× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
IGP Benazir is retiring
hear-news
player
print-icon

অবসরে যাচ্ছেন আইজিপি বেনজীর

অবসরে-যাচ্ছেন-আইজিপি-বেনজীর
পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ। ফাইল ছবি
৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হচ্ছে চাকরির মেয়াদ। ১ অক্টোবর থেকে ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত তাকে এক বছরের অবসর ও অবসরোত্তর ছুটি দেয়া হয়েছে।

বয়স ৫৯ বছর পূর্ণ হওয়ায় আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকে অবসরে পাঠাচ্ছে সরকার।

তাকে ১৮ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ ‘ল্যাম্প গ্রান্ট’সহ আগামী ১ অক্টোবর থেকে ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এক বছরের অবসর ও অবসরোত্তর ছুটি দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব ধনঞ্জয় কিমার দাস স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ কথা জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ (২০১৮ সনের ৫৭ নং আইন) এর ধারা ৪৩(১) (ক) অনুযায়ী এই অবসর দেয়া হয়েছে।

সপ্তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তা বেনজীর আহমেদ ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ পুলিশে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদানের মধ্য দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে কিশোরগঞ্জের এসপি, পুলিশ একাডেমির প্রধান প্রশিক্ষক, পুলিশ সদরদপ্তরে এআইজি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

২০০১ সালে তিনি সারদা পুলিশ একাডেমির চিফ ইনস্ট্রাক্টর (সিআই) ছিলেন। পরবর্তীতে টাঙ্গাইল পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উপ মহাপরিদর্শক ছিলেন। বসনিয়া ও কসোভোতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও কর্মরত ছিলেন বেনজীর।

নিউ ইয়র্কের জাতিসংঘ সদরদপ্তরে ‘চিফ মিশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট সার্ভিসেস’ হিসেবে এক বছর কাজ করেন তিনি। ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি র‌্যাবের মহাপরিচালক ছিলেন। ২০২০ সালের এপ্রিলে তিনি বাংলাদেশ পুলিশের ৩০তম মহাপরিদর্শক (আইজি) হিসেবে নিয়োগ পান। ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি মহাপুলিশ পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি র‌্যাবের ডিজি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন ছয় বছরের বেশি। তার আগে তিনি প্রায় সাড়ে চার বছর ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ছিলেন।

বেনজীর আহমেদ ১৯৬৩ সালের ১ অক্টোবর গোপালগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষাজীবনে বেনজীর আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এমএ এবং এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের এশিয়া প্যাসিফিক সেন্টার ফর সিকিউরিটি স্ট্যাডিজ, অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা চার্লস স্ট্রার্ট ইউনিভার্সিটি ও সিঙ্গাপুরের বিশ্বব্যাংক আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পড়াশোনা করেন।

আরও পড়ুন:
সন্ত্রাসবাদ মাথাচাড়ার চেষ্টা করলে অবাক হওয়ার কিছু নেই: আইজিপি
স্বাধীনতার ৩০ বছরই আমরা গণতন্ত্রের দেখা পাইনি: আইজিপি
সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের সক্ষমতা বাড়াবে ইন্টারপা: আইজিপি
আইজিপি ও জাতিসংঘ পুলিশ প্রধানের বৈঠক
আমেরিকার প্রতি অভিযোগ নেই, নিষেধাজ্ঞার পেছনে সেই গোষ্ঠী: বেনজীর

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
The mother found the sons bloody body in the garden

ছেলের রক্তাক্ত মরদেহ বাগানে খুঁজে পেলেন মা

ছেলের রক্তাক্ত মরদেহ বাগানে খুঁজে পেলেন মা
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার বিকেল থেকে নিখোঁজ লাবন। বুধবার বেলা ১২টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে একটি লেবু বাগানে লাবনের রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ দেখতে পান তার মা।

শেরপুরে নিখোঁজের পরদিন স্কুলছাত্রের রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বেতমারী ঘুঘুরাকান্দি ইউনিয়নের সূবর্ণচর গ্রামের বাড়ির পাশে লেবু বাগান থেকে বুধবার দুপুরে উদ্ধার করা হয় মরদেহটি।

নিহত ১৩ বছরের নাঈম ইসলাম লাবন সূবর্ণচর গ্রামের মাসুদ আলীর ছেলে। ঘুঘুরাকান্দি মডেল অ্যাকাডেমিতে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ত সে।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) হান্নান মিয়া এসব নিশ্চিত করেছেন।

স্বজনদের বরাতে তিনি জানান, লাবন মঙ্গলবার স্কুল থেকে ফিরে বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে যায়। সন্ধ্যায় পর বাড়ি না ফেরায় তাকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুজি করে পরিবার। বুধবার বেলা ১২টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে একটি লেবু বাগানে লাবনের রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ দেখতে পান তার মা।

পুলিশে তার মরদেহ শেরপুর সদর হাসপাতালে পাঠায়।

লাবনের বাবা মাসুদ মিয়া জানান, ছেলের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় সিগারেটের ছ্যাকা দেয়ার চিহ্ন দেখেছেন। পুরুষাঙ্গেও আঘাতের চিহ্ন পেয়েছেন।

পুলিশ কর্মকর্তা হান্নান জানান, যারা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

আরও পড়ুন:
‘চাচার প্রতি ক্ষোভে’ চাচাতো ভাইকে হত্যা, যুবক গ্রেপ্তার
ধর্ষণের পর হত্যায় ১১ বছর পর ৯ জনের যাবজ্জীবন
রাতে শিশুটিকে ডোবায় ফেলে এসে ঘুমিয়ে পড়েন বাবা
জমি নিয়ে বিরোধে বাবাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
প্রতিবেশীর আমবাগানে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদকের ঝুলন্ত মরদেহ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Gang involved in more than five hundred thefts arrested

পাঁচ শতাধিক চুরিতে জড়িত চক্র গ্রেপ্তার

পাঁচ শতাধিক চুরিতে জড়িত চক্র গ্রেপ্তার
তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার এইচ এম আজিমুল হক জানান, চোর চক্রটি গত ৮-৯ বছরে ঢাকার হাতিরঝিল, রামপুরা, তেজগাঁও, কলাবাগান, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, রূপনগর, কাফরুল; চটগ্রাম, সিলেট ও বরিশাল এলাকায় পাঁচ শতাধিক চুরির সঙ্গে জড়িত।

রাজধানীর অন্তত নয়টি এলাকাসহ চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশালে পাঁচ শতাধিক চুরির সঙ্গে জড়িত চক্রের প্রধানসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে হাতিরঝিল থানা পুলিশ।

বুধবার রাতে তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানিয়েছেন ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার এইচ এম আজিমুল হক।

তিনি জানান, চোর চক্রটি গত ৮-৯ বছরে ঢাকার হাতিরঝিল, রামপুরা, তেজগাঁও, কলাবাগান, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, রূপনগর, কাফরুল; চটগ্রাম, সিলেট ও বরিশাল এলাকায় পাঁচ শতাধিক চুরির সঙ্গে জড়িত।

নিউ ইস্কাটনের একটি চুরি মামলা তদন্ত করতে গিয়ে চক্রটির সন্ধান পায় হাতিরঝিল পুলিশ।

গ্রেপ্তার চক্রটির বিষয়ে আগামীকাল নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Video message of Rohingya terrorists killing four sailors

রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীর চার মাঝি খুনের ভিডিও বার্তা!

রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীর চার মাঝি খুনের ভিডিও বার্তা! কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় কেন্দ্র। ছবি: সংগৃহীত
এপিবিএন-এর সহকারী পুলিশ সুপার (অপস) মো. ফারুক আহমেদ বলেন, ‘প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে হাশিমের বক্তব্য সঠিক নয়। প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বা কারও প্ররোচনায় সে এ ধরনের প্রচার চালিয়েছে।’

কক্সবাজারের উখিয়ায় চার মাঝিকে খুনের রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে মোহাম্মদ হাশিম নামে এক যুবক ফেসবুকে ভিডিও পোস্ট করেছেন। তিনি নিজেকে ‘ইসলামী মাহাজ’ নামে একটি সংগঠনের সদস্য বলে দাবি করেছেন।

প্রাথমিক তদন্ত শেষে এপিবিএন বলছে, হাশিমের এই ভিডিও বার্তা মূলত প্রকৃত অপরাধীদের আড়ালের উদ্দেশ্যে। একটি গোষ্ঠীর ইন্ধনে এবং প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় এটা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে হাশিমের অবস্থান শনাক্তের দাবি করেছে ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সংস্থাটি।

বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানান ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সহকারী পুলিশ সুপার (অপস) মো. ফারুক আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে হাশিমের বক্তব্য সঠিক নয়। প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বা কারও প্ররোচনায় সে এ ধরনের প্রচার চালিয়েছে। তারপরও তার দেয়া বক্তব্য গুরুত্বসহকারে নিয়ে যাচাই করা হচ্ছে। তাকে আইনের আওতায় এনে প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

ফারুক আহমেদ জানান, ইতোমধ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৮ তে অবস্থিত হাশিমের ঠিকানায় গিয়ে নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে কথা বলে তার নাম-ঠিকানা সঠিক পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, হাশিম কয়েক মাস ধরে তার জন্য বরাদ্দ আশ্রয়স্থলের বাইরে অবস্থান করছেন।

মোহাম্মদ হাশিমের ফেসবুক একাউন্টে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি একটি অস্ত্র হাতে ভিডিওতে এসে চার মাঝির মধ্যে কাকে কীভাবে হত্যা করা হয় তার রোমহর্ষক বর্ণনা দিচ্ছেন।

ভিডিওতে হাশিম বলেন, ‘আমার মতো ২৫ জন যুবককে অস্ত্র দিয়েছে ইসলামী সংগঠন মাহাজ। যাদের কাজ ছিল হত্যার মিশন বাস্তবায়ন করা। যার জন্য আমাদের দেয়া হতো মোটা অংকের টাকা। আমাদের মূল কাজ ছিল যারা প্রত্যাবাসন নিয়ে কাজ করে তাদের হত্যা করা। সম্প্রতি ৫-৬ দিনের মধ্যে আমরা তিন মাঝিসহ এই স্বেচ্ছাসেবককে হত্যা করেছি।’

লাইভে খুনের শিকার মাঝিদের নামও বলেছেন এই যুবক। তিনি বলেন, ‘১৮ নম্বর ক্যাম্পের হেড মাঝি জাফর, ৭ নম্বর ক্যাম্পের ইসমাঈল, কুতুপালং এক্সটেনশন ক্যাম্প-৪ এইচ ব্লকের এরশাদ ও হেড মাঝি আজিমুল্লাহকে হত্যা করেছি।’

একইভাবে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপ ইসলামী মাহাজ সংগঠনের চার মুখপাত্রের নামও বলেন মোহাম্মদ হাশিম। তারা হলেন- জিম্মাদার সাহাব উদ্দিন, রহমত উল্লাহ, হেড মাঝি ভুইয়া ও মৌলভী রফিক। এই চারজন এই সংগঠনের নেতৃত্ব দিতেন বলে জানান এই রোহিঙ্গা যুবক।

হাশিম আরও বলেন, ‘সামনে আরও বড় মিশন ছিল। কিন্তু নিজের ভুল বুঝতে পেরেছি। তাই এই খারাপ জগৎ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চাই।’

এদিকে হাশিমের এই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ভিডিও প্রচারের পর থেকে ক্যাম্পে মাঝিসহ নেতৃস্থানীয় রোহিঙ্গাদের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গাদের অবশ্যই ফিরে যেতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফের কুপিয়ে হত্যা
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সাবেক মাঝিকে কুপিয়ে হত্যা
পাসপোর্ট করতে গিয়ে নারীসহ আটক দুই রোহিঙ্গা
রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যা মামলার অন্যতম আসামির জেলে মৃত্যু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
One was serving the sentence of the other this time both of them were facing punishment

একের সাজা খাটছিলেন আরেক, এবার শাস্তির মুখে দুজনই

একের সাজা খাটছিলেন আরেক, এবার শাস্তির মুখে দুজনই আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশ হেফাজতে জুয়েল (বায়ে) ও জাকির। ছবি: নিউজবাংলা
কোর্ট ওসি জানান, আদালতের শুনানিতে প্রকৃত অপরাধী জুয়েলের আইনজীবীকে স্বশরীরে হাজির হয়ে এ ঘটনার ব্যাখা দিতে বলা হয়।

নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি জাকিরের পরিবর্তে ছদ্মনাম ধারণ করে সাজা ভোগ করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন জুয়েল নামে আরেকজন।

এ অবস্থায় প্রকৃত আসামিকে জেলে পাঠানোর পাশাপাশি জুয়েলের বিরুদ্ধেও মামলা করার আদেশ দিয়েছে আদালত।

নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শামছুর রহমানের আদালত বুধবার বিকেলে এ আদেশ দেয়।

এ সময় মাদক মামলা থেকে জুয়েলকে অব্যহতি দেয়া হলেও জাকিরকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মাদক মামলাটির সাজাপ্রাপ্ত জাকির বন্দর উপজেলার নূরবাগ এলাকার সামেদ মিয়ার ছেলে। তার পরিবর্তে আসামি সেজে সাজা ভোগ করতে যাওয়া জুয়েল বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জের আলাউদ্দিনের ছেলে।

আদালত পুলিশের পরির্দশক আসাদুজ্জামান জানান, মাদক মামলার মূল আসামি জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর তাকে সহ তার হয়ে সাজাভোগ করতে আত্মসমর্পণ করা জুলেকেও আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় দুজনের কথায় বেমিল পান বিচারক।

পরে জাকিরের হয়ে সাজা ভোগ করতে আসা জুয়েলের বিরুদ্ধে আদালতের কার্য ধারায় ভুয়া আসামি সেজে প্রতারণা ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ায় ফতুল্লা মডেল থানায় আদালতের বেঞ্চ সহকারী জহিরুল ইসলামকে মামলা করার নির্দেশ দেয় আদালত।

কোর্ট ওসি জানান, শুনানিতে জুয়েলের আইনজীবীকে স্বশরীরে হাজির হয়ে এ ঘটনার ব্যাখা দিতে বলা হয়।

এ সময় রোকেয়া সুলতানা নামে ওই আইনজীবী আদালতকে জানান, জুয়েল তার কাছে গিয়ে দাবি করেন- তিনি জাকির। মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তিনি জানতেন না যে জুয়েল মিথ্যা বলছে। এ কারণে তিনি তাকে আত্মসমর্পণ করিয়ে জামিন আবেদন করেন।

তবে যাচাই-বাছাই না করে জুয়েলকে আদালতে হাজির করে জামিন আবেদন করায় আদালতে ক্ষমা চান রোকেয়া সুলতানা। পরে আদালত তাকে সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দেয়।

এ বিষয়ে আইনজীবী রোকেয়া সুলতানার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি জাকিরের স্ত্রী জানান, জাকির দুই বার বিদেশে গেছেন। বর্তমানে ভাতের হোটেলের ব্যবসা করেন। তবে জুয়েলকে তিনি চেনেন না বলে দাবি করেন।

জুয়েলের পাশের এলাকার বাসিন্দা নিজাম মিয়া বলেন, ‘জুয়েল ও জাকির একে অপরের পূর্ব পরিচিত। জুয়েল বিভিন্ন মামলায় এর আগে একাধিকবার জেল খেটেছে। ছোটখাটো অর্থ তাদের মধ্যে লেনদেন হয়ে থাকতে পারে।’

একের সাজা খাটছিলেন আরেক, এবার শাস্তির মুখে দুজনই

ওই মাদক মামলা থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২১ এপ্রিল বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জের রসূলবাগ এলাকা থেকে ২০ পিস ইয়াবাসহ জাকিরকে আটক করে পুলিশ। পরে জাকির পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দেন যে- তিনি বিদেশ থেকে ফিরে মাদক বিক্রি শুরু করেছেন।

এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা করেন বন্দর থানার তখনকার এসআই মোকলেছুর রহমান। সেই মামলায় গ্রেপ্তারের পর কারাগারে যান জাকির। পরে ওই বছরই ৩ মে আদালত থেকে জামিন পান জাকির। এরপর থেকে হাজিরা দিচ্ছিলেন।

২০১৭ সালের ৮ আগস্ট আদালতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা পংকজ কান্তি সরকার। পরে মামলার বিচারকাজ শুরু হয়।

এর মধ্যে ২০১৭ সালের ১২ অক্টোরর সবশেষ আদালতে হাজিরা দেন জাকির। এরপর থেকেই তিনি পলাতক। এ কারণে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করে।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী জহিরুল ইসলাম জানান, ২০২২ সালের ১০ আগস্ট জাকিরের অনুপস্থিতিতে ওই মামলার রায় হয়। রায়ে জাকিরকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। একইসঙ্গে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ১০ দিনের বিনাশ্রম সাজা দেয়া হয়।

তবে গত ১২ সেপেম্বর জুয়েল নামের ওই ব্যক্তি আদালতে আত্মসমর্পণ করে দাবি করেন তিনিই সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি জাকির। এ সময় তিনি তার আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে জামিনের আবেদন করেন। তবে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে জুয়েলকে কারাগারে পাঠায়।

তিনদিন পর গত ১৫ সেপ্টেম্বর কারা কর্তৃপক্ষ আদালতকে জানায়, তিনি জাকির নন। তার নাম জুয়েল। এ নিয়ে কারাকর্তৃপক্ষ আদালতে একটি প্রতিবেদন পাঠায়।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, মাদক মামলায় ২০১৭ সালের ২১ আগস্ট থেকে ৩ মে পর্যন্ত যে আসামি কারাগারে ছিলেন তার সঙ্গে বর্তমানে আত্মসর্মপন করা ব্যক্তির কোনো মিল নেই। কারাগারের নথি ও ছবিতেও অমিল রয়েছে।

এ ছাড়া কারাগারের নিবন্ধন বইয়ে পাওয়া গেছে, আত্মসর্মপন করা ব্যক্তির নাম জুয়েল। তিনি ২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর থেকে ২০১৭ সালের ১০ সেপেম্বর পর্যন্ত অন্য আরেকটি মামলায় জেলে ছিলেন।

একজনের সাজা আরেকজন ভোগ করতে যাওয়ার বিষয়টি শনাক্ত করেন নারায়ণগঞ্জের জেলার শাহ্ রফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে জুয়েল জানায়, তিনি ছদ্মনামে জাকিরের সাজা ভোগ করতে এসেছেন। আদালত আমাদের প্রতিবেদনটি আমলে নিয়ে ২০ সেপ্টেম্বর শুনানি করে। ওইদিন মূল আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য পূর্ণরায় পরোয়ানা জারি করা হয়।

‘গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে মূল আসামি জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হলে আজ শুনানি হয়।’

আরও পড়ুন:
ভূমির কুতুবের জামিন বাতিল
ভূমির কুতুবের জামিন নিয়ে আদেশ বুধবার
আদালত প্রাঙ্গণে হামলায় আহত দুই সাংবাদিক
আদালতে মিথ্যা বলে ফেঁসে গেলেন ২ জন
কুয়াকাটায় ৮ ঘণ্টা পর চালু হলো হোটেল-রেস্তোরাঁ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Banaj Kumars case report on November 6

বনজ কুমারের মামলার প্রতিবেদন ৬ নভেম্বর

বনজ কুমারের মামলার প্রতিবেদন ৬ নভেম্বর পিবিআইয়ের প্রধান বনজ কুমার মজুমদার ও সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারসহ চারজনের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান বনজ কুমার মজুমদার মামলা করেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের এ মামলায় অন্য আসামিরা হলেন সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন, হাবিবুর রহমান লাবু ও আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া।

সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারসহ চারজনের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান বনজ কুমার মজুমদারের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে আগামী ৬ নভেম্বর দিন ঠিক করেছে আদালত।

বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আবু বকর ছিদ্দিকের আদালতে মামলার এজাহার জমা দেয়া হয়। আদালত তা গ্রহণ করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তারিখ ঠিক করেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের এ মামলায় বাবুল আক্তার ছাড়াও আসামি করা হয়েছে ইলিয়াস হোসাইন, হাবিবুর রহমান লাবু ও আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া নামের ৩ জনকে।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার বাদী হয়ে রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় মামলাটি করেন।

মামলার এজাহারে বনজ কুমার বলেন, আমার নেতৃত্বাধীন তদন্ত সংস্থা পিবিআই চাঞ্চল্যকর মিতু হত্যা মামলা তদন্ত করছে। তদন্তকালে সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার প্রধান আসামি হিসেবে চিহ্নিত হলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেল হাজতে থাকা বাবুল ও বিদেশে অবস্থানরত সাংবাদিক ইলিয়াসসহ বাকি আসামিরা মামলার তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চাইছেন। তারা পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নেন।

আসামিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্ররোচনায় কথিত সাংবাদিক ইলিয়াস গত ৩ সেপ্টেম্বর তার ফেসবুক আইডির মাধ্যমে ‘স্ত্রী খুন স্বামী জেলে, খুনি পেয়েছে তদন্তের দায়িত্ব’ শিরোনামে একটি ডকুমেন্টারি ভিডিও ক্লিপ আপলোড করেন। যা সম্পর্কে আমি পরদিন জানতে পারি। এর আগেও মিতু হত্যা মামলার তদন্ত নিয়ে ইলিয়াস তার ইউটিউব চ্যানেল থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন।

সেই ভিডিওতে বলা হয়েছে, এই মামলায় বাবুল আক্তারকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসিয়েছেন পিবিআই প্রধান বনজ কুমার। মিথ্যা সাক্ষী সাজানোর অভিযোগ করা হয়েছে ভিডিওটিতে। এছাড়াও বাবুলকে রিমান্ডে নির্যাতন করার কথাও বলা হয়েছে।

মামলার তদন্ত নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার অভিযোগে পিবিআই প্রধান মামলা করেন।

প্রসঙ্গত, মিতু হত্যা মামলায় হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগে পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদারসহ ছয়জনের নামে মামলার আবেদন করেছিলেন সাবেক এসপি বাবুল আক্তার।

আবেদনে বনজ কুমার মজুমদার ছাড়া যে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয় তারা হলেন- পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের এসপি নাজমুল হাসান, চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিটের এসপি নাঈমা সুলতানা, পিবিআইয়ের সাবেক পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা, এ কে এম মহিউদ্দিন সেলিম ও চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের পরিদর্শক কাজী এনায়েত কবির।

গত ৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ ড. বেগম জেবুন্নেছার আদালতে আবেদনটি করা হয়। পরে ১৯ সেপ্টেম্বর তার সেই আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত।

২০১৬ সালের ৫ জুন ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে গিয়ে চট্টগ্রাম মহানগরের জিইসি মোড় এলাকায় খুন হন তৎকালীন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। চাঞ্চল্যকর এ মামলাটি পিবিআই তদন্ত করে ইতিমধ্যে চার্জশিট দিয়েছে।

আরও পড়ুন:
বাবুল ও ইলিয়াসের বিরুদ্ধে পিবিআই প্রধানের মামলা
বনজের বিরুদ্ধে বাবুলের মামলার আবেদন নাকচ
মিতু হত্যায় বাবুলের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র পিবিআইয়ের
বাবুল আক্তারের কথা বাস্তবসম্মত কি না তদন্তে বোঝা যাবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
নির্যাতনের অভিযোগে পিবিআইপ্রধানের নামে মামলার আবেদন বাবুল আক্তারের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Mariam Mannans mother wanted to work in a rice hotel

বান্দরবানে ভাতের হোটেলে কাজ করেছিলেন মরিয়মের মা

বান্দরবানে ভাতের হোটেলে কাজ করেছিলেন মরিয়মের মা মা রহিমা বেগমের (বাঁয়ে) সন্ধান চেয়ে মরিয়ম মান্নানের কান্নার ছবি ভাইরাল হয় ফেসবুকে। ছবি: সংগৃহীত
এসপি মুশফিকুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রহিমা বেগম আদালতে যে জবানবন্দি দিয়েছেন, সেই তথ্য আমরা ক্রস ম্যাচিং করে দেখেছি। ইতোমধ্যে তাকে অপহরণের বিষয়টি আমাদের কাছে ভুয়া প্রমাণ হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতিতে মনে হচ্ছে, প্রতিবেশীদের সঙ্গে জমিজমা-সংক্রান্ত তাদের যে বিরোধ আছে, তাতে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্যই তারা এই নাটক করে থাকতে পারেন।’

খুলনার মহেশ্বরপাশার বাড়ি থেকে অপহরণ হয়েছিলেন বলে দাবি করলেও ঘটনার পর বান্দরবানের একটি ভাতের হোটেলে গিয়ে কাজ চেয়েছিলেন মরিয়ম মান্নানের মা রহিমা বেগম। এ তথ্য জানিয়েছে খুলনার পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

নিউজবাংলাকে পিবিআই খুলনার পুলিশ সুপার (এসপি) সৈয়দ মুশফিকুর রহমান জানিয়েছেন, উদ্ধারের পর পুলিশকে দেয়া তথ্যের সঙ্গে আদালতে রহিমার দেয়া জবানবন্দিতে আছে বেশ কিছু গরমিল। এ কারণে ঘটনাটি অপহরণ নয় বলে অনেকটাই নিশ্চিত তিনি।

মাকে খুঁজে পেতে বিভিন্ন সময় মানববন্ধন, সংবাদমাধ্যমে নানা সাক্ষাৎকার ও ফেসবুকে আবেগঘন পোস্ট দিয়ে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে আলোচনায় মরিয়ম মান্নান। মায়ের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে বরাবরই তিনি প্রতিবেশীদের সঙ্গে জমির বিরোধের বিষয়টিকে দায়ী করে আসছিলেন। গত ২৭ আগস্ট রাতে রহিমা নিখোঁজ হন। ফরিদপুরের বোয়ালমারীর একটি গ্রাম থেকে তাকে স্বাভাবিক অবস্থায় উদ্ধার করা হয় গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে।

এসপি মুশফিকুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রহিমা বেগম আদালতে যে জবানবন্দি দিয়েছেন, সেই তথ্য আমরা ক্রস ম্যাচিং করে দেখেছি। ইতোমধ্যে তাকে অপহরণের বিষয়টি আমাদের কাছে ভুয়া প্রমাণ হয়েছে।

‘তদন্তের অগ্রগতিতে মনে হচ্ছে প্রতিবেশীদের সঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত তাদের যে বিরোধ আছে, তাতে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্যই তারা এই নাটক করে থাকতে পারেন।’

রহিমার নিখোঁজের পুরো ঘটনাটি তদন্ত করছেন পিবিআই খুলনার পরিদর্শক আবদুল মান্নান।

তিনি নিউজবাংলাকে জানান, আদালতে দেয়া রহিমার জবানবন্দির সত্যতা যাচাইয়ে মঙ্গলবার দিনভর ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ছিলেন।

বান্দরবানে ভাতের হোটেলে কাজ করেছিলেন মরিয়মের মা

তিনি বলেন, ‘বোয়ালমারীতে রহিমা যে কথা বলেছেন, আদালতে সেইভাবে জবানবন্দি দেননি। সেখানে স্বামী ও মেয়েদের সঙ্গে ঝগড়া করে এসেছেন বলে জানিয়েছেন, যা জবানবন্দির সঙ্গে মিল নেই।’

আদালতে দেয়া জবানবন্দির নথিতে দেখা গেছে, রহিমা বলেছেন, ‘গত ২৭ আগস্ট পানি নেয়ার জন্য আমি বাসার নিচে আসি। এক বালতি নেয়ার পরে অন্য বালতি নিতে আসলে আসামিদের সঙ্গে আরও অনেক লোক আমার বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে। তখন রাত ১০টা বাজে।

‘আসামি পলাশ ও মহিউদ্দিন কাপড় দিয়ে আমার মুখ চেপে ধরে। তখন আমার সঙ্গে থাকা মোবাইলও আসামিরা নিয়ে যায়। আসামিরা আমাকে কোলে তুলে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। আমার হুঁশ ফিরে আসলে তাকিয়ে দেখি সাইনবোর্ডে পার্বত্য চট্টগ্রাম লেখা। তারপর আমি রেলস্টেশনে গিয়ে ট্রেনে ঢাকা আসি।

‘ঢাকা থেকে মুকসেদপুর আসি। সেখান থেকে ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে আমার ভাড়াটিয়ার বাড়ি তথা কুদ্দুসদের বাড়ি যাই। তাদেরকে ঘটনা খুলে বলি। তাদের বাড়ি আমি ৮-৯ দিন ছিলাম। সেখান থেকে পুলিশ আমাকে ধরে নিয়ে আসে। এই আমার জবানবন্দি।’

এ বিষয়ে পিবিআই পরিদর্শক আবদুল মান্নান বলেন, ‘জবনাবন্দিতে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বলতে বান্দরবানকে বুঝিয়েছেন। আমরা জানি বান্দরবানে কোনো ট্রেনলাইন নেই।’

পিবিআইয়ের এসপি মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘রহিমা পুলিশকে বলেছেন যে হুঁশ ফিরে সাইনবোর্ড পড়ে তিনি দেখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম লেখা। ওই স্থানটি হলো বান্দরবান সদরের ইসলামপুর।

‘সেখানে তিনি মণি বেগমের ভাতের হোটেলে কাজ করেছেন। মণি বেগম তাকে স্থানীয় একটি ক্যাম্পে চাকরি দিতে চেয়েছিলেন। সে জন্য তার কাছে জন্মনিবন্ধন ও এনআইডি কার্ড চাওয়া হয়েছিল। এগুলোর জন্য তিনি ফরিদপুরের বোয়ালমারীর সৈয়দপুর গ্রামে তার পূর্বপরিচিত কুদ্দুস মোল্লার বাড়িতে যান।

‘সৈয়দপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হকের কাছে গিয়ে জন্মনিবন্ধন ও এনআইডি দাবি করেন। তবে সেখান থেকে তাকে জন্মনিবন্ধন ও এনআইডি দেয়া হয়নি। পিবিআই বোয়ালমারী থেকে তদন্ত করে এসেছে। শিগগিরই বান্দরবানেও যাওয়া হবে।’

বান্দরবানে ভাতের হোটেলে কাজ করেছিলেন মরিয়মের মা

রহিমার নিখোঁজ হওয়ার পেছনে কারও ইন্ধন আছে কি না জানতে চাইলে পিবিআই পরিদর্শক আবদুল মান্নান বলেন, ‘রহিমাদের সবই ছিল পূর্বপরিকল্পিত। বিষয়টি তার স্বামী ও সন্তানরাও জানতেন। তদন্ত শেষে মামলাটি ভুয়া প্রমাণ হলে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মুক্তি পাবেন। তখন তারা চাইলে রহিমা ও তার সন্তানদের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন।’

রহিমা নিখোঁজ হওয়ার পরদিন তাকে অপহরণ করা হয়েছে জানিয়ে দৌলতপুর থানায় মামলা করেছিলেন তার আরেক মেয়ে আদুরী আক্তার। তাতে আসামি করা হয়েছিল অজ্ঞাতনামাদের। তবে এজাহারে রহিমার সঙ্গে প্রতিবেশীদের জমির বিরোধের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। মরিয়মও মা নিখোঁজের পেছনে প্রতিবেশীদের জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে।

এরপর তাদের পাঁচজন প্রতিবেশীকে গ্রেপ্তার করে। রহিমার দ্বিতীয় স্বামী বেল্লাল হাওলাদারকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

এ বিষয়ে পরিদর্শক মান্নান বলেন, ‘পিবিআই প্রতিবেশী পাঁচজনকে সাতদিনের ও রহিমার স্বামী বেল্লালকে পাঁচ দিনের রিমান্ডের জন্য আদালতে আবেদন করেছে। এখনও শুনানি হয়নি। বেল্লালকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হয়তো কিছু তথ্য পাওয়া যাবে। তখন বোঝা যাবে রহিমা আত্মগোপনের নেপথ্যে কারা জড়িত।’

পিবিআইয়ের এসপি মুশফিকুর বলেন, ‘আমাদের তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। পূর্ণাঙ্গ তদন্তে যদি মরিয়ম ও তার পরিবার দোষী হয়, তবে আইন মোতাবেক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ছাড়া মরিয়মদের মামলায় যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন, তদন্তে যদি তারা নির্দোষ হন, তবে তারাও আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবেন।’

এসব বিষয়ে জানতে মরিয়ম, তার বোন আদুরী ও ভাই মিরাজ আল সাদীকে একাধিকবার কল করা হলেও তারা রিসিভ করেননি।

বান্দরবানে ভাতের হোটেলে কাজ করেছিলেন মরিয়মের মা

তবে অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মরিয়ম জানান, মায়ের অপহরণের বিষয়টি নিয়ে তারও এখন সন্দেহ হচ্ছে।

তিনি সেখানে বলেন, ‘কীভাবে বুঝব মা একা একা চলে গেছেন, আমাদের ছেড়ে, আর ফিরবেন না! জানলে কোনোদিন জিডি মামলায় যেতাম না। ডাক্তার দেখাতে গিয়ে আমার প্রথম মনে হয়েছে মা অপহরণ হননি। কারণ যখন ডাক্তার জিজ্ঞেস করছিলেন কী হয়েছে, তিনি বলেছেন তাকে মেরেছে। এক বছর আগে তাকে যারা যেভাবে মেরেছিল সেই ব্যাখ্যা করছেন মা। মাকে দেখে ভয় পাচ্ছি। মা আমাকে অবিশ্বাস করছেন। এখন মিডিয়া বা কারও সামনে আসতে চান না। মায়ের যত্ন নেওয়াটা জরুরি।’

আরও পড়ুন:
এসআই দোলার সঙ্গে রহিমার রাতভর ইশারাভাষা
রহিমা বেগম ছাড়া পেলেন মেয়ে আদুরীর জিম্মায়
বস্তাবন্দি সেই নারীর পরিচয় নিয়ে এবার ধন্দে পুলিশ
মাত্র ১ হাজার টাকায় ১৩ দিনে ৪ জেলায় মরিয়মের মা!
রহিমার ফরিদপুরে অবস্থানের তথ্য শুক্রবারই জানানো হয় মরিয়মদের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
More than 400 people are missing in Chandpur Sadar in 9 months

চাঁদপুর সদরে ৯ মাসে নিখোঁজ চার শতাধিক

চাঁদপুর সদরে ৯ মাসে নিখোঁজ চার শতাধিক চাঁদপুর সদর মডেল থানায় ৯ মাসে নিখোঁজের জিডি হয়েছে চার শতাধিক। ছবি: সংগৃহীত
চাঁদপুর মডেল থানার ওসি আবদুর রশিদ বলেন, ‘ছেলে-মেয়েদের ঘর ছাড়ার মূল কারণ সামাজিক অবক্ষয় এবং সোস্যাল মিডিয়া। এসব ক্ষেত্রে অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আরও সচেতন হতে হবে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চাঁদপুর সদর মডেল থানায় চার শতাধিক নিখোঁজের ডায়রি হয়েছে। এর মধ্যে উদ্ধার হয়েছে দুই শতাধিক। বাকিগুলো তদন্তাধীন।’

চাঁদপুরে সামাজিক অবক্ষয়ের ঘটনায় বাড়ছে নিখোঁজের সংখ্যা। শিশু, বিবাহিত নারী ও কলেজ শিক্ষার্থী নিখোঁজের ঘটনায় চলতি বছরের নয় মাসে সদর থানায় চার শতাধিক ডায়েরি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

সামাজিক অবক্ষয় রোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সুধী সমাজ।

আহমদ উল্লাহ তানভীর চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে মাস্টার্স পাস করেছেন। পরিবারের সঙ্গে অভিমান করে কয়েক মাস ধরে নিখোঁজ তিনি। সন্তানের কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারের লোকজনের সময় কাটছে দুশ্চিন্তায়।

তানভীরের বাবা আব্দুল মতিন বলেন, ‘আমার ছেলে মাস্টার্স পাস করার পর কোনো চাকরি পাচ্ছিল না। আমি, ওর মা ও বোন বিভিন্ন সময় তাকে চাকরির জন্য বলতাম। এ নিয়ে আমার ছেলে মানসিক দুশ্চিন্তায় থাকত। হঠাৎ করে সে কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়।

‘অনেক চেষ্টা করেও ছেলের খোঁজ পাইনি। ছেলে বাড়ি ছাড়ার পর দুশ্চিন্তা করেই ওর মা মারা যায়। আমরা ওর অপেক্ষায় পথ চেয়ে আছি।’

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, চাঁদপুরে কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতী নিখোঁজের ঘটনায় চার শতাধিক সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো তাদের নিখোঁজ স্বজনদের ফিরে পাওয়ার দাবি জানিয়ে থানায় এসব জিডি করে।

নিখোঁজদের মধ্যে পরকীয়া ও প্রেম-ভালবাসা এবং পারিবারিক কলহে ঘর ছাড়ার সংখ্যাই বেশি। সামাজিক অবক্ষয় রোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ভূমিকার পাশাপাশি পরিবারের লোকজনদের এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করছে সুশীল সমাজ।

নিখোঁজদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় ঘর ছেড়েছে কথিত প্রেমিক যুগল। পারিবারিক কলহেও অনেকে ঘরছাড়া। পরকীয়ার ঘটনাও আছে। তবে নিখোঁজদের মধ্যে মানসিক ভারসাম্যহীন, বৃদ্ধা ‌এবং শিশুও রয়েছে।

চাঁদপুর সরকারি কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ইয়াহ ইয়া খান বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা অধিকাংশ সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কাটায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেয়ে এ ব্যাপারে পরিবারের সদস্যদের অধিক সচেতন হতে হবে। তারা কোথায় যায়, কার সঙ্গে মেশে- এমন সব তথ্য অভিভাবকদের পক্ষ থেকে আমাদের সময়ে সময়ে জানানো উচিত।’

চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর অসিত বরণ দাশ বলেন, ‘ইদানীং দেখা যাচ্ছে তরুণ সমাজ পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ করেই শোনা যায় অমুককে খুঁজে যাওয়া যাচ্ছে না। ‘এক্ষেত্রে পরিবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।’

চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুর রশিদ বলেন, ‘ছেলে-মেয়েদের ঘর ছাড়ার মূল কারণ সামাজিক অবক্ষয় এবং সোস্যাল মিডিয়া। এসব ক্ষেত্রে অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আরও সচেতন হতে হবে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চাঁদপুর সদর মডেল থানায় চার শতাধিক নিখোঁজের ডায়রি হয়েছে। এর মধ্যে উদ্ধার হয়েছে দুই শতাধিক। বাকিগুলো তদন্তাধীন।’

আরও পড়ুন:
১৫ দিন ধরে একসঙ্গে নিখোঁজ কুমিল্লার ৭ শিক্ষার্থী
‘নিখোঁজ’ সেই পুলিশ সদস্য এখন নেদারল্যান্ডসে হোটেল বয়
‘আমার পাপাকে ফিরিয়ে দিন’
আমার মেয়েকে জীবিত ফেরত চাই: সুকন্যার মা
নদীতে নিখোঁজ দুই শিশুর একজনের মরদেহ উদ্ধার

মন্তব্য

p
উপরে