্মদপুর উপজেলার মোট ৮ জন ছিলেন। আমার সঙ্গে রবিউল তীরে উঠলেও অন্য ৬ জনের খবর পাইনি তখন।’

মণ্ডলগাতি গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুর সবুর বলেন, ‘আমাদের গ্রামে শতাধিক মানুষ চট্টগ্রামে জাহাজ ও ট্রলারে কাজ করেন। কখনও এমন হয়নি যে পরপর একই এলাকার অনেকে মারা গেছেন। তারা নিখোঁজ রয়েছে তিনদিন। মানে আমরা ধরেই নিয়েছি কেউ বেঁচে নেই। এখন তাদের মরদেহটি পেলেই আমাদের সান্ত্বনা। আমরা অন্তত কবরটা দিতে পারি।’

সাগরে জাহাজডুবি: ৪ মরদেহ উদ্ধার, সবার বাড়ি মাগুরায়

বেঁচে ফেরা রবিউলের ভাই মনিরও নিখোঁজ। তাদের ফুপু নাজমা আক্তার বলেন, ‘আসছে জানুয়ারি মাসে মনিরের জন্য মেয়ে দেখার কথা ছিল। কত স্বপ্ন ছিল তার বিয়েতে আমরা আনন্দ করব। কিছু হলো না। রবিউল বেঁচে ফিরলেও মনিরের কোনো খবর পাইনি।’

কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে একটি মনিরের বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি জাহাজটির সুকানি ছিলেন।

মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রামানন্দ পাল বলেন, ‘চট্টগ্রামে দুটি জাহাজডুবির ঘটনা শোনার পরই আমরা সেখানকার প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করি। নিখোঁজ ও উদ্ধার হওয়াদের বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখছি।’

আরও পড়ুন:
লাইটারেজ জাহাজডুবি: আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার
লাইটারেজ জাহাজডুবি: নাবিকের মরদেহ ভেসে এলো সীতাকুণ্ডে
লাইটারেজ জাহাজডুবি: ৫৭ ঘণ্টায়ও খোঁজ মেলেনি চার নাবিকের
লাইটারেজ জাহাজডুবি: পাঁচ নাবিকের একজন উদ্ধার
জাহাজডুবির সাড়ে ১৬ ঘণ্টায়ও খোঁজ মেলেনি ৫ নাবিকের

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Mother killed newborn by dropping from ninth floor Police

নবজাতককে নয় তলা থেকে ফেলে হত্যা করেন মা: পুলিশ

নবজাতককে নয় তলা থেকে ফেলে হত্যা করেন মা: পুলিশ কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বাড়ি থেকে নিখোঁজ এক নবজাতকের মরদেহ ঝোপ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা
ভৈরব থানা ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নিজ হাতেই নবজাতক সন্তানকে হত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে নবজাতকের মা তৃশা আক্তার ৯ তলার বেলকনির জানালা দিয়ে শিশুটিকে ছুড়ে ফেলে হত্যা করে।’

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে এক মা নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে তার সাত দিনের নবজাতককে নয় তলায় ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে শহরের কমলপুর নিউ টাউন ফুল মিয়া সিটি এলাকায় একটি নয় তলা ভবনের নিচে ঝোপ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সোমবার মধ্যরাতে শিশুটি বাসা থেকে নিখোঁজ হয় বলে জানায় পরিবার।

প্রাণ হারানো সাত দিন বয়সী শিশুটির নাম তাসনিদ এহসান। তার বাবা উসমান গনি স্থানীয় সেন্ট্রাল হাসপাতালের মালিক ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক।

ভৈরব থানা ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নিজ হাতেই নবজাতক সন্তানকে হত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে নবজাতকের মা তৃশা আক্তার ৯ তলার বেলকনির জানালা দিয়ে শিশুটিকে ফেলে হত্যা করে।

‘স্ত্রীকে আসামি করে মামলা করেছেন নবজাতকের পিতা চিকিৎসক উসমান গনি। বিল্ডিং থেকে পড়েই নবজাতকটির মৃত্যু হয়েছে। শিশুটির মাথায় ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’

তিনি জানান, এ ঘটনায় তৃশা আক্তারকে আটক করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কিশোরগঞ্জ মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে হত্যার আরও কারণ জানতে পুলিশ কাজ করছে।

শিশুটির নিখোঁজের বিষয়ে স্বজনরা জানিয়েছিলেন, সোমবার রাতে শিশুকে নিয়ে ঘুমিয়েছিলেন মা। বাবা ছিলেন আরেক রুমে। ঘরে শিলা ও মিম নামে দুইজন গৃহকর্মীও ছিলেন। এ ছাড়াও সুমাইয়া নামের একজন নারী ছিলেন। তিনি শিশুটির মায়ের বান্ধবী। রাত তিনটার দিকে মা বিছানা থেকে উঠে দেখেন বাচ্চাটি নিখোঁজ। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে তাৎক্ষণিক ভৈরব থানায় অভিযোগ দেয় শিশুটির পরিবার।

তারা আরও জানান, সকাল সাড়ে আটটার দিকে গৃহকর্মীর মাধ্যমে জানা যায় শিশুটিকে বাড়ির পাশে একটি ঝোপে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় দুই গৃহকর্মী, নবজাতকের মা ও তার বান্ধবীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা নিয়ে যায় পুলিশ।

এ দিকে স্থানীয়রা জানান, ডা. উসমান গনির দ্বিতীয় স্ত্রী তৃশা। তাদের পরিবারে দেড় বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। সাত দিন আগে ডা. উসমান গনির মাধ্যমে সিজারিয়ান অপারেশনে নবজাতকের জন্ম হয়। প্রায় সময় তাদের বাসা থেকে চিৎকার চেঁচামেচির শব্দ পাওয়া যেত।

নিহত শিশুর মা ওই দিন জানান, মধ্যরাতে কে বা কারা তার শিশু সন্তানটিকে নিয়ে গেছে তিনি জানেন না। তিনি বাথরুমে গেলে ১৫ মিনিট পর ফিরে সন্তানকে বিছানায় পাননি।

এ বিষয়ে বিল্ডিংয়ের কেয়ার টেকার আফজাল জানান, ‘ভোর ৫টার দিকে ডা. উসমান গনি জানান তাদের সন্তান কে বা কারা চুরি করে নিয়ে গেছে। পরে কাজের মেয়ে জানায় যে বিল্ডিংয়ের অদূরে একটি ঝোপে বাচ্চাটি পড়ে আছে।’

ওই সময় ভৈরব থানা ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘হত্যার বিষয়টি রহস্যজনক। শিশুটির মাথায় ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিল্ডিং থেকে ফেলা হয়েছে কি না বা মেরে ফেলে রাখা হয়েছে কি না তা বলা যাচ্ছে না।’

আরও পড়ুন:
টেকনাফে মামলায় হাজিরা দিতে যাওয়ার পথে কুপিয়ে হত্যা
মিন্টুর মুক্তির দাবিতে ঝিনাইদহে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন
আনার হত্যাকাণ্ড: আওয়ামী লীগ নেতা মিন্টু আটদিনের রিমান্ডে
স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার পর থানায় হাজির
সালিশে মারধর ও জরিমানা করায় মাতব্বরকে হত্যা: পুলিশ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Bhattarai building blast One more burnt to death

ভাটারায় ভবনে বিস্ফোরণ: দগ্ধ আরও একজনের মৃত্যু

ভাটারায় ভবনে বিস্ফোরণ: দগ্ধ আরও একজনের মৃত্যু শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট। ফাইল ছবি
দগ্ধ রকসির দেবর আহমেদ মোস্তফা বলেন, ‘আমার ভাবীর ব্রেইন টিউমার হয়েছে। এ জন্য এ মাসের ১ তারিখে আমরা সপরিবারে গ্রাম থেকে ঢাকায় এসে এভারকেয়ার হাসপাতালের পাশে ওই ভবনের নিচ তলায় একটি বাসায় ভাড়া উঠি। সেখান থেকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল তাকে।’

রাজধানীর ভাটারা থানায় একটি বাসায় বিস্ফোরণের ঘটনায় একই পরিবারের চারজন দগ্ধের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে মারা যান ১৮ বছর বয়সী নারী ফুতু আক্তার।

বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভাটারা থেকে নারী-শিশুসহ চারজন আমার এখানে এসেছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটের (আইসিইউতে) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এক নারী। তার শরীরের ৫৫ শতাংশ দগ্ধ ছিল।’

এর আগে বুধবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় আয়ান নামে তিন বছরের এক শিশু। শিশুটির মা রকসি আক্তার ও তার নানা আব্দুল মান্নান দগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তবে তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানান চিকিৎসক।

এর আগে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এভারকেয়ার হাসপাতালের পাশের একটি ভবনের নিচ তলায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

দগ্ধ রকসির দেবর আহমেদ মোস্তফা বলেন, ‘আমার ভাবীর ব্রেইন টিউমার হয়েছে। এ জন্য এ মাসের ১ তারিখে আমরা সপরিবারে গ্রাম থেকে ঢাকায় এসে এভারকেয়ার হাসপাতালের পাশে ওই ভবনের নিচ তলায় একটি বাসায় ভাড়া উঠি। সেখান থেকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল তাকে।’

তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যার দিকে রান্নাঘরে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে আমাদের পরিবারের চারজন দগ্ধ হন, পরে তাদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়।’

আরও পড়ুন:
মৌলভীবাজারে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু
রাজধানীতে আবাসিক ভবনে বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৪
সিলেটে টিলা ধস: ছয় ঘণ্টা পর ৩ মরদেহ উদ্ধার
শিল্পোদ্যোক্তা আব্দুল মোনেমের মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া মাহফিল
হাওরের পানিতে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Handover of body of Bangladeshi killed in BSF firing at Comilla border

কুমিল্লা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশির মরদেহ হস্তান্তর

কুমিল্লা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশির মরদেহ হস্তান্তর বিএসএফের গুলিতে নিহত আনোয়ার হোসেনের দেহ বিকেল পাঁচটার দিকে পান স্বজনরা। কোলাজ: নিউজবাংলা
বুড়িচং থানার ওসি আবু হাসানাত জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। 

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার জামতলা সীমান্তে রোববার গুলিতে নিহত বাংলাদেশি আনোয়ার হোসেনের মরদেহ ফেরত দিয়েছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।

গতকাল সকাল আটটার দিকে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন আনোয়ার হোসেন। বিকেল পাঁচটার দিকে তার মরদেহ পান স্বজনরা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ৬০ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এএম জাবের বিন জব্বার

বলেন, ‘সকালে আনোয়ার হোসেন ভারতে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তিনি।’

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য আবুল কাশেম জানান, রোববার সকাল আটটার দিকে স্থানীয়রা জামতলা উত্তরপাড়া সীমান্ত এলাকায় গুলির শব্দ শুনতে পান। তিনি স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারেন, ভারত থেকে চিনি আনতে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে একজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।

ইউপি সদস্য জানান, স্থানীয় শংকুচাইল ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তিনি সীমান্ত এলাকায় যান।

তিনি আরও জানান, বিকেল পাঁচটার দিকে বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের পাচোড়া এলাকায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিজিবির কাছে আনোয়ারের মরদেহ হস্থান্তর করে বিএসএফ। বিজিবি সদস্যরা মরদেহ গ্রহণের পর বুড়িচং থানা পুলিশের কাছে সেটি হস্তান্তর করেন।

বুড়িচং থানার ওসি আবু হাসানাত জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।

আরও পড়ুন:
কুমিল্লা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত
মুজিবনগর সীমান্ত দিয়ে তিনজনকে ফেরত পাঠাল বিএসএফ
মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত দম্পতি ফের র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার
বাল্কহেডের প্রতিযোগিতায় ভাঙল সেতু, ভোগান্তি ১৫ গ্রামের বাসিন্দাদের 
ঝিনাইদহ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি আহতের খবর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Rohingya camp fire in Ukhia burnt more than two hundred houses

উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আগুন নিয়ন্ত্রণে, পুড়ল দুই শতাধিক ঘর

উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আগুন নিয়ন্ত্রণে, পুড়ল দুই শতাধিক ঘর উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ১৩ নম্বর তানজিমারখোলা ক্যাম্পের ডি-৩ ব্লকের কাঁঠালতলী বাজারে ধরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বেলা আড়াইটার দিকে। ছবি: নিউজবাংলা
৮ এপিবিএন অধিনায়ক আমির জাফর জানান, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, দুই শতাধিক ঘর পুড়ে গেছে। এ আগুনে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

কক্সবাজারের উখিয়ায় শনিবার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ধরা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস।

উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ১৩ নম্বর তানজিমারখোলা ক্যাম্পের ডি-৩ ব্লকের কাঁঠালতলী বাজারে দুপুর একটার দিকে আগুন ধরে।

ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট বেলা আড়াইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

আগুনে পুড়ে গেছে ক্যাম্পের দুই শতাধিক ঘর।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) অধিনায়ক আমির জাফর এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

স্থানীয়দের বরাতে আমির জাফর বলেন, ‘দুপুরে ১৩ নম্বর তানজিমারখোলা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কাঁঠালতলী বাজারে আকস্মিক আগুনের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তেই আগুন কাঁঠালতলী বাজারসহ ক্যাম্পের আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে এপিবিএন তাৎক্ষণিক উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে অবহিত করে।

‘উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। এর মধ্যে কক্সবাজার, রামু ও টেকনাফ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনকে খবর দেয়া হয়। দুপুর দুইটার পর রামু স্টেশনের আরও একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে। আড়াইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।’

তিনি জানান, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, দুই শতাধিক ঘর পুড়ে গেছে। এ আগুনে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত ২৪ মে একই ক্যাম্পে আগুন ধরেছিল। সে সময় কেউ হতাহত না হলেও ভস্মীভূত হয় বসতঘরসহ তিন শতাধিক স্থাপনা।

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হেড মাঝিকে গুলি করে হত্যা
রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট নবায়ন নিয়ে জানতে চায় সৌদি
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যুবককে গুলি করে হত্যা
১২ ঘণ্টার ব্যবধানে আরেক রোহিঙ্গা যুবককে গুলি ও গলা কেটে হত্যা
রোহিঙ্গা গণহত্যার মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির আশা বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Two more upazilas of Sylhet are also flooded

সিলেটের আরও দুই উপজেলা প্লাবিত, নগরেও ঢুকছে পানি

সিলেটের আরও দুই উপজেলা প্লাবিত, নগরেও ঢুকছে পানি সিলেট বন্যায় প্লাবিত সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন কয়েকজন ব্যক্তি। ছবি: নিউজবাংলা
সিলেটের সাত উপজেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে পানিবন্দি অবস্থায় আছে জেলার প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ।

সিলেটে বন্যায় নতুন করে আরও দুটি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। নতুন করে পানি প্রবেশ করেছে বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলায়।

এ নিয়ে জেলার সাত উপজেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে পানিবন্দি অবস্থায় আছে জেলার প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাত থেকে নদী উপচে সিলেট নগরেও পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। নগরের নদী তীরবর্তী কয়েকটি এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এমন পরিস্থিতিতে সব কর্মীর ছুটি বাতিল করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন। জরুরি সেবার জন্য চালু করা হয়েছে কন্ট্রোল রুম।

সিলেটে বৃষ্টি থেমেছে, বৃষ্টিপাত হচ্ছে মেঘালয়ে

টানা কয়েক দিন বৃষ্টির পর শুক্রবার সকাল থেকে সিলেটে বৃষ্টি থেমেছে। রোদেরও দেখা মিলেছে, তবে বৃষ্টি হচ্ছে সিলেটের উজানে ভারতের মেঘালয়ে।

গত ২৪ ঘণ্টায় মেঘালয়ের সবচেয়ে বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চল চেরাপুঞ্জিতে ১৯৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব।

টানা বৃষ্টি ও ঢলে বুধবার রাতেই তলিয়ে যায় ভারত সীমান্তবর্তী সিলেটের পাঁচ উপজেলা জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জকিগঞ্জ। পরের দিন বৃহস্পতিবার রাতে নতুন করে প্লাবিত হয় বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা।

সিলেটের আরও দুই উপজেলা প্লাবিত, নগরেও ঢুকছে পানি

বন্যাকবলিত এলাকায় ৫৪৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে চালু করেছে জেলা প্রশাসন। এর মধ্যে প্লাবিত সাত উপজেলার ৩৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত চার হাজার ৮০২ জন আশ্রয় নিয়েছে। নগরের আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখার কথা জানিয়েছে সিটি করপোরেশন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেট কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ৯টায় সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৯৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সিলেট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার শূন্য দশমিক ৩০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে, জকিগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারে কুশিয়ারার পানি দুটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এর মধ্যে অমলসিদ পয়েন্টে ২০৭ সেন্টিমিটার ও শেওরা পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল।

পাউবো সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দিপক রঞ্জন দাস বলেন, ‘সিলেটে এবারের বন্যা দেখা দিয়েছে ঢলের কারণে। উজানে বৃষ্টি থামলে ঢলও বন্ধ হবে। তখন বন্যা পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে।’

বন্যায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে জৈন্তাপুর উপজেলা। এ উপজেলার ৭৫ শতাংশ এলাকাই পানিতে তলিয়ে যায়। পানি উঠে গেছে বেশির ভাগ বাড়িতে।

বাড়িতে পানি উঠে যাওয়ায় জৈন্তাপুরের ফতেহপুর এলাকার বৃদ্ধা হাওয়া বিবি আশ্রয় নিয়েছেন স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশ্রয়কেন্দ্রে।

তিনি বলেন, ‘আগেও বাড়িতে পানি উঠছে, কিন্তু এত দ্রুত পানি বাড়তে জীবনে দেখিনি। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পানিতে সব তলিয়ে গেল।

‘পানি দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় ঘর থেকে কিছুই নিয়ে আসতে পারিনি। আসবাবপত্র সব পানিতে ভিজে নষ্ট হচ্ছে।’

জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী জানান, উপজেলার টিলা এলাকা ছাড়া বাকি সব এলাকাই প্লাবিত। কোথাও কোথাও মানুষের বাড়ির চাল পর্যন্ত পানিতে ডুবে গেছে। বন্যা কবলিতদের জন্য চাল বরাদ্দ দেয়া হলেও অনেকের রান্না করে খাওয়ার মতো শুকনো জায়গাও নেই।

তিনি বলেন, বন্যা কবলিত মানুষজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, তবে গৃহপালিত পশু উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বন্যায় গবাদিপশুর ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।

এদিকে প্লাবিত উপজেলাগুলোতে শুক্রবারও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাল, শুকনা খাবার ও অর্থ বরাদ্দ করা হয়। বৃহস্পতিবার বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও দুর্গত মানুষের খোঁজ নিতে বিভিন্ন উপজেলায় যান জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান।

তিনি জানান, বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় সেনাবাহিনী প্রস্তুত।

সিলেটের আরও দুই উপজেলা প্লাবিত, নগরেও ঢুকছে পানি

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্লাবিত এলাকায় ১ হাজার বস্তা শুকনা খাবার, ৭৫ টন চাল ও নগদ তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আরও বরাদ্দের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া বন্যার্তদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ইউনিয়নভিত্তিক মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে ।

নগরে ঢুকছে পানি

সুরমা নদী উপচে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে সিলেট নগরের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। শুক্রবার নগরের জামতলা, তালতলা, মাছিমপুর, ছড়ারপাড় তোপখানা, সোবহানীঘাটসহ বেশ কয়েকটি এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। পানি ঢুকে পড়েছে তালতলা এলাকার সিলেট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কার্যালয়ে।

ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. বেলাল হোসেন বলেন, ‘বন্যার পানি ওঠার কারণে এ স্টেশন থেকে সব যন্ত্রপাতি আলমপুর স্টেশনে নিয়ে রাখা হয়েছে। পানি আরও বাড়লে গাড়িগুলোও অন্যত্র নিয়ে রাখতে হবে। সেই সঙ্গে কর্মীদের আপাতত সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে অস্থায়ীভাবে থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

সিলেট সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে পড়েছে ফায়ার সার্ভিসের মূল স্টেশন। ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শান্তনু দত্ত বলেন, ‘তালতলা ফায়ার স্টেশন ছাড়াও নগরের বাগবাড়ি, উপশহর এলাকার নিম্নাঞ্চলে পানি উঠতে শুরু করেছে।’

সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, উজানের পানি নেমে আসায় নদীতে পানি বেড়েছে। যেখানে ছড়ার পানি নদীতে যাওয়ার কথা, সেখানে নদীর পানি ছড়া উপচে নগরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে।

জরুরি সভা

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয়ায় বৃহস্পতিবার বিকেলে জরুরি সভা করে সিটি করপোরেশন।

সভায় নগরের কয়েকটি ওয়ার্ডকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং ওই ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে কাউন্সিলরদের মাধ্যমে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুতের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। শুক্রবার থেকে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি এবং প্রাথমিক চিকিৎসাসামগ্রী পাঠানো শুরু হয়।

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় উদ্ধারকাজের জন্য নৌকার ব্যবস্থা, নিম্নাঞ্চলের বিদ্যুৎকেন্দ্র, উপকেন্দ্রগুলো বন্যার পানিতে যাতে ডুবে না যায়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সহযোগিতা প্রদান, নগরবাসীর জরুরি সেবার জন্য ২৪ ঘণ্টা কন্ট্রোল রুম চালুসহ পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলে রান্না করা খাবার পরিবেশনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সভায় জনস্বার্থে সিলেট সিটি করপোরেশনের বিদ্যুৎ, পানি, স্বাস্থ্য ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখার সব কর্মীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রাথমিকভাবে তিন টন চিড়া, তিন টন মুড়ি, গুড়, খাবার পানি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও ওরাল স্যালাইন কেনা হয়েছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, ‘উজানের পানি নেমে আসায় নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। যেখানে সিলেট নগরের ছড়ার পানি নদীতে পড়ার কথা, সেখানে নদীর পানি উল্টো ছড়া উপচে নগরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি।'

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোবারক হোসেন জানান, বন্যার্তদের সহায়তায় উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে মেডিক্যাল টিম গঠন করা হচ্ছে। বন্যাদুর্গত মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সবার কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে সিলেটের সব নদ-নদীর পানি
রিমালের প্রভাবে বিদ্যুৎহীন সিলেট, মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যাহত
প্রতিদিনই রেকর্ড ছাড়াচ্ছে সিলেটের তাপমাত্রা, গরমে হাঁসফাঁস
সিলেটের আরেক কূপে গ্যাসের সন্ধান
আফগানিস্তানে ফের আকস্মিক বন্যায় ৬০ প্রাণহানি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
MP Anars body found in septic tank idea DB

সেপটিক ট্যাংকে পাওয়া দেহাংশ এমপি আনারের: ধারণা ডিবির

সেপটিক ট্যাংকে পাওয়া দেহাংশ এমপি আনারের: ধারণা ডিবির বৃহস্পতিবার কলকাতা থেকে ঢাকায় ফিরে শাহজালাল বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডিএমপি ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ। ছবি: সংগৃহীত
কলকাতা ঘুরে এসে বিমানবন্দরে ডিএমপি ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ বলেন, ‘কলকাতায় তদন্তকালে সুয়ারেজ লাইন ভেঙে সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে দেহের কিছু অংশ পাওয়া গেছে। যদিও ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, এগুলো ভিকটিমের (এমপি আনার)।’

ভারতের কলকাতা নগরীর উপকণ্ঠে সঞ্জীভা গার্ডেনসে সেপটিক ট্যাঙ্কে যে দেহাংশ পাওয়া গেছে তা সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারের বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ।

এমপি আনার হত্যাকাণ্ড তদন্তে কলকাতায় যাওয়া ডিবি প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার বিকেলে দেশে ফিরেছে। এ সময় ঢাকায় শাহজালাল বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের কাছে এমন ধারণা প্রকাশ করেন তিনি।

ডিএমপি ডিবি প্রধান বলেন, ‘আনোয়ারুল আজীম আনারকে ১৩ মে কলকাতার মাটিতে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশে একটি মামলা হয়েছে। একই ঘটনায় কলকাতায়ও একটি হত্যা মামলা রুজু হয়েছে।

‘মামলাটির তদন্তের জন্য আমরা কলকাতায় গিয়েছিলাম। আমাদের কাছে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের দেয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা এবং ঘটনাস্থলের এভিডেন্সগুলো দেখতে আমরা সেখানে গিয়েছিলাম।’

হারুন বলেন, ‘এমপি আনারের মরদেহ বা দেহাবশেষ না পাওয়া গেলে মামলাটি নিষ্পত্তি করা যেত না। আমরা সেখানে গিয়ে আমাদের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের দেয়া তথ্য ‘ক্রস এক্সামিন’ করেছি। কলকাতায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামি যে তথ্য দিয়েছে তাও যাচাই-বাছাই করেছি।

‘কলকাতার সিআইডিকে সঙ্গে নিয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং তথ্য-উপাত্ত মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করেছি। আমাদের যত ধরনের তথ্যের দরকার, কলকাতায় গিয়ে সবই পেয়েছি। আমরা সফলতা নিয়েই ফিরেছি।’

ডিএমপি ডিবি প্রধান বলেন, ‘কলকাতায় তদন্তকালে আমরা সুয়ারেজ লাইন ভাঙতে বলেছিলাম। সেটা ভেঙেই সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে দেহের কিছু অংশ পাওয়া গেছে। যদিও ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, এগুলো ভিকটিমের (এমপি)। কারণ স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে- অন্য কারও মাংস সেখানে এভাবে ফ্ল্যাশ করবে কেন?’

তিনি বলেন, ‘একজন প্রত্যক্ষদর্শী ওই ফ্ল্যাটে বার বার ফ্লাশ করার আওয়াজ শুনেছেন। সেই তথ্য থেকেই আমরা ওয়াটার থিউরি অ্যাপ্লাই করে মরদেহের খণ্ডিতাংশের সন্ধান পেয়েছি। এটাই আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল। ‌সেটা আমরা‌ উৎরে গেছি।’

হারুন অর রশীদ বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমাদের হাতে তিন ঘাতক গ্রেপ্তার রয়েছে। তাদের মধ্যে মূল ঘাতক আমানুল্লাহ ওরফে শিমুল ভূঁইয়া। হত্যার পরিকল্পনা হয়েছে বাংলাদেশের মাটিতে আর হত্যাটি সংঘটিত হয়েছে কলকাতায়।’

তিনি বলেন, এই মামলার আসামি একজন যুক্তরাষ্ট্রে আরেকজন নেপালে রয়েছে। তাদের ফেরানোর চেষ্টা চলছে। শাহীনের জন্য ইন্টারপোলে আর সিয়ামের জন্য নেপাল প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। কলকাতার পুলিশকেও বলেছি শাহীনকে ফেরানো উদ্যোগ নিতে।

সংসদ সদস্য হত্যার মোটিভ এখনও পরিষ্কার নয় উল্লেখ করে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘ব্যবসায়িক, এলাকার আধিপত্য, রাজনৈতিক, স্বর্ণ ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্ব- এমন সব বিষয়ই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে ১২ মে কলকাতায় যাওয়ার পরদিন রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান তিনবারের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার।

ভারতে তিনি হত্যার শিকার হয়েছেন- এমন খবর প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২২ মে সকালের দিকে।

পুলিশ বলছে, কলকাতার উপকণ্ঠে নিউটাউনের অভিজাত আবাসন সঞ্জীভা গার্ডেনের একটি ফ্ল্যাটে আনারকে খুন করা হয়। খুনের আলামত মুছে ফেলতে মরদেহ কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়। এরপর সুটকেস ও পলিথিনে ভরে ফেলে দেয়া হয় বিভিন্ন জায়গায়।

এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ভারতীয় পুলিশের দেয়া তথ্যে বাংলাদেশে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডেও নেয়া হয়।

ওই তিনজন হলেন- হত্যাকাণ্ডের মূল সংঘটক হিসেবে উল্লেখ করা আমানুল্লাহ আমান ওরফে শিমুল ভূঁইয়া, শিলাস্তি রহমান ও ফয়সাল আলী ওরফে সাজি।

সঞ্জিভা গার্ডেনস নামের ওই অ্যাপার্টমেন্টের সেপটিক ট্যাংক থেকে মঙ্গলবার বেশকিছু মাংসের টুকরো উদ্ধার করা হয়।

ওই দেহাংশ এমপি আনারের কি না তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা দিতে এমপি আনারের পরিবারের সদস্যদের কলকাতায় যাওয়ার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন:
তদন্তাধীন মামলায় গণমাধ্যমে বক্তব্য বন্ধ চেয়ে আইনি নোটিশ
এমপি আনার হত্যা: ফ্ল্যাটের সেপটিক ট্যাংক থেকে মাংস, চুল উদ্ধার
এমপি আনারের মরদেহ পাওয়া নিয়ে আশাবাদী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
কোন অস্ত্রে খুন এমপি আনার, খুঁজছেন গোয়েন্দারা
কসাই জিহাদকে নিয়ে কলকাতার সেই ফ্ল্যাটে ডিবির তদন্তকারীরা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The exact reason behind the killing of MP Anna Harun is not yet known

এমপি আনার হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি: হারুন

এমপি আনার হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি: হারুন রাজধানীর মিণ্টো রোডের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন ডিএমপি ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ। ছবি: নিউজবাংলা
ডিএমপি ডিবি প্রধান বলেন, ‘খুনিরা কলকাতার ফ্ল্যাটে এমপি আনোয়ারুল আজীম আনারকে হত্যার পর চারটি মোবাইল ফোন সেট নিয়ে বেনাপোল সীমান্তবর্তী এলাকায় আসে এবং পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হত্যাকাণ্ডে ফাঁসাতে তাদেরকে ফোন করে।’

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যার পেছনে ব্যবসায়িক লেনদেন, আধিপত্য বিস্তারসহ অনেক কারণ থাকতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনও জানা যায়নি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ শনিবার সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। সূত্র: ইউএনবি

রাজধানীর মিণ্টো রোডে ডিবি’র সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তিন সদস্যের একটি দল শনিবার রাত বা রোববার সকালের মধ্যে ভারতের উদ্দেশে রওনা হবে।

বাংলাদেশ পুলিশের পাশাপাশি কলকাতা পুলিশও সংসদ সদস্য আনার হত্যার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত করছে। তারা ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সফর করেছে।

ডিএমপি ডিবি প্রধান বলেন, ‘অপহরণের পর খুনিরা এমপি আনারকে ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। তারপর খুনিরা তার একটি ফোন অন্য জায়গায় নিয়ে যায়। উদ্দেশ্য, এটা বুঝানো যে তিনি অন্য জায়গায় আছেন।

‘এছাড়া খুনিরা তাকে হত্যার পর চারটি মোবাইল ফোন সেট নিয়ে বেনাপোল সীমান্তবর্তী এলাকায় আসে এবং পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হত্যাকাণ্ডে ফাঁসাতে তাদেরকে ফোন করে।’

মরদেহ পাওয়া যায়নি অথচ পুলিশ কেন এটাকে হত্যাকাণ্ড বলছে- এমন প্রশ্নের জবাবে হারুন বলেন, ‘এমন অনেক মামলা আছে যেখানে বছরের পর বছর ধরে লাশ পাওয়া যায়নি।’

প্রসঙ্গত, এমপি আনার চিকিৎসার জন্য ১১ মে কলকাতায় যান এবং ১৪ মে থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ২২ মে বলেন, কলকাতার অদূরে নিউ টাউনের একটি ফ্ল্যাটে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।

এমপি আনারের মৃত্যুর ঘটনায় ২২ মে একটি মামলা দায়ের করা হয়।

ইতোমধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার তিন আসামির আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

আরও পড়ুন:
এমপি আনার হত্যা: অপরাধী হলে শিলাস্তির বিচার চান দাদা
এমপি আনার হত্যা মামলায় ৩ আসামি রিমান্ডে
এনডিটিভির প্রতিবেদনে এমপি আনার হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা
হাজারও মানুষের জানাজায় অংশ নেয়া এমপি আনারের মরদেহই মিলছে না
মাঠের মাঝে শাহীনের রহস্যঘেরা বাংলো

মন্তব্য

p
উপরে