× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Bangladesh Nepal joint campaign to conquer Dogari Himal
hear-news
player
print-icon

‘দোগারি হিমাল’ জয়ে বাংলাদেশ-নেপালের যৌথ অভিযান

দোগারি-হিমাল-জয়ে-বাংলাদেশ-নেপালের-যৌথ-অভিযান
এম এ মুহিত বলেন, ‘আমরা যে অভিযানে যাচ্ছি তার পরিকল্পনা গত বছর থেকে করছিলাম। এই পর্বত শৃঙ্গটি ৬ হাজার ৫৩৬ মিটার উঁচু। এ চূড়াটিতে আগে কোনো অভিযান হয়নি। যার ফলে পথঘাট সম্পূর্ণ অজানা হবে। কী কী কঠিন বিষয় আছে সেটা গিয়ে বুঝতে হবে।’

হিমালয়ের ‘দোগারি হিমাল’ নামক পর্বতশৃঙ্গ জয়ে যৌথভাবে অভিযানে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও নেপালের একটি পর্বতারোহী দল। বাংলাদেশ-নেপালের কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে এই অভিযান হচ্ছে।

এই অভিযানে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবেন দুইবার এভারেস্ট জয়ী পর্বতারোহী এম এ মুহিত।

সংবাদ সম্মেলনের বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব এসব তথ্য জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হিমালয়ের দোগারি হিমাল নামক চূড়ার উচ্চতা ২১ হাজার ৪৪৩ ফুট। ওই পর্বত চূড়ায় এখন পর্যন্ত কেউ আরোহণ করেননি।

এই যৌথ অভিযানে বাংলাদেশ থেকে চারজন ও নেপাল থেকে চার জন পর্বতারোহী অংশ নেবেন। চার সদস্যের বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দেবেন এম এ মুহিত। এ ছাড়া বাকি তিন সদস্যের মধ্যে বাহলুল মজনু ও ইকরামুল হাসান একটি ৭০০০ মিটার চূড়াসহ হিমালয়ের একাধিক পর্বত আরোহণ করেছেন এবং রিয়াসাদ সানভী ভারতে পর্বতারোহণ প্রশিক্ষণ নিয়ে নেপালে পর্বত আরোহণে অংশ নিয়েছেন।

চার সদস্যের নেপাল দলের নেতৃত্বে থাকবেন বিখ্যাত পর্বতারোহী ও গাইড মিংমা গ্যালজে শেরপা।

‘দোগারি হিমাল’ জয়ে বাংলাদেশ-নেপালের যৌথ অভিযান

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশের পর্বতারোহী দলের তিন সদস্য আগামী ৩ অক্টোবর নেপালের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। চতুর্থ সদস্য ইকরামুল হাসান ‘গ্রেট হিমালয়ান ট্রেইলে’ তার চলমান অভিযান স্থগিত রেখে কাঠমান্ডুতে এই দলে যোগ দেবেন।

এ অভিযানটি যৌথভাবে পরিকল্পনা করছে বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব ও ইমাজিন নেপাল। এ ছাড়া স্পন্সর করছে ইস্পাহানি টি লিমিটেড, স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেড ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক লিমিটেড।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ২৫ শতাংশ ছাড়ে অভিযাত্রীদের ঢাকা-কাঠমান্ডু-ঢাকা বিমান টিকিট দিয়েছে।

এই অভিযান নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী। আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ব্র্যাকের চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। অ্যান্টার্কটিকা ও সুমেরু অভিযাত্রী ইনাম আল হক এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানে বাংলাদেশ থেকে নেতৃত্বদানকারী ও দুইবার এভারেস্টজয়ী এম এ মুহিত বলেন, ‘আমরা যে অভিযানে যাচ্ছি তার পরিকল্পনা গত বছর থেকে করছিলাম। যা আমাদের দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর উপলক্ষে তাৎপর্যপূর্ণ। এই পর্বত শৃঙ্গটি ৬ হাজার ৫৩৬ মিটার উঁচু। এ চূড়াটিতে আগে কোনো অভিযান হয়নি। যার ফলে পথঘাট সম্পূর্ণ অজানা হবে। সবকিছু আমাদের সেখানে গিয়ে ঠিক করতে হবে। কী কী কঠিন বিষয় আছে সেটা গিয়ে বুঝতে হবে। এই অভিযানটি পরিচালনা করতে আশা করছি আমাদের ২৮ দিন সময় লাগবে।’

ব্র্যাকের চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘এই পর্বত জয়ের মাধ্যমে নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের গভীর সম্পর্ক তৈরি হবে। খেলাধুলার মাধ্যমে আমাদের আধ্যাত্মিক বিষয়গুলো আরও উন্নত করতে পারি। বাংলাদেশের পুনর্জাগরণে খেলাধুলাকে অন্যতম একটি বিষয় হিসেবে গণনা করতে হবে।’

নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী বলেন, ‘মুহিত ও তার দলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। নেপাল ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত অনেক মিল রয়েছে। নেপাল যেমন পর্বতসমৃদ্ধ ঠিক তেমনি পৃথিবীর লম্বা সমুদ্র সৈকত ও ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট আপনাদের রয়েছে। পর্যটন সেক্টরে আমরা একসঙ্গে এগিয়ে যাব। আমাদের দুটি দেশই পর্যটন সমৃদ্ধ।’

আরও পড়ুন:
১৪ চূড়া দুবার করে জয়ের রেকর্ড তার
হিমবাহ ধসে ৭ মৃত্যু, জলবায়ুকে দিলেন দায় ইতালির প্রধানমন্ত্রী
পাহাড়ের ডাক ফিরিয়ে দেয়া অসম্ভব: নিশাত মজুমদার
এবার লোবুচে শৃঙ্গ জিতলেন নিশাত
সিনাই পর্বত সৌদি আরবে, দাবি গবেষকদের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Festival of pitha in the Kingdom of Tal

তালের রাজ্যে পিঠার উৎসব

তালের রাজ্যে পিঠার উৎসব নিয়ামতপুরের ঘুঘুডাঙ্গায় তাল সম্রাজ্যে পিঠা উৎসব। ছবি: নিউজবাংলা
এ বছর তালের পাটিসাপটা, তালের জিলাপি, তালের বড়া, তালের ক্ষীর, তালের কফি, তালের আমতা, তালের নাড়ুসহ অন্তত ২০ ধরনের পিঠা পাওয়া যাচ্ছে এই মেলায়।

প্রথম দেখায় মনে হবে এ যেন তাল গাছের রাজ্য। রাস্তার দুই পাশে সারি সারি অসংখ্য তাল গাছ। এক মন জুড়ানো দৃশ্য। প্রায় ৩ কিলোমিটার রাস্তা জুড়ে এই তাল সম্রাজ্যে বসেছিল তাল পিঠার মেলা।

শনিবার বিকেল থেকে তিন দিনব্যপী এই মেলা শুরু হয়েছে। প্রথম দিনেই সেখানে সমাগম ঘটেছে হাজারো মানুষের।

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার হাজীনগর ইউনিয়নের ঘুঘুডাঙ্গা তাল সড়কে উপজেলা পরিষদের আয়োজনে প্রতিবছরই মেলার আয়োজন করা হয়। যেখানে এ অঞ্চলের বহু মানুষের সমাগম ঘটে। দর্শনার্থীরা সড়কটির সৌন্দর্য উপভোগের পাশা-পাশি স্বাদ নিতে পারেন বাহারি তাল পিঠারও।

তালের রাজ্যে পিঠার উৎসব
নিয়ামতপুরের ঘুঘুডাঙ্গায় তাল সম্রাজ্যে পিঠা উৎসবে দর্শনার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

এ বছর তালের পাটিসাপটা, তালের জিলাপি, তালের বড়া, তালের ক্ষীর, তালের কফি, তালের আমতা, তালের নাড়ুসহ অন্তত ২০ ধরনের পিঠা পাওয়া যাচ্ছে এই মেলায়।

অন্যদিকে বিভিন্ন জেলা থেকে পিঠার পসরা সজিয়ে বসেন দোকানীরা।

বদলগাছীতে থেকে আসা দোকানি জাহেরা খাতুন বলেন, ‘আমার স্টলে ১০-১২ রকমের পিঠা আছে। বেচা-কেনাও ভালো হচ্ছে। অনেক মানুষের সমাগমও ঘটেছে এই পিঠা মেলায়।’

তালের রাজ্যে পিঠার উৎসব
তালের হরেক রকম পিঠা বিকি-কিনি করছেন বিক্রেতা-ক্রেতারা। ছবি: নিউজবাংলা

সাপাহার উপজেলা থেকে আসা মীনা বেগম পিঠার স্টল দিয়েছেন মেলায়। মিনা বলেন, ‘আমার স্টলে ১০-১৫ রকমের তালের পিঠা আছে। কেউ স্টল ঘুরে দেখছেন আবার কেউ কিনে খাচ্ছেন পছন্দের পিঠাগুলো। সবমিলে অন্যরকম এক উৎসব বিরাজ করছে মেলায়।’

বিভিন্ন স্থান থেকে এসেছেন দর্শনার্থীরাও। এমন মেলায় আয়োজন করায় তারাও খুশি। জেলা শহর থেকে মেলায় আসা লতিফুর রহমান বলেন, ‘আমার স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে মেলায় এসেছি। অনেকদিন ঘুরাফিরা করা হয় না। অনেক রকমের তালপিঠা পসরা সাজানো। সবমিলে খুব ভালো লাগছে।’

সাবরিনা আক্তার নামের আরেক দর্শনার্থী বলেন, ‘আমি ও কয়েকজন বন্ধু-বান্ধবী মিলে এসেছি মেলায়। অনেক তালগাছ আবার তালপিঠার মেলা। অনেক চমৎকার আয়োজন। আমাদের খুবই ভালো লাগছে।’

পিঠা মেলায় খাদ্যমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সেখানে হাজির ছিলেন সাংবাদিক, কৃষি উন্নয়ন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ।

তালের রাজ্যে পিঠার উৎসব
হরেক রকম পিঠা নিয়ে ঘুঘুডাঙ্গার মেলায় উদ্যোক্তারা। ছবি: নিউজবাংলা

তিনি বলেন, ‘খুবই চমৎকার একটি স্থান। দুই পাশে অসংখ্য তাল গাছ। এখানেই বসেছে রকমারী পিঠার মেলা। পিঠাগুলোর অন্যরকম স্বাধ। গাছ আমাদের পরম বন্ধু। আমাদের সকলের উচিত বেশি করে গাছ লাগানো ও পরিবেশরে ভারসাম্য রক্ষা করা।’

১৯৮৬ সালের দিকে স্থানীয় হাজিনগর ইউননিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে এই তালগাছগুলো রোপণ করেছিলেন বর্তমান খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। উদ্যেশ্য ছিল, বজ্রপাত থেকে রক্ষার পাশাপাশি যোগ হবে বাড়তি সৌন্দর্য্য।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘প্রতি বছর ভাদ্র-আশ্বিনে বসানো হয় বর্ণিল এই আয়োজন। মেলাকে উপলক্ষ করে জামাই-মেয়ে আর স্বজনরা আসেন প্রতিটি বাড়িতে। মূলত নতুন প্রজন্মের কাছে বিভিন্ন প্রজাতির গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী তালের পিঠা পরিচিত করে দেয়ার জন্যই এমন আয়োজন। একটা সময় আমি থাকব না, তবে এমন আয়োজন যুগের পর যুগ থাকবে।’

আরও পড়ুন:
সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা পেল পিঠার স্বাদ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
NovoAir is the best in on time performance
বাংলাদেশ মনিটরের পুরস্কার

অন টাইম পারফরম্যান্সে সেরা নভোএয়ার

অন টাইম পারফরম্যান্সে সেরা নভোএয়ার প্রতীকী ছবি
নভোএয়ার অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনায় ২০২২ সালের ‘বেস্ট অন টাইম পারফরম্যান্স অফ দ্য ইয়ার’ ক্যাটাগরিতে স্বর্ণ জিতেছে। এ ছাড়া বেস্ট ডমিস্টিক এয়ারলাইন ক্যাটাগরিতে পেয়েছে রৌপ্য।

দেশি এয়ারলাইনসগুলোর মধ্যে এ বছর সেরা অন টাইম পারফরম্যান্স পুরস্কার পেয়েছে বেসরকারি নভোএয়ার।

পর্যটন ও এভিয়েশনভিত্তিক পাক্ষিক ‘বাংলাদেশ মনিটর’ এ পুরস্কার ঘোষণা করে।

নভোএয়ারের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নভোএয়ার অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনায় ২০২২ সালের ‘বেস্ট অন টাইম পারফরম্যান্স অফ দ্য ইয়ার’ ক্যাটাগরিতে স্বর্ণ জিতেছে। এ ছাড়া বেস্ট ডমিস্টিক এয়ারলাইন ক্যাটাগরিতে পেয়েছে রৌপ্য।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ মনিটর আকাশপথে নিয়মিত ভ্রমণকারীদের অনলাইনে মতামত জরিপের ভিত্তিতে এ পুরস্কার ঘোষণা করে।

এ বিষয়ে নভোএয়ারের হেড অফ মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস মেজবাউল ইসলাম বলেন, ‘এই স্বীকৃতি আগামীর পথচলায় আমাদের উৎসাহ জোগাবে। নভোএয়ার শুরু থেকেই সম্মানিত যাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার জন্য বদ্ধপরিকর।

‘নভোএয়ার নিরাপদ ভ্রমণে ও সময় অনুযায়ী ফ্লাইট পরিচালনায় যাত্রীদের কাছে বিশ্বস্ততা অর্জন করেছে। পূর্ণ যাত্রী সন্তুষ্টি এবং উন্নততর সেবার প্রতিশ্রুতি আমাদের পরিচালনার সকল স্তরে অব্যাহত থাকবে।’

প্রতিদিন ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সৈয়দপুর, যশোর, সিলেট, রাজশাহী ও কলকাতায় ফ্লাইট পরিচালনা করছে নভোএয়ার।

আরও পড়ুন:
নভোএয়ারের টিকিটে কক্সবাজারের থাকা ফ্রি
২৭ মার্চ থেকে ফের চালু নভোএয়ারের কলকাতা ফ্লাইট
নভোএয়ারের নবম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সেবা বাড়ানোর আশাবাদ
সৈয়দপুর বিমানবন্দরে স্বাভাবিক হলো উড়োজাহাজ চলাচল
পাইলটের দক্ষতায় বাঁচলেন নভোএয়ারের ৬৭ আরোহী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Bhutan opened the border by increasing the cost of travel

ভ্রমণের খরচ বাড়িয়ে সীমান্ত খুলে দিল ভুটান

ভ্রমণের খরচ বাড়িয়ে সীমান্ত খুলে দিল ভুটান ভুটানের একটি পর্যটন এলাকা। ছবি: সংগৃহীত
পৃথিবীতে পর্যটকদের যেসব দেশে সবচেয়ে বেশি মাশুল দিতে হয় ভুটান তার মধ্যে অন্যতম। জলবিদ্যুতের পর পর্যটনই দেশটির রাজস্বের সবচেয়ে বড় খাত। সড়কপথে বাংলাদেশ থেকে ভুটান গেলে দেশটির অভিবাসন দপ্তর থেকে এন্ট্রি পারমিট নিতে হয়। আর বিমানে গেলে নিতে হয় বিমানবন্দরের পারমিট।

করোনা পরিস্থিতিতে দীর্ঘ আড়াই বছর বন্ধ রাখার পর আবার পর্যটকদের জন্য সীমান্ত খুলে দিল পাহাড়, নদী আর ঝরনার মিতালিতে সৃষ্ট প্রকৃতির এক অপরূপ নিদর্শনের দেশ ভুটান।

আগের চেয়ে পর্যটন ফি বা সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ফি (এসডিএফ) বেশ বাড়িয়ে শনিবার দেশটির সীমান্ত খুলে দেয়া হয় বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এনডিটিভি

ভুটানে গত তিন দশক ধরে প্রতি রাতের জন্য একজন পর্যটককে দিতে হতো ৬ হাজার ৭৫০ টাকা। তবে এখন থেকে এ জন্য গুনতে হচ্ছে ২০ হাজার ৭৫০ টাকা।

ভ্রমণের জন্য এত দিন আঞ্চলিক অর্থাৎ ভারতীয় ও বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য কোনো ফি ছিল না। কিন্তু নতুন নিয়মে তাদের জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

এসব দেশের পর্যটকদের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন দিতে হবে ১৫৩০ টাকা। আর ৬ থেকে ১২ বছরের শিশুদের জন্য ৭৬৫ টাকা লাগবে।

ভুটানের কনসাল জেনারেল জিগমে থিনলে নামগিয়াল বলেন, ‘পর্যটন একটি জাতীয় সম্পদ এবং আমরা কার্বন নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করছি। এর নিজস্ব খরচ আছে। আমাদের পর্যটনকে টেকসই করতে আমরা আমাদের অবকাঠামোর উন্নয়ন করছি। এসব কারণে আমরা এই শুল্ক নিচ্ছি।’

পৃথিবীতে পর্যটকদের যেসব দেশে সবচেয়ে বেশি মাশুল দিতে হয় ভুটান তার মধ্যে অন্যতম। জলবিদ্যুতের পর পর্যটনই দেশটির রাজস্বের সবচেয়ে বড় খাত।

সড়কপথে বাংলাদেশ থেকে ভুটান গেলে দেশটির অভিবাসন দপ্তর থেকে এন্ট্রি পারমিট নিতে হয়। আর বিমানে গেলে নিতে হয় বিমানবন্দরের পারমিট।

৪৬ হাজার ৫০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দেশ ভুটানের জনসংখ্যা ৮ লাখের মতো। দেশটিতে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৬ হাজার ১০০। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২১ জনের। করোনার কারণে ২০২০ সালের মার্চ থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল এ দেশের সীমান্ত।

ভুটানের ভূপ্রকৃতি পর্বতময়। উত্তরে সুউচ্চ হিমালয় পর্বতমালা, মধ্য ও দক্ষিণ ভাগে নিচু পাহাড় ও মালভূমি এবং দক্ষিণ প্রান্তসীমায় সামান্য কিছু সাভানা তৃণভূমি ও সমভূমি আছে। মধ্যভাগের মালভূমির মধ্যকার উপত্যকাগুলোতেই বেশির ভাগ লোকের বাস।

বহির্বিশ্ব থেকে বহুদিন বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে ভুটান প্রাণী ও উদ্ভিদের এক অভয়ারণ্য। এখানে বহু দুর্লভ প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদ দেখতে পাওয়া যায়। ভুটানের প্রায় ৭০% এলাকা অরণ্যাবৃত।

আরও পড়ুন:
রিজার্ভ কমছে ভুটানের, গাড়ি আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা
ড্রুক এয়ারের ঢাকা-পারো ফ্লাইট শুরু ১ জুলাই
বাংলাদেশ থেকে ব্যান্ডউইডথ ও ট্রেইনার নেবে ভুটান
বিনা শুল্কে ভুটানে যাবে বাংলাদেশের ১০০ পণ্য

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Lokayat Shak Laukik diet

লোকায়ত শাক, লৌকিক খাদ্যাভ্যাস

লোকায়ত শাক, লৌকিক খাদ্যাভ্যাস বাংলাদেশে খাদ্যসংস্কৃতির অন্যতম উপাদান শাক। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
প্রাচীনকালে গ্রামের বাঙালির অন্যতম প্রধান খাবার ছিল শাক-সবজি। চতুর্দশ শতকের ‘প্রাকৃত-পৈঙ্গল’-এ আছে, ‘কলাপাতায় গরম ভাত, গাওয়া ঘি, মৌরলা মাছের ঝোল আর নালিতা শাক (পাট শাক) যে স্ত্রী নিত্য পরিবেশন করিতে পারেন তাঁহার স্বামী পুণ্যবান।‘

আমাদের খাদ্যাভ্যাস সংস্কৃতির শিকড় থেকে আসা। এটি প্রধানত হাজার বছর ধরে পুরাণ, ধর্ম, মিথ ও লোকাচারের ভিত্তিতে নির্মিত, আর অংশত এসেছে অন্নাভাব বা দারিদ্র্য থেকে। খাদ্যে শাকের সংযোজনও সেভাবে।

নৃসিংহ প্রসাদ ভাদুড়ী এক সাক্ষাৎকারে বৈষ্ণব সাহিত্যিক হরিদাস দাসের ভাই মুকুন্দ দাসের আতিথেয়তার স্মৃতিচারণা করে বলেছেন, সেদিন অন্য কিছু আয়োজন করতে না পেরে মাথার ওপর সুবিস্তারি তমালগাছের পাতা বেটে ভর্তা করে তিনি অতিথিদের ‘মধ্যাহ্নের’ (বৈষ্ণবরা দুপুরের আহারকে মধ্যাহ্ন বলে) আয়োজন করেছিলেন।

রাজা দশরথ মারা গেছেন এই সংবাদ পেয়ে বনবাসে থাকা রাম ইঙ্গুদি ফল বেঁটে তার সঙ্গে বদরি (কুল) মিশিয়ে কুশগাছের পাতায় বিছিয়ে ‘পিন্যাক’ তৈরি করে পিতার উদ্দেশে পিণ্ডদান করেছিলেন।

বলা বাহুল্য, বনবাসে না থাকলে নিশ্চয় উপাচারের আয়োজন অন্যরকম হতো। তাই ভাদুড়ি বলছেন, ‘আমরা যা খেতে চাই (বা পাই), দেবতাকে আমরা তাই দিই।‘

সুতরাং সারাংশ টানা যায়, আমাদের আশপাশে যা পাওয়া যায়, তা-ই নিজেরা খাই এবং এভাবে আমাদের খাদ্যাভ্যাস বা খাদ্যসংস্কৃতি গড়ে ওঠে। শাক সেই অভ্যাসের অন্যতম উপাদান।

নীহাররঞ্জন রায়ের লেখা ‘বাঙালীর ইতিহাস আদিপর্ব’ গ্রন্থে আছে, ‘নানা প্রকারের শাক খাওয়া বাঙালির এক প্রাচীনতম অভ্যাস।‘

প্রাচীনকালে গ্রামের বাঙালির অন্যতম প্রধান খাবার ছিল শাক-সবজি। চতুর্দশ শতকের ‘প্রাকৃত-পৈঙ্গল’-এ আছে, ‘কলাপাতায় গরম ভাত, গাওয়া ঘি, মৌরলা মাছের ঝোল আর নালিতা শাক (পাট শাক) যে স্ত্রী নিত্য পরিবেশন করিতে পারেন তাঁহার স্বামী পুণ্যবান।‘

পল্লীবাসী কৃষিনির্ভর বাঙালি মধ্যবিত্ত জীবনের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের পরিচয় প্রাকৃত পৈঙ্গলের আরেকটি পদে পাওয়া যায়, ‘পুত্র পবিত্রমনা, প্রচুর ধন, শুদ্ধচিত্তা স্ত্রী ও কুটুম্বিনী, হাঁক দিলেই ত্রস্ত ভৃত্যগণ- এসব ছেড়ে কোন বর্বর স্বর্গে যেতে চায়?’

পঞ্চদশ শতকের চৈতন্যচরিতামৃতে চৈতন্য দেবের খাদ্যতালিকায় ‘১০ প্রকার’ শাকের উল্লেখ দেখা যাচ্ছে-

পীত সুগন্ধী ঘৃতে অন্ন সিক্ত কৈল

চারিদিকে পাতে ঘৃত বাহিয়া চলিল।

কেয়াপত্র কলার খোলা ডোঙ্গা সারি সারি

চারিদিকে ধরিয়াছে নানা ব্যঞ্জন ভরি।

দশ প্রকার শাক নিম্ব সুকতার ঝোল

মরিচের ঝাল ছানাবড়া, বড়ি, ঘোল।

ষোড়শ শতকের চৈতন্যকাব্যগুলোতেও বাঙালির খাবার হিসেবে শাকের উল্লেখ রয়েছে। চণ্ডীমণ্ডলে অতি সাধারণ খাদ্য বর্ণনায় আছে ‘দুই তিন হাঁড়ি’ শাকের কথা!

খুদ কিছু ধার লহ সখীর ভবনে

কাঁচড়া খুদের জাউ রান্ধিও যতনে।

রান্ধিও নালিতা শাক হাঁড়ি দুই তিন

লবণের তরে চারি কড়া কর ঋণ।

অধ্যাপক যতীন সরকার একবার আমাকে গীতার (?) একটি শ্লোক শুনিয়েছিলেন, যার মর্মার্থ হচ্ছে, ‘ঘরের আশপাশেই যখন স্বাস্থ্যরক্ষা আর উদরপূর্তির ব্যবস্থা ছড়িয়ে আছে, তখন পোড়া পেটের জন্যে পাপকার্য কেন?'

আমার স্কুলের ‘পণ্ডিত স্যার’ বৈষ্ণব ছিলেন, তিনি পুঁই শাক খেতেন না, বলতেন ওটা ‘আমিষ’।

শাক কিভাবে সংস্কৃতির অংশ হলো তা বাঙালির ১৪ শাকের আচারের উদাহরণ দিলে স্পষ্ট হবে। দেওয়ালি বা ভূত চতুর্দশীর দিনদুপুরে খেতে হয় ১৪ শাকের ব্যঞ্জন আর সন্ধ্যায় জ্বালাতে হয় ১৪ প্রদীপ। ১৪ শাক* খেতে হয় কারণ এটাই ছিল এককালের কৃষিজীবী বঙ্গবাসীর নিয়ম।

কারোর জন্যে ছিল ধর্মীয় আচার। আর ১৪ প্রদীপ জ্বালিয়ে ১৪ পুরুষের** আত্মাকে তুষ্ট করতে হয়। পুরাণ মতে, মৃত্যুর পর মানব শরীর পঞ্চভূতে (আকাশ, মাটি, জল, হাওয়া, অগ্নি) বিলীন হয়। তাই মাটি থেকে তুলে আনা শাক খেলে অতৃপ্ত আত্মার রোষানল থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। লোকধর্মের এই আচারের মধ্যে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার এক অদ্ভুত সৌন্দর্য আছে।

কেউ যদি এই আচার প্রতিপালন করতে চান তাহলে তাকে ১৪ রকম শাকের (বেশির ভাগই অ-চাষকৃত বনজ উদ্ভিদ) প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে, অর্থাৎ যথেচ্ছাচারের মাধ্যমে কোনো একটি প্রজাতি যেন বিলীন হয়ে না যায়, সেদিকে মনোযোগী হতে হবে।

একসঙ্গে অনেক প্রদীপ জ্বালানো ক্ষতিকারক কীটের হাত থেকে হৈমন্তিক ফসল রক্ষা করারও প্রাকৃতিক উপায়। দেওয়ালির অমাবস্যা রাতে উন্মুক্ত জ্বলন্ত প্রদীপে আত্মাহুতি দিয়ে পোকামাকড় মরে যায়। কীটনাশক ছাড়াই ফসল রক্ষা পায়। আবার এই সময় আবহাওয়ার পরিবর্তন হয়। উত্তরের ঠাণ্ডা হাওয়া বইতে শুরু করে।

ঋতু পরিবর্তনের সময় ১৪ শাকের মিলিত পুষ্টি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, সামাজিক ও লোকধর্মীয় আচারাদি আসলে প্রয়োজন ও প্রাপ্যতার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।

জমির বৈশিষ্ট্যের কারণেই বিনা যত্নে জলা-জঙ্গল, পতিত জমি, পুকুর পাড়, জমির আইলে অনেক ধরনের শাক জন্মায়। মানুষ এদের পরিবর্তন ঘটাবার কোনো আয়োজন করেনি কখনও। সার বা পানি দিয়ে যত্নে পালন হয় না, ফলে অনেকটাই অবিকৃত থেকে গেছে এদের অবয়ব, স্বাদ ও গন্ধ।

তবে স্থানাভাবের কারণে একসময়ের শতাধিক অনাবাদি শাকের সংখ্যা এখন দ্রুত কমে আসছে। যেমন নটে শাক। তিন ধরনের নটের মধ্যে রাঙ্গানটে আর পাওয়া যায় না। সবুজনটে পাওয়া যায় আর কাঁটানটে বিলীন হওয়ার পথে।

মাথা ধরলে কাঁটানটের মূল এবং গোলমরিচ সামান্য পানি দিয়ে বেটে কপালে লাগাতে দেখা যায় গ্রামে। গর্ভাবস্থায় এবং আঁতুড়ঘরের খাবারের তালিকায় নটে শাক থাকত। এ ছাড়া অনেক অপ্রচলিত শাকও খাওয়ার চল আছে। যেমন: সজিনা, পিপুল, তেলাকুচা, নুনিয়া, ঢেঁকি, কলমি, গন্ধভাদালি, পুনর্নভা ইত্যাদি।

লোকায়ত শাক, লৌকিক খাদ্যাভ্যাস
কাঁটানটে। ছবি: জাহিদ হোসেন

পিপুল সুগন্ধিযুক্ত একটি লতানো গাছ। পাতা দেখতে অনেকটা পানের মতো। খোলা জংলা অথবা বদ্ধ জায়গায় জন্মায়। অ-চাষকৃত লতাজাতীয় উদ্ভিদ, তাই পরনির্ভরশীল। বর্ষা মৌসুমে দ্রুত বাড়ে। কাশিতে ও হাঁপানিতে পিপুলের ঝোল করে খাওয়া হতো। এখন আর আগের মতো দেখা যায় না। হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতির এই অমূল্য সম্পদ।

লোকায়ত শাক, লৌকিক খাদ্যাভ্যাস
পিপুল শাক। ছবি: জাহিদ হোসেন

সজিনা শাককে বলা হয় ‘অলৌকিক শাক’, পৃথিবীর সবচেয়ে পুষ্টিকর হার্ব। একে বলা হয় নিউট্রিশনস সুপার ফুড এবং এর গাছকে বলা হয় মিরাকল ট্রি। ডাল ও বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তার করলেও আমাদের দেশে সাধারণত ডালের মাধ্যমে বা অঙ্গজ জননের মাধ্যমে বংশবিস্তার করানো হয়। এই গাছ বাড়েও খুব দ্রুত। দুই-তিন বছরে ফুল দেয়। এর ফুল, পাতা, ফল (যাকে বলি শজনে ডাঁটা) সব কিছুই সুস্বাদু।

লোকায়ত শাক, লৌকিক খাদ্যাভ্যাস
সজিনা শাক। ছবি: সংগৃহীত

নুনিয়া শাকের স্বাদ একটু নোনতা। পতিত জমি, জমির আইল, রৌদ্রোজ্জ্বল মাটিতে জন্মায়। বলা হয় ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি এসিডের পরিমাণ এই শাকে অন্যান্য সব শাক-সবজির চেয়ে বেশি।

লোকায়ত শাক, লৌকিক খাদ্যাভ্যাস
নুনিয়া শাক। ছবি: জাহিদ হোসেন

ঢেঁকি শাকের আরেক নাম বউ শাক। বর্ষাকালে স্যাঁতসেঁতে ছায়াময় এলাকার উপযোগী। সারা বছর চুপসে থাকলেও বর্ষার মৌসুমে বেশ তরতাজা হয়ে ওঠে। গ্রামাঞ্চলে জনপ্রিয়। ঢাকায় পাওয়া যায়, তবে কম।

লোকায়ত শাক, লৌকিক খাদ্যাভ্যাস
ঢেঁকি শাক। ছবি: জাহিদ হোসেন

কলমি শাক মূলত জলের আর ভেজা মাটির শাক। জন্মের পর শিশু মায়ের বুকের দুধ না পেলে মাকে কলমি শাক রান্না করে খাওয়াতে দেখা যায়। এই শাক পুরুষের যৌন স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী বলে শোনা যায়। আজকাল কলমি বলতে বাজারে যেটা দেখা যায় তা চাষ করা হাইব্রিড কোনো পরিবর্তিত প্রজাতি। জীবনানন্দের সেই 'সারা দিন কেটে যাবে কলমীর গন্ধভরা জলে ভেসে ভেসে' দোল দোলানো, গ্রীবা বাঁকানো কলমি এগুলো নয়।

লোকায়ত শাক, লৌকিক খাদ্যাভ্যাস
কলমি শাক। ছবি: জাহিদ হোসেন

আমাদের শৈশব ছিল মূলত শাকময়। সব যে ভাতের সঙ্গে তরকারি হিসেবে খাওয়া হতো তা নয়। কিছু ক্ষেত্রে ওষুধ হিসেবেও খাওয়া হতো। যেমন: আমাশয় হলে থানকুনি শাক বেঁটে তার রস, পেট ফাঁপলে বা বদহজম হলে গন্ধভাদালির পাতা সামান্য লবণ দিয়ে সিদ্ধ করে সেই সিদ্ধ পানি এক গ্লাস, কৃমি হলে পটোলের শাক (পটোলের লতি) ভাজা গরম ভাতের সঙ্গে খাওয়ানো হতো।

জ্বরে বা মাথা ধরলে সামান্য লবণ দিয়ে আমরুল শাক বেঁটে কপালে প্রলেপ দেয়া হতো। আমাদের বাড়ির পাশে মতলেব নামের এক বাউল সাধুর আখড়া ছিল। পাশেই রাস্তা। একবার এক মাতাল খুব উপদ্রব করছিল রাস্তায়, সাধুর কাছে গাঁজা চাচ্ছিল। সাধু বলছিলেন, তিনি গাঁজার ব্যবসা করেন না, কিন্তু মাতাল শুনবে না। শেষে আমার নানি বাড়ির পাশ থেকে পুনর্নভা শাক তুলে বেঁটে তার রস খাওয়াতে দেখেছিলাম। কিছুক্ষণ পর মাতালের হুঁশ ফিরে এলো। অনেক বছর পর সেদিন চন্দ্রিমা উদ্যানে হাঁটতে যেয়ে পুনর্নভা দেখতে পেয়ে সেই পুরোনো কথা মনে পড়ছিল।

একটা কথা বলা দরকার। বাংলার গ্রামে অনাবাদি শাক সব সময়ে পাবলিক প্রপার্টি হিসাবে গণ্য হয়। অর্থাৎ জলা জঙ্গলে তো বটেই, এমনকি কৃষকের আবাদি জমিতেও যখন সাথি ফসল হিসেবে বথুয়া, দণ্ডকলস, জমির আইলে হেলেঞ্চা, থানকুনি ইত্যাদি জন্মায়, সেটা আর কৃষকের নিজের থাকে না। তার ওপর অধিকার বর্তায় গ্রামের সবার।

যে কেউ (সাধারণত নারীরা) জমির মালিকের অনুমতি ছাড়াই অনাবাদি এসব শাক তুলতে পারেন। এমনকি পথচলতি ভিনগায়ের নারীও কোনো সংকোচ ছাড়াই খেতে নেমে আঁচল ভরে এই শাক তুলে নিয়ে যেতে পারেন। কারণ এ শাক তো কোনো মালিক লাগায়নি, এটা নিজ থেকেই জন্মেছে। তাই এই শাক তোলার অধিকার সবার।

গ্রামীণ এই সংস্কৃতির সঙ্গে নারী-অধিকারের আদিম সংযোগ পাওয়া যায়। যে নারী এই শাক তোলেন তিনি আবাদি ফসলের কোনো ক্ষতি করেন না। অনাবাদি শাক তুলতে গিয়ে কখনও গাছসহ উপড়ে ফেলেন না। শুধু যে অংশটুকু রান্নার জন্য দরকার সে অংশটুকু তারা অতি যত্নের সঙ্গে তোলেন। এ কাজটি তারা খুব ভালোভাবেই করতে পারেন। এটা তাদের ইনডিজিনাস নলেজ।

শৈশবে দেখেছি, গ্রামীণ নারীরা ঘরে একটু চাল থাকলেই নিশ্চিন্ত থাকতেন। তাদের এই স্বস্তির একমাত্র কারণ ছিল শাক। একটু শাকভাত হলেই চলে যেত তাদের সংসার। এমনকি আষাঢ় মাসের অভাবের সময় কেবল কলমি শাক সিদ্ধ খেতেও দেখেছি তাদের। তবু তাদের কণ্ঠে শাক তোলার গান থাকত।

গানগুলোতে নারীর বিষাদ, বঞ্চনা, প্রেম আর পরিচর্যার সব গল্প মিশে থাকত। মনে আছে, একটা গান শুনেছিলাম বথুয়ার শাক নিয়ে (কুষ্টিয়া, যশোর, ফরিদপুর অঞ্চলের উচ্চারণ ‘বাইতো শাক’)। গানে বলা হচ্ছে, এপারে ওপারে অনেক বথুয়ার শাক, কিন্তু শাক তুলতে যেয়ে সাপ দেখে বউ ফিরে এসেছে ফলে সবাই তাকে তিরস্কার করছে। ঘরে স্বামীর কটূ কথায় একে একে সে যায় রান্নাঘরে, উঠোনে, গোয়ালে… যেখানেই যায় সবাই একই গঞ্জনা দেয়। বোঝা যায় শ্বশুরবাড়িতে তার নিজস্ব কোনো জায়গাই নেই। মনের কথা বলা বা শোনার মতো কোনও মানুষও নেই।

বথুয়া শাকের গান এভাবেই কিছু অমোঘ সত্যকে ধরে রাখে সুরের বাঁধনে। পুরো গানটা মনে নেই কিন্তু সাপের ফণা তোলায় ভয় পেয়ে শাক তোলা ফেলে ফিরে আসা নতুন বউটির জন্য এখনও মায়া জেগে আছে মনে…

ইপার বাইতো উপার বাইতো, বাইতো দুমদুম করে

বাইতো শাক তুলতি গেলি সাপে পট করে

আরেকটা গানে পাট শাক তুলতে গিয়ে আনাড়ি বউ পাটের ডগা ভেঙে ফেলেছে দেখে স্বামী মেরেছেন। বউ তাই স্বামীকে রাগ করে ‘বুড়ো’ বলছেন-

পাটশাক তুলতি পাটের ডুগা ভাইঙ্গেছে

তাই দেখে বুড়া আমাক বড্ড মাইরেছে

বুড়ার মারে আমার কপাল ফাইটেছে…

অনেক অভিযোগ আপত্তির পর বউয়ের মান ভাঙে। একটু আগে গ্রামের মানুষকে তিনি সাক্ষী মানতে ডাকছিলেন, অবশেষে তাদেরকেই জানিয়ে দেন, ‘কিছুই করেনি বুড়া সুহাগ কইরেছে…।‘

এই লেখা পড়ে যদি নতুন করে শাক খেতে ইচ্ছা করে, তাহলে মনে রাখবেন, রান্নার সময় মাথায় রাখতে হয়- অল্প সময়, বেশি তাপ, রঙ বজায় রাখা, রান্নার প্রথম দিকে ঢাকনা না দেয়া, আলাদা পানি না দেয়া খুব জরুরি। বড়জোর পাঁচ মিনিটে শেষ করলেই ভালো।

আর হ্যাঁ, ফেলতে না জানলে শাক খেয়ে মজা নেই। কচি পাতার স্বাদই আসল শাকের স্বাদ।

* প্রধানত, ওল, বেতো, সরষে, পুঁই, শুশনি, নিম, মেথি, হিলঞ্চ, পলতা, শৌলফ, গুলঞ্চ, শুষণী, লাউ এবং স্থান ও প্রাপ্যতা ভেদে অন্য কোনো শাক।

** পিতা, পিতামহ, প্রপিতামহ, মাতা, পিতামহী, প্রপিতামহী, মাতামহ, প্রমাতামহ, বৃদ্ধপ্রমাতামহ, মাতামহী, প্রমাতামহী, বৃদ্ধপ্রমাতামহী, শ্বশুর, শাশুড়ি।

লেখক: মানবাধিকারকর্মী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Japan keen to invest in Coxs Bazar tourism State Minister

কক্সবাজারের পর্যটনে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী জাপান: প্রতিমন্ত্রী

কক্সবাজারের পর্যটনে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী জাপান: প্রতিমন্ত্রী সালনা রিসোর্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী। ছবি: নিউজবাংলা
পর্যটন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কক্সবাজারে পর্যটন খাতের যেসব স্থাপনা রয়েছে সেগুলোতে বিদেশিরা বিনিয়োগ করতে চায়। জাপানের রাষ্ট্রদূত সেখানে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।’

দেশের পর্যটন খাতে বিদেশিরা বিনিয়োগ করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী। তিনি বলেছেন, জাপানের রাষ্ট্রদূত কক্সবাজারের পর্যটনে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

গাজীপুরের সালনায় সোমবার দুপুরে ‘সালনা পর্যটন রিসোর্ট অ্যান্ড পিকনিক স্পট’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের ‘পর্যটন বর্ষ উপলক্ষে দেশের কতিপয় পর্যটন আকর্ষণীয় এলাকার পর্যটন সুবিধাদির উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে সালনা পর্যটন রিসোর্টটি নির্মাণ করা হয়েছে।

পর্যটন করপোরেশন জানিয়েছে, সালনা রিসোর্ট অ্যান্ড পিকনিক স্পট প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের ব্যয় হয়েছে ৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
প্রকল্পটি শুরু হয় ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে। শেষ হয় চলতি বছরের জুন মাসে।

প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেন, ‘পর্যটন খাতের বিকাশে সবচেয়ে যে জিনিসটা দরকার, তা হচ্ছে সবার এগিয়ে আসা ও বিনিয়োগ করা। অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। তবে পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে কাজ চলছে।

‘কক্সবাজারে পর্যটন খাতের যেসব স্থাপনা রয়েছে সেগুলোতে বিদেশিরা বিনিয়োগ করতে চায়। জাপানের রাষ্ট্রদূত সেখানে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।’

ঢাকা থেকে ৩৩ কিলোমিটার দূরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে সালনা মৌজায় সালনা পর্যটন রিসোর্ট অ্যান্ড পিকনিক স্পট অবস্থিত। পর্যটন করপোরেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন বিভাগের ৩ দশমিক ১২ একর জায়গা নিয়ে রিসোর্টটি। এখানে ৬টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কটেজ রয়েছে। এ ছাড়া শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ৬০ আসনের রেস্তোরাঁ, কফি কর্নার, কনফারেন্স হল, ২টি পিকনিক শেড ও একটি কুকিং শেড আছে।

অনুষ্ঠানে পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান আলী কদরের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোকাম্মেল হোসেন, অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ উল্লাহ প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
পর্যটন সমৃদ্ধে নতুন উদ্যোগ
পর্যটক টানতে ভিসা সহজের কাজ চলছে
পর্যটন মেলা ২ জুন থেকে
পর্যটনের জন্য জনগণকে ‘উদার হতে হবে’
বনজীবীদের সঙ্গে সুন্দরবনে হানি ট্যুরিজমের সুযোগ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
6 site seeing buses coming

৩৬ কোটি টাকায় আসছে ৬টি সাইট সিয়িং বাস

৩৬ কোটি টাকায় আসছে ৬টি সাইট সিয়িং বাস পর্যটন এলাকায় ট্যুর পরিচালনার জন্য ছয়টি সাইট সিয়িং দোতলা বাস কেনা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ইউরোপের রাস্তায় চলাচল করা এসব বাসের প্রতিটির দাম ৬ কোটি টাকা। এ জন্য সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, এখন শুধু এলসি খোলা বাকি।’

দেশের অভ্যন্তরে পর্যটন আকর্ষণীয় এলাকায় ট্যুর পরিচালনার জন্য ছয়টি সাইট সিয়িং দোতলা বাস কেনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী।

তিনি বলেন, ‘ইউরোপের রাস্তায় চলাচল করা এসব বাসের প্রতিটির দাম ৬ কোটি টাকা। এ জন্য সব প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে, এখন শুধু এলসি খোলা বাকি।’

গাজীপুর মহানগরের সালনা এলাকায় সোমবার দুপুরে সালনা রিসোর্ট ও পিকনিক স্পটের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ট্যুরিজম ছাড়া পৃথিবীতে আর কোনো ইন্ডাস্ট্রি টেকসই নয়। কোনো দেশের চালিকাশক্তি হিসেবে জিডিপিতে কন্ট্রিবিউট করতে পারে ওই দেশের প্রকৃতি।’

তিনি বলেন, ‘মরিশাস প্রতি বছর ১৫ হাজার ৭০০ ডলার শুধু পর্যটন খাত থেকে আয় করে। সেখানে এমন কিছু ব্যতিক্রম দেখি নাই, যা বাংলাদেশে নাই। তবে সেখানে পর্যটকরা যথেষ্ট নিরাপত্তা পায়, নিরাপদে বেড়াতে পারে এটাই তাদের একমাত্র পুঁজি।’

প্রতিমন্ত্রী সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. আলী কদর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সেখানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের অতিরিক্ত সচিব মো. অলি উল্যাহ, সুকেশ কুমার, আবু তাহের, যুগ্ম সচিব জামিল আহমেদ ও গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান।

সালনা রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, পর্যটক বর্ষ উপলক্ষে ৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৯ সালে সালনা রিসোর্ট এবং পিকনিক স্পট নির্মাণ শুরু হয়। এর নির্মাণকাজ শেষ হয় চলতি বছরের জুনে। ৩.১২ একর ভূমির ওপর ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে সালনায় রিসোর্টটি তৈরি করা হয়েছে।

রিসোর্টে ৬টি আধুনিক কটেজ। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্রতিটি কটেজে ২টি বেডরুম, ১টি ড্রইং কাম ডাইনিং রুম রয়েছে। শিশুদের খেলাধুলার জন্য রয়েছে নানা ব্যবস্থা।

আরও পড়ুন:
পর্যটক টানতে ভিসা সহজের কাজ চলছে
পর্যটন মেলা ২ জুন থেকে
পর্যটনের জন্য জনগণকে ‘উদার হতে হবে’
বনজীবীদের সঙ্গে সুন্দরবনে হানি ট্যুরিজমের সুযোগ
ঈদে ৪৪৮৬ পর্যটক পেল সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ

মন্তব্য

p
উপরে