× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Journalist Aftab murder case appeal hearing begins
hear-news
player
google_news print-icon

সাংবাদিক আফতাব হত্যা মামলায় আপিল শুনানি শুরু

সাংবাদিক-আফতাব-হত্যা-মামলায়-আপিল-শুনানি-শুরু
ফাইল ছবি
আফতাব আহমেদ দৈনিক ইত্তেফাকের জ্যেষ্ঠ আলোকচিত্রী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি রংপুরের গঙ্গাচড়ায়। তিনি ঢাকার পশ্চিম রামপুরার ৬৩ নম্বর হোল্ডিংয়ে একটি চারতলা ভবনের তৃতীয় তলায় থাকতেন। ২০১৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর রাতে নিজ বাসায় খুন হন ৭৮ বছর বয়সী আফতাব।

ফটো সাংবাদিক আফতাব আহমেদ হত্যা মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের করা আপিল আবেদনের ওপর শুনানি শুরু হয়েছে।

সোমবার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি হয়।

শুনানির শুরুতে পেপারবুক উপস্থাপন করা হয়। প্রথম দিনে বিচারিক আদালতে মামলার রায় পাঠ করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সামিরা তারানুম মিতি।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মামলাটির আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের উপর শুনানি শুরু হয়েছে। রায়ের অংশটি পাঠ করা হয়েছে। পরে আদালত মঙ্গলবার পর্যন্ত মূলতবি করে।’

আদালতে উপস্থিত ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আঞ্জুমান আরা বেগম, কাজী শামসুন নাহার ও সায়েম মো. মোরসেদ। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. মিজানুর রহমান খান ও আরিফুল ইসলাম।

একুশে পদকপ্রাপ্ত ফটো সাংবাদিক আফতাব আহমেদকে হত্যার দায়ে ২০১৭ সালে ২৮ মার্চ আদালত পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও একজনকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়। ঢাকার চার নম্বর দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবদুর রহমান সরদার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামিরা হলেন, নিহত আফতাব আহমেদের গাড়িচালক মো. হুমায়ুন কবীর মোল্লা এবং তার সহযোগি বিলাল হোসেন কিসলু, হাবিব হাওলাদার, মো. রাজু মুন্সী ও মো. রাসেল। অপর আসামি সবুজ খানকে সাত বছর কারাদণ্ড ছাড়াও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

রায়ের পর পরই মামলায় ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল আবেদন করেন।

মামলা থেকে জানা যায়, আফতাব আহমেদ দৈনিক ইত্তেফাকের জ্যেষ্ঠ আলোকচিত্রী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি রংপুরের গঙ্গাচড়ায়। তিনি ঢাকার পশ্চিম রামপুরার ৬৩ নম্বর হোল্ডিংয়ে একটি চারতলা ভবনের তৃতীয় তলায় থাকতেন। ২০১৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর রাতে নিজ বাসায় খুন হন ৭৮ বছর বয়সী আফতাব।

হত্যা মামলাটির তদন্ত চলাকালে র‍্যাব গ্রেপ্তার করে আফতাবের গাড়িচালক হুমায়ুন কবীরসহ পাঁচজনকে।

আসামিরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান, টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করার সময় বাধা দিলে আফতাবকে হত্যা করা হয়।

আরও পড়ুন:
সুপ্রিম কোর্টে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ছুরিসহ আটক ৫
আদালত অবমাননা: কুষ্টিয়ার ডিসি-এসপির বিষয়ে আদেশ সোমবার
৪১ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের তালিকা নিয়ে দুদক যাচ্ছে হাইকোর্টে

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Gold smuggling 12 arrested including three Indians

স্বর্ণ চোরাচালান: তিন ভারতীয়সহ আটক ১২

স্বর্ণ চোরাচালান: তিন ভারতীয়সহ আটক ১২ প্রতীকী ছবি
দর্শনাগামী পূর্বাশা পরিবহন ও রয়েল পরিবহনের দুটি বাসের ১২ যাত্রীকে আটক করে পাঁচজনের পায়ুপথ ও সাতজনের লাগেজের হ্যান্ডল বার, মানিব্যাগ ও কাঁধ ব্যাগের বিভিন্ন অংশে লুকানো মোট ৭ হাজার ৪৩২ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।

স্বর্ণ চোরাচালানের সময় রাজধানীতে তিন ভারতীয় নাগরিকসহ ১২ জনকে আটক করেছেন শুল্ক গোয়েন্দারা। তাদের কাছ থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণ জব্দ করা হয়েছে।

শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানতে পারে যে ২৫ নভেম্বর রাত সাড়ে ১০টায় রাজধানীর মিরপুরে মাজার রোড থেকে বাবুবাজার ব্রিজ হয়ে দর্শনাগামী পূর্বাশা পরিবহন ও রয়েল পরিবহনের যাত্রীদের মাধ্যমে স্বর্ণ চোরাচালান হতে পারে।

‌গোপন এই সংবাদের ভিত্তিতে সংস্থার উপ-পরিচালক সানজিদা খানমের নেতৃত্বে কাস্টমস গোয়েন্দাদের দুটি দল বাস দুটিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চুলকুটিয়া এলাকায় থামিয়ে তল্লাশি চালায়। এ সময় সন্দেহভাজন কয়েক যাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। পরে সন্দেহভাজন যাত্রীদের শরীরে এক্স-রে পরীক্ষা করে ১২ জনের কাছে স্বর্ণ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। তাদের মধ্যে তিনজন ভারতীয় নাগরিক।

স্বর্ণ চোরাচালান: তিন ভারতীয়সহ আটক ১২
পূর্বাশা পরিবহন ও রয়েল পরিবহনের যাত্রীদের কাছে পাওয়া যায় চোরাচালানের স্বর্ণ। ছবি: নিউজবাংলা

আটকদের ৫ জনের পায়ুপথ ও ৭ জনের লাগেজের হ্যান্ডল বার, মানিব্যাগ ও কাঁধ ব্যাগের বিভিন্ন অংশে বিশেষভাবে লুকায়িত অবস্থায় মোট ৭ হাজার ৪৩২ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। তাদের কাছে এসব স্বর্ণ আমদানি বা কেনার সপক্ষে বৈধ কোনো কাগজপত্র পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর।

আটক তিন ভারতীয় নাগরিক হলেন- নবী হুসাইন, শাহাজাদা ও মোহাম্মদ ইমরান। অন্যরা হলেন- রাহাত খান, মোহসিন আল মাহমুদ, কাজী মামুন, সৈয়দ আমীর হোসেন, শামীম, মামুন, বশির আহমেদ কামাল, মামুন সরকার এবং আতিকুর রহমান মীনা।

আরও পড়ুন:
শাহজাদপুর সীমান্তে ৮০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার
স্বর্ণের দাম আরও বাড়ল, ভরি ৮৪২১৪ টাকা
স্বর্ণের দাম বাড়ল ভরিতে ২৩৩৩ টাকা
বিমানের সিটে ৬ কেজি স্বর্ণ
বিমানবন্দরের ডাস্টবিনে ৩০ স্বর্ণের বার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Basic Bank Scam ACC Requests Malaysia For Clues

বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি: আলামত চেয়ে মালয়েশিয়াকে দুদকের অনুরোধ

বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি: আলামত চেয়ে মালয়েশিয়াকে দুদকের অনুরোধ
দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান নিউজবাংলাকে জানান, বৃহস্পতিবার এই প্রতিবেদন হলফনামা করা হয়েছে। সোমবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

বেসিক ব্যাংকের দুই হাজার ৭৭ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় আলামত চেয়ে মালয়েশিয়াকে অনুরোধ জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পারস্পরিক আইনি সহায়তা চুক্তির (এমএলএআর) আওতায় এই অনুরোধ জানানো হয়েছে।

দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান শনিবার নিউজবাংলাকে জানান, বৃহস্পতিবার এই প্রতিবেদন হলফনামা করা হয়েছে। সোমবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

বেসিক ব্যাংক দুর্নীতির মামলায় মোহম্মদ আলীর জামিন আবেদনের ওপর শুনানির জন্য ২৮ নভেম্বর দিন ধার্য রয়েছে।

এ ঘটনায় দায়ের করা ৫৬ মামলার মধ্যে ১২ মামলার আসামি ব্যাংকটির সাবেক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলীর জামিন শুনানিতে ৮ নভেম্বর হালনাগাদ তথ্য চেয়েছিল হাইকোর্ট। সে অনুসারে এই প্রতিবেদন দাখিল করা হচ্ছে।

মামলায় আত্মসাৎ করা অর্থের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, বেসিক ব্যাংক লিমিটেডের বিভিন্ন শাখা থেকে প্রায় দুই হাজার ৭৭ কোটি ৩৪ লাখ দুই হাজার ৯৯১ টাকা, যা সুদসহ দুই হাজার ৫৯০ কোটি ৪৯ লাখ ৯১ হাজার চারশ’ ৫৩ টাকা আত্মসাতের দায়ে দুর্নীতি দমন কমিশন প্রাথমিক অনুসন্ধান করে মোট ৫৬টি মামলা করেছে।

মামলাগুলো দীর্ঘদিন ধরে তদন্তাধীন। তদন্ত দীর্ঘায়িত হওয়ার অন্যতম একটি কারণ হলো- আত্মসাৎকৃত অর্থ সম্পূর্ণরূপে নগদে উত্তোলনের মাধ্যমে টাকার অবস্থান গোপন করা হয়েছে। মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের শনাক্তকরণ ও তাদের জবানবন্দি গ্রহণ (১৬১ ধারায়) কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। সব সাক্ষীর কাছ থেকে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। বর্ণিত মামলায় আলামত প্রচুর এবং ব্যাংকের বিশাল পরিমাণ কাগজপত্র থেকে প্রকৃত সব আলামত শনাক্ত করা সময়সাধ্য। প্রকৃত আসামিদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়াটিও এই মামলায় বেশ জটিল।

এছাড়া মামলার প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহের জন্য মালয়েশিয়ায় এমএলএআর করা হয়েছে। সে সংক্রান্ত প্রতিবেদন ও আলামত এখনও পাওয়া যায়নি।

মামলাগুলোর আগের তদন্ত কর্মকর্তারা বদলি হয়ে যাওয়ায় একাধিকবার তদন্তকারী কর্মকর্তাও পরিবর্তন করা হয়েছে। মামলাগুলোর তদন্তকাজ এগিয়ে চলছে। আসামি ও আলামত শনাক্ত করা, সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ করা ও এমএলএআর-এর পরিপ্রেক্ষিতে বিদেশ থেকে মামলার প্রয়োজনীয় আলামত পাওয়া সাপেক্ষে এবং প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যথাসম্ভব দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

৫৬ মামলায় আত্মসাৎকৃত অর্থের মধ্যে ইতোমধ্যে ১১৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা উদ্ধার/ব্যাংকে জমা করা হয়েছে।

এ মামলায় ৮২ জন ঋণগ্রহীতা ছাড়াও বেসিক ব্যাংকের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী ফকরুল ইসলাম, ডিএমডি ফজলুস সোবহান, সাবেক ডিএমডি শেখ মঞ্জুর মোরশেদ, জিএম এ. মোনায়েম খান, জিএম মোহাম্মদ আলী ওরফে মোহাম্মদ আলী চৌধুরীসহ ব্যাংকের ২৭ জন কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে।

বেসিক ব্যাংকের গুলশান শাখা, প্রিন্সিপাল/প্রধান শাখা, দিলকুশা শাখা এবং শান্তিনগর শাখাসহ মোট চারটি শাখার ঋণ কেলেঙ্কারির বিষয়ে গুলশান থানায় ২৩টি, মতিঝিল থানায় ১২টি ও পল্টন থানায় ২১টিসহ মোট ৫৬টি মামলা করা হয়। মামলার আসামিদের মধ্যে বেসিক ব্যাংক কর্মকর্তা ২৭ জন, ব্যবসায়ী ৮২ জন, বেসরকারি সার্ভেয়ার ১১ জনসহ মোট ১২০ জনকে আসামি করা হয়। তাদের মধ্যে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির তদন্ত ৬ বছরেও কেন শেষ হয়নি: হাইকোর্ট
বেসিক ব্যাংকের কত টাকা জব্দ, সাত দিনের মধ্যে জানানোর নির্দেশ
বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি: জি বি হোসেনকে বিদেশ যেতে মানা
বেসিক ব্যাংকে শুধুই দীর্ঘশ্বাস
বেসিক ব্যাংকের নতুন এমডি আনিসুর রহমান

মন্তব্য

বাংলাদেশ
A League attacked and vandalized BNP office injured 10

বিএনপি কার্যালয়ে ‘আ.লীগের’ হামলা ভাঙচুর, আহত ১০

বিএনপি কার্যালয়ে ‘আ.লীগের’ হামলা ভাঙচুর, আহত ১০ বারহাট্টা উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে শনিবার বিকেলে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ছবি: নিউজবাংলা
জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম হিলালী জানান, বারহাট্টা উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে কৃষক দলের উদ্যোগে কৃষকদের মাঝে সার ও বীজ বিতরণ কর্মসূচি চলছিল। বেলা ৩টার দিকে হঠাৎ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে সেখানে হামলা চালান। তারা কার্যালয়ের চেয়ার, টেবিল ও আসবাব ভাঙচুর করেন। হামলায় বিএনপির অন্তত ১০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।

নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অন্তত ১০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।

শনিবার বেলা ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

বারহাট্টা থানার ওসি লুৎফর রহমান ঘটনা নিশ্চিত করে জানান, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে মারামারি হয়েছে।

হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছে বিএনপি।

জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম হিলালী জানান, বারহাট্টা উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে কৃষক দলের উদ্যোগে কৃষকদের মাঝে সার ও বীজ বিতরণ কর্মসূচি চলছিল। বেলা ৩টার দিকে হঠাৎ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে সেখানে হামলা চালান। তারা কার্যালয়ের চেয়ার, টেবিল ও আসবাব ভাঙচুর করেন।

তিনি আরও জানান, আওয়ামী লীগের হামলায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অন্তত ১০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত ব্যক্তিরা হলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিম, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি বাবুল মিয়া, সাধারণ সম্পাদক সুধীন্দ্র চন্দ্র দাস, কৃষক দলের সদস্য দুলাল মিয়া, যুবদলের তোফাজ্জল, মুশফিক ও সাফিন। তাদের নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে বারহাট্টা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মাইনুল হক কাশেম বলেন, ‘আমাদের দলের কোনো নেতা-কর্মী বিএনপির কার্যালয়ে হামলা করেনি। এটা তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল হতে পারে।’

বারহাট্টা থানার ওসি লুৎফর রহমান বলেন, ‘কৃষক দলের কর্মসূচি এবং আওয়ামী লীগের মিছিল চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে কিছুটা মারামারি হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগেরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে শুনেছি। তবে আমরা গিয়ে কাউকে পাইনি।’

আরও পড়ুন:
৭১ টিভির গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতাকে অব্যাহতি
কুমিল্লায় ৭১ টিভির গাড়ি ভাঙচুর
পরাজিত ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ
বরিশাল শহরে জ‌মি নি‌য়ে বিরোধ, পাল্টাপাল্টি হামলা
প্রতিমন্ত্রী স্বপনের লোকজনের বিরুদ্ধে ভাঙচুরের অভিযোগ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Attack on BNP rally day in Khulna Death of sick leader

খুলনার বিএনপির সমাবেশে যাওয়ার পথে হামলায় আহত নেতার মৃত্যু

খুলনার বিএনপির সমাবেশে যাওয়ার পথে হামলায় আহত নেতার মৃত্যু ২২ অক্টোবর খুলনায় বিভাগীয় গণসমাবেশে আসার পথে হামলার শিকার হন বিএনপি নেতা জিকো। ছবি: নিউজবাংলা
নিহত সাজ্জাদুর রহমান জিকো ফুলতলা উপজেলার পয়গ্রাম কসবা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য।

খুলনায় বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশে আসার পথে হামলার শিকার এক নেতা দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মারা গেছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে খুলনার ফুলতলা উপজেলার পয়গ্রাম কসবা এলাকায় নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান। খুলনা মহানগর বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান মিলটন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত সাজ্জাদুর রহমান জিকো ফুলতলা উপজেলার পয়গ্রাম কসবা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য।

খুলনা মহানগর বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান মিলটন বলেন, ‘২২ অক্টোবর খুলনা বিভাগীয় গণসমাবেশে আসার পথে শাসকদলের সন্ত্রাসীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। তাকে ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ওই সময় চিকিৎসকরা তার মাথায় ১২টি সেলাই দিয়েছিলেন। তাকে দেখতে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতারা।’

তিনি আরও বলেন, ‘জিকো হাসপাতাল থেকে বাড়িতে গেলে অসুস্থ অবস্থায় আবারও তাকে মারে করে শাসকদলের সন্ত্রাসীরা। এজন্য তিনি অসুস্থতা কাটিয়ে উঠতে পারেননি। বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। শুক্রবার বাদ আসর তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।’

এদিকে বিএনপি কর্মী জিকোর মৃত্যুতে বিবৃতি দিয়েছেন খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ। শুক্রবার রাতে ই-মেইলে দেয়া বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘সরকার ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার জন্য বিএনপি নেতা জিকোকে হত্যা করেছে। একদিন এই হত্যাকান্ডের বিচার খুলনার মাটিতেই হবে। যারাই এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত তাদের আইনের মুখোমুখি হতেই হবে।’

আরও পড়ুন:
নতুন বাংলাদেশ গড়বেন তারেক: আমির খসরু
মিছিলে সামনে থাকা নিয়ে বিএনপি কর্মীর মধ্যে হাতাহাতি
সমাবেশে আসা বিএনপি নেতা-কর্মীদের ৩ জুমার নামাজ
১০ ডিসেম্বর না হলেও সরকার পতন দূরে নয়: নোমান
আমরা খেলা করি না: খন্দকার মোশাররফ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Arrested along with husband of agricultural officer with drugs

মাদকসহ কৃষি কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

মাদকসহ কৃষি কর্মকর্তা গ্রেপ্তার মাদকসহ গ্রেপ্তার কৃষি কর্মকর্তা আকলিমা আক্তার। ছবি: নিউজবাংলা
আড়াইহাজারের ফতেহপুর ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রাম থেকে শুক্রবার সন্ধ্যায় কৃষি কর্মকর্তা আকলিমা আক্তার, তার স্বামী মোতাহার হোসেন সেলিম ও গাড়িচালক আজিজুল হককে আটক করে পুলিশ।

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে পাঁচ হাজার ইয়াবা বড়িসহ এক কৃষি কর্মকর্তা, তার স্বামী ও তাদের প্রাইভেটকারের চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রাম থেকে শুক্রবার সন্ধ্যায় কৃষি কর্মকর্তা আকলিমা আক্তার, তার স্বামী মোতাহার হোসেন সেলিম ও গাড়িচালক আজিজুল হককে আটক করা হয়। রাতে তাদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা করে পুলিশ।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবির হোসেন শুক্রবার রাতে জানান, ইয়াবা কারবারের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ এ কৃষি কর্মকর্তা ও তার স্বামীকে আটক করা হয়। শনিবার তাদের আদালতে পাঠানো হবে।

এ কর্মকর্তার ভাষ্য, গ্রেপ্তার দম্পতি দক্ষিণপাড়া গ্রামে নিজেদের বাড়িতে থাকেন। তারা সেখান থেকেই গোপনে দীর্ঘদিন ইয়াবার কারবার পরিচালনা করছেন।

আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল হক জানান, আড়াইহাজার উপজেলা কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি অফিসার আকলিমা আক্তার ও তার স্বামী ইয়াবার কারবারে জড়িত বলে খবর পায় পুলিশ। এর ভিত্তিতে তাদের ওপর পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি শুরু হয়।

তিনি জানান, শুক্রবার রাজধানী থেকে আকলিমা ও তার স্বামী পাঁচ হাজার ইয়াবা বড়ি কিনে ভাড়া করা প্রাইভেটকারে নিজ বাড়িতে যাচ্ছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের বাড়ির কাছে পুলিশের একটি দল অবস্থান নেয়।

প্রাইভেটকারটি সেখানে এলে পুলিশ সেটি থামিয়ে তল্লাশি করে। ওই সময় পাঁচ হাজার ইয়াবা বড়ি পাওয়া যায়।

ওসি আরও জানান, জব্দ করা ইয়াবা ও প্রাইভেটকারসহ আটক তিনজনকে আড়াইহাজার থানায় নেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
পথচারীর পকেটে ইয়াবা: জামিন নাকচ এএসআইয়ের
ইয়াবায় জর্জরিত সৌদি আরব
কনডমে ভরে ইয়াবা পাচার, নারীসহ আটক ৫
চার লাখ ইয়াবাসহ আটক ৫, রাইফেল জব্দ
প্রতিমন্ত্রীর বোনের বাড়ি থেকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ভাগনে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Babys bloody body in sack

শিশুর রক্তাক্ত মরদেহ বস্তায়

শিশুর রক্তাক্ত মরদেহ বস্তায়
শিশুর পরিবারের বরাতে পুলিশ কর্মকর্তা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে আবু বকর নিখোঁজ ছিল। তাকে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে শিমরাইলকান্দির পুকুরপাড়ে বস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় দেহ পাওয়া যায়।

ব্রাক্ষণবাড়িয়া শহরে পুকুরপাড়ে পড়ে থাকা বস্তা থেকে ৫ বছরের শিশুর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

শহরের শিরাইকান্দি এলাকায় শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটেছে।

নিহত ৫ বছরের আবু বকর কান্দিপাড়া এলাকার হাসান মিয়ার ছেলে।

এসব নিশ্চিত করেছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোকাম্মেল হোসেন রেজা।

তিনি শিশুর পরিবারের বরাতে জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে আবু বকর নিখোঁজ ছিল। তাকে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে শিমরাইলকান্দির পুকুরপাড়ে বস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় দেহ পাওয়া যায়। তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের চিকিৎসক আরিফুজ্জামান হিমেল জানান, শিশুটিকে গলাকাটা অবস্থায় আনা হয়েছে। হাসপাতালে আনার আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা মোজাম্মেল জানান, এ ঘটনায় সন্দেহভাজন একজনকে আটক করা হয়েছে। তবে তার পরিচয় তিনি জানাননি।

আরও পড়ুন:
আলামত নষ্ট করার বিদ্যা ‘ক্রাইম পেট্রল’ দেখে
স্কুলকক্ষে ২ ভাইয়ের মরদেহ: বাবা আটক
শিশু আয়াতকে হত্যার পর ৬ টুকরা করেন সাবেক ভাড়াটিয়া
স্কুলকক্ষে ২ ভাইয়ের মরদেহ, মিলছে না বাবার খোঁজ
কোথায় গেল ছোট্ট আয়াত!

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The science of evidence destruction sees Crime Petrol

আলামত নষ্ট করার বিদ্যা ‘ক্রাইম পেট্রল’ দেখে

আলামত নষ্ট করার বিদ্যা ‘ক্রাইম পেট্রল’ দেখে নিখোঁজ শিশু আয়াত (বামে) ও তাকে হত্যার সন্দেহে গ্রেপ্তার আবির। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
শ্বাসরোধে শিশু আয়াতের মৃত্যুর পর তার মরদেহ বাবার বাসায় পলিথিন দিয়ে পেঁচিয়ে নিজ বাসায় নিয়ে যান আবির। সেখানে বটি ও অ্যান্টি-কাটার দিয়ে মরদেহ ছয় টুকরো করে দুটি পলিথিনে নিয়ে চট্টগ্রামের সাগরপাড় এলাকায় সাগরে ফেলে দেন।

২১ বছর আগে বিয়ে করে নগরীর ইপিজেড থানার বন্দরটিলা নয়ারহাট এলাকায় মঞ্জুর হোসেনের ভাড়া বাসায় ওঠেন রংপুরের আজহার-আলেয়া দম্পতি। এর দুই বছর পর এই দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় আবির আলী।

এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়। আজহার-আলেয়া দম্পতি কিছুদিনের জন্য অন্যত্র গেলেও আবার ফিরে আসেন মঞ্জুরের বাসায়। দীর্ঘদিন একসাথে বাস করায় মঞ্জুর হোসেনের পরিবারের সাথে এ দম্পতির তৈরি হয় সুসম্পর্ক।

অভিযোগ করা হয়েছে, সেই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে জন্মের ১৯ বছর পর সেই আবির আলি অপহরণ করে খুন করেন মঞ্জুর হোসেনের একমাত্র নাতনি আয়াতকে। আর খুনের পর ছোট্ট আয়াতের মরদেহ ছয় টুকরো করে ফেলেছেন সাগরে। ক্রাইম পেট্রল দেখে চেষ্টা করেছেন খুনের সব আলামত নষ্ট করার।

১৫ নভেম্বর নগরীর ইপিজেড থানার বন্দরটিলা নয়ারহাট বিদ্যুৎ অফিস এলাকার বাসা থেকে পার্শ্ববর্তী মসজিদে আরবি পড়তে যাওয়ার সময় নিখোঁজ হয় আলিনা ইসলাম আয়াত। অনেক খোঁজাখুজির পরও তাকে না পেয়ে পরদিন থানায় ডায়েরি করেন আয়াতের বাবা সোহেল রানা। এর পরের ৯ দিনেও আয়াতের হদিস পায়নি পুলিশ। এমনকি বিভিন্ন গণমাধ্যমে আয়াতকে ফিরিয়ে দেয়ার বিনিময়ে যে কোনো অংকের মুক্তিপণ দিতে রাজি থাকার জানায় পরিবার। তারপরও খোঁজ মেলেনি আয়াতের।

এরপর সিসিটিভি ফুটেজে আবিরকে একটি ব্যাগ নিতে দেখে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সন্দেহ হয়। সেই সন্দেহ থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে আকমল আলী সড়কের পকেট গেইট এলাকা থেকে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পিবিআই। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে আয়াতকে অপহরণের কথা স্বীকার করেন আবির।

এই ঘটনায় পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার নাঈমা সুলতানার নেতৃত্বে অনুসন্ধান ও আবিরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন পরিদর্শক ইলিয়াস খান।

তার সাথে কথা হয় নিউজবাংলার। তিনি জানান, মাঝে দুই মাস তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি করলেও কাজ ভালো না লাগায় চাকরি ছেড়ে দেন আবির। চাকরি ছাড়ার পর বেকার হয়ে যান তিনি। আবির আয়াতকে অপহরণ করে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করেন ঘটনার দুমাস আগে। সনি টিভির অপরাধ বিষয়ক সিরিয়াল ‘ক্রাইম পেট্রল’-এর নিয়মিত দর্শক আবির ওই সিরিয়াল দেখেই পরিকল্পনা করেন অপহরণ ও হত্যার। পরিচয় গোপন রাখতে একটি বেনামি মোবাইল সিম প্রয়োজন হয় তার। ঘটনার পাঁচ থেকে ছয় দিন আগে একটি সিম জোগাড়ও করেন তিনি। এরপর নামেন অপহরণ মিশনে।

এর মধ্যে সম্প্রতি বাবা-মায়ের ঝগড়ার জেরে আকমল আলী সড়কে আলাদা বাসা নিয়ে পোশাক শ্রমিক মাকে নিয়ে বাস করতে শুরু করেন আবির। পুরোনো বাসা থেকে সেটা দেড় কিলোমিটার দূরে। পুরোনো বাসায় আবিরের বাবা আজহারুল ইসলাম এখনও বসবাস করেন। আবির মাকে নিয়ে অন্যত্র থাকলেও বাবার বাসায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল। বাবার বাসা থেকে বিভিন্ন সময় আকমল আলী সড়কের বাসায় নানা জিনিসপত্রও নিয়ে যেতেন তিনি।

আলামত নষ্ট করার বিদ্যা ‘ক্রাইম পেট্রল’ দেখে

পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার নাঈমা সুলতানা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঘটনার দিন বাসা থেকে বের হলে আয়াতকে কোলে করে অপহরণের চেষ্টা করেন আবির। তখন আয়াত চিৎকার করলে তার নাক-মুখ চেপে ধরেন আবির। এতে শ্বাসরোধে আয়াতের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর আয়াতের মরদেহ বাবার বাসায় (আয়াতের পরিবারের ভাড়া বাসা) নিয়ে যান আবির। সেখান থেকে মরদেহটি পলিথিন দিয়ে পেঁচিয়ে আকমল আলী সড়কের বাসায় নিয়ে যান তিনি। সেখানে বটি ও অ্যান্টি-কাটার দিয়ে ছয় টুকরো করে দুটি পলিথিনে নিয়ে সাগরপাড় এলাকায় সাগরে ফেলে দেন।’

পরিদর্শক ইলিয়াস খান বলেন, ‘আবির দম্ভ করেই আমাদের বলছিলেন যে তিনি কোনো আলামতই রাখেননি খুনের। মানে ক্রাইম পেট্রল দেখে তিনি সব আলমতই নষ্ট করে ফেলেছেন। তবে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটি ও অ্যান্টিকাটার উদ্ধার করেছি আমরা। আয়াতের মরদেহের খণ্ডিতাংশও উদ্ধারের চেষ্টা চলছে এখনও।’

এদিকে আয়াতের মৃত্যুর খবরে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো এলাকা। নিখোঁজের পর থেকেই নাওয়া খাওয়া ছেড়ে দিয়েছিল আয়াতের বাবা মা। মৃত্যুর খবরে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তারা।

আয়াতের দাদা মঞ্জুর হোসেন এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না স্বভাবজাত দুষ্টুমি আর প্রাণচাঞ্চল্যে সারা বাড়ি মাতিয়ে রাখা আয়াত আর নেই। শুক্রবার দুপুর বারোটার দিকে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুলিশ বলছে আয়াতকে মেরে ফেলছে। কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি এখনও। তাকে অবশ্যই ফিরে পাব আমরা।’

তার চাচা (বাবার চাচাত ভাই) জুবায়ের হোসেন বাবুল বলেন, ‘তারা ২০০১ সাল থেকে এখানে থাকে। মাঝে অন্য বাসায় চলে গিয়েছিল, পরে আবার আসছে। দীর্ঘদিন এখানে থাকায় তাদের একটা ভালো সম্পর্ক ছিল। আয়াত আবিরকে চিনত। তার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর বাসার সবাই বারবার কাঁদতে কাঁদতে বেহুশ হয়ে আছে। তাদের কী সান্তনা দেব, আমি নিজেই থাকতে পারছি না।’

আরও পড়ুন:
শিশু আয়াতকে হত্যার পর ৬ টুকরা করেন সাবেক ভাড়াটিয়া
কোথায় গেল ছোট্ট আয়াত!
শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ প্রতিবেশীর ঘরে
শিশুর মরদেহ মিলল নির্মীয়মাণ বাড়ির সামনে
নালায় শিশুর মরদেহ: ১০০ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ-হত্যা

মন্তব্য

p
উপরে