× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Chhatra League attack on Chhatra Dal in DU
hear-news
player
google_news print-icon

ঢাবিতে ছাত্রদলের ওপর ছাত্রলীগের হামলা

ঢাবিতে-ছাত্রদলের-ওপর-ছাত্রলীগের-হামলা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের পেটাচ্ছেন এফ রহমান হলের ছাত্রলীগের সভাপতিসহ (লাল টিশার্ট পরা) অন্যরা । ছবি: নিউজবাংলা
হামলায় স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মুনেম শাহরিয়ার মুনকে নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উপর অতর্কিত হামলা করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। হামলায় ছাত্রদলের তিনজন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হলের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘঠেছে।

হামলায় স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মুনেম শাহরিয়ার মুনকে নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নতুন কমিটি হওয়ার পর পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। উপাচার্য তাদের বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দেখা করার সময় দিয়েছিলেন।

ঢাবিতে ছাত্রদলের ওপর ছাত্রলীগের হামলা
ঢাবিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলায় আহতরা। ছবি: নিউজবাংলা

সরেজমিনে দেখা যায়, ৪টা ২০ মিনিটে ছাত্রদলের ২০-২৫ জন নেতাকর্মী নীলক্ষেতের মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের সামনে দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। তারা স্যার এ এফ রহমান হলের সামনে আসলেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হল থেকে লাঠিসোটা নিয়ে ‘ধর ধর’ বলে তাদের দিকে তেড়ে যান।

এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির সামনে দাঁড়িয়ে যান। পরে রিয়াজ এবং মুনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের উপর অতর্কিত হামলা করে।

এতে ছাত্রদলের তিনজন নেতাকে গুরুতর আহত হয়ে তাদের শরীর থেকে রক্ত পড়তে দেখা যায়।

ছাত্রদলের ঢাবি সভাপতি খোরশেদ আলম সোহেল দাবি করেন, ছাত্রলীগের হামলায় তাদের ১৫-২০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হামলার পর স্যার এ এফ রহমান হল এবং বিজয় একাত্তর হল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নেয়। সে সময় তারা ‘ছাত্রদলের চামড়া, তুলে নেব আমরা’, ‘ছাত্রদলের আস্তানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘হৈ হৈ রই রই, ছাত্রদল গেলি কই’ স্লোগান দিতে থাকে।

হামলায় এফ রহমান হলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও ছাত্রলীগের কর্মী আলী হাসান রিফাত, মেহেদি হাসান, মহিবুল্লাহ লিয়ন, সামি, হৃদয়, তানভীর হাসান শান্ত, আসিফ, মোমিন, শওকত, মেহেদি হাসান শান্ত, আলভী অংশ নেয়।

হামলার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে এফ রহমান হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মুনেম শাহরিয়ার মুন বলেন, ‘আজকে আমাদের উপাচার্যকে স্মারকলিপি দেয়ার কর্মসূচি ছিল। স্মারকলিপি দিয়ে আমরা সেখান থেকে হলের দিকে আসছিলাম। এ সময় অন্যপাশে থাকা আমাদের এক কর্মীকে তারা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এ কারণে তাদের সাথে আমাদের কয়েকজন কর্মীর ঝামেলা হয়েছে।’

আপনাদেরই শুরুতে মারতে দেখা গেছে জানালে তিনি বলেন, ‘যখন আমাদের কর্মীর উপর হামলা হয়েছে, তখন বাকিরা তাদের উপর হামলা করেছে। এখানে একপাক্ষিক হামলা হয়নি। দুই পক্ষ থেকেই হামলা হয়েছে।’

এ এফ রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ছাত্রদলের অন্যায়কে প্রশ্রয় দিব না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে তাদের আমরা প্রতিহত করব। তারা আমাদের এক কর্মীকে আহত করার পর আমরা তাদের প্রতিহত করতে গেছি।’

আহত কর্মীর নাম জানতে চাইলে রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘কর্মীর নাম কেমনে বলতে পারব? তার নাম জানা নেই।’

আরও পড়ুন:
‘পচা মাংস’ দেয়ায় ঢাবি হলের দোকানে ভাঙচুর, মারধর
ছাত্রলীগ নেত্রীদের ‘ক্রেডিট নেয়ার’ স্মারকলিপি
ঢাবির হলে ‘ম্যানার’ ভাঙায় ৩ শিক্ষার্থীকে পিটুনি
অনুমতি না নিয়ে দূতাবাসে চাকরি: ঢাবি শিক্ষক বরখাস্ত
থিসিস জালিয়াতিতে ঢাবি শিক্ষকের পদাবনতি, বাতিল ডিগ্রিও

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Chubby art students on the road again

ফের সড়কে চবি চারুকলার শিক্ষার্থীরা

ফের সড়কে চবি চারুকলার শিক্ষার্থীরা এক দফা দাবীতে রাস্তা অবরোধ করেছে চবি চারুকলার শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে চারুকলা ইনস্টিটিউটের সামনে বাদশাহ মিয়া রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। এ সময় তারা স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে অবস্থান অব্যাহত রাখেন।

মূল ক্যাম্পাসে ফেরার এক দফা দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা।

তাদের অভিযোগ, ২৮ দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে পারেনি প্রশাসন ও স্থানান্তর সংক্রান্ত গঠিত কমিটি। একই সঙ্গে প্রশাসনের নির্দেশ থাকলেও চারুকলার শিক্ষকরা এ বিষয়ে অ্যাকাডেমিক কমিটির আর কোনো বৈঠকে বসেননি। পাশাপাশি তারা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে চারুকলা ইনস্টিটিউটের সামনে বাদশাহ মিয়া রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। এ সময় স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে অবস্থান অব্যাহত রাখেন।

এর আগে গত ১৬ নভেম্বর থেকে তারা মূল ক্যাম্পাসে অবরোধ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ২০ নভেম্বর একজন সহকারী প্রক্টর, চারুকলা পরিচালক এবং ১২ শিক্ষককে প্রায় ১০ ঘণ্টার মতো অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা।

চারুকলা স্নাতক চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী খন্দকার মসরুল আল ফাহিম বলেন, ‘আমরা আজ থেকে ফটকের বাইরে অবস্থান কর্মসূচি ও সড়ক অবরোধ করছি। প্রশাসন একটা কমিটি করেছিল, কিন্তু দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও কমিটি স্থানান্তর বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য দিতে পারেনি। তাহলে এই কমিটির মানে কী?

আমরা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। সমাধান না আসা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।’

ফের সড়কে চবি চারুকলার শিক্ষার্থীরা

এ বিষয়ে 'চারুকলাকে ক্যাম্পাসে স্থানান্তর' বিষয়ক কমিটির আহ্বায়ক চবির ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ মামুন বলেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলাম। ক্যাম্পাস স্থানান্তরের বিষয়ে সরকারি ও আইনি যে প্রক্রিয়া আছে, সেগুলো আমরা তাদের বলেছিলাম। গ্যাজেটের কপি তাদের দেখিয়েছিলাম। তারাও আমাদের সঙ্গে সম্মত হয়েছিল। আমরা সুপারিশ করেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্ষদে সিদ্ধান্ত পাস হয়ে আসতে হবে। তারপর সরকারের সম্মতি নিয়ে চারুকলাকে স্থানান্তর করতে হবে। এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করব, বিশ্ববিদ্যালয়ও এই প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

প্রসঙ্গত, গত ২ নভেম্বর থেকে ২২ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান কর্মসূচি ও ক্লাস বর্জন শুরু করেন চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের ২২ দফা পরে এক দাবিতে রূপ নেয়। বর্তমানে তাদের একটাই দাবি, তারা মূল ক্যাম্পাসে ফিরে যেতে চান।

আরও পড়ুন:
হলে প্রবেশের সময়সীমাকে চবি ছাত্রীদের প্রত্যাখ্যান
চবির ভর্তি পরীক্ষা শুরু ১৬ আগস্ট
বাসের দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে ৫ ঘণ্টা
স্বাধীনতা দিবসে ৫০ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা দেবে চবি
যে বিপদ ওত পেতে আছে চবি রেলস্টেশনে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
What is the reason behind more than one lakh drop in SSC

এসএসসিতে এক লাখ বেশি ফেলের পেছনে কী কারণ

এসএসসিতে এক লাখ বেশি ফেলের পেছনে কী কারণ এসএসসির একটি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীরা। ফাইল ছবি
কয়েকটি বছরের ফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, গত বছরের পরিসংখ্যান বাদ দিলে এর আগের বছরগুলোর তুলনায় পাসের হারে এবার বড় ধরনের হেরফের নেই। বরং ২০১৯ বা ২০২০ সালের তুলনায় এবার পাসের হার খানিকটা বেশি।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয়া ১৯ লাখ ৯৪ হাজার ১৩৭ শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেনি ২ লাখ ৫০ হাজার ৫১৮ জন। অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এই সংখ্যা গত বছরের চেয়ে এক লাখেরও বেশি।

এ বছর ২ হাজার ৯৭৫টি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে, তবে ৫০টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়নি। গত বছর এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ১৮। ২০২১ সালে শতভাগ পাসের প্রতিষ্ঠান ছিল ৫ হাজার ৪৯৪।

প্রশ্ন উঠেছে, আগের বছরের তুলনায় এবার পাসের হারে কেন এত অবনতি? এটি ধারাবাহিক ঘটনা কি না, কী এর কারণ- তেমন প্রশ্নও উঠছে।

তবে কয়েকটি বছরের ফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, গত বছরের পরিসংখ্যান বাদ দিলে এর আগের বছরগুলোর তুলনায় পাসের হারে এবার বড় ধরনের হেরফের নেই। বরং ২০১৯ বা ২০২০ সালের তুলনায় এবার পাসের হার খানিকটা বেশি।

চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সামগ্রিকভাবে পাসের হার ৮৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ। অর্থাৎ এ বছর ১২ দশমিক ৫৬ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

আগের বছর ২০২১ সালে মাত্র ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেনি।

তবে ২০২০ সালে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৮২ দশমিক ৮৭ শতাংশ, অর্থাৎ সে বছর ১৭ দশমিক ১৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

তারও আগের বছর ২০১৯ সালে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থী ছিল ১৭ দশমিক ৮০ শতাংশ। চারটি বছরের ফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, গত বছরটিতেই কেবল আকস্মিকভাবে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ব্যাপক হারে কমে আসে।

এসএসসির ফলে বিশেষ উন্নতির পেছনে কী কারণ ছিল ২০২১ সালে?

শিক্ষা বোর্ড এবং বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকেরা বলছেন, করোনাকালীন বিশেষ পরিস্থিতি ২০২১ সালের পরীক্ষায় বিস্ময়কর পাসের হারে ভূমিকা রেখেছে। করোনা মহামারির অচলাবস্থার পর গত বছরের এসএসসিতে মাত্র তিনটি পরীক্ষা নেয়া হয়।

গত বছর বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, জীববিদ্যা/উচ্চতর গণিত বিষয়ে তিনটি পরীক্ষা হয়। মানবিকে ছিল ভূগোল ও পরিবেশ, বাংলাদেশের ইতিহাত ও বিশ্বসভ্যতা, পৌরনীতি ও নাগরিকতা/অর্থনীতির ওপর তিনটি পরীক্ষা। আর ব্যবসায়ে শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা হিসাববিজ্ঞান, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং এবং ব্যবসায়িক উদ্যোগ বিষয়ে পরীক্ষা দেয়।

অন্য বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে নম্বর যোগ হয় জেএসসি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে। ফলে অনেক চাপমুক্ত থেকে পরীক্ষা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। অকৃতকার্যের হারও ছিল অনেক কম। বিপরীতে এ বছর নয়টি বিষয়ে পরীক্ষা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

পরীক্ষাসংশ্লিষ্টরা বলছেন এ বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল কেমন হলো তা সঠিক পর্যালোচনা করতে তুলনাটি করতে হবে করোনা স্থবিরতা তৈরি হওয়ার আগের বছরগুলোর সঙ্গে। আর সে ক্ষেত্রে দেখা যায়, ২০২০ সাল বা ২০১৯ সালের তুলনায় পাসের হার এবার বেড়েছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান তপন কুমার সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের এবারের ফলের সঙ্গে ২০২১ সালের তুলনা করা উচিত হবে না। তুলনা করতে হলে ২০১৯ বা ২০২০ সালের সঙ্গে করা উচিত।

‘২০২১ সালে শিক্ষার্থীরা সুবিধা পেয়েছে বেশি। অর্ধেক নম্বরের ওপর পরীক্ষা ছিল। এবার কিন্তু তা ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘২০১৯ অথবা ২০২০ সালে পরীক্ষার্থীদের জন্য কোনো আলাদা সুযোগ ছিল না। করোনা পূর্ববর্তী সময়ের হওয়াতে সবগুলো বিষয়ের ওপর ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হয়েছিল।’

যশোর শিক্ষা বোর্ডের প্রধান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গতবার কম বিষয়ের কারণে পাসের হারও বেশি ছিল। শর্ট সিলেবাসে তারা বেশি সুযোগ পেয়েছে। এবার সিলেবাসও কম ছিল আবার পরীক্ষায় অপশন বেশি ছিল। তবে এবার যারা পাস করেছে তারা সবাই ভালো করেছে।’

রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরজাহান বেগম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যদি আমরা ফলাফল ও শিখনের ওপর গুরুত্ব দিই তবে আমাদের এবারের ফল ২০২০ সালের চেয়ে ভালো। ২০২১ সালে মাত্র তিনটি বিষয়ে অর্ধেক নম্বরের ওপর পরীক্ষা হলেও এবার নম্বর ও বিষয় বেড়েছে।’

বরিশাল জিলা স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক বিশ্বনাথ সাহা অবশ্য মনে করছেন এবারের ফলের ওপরেও করনাকালীন পরিস্থিতির প্রভাব রয়ে গেছে।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনার একটা প্রভাব থেকেই যাবে। যত সুযোগ দেয়া হোক না কেন একটা শিখন ঘাটতি থাকবে। অনেকেই সে সময় ঝরে গেছে, যারা ছিল তারাই ভালো করেছে। এটা ঠিক হতে কিছু বছর সময় লাগবে।’

প্রভাব ফেলেছে বন্যাও

এসএসসি পরীক্ষার সময়ে সিলেট বিভাগে বন্যা ওই অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। এবার সিলেট বোর্ডে সবচেয়ে কম ৭৮ দশমিক ৮২ শতাংশ শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সোমবার ফলের বিস্তারিত তুলে ধরার শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনিও এ বিষয়টি তোলেন।

পরীক্ষায় পাসের হার নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই সব শিক্ষার্থী পাস করবে। আমাদের সবকিছুই ঠিক ছিল, তবে একটা কারণে (বন্যা) সেটা হয়নি। সবকিছু বাদ দিয়েছি। নতুন করে আবার রুটিন দিয়েছি। এ কারণে কিন্তু শিক্ষার্থীর ওপর একটা চাপ পড়ে। একরকম প্রিপারেশন থাকে, সেটা ব্যাহত হয়।’

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন বোর্ডের রেজাল্ট কিন্তু একটা আলাদা আলাদা প্রভাব ফেলে। যশোর বোর্ডে যেমন ৯৫ ভাগ আছে, আবার কোথাও কোথাও ৭৮ ভাগ। বন্যার কারণে এটা হতেই পারে। অনেক স্কুলে সমস্যা হয়েছে, অনেক পরীক্ষার্থীকে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে হয়েছে।’

কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্য পাসের হার নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকবার এটা নিয়ে যে ব্যবস্থা নিই, এবারও সেটা নেব। আমরা কতটা সাপোর্ট দিয়ে থাকি আর কোথায় ঘাটতি আছে সেটা দেখতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘একটা লার্নিং গ্যাপ আছে। এটা সারা বিশ্বেই আছে। তবে এটা পরিবর্তন করতে হবে। আমাদের লার্নিং গ্যাপ করোনার সময় বাড়েনি। অনেক দেশে এটা অনেক বেড়েছে। এখানে সে সময় ৯৩ ভাগ শিক্ষার্থীর কাছে অ্যাসাইনমেন্টপদ্ধতি পৌঁছে গিয়েছিল, এতে তারা নিজেরাই শিখন ঘাটতি পূরণ করেছে।’

গত বছরের চেয়ে এবার বেড়েছে জিপিএ ফাইভ

গত বছরের চেয়ে এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার কমলেও জিপিএ ফাইভ বেড়েছে প্রায় ১ লাখ। চলতি বছর জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ শিক্ষার্থী। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮৩ হাজার ৩৪০ শিক্ষার্থী।

এবার সাধারণ বোর্ডে জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৭৬৩ শিক্ষার্থী। পাসের হার ৮৮ দশমিক ১০ শতাংশ।

দাখিলে জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ১৫ হাজার ৪৫৭ শিক্ষার্থী। পাসের হার ৮২ দশমিক ২২ শতাংশ।

কারিগরি বোর্ডে জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ১৮ হাজার ৬৫৫ শিক্ষার্থী। পাসের হার ৮৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে কমেছে পাসের হার, বেড়েছে জিপিএ ফাইভ
এসএসসির সাফল্যে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস
পাসের হারে সিলেট কেন তলানিতে
এবার পরীক্ষার্থী কমলেও ফেল বেড়েছে লাখের বেশি
পাসের হারে শীর্ষে যশোর, তলানিতে সিলেট

মন্তব্য

বাংলাদেশ
This time although the number of candidates has decreased the number of failures has increased by more than 100000

এবার পরীক্ষার্থী কমলেও ফেল বেড়েছে লাখের বেশি

এবার পরীক্ষার্থী কমলেও ফেল বেড়েছে লাখের বেশি এসএসসিতে এবার অকৃতকার্যের সংখ্যা বেড়েছে। ফাইল ছবি
তুলনামূলক ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১ সালে অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থী ছিল ২২ লাখ ৪০ হাজার ৩৯৫ জন। উত্তীর্ণ হয়েছিল ২০ লাখ ৯৬ হাজার ৫৪৬। অর্থাৎ গত বছর ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৪৯ শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এ বছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমলেও অকৃতকার্যের সংখ্যা গতবারের চেয়ে এক লাখের বেশি বেড়েছে।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয়া ১৯ লাখ ৯৪ হাজার ১৩৭ শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেনি ২ লাখ ৫০ হাজার ৫১৮ জন।

এর মধ্যে অকৃতকার্য ছেলে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ২৮ হাজার ১৪৭, আর মেয়েদের মধ্যে পরীক্ষার বাধা অতিক্রম করতে পারেনি ১ লাখ ২২ হাজার ৩৭৩ জন।

এবার পরীক্ষায় ছেলে শিক্ষার্থী ছিল ৯ লাখ ৯৮ হাজার ১৯৩ জন। ৯ লাখ ৯৫ হাজার ৯৪৪ মেয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেয়।

তুলনামূলক ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১ সালে অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থী ছিল ২২ লাখ ৪০ হাজার ৩৯৫ জন। উত্তীর্ণ হয়েছিল ২০ লাখ ৯৬ হাজার ৫৪৬। অর্থাৎ গত বছর ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৪৯ শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এ বছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমলেও অকৃতকার্যের সংখ্যা গতবারের চেয়ে এক লাখের বেশি বেড়েছে।

এ বছর ২ হাজার ৯৭৫টি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে, তবে ৫০টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়নি। গত বছর এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ১৮। ২০২১ সালে শতভাগ পাসের প্রতিষ্ঠান ছিল ৫ হাজার ৪৯৪।

এবার পরীক্ষায় সামগ্রিকভাবে পাসের হারও কমেছে। এসএসসিতে এ বছর পাস করেছে ৮৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী, গতবার এই হার ছিল ৯৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ। সে হিসাবে পাস কমেছে ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ।

তবে গত বছরের চেয়ে এবার জিপিএ ফাইভ বেড়েছে প্রায় ১ লাখ। চলতি বছর জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ শিক্ষার্থী। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮৩ হাজার ৩৪০ শিক্ষার্থী।

এবার সাধারণ বোর্ডে জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৭৬৩ শিক্ষার্থী। পাসের হার ৮৮ দশমিক ১০ শতাংশ।

দাখিলে জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ১৫ হাজার ৪৫৭ শিক্ষার্থী। পাসের হার ৮২ দশমিক ২২ শতাংশ।

কারিগরি বোর্ডে জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ১৮ হাজার ৬৫৫ শিক্ষার্থী। পাসের হার ৮৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সোমবার দুপুরে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি ফল প্রকাশ করেন।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব কামাল হোসেন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবু বকর ছিদ্দীক।

এর আগে বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফলের সার্বিক পরিসংখ্যান তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। পরে বিভিন্ন বোর্ডের চেয়ারম্যান তাদের ফলের পরিসংখ্যান সরকারপ্রধানের হাতে তুলে দেন।

আরও পড়ুন:
পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে উত্তরপত্র ‘গায়েব’, ২ পরিদর্শক সাময়িক বরখাস্ত
প্রাথমিকে পরীক্ষা নিয়ে ভাইরাল নির্দেশনা অসত্য
এসএসসির ফল ২৮ নভেম্বর
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে বন্ধ হোক বয়স বিবেচনা: শিক্ষামন্ত্রী
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা শুক্রবারই

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Relief at Messis awakening in DU

মেসিদের জাগরণে স্বস্তি ঢাবিতে

মেসিদের জাগরণে স্বস্তি ঢাবিতে মাঠে উদযাপনে টিম আর্জেন্টিনা। ছবি: এএফপি
আমজাদ হোসেন হৃদয় নামের এক ছাত্র বলেন, ‘আজকের খেলায় মেসির কাছে আমাদের প্রত্যাশা ছিল। নিজে গোল দেয়া এবং ফার্নান্দেসকে দিয়ে করানো গোলটা দেখে কিছুটা স্বস্তি অনুভব করছি। মার্টিনেজের সেভটাও দেখার মতো ছিল।’

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের সঙ্গে হেরে খাদের কিনারায় চলে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেখান থেকে উঠে আসতে বিকল্প ছিল না জয়ের।

কাতারের লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে অধরা সেই জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নেমেছিলেন মেসি, ফার্নান্দেসরা, কিন্তু বাংলাদেশ সময় শনিবার মধ্যরাতের ম্যাচের প্রথমার্ধ পর্যন্ত বুক চিনচিন করছিল দর্শকদের। তীর্থের কাকের মতো গোলের অপেক্ষায় ছিলেন তারা।

সে অপেক্ষার অবসান হয় দ্বিতীয়ার্ধে। দলপতি লিওনেল মেসির নীরবতা ভাঙানো গোলে প্রাণ ফেরে দর্শকদের। এরপর এনজো ফার্নান্দেসের দ্বিতীয় গোলে আসে স্বস্তি, যা বহাল ছিল রেফারির শেষ বাঁশি পর্যন্ত।

মেক্সিকোর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার গুরুত্বপূর্ণ এ জয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দর্শকদের মতো প্রাণ ফেরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি, মুহসীন হলের মাঠে বড় পর্দায় খেলা দেখা দর্শকদের। গভীর রাতে তাদের মুখ থেকে বের হয় চাপা অভিমান আর আনন্দের কথা।

বাঁশি বাজিয়ে, মোটরসাইকেলে শোডাউন করে, আর্জেন্টিনার পতাকা গায়ে প্যাঁচিয়ে, নেচে-গেয়ে মেসিদের জয় উদযাপন হয় ঢাবি ক্যাম্পাসে। অনেকে স্লোগান দিতে দিতে ফেরেন হল আর বাসায়।

মেসিদের জাগরণে স্বস্তি ঢাবিতে

এমন মুহূর্তে কথা হয় কিছু আর্জেন্টিনাপ্রেমীর সঙ্গে। তাদের একজন ঢাবি ছাত্র নাসিমুল হুদা বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা আরেকটু বেশি ছিল। তারপরও জয় পেয়েছি দেখে ভালো লাগছে।

‘প্রথমার্ধের খেলায় আমরা মোটেও সন্তুষ্ট হতে পারিনি। যখন খেলা দেখছিলাম, তখন প্রচণ্ড রাগ উঠছিল। কারণ আর্জেন্টিনা এত বাজে খেলবে, সেটা মানতে পারছিলাম না। তাদের আরও ভালো খেলা উচিত ছিল।’

আরেক ছাত্র সিদ্দিক ফারুক বলেন, ‘প্রথমার্ধে মন খারাপ থাকলেও মেক্সিকোর এত ডিফেন্সের ভেতর মেসির গোল এবং ফার্নান্দেসকে দিয়ে করানো গোলটা অসাধারণ ছিল, তবে আমাদের খেলায় আরও অনেক উন্নতি করা দরকার। এই খেলা দিয়ে আমরা ফাইনালের স্বপ্ন দেখার সাহস করতে পারি না।’

আমজাদ হোসেন হৃদয় নামের এক ছাত্র বলেন, ‘আজকের খেলায় মেসির কাছে আমাদের প্রত্যাশা ছিল। নিজে গোল দেয়া এবং ফার্নান্দেসকে দিয়ে করানো গোলটা দেখে কিছুটা স্বস্তি অনুভব করছি। মার্টিনেজের সেভটাও দেখার মতো ছিল।

‘আশা করছি পোল্যান্ডের ম্যাচে আমরা জিতব। আমি অনেক বেশি করে চাইছি, কাতার বিশ্বকাপটা আর্জেন্টিনার হোক।’

এসইএস শাহিনের কাছে মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল ফাইনাল। এতে জয়ের পর তার ভাষ্য, ‘আর্জেন্টিনার সামনে দুইটা ফাইনাল ছিল। একটাতে আজ জিতেছে; আরেকটা আগামী বৃহস্পতিবার।

‘সেটাতেও জিতবে বলে আশা আছে, তবে দলের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, কেউই ফর্মে নাই। তারপরও আমি আশা ছাড়তে চাই না।’

আর্জেন্টিনার বহুল প্রতীক্ষিত এ জয়ের উচ্ছ্বাসের ঢেউ দেখা গেছে ছাত্রীদের হলে। হল গেটের ভেতর থেকে ‘মেসি মেসি’ স্লোগান দিতে দেখা যায় ছাত্রীদের।

প্রিয় দলের খেলা বড় পর্দায় দেখবে বলে অনেক ছাত্রী নির্ধারিত সময় রাত ১০টার মধ্যে হলে ঢোকেননি। খেলা শেষে তারা বাইরে বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করে, আড্ডা দিয়ে রাত কাটিয়েছেন।

এমনই একজন তাসনুভা জাহান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাত ১০টায় হল বন্ধ হয়ে যায়। সেখানে বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা নেই। সবার সঙ্গে বড় পর্দায় খেলা দেখার মজাটাই অন্যরকম। আর সেটা যদি হয় প্রিয় দলের, তাহলে আনন্দটা দ্বিগুণ হয়।

‘তাই আজকে খেলা শেষে বান্ধবীদের সঙ্গে ক্যাম্পাসেই গল্প, আড্ডা করতে করতে রাত কাটাতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আজকে মেসি জিতেছে; অনেক খুশি। এবার অন্তত বিশ্বকাপটা মেসির হোক।’

আরও পড়ুন:
চাপ সামলে জয় অস্ট্রেলিয়ার
আর্জেন্টিনার সামনে যেসব সমীকরণ
সৌদি ফুটবলারদের রোলস রয়েস পাওয়ার খবরটি ভুয়া
মুহিন-ঝিলিকের ‘ছুটছে মেসি ছুটছে নেইমার’
সেই মাঠে আবার নামছে আর্জেন্টিনা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Alleged beating of Chhatra Dal leader at workplace

জবিতে ছাত্রদল নেতাকে পেটানোর অভিযোগ

জবিতে ছাত্রদল নেতাকে পেটানোর অভিযোগ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছাত্রদল নেতা সাইদুল ইসলাম শাহিন। ছবি: নিউজবাংলা
নিউজবাংলাকে শাহিন বলেন, ‘মাস্টার্সের পরীক্ষা শেষ করে ক্যাম্পাস থেকে বের হওয়ার সময় ক্যানটিনের সামনে এলে বিজয়সহ কয়েকজন আমাকে ঘিরে ধরে। আমি ছাত্রদল করি কি না, এটা জিজ্ঞেস করে মারতে থাকে।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের এক নেতার ওপর ছাত্রলীগ কর্মীদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় আহত সাইদুল ইসলাম শাহিন শাখা ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত কমিটির যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার বেলা দুইটার দিকে শাহিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার সামনে এলে ছাত্রলীগের একদল কর্মী তার ওপর হামলা করে বলে জানিয়েছেন ছাত্রদল নেতা। হামলায় আহত শাহীনের চোখ ও ঠোঁটে জখম হয়।

ছাত্রলীগের কর্মী গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী মাহিমুর রহমান বিজয় এই হামলার নেতৃত্ব দেন বলে জানান শাহিন। তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নিউজবাংলাকে শাহিন বলেন, ‘মাস্টার্সের পরীক্ষা শেষ করে ক্যাম্পাস থেকে বের হওয়ার সময় ক্যানটিনের সামনে এলে বিজয়সহ কয়েকজন আমাকে ঘিরে ধরে। আমি ছাত্রদল করি কি না, এটা জিজ্ঞেস করে মারতে থাকে।’

১৬ নভেম্বর একই কায়দায় শাখা ছাত্রদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক মুবাইদুর রহমানের ওপর একই কায়দায় হামলা হয় সেদিনও মাহিমুর রহমান বিজয় ও তার দলবলের বিরুদ্ধে ওঠে অভিযোগ।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সুজন মোল্লা বলেন, ‘আমরা এখনও ক্যাম্পাসে ঢুকি নাই। তার আগেই ছাত্রলীগ টার্গেট করে আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করছে। তাদের এই সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বন্ধ না করলে এসবের দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম আকতার হোসাইন বলেন, ‘আমরা সারা দিন ক্যাম্পাসেই ছিলাম। এ রকম কোনো ঘটনা ঘটেছে বলে আমার জানা নেই।’

এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ পাননি বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোস্তফা কামাল।

আরও পড়ুন:
জবি ছাত্রদল নেতাকে ছাত্রলীগের মারধরের অভিযোগ, প্রতিবাদ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার
নিখোঁজ তিন নেতাকে নিয়ে জবি ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Initially the viral instructions about the test are false

প্রাথমিকে পরীক্ষা নিয়ে ভাইরাল নির্দেশনা অসত্য

প্রাথমিকে পরীক্ষা নিয়ে ভাইরাল নির্দেশনা অসত্য প্রাথমিকে পরীক্ষা নিয়ে এমন কথিত নির্দেশনা ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ছবি: সংগৃহীত
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরের দাবি, ভুয়া নথির ভিত্তিতে কিছু সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে। এই ভুয়া নথি ছড়ানোয় জড়িতদের চিহ্নিত করতে তদন্ত চলছে।

প্রাথমিক স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষায় শিক্ষক শ্রেণিকক্ষের বোর্ডে প্রশ্নপত্র লিখবেন, আর শিক্ষার্থীরা বাড়ি থেকে আনা সাদা কাগজে এই প্রশ্নের উত্তর লিখে জমা দেবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এমন একটি ‘নির্দেশনা’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম। তবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের দাবি, এ ধরনের কোন নির্দেশনা তারা দেয়নি।

ছড়িয়ে পড়া নির্দেশনাটি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড মিনিটরিং বিভাগের পরিচালক মনীষ চাকমার বরাতে প্রকাশিত হয়েছে। তবে সেখানে তার কোন স্বাক্ষর নেই। নথিটিতে কোনো তারিখ বা স্মারক নম্বরও নেই। তবে এতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুটি পত্রের স্মারক নম্বর ও তারিখ উল্লেখ রয়েছে।

নির্দেশনায় উল্লিখিত ৩১ অক্টোবর ও ১ নভেম্বরের ওই দুটি স্মারক নম্বরের নথি পেয়েছে নিউজবাংলা। এতে দেখা গেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নির্দেশনাটির সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের দুটি নথির নির্দেশনার কোনো মিল নেই।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত ৩১ অক্টোবরের নথিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক মূল্যায়ন পদ্ধতি কীভাবে হবে সে সম্পর্কে বিস্তারিত রূপরেখা দেয়া হয়। সেখানে বাড়ি থেকে শিক্ষার্থীর খাতা নিয়ে আসা বা বোর্ডে প্রশ্নপত্র লেখার মতো কোনো নির্দেশনা নেই।

এছাড়া ১ নভেম্বরের নথিতে আগের দিনের (৩১ অক্টোবর) নির্দেশনা ও শিক্ষার্থীর শিখন অগ্রগতির প্রতিবেদন-২০২২ যথাযথভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

এই দুই তারিখের নথিতেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার স্বাক্ষর ও স্মারক নম্বর রয়েছে।

প্রাথমিকে পরীক্ষা নিয়ে ভাইরাল নির্দেশনা অসত্য
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত ৩১ অক্টোবর ও ১ নভেম্বরের নথি

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরের দাবি, ভুয়া নথির ভিত্তিতে কিছু সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে। এই ভুয়া নথি ছড়ানোয় জড়িতদের চিহ্নিত করতে তদন্ত চলছে।

শিক্ষার্থীদের বাড়ি থেকে খাতা আনা ও বোর্ডে প্রশ্ন লেখার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি জানিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তিও দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

২১ নভেম্বরের ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০২২ শিক্ষাবর্ষের বার্ষিক মূল্যায়ন পদ্ধতি’ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় যে সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে সে ব্যাপারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।

এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে, অধিদপ্তর জানায়, এখন পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে এ বিষয়ে কোনো নিদের্শনা দেয়া হয়নি। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় মনে করে, প্রাথমিক পর্যায়ের কোমলমতি শিশুদের সম্পর্কিত স্পর্শকাতর বিষয়ে এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত।’

একই দিন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ রেজওয়ান হায়াতের সই করা বিজ্ঞপ্তিতেও একই তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, “সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০২২ শিক্ষাবর্ষের বার্ষিক মূল্যায়ন পদ্ধতি’ বিষয়ে স্বাক্ষরবিহীন একটি পত্র সামাজিক যোগাযোগ ও বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক, প্রিন্ট মিডিয়ায় সম্প্রচার করা হচ্ছে যা অনভিপ্রেত ও অসত্য। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এখনো পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেয়নি। উপযুক্ত সময়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর হতে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হবে। এ অবস্থায়, উপযুক্ত বিষয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করা হলো।”

কয়েকটি সংবাদমাধ্যম তাদের প্রতিবেদনে দাবি করে, কয়েকটি উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা আলোচিত নির্দেশনাগুলো পেয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ রেজওয়ান হায়াত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এসব কর্মকর্তা কীভাবে সেটি পেয়েছেন আমাদের জানা নেই। কারণ অফিসিয়ালি আমরা এমন কিছু কোথাও পাঠাইনি। সেখানে কোনো সিগনেচার নেই। কোনো স্মারক নম্বর নেই।

‘ওনারা যদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে পেয়ে এটা বলেন, তাহলে বলতে পারেন। কী কারণে বলেছেন আমরা সেটি দেখছি।’

কী ছিল কথিত সেই নির্দেশনায়

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিজ্ঞপ্তিতে নয়টি নির্দেশনার উল্লেখ রয়েছে। এগুলো হলো:

১. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় প্রান্তিকে বা চূড়ান্ত বার্ষিক মূল্যায়ন ৬ থেকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।

২. তৃতীয় প্রান্তিকে প্রতি শ্রেণিতে প্রতি বিষয়ে সর্বোচ্চ ৬০ নম্বরের মধ্যে বার্ষিক মূল্যায়ন সম্পন্ন করতে হবে।

৩ বিদ্যালয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শিক্ষকের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে এই মূল্যায়ন সম্পন্ন করতে হবে।

৪. প্রশ্নপত্র প্রণয়নে জ্ঞানমূলক, অনুধাবন, প্রয়োগমূলক ও শিক্ষণক্ষেত্র বিবেচনায় নিতে হবে।

৫. মূল্যায়ন কার্যক্রম সম্পন্নের জন্য শিক্ষার্থী বা অভিভাবকগণের নিকট থেকে কোনো মূল্যায়ন ফি গ্রহণ করা যাবে না।

৬. বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের বোর্ড-এ প্রশ্নপত্র লিখে মূল্যায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। কোনো শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অধিক হলে সেক্ষেত্রে প্রশ্নপত্র হাতে লিখে ফটোকপি করা যেতে পারে। প্রশ্নপত্র ফটোকপির প্রয়োজন হলে বিদ্যালয়ের আনুসাঙ্গিক খাত থেকে ব্যয় করা যাবে।

৭. কোনো অবস্থাতেই প্রশ্নপত্র ছাপিয়ে শিক্ষার্থীর মূল্যায়ন গ্রহণ করা যাবে না।

৮. চূড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক সাদা কাগজ বাড়ী থেকে নিয়ে আসার জন্য পূর্বেই শিক্ষাথীকে অবহিত করতে হবে।

৯. প্রত্যেকটি বিষয়ে শ্রেণিপরীক্ষাসমূহের প্রাপ্ত নম্বর এবং চূড়ান্ত প্রান্তিকের প্রাপ্ত নম্বর যোগ করে ২০২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের অগ্রগতির প্রতিবেদন প্রণয়ন করতে হবে।

এসব নির্দেশনা ছড়িয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড মিনিটরিং বিভাগের পরিচালক মনীষ চাকমার বরাতে। তবে মনীষ চাকমা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অসৎ উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরবিহীন বার্ষিক মূল্যায়ন পদ্ধতির চিঠি ছড়ানো হয়েছে। এটি অসত্য ও বানোয়াট।’

আরও পড়ুন:
স্ট্রোক করে কোথায়? বুকে নাকি মাথায়?
কাতারে নিষেধের বেড়াজালের ইনফোগ্রাফটি সঠিক নয়
এইচএসসির বিতর্কিত প্রশ্নটি কুমিল্লা বোর্ডের নয়
এবার প্রাথমিকের মূল্যায়ন যেভাবে
মাশরাফিকে ‘শীর্ষ ধনী’ বলা প্রতিবেদনই উধাও

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Student dies after falling from roof of Jagannath Hall

জগন্নাথ হলের ভবন থেকে পড়ে ছাত্রের মৃত্যু

জগন্নাথ হলের ভবন থেকে পড়ে ছাত্রের মৃত্যু লিমন কুমার রয়। ছবি: সংগৃহীত
হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মিহির লাল সাহা বলেন, ‘সকাল ১০টার দিকে সন্তোষ চন্দ্র ভট্টাচার্য ভবন থেকে পড়ে যায় ওই ছাত্র। শব্দ শুনে হলের শিক্ষার্থীরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জগন্নাথ হলের একটি ভবন থেকে পড়ে এক ছাত্র মারা গেছেন।

বুধবার সকাল ১০টার দিকে হলের সন্তোষচন্দ্র ভট্টাচার্য নামের দশ তলা ভবন থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়।

নিহত ব্যক্তির নাম লিমন কুমার রয়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনিস্টিউটের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। থাকতেন একই ভবনের ৪০২১ নম্বর কক্ষে।

হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মিহির লাল সাহা বলেন, ‘সকাল ১০টার দিকে সন্তোষ চন্দ্র ভট্টাচার্য ভবন থেকে পড়ে যায় ওই ছাত্র। শব্দ শুনে হলের শিক্ষার্থীরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘হলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আনুমানিক সকাল ১০টার দিকে ওই ছাত্রকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে। আনার পর কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেছেন। আমরা হলের ওই জায়গা পরিদর্শনে যাব। বিস্তারিত পরে জানাতে পারব।’

জগন্নাথ হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অতনু বর্মণ বলেন, ‘লাস্ট কয়েকদিন নাকি সে ডিপার্টমেন্ট নিয়ে একটু চাপে ছিল। এরপর সকাল নয়টায় সে ছাদে উঠেছে। এরপর এই ঘটনা।’

লিমন কুমারের এক রুমমেট বলেন, ‘আমরা রুমে আটজন থাকি। লিমন খুব চঞ্চল প্রকৃতির ছেলে ছিল। ফেসবুকে তার ফানি ভিডিও আছে। লিমন রুমে খুব বেশি থাকত না। সে প্রায় সময় রিডিং রুমেই থাকত। রাতে সে রুমে পড়ছিল। বিভিন্ন কথার ফাঁক দিয়ে সে বলেছে, কী যে করি পড়া মনে থাকছে না। এই দিকে পড়লে এই দিকে ভুলে যাচ্ছি।

‘এরপর সকাল সাড়ে ৮টায় আমি ঘুম থেকে উঠি। ৯টা থেকে আমার ক্লাস থাকায় আমি ফ্রেশ হচ্ছিলাম। এ সময় সে তার বেডে শুয়ে ফোন টিপছিল। তাকে জিজ্ঞেস করেছি, কী রে পরীক্ষা না তোর? পরীক্ষা দিতে যাবি না? সে বলেছে যাব। কিছু মনে থাকছে না। এরপর আমি আচ্ছা বলে রুম থেকে বের হয়ে যাই। তখন রুমে লিমন ছাড়াও আর দুইজন ঘুমিয়ে ছিল। পরে ক্লাসে এসে শুনি সে মারা গেছে।’

হলের অ্যাথলেটিক্স বেয়ারা মানিক কুমার দাসসহও আরও কয়েকজন লিমনকে হাসপাতালে নিয়ে যান। মানিক বলেন, ‘আমরা হলের কর্মচারীরা শিক্ষার্থীদের জার্মানির পতাকা লাগানোর জন্য অন্য একটি ভবনের নিচে কাজ করছিলাম। এ সময় একটা ছেলে দৌড়ে এসে আমাকে বলে, মানিকদা, একটা ছেলে পড়ে গেছে। আমি রিকশার জন্য যাচ্ছি। আপনি একটু দেখেন। এরপর আমি দৌড়ায়ে সেখানে গেছি। অনেক ছাত্র দাঁড়িয়ে ছিল। কেউ হয়তো ভয়ে উঠাচ্ছে না। এরপর আমি এবং আরেকজন কর্মচারী তাকে তুলে রিকশা করে মেডিক্যালে নিয়ে আসছি।’

তিনি বলেন, ‘আমি যখন তাকে তুলছি সে সে তখন জীবিত ছিল। চোখ একবার বন্ধ করছিল আবার খুলছিল। তখন তার সারা গায়ে রক্ত।’

আরও পড়ুন:
ঢাবি ছাত্রলীগের সম্মেলন ৩ ডিসেম্বর, দুই মহানগরের ২ ডিসেম্বর
শিক্ষক নিয়োগে মেধা ও যোগ্যতাকে প্রাধান্য দিতে হবে: রাষ্ট্রপতি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩তম সমাবর্তন শুরু

মন্তব্য

p
উপরে