× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Sanjida Rupana returned home with blossoming love
hear-news
player
google_news print-icon

ফুলেল ভালোবাসায় বাড়ি ফিরলেন সানজিদা-রূপনারা

ফুলেল-ভালোবাসায়-বাড়ি-ফিরলেন-সানজিদা-রূপনারা-
সাফ জয়ী নারী ফুটবল দলের সদস্যরা বৃহস্পতিবার নিজ নিজ জেলায় ফিরেছেন। তাদের ফুলেল সংবর্ধনা জানানো হয় ময়মনসিংহ, রাঙ্গামাটি, রংপুর ও মাগুরায়।

‘আগেও ফুটবলে অনেক জয় পেয়েছি। কিন্তু সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে জয়লাভ করে মানুষের যে ভালোবাসা পেয়েছি তা এর আগে কখনও পাইনি। মানুষের এই ভালোবাসাকে পুঁজি করে সামনের দিনে আরও ভালো কিছু করার দায়িত্ব বেড়ে গেছে। দেশবাসী যদি আমাদের সঙ্গে থাকেন, আমরা সামনের দিনে আরও বড় জয় এনে দিতে পারবো।’

নিজ জেলা ময়মনসিংহে ফিরে বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী নারী ফুটবল দলের মিডফিল্ডার সানজিদা আক্তার।

ওই দলে সানজিদাসহ আট ফুটবলারের বাড়ি ময়মনসিংহের কলসিন্দুরে। তারা হলেন, সানজিদা আক্তার, মারিয়া মান্দা, শিউলি আজিম, তহুরা খাতুন, শামসুন্নাহার সিনিয়র, শামসুন্নাহার জুনিয়র, সাজেদা খাতুন ও মার্জিয়া আক্তার।

তাদের বরণ করে নিতে বৃহস্পতিবার এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন, জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

ঢাকা থেকে ময়মনসিংহের চুরখাই এলাকায় বৃহস্পতিবার সকালেই পৌঁছান আট ফটবলাররা। তাদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এহতেশামুল আলম।

সেখান থেকে সজ্জিত পিকআপে ময়মনসিংহ শহরের দিকে যাত্রা করেন তারা। রাস্তার দুই পাশে শত শত মানুষ তাদের স্বাগত জানায়। ময়মনসিংহ শহর ঘুরিয়ে তাদের নেয়া হয় সার্কিট হাউসে।

ফুলেল ভালোবাসায় বাড়ি ফিরলেন সানজিদা-রূপনারা

সেখানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, আমাদেরকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না। বঙ্গবন্ধুর সেই বক্তব্য আবারও প্রমাণ করেছে এই ফুটবলাররা। তাদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারেনি। তারা দক্ষিণ এশিয়ায় সাফ গেমসের ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি ছিনিয়ে এনেছে। এই ফুটবলাররাই একদিন বিশ্বকাপ জয় করে আনবে।’

একই দিন নিজ নিজ জেলায় ফিরে জাঁকজমক সংবর্ধনা পান দলটির রংপুর, মাগুরা ও রাঙ্গামাটির ফুটবলাররাও।

রংপুরে ফিরে ফুলেল সংবর্ধনা পান সাফ জয়ী দলের সিরাত জাহান স্বপ্না, স্বপ্না রানী ও সোহাগী কিসকু।

এদের মধ্যে সিরাতের বাড়ি রংপুরে আর স্বপ্না ও সোহাগীর বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ে।

তারা তিনজন বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা থেকে বিমানে করে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নামেন। সেখানে তাদের বরণ করেন বিভাগীয় ও জেলা ক্রীড়া সংস্থা, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা গাড়িতে করে তাদের রংপুর নগরী প্রদক্ষিণ করানো হয়।

ফুলেল ভালোবাসায় বাড়ি ফিরলেন সানজিদা-রূপনারা

এ সময় সিরাত জাহান স্বপ্না বলেন, ‘আমি এই রংপুরের মেয়ে। আমার আজকে সবচেয়ে আনন্দের দিন। আমার জন্য এত মানুষ অপেক্ষা করছে। আমি গর্বিত।

‘আমি সামনে আরও এগিয়ে যেতে চাই। বিশ্বকাপ আমরা জয় করতে চাই।’

বিদেশি ক্লাবেও খেলতে চান জানিয়ে সিরাত বলেন, ‘বিদেশি ক্লাবে খেলার জন্য মৌখিকভাবে ৭ জনকে নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে আমার নামও রয়েছে। আমিও বিদেশি ক্লাবে খেলব, এটা জেনে আমার খুব ভালো লাগছে।’

নানা বাধা ডিঙিয়ে পাওয়া এই সাফল্য ধরে রাখতে চান সিরাত।

তিনি বলেন, ‘যখন আমি প্রথম ফুটবল খেলা শুরু করেছিলাম, তখন এলাকার অনেকে বাধা সৃষ্টি করেছিল। আমাদের সমাজের পুরুষেরা চায় মেয়েরা একটু পিছিয়ে থাক। পরিবর্তন শুরু হয়েছে। সামনে আমাদের আরও ভালো করতে হবে।’

সাফ জয়ী স্বপ্না রানী রায় বলেন, ‘দেশের সবাই আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। আরও ভালো কিছু করতে সবার সাপোর্ট চাই।

‘হাফ প্যান্ট পরে মেয়েরা ফুটবল খেলছে বলে গ্রামের মানুষেরা কটূক্তি করেছে। এতেও আমরা থেমে থাকিনি। স্কুল পর্যায়ে খেলার সময় স্যারেরা অনেক সাপোর্ট করেছেন। এখন সবাই উৎসাহ দিচ্ছে।’

ফুটবলার সোহাগী কিসকু বলেন, ‘আমরা চাই গ্রামের নারী ফুটবলাররা যেন গ্রামে খেলার সুযোগ পায়।’

বৃহস্পতিবার রাঙ্গামাটি ফিরে দিনভর সংবর্ধনা কুড়িয়েছেন সাফ জয়ী দলের রূপনা চাকমা, ঋতুপর্ণা চাকমা, আনাই মগিনী, আনুচিং মগিনী ও মনিকা চাকমা।

তাদের মধ্যে আনাই, আনুচিং ও মনিকার বাড়ি খাগড়াছড়িতে, রূপনা ও ঋতুপর্ণার বাড়ি রাঙ্গামাটিতে। তারা পাঁচজনই পড়াশোনা করেছেন ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে।

বৃহস্পতিবার সকালে তারা নিজেদের স্কুলে যান। যাওয়ার পথেই ঘাগড়া-চট্টগ্রাম প্রধান সড়কে আনন্দ শোভাযাত্রা ও আতশবাজি জ্বালিয়ে তাদের বরণ করে নেয় শিক্ষার্থীরা।

ফুলেল ভালোবাসায় বাড়ি ফিরলেন সানজিদা-রূপনারা

স্কুলে পৌঁছালে ফুটবলাদের নিয়ে কেট কাটেন প্রধান শিক্ষক চন্দ্রা দেওয়ান। তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত খেলোয়ারদের পাশে জেলা প্রশাসনকে পেয়েছি। তবে এখনও পর্যন্ত ফুটবল ফেডারেশন থেকে সে ধরনের কোনো সহযোগিতা পাইনি।

‘সহযোগিতা না পেলেও শান্তি মনি চাকমা ও বীরসেন চাকমাসহ আমরা সবাই তাদের প্রতিভাকে হারিয়ে যেতে দেইনি। শুধু বীরসেন চাকমা ও শান্তি মনি চাকমা নন, এই পাঁচ তারকাদের গড়ে তোলার পেছনে অনেকের অবদান রয়েছে।’

স্কুল থেকে জেলা প্রশাসন ও পার্বত্য জেলা পরিষদের আয়োজনে রাঙ্গামাটি মারী স্টেডিয়ামের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যান ফুটবলাররা।

সেখানে ঋতুপর্ণা বলেন, ‘ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের কারণে আজ আমি বাংলাদেশের মহিলা ফুটবল দলের একজন হয়ে খেলছি। ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয় যদি আমাদের পৃষ্ঠপোষকতা না করত, তাহলে আমরা বঙ্গমাতা ফুটবল খেলার পরে হারিয়ে যেতাম।

‘২০১১ বঙ্গমাতা চ্যাম্পিয়নশিপ হয়েছিলাম। সেই ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয় এখনও জাতীয়করণ হয়নি। তাই মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন, এ ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয়টি যেন জাতীয়করণ করে দেন।’

এই অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে পাঁচজনকে ২ লাখ টাকা করে এবং তাদের দুই কোচ বীরসেন চাকমা ও শান্তি মনি চাকমাকে ৫০ হাজার টাকা করে পুরষ্কৃত করা হয়। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা ফুটবলারদের ৫০ হাজার টাকা ও দুই কোচকে ২৫ হাজার টাকা করে পুরস্কার দেন।

এর আগে বুধবার রাতে এই ফুটবলারদের মশাল জ্বালিয়ে বরণ করে নেয় ঋতুপূর্ণার গ্রামের বাড়ি কাউখালী উপজেলার মগাছড়ির বাসিন্দারা।

এদিন সাফ জয়ী সাথী বিশ্বাস ও ইতি রানীও ফিরেছেন নিজ জেলা মাগুরায়। সেখানে বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের ফুল দিয়ে বরণ করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। তাদের দুজনকে প্রাইভেটকারে করে নেয়া হয় নিজ নিজ গ্রামে।

দুই ফুটবলারকে অভিনন্দন জানাতে রাস্তার দুপাশে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে ভিড় জমায় স্থানীয়রা।

ফুলেল ভালোবাসায় বাড়ি ফিরলেন সানজিদা-রূপনারা

এ সময় সাথী আক্তার বলেন, ‘বাংলাদেশে আসার পর থেকে আমাদের সব মেয়েরাই অভিভূত। এমন সংবর্ধনা আর ভালোবাসা পাব তা ভাবতেও পারিনি।

‘দেশে আসার পর থেকে বিভিন্ন জায়গায় সংবর্ধনায় কয়েকদিন কেটে গেল। তবে আমার মন পড়ে ছিল আমার বাড়ি শ্রীপুরের গোয়ালদহে। আজ আসতে পেরে শান্তি লাগছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার জন্য এত মানুষ রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেছে। এটা সত্যি খুব আনন্দের যে আমরা মেয়েরা কিছু একটা করেছি যা সবাইকে গর্বিত করেছে।’

ফুটবলার ইতি বলেন, ‘আমি এসএসসি পরীক্ষা না দিয়ে খেলায় অংশ নিয়েছি। তার ফল এত দারুণ। এত মানুষ আমাদের সম্মাননা দিয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’

আরও পড়ুন:
সাফজয়ীদের সংবর্ধনা, কোটি টাকা দেবে সেনাবাহিনী
ট্রফি উঁচিয়ে নিজ শহরে সাবিনা
খেলোয়াড়দের বাড়ির ছাদ তৈরির আহ্বান শিরিনের
সাফজয়ী আঁখির বাড়িতে পুলিশ: এসআই-কনস্টেবল প্রত্যাহার
বেতন বাড়ছে সাবিনা-কৃষ্ণাদের

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Saudi Arabias goal against Mexico knocks out Poland

মেক্সিকোর বিপক্ষে সৌদির গোলে নকআউটে পোল্যান্ড

মেক্সিকোর বিপক্ষে সৌদির গোলে নকআউটে পোল্যান্ড মেক্সিকোর বিপক্ষে দলের একমাত্র গোল করেন সৌদি আরবের অধিনায়ক সালেম আল-দাওসারি। ছবি: টুইটার
অতিরিক্ত সময়ের শেষ মিনিটে গোল করে পোল্যান্ডের সব দুশ্চিন্তার অবসান ঘটান সৌদি আরবের অধিনায়ক সালেম আল-দাওসারি। ওই গোলে মেক্সিকোর বিপক্ষে হার এড়াতে না পারলেও নিশ্চিত হয়ে যায় পোল্যান্ডের চেয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছে মেক্সিকানরা।

বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটনের জন্ম দিয়ে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করে সৌদি আরব। তবে তাদের সেই প্রতাপ পরের দুই ম্যাচে বজায় থাকেনি।

পোল্যান্ডের কাছে ২-০ গোলে হারের পর নিজেদের শেষ ম্যাচে মেক্সিকোর কাছে হেরে সি-গ্রুপের তলানিতে থেকেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছেন গ্রিন ফ্যালকনরা।

তবে বিদায় নেয়ার আগে আদতে তারা সুবিধা করে দিয়েছে পোল্যান্ডের। এক কথায় সৌদি আরবের জন্যই নিশ্চিত হয়ে যায় পোলিশদের শেষ ষোলো।

আর্জেন্টিনার কাছে ২-০ গোলে হারের পর পোল্যান্ড তাকিয়ে ছিল মেক্সিকো ম্যাচের দিকে। মেক্সিকোর বিপক্ষে সৌদি আরব পিছিয়ে ছিল ২-০ গোলে।

সে সময় পয়েন্ট, হেড টু-হেড ও গোল পার্থক্যে মেক্সিকো ও পোল্যান্ড সমানে-সমান। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী ‘ফেয়ার প্লে’ অর্থাৎ গ্রুপপর্বের ম্যাচে হলুদ ও লাল-কার্ড কম পেয়ে এগিয়ে নকআউটে যাওয়ার জন্যে ফেভারিট পোল্যান্ড।

পোল্যান্ডের ম্যাচ শেষ হওয়ার সময় মেক্সিকো ম্যাচে চলছিল অতিরিক্ত সময়। সেই অতিরিক্ত সময়ের শেষ মিনিটে গোল করে পোল্যান্ডের সব দুশ্চিন্তার অবসান ঘটান সৌদি আরবের অধিনায়ক সালেম আল-দাওসারি।

ওই গোলে মেক্সিকোর বিপক্ষে হার এড়াতে না পারলেও নিশ্চিত হয়ে যায় পোল্যান্ডের চেয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছে মেক্সিকানরা।

ফলে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে আর্জেন্টিনার সঙ্গে নক আউট নিশ্চিত করে রবার্ট লেওয়ানডোভস্কির পোল্যান্ড। গোলের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আর্জেন্টিনার ম্যাচ শেষে ড্রেসিং রুমে ফিরতে থাকা পোল্যান্ড দল উদযাপন শুরু করে।

অন্যদিকে বীরবিক্রমে লড়াই করে ম্যাচ জেতার পরও মেক্সিকোকে বিদায় নিতে হয় গ্রুপ পর্ব থেকে। ম্যাচ জয়ের পরও উৎসবে ভাটা পড়ে তাদের।

রোববার নক আউট রাউন্ডে পোল্যান্ড মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের।

আরও পড়ুন:
মেসির পেনাল্টি মিসের পরও হেসেখেলে নকআউটে আর্জেন্টিনা
প্রথমার্ধে শেজনি দেয়াল ভাঙতে পারল না আর্জেন্টিনা
পোল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে ৪ পরিবর্তন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Despite Messis penalty miss Argentina is knocked out

মেসির পেনাল্টি মিসের পরও হেসেখেলে নকআউটে আর্জেন্টিনা

মেসির পেনাল্টি মিসের পরও হেসেখেলে নকআউটে আর্জেন্টিনা দ্বিতীয় গোলের পর আর্জেন্টিনার দলের উল্লাস। ছবি: টুইটার
পোল্যান্ডকে পাত্তা না দিয়েই ২-০ গোলে ম্যাচ জিতে সি-গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউটে পৌঁছে গেছে আর্জেন্টিনা। শেষ ষোলোতে তারা খেলবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।

দলের শেষ গ্রুপ ম্যাচে পেনাল্টি মিস করেছেন লিওনেল মেসি। তার পেনাল্টি ঠেকিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি পোল্যান্ডের গোলকিপার ভইচেক শেজনি ও তার দলের।

পোল্যান্ডকে পাত্তা না দিয়েই ২-০ গোলে ম্যাচ জিতে সি-গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউটে পৌঁছে গেছে আর্জেন্টিনা। শেষ ষোলোতে তারা খেলবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।

সৌদি আরবের বিপক্ষে অঘটনের হার দিয়ে শুরু করা আর্জেন্টিনা নিজেদের শেষ গ্রুপ ম্যাচে খেলেছে বিশ্বসেরা দলের মতোই। দুটি গোলই এসেছে দ্বিতীয়ার্ধে।

আলেক্সিস ম্যাকঅ্যালিস্টার ৪৬ মিনিটে ডেডলক ভাঙার পর ৬৭ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেসের গোলে ম্যাচভাগ্য নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা।

টুর্নামেন্টে টিকে থাকার ম্যাচে শুরুটা দারুণ করে আর্জেন্টিনা। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শুরু থেকে চাপ বজায় রাখে পোল্যান্ডের ওপর। মেসি, মারকোস আকুনিয়া শুরুতে সুযোগ পেয়েছিলেন গোলের। কিন্তু লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি।

এরপর মাঠে শুরু হয় শেজনি শো। ইউভেন্তাসে খেলা ৩২ বছর বয়সী এ গোলকিপার একে কে ফেরান হুলিয়ান আলভারেস ও আনহেল দি মারিয়ার শট।

প্রথমার্ধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত উপস্থিত হয় ৩৭ মিনিটে। মেসিকে নিজেদের বক্সে ফাউল করেন শেজনি। প্রথমে পেনাল্টির নির্দেশ না দিলেও ভিডিও রিপ্লে দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।

স্পট ঠেকে নেয়া মেসির কিক ঠেকিয়ে দেন শেজনি। এটি টুর্নামেন্টে তার দ্বিতীয় পেনাল্টি সেভ। এর আগে সৌদি আরবের বিপক্ষে পেনাল্টি ঠেকিয়েছিলেন তিনি।

আর বিশ্বকাপে এটি মেসির দ্বিতীয় পেনাল্টি ব্যর্থতা। ২০১৮ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে স্পট থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।

এরপরের সময়ে আর গোল হয়নি। ৬৬ শতাংশ পজেশন রাখলেও আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ড লাইন শেজনির রক্ষণ দেয়াল ভাঙতে পারেনি। গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয় প্রথম ৪৫ মিনিটে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে গোলের দেখা পায় আর্জেন্টিনা। মাঝমাঠ থেকে মাঠের ডানপ্রান্তে বল পেয়ে যান নায়ুয়েল মলিনা। তার মাপা ক্রস বক্সে খুঁজে নেয় অরক্ষিত ম্যাকঅ্যালিস্টারকে। কাছ থেকে বল জালে জড়াতে ভুল করেননি এ মিডফিল্ডার। এটি আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার প্রথম গোল।

এক গোল পেয়ে আরও দুর্দান্ত খেলা উপহার দেয় আর্জেন্টিনা। পোল্যান্ডকে মাঝমাঠে কোনো জায়গা দিচ্ছিলেন না মেসি-রদ্রিগো দে পলরা।

৬১ মিনিটে ম্যাকঅ্যালিস্টার আরেকটি সুযোগ পেয়েছিলেন দলের লিড বড় করার। কাছ থেকে লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি তিনি।

এর ৬ মিনিট পরই অবশ্য দ্বিতীয় গোলের দেখা পেয়ে যায় আর্জেন্টিনা। এনজো ফার্নান্দেসের পাস পেয়ে চমৎকার শটে বক্সের ভেতর থেকেই লক্ষ্যভেদ করেন আলভারেস।

মেসি নিজেই গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন ৭১ মিনিটে। কিন্তু ওয়ান-অন-ওয়ান সিচুয়েশন থেকে তার শট ঠেকিয়ে দেন শেজনি।

শেষ দিকে পরিষ্কার দুটি সুযোগ নষ্ট করেন বদলি হিসেবে নামা নিকোলাস তালিয়াফিকো ও লাউতারো মার্তিনেস। ফলে আর্জেন্টিনার জয়ের ব্যবধান আর বড় হয়নি।

এ জয়ে ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্টের সঙ্গে গ্রুপের শীর্ষস্থান নিয়ে নকআউট নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। শনিবার রাত ১টায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে নামবে মেসির দল।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনার কাছে হেরেও নকআউটে পৌঁছেছে পোল্যান্ড। মেক্সিকোর সঙ্গে পয়েন্ট পার্থক্য না থাকলেও গোল ব্যবধানে গ্রুপের দ্বিতীয় সেরা হয়ে নকআউটে চলে গেছে রবার্ট লেওয়ানডোভস্কির দল।

রোববার রাত ৯টায় ফ্রান্সের বিপক্ষে খেলবে পোল্যান্ড।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Argentina could not break the wall in the first half

প্রথমার্ধে শেজনি দেয়াল ভাঙতে পারল না আর্জেন্টিনা

প্রথমার্ধে শেজনি দেয়াল ভাঙতে পারল না আর্জেন্টিনা মেসির পেনাল্টি শট ঠেকিয়ে দিচ্ছেন পোল্যান্ডের গোলকিপার ভইচেক শেজনি। ছবি: টুইটার
স্পট ঠেকে নেয়া মেসির কিক ঠেকিয়ে দেন শেজনি। এটি টুর্নামেন্টে তার দ্বিতীয় পেনাল্টি সেভ। এর আগে সৌদি আরবের বিপক্ষে পেনাল্টি ঠেকিয়েছিলেন তিনি।

গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে পোল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। জয়ের জন্য মরিয়া আর্জেন্টিনাকে প্রথমার্ধে একা হাতেই রুখে দিয়েছেন পোলিশ গোলকিপার ভইচেক শেজনি। একের পর এক আক্রমণ রুখে দেয়ার পাশাপাশি ঠেকিয়েছেন লিওনেল মেসির পেনাল্টিও।

টুর্নামেন্টে টিকে থাকার ম্যাচে শুরুটা দারুণ করে আর্জেন্টিনা। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শুরু থেকে চাপ বজায় রাখে পোল্যান্ডের ওপর। মেসি, মারকোস আকুনিয়া শুরুতে সুযোগ পেয়েছিলেন গোলের। কিন্তু লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি।

এরপর মাঠে শুরু হয় শেজনি শো। ইউভেন্তাসে খেলা ৩২ বছর বয়সী এ গোলকিপার একে কে ফেরান হুলিয়ান আলভারেস ও আনহেল দি মারিয়ার শট।

প্রথমার্ধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত উপস্থিত হয় ৩৭ মিনিটে। মেসিকে নিজেদের বক্সে ফাউল করেন শেজনি। প্রথমে পেনাল্টির নির্দেশ না দিলেও ভিডিও রিপ্লে দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।

স্পট ঠেকে নেয়া মেসির কিক ঠেকিয়ে দেন শেজনি। এটি টুর্নামেন্টে তার দ্বিতীয় পেনাল্টি সেভ। এর আগে সৌদি আরবের বিপক্ষে পেনাল্টি ঠেকিয়েছিলেন তিনি।

আর বিশ্বকাপে এটি মেসির দ্বিতীয় পেনাল্টি ব্যর্থতা। ২০১৮ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে স্পট থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।

এরপরের সময়ে আর গোল হয়নি। ৬৬ শতাংশ পজেশন রাখলেও আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ড লাইন শেজনির রক্ষণ দেয়াল ভাঙতে পারেনি। গোলশূন্য অবস্থাতে শেষ হয় প্রথম ৪৫ মিনিটে।

একই সময়ে শুরু হওয়া সি গ্রুপের সৌদি আরব ও মেক্সিকোর ম্যাচেও গোল হয়নি।

আরও পড়ুন:
পোল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে ৪ পরিবর্তন
ডেনমার্ককে হারিয়ে ফ্রান্সের সঙ্গে নকআউটে অস্ট্রেলিয়া
বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের মাটিতে নামাল তিউনিসিয়া

মন্তব্য

বাংলাদেশ
4 changes to Argentinas XI against Poland

পোল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে ৪ পরিবর্তন

পোল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে ৪ পরিবর্তন পোল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে স্টেডিয়ামে ঢুকছেন লিওনেল মেসি। ছবি: টুইটার
লিয়ান্দ্রো পারেদেসের জায়গায় খেলবেন তরুণ তারকা এনজো ফার্নান্দেস। মেক্সিকোর বিপক্ষে দর্শনীয় এক গোল করে আলোচনায় আসেন ২১ বছর বয়সী এ উইঙ্গার।

কাতার বিশ্বকাপে নকআউটে ওঠার আগে নিজেদের শেষ গ্রুপ ম্যাচে একাদশে একাধিক পরিবর্তন এনেছেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। মেক্সিকোর বিপক্ষের ম্যাচজয়ী একাদশ থেকে ৪টি পরিবর্তন করেছেন তিনি।

আর্জেন্টিনার একাদশে রক্ষণ, মাঝমাঠ ও আক্রমণ সব জায়গাতেই খেলোয়াড় বদল করেছেন স্কালোনি।

ডিফেন্সে লিসান্দ্রো মার্তিনেস ও গনসালো মন্তিয়েলের জায়গায় খেলবেন ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো ও নায়ুয়েল মলিনা।

মাঝমাঠে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের জায়গায় খেলবেন তরুণ তারকা এনজো ফার্নান্দেস। মেক্সিকোর বিপক্ষে দর্শনীয় এক গোল করে আলোচনায় আসেন ২১ বছর বয়সী এ উইঙ্গার।

আক্রমণভাগেও তারুণ্যের ওপর ভরসা করছেন স্কালোনি। অভিজ্ঞ লাউতারো মার্তিনেসকে বেঞ্চে বসিয়ে একাদশে রেখেছেন হুলিয়ান আলভারেসকে।

ম্যানচেস্টার সিটির ২১ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড বিশ্বকাপে দলের হয়ে আগের দুই ম্যাচ খেললেও সময়ের অভাবে খুব বেশি প্রভাব রাখতে পারেননি ম্যাচে।

আক্রমণভাগে আলভারেসের সঙ্গে অবশ্যই আছেন লিওনেল মেসি ও আনহেল দি মারিয়া। পোল্যান্ডকে হারালে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে চলে যাবে আর্জেন্টিনা।

আর্জেন্টিনার একাদশ: এমি মার্তিনেস, নায়ুয়েল মলিনা, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, নিকোলাস ওতামেন্দি, মারকোস আকুনিয়া, এনজো ফার্নান্দেস, রদ্রিগো দে পল, আলেক্সিস ম্যাকঅ্যালিস্টার, লিওনেল মেসি, আনহেল দি মারিয়া ও হুলিয়ান আলভারেস।

আরও পড়ুন:
ডেনমার্ককে হারিয়ে ফ্রান্সের সঙ্গে নকআউটে অস্ট্রেলিয়া
বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের মাটিতে নামাল তিউনিসিয়া
‘হ্যান্ড অফ গডের’ পর এবারে ‘হেয়ার অফ গড’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Australia beat Denmark in knockout with France

ডেনমার্ককে হারিয়ে ফ্রান্সের সঙ্গে নকআউটে অস্ট্রেলিয়া

ডেনমার্ককে হারিয়ে ফ্রান্সের সঙ্গে নকআউটে অস্ট্রেলিয়া অস্ট্রেলিয়া ও ডেনমার্কের মধ্যে বল দখলের লড়াই। ছবি: এএফপি
১-০ গোলের জয় নিয়েই ডেনমার্ককে ছিটকে দিয়ে রাউন্ড অফ সিক্সটিনে নাম লেখায় অস্ট্রেলিয়া। ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে দ্বিতীয় হয়ে নকআউটে গেল তারা।

ফ্রান্সের হারের দিন দ্বিতীয় ম্যাচে ডেনমার্ককে হারিয়ে রাউন্ড অফ সিক্সটিন নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়া। ম্যাথিউ লকির একমাত্র গোলে শেষ ষোল নিশ্চিত হয় তাদের।

অস্ট্রেলিয়া ও ডেনমার্কের জন্য এটি ছিল ডু অর ডাই ম্যাচ। যেখানে শেষ ষোলো নিশ্চিতে দুই দলেরই প্রয়োজন ছিল জয়ের। সেই জয়টা বাগিয়ে নিয়ে ফ্রান্সের সঙ্গী হিসেবে ২০০৬ সালের পর দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়া।

ম্যাচের প্রথম থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক খেলে। কাউন্টার অ্যাটাকের পসরা সাজিয়ে বসেছিল তারা প্রথমার্ধে।

১৯ মিনিটের মাথায় অজি গোলকিপার ম্যাট রায়ানের দুর্দান্ত সেভে লিড নিতে ব্যর্থ হয় ডেনমার্ক। দুই মিনিট পরেই পাল্টা আক্রমণে যাওয়া ডেনমার্কের ডি বক্স থেকে গোলবার লক্ষ্য করে হাফ ভলি শট নেন রাইলি ম্যাকগি। সেটি আটকে যায় ডেনমার্কের গোলকিপার ক্যাসপার স্মাইকেলের হাতে।

প্রথমার্ধের বাকিটা সময় বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে আক্রমণ চালিয়ে গিয়েছিল ডেনমার্ক। পাল্টা আক্রমণটাও বেশ জোরালো ছিল অস্ট্রেলিয়ার। তাতে লাভ হয়নি কোনই।

ম্যাচের ৬০ তম মিনিটে এসে ম্যাথিউ লকি ভাঙ্গেন ডেডলক। ম্যাকগির কাছ থেকে বল পাওয়ার পর প্রায় একক প্রচেষ্টায় ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোল করেন লকি।

লিড পেয়ে আক্রমণের ধার বেড়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার। কম যায়নি ডেনমার্কও। বেশ কয়েকটি সুযোগও সৃষ্টি করেছিল তারা। কিন্তু তাতে পরিবর্তন আসেনি ফলাফলে।

১-০ গোলের জয় নিয়েই ডেনমার্ককে ছিটকে দিয়ে রাউন্ড অফ সিক্সটিনে নাম লেখায় অস্ট্রেলিয়া। ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে দ্বিতীয় হয়ে নকআউটে গেল তারা।

আর ৩ ম্যাচ থেকে মাত্র ১ পয়েন্ট পাওয়া ডেনমার্কের বিশ্বকাপ শেষ হলো গ্রুপ পর্বে সবশেষ স্থান পেয়ে।

আরও পড়ুন:
বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের মাটিতে নামাল তিউনিসিয়া
‘হ্যান্ড অফ গডের’ পর এবারে ‘হেয়ার অফ গড’
মেসিকে থামানোর উপায় জানেন না পোল্যান্ডের কোচ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Frances defeat in the last match is the partner of Australia in the knockout

বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের মাটিতে নামাল তিউনিসিয়া

বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের মাটিতে নামাল তিউনিসিয়া ফ্রান্সের বিপক্ষে জয়সূচক গোলের পর তিউনিসিয়ার উদযাপন। ছবি: এএফপি
নিজেদের শেষ ম্যাচে ফ্রান্সকে তারা হারিয়েছে ১-০ গোলে। জমজমাট ম্যাচে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের থেকে ৩ পয়েন্ট ছিনিয়ে নেয় তিউনিসিয়া।

বিশ্বকাপের তৃতীয় অঘটনের জন্ম দিল তিউনিসিয়া। গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে ফ্রান্সকে তারা হারিয়েছে ১-০ গোলে। জমজমাট ম্যাচে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের থেকে ৩ পয়েন্ট ছিনিয়ে নেয় তিউনিসিয়া।

ম্যাচের ৯০ মিনিট তারা লিড ধরে রাখলেও অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে সমতায় ফেরে ফ্রান্স। ভিএআর দেখে সেটি বাতিল ঘোষণা করেন রেফারি। আর তাতেই বিশ্বকাপে আরও একটি অঘটনের জন্ম হয় তিউনিসিয়ার হাত ধরে।

বিশ্বকাপে ৯ ম্যাচ পর হারল ফ্রান্স। সবশেষ তারা ২০১৪ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরেছিল।

নক আউট পর্ব এক ম্যাচ হাতে রেখে নিশ্চিত হওয়ায় তিউনিসিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় সারির দল নামায় ফ্রান্স। আগের ম্যাচের একাদশ থেকে ছিল ৯টি পরিবর্তন।

আর সেই সুযোগ নিয়ে ম্যাচের শুরু থেকেই ফরাসিদের চেপে ধরে তিউনিশিয়ানরা। ৮ মিনিটের মাথায় লিডও নিয়ে নেয় তারা। অফ সাইডের কারণে সেই গোল বাতিল করেন সাইড রেফারি।

১৭তম মিনিটে ফের আক্রমণে যায় তিউনিসিয়া। শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় এবারও সুযোগ হাতছাড়া হয় তাদের। ২৫ মিনিটে কিংসলে কোমান দুর্দান্ত সুযোগ সৃষ্টি করলেও গোল পাননি।

এরপর ম্যাচের দখল নিজেদের পায়ে নিয়ে নেয় তিউনিসিয়া। একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে ফরাসিদের জাল লক্ষ্য করে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা মিলছিল না কোনভাবেই।

৫৮ মিনিটে ডেডলক ভেঙ্গে তিউনিসিয়াকে লিড এনে দেন ওয়াহবি খাজরি। ডি বক্সের ভেতর দুই ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে দিয়ে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন এই স্ট্রাইকার।

গোল হজমের পর ৬৩তম মিনিটে রাফায়েল ভারান, জর্দান ভেরেতু ও কিংসলে কোম্যানকে উঠিয়ে ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশমঁ মাঠে নামান হয় উইলিয়াম সালিবা, আদ্রিয় রাবিও ও কিলিয়ান এমবাপেকে।

তাতেও সুবিধা করে উঠতে পারছিল না বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। নিশ্চিত পরাজয়ের দিকে যাচ্ছিল ল্য ব্লু। নাটকের তখনও বাকি।

অতিরিক্ত সময়ের নবম মিনিটে আতোয়ান গ্রিজমানের দুর্দান্ত এক গোলে সমতায় ফেরে ফ্রান্স। তাতে করে অঘটনের জন্ম দিতে গিয়েও সেটি অনিশ্চিত হয়ে যায় তিউনিসিয়ার।

ফুটবলদেবতা এদিন হয়তো মুখ ফিরিয়ে রেখেছিলেন ফ্রান্সের থেকে। ভিএআর দেখে সেই গোল বাতিল ঘোষণা করেন রেফারি। আর তাতে আরও একবার উল্লাসে ফেটে পড়েন তিউনিসিয়ার সমর্থকেরা।

শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয়ের সঙ্গে ফ্রান্সকে হারানোর মধুর স্মৃতি নিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শেষ হয় তিউনিসিয়ার।

হারের পরও ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকেই গ্রুপ পর্ব শেষ করল ফ্রান্স। আর অঘটনের জয়ের পরও আরেক ম্যাচে ডেনমার্ক হেরে যাওয়াতে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ল তিউনিসিয়া।

আরও পড়ুন:
বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের মাটিতে নামাল তিউনিসিয়া
‘হ্যান্ড অফ গডের’ পর এবারে ‘হেয়ার অফ গড’
মেসিকে থামানোর উপায় জানেন না পোল্যান্ডের কোচ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
After Hand of God now Hair of God

‘হ্যান্ড অফ গডের’ পর এবারে ‘হেয়ার অফ গড’

‘হ্যান্ড অফ গডের’ পর এবারে ‘হেয়ার অফ গড’ ছবি: সংগৃহীত
শুরুতে দেখে মনে হয়েছিল হেড দিয়ে গোল করেছেন সিআর সেভেন। কার গোল সে বিষয়ে রেফারির সন্দেহ থাকায় তিনি সহায়তা নেন প্রযুক্তির। আর টিভি রিপ্লে দেখে বদলে যায় সিদ্ধান্ত।

১৯৮৬-এর বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনা দলকে লিড এনে দিয়েছিলেন অদ্ভুত এক গোল করে। হেড দিতে গিয়ে নিখুঁতভাবে হাতের কারসাজিতে বল জালে ঠেলে ডেডলক ভেঙ্গেছিলেন সাবেক এই ফুটবলার। ইতিহাসের পাতায় সেই গোলটি লেখা হয় ‘হ্যান্ড অফ গড’ নামে।

সেই থেকে বিশ্বকাপের প্রতি আসরেই আলোচনায় থাকে ম্যারাডোনার বিখ্যাত ওই গোল।

কাতার বিশ্বকাপে এসে ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অফ গডের’ মতোই এক গোলের জন্ম দিয়েছেন পর্তুগালের তারকা ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানো রোনালডো। তিনি গোল দিতে হাত ব্যবহার করেননি। গোল না পেলেও গোলের দাবি করে সমালোচনায় এসেছেন তিনি। এমন এক গোলের মালিকানা দাবি তিনি করেছেন যেটির সঙ্গে কোনভাবেই তার সম্পৃক্ততা নেই।

গত সোমবার উরুগুয়ের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে এমনই এক বিতর্কে জড়ান রোনালডো।

ম্যাচের ৫৪ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেজের গোলে লিড নেয় পর্তুগাল। উরুগুয়ের ডি বক্সের বাঁ-দিক থেকে উঁচু করে গোলবারের দিকে বল তুলে দিয়েছিলেন ব্রুনো। ডি বক্সে ঢুকে পড়ে লাফ দিয়ে সেটি জালে জড়ান রোনালডো। বল জালে জড়ানোর পরপরই উল্লাসে মেতে ওঠেন তারকা এই ফুটবলার।

শুরুতে দেখে মনে হয়েছিল হেড দিয়ে গোল করেছেন সিআর সেভেন। কার গোল সে বিষয়ে রেফারির সন্দেহ থাকায় তিনি সহায়তা নেন প্রযুক্তির। আর টিভি রিপ্লে দেখে বদলে যায় সিদ্ধান্ত।

সেখানে দেখা যায় বল রোনালডোর মাথা স্পর্শই করেনি। আর সে কারণে গোলটি ব্রুনো ফার্নান্দেজের নামের পাশে বসে। যদিও রোনালডোর দাবি ফার্নান্দেজের করা ক্রসটি মাথা ছুঁইয়ে গোল করেছেন তিনি।

এরপরই শুরু হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোনালদোকে নিয়ে সমালোচনা।

ধারাভাষ্যকার ও সাবেক ফুটবলার ক্রিস সাটন বলেন, ‘ম্যারাডোনার হ্যান্ড অফ গড ভুলে যান। সময় এসেছে ক্রিশ্চিয়ানোর ‘হেয়ার অফ গড’ নিয়ে আলোচনা করার।’

এখানেই থেমে থাকেনি সমালোচনা। রীতিমতো ট্রল শুরু হয় তাকে নিয়ে। কেউ কেউ তো আবার এমনও পোস্ট করছেন যে, ফুটবলারদের উচিত নিজের চুলের দিকে নজর দেয়া। চুল ততটা বড় রাখার সময় এসেছে যতটা বড় করলে চুলের ছোঁয়াতেও গোল করা সম্ভব হয়।

আরও পড়ুন:
মেসিকে থামানোর উপায় জানেন না পোল্যান্ডের কোচ
সৌদির কপাল খুলতে দরকার কঠিন হিসাব-নিকাশ
নকআউটে ফ্রান্সের সঙ্গী হচ্ছে কোন দল
আর্জেন্টিনার সামনে শেষ ম্যাচেও সমীকরণের মারপ্যাঁচ

মন্তব্য

p
উপরে