× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Toab Khan was a memorial at Batighar Kulkhani
hear-news
player
google_news print-icon

তোয়াব খান ছিলেন বাতিঘর, কুলখানিতে স্মৃতিচারণ

তোয়াব-খান-ছিলেন-বাতিঘর-কুলখানিতে-স্মৃতিচারণ
বর্ষীয়ান সাংবাদিক তোয়াব খানের কুলখানি। ছবি: নিউজবাংলা
অভিনেতা তারিক আনাম খান বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি গর্ব অনুভব করি যে এরকম একটি পরিবারে জন্ম নিয়েছি। তোয়াব খানের মতো মানুষের সান্নিধ্য পেয়েছি। এই পরিবার আমাকে কূপমণ্ডুকতা শেখায়নি, বরং প্রগতিশীলতা, আধুনিকতার দিকে ধাবিত করেছে। পরিবারের কিছু মানুষ থাকে যারা মহীরূহ হয়ে থাকেন, অনুপ্রেরণা দেন। তিনি তেমনই একজন মানুষ ছিলেন, যাকে অনুসরণ করা যায়।’

একুশে পদকপ্রাপ্ত বর্ষীয়ান সাংবাদিক, নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম ও দৈনিক বাংলার সম্পাদক তোয়াব খানের কুলখানি হয়েছে বুধবার বাদ আসর।

গুলশানে প্রয়াতের নিজ বাসভবন এষা গার্ডেনে এই কুলখানি হয়। স্মৃতিচারণের আগে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল হয়।

কুলখানিতে পরিবারের সদস্য এবং সাবেক ও বর্তমান সহকর্মীরা তার সঙ্গে নানা স্মৃতির কথা তুলে ধরে স্মৃতিচারণ করেন।

বলেন, চিন্তা ও চেতনায় প্রাগ্রসর মানুষ ছিলেন তোয়াব খান। সব বিষয়ে ছিলেন ঋদ্ধ। তার সঙ্গে যেকোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করলে সমৃদ্ধ হওয়া যেত। তিনি সাংবাদিকতাকে শুধু পেশা হিসেবে নয়, আবেগ ও ভালোবাসার সঙ্গী হিসেবে নিয়েছিলেন। তিনি আজীবন অনুপ্রেরণার উজ্জ্বল বাতিঘর হয়ে থাকবেন।

মিলাদ মাহফিলে অংশ নেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান।

তোয়াব খানের ফুফাতো ভাই অভিনেতা তারিক আনাম খান বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি গর্ব অনুভব করি যে এরকম একটি পরিবারে জন্ম নিয়েছি। তোয়াব খানের মতো মানুষের সান্নিধ্য পেয়েছি। এই পরিবার আমাকে কূপমণ্ডুকতা শেখায়নি, বরং প্রগতিশীলতা, আধুনিকতার দিকে ধাবিত করেছে। পরিবারের কিছু মানুষ থাকে যারা মহীরূহ হয়ে থাকেন, অনুপ্রেরণা দেন। তিনি তেমনই একজন মানুষ ছিলেন, যাকে অনুসরণ করা যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাংবাদিকতাকে শুধুমাত্র পেশা হিসেবে নয়, আবেগ ও ভালোবাসার সঙ্গী হিসেবে নিয়েছিলেন তোয়াব খান, যার সঙ্গে যেকোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করলে সমৃদ্ধ হওয়া যেত। প্রায় সকল বিষয়েই তিনি পূর্ণ জ্ঞান রাখতেন। আমাদের পরিবারের জন্য তিনি সবসময় অনুপ্রেরণার উজ্জ্বল বাতিঘর হয়ে থাকবেন। তাকে নিয়ে সবসময় গর্ব অনুভব করব।’

তোয়াব খান নীতিগতভাবে কঠোর মানুষ ছিলেন জানিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সাবেক অধ্যাপক মোবাশ্বেরা খানম বলেন, ‘তিনি সবসময় কাজের প্রতি সৎ ছিলেন। স্বল্পভাষী মানুষ ছিলেন। কখনোই মানুষের প্রতি তার দায়িত্ব কর্তব্য থেকে বিচ্যুত হননি। পরিবারের সদস্য হিসেবে এগুলো আমাদের কাছে শিক্ষা হিসেবে থাকবে। নিজেকে খুব কম প্রকাশ করতেন।’

তিনি বলেন, ‘একজন পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে তাকে অনুসরণ করতে পারা আমাদের জন্য সৌভাগ্যের বিষয় হবে। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত কর্মস্পৃহা দেখিয়েছেন। চিন্তা-চেতনায় প্রাগ্রসর মানুষ ছিলেন। বর্তমানের নৈতিক অবক্ষয়ের সময়ে তিনি ছিলেন আলোকবর্তিকা।’

তোয়াব খানের ভাগনে আজকের পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক সেলিম খান বলেন, ‘ব্যক্তি তোয়াব খান ছিলেন নীতিনিষ্ঠ, নিয়মানুগ। জীবনে ও কর্মে ছিলেন অত্যন্ত সজ্জন এবং প্রায় অজাতশত্রু একজন মানুষ, যার চেতনায় সবার ওপরে ছিল বাংলাদেশ।

‘স্বাধীনতার চার মূলমন্ত্রে গভীরভাবে আস্থাশীল ছিলেন। সর্বোপরি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তার ভাবনা ও ভালোবাসার গভীরতা প্রতিমুহূর্তে অনুভব করেছেন। এর কারণ তিনি বঙ্গবন্ধুকে খুব কাছ থেকে দেখা ও হারানোর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন।’

কালের কণ্ঠের সিনিয়র সহকারী সম্পাদক আলী হাবিব বলেন, ‘তোয়াব খান আমার জীবনে একজন দীক্ষাদাতা পিতা হিসেবে অধিষ্ঠিত আছেন। আজীবন থাকবেন। যতদিন জীবিত থাকব, তাকে অনুসরণ করব।’

দৈনিক বাংলার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক শরিফুজ্জামান পিন্টু বলেন, ‘তোয়াব খানকে মূল্যায়ন করার মতো অভিজ্ঞতা বা যোগ্যতা কোনোটিই আমার নেই। দৈনিক বাংলায় উনি ছিলেন আমার বটবৃক্ষ। গত এক বছরে যা পেয়েছি তা আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ পাওয়া।’

স্মরণসভা সঞ্চালনা করেন তোয়াব খানের ছোটভাই ওবায়দুল কবীর। এসময় মরহুমের নিকটাত্মীয় রুহুল আমিন বক্তব্য রাখেন।

স্মরণসভায় অংশ নেন নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোরের নির্বাহী সম্পাদক হাসান ইমাম রুবেল, ফোকাস বাংলার চেয়ারম্যান ইয়াসীন কবীর জয়, আজকের পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক কামরুল হাসান প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
গণমাধ্যমের উন্নয়নে তোয়াব খানের অবদান অসামান্য: জি এম কাদের
সাংবাদিক তোয়াব খানের অন্তিম শয্যা সোমবার বনানী কবরস্থানে
তোয়াব খানের শূন্যতা অপূরণীয়: রাষ্ট্রপতি
বর্ষীয়ান সাংবাদিক তোয়াব খানের প্রয়াণে বিশিষ্টজনদের শোক
স্বীয় কর্মে স্মরণীয় থাকবেন তোয়াব খান: প্রধানমন্ত্রী

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Japans Ambassador Good Man Misunderstood as Villain Momen

জাপানের দূত ভালো মানুষ, ভুল বুঝিয়েছে দুষ্টু লোক: মোমেন

জাপানের দূত ভালো মানুষ, ভুল বুঝিয়েছে দুষ্টু লোক: মোমেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ও ঢাকায় জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি।
‘ওকে (ইতো নাওকি) কোনো দুষ্টু লোক ভুল তথ্য দিয়েছে। তিনি সাধাসিধে মানুষ, বাংলাদেশের ভালো বন্ধু। তাকে বলা হয়েছে পুলিশ এসে ভোট দিয়েছে। সেই কথা সে বলে ফেলেছে। তিনি ভালো মানুষ। এটা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন নই।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ঢাকায় জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকির বক্তব্যে সরকারের পক্ষ থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন এখন বলেছেন, তারা উদ্বিগ্ন নন। তার দৃষ্টিতে জাপানি দূত একজন ভালো মানুষ। তাকে কিছু দুষ্টু লোক ভুল বুঝিয়েছে।

রোববার দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ঘুম’ বিষয়ক চিকিৎসকদের এক ওয়ার্কশপ শেষে সাংবাদিকদের মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ওকে (ইতো নাওকি) কোনো দুষ্টু লোক ভুল তথ্য দিয়েছে। তিনি সাধাসিধে মানুষ, বাংলাদেশের ভালো বন্ধু। তাকে বলা হয়েছে পুলিশ এসে ভোট দিয়েছে। সেই কথা সে বলে ফেলেছে। তিনি ভালো মানুষ। এটা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন নই।’

একাদশ জাতীয় নির্বাচনে রাতে ভোট নিয়ে ঢাকায় জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাও‌কির সাম্প্রতিক বক্তব্যে নিয়ে ঢাকা উদ্বিগ্ন নয় বলেও জানান মন্ত্রী।

গত ১৪ নভেম্বর রাজধানীতে একটি ‘মিট দ্য অ্যাম্বাসেডর’ অনুষ্ঠানে জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে বৈশ্বিক মতামতের একটা গুরুত্ব আছে। জাপান ২০১৮ সালের নির্বাচনের পরপর উদ্বেগ জানিয়েছিল। আমরা নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরে রাখার কথা শুনেছি, যা পৃথিবীর আর কোথাও শুনিনি। আমি আশা করব, এবার তেমন সুযোগ থাকবে না বা এমন ঘটনা ঘটবে না।’

দুই দিন পর মেহেরপুরে একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক। সেদিন সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘জাপান কেন, কোন রাষ্ট্রদূতই বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে নাক গলাবেন, এটা আমরা কখনোই মেনে নিতে পারি না।

‘তাদের আবারও সর্তক করা হবে। বাংলাদেশ স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র। একটি রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা এ দেশকে স্বাধীন করেছি। ফলে কারও কাছে পদানত হওয়া বা দেশের আত্মমর্যাদা রক্ষায় আমরা কাউকে ছাড় দেব না।’

মন্ত্রী এই বক্তব্য রাখার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইতোকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় তলব করেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। সেখানেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ১৪ নভেম্বর এক অনুষ্ঠানে দেয়া রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।

‘রিজার্ভ নিয়ে গণমাধ্যমের বক্তব্যে তাজ্জব হই’

বাংলাদেশের রিজার্ভ নিয়ে আলোচনার প্ররিপ্রেক্ষিতে দেশের গণমাধ্যমের ভূমিকার সমালোচনাও করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আপনারা (গণমাধ্যম) মাঝেমধ্যে উল্টাপাল্টা বলেন, আমাদের রিজার্ভ নাই, আমি তাজ্জব হই।

‘আপনারা মাঝেমধ্যে উল্টাপাল্টা বলেন, আমাদের রিজার্ভ নাই। আমি তাজ্জব হই। আগে আমাদের তিন থেকে চার বিলিয়ন রিজার্ভ হলে আপনারা খুশিতে থাকতেন। আর এখন আমার ৩৪ থেকে ৩৭ বিলিয়ন রিজার্ভ, তারপরও আপনারা বলেন। এগুলো পাগলের প্রলাপ না হয় তো কী!

মোমেন বলেন, ‘আপনি (গণমাধ্যম) বলেন, ব্যাংকে টাকা নাই। আমার ট্রিলিয়ন টাকা ব্যাংকে আছে। আপনারা বিভিন্ন রকমের প্রোপাগান্ডা করেন ব্যাংকে টাকা নাই। বাড়িতে নিয়ে রাখেন তখন চুরি করতে পারবে।’

বাংলাদেশ জাপানের কাছে বাজেট সহায়তা হিসেবে ঋণ চেয়েছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এসব আমি জানি না। এগুলো আপনারই জানেন। আমাদের কোনো প্রয়োজন নাই। ইউ আর ভেরি সলিড ইকোনোমি।’

আরও পড়ুন:
নির্বাচন নিয়ে জাপানি দূতের বক্তব্যে মর্মাহত পুলিশ
কূটনীতিকদের আরও ভেবেচিন্তে কথা বলা উচিত: ইসি আনিছুর
জাপানি রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব
রাতের ভোট: জাপানি দূতের বক্তব্যে নাখোশ সরকার
রাতে ব্যালট বাক্স ভরার কথা আর কোথাও শুনিনি: জাপানি রাষ্ট্রদূত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Prime Ministers visit postponed due to political unrest in Japan

প্রধানমন্ত্রীর সফর স্থগিত ‘জাপানে রাজনৈতিক অস্থিরতায়’

প্রধানমন্ত্রীর সফর স্থগিত ‘জাপানে রাজনৈতিক অস্থিরতায়’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। ফাইল ছবি
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর আমরা স্থগিত করেছি। তারা (জাপান) প্রস্তুত আছে। কিন্তু আমরা একাধিক কথা চিন্তা করে সফর স্থগিত করেছি। গত এক মাসে তাদের তিনজন প্রভাবশালী মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। এমন অবস্থায় আমরা যেতে চাইনি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকার সিদ্ধান্তেই প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর স্থগিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। জাপানে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও করোনার প্রকোপ বিবেচনায় ঢাকার এমন সিদ্ধান্ত বলেও জানান তিনি।

রোববার দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ঘুম’ বিষয়ক চিকিৎসকদের এক ওয়ার্কশপ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

এক প্রশ্নে মোমেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর আমরা স্থগিত করেছি। তারা (জাপান) প্রস্তুত আছে। কিন্তু আমরা একাধিক কথা চিন্তা করে সফর স্থগিত করেছি। গত এক মাসে তাদের তিনজন প্রভাবশালী মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। এমন অবস্থায় আমরা যেতে চাইনি।’

গত মাসের ২৭ অক্টোবর পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নভেম্বরের শেষে জাপান সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিউজবাংলাকে তিনি বলেছিলেন, ‘সফরটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হবে। দুই দেশ এখন সফর নিয়ে কাজ করছে।’

ওইদিন সফর উপলক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার আমন্ত্রণে ২৯ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপান সফর করবেন।

তবে ২৪ নভেম্বর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানান এই সফর স্থগিত হয়েছে।

সেদিন রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শোনসুকে তাকেইয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা এখনও প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের আনুষ্ঠানিক দিনক্ষণ ঘোষণা করিনি। তবে অন্য যেখান থেকে তারিখটা শুনেছিলেন, সেই তারিখে সফরটা হচ্ছে না। সুবিধা-অসুবিধা সবারই থাকে। দুই দেশই নতুন তারিখ খুঁজে নেবে।’

জাপানের প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘একটি নতুন তারিখে সফরটি হবে। দুই দেশ এটা নিয়ে কাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাওয়াত দিয়েছেন। এ দাওয়াতটা আমরা দুই বছর আগে পেয়েছিলাম। কোভিডের কারণে দুই বছরের অধিক সময় হলেও যাওয়া যায়নি। এবার সব ফাইনাল হলো। কিন্তু সম্প্রতি জাপান সরকারের মধ্যে একটা অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পরপর তিনজন প্রভাবশালী মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। আমরা বিষয়গুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছিলাম।

‘এর মধ্যে আমরা খবর পেয়েছি জাপানের সংসদে কিছু প্রস্তাব আসবে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে। বেচারা খুব ব্যস্ত আছেন। দ্বিতীয়ত কোভিডের কারণ। জাপানের এখনও কোভিডের জন্য কোয়ারেন্টাইন করতে হয়। তারা ১০ জনের মতো অনুমতি দেবে। আমরাতো বিরাট দল যাব। ব্যবসায়ীরা যাবে। আমরা ব্যবসায়ীদের নিয়ে যেতে চাই, যেন আমাদের দেশে বিনিয়োগ বাড়ে।’

তিনি বলেন, ‘আগামীতে আমরা অবশ্যই জাপানে যাব। এই সফর নিয়ে চিন্তার কিছূ নেই। জাপানের সঙ্গে আমাদের গভীর সম্পর্ক। জাপান আমাদের ভালো বন্ধু।’

আরও পড়ুন:
আবার ভোট দিন, যা চাইবেন তার বেশি দেব: শেখ হাসিনা
রিজার্ভ ও ব্যাংকের টাকা নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর আপাতত স্থগিত
দেশের অর্থনীতি নিরাপদে: প্রধানমন্ত্রী
যশোরে প্রধানমন্ত্রী, বক্তব্য দিচ্ছেন প্যারেড গ্রাউন্ডে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Prime Minister wants advance warning to deal with the crisis

সংকট মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা চান প্রধানমন্ত্রী

সংকট মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা চান প্রধানমন্ত্রী নিজ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সচিব সভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।
সচিব সভায় দেয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা এখনই যে বিপদে পড়েছি তা কিন্তু না। কিন্তু আমার কথাটা হচ্ছে, আমার আগাম ব্যবস্থাটা নিতে হবে, যেন আমি সামনে, ভবিষ্যতে কোনো বিপদে দেশ না পড়ি বা দেশের মানুষ না পড়ে।’

ভবিষ্যতে বাংলাদেশ যেন অর্থনৈতিক সংকটের মুখে না পড়ে, সে জন্য সংশ্লিষ্টদের আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রোববার সকালে অনুষ্ঠিত সচিব সভায় দেয়া বক্তব্যে এ নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

করোনাভাইরাস মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে চলামন বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন সরকারপ্রধান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা এখনই যে বিপদে পড়েছি তা কিন্তু না। কিন্তু আমার কথাটা হচ্ছে, আমার আগাম ব্যবস্থাটা নিতে হবে, যেন আমি সামনে, ভবিষ্যতে কোনো বিপদে দেশ না পড়ি বা দেশের মানুষ না পড়ে। আমাদের সেই সতর্কতাটা একান্তভাবে দরকার এবং সেই সতর্কবার্তাটাই কিন্তু আমরা দিচ্ছি।’

সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে, আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে এবং সেইভাবে মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে।’

উন্নত দেশের রিজার্ভ আর অর্থনৈতিক মন্দার প্রসঙ্গটিও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে দুয়েকটা দেশ হয়তো খুব লাভবান। কিন্তু বেশিরভাগ দেশ একেবারে…যারা উন্নত দেশ তারাও কিন্তু হিমশিম খাচ্ছে। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমাদের এখন ব্যয় সীমিত করা দরকার, সাশ্রয়ী হওয়া দরকার।’

চার থেকে পাঁচ মাসের খাদ্য আমদানি করার মতো রিজার্ভ বাংলাদেশের আছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের রিজার্ভ যেটা হচ্ছে আমাদের তিন মাসের খাদ্য কেনার মতো রিজার্ভ থাকলেই যথেষ্ট। সেখানে আমাদের ৫/৬ মাসের হিসেব আছে। তারপরও আমাদের এখন যা অবস্থা, তাতে আমাদের একটু সাশ্রয়ী হতে হবে, আরেকটু সচেতন হতে হবে।’

সবাইকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি আমাদের নিজেদেরও সাশ্রয়ী হওয়া এই কারণে দরকার, আবার আমি বলছি যে আমরা ভবিষ্যতে যাতে সমস্যায় না পড়ি। কাজেই এখন থেকে আমাদেরকে সেই ব্যবস্থা নেয়া একান্তভাবে দরকার।’

এ সময় পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দেন শেখ হাসিনা।

গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার নিরিখে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণে আবার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমাদের সমস্ত পরিকল্পনা বা প্রকল্প বাছতে হবে। বেছে নিয়ে এবং কোনগুলো দ্রুত শেষ করা যায়, আমরা সেগুলো আগে শেষ করে ফেলে নতুনটা যাতে ধরতে পারি সেই ব্যবস্থা নিতে হবে।’

মাদক-জঙ্গিবাদের বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মাদক, সন্ত্রাস এগুলোর হাত থেকে রক্ষা করা…আমাদের একটা ঘটনা ঘটেছিল, হলি আর্টিজানে। আমরা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেটা নিয়ন্ত্রণ করি। তারপর থেকে আর বাংলাদেশে এই রকম কোনো (ঘটনা) দেখা দেয়নি। কিন্তু তারপরও বাংলাদেশের ওপর অনেকেরই নানা রকম প্রভাব আছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদেরকেও এই ব্যাপারে সব সময় সজাগ থাকতে হবে। মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে, যেন এই মাদক আর জঙ্গিবাদ থেকে আমাদের যুব সমাজ দূরে থাকে। সেইদিকে আমাদের বিশেষভাবে দৃষ্টি দেয়া একান্তভাবে দরকার।’

আরও পড়ুন:
খাদ্য মজুত ১৫ লাখ টনের নিচে না নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
খালেদা-তারেকের সঙ্গে সংলাপ কেমন কথা: প্রধানমন্ত্রী
সঞ্চয় বাড়ান, মিতব্যয়ী হোন: প্রধানমন্ত্রী
এখন সবাই রিজার্ভ বিশেষজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী
আমেরিকাকে একহাত নিলেন প্রধানমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Prime Minister ordered not to take food stock below 15 million tons

খাদ্য মজুত ১৫ লাখ টনের নিচে না নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

খাদ্য মজুত ১৫ লাখ টনের নিচে না নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ফাইল ছবি
মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ ও বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানি নিশ্চিত করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন, খাদ্য মজুত কোনোমতেই যেন ১৫ লাখ টনের নিচে না নামে।’

দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ জোরদার করার পাশাপাশি বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানি কার্যক্রম সচল রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, খাদ্য মজুত কোনোমতেই যেন ১৫ লাখ টনের নিচে না নামে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রোববার সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশ দেন।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বৈঠকে ১২-১৩টি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে করণীয় নিয়ে কথা হয়েছে। আমরা খাদ্যের দিক দিয়ে স্বস্তিজনক অবস্থানে রয়েছি। এই মুহূর্তে দেশে প্রায় ১৬ লাখ টন খাদ্য মজুত রয়েছে।

‘বৈঠকে অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ ও বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। কোনোমতেই যেন খাদ্য মজুদ ১৫ লাখ টনের নিচে না নামে।’

এছাড়া ওএমএস, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি এবং টিসিবির মতো কার্যক্রমগুলো অব্যাহত রাখতে বলা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

তিনি বলেন, বিদেশি অর্থায়নে চলমান প্রকল্পগুলোর বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কিছুদিন ধরে এই প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি কিছুটা ধীর। এ বিষয়ে জরুরিভিত্তিতে দৃষ্টি দিতে বলা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
রিজার্ভ ও ব্যাংকের টাকা নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর আপাতত স্থগিত
দেশের অর্থনীতি নিরাপদে: প্রধানমন্ত্রী
যশোরে প্রধানমন্ত্রী, বক্তব্য দিচ্ছেন প্যারেড গ্রাউন্ডে
খেলাধুলায় সরকার পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে যাবে: প্রধানমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
There is no question of alliance with BNP

বিএনপির সঙ্গে জোটের প্রশ্নই আসে না

বিএনপির সঙ্গে জোটের প্রশ্নই আসে না রওশন এরশাদ। ফাইল ছবি
দেশে ফিরে বিমানবন্দরে লিখিত বক্তব্যে রওশন এরশাদ বলেন, ‘বিএনপির অধীনে জাতীয় পার্টি খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এবং আমি ও আমার নাবালক সন্তানসহ দলের হাজার হাজর নেতাকর্মী জেল খেটেছিলেন। তখন আমাদের জনসভাও করতে দেয়া হয়নি।

আগামী জাতীয় নির্বাচনি বিএনপির সঙ্গে কোনো জোট হতে পারে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ। পাঁচ মাস চিকিৎসা শেষে থাইল্যান্ড থেকে দেশে ফিরে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের উদ্দেশে এক লিখিত বক্তব্যে রওশন এরশাদ এ কথা বলেন।

বিমানবন্দরের তাকে শুভেচ্ছা জানাতে যান জি এম কাদেরপন্থি হিসেবে পরিচিত নেতা এবং দলের কো চেয়ারম্যান রুহুল আমিন হাওলাদার ও শফিকুল ইসলাম সেন্টু।

লিখিত বক্তব্যে রওশন এরশাদ বলেন, ‘বিএনপির অধীনে জাতীয় পার্টি খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এবং আমি ও আমার নাবালক সন্তানসহ দলের হাজার হাজর নেতাকর্মী জেল খেটেছিলেন। তখন আমাদের জনসভাও করতে দেয়া হয়নি।

‘ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অনেক জনসভায় হামলা চালিয়ে কত শত নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল। সেই অন্ধকার দিনগুলো আমরা ভুলবো কী করে? তা ছাড়া আমরা তাদের শাসনামলে হাওয়া ভবনের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও অপতৎপরতা দেখেছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘জনগণ উন্নতি ও শান্তি জন্য পরিবর্তন চায়। জাতীয় পার্টিই দিতে পারে সেই শান্তি। অবশ্যই তা বিএনপি নয়। বিএনপির সঙ্গে জোটের প্রশ্নই আসে না।’

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নির্বাচনি জোট মহাজোটের অংশ হিসেবে জাতীয় পার্টি দু দফায় নির্বাচনে অংশ নিলেও ২০১৮ সালের সর্বশেষ নির্বাচনের পর তারা সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়ে মহাজোট ত্যাগ করে।

আরও পড়ুন:
‘জি এম কাদেরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে’
রওশন-কাদের বিরোধে রংপুরে মনোনয়ন জটিলতা
‘তত্ত্বাবধায়কের অধীনে নির্বাচনের ধারণায় জাপা বিশ্বাস করে না’
রওশনের পক্ষে আছি বলায় অব্যাহতি: জিয়াউল মৃধা
কাদেরকে বিরোধীদলীয় নেতা না করলে জাপার ‘বিকল্প চিন্তা’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Ignoring ECs proposal CEC wants a statement from the government

ইসির প্রস্তাব উপেক্ষা: সরকারের একটি বক্তব্য চান সিইসি

ইসির প্রস্তাব উপেক্ষা: সরকারের একটি বক্তব্য চান সিইসি প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল। ফাইল ছবি
‘যেহেতু সময় বেঁধে দিয়েছি, আমাদের প্রত্যাশা ওই সময়ের মধ্যেই তারা রেসপন্স নিশ্চয়ই করবেন। সরকারের বিভিন্ন ব্যস্ততা থাকে ব্যস্ততার কারণে তারা সময় করে উঠতে পারে নাই।’

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) বিধান সংশোধনে নির্বাচনের কমিশনের ইচ্ছাকে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের উপেক্ষা করার ঘটনায় সরকারের একটি বক্তব্য শুনতে চেয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।

কমিশনের প্রস্তাব নিয়ে সাড়া না দেয়ার পর দুইবার চিঠি পাঠিয়েও জবাব পায়নি কমিশন। এরপর ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে জবাব দিতে সময় বেঁধে দিয়ে কড়া ভাষায় আবার চিঠি দেয়ার পর রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি জানিয়ে দেন, তারা অনুরোধ করেই যাবেন, এটা হতে পারে না।

তিনি বলেন, আইন তো আর কমিশন সরকার না, করবে পার্লামেন্ট ও সরকার। তারা যে প্রস্তাব দিয়েছেন, সেটির বিপরীতে সরকার অবশ্যই মনে করতে পারে এর যুক্তি নেই, তাহলে তারাও পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেনে। কিন্তু একটি জবাব তো দিতে হবে।

সিইসি বলেন, ‘আমরাও তো অনন্তকাল ধরে একটা ম্যাটার (বিষয়) পারসিউ করতে পারব না। এ জন্য আমরা বিষয়টা শেষ করে দিতে চাই। যদি আর কোনো রেসপন্স না হয় আমরা অন্য কাজে মনোনিবেশ করব। এ বিষয়টা নিয়ে হয়তো আমাদেরকে আর পারসিউ করতে হবে না।’

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএমে ভোটদানের ক্ষেত্রে আঙুলের ছাপ না মেলায় প্রিসাইংডিং কর্মকর্তার আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে ব্যালট ইউনিট ওপেন করার ব্যবস্থাটি আরপিওতে অন্তুর্ভুক্ত করতে চায় কমিশন। বেশ কিছু আইনের সংস্কারের পক্ষেও তারা।

এ বিষয়ে পাঠানো প্রস্তারের বিষয়ে সাড়ে তিন মাসেও কোনো কিছু জানানো হয়নি কমিশনকে। এতে অসন্তুষ্ট তারা।

রোববার নির্বাচন কমিশনের উপসচিব আব্দুল হালিম স্বাক্ষরিত একটি চিঠি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব বরাবর পাঠানো হয়। এতে বেশ কড়া ভাষা ব্যবহার করা হয়।

খসড়া বিলটি নিয়ে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে ২৮ সেপ্টেম্বর জরুরি পত্র পাঠায় কমিশিন। কিন্তু জবাব আসেনি। এরপর ১০ অক্টোবর আরও একটি চিঠি পাঠানো হয়। এবারও কমিশনের চিঠি উপেক্ষা করা হয়।

এবারের চিঠিতে বলা হয়, ‘আরপিওর সংশোধন-সংক্রান্ত খসড়া বিলের অগ্রগতির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে অবগত করার জন্য শেষবারের মতো বিশেষভাবে সনির্বন্ধ অনুরোধ করেছে।’

সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদের বিধান মতে দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করা যে নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য সেই বিষয়টিও চিঠিতে স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়।

নির্বাচন কমিশন মনে করে, কমিশনের অনুরোধ ও চাহিদা উপেক্ষিত হলে তারা দায়িত্ব পালনে সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে না। এতে নির্বাচন বিষয়ে কমিশনের সক্ষমতা, স্বাধীনতা এবং সরকারের সদিচ্ছা প্রশ্নে জনমনে অনাকাঙ্ক্ষিত সংশয়ের উদ্রেক হতে পারে বলেও ভাবছে তারা।

এই চিঠির বিষয়ে জানাজানি হলে সাংবাদিকরা ভিড় করেন সিইসির কাছে। তিনি বলেন, ‘যেহেতু সময় বেঁধে দিয়েছি, আমাদের প্রত্যাশা ওই সময়ের মধ্যেই তারা রেসপন্স নিশ্চয়ই করবেন। সরকারের বিভিন্ন ব্যস্ততা থাকে ব্যস্ততার কারণে তারা সময় করে উঠতে পারে নাই।’

এই চিঠির পর আর অনুরোধ করা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ওই তারিখটা (১৫ ডিসেম্বর) আসুক। কমিশন বসে তখন একটা সিদ্ধান্ত নেব। এটা কি খুব গুরুত্বপূর্ণ কি না, কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ, তখন আমরা সেটা বিবেচনা করে দেখব।’

গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলেই নির্বাচনি আইনে সংস্কার আনতে চেয়েছেন- একজন গণমাধ্যমকর্মীর এমন মন্তব্যের জবাবে সিইসি বলেন, ‘সব কিছুই তো খুবই গুরুত্বপূর্ণ তা না। সবকিছুই যে সব সময় অ্যাড্রেস হবে তা তো না। সরকারের নিশ্চয়ই একটা বক্তব্য আছে, সেটা থাকবে।

‘আমরা যেটা প্রত্যাশা করেছি, সরকারের ওই যুক্তি থাকতে পারে যে, এটার প্রয়োজন নাই। এটা অলরেডি অ্যাড্রেস আছে কোথাও। যদি অ্যাড্রেস হয়ে থাকে সেটাও যদি আমরা জানতে পারি আমাদের আর পারসিউ করার প্রয়োজন পড়ে না।

‘তাদেরও তো একটা যুক্তি থাকতে পারে এই প্রস্তাব নিয়ে কারণ অথরিটি তারা। আইন প্রণয়ণের অথরিটি সরকার এবং পার্লামেন্ট। তারা যদি মনে করেন না, পর্যাপ্ত আইন রয়ে গেছে, এ বিষয়ে করণীয় কিছু নেই, সেইটুকু আমাদের জানিয়ে দিলে আমরা বিবেচনা করতাম।’

আইন সংশোধ না হলে ভোট প্রত্যাশা অনুযায়ী হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করব না আমি পর্যাপ্ত বলেছি।’

আরও পড়ুন:
আরপিওর সংশোধন: ইসিকে পাত্তা দিচ্ছে না সরকার
নিবন্ধনের শর্ত যাচাইয়ে নির্বাচন কমিশনের হোঁচট
জামায়াত-সংশ্লিষ্ট কেউ নিবন্ধন চাইলে যাচাই করে ব্যবস্থা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Revision of RPO Govt doesnt care about EC

আরপিওর সংশোধন: ইসিকে পাত্তা দিচ্ছে না সরকার

আরপিওর সংশোধন: ইসিকে পাত্তা দিচ্ছে না সরকার নির্বাচন ভবন। ফাইল ছবি
আরপিও সংশোধন খসড়া বিল প্রস্তুত করে গত ৮ আগস্ট তা লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়। অগ্রগতি জানতে নির্বাচন কমিশনের চিঠি দুইবার উপেক্ষা করেছে মন্ত্রণালয়। ক্ষুব্ধ ইসি বলেছে, এই আচরণে জনমনে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে সংশয় জাগবে।

সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সাহায্য সহযোগিতা করার আশ্বাস দিলেও কমিশনের একটি অনুরোধ সাড়ে তিন মাস ধরে উপেক্ষা করে আসছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ।

কমিশনের খসড়া প্রস্তাবের পর কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তার তথ্য চেয়ে পাঠানো দুটি চিঠিও উপেক্ষা করা হয়েছে। দুইবার জবাব না পেয়ে এবার কমিশন আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে জবাব দিতে সময় বেঁধে দিয়েছে।

সাংবিধানিক সংস্থা হিসেবে কমিশনকে সহযোগিতা করা সবার কর্তব্য- এই বিষয়টি স্মরণ করিয়ে চিঠিতে এ-ও বলা হয়েছে যে কমিশন যা চাইছে, তা পূরণ না হলে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তারা সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে না।

সরকার সহযোগিতা না করলে জনমনে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে সংশয় জাগবে- এই বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে এই চিঠিতে।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএমে ভোটদানের ক্ষেত্রে আঙুলের ছাপ না মেলায় প্রিসাইংডিং কর্মকর্তার আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে ব্যালট ইউনিট ওপেন করার ব্যবস্থাটি আরপিওতে অন্তুর্ভুক্ত করতে চায় কমিশন। বেশ কিছু আইনের সংস্কারের পক্ষেও তারা।

এ বিষয়ে পাঠানো প্রস্তারের বিষয়ে সাড়ে তিন মাসেও কোনো কিছু জানানো হয়নি কমিশনকে। এতে অসন্তুষ্ট তারা।

রোববার নির্বাচন কমিশনের উপসচিব আব্দুল হালিম স্বাক্ষরিত একটি চিঠি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব বরাবর পাঠানো হয়। এতে এ কথা বলা হয়।

আরপিওর সংশোধন: ইসিকে পাত্তা দিচ্ছে না সরকার

নির্বাচন কমিশনের কড়া প্রতিক্রিয়া

রোববার মন্ত্রণালয় বরাবর পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ- ১৯৭২-এ কিছু সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আরপিও সংশোধন খসড়া বিল প্রস্তুত করে গত ৮ আগস্ট তা লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়।

খসড়া বিলটি নিয়ে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে ২৮ সেপ্টেম্বর জরুরি পত্র পাঠায় কমিশিন। কিন্তু জবাব আসেনি। এরপর ১০ অক্টোবর আরও একটি চিঠি পাঠানো হয়। এবারও কমিশনের চিঠি উপেক্ষা করা হয়।

এবারের চিঠিতে বলা হয়, ‘আরপিওর সংশোধন-সংক্রান্ত খসড়া বিলের অগ্রগতির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে অবগত করার জন্য শেষবারের মতো বিশেষভাবে সনির্বন্ধ অনুরোধ করেছে।’

সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদের বিধান মতে দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করা যে নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য সেই বিষয়টিও চিঠিতে স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়।

এতে বলা হয়, ‘আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং উহার লেজেসটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ রাষ্ট্র ও সরকারের নির্বাহী বিভাগের একাংশ। দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করা ইহার সাংবিধানিক সংবিধিবদ্ধ দায়িত্ব।’

নির্বাচন কমিশন মনে করে, কমিশনের অনুরোধ ও চাহিদা উপেক্ষিত হলে তারা দায়িত্ব পালনে সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে না। এতে নির্বাচন বিষয়ে কমিশনের সক্ষমতা, স্বাধীনতা এবং সরকারের সদিচ্ছা প্রশ্নে জনমনে অনাকাঙ্ক্ষিত সংশয়ের উদ্রেক হতে পারে বলেও ভাবছে তারা।

‘এটা অবহেলা’

নির্বাচন কমিশনকে এভাবে উপেক্ষার বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ব্রতীর নির্বাহী পরিচালক শারমিন মুরশিদ নিউজবাংলাকে বলেন, 'এটা গুরুতর। শুধু আইন মন্ত্রণালয় নয়, সরকারের যে দপ্তরগুলো আছে তাদেরও দায়িত্ব আছে। কী কারণে এমন করছে তা জানি না। এটা অবহেলা, খুব খারাপ দৃষ্টিতে দেখবে জনগণ। নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে সমালোচনা করবে। সরকারের উচিত তার নিজের স্বার্থে জবাব দেয়া।'

আরেক পর্যবেক্ষক সংস্থা ফেয়ার ইলেকশন মনিটরিং অ্যালায়েন্সের (ফেমা) সভাপতি মুনিরা খানম বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে একমত। তারা (নির্বাচন কমিশন) যে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে চায়, তা তো তাদের সহযোগিতা করতে হবে।’

আইন মন্ত্রণালয়ের এই ব্যাপারে চুপ থাকা উচিত না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা যুক্তি দিয়ে দেখাক যে বর্তমান আইনেই সুষ্ঠু নির্বাচন করা যায়। তা না হলে আইন মন্ত্রণালয় ও সরকারের সহযোগিতা করা উচিত।’

মন্ত্রীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি

নির্বাচন কমিশনকে উপেক্ষার বিষয়ে জানতে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি তা কেটে দেন।

তবে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ কথা বললেন অনেকটা নরম সুরে। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকার অসহযোগিতা করছে, এটা বলা যাবে না। হয়তো আইনটা বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। মন্ত্রী অনুমোদন না দিলে পাঠাতে পারছে না।’

আরও পড়ুন:
নিবন্ধন চেয়ে আবেদন ৮০ নয়, ৯৮ বা তার চেয়ে বেশি
নাকফুল, বাবেস, মুসকিল লীগ, বৈরাবরী পার্টিসহ নিবন্ধন চায় যারা
ইসির সাবেকদের নিয়ে বুধবার বৈঠক করবে কমিশন
গোপনীয়তা ভঙ্গ হলেই ভোট বন্ধের নির্দেশ
ডিসি-এসপিদের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার সুযোগ নেই: নির্বাচন কমিশনার

মন্তব্য

p
উপরে