× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
No invitation to tea nothing to do if you dont vote
hear-news
player
google_news print-icon

‘ভোটে না এলে কিছু করার নেই’

ভোটে-না-এলে-কিছু-করার-নেই
সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: বাসস
প্রধানমন্ত্রী মাঝে বলেছিলেন, বিরোধী দল চাইলে গণভবনে চায়ের আমন্ত্রণে আসতে পারে। সেই প্রসঙ্গটি তুলে ধরে একজন গণমাধ্যমকর্মী জানতে চান, নির্বাচন সামনে রেখে বিরোধী দলগুলোকে এবার চায়ের আমন্ত্রণ জানানো হবে কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে একটু চিন্তা করতেই হবে। অনেকে আসবেও না, আসতেও পারবে না। এটা একটা সমস্যা।’

চলমান করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধীদলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসার সুযোগ নেই বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এমনকি কয়েক মাস আগে বিরোধীদেরকে গণভবনে যে চায়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, সেটিও আর নেই বলে ইঙ্গিত দিলেন তিনি।

নির্বাচনে অংশ নেয়া, না নেয়া প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব সিদ্ধান্ত জানিয়ে তিনি বলেছেন, সেখানে কিছু চাপিয়ে দেয়া যায় না, কিছু করারও থাকে না। আর ‘খুঁটির জোর’ ও জনসমর্থন না থাকায় বিএনপি বিদেশিদের কাছে ধরনা দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছেন সরকারপ্রধান।

গণভবনে বৃহস্পতিবার বিকেলে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বিদেশ সফর করলে বরাবর সাংবাদিকদেরকে ব্রিফ করেন। সেই ব্রিফিংয়ে সফরের বিষয়ে একটি সাধারণ বিবৃতি থাকে। এরপর থাকে প্রশ্নোত্তর পর্ব। এই পর্বে আর্থ-সামাজিক বা রাজনৈতিক সবশেষ পরিস্থিতির সম্পর্কে সরকার প্রধানের বক্তব্য উঠে আসে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

অন্যান্য অনেক প্রশ্নের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয় আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির অবস্থান নিয়ে, যারা নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের অধীনে না হলে ভোটে না আসার ঘোষণা দিয়ে রেখেছে।

১৯৯৬ থেকে তিনটি জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হলেও গত দু্টি নির্বাচন হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্বে থাকাকালে।

২০০৯ উচ্চ আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করলে নির্বাচিত সরকারের অধীনে ভোটের পদ্ধতি ফিরিয়ে আনে জাতীয় সংসদ।

এর প্রতিবাদে ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন বর্জন করে আন্দোলনে যায় বিএনপি ও শরিকরা। তবে নির্বাচন ঠেকানো যায়নি। ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগেও আন্দোলনের ঘোষণা দিলেও বিএনপি ও তার জোট শেষ পর্যন্ত ভোটে আসে এবং ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে ফল করে।

সেই নির্বাচনে আগের রাতে ভোট হয়ে যাওয়ার অভিযোগ এনে বিএনপি নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে ফিরে গেছে। এর অংশ হিসেবে গত ২২ আগস্ট থেকে ধারাবাহিক নানা কর্মসূচি পালন করছে।

চায়ের আমন্ত্রণ কি আছে?

প্রধানমন্ত্রী মাঝে বলেছিলেন, বিরোধী দল চাইলে গণভবনে চায়ের আমন্ত্রণে আসতে পারে। সেই প্রসঙ্গটি তুলে ধরে একজন গণমাধ্যমকর্মী জানতে চান, নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী দলগুলোকে এবার ‘চায়ের আমন্ত্রণ’ দেয়া হবে কি না।

জবাবে তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে একটু চিন্তা করতেই হবে। অনেকে আসবেও না, আসতেও পারবে না। এটা একটা সমস্যা।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করলেও তার অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নাখোশ, তা বোঝা গেল তার কথায়।

তিনি বলেন, ‘গতবার যে সবার সঙ্গে বৈঠক করলাম, আলোচনা করলাম একটা নির্বাচন, নির্বাচনে এসে দেখা গেল ৩০০টিতে ৭০০ নমিনেশন দিয়ে যখন নিজেরা হেরে গেল, তখন সব দোষ কার, আমাদের।’

‘নির্বাচনে আসার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারি না’

আগের কথার রেশ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দ্বিতীয় কথা হচ্ছে যে, আর নির্বাচন হলে রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্ত কে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে, কে করবে না। সেখানে আমরা কিছু চাপিয়ে দিতে পারি না। রাজনীতি করতে হলে দলগুলো নিজের সিদ্ধান্ত নেবে।’

তবে সব দল নির্বাচনে অংশ নেবে বলে- এটাই নিজের চাওয়া বলে জানান সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা অবশ্যই চাই যে সবদল অংশগ্রহণ করুক। কারণ এতদিন কাজ করার পর নিশ্চয়ই আমরা চাইব যে সবাই আসুক।’

দেশের জনগণের কাছে বিএনপির ভোট চাওয়ার মুখটাও নেই বলেও মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ প্রধান। বলেন, ‘তারা আর কোন মুখে জনগণের কাছে ভোট চাইতে যাবে? আগুন দিয়ে পোড়ানো, মানুষ খুন করা, বোমা মারা, গ্রেনেড মারা-সব জায়গাতে তো আছে। তারা যদি সামনে এসে দাঁড়ায়, ভোট চাইতে আসছেন, আমার এই অবস্থা। কী জবাব দেবে বিএনপি? এজন্যই বিদেশিদের কাছে ধরনা দিয়ে বেড়ায়। দেশের মানুষের কাছে যায় না।’

আন্দোলনে বাধা নেই

গত জুলাই থেকে বিএনপির নানা কর্মসূচিতে পুলিশের গুলিতে পাঁচ জনের মৃত্যু ও অনেক নেতা-কর্মী আহত হলেও প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, বিএনপির আন্দোলনে সরকার কোনো বাধা দিচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘আমরা তো বাধা দিচ্ছি না। আমরা তো বলছি আন্দোলন করেন, সংগ্রাম করেন, যত আন্দোলন করবে তত ভালো। করে না তো, কী করব?’

ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরবর্তী বছরই তো ইলেকশন। নির্বাচনের প্রস্তুতিও আমরা এখন থেকে নিচ্ছি। আমাদের দল বোধ হয় বাংলাদেশে একটি মাত্র দল আমরা আমাদের গঠনতন্ত্র মেনে চলি। প্রতিটি ক্ষেত্রে গঠনতন্ত্র মোতাবেক আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত নিই।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘আমাকে নিয়ে লেখালেখির এত দরকার নেই। আমি জনগণের সেবা করতে এসেছি। আমার বাবা দেশটা স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন, তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করাই আমার লক্ষ্য। আমার নিজের তো চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। আমার দেশের মানুষের জন্য কতটুকু কী করতে পারলাম, কতটুকু দিতে পারলাম, এটাই হচ্ছে আমার সব থেকে বড় পাওয়া।’

‘ভোট চুরি করে আ.লীগ ক্ষমতায় আসেনি, আসবেও না’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অন্তত আওয়ামী লীগ কখনও ভোট চুরি করে ক্ষমতায় আসবেও না, আসেও নি। আওয়ামী লীগ কিন্তু জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েই ক্ষমতায় এসেছে।’

জনগণের জন্য কাজ করে, জনগণের মন জয় করে, জনগণের ভোট নিয়েই আওয়ামী লীগ বারবার ক্ষমতায় এসেছে বলে জানান তিনি। বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কখনও কোনো মিলিটারি ডিক্টেটরের পকেট থেকে বের হয়নি। ইমার্জেন্সি দিয়ে কারও ক্ষমতা দখল করেও কিন্তু আওয়ামী লীগ কখনও ক্ষমতায় আসেনি। আওয়ামী লীগ যতবার ক্ষমতায় এসছে, ভোটের মাধ্যমেই এসেছে, নির্বাচনের মাধ্যমেই এসেছে।

‘এদেশে নির্বাচনের যতটুকু উন্নতি, যতটুকু সংস্কার এটা কিন্তু আওয়ামী লীগ ও সবাইকে নিয়ে মহাজোট করেই কিন্তু করে দিয়েছি। এরপর যদি কেউ না আসে, সেখানে আমাদের কী করণীয়? হারার ভয়ে আসব না, বা কিছু বা একেবারে লোকমা তুলে খাইয়ে দিতে হবে, তবেই আসব, এটা তো হয় না।’

‘সেনাশাসনে জন্ম হওয়া বিএনপি জনগণের কাছে যেতে ভয় পায়’

সামরিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিএনপির জন্ম জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মিলিটারি ডিক্টেটররা এভাবে করেছে। যাদের এই অভ্যাস, তারা তো জনগণের কাছে যেতেই ভয় পায়। জনগণের সামনে ভোট চাইতেই ভয় পায়, এটা বাস্তবতা। অগ্নিসন্ত্রাস করে যারা মানুষ হত্যা করেছে, তাদেরকে কী মানুষ ভোট দেবে? কখনও দিতে পারে না। সে পোড়া ঘা তো এখনও শুকায়নি। এখনও তো কষ্ট পাচ্ছে, গ্রেনেড হামলায় যারা আহত।’

খুঁটির জোর আর জনসমর্থন নেই বলেই বিএনপি জনগণের কাছে না গিয়ে বিদেশিদের কাছে দৌড়ে বেড়াচ্ছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি ভুলে গেছে তাদের অতীতের কথা। বিএনপির সৃষ্টি যেভাবে, একটা মিলিটারি ডিক্টেটরের পকেট থেকে বিএনপির সৃষ্টি। আর নির্বাচনের যে প্রহসন, সেটাও তাদের সৃষ্টি, তারা তৈরি করেছে। বরং নির্বাচনটাকে আমরা জনগণের কাছে নিয়ে গেছি।’

বিভিন্ন দূতাবাসের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যদি মাটিতে জোর থাকত, নিজের দেশের মাটিতে যদি তাদের সে রকম সমর্থন থাকত, আর ওই যে বলে না খুঁটিতে যদি জোর থাকত, অর্থাৎ নিজের শেকড়ের জোরটা যদি এখানে থাকত তাহলে তো বিদেশে ধরনা দেয়ার দরকার হতো না।

‘জনসমর্থন থাকলে, জনগণের ওপর আস্থা থাকলে, বিশ্বাস থাকলে জনগণের কাছেই যেত। বিদেশের কাছে দৌড়ে বেড়াত না, এটাই হলো বাস্তবতা।’

আরও পড়ুন:
র‌্যাব তো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শে, ট্রেনিংও তাদের: প্রধানমন্ত্রী
বিশ্বে দুর্ভিক্ষের শঙ্কা, দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী: প্রধানমন্ত্রী
বিদায় নেয়ার জন্য প্রস্তুত আমি: শেখ হাসিনা
সব ধর্মকে সম্মান দেখাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Launches are busy at Sadarghat

সদরঘাটে ভিড়ছে লঞ্চ, সচল নৌচলাচল

সদরঘাটে ভিড়ছে লঞ্চ, সচল নৌচলাচল ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর সোমবার সন্ধ্যার পর থেকেই বেশকিছু লঞ্চ সদরঘাটের পন্টুনে ভেড়ানো হয়। ছবি: নিউজবাংলা
ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণার পর সোমবার রাতে সদরঘাটে পন্টুনে ভিড়তে শুরু করে লঞ্চগুলো। কর্মতৎপর হয়ে উঠেছেন নৌ-যান শ্রমিকরাও। তবে যাত্রী সংখ্যা খুবই কম। আর পর্যাপ্ত যাত্রী না থাকায় রাতে সদরঘাট থেকে দক্ষিণাঞ্চল অভিমুখে কোনো লঞ্চ ছেড়ে যাবে না জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকারের সঙ্গে আলোচনায় দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাসে ধর্মঘট প্রত্যাহার করে কাজে ফিরেছে নৌযান শ্রমিকরা। এর পর পরই রাজধানীর প্রধান নদীবন্দর সদরঘাটে ভিড়তে শুরু করেছে লঞ্চ। সচল হচ্ছে নৌযান চলাচল।

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে সোমবার রাত ৯টা পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, শ্যামবাজার ঘাট ও বাবুবাজার ব্রিজের নিচে নোঙর করে থাকা লঞ্চগুলো ঘাটের পন্টুনে ভিড়তে শুরু করেছে। চাঁদপুর, বরিশাল, ভোলা, বরগুনাসহ দক্ষিণাঞ্চলগামী বেশকিছু লঞ্চ ভেড়ানো হয় ঘাটে৷ কর্মতৎপর হয়ে উঠেছেন নৌ-যান শ্রমিকরাও। তারা লঞ্চ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করাসহ নানা কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। পন্টুনে পড়ে থাকা মালামালও পণ্যবাহী লঞ্চে তুলতে দেখা যায়।

নৌ-যান ধর্মঘট প্রত্যাহারের খবর শুনে যাত্রীরাও আসতে থাকেন সদরঘাটে। তবে যাত্রী সংখ্যা খুবই কম। আর পর্যাপ্ত যাত্রী না থাকায় রাতে সদরঘাট থেকে দক্ষিণাঞ্চল অভিমুখে কোনো লঞ্চ ছেড়ে যাবে না জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

লঞ্চ-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যাত্রী হলে রাতেই সব রুটে ছাড়বে লঞ্চ। তবে যাত্রী না হলে ভোর থেকে শুরু হবে স্বাভাবিক লঞ্চ চলাচল। রাতে কাছের রুটগুলোতে কিছু লঞ্চ ছাড়তেও পারে। তবে বরিশালসহ দূরবর্তী রুটগুলোতে ন্যূনতম যাত্রী না হলে রাতে লঞ্চ ছেড়ে যাবে না।

সুন্দরবন-১৬ লঞ্চের সুপারভাইজার আল-আমিন বলেন, ‘আমরা অপেক্ষা করছি। যাত্রী হলে রাত ১২টা বা ১টা বাজলেও লঞ্চ ছাড়বো। যাত্রী না হলে তো ছেড়ে লাভ নেই। তেল খরচটা তো অন্তত উঠতে হবে।’

সদরঘাটে ভিড়ছে লঞ্চ, সচল নৌচলাচল
নৌ-যান ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর সোমবার রাতে যাত্রীরা সদরঘাটে এলেও তা সংখ্যায় কম হওয়ায় লঞ্চ ছাড়া নিয়ে ছিল অনিশ্চয়তা। ছবি: নিউজবাংলা

ঘাটে অপেক্ষায় থাকা বরিশালগামী যাত্রী রফিক মোল্লা বলেন, ‘বিকালে ঘাটে আসছি। মিটিং হচ্ছে শুনে ঘাটেই অবস্থান করেছি। এখন ঘাটে লঞ্চ ভিড়ছে। কিন্তু লঞ্চের লোকজন বলছে, যাত্রী হলে তারা রাতেই ছেড়ে যাবে। একটা অনিশ্চয়তা নিয়ে অপেক্ষা করছি।’

লঞ্চ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহীদুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণাটা এমন একটা সময় এসেছে যে এই সময়ে যাত্রী পাওয়া যাবে না। চাঁদপুরসহ কাছের রুটগুলোতে লঞ্চ যেতে পারে। তবে বরিশালের লঞ্চ আজ যাবে না।’

বিআইডব্লিউটিএ সদরঘাটের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মো. শহীদ উল্যাহ বলেন, ‘সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে লঞ্চগুলো টার্মিনালের পন্টুনে ভিড়তে শুরু করেছে। মধ্যরাত থেকেই লঞ্চ ছাড়ার কথা রয়েছে। যাত্রী হলেই লঞ্চ চলবে।’

‘রহমত’ নামের চাঁদপুরগামী লঞ্চটি রাত ১২টা ৫ মিনিটে ঘাট ছেড়ে যাবে বলে জানান তিনি।

ন্যূনতম মজুরি ২০ হাজার টাকাসহ ১০ দফা দাবিতে শনিবার মধ্যরাত থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের নৌ-যানের শ্রমিকরা ধর্মঘটে যায়। শুক্রবার নৌপরিবহন মন্ত্রী খালিদ মাহমুদের সঙ্গে মালিক-শ্রমিক পক্ষের একটি বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে মালিক পক্ষ দাবি মেনে নিতে এক মাস সময় চাইলে শ্রমিকরা তাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ধর্মঘটে যায়।

পণ্যবাহী নৌযানের সঙ্গে সারাদেশে নৌপথে যাত্রী পরিবহন বন্ধ করে দেয় শ্রমিকরা। এতে ঢাকা থেকে যেমন কোনো ‍রুটে নৌযান ছেড়ে যায়নি, তেমনই সদরঘাটে কোনো নৌযান আসেনি। অচল হয়ে পড়ে প্রধান দুই বন্দর চট্টগ্রাম ও মোংলা।

নৌ-শ্রমিকদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- বেতন-ভাতা ন্যূনতম ২০ হাজার টাকা, কর্মস্থলে মৃত্যুকালীন ক্ষতিপূরণ ১০ লাখ টাকা, শ্রমিকদের নিয়োগপত্র প্রদান, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও নাবিক কল্যাণ তহবিল গঠন, ভারতগামী জাহাজ শ্রমিকদের সেদেশের ল্যান্ডিং পাস সরবরাহ করা, ঢাকা-চট্টগ্রাম পাইপলাইন স্থাপন প্রকল্প বাতিল করা, লাইটার জাহাজকে ডব্লিউটিসির সিরিয়াল অনুযায়ী পণ্য পরিবহনে বাধ্য করা, চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে যাতায়াতে তৈরি করা চড়পাড়া ঘাটের ইজারা বাতিল করা এবং নৌপথে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ডাকাতি বন্ধ করা।

আরও পড়ুন:
এবার রাজশাহীতে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক
বাস থানায় নেয়ার প্রতিবাদে ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাহার
থানায় বাস, প্রতিবাদে পরিবহন ধর্মঘট সুনামগঞ্জে
হবিগঞ্জে চলছে বাস ধর্মঘট, চার দিনে ক্ষতি ৫ কোটি
বরিশালের লঞ্চে ‘তালা’, কারণ ‘অজানা’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
New notes of two and five rupees are coming

নতুন দুই ও পাঁচ টাকার নোটে কী নতুন?

নতুন দুই ও পাঁচ টাকার নোটে কী নতুন? দুই ও পাঁচ টাকার নতুন নোট ছাড়ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
নতুন নোটের রং, পরিমাপ, জলছাপ, ডিজাইন ও অন্যান্য নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য বর্তমানে প্রচলিত নোটের মতোই থাকবে। নতুন মুদ্রিত নোটের পাশাপাশি বর্তমানে প্রচলিত দুই ও পাঁচ টাকা মূল্যমানের কাগুজে নোট ও ধাতব মুদ্রাও চালু থাকবে।

সিনিয়র অর্থসচিব ফাতিমা ইয়াসমিনের সই করা দুই ও পাঁচ টাকার নতুন নোট বাজারে আসছে মঙ্গলবার। প্রথমে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস থেকে এই নোট ইস্যু করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস থেকে ইস্যুর পর পর্যায়ক্রমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যান্য কার্যালয় এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাউন্টার থেকেও নতুন দুই টাকার নোট ইস্যু করা হবে। তবে দুই নোটে অর্থসচিবের সইটাই শুধু নতুন।

নতুন নোটের রং, পরিমাপ, জলছাপ, ডিজাইন ও অন্যান্য নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য বর্তমানে প্রচলিত নোটের মতোই থাকবে। নতুন মুদ্রিত নোটের পাশাপাশি বর্তমানে প্রচলিত দুই ও পাঁচ টাকা মূল্যমানের কাগুজে নোট ও ধাতব মুদ্রাও চালু থাকবে।

আরও পড়ুন:
আসছে ৫০০ টাকার নতুন নোট
ঢাকাতেই তিন ভাগের দুই ভাগ টাকা
জাল টাকাসহ প্রতারক গ্রেপ্তার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
7 billion cubic feet of gas in the national grid from abandoned wells

পরিত্যক্ত কূপ থেকেই জাতীয় গ্রিডে ৭০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস!

পরিত্যক্ত কূপ থেকেই জাতীয় গ্রিডে ৭০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস! ছবি: নিউজবাংলা
এসজিএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, বর্তমানে এই কূপের ৩ হাজার ২৫৪ মিটার গভীরে ৭০ বিলিয়ন (৭০০ কোটি) ঘনফুটের বেশি গ্যাস মজুত আছে। গ্যাসের চাপ পরীক্ষার পর দেখা গেছে কূপটি দৈনিক ১০ থেকে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করতে সক্ষম।

প্রায় পাঁচ বছর পরিত্যক্ত ছিল সিলেটের বিয়ানীবাজর গ্যাসক্ষেত্রের ১ নম্বর কূপ। এবার এই কূপ থেকেই নতুন করে গ্যাস-সংযোগ দেয়া হয়েছে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে।

সোমবার সন্ধ্যায় এই সংযোগ দেয়া হয়। প্রথম দিন থেকেই এই সংযোগের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে প্রতিদিন ৮০ লাখ (৮ মিলিয়ন) ঘনফুট গ্যাস।

সরবরাহ শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেডের (এসজিএফএল) মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আব্দুল জলিল প্রামাণিক বলেন, ‘সকাল থেকেই সঞ্চালন লাইনে গ্যাস সরবরাহ শুরুর কথা ছিল। তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে আজ সারা দিন আমরা গ্যাস ফ্লো আউট করি। এরপর সন্ধ্যা ৬টা থেকে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ শুরু করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর আগে রোববার বিকেলে আমরা পরীক্ষামূলক সব কাজ সম্পন্ন করি। গ্যাসের চাপ পরীক্ষার (টেস্টিং) কাজও রোববার সম্পন্ন হয়।’

১ নম্বর কূপ থেকে প্রতিদিন ৮০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের পাশাপাশি একই গ্যাসক্ষেত্রের ২ নম্বর কূপ থেকেও প্রতিদিন ৭০ লাখ ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।

এসজিএফএল সূত্রে জানা গেছে, বিয়ানীবাজার গ্যাসক্ষেত্রটি সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেডের (এসজিএফএল) আওতাধীন। এই গ্যাসফিল্ডের ১ নম্বর কূপ থেকে ১৯৯১ সালে গ্যাস তোলা শুরু হয়। ২০১৪ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৬ সালে আবার উত্তোলন শুরু হলেও ওই বছরেরই শেষ দিকে তা আবারও তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকেই এই কূপটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল।

এ অবস্থায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) ওই কূপে নতুন অনুসন্ধান চালিয়ে আবারও গ্যাসের মজুত পায়। ১০ নভেম্বর ওই কূপে গ্যাসের মজুতের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। এরপর গ্যাসের চাপ পরীক্ষা শেষে কূপ থেকে দ্রুত জাতীয় সঞ্চালন লাইনে গ্যাস দেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হয়।

এসজিএফএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে এই কূপের ৩ হাজার ২৫৪ মিটার গভীরে ৭০ বিলিয়ন (৭০০ কোটি) ঘনফুটের বেশি গ্যাস মজুত আছে। গ্যাসের চাপ পরীক্ষার পর দেখা গেছে কূপটি দৈনিক ১০ থেকে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করতে সক্ষম।

‘তবে কারিগরি বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে দৈনিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হবে। এতে দৈনিক ১২৫ থেকে ১৩০ ব্যারেল ঘনীভূত তরল (কনডেন্সড) গ্যাস পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।’

দেশে গ্যাস সংকটের সময়ে এ কূপ থেকে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে গ্যাস সরবরাহ একটি আনন্দের সংবাদ উল্লেখ করে মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিয়ানীবাজারের বিভিন্ন এলাকায় ত্রিমাত্রিক সিসমিক জরিপও চলছে। সেই জরিপ থেকে নতুন গ্যাস ফিল্ড পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।’

মিজানুর রহমান বলেন, ‘২০২৫ সাল নাগাদ দেশের সব কোম্পানি প্রায় ৪৬টি কূপ খননের মাধ্যেমে ৬১ কোটি ৮০ লাখ ঘনফুট গ্যাস বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।’

বর্তমানে এসজিএফএল এর আওতায় পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্র আছে। এগুলো হলো- হরিপুর গ্যাস ফিল্ড, রশিদপুর গ্যাস ফিল্ড, ছাতক গ্যাস ফিল্ড, কৈলাশটিলা গ্যাস ফিল্ড ও বিয়ানীবাজার গ্যাস ফিল্ড।

এর মধ্যে ছাতক গ্যাস ফিল্ড বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। বাকিগুলোর ১২টি কূপ থেকে বর্তমানে প্রতিদিন ৯ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
ভোলার কূপে দৈনিক মিলবে ২ কোটি ঘনফুট গ্যাস 
১২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ৫১ টাকা
শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুতের চেষ্টা চলছে: প্রতিমন্ত্রী
আকর্ষণীয় চাকরি দিচ্ছে সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি
জুরাইনে গ্যাসলাইন বিস্ফোরণে ৬ শ্রমিক দগ্ধ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
BGMEA wants to stop theft of export products

রপ্তানিপণ্যের চুরি বন্ধ চায় বিজিএমইএ

রপ্তানিপণ্যের চুরি বন্ধ চায় বিজিএমইএ বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে যৌথ সভায় নেতারা। ছবি: নিউজবাংলা
‘পরিবহনের সময় রপ্তানিপণ্য চুরির ঘটনা আমাদের বিব্রতকর অবস্থায় ফেলছে। চুরির ঘটনা বন্ধ করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’

রপ্তানিপণ্য পরিবহনের সময় চুরি হচ্ছে, যা ধরা পড়ছে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে মালামাল পৌঁছার পর। এসব ঘটনায় ব্যবসায়ে ক্ষতির পাশাপাশি দেশের ইমেজ ক্ষুণ্ন হচ্ছে। পরিস্থিতি উত্তরণে উপায় খুঁজছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

সোমবার বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে এক সভায় বিষয়টি আলোচনায় আসে। সভায় বাংলাদেশ ট্রাক কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশের পোশাক সারা বিশ্বে সমাদৃত। ইতিমধ্যে সবুজ শিল্প হিসেবে এটি বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেছে। এই অর্জন আমাদের সবাইকে ধরে রাখতে হবে।

‘পরিবহনের সময় পণ্য চুরির ঘটনা আমাদের বিব্রতকর অবস্থায় ফেলছে। চুরির ঘটনা বন্ধ করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে মহাসড়কে নজরদারি জোরদার করতে হবে।’

বিজিএমইএর সহসভাপতি মো. শহিদউল্লাহ আজিম, বাংলাদেশ ট্রাক কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন মজুমদার, নির্বাহী সভাপতি সৈয়দ মো. বখতিয়ার, সাধারণ সম্পাদক রুস্তম আলী খানসহ নেতারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

দুই সংগঠনের নেতারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পোশাকশিল্পের রপ্তানিপণ্য চুরি বন্ধের ব্যবস্থা ও উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।

নেতারা জানান, আর্থিক ক্ষতি ছাড়াও চুরির ঘটনা রপ্তানিকারকদের লজ্জায় ফেলছে। পণ্য ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানোর পর এই চুরির ঘটনা ধরা পড়ে। অভিযোগ পেয়ে যে প্রতিকার করা হয়, তাতে আস্থা ফেরানো কঠিন।

চুরি প্রতিরোধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সব পোশাক কারখানাকে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের লাইসেন্সসহ চালক-হেলপারদের ছবি এবং ট্রাভেল ডকুমেন্ট রাখার পরামর্শ দেয়া হয় সভায়। পণ্যবাহী সব কার্গো ভ্যানে জিপিএস ট্র্যাকার নিশ্চিত করারও অনুরোধ জানান নেতারা।

পোশাকশিল্পের পণ্য চুরি রোধে রপ্তানিকারক, পরিবহন মালিক, পুলিশ প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দেয়া হয় সভায়।

আরও পড়ুন:
অর্থনীতির ক্ষতি না করতে আহ্বান বিজিএমইএ’র
বিজিএমইএ সভাপতি বললেন সংকট নেই, অন্যদের দ্বিমত
জার্মানির সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণে জোর বিজিএমইএর
পোশাক রপ্তানি ২০ শতাংশ কমার শঙ্কায় বিজিএমইএ
সামনে তৈরি পোশাক শিল্পের বড় চ্যালেঞ্জ: বিজিএমইএ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
What is the reason behind more than one lakh drop in SSC

এসএসসিতে এক লাখ বেশি ফেলের পেছনে কী কারণ

এসএসসিতে এক লাখ বেশি ফেলের পেছনে কী কারণ এসএসসির একটি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীরা। ফাইল ছবি
কয়েকটি বছরের ফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, গত বছরের পরিসংখ্যান বাদ দিলে এর আগের বছরগুলোর তুলনায় পাসের হারে এবার বড় ধরনের হেরফের নেই। বরং ২০১৯ বা ২০২০ সালের তুলনায় এবার পাসের হার খানিকটা বেশি।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয়া ১৯ লাখ ৯৪ হাজার ১৩৭ শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেনি ২ লাখ ৫০ হাজার ৫১৮ জন। অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এই সংখ্যা গত বছরের চেয়ে এক লাখেরও বেশি।

এ বছর ২ হাজার ৯৭৫টি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে, তবে ৫০টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়নি। গত বছর এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ১৮। ২০২১ সালে শতভাগ পাসের প্রতিষ্ঠান ছিল ৫ হাজার ৪৯৪।

প্রশ্ন উঠেছে, আগের বছরের তুলনায় এবার পাসের হারে কেন এত অবনতি? এটি ধারাবাহিক ঘটনা কি না, কী এর কারণ- তেমন প্রশ্নও উঠছে।

তবে কয়েকটি বছরের ফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, গত বছরের পরিসংখ্যান বাদ দিলে এর আগের বছরগুলোর তুলনায় পাসের হারে এবার বড় ধরনের হেরফের নেই। বরং ২০১৯ বা ২০২০ সালের তুলনায় এবার পাসের হার খানিকটা বেশি।

চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সামগ্রিকভাবে পাসের হার ৮৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ। অর্থাৎ এ বছর ১২ দশমিক ৫৬ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

আগের বছর ২০২১ সালে মাত্র ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেনি।

তবে ২০২০ সালে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৮২ দশমিক ৮৭ শতাংশ, অর্থাৎ সে বছর ১৭ দশমিক ১৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

তারও আগের বছর ২০১৯ সালে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থী ছিল ১৭ দশমিক ৮০ শতাংশ। চারটি বছরের ফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, গত বছরটিতেই কেবল আকস্মিকভাবে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ব্যাপক হারে কমে আসে।

এসএসসির ফলে বিশেষ উন্নতির পেছনে কী কারণ ছিল ২০২১ সালে?

শিক্ষা বোর্ড এবং বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকেরা বলছেন, করোনাকালীন বিশেষ পরিস্থিতি ২০২১ সালের পরীক্ষায় বিস্ময়কর পাসের হারে ভূমিকা রেখেছে। করোনা মহামারির অচলাবস্থার পর গত বছরের এসএসসিতে মাত্র তিনটি পরীক্ষা নেয়া হয়।

গত বছর বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, জীববিদ্যা/উচ্চতর গণিত বিষয়ে তিনটি পরীক্ষা হয়। মানবিকে ছিল ভূগোল ও পরিবেশ, বাংলাদেশের ইতিহাত ও বিশ্বসভ্যতা, পৌরনীতি ও নাগরিকতা/অর্থনীতির ওপর তিনটি পরীক্ষা। আর ব্যবসায়ে শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা হিসাববিজ্ঞান, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং এবং ব্যবসায়িক উদ্যোগ বিষয়ে পরীক্ষা দেয়।

অন্য বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে নম্বর যোগ হয় জেএসসি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে। ফলে অনেক চাপমুক্ত থেকে পরীক্ষা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। অকৃতকার্যের হারও ছিল অনেক কম। বিপরীতে এ বছর নয়টি বিষয়ে পরীক্ষা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

পরীক্ষাসংশ্লিষ্টরা বলছেন এ বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল কেমন হলো তা সঠিক পর্যালোচনা করতে তুলনাটি করতে হবে করোনা স্থবিরতা তৈরি হওয়ার আগের বছরগুলোর সঙ্গে। আর সে ক্ষেত্রে দেখা যায়, ২০২০ সাল বা ২০১৯ সালের তুলনায় পাসের হার এবার বেড়েছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান তপন কুমার সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের এবারের ফলের সঙ্গে ২০২১ সালের তুলনা করা উচিত হবে না। তুলনা করতে হলে ২০১৯ বা ২০২০ সালের সঙ্গে করা উচিত।

‘২০২১ সালে শিক্ষার্থীরা সুবিধা পেয়েছে বেশি। অর্ধেক নম্বরের ওপর পরীক্ষা ছিল। এবার কিন্তু তা ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘২০১৯ অথবা ২০২০ সালে পরীক্ষার্থীদের জন্য কোনো আলাদা সুযোগ ছিল না। করোনা পূর্ববর্তী সময়ের হওয়াতে সবগুলো বিষয়ের ওপর ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হয়েছিল।’

যশোর শিক্ষা বোর্ডের প্রধান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গতবার কম বিষয়ের কারণে পাসের হারও বেশি ছিল। শর্ট সিলেবাসে তারা বেশি সুযোগ পেয়েছে। এবার সিলেবাসও কম ছিল আবার পরীক্ষায় অপশন বেশি ছিল। তবে এবার যারা পাস করেছে তারা সবাই ভালো করেছে।’

রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরজাহান বেগম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যদি আমরা ফলাফল ও শিখনের ওপর গুরুত্ব দিই তবে আমাদের এবারের ফল ২০২০ সালের চেয়ে ভালো। ২০২১ সালে মাত্র তিনটি বিষয়ে অর্ধেক নম্বরের ওপর পরীক্ষা হলেও এবার নম্বর ও বিষয় বেড়েছে।’

বরিশাল জিলা স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক বিশ্বনাথ সাহা অবশ্য মনে করছেন এবারের ফলের ওপরেও করনাকালীন পরিস্থিতির প্রভাব রয়ে গেছে।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনার একটা প্রভাব থেকেই যাবে। যত সুযোগ দেয়া হোক না কেন একটা শিখন ঘাটতি থাকবে। অনেকেই সে সময় ঝরে গেছে, যারা ছিল তারাই ভালো করেছে। এটা ঠিক হতে কিছু বছর সময় লাগবে।’

প্রভাব ফেলেছে বন্যাও

এসএসসি পরীক্ষার সময়ে সিলেট বিভাগে বন্যা ওই অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। এবার সিলেট বোর্ডে সবচেয়ে কম ৭৮ দশমিক ৮২ শতাংশ শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সোমবার ফলের বিস্তারিত তুলে ধরার শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনিও এ বিষয়টি তোলেন।

পরীক্ষায় পাসের হার নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই সব শিক্ষার্থী পাস করবে। আমাদের সবকিছুই ঠিক ছিল, তবে একটা কারণে (বন্যা) সেটা হয়নি। সবকিছু বাদ দিয়েছি। নতুন করে আবার রুটিন দিয়েছি। এ কারণে কিন্তু শিক্ষার্থীর ওপর একটা চাপ পড়ে। একরকম প্রিপারেশন থাকে, সেটা ব্যাহত হয়।’

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন বোর্ডের রেজাল্ট কিন্তু একটা আলাদা আলাদা প্রভাব ফেলে। যশোর বোর্ডে যেমন ৯৫ ভাগ আছে, আবার কোথাও কোথাও ৭৮ ভাগ। বন্যার কারণে এটা হতেই পারে। অনেক স্কুলে সমস্যা হয়েছে, অনেক পরীক্ষার্থীকে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে হয়েছে।’

কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্য পাসের হার নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকবার এটা নিয়ে যে ব্যবস্থা নিই, এবারও সেটা নেব। আমরা কতটা সাপোর্ট দিয়ে থাকি আর কোথায় ঘাটতি আছে সেটা দেখতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘একটা লার্নিং গ্যাপ আছে। এটা সারা বিশ্বেই আছে। তবে এটা পরিবর্তন করতে হবে। আমাদের লার্নিং গ্যাপ করোনার সময় বাড়েনি। অনেক দেশে এটা অনেক বেড়েছে। এখানে সে সময় ৯৩ ভাগ শিক্ষার্থীর কাছে অ্যাসাইনমেন্টপদ্ধতি পৌঁছে গিয়েছিল, এতে তারা নিজেরাই শিখন ঘাটতি পূরণ করেছে।’

গত বছরের চেয়ে এবার বেড়েছে জিপিএ ফাইভ

গত বছরের চেয়ে এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার কমলেও জিপিএ ফাইভ বেড়েছে প্রায় ১ লাখ। চলতি বছর জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ শিক্ষার্থী। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮৩ হাজার ৩৪০ শিক্ষার্থী।

এবার সাধারণ বোর্ডে জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৭৬৩ শিক্ষার্থী। পাসের হার ৮৮ দশমিক ১০ শতাংশ।

দাখিলে জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ১৫ হাজার ৪৫৭ শিক্ষার্থী। পাসের হার ৮২ দশমিক ২২ শতাংশ।

কারিগরি বোর্ডে জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ১৮ হাজার ৬৫৫ শিক্ষার্থী। পাসের হার ৮৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে কমেছে পাসের হার, বেড়েছে জিপিএ ফাইভ
এসএসসির সাফল্যে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস
পাসের হারে সিলেট কেন তলানিতে
এবার পরীক্ষার্থী কমলেও ফেল বেড়েছে লাখের বেশি
পাসের হারে শীর্ষে যশোর, তলানিতে সিলেট

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Call off strike of naval workers

নৌ-শ্রমিকদের ধর্মঘট প্রত্যাহার

নৌ-শ্রমিকদের ধর্মঘট প্রত্যাহার সোমবার শ্রম ভবনে বৈঠক শেষে প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের উপস্থিতিতে নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। ছবি: নিউজবাংলা
সোমবার শ্রম ভবনে বৈঠক শেষে প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের উপস্থিতিতে নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম চলমান নৌ-যান ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন।

নৌপরিবহন শ্রমিকদের চলমান ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। সোমবার শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের সভাপতিত্বে সরকার ও মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দের বৈঠক শেষে এমন সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) খালেদ মামুন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শ্রম ভবনে এই বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের উপস্থিতিতে নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।

শ্রম প্রতিমন্ত্রী এ সময় বলেন, ‘আমি এমনটা বলব না যে মালিক বা শ্রমিক পক্ষ ঝামেলা সৃষ্টি করেছে। তবে ঝামেলা একটা হয়েছে, যেখান থেকে মামলা হয়েছে। আর তারপরই নৌ-ধর্মঘটের শুরু।

‘মামলা থাকবে, সেটা আমি দেখব। মামলা প্রত্যাহার হবে। যারা আসামি হয়ে জেলহাজতে গেছেন তাদের জামিনেরও ব্যবস্থা করব। কিন্তু স্থায়ী একটা বিহিত হওয়া দরকার।’

তিনি জানান, প্রস্তাবনা প্রণয়ন কমিটি হয়েছে। শ্রমিকদের আর্থিক সহায়তায় অন্তর্বর্তীকালীন টোকেনের ব্যবস্থা করা হবে। কমিটি এক মাসের মধ্যে মজুরি নির্ধারণ করবে। পরে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।

মন্নুজান সুফিয়ান বলেন, ‘মালিক ও শ্রমিক পক্ষের পরস্পরের প্রতি দরদ থাকা দরকার। সেখানে ব্যত্যয় ঘটছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষ, কিছু মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে। সবাই নিজের কাজটা করলে আজ এই পর্যায়ে আসতে হয় না। আর যে কোনো সমস্যায় মালিকের চেয়ে শ্রমিকের ক্ষতিটাই বেশি। কারণ শ্রমিক তার সমস্যাটা টের পান প্রথম দিন থেকেই। যে কারণে তাদের সমস্যার সমাধান আগে দরকার।’

‘আপাতত অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যেসব নৌযানের ধারণ ক্ষমতা ‌১০০০-১৫০০ টন ওজনের সেসব যানের ভাতা হবে ১৫০০ টাকা; আর এক হাজারের নিচে নৌযানের শ্রমিকরা পাবেন ১২০০ টাকা ভাতা।’

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য শেষে নৌপরিবহন শ্রমিকদের ডাকা চলমান ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।

নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাহ আলম বলেন, ‘আমরা ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেছি। এর মধ্যে প্রধান দাবি হচ্ছে শ্রমিকদের ভাতা বা মজুরি। এ ব্যাপারে প্রতিমন্ত্রী যাদের দায়িত্ব দিয়েছেন তারা ঠিকঠাক দায়িত্ব পালন করলে সমস্যা এক মাসের মধ্যেই সমাধান সম্ভব। আশা করছি আমাদের দাবি-দাওয়ার প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সদয় হবেন। ভাতা এই নভেম্বর মাস থেকেই কার্যকর হবে।’

নৌযান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের সদস্য আতিকুল ইসলাম টিটু বলেন, ‘নৌ অধিদপ্তরের ডিজির আশ্বাস পেয়ে আমরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছি। বলা হয়েছে, আমাদের দাবিগুলো মেনে নেয়া হবে। আমাদের প্রধান দাবি ছিল মজুরি নির্ধারণ। সেটা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তবে মন্ত্রণালয় বিষয়টি জেনেছে। এখানে নৌপরিবহনের যে বিষয়গুলো ছিল সেগুলো করা হবে। এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে আগেও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের ডিজির কথা হয়েছে। তিনি ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের বিষয়টিও বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যানের এখতিয়ারে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি ভারত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন। সামনে ভারতে মিটিং আছে। ওই মিটিংয়ের পর কথা হবে।

‘আজ আমাদের সঙ্গে মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে, যতদিন পর্যন্ত ভাতা নির্ধারণ না হয় ততদিন এক হাজার টনের নিচের জাহাজগুলোর সব শ্রমিক ১২০০ টাকা করে অন্তর্বর্তীকালীন ভাতা পাবেন। আর এক হাজার টনের উপরের জাহাজের শ্রমিকরা পাবেন ১৫০০ টাকা করে।’

কাজে যোগদানের সময় সম্পর্কে জানতে চাইলে এই নৌযান শ্রমিক নেতা বলেন, ‘আমরা আজ (সোমবার) সন্ধ্যা থেকেই কাজে নেমে পড়ব।’

সভায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, বিআইডব্লিউটিএ, শিপিং করপোরেশন, নৌযান মালিক ও শ্রমিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
হবিগঞ্জে চলছে বাস ধর্মঘট, চার দিনে ক্ষতি ৫ কোটি
পরিবহনসহ অত্যাবশ্যকীয় সেবায় ধর্মঘট ডাকলে সাজা
সিলেটে চলছে পরিবহন ধমর্ঘট
জ্বালানি, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটিতে ধর্মঘট ডাকলে সাজা
বাস মালিকরা স্বাধীন, আমাদের কিছু করার নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The High Courts verdict on the check dishonor case has not been suspended

চেক ডিজঅনার মামলা নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত হয়নি

চেক ডিজঅনার মামলা নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত হয়নি প্রতীকী ছবি
আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল বাকী পরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণ আদায়ের জন্য কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনার মামলা করতে পারবে না, হাইকোর্টের এমন রায় স্থগিত করেননি চেম্বার জজ আদালত। এ বিষয়ে শুনানির জন্য ফুল কোর্টে পাঠিয়ে দিয়েছেন।’

ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করা চেক ডিজঅনার মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেনি আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের করা আবেদন সাড়া না দিয়ে চেম্বার জজ বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ‘নো অর্ডার’ দিয়েছেন। পাশাপাশি শুনানির জন্য মামলাটি তিনি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়েছেন। এ বিষয়ে আপিল বিভাগে শুনানি হবে বৃহস্পতিবার।

আদালতে ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। অন্যদিকে ছিলেন আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল বাকী।

আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল বাকী পরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণ আদায়ের জন্য কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনার মামলা করতে পারবে না- হাইকোর্টের এমন রায় স্থগিত করেননি চেম্বার জজ আদালত। এ বিষয়ে শুনানির জন্য ফুল কোর্টে পাঠিয়ে দিয়েছেন।’

হাইকোর্ট ২৩ নভেম্বর এ-সংক্রান্ত রায় দেয়। তবে সেটি স্থগিত চেয়ে আবেদন করে ব্র্যাক ব্যাংক।

ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণ আদায়ের জন্য শুধু ২০০৩ সালের অর্থঋণ আইনের বর্ণিত উপায়ে অর্থঋণ আদালতে মামলা করা যাবে বলে হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়েছে।

রায়ে বিচারিক আদালতের প্রতি নির্দেশনা দিয়ে হাইকোর্ট বলে, কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান যদি চেক ডিজঅনার মামলা করে তাহলে আদালত তা সরাসরি খারিজ করে দেবে। একই সঙ্গে তাদের ঋণ আদায়ের জন্য অর্থঋণ আদালতে পাঠিয়ে দেবে।

এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকেও নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

আরও পড়ুন:
জামালপুরের ইসলামপুরে ইসলামী ব্যাংক
এসএমই মেলায় পদ্মা ব্যাংকের বিশেষ এসএমই সেবা
ওসি মোয়াজ্জেমের হাইকোর্টে জামিন
চেক প্রত্যাখ্যান মামলা করতে পারবে না ব্যাংক: হাইকোর্ট
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কৃষিতে ঋণ বাড়ানোর নির্দেশ

মন্তব্য

p
উপরে