× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
The Prime Ministers affection is not good
hear-news
player
google_news print-icon

ভালো নেই প্রধানমন্ত্রীর স্নেহের শম্পা

ভালো-নেই-প্রধানমন্ত্রীর-স্নেহের-শম্পা
এই ছবি দেখে শম্পার পরিবারের জন্য সহায়তা পাঠান প্রধানমন্ত্রী।
‘ভালাই দিন যাইতাছিল। রোজার ইদের পরের দিন রাইতে হঠাৎ কইরে নাক দিয়ে রক্ত পড়া শুরু করে। মেলাক্ষণ রক্ত পড়ছে। পরে মাথাত পানি দিয়ে এডা (একটি) বড়ি (ট্যাবলেট) খায়ে ঘুমাইছি। পরের দিন ডাক্তার দেহাইছি। ডাক্তার ওষুধ দিছিল। ওষুধ খাওয়ার পর এহন কিছুটা কমছে। তাও দুই-এক দিন একটু একটু কইরে পড়ছে।’

বাবার চিকিৎসা করতে ভ্যান চালিয়ে তোলপাড় ফেলা জামালপুরের শিশু তাহাজ্জুদ শম্পা ভালো নেই। গলায় ঘা হয়ে যাওয়ায় মাঝেমধ্যেই নাক দিয়ে রক্ত পড়ছে তার। তার মা নেবুজা খাতুনের হাত-পা প্রায়ই অবশ হয়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে নানা সমস্যা। বাবার পা-ও পুরোপুরি ঠিক হয়নি এত দিনেও।

শম্পার কাহিনি গণমাধ্যমে পড়ে আবেগে ভেসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার নির্দেশে এরপর মেয়েটির জন্য ঘরের ব্যবস্থা করা হয়, উদ্যোগ নেয়া হয় পড়াশোনা নিশ্চিত করার, বাবার চিকিৎসা হয় সরকারি খরচে, তার নিয়মিত আয়ের ব্যবস্থা করতে করে দেয়া হয় দোকানও।

বাবার মুদি দোকানের উপার্জন দিয়ে তিনবেলা খেয়ে সুখেই দিন কাটছিল শম্পাদের। তবে পরিবারের ঘুম কেড়ে নিয়েছে অসুস্থতা। একে একে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ায় কিছুটা কষ্টে দিন পার করছে তারা।

সোমবার দুপুরে নাকাটির গ্রামের বাড়িতে যাবার পথে শম্পার দাদি সরেবান বেগমের সঙ্গে দেখা হয় নিউজবাংলার। নাতনির কথা জিজ্ঞাসা করতেই ৮০ বছর বয়সী সরেবান ওঠেন, ‘আমার নাতির অবস্থা বেশি ভালা না। অসুখ।’

বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় বিছানায় বসে লেখাপড়া করছে শম্পা।

সে বলে, ‘ভালাই দিন যাইতাছিল। রোজার ইদের পরের দিন রাইতে হঠাৎ কইরে নাক দিয়ে রক্ত পড়া শুরু করে। মেলাক্ষণ রক্ত পড়ছে। পরে মাথাত পানি দিয়ে এডা (একটি) বড়ি (ট্যাবলেট) খায়ে ঘুমাইছি। পরের দিন ডাক্তার দেহাইছি। ডাক্তার ওষুধ দিছিল। ওষুধ খাওয়ার পর এহন কিছুটা কমছে। তাও দুই-এক দিন একটু একটু কইরে পড়ছে।’

ভালো নেই প্রধানমন্ত্রীর স্নেহের শম্পা

শম্পার মা নেবুজা খাতুন বলেন, ‘মেয়ের অসুখ হইল, ডাক্তার দেহাইলাম। মেয়ে একটু ভালা হওয়ার পর আবার আমার অসুখ হইল। থাকতে থাকতে হাত-পা সব অবশ হয়ে জায়গা। পরে আমিও ডাক্তার দেহাইলাম। এহনও শরীর ঠিক হয় নাই।’

তিনি বলেন, ‘উপজেলার ইউএনও সার নিয়মিত আঙ্গর (আমাদের) খোঁজখবর রাখেন। লোক পাঠায়ে খবর নেন। নিজেও ফোনে খোঁজখবর নেন। আমরা প্রশাসনের কাছে চিরকৃতজ্ঞ।’

ছয় বছর আগে জামালপুর শহর থেকে বাড়ি ফেরার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় ডান পা ভেঙে যায় শম্পার বাবা শফিকুল ইসলাম ভাষানীর। প্রথমে জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল এবং পরে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে সাত লাখ টাকা খরচ করে চিকিৎসার পরও ভালো হয়নি তার ডান পা।

এরপর থেকেই সব সময় বিছানায় থাকতে হয় শফিকুলকে। সবজি বিক্রি করে সংসারের হাল ধরেন শম্পার মা নেবুজা বেগম। সেই উপার্জনেও যখন সংসার চলে না, তখন বাবার ওষুধের টাকা সংগ্রহ করতে টানা দেড় বছর ভ্যান চালায় শম্পা।

২০২০ সালের নভেম্বরে শম্পার ভ্যান চালানোর খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নজরে আসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তিনি জামালপুরের জেলা প্রশাসককে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেন শম্পার। তার বাবাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নিয়ে এসে চিকিৎসা করানো হয়।

ডিসেম্বরের শুরুতে শম্পার জন্য বাড়ি করে দেয়ার কাজে হাত দেয় প্রশাসন। তার পরিবারকে দেয়া হয় টাকা। এরপর আর ভ্যান চালানোর দরকার পড়েনি শম্পার। সেই সময়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়া শম্পা এখন কুটামনি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির তারকা ছাত্রী। আর জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের নাকাটি গ্রামের শম্পা পুরো জেলার এক পরিচিত মুখ।

ভালো নেই প্রধানমন্ত্রীর স্নেহের শম্পা

দোকানে চা খেতে খেতে কথা হয় শম্পার বাবা শফিকুল ইসলাম ভাষানীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমার পা ভাঙা। এহনও ওষুধ খাওয়া লাগে। এছাড়াও পরিবারের সবার অসুখ। সবার ওষুধ কিনতে কিনতে আমার দিন শেষ। এই এক দোকানের কামাই দিয়ে সংসার চালান লাগে আবার সবার ওষুধও কিনা লাগে। এর জন্য দোকানে আগের মতো মালও তুলবার পাই না। দোকানের মালও কইমে গেছে গা। খুব একটা সমস্যার মধ্যে আছি।

‘প্রতি তিন মাস পর পর আমার ঢাকা যাওয়া লাগে। ডিসি স্যার, ইউএনও স্যার। আঙ্গর মেলা খোঁজখবর রাখেন। ঢাকা যাবার সব ব্যবস্থা করেন। আমার চিকিৎসার সব খরচও দিতাছেন।’

২০২০ সালের নভেম্বরে শম্পার ভ্যান চালানোর খবরটি সর্বপ্রথম ইউটিউবে আপলোড করেন বিজয় টিভির জামালপুর প্রতিনিধি জুয়েল রানা। এরপর ধীরে ধীরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে নজরে আসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

সাংবাদিক জুয়েল রানা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সেই সময় প্রধানমন্ত্রীর সহায়তায় ঘুরে দাঁড়িয়েছিল পরিবারটি। কিন্তু ভাগ্যের লীলাখেলায় আবারও পরিবারটিতে অন্ধকারের ছায়া নেমে এসেছে। এখন যদি উপজেলা প্রশাসন আরও কিছু সহায়তা করে তাহলে শম্পা ও তার পরিবার কিছুটা উপকৃত হতো।’

জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিটুস লরেন্স চিরান বলেন, ‘শম্পা এবং তার পরিবারের সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ করছি। নিয়মিত কথা হয়। এলাকার জনপ্রতিনিধিরাও নিয়মিত খবর রাখছেন। তাদের সব সহযোগিতায় আমরা ছিলাম, এখনো আছি, ভবিষ্যতেও থাকব।’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
BIWTA destroyed farmers potato fields

বিআইডাব্লিউটিএ নষ্ট করল কৃষকের আলুর ক্ষেত

বিআইডাব্লিউটিএ নষ্ট করল কৃষকের আলুর ক্ষেত দিনাজপুরে নদী খননের নামে বিআইডাব্লিউটিএ কৃষকদের আবাদ করা আগাম জাতের আলুর ক্ষেত নষ্ট করছে। ছবি: নিউজবাংলা
দিনাজপুরে পুনর্ভবা নদী খনন শুরু করছে বিআইডাব্লিউটিএ। নদীর দুই পারে ৫০০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন কৃষকরা। সেগুলো নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষকরা বলছেন, তাদের এক মাসের সময় দেয়া হোক।

আগামী দিনে দেশে খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সব ধরনের জমিতে ফসল আবাদ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি পতিত জমিতেও ফসল চাষাবাদ করার নির্দেশনা দিলেও দিনাজপুরে নদী খননের নামে বিআইডাব্লিউটিএ কৃষকদের আবাদ করা আগাম জাতের আলুর ক্ষেত নষ্ট করছে। এমনকি ব্যক্তিগত আলুর ক্ষেতও এস্কাভেটর মেশিন দিয়ে খুঁড়ে দিয়েছে সরকারি এ প্রতিষ্ঠান।

এভাবে কয়েক একর জমির আলুর ক্ষেত নষ্ট করে দিয়েছে বিআইডাব্লিউটিএ। ফসল ওঠা পর্যন্ত কৃষকরা সময় চাইলেও তাদের কথা শোনা হচ্ছে না।
সম্প্রতি দিনাজপুর সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের মহব্বতপুর, উলিপুর ও খাড়িপাড়ার শতাধিক ভুক্তভোগী কৃষক দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক বরাবর একটি অভিযোগ দিয়েছেন।

চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুর শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত পুনর্ভবা নদীর খনন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। নদীটির খনন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে বিআইডাব্লিউটিএ।

নদীর ৩৩ কিলোমিটার খনন করতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৩ কোটি ৯৫ লাখ ৬৯ হাজার ৫৬০ টাকা। পৃথক পাঁচটি প্যাকেজে পাঁচটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে নদীর পাশে জমিতে বিভিন্ন চাষাবাদ করে আসছি। সেই আলোকে আমরা আগাম জাতের আলু রোপণ করেছি। আর কয়েক দিন পরই আলু বাজারে ওঠানোর মতো অবস্থায় চলে আসবে। কিন্তু এরই মধ্যে জানতে পারলাম যে বিআইডাব্লিউটিএ কর্তৃক পুনর্ভবা নদী খনন শুরু হবে। ইতোমধ্যে তারা কয়েকজন কৃষকের আলুর ক্ষেত খুঁড়ে দিয়েছে। এভাবে খুঁড়তে থাকলে ৫০০ বিঘা জমির আলু নষ্ট হবে। তাই আমাদের এক মাসের সময় দেয়া হোক। নইলে আমাদের অপূরণীয় ক্ষতি হবে।’

উলিপুর গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে পুনর্ভবা নদী। নদীটির পাশেই চরে মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে সারি সারি নতুন আলুর গাছ। আর কয়েক দিন পরে এই ক্ষেতে আলু বাজারে উঠতে শুরু করবে। কিন্তু কৃষকের হাসি বিষাদে রূপ নিতে শুরু করেছে বিআইডাব্লিউটিএর কারণে। আগাম জাতের আলুর ক্ষেত নষ্ট করে নদী খনন কার্যক্রম পরিচালনা করছে তারা। অনেক কৃষকের আলুর ক্ষেত খুঁড়ে মাটি সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। এতে করে কৃষকরা ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে। বারবার সময় চেয়েও পাচ্ছে না কৃষকরা। এমনকি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিকে নদীর জমি হিসেবে চিহ্নিত করে খুঁড়ে দেয়া হচ্ছে।

বিআইডাব্লিউটিএ এমন কার্যক্রমের ফলে অসহায় হয়ে পড়েছে ওই গ্রামের বহু কৃষক। নদী খনন কার্যক্রম চলমান থাকলে প্রায় ১ কোটি টাকার আলুর ফলন নষ্ট হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন কৃষকরা।

কিষানি নুর বানু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই জমি আমাদের। আমরা একজনকে বর্গা দিছি। কিন্তু বিআইডাব্লিউটিএ সরকারের জমি বলে খুঁড়ে দিছে। এখন তো ওই লোকের অনেক ক্ষতি হলো। আলুর গাছ খুঁড়ে নষ্ট করে দেয়া হলো।’

কৃষক আব্দুল জলিল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যদি এই জমিগুলো সরকারের হয়, তাহলে তো আমাদের মাইকিং করে জানাতে পারত। কিন্তু এখন আলুর ক্ষেত নষ্ট করে দেয়া হচ্ছে। এখানে এক বিঘা জমিতে ৪০ মণ আলু পাওয়া যায়। আমরা ঋণ ও ধারদেনা করে এই আলুর চাষাবাদ করতেছি।

‘নদী খনন হলে ৫০০ থেকে ৭০০ একর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ইতিমধ্যে আমার জমির পাশেই এক একর জমির ফসল নষ্ট করে দিয়েছে। আমরা তো এই জমি খেয়ে ফেলতেছি না। আমরা তো খাদ্য উৎপাদন করতেছি। তাই আমরা তাদের কাছে এক মাসের সময় চাচ্ছি।’

কৃষক আরিফ আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই জমি আমার রেকর্ডভুক্ত সম্পত্তি। অথচ এখন নদী খনন করতে এসে তারা সরকারের জমি বলে দাবি করতেছে। এখানে জমি বর্গা দিয়েছি। বর্গা চাষিদের ফসল নষ্ট করে দিল। পাশাপাশি আমার জমি খুঁড়ে শেষ করে দিল। জমির সব ধরনের কাগজপত্র আমার কাছে আছে। কিন্তু তাদের কাছে কাগজপত্র দেখতে চাইলে তারা কাগজপত্র দেখাতে পারছে না।’

তরুণ উদ্যোক্তা মোসাদ্দেক হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই জমিগুলোর আলু আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই উঠতে শুরু করবে। জমি খুঁড়ে ফেলার ফলে কৃষকদের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। খনন কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে এই এলাকার প্রায় ১ কোটি টাকার আলু নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই কৃষক ও জাতির স্বার্থে খনন কার্যক্রমটি ২০ দিন অথবা এক মাস বন্ধ রাখার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি অনুরোধ রাখছি।’

এ ব্যাপারে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক খালেদ মোহাম্মদ জাকীকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এমনকি খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তার কোনো জবাব দেননি।

আরও পড়ুন:
বিচারক বদলি, পেছাল ঘোড়াঘাটের ইউএনও হত্যাচেষ্টা মামলার রায়
যুগ পর কাউন্সিলের তারিখে বিএনপি নেতাদের দৌড়ঝাঁপ
গৃহায়নের প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগ, অবরুদ্ধ কার্যালয়

মন্তব্য

বাংলাদেশ
What is the reason behind more than one lakh drop in SSC

এসএসসিতে এক লাখ বেশি ফেলের পেছনে কী কারণ

এসএসসিতে এক লাখ বেশি ফেলের পেছনে কী কারণ এসএসসির একটি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীরা। ফাইল ছবি
কয়েকটি বছরের ফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, গত বছরের পরিসংখ্যান বাদ দিলে এর আগের বছরগুলোর তুলনায় পাসের হারে এবার বড় ধরনের হেরফের নেই। বরং ২০১৯ বা ২০২০ সালের তুলনায় এবার পাসের হার খানিকটা বেশি।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয়া ১৯ লাখ ৯৪ হাজার ১৩৭ শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেনি ২ লাখ ৫০ হাজার ৫১৮ জন। অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এই সংখ্যা গত বছরের চেয়ে এক লাখেরও বেশি।

এ বছর ২ হাজার ৯৭৫টি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে, তবে ৫০টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়নি। গত বছর এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ১৮। ২০২১ সালে শতভাগ পাসের প্রতিষ্ঠান ছিল ৫ হাজার ৪৯৪।

প্রশ্ন উঠেছে, আগের বছরের তুলনায় এবার পাসের হারে কেন এত অবনতি? এটি ধারাবাহিক ঘটনা কি না, কী এর কারণ- তেমন প্রশ্নও উঠছে।

তবে কয়েকটি বছরের ফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, গত বছরের পরিসংখ্যান বাদ দিলে এর আগের বছরগুলোর তুলনায় পাসের হারে এবার বড় ধরনের হেরফের নেই। বরং ২০১৯ বা ২০২০ সালের তুলনায় এবার পাসের হার খানিকটা বেশি।

চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সামগ্রিকভাবে পাসের হার ৮৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ। অর্থাৎ এ বছর ১২ দশমিক ৫৬ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

আগের বছর ২০২১ সালে মাত্র ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেনি।

তবে ২০২০ সালে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৮২ দশমিক ৮৭ শতাংশ, অর্থাৎ সে বছর ১৭ দশমিক ১৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

তারও আগের বছর ২০১৯ সালে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থী ছিল ১৭ দশমিক ৮০ শতাংশ। চারটি বছরের ফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, গত বছরটিতেই কেবল আকস্মিকভাবে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ব্যাপক হারে কমে আসে।

এসএসসির ফলে বিশেষ উন্নতির পেছনে কী কারণ ছিল ২০২১ সালে?

শিক্ষা বোর্ড এবং বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকেরা বলছেন, করোনাকালীন বিশেষ পরিস্থিতি ২০২১ সালের পরীক্ষায় বিস্ময়কর পাসের হারে ভূমিকা রেখেছে। করোনা মহামারির অচলাবস্থার পর গত বছরের এসএসসিতে মাত্র তিনটি পরীক্ষা নেয়া হয়।

গত বছর বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, জীববিদ্যা/উচ্চতর গণিত বিষয়ে তিনটি পরীক্ষা হয়। মানবিকে ছিল ভূগোল ও পরিবেশ, বাংলাদেশের ইতিহাত ও বিশ্বসভ্যতা, পৌরনীতি ও নাগরিকতা/অর্থনীতির ওপর তিনটি পরীক্ষা। আর ব্যবসায়ে শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা হিসাববিজ্ঞান, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং এবং ব্যবসায়িক উদ্যোগ বিষয়ে পরীক্ষা দেয়।

অন্য বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে নম্বর যোগ হয় জেএসসি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে। ফলে অনেক চাপমুক্ত থেকে পরীক্ষা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। অকৃতকার্যের হারও ছিল অনেক কম। বিপরীতে এ বছর নয়টি বিষয়ে পরীক্ষা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

পরীক্ষাসংশ্লিষ্টরা বলছেন এ বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল কেমন হলো তা সঠিক পর্যালোচনা করতে তুলনাটি করতে হবে করোনা স্থবিরতা তৈরি হওয়ার আগের বছরগুলোর সঙ্গে। আর সে ক্ষেত্রে দেখা যায়, ২০২০ সাল বা ২০১৯ সালের তুলনায় পাসের হার এবার বেড়েছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান তপন কুমার সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের এবারের ফলের সঙ্গে ২০২১ সালের তুলনা করা উচিত হবে না। তুলনা করতে হলে ২০১৯ বা ২০২০ সালের সঙ্গে করা উচিত।

‘২০২১ সালে শিক্ষার্থীরা সুবিধা পেয়েছে বেশি। অর্ধেক নম্বরের ওপর পরীক্ষা ছিল। এবার কিন্তু তা ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘২০১৯ অথবা ২০২০ সালে পরীক্ষার্থীদের জন্য কোনো আলাদা সুযোগ ছিল না। করোনা পূর্ববর্তী সময়ের হওয়াতে সবগুলো বিষয়ের ওপর ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হয়েছিল।’

যশোর শিক্ষা বোর্ডের প্রধান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গতবার কম বিষয়ের কারণে পাসের হারও বেশি ছিল। শর্ট সিলেবাসে তারা বেশি সুযোগ পেয়েছে। এবার সিলেবাসও কম ছিল আবার পরীক্ষায় অপশন বেশি ছিল। তবে এবার যারা পাস করেছে তারা সবাই ভালো করেছে।’

রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরজাহান বেগম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যদি আমরা ফলাফল ও শিখনের ওপর গুরুত্ব দিই তবে আমাদের এবারের ফল ২০২০ সালের চেয়ে ভালো। ২০২১ সালে মাত্র তিনটি বিষয়ে অর্ধেক নম্বরের ওপর পরীক্ষা হলেও এবার নম্বর ও বিষয় বেড়েছে।’

বরিশাল জিলা স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক বিশ্বনাথ সাহা অবশ্য মনে করছেন এবারের ফলের ওপরেও করনাকালীন পরিস্থিতির প্রভাব রয়ে গেছে।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনার একটা প্রভাব থেকেই যাবে। যত সুযোগ দেয়া হোক না কেন একটা শিখন ঘাটতি থাকবে। অনেকেই সে সময় ঝরে গেছে, যারা ছিল তারাই ভালো করেছে। এটা ঠিক হতে কিছু বছর সময় লাগবে।’

প্রভাব ফেলেছে বন্যাও

এসএসসি পরীক্ষার সময়ে সিলেট বিভাগে বন্যা ওই অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। এবার সিলেট বোর্ডে সবচেয়ে কম ৭৮ দশমিক ৮২ শতাংশ শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সোমবার ফলের বিস্তারিত তুলে ধরার শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনিও এ বিষয়টি তোলেন।

পরীক্ষায় পাসের হার নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই সব শিক্ষার্থী পাস করবে। আমাদের সবকিছুই ঠিক ছিল, তবে একটা কারণে (বন্যা) সেটা হয়নি। সবকিছু বাদ দিয়েছি। নতুন করে আবার রুটিন দিয়েছি। এ কারণে কিন্তু শিক্ষার্থীর ওপর একটা চাপ পড়ে। একরকম প্রিপারেশন থাকে, সেটা ব্যাহত হয়।’

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন বোর্ডের রেজাল্ট কিন্তু একটা আলাদা আলাদা প্রভাব ফেলে। যশোর বোর্ডে যেমন ৯৫ ভাগ আছে, আবার কোথাও কোথাও ৭৮ ভাগ। বন্যার কারণে এটা হতেই পারে। অনেক স্কুলে সমস্যা হয়েছে, অনেক পরীক্ষার্থীকে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে হয়েছে।’

কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্য পাসের হার নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকবার এটা নিয়ে যে ব্যবস্থা নিই, এবারও সেটা নেব। আমরা কতটা সাপোর্ট দিয়ে থাকি আর কোথায় ঘাটতি আছে সেটা দেখতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘একটা লার্নিং গ্যাপ আছে। এটা সারা বিশ্বেই আছে। তবে এটা পরিবর্তন করতে হবে। আমাদের লার্নিং গ্যাপ করোনার সময় বাড়েনি। অনেক দেশে এটা অনেক বেড়েছে। এখানে সে সময় ৯৩ ভাগ শিক্ষার্থীর কাছে অ্যাসাইনমেন্টপদ্ধতি পৌঁছে গিয়েছিল, এতে তারা নিজেরাই শিখন ঘাটতি পূরণ করেছে।’

গত বছরের চেয়ে এবার বেড়েছে জিপিএ ফাইভ

গত বছরের চেয়ে এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার কমলেও জিপিএ ফাইভ বেড়েছে প্রায় ১ লাখ। চলতি বছর জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ শিক্ষার্থী। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮৩ হাজার ৩৪০ শিক্ষার্থী।

এবার সাধারণ বোর্ডে জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৭৬৩ শিক্ষার্থী। পাসের হার ৮৮ দশমিক ১০ শতাংশ।

দাখিলে জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ১৫ হাজার ৪৫৭ শিক্ষার্থী। পাসের হার ৮২ দশমিক ২২ শতাংশ।

কারিগরি বোর্ডে জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ১৮ হাজার ৬৫৫ শিক্ষার্থী। পাসের হার ৮৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে কমেছে পাসের হার, বেড়েছে জিপিএ ফাইভ
এসএসসির সাফল্যে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস
পাসের হারে সিলেট কেন তলানিতে
এবার পরীক্ষার্থী কমলেও ফেল বেড়েছে লাখের বেশি
পাসের হারে শীর্ষে যশোর, তলানিতে সিলেট

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The brick kiln is still running without permission from the Department of Environment

পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই, তবুও চলছে ইটের ভাটা

পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই, তবুও চলছে ইটের ভাটা খুলনা জেলা প্রশাসন থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ১৫৩টি ইটভাটার ৫৩টিতে ছাড়পত্র ছাড়াই ইট তৈরি করা হচ্ছে। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
ফুলতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিন বলেন, ‘পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না পাওয়া ভাটাগুলোকে আমরা জরিমানা করেছি। একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তারা ছাত্রপত্র জোগাড় করবে। না পারলে ভাটা লোকালয় থেকে সরিয়ে নেবে।’

খুলনা জেলা প্রশাসন থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ৯টি উপজেলায় ইটের ভাটা ১৫৩টি। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা কার্যালয় থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে মাত্র ১০০টি ইটের ভাটাকে। বাকি ৫৩টি ছাড়পত্র না পেয়েও ইট তৈরি করে যাচ্ছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, দাকোপ উপজেলায় একটি, বটিয়াঘাটায় চারটি, ফুলতলায় ১৩টি, দিঘলিয়ায় চারটি, রূপসায় ৬৮টি, তেরখাদায় ৭টি, কয়রায় তিনটি, ডুমুরিয়ায় ৪১টি ও পাইকগাছায় ১২টি ইটভাটা লাইসেন্সপ্রাপ্ত।

অন্যদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের তালিকা অনুযায়ী খুলনায় বৈধ ইটভাটা রূপসায় ৬৩টি, ডুমুরিয়ায় ২০টি, বটিয়াঘাটায় পাঁচটি, তেরখাদায় ৯টি ও দিঘলিয়ায় তিনটি। বাকিগুলোর ছাড়পত্র নেই।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনের ৯ ধারায় বলা হয়েছে, ‘যেকোনো ব্যক্তি নির্ধারিত পদ্ধতি এবং নির্ধারিত দরখাস্ত-ফি, দলিলাদি ও তথ্যাদি প্রদানসাপেক্ষে ইট প্রস্তুতকরণের লাইসেন্সের জন্য ইটভাটা যে জেলায় অবস্থিত সেই জেলার জেলা প্রশাসক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তার কাছে দরখাস্ত দাখিল করিতে পারিবেন। তবে শর্ত থাকে যে, পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের অধীন ইস্যুকৃত পরিবেশগত ছাড়পত্র ব্যতীত কোনো ব্যক্তি উক্তরূপ দরখাস্ত দাখিল করিতে পারিবেন না।’

পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই, তবুও চলছে ইটের ভাটা

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আইন অনুযায়ী আবাসিক, সংরক্ষিত বা বাণিজ্যিক এলাকা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা উপজেলা সদর, সরকারি বা ব্যক্তিমালিকানাধীন বন, অভয়ারণ্য, বাগান বা জলাভূমি, কৃষিজমি, প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা, ডিগ্রেডেড এয়ার শেডে ইটের ভাটা স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয় না। এ ছাড়া সরকারি বনাঞ্চলের সীমারেখা থেকে ২ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে ও বিশেষ কোনো স্থাপনা, রেলপথ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও ক্লিনিক, গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা অনুরূপ কোনো স্থান বা প্রতিষ্ঠান থেকে কমপক্ষে এক কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে কোনো ইট ভাটার ছাড়পত্র দেয়া হয় না।

খুলনার ফুলতলা উপজেলায় ইটের ভাটাগুলো লোকালয়ের ভেতরে হওয়ায় সেখানে কোনো ভাটাকে ছাড়পত্র প্রদান করা হয়নি। তবে ওই ভাটার মালিকরা এসব আমলে না নিয়ে বছরের পর ধরে ভাটা পরিচালনা করছেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই, তবুও চলছে ইটের ভাটা

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফুলতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিন বলেন, ‘পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না পাওয়া ভাটাগুলোকে আমরা জরিমানা করেছি। একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তারা ছাত্রপত্র জোগাড় করবেন। না পারলে ভাটা লোকালয় থেকে সরিয়ে নেবেন।’

অন্যদিকে নদীর জায়গা, কৃষিজমি বর্গা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে হওয়ায় ডুমুরিয়া উপজেলার ২১টি ইটের ভাটাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি।

পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই, তবুও চলছে ইটের ভাটা

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ আসিফ রহমান বলেন, ‘নদীর জায়গা দখল করায় কয়েকটি ভাটার ছাড়পত্র নেই। আমি এখানে নতুন এসেছি। ইটের ভাটার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান আছে। সব কিছুর কাগজপত্র দেখে অভিযান চালাতে সময় লাগবে।’

একইভাবে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৫০০ মিটারের মধ্যে ঘনবসতি এলাকায় রয়েছে কয়রার এবিএম নামের ভাটা। পাইকগাছায় কৃষি জমির মধ্যে এআরবি ব্রিকস, যমুনা ব্রিকস, এসকেবি ব্রিকসসহ ১২টি ভাটায় ইট পোড়ানো হচ্ছে, যাদের কোনো ছাড়পত্র নেই। এসব ভাটা থেকে নির্গত হচ্ছে পরিবেশগত দূষক, যা বায়ুমণ্ডলে মিশে স্বাস্থ্য, কৃষি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।

খুলনা অঞ্চলের নদ-নদী ও পরিবেশ নিয়ে ২৫ বছর ধরে গবেষণা করছেন গৌরাঙ্গ নন্দী।

তিনি বলেন, ‘ইটভাটা থেকে দূষিত গ্যাস ও তাপ আশপাশের জলাভূমি, জীবজন্তু, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে থাকে। অথচ নিয়ম না মেনে পরিবেশ ছাড়পত্র না নিয়ে যেখানে-সেখানে ইটভাটা গড়ে তোলা হয়েছে এবং হচ্ছে। কৃষিজমি নষ্ট, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ এমন প্রক্রিয়ায় ইটভাটাগুলোয় ইট তৈরি বন্ধ করতে হবে। আইনের তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত মাত্রায় কার্বন ও সালফার নিঃসরণ, বসতবাড়ি, কৃষিজমি, টিলাসংলগ্ন সমতলে ইটভাটা স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি মাটির ইটের বিকল্প হিসেবে যেসব উপকরণ ও পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়েছে, তার ব্যবহার বাড়াতে হবে।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আইন মোতাবেক প্রতি তিন বছর পর পর জেলা প্রশাসন থেকে ইটভাটার লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়। এ ছাড়া প্রতি বছর পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিতে হয়। যেগুলোকে ছাড়পত্র দেওয়া হয় না, তাদের এক বছর সময় দেওয়া হয় ভাটা সরিয়ে নেওয়ার জন্য। এর বাইরে যেসব ভাটা ছাড়পত্র ছাড়া চলছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
মধুমতিতে মিলে প্রবাহ ফিরে পেতে যাচ্ছে পাঁচুড়িয়া খাল
১৫ হাজার কি.মি. হেঁটে যে বার্তা নিয়ে এলেন যুবক
ইটভাটা বন্ধ করতেই হবে: মেয়র আতিক
বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে চাই পরিবেশবান্ধব শিল্প
চেয়ারম্যানের ইটভাটায় সিসা কারখানা, বাড়ছে রোগব্যাধি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
What is going to happen in Dhaka on December 10?

১০ ডিসেম্বর কী হতে যাচ্ছে ঢাকায়?

১০ ডিসেম্বর কী হতে যাচ্ছে ঢাকায়? বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমানের একটি বক্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ১০ ডিসেম্বর আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। এর পর দিনটিকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি উত্তেজনাকর বক্তব্য আসে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, অন্যান্য বিএনপি নেতাসহ প্রগতিশীল ও বামপন্থি নেতাদের কাছ থেকে। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
একদিকে বিএনপি নেতাদের হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কঠোর বার্তা ১০ ডিসেম্বরকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। বিএনপি বলছে, এ দিন তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা ও এটি মেনে নেয়ার আলটিমেটাম দেবে। দিনটি নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকেও প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে হঠাৎ করেই আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে ১০ ডিসেম্বরের দিনটি। প্রায় দেড় যুগ ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা দল বিএনপি এ দিন তাদের ধারাবাহিক বিভাগীয় সমাবেশের ইতি টানবে ঢাকায় সমাবেশের মধ্য দিয়ে।

১০ ডিসেম্বরের এই সমাবেশে বিপুল লোকসমাগম করতে চায় বিএনপি। এ নিয়ে সরকারি দলের পক্ষ থেকেও পাড়া-মহল্লায় সতর্ক প্রহরাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি দেয়া হচ্ছে।

গত ১২ অক্টোবর চট্টগ্রাম থেকে শুরু হওয়া বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে নেতা-কর্মীদের বিপুল সমাগম ঘটে, যা দলটির এত দিনকার রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলোর তুলনায় ছিল ব্যতিক্রম। এরপর ২২ অক্টোবর খুলনা, ২৯ অক্টোবর রংপুর, ৫ নভেম্বর বরিশাল, ১২ নভেম্বর ফরিদপুর, ১৯ নভেম্বর সিলেটে ও ২৬ নভেম্বর কুমিল্লায় গণসমাবেশ করে বিএনপি। আগামী ৩ ডিসেম্বর রাজশাহীতে গণসমাবেশের পর ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় হবে মহাসমাবেশ।

দিনটি উপলক্ষে একদিকে বিএনপি নেতাদের হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কঠোর বার্তায় আমানউল্লাহ আমান বলেন, ‘১০ ডিসেম্বর থেকে দেশ চলবে খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের নির্দেশে।’

এ সমাবেশকে ঘিরে রাজধানীতে আওয়ামী লীগের পাল্টা কর্মসূচিসহ সতর্ক পাহারা বসানোর পরিকল্পনায় দিনটি ভিন্ন মাত্রা পাচ্ছে। অনেকে রাজনৈতিক সংঘাতের শঙ্কাও করছেন।

ফলে ১০ ডিসেম্বর এলেই ঢাকায় কী হতে যাচ্ছে, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল দেখা দিয়েছে।

১০ ডিসেম্বর তারা কী করতে যাচ্ছেন, জানতে চাওয়া হলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঢাকায় সমাবেশ হবে, যেমনটা হয়েছে চট্টগ্রামে, যেমনটা হয়েছে সিলেটে। বিস্তারিত পলিসির অন্তর্ভুক্ত। সময়মতো জানতে পারবেন।’

দলীয় সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন করবে বিএনপি। সেখানে ১০ ডিসেম্বর ঢাকার গণসমাবেশ নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করবে বিএনপি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক সিনিয়র নেতা বলেন, ‘সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবেই হবে। তবে ঢাকা দেশের মূল কেন্দ্র। তাই এটা নিয়ে আওয়াজও বেশি। আর বাকি বিভাগে জনস্রোত দেখে সরকার ভয় পেয়েছে। তাদের মন্ত্রী-আমলারাই এটাকে রণক্ষেত্র বানিয়ে তুলছে। তবে বাধা এলে বিএনপি বসে থাকবে না, পিছুও হটবে না।’

পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি

খালেদা জিয়ার নির্দেশে দেশ চলা সংক্রান্ত আমানউল্লাহ আমানের বক্তব্যের ধারাবাহিক সুর শোনা যায় দলটির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির কণ্ঠে। এ্যানি বলেন, ‘১০ ডিসেম্বর থেকেই সরকার আর কাজ করবে না। দেশ চলবে বিএনপির শীর্ষ নেতার কথায়।’

পরদিন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ‘১০ ডিসেম্বর ঢাকায় সমাবেশ হবে ‘আটলান্টিক মহাসাগরের’ মতো। এই সমাবেশে খালেদা জিয়া যাবেন।’

এর আগে গত ২ অক্টোবর বিএনপির সঙ্গে সংলাপ শেষে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘চমক আছে সামনে।’

বিএনপি ও তার সমমনা দলের নেতাদের এসব বক্তব্যকে সামনে এনে কথা বলা শুরু করেন ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী-নেতারা। ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকার প্রবেশমুখে সমাবেশ এবং পাড়া-মহল্লায় সতর্ক পাহারায় থাকার ঘোষণা দেয়া হয় ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে।

‘১০ ডিসেম্বরের পর বিএনপিকে লালকার্ড দেখানো হবে’ বলে হুঁশিয়ার করে দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। ৩১ অক্টেবর গাজীপুরে যুব মহিলা লীগের সম্মেলনে এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ৪ নভেম্বর এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘১০ ডিসেম্বর বিএনপির আন্দোলনের পতন ঘণ্টা বাজবে।’

৫ নভেম্বর রাজধানীর বাড্ডায় আরেক অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপিকে আর ছাড় দেয়া হবে না। ডিসেম্বরে খেলা হবে, প্রস্তুত হয়ে যান।’

৩১ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে এক সভায় যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, ‘বিএনপিকে মোকাবিলা করার জন্য যুবলীগ প্রস্তুত আছে। আগামী ১০ ডিসেম্বর রাজপথে থাকবে যুবলীগ।’

আওয়ামী লীগের এমন কঠোর হুঁশিয়ারি প্রসঙ্গে আমানউল্লাহ আমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কে কী বলল, সেটা এখন আমরা ভাবছি না, আমলে নিচ্ছি না। আমাদের আট বিভাগে ইতিমধ্যে সমাবেশ হয়ে গেছে। এগুলোতে আওয়ামী লীগ নানাভাবে বাধা দিয়েছে। গণপরিবহন বন্ধ করে দেয়া থেকে শুরু করে গ্রেপ্তার, মিথ্যা মামলাসহ সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে। কিন্তু এসব উপেক্ষা করেই প্রতিটি বিভাগীয় সমাবেশে জনস্রোত দেখিয়েছি। ঢাকার সমাবেশের আগেও এমন নানা চাল চালতে পারেন। তবে সেসব উপেক্ষা করেই নয়াপল্টনে লাখো মানুষের সমাগম হবে।’

তবে ঢাকায় নয়াপল্টনে সমাবেশের অনুমোদন এখনো পায়নি দলটি। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, বিএনপি চাইলে তাদের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ করার অনুমতি দেয়া হবে।

নয়াপল্টনে সমাবেশের অনুমতি না পেলে কী করবেন জানতে চাইলে দলটির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘আমরা ডিএমপি কমিশনারকে সব কিছু বলে এসেছি। অনেক কিছু স্মরণ করিয়ে দিয়েছি। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দেশের জন্য অবদানের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়ে আসছি। আশা করি সমাবেশের অনুমতি দিবেন। কোনো রাজনৈতিক দলের হুমকি, হুঁশিয়ারি আমরা তোয়াক্কা করি না।’

অনুমিত না পেলেও সমাবেশ করবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই অনুমতি দেবে। আমরা সমাবেশ করব। সমাবেশে যাতে কেউ বিশৃঙ্খলা করতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশের সার্বিক সহযোগিতা চেয়েছি।’

বিএনপি কী করতে চায়?

১০ ডিসেম্বরের পরিকল্পনা নিয়ে বিএনপির সিনিয়র নেতা থেকে তৃণমূল পর্যায়ে একাধিক নেতা-কর্মীর সঙ্গে কথা বলেছে নিউজবাংলা।

বিএনপির নেতারা বলছেন, সারা দেশে বিভাগীয় পর্যায়ে যে গণসমাবেশ তারা করেছেন, তারই ধারাবাহিকতায় ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় গণসমাবেশ হবে। ৯টি বিভাগে সমাবেশের পর ঢাকায় তাদের শেষ গণসমাবেশ। এই সমাবেশ ঘিরে ঢাকা দখল বা অবরুদ্ধ করে সরকার পতনের ডাক দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। শুধু বড় জনসমাবেশ করাই তাদের লক্ষ্য। একই সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায়ে আলটিমেটাম ও যুগপৎ আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা হবে বলেও জানা যায়।

গত ১ অক্টোবর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সভাগুলোতে দলের ১০ সাংগঠনিক বিভাগের নেতারা দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে আন্দোলনের ধরন ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত পরামর্শ দিয়েছেন।

এসব গণসমাবেশে বিএনপির স্থানীয় নেতারা দাবি আদায়ে কঠোর কর্মসূচি চেয়েছেন। সে ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে কঠোর হওয়ার প্রস্তাব করেছেন তারা। পাশাপাশি ইস্যু হিসেবে জনসম্পৃক্ত বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেওয়ার জন্য শীর্ষ নেতৃত্বকে পরামর্শ দেন বিভাগের নেতারা।

বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, প্রস্তাবিত কর্মসূচির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে: অবরোধ, লংমার্চ, জেলা থেকে জেলায় রোড মার্চ, ঢাকা থেকে বিভাগীয় শহরে রোড মার্চ, ৬৮ হাজার গ্রামে একই দিন গণমিছিল।

নেতদের প্রস্তাবে আরও রয়েছে, ১০ ডিসেম্বর থেকে লাগাতার কর্মসূচি প্রদান এবং সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি।

হরতাল-অবরোধ নয়, জনস্রোত দেখানোই লক্ষ্য

বিএনপির গত দুই মাসের কর্মসূচিগুলোতে দলের নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত দেখা গেছে। সভা-সমাবেশগুলোতে উপস্থিতি দিন দিন বেড়েছে। আবার দলীয় নেতা-কর্মীর বাইরে সমাবেশস্থলে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে, শহরকেন্দ্রিক সমাবেশগুলোতে রিকশাচালক থেকে শুরু করে সমাজের নিম্নস্তরের লোকজনের উপস্থিতি ছিল। বিএনপির সাম্প্রতিক কর্মসূচিতে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস এবং তেল-গ্যাস-জ্বালানির দাম কমানোর দাবি জানানো হয়।

১০ ডিসেম্বরের মহাসমাবেশকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত সকল থানা ও ওয়ার্ডসহ সারা দেশ থেকে সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের এ মহাসমাবেশে জড়ো করে বড় ধরনের শোডাউনের চেষ্টা করছে দলটি।

সমাবেশে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী জড়ো করতে দলের জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। কেন্দ্র থেকে শুরু করে সারা দেশের সকল স্তরের বিএনপি নেতা-কর্মী নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছে। কীভাবে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সমর্থককে নিজ নিজ এলাকা থেকে মহাসমাবেশে উপস্থিত করানো যায়, সেই পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিচ্ছেন শীর্ষ নেতারা। এ জন্য আগেই দলটির সর্বস্তরে প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়েছে। লন্ডন থেকে তারেক রহমানও বিভিন্ন স্তরের নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।

বিএনপি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, তারা এবার এমনভাবে আন্দোলন এগিয়ে নিতে চায়, যাতে সরকার চাপে পড়ে তাদের দাবি মেনে নেয়। তাই ২০১৩ সালের মতো এবারো তৃণমূল থেকে আন্দোলন জোরদারের কৌশল নিয়েছে দলটি।

ওই বছর ২৯ ডিসেম্বর যেভাবে সারা দেশ থেকে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ঢাকায় জড়ো করতে ‘রোড ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল দলটি, একইভাবে তারা এবারো ১০ ডিসেম্বর ঢাকার মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সারা দেশ থেকে নেতা-কর্মীদের জড়ো করতে চায়।

সূত্র জানায়, মহাসমাবেশের কয়েক দিন আগে ঢাকার বাইরে থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী জড়ো করতে ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট দলীয় নেতাদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপি হাইকমান্ড। আগে আসা নেতাকর্মীদের মধ্যে যাদের ঢাকায় কোনো আত্মীয়স্বজন নেই, তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে। এ জন্য রাজধানীর বিভিন্ন হোটেল, কমিউনিটি সেন্টার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও নির্মীয়মাণ বিভিন্ন ভবন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আর রাজধানীতে বসবাসকারী বিএনপি নেতাদের বলা হয়েছে, নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকা থেকে আসা নেতাকর্মীদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতে।

দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা এখন অব্দি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করেছি। ঢাকার সমাবেশেও আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে চাই। জনগণের দাবিকে সামনে রেখেই আমাদের এসব কর্মসূচি। আর সেদিন আমাদের নতুন কর্মসূচি আসবে।’

নতুন কর্মসূচি কী আসবে—জানতে চাইলে দুদু বলেন, ‘আমাদের দলের স্থায়ী কমিটি এ বিষয়ে বৈঠক করবে। তারা আলোচনার মাধ্যমে কর্মসূচি নির্ধারণ করবে। তবে এটা বলা যায়, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি আসবে; যদি সরকার কর্মসূচিকে ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে না দেয়।’

তবে সরকার যদি বাধা সৃষ্টি করে তবে তা মোকাবিলার জন্যেও প্রস্তুতি নিয়ে রাখছেন বলে জানান আরেক বিএনপি সিনিয়র নেতা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ নেতা তিনি বলেন, ‘পথে-ঘাটে বাধা দিবে? আটকায় রাখবে। আমরা তো আর তামাশা দেখব না। বাধা উপেক্ষা করতে হবে। কেমন বাধা আসবে, সেটা পরিস্থিতি বিবেচনায় স্টেপ নিব। আর সে নিয়েও আমরা আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আলটিমেটাম

আর এই মহাসমাবেশ থেকেই নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায়ে সরকারকে আলটিমেটাম দেবে দলটি। আলটিমেটাম অনুসারে দাবি না মানলে রাজপথে দুর্বার আন্দোলনের ঘোষণাও দেওয়া হবে। এ ছাড়া এই মহাসমাবেশ কর্মসূচি পালনের মাধ্যমেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মাঠ দখলের চেষ্টা করবে বিএনপি।

১০ ডিসেম্বরের মহাসমাবেশ থেকে কী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে এবং এই সমাবেশ থেকে দলের নেতাকর্মী, দেশের সাধারণ মানুষ ও সরকারকে বিএনপি কী বার্তা দেবে, তা ঠিক করতে বিএনপির সিনিয়র নেতারা এখনও কাজ করছেন বলে সূত্র জানায়। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করতে ১০ ডিসেম্বরের মহাসমাবেশ থেকে মূলত একটি দাবিই উপস্থাপন করবে বিএনপি। আর এটি হচ্ছে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন।

এ ব্যাপারে সরকারকে আলটিমেটাম দেবে দলটি। আর এ আলটিমেটামের পক্ষে জনমত বৃদ্ধি করতে ও রাজপথে শক্তি প্রদর্শন করতে নতুন করে আরও কিছু ধারাবাহিক কর্মসূচি দেওয়ার চিন্তা করছে দলটির হাইকমান্ড।

গত মঙ্গলবার দলীয় এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, ১০ ডিসেম্বর থেকে এক দফার আন্দোলন শুরু হবে। এই ‘এক দফার আন্দোলন’ বলতে তিনি নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা বুঝিয়েছেন, যে সরকারের রূপরেখা মহাসমাবেশ থেকে ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা আন্দোলনে থাকলেও এখনও আসল ঘোষণা দেইনি, আসল ঘোষণা দেব ১০ ডিসেম্বর।’

এর আগে আরেক দলীয় কর্মসূচি পালন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপি মহাসচিব জানিয়েছিলেন, সময়মতো নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা জানিয়ে দেওয়া হবে। ১৯৯৬ সালের সংবিধানের আলোকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা তৈরি করছে বিএনপি।

তিনি আরও বলেন, ‘ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ আসনে বিজয়ী হয়ে ১৯৯৬ সালের ২৭ মার্চ নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনে সংবিধানের সংশোধনী পাস করে। তাই আমাদের রূপরেখা তৈরি হবে সংবিধানের ওই সংশোধনীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার যেমন ছিল, তারই আলোকে।’

যুগপৎ আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা

১০ ডিসেম্বররের মহাসমাবেশ থেকে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপির পক্ষ থেকে সরকারকে আলটিমেটাম দেওয়ার পর সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোও যুগপৎ আন্দোলন শুরু করবে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে টার্গেট করে সরকারকে চাপে ফেলতে এবার আটঘাট বেঁধে মাঠে নামতে চায় বিএনপির নেতৃত্বে ডান, বাম ও মধ্যপন্থি বেশকটি রাজনৈতিক দল। এ জন্য তাদের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, যুগপৎ এ আন্দোলন দেশের সব রাজনৈতিক দলের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও কৌশলগত কারণে আপাতত ফ্রন্টলাইনে থাকছে না জামায়াত।

বিএনপির সঙ্গে গোপন সমঝোতার ভিত্তিতে জামায়াত এ কৌশল নিয়েছে বলে সূত্র জানায়। যুগপৎ আন্দোলনে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি ও তাদের সমমনা দলগুলো।

এরই প্রস্তুতি হিসেবে ২ অক্টোবর থেকে শুরু হয় সমমনা দলগুলোর সঙ্গে বিএনপির দ্বিতীয় দফা সংলাপ। এ পর্যন্ত প্রায় ২০টি দলের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপ করেছে বিএনপি। এর আগে গত ২৪ মে থেকে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রথম দফা সংলাপ শুরু করে দলটি। প্রথম দফায় ২৩টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলের সিনিয়র নেতারা।

বিএনপির নেতারা বলছেন, তাদের লক্ষ্য ঢাকার সমাবেশের পর দ্বিতীয় ধাপের আন্দোলনে যাওয়া। এর মধ্যে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের কর্মকৌশলও ঠিক করা হবে। নির্দলীয় সরকারের রূপরেখা এবং নির্বাচনের পরে জাতীয় সরকারের কাঠামোও ঘোষণা করা হবে। মূলত ঢাকার সমাবেশ থেকেই এক দফার আন্দোলনে নামার ঘোষণা আসতে পারে বলে বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘১০ তারিখের পর জানতে পারবেন। সত্য মিথ্যা সামনে আসবে তখন। এখন আমরা খুবই ব্যস্ত সময় পার করছি।’

জামায়াতের সাথে জোট নিয়ে জানতে চাইলে ২০ দলীয় জোটের এই সমন্বয়ক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এত ব্যস্ততার মধ্যে এসব নিয়ে ভাবার সময় নেই। আমাদের দাবির কাতারে যারা এসে দাঁড়াবে, আমরা তাদের ওয়েলকাম জানাব।’

আরও পড়ুন:
ঝামেলা না করে নয়াপল্টন দিন: পুলিশকে ফখরুল
‘খুবই বিপদগ্রস্ত’ অর্থনীতিতে উদ্বিগ্ন দুদু
১০ ডিসেম্বরের ভয়ে ব্যাগ গোছাচ্ছেন আ.লীগ নেতারা: দাবি বিএনপির
খালেদা জিয়ার কাছে মাফ চান: আ.লীগকে বিএনপি নেতা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
That inexhaustible Casco is decaying
পুরোনো দিনের মায়াবী পণ্য

ক্ষয়ে যাচ্ছে সেই ‘অক্ষয়’ কসকো

ক্ষয়ে যাচ্ছে সেই ‘অক্ষয়’ কসকো নব্বইয়ের দশকে বাজারে দাপটের সঙ্গে রাজত্ব করেছে কসকো সাবান। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাসাবাড়িতে কমেছে কসকোর ব্যবহার। তবে হোটেল-রেস্তোরাঁয় হাত ধোয়ার জন্য এই সাবানের ব্যবহার এখনও বেশ চোখে পড়ার মতো। চিকিৎসকের পরামর্শেও অনেকে কসকো সাবান নিয়মিত ব্যবহার করছেন।

আমি কবি তুমি কবিতা

তুমি প্রথম প্রেম, প্রথম প্রেম ওগো সুস্মিতা

ত্বকের সৌন্দর্যে কসকো…

নব্বইয়ের দশকে তারিন-পল্লবের টিভি বিজ্ঞাপনে এই জনপ্রিয় জিঙ্গেলের কথা অনেকের হয়তো মনে আছে। এই বিজ্ঞাপনটি যে পণ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিত তার নাম ‘কসকো গ্লিসারিন সোপ’।

দেশে উৎপাদিত এই সাবানের দাপুটে বাজার ছিল দীর্ঘদিনের। ‘ক্ষয় কম; ব্যবহার করা যায় বেশি দিন’ এমন সুবিধায় অনেকেই আপন করে নেন কসকো সাবান। ব্যক্তিগত ব্যবহারের পাশাপাশি খাবারের হোটেলসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিপুল জনপ্রিয়তা পায় পণ্যটি। সেই সঙ্গে গ্লিসারিনের কারণে চিকিৎসকের পরামর্শে ত্বকের সমস্যায় এই সাবানের নিয়মিত ব্যবহার শুরু হয়।

নব্বইয়ের দশকের সেই বিপুল জনপ্রিয়তায় অনেক দিন ধরেই অবশ্য ভাটার টান চলছে। দেশি-বিদেশি সাবানের দাপটে কসকো এখন অনেকটাই ম্রিয়মাণ। বাসাবাড়িতে কমে গেছে ব্যবহার। তবে ক্ষয় কম হওয়ায় হোটেল-রেস্তোরাঁয় এখনও কসকোর বেশ চাহিদা রয়েছে।

ক্ষয়ে যাচ্ছে সেই ‘অক্ষয়’ কসকো

পণ্যের ধরন ও মোড়কে আসেনি পরিবর্তন

কসকো সাবান নব্বইয়ের দশকে ব্যাপক পরিচিতি পেলেও মূলত সত্তর দশকের পর থেকে ধীরে ধীরে বাজার দখল শুরু হয়। পাঁচ দশক পরেও পণ্যের গুণগত মান ও মোড়কে পরিবর্তন আসেনি। সাবানের রংও আছে আগের মতো। ক্রেতার আস্থা ধরে রাখতে গন্ধেও বদল আনেনি উৎপাদক প্রতিষ্ঠান।

উৎপাদক প্রতিষ্ঠান কমান্ডার সোপ কোম্পানি লিমিটেডের বিপণনপ্রধান এম এ মতিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্যবসা তেমন বড় হয়নি, তবে উৎপাদন থেমে নেই। গ্লিসারিন সাবানের পাশাপাশি আমরা হ্যান্ডওয়াশ, ডিশওয়াশ, কসকো বার সাবানও বাজারজাত করছি। মানুষের আস্থাই কসকোর পুঁজি।’

কমান্ডার সোপ কোম্পানির সেলস বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কোম্পানির তেজগাঁও কারখানায় ৫০ থেকে ৬০ জন কর্মরত আছেন। মালিক ব্যবসা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।’

তিনি জানান, পণ্যে গ্রাহক আস্থা ধরে রাখতে কোনো ধরনের পরিবর্তনের ঝুঁকি নেয়া হয়নি। সাবানে ভিন্নতা আনলে ভোক্তার কাছে কতটা গ্রহণযোগ্যতা পাবে তা নিয়ে শঙ্কায় ছিল কর্তৃপক্ষ। পুঁজির ঝুঁকি এড়াতে তাই আগের মতোই রয়ে গেছে কসকো সাবান।

ক্ষয়ে যাচ্ছে সেই ‘অক্ষয়’ কসকো
কসকো সাবানের বিজ্ঞাপনে তারিন ও পল্লব

বদলেছে ভোক্তার ধরন

নব্বইয়ের দশকে বাজারে দাপটের সঙ্গে রাজত্ব করেছে কসকো সাবান। পরে বিদেশি ব্র্যান্ডের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন কোম্পানির সাবান বাজার নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে যায়। ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়ে কসকো।

বাংলাদেশ কসমেটিকস অ্যান্ড টয়লেট্রিজ ম্যানুফেকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিটিএমএ) ২০১৬ সালের একটি প্রতিবেদন বলছে, দেশে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় বিউটি সোপ লাক্স। এর মার্কেট শেয়ার ৪৫ শতাংশ।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাসাবাড়িতে কমেছে কসকোর ব্যবহার। তবে হোটেল-রেস্তোরাঁয় হাত ধোয়ার জন্য এই সাবানের ব্যবহার এখনও বেশ চোখে পড়ার মতো।

রাজধানীর বাংলামোটর মোড়ের আলম রেস্তোরাঁয় ব্যবহার হয় কসকো সাবান। এর মালিক হোসেন আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কসকো পুরোনো সাবান। ক্ষয় কম হয়, টেকে বেশি দিন। অন্য সাবান দ্রুত ফুরিয়ে যায়, কিন্তু কসকো একটু বেশি দিন টেকে।’

চিকিৎসকের পরামর্শেও অনেকে কসকো সাবান ব্যবহার করছেন। শুষ্ক ও সংবেদনশীল ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে গ্লিসারিনযুক্ত এই সাবান ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়।

মিরপুর শেওড়াপাড়ার গৃহবধূ রেহানা পারভীন গায়ে দেয়ার সাবান হিসেবে সারা বছর কসকো ব্যবহার করেন। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এলার্জির কারণে চিকিৎসক আমাকে এই সাবান ব্যবহার করতে বলেছেন।’

তবে কসকো সাবান কিনতে অনেক ঝক্কি পোহাতে হয় বলে জানান রেহানা। তিনি বলেন, ‘এলাকার অলিগলির কোনো দোকানেই পাওয়া যায় না। বড় একটা সুপার সপ থেকে এই সাবান আমাকে কিনতে হয়। সেখানেও সব সময় পাওয়া যায় না। তাই আমি একসঙ্গে ৫-৬টি কিনে রাখি।’

ক্ষয়ে যাচ্ছে সেই ‘অক্ষয়’ কসকো

নিভে গেছে প্রচারের আলো

একসময়ে দৈনিক, সাপ্তাহিক পত্রিকায় থাকত কসকো সাবানের বর্ণিল বিজ্ঞাপন। বিটিভিতেও প্রচার হতো পণ্যের গুণগান। তবে এখন এই পণ্যের কোনো ধরনের বিজ্ঞাপনী প্রচার নেই।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও নেই কসকো সাবানের প্রচার।

কোম্পানি বা পণ্যের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও কথা বলতে উৎসাহ দেখা যায়নি। প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে নেই কোনো ফোন নম্বর। দুটি ই-মেইল ঠিকানা থাকলেও সেখানে মেইল করে সাড়া মেলেনি।

তেজগাঁওয়ে কসকোর কারখানায় গিয়ে কথা বলতে চাইলেও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে কর্তৃপক্ষের অনীহা দেখা গেছে। এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের কেউ কোম্পানি সম্পর্কে কথা বলতে ইচ্ছুক নয়।’

ক্ষয়ে যাচ্ছে সেই ‘অক্ষয়’ কসকো
কসকো সাবানের বিজ্ঞাপনে তারিন

তিনি জানান, কমান্ডার সোপ কোম্পানি লিমিটেডের একটি ব্র্যান্ড ‘কসকো’। দেশভাগের পরের বছর ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এই কোম্পানি।

ঢাকার তেজগাঁও শিল্প এলাকায় রয়েছে কোম্পানির কারখানা। এটি কসকোর দ্বিতীয় কারখানা। কমান্ডার সোপ কোম্পানি লিমিটেডের প্রথম ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ছিলেন শিল্পপতি ফজলুর রহমান খান। ১৯৮৫ সালে এমডির দায়িত্ব নেন তার ছেলে মোহাম্মদ জাকারিয়া খান। তিনিই এখন কোম্পানি পরিচালনার দায়িত্বে আছেন।

আরও পড়ুন:
কীসের গল্প বলবে ‘রঙবাজার’
পদোন্নতি বিতর্ক: লিখিত ব্যাখ্যা দিল ডিএসই
প্রি ওপেনিংকে ফের কারসাজির সুযোগ ভাবল বিএসইসি
এসএমইতে বিনিয়োগ: বিএসইসির আবেদন শোনেনি চেম্বার আদালত
এক দিন পরই সূচকের ধপাস, ‘ক্রেতাশূন্য’ তিন শ কোম্পানি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
What will be the benefit of metro rail up to Agargaon?

আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেলে লাভ কী হবে?

আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেলে লাভ কী হবে? উত্তরা থেকে মতিঝিল নয়, অর্ধেক দূরত্বে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেল চললে যাত্রীরা আসলে কতটা উপকৃত হবেন, তা নিয়ে আছে প্রশ্ন। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
উত্তরা-মতিঝিল রুটটির এক প্রান্ত উত্তরা বলা হলেও রাজধানীর উত্তর অংশের মূল জনপদ থেকে স্টেশনের দূরত্ব কয়েক কিলোমিটার। আবার আগারগাঁও এসে নামার পর যাত্রীদের বাসে করে যেতে হবে গন্তব্যে। রাষ্ট্রায়ত্ত পরিবহন সংস্থা বিআরটিসি বলছে, উত্তরা-আগারগাঁও থেকে বাস চালু করবে তারা। তবে মেট্রোরেলের আরামদায়ক ভ্রমণ শেষে বিআরটিসির পুরোনো বাস যাত্রীর বিরক্তির কারণ হবে বলে মনে করেন নগরবাসী।

তীব্র যানজটে ভুগতে থাকা রাজধানীতে এক মাস পরই যাত্রী নিয়ে দেশের প্রথম মেট্রোরেলের ছোটার অপেক্ষা শেষ হচ্ছে আগামী মাসেই। তবে উত্তরা থেকে মতিঝিল নয়, অর্ধেক দূরত্বে আগারগাঁও পর্যন্ত ট্রেন চললে যাত্রীরা আসলে কতটা উপকৃত হবেন, তা নিয়ে আছে প্রশ্ন।

এই রুটটির এক প্রান্ত উত্তরা বলা হলেও রাজধানীর উত্তর অংশের মূল জনপদ থেকে স্টেশনের দূরত্ব কয়েক কিলোমিটার। আবার আগারগাঁও এসে নামার পর যাত্রীদের বাসে করে যেতে হবে গন্তব্যে।

রাষ্ট্রায়ত্ত পরিবহন সংস্থা বিআরটিসি বলছে, উত্তরা আগারগাঁও থেকে বাস চালু করবে তারা। তবে মেট্রোরেলের আরামদায়ক ভ্রমণ শেষে বিআরটিসির পুরোনো বাস যাত্রীর বিরক্তির কারণ হবে বলে মনে করেন নগরবাসী।

ঢাকার যন্ত্রণাদায়ক গণপরিবহন ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা পাল্টে দেয়ার ঘোষণা দিয়ে রাজধানীতে মেট্রোরেলের যে ছয়টি লাইন চালুর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে, তার মধ্যে প্রথমটি হচ্ছে উত্তরার দিয়াবাড়ী থেকে কমলাপুর পর্যন্ত।

নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পেরে তিন ধাপে উদ্বোধন করা হবে যাত্রী বহন, যার মধ্যে আগামী মাসের শেষে দিয়াবাড়ী থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ছুটবে ট্রেনগুলো। পরের ধাপে মতিঝিল পর্যন্ত চলবে ২০২৪ সালের শেষে আর কমলাপুর পর্যন্ত যাবে ২০২৫ সালের শেষে।

প্রশ্ন উঠেছে, আগারগাঁও পর্যন্ত রুটে ট্রেন চললে যাত্রীর ভোগান্তি আসলে কতটা কমবে, নাকি সেটি আরও বাড়াবে?

উত্তরাবাসীর একাংশের হতাশা

উত্তরার দিয়াবাড়ী ও আশপাশের এলাকার মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে আছেন মেট্রোরেলের জন্য। তবে ১ থেকে ১০, এমনকি ১৩, ১৪ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দাদের এই ট্রেনের সুবিধা নিতে বেশ কাঠখড় পুড়িয়ে যেতে হবে স্টেশনে।

উত্তরার এসব সেক্টর থেকে দিয়াবাড়ী পর্যন্ত যাতায়াতে গণপরিবহনব্যবস্থা নেই বললেই চলে। একটি মাত্র কোম্পানি রাইদার বাস হাউস বিল্ডিং হয়ে দিয়াবাড়ী পর্যন্ত রুট পারমিট থাকলেও যায় কালভার্ট রোড পর্যন্ত দিয়াবাড়ীতে ঢোকে না। সেখান থেকে ২০ থেকে ৩০ টাকা রিকশা ভাড়া দিয়ে যেতে হবে স্টেশনে। হাউস বিল্ডিং থেকে কেউ রিকশায় যেতে চাইলে খরচ পড়বে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। লেগুনায় চড়লে যাওয়া যাবে ২০ টাকায়।

‘মেট্রোরেলে চড়ার তো ইচ্ছা আছেই। চড়তে পারলে আমগো লইগা ভালো। তয় হাউস বিল্ডিং দিয়া হেহানে যাইতে ভাঙা খরচ আছে। হের চাইতে তো এইহান দিয়া (বিমানবন্দর সড়ক ধরে) যাইতেই ভালা’- বলছিলেন পেশায় গাড়িচালক আজহারুল ইসলাম।

দিয়াবাড়ী যাওয়ার সড়কে যানজট নিয়ে শঙ্কায় স্থানীয় আসলাম পারভেজ। তবে এই উদ্যোগের প্রশংসা রয়েছে তার মুখে। স্থানীয়দের অনেকেই এই মেট্রোরেল সেবা নিতে মুখিয়ে আছে।

যাত্রীদের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে উত্তরার হাউস বিল্ডিং থেকে দিয়াবাড়ী পর্যন্ত বিআরটিসির বাস চলবে- এমন একটি প্রচার থাকলেও সেটি নিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটির সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা বা পরিকল্পনা জানানো হয়নি।

রাষ্ট্রায়ত্ত পরিবহন সংস্থাটির মহাব্যবস্থাপক আমজাদ হোসেন নিউজবাংলাকে জানান, উত্তরা প্রথম স্টেশনের নিচ থেকে উত্তরার হাউস বিল্ডিং হয়ে বিভিন্ন দিকে বাস চালু হবে। তবে কতগুলো বাস চলবে, কোথায় কোথায় স্টপেজ, ভাড়া কত, সেসব বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

এই রুটে রাইদা বাসে চালকের সহকারী ইব্রাহীম হোসেন সজল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা তো চাই যাত্রী উঠুক। কিন্তু যাত্রী নেয়া নিষেধ আছে লেগুনার। এই কারণে যাত্রী তুলি না। এই রাস্তায় যাত্রী নামতে পারলে উঠাইতে পারি না।’

এক চালক বলেন, ‘আমগো তো দিয়াবাড়ী যাওয়ার কথা। কিন্তু ওগো (লেগুনা) কারণে যাইতে পারি না। এই কারণে কালভার্ট রোডে আমারা গাড়ি স্টপ কইরা দেই। ওরা আগে থেইকা এই রোডে চলে তো। ওগো একটা প্রভাব আছে।’

এ সড়কে একাধিক গাড়িচালক নিউজবাংলাকে জানান, স্বাভাবিক সময়ে হাউস বিল্ডিং থেকে স্টেশন পর্যন্ত পৌঁছাতে সময় লাগে ১৫ থেকে ২০ মিনিট। যদি যানজট থাকে, সে ক্ষেত্রে সময় লাগে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট।

হাউস বিল্ডিং এলাকার বাসিন্দা আসলাম পারভেজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উত্তরাবাসীর এই দিয়াবাড়ী আইতে একটা সমস্যা হবে। কারণ এই রাস্তায় অনেক যানজট। যানজট কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে, সেটার একটা উপায় খুঁজে বের করতে হবে।’

মেট্রোরেলে অবশ্য সুবিধা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একটা জিনিস প্রবলেম হতে পারে। সেটা হচ্ছে স্টেশনে যাওয়া ও সেখান থেকে বের হওয়া।

‘হাউস বিল্ডিং থেকে লেগুনা দিয়ে ২০ টাকা দিয়া চইলা অসা যাবে। তবে এই লেগুনা দিয়া এত যাত্রী বহন করা সম্ভব নয়। অনেক মানুষ আসবে-যাবে। আসা-যাওয়ার জন্য রাস্তাটা বড় করা দরকার।’

তবু অধীর অপেক্ষায় বহুজন

দিয়াবাড়ীতে উত্তরা উত্তরের প্রথম স্টেশনের পাশেই চায়ের দোকান হরিপদ সরকারের। মেট্রারেল নিয়ে তিনি উচ্ছ্বসিত। নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উঠুম না মানে? অবশ্যই উঠুম। এখান থেইকা উইঠা যামুগা কারওয়ান বাজার।’

কারওয়ানবাজার তো যেতে পারবেন আগামী বছর। এখন তো যেতে হবে আগারগাঁও পর্যন্ত। এই তথ্য জানালে কিছুটা হতাশা চলে আসে তার মধ্যে। তখন বলেন, ‘যামু এহন যতটুকু চলব। কিছু দূর গেলেও তো যাওয়ন লাগব।’

দিয়াবাড়ী বটতলার ব্যবসায়ী বাছির মিয়া বলেন, ‘এহানেই তো থাকি। আগারগাঁও গেলেও তাড়াতাড়ি যাওন যাইব। আগে বেড়িবাঁধ হাউস বিল্ডিং দিয়া যাইতাম।

‘আগারগাঁও গেলেও আমরা এই এলাকার যারা আছি তারার লইগা সুবিধা বেশি। যারা দূর-দূরান্ত থেইকা আইব, তাগো খরচা বেশি। যে টাকা দিয়া তারা আইব, সেই টাকা দিয়া আপ-ডাউন করতে পারমু।’

আগারগাঁও নেমে কী হবে?

বেড়ে প্রায় ১২ কিলোমিটার নির্বিঘ্ন যাত্রার পর আগারগাঁও নেমে আবার সেই আগের ভোগান্তি। এখান থেকে বাসে চেপে যেতে হবে ফার্মগেট, শাহবাগ বা মতিঝিলের পথে। এই পথের যানজট এক ইস্যু, আরেকটি হলো আগারগাঁও নেমে যাত্রীরা আসলে বাসে উঠতেই পড়বেন ভোগান্তিতে।

বিআরটিসি বলছে, মেট্রোরেল চালুর দিন থেকে তারা আগারগাঁও থেকে বাস চালু করবে। তবে এই বাসগুলো যাত্রী চাহিদা আদৌ পূরণ করতে পারবে কি?

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিক জানিয়েছেন, প্রথমে ১০টি ট্রেন দিয়ে মেট্রোরেল চালু করা হবে। প্রতিটি ট্রেনের যাত্রী ধারণক্ষমতা ১ হাজার ৭৩৮।

গত ২২ আগস্ট সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘প্রথম দিন ১০ মিনিট পর পর ট্রেন চালু হবে। দ্বিতীয় দিন হয়তো আমরা ৭ মিনিটে নামিয়ে আনব। ক্রমান্বয়ে যাত্রীর চাপের ওপর নির্ভর করবে আমরা কতক্ষণ পর পর ট্রেন ছাড়ব। অনেক বেশি যাত্রী অপেক্ষমাণ থাকলে আমরা সাড়ে ৩ মিনিট পর পর ট্রেন ছাড়ব। ফজরের নামাজের সময় থেকে শুরু করে রাত ১২টা পর্যন্ত ট্রেন চলবে।’

যদি ১০ মিনিটে পৌনে ২ হাজার যাত্রী এসে আগারাগাঁও নামে, তাহলে ঘণ্টায় নামবে সাড়ে ১০ হাজার। একেকটি বাসে ৬০ জন যাত্রী উঠলেও ৫০ বাসে যাত্রী উঠতে পারে তিন হাজার জন।

তবে এই ৫০টি বাসের মধ্যে কিছু চলবে উত্তরায়, কিছু চলবে আগারগোঁওয়ে। যদি ২৫টি করে দুই রুটে দেয়া হয়, তাহলে সেগুলো একবারে দেড় হাজার যাত্রী তুলতে পারবে ঘণ্টায়।

তবে ৫০টি বাসের সবগুলো একসঙ্গে স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকবে না। সব সময় আসা যাওয়ার মধ্যে থাকবে কিছু বাস। কিছু বাস থাকবে নষ্ট।

আগারগাঁওয়ে নিত্যদিনের চিত্রটা কী?

মিরপুর থেকে ছেড়ে আসা বাসগেুলো মূলত শেওড়াপাড়া আগারগাঁও হয়ে নগরীর বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে যায়। আগারগাঁও প্রান্তে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ অফিসসহ আছে স্কুল কলেজ। প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রী এ প্রান্তে বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকে।

আইডিবি ভবনের বিপরীত পাশে সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা বা রাত বেশিরভাগ সময়েই বাসে আসন পাওয়া যায় না। এমনকি দাঁড়িয়ে যাওয়ারও উপায় থাকে না বিশেষ করে অফিস সময় ও ছুটি শেষে। বাদুর ঝোলা হয়েই ছুটতে হয় তাদের।

বিআরটিসি কী বলছে

রাষ্ট্রায়ত্ত পরিবহন সংস্থাটির মহাব্যবস্থাপক আমজাদ হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মেট্রোরেলে উত্তরা প্রথম স্টেশন এবং আগারগাঁও স্টেশনে যাত্রীদের আনা নেয়ার জন্য ডিএমটিসিএল সঙ্গে আমাদের যে চুক্তি হয়েছে, সেখানে আমরা এই দুই স্টেশনের জন্য আপাতত ৫০টি বিআরটিসি বাস দেবো। পরে চাহিদা বাড়লে বাসের সংখ্যাও বাড়ানো হবে।’

আগারগাঁও থেকে ফার্মগেট, শাহবাগ, পল্টন হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত চলবে এই বাসগুলো। উত্তরা থেকে দিয়াবাড়ী স্টেশনেও থাকবে শাটল বাস। তবে শুধু মেট্রোরেলের যাত্রী নয়, সব যাত্রীই উঠতে পারবে এতে।

তবে বাসগুলো কোথায় পার্কিং করা হবে- জানতে চাইলে এমআরটি লাইন-৬-এর উপ প্রকল্প ব্যবস্থাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘স্টেশনের সামনে যে একটা নার্সারি ছিল, সেটা আমরা সরিয়ে ফেলেছি। এখানেই আমরা স্টেশন প্লাজা তৈরি করব। এখানেই বাসগুলো পার্কিং করা থাকবে। যাত্রীরা আসলে বাসগুলো পরে চলে যাবে।’

পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল যা বলছেন

দিয়াবাড়ী থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেল যাত্রী ভোগান্তি কমাতে পারবে না বলে মনে করেন পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শামসুল হক। তার ধারণা, এটি আরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আগারগাঁও পর্যন্ত রুট চালু হলে মানুষ হয়তো উচ্ছ্বাসে যাতায়াত করবে। তবে পুরোদমে চালু হলে উচ্ছ্বাসের পাশপাশি মানুষ তার গন্তব্যে সহজে যেতে পারত। সমন্বিতভাবে না হওয়ায় এর একটি ঋণাত্মক প্রভাব পড়বে। প্রধান যে লক্ষ্য, পিক আওয়ারে চাপ কমানো, সেটি পূরণ সম্ভব নয়।’

আগারগাঁওয়ের বদলে ফার্মগেট পর্যন্তও যদি মেট্রোরেল চলত, তাতে কিছুটা সুফল মিলতে পারত কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সেটা হতো, কিন্তু ফার্মগেটে বাক আছে। ফলে সেটি অপারেশনালি সম্ভব না। আগারগাঁও পর্যন্ত চালু হলে কী ডিফিকাল্টিস আছে তা আবিষ্কার করা সম্ভব।’

আরও পড়ুন:
মেট্রোরেল উদ্বোধন ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে
কিছুতেই থামছে না মেট্রোরেলে পোস্টার দূষণ
২০৩০ সালের মধ্যে মেট্রোরেলের ৬ লাইন
মেট্রোরেলের দুই স্টেশনে যাত্রী উঠবে কীভাবে
মেট্রোরেলের দ্বাদশ চালান নিয়ে মোংলায় ট্রাম্প

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Sohail Taj suddenly came to the discussion

হঠাৎ আলোচনায় এসেই অগোচরে সোহেল তাজ

হঠাৎ আলোচনায় এসেই অগোচরে সোহেল তাজ গত ১০ এপ্রিল মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে গণভবনমুখী পদযাত্রায় সোহেল তাজ। ছবি: নিউজবাংলা
গত ছয়-সাত মাসে কয়েক দফায় আলোচনায় এসে আবারও অগোচরে চলে গেছেন সোহেল তাজ। আওয়ামী লীগের একসময়কার এই প্রতিমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডকে অপরিণত আচরণ বলে মন্তব্য করেছেন দলের কেউ কেউ।

সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজীম আহমেদ সোহেল তাজ মাঝেমধ্যেই হঠাৎ করে আলোচনায় আসেন। কোনো রাজনৈতিক ইস্যু বা রাষ্ট্রীয় অথবা কোনো জাতীয় ইস্যুকে কেন্দ্র করে নয়, বরং নিজ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি তার অস্তিত্বের জানান দেন। আবার দুই-এক দিন পরেই তার আলোচনা স্তিমিত হয়ে যায়, যদিও তিনি ফেসবুকে বরাবর সক্রিয়।

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে সোহেল তাজ সর্বশেষ আলোচনায় আসেন ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবসকে ‘জাতীয় শোক দিবস’ ঘোষণার দাবি নিয়ে। গত ৩১ অক্টোবর জেলহত্যা দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনসহ তিন দফা দাবিতে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে একটি স্মারকলিপি দেন তিনি। তার অন্য দাবি দুটি হলো ১০ এপ্রিলকে ‘প্রজাতন্ত্র দিবস’ ঘোষণা এবং জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধের সব বেসামরিক-সামরিক সংগঠক, শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনী ও অবদান পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা।

এর আগে গত ২২ এপ্রিল এসব দাবিতে গণভবন ঘেরাওয়ের কর্মসূচি দিয়েছিলেন সোহেল তাজ। সেদিনের কর্মসূচিতে তার বোন মাহজাবীন আহমেদ ও আইনজীবী তুরিন আফরোজসহ দেড় শতাধিক মানুষ অংশ নেন। গণভবনের ফটক পর্যন্ত হেঁটে যান তারা। সেখানে পৌঁছে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার কাছে দাবিগুলো সংবলিত একটি স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন তারা।

৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবসে বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকরা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সোহেল তাজের জেলহত্যা দিবসকে জাতীয় দিবস করার দাবি-সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, জেলহত্যা দিবসকে জাতীয় দিবস করার ব্যাপারটি সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের বিষয়।

এ ছাড়া আগস্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে সোহেল তাজের ছোট বোন মাহজাবীন আহমেদ মিমির একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে আলোচনায় আসেন তোহেল তাজ। ১১ আগস্ট ফেসবুক প্রোফাইলে মাহজাবীন লেখেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আসন্ন কাউন্সিল অধিবেশনে তানজিম আহমেদ (সোহেল তাজ) দলীয় নেতৃত্বে আসছেন ইনশাআল্লাহ। জয় বাংলা! জয় বঙ্গবন্ধু! জয়তু শেখ হাসিনা!! বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।’

তার স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে একটি গণমাধ্যমে রিপোর্ট হয় যে, আওয়ামী লীগের আসন্ন সম্মেলনে বড় পদ পেতে পারেন সোহেল তাজ। কিন্তু তারপর আবার বন্ধ হয়ে যায় এই আলোচনা।

এর কয়েকদিন পর শতাধিক সমর্থক নিয়ে ২৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে যান সোহেল তাজ। সেদিন সাংবাদিকরা তার দলীয় কার্যালয়ে আসার কারণ জানতে চাইলে সোহেল তাজ বলেন, ‘মাঝখানে কিছুদিন ব্যক্তিগত কাজে ছিলাম। এখন পার্টি অফিসে আসছি, নিয়মিত আসার চেষ্টা করব।’

কিন্তু এরপর তিনি আর দলীয় কার্যালয়ে যাননি। দলের কোনো কর্মসূচিতেও তাকে দেখা যায়নি।

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এখন পর্যন্ত দলীয় কোনো কার্যক্রম বা কর্মসূচিতে তাকে দেখা যায়নি।

বাবা প্রয়াত তাজউদ্দীন আহমদের জন্মবার্ষিকীতে আওয়ামী লীগ কোনো কর্মসূচি না দেয়ার তার সমালোচনা করে নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট দেন সোহেল। তার পোস্টে সাড়া দিয়ে পরে আওয়ামী লীগ ফেসবুক পেজে তাজউদ্দীন আহমদের জন্মবার্ষিকী নিয়ে একাধিক পোস্ট দেয়।

এসব বিষয় নিয়ে আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল নেতার কাছে বক্তব্য চাইলে কেউ বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

দলটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য আনোয়ার হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এগুলো সবই সোহেল তাজের আলোচনায় থাকার জন্য স্টান্টবাজি। ভালো কোনো কাজ করে এখনও তিনি আলোচনায় আসেননি, যেসব ইস্যুতে গণমাধ্যমে তার সম্পর্কে লেখা হয়েছে সবগুলোই তার নিজের তৈরি একধরনের অপরিণত আচরণ।’

আরও পড়ুন:
‘খুবই বিপদগ্রস্ত’ অর্থনীতিতে উদ্বিগ্ন দুদু
খালেদা জিয়ার কাছে মাফ চান: আ.লীগকে বিএনপি নেতা
রাজনীতি করার ইচ্ছা আগে থেকেই: মাহি
রংপুর সিটিতে সুন্দর ভোট আয়োজনে কোনো ছাড় দেবে না ইসি
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুক্রবার হবে জনসমুদ্র: যুবলীগ

মন্তব্য

p
উপরে