× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
How the fire in the BNP leaders factory
hear-news
player
print-icon

বিএনপি নেতার কারখানায় আগুন কীভাবে

বিএনপি-নেতার-কারখানায়-আগুন-কীভাবে
আগুনে ভস্মীভূত বিএনপি নেতার সুতার কারখানা। ছবি: নিউজবাংলা
বিএনপি নেতা বলেন, ‘বুধবার পুলিশ ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের জের ধরেই রাতে পঞ্চসার ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোস্তফার লোকজন আমার ফ্যাক্টরিতে ঢোকে। তাদের সঙ্গে পুলিশের পোশাক পরা তিনজন ছিল। এ সময় ওই লোকগুলো সুতা তৈরির কাঁচামাল কেনার ২০ লাখ টাকা এবং মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় ফ্যাক্টরিতে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। এতে আমার ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’

মুন্সীগঞ্জের সদরে এক বিএনপি নেতার একটি সুতার ফ্যাক্টরি আগুনে পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। এ সময় ফ্যাক্টরির পাশে থাকা আরও পাঁচটি ঘর আগুনে পুড়েছে।

ভুক্তভোগী বিএনপি নেতার দাবি, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার লোকজন ফ্যাক্টরিতে ঢুকে টাকাসহ মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। যাওয়ার সময় তারা আগুন ধরিয়ে দিয়ে যায়।

উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নে বুধবার রাতে দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

মুন্সীগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা আব্দুর রাকিব নিউজবাংলাকে আগুনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ভুক্তভোগী মো. নিজামুদ্দিন জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক; বর্তমানে জেলা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল হাইয়ের ভাগনে তিনি।

বুধবার বিকেলে উপজেলার মুক্তারপুর এলাকায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের সঙ্গে নেতা-কর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে আহত হন পুলিশ, সংবাদমাধ্যমকর্মীসহ অন্তত ৫০ জন। ঘণ্টাব্যাপী এই সংঘর্ষে ভাঙচুর করা হয় ছয়টি মোটরসাইকেল। কয়েকটিতে দেয়া হয় আগুনও।

নিজামুদ্দিনের দাবি, এই সংঘর্ষের জেরে পঞ্চসার ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোস্তফার লোকজন তার ফ্যাক্টরিতে আগুন দিয়েছে। তার এ অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বুধবার পুলিশ ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের জের ধরেই রাতে পঞ্চসার ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোস্তফার লোকজন আমার ফ্যাক্টরিতে ঢোকে। তাদের সঙ্গে পুলিশের পোশাক পরা তিনজন ছিল। এ সময় ওই লোকগুলো সুতা তৈরির কাঁচামাল কেনার ২০ লাখ টাকা এবং মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় ফ্যাক্টরিতে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। এতে আমার ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’

বিএনপি নেতার কারখানায় আগুন কীভাবে

এদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পঞ্চসার ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোস্তফা। বলেন, ‘বুধবার পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় আমরা চিন্তিত। আগুন দেয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। পুলিশ প্রশাসন আমাদের সব ধরনের ঝামেলা থেকে দূরে থাকতে নিষেধ করেছে। আমরা শান্তিপূর্ণ অবস্থানে আছি। আজকে জেলা পার্টি অফিসে আমাদের একটি সভা রয়েছে। সেখান থেকে আমাদের পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হবে।’

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন দেব বলেন, ‘বিএনপি নেতার ফ্যাক্টরিতে আগুন দেয়ার সময় কোনো পুলিশ সেখানে ছিল না। কারা আগুন দিয়েছে জানা নেই। ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলে তদন্ত করা হবে।’

স্থানীয়রা জানান, মুক্তারপুর ফেরিঘাট এলাকায় বিএনপি-পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনার পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল। রাত দেড়টার দিকে আগুনের পোড়া গন্ধে এলাকাবাসীর ঘুম ভেঙে যায়। এ আগুন জ্বলছিল নিজামুদ্দিনের সুতা তৈরির ফ্যাক্টরিতে। এ আগুন পার্শ্ববর্তী কয়েকটি ঘরেও ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসী চেষ্টা করলেও আগুন নেভাতে পারেনি। ভোর ৪টা পর্যন্ত জ্বলে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ততক্ষণে ফ্যাক্টরিসহ পাশের পাঁচটি ঘর পুড়ে যায়।

বিএনপি নেতার কারখানায় আগুন কীভাবে

আগুনে যাদের ঘর পুড়েছে তাদের মধ্যে আছেন রমজান মিয়া নামে একজন। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিএনপি-পুলিশের সংঘর্ষ হলো। আমরা আমাদের বাড়িতে ছিলাম। বিএনপি নেতার ফ্যাক্টরিতে আগুন দিল। সে আগুনে আমাদের বাড়িঘর সব পড়ে শেষ হলো। আমাদের এখন খাবার মতো কিছু অবশিষ্ট নেই। যারা আগুন দিল, তাদের বিচার চাই।’

আরেক ভুক্তভোগী রেসিয়া বেগম বলেন, ‘রাতে হঠাৎ আগুন জ্বলতে দেখি। বাচ্চাদের নিয়ে ঘর থেকে বের হই। আগুনে ঘরের সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। কোনো রকমে প্রাণ নিয়ে ঘর থেকে বের হয়েছি।’

ঘর পুড়েছে মোকলেস মাদবরের ভাড়াটিয়া নয়ন বিশ্বাসেরও। তিনি বলেন, ‘দুটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে থাকতাম। আগুন লাগার পর আমার স্ত্রী ও ছোট বাচ্চা নিয়ে ঘর থেকে কোনো রকম বের হতে পেরেছে। বাকি সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছি।’

মুন্সীগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা আব্দুর রাকিব বলেন, ‘খবর পেয়ে রাত ২টার পর ঘটনাস্থলে যাই। ৫টা বাজে আমরা আগুন নেভাতে সক্ষম হই।’

আরও পড়ুন:
বিএনপির সমাবেশে ‘আত্মরক্ষায়’ লাঠি হাতে
পাকিস্তান নিয়ে বক্তব্য: ফখরুলকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান হানিফের
বিরোধী দল যেন ঘরের বউ, যখন খুশি পেটাও: দুদু
দল গোছাতে গিয়ে নতুন বিভক্তি
‘ভয় পেয়ে ভয় দেখাচ্ছে আওয়ামী লীগ’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Banaj Kumars case report on November 6

বনজ কুমারের মামলার প্রতিবেদন ৬ নভেম্বর

বনজ কুমারের মামলার প্রতিবেদন ৬ নভেম্বর পিবিআইয়ের প্রধান বনজ কুমার মজুমদার ও সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারসহ চারজনের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান বনজ কুমার মজুমদার মামলা করেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের এ মামলায় অন্য আসামিরা হলেন সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন, হাবিবুর রহমান লাবু ও আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া।

সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারসহ চারজনের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান বনজ কুমার মজুমদারের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে আগামী ৬ নভেম্বর দিন ঠিক করেছে আদালত।

বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আবু বকর ছিদ্দিকের আদালতে মামলার এজাহার জমা দেয়া হয়। আদালত তা গ্রহণ করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তারিখ ঠিক করেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের এ মামলায় বাবুল আক্তার ছাড়াও আসামি করা হয়েছে ইলিয়াস হোসাইন, হাবিবুর রহমান লাবু ও আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া নামের ৩ জনকে।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার বাদী হয়ে রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় মামলাটি করেন।

মামলার এজাহারে বনজ কুমার বলেন, আমার নেতৃত্বাধীন তদন্ত সংস্থা পিবিআই চাঞ্চল্যকর মিতু হত্যা মামলা তদন্ত করছে। তদন্তকালে সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার প্রধান আসামি হিসেবে চিহ্নিত হলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেল হাজতে থাকা বাবুল ও বিদেশে অবস্থানরত সাংবাদিক ইলিয়াসসহ বাকি আসামিরা মামলার তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চাইছেন। তারা পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নেন।

আসামিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্ররোচনায় কথিত সাংবাদিক ইলিয়াস গত ৩ সেপ্টেম্বর তার ফেসবুক আইডির মাধ্যমে ‘স্ত্রী খুন স্বামী জেলে, খুনি পেয়েছে তদন্তের দায়িত্ব’ শিরোনামে একটি ডকুমেন্টারি ভিডিও ক্লিপ আপলোড করেন। যা সম্পর্কে আমি পরদিন জানতে পারি। এর আগেও মিতু হত্যা মামলার তদন্ত নিয়ে ইলিয়াস তার ইউটিউব চ্যানেল থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন।

সেই ভিডিওতে বলা হয়েছে, এই মামলায় বাবুল আক্তারকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসিয়েছেন পিবিআই প্রধান বনজ কুমার। মিথ্যা সাক্ষী সাজানোর অভিযোগ করা হয়েছে ভিডিওটিতে। এছাড়াও বাবুলকে রিমান্ডে নির্যাতন করার কথাও বলা হয়েছে।

মামলার তদন্ত নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার অভিযোগে পিবিআই প্রধান মামলা করেন।

প্রসঙ্গত, মিতু হত্যা মামলায় হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগে পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদারসহ ছয়জনের নামে মামলার আবেদন করেছিলেন সাবেক এসপি বাবুল আক্তার।

আবেদনে বনজ কুমার মজুমদার ছাড়া যে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয় তারা হলেন- পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের এসপি নাজমুল হাসান, চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিটের এসপি নাঈমা সুলতানা, পিবিআইয়ের সাবেক পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা, এ কে এম মহিউদ্দিন সেলিম ও চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের পরিদর্শক কাজী এনায়েত কবির।

গত ৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ ড. বেগম জেবুন্নেছার আদালতে আবেদনটি করা হয়। পরে ১৯ সেপ্টেম্বর তার সেই আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত।

২০১৬ সালের ৫ জুন ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে গিয়ে চট্টগ্রাম মহানগরের জিইসি মোড় এলাকায় খুন হন তৎকালীন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। চাঞ্চল্যকর এ মামলাটি পিবিআই তদন্ত করে ইতিমধ্যে চার্জশিট দিয়েছে।

আরও পড়ুন:
বাবুল ও ইলিয়াসের বিরুদ্ধে পিবিআই প্রধানের মামলা
বনজের বিরুদ্ধে বাবুলের মামলার আবেদন নাকচ
মিতু হত্যায় বাবুলের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র পিবিআইয়ের
বাবুল আক্তারের কথা বাস্তবসম্মত কি না তদন্তে বোঝা যাবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
নির্যাতনের অভিযোগে পিবিআইপ্রধানের নামে মামলার আবেদন বাবুল আক্তারের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Mariam Mannans mother wanted to work in a rice hotel

বান্দরবানে ভাতের হোটেলে কাজ করেছিলেন মরিয়মের মা

বান্দরবানে ভাতের হোটেলে কাজ করেছিলেন মরিয়মের মা মা রহিমা বেগমের (বাঁয়ে) সন্ধান চেয়ে মরিয়ম মান্নানের কান্নার ছবি ভাইরাল হয় ফেসবুকে। ছবি: সংগৃহীত
এসপি মুশফিকুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রহিমা বেগম আদালতে যে জবানবন্দি দিয়েছেন, সেই তথ্য আমরা ক্রস ম্যাচিং করে দেখেছি। ইতোমধ্যে তাকে অপহরণের বিষয়টি আমাদের কাছে ভুয়া প্রমাণ হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতিতে মনে হচ্ছে, প্রতিবেশীদের সঙ্গে জমিজমা-সংক্রান্ত তাদের যে বিরোধ আছে, তাতে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্যই তারা এই নাটক করে থাকতে পারেন।’

খুলনার মহেশ্বরপাশার বাড়ি থেকে অপহরণ হয়েছিলেন বলে দাবি করলেও ঘটনার পর বান্দরবানের একটি ভাতের হোটেলে গিয়ে কাজ চেয়েছিলেন মরিয়ম মান্নানের মা রহিমা বেগম। এ তথ্য জানিয়েছে খুলনার পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

নিউজবাংলাকে পিবিআই খুলনার পুলিশ সুপার (এসপি) সৈয়দ মুশফিকুর রহমান জানিয়েছেন, উদ্ধারের পর পুলিশকে দেয়া তথ্যের সঙ্গে আদালতে রহিমার দেয়া জবানবন্দিতে আছে বেশ কিছু গরমিল। এ কারণে ঘটনাটি অপহরণ নয় বলে অনেকটাই নিশ্চিত তিনি।

মাকে খুঁজে পেতে বিভিন্ন সময় মানববন্ধন, সংবাদমাধ্যমে নানা সাক্ষাৎকার ও ফেসবুকে আবেগঘন পোস্ট দিয়ে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে আলোচনায় মরিয়ম মান্নান। মায়ের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে বরাবরই তিনি প্রতিবেশীদের সঙ্গে জমির বিরোধের বিষয়টিকে দায়ী করে আসছিলেন। গত ২৭ আগস্ট রাতে রহিমা নিখোঁজ হন। ফরিদপুরের বোয়ালমারীর একটি গ্রাম থেকে তাকে স্বাভাবিক অবস্থায় উদ্ধার করা হয় গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে।

এসপি মুশফিকুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রহিমা বেগম আদালতে যে জবানবন্দি দিয়েছেন, সেই তথ্য আমরা ক্রস ম্যাচিং করে দেখেছি। ইতোমধ্যে তাকে অপহরণের বিষয়টি আমাদের কাছে ভুয়া প্রমাণ হয়েছে।

‘তদন্তের অগ্রগতিতে মনে হচ্ছে প্রতিবেশীদের সঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত তাদের যে বিরোধ আছে, তাতে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্যই তারা এই নাটক করে থাকতে পারেন।’

রহিমার নিখোঁজের পুরো ঘটনাটি তদন্ত করছেন পিবিআই খুলনার পরিদর্শক আবদুল মান্নান।

তিনি নিউজবাংলাকে জানান, আদালতে দেয়া রহিমার জবানবন্দির সত্যতা যাচাইয়ে মঙ্গলবার দিনভর ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ছিলেন।

বান্দরবানে ভাতের হোটেলে কাজ করেছিলেন মরিয়মের মা

তিনি বলেন, ‘বোয়ালমারীতে রহিমা যে কথা বলেছেন, আদালতে সেইভাবে জবানবন্দি দেননি। সেখানে স্বামী ও মেয়েদের সঙ্গে ঝগড়া করে এসেছেন বলে জানিয়েছেন, যা জবানবন্দির সঙ্গে মিল নেই।’

আদালতে দেয়া জবানবন্দির নথিতে দেখা গেছে, রহিমা বলেছেন, ‘গত ২৭ আগস্ট পানি নেয়ার জন্য আমি বাসার নিচে আসি। এক বালতি নেয়ার পরে অন্য বালতি নিতে আসলে আসামিদের সঙ্গে আরও অনেক লোক আমার বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে। তখন রাত ১০টা বাজে।

‘আসামি পলাশ ও মহিউদ্দিন কাপড় দিয়ে আমার মুখ চেপে ধরে। তখন আমার সঙ্গে থাকা মোবাইলও আসামিরা নিয়ে যায়। আসামিরা আমাকে কোলে তুলে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। আমার হুঁশ ফিরে আসলে তাকিয়ে দেখি সাইনবোর্ডে পার্বত্য চট্টগ্রাম লেখা। তারপর আমি রেলস্টেশনে গিয়ে ট্রেনে ঢাকা আসি।

‘ঢাকা থেকে মুকসেদপুর আসি। সেখান থেকে ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে আমার ভাড়াটিয়ার বাড়ি তথা কুদ্দুসদের বাড়ি যাই। তাদেরকে ঘটনা খুলে বলি। তাদের বাড়ি আমি ৮-৯ দিন ছিলাম। সেখান থেকে পুলিশ আমাকে ধরে নিয়ে আসে। এই আমার জবানবন্দি।’

এ বিষয়ে পিবিআই পরিদর্শক আবদুল মান্নান বলেন, ‘জবনাবন্দিতে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বলতে বান্দরবানকে বুঝিয়েছেন। আমরা জানি বান্দরবানে কোনো ট্রেনলাইন নেই।’

পিবিআইয়ের এসপি মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘রহিমা পুলিশকে বলেছেন যে হুঁশ ফিরে সাইনবোর্ড পড়ে তিনি দেখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম লেখা। ওই স্থানটি হলো বান্দরবান সদরের ইসলামপুর।

‘সেখানে তিনি মণি বেগমের ভাতের হোটেলে কাজ করেছেন। মণি বেগম তাকে স্থানীয় একটি ক্যাম্পে চাকরি দিতে চেয়েছিলেন। সে জন্য তার কাছে জন্মনিবন্ধন ও এনআইডি কার্ড চাওয়া হয়েছিল। এগুলোর জন্য তিনি ফরিদপুরের বোয়ালমারীর সৈয়দপুর গ্রামে তার পূর্বপরিচিত কুদ্দুস মোল্লার বাড়িতে যান।

‘সৈয়দপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হকের কাছে গিয়ে জন্মনিবন্ধন ও এনআইডি দাবি করেন। তবে সেখান থেকে তাকে জন্মনিবন্ধন ও এনআইডি দেয়া হয়নি। পিবিআই বোয়ালমারী থেকে তদন্ত করে এসেছে। শিগগিরই বান্দরবানেও যাওয়া হবে।’

বান্দরবানে ভাতের হোটেলে কাজ করেছিলেন মরিয়মের মা

রহিমার নিখোঁজ হওয়ার পেছনে কারও ইন্ধন আছে কি না জানতে চাইলে পিবিআই পরিদর্শক আবদুল মান্নান বলেন, ‘রহিমাদের সবই ছিল পূর্বপরিকল্পিত। বিষয়টি তার স্বামী ও সন্তানরাও জানতেন। তদন্ত শেষে মামলাটি ভুয়া প্রমাণ হলে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মুক্তি পাবেন। তখন তারা চাইলে রহিমা ও তার সন্তানদের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন।’

রহিমা নিখোঁজ হওয়ার পরদিন তাকে অপহরণ করা হয়েছে জানিয়ে দৌলতপুর থানায় মামলা করেছিলেন তার আরেক মেয়ে আদুরী আক্তার। তাতে আসামি করা হয়েছিল অজ্ঞাতনামাদের। তবে এজাহারে রহিমার সঙ্গে প্রতিবেশীদের জমির বিরোধের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। মরিয়মও মা নিখোঁজের পেছনে প্রতিবেশীদের জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে।

এরপর তাদের পাঁচজন প্রতিবেশীকে গ্রেপ্তার করে। রহিমার দ্বিতীয় স্বামী বেল্লাল হাওলাদারকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

এ বিষয়ে পরিদর্শক মান্নান বলেন, ‘পিবিআই প্রতিবেশী পাঁচজনকে সাতদিনের ও রহিমার স্বামী বেল্লালকে পাঁচ দিনের রিমান্ডের জন্য আদালতে আবেদন করেছে। এখনও শুনানি হয়নি। বেল্লালকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হয়তো কিছু তথ্য পাওয়া যাবে। তখন বোঝা যাবে রহিমা আত্মগোপনের নেপথ্যে কারা জড়িত।’

পিবিআইয়ের এসপি মুশফিকুর বলেন, ‘আমাদের তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। পূর্ণাঙ্গ তদন্তে যদি মরিয়ম ও তার পরিবার দোষী হয়, তবে আইন মোতাবেক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ছাড়া মরিয়মদের মামলায় যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন, তদন্তে যদি তারা নির্দোষ হন, তবে তারাও আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবেন।’

এসব বিষয়ে জানতে মরিয়ম, তার বোন আদুরী ও ভাই মিরাজ আল সাদীকে একাধিকবার কল করা হলেও তারা রিসিভ করেননি।

বান্দরবানে ভাতের হোটেলে কাজ করেছিলেন মরিয়মের মা

তবে অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মরিয়ম জানান, মায়ের অপহরণের বিষয়টি নিয়ে তারও এখন সন্দেহ হচ্ছে।

তিনি সেখানে বলেন, ‘কীভাবে বুঝব মা একা একা চলে গেছেন, আমাদের ছেড়ে, আর ফিরবেন না! জানলে কোনোদিন জিডি মামলায় যেতাম না। ডাক্তার দেখাতে গিয়ে আমার প্রথম মনে হয়েছে মা অপহরণ হননি। কারণ যখন ডাক্তার জিজ্ঞেস করছিলেন কী হয়েছে, তিনি বলেছেন তাকে মেরেছে। এক বছর আগে তাকে যারা যেভাবে মেরেছিল সেই ব্যাখ্যা করছেন মা। মাকে দেখে ভয় পাচ্ছি। মা আমাকে অবিশ্বাস করছেন। এখন মিডিয়া বা কারও সামনে আসতে চান না। মায়ের যত্ন নেওয়াটা জরুরি।’

আরও পড়ুন:
এসআই দোলার সঙ্গে রহিমার রাতভর ইশারাভাষা
রহিমা বেগম ছাড়া পেলেন মেয়ে আদুরীর জিম্মায়
বস্তাবন্দি সেই নারীর পরিচয় নিয়ে এবার ধন্দে পুলিশ
মাত্র ১ হাজার টাকায় ১৩ দিনে ৪ জেলায় মরিয়মের মা!
রহিমার ফরিদপুরে অবস্থানের তথ্য শুক্রবারই জানানো হয় মরিয়মদের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The mother rejected the polices claim about Shawns death

ইটের আঘাতে নয়, শাওনের মৃত্যু গুলিতে: মা

ইটের আঘাতে নয়, শাওনের মৃত্যু গুলিতে: মা মুন্সীগঞ্জে সংঘর্ষে নিহত যুবদলকর্মী শহীদুল ইসলাম শাওন। ছবি: সংগৃহীত
‘মাথায় আঘাতজনিত কারণেই শাওনের মৃত্যু হয়েছে বলে মতামত দিয়েছেন চিকিৎসকরা। শাওনের মাথার পেছনে থেতলানো আঘাত ছিল, সেখানে গান-শুটের কোনো আঘাত নেই। শাওনের মৃত্যু ইটের আঘাতে।’

মুন্সীগঞ্জে যুবদলকর্মী শহীদুল ইসলাম শাওনের মৃত্যু নিয়ে ব্যাখা দিয়েছেন পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান আল-মামুন। বিএনপির দুই গ্রুপে সংঘর্ষের সময় ইটের আঘাতে শাওনের মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় পুলিশের এ দাবি নাকচ করেছেন শাওনের মা লিপি বেগম ও স্থানীয় বিএনপির নেতারা।

শাওনের মা অভিযোগ করে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ইটের আঘাতে নয়, শাওনের মৃত্যু হয়েছে গুলিতে। এখন শাওনের মৃত্যু গুলিতে নয়, ইটের আঘাতে হয়েছে- এমন তথ্য দিয়ে মামলা করতে চাপ দেয়া হচ্ছে।’

ইটের আঘাতে নয়, শাওনের মৃত্যু গুলিতে: মা
শাওনের মৃত্যু নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

বুধবার দুপুর ১২টার দিকে মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানেই শাওনের মৃত্যু নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান আল-মামুন।

তিনি বলেন, ’২১ সেপ্টেম্বর বিকেলে মুক্তারপুর পুরাতন ফেরিঘাটে সদর উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মীরা অনির্ধারিত সমাবেশ ও ঝটিকা মিছিল বের করে। এ সময় তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে মারামারি শুরু হয়।

‘তারা শ্রমিক লীগের অফিস ভাঙচুর করলে জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে বিএনপির নেতাকর্মীরা মারমুখী হয়। এ সময় চারদিক থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে বিএনপির কর্মীরা। তাদের ইটের আঘাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল, সদর থানার ওসিসহ অন্তত ১৬ পুলিশ সদস্য আহত হয়।’

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা জানিয়ে এসপি বলেন, ‘পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শটগানের রাবার কার্তুজ ব্যবহার করেছে ও গ্যাস শেল ছুড়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা তিন-চারটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। পরে পুলিশ ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করে।

‘যুবদলের কর্মী শাওন বিএনপির অপর এক কর্মীর পেছন থেকে ছুড়ে মারা ইটের আঘাতে আহত হন। গুরুতর অবস্থায় স্বজনরা তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে ২২ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে তিনি মারা যান।’

নিজের দাবির স্বপক্ষে যুক্তি তুলে ধরে এসপি বলেন, ‘নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ শাওনের মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করে। ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেকের ফরেনসিক বিভাগে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। সেখানে মৃত্যুর কারণ নিয়ে চূড়ান্ত মতামত দিতে ভিসেরা পরীক্ষা করা হয়।

‘মাথায় আঘাতজনিত কারণেই শাওনের মৃত্যু হয়েছে বলে মতামত দিয়েছেন চিকিৎসকরা। শাওনের মাথার পেছনে থেতলানো আঘাত ছিল, সেখানে গান-শুটের কোনো আঘাত নেই। শাওনের মৃত্যু ইটের আঘাতে।’

ইটের আঘাতে নয়, শাওনের মৃত্যু গুলিতে: মা
সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ৮০ জন আহত হন। ফাইল ছবি

অন্যদিকে সংবাদ সম্মেলনে দেয়া পুলিশের বক্তব্য নাকচ করেছেন শাওনের মা লিপি বেগম। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যারা বলছে আমার ছেলে ইটের আঘাতে মারা গেছে, তারা ওই সময়ের ভিডিও দেখুক। যেখানে গুলির শব্দ হলো, ধোঁয়াও বের হলো, তখনই আমার ছেলে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল।

‘হাসপাতালের রিপোর্টে বলা হচ্ছে, গুলির আঘাতে শাওন মারা গেছে। অথচ পুলিশ এখন সেই রিপোর্টকে মিথ্যা বলছে। ইটের আঘাতে নয়, শাওনের মৃত্যু হয়েছে গুলিতে। এখন শাওনের মৃত্যু গুলিতে নয়, ইটের আঘাতে হয়েছে- এমন তথ্য দিয়ে মামলা করতে চাপ দেয়া হচ্ছে।’

পুলিশের এ দাবি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব কামরুজ্জামান রতন, সদর বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র এ কে এম ইরাদত হোসেন মানু।

বিএনপি নেতাদের দাবি অনুসারে, পুলিশের গুলিতেই যুবদল নেতা শাওন নিহত হয়েছেন, যা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মৃত্যুসনদে উল্লেখ আছে। ঘটনা ধামাচাপা দিতে পুলিশ এখন অন্য কথা বলছে। মামলা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। ওই দিনের ঘটনা বিএনপির কোন্দলের কারণে ঘটেনি। পুলিশের অতি উৎসাহের জন্যই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

ইটের আঘাতে নয়, শাওনের মৃত্যু গুলিতে: মা
যে সংঘর্ষের ঘটনায় মারা যান যুবদলকর্মী শাওন। ফাইল ছবি

গত ২১ সেপ্টেম্বর বিকেলে জেলা শহরের মুক্তারপুর এলাকার পুরাতন ফেরিঘাটে পুলিশ ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়। এতে সাংবাদিক, পুলিশসহ অন্তত ৮০ জন আহত হন।

সংঘর্ষে গুরুতর আহত অবস্থায় যুবদলকর্মী শহীদুল ইসলাম শাওন, জাহাঙ্গীর মাদবরসহ তিনজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন শাওন মারা যান।

ঘটনার পর সদর থানার এসআই মাঈনউদ্দিন ও শ্রমিক লীগ নেতা আব্দুল মালেক বাদী হয়ে দুটি মামলা করেন। আসামি করা হয় বিএনপির দেড় সহস্রাধিক নেতা-কর্মীকে।

আরও পড়ুন:
যুবদল কর্মী শাওনের দাফন
সশস্ত্র মিছিল ও হামলায় ছাত্রলীগ, মামলা বিএনপির বিরুদ্ধে
মুন্সীগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত যুবদল কর্মীর মৃত্যু
পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষে আহত অর্ধশত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Boat sinking in Karatoya 69 bodies recovered in four days

করতোয়ায় নৌকাডুবি: চার দিনে উদ্ধার ৬৯ মরদেহ

করতোয়ায় নৌকাডুবি: চার দিনে উদ্ধার ৬৯ মরদেহ
জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার তদন্তকাজের জন্য আরও তিন দিনের সময় বাড়ানো হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ওই কমিটির প্রধান, তিনি আবার উদ্ধার অভিযান সরাসরি তদারকি করছেন। এ কারণে তদন্তের কাজে সময় লাগছে।

পঞ্চগড়ে করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ঘটনার চতুর্থ দিনে পাওয়া গেছে আরও একটি মরদেহ। বোদা উপজেলায় করতোয়ার আউলিয়ারঘাট থেকে দুপুরে এ মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

এ নিয়ে চার দিনে ৬৯ যাত্রীর মরদেহ নদীর বিভিন্ন অংশ থেকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। এখনও তিনজনের খোঁজ মেলেনি।

এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর রায়।

এদিকে জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার তদন্তকাজের জন্য আরও তিন দিনের সময় বাড়ানো হয়েছে।

তিনি জানান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ওই কমিটির প্রধান, তিনি আবার উদ্ধার অভিযান সরাসরি তদারকি করছেন। এ কারণে তদন্তের কাজে সময় লাগছে।

বোদা উপজেলার মারেয়া আউলিয়া-বদ্বেশ্বরী ঘাটে করতোয়া নদীতে রোববার দুপুরে শতাধিক যাত্রী নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে যায়, যার বেশির ভাগই মহালয়ার পুণ্যার্থী ছিলেন। তারা নদীর ওপারে বদ্বেশ্বরী মন্দিরে প্রার্থনার জন্য যাচ্ছিলেন।

এই প্রাণহানির জন্য শুরু থেকেই অতিরিক্ত যাত্রী বহনকে দায়ী করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে কতজন যাত্রী ছিলেন, তা জানা যায়নি। তবে স্থানীয়দের দাবি, ৫০ থেকে ৬০ জনের ধারণক্ষমতার হলেও নৌকাটিতে যাত্রী ছিল শতাধিক।

করতোয়ায় নৌকাডুবি: চার দিনে উদ্ধার ৬৯ মরদেহ

দুর্ঘটনাকবলিত নৌকার দৈর্ঘ্য ৩৪ হাত, প্রস্থ ১১ হাত। নৌকায় প্রতি এক হাত দূরত্বে একজন করে থাকলেও ৩৪ জন যাত্রী বহন করবে নৌকাটি। একটু চাপাচাপি করে যাত্রী তুললেও সংখ্যাটি ৫০-এর বেশি হওয়ার কথা নয়।

সেখানে শতাধিক যাত্রী ওঠে কীভাবে? প্রশ্নের উত্তরে ঘাটের ইজারাদার আব্দুল জব্বার আলী বলেন, ‘প্রশাসনের লোকজন দেখেছে। তাদের নিষেধ উপেক্ষা করে নৌকা ছাড়ার সময় হুড়মুড় করে যাত্রীরা নৌকায় উঠে পড়ে।’

জেলা পরিষদ থেকে এক বছরের জন্য জব্বারের নামে ইজারা দেয়া হয়েছে খেয়াঘাটটি। অংশীদার রয়েছেন একাধিক। ঘাটে মোট চারটি নৌকা রয়েছে। দুটি ঠেলা নৌকা ও দুটি শ্যালো ইঞ্জিনচালিত। পারাপারে যাত্রীপ্রতি ১০ টাকা করে নেয়া হয়।

আব্দুল জব্বার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অসাবধানতা ও অসচেতনার জন্য এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।’ ঘাটে নিরাপত্তা জোরদার ছিল না, এমনটাও দাবি করেছেন তিনি।

বেঁচে ফেরা নৌকার মাঝি ডিপজলের বরাতে তিনি আরও বলেন, ‘কিছু দূর যাওয়ার পর নৌকাটি টলমল করলে আবার পেছনে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন মাঝি। সে সময় যাত্রীরা ভয়ে বেশি নড়াচড়া করলে কাত হয়ে নৌকাটি ডুবে যায়।’

বেশি লাভের আশায় ইজারাদার ঘাটে যাত্রীর তুলনায় পর্যাপ্ত নৌকা ব্যবহার করেননি দাবি করেন স্থানীয় বাবুল হোসেন। বলেন, ‘পূজার কারণে লোকজনের চাপ অনেক। তারা চারটি নৌকা ব্যবহার করতে পারতেন। কিন্তু একটি ছোট নৌকা ও বড় নৌকা দিয়েই দিন পার করেন তারা। যাত্রীর তুলনায় নৌকা বেশি ছিল না। তাই সময়ের কথা চিন্তা করে মানুষ ঝুঁকি নিয়েছে। এ জন্য এই সর্বনাশ হয়েছে।’

করতোয়ায় নৌকাডুবি: চার দিনে উদ্ধার ৬৯ মরদেহ

বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজয় কুমার রায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওই ঘাটটি ইজারা দেয়া। একটি ছোট, আরেকটি বড় নৌকা ছিল। কিন্তু নৌকাটি আগের ঘাটে ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনি ভিডিও দেখলে বুঝতে পারবেন যে একজন চিৎকার করতেছে, সেই লোকটি আমাদের একজন এসআই। আমরা অনেক চেষ্টা করেও অতিরিক্ত লোক ওঠা বন্ধ করতে পারিনি। বেশি লোক ওঠায় এই দুর্ঘটনা।’

ঘটনাস্থলে থাকা মারেয়া বামনহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু আনসার মো. রেজাউল করিম শামিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নৌকাটা মূল ঘাট থেকে ২০০ মিটার উজানে দাঁড়াইছে। আমরা মূল ঘাটে ছিলাম, প্রশাসনও ছিল। সেখানে লোক তুলছে, মানুষজন হুড়াহুড়ি করে উঠছে। আমরা দূর থেকে চিল্লাইছি লোক বেশি না উঠতে, কিন্তু শোনে নাই। তা ছাড়া মাঝনদী থেকে নৌকা ফিরতেছিল, কিন্তু তখন নৌকা ঘোরানোর সময় পানি উঠে ডুবে গেছে।’

পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক শেখ মো. মাহমুদুল ইসলাম বলেন, ‘নৌকার ধারণক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি লোক ছিল। অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে।’

আরও পড়ুন:
করতোয়ায় নৌকা ডুবতে দেখে উদ্ধারে ঝাঁপ দিয়েছিলেন তারা
পূজার পোশাক কিনতে জমানো টাকায় হচ্ছে সন্তানের সৎকার
করতোয়ায় নৌকাডুবি: দুই দিনে উদ্ধার ৫০ মরদেহ
করতোয়ায় নৌকাডুবিতে মৃত বেড়ে ৪৩
নৌকাডুবি: করতোয়ার পাড়ে ৫ নিখোঁজের অপেক্ষায় ধীরেন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
A Leagues conflict behind house attacks and looting in Singra

সিংড়ায় বাড়িঘরে হামলা-লুটের পেছনে আ.লীগের দ্বন্দ্ব

সিংড়ায় বাড়িঘরে হামলা-লুটের পেছনে আ.লীগের দ্বন্দ্ব নাটোরের সিংড়া উপজেলার পাকুরিয়া বাজারে সোমবারের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর। ছবি: নিউজবাংলা
ফেসবুকে আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রীর পোস্ট ঘিরে সাম্প্রদায়িক হামলার গুঞ্জন উঠলেও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই তা নাকচ করেছে। বলেছে, বিগত উপজেলা ও ইউপি নির্বাচন ঘিরে সৃষ্ট বিরোধের জের ধরে বাড়িঘর ও দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটের ঘটনা ঘটেছে।

নাটোরের সিংড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটের ঘটনা আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের। এটি কোনো সাম্প্রদায়িক হামলা নয়। এই হামলার ভিকটিমরাও ক্ষমতাসীন দলটির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

অবশ্য আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আরিফা জেসমিন কণিকার ফেসবুক স্ট্যাটাস ঘিরে ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক হামলার রূপ দেয়ার চেষ্টা হয়েছিল।

সরেজমিন এলাকাবাসী, প্রশাসন ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিংড়া উপজেলার পাকুরিয়া গ্রামে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাটির ভিকটিম কোনো সংখ্যালঘু পরিবার নয়। রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে দুই ইউপি সদস্যের পূর্ববিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সোমবার বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এই হামলা-লুটপাটে নেতৃত্ব দেন সাবেক ইউপি সদস্য আলিফ হোসেন ও ইটালী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম। আর তাকে মদদ দেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম।

এ ঘটনা নিয়ে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্ট দেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের স্ত্রী আরিফা জেসমিন কণিকা। সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের এই সহসভাপতি পোস্টে যোগ করেন, ‘এসব তথ্য সাংবাদিক ভাইদের নিকট থেকে প্রাপ্ত।’

সিংড়ায় বাড়িঘরে হামলা-লুটের পেছনে আ.লীগের দ্বন্দ্ব
ইউপি সদস্যের কার্যালয়েও হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়। ছবি: নিউজবাংলা

কণিকা পোস্টে লেখেন-

‘নাটোরের সিংড়ায় ৩নং ইটালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আরিফের নেতৃত্বে পাকুরিয়া গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের ২টি বাড়ি ও ৬টি দোকানে ১৯৭১ ও ২০০১-এর মত ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। মুক্তা ঠাকুর এবং মানিক ঠাকুরের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। লুটপাটের মালপত্র ট্রাক বোঝাই করে নিয়ে যায়।

‘গতকাল সোমবার বিকাল ৪টার পর থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আরিফ চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে এ তাণ্ডব চালায় তার সমর্থকরা। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং বাড়ি থেকে বের হতে পারছে না।

‘গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এই আরিফ চেয়ারম্যান ৭টি ইউনিয়নে ঘোড়া মার্কার বিদ্রোহী প্রার্থী দিয়ে নৌকার বিরুদ্ধে ভোট করেছে। ঘটনার সূত্রপাত সেখান থেকেই। প্রতিটি ইউনিয়নে তারা একইভাবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর দমন, নির্যাতন, নিপীড়ন চালাচ্ছে। দল এবং প্রশাসন এই সন্ত্রাসী বাহিনীর কাছে জিম্মি।

‘নির্যাতিতদের ভাষ্যমতে, তারা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে আধ ঘণ্টা ধরে চেষ্টা করেছে। কিন্তু সিংড়া থানা পুলিশ ফোন রিসিভ করেনি। লুটপাটের পর সন্ধ্যায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সন্ত্রাসীদের ভয়ে কেউ কথা বলারও সাহস পাচ্ছে না। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং প্রশাসনের কাছে আমি এই সন্ত্রাসীদের বিচার চাই।’

প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রীর এই পোস্ট ঘিরে সিংড়ায় তোলপাড় শুরু হয়। সিংড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার বিষয় উল্লেখ করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিন্দার ঝড় ওঠে।

অভিযোগ উঠেছে, প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রীর ফেসবুক পোস্টে তথ্যের বিকৃতি ঘটানো হয়েছে। আর তা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতেও আঘাত করেছে।

এ প্রসঙ্গে আরিফা জেসমিন কণিকা বলেন, ‘স্থানীয়দের কাছে হামলার বিষয়টি শুনে ফেসবুকে স্ট্যাটাসের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে বিচার চেয়েছি আমি। কোনো সংখ্যালঘু নির্যাতনের কথা বলিনি বা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হয়েছে তাও উল্লেখ করিনি।’

এ বিষয়ে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিষয়টি কোনো সাম্প্রদায়িক ঘটনা নয়। এটাকে কেউ কেউ ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।’

ফেসবুকে স্ত্রীর পোস্ট দেয়ার বিষয়ে পলক বলেন, ‘ফেসবুকের পোস্ট যার যার নিজস্ব বিষয়। এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না।’

সিংড়ায় বাড়িঘরে হামলা-লুটের পেছনে আ.লীগের দ্বন্দ্ব
নাটোরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা মঙ্গলবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ছবি: নিউজবাংলা

এদিকে ফেসবুকে এমন স্ট্যাটাস ঘিরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরুর পর মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান নাটোরের জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ, পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান, নাটোর পৌরসভার মেয়র ও পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি উমা চৌধুরী জলি, সিংড়ার পৌর মেয়র মো. জান্নাতুল ফেরদৌস, সিংড়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জামিল আকতার, থানার ওসি নুর-ই-আলম সিদ্দিকীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, ঘটনাটি ঘটেছে গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্থানীয় দুই ইউপি সদস্যের পূর্ববিরোধের জের ধরে। মূলত ব্যক্তিগত রেষারেষি থেকেই এটি ঘটেছে। কোনোক্রমেই সাম্প্রদায়িক কোনো হামলা নয়। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

পুলিশ সুপার বলেন, ‘জাহাঙ্গীর মেম্বার ও আলিফ মেম্বার এখানে ইলেকশন করেছেন। নির্বাচনে জাহাঙ্গীর নির্বাচিত হয়েছেন। তখন থেকেই তাদের বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি এখানে একটি মসজিদের ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে এ দুজনের মাঝে আবারও মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে আলিফ মেম্বার তার লোকজন নিয়ে জাহাঙ্গীরের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়।

‘এ ঘটনায় প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমরা মামলা নিয়েছি। যারা এই অঘটন ঘটিয়েছে তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হবে।’

এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সোমবার আলিফ হোসেন ও ইটালী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম তাদের কর্মী-সমর্থক নিয়ে পাকুরিয়া বাজারে এসে ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলমের কার্যালয়, সাবেক ইউপি সদস্য ও ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তা লাল চক্রবর্তীর মার্কেট এবং অ্যাডভোকেট মানিক লাল চক্রবর্তী চেম্বারসহ ৮ থেকে ১০টি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। হামলাকারীরা পাকুরিয়া বাজারে দেশীয় অস্ত্র উঁচিয়ে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে স্থান ত্যাগ করে।

এ বিষয়ে মুক্তা লাল চক্রবর্তী বলেন, ‘বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করায় আওয়ামী লীগের নিবেদিত নেতা-কর্মীরা প্রতিনিয়ত হামলা-মামলার শিকার হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার হাইব্রিড আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পাকুরিয়া বাজারে তাণ্ডব চালানো হয়েছে। তবে এটা কোনো সাম্প্রদায়িক হামলা নয়।’

মুক্তা লাল চক্রবর্তীর বড় ভাই অ্যাডভোকেট মানিক লাল চক্রবর্তী বলেন, ‘আমাদের সমর্থনে ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম ভোটে জয়ী হয়। এর পর থেকেই চেয়ারম্যান আরিফের সমর্থকরা আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত। আর প্রতিপক্ষরা পরিকল্পিতভাবেই এই হামলা চালিয়েছে। আমার চেম্বার ভাঙচুর ও গুরুত্বপূর্ণ নথি লুটপাট করেছে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেও সময়মতো সাহায্য পাইনি। তবে এটা কোনো সাম্প্রদায়িক ইস্যু নয়।’

বর্তমান ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি পালিয়ে জীবন বাঁচিয়েছি। হামলাকারীরা বাজারে তাণ্ডব চালিয়েছে। আমার দলীয় কার্যালয়ও ভাঙচুর করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আলিফ হোসেন মোবাইল ফোনে বলেন, ‘পূর্ববিরোধের জের ধরে ইটালী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের লোকজন এসে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই।’

ইটালী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রাজনৈতিক পক্ষ থাকলে নাম আসবেই। তবে বিষয়টি নিয়ে আমি বিচলিত নই।’

ইটালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় আমি কোনোভাবেই জড়িত নই। প্রথম থেকেই ঘটনাটি সম্প্রদায়িক ইস্যুতে রূপ দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।

‘সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আরিফা জেসমিন কণিকার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ নেই। তিনি কেন যে আমাকে দেখতে পারেন না তা আমি নিজেও জানি না। ঘটনার সঠিক তদন্ত হোক তা আমিও চাই। দুই মেম্বারের দ্বন্দ্ব-সংঘাতে আমার জড়ানোর প্রশ্নই আসে না।’

সিংড়া থানার ওসি নুর-ই-আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘এ ঘটনায় মুক্তা লাল চক্রবর্তী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২৫০ জনের নামে একটি মামলা করেছেন। মামলায় স্থানীয় ইটালী ইউপি চেয়ারম্যান আরিফ ও সাবেক ইউপি সদস্য আলিফ হোসেনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পর থেকেই অভিযুক্তরা পলাতক।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Case application in the name of Eden Chhatra League President Editor

ইডেন ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদকের নামে হত্যাচেষ্টার মামলা

ইডেন ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদকের নামে হত্যাচেষ্টার মামলা ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা ও সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানা। ফাইল ছবি
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর ইডেন ছাত্রলীগের সভাপতি রিভা ও সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানার নির্দেশে রাত ১০টার দিকে আনিকা তাবাসসুম স্বর্ণাসহ অজ্ঞাত তিন থেকে চারজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসের কক্ষে প্রবেশ করে গালিগালাজ করে তাকে খুঁজতে থাকেন। ওই সময় জান্নাতুলকে না পেয়ে তার আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন তারা। এ ছাড়া জান্নাতুলের ২০ হাজার টাকা ও ব্যবহৃত ল্যাপটপ চুরি করে নিয়ে যান কক্ষে আসা তিন থেকে চারজন।

ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা, সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানাসহ আটজনের নামে নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।

কলেজ ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সহসভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস বুধবার ঢাকার মহানগর হাকিম সৈয়দ মোস্তফা রেজা নূরের আদালতে মামলার আবেদন করেন।

বিচারক বাদীর জবানবন্দি নিয়ে রাজধানীর লালবাগ থানাকে তদন্ত করে ২৩ অক্টোবর প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দেন।

মামলায় অন্য যাদের আসামি করা হয়েছে, তারা হলেন নুজহাত ফারিয়া রোকসানা, মিম ইসলাম, নূরজাহান, ঋতু আক্তার, আনিকা তাবাসসুম স্বর্ণা ও কামরুন নাহার জ্যোতি।

এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর ইডেন ছাত্রলীগের সভাপতি রিভা ও সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানার নির্দেশে রাত ১০টার দিকে আনিকা তাবাসসুম স্বর্ণাসহ অজ্ঞাত তিন থেকে চারজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসের কক্ষে প্রবেশ করে গালিগালাজ করে তাকে খুঁজতে থাকেন। ওই সময় জান্নাতুলকে না পেয়ে তার আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন তারা। এ ছাড়া জান্নাতুলের ২০ হাজার টাকা ও ব্যবহৃত ল্যাপটপ চুরি করে নিয়ে যান কক্ষে আসা তিন থেকে চারজন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, খবর পেয়ে জান্নাতুল তার কক্ষে আসার পথে আয়শা হলের সামনে রিভা-রাজিয়াসহ আট আসামি তাকে ঘিরে ধরেন। এরপর রিভা তার হাতে থাকা হকিস্টিক দিয়ে আঘাত করেন। আর রাজিয়াসহ বাকি আসামিরা তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে দুই দিক থেকে টান দেন। ওই সময় জান্নাতুল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ওই আটজন তাকে ছেড়ে যান।

জান্নাতুলের অভিযোগ, রিভাসহ অন্যরা মারধর করে যাওয়ার সময় তার হাত থেকে ২০ হাজার টাকার মোবাইল ফোন, গলায় থাকা ৩৫ হাজার টাকার স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে যান।

তার ভাষ্য, খবর পেয়ে হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা জান্নাতুল ফেরদৌসকে উদ্ধার করেন। তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে ক্যাম্পাস না ছাড়লে তার জীবন শেষ করে দেবে বলে হুমকি দেন রিভা, রাজিয়ারা।

মামলার অভিযোগের বিষয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে আমার ওপর হামলা করা হয়েছে। আমাকে নির্যাতন করা হয়েছে।

‘আমি অসুস্থ। অথচ আমিসহ যারা এ ঘটনার প্রতিবাদ করল তাদের বহিষ্কার করা হলো। এটা কেমন অন্যায়!’

প্রেক্ষাপট

গত শনিবার রাতে ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের এক সহসভাপতিকে মারধর করেন কলেজ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা। এর প্রতিবাদে রাতেই বিক্ষোভ করেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

রোববার সকালে সংবাদ সম্মেলন করে ওই ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের ৪৩ সদস্যের কমিটির ২৫ জন। সন্ধ্যায় পাল্টা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক গ্রুপ। অন্যরা এর প্রতিবাদ জানালে আবারও সংঘর্ষ হয় দুই পক্ষের।

এ ঘটনার পর রোববার মধ্যরাতে ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ১৬ জনকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়।

স্থায়ী বহিষ্কার হওয়াদের মধ্যে ১০ জন বর্তমান কমিটির সহসভাপতি, একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক আর চারজন কর্মী।

তারা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা এবং সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানার বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন অভিযোগ করে কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংগঠনের শৃঙ্খলা পরিপন্থি কার্যকলাপে জড়িত থাকার অপরাধে ১৬ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আর এটির প্রাথমিক প্রমাণও পাওয়া গেছে।

স্থায়ী বহিষ্কার হওয়া ছাত্রীরা হলেন ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি সোনালি আক্তার, সুস্মিতা বাড়ৈ, জেবুন্নাহার শিলা, কল্পনা বেগম, জান্নাতুল ফেরদৌস, আফরোজা রশ্মি, মারজানা ঊর্মি, সানজিদা পারভীন চৌধুরী, এস এম মিলি ও সাদিয়া জাহান সাথী। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা খানম বিন্তি, সাংগঠনিক সম্পাদক সামিয়া আক্তার বৈশাখি এবং কর্মী রাফিয়া নীলা, নোশিন শার্মিলী, জান্নাতুল লিমা ও সূচনা আক্তার।

আরও পড়ুন:
‘ইডেন ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদক কেন বহিষ্কার হলেন না?’
আমৃত্যু খাবার মুখে না তোলার প্রতিজ্ঞা ইডেন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতদের
সংবাদ সম্মেলনে ইডেন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতরা
ইডেন ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত, বহিষ্কার ১৬
ইডেনের সংঘর্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে আ. লীগ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The derailed carriage was removed after 10 hours

১০ ঘণ্টা পর সরানো হলো লাইনচ্যুত বগি

১০ ঘণ্টা পর সরানো হলো লাইনচ্যুত বগি
টঙ্গী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক বলেন, ‘রেললাইন থেকে লাইনচ্যুত বগিটি সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এখন দুই লাইনেই ট্রেন চলাচল করছে।’

গাজীপুরের টঙ্গীতে ১০ ঘণ্টা পর লাইনচ্যুত মালবাহী ট্রেনের বগিটি সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

ঢাকা থেকে যাওয়া একটি উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন বেলা ২টার পর বগিটি উদ্ধার করে। বুধবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে মধুমিতা রেললাইন এলাকায় বগিটি লাইনচ্যুত হয়।

টঙ্গী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক নুর মোহাম্মদ খান নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘রেললাইন থেকে লাইনচ্যুত বগিটি সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এখন দুই লাইনেই ট্রেন চলাচল করছে।’

ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী মালবাহী কনটেইনারের একটি বগি ভোরে মধুমিতা এলাকায় লাইনচ্যুত হয়। এতে আপ লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। উদ্ধারের জন্য পরে ঢাকা থেকে একটি রিলিফ ট্রেন পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন:
বগি লাইনচ্যুত: উদ্ধারকাজ শুরু হয়নি ৬ ঘণ্টায়ও
টঙ্গীতে মালবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত
দেড় ঘণ্টা পর ঢাকা-উত্তরবঙ্গে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক
গাজীপুরে তেলবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত
ভারতের তৈরি ৪২০ মালবাহী বগি কিনছে রেলওয়ে

মন্তব্য

p
উপরে