× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Voting should be recorded on the mobile phone and shown
hear-news
player
google_news print-icon

‘ভোট দেয়া মোবাইলে ধারণ করে দেখাতে হবে’

ভোট-দেয়া-মোবাইলে-ধারণ-করে-দেখাতে-হবে
আখতারুজ্জামান আখতার। ছবি: সংগৃহীত
লিখিত আবেদনে আখতারুজ্জামান বলেন, ‘বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নে ভোটারদের কাছে যাচ্ছি। ভোটারদের অনেকেই বলেছেন, তাদেরকে এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যান চাপ দিচ্ছেন। এমনকি তাদের পচ্ছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছে কি না তা নিশ্চিতের জন্য ভোট দেয়ার দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে তাদেরকে দেখাতে হবে।

রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটারদের নিরাপত্তা চেয়ে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আখতারুজ্জামান আখতার।

তিনি মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

আখতারুজ্জামানের অভিযোগ, ‘আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবালের পক্ষে ভোট দেয়ার জন্য ভোটারদের চাপ দেয়া হচ্ছে। তার কাপ পিরিচ মার্কায় ভোট দেয়া হচ্ছে কি না দেখার জন্য বুথেও তাদের লোক রাখার কথা বলা হচ্ছে।’

এমন অভিযোগ এনে মঙ্গলবার তিনি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবরে আবেদন করেন।

লিখিত আবেদনে তিনি বলেন, ‘আমি বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নে ভোটারদের কাছে যাচ্ছি। ভোটারদের অনেকেই বলেছেন, তাদেরকে এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যান চাপ দিচ্ছেন। এমনকি তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছে কি না তা নিশ্চিতের জন্য ভোট দেয়ার দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে তাদেরকে দেখাতে হবে।

‘অনেক বলছেন, গোপন কক্ষে তাদের লোক থাকবে। যদি ছবি তুলতে না চান তবে তাদের সমানেই ভোট প্রদান করতে হবে। অন্যথায় তাদের লোক তার ভোট প্রদান করে দিবে। যেহেতু ইভিএমএ ভোট হবে। তাই প্রথম ধাপ শেষ করার পরই তাদের লোক ভোট দিয়ে দিবেন।’

ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন করে আখতারুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন বা অন্য ডিভাইস রোধ এবং অনাকাঙ্ক্ষিত মানুষের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা কামনা করছি।’

জেলা পরিষদ নির্বাচন রাজশাহীর সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল হোসেন জানান, ‘তিনি যেহেতু প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবরে আবেদন করেছেন, আমরা আবেদনটি পাঠিয়ে দেবো। সার্বিকভাবে রাজশাহীতে নির্বাচনের পরিবেশ এখনও ভালো। আশাকরি সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ভোট হবে।’

রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে চারজন প্রার্থী। এর মধ্যে প্রচারে মাঠে আছেন দুই জন। তারা হলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল, জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক (সদ্য বহিষ্কৃত) আখতারুজ্জামান আখতার।

আরও পড়ুন:
‘সব দল ভোটে এনে চমক দেবে ইসি’
ইসির সেই ৮৫ নির্বাচন কর্মকর্তার চাকরি বাতিল করে প্রজ্ঞাপন
অন্যকে বাধা দিলে প্রার্থিতা বাতিল: ইসি
৩৩ বছরেও হয়নি তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ নির্বাচন
প্রতারণার মামলায় আ.লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী কারাগারে

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
10 people in the fight for the post of mayor in Rangpur

রংপুরে মেয়র পদে লড়াইয়ে ১০ জন

রংপুরে মেয়র পদে লড়াইয়ে ১০ জন রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) ভবনের ফটক। ছবি: সংগৃহীত
রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবদুল বাতেন জানান, মঙ্গলবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত মেয়র পদে ১০ জন, সংরক্ষিত কাউন্সিলরের ১১ পদের বিপরীতে ৬৯ জন এবং সাধারণ কাউন্সিলরের ৩৩ পদের বিপরীতে ১৯৮ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে লড়তে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ১০ জন।

মঙ্গলবার ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন। বিকেল ৪টা পর্যন্ত মেয়র পদে ১০ জন, সংরক্ষিত কাউন্সিলরের ১১ পদের বিপরীতে ৬৯ জন এবং সাধারণ কাউন্সিলরের ৩৩ পদের বিপরীতে ১৯৮ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

বিকেলে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবদুল বাতেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, মেয়র পদে মনোয়নপত্র জমা দিয়েছেন ১০ জন। তারা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া, জাতীয় পার্টির মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমিরুজ্জামান পিয়াল, জাসদের শফিয়ার রহমান।

এ ছাড়াও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আতাউর জামান বাবু, খেলাফত মজলিশের তৌহিদুর রহমান মণ্ডল, জাকের পার্টির খোরশেদ আলম এবং ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লতিফুর রহমান মিলন, মেহেদী হাসান বনি, আবু রায়হান মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

মনোনয়নপত্র নিয়েও জমা দেননি জাপার বহিষ্কৃত নেতা এ কে এম আব্দুর রউফ মানিক, শ্রমিক লীগ নেতা এম এ মজিদ ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মাহবুবার রহমান বেলাল।

তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাই ১ ডিসেম্বর, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ৮ ডিসেম্বর। প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে ৯ ডিসেম্বর।

রংপুর সিটি করপোরেশনের তৃতীয়বারের নির্বাচন ২৭ ডিসেম্বর।

আরও পড়ুন:
রংপুর সিটিতে সুন্দর ভোট আয়োজনে কোনো ছাড় দেবে না ইসি
রসিক নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন ২৯ নভেম্বর
রংপুর সিটিতে ভোট ২৭ ডিসেম্বর
রংপুরে সমাবেশের মঞ্চে ফখরুল
রংপুরে বিএনপির সমাবেশ শুরু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
After 11 years Bhola votes in 2 unions

১১ বছর পর ভোলার ২ ইউনিয়নে ভোট

১১ বছর পর ভোলার ২ ইউনিয়নে ভোট ভোলায় আসলামপুর ও ওমরপুর ইউনিয়নে উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে ভোটগ্রহণ। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
দুই ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ২৬ হাজার ৭০৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৪ হাজার ২৯৮ জন। নারী ভোটার ১২ হাজার ৪০৮ জন। দুটি ইউপির ১৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৮টিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে উপজেলা নির্বাচন অফিস।

সীমানা জটিলতা কাটিয়ে ১১ বছর পর ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর ও ওমরপুর ইউনিয়নে উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে ইউপি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ।

সোমবার সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ভোটকেন্দ্রগুলোতে সকাল থেকে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ দেখা গেছে।

শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রতিটি কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকবেন পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও কোস্ট গার্ড সদস্যরা। এ ছাড়াও মাঠে রয়েছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স।

দুটি ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে ৮ জন, সদস্য পদে ৭৯ জন ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ২৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

চেয়ারম্যান পদে ৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াই হবে আসলামপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নৌকা প্রতীকে নুরে আলম মাস্টার এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্রপ্রার্থী আবুল কাশেম মিলিটারি (আনারস), ওমরপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম রিজন (নৌকা) ও আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস প্রতীক এ কে এম সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে।

দুই ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ২৬ হাজার ৭০৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৪ হাজার ২৯৮ জন। নারী ভোটার ১২ হাজার ৪০৮ জন। দুটি ইউপির ১৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৮টিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে উপজেলা নির্বাচন অফিস।

ভোট দিতে আশা ষাটোর্ধ্ব আশরাফ আলী, হোসেন পাটোয়ারী ও ফারুক ভূইয়া জানান, ১১ বছর পর ভোট দিতে এসেছেন, কিন্তু ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণে বিলম্ব হচ্ছে। ধীরগতিতে ভোটগ্রহণের কারণে সকাল থেকে তারা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন।

তবে নতুন ভোটার রুবেল হোসেন, রামিম ও হাজেরা জানান, তারা প্রথমবারের মতো ভোট দিতে এসেছেন এবং ডিজিটাল পদ্ধতি ইভিএমে ভোট দিতে পেরে আনন্দিত।

এদিকে আসলামপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরে আলম ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কাশেম মিলিটারি উভয়ে পরস্পরের বিরুদ্ধে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে ভোটারদের বাধা ও হুমকি দেয়ার অভিযোগ ‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌করেছেন।

জেলা নির্বাচন অফিসার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ইভিএম ভোটারদের কাছে নতুন হওয়ায় ভোটদানে তাদের একটু বিলম্ব হচ্ছে। ভোটারদের নির্বাচন অফিস ও প্রার্থীরা ইভিএম বিষয়ে সচেতন করেছেন। দুপুর ১২টার দিকে দীর্ঘ লাইন কমে যাবে।’

আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিচ্ছে, তবে ইভিএম ভোটারদের কাছে নতুন হওয়ায় ভোটদানে তাদের একটু সমস্যা হচ্ছে। ভোটারদের আমরা ইভিএম বিষয়ে সচেতন করছি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচনি মাঠে রয়েছেন পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও কোস্ট গার্ড সদস্যরা। এ ছাড়াও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স রয়েছেন।

২০১১ সালে ওমরপুরের তখনকার চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে নির্বাচন বন্ধ হয়ে যায়। ওই মামলা নিষ্পত্তির পর বৃহত্তর ওমরপুর ইউনিয়ন ভেঙে ওমরপুর ও আসলামপুর ইউনিয়ন করা হয়। এতে করে এক দশকের বেশি সময় পর এই দুই ইউনিয়নে আয়োজন করা হয় নির্বাচন।

আরও পড়ুন:
ইসির প্রস্তাব উপেক্ষা: সরকারের একটি বক্তব্য চান সিইসি
আরপিওর সংশোধন: ইসিকে পাত্তা দিচ্ছে না সরকার
বিএনপি-জামায়াত বিচ্ছেদের প্রমাণ রংপুরের ভোটে?
নিবন্ধনের শর্ত যাচাইয়ে নির্বাচন কমিশনের হোঁচট
আবার ভোট দিন, যা চাইবেন তার বেশি দেব: শেখ হাসিনা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Election Commission stumbles in verifying the conditions of registration

নিবন্ধনের শর্ত যাচাইয়ে নির্বাচন কমিশনের হোঁচট

নিবন্ধনের শর্ত যাচাইয়ে নির্বাচন কমিশনের হোঁচট রাজনৈতিক দলগুলো নিবন্ধনের শর্তগুলো মেনে চলছে কি না সেটি যাচাইয়ে উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ছবি: নিউজবাংলা
রাজনৈতিক দলগুলো নিবন্ধনের শর্ত মেনে চলছে কি না, সে বিষয়ে তাদের কাছ থেকে প্রতিবেদন চাওয়া হয়। গত ১৩ অক্টোবর পাঠানো চিঠিতে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে জবাব চাওয়া হয়। সে হিসেবে বৃহস্পতিবার ছিল প্রতিবেদন জমার শেষ সময়। কিন্তু ১৯টি দল প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তিনটি দল সময় চেয়েছে। বাকিরা কিছুই জানায়নি।

রাজনৈতিক দলগুলো নিবন্ধনের শর্তগুলো মেনে চলছে কি না সেটি যাচাইয়ে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগ মুখ থুবড়ে পড়ল। কমিশনের বেঁধে দেয়া সময়ে তাদেরকে তথ্য দিল না আওয়ামী লীগ, বিএনপির মতো প্রধান দলগুলো।

নিবন্ধিত ৩৯টি দলের মধ্যে নির্ধারিত সময়ে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে ১৯টি দল। তিনটি দল সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে। বাকি ১৭টি দল কিছুই জানায়নি।

যারা সময় চেয়েছে, তাদের মধ্যে আছে বিএনপি, যারা এক মাস সময় চেয়েছে। আওয়ামী লীগ সময় চেয়েও চিঠি দেয়নি।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের অনুচ্ছেদ ৯০ (খ) এ একটি দল নিবন্ধন পাওয়ার ক্ষেত্রে যেসব শর্ত পূরণ করতে হয় সেগুলোর উল্লেখ রয়েছে। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে-কেন্দ্রীয় কমিটিসহ সব পর্যায়ের কমিটিতে সদস্য নির্বাচিত করা, ২০২০ সালের মধ্যে সব স্তরের কমিটিতে শতকরা ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখা, শিক্ষক বা ছাত্র কিংবা আর্থিক, বাণিজ্যিক বা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারী বা শ্রমিক সমন্বয়ে বা অন্য কোনো পেশার সমন্বয়ে সহযোগী বা অঙ্গ সংগঠন থাকবে না- এসব কথা উল্লেখ আছে।

দলগুলো এসব শর্ত মেনে চলছে কি না, সে বিষয়ে তাদের কাছ থেকে প্রতিবেদন চাওয়া হয়। গত ১৩ অক্টোবর পাঠানো চিঠিতে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে জবাব চাওয়া হয়। সে হিসেবে বৃহস্পতিবার ছিল প্রতিবেদন জমার শেষ সময়।

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। এর আগে সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুরনো দলগুলোর যাচাইবাছাই শেষ করতে চেয়েছিল। সেই হিসেবে এমনিতেই দুই মাস পিছিয়ে তারা। দলগুলোর কাছে সাড়া না পাওয়ার কারণে আরও পিছিয়ে পড়বে সাংবিধানিক সংস্থাটি।

জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের উপসচিব আব্দুল হালিম খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দলগুলো প্রতিবেদন জমা দিচ্ছে। অফিসিয়ালি আজকে লাস্ট ডেট। অনেকেই বলবে চিঠিপত্র পেতে দেরি হয়েছে। তারা হয়তো পরে দেবে।’

কমিশন সময় বাড়াবে কি না-জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে সময় বাড়াবো না। কেউ দরখাস্ত তো করে নাই। আমার মনে হয় ওরা দিয়ে দেবে।’

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি জমা দিয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না ওরা দেই নাই। এদের সঙ্গে কথা হয়েছে।’

বিএনপি ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়ে আবেদন করেছে বলে জানিয়েছেন কমিশনের এক কর্মকর্তা। তবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এ সংক্রান্ত কোনো আবেদন জমা দেন নাই।

নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ বিষয়ে তো এখনও জানি না।’

সময় বাড়াবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে কিছু বলতে পারবো না। কারণ এ নিয়ে তো কোনো আলাপ হয় নাই।’

নিবন্ধনের শর্ত যদি পূরণ করতে না পানে তাহলে নিবন্ধন বাতিল করবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কী শর্ত পূরণ করতে পারে নাই। তার উপরে নির্ভর করে। নিবন্ধন বাতিলের মতো হলে হবে।’

ইসির জবাব সাড়া দিয়েছে যারা

জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি, জাতীয় পার্টি জেপি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, বিজেপি, গণফোরাম, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডি, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- বাংলাদেশ ন্যাপ, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপি, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ, মুক্তিজোট

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশন, বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্ট ও জাকের পার্টি।

সময় চায় যারা

বিএনপি দুই মাস সময় চাইলেও তিন মাস সময় চেয়েছে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ও বাংলাদেশ কংগ্রেস।

নিশ্চুপ যারা

আওয়ামী লীগ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ, বিকল্পধারা বাংলাদেশ বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এম এল), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টি, বাংলাদেশ গণতন্ত্রী পার্টি, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন এনডিএম, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও ইসলামিক ফ্রন্ট এখনও কমিশনকে কিছু জানায়নি।

নিবন্ধন কবে, কাদের বাতিল

সেনা সমর্থিত তত্ববধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সাল থেকে নবম সংসদ নির্বাচনের আগে দলের নিবন্ধন প্রথা চালুর পর ৪৪টি দল নিবন্ধন পায়। এরমধ্যে ৫টি দলের নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় বর্তমানে নিবন্ধিত রয়েছে ৩৯টি দল।

শর্তসাপেক্ষে নিবন্ধন পেলেও স্থায়ী সংশোধিত গঠনতন্ত্র দিতে না পারায় ২০০৯ সালে ফ্রিডম পার্টির নিবন্ধন বাতিল হয়। এছাড়া দশম সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন আদালত অবৈধ ঘোষণা করে।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে নিবন্ধন শর্ত প্রতিপালন না করায় ২০১৮ সালে ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন এবং ভোটের পরে ২০২০ সালে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টি-পিডিপি, ২০২১ সালে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার নিবন্ধন বাতিল করে ইসি।

আরও পড়ুন:
ইভিএমে রি-রাইটের সুযোগ নেই: ইসি আলমগীর
বিএনপি নির্বাচনে আসবে: ইসি আনিছুর
নিবন্ধন চেয়ে আবেদন ৮০ নয়, ৯৮ বা তার চেয়ে বেশি
নাকফুল, বাবেস, মুসকিল লীগ, বৈরাবরী পার্টিসহ নিবন্ধন চায় যারা
ইসির সাবেকদের নিয়ে বুধবার বৈঠক করবে কমিশন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Rangpur election taken as a challenge EC Rashida

রংপুরের নির্বাচন চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি: ইসি রাশিদা

রংপুরের নির্বাচন চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি: ইসি রাশিদা রংপুরে শনিবার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করেন নির্বাচন কমিশনার বেগম রাশিদা সুলতানা। ছবি: নিউজবাংলা
ইসি রাশিদা সুলতানা বলেন, ‘আমরা বসার পর থেকেই শুনছি, নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা নেই। শুধু নির্বাচন কমিশন একা আস্থা তৈরি করবে তা নয়, সবাইকে আস্থা তৈরি করতে হবে। কারও না কারও প্রতি বিশ্বাস থাকতে হবে। আমরা ভালো ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে চাই, এই আস্থা-বিশ্বাস মনের ভেতর আনতে হবে।’

‘রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করাকে আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। ভোট সফল করতে যা যা করা দরকার সব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ জন্য সব প্রার্থী, ভোটারসহ নগরবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন।’

শনিবার দুপুরে রংপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন নির্বাচন কমিশনার বেগম রাশিদা সুলতানা।

তিনি বলেন, ‘আমরা বসার পর থেকেই শুনছি, নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা নেই। শুধু নির্বাচন কমিশন একা আস্থা তৈরি করবে তা নয়, সবাইকে আস্থা তৈরি করতে হবে। কারও না কারও প্রতি বিশ্বাস থাকতে হবে। আমরা ভালো ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে চাই, এ আস্থা-বিশ্বাস মনের ভেতর আনতে হবে।’

রংপুর সিটি নির্বাচনে ইভিএম নিয়ে এক প্রার্থীর শঙ্কার বিষয়ে রাশিদা সুলতানা বলেন, ‘শুধু উনি কেন, ইভিএম নিয়ে অনেকেই শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। আমরা ব্যাপকভাবে ইভিএম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছি। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভাসহ বিভিন্ন নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করেছি। ইভিএমে কোনো ত্রুটি নেই। আমি শুধু এটুকু বলব, নির্বাচন কমিশনের মতো ইভিএমেও আস্থা আনতে হবে।’

এ সময় রংপুর বিভাগীয় কমিশনার সাবিরুল ইসলাম, রিটার্নিং কর্মকর্তা আবদুল বাতেন উপস্থিত ছিলেন।

আগামী ২৭ ডিসেম্বর রংপুর সিটি করপোরেশনে ভোট গ্রহণ হবে।

আরও পড়ুন:
রসিক নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন ২৯ নভেম্বর
রংপুর সিটিতে ভোট ২৭ ডিসেম্বর
রংপুরে সমাবেশের মঞ্চে ফখরুল
রংপুরে বিএনপির সমাবেশ শুরু
খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশে বিএনপির নেতা-কর্মীরা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Will not balance with police CEC

পুলিশ দিয়ে ব্যালেন্স করব না: সিইসি

পুলিশ দিয়ে ব্যালেন্স করব না: সিইসি বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন বক্তব্য দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল। ছবি: নিউজবাংলা
সিইসি বলেন, ‘পুলিশ দিয়ে কিন্তু আমি ব্যালেন্স (সমতা) তৈরি করব না। ব্যালেন্সটা তৈরি হবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে। যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে প্রার্থীদের ইলেকশন এজেন্টরাই প্রতিটি কেন্দ্রে ব্যালেন্স তৈরি করবে।’

কার্যকর প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন সফল হয় না উল্লেখ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইস) কাজী হাবিবুল আউয়াল জানান, ভোট কেন্দ্রগুলোতে প্রার্থীদের সমর্থক ও এজেন্টদের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এতে পুলিশের কোনো ভূমিকা থাকবে না। নির্বাচন সফল হতে সবচেয়ে বেশি দরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সমঝোতা ও সহযোগিতা।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সম্প্রতি সিইসির নেপাল সফর নিয়ে তার এই সংবাদ সম্মেলন।

সিইসি বলেন, ‘পুলিশ দিয়ে কিন্তু আমি ব্যালেন্স (সমতা) তৈরি করব না। ব্যালেন্সটা তৈরি হবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে। যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে প্রার্থীদের ইলেকশন এজেন্টরাই প্রতিটি কেন্দ্রে ব্যালেন্স তৈরি করবে।’

কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘তারা (রাজনৈতিক দল) যদি সেই ভারসাম্য তৈরি না করে তাহলে পুলিশ-মিলিটারি দিয়ে সব সময় নির্বাচনকে সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য ও আস্থাভাজনভাবে উঠিয়ে আনা সম্ভব হবে না।’

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ডায়ালগ অপরিহার্য জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যদি মোটাদাগে মতৈক্য না থাকে নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে নির্বাচন কমিশন সুন্দর নির্বাচন তুলে দিতে পারবে না। রাজনৈতিক দলগুলোর সহায়তা লাগবে। তাদের মধ্যে একটা সমঝোতা লাগবে। নির্বাচন আয়োজনে একটা অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে দিতে হবে। তাহলে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে নির্বাচনটা গ্রহণযোগ্য হবে।’

সিইসি বলেন, ‘সরকারের একটা ভিন্ন সত্তা আছে। তার যে মিনিস্ট্রিগুলো আছে, ডিপার্টমেন্টগুলো আছে। যাদের আমাদের সহায়তা করতে হবে। তাদের তরফ থেকে আন্তরিক এবং সদিচ্ছাভিত্তিক সহায়তা না থাকে তাহলে নির্বাচনটাকে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় সফল করা সম্ভব হবে না। তাদের সহযোগিতা থাকলে নির্বাচনটা আরও বেশি সুন্দর ও সফল হবে।’

এ ছাড়া গাইবান্ধা-৫ আসনে উপনির্বাচনের তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

আরপিও সংশোধনে আইন মন্ত্রণালয়ের সাড়া না পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরলে সিইসি বলেন, ‘এখনো আসেনি। এটা ঠিক। তবে আসবে না, এটা না। আমরা একটু অপেক্ষা করি। আমার বিশ্বাস সরকার সেটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবে। আমরা মনে করি, যৌক্তিকভাবেই কিছু প্রস্তাব পাঠিয়েছি। সেটি সরকার অগ্রাহ্য করবে, বিষয়টি এমন নয়। আমরা আরও কিছুদিন দেখি।’

নির্বাচনে আগে নেপালের মতো রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আবার সংলাপে বসবেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেই নাই।

আমি মনে করি, ডায়ালগ (সংলাপ) যত করা যায়, সেটা ভালো।

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ডায়ালগ একেবারেই হচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা হওয়া খুব প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। রাজনীতিতে আমরা জড়িত হতে চাই না। কিন্তু রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে আমরা আমাদের আবশ্যক সহায়তা প্রত্যাশা করি।'

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রজ্ঞা আছে উল্লেখ করে কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘ওনারাও একটু চিন্তা করবেন। রাজপথে শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে একটা সুন্দর নির্বাচন হবে, এটা আমি বিশ্বাস করি না। সব দলই বলতে চাচ্ছে রাজপথে দেখা হবে। রাজপথে শক্তি পরীক্ষা হবে।

‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আমি বলব, রাজপথে শক্তি প্রদর্শন করে শক্তি দেখিয়ে সত্যিকারের যে গণতান্ত্রিক নির্বাচন, সেটা হবে না। আপনাদের নির্বাচনে আসতে হবে। নির্বাচনের মাঠে নির্বাচনের যে নীতিবিধি আছে, সেই অনুযায়ী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
গাইবান্ধা ‍উপনির্বাচনের প্রতিবেদন: হঠকারী সিদ্ধান্ত নেবেন না সিইসি
জিএসপি প্লাস সুবিধা পেতে মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি চায় এফবিসিসিআই
‘বর্তমান সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন’
দুই দল বসেন, জনগণকে বাঁচান: শহীদুল হক
ইউপি নির্বাচনেও দিতে হবে হলফনামা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Affidavit will also be given in UP elections

ইউপি নির্বাচনেও দিতে হবে হলফনামা

ইউপি নির্বাচনেও দিতে হবে হলফনামা প্রতীকী ছবি
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, যেহেতু বিধিমালার ওপরে আইন প্রাধান্য পাবে সে কারণে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের ক্ষেত্রেও প্রার্থীদের হলফনামা দাখিল করতে হবে। এরপর থেকে সব ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আলাদা ফরমে হলফনামার তথ্য দাখিল করতে হবে।

জাতীয় সংসদ, সিটি করপোরেশনের মতো ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও প্রার্থীদের সাতটি তথ্য সম্বলিত হলফনামা দাখিল করতে হবে বলে রায়ের পর্যবেক্ষণ দিয়েছে হাইকোর্ট।

নির্বাচন কমিশনকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ পর্যবেক্ষণ দেয়।

চট্রগ্রাম ফটিকছড়ির এক ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীকে বৈধতা ঘোষণার রায়ে আদালত এ পর্যবেক্ষণ দিয়েছে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার হাসান এম এস আজিম ও অ্যাডভোকেট মো. জাহেদ উল আনোয়ার।

রায়ের বিষয়ে আইনজীবী মো. জাহেদ উল আনোয়ার বলেন, ‘২০২১ সালের ২৭ অক্টোবর চট্রগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার বখতপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ফারুকুল আজমের মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে রিট করা হয়। রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট গত বছরের ৩১ অক্টোবর ফারুকুল আজমের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে প্রতীক বরাদ্দের নির্দেশ দেয়।

‘আদেশের বিরুদ্ধে অপর প্রার্থী আপিল করেন। শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন। একইসঙ্গে ইউপি নির্বাচনের গেজেট স্থগিত করে দেন। পরে আপিল বিভাগ গত ৬ মার্চ রুলটি নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টে পাঠিয়ে দেন। সেই ধারাবাহিকতায় রুলের শুনানি হয়।’

আইনজীবী জানান, দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত রুল যথাযথ ঘোষণা করে। ফারুকুল আজমের প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা করা হয়। একইসঙ্গে ওই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ভোট নিতে নির্দেশ দেয়া হয়।

এই রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেছে, অন্যান্য নির্বাচনে নমিনেশন পেপারের সঙ্গে ৭টি তথ্য সম্বলিত হলফনামা দেয়ার বিধান আছে। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে হলফনামা দেয়া হয় না। যদিও ইউনিয়ন পরিষদ আইন ২০০৯ এর ২৬(৩) এ হলফনামা দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

২০১০ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিতে শুধুমাত্র প্রত্যায়নপত্র দেয়ার কথা বলা হয়েছে। সেখানে হলফনামা দেয়ার কথা নেই।

পর্যবেক্ষণে বলা হয়, যেহেতু বিধিমালার ওপরে আইন প্রাধান্য পাবে সে কারণে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের ক্ষেত্রেও প্রার্থীদের হলফনামা দাখিল করতে হবে। এরপর থেকে সব ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আলাদা ফরমে হলফনামার তথ্য দাখিল করতে হবে।

এজন্য নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে রায়ে।

আরও পড়ুন:
১২ ইউপি নির্বাচনে আ.লীগের প্রার্থী ঘোষণা
সিলেটে বিদ্রোহীতে ধরাশায়ী নৌকা
নৌকাকে হারিয়ে ইউপির চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা
ইউ‌পি নির্বাচন: ভোট শুরুর আগেই অস্ত্রের মহড়া, সংঘর্ষ
চট্টগ্রামে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Memorandum of martyred children not to register Jamaat affiliated parties

জামায়াত-সম্পৃক্ত দলকে নিবন্ধন না দিতে শহীদ সন্তানদের স্মারকলিপি

জামায়াত-সম্পৃক্ত দলকে নিবন্ধন না দিতে শহীদ সন্তানদের স্মারকলিপি বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সিইসি দপ্তরে স্মারকলিপি জমা দেয় প্রজন্ম ’৭১। ছবি: নিউজবাংলা
প্রজন্ম ’৭১ এর সভাপতি আসিফ মুনীর তন্ময় বলেন, ‘বাংলাদেশ ডেভেলোপমেন্ট পার্টি তারা নিজেদের নিবন্ধনের আবেদন করেছে তাতে আমরা শঙ্কিত। আমরা প্রজন্ম ’৭১ থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে একটা স্মারকলিপি দিয়েছি। আমরা মূলত যেটা বলতে চেয়েছি শহীদ সন্তান ও পরিবার থেকে আমাদের একটা ইমোশনাল আপিল আছে। যে আমরা চাই যাদের কোনো না কোনোভাবে সম্পৃক্ত আছে জামায়েত ইসলামীর সাথে এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের আদর্শের সাথে সেরকম কোনো ব্যক্তি যদি গঠন করেন এবং নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেন তাদের যাতে নিবন্ধন না দেয়া হয়।’

নিবন্ধন প্রত্যাশী নতুন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ ডেভেলোপমেন্ট পার্টিসহ (বিডিপি) জামায়েত সংশ্লিষ্ট কোনো দলকে নিবন্ধন না দেয়ার দাবি তুলেছে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সন্তানদের সংগঠন প্রজন্ম ’৭১।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) দপ্তরে বেলা ১১টায় স্মারকলিপি জমা দেয় শহীদ সন্তানদের এই সংগঠন প্রজন্ম ’৭১।

গত ১৪ নভেম্বর একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পৃক্ততা আছে এমন কোনো রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন না দেয়ার দাবি জানিয়েছে এই সংগঠনটি।

একই দাবিতে বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন বরাবর স্মারকলিপি দেন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, নিবন্ধন বাতিল হওয়া জামায়াতে ইসলামীর নেতারাই দলটি গঠন করেছেন।

গত অক্টোবরে বিডিপি যেদিন ইসিতে নিবন্ধন জমা দিতে আসে, জামায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আছে কি না- জানতে চাইলে বিডিপি সভাপতি বলেন, ‘ভুল কথা অনেকেই বলতে পারেন। এটা একটা নতুন দল। আমার সঙ্গে যারা আছেন তারা নতুন প্রজন্মের। বিভিন্নভাবে তাদের সংগ্রহ করছি। এখানে কারও কোনো দলের লেজুড়বৃত্তি বা সহিযোগিতা ফিল করি না। এখন কেউ যদি কিছু বলে, আমরা এজন্য দায়ী নয়।’

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সন্তানদের সংগঠন প্রজন্ম ’৭১ এর সভাপতি আসিফ মুনীর তন্ময় বলেন, ‘বাংলাদেশ ডেভেলোপমেন্ট পার্টি তারা নিজেদের নিবন্ধনের আবেদন করেছে তাতে আমরা শঙ্কিত। আমরা প্রজন্ম ’৭১ থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে একটা স্মারকলিপি দিয়েছি। আমরা মূলত যেটা বলতে চেয়েছি শহীদ সন্তান ও পরিবার থেকে আমাদের একটা ইমোশনাল আপিল আছে। যে আমরা চাই যাদের কোনো না কোনোভাবে সম্পৃক্ত আছে জামায়েত ইসলামীর সাথে এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের আদর্শের সাথে সেরকম কোনো ব্যক্তি যদি গঠন করেন এবং নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেন তাদের যাতে নিবন্ধন না দেয়া হয়।’

তিনি বলেন, ‘সেটি তদন্ত সাপেক্ষে নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী তদন্ত করবেন। কোন কোন যুক্তিতে নিবন্ধন না দেয়া যেতে পারে সেগুলোর আওতায় যদি কোনোভাবে আসে শুধুমাত্র বাংলাদেশ ডেভেলোপমেন্ট পার্টি নয় অন্যকোনো দল যদি থাকে তাদের নিবন্ধন যাতে না দেয়া হয়। যাতে করে রিভিউ কমিটি আমাদের আবেদনটি আমলে নেন বলে জানান।’

এক প্রশ্নের জবাবে সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক অনল রায়হান বলেন, ‘মিডিয়ার খবর অনুযায়ী বাংলাদেশ ডেভোলোপমেন্ট পার্টির সভাপতি সেক্রেটারি জামায়েতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। খবর নিয়েছি তিনি জামায়েত ইসলামীর সুরা সদস্য ছিলেন এবং আছেন। সংগঠনের যারা সদস্য তারা কখনও না কখনও জামায়েত ইসলামীর সঙ্গে ছিলেন। ছাত্রশিবিরের সঙ্গে ছিলেন। জামায়েত ইসলামের আদর্শ বাংলাদেশ ডেভোলপমেন্ট পার্টি আপহোল্ড করছে। এটা সকল সুস্থ নাগরিক বোঝেন।’

এমনটি নির্বাচন কমিশনসহ আওয়ামী লীগ ও বিএনপি বুঝবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

২০১২ সালের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘গত নির্বাচনে জামায়েতের নিবন্ধন যখন বাতিল হলো তখন আমরা সবাই জানতাম জামায়েত নতুন ফ্রন্ট খুলবে। নতুন চেহারা নিয়ে আসবে।’

বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে যারা ছিলেন তাদের উদ্দেশে শহীদ সন্তান নুজহাত চৌধুরী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিলেন। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাই চায় নাই। তারা যদি সেই অপরাজনীতি থেকে সরে না আসে। তারা বাংলাদেশের মঙ্গল চায় না। তারা কি ক্ষমা চেয়েছেন ত্রিশ লক্ষ শহীদের কাছে? স্বাধীন বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশের যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সেটা আপহোল্ড করবে। নিবন্ধন প্রত্যাশী দলের ভেতর আদর্শিকভাবে যদি থাকে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে কেউ থাকে তাদের যাতে নিবন্ধন না দেয়া হয়।’

সংগঠনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন আসিফ মুনীর, সাইফুদ্দিন আব্বাস, নুজহাত চৌধুরী শম্পা, তানভীর হায়দায় চৌধুরী ও অনল রায়হান।

আরও পড়ুন:
অফিস নেই, ঠিকানা ভুল, তবু নিবন্ধনের বাসনা

মন্তব্য

p
উপরে