× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
BNP Police Clash This time Youth Party workers were killed in Munshiganj
hear-news
player
print-icon

মুন্সীগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত যুবদল কর্মীর মৃত্যু

মুন্সীগঞ্জে-পুলিশের-সঙ্গে-সংঘর্ষে-আহত-যুবদল-কর্মীর-মৃত্যু
মুন্সীগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে নিহত যুবদলকর্মী মোহাম্মদ শাওন। ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোহাম্মদ শাওন নামে ওই যুবকের মৃত্যু হয়।

ভোলা, নারায়ণগঞ্জের পর এবার মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুর পুরাতন ফেরিঘাটে পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত যুবদলের এক কর্মীর মৃত্যু হয়েছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোহাম্মদ শাওন নামে ওই যুবকের মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক বাচ্চু মিয়া।

গতকাল বুধবার মুক্তারপুরে পুলিশ-বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের সময় আহত অবস্থায় শাওনসহ তিনজনকে ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়।

আহত অন্য দুজন হলেন বিএনপির কর্মী জাহাঙ্গীর হোসেন ও ছাত্রদলকর্মী মোহাম্মদ তারেক।

ভর্তির সময় থেকেই শাওনের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল বলে জানিয়েছিলেন চিকিৎসকরা।

নিহত শাওনের বন্ধু নাহিদ খান বলেন, বুধবার বিকেলে মুক্তারপুর ব্রিজে পুরাতন ফেরিঘাট নদীর পারে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে জাহাঙ্গীরসহ তিনজনকে তারা উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি করেন।

তিনি জানান, মোহাম্মদ শাওন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালাতেন। তিনি সমাবেশে গিয়ে আহত হয়েছিলেন।

শাওনের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের মীরকাদিম পৌর এলাকার মুরমা গ্রামে। তার বাবার নাম সওয়াব আলী। শাওনের মাথায় গুরুতর আঘাত করা হয়েছিল বলে জানান স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. সামী।

মুন্সীগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত যুবদল কর্মীর মৃত্যু

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘বুধবার ভর্তির পর জাহাঙ্গীরকে নাক-কান-গলা বিভাগ মিরপুর ডেন্টালে পাঠানো হয়েছে, চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তারেককে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আইসিইউতে শাওন মারা যান।’

এই সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির ১২০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে অন্তত ২৪ জনকে।

সদর থানায় বুধবার রাতে করা মামলাদুটির একটি করেছে পুলিশ ও আরেকটি শ্রমিক লীগ কর্মী।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অর্থ) সুমন দেব জানান, পুলিশের উপর হামলা, অস্ত্র লুটের চেষ্টা ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার ঘটনায় সদর থানায় এসআই মাঈনউদ্দিন মামলা করেন। তাতে প্রধান আসামি করা হয় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব কামরুজ্জামান রতনকে। আরও ৩১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় ১ হাজার ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বুধবার রাতে আটক ২৪ জনকে।

সুমন আরও জানান, মুক্তারপুর এলাকার দোকানপাট ভাঙচুর ও মোটরসাইকেলে আগুন দেয়ার অভিযোগে আরেকটি মামলা করেন স্থানীয় শ্রমিক লীগ কর্মী আব্দুল মালেক। এতে সদর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মহিউদ্দিন আহমেদকে প্রধান আসামী করা হয়েছে। মামলায় ৫২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে ২০০ জনকে।


যা ঘটেছিল

বুধবার বিকেলে ঘণ্টাব্যাপী চলে এই সংঘর্ষ।

মুন্সীগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত যুবদল কর্মীর মৃত্যু

নিউজবাংলার প্রতিবেদক ঘটনাস্থল থেকে জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সদর উপজেলা, মুন্সীগঞ্জ শহর ও মিরকাদিম পৌর বিএনপি শহরের মুক্তারপুর এলাকার পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে।

বেলা আড়াইটার দিক থেকে সমাবেশে যোগ দিতে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। পুলিশ সেখানে অবস্থান নেয় আগে থেকেই। এ সময় পুলিশ মিছিলে বাধা দিলে বিভিন্ন মিছিল থেকে ইটপাটকেল ছোড়া শুরু হয়। সে সময় পুলিশ ফাঁকা গুলি ও টিয়ার শেল ছোড়ে।

সদর থানার ওসি তারিকুজ্জামান জানান, অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘পূর্বঘোষণা অনুযায়ী সদর উপজেলা, মুন্সীগঞ্জ শহর ও মিরকাদিম পৌর বিএনপির নেতাকর্মীরা মুক্তারপুর ফেরিঘাট এলাকায় জড়ো হচ্ছিলেন। হঠাৎ পুলিশ আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। মিছিলের ব্যানার কেড়ে নেয় ও লাঠিচার্জ করে।

‘এতে নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়। আমাদের ৭০-৮০ জন আহত হয়েছে। দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পুলিশের ওপর হামলা হয়েছে এমন কথা আমার জানা নেই।’

মুন্সীগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত যুবদল কর্মীর মৃত্যু

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন দেব বলেন, ‘কোনো রকমের সভা-সমাবেশের অনুমতি ছিল না। অনুমতি ছাড়া তারা রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচলের বাধা দিচ্ছিল। তাদেরই দুই গ্রুপ নিজেরা নিজেরা মারামারি করছিল। এর কারণেই পুলিশ সরিয়ে দেয়ার জন্য গেছে।

‘এ সময় তারা পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা করেছে। পুলিশ তখন আত্মরক্ষায় ছত্রভঙ্গ করে দেয়। আমাদের পুলিশের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা অনুমতি ছাড়া এই সমাবেশ করেছে, বিশৃঙ্খলা করেছে, তাদের সবার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
বিএনপি নেতার কারখানায় আগুন কীভাবে
পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষে আহত অর্ধশত
লাঠির সঙ্গে জাতীয় পতাকা কিসের আলামত, প্রশ্ন কাদেরের

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
The carriage of derailed train was not recovered even after 6 hours

বগি লাইনচ্যুত: উদ্ধারকাজ শুরু হয়নি ৬ ঘণ্টায়ও

বগি লাইনচ্যুত: উদ্ধারকাজ শুরু হয়নি ৬ ঘণ্টায়ও
টঙ্গী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুর মোহাম্মদ খান জানান, রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ঢাকা থেকে উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন এসে পৌঁছেছে। তবে ৬ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়নি।

গাজীপুরের টঙ্গীতে মালবাহী কন্টেইনারের বগি লাইনচ্যুতের ঘটনায় ৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলে বগি উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়নি।

রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় প্রকৌশলী ফেরদৌস আলম জানান, কন্টেইনার বগি লাইনচ্যুতের ঘটনায় বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা খায়রুল ইসলামকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মধুমিতা রেললাইন এলাকায় বুধবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

টঙ্গী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (উপপরিদর্শক) নুর মোহাম্মদ খান নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ভোরে মধুমিতা এলাকায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী মালবাহী কন্টেইনারের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে আপ লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ আছে। তবে অপর এক লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল করছে। এতে ট্রেন চলাচলে কিছুটা দেরি হচ্ছে। রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ঢাকা থেকে উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন এসে পৌঁছেছে। তবে ৬ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়নি।

আরও পড়ুন:
টঙ্গীতে মালবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত
দেড় ঘণ্টা পর ঢাকা-উত্তরবঙ্গে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক
গাজীপুরে তেলবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত
ভারতের তৈরি ৪২০ মালবাহী বগি কিনছে রেলওয়ে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Death in police custody Constable withdrawn

পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু: কনস্টেবল প্রত্যাহার

পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু: কনস্টেবল প্রত্যাহার বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়ি, মির্জাপুর। ছবি: নিউজবাংলা
পুলিশ সুপার বলেন, ‘এ ঘটনায় আটক ব্যক্তির পাহারার দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল সুব্রত সরকারকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। হাজতখানায় রশির বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। কারও দায়িত্বে অবহেলা থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়িতে লেবু মিয়া নামে আটক এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় এক কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে গঠন করা হয়েছে একটি তদন্ত কমিটিও।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কনস্টেবল সুব্রত সরকারকে ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। অপরদিকে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে তিন কার্যদিবসের মধ্যে।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় আটক ব্যক্তির (লেবু মিয়া) পাহারার দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল সুব্রত সরকারকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

‘এছাড়া ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মীর মনির হোসেনকে প্রধান এবং সখিপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এসএম রাকিবুর রাজা ও পরিদর্শক (ক্রাইম) সুব্রত কুমার সাহাকে সদস্য করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।’

সোমবার রাতে উপজেলার বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়িতে লেবু মিয়া মারা যান। তিনি বাঁশতৈল গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে।

ঘটনার পর পুলিশ দাবি করে, লেবু আত্মহত্যা করেছেন। তবে স্বজন ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, তাকে পুলিশ নির্যাতন করে হত্যা করেছে।

সখিনা আক্তার নামে এক নারীকে হত্যায় জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লেবু মিয়া ও সেই নারীর সাবেক স্বামী মফিজুর রহমানকে আটক করে।

পুলিশ জানায়, পাঁচ বছর আগে স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয় সখিনা আক্তারের। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর প্রবাসী ছেলের স্ত্রীকে থাকতেন। পুত্রবধূ বাড়িতে যাওয়ায় গত রোববার রাতে সখিনা বাড়িতে একাই ছিলেন। রাতের কোনো এক সময় তার ঘরে ঢুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরদিন বেলা ১২ টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করে বাঁশতৈল ফাড়ি পুলিশ। এই ঘটনায় মফিজুর ও লেবুকে আটক করে রাতে ফাঁড়ির হাজাতখানায় রাখা হয়।

বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মনিরুজ্জামান বলেন, ‘মঙ্গলবার সকালে পুলিশ ফাঁড়িতে যাই। সেখানে গিয়ে লেবু মিয়ার গলায় রশি পেঁচানো অবস্থায় তাকে দেখতে পাই।’

লেবু মিয়ার স্ত্রী আলেয়া বেগম বলেন, ‘ভালো মানুষকে নিয়ে গেছে পুলিশ। তার সঙ্গে কিছুই ছিল না। কীভাবে রশি তার কাছে গেল? এটা আত্মহত্যা না, হত্যা করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার বলেন, ‘হাজতখানায় রশির বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। কারও দায়িত্বে অবহেলা থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

পুলিশ হেফাজতে লেবুর মৃত্যুর ঘটনা জানাজানির পর পুলিশের নির্যাতনে মৃত্যুর অভিযোগ এনে মঙ্গলবার সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী।

বিক্ষোভকারী মাসুদ মিয়া বলেন, ‘এটা আত্মহত্যা না, হত্যা করা হয়েছে। তিনি মানসিক রোগী না যে আত্মহত্যা করবেন। তিনি ভালো মানুষ। তাকে বেধরক মারপিটের কারণে মারা গেছে।’

আরও পড়ুন:
পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু নিয়ে বিক্ষোভ টাঙ্গাইলে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Transferred 16 employees due to doctors harassment in own hospital

নিজ হাসপাতালে চিকিৎসকের হয়রানিতে ১৬ কর্মচারীকে বদলি

নিজ হাসপাতালে চিকিৎসকের হয়রানিতে ১৬ কর্মচারীকে বদলি রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. শরীফুল আলম বলেন, ‘আমি মেইলে দুটি পত্র পেয়েছি। তাতে বলা হয়েছে, এই বদলি জনস্বার্থে করা হয়েছে।’

মায়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে সম্প্রতি রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হয়রানির শিকার হয়েছিলেন ওই হাসপাতালেরই এক চিকিৎসক। পরে এ হাসপাতালে কর্মচারীদের অব্যবস্থানা ও নৈরাজ্য বন্ধে আন্দোলন শুরু করেন চিকিৎসকরা।

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সরকারি ওই হাসপাতালটির ১৬ কর্মচারীকে একযোগে বদলীর আদেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

বদলীর আদেশসহ এক পরিপত্রে বলা হয়েছে, আগামী সাত কর্মদিবসে কর্মচারীদের নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. শরীফুল আলম।

তিনি বলেন, ‘আমি মেইলে দুটি পত্র পেয়েছি। তাতে বলা হয়েছে, এই বদলী জনস্বার্থে করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে তাদের বদলী করা হয়েছে।’

বদলীর আদেশ পাওয়া কর্মচারীরা হলেন- অফিস সহায়ক সিরাজুল ইসলাম, বিউটি আক্তার, দুলাল বসুনিয়া, জানুরাম সরকার, নুরুজ্জামন, রইস উদ্দিন, মহিত আল রশিদ উদয়, আল আমিন ইসলাম, হামিদুল ইসলাম, মোরশেদ হাবীব, শাহজাদা মিয়া ও আবু জাফর।

এ ছাড়া নিরাপত্তা প্রহরী রহমত আলী, পরিচ্ছন্নকর্মী হাসিনা বেগম, ওয়ার্ড মাস্টার আবুল হাসান, স্টোনো টাইপিষ্ট আব্দুল আলীমকেও অন্যত্র বদলি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অর্থো সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক এবিএম রাশেদুল আমীর তার মাকে চিকিৎসার জন্য ওই হাসপাতালে পাঠান। পরে সেখানে ভর্তির জন্য অতিরিক্ত ২৫০ টাকা দাবি করা ছাড়াও বকশিস হিসেবে আরও ২০০ টাকা দাবি করা হয়।

এ ঘটনায় পরদিন হাসপাতালের পরিচালকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন রাশেদুল আমীর।

সর্বশেষ গত সোমবার হাসপাতাল চত্বরে মানববন্ধন করেন চিকিৎসরা।

আরও পড়ুন:
ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক বরখাস্ত
অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ কর্মচারীর
শহীদ মিনারে মারধর: কর্মবিরতিতে ঢাকা মেডিক্যালের ইন্টার্নরা
ডা. সাজ্জাদকে মারধর: ইন্টার্নদের কর্মবিরতির আল্টিমেটাম
শহীদ মিনারে মারধর: ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আলটিমেটাম

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Boat sinking One after another the dead bodies are found the death toll has increased to 68

নৌকাডুবি: একের পর এক মিলছে দেহ, মৃত বেড়ে ৬৮

নৌকাডুবি: একের পর এক মিলছে দেহ, মৃত বেড়ে ৬৮
পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক শেখ মো. মাহমুদুল ইসলাম বলেন, ‘নৌকার ধারণক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি লোক ছিল। অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে।’

পঞ্চগড়ে করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ঘটনার তৃতীয় দিনে আরও ১৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। এ নিয়ে তিন দিনে পাওয়া গেল ৬৮ মরদেহ।

এ তথ্য নিশ্চিত করে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর রায় জানান, এখনও অন্তত ৪ জন নিখোঁজ আছে।

তিনি জানান, দিনাজপুর সদর থেকে ১ জন এবং বোদার বিভিন্ন জায়গা, দেবীগঞ্জ ও আশপাশের এলাকা থেকে ১৭টি মরদেহ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত উদ্ধার ৬৮ মরদেহ, ৪ জন নিখোঁজের তথ্য এবং ঘটনার পরপরই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা ১৫ জন হিসাবে এখন পর্যন্ত নৌকাটিতে ৮৭ জন যাত্রী ছিল বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে থানা পুলিশ ও স্থানীয় উদ্ধারকারীরা জানায়, নৌকা উল্টে যাওয়ার পর অনেকেই সাঁতরে তীরে উঠে চলে যায়। এ কারণে স্থানীয় প্রশাসন ধারণা করছে, নৌকায় একশরও বেশি যাত্রী উঠেছিল।

এই দুর্ঘটনার জন্য অসচেতনভাবে অতিরিক্ত যাত্রী ওঠাকেই দায়ী করছেন নৌকার মাঝি ডিপজল ও ঘাট ইজারাদার আব্দুল জব্বারসহ স্থানীয় প্রশাসন।

গত রোববার বেলা আড়াইটার দিকে আউলিয়া ঘাট থেকে বদেশ্বরী মন্দিরে যাওয়ার জন্য একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় মানুষ হুড়োহুড়ি করে উঠতে থাকেন। সেই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

নৌকাডুবি: একের পর এক মিলছে দেহ, মৃত বেড়ে ৬৮

ভিডিওতে দেখা যায়, ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়ার সময় নৌকাটিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি যাত্রী ছিল। এ সময় অনেকেই নৌকাটিকে যেতে নিষেধ করছিলেন এবং কেউ কেউ ‘ডুবে যাবে’ বলেও চিৎকার করছিলেন। তবে সে চিৎকার আটকাতে পারেনি নৌকাটিকে।

বদেশ্বরী মন্দিরে মহালয়া পূজা উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও ধর্মসভার আয়োজন করা হয়। সেদিন দুপুরের দিকে মূলত ওই ধর্মসভায় যোগ দিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ইঞ্জিনচালিত ওই নৌকায় করে নদী পার হচ্ছিলেন।

বোদা থাকার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজয় কুমার রায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভিডিও দেখলে বুঝতে পারবেন যে একজন চিৎকার করতেছে, সেই লোকটি আমাদের একজন এসআই। আমরা অনেক চেষ্টা করেও অতিরিক্ত লোক ওঠা বন্ধ করতে পারিনি। বেশি লোক ওঠায় এই দুর্ঘটনা।’

পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক শেখ মো. মাহমুদুল ইসলাম বলেন, ‘নৌকার ধারণক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি লোক ছিল। অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে।’

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নৌকাডুবির ঘটনায় পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দ্বীপংকর রায়কে প্রধান করে একটি ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদেরকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
পূজার পোশাক কিনতে জমানো টাকায় হচ্ছে সন্তানের সৎকার
করতোয়ায় নৌকাডুবি: দুই দিনে উদ্ধার ৫০ মরদেহ
করতোয়ায় নৌকাডুবিতে মৃত বেড়ে ৪৩
নৌকাডুবি: করতোয়ার পাড়ে ৫ নিখোঁজের অপেক্ষায় ধীরেন
পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি: মৃত বেড়ে ৩২

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Ignoring the obstacles the pilgrims got into the boat like a current
করতোয়ায় নৌকাডুবি:

বাধা উপেক্ষা করে স্রোতের মতো নৌকায় উঠেছিলেন পুণ্যার্থীরা

বাধা উপেক্ষা করে স্রোতের মতো নৌকায় উঠেছিলেন পুণ্যার্থীরা
প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকারী নিরঞ্জন রায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নৌকাটিতে অনেক লোক উঠতেছিল, কেউ কারো কথা শুনতেছিল না। অনেকে বউ-বাচ্চা নিয়ে উঠতেছিল। একজন আরেকজনকে নিষেধ করতে করতে বহু লোক ওঠে। কাইও (কেউ) কারো কথা শোনেনাই। যখন নৌকাটা ছাড়ি দিছিল, তখন ডোবা ডোবা ভাব। সবাই ভয় পাইতেছিল। কিছুদূর যাওয়ার পর পানির স্রোত শুরু হয়। ঢুলতে ঢুলতে নৌকাটা ডুবে যায়।’

পঞ্চগড়ের বোদায় করতোয়া নদীতে ইঞ্জিনচালিত নৌকাডুবিতে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৬১ জনের মরদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এই দুর্ঘটনায় কেউ হারিয়েছেন স্ত্রী-সন্তান, কেউ বাবা-মা; কেউ বা হারিয়েছেন পুরো পরিবার।

স্থানীয়রা বলছেন, এর আগে কোনো দুর্ঘটনায় একসঙ্গে এত লাশ দেখেননি এই জনপদের মানুষ। সারি সারি এমন লাশে পঞ্চগড়ের আকাশ ভারী হয়ে উঠছে।

তবে, এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য অসচেতনভাবে অতিরিক্ত যাত্রী ওঠাকেই দায়ী করছেন নৌকার মাঝি ডিপজল ও ঘাট ইজারাদার আব্দুল জব্বারসহ স্থানীয় প্রশাসন।

গত রোববার বেলা আড়াইটার দিকে আউলিয়া ঘাট থেকে বদেশ্বরী মন্দিরে যাওয়ার জন্য একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় মানুষ হুড়োহুড়ি করে উঠতে থাকেন। সেই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে দেখা যায়, ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়ার সময় নৌকাটিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি যাত্রী ছিল। এ সময় অনেকেই নৌকাটিকে যেতে নিষেধ করছিলেন এবং কেউ কেউ ‘ডুবে যাবে’ বলেও চিৎকার করছিলেন। তবে সে চিৎকার আটকাতে পারেনি নৌকাটিকে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বোদা উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নের করতোয়া নদীর অপর পাড়ে বদেশ্বরী মন্দিরে মহালয়া পূজা উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ধর্মসভার আয়োজন করা হয়। সেদিন দুপুরের দিকে মূলত ওই ধর্মসভায় যোগ দিতে সনাতন ধর্মালম্বীরা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে নদী পার হচ্ছিলেন।

কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী নিউজবাংলাকে জানান, সেদিন নির্দিষ্ট ঘাট থেকে ২০০ গজ ভাটিতে নৌকায় যাত্রী তুলছিলেন মাঝি ডিপজল। সেসময় ঘাটে পুলিশ সদস্য ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উপস্থিতি ছিলেন। হ্যান্ড মাইকে বার বার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে পারাপারে নিষেধ করছিলেন তারা। পাড়ে থাকা অন্য লোকজনও তাদের নিষেধ করেন।

বাধা উপেক্ষা করে স্রোতের মতো নৌকায় উঠেছিলেন পুণ্যার্থীরা

নৌকাটিতে যখন অতিরিক্ত যাত্রী তোলা হচ্ছিল, তখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত যাত্রীদের নৌকা থেকে নামতে বলা হচ্ছিল; কিন্তু সে নির্দেশনা কানে তোলেননি কেউ। কানায় কানায় পূর্ণ যাত্রীসহ ঝুঁকি নিয়েই নৌকাটি ছাড়েন মাঝি।

ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকারী নিরঞ্জন রায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নৌকাটা যখন মন্দিরের দিকে যাবে, তখন অনেক লোক উঠতেছিল, কেউ কারো কথা শুনতেছিল না। অনেকে বউ-বাচ্চা নিয়ে উঠতেছিল। একজন আরেকজনকে নিষেধ করতে করতে বহু লোক ওঠে। কাইও (কেউ) কারো কথা শোনে নাই।’

তার বর্ণনায়, ‘যখন নৌকাটা ছাড়ি দিছিল, তখন ডোবা ডোবা ভাব। সবাই ভয় পাইতেছিল। কিছুদূর যাওয়ার পর পানির স্রোত শুরু হয়। ঢুলতে ঢুলতে নৌকাটা ডুবে যায়। কেউ লাফ দিয়ে পানিত নামছে। কেউ চিৎকার দিছে, আর বলছে বাঁচাও বাঁচাও। আমরা কয়জনকে উদ্ধারও করছি।’

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাড়েয়া বামন হাট ইউনিয়নের বাসিন্দা মাহমুদুল হক। ওই সময় নদীতে মাছ ধরছিলেন তিনি।

নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আউলিয়া ঘাট থেকে বদেশ্বরী মন্দিরে যাওযার নৌকায় এত লোক ছিল যে, দাঁড়াবার জায়গা ছিল না। তখন পুলিশ বার বার নিষেধ করছে। ওখানে যারা ছিল তারাও নিষেধ করছে। কেউ কথা শোনে নাই। পুলিশের কথা শুনলে এত বড় ঘটনা ঘটত না।’

তিনি যোগ করেন, ‘একবার যায়া তো আবার আসি লোক নিতে পারিল হয় নৌকাটা। একবারে এত লোক ওঠার দরকার কী আছিল।’

রায়হান নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘যখন নৌকাটি ছাড়ে, তখন তো বহু লোক ছিল। সবাই আতংকে ছিল। হঠাৎ মাঝ নদীতে গিয়ে নৌকার যাত্রীরা চিল্লানো শুরু করে। এ সময় নৌকায় থাকা অনেকে যাত্রীদের নড়াচড়া না করতে বলেন। পর মুহূর্তেই নৌকাটি তলিয়ে যেতে শুরু করে।’

তার ভাষ্য, ‘ওই সময় অনেকে পাড়ে থাকা ছোট নৌকায় করে ১২ জনকে জীবিত এবং ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করে। মহিলা মানুষ সাঁতার না জানায় বেশি মারা গেছে, ছোট ছোট বাচ্চারাও মারা গেছে।

‘আমি জীবনে এতগুলো লোক মরা দেখি নাই, রাইতোত ঘুমাইতে পারি নাই’, যোগ করেন তিনি।

ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে কতজন যাত্রী ছিলেন সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি। তবে স্থানীয়দের দাবি, তবে ৫০ থেকে ৬০ জনের ধারণক্ষমতার হলেও নৌকাটিতে যাত্রী ছিল শতাধিক।

দুর্ঘটনাকবলিত নৌকার দৈর্ঘ্য ৩৪ হাত, প্রস্থ্য ১১ হাত। নৌকায় প্রতি এক হাত দূরত্বে একজন করে থাকলেও ৩৪ জন যাত্রী বহন করবে নৌকাটি। একটু চাপাচাপি করে যাত্রী তুললেও সংখ্যাটি ৫০ এর বেশি হওয়ার কথা নয়। সেখানে শতাধিক যাত্রী উঠে কীভাবে? প্রশ্নের জবাবে ইজারাদার জব্বার আলী বলেন, ‘প্রশাসনের লোকজন দেখেছে। তাদের নিষেধ উপেক্ষা করে নৌকা ছাড়ার সময় হুরমুর করে যাত্রীরা নৌকায় উঠে পড়ে।’

বাধা উপেক্ষা করে স্রোতের মতো নৌকায় উঠেছিলেন পুণ্যার্থীরা

বেঁচে ফেরা নৌকার মাঝি ডিপজলের বরাতে তিনি আরও বলেন, ‘কিছুদূর যাওয়ার পর নৌকাটি টলমল করলে আবার পেছনে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন মাঝি। সে সময় যাত্রীরা ভয়ে বেশি নড়াচড়া করলে কাত হয়ে নৌকাটি ডুবে যায়।’

জেলা পরিষদ থেকে এক বছরের জন্য আব্দুল জব্বারের নামে ইজারা দেয়া হয়েছে খেয়া ঘাটটি। অংশীদার রয়েছেন একাধিক। ঘাটে মোট চারটি নৌকা রয়েছে। দুইটি ঠেলা নৌকা ও দুইটি শ্যালো ইঞ্জিনচালিত। পারাপারে যাত্রী প্রতি ১০ টাকা করে নেয়া হয়।

আব্দুল জব্বার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অসাবধানতা ও অসচেতনার জন্য এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।’ ঘাটে নিরাপত্তা জোরদার ছিল না, এমনটাও দাবি করেছেন তিনি।

বেশি লাভের আশায় ইজারাদার ঘাটে যাত্রীর তুলনায় পর্যাপ্ত নৌকা ব্যবহার করেননি দাবি করে স্থানীয় বাবুল হোসেন। বলেন, ‘পূজার কারণে লোকজনের চাপ অনেক। তারা চারটি নৌকা ব্যবহার করতে পারতেন। কিন্তু একটি ছোট নৌকা ও বড় নৌকা দিয়েই দিন পার করেন তারা। যাত্রীর তুলনায় নৌকা বেশি ছিল না। তাই সময়ের কথা চিন্তা করে মানুষ ঝুঁকি নিয়েছে। এজন্য এই সর্বনাশ হয়েছে।’

বোদা থাকার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজয় কুমার রায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওই ঘটটি ইজারা দেয়া। একটি ছোট আরেকটি বড় নৌকা ছিল। কিন্তু নৌকাটি আগের ঘাটে ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনি ভিডিও দেখলে বুঝতে পারবেন যে একজন চিৎকার করতেছে, সেই লোকটি আমাদের একজন এসআই। আমরা অনেক চেষ্টা করেও অতিরিক্ত লোক ওঠা বন্ধ করতে পারিনি। বেশি লোক ওঠায় এই দুর্ঘটনা।’

ঘটনাস্থলে থাকা মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু আনসার মো রেজাউল করিম শামিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নৌকাটা মূল ঘাট থেকে ২০০ মিটার উজানে দাঁড়াইছে। আমরা মূল ঘাটে ছিলাম, প্রশাসনও ছিল। সেখানে লোক তুলছে, মানুষজন হুড়াহুড়ি করে উঠছে। আমরা দূর থেকে চিল্লাইছি লোক বেশি না উঠতে, কিন্তু শোনে নাই। তাছাড়া মাঝ নদী থেকে নৌকা ফিরতেছিল, কিন্তু তখন নৌকা ঘোরানোর সময় পানি ওঠে ডুবে গেছে।’

পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক শেখ মো. মাহমুদুল ইসলাম বলেন, ‘নৌকার ধারণক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি লোক ছিল। অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে।’

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নৌকাডুবির ঘটনায় পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দ্বীপংকর রায়কে প্রধান করে একটি ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদেরকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
করতোয়ায় নৌকাডুবিতে মৃত বেড়ে ৪৩
নৌকাডুবি: করতোয়ার পাড়ে ৫ নিখোঁজের অপেক্ষায় ধীরেন
পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি: মৃত বেড়ে ৩২
বাধা না মেনে অতিরিক্ত যাত্রী ওঠায় নৌকাডুবি: ডিসি
করতোয়ায় নৌকাডুবিতে প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Boat sinking in Kartoa The queue of dead bodies is increasing

করতোয়ায় নৌকাডুবি: লাশের সারি বাড়ছেই

করতোয়ায় নৌকাডুবি: লাশের সারি বাড়ছেই
দিনাজপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মন্জিল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সকাল থেকেই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে সকাল ৯টা পর্যন্ত ৬টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল এবং নদীর পানি কমার কারণে মরদেহ উদ্ধার সম্ভব হবে।’

পঞ্চগড়ের বোদায় করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় মরদেহ বেড়েই চলছে। উদ্ধার কার্যক্রমের তৃতীয় দিনের শুরুতে আরও ৬ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এ নিয়ে উদ্ধার হওয়া মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৫৬ জনে।

নৌকাডুবিতে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে। তাদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে তৃতীয় দিনের মতো উদ্ধার কাজ শুরু হয়।

দিনাজপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মন্জিল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সকাল থেকেই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে সকাল ৯টা পর্যন্ত ৬টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল এবং নদীর পানি কমার কারণে মরদেহ উদ্ধার সম্ভব হবে।’

মরদেহ মাড়েয়া ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে রাখা হচ্ছে। সেখান থেকে পরিবারের কাছে হস্তন্তর করা হবে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সহযোগীতা করছেন স্থানীয়রাও।

মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত মৃত, নিখোঁজ ও হাসপাতালে ভর্তি ব্যক্তিদের মিলিয়ে হিসাব করলে ৯৮ জনের তথ্য পাওয়া গেছে। ওসি জানিয়েছেন, এর বাইরেও অনেক যাত্রী সাঁতরে সে সময় তীরে উঠেছিলেন। এ কারণে ধারণা করা হচ্ছে নৌকাটিতে শতাধিক যাত্রী ছিল।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বোদা উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নের করতোয়া নদীর অপর পাড়ে বদেশ্বরী মন্দিরে মহালয়া পূজা উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ধর্মসভার আয়োজন করা হয়। রোববার দুপুরের দিকে মূলত ওই ধর্মসভায় যোগ দিতে সনাতন ধর্মালম্বীরা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে নদী পার হচ্ছিলেন।

ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে কতজন যাত্রী ছিলেন সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি। তবে স্থানীয়দের দাবি, তবে ৫০ থেকে ৬০ জনের ধারণক্ষমতার হলেও নৌকাটিতে যাত্রী ছিল শতাধিক। অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে নদীর মাঝপথে নৌকাটি ডুবে যায়। অনেকে সাঁতার জানায় তীরে আসতে পারলেও সাঁতার না জানা বিশেষ করে নারী ও শিশুরা পানিতে ডুবে যায়। মনে করা হচ্ছে, স্রোতের কারণে অনেক মরদেহ পানিতে ভেসে যেতে পারে।

নৌকাডুবির ঘটনায় বেঁচে যাওয়া যাত্রী মাড়েয়া বামনপাড়া এলাকার সুবাস চন্দ্র রায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমিও নৌকায় ছিলাম। নৌকায় শতাধিক যাত্রী ছিল। আমরা নৌকায় ওঠার পরপরই নৌকায় পানি ঢুকতে শুরু করে। এ সময় মানুষজন নৌকার মধ্যেই হুড়োহুড়ি শুরু করেন। পরে যে পাশেই যাচ্ছিলাম, সে পাশেই নৌকায় পানি ঢুকছিল।

‘আমরা পাঁচজন বন্ধু ছিলাম। কোনো মতে সাঁতার কেটে প্রাণে বেঁচে যাই। অন্য যাত্রীরা একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে বাঁচার আকুতি করছিল। তবে এত মানুষ মারা যাবে, তা বুঝতে পারিনি।’

এই প্রাণহানির জন্য জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলামও অতিরিক্ত যাত্রী বহনকে দায়ী করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী ছিল। ঘটনাস্থলে মারওয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও পুলিশ ছিল। তারা সবাই ওই নৌকায় এত লোক উঠতে নিষেধ করেছিলেন।

আরও পড়ুন:
নৌকাডুবি: করতোয়ার পাড়ে ৫ নিখোঁজের অপেক্ষায় ধীরেন
পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি: মৃত বেড়ে ৩২
বাধা না মেনে অতিরিক্ত যাত্রী ওঠায় নৌকাডুবি: ডিসি
করতোয়ায় নৌকাডুবিতে প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক
পঞ্চগড়ে নৌকা ডুবে ২৪ মৃত্যু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Jsobala saved her husband by despising death

মরণ তুচ্ছ করে স্বামীকে বাঁচালেন যশবালা

মরণ তুচ্ছ করে স্বামীকে বাঁচালেন যশবালা
যশবালা জানান, নৌকার সবাই নদীতে পড়ে যায়। তিনি তখন সাঁতরে গিয়ে ছোট বাঁশের খুঁটি আঁকড়ে ধরেন ও স্বামীকে খুঁজতে থাকেন। কিছু দূরে দেখেন তার স্বামী শুকাতু স্রোতে ভেসে যাচ্ছেন আর খাবি খাচ্ছেন। 

নৌকা ডুবে যাওয়ার পর অন্য অনেকের সঙ্গে নিজের জীবনও সংকটে। সাঁতার জানা থাকায় কিছুটা দূরে গিয়ে অবলম্বন হিসেবে পেয়ে যান বাঁশের একটি খুঁটি। ওদিকে অসুস্থ স্বামী সাঁতার জানেন না। তীব্র স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তাকে।

এই পর্যায়ে নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে ছেড়ে দেন বাঁশের খুঁটি। এগিয়ে যান স্বামীকে বাঁচাতে। এক পর্যায়ে তাকে ধরে ফেলেন তিনি। আর প্রাণে বেঁচে যান দুজনই।

ঘটনাটি ঘটেছে রোববার, পঞ্চগড়ে। মহালয়ার পূজায় অংশ নিতে নৌকায় করে অন্য অনেকের সঙ্গে বদেশ্বরী মন্দিরে যাচ্ছিলেন বোদা উপজেলার ষাটোর্ধ্ব শুকাতু চন্দ্র বর্মণ ও তার স্ত্রী যশবালা রানী।

মাঝনদীতে নৌকা ডুবে গেলে শতাধিক যাত্রীর সঙ্গে তারা দুজনও পড়ে যান করতোয়ায়। যশবালা সাঁতরে তীরমুখী হলেও সাঁতার না জানায় তার স্বামী ডুবে যেতে থাকেন। তা দেখে নিজের জীবন তুচ্ছ করে এগিয়ে যান স্বামীর দিকে। এক পর্যায়ে স্বামীর নাগাল পেয়ে তাকে নিয়ে কোনোক্রমে ভেসে থাকেন। পরে লোকজন এসে তাদেরকে উদ্ধার করে।

তারা দুজন এখন চিকিৎসাধীন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে গিয়ে কথা হয় যশবালার সঙ্গে।

সে সময়ের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে আতঙ্কে কেঁপে উঠছিলেন তিনি।

নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নৌকা পাড়ে ভিড়তেই আমরা আগে উঠেছিলাম। পরে হুড়মুড় করে আরও লোকজন উঠা শুরু করল। আমি আমার অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে তখন নেমে যেতে চেয়েছিলাম, সে সুযোগ পাই নাই। মাইক দিয়ে এত লোক উঠতে নিষেধ করছিল। তবুও কেউ কথা শুনলো না। মাঝখানে ডুবে গেল নৌকা।’

তিনি জানান, নৌকার সবাই নদীতে পড়ে যায়। তিনি তখন সাঁতরে গিয়ে ছোট বাঁশের খুঁটি আকড়ে ধরেন ও স্বামীকে খুঁজতে থাকেন। কিছু দূরে দেখেন তার স্বামী শুকাতু স্রোতে ভেসে যাচ্ছেন আর খাবি খাচ্ছিলেন।

যশবালা এ পর্যায়ে কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন, ‘এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে জীবনেও পড়িনি। আমি সাঁতার জানি, আমার স্বামী সাঁতার জানত না। সাঁতরে তাকে গিয়ে ধরেছি। এরপর স্থানীয় উদ্ধারকারীরা নৌকা নিয়ে এসে আমাদের দুজনকে তুলে নেয়।

‘আমি দেখি আমার স্বামী নৌকার উপর একদম নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। তখনই আমাদের দুজনকে হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়। এখন আমরা সুস্থ আছি।’

স্বামীর দিকে চেয়ে তিনি যেন আনমনেই বলে উঠেলেন, ‘মরে গেলেও স্বামীকে ছাড়া ডাঙ্গায় আসতাম না।’

বোদা উপজেলার মারেয়া আউলিয়া-বদ্বেশ্বরী ঘাটে করতোয়া নদীতে রোববার দুপুরে শতাধিক যাত্রী নিয়ে ডুবে যায় নৌকাটি। তাতে থাকা যাত্রীদের বেশির ভাগই মহালয়ার পুণ্যার্থী ছিলেন। তারা নদীর ওপারে বদ্বেশ্বরী মন্দিরে প্রার্থনার জন্য যাচ্ছিলেন।

এ দুর্ঘটনায় রোববার ও সোমবার দুই দিনে ৫০ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে।

সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৭ জন নিখোঁজের তথ্য দিয়েছে ঘটনাস্থলে বসানো জেলা প্রশাসনের তথ্য কেন্দ্র। আর থানা পুলিশ জানিয়েছে, রোববার উদ্ধার হওয়া ১৫ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়েছিল। এছাড়া দুর্ঘটনার পর অনেকে সাঁতরে তীরে উঠতে পেরেছিলেন।

আরও পড়ুন:
পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি: মৃত বেড়ে ৩২
বাধা না মেনে অতিরিক্ত যাত্রী ওঠায় নৌকাডুবি: ডিসি
করতোয়ায় নৌকাডুবিতে প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক
পঞ্চগড়ে নৌকা ডুবে ২৪ মৃত্যু
নৌকাডুবি: নিখোঁজ চাচা-ভাতিজাসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার

মন্তব্য

p
উপরে