× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Big market of Khulna without fire safety
hear-news
player
google_news print-icon

অগ্নিনিরাপত্তাহীন খুলনার বড় বাজার

অগ্নিনিরাপত্তাহীন-খুলনার-বড়-বাজার
খুলনা ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক সালেহ উদ্দিন বলেন, ‘এখানে গলিগুলো এত সরু যে আমাদের ছোট গাড়িটিও আগুনের কাছাকাছি নেয়া যায়নি। এখানে ফায়ার সেফটির ন্যূনতম ব্যবস্থা নেই। দোকানগুলোতে নিরাপত্তা বলতে কিছু নেই। বিদ্যুতের লাইনেও ঝামেলা আছে।’

বড় বাজার হিসেবে পরিচিত খুলনা বিভাগের বৃহত্তম পাইকারি বাজারে আগুনে পুড়ে গেছে ৭ টি দোকান ও গোডাউনের মালামাল। ফায়ার সার্ভিস বলছে, অগ্নি নিরাপত্তার জন্য ন্যূনতম ব্যবস্থা নেই বাজারটিতে।

বুধবার দুপুর ১টার দিকে খুলনা মহানগরীর বড় বাজারে ভৈরব স্ট্যান্ড রোডের একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ২ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

বড় বাজার ব্যবসায়ী সমন্বয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ আনিচুর রহমান মিঠু বলেন, ‘পূজা উপলক্ষে বড় বাজারের সব দোকানপাট বন্ধ ছিল। দুপুরে কংস বণিক ভাণ্ডার নামে একটি অ্যালুমিনিয়ামের দোকানে আগুন লাগে। সেখান থেকে অন্যান্য দোকানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

‘একে একে কংস বনিক ভান্ডার, সুরুচি বস্ত্রালয়, নাহিদ আমব্রেলা ও হোসেন হার্ডওয়ার নামক চারটি দোকান পুড়ে যায়। এই দোকানের উপরে থাকা আরও তিনটি গোডাউনেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে প্রায় আড়াই কোটি টাকার মালামাল পুড়ে গেছে।’

অগ্নিনিরাপত্তাহীন খুলনার বড় বাজার

ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুম সূত্র জানায়, দুপুর ১টা ৭ মিনিটের দিকে মোবাইল ফোনে আগুনের খবর জানানো হয়। পরে খুলনার বিভিন্ন স্টেশন থেকে ৮টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ইউনিটগুলোর নেতৃত্বে ছিলেন খুলনা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক সালেহ উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘দোকানগুলোতে প্লাস্টিক জাতীয় পদার্থ থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে একটু বিলম্ব হয়েছে। ধারণা করছি শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে। ক্ষতির পরিমাণ ও আগুন লাগার কারণ তদন্তে বেরিয়ে আসবে।’

সুরুচি বস্ত্রালয়ের স্বত্বাধিকারী সমর কুমার ব্যানার্জি বলেন, ‘আমার কিছু থাকল না। আগুনে নগদ ১০ লাখ টাকা পুড়ে গেছে। মালামাল পুড়ে এক কোটি টাকার। টাকাটা আজ ব্যাংকে জমা দেয়ার কথা ছিল। আগুন লাগার পর ক্যাশের টাকা চুরিও গেছে।’

বড় বাজারের ব্যবসায়ী শেখ কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা ফায়ার সার্ভিসকে তাৎক্ষণিক খবর দিলেও তারা অনেক পরে এসেছে। তারপর আগুন নেভানোর জন্য পানি দিতেও দেরি করেছে। এতে আমরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।’

অগ্নিনিরাপত্তাহীন খুলনার বড় বাজার

এ ব্যাপারে উপ-পরিচালক সালেহ উদ্দিন বলেন, ‘আগুন নেভাতে দেরি হওয়ায় আমাদের দোষ ঠিক নয়। আমরা খবর পাওয়ামাত্রই চলে এসেছি। তবে এখানের গলিগুলো এতটাই সরু যে আমাদের ছোট গাড়িটিও আগুনের কাছাকাছি নেয়া যায়নি। ফায়ার সেফটির ন্যূনতম ব্যবস্থা নেই। এ জন্য আগুন নেভাতে বেশ কষ্ট হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘অনেক আগে এই বাজার গড়ে উঠেছে। প্রতিটি দোকানে লাখ লাখ টাকার মালামাল রয়েছে। দোকানগুলোতে নিরাপত্তা বলতে কিছু নেই। ভূমিকম্প হলেও এখানে অনেক ক্ষতি হবে। বিদ্যুতের লাইনেও এখানে ঝামেলা আছে। অধিকাংশ দোকানে নিরাপদভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয় না।’

আরও পড়ুন:
দুর্বৃত্তের আগুনে গুরুতর দগ্ধ দম্পতি
ডেসটিনির গুদামের আগুন নিয়ন্ত্রণে
সিলিন্ডারের আগুনে পুড়ে ছাই বসতঘর
চীনে নিভেছে জ্বলতে থাকা সেই ভবনের আগুন
ফোম তৈরির গুদামঘর পুড়ল আগুনে

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Fragmented parts of the body of the verse are recovered

আয়াতের দেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার

আয়াতের দেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার শিশু আয়াত ও আসামি আবির আলী। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডের প্রথম দিন আয়াতের খণ্ডিত দেহের খোঁজে সাগরপাড় এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় একটি জলাশয় পানিশূন্য করা হচ্ছে বলে জানান পরিদর্শক ইলিয়াস খান।

চট্টগ্রামের ইপিজেড থানা এলাকায় নিখোঁজের পর হত্যার শিকার ৫ বছরের আলিনা ইসলাম আয়াতের দেহের খণ্ডিত দুটি অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।

আকমল আলী সড়ক এলাকার সাগরপাড় স্লুইচ গেটের পাশ থেকে বুধবার দুপুরে খণ্ডিত অংশ দুটি উদ্ধার করা হয়।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক ইলিয়াস খান।

তিনি বলেন, ‘আমরা দুটো পলিথিনে পায়ের মতো দুটো অংশ পেয়েছি। পলিথিন খোলার পর বাকিটা নিশ্চিত করা যাবে।’

নগরীর ইপিজেড থানার বন্দরটিলা নয়ারহাট বিদ্যুৎ অফিস এলাকার বাসা থেকে ১৫ নভেম্বর নিখোঁজ হয় আয়াত। পরদিন ইপিজেড থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন তার বাবা সোহেল রানা।

এর ৯ দিন পর সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িত সন্দেহে আয়াতের পরিবারের ভাড়াটে আবির আলীকে আটকের কথা জাানায় পিবিআই। পিবিআইয়ের দাবি, আটকের পর আয়াতকে খুন ও লাশ গুম করার কথা স্বীকার করেছেন তিনি। ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের জন্য আয়াতকে অপহরণচেষ্টার সময় শ্বাসরোধে হত্যা করেন তিনি।

এরপর গত শনিবার আবিরকে দুই দিনের রিমান্ডে পায় পুলিশ। তাকে নিয়ে আয়াতের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারে সাগরপাড়ে অভিযানও চলে। এরপর সোমবার আবিরকে দ্বিতীয় দফায় সাত দিনের রিমান্ডে পায় পুলিশ। দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডের প্রথম দিন মঙ্গলবার আবিরের মা-বাবাকেও তিন দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত।

দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডের প্রথম দিন আয়াতের খণ্ডিত দেহের খোঁজে সাগরপাড় এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় একটি জলাশয় পানিশূন্য করা হচ্ছে বলে জানান পরিদর্শক ইলিয়াস খান।

আরও পড়ুন:
স্কুলকক্ষে ২ ভাইয়ের মরদেহ: বাবা আটক
শিশু আয়াতকে হত্যার পর ৬ টুকরা করেন সাবেক ভাড়াটিয়া
স্কুলকক্ষে ২ ভাইয়ের মরদেহ, মিলছে না বাবার খোঁজ
কোথায় গেল ছোট্ট আয়াত!
শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ প্রতিবেশীর ঘরে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Militant robbery 3 accomplices of accused remanded

জঙ্গি ছিনতাই: আসামির ৩ আশ্রয়দাতা রিমান্ডে

জঙ্গি ছিনতাই: আসামির ৩ আশ্রয়দাতা রিমান্ডে সিসিটিভি ফুটেজে জঙ্গিদের পালানোর দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত
ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালে মোহাম্মদপুর থানায় করা একটি মামলার শুনানি শেষে ১২ আসামিকে আদালত থেকে হাজতখানায় নেয়ার পথে দুজনকে ছিনিয়ে নেয় সহযোগীরা।

ঢাকার নিম্ন আদালত প্রাঙ্গণ থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গি ছিনিয়ে নেয়ার মামলায় আসামি ঈদী আমিনের তিন আশ্রয়দাতার তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম শাকিল আহম্মদের আদালতে তাদের হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) পরিদর্শক মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ।

শুনানি শেষে তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক।

রিমান্ড পাওয়া তিনজন হলেন- খোতেজা আক্তার লিপি, নাসির মিয়া ও তানভীর হোসেন।

এর আগে গত ২৭ নভেম্বর আসামি ঈদী আমিন আইনজীবীর মাধ্যমে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেনের আদালতে আত্মসমর্পণ করার পর বিচারক তাকে চারদিনের রিমান্ডে পাঠান।

ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালে মোহাম্মদপুর থানায় করা একটি মামলার শুনানি শেষে গত ২০ নভেম্বর ১২ আসামিকে আদালত থেকে হাজতখানায় নেয়ার পথে দুজনকে ছিনিয়ে নেয় সহযোগীরা। মামলার শুনানি শেষে জামিনে থাকা দুই আসামি ঈদী আমিন ও মেহেদী হাসান অমি ওরফে রাফি আদালত থেকে বের হয়ে যান।

ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত প্রাঙ্গণ থেকে দুই জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় ২০ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা করেন পুলিশ পরিদর্শক জুলহাস উদ্দিন আকন্দ। মামলায় অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়। এই মামলায় জামিন পাওয়া দুজনকেও আসামি করা হয়েছে।

সিটিটিসি ইউনিটের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কোর্টের শুনানি শেষে প্রথমে চারজনকে নিচে নামিয়ে আনা হয়। দুটি হাতকড়া দিয়ে দুজনকে আটকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। বাকি আসামিরা তখন উপরে ছিলেন।

‘চারজনের মধ্যে মইনুল হাসান ও আবু সিদ্দিককে জঙ্গিরা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তবে মো. আরাফাত ও মো. সবুরকে নিতে পারেনি। এই কাজে জঙ্গিরা পিপার স্প্রে ব্যবহার করে। এতে একজন সিকিউরিটি গার্ড, একজন পুলিশ সদস্যসহ কয়েকজন সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হন।’

আরও পড়ুন:
জঙ্গি ছিনতাই মামলায় একজনের আত্মসমর্পণ, চার দিনের রিমান্ড
‘কারাবন্দি জঙ্গি ও ছিনতাই টিম সমন্বয় করেন অমি’
জঙ্গি ছিনতাই মামলায় গ্রেপ্তার মেহেদী ৭ দিনের রিমান্ডে
জঙ্গি আরাফাতকে ছিনিয়ে নেয়াই ছিল মূল লক্ষ্য
জামিনে থাকা জঙ্গি অমি গ্রেপ্তার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Abbas the former mayor of Katakhali is free on bail

জামিনে মুক্ত কাটাখালীর সাবেক মেয়র আব্বাস

জামিনে মুক্ত কাটাখালীর সাবেক মেয়র আব্বাস
বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল প্রতিষ্ঠা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েন আব্বাস আলী। ঘরোয়া একটি বৈঠকের অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ে গত বছরের নভেম্বরে। অডিওতে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপন করলে ‘পাপ হবে’ এমন মন্তব্য করতে শোনা যায় আব্বাসকে।

রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার বরখাস্ত হওয়া মেয়র আব্বাস আলী এক বছর পর জামিনে মুক্ত হয়েছেন।

রাজশাহী সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জিয়াউর রহমান ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের দুই মামলায় মঙ্গলবার সকালে আব্বাস আলীকে জামিন দিয়েছেন। রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি সন্ধ্যায় মুক্তি পান। কারাফটক থেকে তাকে মোটরসাইকেল শোডাউন করে নিয়ে যান সমর্থকরা।

রাজশাহী সাইবার ট্রাইব্যুনালের আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ইসমত আরা জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আব্বাস আলী পর পর দুবার নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে মেয়র হন। তিনি ছিলেন পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও দলটির জেলা কমিটির সদস্য।

বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল প্রতিষ্ঠা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েন আব্বাস আলী। ঘরোয়া একটি বৈঠকের অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ে গত বছরের নভেম্বরে। অডিওতে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপন করলে ‘পাপ হবে’ এমন মন্তব্য করতে শোনা যায় আব্বাসকে।

এ রেকর্ড ছড়িয়ে পড়লে রাজশাহীতে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। তাকে আওয়ামী লীগের দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে নগরীর বোয়ারিয়া থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আব্দুল মমিন। এরপর কাটাখালী পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক জনি ইসলাম আরেকটি মামলা করেন কাটাখালী থানায়।

সে বছরের ১ ডিসেম্বর ভোরে র‌্যাব ঢাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন তাকে রাজশাহী কারাগারে পাঠানো হয়। গত ১০ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় আব্বাসকে বরখাস্ত করে। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে আরও একটি মামলা হয়েছিল। এসব ঘটনার পর।

আইনজীবী ইসমত আরা জানান, তিনটি মামলাতেই জামিন পেয়েছেন সাবেক পৌর মেয়র।

আরও পড়ুন:
মেয়র আব্বাসের রিমান্ড চেয়ে পুলিশের আবেদন
দেশ ছেড়ে পালাতে চেয়েছিলেন মেয়র আব্বাস: র‍্যাব
মেয়র আব্বাস আটক
মেয়র আব্বাস কোথায়
মেয়র আব্বাসের উত্থান যেভাবে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Killing on border BSF returns melted body after 17 days

সীমান্তে হত্যা: ১৭ দিন পর গলিত মরদেহ ফেরত বিএসএফের

সীমান্তে হত্যা: ১৭ দিন পর গলিত মরদেহ ফেরত বিএসএফের ভারত সীমান্তে পড়ে থাকা বাংলাদেশী কৃষকের মরদেহ নিতে আসেন স্ত্রী-সন্তানরা। ছবি: নিউজবাংলা
স্ত্রী মরিয়ম গলিত মরদেহ দেখে বলেন, ‘লাশ দেখে চেনা যাচ্ছে না এটা কে? তারা লাশের সঙ্গেও অমানবিক আচরণ করেছে। লাশটা ঠিকমতো সংরক্ষণ করেনি। আমার স্বামীকে অন্যায়ভাবে বাংলাদেশ থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে।’

ফেনীর পরশুরামে সীমান্তের ওপারে পড়ে থাকা বাংলাদেশী কৃষকের মরদেহ ১৭ দিন পর গলিত অবস্থায় ফেরত দিয়েছে সেদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী- বিএসএফ।

বিলোনিয়া ইমিগ্রেশনে চেকপোস্ট দিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে বিজিবি ও পুলিশের কাছে কৃষক মেজবাহার উদ্দিনের লাশ হস্তান্তর করে ভারতীয় বাহিনীটি।

ফেনীর পরশুরাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সাইফুল ইসলাম এসব নিশ্চিত করেছেন।

মেজবাহর বাঁশপদুয়া উত্তরপাড়ার মফিজুর রহমানের ছেলে। গত ১৩ নভেম্বর বাঁশপদুয়া এলাকা থেকে বিএসএফ তাকে ধরে নিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ তার স্ত্রী মরিয়ম আক্তারের।

তিনি এর আগে জানিয়েছিলেন, সেদিন বিকেলে সীমান্ত এলাকায় যান মেজবাহার। সেখানে বিএসএফের সদস্যরা তাকে আটক ও মারধর করে বলে স্থানীয় লোকজন দেখতে পান। কিছুক্ষণ পর গুলির আওয়াজ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে মরিয়ম ও তার পরিচিতরা সেখানে গিয়ে খোঁজাখুঁজি করে মেজবাহরকে পাননি। এর তিন দিন পর সকালে গিয়ে কাঁটাতারের ওপারে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

মরদেহ বুঝে নিতে মঙ্গলবার সীমান্তে আসেন মেজবাহারের স্ত্রী, তিন মেয়েসহ অন্য স্বজনরা।

স্ত্রী মরিয়ম গলিত মরদেহ দেখে বলেন, ‘লাশ দেখে চেনা যাচ্ছে না এটা কে? তারা লাশের সঙ্গেও অমানবিক আচরণ করেছে। লাশটা ঠিকমতো সংরক্ষণ করেনি। আমার স্বামীকে অন্যায়ভাবে বাংলাদেশ থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে।’

সীমান্তে হত্যা: ১৭ দিন পর গলিত মরদেহ ফেরত বিএসএফের

লাশ হস্তান্তর করতে আসেন সেদেশের ত্রিপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিতোষ দাস। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দেননি তিনি।

পরিতোষ জানান, লাশের মাথায় আঘাতে চিহ্ন রয়েছে। হত্যাকাণ্ডে বিএসএফের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে ভারতীয় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পরশুরাম থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা লাশ গ্রহণ করেছি। ভারত লাশ উদ্ধারের সময় সেটি নষ্ট হয়ে যায়। যদি মেজবাহারের পরিবার ডিএনএ করার আবেদন করে, তাহলে রাষ্ট্র সেটি করবে।’

পরশুরাম পৌরসভার মেয়র নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সাজেল বলেন, ‘নিহত মেজবাহারের পরিবার অত্যন্ত গরীব। সরকারের পক্ষ থেকে তাকে সহযোগিতা করা উচিত। এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার হওয়া উচিত।’

আরও পড়ুন:
সীমান্তে বিজিবি-বিজিপির যৌথ টহল শিগগিরই
বাংলাদেশিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ বিএসএফের বিরুদ্ধে
নাফ নদীতে বাংলাদেশি জেলে গুলিবিদ্ধ
মৃত মায়ের মুখ মেয়েকে দেখতে দিল বিজিবি-বিএসএফ
শূন্যরেখায় বাংলাদেশি যুুবকের গলিত মরদেহ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Abirs parents are also on remand and search is on for Ayats body

আবিরের মা-বাবাও রিমান্ডে, খোঁজ চলছে আয়াতের মরদেহেরও

আবিরের মা-বাবাও রিমান্ডে, খোঁজ চলছে আয়াতের মরদেহেরও চট্টগ্রামের ইপিজেড থানা এলাকা থেকে নিখোঁজ সাত বছর বয়সী আয়াতকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
দ্বিতীয় দফায় সাত দিন রিমান্ডের প্রথম দিনে মঙ্গলবার আয়াতের খণ্ডিত মরদেহের খোঁজে সাগরপাড় এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় একটি জলাশয় পানিশূন্য করা হচ্ছে বলেও জানান পরিদর্শক ইলিয়াস খান।

চট্টগ্রামে আলোচিত পাঁচ বছর বয়সী শিশু আয়াত হত্যার ঘটনায় এবার আটক আবিরের মা-বাবাকে তিন দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার মহানগর হাকিম অলি উল্লাহর আদালতে তাদের হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। পরে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

এর আগে আয়াত হত্যার ঘটনায় আবিরের মা আলো বেগম, বাবা আজহারুল ইসলাম ও ১৫ বছর বয়সী বোন আঁখি আক্তারকে হেফাজতে নেয় র‌্যাব। সোমবার রাতে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হলে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয় বলে জানান পিবিআই পরিদর্শক ইলিয়াস খান।

অভিযুক্ত আবিরের মা-বাবাকে রিমান্ডে পেলেও বোন আঁখি আক্তার অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাকে রিমান্ডে পায়নি পুলিশ। তবে প্রবেশন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে নগরীর ডবলমুরিং এলাকায় ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছে আদালত।

এদিকে আয়াত হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আবিরকে সোমবার দ্বিতীয় দফায় সাত দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার শুরু হওয়া দ্বিতীয় দফা রিমান্ডের প্রথম দিনেই তার মা-বাবাকেও রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

তবে এখন পর্যন্ত আয়াত হত্যার ঘটনায় আবিরের মা-বাবা ও বোনের তেমন কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন পরিদর্শক ইলিয়াস খান।

তিনি বলেন, ‘এখনো তাদের (আবিরের বাবা-মা ও বোন) সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। মূলত তাদের আটক করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে র‌্যাব। তবে এখন রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে তাদের। দেখা যাক, কিছু পাওয়া যায় কি-না।’

আয়াত হত্যার ঘটনায় আবিরের মা-বাবা ও বোনকে আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানানো হবে বলে জানান র‌্যাব-৭-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) নুরুল আবছার।

আয়াত নিখোঁজের ৯ দিন পর ২৫ নভেম্বর সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িত সন্দেহে আয়াতের পরিবারের ভাড়াটে আবির আলীকে আটকের কথা জানায় পিবিআই।

সংস্থাটি আরও জানায়, আটকের পর আয়াতকে খুন ও মরদেহ গুম করার কথা স্বীকার করেন আবির। ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশে আয়াতকে অপহরণচেষ্টার সময় শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে দাবি আবিরের।

এরপর গত শনিবার প্রথমবার আবিরকে ২ দিনের রিমান্ডে পায় পুলিশ। রিমান্ডে থাকার সময় তাকে নিয়ে আয়াতের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারে সাগরপাড়ে নিষ্ফল অভিযান পরিচালনা করে পিবিআই।

দ্বিতীয় দফায় সাত দিন রিমান্ডের প্রথম দিনে মঙ্গলবার আয়াতের খণ্ডিত মরদেহের খোঁজে সাগরপাড় এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় একটি জলাশয় পানিশূন্য করা হচ্ছে বলেও জানান পরিদর্শক ইলিয়াস খান।

আরও পড়ুন:
আয়াত হত্যায় আরও ৭ দিনের রিমান্ডে আবির
কোথায় গেল আয়াতের টুকরা দেহ
আলামত নষ্ট করার বিদ্যা ‘ক্রাইম পেট্রল’ দেখে
শিশু আয়াতকে হত্যার পর ৬ টুকরা করেন সাবেক ভাড়াটিয়া
কোথায় গেল ছোট্ট আয়াত!

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Sword attack on police van carrying Aftab
শ্রদ্ধা হত্যা

আফতাবকে বহনকারী পুলিশ ভ্যানে তরবারি হামলা

আফতাবকে বহনকারী পুলিশ ভ্যানে তরবারি হামলা আফতাব পুনাওয়ালাকে বহনকারী পুলিশভ্যানে হামলা ঠেকাচ্ছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
দিল্লির রোহিনির ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পলিগ্রাফ টেস্ট শেষে আফতাবকে জেলে নেয়ার সময় এ হামলার ঘটনা ঘটে। প্রায় ১৫ জন হামলাকারী তরবারি হাতে এ হামলা চালায়। এ সময় কয়েকজন হামলাকারী আহত হয়েছেন। তবে নিরাপদে আছেন আফতাব। 

ভারতের শ্রদ্ধা ওয়াকার হত্যা মামলার অভিযুক্ত আফতাব পুনাওয়ালাকে বহনকারী পুলিশভ্যানে তরবারি নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। সোমবার দিল্লিতে এ হামলা হয়।

সূত্রের বরাতে এনডিটিভি জানায়, দিল্লির রোহিনির ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পলিগ্রাফ টেস্ট শেষে আফতাবকে জেলে নেয়ার সময় এ হামলার ঘটনা ঘটে। প্রায় ১৫ জন হামলাকারী তরবারি হাতে এ হামলা চালায়। এ সময় কয়েকজন হামলাকারী আহত হয়েছেন। তবে নিরাপদে আছেন আফতাব।

এদিকে শ্রদ্ধা ওয়াকারের মরদেহ টুকরো টুকরো করায় ব্যবহৃত অস্ত্রের একটি উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে পুলিশ আফতাবের দেয়া তথ্যে আরও পাঁচটি ছুরি উদ্ধার হয়। তবে শ্রদ্ধার খুলি ও মরদেহের কিছু অংশ পাওয়া যায়নি।

সূত্রের বরাতে এনডিটিভি জানায় , শ্রদ্ধাকে হত্যার পর তার কানের দুল এক নারী চিকিৎসককে দিয়েছিলেন আফতাব। ওই নারী চিকিৎসকের সঙ্গে শ্রদ্ধাকে হত্যার পর ডেটিং করেন আফতাব পুনাওয়ালা।

মুম্বাইয়ের বাসিন্দা ২৮ বছরের যুবক আফতাব পুনাওয়ালা তার লিভ ইন পার্টনার ২৬ বছরের শ্রদ্ধা ওয়াকারের সঙ্গে দিল্লির ছাতারপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। চলতি বছরের ১৮ মে তাদের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে সেদিন শ্রদ্ধাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন আফতাব।

পরে মরদেহ ৩৫ টুকরা করে ৩০০ লিটার ধারণক্ষমতার ফ্রিজে প্রায় তিন সপ্তাহ রাখেন। ফ্রিজ থেকে টুকরাগুলো কয়েক দিন ধরে শহরের বিভিন্ন জায়গায় ফেলেন তিনি। ৮ নভেম্বর শ্রদ্ধার বাবা বিকাশ মদন ওয়াকার মেয়ের খোঁজে মেহরাউলি পুলিশের কাছে অপহরণের অভিযোগ করেন। তার ভিত্তিতে ১২ নভেম্বর আফতাবকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Bushras family wants bail education life in uncertainty

বুশরার জামিন চায় পরিবার, অনিশ্চয়তায় শিক্ষাজীবন

বুশরার জামিন চায় পরিবার, অনিশ্চয়তায় শিক্ষাজীবন ফারদিন নূর পরশ ও আমাতুল বুশরা। ছবি: সংগৃহীত
ফারদিন হত্যা মামলার তদন্তে এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত না হয়েও বুশরার কারাবাসে ভেঙে পড়েছে তার পরিবার। বাবা মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, তার মেয়ে এ মাসের মধ্যে জামিনে মুক্তি না পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সেমিস্টার থেকে ছিটকে পড়বেন।

বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আমাতুল বুশরাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার তথ্য পায়নি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রামপুরা থানার পুলিশও বলছে ফারদিন হত্যায় বুশরার জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তবে বুশরা জামিনে মুক্তি পেলে ‘তদন্তকাজে বিঘ্ন ও পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা’ জানিয়ে তাকে কারাগারে রাখার আবেদন জানিয়েছে ডিবি। বিচারক সেটি গ্রহণ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থীকে জেলে পাঠানোর আদেশ দেন। সেই থেকে কারাবন্দি আছেন বুশরা।

তদন্তে এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত না হয়েও বুশরার কারাবাসে ভেঙে পড়েছে তার পরিবার। বাবা মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, তার মেয়ে এ মাসের মধ্যে জামিন না পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সেমিস্টার থেকে ছিটকে পড়বেন। প্রচণ্ড মানসিক চাপের পাশাপাশি তার শিক্ষাজীবন নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

বুয়েট ছাত্র ফারদিন ৪ নভেম্বর নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। বর্তমানে হত্যা মামলাটির তদন্ত করছে ডিবি। পাশাপাশি র‌্যাবসহ আরও কয়েকটি সংস্থা ছায়াতদন্ত করছে।

পুলিশি তদন্তে জানা যায়, নিখোঁজ হওয়ার দিন বিকেল থেকে রাত ১০টা নাগাদ বুশরাকে নিয়ে রাজধানীর কয়েকটি জায়গায় ঘোরাঘুরি করেন ফারদিন। এরপর রামপুরায় বুশরা যে মেসে থাকেন তার কাছাকাছি তাকে পৌঁছে দেন। এরপর আর ফারদিন বুয়েট ক্যাম্পাস বা নিজের বাসায় ফেরেননি।

ফারদিনের মরদেহ উদ্ধারের তিন দিনের মাথায় ১০ নভেম্বর আমাতুল্লাহ বুশরার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা ও পরিকল্পিতভাবে লাশ গোপন করার অভিযোগ এনে রামপুরা থানায় মামলা করেন তার বাবা কাজী নুরউদ্দিন রানা।

ওই দিনই তাকে গ্রেপ্তার করে রামপুরা থানার পুলিশ। তাকে সাত দিনের রিমান্ডে চেয়ে পুলিশ আবেদন করলে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ডে দেয়। মামলাটির তদন্তভার ডিবির কাছে যাওয়ায় রিমান্ডে বুশরাকে জিজ্ঞাসাবাদের দায়িত্বও পায় গোয়েন্দা পুলিশ।

তবে বুশরাকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যায় তার কোনো যোগসাজশ পাননি গোয়েন্দারা। তদন্তে ফারদিনের সঙ্গে বুশরার নিছক পরিচয় ও বন্ধুত্বের তথ্য পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিবির একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বুশরাকে রামপুরায় নামিয়ে দেয়ার পর ফারদিন যেসব জায়গায় গিয়েছিলেন, সে সম্পর্কে অবগত ছিলেন না বুশরা। এমনকি ফারদিন তা জানাতেও চাননি।

‘বুশরা ফারদিনকে সেই রাতে সবশেষ ১০টা ৫৯ মিনিটে ফেসবুক মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠান। এতে তিনি জানতে চায় ফারদিন বাসায় পৌঁছেছেন কিনা? জবাবে ফারদিন লেখেন, হ্যাঁ। এরপর আর তাদের আর কোনো কোনো যোগাযোগ হয়নি।’

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘রিমান্ডে থাকার সময় বুশরাকে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে তার সঙ্গে ফারদিন যতক্ষণ ছিলেন তার বর্ণনা লিখে দিতে বলা হয়েছিল। প্রতিবারই বুশরা একই জিনিস লিখেছেন। আমরা ফারদিন হত্যা মামলায় তার কোনো সম্পৃক্ততা এখনও পাইনি।’

তবে রিমান্ডে শেষে ১৬ নভেম্বর বুশরাকে আদালতে পাঠিয়ে তাকে কারাগারে রাখার আবেদন জানান মামলার তদন্তকারী ডিবি পরিদর্শক মজিবুর রহমান।

আদালতে আবেদনে তিনি লেখেন, ‘আমাতুল বুশরাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পেয়ে উচ্চ আদালতের নিয়ম মেনে সতর্কতার সঙ্গে মামলা-সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রিমান্ডে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে।

‘আসামি জামিনে মুক্তি পেলে তদন্ত কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টিসহ পলাতক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিকে জেলহাজতে আটক রাখার আবেদন করছি।’

আসামিপক্ষের আইনজীবী তার জামিনের আবেদন জানালেও ঢাকা মহানগর হাকিম আতাউল্লাহর আদালতে শুনানি শেষে তা নাকচ করে বুশরাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আরও পড়ুন: ফারদিন হত্যায় গ্রেপ্তার বুশরার জামিন মেলেনি

রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে ফারদিন হত্যায় বুশরার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে কি না, এমন প্রশ্নে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার রাজিব আল মাসুদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নেগেটিভ।’

সম্পৃক্ততা না পাওয়া গেলেও বুশরাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদনের কারণ জানতে চাইলে রাজিব আল মাসুদ বলেন, ‘বাদীর (ফারদিনের বাবা) ধারণা এই মেয়েই হত্যাকাণ্ডের জন্য একমাত্র দায়ী। যদিও আমরা এ রকম কিছু পাইনি। বাদীর অভিযোগ সম্পর্কে আমাকে সহানুভূতি দেখাতে হবে।

‘আর আদালতে করা আবেদনের বক্তব্যের অর্থ হচ্ছে, যদি সে (বুশরা) জামিন পায়ও তখন যাতে দেশের বাইরে পালিয়ে যেতে না পারে, তদন্ত কার্যক্রম যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়।’

আদালতে তদন্ত কর্মকর্তার এমন আবেদনে হতাশ বুশরার বাবা মঞ্জুরুল ইসলাম।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মেয়ে রিমান্ডে থাকার সময় একাধিকবার তদন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমার কথা বলার সুযোগ হয়েছে। ফারদিনের মৃত্যুতে আমার মেয়ের কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে তারা জানিয়েছেন। তারা বলেছিলেন রিমান্ড শেষেই বুশরা ছাড়া পাবে। তারাই বলেছেন ভালো উকিল ধরে জামিন আবেদন করতে, কিন্তু জামিন হয়নি।’

বুশরার শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েটার অনেক ক্ষতি হয়ে গেল। ইউনিভার্সিটিতে ওর তৃতীয় সেমিস্টার চলছিল। অ্যারেস্ট হওয়ার পর আমরা ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে এই সেমিস্টার ড্রপ করার আবেদন করেছি। তারা বলেছে, এই মাসে ও জামিন পেলে চলতি সেমিস্টারে থাকতে পারবে, নয়তো নতুন করে আবার ভর্তি হতে হবে।’

মেয়ের জামিনের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান মঞ্জুরুল ইসলাম।

মঞ্জুরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার মেয়েকে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বানানো হয়েছে। আমার মেয়ে ফারদিন হত্যায় জড়িত নয়।

‘আমার মেয়েকে বিনা দোষে মামলার আসামি ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফারদিন হত্যায় প্রকৃত দোষীকে শাস্তি দেয়া হোক। আমার নির্দোষ মেয়েকে মুক্তি দিতে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।’

ফরদিনের সঙ্গে বিতার্কিক সূত্রে বুশরার পরিচয় হয়।

বুশরার মা ইয়াসমিন নিউজবাংলাকে জানান, স্কুল ও কলেজে পড়ার সময় থেকেই বিভিন্ন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেন বুশরা। সে জন্য যারা বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নেন বা পারদর্শী, তাদের সঙ্গে বুশরা নিজে থেকেই যোগাযোগ রাখতেন।

তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালের শেষের দিকে ফেসবুকে একটি গ্রুপের মাধ্যমে বুশরার পরিচয় হয় ফারদিন নূর পরশের সঙ্গে। পরিচয়ের পর থেকে মেসেঞ্জার ও মোবাইলে কলে বিভিন্ন সময়ে একে অপরের সঙ্গে কথা বলত। আর এভাবেই তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।’

মামলায় বুশরাকে আসামি করা ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম এর আগে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে ফারদিনের বান্ধবী বুশরার সেই ধরনের কোনো সম্পৃক্ততার তথ্য না পাওয়ায় মামলায় তার নাম উল্লেখ না করতে অনুরোধ করেছিলাম। আমরা তাকে (মামলার বাদী) পরামর্শ দিয়েছিলাম, যেহেতু সেও (বুশরা) একজন শিক্ষার্থী, পরবর্তী অনুসন্ধানে তার সংশ্লিষ্টতা উঠে এলে আমরা আসামি হিসেবে তাকে যুক্ত করব।

‘তবে তিনি (বাদী) কোনো কথা মানতেই রাজি ছিলেন না। তার বক্তব্য ছিল, যেহেতু ওই মেয়ে শেষ সময়ে আমার ছেলের সঙ্গে ছিল তাই অবশ্যই তাকে মামলার আসামি করতে হবে।

‘অগত্যা তিনি এজাহারটি যেভাবে লিখে দিয়েছেন, সেভাবেই আমরা নিয়েছি। মামলার একমাত্র আসামি হওয়ায় তাকে (বুশরা) সেদিনই গ্রেপ্তার করি।’

আরও পড়ুন: ফারদিন হত্যায় বুশরার যোগসাজশ মিলছে না

ঘটনার সঙ্গে বুশরার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে সন্দেহের কারণ জানতে চাইলে ফারদিনের বাবা নূরউদ্দিন রানা ১৭ নভেম্বর ডিবি কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘বুশরা এ হত্যায় জড়িত না থাকলে তো অবশ্যই খুব খারাপ লাগবে। কিন্তু পরীক্ষার আগের রাতে বুশরার সঙ্গে ফারদিনের ৫-৬ ঘণ্টা কাটানোর কথা নয়। আর তাকে বাসার পাশে নামিয়ে দেয়ার পর থেকেই নিখোঁজ ছিল ফারদিন। তাই আমি নিশ্চিত করে বলতে পারছি না যে, বুশরা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত না।’

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জেড আই খান পান্না মনে করছেন তদন্তে কোনো সম্পৃক্ততা না পেলে বুশরার জামিন হওয়া উচিত।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যদি কিছু না পেয়ে থাকে, যতটুকু আমি পত্রপত্রিকায় পড়েছি, তার বিরুদ্ধে স্পেসিফিক এলিগেশন এনেছেন ফারদিনের বাবা। তার এলিগেশন হলো, সে (বুশরা) তার ছেলের সঙ্গে ছিল, সে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। যেটা এখন পর্যন্ত প্রমাণিত হয়নি। এ পর্যায়ে এসে একটা মেয়ের জামিন হওয়া উচিত। এটা হলো আমার অপিনিয়ন।’

আরও পড়ুন:
মাথায় ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতে ফারদিনের মৃত্যু
যাত্রাবাড়ীতে ফারদিনের উপস্থিতি শনাক্তের দাবি ডিবির
তদন্তে কোথাও একটা ফাঁকি আছে: ফারদিনের বাবা
ফারদিন হত্যায় গ্রেপ্তার বুশরার জামিন মেলেনি
ফারদিন হত্যায় বুশরার যোগসাজশ মিলছে না

মন্তব্য

p
উপরে