× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Nation is in disaster not only electricity but everything Fakhrul
hear-news
player
google_news print-icon

কেবল বিদ্যুৎ নয়, সব কিছুতেই জাতি বিপর্যয়ে: ফখরুল

কেবল-বিদ্যুৎ-নয়-সব-কিছুতেই-জাতি-বিপর্যয়ে-ফখরুল
বিএনপি স্থায়ী কমিটি সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বাসায় কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
‘কেবল বিদ্যুৎ নয়, রাস্তার বিভ্রাটও ঢাকা শহরে। টঙ্গী থেকে উত্তরা পর্যন্ত আসতে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগে। সব ক্ষেত্রে দেখবেন উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই সমস্যাটা হয়ে গেছে।’

গ্রিড লাইন ফেল করার পর যে বিপর্যয় দেখা গেছে, তা কেবল বিদ্যুতের ক্ষেত্রে হয়নি বলে মনে করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বলেছেন, ‘তথাকথিত উন্নয়নের নামে সরকারের দুর্নীতির কারণে মানুষকে দুর্ভোগকে ফেলা হচ্ছে। এখন গোটা জাতি বিপর্যয়ের মধ্যে আছে।’

বুধবার মোহাম্মদপুর আসাদগেট বিএনপি স্থায়ী কমিটি সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বাসায় সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

মঙ্গলবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিপর্যয় নিয়ে ফখরুল বলেন, ‘সরকার এত চিৎকার-চেঁচামেচি করছে, সব সময় বলছে আমরা বিদ্যুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে গেছি। বলা হচ্ছে প্রয়োজনের তুলনায় উৎপাদন আরও বেশি হচ্ছে। গতকালকের ব্যাপারটা হচ্ছে অস্বাভাবিক ব্যাপার। হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চলে গেছে সারা দেশে বেশিরভাগ এলাকায় ছিল না। প্রায় আট ঘণ্টা এই লোডশেডিং চলে। এর থেকে বোঝা যায় সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনের নাম করে বহু প্রজেক্ট করেছে, টাকা পয়সা বানিয়েছে শেষ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে এ ধরনের একটা বড় রকমের দুর্যোগের মধ্যে, বিপর্যয়ের মধ্যে জাতিকে তারা ফেলে দিয়েছে।

‘এতে করে সমস্যা হয়েছে- নেট বন্ধ হয়ে গিয়েছে, বিদ্যুতের মাধ্যমে যেসব কলকারখানা চলে তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সন্ধ্যার আগে যে কৃষি ক্ষেতে সেচের ব্যবস্থা করা হয় তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে, যার কারণে ও সহনীয় পরিস্থিতি জাতি অনুভব করেছে।’

বিএনপি নেতা বলেন, ‘কেবল বিদ্যুৎ নয়, রাস্তার বিভ্রাটও ঢাকা শহরে। টঙ্গী থেকে উত্তরা পর্যন্ত আসতে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগে। সব ক্ষেত্রে দেখবেন উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই সমস্যাটা হয়ে গেছে।’

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো নিয়ে ফখরুল দাবি করেন, এই পরিকাঠামোয় যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম দেয়া হয়েছে, সেগুলোর ব্যাপারে তথ্য দেয়া হবে না।

তিনি বলেন, ‘এটা ভয়াবহ ব্যাপার। আমরা যে বলছি কর্তৃত্ববাদী সরকার তার যে বহিঃপ্রকাশ তারা যে আরও নিয়ন্ত্রণের দিকে যাচ্ছে, দেশকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করবে, দেশের মানুষকে তথ্য থেকে বঞ্চিত করবে এটা তারই বহিঃপ্রকাশ। স্বয়ং রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে যদি এই সার্কুলার আসে তাহলে এই দেশে যে পুরা কর্তৃত্ববাদী হয়ে গেছে, সেটা আর সন্দেহ নেই।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘প্রোপার প্ল্যানিং এর মাধ্যমে তারা (সরকার) কিছু করেনি, সে দিকে তারা মনোযোগী হয়নি। দুর্নীতির জন্য যা যা করা দরকার তাড়াহুড়া করে করেছে। এজন্য একটি পলিটিক্যাল প্রাইস জনগণকে পে করতে হচ্ছে।’

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনের নামে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়েছে। বিভিন্ন প্রজেক্ট নেয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল দুর্নীতি। এ কারণে জনগণের দুর্ভোগ লাঘব হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘সরকার অপরিকল্পিতভাবে পাওয়ার স্টেশন করেছে। গতকালের মতো বিপর্যয় আরও হবে। সরকার যে ধরনের প্রকল্প নিয়েছে, তার জন্য জনগণকে এ ধরনের আরও সাফারার হবে।’

আরও পড়ুন:
বিএনপি-কল্যাণ পার্টি সংলাপ, আন্দোলনে ঐকমত্য
এলডিপিসহ দুই দলের সঙ্গে সোমবার বিএনপির সংলাপ
মুন্সীগঞ্জে সংঘর্ষ: দুই মামলায় বিএনপির ১৭৭ জনের জামিন
তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া নির্বাচন হতে দেয়া হবে না: ফখরুল
বিএনপি হাঁটুভাঙা দল নয়: ফখরুল

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Ranga is interested in resolving the Kader Roshan conflict

কাদের-রওশন দ্বন্দ্বের মীমাংসায় আগ্রহী রাঙ্গা

কাদের-রওশন দ্বন্দ্বের মীমাংসায় আগ্রহী রাঙ্গা দেশে ফিরেছেন রওশন এরশাদ। বিমানবন্দরে কথা বলেনি তিনি। সেখানেই কথা বলেন মশিউর রহমান রাঙ্গা। ছবি: নিউজবাংলা
‘এরশাদ সাহেবের সময়ও আমরা অস্থিরতা দেখেছি। যেটা অন্যান্য দলে হয়তো এতটা না। অস্থিরতা বিভিন্ন কারণে, একটা দল ৩২ বছর ক্ষমতার বাইরে, মনোমালিন্য থাকতেই পারে।’

জিএম কাদের ও রওশন এরশাদ এক সঙ্গে বসলেই জাতীয় পার্টিতে দ্বন্দ্বের মীমাংসা হয়ে যাবে বলে মনে করেন দলের বহিষ্কৃত নেতা মশিউর রহমান রাঙ্গা। বলেছেন, ওই দ্বন্দ্বের মীমাংসায় তিনি ভূমিকা রাখবেন।

৫ মাস চিকিৎসা শেষে রোববার দেশে ফেরা রওশন এরশাদকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাগত জানিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘জি এম কাদের ও রওশন এরশাদের মধ্যে মনোমালিন্য আছে। এটা আগেও বলেছি, দুই জন এক সঙ্গে বসলে এটার সমাধান হয়ে যাবে ‘

জাতীয় পার্টিতে এই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয় রওশন থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার এক চিঠিকে কেন্দ্র করে। গত ৩১ অক্টোবর হঠাৎ করেই ২৬ নভেম্বর দলের সম্মেলনের ডাক দেন। পরে অবশ্য তা স্থগিত করা হয়।

জি এম কাদের ও তার অনুসারীরা রওশনের এই ঘোষণার তীব্র প্রতিবাদ জানান। তারা বলেন, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী রওশন এমনটা করতে পারেন না। এরপর রওশনকে বিরোধীদলীয় নেতার পদ থেকে সরিয়ে দিতে গিয়ে জি এম কাদেরকে সেই পদে বসাতে স্পিকারকে চিঠি দেয় জাতীয় পার্টির সংসদীয় দল। পরে দলে শুরু হয় বহিস্কার ও অব্যাহতি দেওয়া। শুরুর দিকে রওশনের পক্ষে কথা বলায় রাঙ্গাকেও দলের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

২০১৯ সালে দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পরও জিএম কাদের ও রওশন পন্থিদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। তখন দ্বন্দ্ব মীমাংসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন রাঙ্গা।

এবারও একই ভূমিকা রাখার আশা করে তিনি বলেন, ‘যদি তাদের (রওশন ও জিএম কাদেরে) মীমাংসা করা দরকার পড়ে, আই উইল ডু ইট।’

জাতীয় পার্টিতে এমন অস্থিরতা কেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এরশাদ সাহেবের সময়ও আমরা অস্থিরতা দেখেছি। যেটা অন্যান্য দলে হয়তো এতটা না। অস্থিরতা বিভিন্ন কারণে, একটা দল ৩২ বছর ক্ষমতার বাইরে, মনোমালিন্য থাকতেই পারে।’

রওশন দেশে ফিরলেও নেতা কর্মী তাকে সংবর্ধনা দিতে যাননি। এর কারণ কী- এমন প্রশ্নে রাঙ্গা বলেন, ‘অনেক নেতাকর্মী বিভিন্ন কারণে হয়তো আসেনি। এটা বিভক্তির কারণে নয়, অনেকে আসছিলেন, রাস্তা থেকেও তারা ঘুরে গেছে।

‘তাদের ভয় দেখানো হয়েছে, গেলে মনোনয়ন দেবো না, এইভাবে বলা হয়েছে। সবাই তো আমাদের মতো সাহসী না, অনেক এমপি, প্রেসিডিয়াম মেম্বার ঝামেলা এড়াতে চেয়েছেন।’

রওশন আলাদা কাউন্সিল ডাকার পর জাতীয় পার্টি থেকে এক থেকে দেড় শ নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা সবাই দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ ছিল। তাদেরকে বিভিন্ন কারণে বের করে দেয়া হয়েছে। এই নেতাকর্মীরা ফিরে আসলে দলটা বিরাট শক্তিতে পরিণত হবে। আমি মনে করি, মনোনমালিন্যটা দলের ভালোর জন্যই হয়েছে, আগামীতেও ভালো হবে।’

আরও পড়ুন:
দ্বন্দ্ব মেটাতে কাদেরের সঙ্গে আলোচনা হবে: রওশন
দেশে ফিরলেন রওশন এরশাদ
রওশন দেশে ফিরছেন রোববার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
There is no question of alliance with BNP

বিএনপির সঙ্গে জোটের প্রশ্নই আসে না

বিএনপির সঙ্গে জোটের প্রশ্নই আসে না রওশন এরশাদ। ফাইল ছবি
দেশে ফিরে বিমানবন্দরে লিখিত বক্তব্যে রওশন এরশাদ বলেন, ‘বিএনপির অধীনে জাতীয় পার্টি খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এবং আমি ও আমার নাবালক সন্তানসহ দলের হাজার হাজর নেতাকর্মী জেল খেটেছিলেন। তখন আমাদের জনসভাও করতে দেয়া হয়নি।

আগামী জাতীয় নির্বাচনি বিএনপির সঙ্গে কোনো জোট হতে পারে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ। পাঁচ মাস চিকিৎসা শেষে থাইল্যান্ড থেকে দেশে ফিরে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের উদ্দেশে এক লিখিত বক্তব্যে রওশন এরশাদ এ কথা বলেন।

বিমানবন্দরের তাকে শুভেচ্ছা জানাতে যান জি এম কাদেরপন্থি হিসেবে পরিচিত নেতা এবং দলের কো চেয়ারম্যান রুহুল আমিন হাওলাদার ও শফিকুল ইসলাম সেন্টু।

লিখিত বক্তব্যে রওশন এরশাদ বলেন, ‘বিএনপির অধীনে জাতীয় পার্টি খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এবং আমি ও আমার নাবালক সন্তানসহ দলের হাজার হাজর নেতাকর্মী জেল খেটেছিলেন। তখন আমাদের জনসভাও করতে দেয়া হয়নি।

‘ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অনেক জনসভায় হামলা চালিয়ে কত শত নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল। সেই অন্ধকার দিনগুলো আমরা ভুলবো কী করে? তা ছাড়া আমরা তাদের শাসনামলে হাওয়া ভবনের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও অপতৎপরতা দেখেছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘জনগণ উন্নতি ও শান্তি জন্য পরিবর্তন চায়। জাতীয় পার্টিই দিতে পারে সেই শান্তি। অবশ্যই তা বিএনপি নয়। বিএনপির সঙ্গে জোটের প্রশ্নই আসে না।’

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নির্বাচনি জোট মহাজোটের অংশ হিসেবে জাতীয় পার্টি দু দফায় নির্বাচনে অংশ নিলেও ২০১৮ সালের সর্বশেষ নির্বাচনের পর তারা সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়ে মহাজোট ত্যাগ করে।

আরও পড়ুন:
‘জি এম কাদেরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে’
রওশন-কাদের বিরোধে রংপুরে মনোনয়ন জটিলতা
‘তত্ত্বাবধায়কের অধীনে নির্বাচনের ধারণায় জাপা বিশ্বাস করে না’
রওশনের পক্ষে আছি বলায় অব্যাহতি: জিয়াউল মৃধা
কাদেরকে বিরোধীদলীয় নেতা না করলে জাপার ‘বিকল্প চিন্তা’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Talks will be held with Quader to resolve conflict Roshan

দ্বন্দ্ব মেটাতে কাদেরের সঙ্গে আলোচনা হবে: রওশন

দ্বন্দ্ব মেটাতে কাদেরের সঙ্গে আলোচনা হবে: রওশন রোববার বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ। ছবি: নিউজবাংলা
পাঁচ মাস পর থাইল্যান্ড থেকে দেশে ফিরলেন জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ। বিমানবন্দরে তাকে শুভেচ্ছা জানাতে যান জি এম কাদেরপন্থি হিসেবে পরিচিত নেতা এবং দলের কো-চেয়ারম্যান রুহুল আমিন হাওলাদার ও শফিকুল ইসলাম সেন্টু।

দলের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্ব দূর করতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন বলে জানিয়েছেন দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ।

রোববার দুপুরে বিমানবন্দরে থাইল্যান্ডে চিকিৎসা শেষে পাঁচ মাস পরে দেশে ফিরে সাংবাদিকদের এই কথা জানান রওশন এরশাদ। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটে জাতীয় পার্টি যাবে কি না, তা সময় বলে দেবে বলে মন্তব্য করেন রওশন এরশাদ।

রওশন এরশাদ দেশে ফিরলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি গেটে তাকে শুভেচ্ছা জানাতে আসেন জি এম কাদেরপন্থি হিসেবে পরিচিত নেতা এবং দলের কো-চেয়ারম্যান রুহুল আমিন হাওলাদার ও শফিকুল ইসলাম সেন্টু।

তবে দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদের, মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুসহ দলের সিনিয়র নেতাদের উপস্থিতি ছিল না।

রওশনপন্থি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙা এবং রওশন এরশাদের রাজনৈতিক উপদেষ্টা গোলাম মসীসহ অন্য নেতা-কর্মীরা।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নেমে ভিআইপি লাউঞ্জে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হন রওশন এরশাদ। এ সময় সাংবাদিকদের বেশ কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দেন রওশন এরশাদ।

জি এম কাদেরের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রওশন এরশাদ বলেন, ‘আমরা বৈঠক করব, আলোচনা করব।’
জি এম কাদের কেন তাকে বিমানবন্দরে রিসিভ করতে আসেননি– এমন প্রশ্নের জবাবে রওশন বলেন, ‘অসুবিধা আছে, তাই আসেনি।’

আগামী জাতীয় নির্বাচন এককভাবে করবেন কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সেটা সময় বলে দিবে।’

এর আগে সাংবাদিকদের সামনে একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রওশন এরশাদ। এতে তিনি বলেন, ‘আমার সুস্থতা কামনায় দোয়া করার জন্য পার্টির নেতা-কর্মী এবং দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানাই।’

চিকিৎসার খোঁজখবর নেওয়ার জন্য রওশন এরশাদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান। বলেন, ‘ব্যাংককে আমার চিকিৎসার সময় সহযোগিতা এবং স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেয়ার জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই। আমি থাইল্যান্ডে বাংলাদেশ দূতাবাসকেও ধন্যবাদ জানাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সময় সহায়তা ও সহযোগিতার জন্য।’

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আগেও বলেছি, আজও বলছি, আমি সব সময়ই জাতীয় পার্টির ঐক্য চাই। পার্টিকে বিভক্ত করার প্রশ্নই ওঠে না।

‘আমি ঢাকায় ফিরে এসেছি, আমি পার্টির সব এমপি, প্রেসিডিয়াম এবং অন্যান্যদের সঙ্গে যেকোনো বিভ্রান্তি ও ভুল-বোঝাবুঝি দূর করতে বসব। আমি নিশ্চিত, সেই ভুল-বোঝাবুঝি দূর করে ঐক্যবদ্ধভাবে শিগগিরই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ফিরতে পারব, ইনশা আল্লাহ।’

তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টির জন্য যারা কষ্ট করেছেন, জেল খেটেছেন এবং জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’

এ সময় রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাদেরের দেওয়া প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফাকে দলের প্রার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেন রওশন এরশাদ।

তিনি বলেন, ‘হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্নেহধন্য পুত্রতুল্য এবং তার পছন্দের যোগ্য ও দক্ষ প্রার্থীকেই আসন্ন রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে লাঙ্গলের মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করছি। তিনি হলেন সাবেক মেয়র ও দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য, জনমানুষের প্রিয় নেতা মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা। তার নির্বাচন ও বিজয়ের মধ্য দিয়ে জাতীয় পার্টি ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী দল হিসেবে নতুন করে প্রতিষ্ঠা পাবে, ইনশা আল্লাহ।’

তিনি বলেন, ‘রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে কথা বলতে চাই। মনে রাখবেন রংপুর জাতীয় পার্টির প্রাণ। এটা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বাড়ি। তাই আসনটি যেকোনো মূল্যে ধরে রাখতে হবে এবং জাতীয় পার্টির প্রতীক লাঙ্গল নিয়ে নির্বাচনে জয়ী হবে এমন যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেব, ইনশা আল্লাহ। এ জন্য সব নেতা-কর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা তার এই বক্তব্যে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন বজায় রাখতে সর্ববাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছেন। দুর্নীতি, অর্থনীতিতে অব্যবস্থাপনা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধির মতো কিছু ত্রুটি রয়েছে। আমি নিশ্চিত যে, প্রধানমন্ত্রী এসব বিষয়ে অবগত আছেন এবং আমি তাকে অনুরোধ করব এই বিষয়গুলোকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সমাধান করতে এবং তার মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের আরও বেশি আন্তরিক ও সক্রিয় করতে।’

রওশন এরশাদ বলেন, ‘বর্তমান ভূ-রাজনীতি বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ গুরুতর অর্থনৈতিক সমস্যার সৃষ্টি করেছে। এর প্রভাব পড়েছে আমাদের দেশেও। তাই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের সবাইকে আরও সতর্ক হওয়া উচিত এবং সরকারকে সহযোগিতা করা উচিত।’

আরও পড়ুন:
দেশে ফিরলেন রওশন এরশাদ
রওশন দেশে ফিরছেন রোববার
রওশনের ফেরার দিন শো-ডাউন করবে অনুসারীরা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The hearing of the complaint against the emperor has been delayed for 8 months

সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি পেছাল ৮ মাস

সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি পেছাল ৮ মাস মুক্তি পেয়েই বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে ছুটে যান বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট। ছবি: সংগৃহীত
এদিন সম্রাট আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেন। এরপর তার আইনজীবী আফরোজা শাহনাজ পারভীন হিরা অভিযোগ গঠন শুনানি পেছানোর জন্য সময়ের আবেদন করেন। আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য নতুন তারিখ দেন।

যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে করা মামলার অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির তারিখ আট মাস পিছিয়ে আগামী বছরের ৩ আগস্ট ঠিক করেছে আদালত।

রোববার ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ফায়সাল আতিক বিন কাদেরের আদালতে মামলাটির অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য দিন ঠিক ছিল।

এদিন সম্রাট আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেন। এরপর তার আইনজীবী আফরোজা শাহনাজ পারভীন হিরা অভিযোগ গঠন শুনানি পেছানোর জন্য সময়ের আবেদন করেন।

আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য নতুন তারিখ দেন।

২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর বাদী হয়ে রমনা থানায় অস্ত্র আইনে মামলাটি করেন র‍্যাব-১-এর ডিএডি আব্দুল খালেক। ২০২০ সালের ৬ নভেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক শেখর চন্দ্র মল্লিক অস্ত্র মামলার অভিযোগপত্র জমা দেন।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকার মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় র‌্যাবের অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো চলার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর আত্মগোপনে চলে যান যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা সম্রাট। ২০১৯ সালের ৭ অগাস্ট কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক আরমানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

সেদিন বিকেলে সম্রাটকে সঙ্গে নিয়ে কাকরাইলের ভূইয়া ট্রেড সেন্টারে তার কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অভিযান শেষে গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল, ১১৬০টি ইয়াবা, ১৯ বোতল বিদেশি মদ, দুটি ক্যাঙ্গারুর চামড়া এবং ‘নির্যাতন করার’ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পাওয়া যায়।

ক্যাঙ্গারুর চামড়া পাওয়ার কারণে সম্রাটকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে তাৎক্ষণিকভাবে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেদিনই তাকে পাঠিয়ে দেয়া হয় কেরানীগঞ্জের কারাগারে।

বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্ত রয়েছেন।

আরও পড়ুন:
সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ১১ ডিসেম্বর
দুদকের মামলায় সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছাল
সম্রাটের মামলার অভিযোগ গঠন শুনানি ২০ অক্টোবর
সম্রাটের জামিন বাতিল কেন নয়: হাইকোর্ট
সম্রাটের জামিন বাতিলে হাইকোর্টে দুদক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Revision of RPO Govt doesnt care about EC

আরপিওর সংশোধন: ইসিকে পাত্তা দিচ্ছে না সরকার

আরপিওর সংশোধন: ইসিকে পাত্তা দিচ্ছে না সরকার নির্বাচন ভবন। ফাইল ছবি
আরপিও সংশোধন খসড়া বিল প্রস্তুত করে গত ৮ আগস্ট তা লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়। অগ্রগতি জানতে নির্বাচন কমিশনের চিঠি দুইবার উপেক্ষা করেছে মন্ত্রণালয়। ক্ষুব্ধ ইসি বলেছে, এই আচরণে জনমনে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে সংশয় জাগবে।

সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সাহায্য সহযোগিতা করার আশ্বাস দিলেও কমিশনের একটি অনুরোধ সাড়ে তিন মাস ধরে উপেক্ষা করে আসছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ।

কমিশনের খসড়া প্রস্তাবের পর কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তার তথ্য চেয়ে পাঠানো দুটি চিঠিও উপেক্ষা করা হয়েছে। দুইবার জবাব না পেয়ে এবার কমিশন আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে জবাব দিতে সময় বেঁধে দিয়েছে।

সাংবিধানিক সংস্থা হিসেবে কমিশনকে সহযোগিতা করা সবার কর্তব্য- এই বিষয়টি স্মরণ করিয়ে চিঠিতে এ-ও বলা হয়েছে যে কমিশন যা চাইছে, তা পূরণ না হলে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তারা সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে না।

সরকার সহযোগিতা না করলে জনমনে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে সংশয় জাগবে- এই বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে এই চিঠিতে।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএমে ভোটদানের ক্ষেত্রে আঙুলের ছাপ না মেলায় প্রিসাইংডিং কর্মকর্তার আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে ব্যালট ইউনিট ওপেন করার ব্যবস্থাটি আরপিওতে অন্তুর্ভুক্ত করতে চায় কমিশন। বেশ কিছু আইনের সংস্কারের পক্ষেও তারা।

এ বিষয়ে পাঠানো প্রস্তারের বিষয়ে সাড়ে তিন মাসেও কোনো কিছু জানানো হয়নি কমিশনকে। এতে অসন্তুষ্ট তারা।

রোববার নির্বাচন কমিশনের উপসচিব আব্দুল হালিম স্বাক্ষরিত একটি চিঠি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব বরাবর পাঠানো হয়। এতে এ কথা বলা হয়।

আরপিওর সংশোধন: ইসিকে পাত্তা দিচ্ছে না সরকার

নির্বাচন কমিশনের কড়া প্রতিক্রিয়া

রোববার মন্ত্রণালয় বরাবর পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ- ১৯৭২-এ কিছু সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আরপিও সংশোধন খসড়া বিল প্রস্তুত করে গত ৮ আগস্ট তা লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়।

খসড়া বিলটি নিয়ে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে ২৮ সেপ্টেম্বর জরুরি পত্র পাঠায় কমিশিন। কিন্তু জবাব আসেনি। এরপর ১০ অক্টোবর আরও একটি চিঠি পাঠানো হয়। এবারও কমিশনের চিঠি উপেক্ষা করা হয়।

এবারের চিঠিতে বলা হয়, ‘আরপিওর সংশোধন-সংক্রান্ত খসড়া বিলের অগ্রগতির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে অবগত করার জন্য শেষবারের মতো বিশেষভাবে সনির্বন্ধ অনুরোধ করেছে।’

সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদের বিধান মতে দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করা যে নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য সেই বিষয়টিও চিঠিতে স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়।

এতে বলা হয়, ‘আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং উহার লেজেসটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ রাষ্ট্র ও সরকারের নির্বাহী বিভাগের একাংশ। দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করা ইহার সাংবিধানিক সংবিধিবদ্ধ দায়িত্ব।’

নির্বাচন কমিশন মনে করে, কমিশনের অনুরোধ ও চাহিদা উপেক্ষিত হলে তারা দায়িত্ব পালনে সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে না। এতে নির্বাচন বিষয়ে কমিশনের সক্ষমতা, স্বাধীনতা এবং সরকারের সদিচ্ছা প্রশ্নে জনমনে অনাকাঙ্ক্ষিত সংশয়ের উদ্রেক হতে পারে বলেও ভাবছে তারা।

‘এটা অবহেলা’

নির্বাচন কমিশনকে এভাবে উপেক্ষার বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ব্রতীর নির্বাহী পরিচালক শারমিন মুরশিদ নিউজবাংলাকে বলেন, 'এটা গুরুতর। শুধু আইন মন্ত্রণালয় নয়, সরকারের যে দপ্তরগুলো আছে তাদেরও দায়িত্ব আছে। কী কারণে এমন করছে তা জানি না। এটা অবহেলা, খুব খারাপ দৃষ্টিতে দেখবে জনগণ। নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে সমালোচনা করবে। সরকারের উচিত তার নিজের স্বার্থে জবাব দেয়া।'

আরেক পর্যবেক্ষক সংস্থা ফেয়ার ইলেকশন মনিটরিং অ্যালায়েন্সের (ফেমা) সভাপতি মুনিরা খানম বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে একমত। তারা (নির্বাচন কমিশন) যে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে চায়, তা তো তাদের সহযোগিতা করতে হবে।’

আইন মন্ত্রণালয়ের এই ব্যাপারে চুপ থাকা উচিত না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা যুক্তি দিয়ে দেখাক যে বর্তমান আইনেই সুষ্ঠু নির্বাচন করা যায়। তা না হলে আইন মন্ত্রণালয় ও সরকারের সহযোগিতা করা উচিত।’

মন্ত্রীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি

নির্বাচন কমিশনকে উপেক্ষার বিষয়ে জানতে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি তা কেটে দেন।

তবে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ কথা বললেন অনেকটা নরম সুরে। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকার অসহযোগিতা করছে, এটা বলা যাবে না। হয়তো আইনটা বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। মন্ত্রী অনুমোদন না দিলে পাঠাতে পারছে না।’

আরও পড়ুন:
নিবন্ধন চেয়ে আবেদন ৮০ নয়, ৯৮ বা তার চেয়ে বেশি
নাকফুল, বাবেস, মুসকিল লীগ, বৈরাবরী পার্টিসহ নিবন্ধন চায় যারা
ইসির সাবেকদের নিয়ে বুধবার বৈঠক করবে কমিশন
গোপনীয়তা ভঙ্গ হলেই ভোট বন্ধের নির্দেশ
ডিসি-এসপিদের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার সুযোগ নেই: নির্বাচন কমিশনার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Chhatra League conference on December 6 Kader

ছাত্রলীগের সম্মেলন ৬ ডিসেম্বর: কাদের

ছাত্রলীগের সম্মেলন ৬ ডিসেম্বর: কাদের ছাত্রলীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয় ২০১৮ সালে। ফাইল ছবি
ছাত্রলীগের সবশেষ সম্মেলন হয় ২০১৮ সালের মে মাসে। ওই বছরের জুলাইয়ে সংগঠনের সভাপতি হিসেবে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পান গোলাম রাব্বানী। কিন্তু নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে সংগঠনের শীর্ষ পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন দুইজন। ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জয় ও লেখককে ‘ভারমুক্ত’ করে পূর্ণ দায়িত্ব দেয়া হয়। এখন পর্যন্ত তারা ওই পদে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন।

আগামী ৩ ডিসেম্বর নয়, তিন দিন পিছিয়ে ৬ ডিসেম্বর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের জাতীয় সম্মেলন হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি জানান, ছাত্রলীগের অভিভাবক আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেদিন সম্মেলন অনুষ্ঠানের সম্মতি দিয়েছেন।

রোববার পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে এই তথ্য জানান ক্ষমতাসীন দলের নেতা।

৪ নভেম্বর ক্ষমতাসীন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান জানিয়েছিলেন, ৩ ডিসেম্বর ছাত্রলীগের সম্মেলন হতে যাচ্ছে।

ছাত্রলীগের সবশেষ ২৯তম সম্মেলন হয় ২০১৮ সালের মে মাসে। ওই বছরের জুলাইয়ে সংগঠনের সভাপতি হিসেবে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পান গোলাম রাব্বানী।

কিন্তু নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে সংগঠনের শীর্ষ পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন শোভন ও রাব্বানী।

পরে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব বর্তায় আল নাহিয়ান খান জয়ের ওপর। আর লেখক ভট্টাচার্যকে দেয়া হয় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব।

২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জয় ও লেখককে ‘ভারমুক্ত’ করে পূর্ণ দায়িত্ব দেয়া হয়। এখন পর্যন্ত তারা ওই পদে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন।

ছাত্রলীগকে দ্রুত সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার নির্দেশ দেয়া হলেও জয় ও লেখক নানাভাবে তা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টার করছেন বলে সংগঠনের ভেতর থেকেই অভিযোগ ওঠে। তবে সম্মেলন করার বিষয়ে শেখ হাসিনা নির্দেশ দিলে সেই চেষ্টা থেমে যায়। এরই মধ্যে নেতৃত্বে আসতে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা দেনদরবার করছেন।

আরও পড়ুন:
ছাত্রলীগ নেতাকে বাড়ি থেকে বের করে পিটুনি
ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল বহরে ককটেল হামলা
এমপির ছেলের সভায় ককটেল বিস্ফোরণ
ঢাবি ছাত্রলীগের সম্মেলন ৩ ডিসেম্বর, দুই মহানগরের ২ ডিসেম্বর
পিছিয়ে গেল ছাত্রলীগের সম্মেলন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
BNP will come to the polls without a supervisor Who

তত্ত্বাবধায়ক ছাড়াই ভোটে আসবে বিএনপি: কাদের

তত্ত্বাবধায়ক ছাড়াই ভোটে আসবে বিএনপি: কাদের এরশাদবিরোধী আন্দোলনে গুলিতে নিহত চিকিৎসক শামসুল আলম খান মিলনের প্রতি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুলসহ নেতা-কর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত
‘পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন হয়, বাংলাদেশে সেভাবেই হবে। আমি আশা করি, বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।… আগামী নির্বাচন আসছে, সেটা একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক-সুষ্ঠু নির্বাচন হবে এবং নির্বাচন কমিশনকে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।’

নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিশ্বের কোথায় আছে, বিএনপির কাছে তা জানতে চেয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বিরোধী দলটির এই দাবি পূরণ হওয়ার নয়, জানিয়ে বলেছেন, অন্যান্য দেশে যেভাবে নির্বাচন হবে, বাংলাদেশেও সেভাবেই হবে। বিএনপি সেই ভোটে আসবে, এমন আশার কথাও বলেছেন তিনি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার দাবিতে আন্দোলনে থাকা বিএনপির দলীয় সরকারের অধীনে ভোটে না আসার ঘোষণার মধ্যে রোববার সাংবাদিকদের এ কথা বলেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা।

সেনাশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদবিরোধী আন্দোলনে গুলিতে নিহত চিকিৎসক শামসুল আলম খান মিলনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কাদের সকালে যান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে। পরে মুখোমুখি হন সাংবাদিকদের।

আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপির সরকার পতনের স্বপ্ন কর্পূরের মতো উবে যাবে।… বিএনপি বলুক, পৃথিবীর কোথায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার আছে?’

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার কয়েক বছর পর উচ্চ আদালত এক রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে অসাংবিধানিক রায় দেয়। যে রিট আবেদনের শুনানির পর এই সিদ্ধান্ত আসে, সেই আবেদনটি করা হয় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলেই।

আদালতের আদেশের পর আওয়ামী লীগ সরকার দলীয় সরকারের অধীনে ভোটের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনে। প্রতিবাদে আন্দোলনে গিয়ে ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে তারা। তবে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি নির্বাচিত সরকারের অধীনেই ভোটে অংশ নেয়। সেই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে তারা আবার তত্ত্বাবধায়কের দাবিতে ফিরে গেছে। নইলে ভোট না এসে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও আছে।

তবে দুই দফায় আন্দোলনে নেমে খালি হাতে ঘরে ফেরা বিএনপির এই দাবিতে পাত্তা দিচ্ছে না সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমনকি বিএনপির সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনাও নাকচ করেছেন।

কাদের বলেন, ‘পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন হয়, বাংলাদেশে সেভাবেই হবে। আমি আশা করি, বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।… আগামী নির্বাচন আসছে, সেটা একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক-সুষ্ঠু নির্বাচন হবে এবং নির্বাচন কমিশনকে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।’

নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার নিশ্চয়তাও দেন আওয়ামী লীগ নেতা। বলেন, ‘একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক সেটা আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা চান। সে লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও কর্তৃত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।’

এ ইস্যুতে আন্দোলন না করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘আজকে সংকেটর সময়, মানুষের কষ্ট হচ্ছে। আমরা কিছুটা বিপদে আছি। এটাকে পুঁজি করে বিএনপি আন্দোলন করছে, যা অন্য কোনো দেশে হচ্ছে না বরং বিরোধী দলগুলো সরকারকে সহযোগিতা করছে। আর এদেশে বিএনপি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নামে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। তত্ত্বাবধায়কের দাবি নিয়ে সরকার পতনের এ স্বপ্ন অচিরেই কর্পূরের মতো উবে যাবে।’

আওয়ামী লীগ একা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না মন্তব্য করে কাদের বলেন, ‘গণতন্ত্র এক চাকার গাড়ি না। সরকারের পাশাপাশি বিরোধীদল যদি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন না করে, তাহলে শুধুমাত্র সরকারি দল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে, এটা আশা করে লাভ নেই। কারণ, সরকার ও বিরোধী দলের যৌথ প্রয়াসে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। সে জন্য আমরা বিরোধী দলের সহযোগিতা আশা করছি।

আরও পড়ুন:
পিরোজপুরে ৭ বছর পর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন
তাজউদ্দীনকন্যা রিমি আ.লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য
মহিলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে চুমকি ও শিলা
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহিলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী
আওয়ামী লীগের ভিত জনগণ: হাছান মাহমুদ

মন্তব্য

p
উপরে