× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Durga did not come the black flag was hanging in the mandap
hear-news
player
google_news print-icon

দুর্গা আসেননি মণ্ডপে, ঝুলছে কালো পতাকা

দুর্গা-আসেননি-মণ্ডপে-ঝুলছে-কালো-পতাকা
এলাকার এক হিন্দু গৃহবধূ দুই মাস আগে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হন। সেই ঘটনায় জড়িতদের এত দিনেও চিহ্নিত করতে পারেনি আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। এর প্রতিবাদে এবার দুর্গা পূজা করছেন না এলাকার হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।

শারদীয় দুর্গোৎসব চলছে দেশজুড়ে। তবে সেই উৎসবের লেশমাত্র নেই দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার টংগুয়া কুমারপাড়ায়। প্রতি বছর এলাকার মন্দিরে ধুমধাম করে হয় দেবী আরাধনা। এবার সেই মন্দির নিস্তব্ধ। মন্দিরের সামনে ঝুলছে কালো পতাকা।

এলাকার এক হিন্দু গৃহবধূ দুই মাস আগে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হন। সে ঘটনায় জড়িতদের এত দিনেও চিহ্নিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। এর প্রতিবাদে এবার দুর্গা পূজা করছেন না এলাকার হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।

পূজা বর্জনের পাশাপাশি তারা মন্দিরের সামনে টানিয়েছেন শোক প্রতীক কালো পতাকা।

উপজেলার ২ নম্বর ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের টংগুয়া কুমারপাড়ায় বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার পথে গত ২৯ জুলাই ওই গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। তার সঙ্গে থাকা ১০ বছরের মেয়েকেও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় গৃহবধূর স্বামী থানায় মামলা করেন। পরে সেটি তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তবে ঘটনার দুই মাস পরেও জড়িতদের চিহ্নিত করা যায়নি।

এলাকার বাসিন্দা অনন্ত কুমার রায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ধর্ষণ-হত্যার বিচার না পাওয়ায় আমরা শারদীয় দুর্গাপূজা বর্জন করে কালো পতাকা উত্তোলন করে শোক পালন করছি। যতদিন ন্যায়বিচার পাব না, ততদিন আমরা এই মণ্ডপে কোনো ধর্মীয় উৎসব করব না। আমরা শোককে শক্তি রূপে নিতে চাই।’

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে বেশ কয়েকবার মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভা ও স্মারকলিপি দিয়েছে নিহতের পরিবার, এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সংগঠন।

নিহতের কাকা জীতেন্দ্র নাথ রায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুই মাসেও ধর্ষণ ও হত্যার আসামি ধরা না পড়ায় আমরা হতাশ। স্বাধীন দেশেও যদি সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার হয় তাহলে আমরা যাব কোথায়?’

খানসামা উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি ধীমান দাস বলেন, ‘তারা (এলাকাবাসী) তাদের মেয়ে হত্যার প্রতিবাদ করবে এটা স্বাভাবিক। তারা বিভিন্ন পর্যায়ে এ বিষয়ে অবহিত করার পরেও কোনো সুরাহা না পাওয়ায় তারা এমন প্রতিবাদ করেছে। তাদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে আমি সংহতি প্রকাশ করেছি।’

এ ব্যাপারে দিনাজপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. মকবুল হোসেন নিউবাংলাকে বলেন, ‘মামলাটি কয়েক দিন আগে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলায় কারও নাম দেয়া হয়নি, অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়েছে। আমাদের তদন্ত চলছে।’

আরও পড়ুন:
পাঁচগাঁওয়ে ব্যতিক্রমী লাল দুর্গা
মণ্ডপ থেকে মণ্ডপে ঘুরছেন পুণ্যার্থীরা, নিরাপত্তায় সন্তোষ
গান্ধীর আদলে অসুর, হিন্দু মহাসভার বিরুদ্ধে এফআইআর
জঙ্গিদের চেয়ে স্মার্ট র‍্যাব: ডিজি
অসুরের বদলে গান্ধী বধ, প্রতিমা ঘিরে বিতর্ক

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Naogaon is celebrating Nabanna

নবান্নের আয়োজনে মেতেছে নওগাঁ

নবান্নের আয়োজনে মেতেছে নওগাঁ
জাতীয় রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মেলন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, ‘নবান্ন উৎসবের সঙ্গে মিশে আছে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি। প্রাচীনকাল থেকেই বাঙালি জাতি-ধর্ম-বর্ণকে উপেক্ষা করে নবান্নকে কেন্দ্র করে উৎসবে মেতে ওঠে। এ যেন সত্যি হৃদয়ের বন্ধনকে আরও গাঢ় করার উৎসব।’

মাঠে মাঠে সোনালী ধান দোল খাচ্ছে মৃদুমন্দ বাতাসে। চারদিকে নতুন আমন ধানের মৌ মৌ ঘ্রাণ। চলছে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের ধুম। ফলন যেমনই হোক, নওগাঁর কৃষকের মুখে ধানকাটার গানে নবান্নের আমেজ।

কৃষকদের এই আনন্দ উদযাপন করতে প্রতি বছরের মতো এবারও পহেলা অগ্রহায়ণে (বুধবার) নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নওগাঁয় দিনব্যাপী হয়ে গেল নবান্ন উৎসব।

এদিন সকাল থেকেই সমবায় চত্বরে সংস্কৃতিকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ জড়ো হন। নেচে-গেয়ে ফসলকেন্দ্রিক জীবনযাত্রা ফুটিয়ে তোলেন শিল্পীরা। অতিথিদের জন্য ছিল পিঠাপুলির আয়োজনও।

শহরের সমবায় চত্বরে বুধবার সকালে এই উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক খালিদ মেহেদী হাসান। এর আয়োজনে ছিল জাতীয় রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মেলন পরিষদ।

নবান্নের আয়োজনে মেতেছে নওগাঁ

পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, ‘নবান্ন উৎসবের সঙ্গে মিশে আছে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি। প্রাচীনকাল থেকেই বাঙালি জাতি-ধর্ম-বর্ণকে উপেক্ষা করে নবান্নকে কেন্দ্র করে উৎসবে মেতে ওঠে। এ যেন সত্যি হৃদয়ের বন্ধনকে আরও গাঢ় করার উৎসব।

‘আমরা প্রতিবছর পহেলা অগ্রহায়ণে এই নবান্ন উৎসবের আয়োজন করে থাকি। আগামীতেও এ ধারা অব্যহত থাকবে।’

আরও পড়ুন:
নাচে-গানে সাঙ্গ হলো রাস উৎসব
জুনের আগে সব পাঠ্যবই পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা
সাবধান, এই রাতে ভূত-পেতনি ভোলাতে চাইবে মন
কলকাতায় শুরু চতুর্থ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসব
হাজারও প্র‍ার্থনার মোমের আলোয় আলোকিত গারো পাহাড়

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Raas festival is accompanied by dance and song

নাচে-গানে সাঙ্গ হলো রাস উৎসব

নাচে-গানে সাঙ্গ হলো রাস উৎসব মণ্ডপে মণিপুরী শিশু নৃত্যশিল্পীদের সুনিপুণ নৃত্যাভিনয় রাতভর মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে ভক্ত-দর্শনার্থীদের। ছবি: নিউজবাংলা
মাধবপুর মণিপুরি মহারাসলীলা সেবা সংঘের সাধারণ সম্পাদক শ্যাম সিংহ নিউজবাংলাকে জানান, রাখালনৃত্যের মাধ্যমে দুপুরে শুরু হয়েছে রাসলীলা। ধর্ম-বর্ণ ভেদাভেদ ভুলে লাখো মানুষের সমাগম ঘটেছে। সব ধরনের সুবিধা বিদ্যমান থাকায় এখানকার রাসলীলা বড় উৎসবে রূপ নিয়েছে। উৎসবে যোগ দিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার ভক্ত-অনুরাগী এসেছেন এখানে।

মণিপুরিদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব রাসলীলা। ঢাকঢোল, মৃদঙ্গ, করতাল আর শঙ্খধ্বনির সঙ্গে ব্যাপক আনন্দ উল্লাসের মধ্যদিয়ে রাত ১২টায় শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী রাসনৃত্য। মণ্ডপে মণিপুরি শিশু নৃত্যশিল্পীদের সুনিপুণ নৃত্যাভিনয় রাতভর মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে ভক্ত-দর্শনার্থীদের। মণিপুরি লোকজনের সঙ্গে সবাই মেতে ওঠে এই আনন্দ আয়োজনে।

সাদা কাগজের নকশায় নিপুণ কারুকাজে সজ্জিত করা হয় মণ্ডপগুলো। মহারাত্রির পরশ পাওয়ার জন্য হাজারো মানুষের মিলনতীর্থে পরিণত হয় মাধবপুর জোড়া মণ্ডপ আর আদমপুরের মণ্ডপগুলোতে।

রাধা-কৃষ্ণের লীলাকে ঘিরে এই উৎসবে মেতেছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মানুষ। এ আয়োজনে রয়েছে জোরদার নিরাপত্তা।

রাস উৎসব মূলত মণিপুরিদের হলেও তা আর তাদের মাঝেই সীমাবদ্ধ নেই। জাতিধর্মবর্ণ-নির্বিশেষে সব লোকজনের অংশগ্রহণেই উদযাপিত হয় এই আনন্দ উৎসব।

নাচে-গানে সাঙ্গ হলো রাস উৎসব

মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে রাখালনৃত্যের মাধ্যমে শুরু হয় এই উৎসব। রাত ১২টায় শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী রাসনৃত্য। এই আনন্দ আয়োজনে যোগ দিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কমলগঞ্জে হাজির হয়েছে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ নানা পেশার হাজারো মানুষ। তাদের পদচারণে সকাল থেকে মুখর হয়ে ওঠে মণিপুরি পল্লি। বুধবার ভোরে এ উৎসব শেষ হয়।

উষালগ্নে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে। কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর জোড়া মণ্ডপ প্রাঙ্গণে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি, আদমপুরের মণিপুরি কালচারাল কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে মণিপুরি মী-তৈ সম্প্রদায়ের আয়োজনে হয়েছে মহারাসোৎসব।

নাচে-গানে সাঙ্গ হলো রাস উৎসব

রাস উৎসব ঘিরে প্রতিবারের মতো এবারও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বসেছে রকমারি আয়োজনে বিশাল মেলা। ভিড় সামলাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

রাসলীলা উপলক্ষে কমলগঞ্জের তিনটি স্থানে মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় খই, মুড়ি, বাতাসা, ছোটদের বিভিন্ন ধরনের খেলনা, পোশাক-পরিচ্ছদ, ঘর সাজানোর বিভিন্ন উপকরণ ও প্রসাধনী, শ্রীকৃষ্ণের ছোট-বড় বিভিন্ন আকৃতির ছবিসহ বাহারি পণ্য শোভা পাচ্ছে।

মাধবপুর শিববাজার এলাকায় মেলা প্রাঙ্গণে বসেছে মণিপুরিদের ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে বইপত্রের কয়েকটি স্টল।

বাঁশ ও কাগজ কেটে বিশেষ কারুকাজে রাসের মণ্ডপ তৈরি করা হয়েছে। মণ্ডপের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে বসেন রাসধারী বা রাসের গুরু, সূত্রধারী ও বাদকরা। পাশাপাশি তিনটি মণ্ডপে দু’শতাধিক তরুণী এই রাসলীলায় অংশ নিচ্ছেন।

নাচে-গানে সাঙ্গ হলো রাস উৎসব

রাসের সাধারণ ক্রম হচ্ছে- সূত্রধারীর রাগালাপ ও বন্দনা, বৃন্দার কৃষ্ণ আবাহন, কৃষ্ণ অভিসার, রাধা ও সখীদের অভিসার, রাধা-কৃষ্ণের সাক্ষাৎ ও মান-অভিমান, ভঙ্গীপারেং, রাধার কৃষ্ণ-সমর্পণ, যুগলরূপ প্রার্থনা, আরতি ইত্যাদি।

মহারাসলীলা সেবা সংঘের সাধারণ সম্পাদক শ্যাম সিংহ জানান, মাধবপুর জোড়ামণ্ডপে রাসোৎসব সিলেট বিভাগের মধ্যে ব্যতিক্রমী আয়োজন। এখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার আগমন ঘটে। বর্ণময় শিল্পসমৃদ্ধ বিশ্বনন্দিত মণিপুরী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসবে সবার মহামিলন ঘটে।

মাধবপুর মণিপুরি মহারাসলীলা সেবা সংঘের সাধারণ সম্পাদক শ্যাম সিংহ নিউজবাংলাকে জানান, রাখালনৃত্যের মাধ্যমে দুপুরে শুরু হয়েছে রাসলীলা। ধর্ম-বর্ণ ভেদাভেদ ভুলে লাখো মানুষের সমাগম ঘটেছে। সব ধরনের সুবিধা বিদ্যমান থাকায় এখানকার রাসলীলা বড় উৎসবে রূপ নিয়েছে। উৎসবে যোগ দিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার ভক্ত-অনুরাগী এসেছেন এখানে।’

নাচে-গানে সাঙ্গ হলো রাস উৎসব

মণিপুরি সংস্কৃতির গবেষক প্রভাস সিংহ জানান, ১৭৬৯ খ্রিষ্টাব্দে রাজা ভাগ্যচন্দ্র সিংহের আয়োজনে মণিপুরিরা প্রথম রাসলীলা পালন করেন। সে সময় মণিপুরি রাজা স্বপ্নাদীষ্ট হয়ে কন্যা লাইরোবিকে রাধার ভূমিকায় অবতীর্ণ করে রাস অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেন। মৈথিলি ও ব্রজবুলি ভাষার বিভিন্ন পদের মণিপুরি সংগীতের নিজস্ব গায়কী ও মুদ্রা-পদবিক্ষেপে জটিল এবং ধ্রপদি ধারার গীতি-নৃত্যধারায় তা পালন করা হয়েছিল।

মণিপুরিদের আদিভূমি ভারতের মণিপুর থেকে এই রাস উপমহাদেশে তথা সমগ্র বিশ্বের নৃত্যকলার মধ্যে একটি বিশেষ স্থান করে দিয়েছে। ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান হলেও এর নৃত্যশৈলী বরাবরই সব ধর্ম ও জাতির মানুষকে আকর্ষণ করেছে।

আরও পড়ুন:
সুন্দরবনের আলোরকোলে চলছে রাস উৎসব

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Manipuri Maharasalila is starting in Kamalganj

কমলগঞ্জে শুরু হচ্ছে মণিপুরি মহারাসলীলা

কমলগঞ্জে শুরু হচ্ছে মণিপুরি মহারাসলীলা মহারাসলীলায় রাধা-কৃষ্ণ সাজে দুই শিশু। ছবি: নিউজবাংলা
এবার মাধবপুর জোড়ামণ্ডপে ১৮০তম রাস উৎসব হবে। অন্যদিকে, আদমপুরে হবে ৪০তম রাস উৎসব। 

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ও আদমপুরে মণিপুরি অধ্যুষিত গ্রামের পাড়ায় পাড়ায় এখন রাস উৎসবের আমেজ। মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এই মহারাসলীলা। উৎসবটি মণিপুরিদের হলেও দিনে দিনে তা হয়ে ওঠেছে সার্বজনীন।

এ দিনটিতে তুমুল হইচই, আনন্দ-উৎসাহ, ঢাক-ঢোল, খোল-করতাল, শঙ্খ ধ্বনি আর নাচ-গানের মধ্য দিয়ে রাধার সঙ্গে হিন্দু ধর্মের অবতার শ্রীকৃষ্ণের প্রেমলীলাকে স্মরণ করা হয়।

মণিপুরী সম্প্রদায়ের মূল বাসস্থান মণিপুরের বাইরে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মাধবপুরে সর্বপ্রথম মণিপুরি রাসলীলার প্রচলন ঘটে ১২৪৯ বঙ্গাব্দে (১৮৪২ সাল)। তবে এরও বহু আগে থেকেই এই উৎসব প্রচলিত।

বর্তমানে বৃহত্তর সিলেটের নৃগোষ্ঠীগুলোর অন্যতম মণিপুরি সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব এই রাসলীলা।

এই উৎসব পালন করতে মহারাসলীলানুকরণ জোড়ামণ্ডপের মাঠে কলাগাছে সুসজ্জিত তিনটি মঞ্চে তিনটি গোষ্ঠলীলা অনুষ্ঠিত হয়। বালকেরা রাখাল সেজে নৃত্য ভঙিমায় কৃষ্ণের বাল্যজীবনের বহু ঘটনা ফুটিয়ে তোলে।

এই নকশাখচিত মণ্ডপে যুবতী গোপীনীদের নাচে প্রাণময় হয়ে ওঠে রাসের রাত। ভক্ত-পুণ্যার্থীরা গোষ্ঠলীলা ও রাসলীলা দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে বাতাসা, টাকা-পয়সা ‘পুষ্পবৃষ্টি’ বা হরিলুট করতে থাকেন নৃত্যরত রাখাল ও রাধা-কৃষ্ণ ও গোপিনীদের ওপর।

মহারাসলীলা আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাসের দিন দুপুরে উৎসবস্থল মাধবপুরের শিববাজার উন্মুক্ত মঞ্চ প্রাঙ্গণে হবে গোষ্ঠলীলা বা রাখাল নৃত্য। রাতে জোড়ামণ্ডপে রাসের মূল প্রাণ মহারাসলীলা অনুষ্ঠিত হবে।

আয়োজকেরা জানান, মণিপুরি সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব- রাসলীলা। তবে এ উৎসবে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন।

মহারাত্রির আনন্দের পরশ পেতে আসা হাজারও নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর, কবি-সাহিত্যিক, সাংবাদিক, দেশি-বিদেশি পর্যটক, বরেণ্য জ্ঞানী-গুণী লোকজনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত থাকেন।

এবার মাধবপুর জোড়ামণ্ডপে ১৮০তম রাস উৎসব হবে। অন্যদিকে, আদমপুরে হবে ৪০তম রাস উৎসব।

রাস উৎসবকে সফল করতে প্রায় মাসখানেক ধরে ছয়টি বাড়িতে রাসনৃত্য এবং রাখালনৃত্যের প্রশিক্ষণ ও মহড়া চলেছে। গোপীবেশী শিল্পীদের বয়স ১৬ থেকে ২২ বছর। শুধু রাধার বয়স ৫ থেকে ৬ বছর। নৃত্যের প্রতিটি দলে অন্তত ১২ জন অংশ নেন। একইভাবে রাখাল নৃত্যের ক্ষেত্রেও প্রতিটি দলে ১৪/১৫ বছর বয়সী ২০ থেকে ২২ জন কিশোর অংশ নেয়।

মাধবপুর মণিপুরি মহারাসলীলা সেবা সংঘের সাধারণ সম্পাদক শ্যাম সিংহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এবারের রাসোৎসব আমরা বড় পরিসরে আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছি। এ উৎসবে এবার প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।’

আরও পড়ুন:
মণিপুরি নাচ যেভাবে ছড়িয়ে গেল সবখানে
সারদা হল উন্মুক্ত হচ্ছে নভেম্বরের মধ্যে
খালেদা স্বামীর কবর ভেবে কাকে শ্রদ্ধা জানান: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী
সংস্কৃতি বিনিময়ের বিশ্বমঞ্চে প্রতিমন্ত্রী খালিদ
‘অপসংস্কৃতি থেকে নতুন প্রজন্মকে বাঁচাতে হবে’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
How Manipuri dance spread everywhere

মণিপুরি নাচ যেভাবে ছড়িয়ে গেল সবখানে

মণিপুরি নাচ যেভাবে ছড়িয়ে গেল সবখানে সম্প্রদায় ছাড়িয়ে মণিপুরি নাচ জায়গা করে নিয়েছে বহু দূরের মানুষের হৃদয়েও। ছবি: নিউজবাংলা
‘রবীন্দ্রনাথ মণিপুরী নৃত্যকলায় এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে, কলকাতায় ফিরবার পথে ত্রিপুরার রাজার সাহায্য নিয়ে একজন নাচের শিক্ষককে শান্তিনিকেতনে নিয়ে যান সেখানকার শিক্ষার্থীদের নাচ শেখাবার জন্যে।’

রাসলীলা মণিপুরি সম্প্রদায়ের একটি ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উৎসব হলেও এখন তা আকৃষ্ট করছে সম্প্রদায়ের বাইরের মানুষকেও। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে রাস উৎসবে প্রতিবছর নানা জাতিধর্মের লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটছে।

দেশের অন্য কোনো নৃগোষ্ঠীর লোক উৎসব এত বেশি জনপ্রিয়তা পায়নি।

রাস উৎসব ছাড়াও মণিপুরি নাচ সিলেট-মৌলভীবাজার অঞ্চলের শিল্পকলায় একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। ধর্মীয় আচার থেকে এই নাচ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হয়ে ওঠার পাশাপাশি প্রচারের আলোয় আসার গল্পটি চমকপ্রদ।

বাঙালি সংস্কৃতির অনেক মণিমুক্তো খুঁজে বের করার মতো মণিপুরি নাচের সুবাস ছড়িয়ে দেয়ার পেছনেও জড়িয়ে আছে রবীন্দ্রনাথের ঠাকুরের নাম। তার উদ্যোগেই মণিপুরি নাচ অন্য জাতিগোষ্ঠীর কাছেও পরিচিতি পায়।

সিলেটের প্রবীণ নৃত্যগুরু অনিল কিষান সিংহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কল্যাণেই লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা মণিপুরি নৃত্য প্রচারের আলোয় আসে। রবীন্দ্রনাথ সিলেটে এসে প্রথম মণিপুরি নৃত্য দেখেন। এতে মুগ্ধ হয়ে শান্তিনিকেতনে এই নাচের চর্চা শুরু করেন। এরপর থেকেই মণিপুরি নৃত্য সব মহলে সমাদৃত হতে থাকে। বিভিন্ন জায়গায় সাংস্কৃতিক উৎসবগুলোতে মণিপুরি শিল্পীরা আমন্ত্রণ পেতে শুরু করেন।’

তিনি বলেন, ‘মণিপুরিদের কাছে নৃত্য তাদের ধর্মীয় আচারের অংশ। এখন এটি এই অঞ্চলের সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। মণিপুরি নৃত্যের প্রচারে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অসামান্য অবদান রেখেছেন।’

রবীন্দ্রনাথের সিলেট সফর

১৯১৯ সালে অবকাশ যাপনের জন্য অভিভক্ত ভারতের আসাম রাজ্যের তখনকার রাজধানী শিলংয়ে এসেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সেখানে অবস্থানের সময় শ্রীহট্ট ব্রাহ্মসমাজের পক্ষ থেকে তাকে সিলেট সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়। আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে ওই বছরের ৫ নভেম্বর ছেলে ও ছেলেবউকে নিয়ে সিলেট আসেন রবীন্দ্রনাথ।

৫ নভেম্বর সকালে সুরমা নদীর ঘাট চাঁদনী ঘাটে শঙ্খধ্বনি বাজিয়ে শোভাযাত্রাসহ সিলেটে স্বাগত জানানো হয় কবিকে। সিলেটে তিন দিন অবস্থান করেন কবি।

ভ্রমণকালে এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে মুগ্ধ হয়ে সিলেটকে নিয়ে একটি কবিতাও লেখেন রবীন্দ্রনাথ। সে সময় বাংলা থেকে বিচ্ছিন্ন করে সিলেটকে আসামের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল। এ নিয়ে আক্ষেপও ফুটে ওঠে রবীন্দ্রনাথের কবিতায়। শতবর্ষ পরেও সিলেটের বর্ণনা দিতে গিয়ে এখনও অনেকে দ্বারস্থ হন সেই কবিতার-

মমতাবিহীন কালস্রোতে/ বাঙলার রাষ্ট্রসীমা হতে/ নির্বাসিতা তুমি/ সুন্দরী শ্রীভূমি।/ ভারতী আপন পুণ্য হাতে/ বাঙালির হৃদয়ের সাথে/ বাণীমালা দিয়া/ বাঁধে তব হিয়া/ সে বাঁধনে চিরদিনতরে তব কাছে/ বাঙলার আশীর্বাদ গাঁথা আছে।

সিলেটে ভ্রমণকালে ৬ নভেম্বর টাউন হল প্রাঙ্গণে ও ৭ নভেম্বর মুরারীচাঁদ (এম সি) কলেজের ছাত্রাবাসের উদ্যোগে কবিকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। টাউন হলে রবীন্দ্রনাথের বক্তৃতা ‘বাঙালীর সাধনা’ নামে ‘প্রবাসী’ পত্রিকার আর এম সি কলেজের বক্তৃতার সারমর্ম ‘আকাঙ্ক্ষা’ নামে ‘শান্তিনিকেতন’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

মণিপুরি নাচ যেভাবে ছড়িয়ে গেল সবখানে
সিলেট অঞ্চলে কবিগুরুর সফরের প্রামাণ্য দলিল

টাউন হল প্রাঙ্গণে সংবর্ধনা মঞ্চের টেবিল মোড়ানো ছিল মণিপুরিদের তাঁতের কাপড়ে। এটি পছন্দ হয় রবীন্দ্রনাথের। এই কাপড়ের বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে তিনি মণিপুরিদের সম্পর্কে জানতে পারেন। এরপর মণিপুরিদের তাঁতশিল্প ও তাদের জীবনযাত্রা দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করেন কবি।

মাছিমপুরে রবীন্দ্রনাথ

কবির আগ্রহে পরদিন ৬ নভেম্বর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় নগরের মাছিমপুর মণিপুরিপাড়ায়। সেখানকার বাসিন্দারা বর্ণাঢ্য আয়োজনে বরণ করেন কবিগুরুকে। কবির সম্মানে আয়োজন করা হয় মণিপুরি নৃত্যের।

‘শ্রীভূমি সিলেটে রবীন্দ্রনাথ’ গ্রন্থের লেখক কবি ও গবেষক অধ্যাপক নৃপেন্দ্রলাল দাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘৬ নভেম্বর বিকেল ৩টার দিকে মাছিমপুর মণিপুরিপাড়ায় আসেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। কবিকে স্বাগত জানাতে এখানকার বাসিন্দারা সড়কে সারি সারি কলাগাছ পুঁতে তোরণ নির্মাণ করেন। প্রতি গাছের গোড়ায় মঙ্গলঘট ও আমপাতার সজ্জা করেন। মাছিমপুরে আসার পর রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে যাওয়া হয় গোপীনাথ জীউ মন্দিরে।’

নৃপেন্দ্রলাল বলেন, ‘মণ্ডপে কবির উদ্দেশে মণিপুরি ছেলেমেয়েরা রাখালনৃত্য পরিবেশন করেন। রাধা-কৃষ্ণের প্রেম নিয়ে এই রাখাল নৃত্যের কাহিনি। এরপর রাসনৃত্যের আয়োজনও করা হয়। তবে কবি ক্লান্ত বোধ করায়, রাসনৃত্য না দেখেই নয়াসড়ক টিলার ওপরে ফাদার টমাসের বাংলোয় ফিরে আসেন।

‘সিলেট সফরকালে এখানেই তার থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এরপর সন্ধ্যায় মণিপুরি ছেলেমেয়েরা তার বাংলোয় এসে রাসনৃত্য পরিবেশন করেন, যা মুগ্ধ করে রবীন্দ্রনাথকে।’

মণিপুরি নাচ যেভাবে ছড়িয়ে গেল সবখানে
কৃষ্ণপ্রেমের লীলা তথা মণিপুরিদের রাসলীলার নাচে মুগ্ধ হয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

শান্তিনিকেতনে মণিপুরি নৃত্য

মণিপুরি নৃত্যের সজ্জা, সাবলীল ছন্দ ও সৌন্দর্যে বিমোহিত হন রবীন্দ্রনাথ। শান্তিনিকেতনের ছেলেমেয়েদের মণিপুরি নৃত্য শেখানোর আগ্রহ প্রকাশ তিনি।

সিলেটে রবীন্দ্রনাথের সামনে যে মণিপুরি নৃত্য পরিবেশিত হয় তা পরিচালনায় ছিলেন বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি নৃত্যশিল্পী ইমাগো দেবী। ইমাগো দেবীকে কবিগুরু শান্তিনিকেতনে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। তবে মণিপুরিদের কঠোর সামাজিক বিধিনিষেধের কারণে ইমোগা রাজি হননি। তবে এতে দমে যাননি রবীন্দ্রনাথ।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ফারজানা সিদ্দিকা তার ‘সিলেটে রবীন্দ্রনাথ: শতবর্ষে ফিরে দেখা’ প্রবন্ধে লিখেছেন, ‘রবীন্দ্রনাথ মণিপুরী নৃত্যকলায় এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে, কলকাতায় ফিরবার পথে ত্রিপুরার রাজার সাহায্য নিয়ে একজন নাচের শিক্ষককে শান্তিনিকেতনে নিয়ে যান সেখানকার শিক্ষার্থীদের নাচ শেখাবার জন্যে।’

কেবল শিক্ষক নিয়োগ নয়, শান্তিনিকেতনে মণিপুরি নৃত্যের জন্য আলাদা শাখা গঠন করা হয়। পরবর্তীকালে রবীন্দ্ররচনাতেও পাওয়া যায় মণিপুরি নৃত্যের প্রভাব। রবীন্দ্রনাথের চিত্রাঙ্গদা, চণ্ডালিকা, মায়ার খেলা, নটীর পূজা, শাপমোচন নৃত্যনাট্যে মণিপুরি নৃত্যেও সুর ও তাল অনুসরণ করা হয়েছে।

রবীন্দ্র কালচারাল একাডেমি গঠনের দাবি

সিলেট নগরের মাছিমপুর এলাকার মণিপুরিপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, যে মণ্ডপে রবীন্দ্রনাথ এসে মণিপুরি নৃত্য দেখেছিলেন তার পাশেই উঁচু বেদীর ওপর কবিগুরুর আবক্ষ ভাস্কর্য নির্মিত হয়েছে।

ভাস্কর্যের কয়েক ফুট সামনেই মণ্ডপটি। পুরোনো মণ্ডপের টিনের চালে লাগানো সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে ‘শ্রী শ্রী গোপীনাথ জিউর আখড়া। স্থাপিত ১৮৮০ সন।’

সাইনবোর্ড জানান দিচ্ছে, মণ্ডপের বয়স ১৪২ বছর। এখানেই ১৯১৯ সালের ৬ নভেম্বর এসেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

২০১৯ সালে সিলেটে মহাসমারোহে পালিত হয় ‘শ্রীহট্টে রীবন্দ্রনাথ: শতবর্ষে স্মরণোৎসব’। তার আগের বছর সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত মাছিমপুরে নির্মিত হয় রবীন্দ্রনাথের আবক্ষ মূর্তি।

তবে ঐতিহাসিক মণ্ডপটি দীর্ঘদিনেও সংস্কার করা হয়নি, এর জায়গাও বেদখল হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

বাংলাদেশ মণিপুরি সমাজকল্যাণ সমিতি, সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সংগ্রাম সিংহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মাছিমপুরে মণিপুরি-রবীন্দ্র কালচারাল একাডেমি গঠনের দাবি দীর্ঘদিনের। মন্ত্রী-মেয়রসহ সরকারের সংশ্লিষ্টরা বরাবর আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।’

রাস উৎসব কী

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাস মূলত শ্রীকৃষ্ণের ব্রজলীলার অনুকরণে বৈষ্ণবীয় ভাবধারায় অনুষ্ঠিত ধর্মীয় উৎসব।

‘রাস’ শব্দটি এসেছে ‘রস’ থেকে। ‘রস’ মানে আনন্দ, দিব্য অনুভূতি, দিব্য প্রেম। ‘লীলা’ অর্থ নৃত্য। রাসলীলা মূলত পুরাণের কৃষ্ণ ও বৈষ্ণব সাহিত্যের চরিত্র রাধার অপ্রাকৃত প্রেমলীলার একটি আখ্যান। বৃন্দাবনের গোপীদের নিয়ে রাধা ও কৃষ্ণ এই রাস করেন।

বাংলাদেশ মণিপুরি সাহিত্য সংসদের সভাপতি কবি একে শেরাম নিউজবাংলাকে বলেন, ’পরমাত্মার সঙ্গে জীবাত্মার মহামিলনই রাস। পরমাত্মা হচ্ছেন ঈশ্বর, মানে শ্রীকৃষ্ণ। আর জীবাত্মা হলেন রাধা ও গোপীরা, যারা পুণ্যবলে কৃষ্ণের সান্নিধ্যলাভ করেছেন।’

তিনি বলেন, ’রাসনৃত্য একধরনের বৃত্তাকার নাচ যা আট, ষোলো বা বত্রিশজনে সম্মিলিতভাবে উপস্থাপনা করা যায়।’

প্রতিবছরের মতো এবারও কার্তিকের পূর্ণিমায় মঙ্গলবার সকাল থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে রাস উৎসব হবে।

কমলগঞ্জের আদমপুরের নৃত্যগুরু ধীরেন্দ্র কুমার সিংহ বলেন, ‘মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে রাখাল নৃত্য শুরু হবে। সন্ধ্যায় থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রাত সাড়ে ১১টার দিকে শুরু হবে রাস নৃত্য, যা পরদিন ভোর পর্যন্ত চলবে।’

আরও পড়ুন:
জাতীয় বাজেটের এক শতাংশ সংস্কৃতি খাতে বরাদ্দের দাবি
গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সম্পাদককে অব্যাহতি
টিএসসির অনুষ্ঠানে হামলা ও সাংস্কৃতিক দায়
জাতীয় সংগীত পুরস্কার প্রবর্তনের ভাবনা
প্রস্তাবিত বাজেটে অসন্তুষ্ট সংস্কৃতিকর্মীরা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
In Rajban Vihar the tough Cheebar Danotsav has started

রাজবন বিহারে শুরু কঠিন চীবর দানোৎসব

রাজবন বিহারে শুরু কঠিন চীবর দানোৎসব
পূণ্যার্থী সুম্মিতা চাকমা বলেন, ‘বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের কঠিন চীবর দান হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ একটি দান। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা এবং সুতা থেকে কঠিন চীবর তৈরি করে ভান্তেদের উদ্দেশ্য দান দেয়া। এবারে ৪৯তম দান অনুষ্ঠিত হচ্ছে।’

তুলা থেকে সুতা কেটে রাঙ্গামাটির রাজবন বিহারে শুরু হয়েছে দুইদিনের কঠিন চীবর দানোৎসব।

বেইনঘরের ফিতা কেটে বৃহস্পতিবার বিকেলে এর উদ্বোধন করেন বিহারের আবাসিক প্রধান ভদন্ত শ্রীমৎ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির। এরপর চরকায় তুলা থেকে সুতা কেটে বেইন উদ্বোধন করেন চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় ও তার সহধর্মিনী রাণী য়েন য়েন।

এ উপলক্ষে বুদ্ধমূর্তিদান, অষ্টপরিষ্কার দান, পঞ্চশীল প্রার্থনা, সুত্রপাঠ, ধর্মীয় দেশনা, তুলা উৎসর্গসহ নানা রকম দানের রীতি পালন করা হয়।

কঠিন চীবর দানোৎসবকে ঘিরে রাজবন বিহারে প্রতিবারই দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো পুণ্যার্থীর ঢল নামে। এবার লক্ষাধিক পূন্যার্থীর সমাগম হবে বলে দাবি বিহার পরিচালনা কমিটির।

রাজবন বিহারে শুরু কঠিন চীবর দানোৎসব

উৎসবে আসা পূণ্যার্থী বর্ষা চাকমা বলেন, ‘বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় বৌদ্ধ বিহার রাঙামাটি রাজবন বিহার। এ বিহারে লাখো মানুষের সমাগম দেখা যায়। শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারতের বুদ্ধগয়া থেকেও রাজবন বিহারে বৌদ্ধ পূণ্যার্থী অংশগ্রহণ করেছেন। আমিও এবারের কঠিন চীবর দানে অংশ নিতে পেরে খুবই আনন্দিত।’

আরেক পূণ্যার্থী সুম্মিতা চাকমা বলেন, ‘বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের কঠিন চীবর দান হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ একটি দান। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা এবং সুতা থেকে কঠিন চীবর তৈরি করে ভান্তেদের উদ্দেশ্য দান দেয়া। এবারে ৪৯তম দান অনুষ্ঠিত হচ্ছে।’

রাজবন বিহারে শুরু কঠিন চীবর দানোৎসব

রাজবন বিহারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় বলেন, ‘কোভিড-১৯ এর যে উপদ্রব তা চলে না গেলেও আগের চাইতে অনেক ভালোর দিকে যাচ্ছি। পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা সমগ্র বিশ্ব থেকে এ উপদ্রব চলে যাক। তবে শুধু কোভিড-১৯ নয় ডেঙ্গুও কিছুটা রয়ে গেছে।

‘আমাদের প্রার্থনা হবে, এখানে পার্বত্য চট্টগ্রামে পূর্ণাঙ্গভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক। বাংলাদেশের যে উন্নয়নের যাত্রা তা যথাযথ হোক। বাংলাদেশ ও সারা পৃথিবীতে শান্তি বয়ে আসুক এ কামনা করছি।’

আরও পড়ুন:
কঠিন চীবর দানে পাহাড়ে উৎসব
বান্দরবানে কঠিন চীবর দান উৎসব
খাগড়াছড়িতে কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Halloween night in the heart of Dhaka

ঢাকার বুকে হ্যালোইন নাইট

ঢাকার বুকে হ্যালোইন নাইট হঠাৎ খাবার বিতরণ শুরু করে এক ভূত। ভয়ডর না পেয়ে বরং বেশ মজা পেয়েছে শিশুটি। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা
ভূত-পেতনির ভয়ে ঘরের দরজা-জানালায় খিল আটকে বসে না থেকে অনেকেই গেছেন সাহস করে দেখতে। শিশুরাও দেখছে তাদের গা ছম-ছম করা ভূত-পেতনিদের। নিজেদের প্রিয় সব চরিত্রকেও দেখতে পাচ্ছে ঢাকার বুকেই। ছবি তুলেছেন নিউজবাংলার ফটো সাংবাদিক পিয়াস বিশ্বাস।  

অক্টোবরের শেষ রাতে ঢাকার রাস্তায় দেখা মিলতেই পারে ভূত-পেতনির। রাস্তা-ঘাটে না মিললেও রাজধানীর অনেক হোটেলে দেখা মিলছে নানা রং-রূপে তাদের।

সেই ভূত-পেতনির ভয়ে ঘরের দরজা-জানালায় খিল আটকে বসে না থেকে অনেকেই গেছেন সাহস করে দেখতে। শিশুরাও দেখছে তাদের গা ছম-ছম করা ভূত-পেতনিদের। নিজেদের প্রিয় সব চরিত্রকেও দেখতে পাচ্ছে ঢাকার বুকেই। ছবি তুলেছেন নিউজবাংলার ফটো সাংবাদিক পিয়াস বিশ্বাস।

ঢাকার বুকে হ্যালোইন নাইট

ব্যাটম্যান, জোকার, ওয়ান্ডার ওম্যানের মতো কল্পিত চরিত্রে রাজধানীর বনানী শেরাটন হোটেলে হাজির বেশ কিছু ভূত। রাতে যারা হোটেলটিতে গিয়েছেন তারা দেখতে পেয়েছেন এমন চরিত্রগুলো।

ঢাকার বুকে হ্যালোইন নাইট

ভূত-পেতনির ভয় কে না পায়? আর শিশুরাতো ভয় পাবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সোমবার রাতে ঢাকার বুকে হ্যালোইন নাইটে ভূত-পেতনি দেখে ভয়ের বদলে আনন্দিত শিশুরা।

ঢাকার বুকে হ্যালোইন নাইট

প্রথম দেখায় মনে হতেই পারে, হাতে থাকা কুঠারের আঘাতে এখনি মুণ্ডু দুই ভাগ করে দেবে। অন্ধকারে দেখলে ভয় পাওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু হ্যালোইন নাইটে এমন রূপে হাজির এক ভূত।

ঢাকার বুকে হ্যালোইন নাইট

কঙ্কাল-প্রেতাত্মা, শুনলেই শিশুরা তো বটেই, বড়রাও অনেকেই ভয় পান। তেমন সাজ দেখা গেছে হ্যালোইন নাইটে বনানী শেরাটন হোটেলে।

ঢাকার বুকে হ্যালোইন নাইট

সামনেই তাকিয়ে এক পেতনি। অথচ সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। বরং সেগুলো উপক্ষো করেই নিজের পছন্দের খাবার নিতে ব্যস্ত এক নারী। হ্যালোইন নাইটে ঢাকার বুকেই এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

আরও পড়ুন:
সাবধান, এই রাতে ভূত-পেতনি ভোলাতে চাইবে মন
সৌদিতে প্রথমবার বর্ণাঢ্য হ্যালোইন উৎসব
হ্যালোইনের সঙ্গে মিষ্টিকুমড়ার সম্পর্ক কোথায়

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Beware the mind will want to forget ghosts this night

সাবধান, এই রাতে ভূত-পেতনি ভোলাতে চাইবে মন

সাবধান, এই রাতে ভূত-পেতনি ভোলাতে চাইবে মন চীনে হ্যালোইন উৎসবে এক তরুণী: ছবি: এএফপি
কেলটিকদের বিশ্বাস ছিল, নতুন বছরের আগের রাতে জীবিত এবং মৃতের জগতের মধ্যে দূরত্ব কমে আসে। এ কারণে ৩১ অক্টোবর রাতে তারা উদযাপন করত সোইন উৎসব। কেলটিক বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রাতে মৃতদের আত্মা নেমে আসে পৃথিবীতে।

সূর্য ডুবে আলোকরেখা মিলিয়ে যেতেই কিন্তু সাবধান। বিদেহী আত্মারা ঘুরঘুর করবে আজ রাতে। ভূতের পাশাপাশি পেতনির হাতছানিতে হতে পারেন প্রলুব্ধ। আর একবার প্রলুব্ধ হলে দাম চোকানো কিন্তু বেশ কঠিন। তাই যেকোনো উপায়ে ৩১ অক্টোবর হ্যালোইন রাতে খারাপ আত্মা থেকে নিজেকে দূরে রাখুন।

দূরে রাখার কৌশল হিসেবে ঘরের দরজা-জানালায় খিল আটকে ভেতরে বসে থাকলে হবে না, আপনার বেশ-ভূষায় আনতে হবে পরিবর্তন। ব্যাটম্যান, জোকার, ওয়ান্ডার ওম্যানের মতো কল্পিত চরিত্রে সাজিয়ে তুলুন নিজেকে। এতে প্রলোভন দেখাতে আসা খারাপ আত্মা নিজেই সংশয়ে পড়ে যাবে, আপনার মানুষ পরিচয় নিয়ে দ্বিধান্বিত হয়ে পড়বে সে।

নিজেকে আরও নিরাপদ করতে চাইলে জ্বালাতে পারেন লণ্ঠন। তাই বলে যেকোনো লণ্ঠন বা বাতি হলে চলবে না। প্রয়োজন পড়বে একটি পাকা কুমড়ার। ভেতরটা ফাঁপা করে নিয়ে সেখানে সলতে দিয়ে জ্বালতে হবে প্রদীপ। এতে আপনার ধারেকাছে ঘেঁষবে না কোনো ভূত বা পেতনি।

এ রকম নানা বিদঘুটে আয়োজনে আজ রাতে বিশ্বজুড়ে উদযাপিত হবে হ্যালোইন।

আজকে যা হ্যালোইন (Halloween) সেটির উদ্ভব ইউরোপের কেলটিক জনগোষ্ঠীর সোইন (Samhain) উৎসব থেকে। এখন থেকে ২ হাজার বছর আগে আয়ারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও উত্তর ফ্রান্স অঞ্চলে ছিল কেলটিক জনগোষ্ঠীর বসবাস। আর তাদের নতুন বছরের উৎসব হতো ১ নভেম্বর।

এই দিনটিকে গ্রীষ্মকাল ও ফসল কাটা মৌসুমের শেষ হিসেবে বিবেচনা করত কেলটিকরা। এর পর থেকেই ঠান্ডা শীতের সূচনা, যে মৌসুমকে মানুষের মৃত্যুর সঙ্গে মিলিয়ে বিচার করা হতো।

কেলটিকদের বিশ্বাস ছিল, নতুন বছরের আগের রাতে জীবিত এবং মৃতের জগতের মধ্যে দূরত্ব কমে আসে। এ কারণে ৩১ অক্টোবর রাতে তারা উদযাপন করত সোইন উৎসব। কেলটিক বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রাতে মৃতদের আত্মা নেমে আসে পৃথিবীতে।

কেলটিকরা বিশ্বাস করতেন, ৩১ অক্টোবর মৃত আত্মারা জীবিতদের সঙ্গে হাঁটাহাঁটি করে। এ জন্য খারাপ আত্মাদের এড়াতে অদ্ভুত পোশাক আর নানা সাজসজ্জা নিতেন তারা। একই সঙ্গে এই রাতে আগুন জ্বালিয়ে পৃথিবী এবং আত্মিক জগতের সব বাধা দূর করতে চাইতেন। তাদের বিশ্বাস ছিল, এর মধ্য দিয়ে মানুষের সঙ্গে মহাবিশ্বের সব বাসিন্দার আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়।

এর দীর্ঘকাল পরে ৪৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রোমান সাম্রাজ্য বেশির ভাগ কেলটিক অঞ্চল জয় করে ফেলে। পরের ৪০০ বছর এসব অঞ্চল শাসনের সময় রোমান উৎসবের মাঝে কেলটিকদের ঐতিহ্যবাহী সোইন উৎসবও জায়গা করে নেয়। ধীরে ধীরে সেই সোইন পরিবর্তিত হয়ে হ্যালোইন নাম ধারণ করে।

পুরোনো স্কটিশ ভাষায়, হ্যালো’য়েন (Hallowe’en) -এর অর্থ ‘অল হ্যালোস (হলি) ইভেন’। এর পূর্ণ অর্থ ‘অল হ্যালোস’ ইভেনিং’ বা ‘পবিত্র সন্ধ্যা’। মধ্যযুগে ইউরোপে এটি পালন করা হতো ‘অল হ্যালোস ডে’ বা ‘পবিত্র দিন’-এর আগের সন্ধ্যায়। যেখানে বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে ক্যাথলিক চার্চের সাধুদের সম্মানিত করার রীতি ছিল।

সময়ের পরিক্রমায় উৎসবটির নাম হয়েছে হ্যালোইন। বদলে গেছে বানান লেখার রীতিও।

ঐতিহ্য বা রীতি অনুযায়ী হ্যালোইনের সন্ধ্যায় পথে পথে কালো পোশাক পরা মানুষ রাস্তায় পায়চারি করেন। তাদের বেশভূষায় থাকে শোকের চিহ্ন। অনেকে মৃত আত্মার শান্তি কামনায় প্রার্থনা করেন।

যুক্তরাষ্ট্রে আইরিশ এবং স্কটিশ অভিবাসীদের আগমন শুরু হলে উনিশ শতকে হ্যালোইন বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। হ্যালোইনের উৎপত্তি ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন দেশে এটি সর্বজনীন উৎসব হয়ে উঠেছে। এমনকি এ বছর সৌদি আরবে প্রথমবার বর্ণাঢ্য আয়োজনে হয়েছে হ্যালোইন উৎসব।

হ্যালোইন এখন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক ছুটির দিনে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর গড়ে এই উৎসবে ব্যয় হয় ৬০০ কোটি ডলার। দিনটি ঘিরে কস্টিউম পার্টি এবং হরর মুভি দেখার মতো নানা আয়োজন থাকে দেশটিতে।

আরও পড়ুন:
সোনারগাঁও হোটেলে ৫ দিনের ভারতীয় খাবার উৎসব
তালের রাজ্যে পিঠার উৎসব
কুমিল্লার সেই মণ্ডপে এবার সর্বোচ্চ সতর্কতায় পূজা: বাহার
শামীমকে শুভেচ্ছা জানাল শাকিবের এসকে ফিল্মস
কুষ্টিয়ায় ৩ দিনের আনন্দ উৎসব

মন্তব্য

p
উপরে