× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
MP Bablu points his pistol towards the upazila chairman
hear-news
player
print-icon

উপজেলা চেয়ারম্যানের দিকে এমপি বাবলুর ‘পিস্তল তাক’

উপজেলা-চেয়ারম্যানের-দিকে-এমপি-বাবলুর-পিস্তল-তাক
ছবি সংগৃহীত
‘আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা হচ্ছিল। বাইরে হট্টগোল শুনে বের হই। শুনতে পাই চার বছর আগের প্রকল্পের বরাদ্দের টাকা নিয়ে কথা কাটাকাটি হচ্ছে। আমি তাকে বললাম এমপি সাহেব আপনি বসে সমাধান করা ভালো। আপনি সিনিয়র মানুষ, এভাবে যুবলীগ সেক্রেটারির সঙ্গে বাইরে কথা বলার দরকার নেই। তিনি কী বুঝলেন, হঠাৎ করে পিস্তল বের করে আমার পায়ের দিকে তাক করেন। এ সময় সেখানে পুলিশ, উপজেলা সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।’

প্রকল্পের জন্য দেয়া টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) রেজাউল করিম বাবলুর সঙ্গে উপজেলা যুবলীগ নেতার দ্বন্দ্ব। সেই দ্বন্দ্ব থামাতে গেলে উল্টো উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দিকে নিজের পিস্তল বের করে তাক করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে বাবলুর বিরুদ্ধে।

বুধবার সকালে সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা পরিষদের বারান্দায়। এদিন উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা চলছিল। ঘটনার পরপরই এমপি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে জানা গেছে।

এমপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আত্মরক্ষায় পিস্তল বের করেছেন তিনি।

তবে যার দিকে পিস্তল তাক করা হয়েছে, সেই উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সোহরাব হোসেন ছান্নু নিউজবাংলাকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, এমপির সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়া যুবলীগ নেতার নাম আলমগীর বাদশা। তিনি শাজাহানপুর উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক।

আলমগীর বাদশা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘২০১৯ সালে এমপির নামে মসজিদ, রাস্তাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ আসে। ওই সময় অনেকের কাছ থেকে বরাদ্দ দেয়ার নামে টাকা নিয়েছিলেন এমপি বাবলু। আমার কাছে থেকেও ৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকা নেন। আমিই তাকে দিয়েছিলাম; যাতে উন্নয়ন কাজগুলো হয়। কিন্তু সেই বরাদ্দ আজও দিতে পারেননি তিনি। আমার দেয়া টাকাও ফেরত দেননি।’

বাদশা অভিযোগ করেন, ‘অতীতেও টাকা ফেরতের বিষয়ে তার সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি দিবেন বলে এড়িয়ে যেতেন। আজ সামনাসামনি দেখা হতে তাকে বললাম, আপনি যে টাকাটা নিলেন, ফেরত দিবেন না?’

‘এ কথা বলার পরেই তিনি আমার ওপর উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। বলেন কিসের টাকা, কোনো টাকা নেই।’

যুবলীগ নেতার বর্ণনায়, ‘এ সময় আমাকে ধাক্কা মারতে থাকেন এমপি। ফারুক নামে তার এক সঙ্গী লাঠি দিয়ে আঘাত করে আমাকে। আমাকে বাঁচাতে গেলে আরেক জনের মাথায় বারি মারে ফারুক। ওই সময় উপজেলা আইনশৃঙ্খলা মিটিং চলছিল। হট্টগোল শুনে উপজেলা চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন ছান্নু বের হয়ে সবাইকে শান্ত হতে বলেন। কিন্তু কোনো কথা না বলে এমপি পিস্তল বের করে তার দিকে তাক করে।’

প্রতক্ষদর্শীরা নিউজবাংলাকে জানান, সকাল ১০টার দিকে এমপি বাবলু আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় অংশ নিতে আসেন। এ সময় যুবলীগ নেতা আলমগীর বাদশা এমপির কাছে গিয়ে প্রকল্পের জন্য দেয়া টাকার প্রসঙ্গ তোলেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনামূলক কথা চলছিল। একপর্যায়ে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। এ সময় বাদশাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে ফারুক। সেটি ঠেকাতে গিয়ে শহিদুল নামে একজনের মাথায় আঘাত পান। হামলায় এমপির সহকারীর মাথাতেও লাঠির আঘাত লাগে।

ঘটনাস্থলে থাকা শহিদুল ইসলাম নামে উপজেলা শ্রমিক লীগের এক নেতা বলেন, ‘বাদশার পাশে দাঁড়ালে এমপির সঙ্গে থাকা ফারুক পিছন থেকে এসে লাঠি দিয়ে আমার মাথায় বারি দেয়। এখনও মাথায় ফুলে আছে। ওই ফারুক এমপির ছত্রছায়ায় মাদক ব্যবসা করে, গরু চুরি করে। পরে উপজেলা চেয়ারম্যান এগিয়ে আসলে এমপি পিস্তল বের করে দেখায়।’

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নেতা সোহরাব হোসেন ছান্নু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা হচ্ছিল। বাইরে হট্টগোল শুনে বের হই। শুনতে পাই চার বছর আগের প্রকল্পের বরাদ্দের টাকা নিয়ে কথাকাটাকাটি হচ্ছে। আমি তাকে বললাম এমপি সাহেব আপনি বসে সমাধান করা ভালো। আপনি সিনিয়র মানুষ, এভাবে যুবলীগ সেক্রেটারির সঙ্গে বাইরে কথা বলার দরকার নেই।’

‘তিনি কী বুঝলেন, হঠাৎ করে পিস্তল বের করে আমার পায়ের দিকে তাক করে। এ সময় সেখানে পুলিশ, উপজেলা সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।’

উপজেলা চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘এমপি সাহেব এর আগে কখনও উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির কোনো সভায় আসেননি। আজ কী মনে করে এসেছেন, জানি না। পরে অবস্থা বেগতিক দেখে কিছুক্ষণ পর চলে যান এমপি। আর তার বিরুদ্ধে অনেক প্রকল্প নিয়ে নয়ছয় করার ঘটনা আছে। এসবের সঠিকভাবে তদন্ত করা দরকার।’

তবে এসব ঘটনার বিষয়ে সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলুর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ রয়েছে।

তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) রেজাউল করিমের দাবি, ঘটনাস্থলে এমপির ওপর হামলা চালানো হয়। তাই আত্মরক্ষার্থে নিজের পিস্তল বের করেছেন এমপি।

নিউজবাংলাকে পিএ বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে অংশ নিতে উপজেলা পরিষদে যাওয়া হয়। এ সময় সেখানে আলমগীর বাদশা এমপি মহোদয়কে দেখেই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ছিলেন। একপর্যায়ে তারা এমপির ওপর হামলা করে। আমি সামনে থাকায় আমার মাথায় আঘাত লাগে।’

উপজেলা চেয়ারম্যানের দিকে পিস্তল তাক করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘চেয়ারম্যানও হামলা করতে এসেছিলেন। এমপি তখন নিজের আত্মরক্ষায় পিস্তল বের করেন। পিস্তল তো নেয়া হয়েছে আত্মরক্ষার জন্য।’

এ বিষয়ে শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আজ উপজেলায় আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা হয়েছে। এ সময় এমপি মহোদয়ের সঙ্গে বাইরে ঝামেলা হয়েছে।’

পিস্তলের নিবন্ধনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি নিশ্চিত হয়ে বলতে হবে। আমি খোঁজ নিচ্ছি।’

তবে বগুড়া জেলা প্রশাসনের জেএম শাখা থেকে এমপি বাবলুর নামে একটি পিস্তল নিবন্ধনের বিষয় নিশ্চিত করা হয়েছে।

আলোচনায় এমপি

‘জিয়া পরিবারের আসন’ হিসেবে পরিচিত বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম ওরফে বাবলুকে নিয়ে বিতর্ক কোনো নতুন ঘটনা নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজে আলোচনায় উঠে এসেছে তিনি। তার বিরুদ্ধে হলফনামায় মামলার তথ্য গোপন করার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়াও দুদকেও রয়েছে অভিযোগ।

২০২০ সালে বেফাঁস মন্তব্য করেন এমপি বাবলু। ওই বছরের ১৭ নভেম্বর সংসদে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল-২০০০’ সংসদে পাস হওয়ার সময় রেজাউল করিম বলেছিলেন, ‘নারীবাদীরা নারী স্বাধীনতার কথা বলে নারীদের উন্মুক্ত করে চলছে। এ কারণেই ধর্ষকেরা ধর্ষণের অনুভূতিকে এতটা একসেপ্ট করেছে, ধর্ষণে উৎসাহিত হচ্ছে।’

অস্ত্র হাতে ফেসবুকে ছবি দিয়ে ভাইরাল হন এমপি বাবলু। রেজাউল করিম গোলবাগীর একটি ছবি ২০২০ সালের অক্টোবরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ছবিতে দেখা যায়, হাতে অস্ত্র নিয়ে হাসিমুখে একটি চেয়ারে বসে আছেন তিনি। পাশের টেবিলে আছে গুলির ম্যাগজিন। ছবিটি ভাইরাল হওয়ার পর নতুন করে আলোচনায় আসেন গোলবাগী।

আরও পড়ুন:
এমপি বাবলু: বিতর্কই যার সঙ্গী

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
The cry of the newborn came from the shoe box in the mosque

মসজিদে জুতার বাক্স থেকে ভেসে এলো নবজাতকের কান্না

মসজিদে জুতার বাক্স থেকে ভেসে এলো নবজাতকের কান্না
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান শাহরিয়ার বলেন, ‘শিশুটিকে অনেকেই দত্তক নিতে চাইছেন। তবে প্রশাসনের সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে শিশুটি কোথায় থাকবে।’

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে মসজিদের জুতার বাক্স থেকে জীবিত নবজাতককে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শহরের ওসমানী রোডের বায়তুন নূর জামে মসজিদ থেকে সোমবার রাত ৮টার দিকে ছেলে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ডালিম আহমেদ এসব নিশ্চিত করেছেন।

বায়তুন নূর জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন সোহেল আহমেদ জানান, সোমবার তিনি এশার আযান দিতে মসজিদ যান। বারান্দায় ঢুকতেই শিশুর কান্নার আওয়াজ পান। খুঁজে দেখেন জুতা রাখার বাক্সে নবজাতক কান্না করছে। তিনি তখনই ইমাম ও মসজিদ কমিটির লোকজনকে জানালে তারা নবীগঞ্জ থানায় কল করেন।

থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিজয় দেবনাথ গিয়ে শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন।

থানার ওসি ডালিম আহমেদ বলেন, ‘নবজাতকটি সুস্থ আছে। আপাতত তাকে পৌর এলাকার আনমনু গ্রামের এক নারীর কাছে রাখা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে দুধ, তোয়ালে ও তেলসহ নবজাতকের জন্য প্রয়োজনীয় সব জিনিস কিনে দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে ইউএনওর নির্দেশে পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান শাহরিয়ার বলেন, ‘শিশুটিকে অনেকেই দত্তক নিতে চাইছেন। তবে প্রশাসনের সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে শিশুটি কোথায় থাকবে। এছাড়াও নবজাতকের আসল পরিচয় জানতে তদন্ত করছে পুলিশ।’

আরও পড়ুন:
যমজ নবজাতকের মৃত্যু: ধাত্রীই চালাতেন সেই ক্লিনিক
‘অপরিণত হওয়ায়’ সেই যমজ নবজাতকের মৃত্যু
‘বিলের জন্য অক্সিজেন খুলে নেয়ায়’ যমজ নবজাতকের মৃত্যু
গর্ভের সন্তান নষ্ট হওয়ায় নার্স বেশে নবজাতক চুরি
মাঝনদীতে সন্তান প্রসব, লঞ্চে আজীবন ভাড়া ফ্রি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Jsobala saved her husband by despising death

মরণ তুচ্ছ করে স্বামীকে বাঁচালেন যশবালা

মরণ তুচ্ছ করে স্বামীকে বাঁচালেন যশবালা
যশবালা জানান, নৌকার সবাই নদীতে পড়ে যায়। তিনি তখন সাঁতরে গিয়ে ছোট বাঁশের খুঁটি আঁকড়ে ধরেন ও স্বামীকে খুঁজতে থাকেন। কিছু দূরে দেখেন তার স্বামী শুকাতু স্রোতে ভেসে যাচ্ছেন আর খাবি খাচ্ছেন। 

নৌকা ডুবে যাওয়ার পর অন্য অনেকের সঙ্গে নিজের জীবনও সংকটে। সাঁতার জানা থাকায় কিছুটা দূরে গিয়ে অবলম্বন হিসেবে পেয়ে যান বাঁশের একটি খুঁটি। ওদিকে অসুস্থ স্বামী সাঁতার জানেন না। তীব্র স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তাকে।

এই পর্যায়ে নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে ছেড়ে দেন বাঁশের খুঁটি। এগিয়ে যান স্বামীকে বাঁচাতে। এক পর্যায়ে তাকে ধরে ফেলেন তিনি। আর প্রাণে বেঁচে যান দুজনই।

ঘটনাটি ঘটেছে রোববার, পঞ্চগড়ে। মহালয়ার পূজায় অংশ নিতে নৌকায় করে অন্য অনেকের সঙ্গে বদেশ্বরী মন্দিরে যাচ্ছিলেন বোদা উপজেলার ষাটোর্ধ্ব শুকাতু চন্দ্র বর্মণ ও তার স্ত্রী যশবালা রানী।

মাঝনদীতে নৌকা ডুবে গেলে শতাধিক যাত্রীর সঙ্গে তারা দুজনও পড়ে যান করতোয়ায়। যশবালা সাঁতরে তীরমুখী হলেও সাঁতার না জানায় তার স্বামী ডুবে যেতে থাকেন। তা দেখে নিজের জীবন তুচ্ছ করে এগিয়ে যান স্বামীর দিকে। এক পর্যায়ে স্বামীর নাগাল পেয়ে তাকে নিয়ে কোনোক্রমে ভেসে থাকেন। পরে লোকজন এসে তাদেরকে উদ্ধার করে।

তারা দুজন এখন চিকিৎসাধীন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে গিয়ে কথা হয় যশবালার সঙ্গে।

সে সময়ের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে আতঙ্কে কেঁপে উঠছিলেন তিনি।

নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নৌকা পাড়ে ভিড়তেই আমরা আগে উঠেছিলাম। পরে হুড়মুড় করে আরও লোকজন উঠা শুরু করল। আমি আমার অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে তখন নেমে যেতে চেয়েছিলাম, সে সুযোগ পাই নাই। মাইক দিয়ে এত লোক উঠতে নিষেধ করছিল। তবুও কেউ কথা শুনলো না। মাঝখানে ডুবে গেল নৌকা।’

তিনি জানান, নৌকার সবাই নদীতে পড়ে যায়। তিনি তখন সাঁতরে গিয়ে ছোট বাঁশের খুঁটি আকড়ে ধরেন ও স্বামীকে খুঁজতে থাকেন। কিছু দূরে দেখেন তার স্বামী শুকাতু স্রোতে ভেসে যাচ্ছেন আর খাবি খাচ্ছিলেন।

যশবালা এ পর্যায়ে কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন, ‘এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে জীবনেও পড়িনি। আমি সাঁতার জানি, আমার স্বামী সাঁতার জানত না। সাঁতরে তাকে গিয়ে ধরেছি। এরপর স্থানীয় উদ্ধারকারীরা নৌকা নিয়ে এসে আমাদের দুজনকে তুলে নেয়।

‘আমি দেখি আমার স্বামী নৌকার উপর একদম নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। তখনই আমাদের দুজনকে হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়। এখন আমরা সুস্থ আছি।’

স্বামীর দিকে চেয়ে তিনি যেন আনমনেই বলে উঠেলেন, ‘মরে গেলেও স্বামীকে ছাড়া ডাঙ্গায় আসতাম না।’

বোদা উপজেলার মারেয়া আউলিয়া-বদ্বেশ্বরী ঘাটে করতোয়া নদীতে রোববার দুপুরে শতাধিক যাত্রী নিয়ে ডুবে যায় নৌকাটি। তাতে থাকা যাত্রীদের বেশির ভাগই মহালয়ার পুণ্যার্থী ছিলেন। তারা নদীর ওপারে বদ্বেশ্বরী মন্দিরে প্রার্থনার জন্য যাচ্ছিলেন।

এ দুর্ঘটনায় রোববার ও সোমবার দুই দিনে ৫০ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে।

সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৭ জন নিখোঁজের তথ্য দিয়েছে ঘটনাস্থলে বসানো জেলা প্রশাসনের তথ্য কেন্দ্র। আর থানা পুলিশ জানিয়েছে, রোববার উদ্ধার হওয়া ১৫ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়েছিল। এছাড়া দুর্ঘটনার পর অনেকে সাঁতরে তীরে উঠতে পেরেছিলেন।

আরও পড়ুন:
পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি: মৃত বেড়ে ৩২
বাধা না মেনে অতিরিক্ত যাত্রী ওঠায় নৌকাডুবি: ডিসি
করতোয়ায় নৌকাডুবিতে প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক
পঞ্চগড়ে নৌকা ডুবে ২৪ মৃত্যু
নৌকাডুবি: নিখোঁজ চাচা-ভাতিজাসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Feminine Youth Murdered 6 Transgender Arrested

‘নারীবেশী যুবক’ খুন, ৬ ট্রান্সজেন্ডার গ্রেপ্তার

‘নারীবেশী যুবক’ খুন, ৬ ট্রান্সজেন্ডার গ্রেপ্তার তুষার হত্যার ঘটনায় প্রথমে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেয়া তথ্যে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা
মরদেহ উদ্ধারের পর মৃতের পরিবারের সদস্যদের বরাতে পুলিশ জানায়, তুষার নিজেকে ট্রান্সজেন্ডার পরিচয় দিতেন এবং সেরকমই থাকতে পছন্দ করতেন। তার গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল।

সিলেটে তুষার আহমদ নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে ৬ ট্রান্সজেন্ডারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে গত রোববার তুষারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত তুষার নারীর ছদ্মবেশে ট্রান্সজেন্ডার লোকদের সঙ্গে চলাফেরা করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার রাতে কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ আলী মাহমুদ জানান, হত্যার ঘটনায় সোমবার ভোরের দিকে থানায় মামলা দায়ের করেন তুষারের ভাই হিমেল আহমদ রাফি। পরে সোমবার দিনভর অভিযান চালিয়ে ট্রান্সজেন্ডার ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ৬ জন হলেন- সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার ছোটদেশ গ্রামের হৃদয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থানার তানহা, সুনামগঞ্জের দিরাই থানার সুমি উজ্জল, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার চাঁদনী সজল, পাপ্পু পাপিয়া ও হৃদয় রুপা। এর মধ্যে পাপ্পু পাপিয়া ও হৃদয় রুপা ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী বলে জানিয়েছেন ওসি।

ওসি মোহাম্মদ আলী মাহমুদ বলেন, ‘আমরা বিশেষ অভিযানে প্রথমে চারজনকে গ্রেপ্তার করি। তাদের দেয়া তথ্যে পরে দুই পরিকল্পনাকারীকে গ্রেপ্তার করি।’

ওসি আরও বলেন, ‘প্রথমে গ্রেপ্তার ৪ জন ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে আমাদের কাছে স্বীকারোক্তি দেয় এবং জানায়, তারা একসঙ্গে খারাপ কাজ করতো। এই কাজ নিয়ে দ্বন্দ্ব থেকেই তুষারকে খুন করা হয়। ওই চারজনকে সোমবার বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আর বাকি দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মঙ্গলবার তাদেরও আদালতে পাঠানো হবে।’

এর আগে রোববার সকালে নগরের সোবহানীঘাট থেকে তুষারের মরদেহ উদ্ধার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।

খবর পেয়ে তুষারের মা নাছিমা বেগম ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলের মরদেহ শনাক্ত করেন। পরে ময়নাতদন্ত শেষে রোববার বিকালে নগরীর মানিকপীর টিলায় মরদেহটি দাফন করা হয়।

মরদেহ উদ্ধারের পর মৃতের পরিবারের সদস্যদের বরাতে পুলিশ জানায়, তুষার নিজেকে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ পরিচয় দিতেন এবং সেরকমই থাকতে পছন্দ করতেন। তার গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল।

তুষারের ভাই হিমেল আহমদ রাফি বলেন, ‘আমার ভাই ট্রান্সজেন্ডার নয়। ছোটবেলায় একসঙ্গে আমাদের খতনা দেয়া হয়েছে। কিন্তু খাসদবির প্রাইমারি স্কুলে পড়ার সময় সে অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে এবং একসময় ট্রান্সজেন্ডারদের সঙ্গে চলাফেরা শুরু করে।’

রাফি জানান, প্রায় প্রতি রাতেই ট্রান্সজেন্ডার বন্ধুদের সঙ্গে ঘর থেকে বের হয়ে যেতেন তুষার। ফিরতেন পরদিন সকালে। এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার মানা করা হলেও তিনি শুনেননি।

রাফি বলেন, ‘শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকেও তৃতীয় লিঙ্গের এক বন্ধু তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। তবে তাকে এর আগে আমি কখনও তার সঙ্গে দেখিনি। রাতে সেই যে বেরুলো, আর ঘরে ফেরেনি তুষার। সকালেই জানতে পারি তার লাশ সোবহানীঘাট থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।’

আরও পড়ুন:
প্রতিবন্ধী-ট্রান্সজেন্ডারদের চাকরি দিলে কর ছাড়
হোচিমিনের পরিবার একঘরে!
ট্রান্স পুরুষের পরিপক্ব ডিম্বাণুতে জন্ম নেবে সন্তান
ট্রান্সজেন্ডারদের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৭
কিশোরের যৌনাঙ্গ কর্তন: ট্রান্সজেন্ডার জুঁই কারাগারে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The Center is angry with the Chabi Chhatra League

চবি ছাত্রলীগে ক্ষেপেছে কেন্দ্র

চবি ছাত্রলীগে ক্ষেপেছে কেন্দ্র
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ১০টি উপগ্রুপ সক্রিয়। চুন থেকে পান খসলেই বিশ্ববিদ্যালয়ে অবরোধের ডাক দেয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করা এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা-পরিপন্থি যেকোনো কার্যকলাপের জন্য শাখা ছাত্রলীগকে কঠোর সতর্কবার্তা দিতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টিকারী নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানা গেছে।

সোমবার রাতে বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রীয় উপদপ্তর সম্পাদক নাজির আহমেদ।

কেন্দ্রীয় এই ছাত্রলীগ নেতা বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশৃঙ্খলা চলছে কয়েক দিন ধরেই। এটা আমরা পর্যবেক্ষণে রেখেছি। আগামীকাল বা পরশু এ বিষয়ে কঠোর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত দেবে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা বা অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাংগঠনিক সমস্যা থাকতে পারে, কিন্তু তার জন্য সাধারণ শিক্ষার পরিবেশ কেউ নষ্ট করতে পারে না। ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেবে না কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।’

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক খোঁজখবর নিয়ে মঙ্গলবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা দেবেন বলেও জানান নাজির আহমেদ। এ ক্ষেত্রে চবি ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে শোকজ, বহিষ্কার কিংবা সাংগঠনিক শাস্তির ব্যবস্থা নিলে তা সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

চবি ছাত্রলীগে ক্ষেপেছে কেন্দ্র
পান থেকে চুন খসলেই ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার অভিযোগ রয়েছে চবি ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ১০টি উপগ্রুপ সক্রিয়। চুন থেকে পান খসলেই বিশ্ববিদ্যালয়ে অবরোধের ডাক দেয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এসব ক্ষেত্রে পূর্বঘোষণা ছাড়াই ক্যাম্পাসের শাটল ট্রেন বন্ধ করে দেয়ার অসংখ্য নজির রয়েছে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রায়ই বিপাকে পড়েন।

শাখা ছাত্রলীগের কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার পরও সম্প্রতি পরপর দুবার ক্যাম্পাসে অবরোধের ডাক দেয়া হয়েছে। এতে কার্যত অচল হয়ে পড়ে পুরো ক্যাম্পাস।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক, পরিবহন পুল বন্ধ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও।

আরও পড়ুন:
মধ্যরাতে সংঘর্ষে চবি ছাত্রলীগের দুই পক্ষ
চবির মূল ফটকে ছাত্রলীগের তালা
চবিতে যৌন নিপীড়ন: প্রক্টরিয়াল বডিকে আদালতে তলব
বিএইচবিএফসি, রাকাব ও প্রবাসী ব্যাংকে নতুন এমডি
চবি ছাত্রলীগ নেতাকে ‘মারধর’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Seeing the boat sinking in Karatoya they jumped to the rescue

করতোয়ায় নৌকা ডুবতে দেখে উদ্ধারে ঝাঁপ দিয়েছিলেন তারা

করতোয়ায় নৌকা ডুবতে দেখে উদ্ধারে ঝাঁপ দিয়েছিলেন তারা
খাঁজা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গতকাল (রোববার) থেকে ১৭ জনকে আমি উদ্ধার করেছি। তার মধ্যে চারজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছি। নদীর পাড়ে প্রথম দফায় যে লাশের সারিগুলো পড়ে ছিল, সেগুলো আমরা স্থানীয়রাই উদ্ধার করেছি। ততক্ষণ পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের কেউ ঘাটে এসে পৌঁছেনি।’

পঞ্চগড়ের বোদায় করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ঘটনার সময় মারেয়া আউলিয়া ঘাটে ছিলেন খাঁজা রহমান। বদ্বেশ্বরী মন্দিরে মহালয়া দেখবেন বলে এসেছিলেন।

নদী পার হতে নৌকার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সে সময়ই মাঝনদীতে নৌকা ডুবতে দেখে যাত্রীদের বাঁচাতে কিছু না ভেবেই তিনি ঝাঁপ দেন করতোয়ায়। একে একে তুলে আনেন ১৭ জনকে। তবে এর মধ্যে নিথর পেয়েছিলেন চারজনকে।

খাঁজার মতো দুর্ঘটনার পর পরই স্থানীয় কয়েক যুবক নদীতে নেমে পড়েন উদ্ধারকাজে। তাদের হিসাবে, ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগে তারাই তুলে আনেন ২৭ জনকে। এর মধ্যে মরদেহ ছিল ১২টি।

বোদা উপজেলায় করতোয়ার মারেয়া আউলিয়া ঘাটে গিয়ে কথা হয় স্থানীয় এই উদ্ধারকারীদের সঙ্গে।

খাঁজা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গতকাল (রোববার) থেকে ১৭ জনকে আমি উদ্ধার করেছি। তার মধ্যে চারজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছি। নদীর পাড়ে প্রথম দফায় যে লাশের সারিগুলো পড়ে ছিল, সেগুলো আমরা স্থানীয়রাই উদ্ধার করেছি। ততক্ষণ পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের কেউ ঘাটে এসে পৌঁছেনি।’

খাঁজা জানান, ঘটনার পর থেকে সোমবার পর্যন্ত তিনিসহ স্থানীয় উদ্ধারকারীদের অনেক যুবকই বাড়ি ফেরেনি। নদীতে ডিঙি নৌকাতেই থাকছেন আর প্রয়োজনমতো নদীতে নেমে চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকাজ।

আরেক উদ্ধারকারী মারুফ বিল্লাহ্ বলেন, ‘চোখের সামনে নৌকাটি কাত হয়ে ডুবে গেল। আমি তখন এপারে (মারেয়া) ছিলাম। নৌকা ডোবার সঙ্গে সঙ্গে আমি ও খাঁজাসহ অন্যরা নদীতে সাঁতরে যাই এবং উদ্ধারের চেষ্টা করি। আমি নিজে দুদিনে ১২টা লাশ তুলেছি।’

লাশ উদ্ধারের অভিজ্ঞতার কথা জানতে চাইলে স্থানীয় আশিক রহমান বলেন, ‘লাশগুলো অথৈ পানির ভেতরে। মাঝে মাঝে নিজেরই দম বন্ধ হয়ে যায়। কিছু লাশ বালুর ভেতরে পুঁতে গেছে। বালু সরিয়ে দুজন-তিনজন মিলে লাশ তুলতে হয়েছে।’

স্থানীয় এই যুবকরাই এখন নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে তীরে ভিড় জমানো মানুষদের কাছে নির্ভরতার জায়গা। তাদের কাছে প্রিয় মানুষটিকে খুঁজে দেয়ার আকুল আবেদন নিয়ে মানুষগুলো ফিরে ফিরে আসেন।

ঘাটে কথা হয় নিখোঁজ ফুপাতো ভাইয়ের জন্য অপেক্ষায় থাকা মিঠুন চন্দ্রের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস কাজ করে। কিন্তু খাঁজা-মারুফরা দিন-রাত কাজ করছে। তারা আমাদের ভরসা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা কাজ করছে। তাদের অবদান আমরা ভুলব না।’

মানুষের জীবন বাঁচাতে তাৎক্ষণিক ঝাঁপিয়ে পড়া এই যুবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মারেয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শামিম।

তিনি জানান, শুরুতেই এই যুবকরা উদ্ধারকাজে এগিয়ে না গেলে হয়তো লাশের সংখ্যা আরও বাড়ত।

তিনি বলেন, ‘আমি এই ছেলেদের স্যালুট জানাই। তাদের অবদান অনেক। নিজেদের জীবন বাজি রেখে তারা দুঃসাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তাদের উৎসাহিত করতে আমি প্রতিনিয়ত চেষ্টা করেছি।’

রোববারের এই নৌকাডুবির ঘটনায় সোমবার রাত পর্যন্ত ৫০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত, নিখোঁজ ও হাসপাতালে ভর্তি ব্যক্তিদের মিলিয়ে হিসাব করলে নৌকার মাঝিসহ ৯২ আরোহীর তথ্য পাওয়া গেছে।

বোদা থানার ওসি সুজয় কুমার রায় জানিয়েছেন, এর বাইরেও অনেক যাত্রী সাঁতরে সে সময় তীরে উঠেছিলেন। এ কারণে ধারণা করা হচ্ছে নৌকাটিতে শতাধিক যাত্রী ছিল।

আরও পড়ুন:
বাধা না মেনে অতিরিক্ত যাত্রী ওঠায় নৌকাডুবি: ডিসি
করতোয়ায় নৌকাডুবিতে প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক
পঞ্চগড়ে নৌকা ডুবে ২৪ মৃত্যু
নৌকাডুবি: নিখোঁজ চাচা-ভাতিজাসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার
নৌকাবাইচ দেখতে গিয়ে ব্রহ্মপুত্রে নিখোঁজ দুই শিশু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Relatives want the release of those arrested on the issue of Maryams mother

মরিয়মের মা ইস্যুতে গ্রেপ্তারদের মুক্তি চান স্বজনরা

মরিয়মের মা ইস্যুতে গ্রেপ্তারদের মুক্তি চান স্বজনরা দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশার বণিকপাড়ায় মরিয়ম মান্নানদের বাড়ি। ছবি: নিউজবাংলা
কারাগারে থাকা গোলাম কিবরিয়ার স্ত্রী আয়েশা বলেন, ‘আমার স্বামীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে। আমাদের সমাজের কাছে ছোট করা হয়েছে। আমরা রহিমা বেগম, তার মেয়ে মরিয়ম মান্নান, ছেলে মিরাজসহ এ ঘটনার পেছনে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আর যারা মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছে অবিলম্বে তাদের মুক্তি চাই।’

খুলনার মহেশ্বরপাশা থেকে নিখোঁজ হওয়া মরিয়ম মান্নানের মা রহিমা বেগম এখন আছেন পরিবারে স্বজনদের সঙ্গে। তবে তিনি নিখোঁজ হওয়ার মামলায় গ্রেপ্তার ৬ জনের আশু মুক্তি মিলছে না।

মামলাটি তদন্তের দায়িত্বে থাকা পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বলছে, রহিমা বেগমের জবানবন্দির ভিত্তিতে তথ্য উদ্ঘাটনের জন্য গ্রেপ্তার ছয়জনকে রিমান্ডে নেয়া হবে।

অন্যদিকে স্থানীয়রা বলছেন, রহিমা বেগম অপহরণের শিকার হননি; তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মা ও মেয়েরা মিলে এই নাটক সাজিয়েছিলেন।

ফরিদপুরে বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে রহিমা বেগমকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি অপহরণের শিকার বলে দাবি করেন। পরে মেয়ে আদুরী আক্তারের জিম্মায় তাকে মুক্তি দেয় আদালত।

এর আগে ২৭ আগস্ট রাতে দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশার বণিকপাড়ার বাড়ি থেকে রহিমা নিখোঁজ হন বলে অভিযোগ করেন তার মেয়ে মরিয়ম ও তার ভাই-বোনেরা। পরদিন দৌলতপুর থানায় মামলা করেন রহিমার মেয়ে আদুরী। আসামি করা হয় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে। সেই মামলায় প্রতিবেশী মঈন উদ্দিন, গোলাম কিবরিয়া, রফিকুল ইসলাম পলাশ, মোহাম্মদ জুয়েল, হেলাল শরীফ ও রহিমা বেগমের দ্বিতীয় স্বামী বেল্লাল হাওলাদার কারাগারে রয়েছেন।

মরিয়মের মা ইস্যুতে গ্রেপ্তারদের মুক্তি চান স্বজনরা
মরিয়ম মান্নানদের দখলে থাকা এই জমি নিয়ে মামলায় স্থিতাবস্থা দিয়ে রেখেছে আদালত। ছবি: নিউজবাংলা

কারাগারে থাকা গোলাম কিবরিয়ার স্ত্রী আয়েশা বলেন, ‘রহিমা বেগমের সতীনের কাছ থেকে তাদের বাড়ির ২ কাঠা জমি একজন মুহুরি কেনে নেন। সেই মুহুরির কাছ থেকে আমার স্বামী ওই জমি কেনেন। এর পর থেকেই রহিমা বেগম ও তার ছেলে-মেয়েরা আমাদের মিথ্যা মামলাসহ নানাভাবে হয়রানি করে আসছেন। তাদের হয়রানির শিকার প্রতিবেশী সবাই। তাদের সবাইকে এলাকার লোকজন মামলাবাজ হিসেবে চেনে। ভয়ে তাদের সঙ্গে এলাকার কেউ কথা বলে না।’

তিনি বলেন, ‘আমার স্বামীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে। আমাদের সমাজের কাছে ছোট করা হয়েছে। আমরা রহিমা বেগম এবং তার মেয়ে মরিয়ম মান্নান, ছেলে মিরাজসহ এ ঘটনার পেছনে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আর যারা মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছে অবিলম্বে তাদের মুক্তি চাই।’

কারাগারে থাকা নূর আলম জুয়েলের স্ত্রী সুমি বলেন, ‘রহিমা বেগমের পরিবারের সদস্যরা খুব উচ্ছৃঙ্খল। এর আগেও রহিমা বেগম নিজের হাত নিজে কেটে আমাদের নামে মামলা দিয়েছেন। এবার আত্মগোপন করে তার মেয়েকে দিয়ে আমার স্বামীর নামে মিথ্যা মামলা করেছেন। এখন আমার স্বামী কারাগারে বন্দি। আমার এক ও দুই বছরের সন্তান তার বাবার জন্য কান্নাকাটি করছে। আমরা রহিমা বেগম ও তার মেয়ে মরিয়ম মান্নানের কঠোর শাস্তি চাই।’

হেলাল শরীফের স্ত্রী মনিরা আক্তার বলেন, ‘বিনা অপরাধে জেল খাটছেন আমার স্বামী। আগস্টের ৩০ তারিখে আমার স্বামী আটক হন। আর সেপ্টেম্বরের ৬ তারিখে আমার মেয়ে হয়েছে। অক্টোবরে আমার বাচ্চার ডেলিভারির তারিখ ছিল। কিন্তু স্বামী আটক হওয়ার পর আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে আগেই সিজার করা হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আমি আমার স্বামীকে কাছে পাইনি।

‘আমরা নিশ্চিত ছিলাম যে আটককৃতরা কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত না। আমার স্বামী বের হলে আমরা আইনি ব্যবস্থা নেব। আশা করছি, দ্রুত আমার স্বামী ছাড়া পাবে।’

মরিয়মের মা ইস্যুতে গ্রেপ্তারদের মুক্তি চান স্বজনরা
রহিমা বেগম নিখোঁজ উল্লেখ করে তার সন্ধান চেয়ে পোস্টারিং করেন তার সন্তানেরা। ছবি: নিউজবাংলা

রহিমা বেগমের প্রথম স্বামীর নাম মান্নান হাওলাদার। মহেশ্বরপাশায় তিনি কবিরাজি করতেন। এই স্বামীর ঘরে রহিমার পাঁচ মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। প্রথম স্বামী মারা যাওয়ার পর বেল্লাল হাওলাদার রহিমা বেগমের এক মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেন। এরপর রহিমার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা হয়। তিন-চার বছর আগে এই বেল্লালকেই রহিমা বেগম বিয়ে করেন।

প্রতিবেশীরা জানান, প্রথম স্বামীর কাছ থেকে ১৯ দশমিক ৩৪ শতক জমির দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন রহিমা বেগম। সেই স্বামীর প্রথম স্ত্রীকে জমি দেয়ার পর ২০১৯ সালে তার বাড়ির বিপরীত পাশে অবস্থিত গোলাম কিবরিয়া ও হেলাল শরীফের কাছে ৪ দশমিক ৮৬ শতক জমি বিক্রি করেন। এরপর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে জমি নিয়ে শুরু হয় দ্বন্দ্ব। মামলা-পাল্টা মামলা, হুমকি-পাল্টা হুমকির ঘটনা ঘটে একাধিক বার। এ নিয়েই মূলত এতোসব কাহিনী।

মরিয়মের প্রতিবেশী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘জমি দখল করতে গেলে তারা মারামারি শুরু করে। শেষ পর্যন্ত তা থানা পুলিশ ও আদালত পর্যন্ত গড়ায়। এক বছর আগে এ নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তাদের মারামারি হয়। সেই থেকে স্থানীয়রা তাদের সঙ্গে মিশতে চায় না।

‘ওই জমি দখলে রাখতে তারাই নাটক সাজিয়েছে। আমরা আগেও থানা পুলিশকে জানিয়েছিলাম। কারণ অন্যের কেনা জমি তারা দখল করে রাখলেও আদালত একদিন রহিমা বেগমের বিপক্ষে রায় দেবে। সেদিন জমি ছেড়ে দিতে হবে। শুধু জমি দখলছাড়া না করতে তারা এই নাটক সাজিয়েছেন।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে খুলনা পিবিআই পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘রহিমা বেগম আদালতে অপহরণের জবানবন্দি দিয়েছেন। আমরা সেই কপি নিয়ে তার কথার সত্যতা যাচাই করব। এছাড়া যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তারা কারাগারে আছেন। ইতোপূর্বে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। এখনও শুনানি হয়নি। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। তদন্তে সব রহস্য উদঘাটন হবে।’

আরও পড়ুন:
বস্তাবন্দি সেই নারীর পরিচয় নিয়ে এবার ধন্দে পুলিশ
মাত্র ১ হাজার টাকায় ১৩ দিনে ৪ জেলায় মরিয়মের মা!
রহিমার ফরিদপুরে অবস্থানের তথ্য শুক্রবারই জানানো হয় মরিয়মদের
মরিয়ম মান্নানের ডাকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন মা
দালাল সাংবাদিকরা যে যা লিখে দিল: মরিয়ম

মন্তব্য

বাংলাদেশ
32 sheep burned in the fire the land dispute came to the fore

আগুনে পুড়ল ৩২ ভেড়া, সামনে এলো জমির বিরোধ

আগুনে পুড়ল ৩২ ভেড়া, সামনে এলো জমির বিরোধ খামারে থাকা ৩২টি ভেড়ার সবগুলোই পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ছবি: নিউজবাংলা
চরবালুয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই রমজান হোসেন জানান, খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আগুন কীভাবে লেগেছে তা তদন্ত করা হচ্ছে।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের চরবালুয়া গ্রামে দুর্বৃত্তের দেয়া আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে ৩২টি ভেড়া।

রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে চরবালুয়া গ্রামের কৃষক জামশেদের খামারে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, রাত সাড়ে ৮টার দিকে জামশেদের খামারে আগুন জ্বলতে দেখে আশপাশের মানুষ। পরে বিষয়টি স্থানীয় মসজিদের মাইকে ঘোষণা করলে গ্রামের লোকজন আগুন নেভাতে এগিয়ে আসেন।

কিন্তু আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, তা নেভানোর আগেই পুরো খামার এবং খামারে থাকা ৩২টি ভেড়া জীবন্ত পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জামশেদ বলেন, ‘সন্ধ্যায় ভেড়াগুলোকে খামারে রেখে আমি স্থানীয় বাজারে যাই। রাত ৮টার দিকে আগুন দেখে লোকজন আমাকে খবর দিলে দ্রুত খামারে আসি। এ সময় স্থানীয়রা এগিয়ে এলেও আগুনের তীব্রতা দেখে তারা ভয় পেয়ে যায়। খামারে থাকা ৩২টি ভেড়া নিমেষেই পুড়ে ছাই হয়ে যায়।’

জামশেদের অভিযোগ, স্থানীয় আবদুল হামিদ মিস্ত্রি নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন ধরে জমিসংক্রান্ত বিরোধ। এর জের ধরেই রোববার রাতে খামারের ভেতর কেউ না থাকার সুযোগে পেট্রল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় অন্তত ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেন জামশেদ।

অভিযোগের বিষয়ে আবদুল হামিদ মিস্ত্রির ব্যবহৃত মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

হামিদ মিস্ত্রির সঙ্গে জামশেদের জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধে একটি মামলা গ্রাম আদালতে আছে বলে নিশ্চিত করেছেন চরএলাহী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক।

চরবালুয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই রমজান হোসেন জানান, খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আগুন কীভাবে লেগেছে তা তদন্ত করা হচ্ছে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি সাদেকুর রহমান বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
চীনে নিভেছে জ্বলতে থাকা সেই ভবনের আগুন
ফোম তৈরির গুদামঘর পুড়ল আগুনে
চকবাজারে আগুন: পেছাল তদন্ত প্রতিবেদন
তেলেঙ্গানার বহুতল ভবনে আগুন, মৃত ৮
পৌনে ২ ঘণ্টায় নিয়ন্ত্রণে যাত্রাবাড়ীর রেস্তোরাঁর আগুন

মন্তব্য

p
উপরে