× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Shaon murder BNPs case dismissed
hear-news
player
google_news print-icon

শাওন হত্যা: বিএনপির মামলা খারিজ

শাওন-হত্যা-বিএনপির-মামলা-খারিজ
শহীদুল ইসলাম শাওন। ছবি: সংগৃহীত
যুবদল কর্মী শাওনকে হত্যার অভিযোগ এনে ৬ অক্টোবর পুলিশ ও সরকার দলীয় কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন কেন্দ্রীয় কৃষক দলের নির্বাহী সদস্য মো. সালাহউদ্দিন খান।

মুন্সীগঞ্জ শহরের উপকণ্ঠ মুক্তারপুর এলাকার পুরাতন ফেরিঘাটে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে যুবদলকর্মী শহীদুল ইসলাম শাওন নিহতের ঘটনায় বিএনপির করা মামলা খারিজ করে দিয়েছে আদালত।

সোমবার বিকেল ৩টার দিকে মুন্সীগঞ্জ আমলি আদালত-১ এর বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোসাম্মৎ রহিমা আক্তার মামলাটি খারিজ করে দেন।

আদালত পরিদর্শক জামাল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, যুবদল কর্মী শাওনকে হত্যার অভিযোগ এনে ৬ অক্টোবর পুলিশ ও সরকার দলীয় কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন কেন্দ্রীয় কৃষক দলের নির্বাহী সদস্য মো. সালাহউদ্দিন খান। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মামলা ও তথ্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা ।

মামলায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মিনহাজ-উল-ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) সুমন দেব, সদর থানার ওসি তারিকুজ্জামানসহ পুলিশের ৯ সদস্যের নাম উল্লেখ ছাড়াও অজ্ঞাতপরিচয় ৪০-৫০ পুলিশ সদস্য এবং সরকার দলীয় ২০০-৩০০ জনকে আসামি করা হয়।

এদিন আদালতের বিচারক মামলার পরবর্তীতে আদেশের জন্য ১০ অক্টোবর ধার্য করেন।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) সুমন দেব বলেন, ‘এটা আদালতের এখতিয়ার। এ নিয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্য মাহবুবুর রহমান খান আল-মামুন মামলা খারিজ নিয়ে কোনো কথা বলেননি।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রিভিউ চাওয়া হবে বলে জানান তিনি।

২১ সেপ্টেম্বর মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুর পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় পুলিশ ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়। এতে সাংবাদিক ও পুলিশসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন। পরদিন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান যুবদল কর্মী শহীদুল ইসলাম শাওন।

তিনি পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন বলে দাবি করে আসছেন স্বজন ও বিএনপি নেতারা। অন্যদিকে পুলিশের দাবি, শাওনের মৃত্যু হয়েছে ইটের আঘাতে।

সংঘর্ষের এ ঘটনায় সদর থানার এসআই মাঈনউদ্দিন ও শ্রমিকলীগ নেতা আব্দুল মালেক বাদী হয়ে দুটি মামলা করেন। এতে বিএনপির দেড় সহস্রাধিক নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়।

আরও পড়ুন:
নাটোরে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ
চাকরি ফিরে পাচ্ছেন না বিএনপি-জামায়াত আমলের ৮৫ নির্বাচন কর্মকর্তা
রাস্তা আটকে যুবদলের জমায়েত, পুলিশের বাধায় সংঘর্ষ
জামায়াতের মতো বিএনপির নিবন্ধন বাতিল দাবি পরশের
ফোন প্রতারণায় যেভাবে টাকা খোয়ালেন শাওন

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Chhatra League leader arrested with stolen motorcycle

চোরাই মোটরসাইকেলসহ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

চোরাই মোটরসাইকেলসহ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার গোলাম গাউস লিমন। ছবি: সংগৃহীত
বগুড়ার শাজাহানপুর থানার ওসি আব্দুল কাদের জিলানী বলেন, ‘ডিবির টিম চোরাই মোটরসাইকেল নিয়ে গোলাম গাউছ নামে এক ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে। মামলা হওয়ার পর আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠায় ডিবি পুলিশ। তার বিরুদ্ধে আগের তিনটি মামলা আছে। তার মধ্যে একটি মোটরসাইকেল চুরির।’

চোরাই মোটরসাইকেলসহ বগুড়ার শাজাহানপুর ছাত্রলীগের নেতা গোলাম গাউছ লিমনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

শুক্রবার মামলা দায়েরের পর সন্ধ্যায় তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বনানী এলাকায় মোটরসাইকেলসহ তাকে আটক করা হয়।

গোলাম গাউছ লিমন উপজেলার রহিমাবাদ (বি-ব্লক) এলাকার শাহ আলমের ছেলে এবং উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। পাশাপাশি তিনি শাজাহানপুরে বালু ও ইট সরবরাহের ব্যবসা করেন।

সন্ধ্যায় ডিবি পুলিশের এসআই আলী জাহান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাতে বনানী মোড়ে ডিবি পুলিশের টহল টিম তল্লাশি করছিল। এ সময় গোলাম গাউছ লিমনকে তল্লাশি করা হয়। কাগজপত্র যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায় মোটরসাইকেলটি চোরাই। পরে তাকে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।

এসআই জাহান বলেন, ‘চোরাই মোটরসাইকেলটি হোন্ডা কোম্পানির ১৫০ সিসির কালো রঙের। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় লিমন মোটরসাইকেলটি হিলি সীমান্ত থেকে নিয়ে এসেছেন।’

গোলাম গাউছ লিমনের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করেন শাজাহানপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিন্টু মিয়া। তিনি বলেন, ‘গোলাম গাউছ লিমন উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তার ঘটনাটি আমরা শুনেছি। এ বিষয়ে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

শাজাহানপুর থানার ওসি আব্দুল কাদের জিলানী বলেন, ‘ডিবির টিম চোরাই মোটরসাইকেল নিয়ে গোলাম গাউছ নামে এক ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে। শুক্রবার বিকেলে শাজাহানপুর থানায় মামলা হওয়ার পর আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠায় ডিবি পুলিশ। তার বিরুদ্ধে আগের তিনটি মামলা আছে। তার মধ্যে একটি মোটরসাইকেল চুরির।’

আরও পড়ুন:
মাস্টার চাবি বানিয়ে ৫০০ বাইক চুরি
চোরাই মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার ৭
দেশে মোটরসাইকেলের ব্যবহার এখনও অনেক কম

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Fugitive convicted of Hizbut arrested

হিযবুতের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

হিযবুতের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার তমিজ আহম্মেদ সবুজ। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ পুলিশের এন্টি টেররিজম ইউনিটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসলাম খান বলেন, “তমিজ আহম্মেদ সবুজ ‘ইসলামী খিলাফত’ প্রতিষ্ঠার জন্য ভীতি ও অস্থিরতা সৃষ্টির মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। ২০১৪ সালে হিযবুত তাহরিরের লিফলেট বিতরণের সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। জামিনে মুক্তি পেয়ে সে পালিয়ে যায়।”

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরিরের সাজাপ্রাপ্ত এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে এন্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ)। তার নাম তমিজ আহম্মেদ সবুজ। বাড়ি বরগুনা জেলায়। তিনি প্রায় ৭ বছর ধরে আত্মগোপনে ছিলেন।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় ভাটারা নতুন বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বাংলাদেশ পুলিশের এন্টি টেররিজম ইউনিটের পুলিশ সুপার (মিডিয়া অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস উইং) মোহাম্মদ আসলাম খান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “গ্রেপ্তার আসামি তমিজ আহম্মেদ সবুজ ‘ইসলামী খিলাফত’ প্রতিষ্ঠার জন্য ভীতি ও অস্থিরতা সৃষ্টির মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র এবং গণতন্ত্র ও প্রচলিত বিচার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রচারসহ সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। ২০১৪ সালে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরিরের লিফলেট বিতরণের সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। জামিনে মুক্তি পেয়ে সে পালিয়ে যায়।”

আরও পড়ুন:
জেলে থেকেও নাশকতার আসামি, ফের গ্রেপ্তার
১৬ বছর পর যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার  
মাদ্রাসার দারোয়ান থেকে জঙ্গি নেতা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Suspect of sabotage arrested again from jail

জেলে থেকেও নাশকতার আসামি, ফের গ্রেপ্তার

জেলে থেকেও নাশকতার আসামি, ফের গ্রেপ্তার এইচ এম আসলাম হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
খুলনা মহানগর বিএনপির ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এইচ এম আসলাম হোসেনকে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠিয়েছে পুলিশ। অথচ যে সময়ের ঘটনার অভিযোগে ওই মামলা হয়েছে সে সময় তিনি কারাগারে বন্দি ছিলেন।

খুলনা মহানগর বিএনপির ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এইচ এম আসলাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। অথচ যেদিনের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে এই নাশকতার অভিযোগ, সেদিন তিনি ছিলেন পুলিশের হেফাজতে।

তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সেই দিন তিনি ঘটনাস্থলে তো ছিলেই না, ছিলেন অন্য একটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে পুলিশের জিম্মায়। এই বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিক ভাবে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

সূত্র জানায়, বুধবার দুপুরে খুলনা সদর থানা এলাকায় আহসান আহমেদ রোডে নিজের ছেলেকে কোচিং সেন্টারে দিতে এসে গ্রেপ্তার হন এইচ এম আসলাম হোসেন। পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে পুলিশ বাদী একটি মামলার অজ্ঞাত আসামির তালিকায় ফেলে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানা সূত্র জানায়, এইচ এম আসলাম হোসেনকে ৪ ডিসেম্বর সদর থানায় পুলিশের করা এক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মামলাটি দায়ের করেছিলেন সদর থানার এস আই মো. শাহিন কবির। তাতে ৮০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, যাদের মধ্যে ৩৮ জন এজাহারনামীয় ও বাকিরা অজ্ঞাত।

ওই মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ৩ ডিসেম্বর রাত ১০টার দিকে খুলনার লোয়ার যশোর রোডের বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেডের দক্ষিণ পাশের গেটের সামনে এই মামলার আসামিরা সারাদেশে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, কেপিআই ধ্বংস ও নাশকতার পরিকল্পনার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক অস্ত্র ও ককটেল বোমা নিয়ে সমবেত হন। সেখান থেকে পুলিশ দু’জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি স্টিলের রামদা, একটি কাঠের বাতা ও তিনটি ককটেল উদ্ধার করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক বাকিদেরকে মামলার আসইম করা হয়েছে।

আরও বলা হয়েছে, এসব আসামি বর্তমান সরকারকে উচ্ছেদ করার জন্য নাশকতার যড়যন্ত্র করছিল।

মামলাটি ১৯৭৪ সালের দ্য স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্টের ১৫(৩)/২৫-ডি ও ১৯০৮ সালের দ্য এক্সপ্লোসিভ সাবস্ট্যান্স অ্যাক্টের ৪ ধারায় রেকর্ড করেছিলেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আল মামুন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৩ ডিসেম্বর দুপুরে খুলনা সদর থানা এলাকা থেকে এইচ এম আসলাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সে সময়ে তাকে গত বছরের ২৬ মে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় আটক করে পরদিন সকালে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।

খুলনার জেল সুপার মোহাম্মদ রফিকুল কাদেরের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নথিপত্র দেখে নিশ্চিত করেন যে ৪ ডিসেম্বর এইচ এম আসলাম অন্য এক মারামারির মামলায় জেলে ছিলেন। ১৫ ডিসেম্বর জামিনে মুক্তি পান তিনি।

এ ব্যাপারে খুলনা সদর থানা পুলিশের কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে ঘটনাটি জানতে পেরে কোর্ট পুলিশের কাছে থানা থেকে আসলামকে ফেরত চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাৎক্ষণিক আসলামকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়ে দিয়েছিল পুলিশ।

বিষয়টি নিয়ে ডেপুটি পুলিশ কমিশনার তাজুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমি কিছু জানি না। পরে জেনে জানানো হবে।’

খুলনা মহানগর বিএনপি আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা বলেন, ‘আমাদের খুলনা বিএনপির ২ শতাধিক নেতাকর্মী কারাগারে রয়েছেন। তাদের প্রত্যেককে সরকার বিরোধী নাশকতা মামলার আসামি করা হয়েছে। পুলিশ যে মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠাচ্ছে তার বড় প্রমাণ আসলামের এই ঘটনা। বাস্তবে আসলে সেদিন ওইরকম কোনো ঘটনাই ঘটেনি।’

আসলাম হোসেনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আদালত থেকে ওইদিনের ঘটনার সব নথি উদ্ধার করেছি। তাতে স্পষ্ট প্রমাণ হচ্ছে, ঘটনার সময়ে তিনি পুলিশের জিম্মায় ছিলেন। কারাগারে থেকে তিনি বাইরে নাশকতা কীভাবে করলেন?

‘মূল কথা হলো, শনিবার খুলনা বিভাগীয় বিএনপির সমাবেশকে সামনে রেখে পুলিশ আবার ধড়পাকড় শুরু করেছে। তবে এভাবে আমাদের আন্দোলন দমানো যাবে না।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Hamer Chyla wants justice for the murder of the accused

‘হ্যামার ছ্যালা দোষী লয়, মারার বিচার চায়’

‘হ্যামার ছ্যালা দোষী লয়, মারার বিচার চায়’ চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চৈতন্যপুর গ্রামের বাড়িতে কাঁদছেন নিহত রাকিবের মা। ছবি: নিউজবাংলা
রাজশাহীতে পিটিয়ে হত্যার শিকারদের একজন রাকিবের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে। ছেলের মৃত্যুর খবরে মা বেদনা বেগমের কান্না আর থামছে না।

‘রাতে শুনতে প্যানু যে হাঁর ছ্যালাকে পিটিয়া ম্যারা ফ্যালাছে। হ্যামার ছ্যালা দোষী লয়, হামি হাঁর ছ্যালাকে মারার বিচার চায়।’

আহাজারি করে কথাগুলো বলছিলেন রাকিবুল ইসলামের (রাকিব) মা। রাজশাহীতে পিটিয়ে মেরে ফেলা দুই শ্রমিকের একজন এই রাকিব।

ছেলের মৃত্যুর খবরে মা বেদনা বেগমের কান্না আর থামছে না। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজশাহী নগরীতে এই ঘটনা ঘটলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জে মায়ের কাছে এই খবর পৌঁছে রাত ১২টায়।

রাজশাহীতে খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকের বাসায় দুই নির্মাণ শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় কারখানা মালিকসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। মহানগরীর বিসিক শিল্প এলাকায় বৃহস্পতিবার বিকালে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রাকিবের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চৈতন্যপুর গ্রামে। শুক্রবার সেখানে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের মানুষ রাকিবের এমন করুণ মৃত্যুর খবরে হতবাক। তারা বলছেন, রাকিবকে তারা ভালো ছেলে হিসেবেই চেনেন, জানেন।

চৈতন্যপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে রাকিবুল ইসলাম ছিলেন সবার বড়। গত ৮ বছর ধরে তিনি রাজশাহীতে থেকে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। স্ত্রী শ্যামলী খাতুন এবং দুই মেয়ে রাবিয়া বাসরী ও রাইসা খাতুনকে নিয়ে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন।

স্বজনরা জানান, রাকিব নির্মাণ শ্রমিকদের সর্দার বা ঠিকাদার ছিলেন। বিভিন্ন নির্মাণ কাছে তিনি গ্রাম থেকে শ্রমিকদের নিয়ে যেতেন।

প্রতিবেশী শাহানারা বেগম বলেন, ‘বিনা অপরাধে একটা নির্দোষ ছেলেকে ওরা মিটিয়ে ম্যারা ফেলল; এটার সত্য বিচার চাই। দেশে আইন আদালত আছে, থানা-পুলিশ আছে। কোনো কিছু না কর‌্যার পরও কোনো মানুষ এভাবে মারা ফেল্যা দিতে পারে? এখন ওই যে দুটো ছোট ছোট মেয়ে আছে, স্ত্রীটা আছে, এদের কী হবে? এখন পরিবারটার কী হবে?’

আরও পড়ুন:
চুরির অভিযোগে খুঁটিতে বেঁধে দুই শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা 

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Women carrying heroin are coming along the river

নদীপথে আসছে হেরোইন, বাহক নারীরা

নদীপথে আসছে হেরোইন, বাহক নারীরা সীমান্ত নদীতে টহল বোটে বিজিবি সদস্যরা। ফাইল ছবি
র‌্যাব জানায়, চক্রের অন্যতম হোতা শাকিব সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে হেরোইন সংগ্রহ করে প্রথমে নিজের বাড়িতে সংরক্ষণ করতেন। পরবর্তী সময়ে মাদকদ্রব্যটি চাহিদা অনুযায়ী বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, গাজীপুর, জামালপুর, নারায়ণগঞ্জ, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করতেন।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে নদীপথে প্রতি মাসেই হেরোইন আনা হয় জানিয়ে র‌্যাব বলেছে, চক্রের নারী সদস্যদের মাধ্যমে সেসব মাদক পৌঁছানো হয় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

গাজীপুরের কালিয়াকৈর ও নওগাঁয় বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়ে ৫ কেজি ৪০০ গ্রাম হেরোইনসহ চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য পাওয়ার কথা জানায় বাহিনীটি।

গ্রেপ্তার তিনজন হলেন শাকিবুর রহমান, তার স্ত্রী সেলিনা খাতুন ও শাকিবের সহযোগী রাজিয়া খাতুন।

নদীপথে আসছে হেরোইন, বাহক নারীরা
চক্রের তিন সদস্যকে হেরোইনসহ গ্রেপ্তারের কথা জানায় র‌্যাব। ছবি: নিউজবাংলা

র‍্যাব জানায়, নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে প্রতিনিয়ত ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম করে মাদক সরবরাহ করত চক্রটি। প্রতিটি চালান পরিবহনের জন্য বহনকারীকে দেয়া হতো ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। মাদকের চালান বেশি থাকলে শাকিব নিজেই মোটরসাইকেলে তা পৌঁছে দিতেন। সাধারণত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে হেরোইন বিক্রির টাকা লেনদেন করা হতো।

সংবাদ সম্মেলনে কী জানানো হলো

তিনজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে র‌্যাব, যাতে বক্তব্য দেন বাহিনীর লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি জানান, র‍্যাব সদরদপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‍্যাব-১২-এর অভিযানে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে প্রায় তিন কেজি হেরোইনসহ শাকিবুর ও রাজিয়াকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে নওগাঁয় শাকিবের বাসা থেকে ২ কেজির বেশি হেরোইনসহ তার স্ত্রী সেলিনাকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তার তিনজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের এ কর্মকর্তা জানান, শাকিব এই চক্রের অন্যতম হোতা। ইতোপূর্বে তিনি চুরিতে জড়িত থাকলেও প্রায় ২ বছর ধরে মাদক কারবার চালিয়ে আসছিলেন।

তিনি জানান, শাকিব সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে হেরোইন সংগ্রহ করে প্রথমে নিজের বাড়িতে সংরক্ষণ করতেন। পরবর্তী সময়ে মাদকদ্রব্যটি চাহিদা অনুযায়ী বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, গাজীপুর, জামালপুর, নারায়ণগঞ্জ, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করতেন।

র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, শাকিবের স্ত্রী সেলিনা স্বামীর মাদক কারবারের সহযোগী। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আনা হেরোইনের চালান প্রথমে শাকিব নিজ বাড়িতে তার স্ত্রীর কাছে রাখতেন। বিভিন্ন সময় আস্থাভাজন মাদক কারবারিরা বাড়িতে গেলে সেলিনা তাদের হেরোইন সরবরাহ করতেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শাকিবের মাদক চক্রের অন্যতম সহযোগী হিসেবে প্রায় ১ বছর ধরে কাজ করে আসছেন গ্রেপ্তার রাজিয়া, যিনি রাজশাহী, বগুড়া, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় হেরোইন সরবরাহ করতেন। এ ছাড়া কয়েকবার শাকিবের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে বিভিন্ন স্থানে হেরোইন সরবরাহও করেছেন তিনি। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার গাজীপুর ও সাভারের বিভিন্ন স্থানে হেরোইন সরবরাহের জন্য নওগাঁ থেকে শাকিবের সঙ্গে রওনা হন রাজিয়া। পথে গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকায় তাদের আটক করে র‍্যাব।

এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাবের কমান্ডার বলেন, এর আগে শাকিবের বিরুদ্ধে এলাকায় চুরির অভিযোগ থাকলেও এবারই প্রথম তিনি মাদকসহ আটক হয়েছেন। তিনিসহ চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে দেশের বাইরে মাদক পাঠানোর তথ্য পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত শাকিবের চক্রে ১০ থেকে ১২ জন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে, যাদের অধিকাংশই নারী।

আরও পড়ুন:
জঙ্গি ছিনতাইয়ের আগাম গোয়েন্দা তথ্য না থাকা ব্যর্থতা: র‌্যাব
বিএনপির সমাবেশ ঘিরে থাকবে র‌্যাবের চেকপোস্ট-হেলিকপ্টার
তুমব্রু সীমান্তে ডিজিএফআই কর্মকর্তা নিহত: ৩১ জনের নামে মামলা
কারাবন্দি স্ত্রীকে দেখতে এসে হেরোইনসহ আটক
তুমব্রু সীমান্তে সংঘর্ষ: আহত র‍্যাব সদস্যের মাথায় অস্ত্রোপচার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
999 called the dead body of the young woman

৯৯৯-এ ফোন, মিলল তরুণীর মরদেহ

৯৯৯-এ ফোন, মিলল তরুণীর মরদেহ এনজিও কর্মী নিশাত আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত
বাড়ির মালিক গফুর সওদাগর বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে বাসার দ্বিতীয় তলায় নিশাতের রুমের দিকে যায় আমার মেয়েরা। বরাবরের মতোই তার বাসার দরজা ভেড়ানো ছিল। ধাক্কা দিতেই দরোজা খুলে যায়। মেয়েরা তার দেহ ঝুলন্ত দেখতে পায়। তারপর ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হয়।’

কক্সবাজার শহরের পশ্চিম বাহারছড়া এলাকায় এক নারী এনজিও কর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার নাম নিশাত আহমেদ।

বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম।

নিশাত আহমেদ শহরের পশ্চিম বাহারছড়া এলাকার গফুর সওদাগরের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি চকরিয়ার ডুলাহাজারায়। তিনি আন্তর্জাতিক একটি এনজিও সংস্থায় সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বাড়ির মালিক গফুর সওদাগর বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে বাসার দ্বিতীয় তলায় নিশাতের রুমের দিকে যায় আমার মেয়েরা। বরাবরের মতোই তার বাসার দরজা ভেড়ানো ছিল। ধাক্কা দিতেই দরোজা খুলে যায়। মেয়েরা তার দেহ ঝুলন্ত দেখতে পায়। তারপর ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হয়।’

ঘটনাস্থলে থাকা কক্সবাজার সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইফতেখার উদ্দিন বলেন, ‘৯৯৯-এ ফোন পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসে এক তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ পেয়েছি। মরদেহ নামিয়ে ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
মসজিদের মেস ঘরে খাদেমের ঝুলন্ত মরদেহ
ধানমন্ডির রাস্তায় হুইল চেয়ারে মরদেহ
বংশালের গলিতে রক্তাক্ত মরদেহ
নিখোঁজের ৪ দিন পর টয়লেটের ট্যাংকে মা-ছেলের মরদেহ
মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
ICB case for embezzlement of Tk 207 crore from UFS

ইউএফএসের ২০৭ কোটি টাকা আত্মসাতে আইসিবির মামলা

ইউএফএসের ২০৭ কোটি টাকা আত্মসাতে আইসিবির মামলা সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ইউএফএস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ হামজা আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
২০৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ইউনিভার্সাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (ইউএফএস) লিমিটেডসহ ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অনেককে আসামি করা হয়েছে। ১১ জানুয়ারি রাজধানীর পল্টন থানায় করা মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি।

চারটি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ১৫৮ কোটি টাকা নিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফেরার হওয়ার খবর সংবাদমাধ্যমে আসার পর আত্মসাৎকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তৎপর হয়েছে ফান্ডগুলোর ট্রাস্টি রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অফ বাংলাদেশ (আইসিবি)। তবে এবার জানা গেল লোপাট করা অর্থের পরিমাণ আরও বেশি।

২০৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ইউনিভার্সাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (ইউএফএস) লিমিটেডসহ ১১ জনের নাম উল্লেখসহ আরও অনেকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে আইসিবি। ১১ জানুয়ারি রাজধানীর পল্টন থানায় করা মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) খতিয়ে দেখছে।

আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ইউনিভার্সেল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে আইসিবির পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। মামলাটি সিআইডি তদন্ত করছে।’

মামলার নথিতে বলা হয়েছে, অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গ করে প্রতারণামূলকভাবে টাকা আত্মসাৎ করার অপরাধ চিহ্নিত হয়েছে। আত্মসাৎকৃত ২০৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা উদ্ধার করতে এ মামলা করা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন- অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি ইউএফএস, ইউএফএসের চেয়ারম্যান সৈয়দ আলমগীর ফারুখ চৌধুরী, কোম্পানির এমডি সৈয়দ হামজা আলমগীর, পরিচালক ইসরাত আলমগীর, আলিয়া হক আলমগীর, মাহিদ হক, মোহাম্মদ জাকির হোসেন, মোহাম্মদ মাসুম চৌধুরী, মোসাম্মত উম্মে ইসলাম সোহানা, সৈয়দা শেহরীন হোসেন, তারিক মাসুদ খান, সৈয়দা মেহরীন হুসেইনসহ অজ্ঞাতনামাসহ অনেকে।

এর আগে চারটি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ১৫৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা নিয়ে ১৩ অক্টোবর দুবাই পাড়ি জমান প্রতিষ্ঠানটির এমডি সৈয়দ হামজা আলমগীর। বর্তমানে তিনি সিঙ্গাপুরে রয়েছেন। ২০১৮ সাল থেকে তহবিল সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল বলে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির তদন্তে উঠে আসে।

এই জালিয়াতির ক্ষেত্রে ব্যাংকের প্রতিবেদন জালিয়াতি এবং ভুয়া এফডিআর (ফিক্সড ডিপোজিড রেট) দেখিয়ে বিএসইসিকে অন্ধকারে রাখা হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে ৪ বছর নিষ্ক্রিয় ছিল ফান্ডের ট্রাস্টি ও কাস্টডিয়ান (গ্যারান্টি দেয়া প্রতিষ্ঠান) আইসিবি।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি এ খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। ২ জানুয়ারি এমডির বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে জানতে চায় হাইকোর্ট। পাশাপাশি সৈয়দ আলমগীরের দুবাই পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এ ঘটনায় কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা জানাতে নির্দেশ দিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও আইসিবিকে ব্যাখ্যা দাখিল করতে বলা হয়।

৩ জানুয়ারি ইউএফএস ও এর এমডি সৈয়দ হামজা আলমগীরসহ ১৫ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট স্থগিত বা জব্দ করা হয়। মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন বন্ধে দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) দেশের সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এ কথা জানিয়ে চিঠি পাঠায়।

এ তালিকায় নাম আছে ইউনিভার্সাল ফাইন্যান্সিয়াল সলিউশনস লিমিটেড, ইউএফএসের এমডি সৈয়দ হামজা আলমগীর, আলিয়া হক আলমগীর, মাহিদ হক, তারেক মাসুদ খান, মোহাম্মাদ জাকির হোসেন, মোসা. উম্মে ইসলাম সোহানা, ইশরাত আলমগীর, সৈয়দা মেহরীন রহমান, সৈয়দ আলমগীর ফারুক চৌধুরী ও সৈয়দা শেহরীন হুসাইনের।

অ্যাকাউন্ট স্থগিত রাখার তালিকায় আরও আছে- ইউএফএস-আইবিবিএল শরিয়া ইউনিট ফান্ড, ইউএফএস-পপুলার লাইফ ইউনিট ফান্ড ৩৮, ইউএফএস-ব্যাংক এশিয়া ইউনিট ফান্ড এবং ইউএফএস-পদ্মা লাইফ ইসলামিক ফান্ড।

এদিকে বিনিয়োগকারী এবং পুঁজিবাজারের স্বার্থে ইউএফএস ও তাদের সব ফান্ডের নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান আহমেদ জাকের অ্যান্ড কোং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসকে শেয়ারবাজারে নিষিদ্ধ করা হয়। বিএসইসির নির্দেশনায় বলা হয়, ইউএফএস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনায় চারটি ফান্ড ইউএফএস-আইবিবিএল শরিয়া ইউনিট ফান্ড, ইউএফএস-পপুলার লাইফ ইউনিট ফান্ড, ইউএফএস-পদ্মা লাইফ ইসলামিক ইউনিট ফান্ড ও ইউএফএস-ব্যাংক এশিয়া ইউনিট ফান্ডের নিরীক্ষা করে আসছে আহমেদ জাকের অ্যান্ড কোং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস। নিরীক্ষক মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর অনুসন্ধানের জন্য তদন্তের শুনানিতে উপস্থিত হয়নি। এ থেকে স্পষ্ট যে, তদন্ত কমিটির সঙ্গে নিরীক্ষক অপেশাদার আচরণ করেছে। তাই, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জের অধ্যাদেশ, ১৯৬৯-এর ধারা ২০-এ দ্বারা প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ম্যানেজার, ট্রাস্টি, কাস্টোডিয়ান, ইস্যুকারী এবং সম্পদ ব্যবস্থাপককে নির্দেশ দেয়া যাচ্ছে যে, নিরীক্ষক আহমেদ জাকের অ্যান্ড কোং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসকে ইউএফএসের অধীনে থাকা কোনো মিউচ্যুয়াল ফান্ডের নিরীক্ষার অনুমতি দেয়া হবে না। কমিশন আরও নির্দেশ দিয়েছে, নিরীক্ষককে কোনো মিউচুয়াল ফান্ড এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানির নিরীক্ষক হতে অনুমতি দেবে না কমিশন। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত জারি থাকবে।

এ ছাড়া কোম্পানিটির ফান্ড সংশ্লিষ্টদের কাছে ২৩টি তথ্য চায় কমিশন, যা ৮ জানুয়ারির মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছিল। বিএসইসির চিঠিতে যেসব তথ্য চাওয়া হয়ে, সেগুলো হলো-ইউএফএসের ব্যবস্থাপনার ইউএফএসইপিএল ভেঞ্চার ক্যাপিটাল এবং ইউএফএসইপিএল প্রাইভেট ইকুইটি ফান্ডের আগের ও বর্তমানের সব আর্থিক প্রতিবেদন, ফান্ড দুটির সব ব্যাংক স্টেটমেন্টের তথ্য, ফান্ড দুটিতে উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ ও তাদের ব্যাংক হিসাবের স্টেটমেন্ট, ফান্ডগুলোর গ্রাহক ও তাদের টাকার পরিমাণের তথ্য, ফান্ড দুটিতে বিনিয়োগ কমিটির সদস্যদের তালিকা।

সে সঙ্গে ফান্ড দুটির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত যেসব ব্যবসায় বিনিয়োগ আছে সেগুলো ব্যাংক স্টেটমেন্টসহ জমা দিতে বলা হয়। ফান্ডগুলোর পোর্টফোলিওতে থাকা কোম্পানিগুলোর আর্থিক অবস্থার বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়।

ফান্ড দুটির বিনিয়োগের অবস্থা এবং নির্দিষ্ট সীমার বিষয়ে প্রকাশ করা তথ্য, অতালিকাভুক্ত কোম্পানিতে ফান্ড দুটির বিনিয়োগের বিষয়ে ট্রাস্টি থেকে প্রাপ্ত কনসেন্ট লেটার, ফান্ডগুলোর সম্পদ মূল্য ও শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ব্যবস্থাপনা ফি এবং সংশ্লিষ্ট সব তথ্য কমিশনে জমা দিতে বলা হয়েছিল।

মন্তব্য

p
উপরে