× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Cafeteria for rent in Bahadur Shah Park
hear-news
player
google_news print-icon

বাহাদুর শাহ পার্কে ইজারায় ক্যাফেটেরিয়া!

বাহাদুর-শাহ-পার্কে-ইজারায়-ক্যাফেটেরিয়া
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) বলছে, তারা পার্ক পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের স্বার্থে এটি ইজারা দিয়েছে। সেই সঙ্গে পার্কের মাঝখানে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে ক্যাফেটেরিয়া তৈরির অনুমতি দেয়া হয়েছে।

পুরান ঢাকায় কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বাহাদুরশাহ পার্ক ইজারা দেয়া হয়েছে। ইজারা পেয়ে সেখানে নির্মাণ করা হচ্ছে ক্যাফেটেরিয়া। হাঁটাচলার জায়গায় এই পার্কের ভেতরে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান করায় প্রতিবাদ জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী। তারা এটি বন্ধে গণস্বাক্ষর অভিযান শুরু করেছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) বলছে, তারা পার্ক পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের স্বার্থে এটি ইজারা দিয়েছে। সেই সঙ্গে পার্কের মাঝখানে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে ক্যাফেটেরিয়া তৈরির অনুমতি দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে এলাকাবাসী ক্যাফেটেরিয়া তৈরির কাজ বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে। নির্মীয়মান ক্যাফের মূল কাঠামোটি তারা ভেঙে দেয়। এ ছাড়া শুক্রবার সকালে পার্ক ঘিরে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে বাহাদুর শাহ পার্ক সংরক্ষণ পরিষদ নামের একটি সংগঠন। ঐতিহাসিক এ স্থাপনার মধ্যে স্থায়ীভাবে খাবারের দোকান নির্মাণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে সমালোচনা করছেন।

বাহাদুর শাহ পার্কের অবস্থান সদরঘাট ও লক্ষ্মীবাজারের ঠিক মাথায় পুরান ঢাকার খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে। এর চারপাশ ঘিরে সাতটি রাস্তার প্রবেশপথ। চারপাশে রয়েছে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সেন্ট থমাস চার্চ ও ঢাকায় প্রথম পানি সরবরাহ করার জন্য তৈরি ট্যাংক।

এর দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, উত্তর-পশ্চিম দিকে ঢাকার জজকোর্ট। আরও অনেক জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যমণি হয়ে থাকা এ পার্ক ধারণ করে আছে বাংলার স্বাধীনতা আন্দোলনের সমৃদ্ধ ইতিহাস। ১৮৫৭ সালে সিপাহি বিদ্রোহের সময় শত শত সিপাহি এবং তাদের বেসামরিক সহযোগীদের এই পার্কে জনসমক্ষে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়।

বাহাদুর শাহ পার্কে ইজারায় ক্যাফেটেরিয়া!

২০২০ সালের এপ্রিল মাসে পার্কটি আধুনিকায়ন করে নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। ঐতিহ্যবাহী এই পার্কে পথচারীদের জন্য হাঁটার পথ, গণশৌচাগার, বেঞ্চ, সবুজ উদ্যান, অ্যাম্ফিথিয়েটার গ্যালারি, পার্কিং নির্মাণ করা হয়। নাগরিকরা যাতে ২৪ ঘণ্টা পার্কটি ব্যবহার করতে পারে, এ জন্য আলোর ব্যবস্থা করা হয়। বৃষ্টির পানি অপসারণে পার্কের চারপাশে চার ফুট গভীর ড্রেন করা হয়। পার্কের মেঝেতে বিছানো হয় নুড়িপাথর। ৮৫ দশমিক ৩ কাঠা আয়তনের এই পার্ক সংস্কারে ডিএসসিসির ব্যয় হয় ৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

ব্যস্ত শহরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে আশপাশের অনেকেই এখানে নিয়মিত আসে। অনেকে সকাল-বিকাল-রাতের বেলা নিয়ম করে হাঁটে এখানে। শতাধিক লোককে পার্কে শরীরচর্চা করতে দেখা যায়।

এমনিতেই পার্কের নিরাপত্তা নিয়ে এলাকাবাসীর সংশয় আছে। আগে লোহার গ্রিল দিয়ে পুরো পার্ক আটকানো থাকলেও এখন পুরোটা খোলা। ফলে পার্কে আসা মানুষদের প্রায়ই পড়তে হয় ছিনতাইকারীদের কবলে। সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পর থেকে পার্কে বেড়েছে নানা ধরনের অপরাধ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্মৃতিসৌধের ওপরে চলে মাদকের আড্ডা।

বর্তমানে আশপাশে ভ্রাম্যমাণ হকার খাবারের পসরা সাজিয়ে বসায় এমনিতেই পার্কের চারপাশের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পথে। নিয়মিত পার্কে আসা লোকজন বলছে, স্থায়ীভাবে এখানে খাবারের দোকান হলে পার্কের সৌন্দর্য পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে। তখন মানুষের হাঁটাচলা করার সুযোগও আর থাকবে না। দোকান হলে পার্কের গাছগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

পার্কে প্রতিদিন সকালে হাঁটতে আসেন লক্ষ্মীবাজারের স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাক হাসান কনক। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই আমার ডায়াবেটিস। ৪০ বছর হলো এ পার্কে হাঁটাহাঁটি করি। এ পার্ক ছাড়া আশপাশে আর কোনো ফাঁকা জায়গা নাই। আমরা কোনোভাবে এ পার্কে ক্যাফে বা দোকান তুলতে দেব না।’

আফরোজা বেগম নামের আরেক এলাকাবাসী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুরান ঢাকার অলিগলিতে হাঁটা যায় না। তাই প্রতিদিন সকালে এখানে আসি। নিয়মিত হাঁটা লাগে। যা অবস্থা তাতে মনে হচ্ছে বেশি দিন আর এখানে হাঁটাচলার পরিবেশ থাকবে না। এটা কোনোভাবেই নাগরিক সেবা হতে পারে না। এখানে ক্যাফে তৈরির কোনো প্রয়োজনই নেই।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইউছুব ওসমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুরান ঢাকার বুক চিতিয়ে থাকা এই পার্কটিকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। পার্কের মাঝে রাতের আঁধারে চালাচ্ছে দোকান নির্মাণের কাজ। এখনও যে মানুষজন এখানে এসে একটু শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়, কয়েক দিন পর আর তার সুযোগও থাকবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘সিটি করপোরেশন এখন আর জনগণের জন্য কাজ করে না। সামাজিক সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব পালন না করে ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে এটি।’

এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. রাসেল সাবরিন বলেন, ‘আমরা আমাদের সব পার্ক সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার জন্য ইজারার আওতায় নিয়ে আসছি, যাতে পার্কগুলো ভালোভাবে পরিচালনা করা যায়। তারই ধারাবাহিকতায় বাহাদুর শাহ পার্ক ইজারা দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পার্কের মাঝখানে একটি ফুড ব্যান্ড থাকবে। তারা খাবার বিক্রি করবে এবং পার্কের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে। এতে করে পার্কটি সঠিকভাবে পরিচালনা করা যাবে।’

আরও পড়ুন:
১১ জেব্রার মৃত্যুতে মামলা
উৎপাদনে যাওয়ার অপেক্ষায় ওষুধ শিল্প পার্ক
সাফারি পার্কে এবার আফ্রিকান লেমুরের মৃত্যু
ঘাসে অতিরিক্ত নাইট্রেটের প্রভাবে গাজীপুরে জেব্রার মৃত্যু
সাফারি পার্কে ১১ জেব্রার মৃত্যু: হচ্ছে ফৌজদারি মামলা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Iran US standoff in Qatar

ইরান-আমেরিকা ‘মহারণ’ কাতারে

ইরান-আমেরিকা ‘মহারণ’ কাতারে মাঠের লড়াই ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠতে পারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক উত্তাপ। ছবি: সংগৃহীত
আল থুমামা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় মুখোমুখি হচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র। গ্রুপ ‘বি’ থেকে দুই দলেরই নক আউট পর্বে খেলার সুযোগ রয়েছে। তবে মাঠের লড়াই ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠতে পারে দুই দেশের রাজনৈতিক উত্তাপ।

কাতার বিশ্বকাপে মঙ্গলবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে মাঠে নামছে ইরান। ফুটবলে শক্তির দিক থেকে দুই দলের খুব একটা পার্থক্য নেই। ফিফা রেটিংয়ে যুক্তরাষ্ট্র ১৬ নম্বরে; চার ধাপ পিছিয়ে ইরানের অবস্থান ২০-এ। তবে মাঠের লড়াই ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠতে পারে দুই দেশের রাজনৈতিক উত্তাপ।

নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে ইরানে চলমান বিক্ষোভ-প্রতিবাদের ঢেউ এরই মধ্যে কাতার বিশ্বকাপের মাঠেও পৌঁছে গেছে। বিক্ষোভে সংহতি জানিয়ে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জাতীয় সংগীত গাননি ইরানি ফুটবলাররা। পাশাপাশি আগের দুই ম্যচে গ্যালারিতেও দৃশ্যমান ছিল ইরানিদের প্রতিবাদ। আমেরিকার বিপক্ষে ইরানের তৃতীয় ম্যাচে ক্ষোভের এই মাত্রা আরও তীব্র হতে পারে।

আল থুমামা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় মুখোমুখি হচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র। গ্রুপ ‘বি’ থেকে দুই দলেরই নক আউট পর্বে খেলার সুযোগ রয়েছে। মাঠের লড়াইটাও তাই হাড্ডাহাড্ডি হবে।

ফ্রান্সে ১৯৯৮ বিশ্বকাপে শেষবার মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। ইরানের ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর তেহরান-ওয়াশিংটন সম্পর্ক ছিন্ন হয়। এরপর ১৯৯৮ বিশ্বকাপেই প্রথম দেখা হয় দুই দলের।

সে ম্যাচে অভূতপূর্ব এক ঘটনা ঘটেছিল। উত্তেজনায় পানি ঢেলে ইরানি খেলোয়াড়রা প্রতিপক্ষের হাতে তুলে দিয়েছিলেন সাদা গোলাপ। তোলা হয়েছিল গ্রুপ ছবিও।

ম্যাচে হামিদ ইস্টিলি এবং মেহেদি মাহদাভিকিয়ার গোলে ২-০তে জয় পায় ইরান। সেটি ছিল বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে ইরানের প্রথম জয়। আনন্দের বন্যা বয়ে গিয়েছিল তেহরানের রাস্তায়।

এবার কাতার বিশ্বকাপে গত শুক্রবার ওয়েলসের বিপক্ষে প্রথম জয় পায় ইরান। এর আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৬-২ গোলে হার মানতে হয়েছিল ইরানি ফুটবলারদের। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে এবার জয় পেলে প্রথমবারের মতো নক আউট পর্বে খেলবে তারা।

তবে আমেরিকার বিপক্ষে লড়াইটা কেবল ফুটবল নিয়ে নয়।

ইসলামি শাসনের ইরান যে কয়েকটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে দেশ শাসন করছে, নারীদের হিজাব তার একটি। ৭০ দিনের বেশি সময় ধরে ইরানে হিজাববিরোধী তুমুল বিক্ষোভ চলছে; যেটা এখন ইরানের সরকার পতনের আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার হিসাবে, বিক্ষোভ দমাতে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে প্রাণ দিয়েছেন চার শতাধিক মানুষ। তাদের মধ্যে আছে ৬০ জনের বেশি শিশু। ইরানি কর্তৃপক্ষ অবশ্য আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি।

হিজাব ঠিকমতো না করার অভিযোগে গ্রেপ্তার কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনি পুলিশি হেফাজতে মারা যান গত ১৬ সেপ্টেম্বর। সেদিন থেকেই বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজধানী তেহরান। অল্প দিনে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে গোটা ইরানে।

‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ স্লোগানটি বিশ্বকাপেও দেখা যাচ্ছে অনেক ইরানি বিক্ষোভকারী আশা করছেন জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের পাশাপাশি সাবেক এবং বর্তমান অ্যাথলেটিকরাও তাদের সমর্থন দেবেন।

ইরান দলের অধিনায়ক এহসান হাজিসাফি গত সপ্তাহে দোহায় সংবাদ সম্মেলনে বিক্ষোভে সংহতি প্রকাশ করেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ শুরুর আগে খেলোয়াড়রা জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতিও জানান। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে জাতীয় সংগীতে কণ্ঠ মিলিয়েছেন খেলোয়াড়রা।

ইংল্যান্ড ম্যাচের পর ইরানে আবার চাঙা হয় বিক্ষোভ। নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা ও ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটতে থাকে।

তবে ওয়েলসের বিপক্ষে জয়ের পর নিরাপত্তা বাহিনীর চোখের সামনেই রাস্তায় উদযাপনে মাতে ইরানি জনতা। এর আগে বিক্ষোভ দমাতে যে পুলিশ সরাসরি গুলি ছুড়তে দ্বিধা করেনি, সেই পুলিশ সদস্যরাও সেদিন পতাকা নাড়িয়ে তাদের উৎসাহ দেয়। মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা, রাস্তায় নাচতে-গাইতেও দেখা গেছে তাদের। সেদিন প্রথা ভেঙে ইরানের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত নিউজ ওয়েবসাইটগুলো হেডস্কার্ফহীন উল্লসিত নারীদের ছবি প্রকাশ করে৷

ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা তাদের দেশে ‘দাঙ্গা’ এবং ‘সন্ত্রাসবাদ’-এর মূল চালিকাশক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করছেন, তবে তা অস্বীকার করেছে ওয়াশিংটন।

আরও পড়ুন:
ফিফার টুইটে এবার বাংলাদেশে ব্রাজিল উদযাপন
নেইমারকে মিস করেছেন তিতে
ব্রাজিলের জয়ে জগন্নাথে বাঁধভাঙা উল্লাস
ম্যাচের আগে মেসিকে পোলিশ ডিফেন্ডারের হুঁশিয়ারি
আর্জেন্টিনার খেলা নিয়ে বন্ধুকে খুন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Jamaat separation secret of BNP in two considerations

দুই বিবেচনায় জামায়াত-বিচ্ছেদ গোপন বিএনপির

দুই বিবেচনায় জামায়াত-বিচ্ছেদ গোপন বিএনপির ইফতার মাহফিলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে জামায়াতের সাবেক দুই আমির মতিউর রহমান নিজামী ও মকবুল আহমাদ। এর মধ্যে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ২০১৬ সালে ফাঁসির দড়িতে ঝুলেছেন নিজামী। আর ২০২১ সালে হাসপাতালে মৃত্যু হয় মকবুলের। ছবি: সংগৃহীত
জামায়াতকে বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির আবার সম্ভাব্য জোটকে মোকাবিলায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে। আবার জামায়াত জোটে থাকলে যুগপৎ আন্দোলনে অন্য দলগুলোকে কাছে পাওয়ার বাসনাও পূরণ হওয়া নিয়ে আছে অনিশ্চয়তা। এর অংশ হিসেবেই দলটি থেকে দূরত্ব রাখার কৌশল আছে।

বিএনপির সঙ্গে জোট নেই, দলের নেতা-কর্মীদের জানিয়ে দিয়েছেন জামায়াতের আমির। কিন্তু ‘রা’ নেই বিএনপির মুখে। এর মধ্যে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির বর্জনের মুখেও জামায়াতের প্রার্থী দেয়ার মধ্যে রাজনৈতিক সমীকরণটাও স্পষ্ট। তবু সম্পর্ক স্পষ্ট করছে না বিএনপি। কেবল দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, এখন থেকে বিএনপি-জামায়াত আর নয়।

কেবল জামায়াত নয়, ২০-দলীয় জোটের বেশির ভাগ শরিকের সঙ্গেই বিএনপির যোগাযোগ একেবারে তলানিতে। যুগপৎ আন্দোলনের পরিকল্পনার কথা বলে গত জুলাই থেকে রাজপথে কর্মসূচি বাড়িয়ে কেবল শরিকদের নয়, যাদের সঙ্গে সংলাপ, তাদেরও ডাকছে না দলটি।

কেন জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি বিএনপি স্পষ্ট করে না, এমন প্রশ্নে ২০-দলীয় জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘১০ ডিসেম্বরের পর এসব নিয়ে প্রশ্ন করেন। এখন আমরা অনেক ব্যস্ত আছি।’

বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বললে তারাও নিশ্চিত করেন, জামায়াতের সঙ্গে এখন কোনো পর্যায়ে রাজনৈতিক যোগাযোগ নেই। এমনকি বিএনপি বিভিন্ন দল ও জোটের শরিকদের সঙ্গেও যুগপৎ আন্দোলন নিয়ে যে সংলাপ করেছে, সেখানেও ডাকা হয়নি জামায়াতকে।

এর মধ্যে গত আগস্টের শেষে কুমিল্লা জামায়াতের একটি রুকন সম্মেলনে ভার্চ্যুয়ালি যোগ দিয়ে দলটির আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা এতদিন একটা জোটের সঙ্গে ছিলাম। আপনারা শুনে হয়তো ভাবছেন কী হয়েছে এখন। হ্যাঁ, হয়ে গেছে।’

বিএনপির প্রতি দোষ দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই বিষয়টি এখন আমাদের কাছে স্পষ্ট, দিবালোকের মতো পরিষ্কার এবং তারা আমাদের সঙ্গে বসে এটা স্বীকার করেছে। …বছরের পর বছর এই ধরনের অকার্যকর জোট চলতে পারে না।…একটা জোটের সঙ্গে কি কেয়ামত পর্যন্ত থাকব?... কোনো অ্যালায়েন্স আপনারা করবেন না, বাস্তবতাও নাই, পারবেনও না।’

বিএনপির পক্ষ থেকে এই বক্তব্যের বিপরীতে কোনো জবাব দেয়া হয়নি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এ বিষয়ে তারা কিছুই বলবেন না। সাংবাদিকদের প্রশ্নে এ-ও বলেছেন, কিছু না বলতে চাওয়া তার গণতান্ত্রিক অধিকার।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জোট ভেঙে গেছে অনেক আগেই। নানা প্রতিকূলতা আর সিদ্ধান্তহীনতার কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হচ্ছে না।’

কী সেই প্রতিকূলতা আর সিদ্ধান্তহীনতা?- এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘প্রতিকূলতা বলতে দলের সিদ্ধান্তহীনতার কথাই বলছি। সেটা বিএনপিরও হতে পারে, জামায়াতেরও হতে পারে। এটা তো খোলাসা করে বলা মুশকিল।’

তবে এই সিদ্ধান্তহীনতা দূর হবে- এমন প্রশ্নে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তই হয়নি।’

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘জোট আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে দেয়া হয়নি, ফলে এখনও আছে।

‘সংলাপে জোটের শরিক দলগুলো একমত হয়েছে, তারা যুগপৎ আন্দোলনটা শুরু করবে। যার যার অবস্থান থেকে আন্দোলন শুরু হয়ে চলতে থাকবে। যারা আন্তরিকতার সঙ্গে সেই আন্দোলনে থাকবে, তারা কোনো একপর্যায়ে গিয়ে আবার ঐক্যবদ্ধ হবে কি না সেটা এখনই বলা যাবে না। আন্দোলনের গতি-প্রকৃতির ওপর সেটা নির্ভর করবে।’

দুই বিবেচনায় জামায়াত-বিচ্ছেদ গোপন বিএনপির
২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে সে সময়ের চারদলীয় জোটের নেতারা এক মঞ্চে। ফাইল ছবি

বিএনপির না হয় নানা হিসেবনিকেশ। রংপুরে প্রার্থী দিয়ে বিএনপির সঙ্গে মতভিন্নতা স্পষ্ট করার পরও জামায়াতের গোপনীয়তার কী বাকি- এমন প্রশ্ন নিয়ে দলটির মুখপাত্র মতিউর রহমান আকন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করে হতাশ হতে হয়।

নারী কণ্ঠে প্রশ্ন শুনে তিনি কথা বলতেই চাননি। পরে অন্য একজনকে দিয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি জোট নয়, কথা বলেন যুগপৎ আন্দোলন নিয়ে।

তিনি বলেন, ‘যুগপৎ আন্দোলন চূড়ান্ত হলে আমাদের সঙ্গে (বিএনপির) সংলাপ হবে।’

বিএনপির ‘দুই ভয়’

ভোটের সমীকরণের হিসাবনিকাশের কারণে স্বাধীনতাবিরোধী দলটির সঙ্গে বিচ্ছেদের ঘোষণা দিয়ে দেয়াও কঠিন। জামায়াতকে বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির আবার সম্ভাব্য জোটকে মোকাবিলায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে। এ কারণে শেষ পর্যন্ত জোটের বিষয়ে ধোঁয়াশা রেখে দেয়ার একটি ভাবনা আছে।

জামায়াতের একটি ভোটব্যাংক আছে উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, উত্তর-পূর্ব ও চট্টগ্রাম বিভাগে। সব মিলিয়ে ৭০ থেকে ৮০টি আসনে ভোটের লড়াইয়ে বিএনপিকে সুবিধা এনে দেয় তা।

আবার জামায়াত জোটে থাকলে যুগপৎ আন্দোলনে অন্য দলগুলোকে কাছে পাওয়ার বাসনাও পূরণ হওয়া নিয়ে আছে অনিশ্চয়তা। এর অংশ হিসেবেই দলটি থেকে দূরত্ব রাখার কৌশল আছে।

২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনেই বিএনপি বিষয়টি নিয়ে ভুগেছে। ভোটের আগে আগে ভারতীয় একটি প্রভাবশালী দৈনিককে দেয়া সাক্ষাৎকারে বিএনপির জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছিলেন, জামায়াত জোটে আছে জানতে পারলে তারা বিএনপির সঙ্গে সম্পর্কই গড়তেন না।

এবারও বৃহত্তর বা যুগপৎ আন্দোলনের ক্ষেত্রে জামায়াত ইস্যু কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায় কি না, এই ভাবনা থেকে দলটির সঙ্গে কোনো প্রকাশ্য আলোচনায় যায়নি দলটি। যদিও গত আগস্টে এই জোট ভেঙে যাওয়ার কথা জানিয়ে কুমিল্লা ইউনিটের রুকন সম্মেলনে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে আপত্তি নেই তাদের।

ভোটের হিসাবনিকাশ

পাকিস্তান আমলে ১৯৭০ সালের নির্বাচন এবং স্বাধীন বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় নির্বাচনের ফল বিবেচনা করে দেখা যায়, জামায়াতে ইসলামীর ভোট ৫ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যেই থাকে। এর মধ্যে ১৯৯১ সালেই কেবল তা লাফ দিয়েছিল, তবে সে সময় বিএনপির সঙ্গে অঘোষিত সমঝোতা একটি কারণ হতে পারে।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে ৬ শতাংশ ভোট পাওয়া জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষে অস্ত্র ধরে যুদ্ধ শেষে নিষিদ্ধ হয়। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের শাসনামলে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ পাওয়ার পর ১৯৮৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে তারা অংশ নেয়। সেই নির্বাচনে দলটি ভোট পায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। আসন পায় ১০টি।

বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সমঝোতায় ভোটের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব পড়ে, সেটি বোঝা গেছে ১৯৯১ ও ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে।

এরশাদ পতনের পর প্রথমবারের ভোটে আওয়ামী লীগকে দ্বিতীয় অবস্থানে ঠেলে দিয়ে বিএনপির ক্ষমতায় আসা নিয়ে এখনও আলোচনা হয় যে, এটা কীভাবে হলো।

ওই নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের নায়েবে আমির মুজিবুর রহমানের লেখা একটি বইয়ের তথ্য বলছে, পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে জামায়াতকে অঘোষিতভাবে ৩৫ আসনে সমর্থন দেয় বিএনপি। আর বিএনপিকে শতাধিক আসনে ভোট দেয় দলটি।

সেই নির্বাচনে বিএনপি আসন পায় ১৪০টি, জামায়াত পায় ১৮টি। আর আওয়ামী লীগ পায় ৮৮ আসন।

ওই নির্বাচনে দুই প্রধান দলের ভোট ছিল একেবারেই কাছাকাছি। ধানের শীষ নিয়ে বিএনপি পায় মোট ভোটের ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ। আর নৌকা নিয়ে আওয়ামী লীগ পায় ৩০ দশমিক ১০ শতাংশ।

জামায়াতের বাক্সে পড়ে ১২ দশমিক ১০ শতাংশ ভোট। দলটির রাজনৈতিক ইতিহাসে স্বাভাবিক হারের দ্বিগুণের বেশি ভোট পাওয়াতেই এটা স্পষ্ট হয় যে নেপথ্যে কিছু একটা ছিল।

২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক জোটই করে দল দুটি। সঙ্গে ছিল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি থেকে বের হয়ে আসা একটি অংশ, যারা এরশাদ জোট ছাড়ার পরেও বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে থেকে যায়। একই সঙ্গে ছিল কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক দলগুলোর মোর্চা ইসলামী ঐক্যজোট।

এই সম্মিলিত শক্তিতে আওয়ামী লীগকে বলতে গেলে উড়িয়ে দেয় তারা। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে এই জোট আসন পায় দুই শতাধিক, যার মধ্যে বিএনপি একাই পায় ১৯৩টি, জামায়াত পায় ১৭টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি বা বিজেপি পায় চারটি, ইসলামী ঐক্যজোট পায় দুটি আসন।

ওই বছর আওয়ামী লীগ আসন পায় ৬২টি। এর মধ্যে উপনির্বাচনে দলটি আরও চারটি আসন হারিয়ে ফেলে। শেষ পর্যন্ত আসন দাঁড়ায় ৫৮তে।

সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ভোটের পার্থক্য ছিল কম। বিএনপি পায় মোট ভোটের ৪১ দশমিক ৪০ শতাংশ। আর আওয়ামী লীগ পায় ৪০ দশমিক ০২ শতাংশ।

জামায়াতের আসন ১৭টি হলেও তাদের ভোট ছিল ৪ দশমিক ২৮ শতাংশ।

মাঝে ১৯৯৬ সালে যে দুইবার ভোট হয়, তার মধ্যে ১৫ ফেব্রুয়ারির ভোট আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মতো বর্জন করে জামায়াতও। ওই বছরের ১২ জুন সব দল একক শক্তিতে যে নির্বাচন করে, তাতে জামায়াতের ভোট আবার কমে যায়।

ওই বছর মোট ভোটের ৩৭ দশমিক ৪০ শতাংশ পড়ে আওয়ামী লীগের বাক্সে। দলটি আসন পায় ১৪৬টি। বিএনপি ১১৬টি আসন পায়। মোট ভোটের ৩৩ দশমিক ৬০ শতাংশ পায় দলটি।

অর্থাৎ এই নির্বাচনেও যদি বিএনপি ও জামায়াতের সমঝোতা থাকত, তাহলে তারা আওয়ামী লীগের চেয়ে বেশি ভোট পেতে পারত। আর এরশাদ সরকারের পতনের পর যে দুটি নির্বাচনে বিএনপি ভোট কিছুটা বেশি পেয়েছে, দুটিতেই আসন অনেক বেশি নিয়ে সরকার গঠন করেছে।

২০০৮ সালের পর নতুন সমীকরণ

২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে তৈরি হয় নতুন সমীকরণ। ওই বছর আওয়ামী লীগও ভোটে নামে জোটের শক্তি নিয়ে। জাতীয় পার্টির একটি উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোট যোগ হওয়ার পর বিএনপির জোট আর পাত্তা পায়নি।

এই নবম সংসদ নির্বাচনে ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগ আসন পায় ২৩০টি। এই ভোটের মধ্যে জাতীয় পার্টি ও অন্য শরিকদের সমর্থকদের অংশগ্রহণও ছিল।

আর বিএনপির ধানের শীষে ভোট পড়ে ৩২ দশমিক ৫০ শতাংশ। আসন হয় ৩০টি।

জোটের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে জাতীয় পার্টিও পায় ২৭টি আসন। আওয়ামী লীগের ভোটাররাও লাঙ্গলে সিল দেয়ার পর দলটির ভোট দাঁড়ায় ৭ দশমিক ০৪ শতাংশ, যা ছিল আগের নির্বাচনের চেয়ে বেশি।

ওই নির্বাচনে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লায় ভোট পড়ে ৪ দশমিক ৭০ শতাংশ, যা আগের নির্বাচনের চেয়ে বেশি, তবে আসন কমে হয় দুটি।

দুই বিবেচনায় জামায়াত-বিচ্ছেদ গোপন বিএনপির
২০০৬ সালে পল্টনে লগি-বৈঠা হাতে থাকা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন প্রাণহানি হয়। সে সময় সরকারের পক্ষ থেকে কাঙ্ক্ষিত সহায়তা পায়নি জামায়াত। ফাইল ছবি

ঘোষণা দিয়ে বিএনপির জোট ছেড়েছে যারা

বিএনপি জোট থেকে গত কয়েক বছরে বের হয়ে গেছে বেশ কয়েকটি দল। এর মধ্যে রয়েছে প্রয়াত আবুল হাসনাত আমিনীর নেতৃত্বাধীন ইসলামী ঐক্যজোট, আন্দালিভ রহমান পার্থের বিজেপি, জেবেল রহমান গানির বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ, মুহম্মদ ইসহাকের নেতৃত্বাধীন খেলাফত মজলিস, প্রয়াত নূর হোসেন কাসেমীর জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এনডিপি ও হামদুল্লাহ আল মেহেদীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ লেবার পার্টি।

অবশ্য এই দলগুলো ২০-দলীয় জোট ছেড়ে গেলেও জোটে দলের সংখ্যা কমেনি একটিও। কারণ, যে দল জোট ছেড়েছে, সে দলের কয়েকজন নেতা একই নামে দল করে ২০-দলীয় জোটের শরিক হিসেবে থেকে গেছে।

আরও পড়ুন বিএনপির ওপর জামায়াত নাখোশ ‘তিন কারণে’

বিএনপি-জামায়াতের বিচ্ছেদে কতটা পাল্টাবে রাজনীতি

আরও পড়ুন:
ভালোয় ভালোয় কেটে পড়ুন: সরকারকে ফখরুল
চব্বিশে আমরা ক্ষমতায়: রুমিন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
In October the plane touches the sea and lands in Coxs Bazar

সমুদ্র ছুঁয়ে বিমান নামার পথ খুলছে কক্সবাজারে

সমুদ্র ছুঁয়ে বিমান নামার পথ খুলছে কক্সবাজারে সমুদ্রের বুকে রানওয়ে সম্প্রসারণসহ কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের কাজ ৪২ শতাংশ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
কক্সবাজার বিমানবন্দর ঘিরে বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের কাজ শেষ হবে জুনে। রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ শেষ হবে আগামী অক্টোবরে।

কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। সমুদ্রের বুকে রানওয়ে সম্প্রসারণের ৪২ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল (যাত্রী প্রান্তিক ভবন) নির্মাণকাজও ৮২ শতাংশ এগিয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের মধ্যে প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ পুরোপুরি শেষ হবে বলে আশা করছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এ ছাড়া, আকাশপথে কক্সবাজার যেতে শুধু দিনে অপেক্ষার সময় শেষ হতে চলেছে। এখন রাতেও ফ্লাইট নামবে সাগরঘেঁষা রানওয়েতে। একইভাবে সারা দিন কাটিয়ে রাতে ফেরা যাবে উড়োজাহাজে। বাংলাদেশের প্রধান পর্যটন নগরীতে অবকাঠামোর সংকটে এখন পর্যন্ত সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত ফ্লাইট ওঠানামা করতে পারে। তবে সংকট আর থাকছে না। রাতেও ফ্লাইট ওঠানামার সব প্রস্তুতি শেষ। যেকোনো দিন ফ্লাইট শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, কক্সবাজার বিমানবন্দর ঘিরে চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। একদিকে চলছে সমুদ্রের বুকে রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ, অপরদিকে চলছে আন্তর্জাতিক যাত্রী প্রান্তিক ভবন নির্মাণের কাজ। সমুদ্র তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ব্যস্ত শ্রমিকরা। চারপাশে রাস্তাও নির্মাণ করা হচ্ছে।

সমুদ্র ছুঁয়ে বিমান নামার পথ খুলছে কক্সবাজারে

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজে মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকার বেশি। আর আন্তর্জাতিক যাত্রী প্রান্তিক ভবন নির্মাণে ব্যয় হবে ২৭৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পটির অনুমোদন দেয় সরকার।

কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ইউনুস ভুঁইয়া বলেন, ‘সমুদ্রতীরবর্তী জমি পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ করে সরকার বিমানবন্দটির আরও উন্নয়ন ঘটানোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রকল্পের আওতায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের প্রভাব থেকে রানওয়ের সুরক্ষার জন্য সমুদ্রতীরে রক্ষাপ্রদ বাঁধ নির্মাণ এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে চারপাশে রাস্তাও নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় সমুদ্রগর্ভে আরও প্রায় ২ হাজার ২০০ ফুট দীর্ঘ প্রিসিশন অ্যাপ্রোচ লাইট স্থাপনসহ বিদ্যমান রানওয়েতে ক্যাট-২ এজিএল সিস্টেম স্থাপন করা হবে।

তিনি বলেন, ‘প্রকল্পের কাজ শেষ হলে নতুন ১৭০০ ফুটসহ এই বিমানবন্দরের রানওয়ে হবে ১০ হাজার ৭০০ ফুট, তাই দেশের দীর্ঘতম রানওয়ে সমৃদ্ধ বিমানবন্দর হবে কক্সবাজার। তখন সমুদ্র ছুঁয়ে বি-৭৭৭-৩০০ ইআর, বি-৭৪৭-৪০০ এর মতো বড় আকারের বিমানগুলো এই বিমানবন্দরে অবতরণ করতে পারবে।’

দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে আন্তর্জাতিক যাত্রী প্রান্তিক ভবন নির্মাণের কাজও। এ প্রকল্পের আওতায় অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা-সংবলিত ১৪ হাজার বর্গমিটার আন্তর্জাতিক যাত্রী প্রান্তিক ভবন, একটি বোর্ডিং ব্রিজ স্থাপন, ৩৬ হাজার ৩০০ বর্গমিটার সুপরিসর বিমান পার্কিং অ্যাপ্রন ও ১৯০টি অভ্যন্তরীণ/ আন্তর্জাতিক যাত্রী এবং ৩৫টি ভিআইপি ভেহিক্যাল পার্কিংবিশিষ্ট কারপার্ক নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে ৮২ শতাংশ কাজ।

কক্সবাজার বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক গোলাম মোর্তজা হোসেন বলেন, ‘বর্তমানে কক্সবাজার বিমাবন্দরে প্রতিদিন গড়ে ২৫-৩০টি যাত্রীবাহী বিমান ও ৬-৮টি কার্গো বিমান ওঠানামা করছে। রাতে বিমান ওঠানামার জন্যও প্রায় প্রস্তুত। সমুদ্রগর্ভে আরও লাইটিং সিস্টেম স্থাপনের কাজ চলছে।’

পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হলে এই বিমানবন্দর শুধু পর্যটন নয়, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক বিকাশে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমরা খুবই উজ্জীবিত। রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে শেষ হতে যাচ্ছে। একই সাথে আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ২০২৩ সালের জুন মাসে চালু হবে-এমন লক্ষ্য আছে। বিমানবন্দর এবং রেলপথের কাজ যেভাবে এগাচ্ছে, সেভাবে যদি আমরা এগোতে পারি, তাহলে কক্সবাজার সত্যিকার অর্থে একটি আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন স্থান হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হবে। আমরা মনে করি, বাংলাদেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে জিডিপিতেও কক্সবাজার জেলা অবদান রাখবে।’

২০১৭ সালের ৬ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রানওয়েতে বোয়িং ৭৩৭-৮০০ জাতীয় বিমান অবতরণের মাধ্যমে ‘কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন (প্রথম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সিভিল, ন্যাভ-এইড ও এজিএল কাজের উদ্বোধন করেন। এ প্রকল্পের আওতায় ২৯০ হেক্টর ভূমি বন্দোবস্ত এবং ৮ দশমিক ৩৭ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের আওতায় বিদ্যমান রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৬ হাজার ৭৭৫ ফুট থেকে ৯ হাজার ফুটে এবং চওড়া ১০০ ফুট থেকে ২০০ ফুটে উন্নীত করা হয়। এ ছাড়া সুপরিসর বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণের লক্ষ্যে বিদ্যমান রানওয়ের পিসিএন ১৭ হতে ৯০ এ উন্নীতকরণসহ আইএলএস, ডিডিওআর, ক্যাট-১ এজিএল লাইট স্থাপন, নিরাপত্তা সীমানা প্রাচীর ও ড্রেনেজ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এতে ঠিকাদারি কাজের ব্যয় দাঁড়ায় ৬৫৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

এরপর ২০২১ সালের ২৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমুদ্রগর্ভে আরও ১ হাজার ৭০০ ফুট রানওয়ে বর্ধিতকরণের লক্ষ্যে ‘কক্সবাজার বিমানবন্দরে রানওয়ে সম্প্রসারণ’ প্রকল্প কাজের উদ্বোধন করেন। এ প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়েতে পূর্ণ লোডে সুপরিসর বিমান তথা বি-৭৭৭-৩০০ ইআর, বি-৭৪৭-৪০০ জাতীয় বিমান উড্ডয়ন-অবতরণ নিশ্চিত হবে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিওয়াইডব্লিউইবি-সিসিইসিসি জেভি প্রকল্প কাজ বাস্তবায়নে নিয়োজিত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ২০৩৫ সালের মধ্যে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর তথা রিজিওনাল হাব হিসেবে দিতে ‘কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন (দ্বিতীয় পর্যায়)’ নামে একটি প্রকল্প তৈরির কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
BIWTA destroyed farmers potato fields

বিআইডাব্লিউটিএ নষ্ট করল কৃষকের আলুর ক্ষেত

বিআইডাব্লিউটিএ নষ্ট করল কৃষকের আলুর ক্ষেত দিনাজপুরে নদী খননের নামে বিআইডাব্লিউটিএ কৃষকদের আবাদ করা আগাম জাতের আলুর ক্ষেত নষ্ট করছে। ছবি: নিউজবাংলা
দিনাজপুরে পুনর্ভবা নদী খনন শুরু করছে বিআইডাব্লিউটিএ। নদীর দুই পারে ৫০০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন কৃষকরা। সেগুলো নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষকরা বলছেন, তাদের এক মাসের সময় দেয়া হোক।

আগামী দিনে দেশে খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সব ধরনের জমিতে ফসল আবাদ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি পতিত জমিতেও ফসল চাষাবাদ করার নির্দেশনা দিলেও দিনাজপুরে নদী খননের নামে বিআইডাব্লিউটিএ কৃষকদের আবাদ করা আগাম জাতের আলুর ক্ষেত নষ্ট করছে। এমনকি ব্যক্তিগত আলুর ক্ষেতও এস্কাভেটর মেশিন দিয়ে খুঁড়ে দিয়েছে সরকারি এ প্রতিষ্ঠান।

এভাবে কয়েক একর জমির আলুর ক্ষেত নষ্ট করে দিয়েছে বিআইডাব্লিউটিএ। ফসল ওঠা পর্যন্ত কৃষকরা সময় চাইলেও তাদের কথা শোনা হচ্ছে না।
সম্প্রতি দিনাজপুর সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের মহব্বতপুর, উলিপুর ও খাড়িপাড়ার শতাধিক ভুক্তভোগী কৃষক দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক বরাবর একটি অভিযোগ দিয়েছেন।

চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুর শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত পুনর্ভবা নদীর খনন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। নদীটির খনন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে বিআইডাব্লিউটিএ।

নদীর ৩৩ কিলোমিটার খনন করতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৩ কোটি ৯৫ লাখ ৬৯ হাজার ৫৬০ টাকা। পৃথক পাঁচটি প্যাকেজে পাঁচটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে নদীর পাশে জমিতে বিভিন্ন চাষাবাদ করে আসছি। সেই আলোকে আমরা আগাম জাতের আলু রোপণ করেছি। আর কয়েক দিন পরই আলু বাজারে ওঠানোর মতো অবস্থায় চলে আসবে। কিন্তু এরই মধ্যে জানতে পারলাম যে বিআইডাব্লিউটিএ কর্তৃক পুনর্ভবা নদী খনন শুরু হবে। ইতোমধ্যে তারা কয়েকজন কৃষকের আলুর ক্ষেত খুঁড়ে দিয়েছে। এভাবে খুঁড়তে থাকলে ৫০০ বিঘা জমির আলু নষ্ট হবে। তাই আমাদের এক মাসের সময় দেয়া হোক। নইলে আমাদের অপূরণীয় ক্ষতি হবে।’

উলিপুর গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে পুনর্ভবা নদী। নদীটির পাশেই চরে মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে সারি সারি নতুন আলুর গাছ। আর কয়েক দিন পরে এই ক্ষেতে আলু বাজারে উঠতে শুরু করবে। কিন্তু কৃষকের হাসি বিষাদে রূপ নিতে শুরু করেছে বিআইডাব্লিউটিএর কারণে। আগাম জাতের আলুর ক্ষেত নষ্ট করে নদী খনন কার্যক্রম পরিচালনা করছে তারা। অনেক কৃষকের আলুর ক্ষেত খুঁড়ে মাটি সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। এতে করে কৃষকরা ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে। বারবার সময় চেয়েও পাচ্ছে না কৃষকরা। এমনকি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিকে নদীর জমি হিসেবে চিহ্নিত করে খুঁড়ে দেয়া হচ্ছে।

বিআইডাব্লিউটিএ এমন কার্যক্রমের ফলে অসহায় হয়ে পড়েছে ওই গ্রামের বহু কৃষক। নদী খনন কার্যক্রম চলমান থাকলে প্রায় ১ কোটি টাকার আলুর ফলন নষ্ট হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন কৃষকরা।

কিষানি নুর বানু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই জমি আমাদের। আমরা একজনকে বর্গা দিছি। কিন্তু বিআইডাব্লিউটিএ সরকারের জমি বলে খুঁড়ে দিছে। এখন তো ওই লোকের অনেক ক্ষতি হলো। আলুর গাছ খুঁড়ে নষ্ট করে দেয়া হলো।’

কৃষক আব্দুল জলিল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যদি এই জমিগুলো সরকারের হয়, তাহলে তো আমাদের মাইকিং করে জানাতে পারত। কিন্তু এখন আলুর ক্ষেত নষ্ট করে দেয়া হচ্ছে। এখানে এক বিঘা জমিতে ৪০ মণ আলু পাওয়া যায়। আমরা ঋণ ও ধারদেনা করে এই আলুর চাষাবাদ করতেছি।

‘নদী খনন হলে ৫০০ থেকে ৭০০ একর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ইতিমধ্যে আমার জমির পাশেই এক একর জমির ফসল নষ্ট করে দিয়েছে। আমরা তো এই জমি খেয়ে ফেলতেছি না। আমরা তো খাদ্য উৎপাদন করতেছি। তাই আমরা তাদের কাছে এক মাসের সময় চাচ্ছি।’

কৃষক আরিফ আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই জমি আমার রেকর্ডভুক্ত সম্পত্তি। অথচ এখন নদী খনন করতে এসে তারা সরকারের জমি বলে দাবি করতেছে। এখানে জমি বর্গা দিয়েছি। বর্গা চাষিদের ফসল নষ্ট করে দিল। পাশাপাশি আমার জমি খুঁড়ে শেষ করে দিল। জমির সব ধরনের কাগজপত্র আমার কাছে আছে। কিন্তু তাদের কাছে কাগজপত্র দেখতে চাইলে তারা কাগজপত্র দেখাতে পারছে না।’

তরুণ উদ্যোক্তা মোসাদ্দেক হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই জমিগুলোর আলু আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই উঠতে শুরু করবে। জমি খুঁড়ে ফেলার ফলে কৃষকদের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। খনন কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে এই এলাকার প্রায় ১ কোটি টাকার আলু নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই কৃষক ও জাতির স্বার্থে খনন কার্যক্রমটি ২০ দিন অথবা এক মাস বন্ধ রাখার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি অনুরোধ রাখছি।’

এ ব্যাপারে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক খালেদ মোহাম্মদ জাকীকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এমনকি খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তার কোনো জবাব দেননি।

আরও পড়ুন:
বিচারক বদলি, পেছাল ঘোড়াঘাটের ইউএনও হত্যাচেষ্টা মামলার রায়
যুগ পর কাউন্সিলের তারিখে বিএনপি নেতাদের দৌড়ঝাঁপ
গৃহায়নের প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগ, অবরুদ্ধ কার্যালয়

মন্তব্য

বাংলাদেশ
What is the reason behind more than one lakh drop in SSC

এসএসসিতে এক লাখ বেশি ফেলের পেছনে কী কারণ

এসএসসিতে এক লাখ বেশি ফেলের পেছনে কী কারণ এসএসসির একটি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীরা। ফাইল ছবি
কয়েকটি বছরের ফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, গত বছরের পরিসংখ্যান বাদ দিলে এর আগের বছরগুলোর তুলনায় পাসের হারে এবার বড় ধরনের হেরফের নেই। বরং ২০১৯ বা ২০২০ সালের তুলনায় এবার পাসের হার খানিকটা বেশি।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয়া ১৯ লাখ ৯৪ হাজার ১৩৭ শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেনি ২ লাখ ৫০ হাজার ৫১৮ জন। অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এই সংখ্যা গত বছরের চেয়ে এক লাখেরও বেশি।

এ বছর ২ হাজার ৯৭৫টি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে, তবে ৫০টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়নি। গত বছর এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ১৮। ২০২১ সালে শতভাগ পাসের প্রতিষ্ঠান ছিল ৫ হাজার ৪৯৪।

প্রশ্ন উঠেছে, আগের বছরের তুলনায় এবার পাসের হারে কেন এত অবনতি? এটি ধারাবাহিক ঘটনা কি না, কী এর কারণ- তেমন প্রশ্নও উঠছে।

তবে কয়েকটি বছরের ফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, গত বছরের পরিসংখ্যান বাদ দিলে এর আগের বছরগুলোর তুলনায় পাসের হারে এবার বড় ধরনের হেরফের নেই। বরং ২০১৯ বা ২০২০ সালের তুলনায় এবার পাসের হার খানিকটা বেশি।

চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সামগ্রিকভাবে পাসের হার ৮৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ। অর্থাৎ এ বছর ১২ দশমিক ৫৬ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

আগের বছর ২০২১ সালে মাত্র ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেনি।

তবে ২০২০ সালে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৮২ দশমিক ৮৭ শতাংশ, অর্থাৎ সে বছর ১৭ দশমিক ১৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

তারও আগের বছর ২০১৯ সালে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থী ছিল ১৭ দশমিক ৮০ শতাংশ। চারটি বছরের ফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, গত বছরটিতেই কেবল আকস্মিকভাবে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ব্যাপক হারে কমে আসে।

এসএসসির ফলে বিশেষ উন্নতির পেছনে কী কারণ ছিল ২০২১ সালে?

শিক্ষা বোর্ড এবং বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকেরা বলছেন, করোনাকালীন বিশেষ পরিস্থিতি ২০২১ সালের পরীক্ষায় বিস্ময়কর পাসের হারে ভূমিকা রেখেছে। করোনা মহামারির অচলাবস্থার পর গত বছরের এসএসসিতে মাত্র তিনটি পরীক্ষা নেয়া হয়।

গত বছর বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, জীববিদ্যা/উচ্চতর গণিত বিষয়ে তিনটি পরীক্ষা হয়। মানবিকে ছিল ভূগোল ও পরিবেশ, বাংলাদেশের ইতিহাত ও বিশ্বসভ্যতা, পৌরনীতি ও নাগরিকতা/অর্থনীতির ওপর তিনটি পরীক্ষা। আর ব্যবসায়ে শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা হিসাববিজ্ঞান, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং এবং ব্যবসায়িক উদ্যোগ বিষয়ে পরীক্ষা দেয়।

অন্য বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে নম্বর যোগ হয় জেএসসি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে। ফলে অনেক চাপমুক্ত থেকে পরীক্ষা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। অকৃতকার্যের হারও ছিল অনেক কম। বিপরীতে এ বছর নয়টি বিষয়ে পরীক্ষা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

পরীক্ষাসংশ্লিষ্টরা বলছেন এ বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল কেমন হলো তা সঠিক পর্যালোচনা করতে তুলনাটি করতে হবে করোনা স্থবিরতা তৈরি হওয়ার আগের বছরগুলোর সঙ্গে। আর সে ক্ষেত্রে দেখা যায়, ২০২০ সাল বা ২০১৯ সালের তুলনায় পাসের হার এবার বেড়েছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান তপন কুমার সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের এবারের ফলের সঙ্গে ২০২১ সালের তুলনা করা উচিত হবে না। তুলনা করতে হলে ২০১৯ বা ২০২০ সালের সঙ্গে করা উচিত।

‘২০২১ সালে শিক্ষার্থীরা সুবিধা পেয়েছে বেশি। অর্ধেক নম্বরের ওপর পরীক্ষা ছিল। এবার কিন্তু তা ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘২০১৯ অথবা ২০২০ সালে পরীক্ষার্থীদের জন্য কোনো আলাদা সুযোগ ছিল না। করোনা পূর্ববর্তী সময়ের হওয়াতে সবগুলো বিষয়ের ওপর ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হয়েছিল।’

যশোর শিক্ষা বোর্ডের প্রধান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গতবার কম বিষয়ের কারণে পাসের হারও বেশি ছিল। শর্ট সিলেবাসে তারা বেশি সুযোগ পেয়েছে। এবার সিলেবাসও কম ছিল আবার পরীক্ষায় অপশন বেশি ছিল। তবে এবার যারা পাস করেছে তারা সবাই ভালো করেছে।’

রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরজাহান বেগম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যদি আমরা ফলাফল ও শিখনের ওপর গুরুত্ব দিই তবে আমাদের এবারের ফল ২০২০ সালের চেয়ে ভালো। ২০২১ সালে মাত্র তিনটি বিষয়ে অর্ধেক নম্বরের ওপর পরীক্ষা হলেও এবার নম্বর ও বিষয় বেড়েছে।’

বরিশাল জিলা স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক বিশ্বনাথ সাহা অবশ্য মনে করছেন এবারের ফলের ওপরেও করনাকালীন পরিস্থিতির প্রভাব রয়ে গেছে।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনার একটা প্রভাব থেকেই যাবে। যত সুযোগ দেয়া হোক না কেন একটা শিখন ঘাটতি থাকবে। অনেকেই সে সময় ঝরে গেছে, যারা ছিল তারাই ভালো করেছে। এটা ঠিক হতে কিছু বছর সময় লাগবে।’

প্রভাব ফেলেছে বন্যাও

এসএসসি পরীক্ষার সময়ে সিলেট বিভাগে বন্যা ওই অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। এবার সিলেট বোর্ডে সবচেয়ে কম ৭৮ দশমিক ৮২ শতাংশ শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সোমবার ফলের বিস্তারিত তুলে ধরার শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনিও এ বিষয়টি তোলেন।

পরীক্ষায় পাসের হার নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই সব শিক্ষার্থী পাস করবে। আমাদের সবকিছুই ঠিক ছিল, তবে একটা কারণে (বন্যা) সেটা হয়নি। সবকিছু বাদ দিয়েছি। নতুন করে আবার রুটিন দিয়েছি। এ কারণে কিন্তু শিক্ষার্থীর ওপর একটা চাপ পড়ে। একরকম প্রিপারেশন থাকে, সেটা ব্যাহত হয়।’

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন বোর্ডের রেজাল্ট কিন্তু একটা আলাদা আলাদা প্রভাব ফেলে। যশোর বোর্ডে যেমন ৯৫ ভাগ আছে, আবার কোথাও কোথাও ৭৮ ভাগ। বন্যার কারণে এটা হতেই পারে। অনেক স্কুলে সমস্যা হয়েছে, অনেক পরীক্ষার্থীকে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে হয়েছে।’

কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্য পাসের হার নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকবার এটা নিয়ে যে ব্যবস্থা নিই, এবারও সেটা নেব। আমরা কতটা সাপোর্ট দিয়ে থাকি আর কোথায় ঘাটতি আছে সেটা দেখতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘একটা লার্নিং গ্যাপ আছে। এটা সারা বিশ্বেই আছে। তবে এটা পরিবর্তন করতে হবে। আমাদের লার্নিং গ্যাপ করোনার সময় বাড়েনি। অনেক দেশে এটা অনেক বেড়েছে। এখানে সে সময় ৯৩ ভাগ শিক্ষার্থীর কাছে অ্যাসাইনমেন্টপদ্ধতি পৌঁছে গিয়েছিল, এতে তারা নিজেরাই শিখন ঘাটতি পূরণ করেছে।’

গত বছরের চেয়ে এবার বেড়েছে জিপিএ ফাইভ

গত বছরের চেয়ে এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার কমলেও জিপিএ ফাইভ বেড়েছে প্রায় ১ লাখ। চলতি বছর জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ শিক্ষার্থী। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮৩ হাজার ৩৪০ শিক্ষার্থী।

এবার সাধারণ বোর্ডে জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৭৬৩ শিক্ষার্থী। পাসের হার ৮৮ দশমিক ১০ শতাংশ।

দাখিলে জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ১৫ হাজার ৪৫৭ শিক্ষার্থী। পাসের হার ৮২ দশমিক ২২ শতাংশ।

কারিগরি বোর্ডে জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ১৮ হাজার ৬৫৫ শিক্ষার্থী। পাসের হার ৮৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে কমেছে পাসের হার, বেড়েছে জিপিএ ফাইভ
এসএসসির সাফল্যে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস
পাসের হারে সিলেট কেন তলানিতে
এবার পরীক্ষার্থী কমলেও ফেল বেড়েছে লাখের বেশি
পাসের হারে শীর্ষে যশোর, তলানিতে সিলেট

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The brick kiln is still running without permission from the Department of Environment

পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই, তবুও চলছে ইটের ভাটা

পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই, তবুও চলছে ইটের ভাটা খুলনা জেলা প্রশাসন থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ১৫৩টি ইটভাটার ৫৩টিতে ছাড়পত্র ছাড়াই ইট তৈরি করা হচ্ছে। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
ফুলতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিন বলেন, ‘পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না পাওয়া ভাটাগুলোকে আমরা জরিমানা করেছি। একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তারা ছাত্রপত্র জোগাড় করবে। না পারলে ভাটা লোকালয় থেকে সরিয়ে নেবে।’

খুলনা জেলা প্রশাসন থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ৯টি উপজেলায় ইটের ভাটা ১৫৩টি। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা কার্যালয় থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে মাত্র ১০০টি ইটের ভাটাকে। বাকি ৫৩টি ছাড়পত্র না পেয়েও ইট তৈরি করে যাচ্ছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, দাকোপ উপজেলায় একটি, বটিয়াঘাটায় চারটি, ফুলতলায় ১৩টি, দিঘলিয়ায় চারটি, রূপসায় ৬৮টি, তেরখাদায় ৭টি, কয়রায় তিনটি, ডুমুরিয়ায় ৪১টি ও পাইকগাছায় ১২টি ইটভাটা লাইসেন্সপ্রাপ্ত।

অন্যদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের তালিকা অনুযায়ী খুলনায় বৈধ ইটভাটা রূপসায় ৬৩টি, ডুমুরিয়ায় ২০টি, বটিয়াঘাটায় পাঁচটি, তেরখাদায় ৯টি ও দিঘলিয়ায় তিনটি। বাকিগুলোর ছাড়পত্র নেই।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনের ৯ ধারায় বলা হয়েছে, ‘যেকোনো ব্যক্তি নির্ধারিত পদ্ধতি এবং নির্ধারিত দরখাস্ত-ফি, দলিলাদি ও তথ্যাদি প্রদানসাপেক্ষে ইট প্রস্তুতকরণের লাইসেন্সের জন্য ইটভাটা যে জেলায় অবস্থিত সেই জেলার জেলা প্রশাসক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তার কাছে দরখাস্ত দাখিল করিতে পারিবেন। তবে শর্ত থাকে যে, পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের অধীন ইস্যুকৃত পরিবেশগত ছাড়পত্র ব্যতীত কোনো ব্যক্তি উক্তরূপ দরখাস্ত দাখিল করিতে পারিবেন না।’

পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই, তবুও চলছে ইটের ভাটা

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আইন অনুযায়ী আবাসিক, সংরক্ষিত বা বাণিজ্যিক এলাকা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা উপজেলা সদর, সরকারি বা ব্যক্তিমালিকানাধীন বন, অভয়ারণ্য, বাগান বা জলাভূমি, কৃষিজমি, প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা, ডিগ্রেডেড এয়ার শেডে ইটের ভাটা স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয় না। এ ছাড়া সরকারি বনাঞ্চলের সীমারেখা থেকে ২ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে ও বিশেষ কোনো স্থাপনা, রেলপথ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও ক্লিনিক, গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা অনুরূপ কোনো স্থান বা প্রতিষ্ঠান থেকে কমপক্ষে এক কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে কোনো ইট ভাটার ছাড়পত্র দেয়া হয় না।

খুলনার ফুলতলা উপজেলায় ইটের ভাটাগুলো লোকালয়ের ভেতরে হওয়ায় সেখানে কোনো ভাটাকে ছাড়পত্র প্রদান করা হয়নি। তবে ওই ভাটার মালিকরা এসব আমলে না নিয়ে বছরের পর ধরে ভাটা পরিচালনা করছেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই, তবুও চলছে ইটের ভাটা

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফুলতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিন বলেন, ‘পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না পাওয়া ভাটাগুলোকে আমরা জরিমানা করেছি। একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তারা ছাত্রপত্র জোগাড় করবেন। না পারলে ভাটা লোকালয় থেকে সরিয়ে নেবেন।’

অন্যদিকে নদীর জায়গা, কৃষিজমি বর্গা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে হওয়ায় ডুমুরিয়া উপজেলার ২১টি ইটের ভাটাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি।

পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই, তবুও চলছে ইটের ভাটা

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ আসিফ রহমান বলেন, ‘নদীর জায়গা দখল করায় কয়েকটি ভাটার ছাড়পত্র নেই। আমি এখানে নতুন এসেছি। ইটের ভাটার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান আছে। সব কিছুর কাগজপত্র দেখে অভিযান চালাতে সময় লাগবে।’

একইভাবে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৫০০ মিটারের মধ্যে ঘনবসতি এলাকায় রয়েছে কয়রার এবিএম নামের ভাটা। পাইকগাছায় কৃষি জমির মধ্যে এআরবি ব্রিকস, যমুনা ব্রিকস, এসকেবি ব্রিকসসহ ১২টি ভাটায় ইট পোড়ানো হচ্ছে, যাদের কোনো ছাড়পত্র নেই। এসব ভাটা থেকে নির্গত হচ্ছে পরিবেশগত দূষক, যা বায়ুমণ্ডলে মিশে স্বাস্থ্য, কৃষি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।

খুলনা অঞ্চলের নদ-নদী ও পরিবেশ নিয়ে ২৫ বছর ধরে গবেষণা করছেন গৌরাঙ্গ নন্দী।

তিনি বলেন, ‘ইটভাটা থেকে দূষিত গ্যাস ও তাপ আশপাশের জলাভূমি, জীবজন্তু, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে থাকে। অথচ নিয়ম না মেনে পরিবেশ ছাড়পত্র না নিয়ে যেখানে-সেখানে ইটভাটা গড়ে তোলা হয়েছে এবং হচ্ছে। কৃষিজমি নষ্ট, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ এমন প্রক্রিয়ায় ইটভাটাগুলোয় ইট তৈরি বন্ধ করতে হবে। আইনের তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত মাত্রায় কার্বন ও সালফার নিঃসরণ, বসতবাড়ি, কৃষিজমি, টিলাসংলগ্ন সমতলে ইটভাটা স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি মাটির ইটের বিকল্প হিসেবে যেসব উপকরণ ও পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়েছে, তার ব্যবহার বাড়াতে হবে।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আইন মোতাবেক প্রতি তিন বছর পর পর জেলা প্রশাসন থেকে ইটভাটার লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়। এ ছাড়া প্রতি বছর পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিতে হয়। যেগুলোকে ছাড়পত্র দেওয়া হয় না, তাদের এক বছর সময় দেওয়া হয় ভাটা সরিয়ে নেওয়ার জন্য। এর বাইরে যেসব ভাটা ছাড়পত্র ছাড়া চলছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
মধুমতিতে মিলে প্রবাহ ফিরে পেতে যাচ্ছে পাঁচুড়িয়া খাল
১৫ হাজার কি.মি. হেঁটে যে বার্তা নিয়ে এলেন যুবক
ইটভাটা বন্ধ করতেই হবে: মেয়র আতিক
বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে চাই পরিবেশবান্ধব শিল্প
চেয়ারম্যানের ইটভাটায় সিসা কারখানা, বাড়ছে রোগব্যাধি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
What is going to happen in Dhaka on December 10?

১০ ডিসেম্বর কী হতে যাচ্ছে ঢাকায়?

১০ ডিসেম্বর কী হতে যাচ্ছে ঢাকায়? বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমানের একটি বক্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ১০ ডিসেম্বর আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। এর পর দিনটিকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি উত্তেজনাকর বক্তব্য আসে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, অন্যান্য বিএনপি নেতাসহ প্রগতিশীল ও বামপন্থি নেতাদের কাছ থেকে। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
একদিকে বিএনপি নেতাদের হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কঠোর বার্তা ১০ ডিসেম্বরকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। বিএনপি বলছে, এ দিন তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা ও এটি মেনে নেয়ার আলটিমেটাম দেবে। দিনটি নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকেও প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে হঠাৎ করেই আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে ১০ ডিসেম্বরের দিনটি। প্রায় দেড় যুগ ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা দল বিএনপি এ দিন তাদের ধারাবাহিক বিভাগীয় সমাবেশের ইতি টানবে ঢাকায় সমাবেশের মধ্য দিয়ে।

১০ ডিসেম্বরের এই সমাবেশে বিপুল লোকসমাগম করতে চায় বিএনপি। এ নিয়ে সরকারি দলের পক্ষ থেকেও পাড়া-মহল্লায় সতর্ক প্রহরাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি দেয়া হচ্ছে।

গত ১২ অক্টোবর চট্টগ্রাম থেকে শুরু হওয়া বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে নেতা-কর্মীদের বিপুল সমাগম ঘটে, যা দলটির এত দিনকার রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলোর তুলনায় ছিল ব্যতিক্রম। এরপর ২২ অক্টোবর খুলনা, ২৯ অক্টোবর রংপুর, ৫ নভেম্বর বরিশাল, ১২ নভেম্বর ফরিদপুর, ১৯ নভেম্বর সিলেটে ও ২৬ নভেম্বর কুমিল্লায় গণসমাবেশ করে বিএনপি। আগামী ৩ ডিসেম্বর রাজশাহীতে গণসমাবেশের পর ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় হবে মহাসমাবেশ।

দিনটি উপলক্ষে একদিকে বিএনপি নেতাদের হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কঠোর বার্তায় আমানউল্লাহ আমান বলেন, ‘১০ ডিসেম্বর থেকে দেশ চলবে খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের নির্দেশে।’

এ সমাবেশকে ঘিরে রাজধানীতে আওয়ামী লীগের পাল্টা কর্মসূচিসহ সতর্ক পাহারা বসানোর পরিকল্পনায় দিনটি ভিন্ন মাত্রা পাচ্ছে। অনেকে রাজনৈতিক সংঘাতের শঙ্কাও করছেন।

ফলে ১০ ডিসেম্বর এলেই ঢাকায় কী হতে যাচ্ছে, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল দেখা দিয়েছে।

১০ ডিসেম্বর তারা কী করতে যাচ্ছেন, জানতে চাওয়া হলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঢাকায় সমাবেশ হবে, যেমনটা হয়েছে চট্টগ্রামে, যেমনটা হয়েছে সিলেটে। বিস্তারিত পলিসির অন্তর্ভুক্ত। সময়মতো জানতে পারবেন।’

দলীয় সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন করবে বিএনপি। সেখানে ১০ ডিসেম্বর ঢাকার গণসমাবেশ নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করবে বিএনপি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক সিনিয়র নেতা বলেন, ‘সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবেই হবে। তবে ঢাকা দেশের মূল কেন্দ্র। তাই এটা নিয়ে আওয়াজও বেশি। আর বাকি বিভাগে জনস্রোত দেখে সরকার ভয় পেয়েছে। তাদের মন্ত্রী-আমলারাই এটাকে রণক্ষেত্র বানিয়ে তুলছে। তবে বাধা এলে বিএনপি বসে থাকবে না, পিছুও হটবে না।’

পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি

খালেদা জিয়ার নির্দেশে দেশ চলা সংক্রান্ত আমানউল্লাহ আমানের বক্তব্যের ধারাবাহিক সুর শোনা যায় দলটির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির কণ্ঠে। এ্যানি বলেন, ‘১০ ডিসেম্বর থেকেই সরকার আর কাজ করবে না। দেশ চলবে বিএনপির শীর্ষ নেতার কথায়।’

পরদিন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ‘১০ ডিসেম্বর ঢাকায় সমাবেশ হবে ‘আটলান্টিক মহাসাগরের’ মতো। এই সমাবেশে খালেদা জিয়া যাবেন।’

এর আগে গত ২ অক্টোবর বিএনপির সঙ্গে সংলাপ শেষে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘চমক আছে সামনে।’

বিএনপি ও তার সমমনা দলের নেতাদের এসব বক্তব্যকে সামনে এনে কথা বলা শুরু করেন ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী-নেতারা। ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকার প্রবেশমুখে সমাবেশ এবং পাড়া-মহল্লায় সতর্ক পাহারায় থাকার ঘোষণা দেয়া হয় ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে।

‘১০ ডিসেম্বরের পর বিএনপিকে লালকার্ড দেখানো হবে’ বলে হুঁশিয়ার করে দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। ৩১ অক্টেবর গাজীপুরে যুব মহিলা লীগের সম্মেলনে এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ৪ নভেম্বর এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘১০ ডিসেম্বর বিএনপির আন্দোলনের পতন ঘণ্টা বাজবে।’

৫ নভেম্বর রাজধানীর বাড্ডায় আরেক অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপিকে আর ছাড় দেয়া হবে না। ডিসেম্বরে খেলা হবে, প্রস্তুত হয়ে যান।’

৩১ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে এক সভায় যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, ‘বিএনপিকে মোকাবিলা করার জন্য যুবলীগ প্রস্তুত আছে। আগামী ১০ ডিসেম্বর রাজপথে থাকবে যুবলীগ।’

আওয়ামী লীগের এমন কঠোর হুঁশিয়ারি প্রসঙ্গে আমানউল্লাহ আমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কে কী বলল, সেটা এখন আমরা ভাবছি না, আমলে নিচ্ছি না। আমাদের আট বিভাগে ইতিমধ্যে সমাবেশ হয়ে গেছে। এগুলোতে আওয়ামী লীগ নানাভাবে বাধা দিয়েছে। গণপরিবহন বন্ধ করে দেয়া থেকে শুরু করে গ্রেপ্তার, মিথ্যা মামলাসহ সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে। কিন্তু এসব উপেক্ষা করেই প্রতিটি বিভাগীয় সমাবেশে জনস্রোত দেখিয়েছি। ঢাকার সমাবেশের আগেও এমন নানা চাল চালতে পারেন। তবে সেসব উপেক্ষা করেই নয়াপল্টনে লাখো মানুষের সমাগম হবে।’

তবে ঢাকায় নয়াপল্টনে সমাবেশের অনুমোদন এখনো পায়নি দলটি। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, বিএনপি চাইলে তাদের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ করার অনুমতি দেয়া হবে।

নয়াপল্টনে সমাবেশের অনুমতি না পেলে কী করবেন জানতে চাইলে দলটির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘আমরা ডিএমপি কমিশনারকে সব কিছু বলে এসেছি। অনেক কিছু স্মরণ করিয়ে দিয়েছি। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দেশের জন্য অবদানের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়ে আসছি। আশা করি সমাবেশের অনুমতি দিবেন। কোনো রাজনৈতিক দলের হুমকি, হুঁশিয়ারি আমরা তোয়াক্কা করি না।’

অনুমিত না পেলেও সমাবেশ করবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই অনুমতি দেবে। আমরা সমাবেশ করব। সমাবেশে যাতে কেউ বিশৃঙ্খলা করতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশের সার্বিক সহযোগিতা চেয়েছি।’

বিএনপি কী করতে চায়?

১০ ডিসেম্বরের পরিকল্পনা নিয়ে বিএনপির সিনিয়র নেতা থেকে তৃণমূল পর্যায়ে একাধিক নেতা-কর্মীর সঙ্গে কথা বলেছে নিউজবাংলা।

বিএনপির নেতারা বলছেন, সারা দেশে বিভাগীয় পর্যায়ে যে গণসমাবেশ তারা করেছেন, তারই ধারাবাহিকতায় ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় গণসমাবেশ হবে। ৯টি বিভাগে সমাবেশের পর ঢাকায় তাদের শেষ গণসমাবেশ। এই সমাবেশ ঘিরে ঢাকা দখল বা অবরুদ্ধ করে সরকার পতনের ডাক দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। শুধু বড় জনসমাবেশ করাই তাদের লক্ষ্য। একই সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায়ে আলটিমেটাম ও যুগপৎ আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা হবে বলেও জানা যায়।

গত ১ অক্টোবর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সভাগুলোতে দলের ১০ সাংগঠনিক বিভাগের নেতারা দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে আন্দোলনের ধরন ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত পরামর্শ দিয়েছেন।

এসব গণসমাবেশে বিএনপির স্থানীয় নেতারা দাবি আদায়ে কঠোর কর্মসূচি চেয়েছেন। সে ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে কঠোর হওয়ার প্রস্তাব করেছেন তারা। পাশাপাশি ইস্যু হিসেবে জনসম্পৃক্ত বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেওয়ার জন্য শীর্ষ নেতৃত্বকে পরামর্শ দেন বিভাগের নেতারা।

বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, প্রস্তাবিত কর্মসূচির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে: অবরোধ, লংমার্চ, জেলা থেকে জেলায় রোড মার্চ, ঢাকা থেকে বিভাগীয় শহরে রোড মার্চ, ৬৮ হাজার গ্রামে একই দিন গণমিছিল।

নেতদের প্রস্তাবে আরও রয়েছে, ১০ ডিসেম্বর থেকে লাগাতার কর্মসূচি প্রদান এবং সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি।

হরতাল-অবরোধ নয়, জনস্রোত দেখানোই লক্ষ্য

বিএনপির গত দুই মাসের কর্মসূচিগুলোতে দলের নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত দেখা গেছে। সভা-সমাবেশগুলোতে উপস্থিতি দিন দিন বেড়েছে। আবার দলীয় নেতা-কর্মীর বাইরে সমাবেশস্থলে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে, শহরকেন্দ্রিক সমাবেশগুলোতে রিকশাচালক থেকে শুরু করে সমাজের নিম্নস্তরের লোকজনের উপস্থিতি ছিল। বিএনপির সাম্প্রতিক কর্মসূচিতে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস এবং তেল-গ্যাস-জ্বালানির দাম কমানোর দাবি জানানো হয়।

১০ ডিসেম্বরের মহাসমাবেশকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত সকল থানা ও ওয়ার্ডসহ সারা দেশ থেকে সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের এ মহাসমাবেশে জড়ো করে বড় ধরনের শোডাউনের চেষ্টা করছে দলটি।

সমাবেশে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী জড়ো করতে দলের জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। কেন্দ্র থেকে শুরু করে সারা দেশের সকল স্তরের বিএনপি নেতা-কর্মী নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছে। কীভাবে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সমর্থককে নিজ নিজ এলাকা থেকে মহাসমাবেশে উপস্থিত করানো যায়, সেই পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিচ্ছেন শীর্ষ নেতারা। এ জন্য আগেই দলটির সর্বস্তরে প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়েছে। লন্ডন থেকে তারেক রহমানও বিভিন্ন স্তরের নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।

বিএনপি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, তারা এবার এমনভাবে আন্দোলন এগিয়ে নিতে চায়, যাতে সরকার চাপে পড়ে তাদের দাবি মেনে নেয়। তাই ২০১৩ সালের মতো এবারো তৃণমূল থেকে আন্দোলন জোরদারের কৌশল নিয়েছে দলটি।

ওই বছর ২৯ ডিসেম্বর যেভাবে সারা দেশ থেকে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ঢাকায় জড়ো করতে ‘রোড ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল দলটি, একইভাবে তারা এবারো ১০ ডিসেম্বর ঢাকার মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সারা দেশ থেকে নেতা-কর্মীদের জড়ো করতে চায়।

সূত্র জানায়, মহাসমাবেশের কয়েক দিন আগে ঢাকার বাইরে থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী জড়ো করতে ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট দলীয় নেতাদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপি হাইকমান্ড। আগে আসা নেতাকর্মীদের মধ্যে যাদের ঢাকায় কোনো আত্মীয়স্বজন নেই, তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে। এ জন্য রাজধানীর বিভিন্ন হোটেল, কমিউনিটি সেন্টার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও নির্মীয়মাণ বিভিন্ন ভবন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আর রাজধানীতে বসবাসকারী বিএনপি নেতাদের বলা হয়েছে, নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকা থেকে আসা নেতাকর্মীদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতে।

দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা এখন অব্দি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করেছি। ঢাকার সমাবেশেও আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে চাই। জনগণের দাবিকে সামনে রেখেই আমাদের এসব কর্মসূচি। আর সেদিন আমাদের নতুন কর্মসূচি আসবে।’

নতুন কর্মসূচি কী আসবে—জানতে চাইলে দুদু বলেন, ‘আমাদের দলের স্থায়ী কমিটি এ বিষয়ে বৈঠক করবে। তারা আলোচনার মাধ্যমে কর্মসূচি নির্ধারণ করবে। তবে এটা বলা যায়, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি আসবে; যদি সরকার কর্মসূচিকে ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে না দেয়।’

তবে সরকার যদি বাধা সৃষ্টি করে তবে তা মোকাবিলার জন্যেও প্রস্তুতি নিয়ে রাখছেন বলে জানান আরেক বিএনপি সিনিয়র নেতা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ নেতা তিনি বলেন, ‘পথে-ঘাটে বাধা দিবে? আটকায় রাখবে। আমরা তো আর তামাশা দেখব না। বাধা উপেক্ষা করতে হবে। কেমন বাধা আসবে, সেটা পরিস্থিতি বিবেচনায় স্টেপ নিব। আর সে নিয়েও আমরা আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আলটিমেটাম

আর এই মহাসমাবেশ থেকেই নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায়ে সরকারকে আলটিমেটাম দেবে দলটি। আলটিমেটাম অনুসারে দাবি না মানলে রাজপথে দুর্বার আন্দোলনের ঘোষণাও দেওয়া হবে। এ ছাড়া এই মহাসমাবেশ কর্মসূচি পালনের মাধ্যমেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মাঠ দখলের চেষ্টা করবে বিএনপি।

১০ ডিসেম্বরের মহাসমাবেশ থেকে কী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে এবং এই সমাবেশ থেকে দলের নেতাকর্মী, দেশের সাধারণ মানুষ ও সরকারকে বিএনপি কী বার্তা দেবে, তা ঠিক করতে বিএনপির সিনিয়র নেতারা এখনও কাজ করছেন বলে সূত্র জানায়। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করতে ১০ ডিসেম্বরের মহাসমাবেশ থেকে মূলত একটি দাবিই উপস্থাপন করবে বিএনপি। আর এটি হচ্ছে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন।

এ ব্যাপারে সরকারকে আলটিমেটাম দেবে দলটি। আর এ আলটিমেটামের পক্ষে জনমত বৃদ্ধি করতে ও রাজপথে শক্তি প্রদর্শন করতে নতুন করে আরও কিছু ধারাবাহিক কর্মসূচি দেওয়ার চিন্তা করছে দলটির হাইকমান্ড।

গত মঙ্গলবার দলীয় এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, ১০ ডিসেম্বর থেকে এক দফার আন্দোলন শুরু হবে। এই ‘এক দফার আন্দোলন’ বলতে তিনি নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা বুঝিয়েছেন, যে সরকারের রূপরেখা মহাসমাবেশ থেকে ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা আন্দোলনে থাকলেও এখনও আসল ঘোষণা দেইনি, আসল ঘোষণা দেব ১০ ডিসেম্বর।’

এর আগে আরেক দলীয় কর্মসূচি পালন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপি মহাসচিব জানিয়েছিলেন, সময়মতো নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা জানিয়ে দেওয়া হবে। ১৯৯৬ সালের সংবিধানের আলোকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা তৈরি করছে বিএনপি।

তিনি আরও বলেন, ‘ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ আসনে বিজয়ী হয়ে ১৯৯৬ সালের ২৭ মার্চ নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনে সংবিধানের সংশোধনী পাস করে। তাই আমাদের রূপরেখা তৈরি হবে সংবিধানের ওই সংশোধনীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার যেমন ছিল, তারই আলোকে।’

যুগপৎ আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা

১০ ডিসেম্বররের মহাসমাবেশ থেকে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপির পক্ষ থেকে সরকারকে আলটিমেটাম দেওয়ার পর সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোও যুগপৎ আন্দোলন শুরু করবে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে টার্গেট করে সরকারকে চাপে ফেলতে এবার আটঘাট বেঁধে মাঠে নামতে চায় বিএনপির নেতৃত্বে ডান, বাম ও মধ্যপন্থি বেশকটি রাজনৈতিক দল। এ জন্য তাদের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, যুগপৎ এ আন্দোলন দেশের সব রাজনৈতিক দলের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও কৌশলগত কারণে আপাতত ফ্রন্টলাইনে থাকছে না জামায়াত।

বিএনপির সঙ্গে গোপন সমঝোতার ভিত্তিতে জামায়াত এ কৌশল নিয়েছে বলে সূত্র জানায়। যুগপৎ আন্দোলনে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি ও তাদের সমমনা দলগুলো।

এরই প্রস্তুতি হিসেবে ২ অক্টোবর থেকে শুরু হয় সমমনা দলগুলোর সঙ্গে বিএনপির দ্বিতীয় দফা সংলাপ। এ পর্যন্ত প্রায় ২০টি দলের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপ করেছে বিএনপি। এর আগে গত ২৪ মে থেকে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রথম দফা সংলাপ শুরু করে দলটি। প্রথম দফায় ২৩টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলের সিনিয়র নেতারা।

বিএনপির নেতারা বলছেন, তাদের লক্ষ্য ঢাকার সমাবেশের পর দ্বিতীয় ধাপের আন্দোলনে যাওয়া। এর মধ্যে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের কর্মকৌশলও ঠিক করা হবে। নির্দলীয় সরকারের রূপরেখা এবং নির্বাচনের পরে জাতীয় সরকারের কাঠামোও ঘোষণা করা হবে। মূলত ঢাকার সমাবেশ থেকেই এক দফার আন্দোলনে নামার ঘোষণা আসতে পারে বলে বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘১০ তারিখের পর জানতে পারবেন। সত্য মিথ্যা সামনে আসবে তখন। এখন আমরা খুবই ব্যস্ত সময় পার করছি।’

জামায়াতের সাথে জোট নিয়ে জানতে চাইলে ২০ দলীয় জোটের এই সমন্বয়ক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এত ব্যস্ততার মধ্যে এসব নিয়ে ভাবার সময় নেই। আমাদের দাবির কাতারে যারা এসে দাঁড়াবে, আমরা তাদের ওয়েলকাম জানাব।’

আরও পড়ুন:
ঝামেলা না করে নয়াপল্টন দিন: পুলিশকে ফখরুল
‘খুবই বিপদগ্রস্ত’ অর্থনীতিতে উদ্বিগ্ন দুদু
১০ ডিসেম্বরের ভয়ে ব্যাগ গোছাচ্ছেন আ.লীগ নেতারা: দাবি বিএনপির
খালেদা জিয়ার কাছে মাফ চান: আ.লীগকে বিএনপি নেতা

মন্তব্য

p
উপরে