× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
29 missing in trawler sinking in Malaysia Yatra sea
hear-news
player
google_news print-icon

সাগরে ট্রলারডুবিতে ৩ রোহিঙ্গার মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ২৯

সাগরে-ট্রলারডুবিতে-৩-রোহিঙ্গার-মরদেহ-উদ্ধার-নিখোঁজ-২৯
বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবির পর নানাভাবে পাড়ে ফিরেছেন ৪৮ জন। ছবি: নিউজবাংলা
পুলিশ ও কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, তারা মূলত ট্রলারে করে অবৈধ পথে মালয়েশিয়া পাড়ি জমাচ্ছিল। সোমবার রাতে দালাল চক্রটি রোহিঙ্গাদের বাহারছড়া ইউনিয়নের হলবনিয়া গ্রামের বাইন্যাঘেনা এলাকায় একটি বাড়িতে নিয়ে রাখে। ভোরের দিকে তারা ছোট ট্রলারে করে হলবনিয়া সৈকত থেকে গভীর সাগরে অপেক্ষায় থাকা বড় ট্রলারের উদ্দেশে রওয়ানা হয়। কিছুদূর যাওয়ার পর সমুদ্রের ঢেউয়ের তোড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়।

দালালের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় অন্তত ৮০ যাত্রী নিয়ে ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও কোস্ট গার্ড ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। ৪৮ জন নানাভাবে পাড়ে উঠলেও নিখোঁজ রয়েছেন কমপক্ষে ২৯ জন।

সাগর উত্তাল থাকায় ট্রলারটি দুলছিল। কয়েক কিলোমিটার গিয়ে ঢেউয়ের ধাক্কায় ট্রলারটি ডুবে যায়। কয়েকজন রোহিঙ্গা প্লাস্টিকের গ্যালন, কাঠের তক্তায় ভেসে ও সাঁতরে উপকূলে ওঠে।

সাঁতরে তীরে ফেরা আনোয়ার খালেক মঙ্গলবার সকালে ট্রলারডুবির এমন বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি হাকিমপাড়া ক্যাম্পের বাসিন্দা।

তিনি জানান, গভীর সমুদ্রে অপেক্ষমাণ বড় জাহাজে তোলার কথা বলে তিনদিন আগে দালালচক্র শতাধিক রোহিঙ্গা নারী-পুরুষকে উখিয়ার কুতুপালং, লম্বাশিয়া, বালুখালী, মধুরছড়া ক্যাম্প থেকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় টেকনাফের বাহারছড়ায়।

সোমবার মধ্যরাতে বাহারছড়া সৈকতের বাইন্যাপাড়া ও হলবনিয়া এলাকার ৮০ জনকে একটি ট্রলারে ওঠানো হয়। অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে কক্সবাজারের টেকনাফে বঙ্গোপসাগর উপকূলে ভোরে ট্রলারটি ডুবে যায়। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত তিন রোহিঙ্গা নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড ও পুলিশ। তারা ৪ বাংলাদেশিসহ ৪৮ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে।

খালেকের মতো কুতুপালং ক্যাম্প থেকে গিয়েছিলেন মোহাম্মদ শরীফ। তিনি জানান, দালালের মাধ্যমে তারা মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য রওনা দেন ৷ ছোট ছোট ট্রলারে করে নিয়ে বড় ট্রলারে তোলা হয়। এক পর্যায়ে পানি ঢুকে ট্রলারটি ডুবে যায়৷ সেখানে প্রায় ৮০ জন ছিল।

ক্যাম্প ২০ এর জমিলা বেগম জানান, স্বামী মালয়েশিয়ায় থাকেন। সেখানে যাচ্ছেন। দালালদের দুই দফায় ৮০ হাজার টাকা দিয়েছেন। তিনদিন আগে বাইন্যাপাড়া পাহাড়ে রাখা হয়। সেখান থেকে সোমবার মধ্যরাতে ট্রলারে তোলা হয়। কিছুদূর গিয়ে ট্রলারে পানি ঢুকেছে বলে দালালরা অন্যবোটে করে পালিয়ে যায়।

বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন জানান, মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় ট্রলার ডুবে গেছে। এখন পর্যন্ত ৪ বাংলাদেশিসহ ৪৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ ও কোস্ট গার্ড উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।

এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান। তিনি জানান, মরদেহ আরও বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া তিন মরদেহ রোহিঙ্গা নারীর। আর জীবিত উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গারা উখিয়ার বালুখালী, কুতুপালং ও হাকিম পাড়াসহ বিভিন্ন ক্যাম্পে থাকেন। বাংলাদেশি চার দালালের মধ্যে মহেশখালীর দুইজন, টেকনাফের সাবরাং ও ঈদগাঁওয়ের একজন করে।’

পুলিশ ও কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, তারা মূলত ট্রলারে করে অবৈধ পথে মালয়েশিয়া পাড়ি জমাচ্ছিল। সোমবার রাতে দালালচক্রটি রোহিঙ্গাদের বাহারছড়া ইউনিয়নের হলবনিয়া গ্রামের বাইন্যাঘেনা এলাকায় একটি বাড়িতে নিয়ে রাখে। ভোরের দিকে তারা ছোট ট্রলারে করে হলবনিয়া সৈকত থেকে গভীর সাগরে অপেক্ষায় থাকা বড় ট্রলারের উদ্দেশে রওয়ানা হয়। কিছুদূর যাওয়ার পর সমুদ্রের ঢেউয়ের তোড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়।

ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, ‘তারা বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে পালিয়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করছিল। খবর পেয়ে বাহারছড়া কোস্ট গার্ডের একটি টহল টিম উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সাঁতরে ও ভেসে কূলে আসা ৪৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

‘ওই ট্রলারে কতজন ছিল, নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মানব পাচারের সঙ্গে কারা জড়িত তাদের বিষয়ে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।’

কোস্ট গার্ড টেকনাফের বাহারছড়া আউটপোস্ট স্টেশনের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘মঙ্গলবার সকালে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের হলবনিয়া পাড়া সাগর পয়েন্টে উপকূলে কিছু রোহিঙ্গাকে সাঁতরে আসতে দেখে কোস্ট গার্ডকে জানান জেলেরা। পরে কোস্ট গার্ড সদস্যরা তাদের উদ্ধার করেন।’

আরও পড়ুন:
ভারত থেকে ফিরলেন ৩২ জেলে
ট্রলারডুবি: নিখোঁজ ৭ জেলে উদ্ধার ভারতে
সাগরে এখনও নিখোঁজ দুই ট্রলার
সাগরে ট্রলারডুবি: আরও তিন জেলের মরদেহ উদ্ধার
সাগরে ট্রলারডুবি: ২ জেলের মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ৬

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Head teacher arrested on charges of attempted molestation

শ্লীলতাহানি চেষ্টার অভিযোগে প্রধান শিক্ষক আটক

শ্লীলতাহানি চেষ্টার অভিযোগে প্রধান শিক্ষক আটক প্রধান শিক্ষকের অপসারনের দাবিতে স্কুলের গেটে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা
শ্লীলতাহানি চেষ্টার জের ধরে দুপুরে বিদ্যালয়ের শতশত শিক্ষার্থী ও বহিরাগতরা স্কুলের সামনে অবস্থান নেয়। তারা সড়ক অবরোধ করে। প্রধান শিক্ষকের অপসারনের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর শ্লীলতাহানি চেষ্টার অভিযোগে প্রধান শিক্ষক শাখায়াত হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ।

উপজেলার শরীফাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে বুধবার এই ঘটনা ঘটে।

বৃহস্পতিবার রাতে অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণ চেষ্টার মামলা দায়ের করা হয়। এর আগে দুপুরে প্রধান শিক্ষককে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়ারুল ইসলাম বলেন, এক ছাত্রীর অভিযোগ তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় প্রধান শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।

এই ঘটনার জের ধরে দুপুরে বিদ্যালয়ের শতশত শিক্ষার্থী ও বহিরাগতরা স্কুলের সামনে অবস্থান নেয়। তারা সড়ক অবরোধ করে। প্রধান শিক্ষকের অপসারনের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে।

ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগের সুত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে শরীফাবাদ স্কুলে পরীক্ষা দিচ্ছিল ওই ছাত্রী। নকল করার অভিযোগ তার খাতা নিয়ে যান ডিউটিরত শিক্ষিকা। এ সময় ঘন্টাব্যাপী ওই শিক্ষার্থীর খাতা আটকে রাখা হয়।

মেয়েটি কান্নাকাটি করলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে গিয়ে অনুমতি আনার কথা বলেন ওই শিক্ষিকা। প্রধান শিক্ষক শাখায়াত হোসেনের কাছে গিয়ে পরীক্ষার খাতা ফেরত চাইলে শাখায়াত তার রুমে যেতে বলেন।

রুমে প্রবেশ করতেই প্রধান শিক্ষক মেয়েটিকে জড়িয়ে ধরেন এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন।

মেয়েটি চিৎকার দিলে তার মুখ চেপে ধরেন প্রধান শিক্ষক। ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি দেন। পরে মেয়েটি পরীক্ষা না দিয়ে বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারকে ঘটনা জানায়।

মেয়েটির বাবা বলেন, মীমাংসার জন্য শাখায়াতের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মহল চাপ প্রয়োগ করছে। আমি কোন মীমাংসায় যাবো না।

অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. শাখায়াত হোসেন জানান, বুধবার পরীক্ষা দেওয়ার সময় নকলের অভিযোগে মেয়েটির খাতা জব্দ করে রুমের শিক্ষক। মেয়েটি আমার কাছে এসে বিস্তারিত জানালে আমি তাকে বাড়ি যেতে বলি এবং পরবর্তী পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে বলি। সে আমার পা জড়িয়ে ধরে মাফ চাইলে আমি পরীক্ষা হলে গিয়ে দায়িত্ব পালন করা শিক্ষককে খাতা ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করি। কিন্তু হঠাৎ সে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আজিম উদ্দিন বলেন, ‘আমি এবং ভাঙ্গা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ সরজমিনে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি।’

এলাকাবাসী কে শান্ত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, স্কুলের কার্যক্রম আগের মতোই চলবে।

আরও পড়ুন:
শ্লীলতাহানির চেষ্টার পর ট্রেন থেকে ছুড়ে ফেলে হত্যা
শ্লীলতাহানির মামলায় প্রধান শিক্ষক কারাগারে
বাসে ছাত্রীর শ্লীলতাহানির মামলায় চালক রিমান্ডে
‘ছাত্রীর শ্লীলতাহানি’, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক গ্রেপ্তার
নারীর ‘শ্লীলতাহানি’, যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Pistols hidden in Kishori Ranis rice bowl

কিশোরী রানীর ভাতের পাতিলে লুকানো পিস্তল-গুলি

কিশোরী রানীর ভাতের পাতিলে লুকানো পিস্তল-গুলি ভাতের ভেতর পিস্তল ও গুলি লুকিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পৌঁছে দেয়াসহ মুক্তিযুদ্ধের সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছেন গৃহবধু কিশোরী রানী শর্মা। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
কুমিল্লার গৃহবধূ কিশোরী রানী শর্মা মুক্তিযুদ্ধের সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যোদ্ধাদের সাহায্য করেছেন। পাড়ি দিয়েছেন শত্রু এলাকা। তার স্বামী মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র সারাই করে দিতেন। তাদের মেলেনি মুক্তিযুদ্ধের স্বীকৃতি।

ভারতের সোনামূড়া। ডিসেম্বর শুরু। শীতের সন্ধ্যা। চারদিকে আবছা কুয়াশা। রান্নার পাতিলে ভাতের ভেতর পিস্তল ও গুলি লুকিয়ে মুক্তিযোদ্ধারের কাছে যাচ্ছিলেন এক গৃহবধূ।

পথে আচমকা পাকিস্তানিরা দূর থেকে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি পড়ে যান গোমতী নদীতে। স্রোতের টানে ভেসে যান অনেকদূর। মৃত ভেবে পাকিস্তানিরা চলে যায়। ঘটনার পর মুক্তিযোদ্ধারা আসেন। উদ্ধার করেন ওই গৃহবধূকে। ক্যাম্পে নিয়ে গুলি বের করেন। বাম কনুইয়ের ওপর গুলির দাগ আজও সেই বিভীষিকাময় দিনগুলোর কথা মনে করে দেয়।

গৃহবধূর নাম কিশোরী রানী শর্মা। তার স্বামী অরুণপ্রসাদ শর্মাও মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। অস্ত্র তৈরি করা, বিকল অস্ত্র ঠিক করার দায়িত্ব ছিল অরুণপ্রসাদ শর্মার ওপর। স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরও স্বামী-স্ত্রীর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মেলেনি। মনের ভেতর কষ্ট নিয়েই বছর দশেক আগে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান অরুণপ্রসাদ।

কিশোরী রানী শর্মার বাড়ি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার মধ্যম বিজয়পুরে। তার এক ছেলে এক মেয়ে। বছরচারেক আগে কিশোরী রানীর একমাত্র ছেলে বাসুপ্রসাদ শর্মা ট্রেন দুর্ঘটনায় মারা যান। এক মেয়ে বিজয়পুর মৃৎশিল্প কারখানার কাজ করেন। ৫ হাজার টাকা বেতন। এই টাকা দিয়ে কোনো রকমে খেয়ে-পড়ে বেঁচে আছেন তারা।

সরেজমিনে মধ্যম বিজয়পুরে গিয়ে দেখা যায়, কিশোরী রানীর বাড়ির সামনে একটি খাল। নড়বড়ে সাঁকো পার হয়ে সামনে গেলে ছোট্ট একটি টিনের ঘরে শুয়ে থাকতে দেখা যায় কিশোরী রানী শর্মাকে।

শোয়া থেকে উঠে ভাঙা কণ্ঠে কিশোরী রানী জানান, ১৯৩৭ সালে তার জন্ম। জাতীয় পরিচয়পত্রে তারিখটা লেখা ৬ মে। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী অরুণপ্রসাদ অস্ত্র বানাতে পারতেন। ভাঙা অস্ত্র ঠিক করতে পারতেন। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়েও স্বীকৃতি পাননি। ১০ বছর হলো তিনি মারা গেছেন।’

স্মৃতির ঝাঁপি খুলে কিশোরী রানী বলেন, ‘শীতের রাতে কতবার বিবিরবাজার বর্ডার ক্রস করে ভারতের সোনামুড়া গেছি। সেখানে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ হতো। প্রতিবার পাকিস্তানিদের চোখ ফাঁকি দিতে কত কৌশলের আশ্রয় নিয়েছি। গুলি খেয়ে নদীতে পড়ে গেছি। তবুও মুক্তিযুদ্ধ করে গেছি।

‘আমরা মেজর এনামের নেতৃত্বে যুদ্ধ করেছি। অথচ আজ আমাদের স্বামী-স্ত্রীর কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই। আমার ছেলেটা মারা গেল। একমাত্র মেয়ে আর ছেলের ঘরের নাতি-নাতনিদের নিয়ে কোনো রকমে বেঁচে আছি। কেউ আমাদের খবর রাখে না। আমার স্বামী বেঁচে থাকতে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতির জন্য আবেদন করেছিল। আমিও করেছি। কেউ আমাদের স্বীকৃতি দেয় না।’

বিষয়টি নিয়ে কুমিল্লা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সফিউল আহমেদ বাবুল বলেন, ‘ভারতীয় তালিকা, দেশের গেজেট ও লাল তালিকায় কিশোরী রানী ও তার স্বামী অরুণের নাম নেই। তাই তাদের মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি দেয়া যাচ্ছে না। তবে তারা যদি মন্ত্রণালয় বা জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) কাছে গিয়ে প্রমাণ করতে পারেন, সে ক্ষেত্রে তাদের নাম গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।’

কিশোরী রানী শর্মার মেয়ে পান্না রানী শর্মা বলেন, ‘মাকে নিয়ে কত কষ্টে আছি, কেউ না এলে বুঝবেন না। দেশকে শত্রুমুক্ত করতে বিনা শর্তে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল আমার বাবা-মা। অথচ আজ আমার মা ও বাবার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেতে কত শর্ত মানতে হবে। এর চেয়ে দুঃখের কী আছে! আমি আশা করব, একদিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঠিকই আমাদের বাবা-মাকে স্বীকৃতি দিবেন। কারণ পৃথিবীতে অনেক সত্য আছে, যেগুলোর জন্য প্রমাণ লাগে না। আমার বাবা-মাও তেমন।’

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শুভাশিস ঘোষ বলেন, ‘আমি কিশোরী রানী শর্মাকে চিনি। তার জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা শুনেছি। তিনি ও তার স্বামী মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। তবে যথাযথ ডকুমেন্ট সংরক্ষণ করতে পারেননি বলে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাননি। আমি আশা করব, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন তার এই ত্যাগের বিষয়টি মূল্যায়ন করেন। তিনি যেন তার প্রাপ্য পান। কারণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছেন। সেখানে স্বাধীনতার অর্ধশত বছর পরে এসে যদি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা তার স্বীকৃতি না পান, সেটা হবে দুর্ভাগ্যজনক।’

আরও পড়ুন:
ডিসেম্বরকে ‘মুক্তিযোদ্ধা মাস’ চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
একাত্তরে শহীদ আইনজীবীদের তালিকা চায় সুপ্রিম কোর্ট
রাজাপুর পাকহানাদার মুক্ত দিবস
‘৯০ ভাগ সমবায় সমিতি শুধু কাগজে-কলমে’
বঞ্চিত মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি দাবি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The chairmen returned the blanket

কম্বল ফেরত দিলেন চেয়ারম্যানরা

কম্বল ফেরত দিলেন চেয়ারম্যানরা শাহজাদপুরে বৃহস্পতিবার বরাদ্দের কম্বল ফেরত দেন ইউপি চেয়ারম্যানরা। ছবি: নিউজবাংলা
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে বরাদ্দকৃত কম্বলগুলো বৃহস্পতিবার দুপুরে ভ্যানযোগে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ফেরত দেন চেয়ারম্যানরা। সেগুলো পরিষদের গোডাউনে রাখা হয়েছে।

শীতার্তদের মাঝে বিতরণের জন্য সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ১০টি ইউনিয়নে সরকারিভাবে বরাদ্দ দেয়া কম্বল ফেরত দিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) মেরিনা জাহান বরাদ্দের কম্বলের বেশিরভাগ অংশ চেয়েছেন। এতে দরিদ্রদের দেয়ার মতো পর্যাপ্ত কম্বল থাকবে না।

তবে এমপি মেরিনা জানিয়েছেন, চেয়ারম্যানদের সঙ্গে তার ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।

কম্বল ফেরত দেয়ার বিষয়টি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিশ্চিত করেছেন চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতি ও গালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাতেন।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহজাদপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে জন্য বরাদ্দ কম্বলগুলো ভ্যানে করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে পাঠিয়ে দেয়া হয়। সেগুলো পরিষদের গোডাউনে রাখা হয়েছে।

অভিযোগকারী ইউপি চেয়ারম্যানরা জানান, শীতে অসহায় ও দরিদ্রদের জন্য শাহজাদপুরের ১৩ ইউনিয়নে ৩৫০ পিস করে কম্বল বরাদ্দ দেয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া আফরিন চেয়ারম্যানদের জানান, এমপি প্রতিটি ইউনিয়নের বরাদ্দ থেকে ২০০ পিস করে কম্বল নিজে বিতরণের জন্য চেয়েছেন।

গালা ইউপির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাতেন বলেন, ‘এত কমসংখ্যক কম্বল বিতরণ করা আমাদের জন্য কষ্টসাধ্য হবে। তাই সরকারি বরাদ্দ পাওয়া কম্বলগুলো আমরা ফেরত দিয়েছি।’

শাহজাদপুর উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘চেয়ারম্যানরা কম্বল ফেরত দিয়েছেন কিনা এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না।’

ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে ইউএনও সাদিয়াকে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফারুক আহম্মদ বলেন, ‘স্ব-স্ব উপজেলায় সরকারিভাবে কম্বল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বরাদ্দকৃত কম্বলগুলো সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা বিতরণ করতে পারেন। এ বিষয়ে আমার কোনো মতামত নেই।’

সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মেরিনা জাহান কবিতা বলেন, ‘আমি বলেছি প্রতিটা ইউনিয়নে গিয়ে কম্বল বিতরণ করব। বিষয়টি নিয়ে চেয়ারম্যানদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বসেই সমাধান করা হবে।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
College student killed by gang of teenagers in Comilla

কু‌মিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে কলেজছাত্র নিহত

কু‌মিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে কলেজছাত্র নিহত কলেজ শিক্ষার্থী মো. পাবেল। ছবি: সংগৃহীত
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, কলেজ ছাত্র পাবেল সঙ্গীদের নিয়ে রাতে ব্যাডমিন্টন খেলতে যান। এ সময় একদল কিশোর তাদেরকে মাঠ থেকে উঠে যেতে বলে। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা পাবেলকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ব্যাডমিন্টন খেলাকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো. পাবেল নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী খুন হয়েছেন।

চৌদ্দগ্রামের আলকরায় রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভরঞ্জন চাকমা।

নিহত পাবেল উপজেলার গুণবতী এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি ফেনী মহিপাল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, পাবেল নিজ বাড়ি গুণবতী থেকে পাশের আলকরা ইউনিয়নে নানা বাড়িতে বেড়াতে যান। সেখানে স্থানীয় কিশোরদের সঙ্গে রাতে ব্যাডমিন্টন খেলতে যান তিনি। এ সময় একদল কিশোর নিজেরা খেলবে বলে পাবেল ও তার সঙ্গীদের মাঠ থেকে উঠে যেতে বলে। ওইসময় কিশোরদের সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা এলোপাতাড়ি পাবেলকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। তাকে বাঁচাতে গিয়ে আরও দুজন আহত হন। তারা বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা চিকিৎসাধীন বলে জানা গেছে।

ওসি শুভরঞ্জন চাকমা জানান, বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তারা পাবেলকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেছে বলে স্থানীয়রা জা‌নি‌য়ে‌ছে। জড়িত সবাই স্থানীয় কিশোর। ঘটনার পর থে‌কে তারা পলাতক। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কু‌মিল্লা মে‌ডি‌কেল ক‌লেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বীমার টাকার জন্য স্ত্রীকে খুন
বড় ভাই খুন, অভিযোগ ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে
আফতাবকে বহনকারী পুলিশ ভ্যানে তরবারি হামলা
সন্তানকে নিয়ে স্বামীকে ১০ টুকরা করে ফ্রিজে
শ্রদ্ধার মরদেহ ফ্রিজে রেখেই ডেটিংয়ে আফতাব

মন্তব্য

বাংলাদেশ
If Khaleda Zia comes to the rally the information given in the release application will be false

মুক্ত মানুষকে কীভাবে জামিন দেয়: আইনমন্ত্রী

মুক্ত মানুষকে কীভাবে জামিন দেয়: আইনমন্ত্রী নারায়ণগঞ্জ বার ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। ছবি: নিউজবাংলা
খালেদা জিয়ার মুক্তির দুই শর্তের মধ্যে উনি রাজনীতি করতে পারবেন না- এমন কথা নেই। কিন্তু উনার যে আবেদন ছিল তাতে পরিষ্কারভাবে লেখা ছিল তার শারীরিক অবস্থা এত খারাপ যে তিনি চলাফেরা করতে পারেন না।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশে বেগম খালেদা জিয়া অংশ নেবেন বলে শোনা যাচ্ছে। তবে তিনি যদি সমাবেশে আসেন, তাহলে তার মুক্তির আবেদনে দেয়া অসুস্থতার তথ্য মিথ্যা প্রমাণিত হবে।

বৃহস্পতিবার রাতে নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির বার ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আনিসুল হক বলেন, 'বিএনপি নেতারা এখনও দাবি করেন খালেদা জিয়াকে জামিন দিতে হবে। কিন্তু মুক্ত মানুষকে কীভাবে জামিন দেয়? দুই শর্তে খালেদা জিয়াকে জেল থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। তাকে আবার জামিন কীভাবে দেবে?

‘বিএনপি নেতারা বলছেন, ১০ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়া বক্তব্য দেবেন। তার মুক্তির দুই শর্তে উনি রাজনীতি করতে পারবেন না- এমন কথা নেই। কিন্তু উনার যে আবেদন ছিল তাতে পরিষ্কারভাবে লেখা ছিল খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এত খারাপ যে তিনি চলাফেরা করতে পারেন না। তাকে দ্রুত মুক্তি দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। বেগম খালেদা জিয়া যদি ১০ ডিসেম্বর সমাবেশে যান তাহলে তার মুক্তির আবেদনে যে তথ্য দেয়া হয়েছে, তা মিথ্যা প্রমাণিত হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০০৭ ও ২০০৮ সালে যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল, তখন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুটির বেশি দুর্নীতির মামলা হয়। তদন্ত করা হয়, এফআইআর হয়, চার্জশিটও হয়। প্রতিটি সময়ই খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। তারা শুধু নিম্ন আদালতে না, যেতে যেতে আপিল বিভাগেও গিয়েছেন। সেখান থেকে বলে দিয়েছে, বিচারিক আদালত হয়ে মামলা শেষ করতে হবে।

’বিচারিক আদালতে বিচার হয়েছে, সাজাও হয়েছে। একটি মামলায় পুনরায় আপিল করেছেন, সেটাতে আবার হাইকোর্ট সাজা বাড়িয়েছে। আরেকটিতে বিচারিক আদালত সাজা দিয়েছে। তারপর তিনি জেলে গেছেন। জেলে থাকাকালে তার পরিবার থেকে আবেদন করা হয়েছে, সেখানে বলা হয়- তার শরীর অত্যন্ত খারাপ। তাকে জেল থেকে ছাড়িয়ে চিকিৎসা করাতে হবে। আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে জেল থেকে ছাড়ার প্রার্থনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার মহানুভবতায়, ৪০৮ ধারায় দণ্ডাদেশ স্থগিত করেছেন। দুই শর্তে তাকে মুক্তি দিয়েছেন।’

অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব গোলাম সারওয়ার, অ্যাটর্নি জেনারেল আবু মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন, সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম ওসমান, এ কে এম শামীম ওসমান, লিয়াকত হোসেন খোকা, জেলা প্রশাসক মো. মঞ্জুরুল হাফিজ ও জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
বিএনপির ষড়যন্ত্র সফল হলে দেশ বিরান ভূমি হবে: আইনমন্ত্রী
সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম থাকবে কি না চিন্তাভাবনা হচ্ছে: আইনমন্ত্রী
খালেদার নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ নেই: আইনমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
City residents are angry at the A League rally blocking the road

সড়কে আ.লীগের মঞ্চ, ক্ষোভ নগরবাসীর

সড়কে আ.লীগের মঞ্চ, ক্ষোভ নগরবাসীর
ঘুরে যেতে রিকশাওয়ালাকে বাড়তি টাকা দিতে হয়েছে জানিয়ে বাধ রোড এলাকার হুমায়রা বেগম বলেন, ‘আমাদের মেয়র কেন তার নগরবাসীর জন্য ভোগান্তির সৃষ্টি করলেন বুঝতে পারলাম না। এই স্টেজ তো কোনো মাঠেও করা যেত।’

বরিশাল নগরীতে নগর ভবনের সামনের রাস্তা আটকে পার্বত্য শান্তি চুক্তি দিবস উদযাপনের জন্য মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত এই সমাবেশ হবে শুক্রবার বিকেলে। এ জন্য রাস্তার উপর মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হয় বুধবার রাত থেকে।

গুরুত্বপূর্ণ সড়ক আটকে এই আয়োজনের কারণে বিকল্প পথ ব্যবহারে ভোগান্তি হচ্ছে জানিয়ে ক্ষুব্ধ নগরবাসী।

ঘটনাস্থলে বৃহস্পতিবার সন্ধ‌্যায় গিয়ে দেখা গেছে, পার্বত‌্য শান্তি চুক্তির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সমাবেশের মঞ্চ তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। প্রশস্ত সড়কটি আটকে মঞ্চ তৈরি করায় যান চলাচল বন্ধ করা হয়েছে।

অটোরিকশাচালক মাইনুল হোসেন বলেন, ‘মানুষের তো কমন সেন্স থাকে ভাই। পুরো রাস্তা আটকে মঞ্চ করছে। যাত্রীরা তো অনেক ঝামেলায় পড়ে গেছে। পুলিশ অন‌্য পথ দিয়ে যেতে বলে। অনেক ঘোরা লাগে।

‘যেখানে মঞ্চ করেছে, সেখান থেকে লঞ্চ ঘাট ৩ মিনিটের পথ। কিন্তু ঘুরে অন‌্য পথ দিয়ে যেতে অনেক সময় লাগে। যাত্রীরা ঘুরতে চায় না।’

সড়কে আ.লীগের মঞ্চ, ক্ষোভ নগরবাসীর

ওষুধ বিক্রেতা ইমদাদুল হক মাসুম বলেন, ‘মোটরসাইকেল নিয়ে বিআরটিএ অফিস যাচ্ছিলাম। সিটি করপোরেশনের সামনে এসে দেখি রাস্তা বন্ধ। স্টেজ করছে। তারপর ঘুরে বরিশাল ক্লাবের সামনে দিয়ে বিআরটিএ অফিসে গেছি।

‘এমনভাবে স্টেজ করেছে যে একটা মোটরসাইকেলও যেতে পারে না। আওয়ামী লীগের নেতাদের এ কেমন চিন্তা ভাবনা বুঝি না।’

কলেজ শিক্ষক মোশাররেফ হোসেন বলেন, ‘এই সড়কটাতে ফায়ার সার্ভিস আছে। কোনো ধরণের দুর্ঘটনা যদি ঘটে তাহলে তো এই সড়ক হয়েই বের হতে হবে। এখন কি তারা বাইপাস সড়ক দিয়ে ঘুরে বের হবে?

‘এই সড়ক হয়ে লঞ্চঘাট, পোস্ট অফিস, সিটি করপোরেশন, ডিসি অফিস, বিআরটিএ অফিস, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসসহ গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে সপ্তাহের শেষ দিনে যেতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। যেমন আমারই ডিসি অফিসে কাজ ছিল। রিকশা নিয়ে প্রথমে নগর ভবনের সামনের সড়কে গেলেও, পরে ঘুরে যেতে হয়েছে।’

সড়কে আ.লীগের মঞ্চ, ক্ষোভ নগরবাসীর

ঘুরে যেতে রিকশাওয়ালাকে বাড়তি টাকা দিতে হয়েছে জানিয়ে বাধ রোড এলাকার হুমায়রা বেগম বলেন, ‘আমাদের মেয়র কেন তার নগরবাসীর জন‌্য ভোগান্তির সৃষ্টি করলেন বুঝতে পারলাম না। এই স্টেজ তো কোনো মাঠেও করা যেত।’

এ বিষয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বরিশাল জেলা পরিষদ চেয়ারম‌্যান একেএম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘হাজী মোহাম্মদ মহসিন মার্কেটের নাম যে পাল্টেছে তা চোখে পড়ে না। আর রাস্তাটা যে একটু আটকেছে তা চোখে পড়েছে?’

সড়ক আটকে সমাবেশের অনুমতির বিষয়ে জানতে বরিশাল মহানগর পুলিশের দক্ষিণ জোনের উপ কমিশনার আলী আশরাফ ভূঞা জানান, তিনি অনুমতির বিষয়ে অবগত নন।

তবে পুলিশ কমিশনার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অনুমতির জন‌্য চিঠি দেয়া হয়েছিল। অনুমতি দেয়া হয়েছে নগর ভবনের সামনের সড়কে সমাবেশ করার জন‌্য।’

আরও পড়ুন:
রাজশাহীতে পরিবহন ধর্মঘটে ভোগান্তি
পরিবহন ধর্মঘটের আগেই রাজশাহীর সমাবেশে নেতা-কর্মীরা
সকাল থেকে রাজশাহী বিভাগে পরিবহন ধর্মঘট
ষড়যন্ত্র রুখতে ঐক্যবদ্ধের ডাক শেখ সেলিমের
শিক্ষককে লাঞ্ছনার মামলায় আ.লীগ নেতা কারাগারে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Cocktail injured police from BNP procession

বিএনপির মিছিল থেকে ককটেল, আহত পুলিশ

বিএনপির মিছিল থেকে ককটেল, আহত পুলিশ
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম খান বলেন, ‘এ ঘটনা সম্পর্কে আমাদের জানা নেই। এ ঘটনা মিথ্যা ও গুজব।’

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে ঢাকা-দোহার বাইপাস সড়কে দুর্বৃত্তদের মারধরে আহত হয়েছেন থানার এসআই মো. সাইফুল। এসময় রাস্তায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে, আগুন দেয়া হয়েছে একটি মোটরসাইকেলে।

পুলিশ বলছে, বিএনপি নেতা-কর্মীরা এই হামলা চালিয়েছে।

শ্রীনগরের কুশরীপাড়া গ্রামের বাইপাস সড়ক মোড়ে বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

আহত এসআই সাইফুলকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

শ্রীনগর থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, কারাবন্দি দলীয় নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবিতে রাতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে স্থানীয় বিএনপি। মিছিলটি ঢাকা-দোহার বাইপাস সড়কের মোড়ে পৌঁছলে বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। মিছিলে থাকা লোকজন একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়, দুটি অটো ভাঙচুর করা হয়।

ওসি আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গেলে এসআই সাইফুলকে মারধর করে হামলাকারীরা।

এসব সত্য নয় জানিয়ে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম খান বলেন, ‘এ ঘটনা সম্পর্কে আমাদের জানা নেই। এ ঘটনা মিথ্যা ও গুজব।’

আরও পড়ুন:
সমাবেশ ঘিরে অপরাজনীতি হলে রাজপথেই জবাব: মেয়র লিটন
জামিন পেলেন বিএনপি নেতা সাবেক এমপি নাদিম
‘ধর্মঘটে মিডিয়ায় বাড়তি প্রচার পাচ্ছে বিএনপি’
কুমিল্লায় বিএনপির সমাবেশে ৪ ধর্মগ্রন্থ, রাজশাহীতে কী?
সমাবেশ কোথায় হবে তা সময়ই বলে দেবে: আব্বাস

মন্তব্য

p
উপরে