× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Allegations of vandalism against expelled SSC examinees
hear-news
player
google_news print-icon

বহিষ্কার এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ভাঙচুরের অভিযোগ

বহিষ্কার-এসএসসি-পরীক্ষার্থীদের-বিরুদ্ধে-ভাঙচুরের-অভিযোগ
এসআই বদিউজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গতকাল ঘটনাস্থলে গিয়ে স্কুলের জানালা ভাঙচুর করার বিষয়টি নিশ্চিত হই। ওই স্কুলের দুইজন ছাত্রকে পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে বহিষ্কার করার ঘটনায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে নিজেদের হাত দিয়েই জানালার কাঁচ ভেঙেছে।’

ঢাকার ধামরাইয়ে এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র থেকে বহিষ্কার হওয়া শিক্ষার্থীরা নিজ স্কুলে গিয়ে ভাঙচুর চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসময় তারা শিক্ষককেও লাঞ্ছিত করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

ধামরাই ল্যাবরেটরি স্কুলের শিক্ষক মোস্তফা হাদীউজ্জামান মঙ্গলবার দুপুরে এ বিষয়ে ধামরাই থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বদিউজ্জামান এসব নিশ্চিত করেছেন।

পরীক্ষায় অসুদপায় অবলম্বনের অভিযোগে ধামরাইয়ের কুশুরিয়া ইউনিয়নের কুশুরা ইউনিয়নের নবযুগ কলেজ কেন্দ্রে ২ জন ও যাদবপুর ইউনিয়নের যাদবপুর বিএম উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ১৯ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়।

ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী এসব কেন্দ্রে গিয়ে তাদের বহিষ্কার করেন।

এ ঘটনার পর বহিষ্কার হওয়া ছাত্রসহ তিনজন ধামরাই ল্যাবরেটরি স্কুলে গিয়ে ভাঙচুর চালায় ও শিক্ষক হাদীউজ্জামানকে লাঞ্ছিত করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

হাদীউজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যাদবপুর বিএম উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে আমার স্কুলের শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। গতকাল (সোমবার) পরীক্ষা চলাকালে অসদাচরণের অভিযোগে আমার স্কুলের ছাত্র হযরত আলীকে বহিষ্কার করেন ইউএনও।

‘বিকেলে আমাকে ও অন্যান্য শিক্ষকদের দোষারোপ করে স্কুলে এসে ভাঙচুর চালায় হযরত আলী এবং তার দুই বন্ধু আবিদ হোসেন খান ও দেওয়ান আল আমিন। তারা আমাকে পাঞ্জাবি ধরে টেনেহিঁচড়ে লাঞ্ছিত করে। আমিসহ অন্য শিক্ষকদের গালমন্দ করে। স্কুল বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায় তারা।’

এসআই বদিউজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গতকাল ঘটনাস্থলে গিয়ে স্কুলের জানালা ভাঙচুর করার বিষয়টি নিশ্চিত হই। ওই স্কুলের দুইজন ছাত্রকে পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে বহিষ্কার করার ঘটনায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে নিজেদের হাত দিয়েই জানালার কাঁচ ভেঙেছেন।

‘তারা দুজন সাভারের সুপার হাসপাতালে ভর্তি। মূলত শিক্ষকরা কেন বহিষ্কারের প্রতিবাদ করেনি এই ক্ষোভ থেকেই তারা এটি ঘটিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষকরা বিষয়টি মিমাংসা করতে চাইছেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
২১ পরীক্ষার্থী বহিষ্কার, ইউএনওর ওপর ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা
এসএসসি-এইচএসসি আগামী বছর সব বিষয়ে
এসএসসি পরীক্ষার নিয়মভঙ্গ, ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
দুই কাউন্সিলরের হয়ে এসএসসি, মুচলেকায় ছাড়া পেল ২ কিশোর
৯ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা সেই ম্যাজিস্ট্রেটকে আইনি নোটিশ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
There is no compulsion to commit immorality in Eden

‘ইডেনে অনৈতিক কাজে বাধ্য করার ঘটনা নেই’

‘ইডেনে অনৈতিক কাজে বাধ্য করার ঘটনা নেই’ ইডেন কলেজ ছাত্রলীগে সংঘাত চলাকালে এক শিক্ষার্থী ‘দেহ ব্যবসায়ী প্রেসিডেন্ট চাই না, চাই না’ লেখা সংবলিত প্লাকার্ড প্রদর্শন করেন। ফাইল ছবি
কলেজ প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছাত্রলীগ সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা ও সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানা শিক্ষার্থীদের আপত্তিকর ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করে অনৈতিক কাজে বাধ্য করেন বলে যে অভিযোগ উঠেছে তার সত্যতা পাওয়া যায়নি।

রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ওঠা শিক্ষার্থীদের অনৈতিক কাজে বাধ্য করার অভিযোগের সত্যতা পায়নি তদন্ত কমিটি। কলেজ অধ্যক্ষ সুপ্রিয়া ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ঘিরে অস্থিরতা তদন্তে কলেজ প্রশাসন একটি কমিটি গঠন করে। চার সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটির সদস্যরা হলেন- অধ্যাপক মোহাম্মদ জিয়াউল হক, অধ্যাপক কাজী আতিকুজ্জামান, অধ্যাপক সুফিয়া আখতার ও অধ্যাপক মেহেরুন্নেসা মেরী।

কলেজে ছাত্রলীগের কোন্দল চলাকালে এক গ্রুপের অভিযোগ ছিল কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা ও সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানা শিক্ষার্থীদের আপত্তিকর ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করে অনৈতিক কাজে বাধ্য করেন। ওই সময় এক শিক্ষার্থী মাস্ক পরে ‘দেহ ব্যবসায়ী প্রেসিডেন্ট চাই না চাই না’ লেখা সংবলিত প্লাকার্ডও প্রদর্শন করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে ইডেন মহিলা কলেজ ক্যাম্পাসে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও তৎপরবর্তীকালে অন্যান্য বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির ঘটনাগুলো এবং বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত কিছু শিক্ষার্থীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষার্থীকে অনৈতিক কাজে বাধ্য করার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। এছাড়া হলে সিট বাণিজ্য ও মারামারির ঘটনাসহ অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কলেজ প্রশাসন বিধি অনুসারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।

এ বিষয়ে জানতে অধ্যক্ষ সুপ্রিয়া ভট্টাচার্যকে ফোন করলে তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি সিট বাণিজ্যের অভিযোগের কোনো সত্যতা পায়নি। আমাদের শিক্ষার্থীদের অনুপাতে হলের সিট সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়। সে হিসাবে যারা অভিযোগ করেছে এবং যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে তাদের সবার রুমে যতটা সিট তার চেয়ে বেশি মেয়ের উপস্থিতি রয়েছে। কেউ বলেনি যে তারা সেখানে অর্থের বিনিময়ে থাকছে। তারা বলেছে, পরিচয় বা আত্মীয়তার সূত্রে তারা এখানে কিছুদিন থাকছে।’

‘এখন আমরা হল প্রশাসনের সঙ্গে বসে আলোচনা করে যেসব রুমের বিষয়ে অভিযোগ এসেছে সেসব রুমে গিয়ে খতিয়ে দেখব যে তারা আসলে কিসের ভিত্তিতে থাকছে।

‌এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যক্ষ বলেন, ‘তদন্ত কমিটি বিষয়টি খতিয়ে দেখেছে। তারা সিট বাণিজ্যের অভিযোগের কোনো সত্যতা পায়নি। কমিটি ফাইন্ডিংসগুলো দিয়েছে। এখন এসব ব্যাপারে আমরা কী ব্যবস্থা নেব তা বসে ঠিক করা হবে।’

তদন্ত কমিটি কিছুই না পেয়ে থাকলে কী দেখবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যক্ষ বলেন, ‘আমরা দেখব যেসব শিক্ষার্থী থাকেন তারা কেন থাকেন। আমরা এসব বিষয় বিস্তারিত পর্যালোচনা করে দেখব। তারা যেন বাইরে থেকে শিক্ষা জীবন চালিয়ে নিতে পারে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভার বিরুদ্ধে নগ্ন করে ভিডিও ধারণের অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ বলেন, ‘এ ব্যাপারে তাদের কাছ থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কেউ এ ব্যাপারে কিছু বলেনি।’

‘কলেজ প্রশাসনের চেয়ে আমার ক্ষমতা বেশি’ শীর্ষক রিভার অডিও ফাঁসের বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ বলেন, ‘এটা আসলে কেউ বলতেই পারে। বলা আর বাস্তবতা তো এক না। আমাদের এখানে হল কতৃপক্ষ ছাড়া কারও এলটমেন্ট দেয়ার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে আমরা আমাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

কোন কোন ঘটনায় কাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি শাস্তির সুপারিশ করেছে জানতে চাইলে সুপ্রিয়া ভট্টাচার্য বলেন, ‘তদন্ত কমিটি কিছু সুপারিশ করেছে। সেসবের আলোকে যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া দরকার তাদের সবার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোন কোন ঘটনায় কার কার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে সাংবাদিকরা দ্রুতই জানতে পারবেন।’

আরও পড়ুন:
ইডেন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতদের ‘আমরণ অনশন’ টিকল ১ ঘণ্টা
‘ইডেন ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদক কেন বহিষ্কার হলেন না?’
আমৃত্যু খাবার মুখে না তোলার প্রতিজ্ঞা ইডেন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতদের
সংবাদ সম্মেলনে ইডেন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতরা
ইডেন ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত, বহিষ্কার ১৬

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Jobs 6 Step Progress in Implementing Annual Performance Agreements

বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বাস্তবায়নে জবির ৬ ধাপ অগ্রগতি

বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বাস্তবায়নে জবির ৬ ধাপ অগ্রগতি
সর্বমোট স্কোর ১০০-এর মধ্যে ৯৯ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট পেয়ে র‍্যাংকিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ৯৪ দশমিক ৪৮ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। আর ৯৩ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট লাভ করে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) মূল্যায়নে দেশের ৪৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)। বিগত অর্থবছরে এক্ষেত্রে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ছিল নবম।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ফিরোজ আলম নিউজবাংলাকে মঙ্গলবার এ তথ্য জানান।

ইউজিসির সচিব অধ্যাপক ড. ফেরদৌস জামান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এপিএ বাস্তবায়নের জন্য শুদ্ধাচার কৌশল কর্মপরিকল্পনা, ই-গভর্ন্যান্স ও উদ্ভাবন, অভিযোগ ও প্রতিকার ব্যবস্থা, সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতি সিটিজেন চার্টার এবং তথ্য অধিকার বিষয়ক পৃথক ছয়টি ফোকাল পয়েন্ট রয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও ইউজিসি নির্ধারিত এপিএর আওতায় সর্বমোট স্কোর ১০০-এর মধ্যে ৯৯ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট পেয়ে এবারও র‍্যাংকিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। এপিএ মূল্যায়নে ৯৪ দশমিক ৪৮ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। আর ৯৩ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট লাভ করে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে জবি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বাস্তবায়ন সংক্রান্ত মূল কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক এবং সদস্য সচিব হচ্ছেন রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান।

এই অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাইকে ধন্যবাদ জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক। ভবিষ্যতে শীর্ষ স্থানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান নিশ্চিত করতে সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

একটি প্রতিষ্ঠানে বা সংস্থায় সেবা প্রদানে গতিশীলতা আনয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সরকার ২০১৪-১৫ সালে দেশে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি সংক্ষেপে এপিএ চালু করে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকরণে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার উন্নয়ন, সব স্তরের কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা নিরূপণ এবং সরকার ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-২০৩০ ও রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়ন অনেকটা সহজ হয়।

আরও পড়ুন:
ছাত্রী হলে প্রবেশের সময় রাত ১০টা করার দাবি
রাষ্ট্রপতির ছেলের গাড়িচালককে মারধর মামলার প্রতিবেদন জমা পড়েনি
জবির ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি: মামলায় আসামি ৩
সাংবাদিকদের হুমকি, জবি ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে জিডি
পারিশার ফোনটি ৪ হাজারে বিক্রি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Belayt finally became a student of State University

অবশেষে স্টেট ইউনিভার্সিটির ছাত্র হলেন বেলায়েত

অবশেষে স্টেট ইউনিভার্সিটির ছাত্র হলেন বেলায়েত বেলায়েত শেখ এখন স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের ছাত্র। ফাইল ছবি
রাজশাহীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন গাজীপুরের ৫৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থী বেলায়েত শেখ। কিন্তু দূরত্ব ও মায়ের আপত্তির কারণে তিনি শেষ পর্যন্ত স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশে ভর্তি হয়েছেন।

গাজীপুরের আলোচিত বেলায়েত শেখ অবশেষে স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের শিক্ষার্থী হলেন। তিনি বেসরকারি এই বিদ্যায়তনে জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে ভর্তি হয়েছেন।

চলতি বছর পর পর চারটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন ৫৫ বছর বয়সী অদম্য এই বিদ্যানুরাগী।

রাজশাহীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে একই বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দূরত্ব ও মায়ের আপত্তির কারণে তিনি শেষ পর্যন্ত তিনি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির সিদ্ধান্ত নেন।

বেলায়েত বলেন, ‘রাজশাহীতে ভর্তি হওয়ার বিষয়ে মায়ের আপত্তি ছিল। তাছাড়া গাজীপুর থেকে রাজশাহীর দূরত্বও অনেক। এখানে ভর্তি হওয়ায় এখন বাড়ি থেকেই ঢাকায় ক্লাস করতে পারব।’

স্টেট ইউনিভার্সিটিতে বেলায়েতের ভর্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাসরিন আক্তার। তিনি জানান, বেলায়েত ২৭ সেপ্টেম্বর এই বিভাগে ভর্তি হয়েছেন।

নাসরিন আক্তার বলেন, ‘বেলায়েতের জ্ঞান অর্জনের আগ্রহ ও সাধনা আমাদের অভিভূত করেছে। তার এই অগ্রযাত্রায় অংশ হতে পারায় আমাদের ভালো লাগছে।’

বেলায়েত ১৯৮৩ সালে প্রথমবার মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার প্রস্তুতি নিলেও টাকার অভাবে সেবার নিবন্ধন করতে পারেননি। ১৯৮৮ সালে তিনি আবারও এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সে বছর সারা দেশে বন্যার কারণে পরীক্ষা দিতে পারেননি।

এর কয়েক মাস পর তিনি একজন আলোকচিত্রী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি ‘দৈনিক করতোয়া’র গাজীপুর জেলার শ্রীপুর প্রতিনিধি।

কর্মজীবন শুরুর পর বেলায়েত আর পড়ালেখা না করার সিদ্ধান্ত নেন। ছোট ভাইদের মাধ্যমে নিজের অধরা স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। বর্তমানে তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক।

অদম্য বেলায়েত অবশেষে ২০১৯ সালে এসএসসি ও ২০২১ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। যে বছর তিনি এইচএসসি পরীক্ষা দেন, একই বছর তার ছোট ছেলেও এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।

আশপাশের মানুষের উপহাস আর বিদ্রূপ উপেক্ষা করে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া বেলায়েতের স্বপ্ন ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পড়ার। সে অনুসারে চলতি বছরের ১১ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন। কিন্তু সুযোগ পাননি।

পরে একে একে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেন তিনি। সবশেষে তিনি স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ-এ গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে ভর্তি হলেন।

আরও পড়ুন:
জাবির ফল দেখে বেলায়েত বললেন, ‘আমার ভাগ্য খারাপ’
জাবিতে ভর্তি পরীক্ষা দিতে গিয়ে সেই বেলায়েত আহত
রাবিতে পরীক্ষা দিতে প্রস্তুত বেলায়েত
ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষা দেবেন ৫৫ বছরের বেলায়েত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
National University Masters Result Released Pass 68 19

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের ফল প্রকাশ, পাস ৬৮.১৯%

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের ফল প্রকাশ, পাস ৬৮.১৯%
রোববার বিকেলে এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২ লাখ ১৫ হাজার ৯০৯ জন। ১১৭টি কেন্দ্রে ১৭৫টি কলেজে ৩০টি বিষয়ে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০১৯ সালের মাস্টার্স শেষ পর্ব পরীক্ষায় পাসের হার ৬৮ দশমিক ১৯ শতাংশ।

রোববার বিকেলে এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২ লাখ ১৫ হাজার ৯০৯ জন। ১১৭টি কেন্দ্রে ১৭৫টি কলেজে ৩০টি বিষয়ে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ পরিচালক মো. আতাউর রহমান সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই ফলাফল জানানো হয়।

প্রকাশিত ফলে কোনো প্রকার অসংগতি বা ভুল পরিলক্ষিত হলে তা সংশোধন অথবা ফল সম্পূর্ণ বাতিল করার ক্ষমতা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সংরক্ষণ করে।

মুঠোফোন থেকে এসএমএসের মাধ্যমে বা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে এই ফল পাওয়া যাবে।

আরও পড়ুন:
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল ও পিএইচডিতে ভর্তির আবেদন শুরু ১৪ জুন
অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফল প্রকাশ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ভর্তি আবেদন শুরু
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ভর্তির আবেদন শুরু ২২ মে
ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ফল প্রকাশ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
UGC wants e documents in universities

বিশ্ববিদ্যালয়ে ই-নথি চায় ইউজিসি

বিশ্ববিদ্যালয়ে ই-নথি চায় ইউজিসি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি আয়োজিত ই-নথি বিষয়ক তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অতিথিরা। ছবি: সংগৃহীত
দিল আফরোজা বলেন, ই-নথি ব্যবস্থার মাধ্যমে যেকোনো স্থান থেকেই ইন্টারন্টে সুবিধা ব্যবহারের মাধ্যমে নথি নিষ্পন্ন করা যাচ্ছে। ফলে দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে দাপ্তরিক কাজে গতি বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ই-নথি ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি আয়োজিত ই-নথি বিষয়ক তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে শনিবার প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক দিল আফরোজা বেগম এ আহ্বান জানান।

দিল আফরোজা বলেন, ই-নথি ব্যবস্থার মাধ্যমে যেকোনো স্থান থেকেই ইন্টারন্টে সুবিধা ব্যবহারের মাধ্যমে নথি নিষ্পন্ন করা যাচ্ছে। ফলে দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হচ্ছে।

সহজে ও দ্রুততম সময়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ই-নথি কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কমডোর শেখ ফিরোজ আহমেদের সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণের উদ্বোধনে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মো. সাজ্জাদ হোসন, মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির উপাচার্য রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) এম খালেদ ইকবাল ও ইউজিসি সচিব ড. ফেরদৌস জামান।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান, আইসিটি সেলের পরিচালকসহ ইউজিসি এবং বিশ্ববিদ্যালয়টির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘ই-নথি ব্যবস্থা কার্যকর করতে সরকার ইতোমধ্যেই প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো গড়ে তুলেছে। এসব অবকাঠামোর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কাগজের ফাইলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনতে হবে। এই ব্যবস্থায় নথিসংক্রান্ত সব তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষিত থাকে, ফলে দ্রুততম সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায়।’

তিন দিনের প্রশিক্ষণে ভার্চুয়াল অফিস ম্যানেজমেন্ট, ই-নথি সিস্টেম, প্রোফাইল ব্যবস্থাপনা, ডাক আপলোড প্রক্রিয়া, ডাক ব্যবস্থাপনা, ডাক নথিতে উপস্থাপন পদ্ধতি, নথি ও পত্রজারি, নথি ব্যবস্থাপনা এবং নথি মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারের বিষয়গুলোর ওপর আলোচনা হবে।

প্রশিক্ষণে সেশন পরিচালনা করবেন ইউজিসির আইএমসিটি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ মাকছুদুর রহমান ভূঁইয়া, একই বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ মনির উল্লাহ এবং প্রোগ্রামার দ্বিজন্দ্র চন্দ্র দাস।

আরও পড়ুন:
এপিএতে সই শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইউজিসির
প্রতিবন্ধীদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিতে নীতিমালা করছে ইউজিসি
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় সহায়তা করতে চায় এলসেভিয়ার
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়ম তদন্তে ইউজিসি
সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে আসছে নীতিমালা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
How is the child who gives news in the madrasa?

‘মাদ্রাসায় যে সন্তান দেন, খবর রাখেন সে কেমন আছে?’

‘মাদ্রাসায় যে সন্তান দেন, খবর রাখেন সে কেমন আছে?’ ধর্মীয় বক্তা রফিক উল্লাহ আফসারী। ছবি: সংগৃহীত
১০০টা এমবিবিএস ডাক্তারের মধ্যে ১০০টাই কামে লাগছে। …১০০টা উকিলের ভেতরে ১০০টাই কাজে লাগছে। ১০০টা হাফেজ হইছে, কোন হাফেজটা সাকসেস হইছে গোটা বাংলাদেশে? হাতে গোনা কয়েকজন: ধর্মীয় বক্তা রফিক উল্লাহ আফসারী

হাফিজি মাদ্রাসাগুলোতে শিশুদের বেধড়ক মারধর নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন একজন ধর্মীয় বক্তা। তিনি আবাসিক মাদ্রাসাগুলোতে সন্তানদের না পাঠানোর অনুরোধও করেছেন। বলেছেন, যেভাবে মাদ্রাসায় নির্যাতন করা হয়, তার খানিকটা তার ওপর করা হলে তার ইমান থাকত না।

শিশুদের হাফেজখানায় না দিয়ে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিল, ম্যাজিস্ট্রেট বানানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেছেন, হাফেজ বানালে জাতির কোনো লাভ হয় না।

তিনি বলেন, কোরআন মুখস্থ করে হাফেজ বানানো বাধ্যতামূলক বা ফরজ না। ফরজ হচ্ছে কোরআন সঠিকভাবে এক পারা শেখানো। সবাই এক পারা শিখলেই গোটা দেশ পাল্টে যাবে।

এই ধর্মীয় বক্তার নাম রফিক উল্লাহ আফসারী। বাড়ি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার আজগরা ইউনিয়নের আমদুয়ার গ্রামে।

তিনি নাঙ্গলকোট উপজেলার বাংগড্ডা কামিল মাদ্রাসায় চাকরি করেন। পাশাপাশি ওয়াজ করেন।

সেই এলাকাটা অনেকটা নোয়াখালী লাগোয়া। তার ভাষা নোয়াখালীবাসীর মতো।

এই ধর্মীয় বক্তা মাদ্রাসায় নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ারও আহ্বান জানিয়েছেন। শিশুদের পেটালে সরাসরি থানায় যেতে বলেছেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সমাজসেবা অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছেন। সেই সঙ্গে সরকার যেন এসব মাদ্রাসায় নজরদারি করে, সেই দাবি তুলেছেন।

রফিক আফসারী নিজেও তার সন্তানকে মাদ্রাসায় হাফেজি বিভাগে ভর্তি করিয়েছিলেন। এর পরই সেখানকার চিত্র জানতে পেরেছেন বলে জানান। বলেন, তিনি নানা অভিযোগের বিষয়ে স্বচক্ষে দেখতে নানা কৌশলে মাদ্রাসায় গিয়ে দেখে খুবই কষ্ট পেয়েছেন।

সম্প্রতি তার একটি ওয়াজের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে। এর পর থেকে তাকে নিয়ে ব্যাপক প্রশংসা হচ্ছে। বহুজন বলছেন, মাদ্রাসায় নির্মম নির্যাতনের বিষয়টি নিয়ে অন্তত একজন আলেম মুখ খুলেছেন।

‘মাদ্রাসায় যে সন্তান দেন, খবর রাখেন সে কেমন আছে?’

তবে এই ওয়াজেই আফসারী শঙ্কা প্রকাশ করেন, এসব বক্তব্য দেয়ার কারণে তার ওপর চড়াও হবেন কওমিপন্থিরা।

যোগাযোগ করা হলে নিউজবাংলার প্রশ্নের উত্তরে তিনি বিষয়টি নিয়ে কিছু বলতে চাননি। তবে তার ঘনিষ্ঠ একজন বলেছেন, ওয়াজে যে শঙ্কার কথা তিনি বলেছিলেন, সেটি সত্য হয়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ায় কওমিপন্থিদের রোষানলের কারণে তিনি এখন মিডিয়াকে এড়িয়ে চলছেন।

‘মাদ্রাসায় যে সন্তান দেন, খবর রাখেন সে কেমন আছে?’

কওমি মাদ্রাসায় ৯ বছর বয়সী শিশুকে বেত্রাঘাতের ঘটনায় মায়ের করা মামলায় এক শিক্ষককে গত বছর ১৮ মার্চ কারাদণ্ড দেয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি আদালত। সেই বছর হাটহাজারীর এক মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে পেটানোর ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা

‘হাফেজ বানিয়ে লাভ কী, ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার বানান’

হাফেজি পড়ে জাতির কোনো লাভ হয় না বলে মনে করেন রফিক আনসারী। বলেন, ‘জীবনবৃত্তান্ত স্টাডি করে দেখেন, কয়জন মানুষ হইছে, জাতিকে কিছু দিতে পারছে। পারছে?

‘১০০টা এমবিবিএস ডাক্তারের মধ্যে ১০০টাই কামে লাগছে। …১০০টা উকিলের ভেতরে ১০০টাই কাজে লাগছে। ১০০টা হাফেজ হইছে, কোন হাফেজটা সাকসেস হইছে গোটা বাংলাদেশে? হাতে গোনা কয়েকজন।’

তিনি বলেন, ‘হাফেজ কোনটা বড় আলেম হইছে দেখান না। আপনি পড়ান কম, যাতে এক পারা হাফেজ হলেও ছেলেটা উচ্চশিক্ষিত হতে পারে, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যারিস্টার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার।’

এই সত্য তুলে আনায় হুজুররা গালিগালাজ করবে জানিয়ে আফসারী বলেন, তাতে তার আক্ষেপ নাই। তিনি বলেন, ‘করুক তাতে কী? আমার আল্লাহ যদি আমার প্রতি খুশি থাকে, আমার কারণে যদি একটা ছেলে মাইর থেকে বাঁচে, এই আনন্দ আমি রাখি কোথায়?

‘মাদ্রাসায় যে সন্তান দেন, খবর রাখেন সে কেমন আছে?’

জামালপুরের ইসলামপুরে তিন মাদ্রাসাছাত্রী নিখোঁজের ঘটনায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে গত বছর ১৪ সেপ্টেম্বর মামলা হয়। ফাইল ছবি

‘আমার কারণে যদি একটা ছেলে কয়, আফসারী ভাইয়ের বক্তব্যের কারণে আমি এই নির্যাতন থেকে বাঁচি আইছি, দেখবেন যে সে এমবিবিএস ডাক্তার হয়ে যাবে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার হয়ে যাবে।

‘খালি হুজুর হইলে যে খেদমত করা যাইব, সেটাও তো নয়। পুলিশ অফিসার হইলেও তো খেদমত করতে পারব। প্রত্যেকের অবদান আছে একটি দেশ বিনির্মাণের জন্য।’

‘মাদ্রাসায় বাচ্চারা কেমন আছে খবর রাখেন?’

মানুষ বানানোর স্বপ্ন নিয়ে মাদ্রাসায় শিশু পাঠানোর পর সেখানে তারা কেমন আছে, সেই খোঁজ নেয়ার তাগিদ দেন রফিক আনসারী। বলেন, পিটুনি ছাড়াও যেনতেন থাকার জায়গা, নিম্নমানের খাবারের কারণে শিশুদের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

আফসারী বলেন, ‘যে মারটা দেয় ভাই! খবর নেন? সরল বিশ্বাসে আপনেরা হাফিজি মাদ্রাসায় দিয়ালান। কত মাইর দেয়! এই ছোট পোলাইনগুলার বদ দোয়া…। প্রাইমারি স্কুলে চাকরি হলে সরকার হ্যাতেরে দুইটা বছর ট্রেনিং দেয়, পিটিআইয়ের ট্রেনিং দেয়, আগে শেখ, পরে পড়াইস। হ্যাতেরা তো হেফজ হইয়াই দৌড় দিয়া হাফিজি মাদ্রাসায় আয় তামা করে লায় পোলাইনগুলারে পিডায়।’

তিনি বলেন, ‘আমার চোখে দেখা, হাজার হাজার প্রতিবন্ধী, ব্রেইন আউট…। মা-বাপেও হেরে দেয়া লাই, বান্দি (বেঁধে) দিয়া হেরে দেয়া লাই। এবার হুজুরে কয়, গেছসনি আব্বার বাইত? দিছে কি হে জায়গা?

‘আল্লারে পোলা নিজের মাথা নিজে ওয়ালের লগে ফিডে (পেটায়)। কত কষ্ট পাইলে হেতে তিন তলাত্তন (তিনতলা থেকে) ঝাঁপ দিয়া মরে?’

আফসারী বলেন, ‘প্রবাসী যারা শুনতেছেন, আপনাগো বউরা তো দিয়া দেয় মাদ্রাসায় মানুষ করবার লাই। আপনার পোলারা কি সুখে আছে, চায় লইয়েন (দেখে যাবেন)। জীবনেও মানুষ হবে না। মার কাছে থাকব। হ্যাতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যা পারে পড়ব।

‘মাদ্রাসায় যে সন্তান দেন, খবর রাখেন সে কেমন আছে?’
হাফিজি মাদ্রাসার শিশুশিক্ষার্থীরা। ফাইল ছবি

‘এই ল্যাদা (ছোট) পোলাপানের হার্ট নষ্ট করিয়া লায়…। ডাইলের (ডাল) পানি খায় (খেয়ে) হুজুরগোর ঘেটি (ঘাড়) মোটা মোটা হই গেছে। আর পোলাইনটিরে কী কইচ্ছে?’

১০০টির মধ্যে ৯৮টিতেই মারধর চললেও শিশুরা ভয়ে কিছু বলে না বলেও জানান আফসারী। বলেন, ‘আপনি যখন হুজুরের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন। হুজুর সুন্দর করি বলবে কেমন আছেন। পুতেও কয় না। এমন মেডিসিন খাওয়ার দিছে। ডরে (ভয়) কয় না। এডি (হুজুর) জেএমবির থেকেও আরও বেশি ভয়ংকর। আর হুতেরে ফোন দিলে কয়, আব্বু ফোন দিলে আরে মারিয়ালাইব। এমন সিস্টেম করে ডরে বাড়িও কয় না।’

পিটুনিতে মানসিক ভারসাম্য হারাচ্ছে ছাত্ররা

নিজের এক স্বজনের কথা তুলে ধরে আফসারী বলেন, ‘আমার আত্মীয় বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তানদের মধ্যে সে একজন। এখন ব্রেইন আউট, কী কী বলে।

‘সেই ছেলে বলে- মাগো, বেড়াইতাম আইতাম, আব্বা আমারে বাইন্দা মসজিদে আনত। মাগো হেইনো (সেখানে) আমার কী মাইর দিত গো মা! আমি কইলে তো বিশ্বাস করতা না। কইতেন পড়ার ডরে আমি এইডি কই। আমার তো ব্রেইন আউট কইরালাইছে।’

নিজের সহকারী মো. জহিরের ভাগনেরও একই অবস্থা হয়েছিল বলেও জানান এই ধর্মীয় বক্তা। বলেন, ‘তার এক ভাগিনা, হাতে তো মারে না।’

রফিক আনসারী তার মাথা নিচু করে দেখান। বলেন, ‘সিস্টেম করে কয় মোহাম্মদ, এমনে থাক।

(শিশুটা) কান্দি (কেঁদে) উডি হয়, ‘হুজুর আমার দম গেছে গা তো।’

‘মাথা উডলে গো গেডির (ঘাড়ে) বাইরে পিডব।

‘তুই এমনে থাহস না, ৩০ সেকেন্ডে স্ট্রোক করবি।

‘হুজুর আমি মরি যাই, মরি যাই।

‘এরপর মাথা উডায়।

‘এরপর আবার তারে মাথা নিচে নামায়। এরপর বাচ্চাডা আবার বলে, ‘হুজুর আমি মরি যাই, মরি যাই। এভাবে বাচ্চাডা প্রতিবন্ধী হয়ে গেছে এখন।’

‘এমনে মারলে আমার ইমান থাকত না’

হাতের আঙুলে পেটানোর ভঙ্গি দেখিয়ে আফসারী বলেন, ‘হ্যায় হায় রে… গিরাবায় মারে। আমারেও যদি গিরাবায় মারে আমি ইমান রাখতে পারতাম না।’

তিনি বলেন, ‘আপনার হুতেরে সিজদার মধ্যেও পিডায়। বলে সিজদা দে, আর মারে। আহারে লেদা পোলাডা।…সেদিন এক ভিডিওতে দেখছি, এক হুজুরে পাজাকোলা করে এক বাচ্চারে ধইরা রাখছে, আর আরেক হুজুরে রুল দিয়া পায়ের পাতার মধ্যে মারছে। কত জোরে কাঁদছে বাচ্চাটা, মাগো, মাগো, মাগো। বইলা বেহুঁশ হয়ে পড়ে যায়।’

যত ঘটনা মাদ্রাসায় ঘটে, তার মধ্যে হাতে গোনা এক-দুইটাই প্রকাশ হয় বলেও জানান এই ধর্মীয় বক্তা। বলেন, এক কোটির মধ্যে আল্লাহ দুই-একটা বাইর কইরা দেয়, দেখায়, তোদের পোলারে এভাবে পিডায়।’

ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকেও শিশুদের মারা নিষিদ্ধ বলে তুলে ধরেন তিনি। উপস্থিত সবার উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘নবী মারছে? সাহাবা একরাম মারছে?'

গভীর রাতে শিশুদের জোর করে ঘুম ভাঙানোর বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মাগো, লেদা (ছোট) পোলারে ৩টায় উঠায় দেয় পড়বার লাই (পড়ার জন্য)। হ্যাতের ওপর (যার ওপর) নামাজ ফরজ হয় নাই, অথচ তাকে দিয়ে তাহাজ্জুদ পড়ায়! হ্যাতের মাথায় আবার পাগড়ি দিয়া বাইন্দা লয়, ওমা এইটা কী জিনিস?’

‘প্রতিরোধ গড়ার সময় এসেছে’

অভিভাবকদের চুপ থাকার কোনো কারণ দেখছেন না রফিক আনসারী। বলেন, ‘এদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার সময় এসেছে। প্রত্যেক অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে রিপোর্ট করবেন। মারব, আর ডাইরেক্ট যাবেন থানায়। এই হুজুরের আর দরকার নাই।’

তার কথা না শুনে মাদ্রাসায় দিতে থাকলে কী হবে, সেটি জানিয়েও সতর্ক করেন আফসারী। বলেন, ‘পারিবারিক সমস্যায় ভুগবেন। বাচ্চা প্রতিবন্ধী হই যাইব। একটা বাচ্চা যদি অসুস্থ হয়, লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষতি। আপনার পারিবারিক অশান্তির কারণ হবে। কোনো অবস্থায় আবাসিক রাখবেন না। আফসারী কইলেও হ্যাতের কাছেও দিয়েন না। বাচ্চারে মায়ের কোলের মধ্যে হুতাইবেন।

‘সমাজসেবা অধিদপ্তরে এগুলার জন্য মামলা দিবেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসাররে কইবেন, কীয়ের মাদ্রাসা দিছে? খেলার জায়গা কই। প্রত্যেকটা প্রাইমারি স্কুলের দিকে তাকিয়ে দেখিয়েন, কত সুন্দর মাঠ আছে।

‘পাঁচ হাজার বছরের ঐতিহ্য হচ্ছে আমাদের এই প্রাইমারি স্কুল। আমরা প্রাইমারি স্কুল থেকে মানুষ হইছি। ফাইভ পাস করে তারপর মাদ্রাসায় আইছি।’

‘সব কথা বলাও যায় না’

মেয়েদের মাদ্রাসায় কী হয়, সেটির বিষয়ে আফসারী কথা শুরু করেও শেষ করেননি। বলেন, সব কিছু প্রকাশ্যে বলা যায় না। তবে জাতি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘ছোট ছোট মাইয়ার বোর্ডিংয়ে দেন। রুমের চাবি কয়টা কইতে পারবেননি? ১৮টা। সব কথা তো টেলিভিশনে বলা যায় না। কী কইতাম। জাতিটারে ধ্বংস করি দিতেছে তো। কোনো অবস্থায় বোর্ডিংয়ে দিবেন না। কাছে রাইখব্যান।’

‘মাদ্রাসায় যে সন্তান দেন, খবর রাখেন সে কেমন আছে?’

‘কোনো হাফিজি মাদ্রাসার ছাত্রকে আপনে বোর্ডিংয়ে দিয়েন না। মার কলিজার মধ্যি হুতি ঘুম যাইব, দিনের বেলা পড়ব’- বারবার এই কথাটি বলেন তিনি।

ভালো খাবার না দিয়ে মিথ্যা শেখানো হয়’

রফিক আনসারী বলেন, ‘বিকেল বেলা খেলতে দেয় না, লক্ষ লক্ষ মাসুম বাচ্চারে জবেহ করে দিছে তারা।’

শিশুদের ভালো না খেতে দিলেও তাদের মিথ্যা কথা শেখানো হয় বলেও জানান এই ধর্মীয় বক্তা। বলেন, ‘পাঙ্গাশ মাছ দেয়। আর শেখায় মাংসের কথা বলতে।’

এ সময় পাশে থাকা এক ব্যক্তি হাসতে থাকলে তার উদ্দেশে আনসারী বলেন, ‘আমার রক্ত গরম হয়ে যায়, কলিজা ছিদ্র হয়ে যায়, আর আপনি হাসেন!’

তিনি বলেন, ‘(মা বলে) কিরে পুত কী দিয়া খাওয়াইছে? কয় গোশত। আসলে এক মাসের খানাতেও নাই গোশত। কত সেয়ানার সেয়ানা আমরা। আঁই (আমি) তো এইডি শিখছি, শিইখ্যাই তো কইলাম।’

‘মাদ্রাসায় যে সন্তান দেন, খবর রাখেন সে কেমন আছে?’

ঢাকার সাভারের মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের মামলার পলাতক আসামি ওই মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আলামিন হাসান সাইমকে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া থেকে ৫ এপ্রিল গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। ফাইল ছবি

শিশুরা মায়ের কাছে থাকাই উত্তম উল্লেখ করে আনসারী বলেন, ‘মায়ের কাছে থাকলে বিকেলে একটু আমড়া খাইত, আমলকী খাইত, ১০০ কেজি আপেলের চেয়ে শক্তিশালী। একটা ডিম খাওয়াইত মা। পোলাপানেরে মা কত যত্ন করি খাওয়ায়। হেয়ান হ্যাতে শুইয়া রইছে মশারিও তো নাই।’

মুরাদনগরে একটি মাদ্রাসায় যাওয়ার পর সেখানকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এই ল্যাদা পুলারা কাশতে আছে। ঘরে কাশলে তো মা উঠি যাইত ঘুমেত্তে। বাড়িত থাকলে তো আমি উঠে উঠে দেখি, ফ্যানটা জোরে চলেনি, আমার পুলায় কাশি দিল কেন?

‘এই সার্ভিসটা কি হুজুরে দিব তরে? তুই তোর হুতেরে হত্যা করিয়া লাইছত, বোর্ডিংয়ে দিয়ে।’

সরকারকে নজরদারির তাগিদ

যত্রতত্র গড়ে ওঠা মাদ্রাসা দোকানের মতো করে ফেলছে মন্তব্য করে আফসারী বলেন, ‘মার্কেটের ভেতরে মাদ্রাসা। আল্লাহ, সরকার এগুলোর দিকে নজরদারিও করার তওফিক দাও।’

এসব বক্তব্য দেয়ায় সমালোচনা হবে, সেটি আগেই উল্লেখ করেন রফিক আনসারী। বলেন, ‘কাইল সকালে এই ভিডিও দেখব আর আমারে হুজুরেরা গাইল্যায়া শেষ করি দিব। কইব, হ্যাতে ইসলামবিদ্বেষী।’

তিনি বলেন, 'আমার পুতেরে হেফজ পড়ানে সব গুমর আল্লায় আমারে শিখায়ালাইছে। তিন-চারবার আমার পুতের নাম কাডিয়ালায়। দুঃখ কারে কই, আমার মতো সচেতন, প্রভাবশালী একজন অভিভাবকের সঙ্গে যদি হুজুরে এসব করে, তাহলে গরিব পোলাপানরে তো হুজুরে পাত্তাও দেয় না।'

আরও পড়ুন:
আজব মাদ্রাসায় সুপারের তেলেসমাতি
কুমিল্লা বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান জামাল নাসের
বামপন্থায় কীভাবে দীক্ষিত হচ্ছে কওমি ছাত্ররা?
অন্তর্দ্বন্দ্বে বেহাল উত্তরাঞ্চলের নামি বিদ্যাপীঠ
যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক আটক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
SSC questions not leaked Education Minister

এসএসসির প্রশ্ন ফাঁস হয়নি: শিক্ষামন্ত্রী

এসএসসির প্রশ্ন ফাঁস হয়নি: শিক্ষামন্ত্রী চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে শনিবার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। ছবি: নিউজবাংলা
‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো কোনো চক্র বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে, মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছে। কোনোভাবেই ধর্মীয় শিক্ষা নৈতিক শিক্ষা থেকে বাদ দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ নৈতিক শিক্ষা অবশ্যই সঠিক শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ।’

এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নেয়ার কারণে গত চার বছরে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি।’

শনিবার দুপুরে চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সম্প্রীতি সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এবার দিনাজপুরে যা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। একটি পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব অনেক প্রশ্নপত্রের প্যাকেট একসঙ্গে নিয়ে গেছেন। এটি কী কারণে হলো, সেই বিষয়ে তদন্ত হচ্ছে। সেই শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো কোনো চক্র বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে, মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছে। কোনোভাবেই ধর্মীয় শিক্ষা নৈতিক শিক্ষা থেকে বাদ দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ নৈতিক শিক্ষা অবশ্যই সঠিক শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান, পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল, চাঁদপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান ও চাঁদপুর প্রেস ক্লাব সভাপতি গিয়াসউদ্দিন মিলন।

আরও পড়ুন:
‘ভূরুঙ্গামারীর ইউএনওর অবহেলায়’ এসএসসির প্রশ্ন ফাঁস
প্রশ্নফাঁস: কুড়িগ্রামের উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরখাস্ত
দিনাজপুর বোর্ডে স্থগিত পরীক্ষার সূচি পরিবর্তন ২ ঘণ্টা পরই
এসএসসি: দিনাজপুর বোর্ডে স্থগিত ৪ বিষয়ের সূচি ঘোষণা
এসএসসির ‘প্রশ্ন ফাঁস’: কুড়িগ্রামে গ্রেপ্তার আরও ৩

মন্তব্য

p
উপরে