× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Consensus on BNP Kalyan Party dialogue movement
hear-news
player
google_news print-icon

বিএনপি-কল্যাণ পার্টি সংলাপ, আন্দোলনে ঐকমত্য

বিএনপি-কল্যাণ-পার্টি-সংলাপ-আন্দোলনে-ঐকমত্য
রোববার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে কল্যাণ পার্টির সঙ্গে সংলাপ শেষে যৌথ ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘নির্দলীয় বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নিবার্চন নিশ্চিত করা, নতুন নিবার্চন কমিশনের অধীনে নিবার্চন অনুষ্ঠান, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ লাখ লাখ নেতাকর্মীর মুক্তি দাবিতে যুগপৎ আন্দোলন বেগবান করার মতো ইস্যুতে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির সঙ্গে ঐকমত্য হয়েছে।’

সরকারের পতন দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির সঙ্গে ঐকমত্য হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার বেলা ২টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে কল্যাণ পার্টির নেতাদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপ করেন বিএনপি নেতারা। দেড় ঘণ্টাব্যাপী সংলাপ শেষে দুই দলের নেতারা যৌথ ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘নির্দলীয় বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নিবার্চন নিশ্চিত করা, নতুন নিবার্চন কমিশনের অধীনে নিবার্চন অনুষ্ঠান, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ লাখ লাখ নেতাকর্মীর মুক্তি দাবিতে যুগপৎ আন্দোলন বেগবান করার মতো ইস্যুতে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির সঙ্গে ঐকমত্য হয়েছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রথম দফার সংলাপে জাতীয় ঐক্য করার ব্যাপারে নীতিগত ঐকমত্য ছিল। এখন দ্বিতীয় দফায় সুনির্দিষ্ট দাবিগুলো আদায়ের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে যুগপৎ আন্দোলনে সরকার পতনে একমত পোষণ করেছে কল্যাণ পার্টি। ২২ দল ছাড়া অন্য যেকোনো দল এই সংলাপে আসতে পারে।’

দ্বিতীয় দফা সংলাপের পরই যুগপৎ আন্দোলনের রুপরেখা আসবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আপনারা জানতে পারবেন।’

বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ‘যুগপৎ আন্দোলনের দিন-তারিখ প্রকাশ না করতে অনুরোধ করা হয়েছে। চমক আসছে, অপেক্ষা করুন। এবার বিজয়ের কোনো বিকল্প নেই। বিজয় আমাদের হবেই। রাজপথে আমাদের দেখতে পাবেন।

‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি, ধর্মীয় নেতাদের নির্যাতন, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন প্রভৃতি বিষয়ে আমরা কথা বলেছি।’

সংলাপে বিএনপির পক্ষে নেতৃত্ব দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিমের নেতৃত্বে অংশ নেন কল্যাণ পার্টির মহাসচিব আবদুল আউয়াল মামুন, অতিরিক্ত মহাসচিব নুরুল কবির পিন্টু, যুগ্ম-মহাসচিব সোহেল মোল্লা, আব্দুল্লাহ আল হাসান সাকিব, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মাহবুবুর রহমান শামিম ও সেক্রেটারি জামাল হোসেন এবং মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আবু হানিফ ও সেক্রেটারি আবু ইউসুফ।

আরও পড়ুন:
এলডিপিসহ দুই দলের সঙ্গে সোমবার বিএনপির সংলাপ
মুন্সীগঞ্জে সংঘর্ষ: দুই মামলায় বিএনপির ১৭৭ জনের জামিন
তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া নির্বাচন হতে দেয়া হবে না: ফখরুল
পুলিশ শুধু বিরোধী দলের লাঠি দেখে: দুদু
বিএনপির আন্দোলনে সারা দেশে গণজোয়ার: গয়েশ্বর

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Order to submit public works report on Salam Murshedis house by January 16

সালাম মুর্শেদীর বাড়ি: গণপূর্তের প্রতিবেদন চেয়েছে হাইকোর্ট

সালাম মুর্শেদীর বাড়ি: গণপূর্তের প্রতিবেদন চেয়েছে হাইকোর্ট সংসদ সদস্য সালাম মুর্শেদী। ছবি: সংগৃহীত
সালাম মুর্শেদীর গুলশানের বাড়িটি পরিত্যক্ত সম্পত্তি হওয়ায় অবৈধ দখলমুক্ত করে সরকার নিজ জিম্মায় নিতে পারে বলে মত দেয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি।

খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহসভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদীর গুলশানের বাড়ি নিয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন ১৬ জানুয়ারির মধ্যে হাইকোর্টে জমার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেয়।

একই সঙ্গে গণপূর্ত যে প্রতিবেদন তৈরি করেছে তা দুদকে দাখিল করতে বলা হয়েছে।

আদালত গণপূর্তের পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান, সাঈদ আহমেদ রাজা। অন্যদিকে রিটকারী সুমনের পক্ষে ছিলেন অনিক আর হক।

সালাম মুর্শেদীর গুলশানের বাড়িটি পরিত্যক্ত সম্পত্তি হওয়ায় অবৈধ দখলমুক্ত করে সরকার নিজ জিম্মায় নিতে পারে বলে মত দেয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রাজউকের আইন বিভাগের জবাব জমা দেয়া হয়েছে হাইকোর্টে।

এর আগে ১ নভেম্বর সরকারের সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নিয়ে বাড়ি বানানোর অভিযোগে সালাম মুর্শেদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই সম্পত্তি সম্পর্কিত সব কাগজপত্র ১০ দিনের মধ্যে আদালতে জমা দিতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান, গণপূর্ত সচিব ও সালাম মুর্শেদীকে আদেশ দেয় আদালত।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন ৬ নভেম্বর এই রিট করার পর রুল জারি করেছিল হাইকোর্ট।

এর আগে সালাম মুর্শেদীর বাড়িটির বৈধতা যাচাইয়ে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত সেপ্টেম্বরে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রধান ছিলেন মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন অধিশাখা-৯-এর যুগ্ম সচিব মো. মাহমুদুর রহমান হাবিব। সদস্যসচিব রাজউকের পরিচালক (প্রশাসন) মুহাম্মদ কামরুজ্জামান এবং সদস্য ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং শাখা-১১-এর উপসচিব জহুরা খাতুন।

তদন্ত প্রতিবেদন ও হাইকোর্টে রাজউকের আইন শাখার জবাবের অনুলিপি পেয়েছে নিউজবাংলা। এতে সালাম মুর্শেদীর বাড়িটি জাল দলিলের মাধ্যমে অবৈধ দখলের প্রমাণ উল্লেখ করে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা এবং সম্পদের দখল সরকারের বুঝে নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

যা আছে তদন্ত প্রতিবেদন ও রাজউকের আইন বিভাগের জবাবে

মন্ত্রণালয়ের কমিটির তদন্তের পর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরেজমিন পরিদর্শন ও গুলশান আবাসিক এলাকার লে-আউট নকশা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, রোড নং ১০৪ ও রোড নং ১০৩-এর সংযোগস্থলের কর্নারের প্লট/বাড়িটি (২৭ নং প্লট) অবস্থান বিবেচনায় ১০৪ নং রাস্তায় অবস্থিত। এটি ১৯৮৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত ৯৭৬৪(১) নং পৃষ্ঠার ৪৬ নং ক্রমিকে ‘খ’ তালিকাভুক্ত পরিত্যক্ত বাড়ি।

সবশেষ জরিপ/সিটি জরিপে সংশ্লিষ্ট এলাকার সিইএন(ডি) ব্লকের ২৭ নং প্লটের ৫২০৪ ও ৫২০৫ দাগসমূহ সিটি জরিপের ৯ নং খতিয়ানভুক্ত, যা সরকারের পক্ষে গণপূর্ত নগর উন্নয়ন বিভাগ ঢাকার নামে রেকর্ডভুক্ত।

তদন্ত কমিটি বলেছে, বাস্তবে ওই এলাকায় রাজউকের লে-আউট নকশায় কথিত বাড়ির অস্তিত্ব বিদ্যমান নেই। এ ক্ষেত্রে সুকৌশলে ওই এলাকার ১০৪ নং রোডের ওই বাড়িটি ১০৩ নং রোড দেখিয়ে জাল কাগজপত্র তৈরি করে হস্তান্তর-নামজারিসহ অন্য কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটি তাদের সুপারিশে উল্লেখ করে ‘অবৈধ দখলভুক্ত প্লটটি অবিলম্বে সরকারের দখলে আনার’ সুপারিশও করেছে। সেই সঙ্গে এ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছে।

একই তথ্য উল্লেখ করে উচ্চ আদালতে পাঠানো জবাবে রাজউকের আইন বিভাগ বলেছে, ‘সার্বিক পর্যালোচনায় গুলশান আবাসিক এলাকার ১০৪ নং রাস্তার সিইএন (ডি) ব্লকের ২৭ নং বাড়িটি পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকা হতে অবমুক্ত ব্যতিরেকে যেসব কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে তার বৈধতার বিষয়ে সুস্পষ্ট দালিলিক প্রমাণ অনুপস্থিত। তর্কিত বাড়িটির হস্তান্তর প্রক্রিয়া বিধিসম্মত হয়নি।’

তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির সদস্যসচিব রাজউকের পরিচালক (প্রশাসন) মুহাম্মদ কামরুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা তিন সদস্যের কমিটি তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিয়েছি। আমরা তদন্তে যা যা পেয়েছি তার সবই স্পষ্ট রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
সালাম মুর্শেদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চায় খুলনা আ. লীগ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
After 29 years 3 convicts get life

২৯ বছর পর ৩ আসামির যাবজ্জীবন

২৯ বছর পর ৩ আসামির যাবজ্জীবন
অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর গিয়াসউদ্দিন জানান, এ হত্যা মামলায় মোট আসামি ছিলেন ২৫ জন। তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়, মামলার বাকি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেয়া হয়।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার রায়লক্ষ্মীপুর গ্রামের কৃষক সুনীল কুমার দাসকে হত্যার দায়ে দুই ভাইসহ তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাদের প্রত্যেকের ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।

২৯ বছর পর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ মাসুদ আলী বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে জনাকীর্ণ আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন-আলমডাঙ্গার রায়লক্ষ্মীপুর গ্রামের কালু ফকিরের ছেলে সুলতান হোসেন, লালু মন্ডলের ছেলে লিয়াকত আলী ওরফে ন্যাকো ও তার ভাই শওকত আলী।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে ১৯৯৩ সালের ৯ ডিসেম্বর রাত ৮টার দিকে দণ্ডিত আসামিরাসহ অন্তত ১৫-১৬ জন ব্যক্তি সুনীলদের বাড়িতে গিয়ে সুনীলের গায়ে থাকা চাদর দিয়ে দু’হাত বেঁধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। ঘটনাস্থলেই মারা যায় সুনীল। এ ঘটনার পরদিন নিহতের ভাই অনিল কুমার দণ্ডিত আসামিসহ অজ্ঞাত আসামিদের নামে থানায় এজাহার করেন।

মামলায় মোট ১০ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। সাক্ষ্য প্রমাণে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালতের বিজ্ঞ বিচারক আসামি সুলতান হোসেন, লিয়াকত আলী ও শওকত আলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

একইসঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত সবাইকে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়। অনাদায়ে আরও ৬ মাসের দণ্ডাদেশ দেয়া হয়।

অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর গিয়াসউদ্দিন জানান, এ হত্যা মামলায় মোট আসামি ছিলেন ২৫ জন। তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়, মামলার বাকি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
সাবেক ছাত্রনেতা খায়রুল হত্যা মামলায় ৬ জনের যাবজ্জীবন
গৃহবধূ হত্যার ১৬ বছর পর ৬ আসামির যাবজ্জীবন
মাদক মামলায় ২ ব্যক্তির যাবজ্জীবন
শিশু অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় একজনের যাবজ্জীবন
স্কুলছাত্র মেহেদী হত্যায় ৮ জনের যাবজ্জীবন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
People showed red card to government Selima

সমাবেশে সরকারকে লাল কার্ড দেখাল জনগণ: সেলিমা

সমাবেশে সরকারকে লাল কার্ড দেখাল জনগণ: সেলিমা বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে ‘আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া সংসদের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান। ছবি: নিউজবাংলা
সরকারের বিরুদ্ধে সমগ্র দেশ আজকে ঐক্যবদ্ধ দাবি করে সেলিমা রহমান বলেন, ‘সমগ্র দেশ তার (তারেক রহমানের) কথায় ঐক্যবদ্ধ। অল্প সময়ের মধ্যে আমাদের এই নেতা বিভাগীয় সম্মেলনগুলো সফল করিয়েছেন। আমরা তখন ভেবেছিলাম এই সমাবেশগুলোতে শুধু আমাদের নেতা-কর্মীরাই অংশগ্রহণ করবেন। তবে আমাদের সব ভুল দূর করে সাধারণ জনগণ এই সমাবেশগুলোতে মিশে গেছে। কোনো বাধাই জনগণকে আটকাতে পারেনি। তারা আজকে সরকারকে লাল কার্ড দেখিয়ে দিয়েছে।’

শুধু দলের নেতা-কর্মীরা নয় বিএন‌পির বিভা‌গীয় সমা‌বেশে দে‌শের জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ ক‌রে সরকার‌কে লাল কার্ড দে‌খি‌য়ে দি‌য়ে‌ছে ব‌লে মন্তব‌্য ক‌রে‌ছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান।

তিনি বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিএনপিকে সংগঠিত করে এমন এক জায়গায় দাঁড় করিয়েছেন যেখানে বিএনপি বর্তমান সরকারের জন্য আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারেক রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্বে দল আজকে সুসংগঠিত। তিনি জনগণের অধিকারের জন্য লড়াই করছেন।’

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে ‘আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া সংসদ’-এর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আলোচনা সভাটি আয়োজন করে আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া সংসদ।

সরকারের বিরুদ্ধে সমগ্র দেশ আজকে ঐক্যবদ্ধ দাবি করে সেলিমা রহমান বলেন, ‘সমগ্র দেশ তার (তারেক রহমানের) কথায় ঐক্যবদ্ধ। অল্প সময়ের মধ্যে আমাদের এই নেতা বিভাগীয় সম্মেলনগুলো সফল করিয়েছেন। আমরা তখন ভেবেছিলাম এই সমাবেশগুলোতে শুধু আমাদের নেতা-কর্মীরাই অংশগ্রহণ করবেন। তবে আমাদের সব ভুল দূর করে সাধারণ জনগণ এই সমাবেশগুলোতে মিশে গেছে। কোনো বাধাই জনগণকে আটকাতে পারেনি। তারা আজকে সরকারকে লাল কার্ড দেখিয়ে দিয়েছে।’

বিএনপির রাজনীতি হচ্ছে উৎপাদনমুখী দাবি করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘শহীদ জিয়া বলেছিলেন, এ দেশের মাটি হলো সোনার, যেখানে আমরা পরিশ্রম করে কাজ করলে দেশকে সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারব। এ দেশের মানুষ সুখে থাকতে পারবে। শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের মধ্য দিয়ে জনগণ নিজেরাই এ দেশকে সাবলম্বী করতে পারবে।’

সরকার যা কিছু বলছে সব মিথ্যা কথা বলছে মন্তব‌্য ক‌রে তি‌নি বলেন, ‘আজকের সরকারের যে দুঃশাসন, যে স্বৈরশাসন তা ২০০৮ সাল থেকে চলছে। মাইনাস ওয়ান ফর্মুলায় যেখানে বেগম খালেদা জিয়াকে সরাতে চেয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘বিভাগীয় সম্মেলনগুলোর আগে তারা (আওয়ামী লীগ) বলত বিএনপি আন্দোলন করতে জানে না। বিএনপির রাজপথে নামতে জানে না। বিএনপি কিন্তু ঠিকই রাজপথে নেমেছে তারা ঠিকই কিন্তু আন্দোলন করে যাচ্ছে। কারণ বিএনপি হল জনগণের দল।’

রক্তের হোলি খেলা দিয়ে আওয়ামী লীগ দেশকে রক্তাক্ত করে দিচ্ছে মন্তব‌্য ক‌রে সেলিমা রহমান বলেন, ‘ওনারা আর কত রক্তের হোলি খেলবেন। তারা (আওয়ামী লীগ) প্রতিনিয়ত নতুন নতুন খেলা খেলছে। যে খেলা ওবায়দুল কাদের সাহেব নিজেই বলে চলছেন আমরা খেলব। আমি বলব ওনারা কত আর খেলবেন। আর কত রক্তের হোলি খেলা ওনাদের হাতের মধ্যে চলবে। রক্তের হোলি খেলা দিয়ে আওয়ামী লীগ দেশকে রক্তাক্ত করে দিচ্ছে।’

আমাদের এখন থেকে এক দফা দবিতে আন্দোলন করতে হবে জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘আমাদের এখন থেকে এক দফা আন্দোলন করতে হবে। তা হচ্ছে এই সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বিলুপ্ত এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দেয়া। যাতে করে যে-ই আসুক না কেন আমরা তাকে নিয়ে যেন জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারি। আজকের যে দেশের অবস্থা তা থেকে জনগণকে মুক্ত করতে পারলেই তা হবে আমাদের সাফল্য।’

সংগঠনের সভাপতি নাজিম উদ্দিন আলমের সভাপ‌তি‌ত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীমের সঞ্চালনায় আরও বক্তব‌্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু।

অনুষ্ঠানের শুরুর আগে বনানী কবরস্থানে আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত করেন সংগঠনের নেতারা। পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠান শেষে শিশুদের মাঝে খাবার ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

আরও পড়ুন:
পরিবহন ধর্মঘটের আগেই রাজশাহীর সমাবেশে নেতা-কর্মীরা
সকাল থেকে রাজশাহী বিভাগে পরিবহন ধর্মঘট
নাশকতা মামলা: মানিকগঞ্জে বিএনপির ২ নেতা গ্রেপ্তার
বিএনপির মিছিল থেকে ককটেল হামলার অভিযোগ
ফরিদপুরে বিএনপির সমাবেশে হামলা, ভাঙচুর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Order to publish name of borrowers on website

ঋণগ্রহীতাদের নাম ওয়েব সাইটে প্রকাশের নির্দেশ

ঋণগ্রহীতাদের নাম ওয়েব সাইটে প্রকাশের নির্দেশ
হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, ব্যাংকের টাকা জনগণের টাকা। জনগণের টাকা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংক কাকে দিচ্ছে, তা জনগণের জানার অধিকার আছে। তাই প্রত্যেক ঋণ মঞ্জুরের সঙ্গে সঙ্গে মঞ্জুরের অনুমতিপত্র সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েব সাইটে প্রকাশ করার নির্দেশ দেয়া হলো।

ঋণগ্রহীতাদের নামের তালিকা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওয়েব সাইটে প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

চেক ডিজ-আনার মামলা না নিতে নির্দেশনা দিয়ে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। ১৩ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে বৃহস্পতিবার এ নির্দেশনা দিয়েছে আদালত।

এদিকে এ রায়ের কার্যকারিতা দুই মাসের জন্য স্থগিত করেছে আপিল বিভাগ। এ সময়ের মধ্যে নিয়মিত আপিল ফাইল করতে বলেছে সর্বোচ্চ আদালত।

এদিকে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, ব্যাংকের টাকা জনগণের টাকা। জনগণের টাকা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংক কাকে দিচ্ছে, তা জনগণের জানার অধিকার আছে। তাই প্রত্যেক ঋণ মঞ্জুরের সঙ্গে সঙ্গে মঞ্জুরের অনুমতিপত্র সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েব সাইটে প্রকাশ করার নির্দেশ দেয়া হলো।

লিখিত রায়ে আদালত বলেছে, আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ঋণের বিপরীতে জামানত হিসেবে গৃহীত চেক বিনিময়যোগ্য দলিল নয় হেতু এমনতর চেক প্রত্যাখ্যানের মোকদ্দমা গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলো। যদি কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান এমনতর চেক প্রত্যাখ্যানের মোকদ্দমা করে, তবে তা বিচারিক আদালত সরাসরি প্রত্যাখ্যান করবে।

দ্বিতীয়ত, আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ঋণের বিপরীতে জামানত হিসেবে গৃহীত চেক থেকে উদ্ভূত চেক প্রত্যাখ্যানে ইতোমধ্যে দাখিল করা সব মোকদ্দমার কার্যক্রম এখতিয়ার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি নির্দেশনা প্রদান জরুরি বিধায় নির্দেশ প্রদান করা যাচ্ছে যে আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রতিটি ঋণের বিপরীতে ইনস্যুরেন্স বাধ্যতামূলক করে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি অনতিবিলম্বে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশনা জারি করবে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সব ঋণ প্রদানে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও আধুনিকীকরণের পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ প্রদান করবে এবং নিয়মিত বিরতিতে তা দেখাশোনা করবে।

আদালত বলে, বর্তমানে দেখা যাচ্ছে যে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয় সংসদ কর্তৃক প্রণীত অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-কে পাশ কাটিয়ে ঋণগ্রহীতা থেকে তাদের খেয়ালখুশিমতো বেআইনিভাবে জামানতস্বরূপ ব্লাঙ্ক চেক গ্রহণ করছে। তাদের খেয়ালখুশিমতো ওই ব্লাঙ্ক চেকে টাকার অঙ্ক বসিয়ে চেক প্রত্যাখ্যান করে ঋণগ্রহীতার বিরুদ্ধে চেক প্রত্যাখ্যানের মোকদ্দমা করে সাধারণ জনগণকে বিশেষ করে কৃষক, ক্ষুদ্র এবং ছোট ব্যবসায়ীদের জেলে পাঠিয়েছে।

যেহেতু আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ মোতাবেকই তার খেলাপি ঋণ তথা অনাদায়ী ঋণ আদায়ের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, সেহেতু ঋণগ্রহীতার বিরুদ্ধে খেলাপি ঋণ আদায়ে চেক প্রত্যাখ্যানের মোকদ্দমার কোনো সুযোগ নেই। তবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান যদি তার নিজস্ব কোনো সম্পত্তি বিক্রি করে এবং বিনিময়ে সম্পত্তির ক্রেতা থেকে কোনো চেক গ্রহণ করে এবং পরে যদি সেই চেক প্রত্যাখ্যাত হয় তখন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ওই চেক প্রত্যাখ্যানের বিরুদ্ধে চেকের মামলা করতে পারবে।

কিন্তু কোনোভাবেই ঋণ আদায়ের নিমিত্তে চেক জামানত হিসেবে গ্রহণ করে তা প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে চেক প্রত্যাখ্যানের মামলা করতে আইনত অধিকারী নয়। ফলে বাদী কর্তৃক অত্র চেক প্রত্যাখ্যানের মোকদ্দমা আইন ও বিধিবহির্ভূত বিধায় বাদীর মোকদ্দমাই বেআইনি।

আরও পড়ুন:
খেলাপি ঋণে গ্রেপ্তার ১২ কৃষকের জামিন
বড় ঋণখেলাপিরা কি বিচারের ঊর্ধ্বে, প্রশ্ন হাইকোর্টের
ঋণখেলাপি মামলায় ১২ কৃষক কারাগারে
বিদেশি ঋণেও যুদ্ধের ধাক্কা, ৪ মাসে কমল ২৫ শতাংশ
গরিবদের থেকে এনজিওর বেশি সুদ আদায় অন্যায়: গভর্নর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Ex student leader Khairul murder case 6 life life

সাবেক ছাত্রনেতা খায়রুল হত্যা মামলায় ৬ জনের যাবজ্জীবন

সাবেক ছাত্রনেতা খায়রুল হত্যা মামলায় ৬ জনের যাবজ্জীবন
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) সুলতানুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত ১০ নভেম্বর যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ২৪ নভেম্বর রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন। তবে সপ্তমবারের মতো রায় ঘোষণার তারিখ পেছানো হয়। পূর্ব নির্ধারিত দিন অনুযায়ী আজ আদালত রায় ঘোষণা করেন।

কক্সবাজারের মহেশখালীর গোরকঘাটা বাজারে দুর্বৃত্তের গুলিতে তৎকালীন জেলা পরিষদ সদস্য ও তরুণ রাজনীতিক ২৮ বছর বয়সী খাইরুল আমিন সিকদার নিহত হওয়ার ৩১ বছর পর ওই হত্যা মামলায় ছয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। এ ছাড়া প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মহেশখালীর সাবেক মেয়র সরওয়ার আজম, তার দুই ভাই মৌলভি জহির উদ্দিন ও নাসির উদ্দিন এবং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান শামসুল আলম, অ্যাডভোকেট হামিদুল হক ও সাধন নামের এক যুবক। রায় ঘোষণার সময় সাধন ছাড়া বাকি পাঁচজন উপস্থিত ছিলেন।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) সুলতানুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত ১০ নভেম্বর যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ২৪ নভেম্বর রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন। তবে সপ্তমবারের মতো রায় ঘোষণার তারিখ পেছানো হয়। পূর্ব নির্ধারিত দিন অনুযায়ী আজ আদালত রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে ২৬ আসামির মধ্যে ছয়জনকে যাবজ্জীবন ও বাকি ২০ জনকে খালাস দেন। এ মামলা চলার সময়ে সাতজন আসামি মারা গেছেন। মারা যাওয়া আসামিদের মধ্যে আছেন মহেশখালীর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নুর বক্স, স্থানীয় বাসিন্দা রহিম সিকদার, আমির হোসেন ও আজিজুল হক।

এদিকে মামলার দুই আসামি জহির উদ্দিন ও মো. ইব্রাহিম হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণের বরাতে এপিপি বলেন, ‘আদালত মনে করছেন, এটি একটি রাজনৈতিক বিরোধে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ড, যা আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।’

১৯৯০ সালের ৯ এপ্রিল বিকেল ৫টার দিকে মহেশখালীর গোরকঘাটা বাজারে দুর্বৃত্তের গুলিতে খুন হন তৎকালীন জেলা পরিষদ সদস্য ও তরুণ রাজনীতিক খাইরুল আমিন সিকদার। তিনি গোরকঘাটার হামজা মিয়া সিকদারের ছেলে।

ওই দিন নিহত খাইরুল আমিনের বড় ভাই মাহমুদুল করিম মহেশখালী থানায় মহেশখালীর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নুর বক্স, পুটিবিলার শামশুল আলম, নাসির উদ্দিন, হামিদুল হকসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ঘটনার তদন্ত করে এজাহারভুক্ত ২৫ জনসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন ওই বছরের ২২ নভেম্বর।

২০০৩ সালের ২৭ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত।

আরও পড়ুন:
৭ মাসের শিশু হত্যায় দাদির যাবজ্জীবন
পাবনায় কৃষক হত্যায় ২১ জনের যাবজ্জীবন
সিলেটে সাংবাদিক হত্যার এক যুগ পর ৬ জনের যাবজ্জীবন
৭ বছর পর গ্রেপ্তার যাবজ্জীবন সাজা পাওয়া আসামি
হত্যার ২৬ বছর পর স্বামীসহ ৩ জনের যাবজ্জীবন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
10 accused in militant robbery case remanded for 5 more days

জঙ্গি ছিনতাই মামলায় ১০ আসামি আরও ৫ দিনের রিমান্ডে

জঙ্গি ছিনতাই মামলায় ১০ আসামি আরও ৫ দিনের রিমান্ডে সিসিটিভি ফুটেজে আদালত থেকে জঙ্গিদের পালানোর দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত
বৃহস্পতিবার তাদের ১০ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পুনরায় তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) পরিদর্শক মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ। ঢাকা মহানগর হাকিম শফি উদ্দিনের আদালতে এ রিমান্ড শুনানি হয়।

ঢাকার বিচারিক আদালত প্রাঙ্গণ থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় করা মামলায় ১০ আসামিকে ফের পাঁচ দিন করে রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার তাদের ১০ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পুনরায় তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) পরিদর্শক মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ।

ঢাকা মহানগর হাকিম শফি উদ্দিনের আদালতে এ রিমান্ড শুনানি হয়।

এর আগে গত ২০ নভেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম শফি উদ্দিন তাদের ১০ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন।

আসামিরা হলেন শাহীন আলম ওরফে কামাল, শাহ আলম ওরফে সালাউদ্দিন, বি এম মজিবুর রহমান, সুমন হোসেন পাটোয়ারী, আরাফাত রহমান, খাইরুল ইসলাম ওরফে সিফাত, মোজাম্মেল হোসেন, শেখ আব্দুল্লাহ, আ. সবুর, রশিদুন্নবী ভূঁইয়া প্রমুখ।

গত ২০ নভেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত প্রাঙ্গণ থেকে দুই জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় ২০ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা করেন পুলিশ পরিদর্শক জুলহাস উদ্দিন আকন্দ। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়।

সেদিন সকালে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলার ১২ আসামিকে কাশিমপুর-২ কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে ঢাকার আদালতে আনা হয়।

সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকার প্রসিকিউশন বিভাগে আসামিদের হাজিরা দেয়ার জন্য সিজেএম আদালত ভবনে সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনাল-৮-এ নিয়ে যাওয়া হয়। মামলার শুনানি শেষে জামিনে থাকা দুই আসামি মো. ঈদী আমিন ও মেহেদী হাসান অমি ওরফে রাফি আদালত থেকে বের হয়ে যান।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কোর্টের শুনানি শেষে প্রথমে চারজনকে নিচে নামিয়ে আনা হয়। দুটি হাতকড়া দিয়ে দুজনকে আটকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। বাকি আসামিরা তখন ওপরে ছিলেন।

‘চারজনের মধ্যে মইনুল হাসান ও আবু সিদ্দিককে জঙ্গিরা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তবে মো. আরাফাত ও মো. সবুরকে নিতে পারেনি। জঙ্গিরা পেপার স্প্রে ব্যবহার করে। এতে একজন সিকিউরিটি গার্ড, একজন পুলিশ সদস্যসহ কয়েকজন সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হন।’

আরও পড়ুন:
জঙ্গি ছিনতাই মামলায় একজনের আত্মসমর্পণ, চার দিনের রিমান্ড
২৯ বছর ধরে ঝুলে থাকা মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ
‘কারাবন্দি জঙ্গি ও ছিনতাই টিম সমন্বয় করেন অমি’
জঙ্গি ছিনতাই মামলায় গ্রেপ্তার মেহেদী ৭ দিনের রিমান্ডে
জঙ্গি আরাফাতকে ছিনিয়ে নেয়াই ছিল মূল লক্ষ্য

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Reinvestigation of money laundering case against Falu on February 23

ফালুর বিরুদ্ধে অর্থ পাচার মামলার পুনঃ তদন্ত ২৩ ফেব্রুয়ারি

ফালুর বিরুদ্ধে অর্থ পাচার মামলার পুনঃ তদন্ত ২৩ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা পরিষদের সাবেক সদস্য মোসাদ্দেক আলী ফালু। ছবি: সংগৃহীত
অফশোর কোম্পানি খুলে ১৮৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা দুবাইয়ে পাচারের অভিযোগে ফালুসহ চার ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়।

দুবাইয়ে প্রায় ১৮৪ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা পরিষদের সাবেক সদস্য মোসাদ্দেক আলী ফালুসহ তিনজনের বিরুদ্ধে করা মামলায় পুনঃ তদন্তের আবেদন মঞ্জুর করেছে আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ সৈয়দ কামাল হোসেনের আদালত এ আবেদন মঞ্জুর করে। মামলার পুনঃ তদন্ত প্রতিবেদন জমার জন্য ২৩ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক করেছে আদালত।

গত ২৭ অক্টোবর একই আদালতে এই আবেদন করেছিলেন দুদকের আইনজীবী মীর আহম্মদ আলী সালাম।

২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর ফালুসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণ করে আদালত। এ সময় ফালু পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

অন্য দুই আসামি হলেন আরএকে সিরামিকসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এ কে একরামুজ্জামান ও স্টার সিরামিকস প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক সৈয়দ এ কে আনোয়ারুজ্জামান।

স্টার সিরামিকস প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক আমির হোসাইনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদন করা হয়েছে।

অফশোর কোম্পানি খুলে ১৮৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা দুবাইয়ে পাচারের অভিযোগে ফালুসহ চার ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়।

২০১৯ সালের ১৩ মে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় দুদকের উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলাটি করেন।

দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১০ সালে মোসাদ্দেক আলী ফালু, একরামুজ্জামান, আনোয়ারুজ্জামান ও আমির হোসাইন দুবাইয়ে আল মদিনা ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ও থ্রি স্টার লিমিটেড নামে অফশোর কোম্পানি খোলেন। পরে তারা বাংলাদেশে ‘দুর্নীতির মাধ্যমে’ অর্জিত ১৮৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা দুবাইয়ে পাচার করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, দুবাইয়ে ওই অর্থ উর্পাজনের কোনো উৎস তারা দেখাতে পারেননি। ওই টাকা কীভাবে উপার্জন করা হয়েছে তার কোনো তথ্যপ্রমাণও তাদের কাছে নেই।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, দুবাইয়ে ব্যবসা করার কথা তারা বাংলাদেশ ব্যাংককে কখনও জানাননি বা কোনো ধরনের অনুমতি নেননি।

দুদকের অভিযোগ, বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় ফালু ক্ষমতার অপব্যবহার করে দেশে অর্জিত অর্থ বিদেশে পাচার করে অফশোর কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেন।

আরও পড়ুন:
ফালুর বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মামলায় ফের তদন্তের আবেদন
ফালুর দখল করা জমি উদ্ধার, ঠিকানা পেল ৬৪ পরিবার
অর্থ পাচারের মামলায় ফালুর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

মন্তব্য

p
উপরে