× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Fear of famine in the world the countrys economy is strong Prime Minister
hear-news
player
google_news print-icon

বিশ্বে দুর্ভিক্ষের শঙ্কা, দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী: প্রধানমন্ত্রী

বিশ্বে-দুর্ভিক্ষের-শঙ্কা-দেশের-অর্থনীতি-শক্তিশালী-প্রধানমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সফর নিয়ে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: বাসস
‘প্রত্যেকের মাঝে কিন্তু এই ধরনের একটা আশঙ্কা। সবাই এ কথা বলেছে যে ২০২৩ সাল বিশ্বের জন্য অত্যন্ত একটা দুর্যোগময় সময় এগিয়ে আসছে, এমনকি বিশ্বব্যাপী দুর্ভিক্ষও দেখা দেবে, এমন শঙ্কা সকলের মনে আছে। এ নিয়ে সবাই চিন্তিত ও আতঙ্কিত।’

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা নিষেধাজ্ঞার কারণে আগামী বছর সারা বিশ্বের জন্য ‘অত্যন্ত দুর্যোগময়’ হতে পারে বলে শঙ্কা করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে দেশের অর্থনীতি ‘যথেষ্ট শক্তিশালী’ আছে জানিয়ে তিনি বলেছেন, দুশ্চিন্তার কিছু নেই।

গত ছয় মাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অনেকটা কমে গেলেও এখনও যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ আছে বলে মনে করেন সরকার প্রধান।

গণভবনে বৃহস্পতিবার বিকেলে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি জানান, এই সফরে বিশ্ব নেতাদের মধ্যে যাদের সঙ্গেই দেখা হয়েছে, সবাই অর্থনীতি নিয়ে শঙ্কার কথা বলেছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রত্যেকের মাঝে কিন্তু এই ধরনের একটা আশঙ্কা। সবাই এ কথা বলেছে যে ২০২৩ সাল বিশ্বের জন্য অত্যন্ত একটা দুর্যোগময় সময় এগিয়ে আসছে, এমনকি বিশ্বব্যাপী দুর্ভিক্ষও দেখা দেবে, এমন শঙ্কা সকলের মনে আছে। এ নিয়ে সবাই চিন্তিত ও আতঙ্কিত।’

‘দেশের অর্থনীতি যথেষ্ট সচল’
দেশের অর্থনীতি যথেষ্ট শক্তিশালী জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘একদিকে করোনাকালীন সংকট, আরেকদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, এবং স্যাংশন, পাল্টা স্যাংশন। এর মাঝেও আমাদের অর্থনীতি এখনও যথেষ্ট সচল রাখতে পেরেছি। এটা আমার কথা না, আন্তর্জাতিক নানা সংস্থাও সে কথা বলছে।

‘শুধু এটুকু বলব, আমরা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে লং টার্ম, মিডিয়াম টার্ম, বা ইমিডিয়েট, যেকোনো ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের কোনো রিস্ক নেই। আমি কথা দিতে পারি। এটুকু ব্যবস্থা আমরা নিতে পারি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সামষ্টিক অর্থনীতির যে টার্গেট আমরা নির্দিষ্ট করেছি, সেটা আমরা অর্জন করতে সক্ষম হব, এ ব্যাপারে সবাইকে আমি আশ্বস্ত করতে চাই। এরপর যদি মহাদুর্যোগ দেখা দেয়, এমনিতেই সারা বিশ্ব তো কষ্ট পাচ্ছে। তাতে বেশি কিছু বলার নেই। আমাদের অর্থনীতি যথেষ্ট শক্তিশালী আছে, এটুকু আশ্বাস আমি দিতে পারি।’

বিশ্বে দুর্ভিক্ষের শঙ্কা, দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা। ছবি: বাসস

উৎপাদন করুন, অপচয় করা যাবে না
দুচিন্তা না করে সর্বোচ্চ চেষ্টা ও সাশ্রয়ী হওয়ার তাগিদও দেন সরকার প্রধান। তিনি বলেন, ‘দুশ্চিন্তা তো মানসিক ব্যাপার, কার কী মানসিকতা তার ওপরও নির্ভর করে। তবে সকলে মিলে যদি এই চিন্তা করে যে, না, দেশটা আমাদের, এই দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে, সেইক্ষেত্রে আমাদের অপচয় করলে হবে না।

‘তারপরও দেশবাসীর কাছে আমি বারবার আহ্বান করেছি, আপনারা যার যেখানে যতটুকু জমি আছে, বা জলাধার আছে, সেখানে যেন কিছু না কিছু উৎপাদন করে। কারণ, খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টা বেশি বিবেচনা করা দরকার।’

প্রতিটি ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘বিদ্যুৎ ব্যবহার, পানি ব্যবহার, খাদ্য ব্যবহার, প্রতিটি ব্যবহারে সবাই যেন একটু সাশ্রয়ী হয়। কারণ আগামী সংকটটা যেন আমাদের সেভাবে না দেখা দেয়।’

রিজার্ভ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ
যে রিজার্ভ ৫০ বিলিয়ন ডলারের দিকে ছুটছিল আট মাসের মধ্যে তা ৩৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে এবং তা ক্রমহ্রাসমান।

তবে রিজার্ভের বর্তমান অবস্থা নিয়েও সন্তুষ্ট শেখ হাসিনা। বলেন, ‘আমাদের রিজার্ভ এখনও যথেষ্ট। আমাদের যে রিজার্ভ আছে, যদি কোনো সংকট দেখা দেয়, পাঁচ মাসের খাদ্য কেনার মতো রিজার্ভ আমাদের আছে। রিজার্ভ হিসাব করা হয় এ কারণে যে, কোনো দুর্যোগ দেখা দিলে আপনার তিনমাসের খাদ্য কেনার সংগতি আছে কি না। আমাদের সেখানে পাঁচ মাসের আছে।’

বাংলাদেশের ঋণ পরিশোধে ভবিষ্যতেও কোনো সমস্যা হবে না বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেন, ‘আমরা যত ঋণ নেই, বাংলাদেশ আজ পর্যন্ত কখনও কোনোদিন খেলাপি হয়নি। যত সমস্যা থাক আমরা কিন্তু সময়মতো ঋণ পরিশোধ করি। যখন ঋণ পরিশোধ করি আমাদের রিজার্ভ তখন কিছুটা কমে যায়। করোনাভাইরাসের সময় যখন অনেক কার্যক্রম বন্ধ ছিল, আমরা যথেষ্ট রিজার্ভ বাড়াতে পেরেছিলাম।’

বাজেটের সমস্যা হবে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে সমস্ত প্রকল্পগুলো একান্তভাবে আমাদের জরুরি সে প্রকল্পগুলো এবং অধিক টাকা দিয়ে দ্রুত শেষ করে সেখান থেকে রিটার্ন পাওয়া যায়, সেই ধরনের প্রকল্পগুলো আমরা দ্রুত শেষ করে দিচ্ছি।

‘আমরা দেখি ওই প্রকল্পটা আমাদের দেশের জন্য কতটা প্রযোজ্য, কত টাকা খরচ করতে হবে, কত টাকা ঋণ নিতে হবে, কত টাকা পরিশোধ করতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের পর আমার কত টাকা রিটার্ন আসবে। রিটার্ন ভালো পাব, সেটা গ্রহণ করি, বাকিগুলো করি না।’

গণমাধ্যম নিয়ে মাথাব্যথা নেই
গণমাধ্যমের সমালোচনা নিয়ে এক প্রশ্নে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের কিছু কিছু পত্রিকা আছে, তাদের বোধ হয় সারা জীবনই বাংলাদেশের খারাপ কথাটা বলতে পারলে তারা স্বস্তি পায়। এটা আমি যুগ যুগ ধরে দেখছি। এরকম ধরনের মানুষ থাকে। সবসময় নেতিবাচক চিন্তা অথবা বলতে হবে যে পরশ্রীকাতরতায় ভোগে।

‘বাংলাদেশ যত ভালো করুক, তাদের চোখে ভালো হওয়া যাবে না। তবে সেটা নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই। আমি সেটা নিয়ে চিন্তাও করি না। আমার লক্ষ্য থাকে যে, জনগণের ওপর আমার আস্থা আছে, বিশ্বাস আছে, আমি যে কাজটা করছি জনগণ কতটা লাভবান হলো, জনগণের কষ্ট যাতে না হয়, সেদিকেই আমরা বিশেষভাবে দৃষ্টি দিই।’

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গ্রেপ্তার যুবক কারাগারে
বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফেরানোর চেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনার জন্মদিনে ভূমিষ্ঠ শিশুদের উপহার দিল স্বেচ্ছাসেবক লীগ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Head teacher arrested on charges of attempted molestation

শ্লীলতাহানি চেষ্টার অভিযোগে প্রধান শিক্ষক আটক

শ্লীলতাহানি চেষ্টার অভিযোগে প্রধান শিক্ষক আটক প্রধান শিক্ষকের অপসারনের দাবিতে স্কুলের গেটে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা
শ্লীলতাহানি চেষ্টার জের ধরে দুপুরে বিদ্যালয়ের শতশত শিক্ষার্থী ও বহিরাগতরা স্কুলের সামনে অবস্থান নেয়। তারা সড়ক অবরোধ করে। প্রধান শিক্ষকের অপসারনের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর শ্লীলতাহানি চেষ্টার অভিযোগে প্রধান শিক্ষক শাখায়াত হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ।

উপজেলার শরীফাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে বুধবার এই ঘটনা ঘটে।

বৃহস্পতিবার রাতে অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণ চেষ্টার মামলা দায়ের করা হয়। এর আগে দুপুরে প্রধান শিক্ষককে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়ারুল ইসলাম বলেন, এক ছাত্রীর অভিযোগ তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় প্রধান শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।

এই ঘটনার জের ধরে দুপুরে বিদ্যালয়ের শতশত শিক্ষার্থী ও বহিরাগতরা স্কুলের সামনে অবস্থান নেয়। তারা সড়ক অবরোধ করে। প্রধান শিক্ষকের অপসারনের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে।

ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগের সুত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে শরীফাবাদ স্কুলে পরীক্ষা দিচ্ছিল ওই ছাত্রী। নকল করার অভিযোগ তার খাতা নিয়ে যান ডিউটিরত শিক্ষিকা। এ সময় ঘন্টাব্যাপী ওই শিক্ষার্থীর খাতা আটকে রাখা হয়।

মেয়েটি কান্নাকাটি করলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে গিয়ে অনুমতি আনার কথা বলেন ওই শিক্ষিকা। প্রধান শিক্ষক শাখায়াত হোসেনের কাছে গিয়ে পরীক্ষার খাতা ফেরত চাইলে শাখায়াত তার রুমে যেতে বলেন।

রুমে প্রবেশ করতেই প্রধান শিক্ষক মেয়েটিকে জড়িয়ে ধরেন এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন।

মেয়েটি চিৎকার দিলে তার মুখ চেপে ধরেন প্রধান শিক্ষক। ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি দেন। পরে মেয়েটি পরীক্ষা না দিয়ে বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারকে ঘটনা জানায়।

মেয়েটির বাবা বলেন, মীমাংসার জন্য শাখায়াতের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মহল চাপ প্রয়োগ করছে। আমি কোন মীমাংসায় যাবো না।

অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. শাখায়াত হোসেন জানান, বুধবার পরীক্ষা দেওয়ার সময় নকলের অভিযোগে মেয়েটির খাতা জব্দ করে রুমের শিক্ষক। মেয়েটি আমার কাছে এসে বিস্তারিত জানালে আমি তাকে বাড়ি যেতে বলি এবং পরবর্তী পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে বলি। সে আমার পা জড়িয়ে ধরে মাফ চাইলে আমি পরীক্ষা হলে গিয়ে দায়িত্ব পালন করা শিক্ষককে খাতা ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করি। কিন্তু হঠাৎ সে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আজিম উদ্দিন বলেন, ‘আমি এবং ভাঙ্গা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ সরজমিনে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি।’

এলাকাবাসী কে শান্ত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, স্কুলের কার্যক্রম আগের মতোই চলবে।

আরও পড়ুন:
শ্লীলতাহানির চেষ্টার পর ট্রেন থেকে ছুড়ে ফেলে হত্যা
শ্লীলতাহানির মামলায় প্রধান শিক্ষক কারাগারে
বাসে ছাত্রীর শ্লীলতাহানির মামলায় চালক রিমান্ডে
‘ছাত্রীর শ্লীলতাহানি’, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক গ্রেপ্তার
নারীর ‘শ্লীলতাহানি’, যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Pistols hidden in Kishori Ranis rice bowl

কিশোরী রানীর ভাতের পাতিলে লুকানো পিস্তল-গুলি

কিশোরী রানীর ভাতের পাতিলে লুকানো পিস্তল-গুলি ভাতের ভেতর পিস্তল ও গুলি লুকিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পৌঁছে দেয়াসহ মুক্তিযুদ্ধের সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছেন গৃহবধু কিশোরী রানী শর্মা। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
কুমিল্লার গৃহবধূ কিশোরী রানী শর্মা মুক্তিযুদ্ধের সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যোদ্ধাদের সাহায্য করেছেন। পাড়ি দিয়েছেন শত্রু এলাকা। তার স্বামী মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র সারাই করে দিতেন। তাদের মেলেনি মুক্তিযুদ্ধের স্বীকৃতি।

ভারতের সোনামূড়া। ডিসেম্বর শুরু। শীতের সন্ধ্যা। চারদিকে আবছা কুয়াশা। রান্নার পাতিলে ভাতের ভেতর পিস্তল ও গুলি লুকিয়ে মুক্তিযোদ্ধারের কাছে যাচ্ছিলেন এক গৃহবধূ।

পথে আচমকা পাকিস্তানিরা দূর থেকে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি পড়ে যান গোমতী নদীতে। স্রোতের টানে ভেসে যান অনেকদূর। মৃত ভেবে পাকিস্তানিরা চলে যায়। ঘটনার পর মুক্তিযোদ্ধারা আসেন। উদ্ধার করেন ওই গৃহবধূকে। ক্যাম্পে নিয়ে গুলি বের করেন। বাম কনুইয়ের ওপর গুলির দাগ আজও সেই বিভীষিকাময় দিনগুলোর কথা মনে করে দেয়।

গৃহবধূর নাম কিশোরী রানী শর্মা। তার স্বামী অরুণপ্রসাদ শর্মাও মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। অস্ত্র তৈরি করা, বিকল অস্ত্র ঠিক করার দায়িত্ব ছিল অরুণপ্রসাদ শর্মার ওপর। স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরও স্বামী-স্ত্রীর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মেলেনি। মনের ভেতর কষ্ট নিয়েই বছর দশেক আগে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান অরুণপ্রসাদ।

কিশোরী রানী শর্মার বাড়ি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার মধ্যম বিজয়পুরে। তার এক ছেলে এক মেয়ে। বছরচারেক আগে কিশোরী রানীর একমাত্র ছেলে বাসুপ্রসাদ শর্মা ট্রেন দুর্ঘটনায় মারা যান। এক মেয়ে বিজয়পুর মৃৎশিল্প কারখানার কাজ করেন। ৫ হাজার টাকা বেতন। এই টাকা দিয়ে কোনো রকমে খেয়ে-পড়ে বেঁচে আছেন তারা।

সরেজমিনে মধ্যম বিজয়পুরে গিয়ে দেখা যায়, কিশোরী রানীর বাড়ির সামনে একটি খাল। নড়বড়ে সাঁকো পার হয়ে সামনে গেলে ছোট্ট একটি টিনের ঘরে শুয়ে থাকতে দেখা যায় কিশোরী রানী শর্মাকে।

শোয়া থেকে উঠে ভাঙা কণ্ঠে কিশোরী রানী জানান, ১৯৩৭ সালে তার জন্ম। জাতীয় পরিচয়পত্রে তারিখটা লেখা ৬ মে। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী অরুণপ্রসাদ অস্ত্র বানাতে পারতেন। ভাঙা অস্ত্র ঠিক করতে পারতেন। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়েও স্বীকৃতি পাননি। ১০ বছর হলো তিনি মারা গেছেন।’

স্মৃতির ঝাঁপি খুলে কিশোরী রানী বলেন, ‘শীতের রাতে কতবার বিবিরবাজার বর্ডার ক্রস করে ভারতের সোনামুড়া গেছি। সেখানে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ হতো। প্রতিবার পাকিস্তানিদের চোখ ফাঁকি দিতে কত কৌশলের আশ্রয় নিয়েছি। গুলি খেয়ে নদীতে পড়ে গেছি। তবুও মুক্তিযুদ্ধ করে গেছি।

‘আমরা মেজর এনামের নেতৃত্বে যুদ্ধ করেছি। অথচ আজ আমাদের স্বামী-স্ত্রীর কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই। আমার ছেলেটা মারা গেল। একমাত্র মেয়ে আর ছেলের ঘরের নাতি-নাতনিদের নিয়ে কোনো রকমে বেঁচে আছি। কেউ আমাদের খবর রাখে না। আমার স্বামী বেঁচে থাকতে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতির জন্য আবেদন করেছিল। আমিও করেছি। কেউ আমাদের স্বীকৃতি দেয় না।’

বিষয়টি নিয়ে কুমিল্লা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সফিউল আহমেদ বাবুল বলেন, ‘ভারতীয় তালিকা, দেশের গেজেট ও লাল তালিকায় কিশোরী রানী ও তার স্বামী অরুণের নাম নেই। তাই তাদের মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি দেয়া যাচ্ছে না। তবে তারা যদি মন্ত্রণালয় বা জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) কাছে গিয়ে প্রমাণ করতে পারেন, সে ক্ষেত্রে তাদের নাম গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।’

কিশোরী রানী শর্মার মেয়ে পান্না রানী শর্মা বলেন, ‘মাকে নিয়ে কত কষ্টে আছি, কেউ না এলে বুঝবেন না। দেশকে শত্রুমুক্ত করতে বিনা শর্তে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল আমার বাবা-মা। অথচ আজ আমার মা ও বাবার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেতে কত শর্ত মানতে হবে। এর চেয়ে দুঃখের কী আছে! আমি আশা করব, একদিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঠিকই আমাদের বাবা-মাকে স্বীকৃতি দিবেন। কারণ পৃথিবীতে অনেক সত্য আছে, যেগুলোর জন্য প্রমাণ লাগে না। আমার বাবা-মাও তেমন।’

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শুভাশিস ঘোষ বলেন, ‘আমি কিশোরী রানী শর্মাকে চিনি। তার জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা শুনেছি। তিনি ও তার স্বামী মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। তবে যথাযথ ডকুমেন্ট সংরক্ষণ করতে পারেননি বলে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাননি। আমি আশা করব, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন তার এই ত্যাগের বিষয়টি মূল্যায়ন করেন। তিনি যেন তার প্রাপ্য পান। কারণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছেন। সেখানে স্বাধীনতার অর্ধশত বছর পরে এসে যদি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা তার স্বীকৃতি না পান, সেটা হবে দুর্ভাগ্যজনক।’

আরও পড়ুন:
ডিসেম্বরকে ‘মুক্তিযোদ্ধা মাস’ চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
একাত্তরে শহীদ আইনজীবীদের তালিকা চায় সুপ্রিম কোর্ট
রাজাপুর পাকহানাদার মুক্ত দিবস
‘৯০ ভাগ সমবায় সমিতি শুধু কাগজে-কলমে’
বঞ্চিত মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি দাবি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
If Khaleda Zia comes to the rally the information given in the release application will be false

মুক্ত মানুষকে কীভাবে জামিন দেয়: আইনমন্ত্রী

মুক্ত মানুষকে কীভাবে জামিন দেয়: আইনমন্ত্রী নারায়ণগঞ্জ বার ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। ছবি: নিউজবাংলা
খালেদা জিয়ার মুক্তির দুই শর্তের মধ্যে উনি রাজনীতি করতে পারবেন না- এমন কথা নেই। কিন্তু উনার যে আবেদন ছিল তাতে পরিষ্কারভাবে লেখা ছিল তার শারীরিক অবস্থা এত খারাপ যে তিনি চলাফেরা করতে পারেন না।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশে বেগম খালেদা জিয়া অংশ নেবেন বলে শোনা যাচ্ছে। তবে তিনি যদি সমাবেশে আসেন, তাহলে তার মুক্তির আবেদনে দেয়া অসুস্থতার তথ্য মিথ্যা প্রমাণিত হবে।

বৃহস্পতিবার রাতে নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির বার ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আনিসুল হক বলেন, 'বিএনপি নেতারা এখনও দাবি করেন খালেদা জিয়াকে জামিন দিতে হবে। কিন্তু মুক্ত মানুষকে কীভাবে জামিন দেয়? দুই শর্তে খালেদা জিয়াকে জেল থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। তাকে আবার জামিন কীভাবে দেবে?

‘বিএনপি নেতারা বলছেন, ১০ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়া বক্তব্য দেবেন। তার মুক্তির দুই শর্তে উনি রাজনীতি করতে পারবেন না- এমন কথা নেই। কিন্তু উনার যে আবেদন ছিল তাতে পরিষ্কারভাবে লেখা ছিল খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এত খারাপ যে তিনি চলাফেরা করতে পারেন না। তাকে দ্রুত মুক্তি দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। বেগম খালেদা জিয়া যদি ১০ ডিসেম্বর সমাবেশে যান তাহলে তার মুক্তির আবেদনে যে তথ্য দেয়া হয়েছে, তা মিথ্যা প্রমাণিত হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০০৭ ও ২০০৮ সালে যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল, তখন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুটির বেশি দুর্নীতির মামলা হয়। তদন্ত করা হয়, এফআইআর হয়, চার্জশিটও হয়। প্রতিটি সময়ই খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। তারা শুধু নিম্ন আদালতে না, যেতে যেতে আপিল বিভাগেও গিয়েছেন। সেখান থেকে বলে দিয়েছে, বিচারিক আদালত হয়ে মামলা শেষ করতে হবে।

’বিচারিক আদালতে বিচার হয়েছে, সাজাও হয়েছে। একটি মামলায় পুনরায় আপিল করেছেন, সেটাতে আবার হাইকোর্ট সাজা বাড়িয়েছে। আরেকটিতে বিচারিক আদালত সাজা দিয়েছে। তারপর তিনি জেলে গেছেন। জেলে থাকাকালে তার পরিবার থেকে আবেদন করা হয়েছে, সেখানে বলা হয়- তার শরীর অত্যন্ত খারাপ। তাকে জেল থেকে ছাড়িয়ে চিকিৎসা করাতে হবে। আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে জেল থেকে ছাড়ার প্রার্থনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার মহানুভবতায়, ৪০৮ ধারায় দণ্ডাদেশ স্থগিত করেছেন। দুই শর্তে তাকে মুক্তি দিয়েছেন।’

অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব গোলাম সারওয়ার, অ্যাটর্নি জেনারেল আবু মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন, সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম ওসমান, এ কে এম শামীম ওসমান, লিয়াকত হোসেন খোকা, জেলা প্রশাসক মো. মঞ্জুরুল হাফিজ ও জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
বিএনপির ষড়যন্ত্র সফল হলে দেশ বিরান ভূমি হবে: আইনমন্ত্রী
সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম থাকবে কি না চিন্তাভাবনা হচ্ছে: আইনমন্ত্রী
খালেদার নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ নেই: আইনমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
College student killed by gang of teenagers in Comilla

কু‌মিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে কলেজছাত্র নিহত

কু‌মিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে কলেজছাত্র নিহত কলেজ শিক্ষার্থী মো. পাবেল। ছবি: সংগৃহীত
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, কলেজ ছাত্র পাবেল সঙ্গীদের নিয়ে রাতে ব্যাডমিন্টন খেলতে যান। এ সময় একদল কিশোর তাদেরকে মাঠ থেকে উঠে যেতে বলে। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা পাবেলকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ব্যাডমিন্টন খেলাকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো. পাবেল নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী খুন হয়েছেন।

চৌদ্দগ্রামের আলকরায় রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভরঞ্জন চাকমা।

নিহত পাবেল উপজেলার গুণবতী এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি ফেনী মহিপাল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, পাবেল নিজ বাড়ি গুণবতী থেকে পাশের আলকরা ইউনিয়নে নানা বাড়িতে বেড়াতে যান। সেখানে স্থানীয় কিশোরদের সঙ্গে রাতে ব্যাডমিন্টন খেলতে যান তিনি। এ সময় একদল কিশোর নিজেরা খেলবে বলে পাবেল ও তার সঙ্গীদের মাঠ থেকে উঠে যেতে বলে। ওইসময় কিশোরদের সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা এলোপাতাড়ি পাবেলকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। তাকে বাঁচাতে গিয়ে আরও দুজন আহত হন। তারা বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা চিকিৎসাধীন বলে জানা গেছে।

ওসি শুভরঞ্জন চাকমা জানান, বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তারা পাবেলকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেছে বলে স্থানীয়রা জা‌নি‌য়ে‌ছে। জড়িত সবাই স্থানীয় কিশোর। ঘটনার পর থে‌কে তারা পলাতক। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কু‌মিল্লা মে‌ডি‌কেল ক‌লেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বীমার টাকার জন্য স্ত্রীকে খুন
বড় ভাই খুন, অভিযোগ ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে
আফতাবকে বহনকারী পুলিশ ভ্যানে তরবারি হামলা
সন্তানকে নিয়ে স্বামীকে ১০ টুকরা করে ফ্রিজে
শ্রদ্ধার মরদেহ ফ্রিজে রেখেই ডেটিংয়ে আফতাব

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Dhaka Metropolitan Chhatra League conference today

ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের সম্মেলন আজ

ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের সম্মেলন আজ
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রলীগের মাধ্যমে ছাত্রলীগের সম্মেলনের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। পরদিন শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এবং ৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন।

ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের দুই অংশের সম্মেলন শুক্রবার। সকাল ১০টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই সম্মেলন হবে।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রলীগের মাধ্যমে ছাত্রলীগের সম্মেলনের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। পরদিন শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এবং ৬ ডিসেম্বর হবে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন।

তবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রলীগের সম্মেলনের দিন কমিটি ঘোষণা করা হবে না বলে আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সম্মেলনের পর কেন্দ্রীয় সম্মেলনের দিন সব কমিটি একযোগে ঘোষণা করা হবে।

রাজধানী ঢাকার ছাত্র রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দুই শাখা ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রলীগের সম্মেলন ঘিরে উজ্জীবিত সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ ঘিরে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। শীর্ষ পদ নিজের অনুকূলে নিশ্চিত করতে মরিয়া পদপ্রত্যাশীরা।

ছাত্রলীগের মহানগর নেতাদের সূত্রে জানা য়ায়, অন্যবারের তুলনায় এবার মহানগর উত্তর ও দক্ষিণে শুধু সভাপতি-সম্পাদক পদে প্রার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি। মহানগরের বেশিরভাগ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকরাও এবার মহানগরের শীর্ষ পদ পাওয়ার দৌড়ে রয়েছেন।

ঢাকা মহানগর ভাগ হওয়ার পর থেকে নেতৃত্ব বাছাইয়েও নানা পক্ষ তৈরি হয়েছে। মহানগর উত্তরে শীর্ষ নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কথিত রয়েছে দুই সিন্ডিকেটের নাম। একটি ‘ধানমণ্ডি বেল্ট’, অন্যটি ‘মিরপুর বেল্ট’।

ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের দ্বারা পরিচালিত হয় কথিত এই দুটি সিন্ডিকেট। উত্তর ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে কারা আসবেন তাও দুই সিন্ডিকেট নেতারা বাছাই করতেন। যদিও এবার সেই সুযোগ তারা পাবেন না বলেই মনে করা হচ্ছে। কেননা কমিটি দেবেন অভিভাবক সংগঠন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মহিলা লীগ এবং স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের ধারাবাহিকতায় ছাত্রলীগেও স্বচ্ছ, বিকর্তমুক্ত এবং যোগ্যতমদের দিয়ে কমিটি করা হবে বলে আলোচনা আছে।

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণে ছাত্রলীগের শীর্ষ পদের দৌড়ে আলোচনায় রয়েছে বেশকিছু নেতার নাম। তাদের মধ্যে মহানগর উত্তরে রয়েছেন- আদাবর থানার সভাপতি রিয়াজ মাহমুদ, বর্তমান কমিটির প্রচার সম্পাদক জুয়েল পোদ্দার রানা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুজ্জামান নোবেল, সাইফ হোসেন রুমান, আফসান নাদিয়ান, মারুফ হোসেন মিঠু, পলিটেকনিকের সভাপতি মেহেদি হাসান, কাজী মিজান, আসাদুজ্জামান আল গালিব (মিরপুর কলেজ সভাপতি), আকরাম হোসেন, দপ্তর সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক আশিক ইকবাল, উত্তরের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সালমান খান প্রান্ত, ধানমণ্ডি থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উত্তর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিবুল ইসলাম বাপ্পি।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণে শীর্ষ পদে আলোচনায় আছেন- বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি ও রমনা থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব হাসান, বারেক হোসাইন আপন, মাজেদুল মোল্লা মিন্টু, সাব্বির আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফজলুল করিম মিরাজ, ইয়াসিন আরাফাত, সাংগঠনিক সম্পাদক হাসিবুল আলম পুলক, রফিকুল ইসলাম রাছেল, সমাজসেবা সম্পাদক সৈয়দ মুক্তাদির সাদ, প্রচার সম্পাদক রিয়াজ মোল্লা, গণশিক্ষা বিষয়ক উপ-সম্পাদক আল-নোমান সরকার অনিক, উপ-সম্পাদক নুরুদীন হাওলাদার ও সবুজবাগ থানা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মেজবাহ উদ্দিন পাভেল।

ছাত্রলীগের সমন্বয়কের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘সাংগঠনিক দক্ষতাসম্পন্ন, সৎচরিত্র, ছাত্রসমাজের মাঝে গ্রহণযোগ্য ও পারিবারিকভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সংশ্লিষ্ট- এমন নেতাই সম্মেলনের মাধ্যমে বাছাই করা হবে। বয়সের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক অভিভাবক আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।’

আরও পড়ুন:
ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল বহরে ককটেল হামলা
এমপির ছেলের সভায় ককটেল বিস্ফোরণ
ঢাবি ছাত্রলীগের সম্মেলন ৩ ডিসেম্বর, দুই মহানগরের ২ ডিসেম্বর
পিছিয়ে গেল ছাত্রলীগের সম্মেলন
ছাত্রলীগে ‘কাগুজে’ কমিটি আর নয়

মন্তব্য

বাংলাদেশ
City residents are angry at the A League rally blocking the road

সড়কে আ.লীগের মঞ্চ, ক্ষোভ নগরবাসীর

সড়কে আ.লীগের মঞ্চ, ক্ষোভ নগরবাসীর
ঘুরে যেতে রিকশাওয়ালাকে বাড়তি টাকা দিতে হয়েছে জানিয়ে বাধ রোড এলাকার হুমায়রা বেগম বলেন, ‘আমাদের মেয়র কেন তার নগরবাসীর জন্য ভোগান্তির সৃষ্টি করলেন বুঝতে পারলাম না। এই স্টেজ তো কোনো মাঠেও করা যেত।’

বরিশাল নগরীতে নগর ভবনের সামনের রাস্তা আটকে পার্বত্য শান্তি চুক্তি দিবস উদযাপনের জন্য মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত এই সমাবেশ হবে শুক্রবার বিকেলে। এ জন্য রাস্তার উপর মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হয় বুধবার রাত থেকে।

গুরুত্বপূর্ণ সড়ক আটকে এই আয়োজনের কারণে বিকল্প পথ ব্যবহারে ভোগান্তি হচ্ছে জানিয়ে ক্ষুব্ধ নগরবাসী।

ঘটনাস্থলে বৃহস্পতিবার সন্ধ‌্যায় গিয়ে দেখা গেছে, পার্বত‌্য শান্তি চুক্তির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সমাবেশের মঞ্চ তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। প্রশস্ত সড়কটি আটকে মঞ্চ তৈরি করায় যান চলাচল বন্ধ করা হয়েছে।

অটোরিকশাচালক মাইনুল হোসেন বলেন, ‘মানুষের তো কমন সেন্স থাকে ভাই। পুরো রাস্তা আটকে মঞ্চ করছে। যাত্রীরা তো অনেক ঝামেলায় পড়ে গেছে। পুলিশ অন‌্য পথ দিয়ে যেতে বলে। অনেক ঘোরা লাগে।

‘যেখানে মঞ্চ করেছে, সেখান থেকে লঞ্চ ঘাট ৩ মিনিটের পথ। কিন্তু ঘুরে অন‌্য পথ দিয়ে যেতে অনেক সময় লাগে। যাত্রীরা ঘুরতে চায় না।’

সড়কে আ.লীগের মঞ্চ, ক্ষোভ নগরবাসীর

ওষুধ বিক্রেতা ইমদাদুল হক মাসুম বলেন, ‘মোটরসাইকেল নিয়ে বিআরটিএ অফিস যাচ্ছিলাম। সিটি করপোরেশনের সামনে এসে দেখি রাস্তা বন্ধ। স্টেজ করছে। তারপর ঘুরে বরিশাল ক্লাবের সামনে দিয়ে বিআরটিএ অফিসে গেছি।

‘এমনভাবে স্টেজ করেছে যে একটা মোটরসাইকেলও যেতে পারে না। আওয়ামী লীগের নেতাদের এ কেমন চিন্তা ভাবনা বুঝি না।’

কলেজ শিক্ষক মোশাররেফ হোসেন বলেন, ‘এই সড়কটাতে ফায়ার সার্ভিস আছে। কোনো ধরণের দুর্ঘটনা যদি ঘটে তাহলে তো এই সড়ক হয়েই বের হতে হবে। এখন কি তারা বাইপাস সড়ক দিয়ে ঘুরে বের হবে?

‘এই সড়ক হয়ে লঞ্চঘাট, পোস্ট অফিস, সিটি করপোরেশন, ডিসি অফিস, বিআরটিএ অফিস, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসসহ গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে সপ্তাহের শেষ দিনে যেতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। যেমন আমারই ডিসি অফিসে কাজ ছিল। রিকশা নিয়ে প্রথমে নগর ভবনের সামনের সড়কে গেলেও, পরে ঘুরে যেতে হয়েছে।’

সড়কে আ.লীগের মঞ্চ, ক্ষোভ নগরবাসীর

ঘুরে যেতে রিকশাওয়ালাকে বাড়তি টাকা দিতে হয়েছে জানিয়ে বাধ রোড এলাকার হুমায়রা বেগম বলেন, ‘আমাদের মেয়র কেন তার নগরবাসীর জন‌্য ভোগান্তির সৃষ্টি করলেন বুঝতে পারলাম না। এই স্টেজ তো কোনো মাঠেও করা যেত।’

এ বিষয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বরিশাল জেলা পরিষদ চেয়ারম‌্যান একেএম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘হাজী মোহাম্মদ মহসিন মার্কেটের নাম যে পাল্টেছে তা চোখে পড়ে না। আর রাস্তাটা যে একটু আটকেছে তা চোখে পড়েছে?’

সড়ক আটকে সমাবেশের অনুমতির বিষয়ে জানতে বরিশাল মহানগর পুলিশের দক্ষিণ জোনের উপ কমিশনার আলী আশরাফ ভূঞা জানান, তিনি অনুমতির বিষয়ে অবগত নন।

তবে পুলিশ কমিশনার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অনুমতির জন‌্য চিঠি দেয়া হয়েছিল। অনুমতি দেয়া হয়েছে নগর ভবনের সামনের সড়কে সমাবেশ করার জন‌্য।’

আরও পড়ুন:
রাজশাহীতে পরিবহন ধর্মঘটে ভোগান্তি
পরিবহন ধর্মঘটের আগেই রাজশাহীর সমাবেশে নেতা-কর্মীরা
সকাল থেকে রাজশাহী বিভাগে পরিবহন ধর্মঘট
ষড়যন্ত্র রুখতে ঐক্যবদ্ধের ডাক শেখ সেলিমের
শিক্ষককে লাঞ্ছনার মামলায় আ.লীগ নেতা কারাগারে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Police in 15 day special operation

১৫ দিনের বিশেষ অভিযানে পুলিশ

১৫ দিনের বিশেষ অভিযানে পুলিশ
আবাসিক হোটেল, মেস, হোস্টেল, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি সেন্টারসহ অপারাধীদের লুকিয়ে থাকার সম্ভাব্য স্থানগুলোতে কার্যকর অভিযান পরিচালনা করতে হবে বলে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

পলাতক জঙ্গিসহ অপরাধী গ্রেপ্তারে দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া অভিযান চলবে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ২৯ নভেম্বর চিঠি দিয়ে বিভিন্ন ইউনিটকে ১ ডিসেম্বর থেকে এ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেয়া হয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. হাসানুজ্জামানের সই করা চিঠিতে বলা হয়, মহান বিজয় দিবস, বড়দিন ও থার্টিফাস্ট নাইট উদযাপন নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে সারাদেশে বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশনা দেয়া হলো।

দেশের সব পুলিশ ইউনিটের প্রধান ও সব জেলার পুলিশ সুপারকে এ চিঠি দেয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, ২০ নভেম্বর ঢাকা সিএমএম আদালত এলাকায় পুলিশ হেফাজত থেকে দণ্ডপ্রাপ্ত ২ জঙ্গি ছিনিয়ে নেয়ার প্রেক্ষাপট বিবেচনা, মহান বিজয় দিবস, বড়দিন এবং থার্টিফাস্ট নাইট উদযাপন নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে চলমান অভিযানের পাশাপাশি ১-১৫ ডিসেম্বর বিশেষ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আবাসিক হোটেল, মেস, হোস্টেল, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি সেন্টারসহ অপারাধীদের লুকিয়ে থাকার সম্ভাব্য স্থানগুলোতে কার্যকর অভিযান পরিচালনা করতে হবে বলে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বিশেষ এ অভিযানে জঙ্গি, সন্ত্রাসী, মাদকসেবী ও কারবারি, অবৈধ অস্ত্রধারী, ওয়ারেন্টভূক্ত আসামি গ্রেপ্তারসহ মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হবে বলে আশা করছেন কর্মকর্তারা।

বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ও মামলার বিস্তারিত তথ্য নির্ধারিত ছকের মাধ্যমে একীভূত করে প্রতিদিনের তথ্য পরের দিন সকাল ১০টার মধ্যে ফ্যাক্সযোগে এবং ই-মেইলে পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বিভিন্ন ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের।

আরও পড়ুন:
বিএনপির মিছিল থেকে ককটেল হামলার অভিযোগ
মেয়ের বান্ধবীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রামপুলিশ আটক
ছাত্রদল নেতা নয়ন হত্যা: পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা নেয়নি আদালত
বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে মামলা, ৬৬ নেতা-কর্মী আসামি

মন্তব্য

p
উপরে