× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
I dont have to go to my fathers house in 2 villages for puja
hear-news
player
google_news print-icon

পূজায় এবার যেতে হবে না ‘বাবার বাড়ি’

পূজায়-এবার-যেতে-হবে-না-বাবার-বাড়ি
শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে প্রস্তুত হচ্ছে রুটি গ্রামের পূজা মণ্ডপ। ছবি: নিউজবাংলা
আখাউড়া পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব বিশ্বজিৎ পাল বলেন, ‘এবার আখাউড়ায় ২২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে। তবে মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকবে মসজিদপাড়া ও রুটি গ্রামের পূজা।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার পৌর এলাকার মসজিদপাড়া আর ধরখার ইউনিয়নের দুটি গ্রামে কয়েক বছর পর এবার উদযাপিত হতে যাচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব।

প্রতিবছর দুর্গাপূজা এলেই তা উদযাপনের জন্য হিন্দু অধ্যুষিত এ গ্রাম দুটির গৃহবধূরা চলে যেতেন বাবার বাড়ি। কারণ গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে এ দুটি গ্রামে কোনো দুর্গাপূজা হয়নি। এবার বদলেছে চিত্র, দেবী দুর্গার প্রতিমাকে ঠাঁই দিতে গ্রাম দুটির সার্বজনীন পূজা আয়োজনের স্থানে সাজানো হচ্ছে মণ্ডপ।

স্থানীয়রা জানান, স্বাধীনতারও ৪/৫ বছর বছর আগে সর্বশেষ ওই দুটি গ্রামে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছে। পরে আর্থিক অসচ্ছলতা, লোকবল আর উদ্যোগের অভাবে অর্ধশত বছরেরও বেশি সময় ধরে দেবী দুর্গার পূজা করতে পারেননি তারা।

এ দুটি গ্রামের বাসিন্দারা তাই অন্য এলাকায় গিয়ে পূজা করতেন। পূজার সময় এলে বাবার বাড়িতে দল বেঁধে রওনা হতেন গৃহবধূদের অনেকেই।

মঙ্গলবার গ্রাম দুটিতে গিয়ে দেখা যায়, পূজা উদযাপন হবে এমন আনন্দে মেতেছেন বাসিন্দারা। সাজ সাজ রব তাদের। পূজার স্থানে চলছে প্যান্ডেল ও মণ্ডপ তৈরির কাজ। নির্মিত হচ্ছে তোরণ। সড়ক থেকে পূজার জন্য নির্ধারিত স্থান পর্যন্ত সরু পথের দুই পাশে থাকবে আলোকসজ্জাও।

তবে শুধু আর্থিক স্বচ্ছলতাই নয়। বাসিন্দারা জানালেন, এবার গ্রাম দুটিতে পূজা উদযাপনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল।

এ বিষয়ে পৌর মেয়র বলেন, ‘দীর্ঘদিন রুটি গ্রামের শশ্মানঘাটের জায়গা বেদখল ছিল। তবে আইনমন্ত্রী সে জায়গাটি উদ্ধার করে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। তাই আমি গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে বলেছি- এ বছর পূজা উদযাপন করুন। আমরা সহযোগিতা করবো।’

আখাউড়া পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব বিশ্বজিৎ পাল বলেন, ‘এবার আখাউড়ায় ২২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে। তবে মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকবে মসজিদপাড়া ও রুটি গ্রামের পূজা। আশা করি, এখন থেকে প্রতিবছরই এ দুটি গ্রামে পূজা উদযাপিত হবে।’

রুটি গ্রামের গৃহবধূ জোসনা রানী শীল জানান, ২৩ বছর আগে তিনি এ গ্রামটিতে বউ হয়ে এসেছেন। কিন্ত স্বামীর বাড়িতে কোনোদিন দূর্গাপুজার আয়োজন না হওয়ায় পূজার আনন্দ করতে পারেননি।

জোসনা রানীর মতো বকুল রানীও জানালেন, এবার পূজায় তাই বাবার বাড়ি যেতে হবে না তাদের।

আরও পড়ুন:
দিনাজপুরে এবার পূজার বাজেটে টান
প্রতিমা শিল্পী সংকটে ঝালকাঠি
দুর্গাপূজায় মণ্ডপে ২৪ ঘণ্টা থাকবে আনসার
দুর্গাপূজার ব্যস্ততা শুরু কুমারটুলিতে
তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য আগুন উসকে দেয়ার মতো

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Covered van entered food hotel killed 5

খাবার হোটেলে ঢুকে পড়ল কাভার্ড ভ্যান, নিহত ৫

খাবার হোটেলে ঢুকে পড়ল কাভার্ড ভ্যান, নিহত ৫ যশোর-মণিরামপুর সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি কাভার্ড ভ্যান খাবারের হোটেলে ঢুকে পড়ে। ছবি: নিউজবাংলা

যশোরের মণিরামপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি কাভার্ড ভ্যান সড়কের পাশে খাবারের হোটেলে ঢুকে পড়ে। এতে হোটেলের পাঁচজন নিহত হন। এদের অনেকে সে সময় সকালের নাশতা করছিলেন।

শুক্রবার সকালে যশোর-মণিরামপুর মহাসড়কে এই ঘটনা ঘটে।

বিস্তারিত আসছে…

আরও পড়ুন:
বাসচাপায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত
রেললাইনে ফোনালাপ, প্রাণ গেল কলেজছাত্রের
মহাখালীতে ট্রেনের ধাক্কায় যুবক নিহত
থামা ট্রাকে ট্রাকের ধাক্কায় চালক-হেলপার নিহত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Head teacher arrested on charges of attempted molestation

ভাঙ্গায় ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার

ভাঙ্গায় ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার ফরিদপুরের ভাঙ্গায় প্রধান শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে স্কুলের গেটে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা
ভাঙ্গা থানার ওসি জিয়ারুল ইসলাম জানান, বুধবার সকালে উপজেলার শরীফাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে শাখায়াত শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন বলে বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযোগ করেন ওই ছাত্রীর অভিভাবক। এর ভিত্তিতে হওয়া ধর্ষণচেষ্টা মামলায় প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে সকালেই তাকে আটক করে পুলিশ। 

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় শাখায়াত হোসেন নামের প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার সকালে আটকের পর দুপুরে হওয়া মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়ারুল ইসলাম বলেন, বুধবার সকালে উপজেলার শরীফাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে শাখায়াত শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন বলে বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযোগ করেন ওই ছাত্রীর অভিভাবক। এর ভিত্তিতে হওয়া ধর্ষণচেষ্টা মামলায় প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে সকালেই তাকে আটক করে পুলিশ।

তিনি জানান, শুক্রবার শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হবে।

ওসি আরও জানান, বুধবার সকালের ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে শতাধিক শিক্ষার্থী ও বহিরাগতরা স্কুলের সামনে অবস্থান নেয়। তারা সড়ক অবরোধ করে প্রধান শিক্ষকের অপসারণ চেয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে।

লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, বুধবার সকালে শরীফাবাদ স্কুলে পরীক্ষা দিচ্ছিল ওই ছাত্রী। নকল করার অভিযোগে তার খাতা নিয়ে এক ঘণ্টা আটকে রাখেন দায়িত্বরত শিক্ষিকা। মেয়েটি কান্নাকাটি করলে প্রধান শিক্ষক শাখায়াতের কাছে গিয়ে অনুমতি আনার কথা বলেন ওই শিক্ষিকা।

পরে মেয়েটি খাতা ফেরত চাইলে প্রধান শিক্ষক তাকে তার কক্ষে যেতে বলেন। কক্ষে প্রবেশ করতেই মেয়েটিকে জড়িয়ে ধরে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন তিনি। মেয়েটি চিৎকার দিলে তার মুখ চেপে ধরে ঘটনাটি কাউকে না জানানোর হুমকি দেন শাখায়াত। পরে ছাত্রী পরীক্ষা না দিয়ে বাড়িতে গিয়ে পরিবারকে ঘটনাটি জানায়।

মেয়েটির বাবা বলেন, ‘মীমাংসার জন্য শাখায়াতের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মহল চাপ দিয়েছে। আমি কোনো মীমাংসায় যাব না।’

অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক শাখায়াত হোসেন বলেন, ‘বুধবার পরীক্ষা দেয়ার সময় নকলের অভিযোগে মেয়েটির খাতা জব্দ করে দায়িত্বরত শিক্ষক। মেয়েটি আমার কাছে এসে বিস্তারিত জানালে আমি তাকে বাড়ি যেতে বলি এবং পরবর্তী পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে বলি।

‘সে আমার পা জড়িয়ে ধরে মাফ চাইলে আমি পরীক্ষা হলে গিয়ে দায়িত্ব পালন করা শিক্ষিকাকে খাতা ফেরত দেয়ার অনুরোধ করি, কিন্তু হঠাৎ সে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা অভিযোগ করেছে।’

এ বিষয়ে ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আজিম উদ্দিন বলেন, ‘আমি এবং ভাঙ্গা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ সরেজমিনে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি।’

স্থানীয়দের শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, স্কুলের কার্যক্রম আগের মতোই চলবে।

আরও পড়ুন:
পাওনা টাকা চাওয়ায় নারীর ‘শ্লীলতাহানি’ যুবলীগ নেতার
কলেজছাত্রীকে তুলে নিয়ে ‘শ্লীলতাহানির চেষ্টা’
শিক্ষার্থীকে ‘শ্লীলতাহানির চেষ্টা’, শিক্ষক গ্রেপ্তার
কোচিংয়ে ‘ছাত্রীর শ্লীলতাহানি’, কলেজশিক্ষক গ্রেপ্তার
পরীক্ষার হলে ছাত্রীকে ‘শ্লীলতাহানি’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Pistols hidden in Kishori Ranis rice bowl

কিশোরী রানীর ভাতের পাতিলে লুকানো পিস্তল-গুলি

কিশোরী রানীর ভাতের পাতিলে লুকানো পিস্তল-গুলি ভাতের ভেতর পিস্তল ও গুলি লুকিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পৌঁছে দেয়াসহ মুক্তিযুদ্ধের সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছেন গৃহবধু কিশোরী রানী শর্মা। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
কুমিল্লার গৃহবধূ কিশোরী রানী শর্মা মুক্তিযুদ্ধের সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যোদ্ধাদের সাহায্য করেছেন। পাড়ি দিয়েছেন শত্রু এলাকা। তার স্বামী মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র সারাই করে দিতেন। তাদের মেলেনি মুক্তিযুদ্ধের স্বীকৃতি।

ভারতের সোনামূড়া। ডিসেম্বর শুরু। শীতের সন্ধ্যা। চারদিকে আবছা কুয়াশা। রান্নার পাতিলে ভাতের ভেতর পিস্তল ও গুলি লুকিয়ে মুক্তিযোদ্ধারের কাছে যাচ্ছিলেন এক গৃহবধূ।

পথে আচমকা পাকিস্তানিরা দূর থেকে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি পড়ে যান গোমতী নদীতে। স্রোতের টানে ভেসে যান অনেকদূর। মৃত ভেবে পাকিস্তানিরা চলে যায়। ঘটনার পর মুক্তিযোদ্ধারা আসেন। উদ্ধার করেন ওই গৃহবধূকে। ক্যাম্পে নিয়ে গুলি বের করেন। বাম কনুইয়ের ওপর গুলির দাগ আজও সেই বিভীষিকাময় দিনগুলোর কথা মনে করে দেয়।

গৃহবধূর নাম কিশোরী রানী শর্মা। তার স্বামী অরুণপ্রসাদ শর্মাও মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। অস্ত্র তৈরি করা, বিকল অস্ত্র ঠিক করার দায়িত্ব ছিল অরুণপ্রসাদ শর্মার ওপর। স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরও স্বামী-স্ত্রীর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মেলেনি। মনের ভেতর কষ্ট নিয়েই বছর দশেক আগে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান অরুণপ্রসাদ।

কিশোরী রানী শর্মার বাড়ি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার মধ্যম বিজয়পুরে। তার এক ছেলে এক মেয়ে। বছরচারেক আগে কিশোরী রানীর একমাত্র ছেলে বাসুপ্রসাদ শর্মা ট্রেন দুর্ঘটনায় মারা যান। এক মেয়ে বিজয়পুর মৃৎশিল্প কারখানার কাজ করেন। ৫ হাজার টাকা বেতন। এই টাকা দিয়ে কোনো রকমে খেয়ে-পড়ে বেঁচে আছেন তারা।

সরেজমিনে মধ্যম বিজয়পুরে গিয়ে দেখা যায়, কিশোরী রানীর বাড়ির সামনে একটি খাল। নড়বড়ে সাঁকো পার হয়ে সামনে গেলে ছোট্ট একটি টিনের ঘরে শুয়ে থাকতে দেখা যায় কিশোরী রানী শর্মাকে।

শোয়া থেকে উঠে ভাঙা কণ্ঠে কিশোরী রানী জানান, ১৯৩৭ সালে তার জন্ম। জাতীয় পরিচয়পত্রে তারিখটা লেখা ৬ মে। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী অরুণপ্রসাদ অস্ত্র বানাতে পারতেন। ভাঙা অস্ত্র ঠিক করতে পারতেন। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়েও স্বীকৃতি পাননি। ১০ বছর হলো তিনি মারা গেছেন।’

স্মৃতির ঝাঁপি খুলে কিশোরী রানী বলেন, ‘শীতের রাতে কতবার বিবিরবাজার বর্ডার ক্রস করে ভারতের সোনামুড়া গেছি। সেখানে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ হতো। প্রতিবার পাকিস্তানিদের চোখ ফাঁকি দিতে কত কৌশলের আশ্রয় নিয়েছি। গুলি খেয়ে নদীতে পড়ে গেছি। তবুও মুক্তিযুদ্ধ করে গেছি।

‘আমরা মেজর এনামের নেতৃত্বে যুদ্ধ করেছি। অথচ আজ আমাদের স্বামী-স্ত্রীর কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই। আমার ছেলেটা মারা গেল। একমাত্র মেয়ে আর ছেলের ঘরের নাতি-নাতনিদের নিয়ে কোনো রকমে বেঁচে আছি। কেউ আমাদের খবর রাখে না। আমার স্বামী বেঁচে থাকতে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতির জন্য আবেদন করেছিল। আমিও করেছি। কেউ আমাদের স্বীকৃতি দেয় না।’

বিষয়টি নিয়ে কুমিল্লা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সফিউল আহমেদ বাবুল বলেন, ‘ভারতীয় তালিকা, দেশের গেজেট ও লাল তালিকায় কিশোরী রানী ও তার স্বামী অরুণের নাম নেই। তাই তাদের মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি দেয়া যাচ্ছে না। তবে তারা যদি মন্ত্রণালয় বা জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) কাছে গিয়ে প্রমাণ করতে পারেন, সে ক্ষেত্রে তাদের নাম গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।’

কিশোরী রানী শর্মার মেয়ে পান্না রানী শর্মা বলেন, ‘মাকে নিয়ে কত কষ্টে আছি, কেউ না এলে বুঝবেন না। দেশকে শত্রুমুক্ত করতে বিনা শর্তে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল আমার বাবা-মা। অথচ আজ আমার মা ও বাবার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেতে কত শর্ত মানতে হবে। এর চেয়ে দুঃখের কী আছে! আমি আশা করব, একদিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঠিকই আমাদের বাবা-মাকে স্বীকৃতি দিবেন। কারণ পৃথিবীতে অনেক সত্য আছে, যেগুলোর জন্য প্রমাণ লাগে না। আমার বাবা-মাও তেমন।’

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শুভাশিস ঘোষ বলেন, ‘আমি কিশোরী রানী শর্মাকে চিনি। তার জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা শুনেছি। তিনি ও তার স্বামী মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। তবে যথাযথ ডকুমেন্ট সংরক্ষণ করতে পারেননি বলে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাননি। আমি আশা করব, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন তার এই ত্যাগের বিষয়টি মূল্যায়ন করেন। তিনি যেন তার প্রাপ্য পান। কারণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছেন। সেখানে স্বাধীনতার অর্ধশত বছর পরে এসে যদি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা তার স্বীকৃতি না পান, সেটা হবে দুর্ভাগ্যজনক।’

আরও পড়ুন:
ডিসেম্বরকে ‘মুক্তিযোদ্ধা মাস’ চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
একাত্তরে শহীদ আইনজীবীদের তালিকা চায় সুপ্রিম কোর্ট
রাজাপুর পাকহানাদার মুক্ত দিবস
‘৯০ ভাগ সমবায় সমিতি শুধু কাগজে-কলমে’
বঞ্চিত মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি দাবি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The chairmen returned the blanket

কম্বল ফেরত দিলেন চেয়ারম্যানরা

কম্বল ফেরত দিলেন চেয়ারম্যানরা শাহজাদপুরে বৃহস্পতিবার বরাদ্দের কম্বল ফেরত দেন ইউপি চেয়ারম্যানরা। ছবি: নিউজবাংলা
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে বরাদ্দকৃত কম্বলগুলো বৃহস্পতিবার দুপুরে ভ্যানযোগে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ফেরত দেন চেয়ারম্যানরা। সেগুলো পরিষদের গোডাউনে রাখা হয়েছে।

শীতার্তদের মাঝে বিতরণের জন্য সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ১০টি ইউনিয়নে সরকারিভাবে বরাদ্দ দেয়া কম্বল ফেরত দিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) মেরিনা জাহান বরাদ্দের কম্বলের বেশিরভাগ অংশ চেয়েছেন। এতে দরিদ্রদের দেয়ার মতো পর্যাপ্ত কম্বল থাকবে না।

তবে এমপি মেরিনা জানিয়েছেন, চেয়ারম্যানদের সঙ্গে তার ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।

কম্বল ফেরত দেয়ার বিষয়টি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিশ্চিত করেছেন চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতি ও গালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাতেন।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহজাদপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে জন্য বরাদ্দ কম্বলগুলো ভ্যানে করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে পাঠিয়ে দেয়া হয়। সেগুলো পরিষদের গোডাউনে রাখা হয়েছে।

অভিযোগকারী ইউপি চেয়ারম্যানরা জানান, শীতে অসহায় ও দরিদ্রদের জন্য শাহজাদপুরের ১৩ ইউনিয়নে ৩৫০ পিস করে কম্বল বরাদ্দ দেয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া আফরিন চেয়ারম্যানদের জানান, এমপি প্রতিটি ইউনিয়নের বরাদ্দ থেকে ২০০ পিস করে কম্বল নিজে বিতরণের জন্য চেয়েছেন।

গালা ইউপির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাতেন বলেন, ‘এত কমসংখ্যক কম্বল বিতরণ করা আমাদের জন্য কষ্টসাধ্য হবে। তাই সরকারি বরাদ্দ পাওয়া কম্বলগুলো আমরা ফেরত দিয়েছি।’

শাহজাদপুর উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘চেয়ারম্যানরা কম্বল ফেরত দিয়েছেন কিনা এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না।’

ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে ইউএনও সাদিয়াকে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফারুক আহম্মদ বলেন, ‘স্ব-স্ব উপজেলায় সরকারিভাবে কম্বল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বরাদ্দকৃত কম্বলগুলো সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা বিতরণ করতে পারেন। এ বিষয়ে আমার কোনো মতামত নেই।’

সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মেরিনা জাহান কবিতা বলেন, ‘আমি বলেছি প্রতিটা ইউনিয়নে গিয়ে কম্বল বিতরণ করব। বিষয়টি নিয়ে চেয়ারম্যানদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বসেই সমাধান করা হবে।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
College student killed by gang of teenagers in Comilla

কু‌মিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে কলেজছাত্র নিহত

কু‌মিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে কলেজছাত্র নিহত কলেজ শিক্ষার্থী মো. পাবেল। ছবি: সংগৃহীত
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, কলেজছাত্র পাবেল সঙ্গীদের নিয়ে রাতে ব্যাডমিন্টন খেলতে যান। এ সময় একদল কিশোর তাদের মাঠ থেকে উঠে যেতে বলে। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা পাবেলকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ব্যাডমিন্টন খেলাকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো. পাবেল নামের এক কলেজ শিক্ষার্থী খুন হয়েছেন।

চৌদ্দগ্রামের আলকরায় রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভরঞ্জন চাকমা।

নিহত পাবেল উপজেলার গুণবতী এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি ফেনী মহিপাল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, পাবেল নিজ বাড়ি গুণবতী থেকে পাশের আলকরা ইউনিয়নে নানা বাড়িতে বেড়াতে যান। সেখানে স্থানীয় কিশোরদের সঙ্গে রাতে ব্যাডমিন্টন খেলতে যান তিনি। এ সময় একদল কিশোর নিজেরা খেলবে বলে পাবেল ও তার সঙ্গীদের মাঠ থেকে উঠে যেতে বলে। ওই সময় কিশোরদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা এলোপাতাড়ি পাবেলকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। তাকে বাঁচাতে গিয়ে আরও দুজন আহত হন। তারা বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন বলে জানা গেছে।

ওসি শুভরঞ্জন চাকমা জানান, বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে তারা পাবেলকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেছে বলে স্থানীয়রা জা‌নি‌য়ে‌ছে। জড়িত সবাই স্থানীয় কিশোর। ঘটনার পর থে‌কে তারা পলাতক। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কু‌মিল্লা মে‌ডি‌ক্যাল ক‌লেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
দক্ষিণ আফ্রিকায় নোয়াখালীর ব্যবসায়ী খুন
স্যুটকেসে দেহাবশেষ, পুলিশের ধারণা শ্রদ্ধার
৫ ছুরি দিয়ে বান্ধবীকে টুকরা আফতাবের: পুলিশ
শ্রদ্ধার দেহাংশের সন্ধান দিয়েছি, আদালতে আফতাব
স্ত্রী-ছেলের হাতে খুন হয়ে ৫ টুকরা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
If Khaleda Zia comes to the rally the information given in the release application will be false

মুক্ত মানুষকে কীভাবে জামিন দেয়: আইনমন্ত্রী

মুক্ত মানুষকে কীভাবে জামিন দেয়: আইনমন্ত্রী নারায়ণগঞ্জ বার ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। ছবি: নিউজবাংলা
খালেদা জিয়ার মুক্তির দুই শর্তের মধ্যে উনি রাজনীতি করতে পারবেন না- এমন কথা নেই। কিন্তু উনার যে আবেদন ছিল তাতে পরিষ্কারভাবে লেখা ছিল তার শারীরিক অবস্থা এত খারাপ যে তিনি চলাফেরা করতে পারেন না।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশে বেগম খালেদা জিয়া অংশ নেবেন বলে শোনা যাচ্ছে। তবে তিনি যদি সমাবেশে আসেন, তাহলে তার মুক্তির আবেদনে দেয়া অসুস্থতার তথ্য মিথ্যা প্রমাণিত হবে।

বৃহস্পতিবার রাতে নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির বার ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আনিসুল হক বলেন, 'বিএনপি নেতারা এখনও দাবি করেন খালেদা জিয়াকে জামিন দিতে হবে। কিন্তু মুক্ত মানুষকে কীভাবে জামিন দেয়? দুই শর্তে খালেদা জিয়াকে জেল থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। তাকে আবার জামিন কীভাবে দেবে?

‘বিএনপি নেতারা বলছেন, ১০ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়া বক্তব্য দেবেন। তার মুক্তির দুই শর্তে উনি রাজনীতি করতে পারবেন না- এমন কথা নেই। কিন্তু উনার যে আবেদন ছিল তাতে পরিষ্কারভাবে লেখা ছিল খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এত খারাপ যে তিনি চলাফেরা করতে পারেন না। তাকে দ্রুত মুক্তি দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। বেগম খালেদা জিয়া যদি ১০ ডিসেম্বর সমাবেশে যান তাহলে তার মুক্তির আবেদনে যে তথ্য দেয়া হয়েছে, তা মিথ্যা প্রমাণিত হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০০৭ ও ২০০৮ সালে যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল, তখন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুটির বেশি দুর্নীতির মামলা হয়। তদন্ত করা হয়, এফআইআর হয়, চার্জশিটও হয়। প্রতিটি সময়ই খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। তারা শুধু নিম্ন আদালতে না, যেতে যেতে আপিল বিভাগেও গিয়েছেন। সেখান থেকে বলে দিয়েছে, বিচারিক আদালত হয়ে মামলা শেষ করতে হবে।

’বিচারিক আদালতে বিচার হয়েছে, সাজাও হয়েছে। একটি মামলায় পুনরায় আপিল করেছেন, সেটাতে আবার হাইকোর্ট সাজা বাড়িয়েছে। আরেকটিতে বিচারিক আদালত সাজা দিয়েছে। তারপর তিনি জেলে গেছেন। জেলে থাকাকালে তার পরিবার থেকে আবেদন করা হয়েছে, সেখানে বলা হয়- তার শরীর অত্যন্ত খারাপ। তাকে জেল থেকে ছাড়িয়ে চিকিৎসা করাতে হবে। আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে জেল থেকে ছাড়ার প্রার্থনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার মহানুভবতায়, ৪০৮ ধারায় দণ্ডাদেশ স্থগিত করেছেন। দুই শর্তে তাকে মুক্তি দিয়েছেন।’

অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব গোলাম সারওয়ার, অ্যাটর্নি জেনারেল আবু মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন, সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম ওসমান, এ কে এম শামীম ওসমান, লিয়াকত হোসেন খোকা, জেলা প্রশাসক মো. মঞ্জুরুল হাফিজ ও জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
বিএনপির ষড়যন্ত্র সফল হলে দেশ বিরান ভূমি হবে: আইনমন্ত্রী
সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম থাকবে কি না চিন্তাভাবনা হচ্ছে: আইনমন্ত্রী
খালেদার নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ নেই: আইনমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
City residents are angry at the A League rally blocking the road

সড়কে আ.লীগের মঞ্চ, ক্ষোভ নগরবাসীর

সড়কে আ.লীগের মঞ্চ, ক্ষোভ নগরবাসীর
ঘুরে যেতে রিকশাওয়ালাকে বাড়তি টাকা দিতে হয়েছে জানিয়ে বাধ রোড এলাকার হুমায়রা বেগম বলেন, ‘আমাদের মেয়র কেন তার নগরবাসীর জন্য ভোগান্তির সৃষ্টি করলেন বুঝতে পারলাম না। এই স্টেজ তো কোনো মাঠেও করা যেত।’

বরিশাল নগরীতে নগর ভবনের সামনের রাস্তা আটকে পার্বত্য শান্তি চুক্তি দিবস উদযাপনের জন্য মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত এই সমাবেশ হবে শুক্রবার বিকেলে। এ জন্য রাস্তার উপর মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হয় বুধবার রাত থেকে।

গুরুত্বপূর্ণ সড়ক আটকে এই আয়োজনের কারণে বিকল্প পথ ব্যবহারে ভোগান্তি হচ্ছে জানিয়ে ক্ষুব্ধ নগরবাসী।

ঘটনাস্থলে বৃহস্পতিবার সন্ধ‌্যায় গিয়ে দেখা গেছে, পার্বত‌্য শান্তি চুক্তির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সমাবেশের মঞ্চ তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। প্রশস্ত সড়কটি আটকে মঞ্চ তৈরি করায় যান চলাচল বন্ধ করা হয়েছে।

অটোরিকশাচালক মাইনুল হোসেন বলেন, ‘মানুষের তো কমন সেন্স থাকে ভাই। পুরো রাস্তা আটকে মঞ্চ করছে। যাত্রীরা তো অনেক ঝামেলায় পড়ে গেছে। পুলিশ অন‌্য পথ দিয়ে যেতে বলে। অনেক ঘোরা লাগে।

‘যেখানে মঞ্চ করেছে, সেখান থেকে লঞ্চ ঘাট ৩ মিনিটের পথ। কিন্তু ঘুরে অন‌্য পথ দিয়ে যেতে অনেক সময় লাগে। যাত্রীরা ঘুরতে চায় না।’

সড়কে আ.লীগের মঞ্চ, ক্ষোভ নগরবাসীর

ওষুধ বিক্রেতা ইমদাদুল হক মাসুম বলেন, ‘মোটরসাইকেল নিয়ে বিআরটিএ অফিস যাচ্ছিলাম। সিটি করপোরেশনের সামনে এসে দেখি রাস্তা বন্ধ। স্টেজ করছে। তারপর ঘুরে বরিশাল ক্লাবের সামনে দিয়ে বিআরটিএ অফিসে গেছি।

‘এমনভাবে স্টেজ করেছে যে একটা মোটরসাইকেলও যেতে পারে না। আওয়ামী লীগের নেতাদের এ কেমন চিন্তা ভাবনা বুঝি না।’

কলেজ শিক্ষক মোশাররেফ হোসেন বলেন, ‘এই সড়কটাতে ফায়ার সার্ভিস আছে। কোনো ধরণের দুর্ঘটনা যদি ঘটে তাহলে তো এই সড়ক হয়েই বের হতে হবে। এখন কি তারা বাইপাস সড়ক দিয়ে ঘুরে বের হবে?

‘এই সড়ক হয়ে লঞ্চঘাট, পোস্ট অফিস, সিটি করপোরেশন, ডিসি অফিস, বিআরটিএ অফিস, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসসহ গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে সপ্তাহের শেষ দিনে যেতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। যেমন আমারই ডিসি অফিসে কাজ ছিল। রিকশা নিয়ে প্রথমে নগর ভবনের সামনের সড়কে গেলেও, পরে ঘুরে যেতে হয়েছে।’

সড়কে আ.লীগের মঞ্চ, ক্ষোভ নগরবাসীর

ঘুরে যেতে রিকশাওয়ালাকে বাড়তি টাকা দিতে হয়েছে জানিয়ে বাধ রোড এলাকার হুমায়রা বেগম বলেন, ‘আমাদের মেয়র কেন তার নগরবাসীর জন‌্য ভোগান্তির সৃষ্টি করলেন বুঝতে পারলাম না। এই স্টেজ তো কোনো মাঠেও করা যেত।’

এ বিষয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বরিশাল জেলা পরিষদ চেয়ারম‌্যান একেএম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘হাজী মোহাম্মদ মহসিন মার্কেটের নাম যে পাল্টেছে তা চোখে পড়ে না। আর রাস্তাটা যে একটু আটকেছে তা চোখে পড়েছে?’

সড়ক আটকে সমাবেশের অনুমতির বিষয়ে জানতে বরিশাল মহানগর পুলিশের দক্ষিণ জোনের উপ কমিশনার আলী আশরাফ ভূঞা জানান, তিনি অনুমতির বিষয়ে অবগত নন।

তবে পুলিশ কমিশনার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অনুমতির জন‌্য চিঠি দেয়া হয়েছিল। অনুমতি দেয়া হয়েছে নগর ভবনের সামনের সড়কে সমাবেশ করার জন‌্য।’

আরও পড়ুন:
রাজশাহীতে পরিবহন ধর্মঘটে ভোগান্তি
পরিবহন ধর্মঘটের আগেই রাজশাহীর সমাবেশে নেতা-কর্মীরা
সকাল থেকে রাজশাহী বিভাগে পরিবহন ধর্মঘট
ষড়যন্ত্র রুখতে ঐক্যবদ্ধের ডাক শেখ সেলিমের
শিক্ষককে লাঞ্ছনার মামলায় আ.লীগ নেতা কারাগারে

মন্তব্য

p
উপরে