× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Myanmar blames Arakan Army and Arsa
hear-news
player
google_news print-icon

আরাকান আর্মি ও আরসার ওপর দোষ চাপাল মিয়ানমার

আরাকান-আর্মি-ও-আরসার-ওপর-দোষ-চাপাল-মিয়ানমার
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে এসে পড়া মিয়ানমারের মর্টারশেল। ছবি: নিউজবাংলা
রাষ্ট্রদূত মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী জানান, বাংলাদেশ তার ভূখণ্ডে সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেয় না। এ ক্ষেত্রে তিনি প্রধানমন্ত্রীর ‘জিরো টলারেন্স ফর টেরোরিজম’ ও ‘বাংলাদেশ নট এ হাব অফ টেরোরিস্ট’ নীতির কথা তুলে ধরেন।

এবার বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে সীমান্ত পরিস্থিতির ব্যাখ্যা করেছে মিয়ানমার। সেখানে দেশটি সীমান্তে গোলা নিক্ষেপে দেশটির সেনাবাহিনী জড়িত নয় বলে সাফাই গেয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা।

বিষয়টি নিজেদের ফেসবুক পেজেও তুলে ধরেছে নেপিডোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ব্যাখ্যায় সীমান্তে গোলা নিক্ষেপের ঘটনায় আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি বা আরসা জড়িত বলে মিয়ানমারের দাবির কথা নিউজবাংলাকে জানিয়েছে নেপিডোয় বাংলাদেশ দূতাবাস।

দূতাবাস সূত্র জানায়, সোমবার সকালে ইয়াঙ্গুনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরীর সঙ্গে আলোচনায় নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দেশটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের পরিখা ও ঘাঁটি রয়েছে বলেও দোষারোপের চেষ্টা করেছে। এগুলো দ্রুত গুঁড়িয়ে দেয়ার অনুরোধ করেছে দেশটি।

তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ খণ্ডন করে রাষ্ট্রদূত মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী জানান, বাংলাদেশ তার ভূখণ্ডে সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেয় না। এ ক্ষেত্রে তিনি প্রধানমন্ত্রীর ‘জিরো টলারেন্স ফর টেরোরিজম’ ও ‘বাংলাদেশ নট এ হাব অফ টেরোরিস্ট’ নীতির কথা তুলে ধরেন।

দূতাবাস জানায়, রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তসহ আশপাশের এলাকায় উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য মিয়ানমার এবার আরাকান আর্মির পাশাপাশি রাখাইনের সশস্ত্র সংগঠন আরসা দায়ী।

তারা বলেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান ‘আন্তরিক সম্পর্ক’ নষ্ট করার স্বার্থে এই দুই পক্ষ মিলে সীমান্ত এলাকায় চলমান পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।

রাষ্ট্রদূত মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরীর সঙ্গে আলোচনায় নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কৌশলগত অধ্যয়ন ও প্রশিক্ষণ বিভাগের মহাপরিচালক জ ফিউ উইন এমনটা বলেন।

সোমবার রাতে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের ফেসবুক পেজে এই বৈঠকের তথ্য প্রকাশ করেছে।

রাষ্ট্রদূত মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মিয়ানমারের পক্ষ থেকে জ ফিউ উইন বলেছেন, আরসাকে সঙ্গে নিয়ে আরাকান আর্মি গত ১৬ সেপ্টেম্বর তংপিউ (বাম) বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) ৩১ নম্বর সীমান্ত ফাঁড়িতে মর্টারের গোলা দিয়ে হামলা চালায়। ওই হামলার সময় তিনটি মর্টারের গোলা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে পড়েছিল। এর পাশাপাশি আরাকান আর্মি ও আরসা ১৬ এবং ১৭ সেপ্টেম্বর তংপিউ (ডান) বিজিপির ৩৪ নম্বর সীমান্ত ফাঁড়িতে মর্টারের গোলা নিয়ে পৃথক হামলা চালায়। এ সময় ৯টি মর্টারের গোলা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পড়ে।’

বৈঠকে জ ফিউ উইন ওই দুটি ঘটনা উল্লেখ করে দাবি করেছেন, আরাকান আর্মি ও আরসা বাংলাদেশ-মিয়ানমারের বিদ্যমান ‘আন্তরিক সম্পর্ককে’ নষ্ট করার উদ্দেশ্যে হামলাগুলো চালিয়েছে।

বৈঠকে জ ফিউ উইন আরও বলেন, ‘সীমান্তের কাছাকাছি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়ার সময় মিয়ানমার অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সব সময় দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশসহ সব দেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।’

সীমান্ত এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে মিয়ানমারের পক্ষ বাংলাদেশ পক্ষকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়ে তিনি বাংলাদেশ পক্ষ থেকে পূর্ণ ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আরাকান আর্মি ও আরসার পরিখা এবং ঘাঁটি রয়েছে— এমন তথ্য গত ৭ সেপ্টেম্বর কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে জানিয়েছিল মিয়ানমার।

সোমবারের বৈঠকে আবার সে বিষয়টি তুলে ধরেন জ ফিউ উইন। তিনি ওই ঘাঁটিগুলোর বিষয়ে তদন্তের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া এবং সেগুলো গুঁড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানান।

পরে তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে একটি অনানুষ্ঠানিক পত্র হস্তান্তর করেন।

আরও পড়ুন:
নাইক্ষ‍্যংছড়ির সীমান্ত থেকে ৩০০ পরিবার সরিয়ে নেবে প্রশাসন
মিয়ানমার উসকানি দিলেও শান্তি চায় বাংলাদেশ: লিটন
মিয়ানমারের দাবি, বাংলাদেশে গোলাবর্ষণে তারা নয়, আরাকান আর্মি
‘প্রাণ দেব, তবুও তুমব্রু ছেড়ে যাব না’
মিয়ানমারের মর্টার উসকানি কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে: কাদের

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
I have opened alliance with Jamaat BNP leader

জামায়াতের সঙ্গে জোট ওপেন করে দিয়েছি: বিএনপি নেতা

জামায়াতের সঙ্গে জোট ওপেন করে দিয়েছি: বিএনপি নেতা জাতীয় প্রেসক্লাবে একটি আলোচনায় বক্তব্য রাখছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। ছবি: নিউজবাংলা
‘যারা ধর্মীয় রাজনীতি করে তাদের সঙ্গে আমাদের নির্বাচনী জোট হয়েছিল’ উল্লেখ করে টুকু বলেন, এর অর্থ এই না যে আওয়ামী সারাজীবন বিএনপি-জামায়াত বলবে। আমরা ওপেন করে দিয়েছি। যুগপৎ আন্দোলন করব। যার যা শক্তি আছে তা নিয়ে মাঠে আসব।’

জামায়াতের সঙ্গে জোট ওপেন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি এও বলেছেন, এক সময় নির্বাচনি জোট হয়েছিল বলে সারা জীবন বিএনপি-জামায়াত বলতে হবে এমন নয়।

বিএনপির সঙ্গে জোট ভেঙে যাওয়ার বিষয়ে জামায়াতের একটি ইউনিটের রুকন সম্মেলনে দলটির আমির শফিকুর রহমান বক্তব্য রাখার পর বিএনপির কোনো নেতা এই প্রথম সরাসরি বক্তব্য রাখলেন।

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। ‘নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন নয়’ বিষয়ে এই সভার আয়োজন করে বিএনপিপন্থি সংগঠন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম।

টুকু অবশ্য কিছুদিন আগে জামায়াতের সঙ্গে জোট ত্যাগের বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে সেই বক্তব্য ছিল অনেকটাই পরোক্ষ, যার যে কোনো ব্যাখ্যা দেয়া সম্ভব।

‘যারা ধর্মীয় রাজনীতি করে তাদের সঙ্গে আমাদের নির্বাচনী জোট হয়েছিল’ উল্লেখ করে এবার টুকু বলেন, এর অর্থ এই না যে আওয়ামী সারাজীবন বিএনপি-জামায়াত বলবে। আমরা ওপেন করে দিয়েছি। যুগপৎ আন্দোলন করব। যার যা শক্তি আছে তা নিয়ে মাঠে আসব।‘

১৯৭১ সালে পাকিস্তানের পক্ষে অস্ত্র ধরা জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির জোট চলছে সেই ১৯৯৯ সাল থেকে। সম্প্রতি ধর্মভিত্তিক দলটি আমির শফিকুর রহমান একটি রুকন সম্মেলনে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে দলের কর্মীদেরকে জানান, বিএনপির সঙ্গে তাদের জোট ভেঙে গেছে। দুই দল যুগপৎ আন্দোলন করবে, কিন্তু জোটে আর নেই।

জামায়াতের সঙ্গে জোট ওপেন করে দিয়েছি: বিএনপি নেতা
বিএনপির সঙ্গে জামায়াত যে আর জোটবদ্ধ নয়, সেটি আগস্টের শেষে দলটির একটি ইউনিটের রুকন সম্মেলনে জানান দলটির আমির শফিকুর রহমান। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য আসছিল না

আগস্টের শেষে কুমিল্লার একটি ইউনিটের রুকন সম্মেলনে ভার্চুয়াল আলোচনায় জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা এতদিন একটা জোটের সঙ্গে ছিলাম। আপনারা ছিলাম শুনে হয়তো ভাবছেন কী হয়েছে এখন। হ্যাঁ, হয়ে গেছে। ২০০৬ সাল পর্যন্ত এই জোট দেশের জন্য উপকারী একটা জোট ছিল। ৬ সালের ২৮ অক্টোবর এই জোট তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। এবং সেদিন বাংলাদেশ পথ হারিয়েছে। তার পরে আর ফিরে আসেনি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বহু চিন্তা করে দেখেছি, এর পর থেকে এই জোট বাংলাদেশের জন্য আর উপকারী জোট নয়।’

তবে বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য আসছিল না। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি কিছু বলবেন না। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এও বলেন, এ নিয়ে কিছু না বলা তার গণতান্ত্রিক অধিকার।

জামায়াত ও বিএনপিকে একসঙ্গে উচ্চারণ করায় আওয়ামী লীগ নেতাদের সমালোচনা করেন টুকু। তিনি বলেন, ‘আজকে আমরা দীর্ঘদিন ধরে দেখেছি, আওয়ামী লীগ বিএনপিকে হাইফেন যুক্ত করে ফেলেছে। গতকালও দেখলাম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, জামায়াত-বিএনপি। কিন্তু বিএনপি অন্য একটা আদর্শের দল। তাদের সঙ্গে (জামায়াত) যুক্ত করার কিছু নেই। আমরা একটি গণতান্ত্রিক দল।’

জামায়াতের সঙ্গে জোট ওপেন করে দিয়েছি: বিএনপি নেতা
১৯৯৯ সালে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপি যখন জোট করে, সে সময় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদও তাতে যোগ দেন। পরে এরশাদ সরে গেলে দলটিতে ভাঙন দেখা দেয়

বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের পরিকল্পনা নিয়ে দলটির শীর্ষ এই নেতা বলেন, ‘জোট করে সবাইকে এক সঙ্গে নেয়া যায় না। এখানে কিছু প্রতিবন্ধকতা থাকে। আমরা ২০১৮ সালে তা দেখেছি। অমুক আছে, তমুক নেই। সেটা উপলব্ধি করে তারেক রহমান বলেছেন, যুগপৎ আন্দোলন করব। এই যুগপৎ আন্দোলনের মাধ্যমে যে প্রতিবন্ধকতা ছিল সেটা উঠে গেছে। এখন আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সেই রাজপথে আন্দোলন করব। এবার জয় লাভ করব।’

সরকার ক্ষমতা হারানোর ভয়ে ভীত বলে মনে করেন টুকু। বলেন, ‘আন্দোলনের শুরুতে আমাদের পাঁচজনকে গুলি করে হত্যা করল। আমাদের জীবনে দেখি নাই আন্দোলনের শুরুতে ৫ জনকে জীবন দিতে হয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে কোথাও নেই।’

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও আয়োজক সংগঠনের সংগঠনের সভাপতি শ্যামা ওবায়েদ।

আরও পড়ুন:
সহিংসতা মামলায় জামায়াত নেতা শামসুল গ্রেপ্তার
উত্তর দেব না, যা খুশি লেখেন, জামায়াতের জোটত্যাগ নিয়ে ফখরুল
ভিন্ন নামে এলেও জামায়াতের ‘নিবন্ধন পাওয়ার সুযোগ নেই’
বিএনপির ওপর জামায়াত নাখোশ ‘তিন কারণে’
বিএনপিকে ‘ছেড়ে গেছে’ জামায়াত, মন্তব্য নেই ফখরুলের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Hilsa fishing has been stopped in Padma Meghna from today

পদ্মা-মেঘনায় আজ থেকে ইলিশ ধরা বন্ধ

পদ্মা-মেঘনায় আজ থেকে ইলিশ ধরা বন্ধ ইলিশ শিকার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শাখা নদীতে জাল ও নৌকা ভিড়িয়ে রেখেছে জেলেরা। ছবি: নিউজবাংলা
চাঁদপুরে পদ্মা ও মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটার এলাকাকে ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন এখানে ইলিশ শিকার বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। এ সময়কালে মাছ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, মজুত ও পরিবহন বন্ধ থাকবে।

চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর অভয়াশ্রম এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে ইলিশ শিকার বন্ধ হয়ে গেছে। পদ্মা-মেঘনার ৭০ কিলোমিটার জুড়ে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন ইলিশ শিকার বন্ধ থাকবে। এ সময়কালে মাছ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, মজুত ও পরিবহন বন্ধ থাকবে।

মাছ ধরা থেকে বিরত থাকার জন্য চাঁদপুর জেলার ৪৪ হাজার ৩৫ জন জেলেকে খাদ্য সহায়তা হিসেবে ২০ কেজি চাল দেয়া হবে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত পদ্মা ও মেঘনা নদীর প্রায় ৭০ কিলোমিটার জুড়ে ইলিশ শিকার বন্ধ থাকবে। এই সময়ে নদীতে জেলা প্রশাসন, জেলা মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশ পৃথকভাবে অভিযান পরিচালনা করবে।

চাঁদপুর নৌ থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান জানান, ইলিশ প্রজনন রক্ষায় ২২ দিনের এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে তৎপর নৌ পুলিশ। আমাদের থানা পুলিশ ছাড়াও এ বছর অভয়াশ্রম এলাকায় নৌ পুলিশের সদস্যরা নদীতে টহলে দেবেন।’

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মেহেদী হাসান জানান, ইলিশ প্রজনন রক্ষায় সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে জেলা টাস্কফোর্সের সভা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ নদীতে ইলিশ শিকার করলে এক থেকে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান বলেন, ‘ইলিশ সাগরের মাছ হলেও ডিম ছাড়ার সময়ে উপকূলীয় মোহনার নদ-নদী ও পদ্মা-মেঘনায় চলে আসে।

‘অক্টোবর মাসের আশ্বিন কিংবা অমাবস্যার সময়টাকে ইলিশ প্রজননের জন্য বেছে নিয়ে থাকে। ২২ দিনের এই নিষেধাজ্ঞার সময়ে মা ইলিশ নিরাপদভাবে ডিম ছেড়ে যেতে পারলে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ উৎপাদন বজায় থাকবে। তাতে করে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে ৬ লাখ টন।’

আরও পড়ুন:
৭ অক্টোবর থেকে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা
ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধে আইনি নোটিশ
বাংলাদেশের উপহারের ইলিশের দাম কত কলকাতার বাজারে
বাংলাদেশের উপহারের ইলিশ ভারতের বাজারে মঙ্গলবার
দুর্গাপূজার প্রথম চালানে ভারত গেল ১৬ টন ইলিশ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
No invitation to tea nothing to do if you dont vote

‘ভোটে না এলে কিছু করার নেই’

‘ভোটে না এলে কিছু করার নেই’ সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: বাসস
প্রধানমন্ত্রী মাঝে বলেছিলেন, বিরোধী দল চাইলে গণভবনে চায়ের আমন্ত্রণে আসতে পারে। সেই প্রসঙ্গটি তুলে ধরে একজন গণমাধ্যমকর্মী জানতে চান, নির্বাচন সামনে রেখে বিরোধী দলগুলোকে এবার চায়ের আমন্ত্রণ জানানো হবে কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে একটু চিন্তা করতেই হবে। অনেকে আসবেও না, আসতেও পারবে না। এটা একটা সমস্যা।’

চলমান করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধীদলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসার সুযোগ নেই বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এমনকি কয়েক মাস আগে বিরোধীদেরকে গণভবনে যে চায়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, সেটিও আর নেই বলে ইঙ্গিত দিলেন তিনি।

নির্বাচনে অংশ নেয়া, না নেয়া প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব সিদ্ধান্ত জানিয়ে তিনি বলেছেন, সেখানে কিছু চাপিয়ে দেয়া যায় না, কিছু করারও থাকে না। আর ‘খুঁটির জোর’ ও জনসমর্থন না থাকায় বিএনপি বিদেশিদের কাছে ধরনা দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছেন সরকারপ্রধান।

গণভবনে বৃহস্পতিবার বিকেলে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বিদেশ সফর করলে বরাবর সাংবাদিকদেরকে ব্রিফ করেন। সেই ব্রিফিংয়ে সফরের বিষয়ে একটি সাধারণ বিবৃতি থাকে। এরপর থাকে প্রশ্নোত্তর পর্ব। এই পর্বে আর্থ-সামাজিক বা রাজনৈতিক সবশেষ পরিস্থিতির সম্পর্কে সরকার প্রধানের বক্তব্য উঠে আসে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

অন্যান্য অনেক প্রশ্নের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয় আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির অবস্থান নিয়ে, যারা নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের অধীনে না হলে ভোটে না আসার ঘোষণা দিয়ে রেখেছে।

১৯৯৬ থেকে তিনটি জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হলেও গত দু্টি নির্বাচন হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্বে থাকাকালে।

২০০৯ উচ্চ আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করলে নির্বাচিত সরকারের অধীনে ভোটের পদ্ধতি ফিরিয়ে আনে জাতীয় সংসদ।

এর প্রতিবাদে ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন বর্জন করে আন্দোলনে যায় বিএনপি ও শরিকরা। তবে নির্বাচন ঠেকানো যায়নি। ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগেও আন্দোলনের ঘোষণা দিলেও বিএনপি ও তার জোট শেষ পর্যন্ত ভোটে আসে এবং ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে ফল করে।

সেই নির্বাচনে আগের রাতে ভোট হয়ে যাওয়ার অভিযোগ এনে বিএনপি নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে ফিরে গেছে। এর অংশ হিসেবে গত ২২ আগস্ট থেকে ধারাবাহিক নানা কর্মসূচি পালন করছে।

চায়ের আমন্ত্রণ কি আছে?

প্রধানমন্ত্রী মাঝে বলেছিলেন, বিরোধী দল চাইলে গণভবনে চায়ের আমন্ত্রণে আসতে পারে। সেই প্রসঙ্গটি তুলে ধরে একজন গণমাধ্যমকর্মী জানতে চান, নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী দলগুলোকে এবার ‘চায়ের আমন্ত্রণ’ দেয়া হবে কি না।

জবাবে তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে একটু চিন্তা করতেই হবে। অনেকে আসবেও না, আসতেও পারবে না। এটা একটা সমস্যা।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করলেও তার অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নাখোশ, তা বোঝা গেল তার কথায়।

তিনি বলেন, ‘গতবার যে সবার সঙ্গে বৈঠক করলাম, আলোচনা করলাম একটা নির্বাচন, নির্বাচনে এসে দেখা গেল ৩০০টিতে ৭০০ নমিনেশন দিয়ে যখন নিজেরা হেরে গেল, তখন সব দোষ কার, আমাদের।’

‘নির্বাচনে আসার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারি না’

আগের কথার রেশ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দ্বিতীয় কথা হচ্ছে যে, আর নির্বাচন হলে রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্ত কে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে, কে করবে না। সেখানে আমরা কিছু চাপিয়ে দিতে পারি না। রাজনীতি করতে হলে দলগুলো নিজের সিদ্ধান্ত নেবে।’

তবে সব দল নির্বাচনে অংশ নেবে বলে- এটাই নিজের চাওয়া বলে জানান সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা অবশ্যই চাই যে সবদল অংশগ্রহণ করুক। কারণ এতদিন কাজ করার পর নিশ্চয়ই আমরা চাইব যে সবাই আসুক।’

দেশের জনগণের কাছে বিএনপির ভোট চাওয়ার মুখটাও নেই বলেও মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ প্রধান। বলেন, ‘তারা আর কোন মুখে জনগণের কাছে ভোট চাইতে যাবে? আগুন দিয়ে পোড়ানো, মানুষ খুন করা, বোমা মারা, গ্রেনেড মারা-সব জায়গাতে তো আছে। তারা যদি সামনে এসে দাঁড়ায়, ভোট চাইতে আসছেন, আমার এই অবস্থা। কী জবাব দেবে বিএনপি? এজন্যই বিদেশিদের কাছে ধরনা দিয়ে বেড়ায়। দেশের মানুষের কাছে যায় না।’

আন্দোলনে বাধা নেই

গত জুলাই থেকে বিএনপির নানা কর্মসূচিতে পুলিশের গুলিতে পাঁচ জনের মৃত্যু ও অনেক নেতা-কর্মী আহত হলেও প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, বিএনপির আন্দোলনে সরকার কোনো বাধা দিচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘আমরা তো বাধা দিচ্ছি না। আমরা তো বলছি আন্দোলন করেন, সংগ্রাম করেন, যত আন্দোলন করবে তত ভালো। করে না তো, কী করব?’

ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরবর্তী বছরই তো ইলেকশন। নির্বাচনের প্রস্তুতিও আমরা এখন থেকে নিচ্ছি। আমাদের দল বোধ হয় বাংলাদেশে একটি মাত্র দল আমরা আমাদের গঠনতন্ত্র মেনে চলি। প্রতিটি ক্ষেত্রে গঠনতন্ত্র মোতাবেক আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত নিই।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘আমাকে নিয়ে লেখালেখির এত দরকার নেই। আমি জনগণের সেবা করতে এসেছি। আমার বাবা দেশটা স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন, তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করাই আমার লক্ষ্য। আমার নিজের তো চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। আমার দেশের মানুষের জন্য কতটুকু কী করতে পারলাম, কতটুকু দিতে পারলাম, এটাই হচ্ছে আমার সব থেকে বড় পাওয়া।’

‘ভোট চুরি করে আ.লীগ ক্ষমতায় আসেনি, আসবেও না’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অন্তত আওয়ামী লীগ কখনও ভোট চুরি করে ক্ষমতায় আসবেও না, আসেও নি। আওয়ামী লীগ কিন্তু জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েই ক্ষমতায় এসেছে।’

জনগণের জন্য কাজ করে, জনগণের মন জয় করে, জনগণের ভোট নিয়েই আওয়ামী লীগ বারবার ক্ষমতায় এসেছে বলে জানান তিনি। বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কখনও কোনো মিলিটারি ডিক্টেটরের পকেট থেকে বের হয়নি। ইমার্জেন্সি দিয়ে কারও ক্ষমতা দখল করেও কিন্তু আওয়ামী লীগ কখনও ক্ষমতায় আসেনি। আওয়ামী লীগ যতবার ক্ষমতায় এসছে, ভোটের মাধ্যমেই এসেছে, নির্বাচনের মাধ্যমেই এসেছে।

‘এদেশে নির্বাচনের যতটুকু উন্নতি, যতটুকু সংস্কার এটা কিন্তু আওয়ামী লীগ ও সবাইকে নিয়ে মহাজোট করেই কিন্তু করে দিয়েছি। এরপর যদি কেউ না আসে, সেখানে আমাদের কী করণীয়? হারার ভয়ে আসব না, বা কিছু বা একেবারে লোকমা তুলে খাইয়ে দিতে হবে, তবেই আসব, এটা তো হয় না।’

‘সেনাশাসনে জন্ম হওয়া বিএনপি জনগণের কাছে যেতে ভয় পায়’

সামরিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিএনপির জন্ম জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মিলিটারি ডিক্টেটররা এভাবে করেছে। যাদের এই অভ্যাস, তারা তো জনগণের কাছে যেতেই ভয় পায়। জনগণের সামনে ভোট চাইতেই ভয় পায়, এটা বাস্তবতা। অগ্নিসন্ত্রাস করে যারা মানুষ হত্যা করেছে, তাদেরকে কী মানুষ ভোট দেবে? কখনও দিতে পারে না। সে পোড়া ঘা তো এখনও শুকায়নি। এখনও তো কষ্ট পাচ্ছে, গ্রেনেড হামলায় যারা আহত।’

খুঁটির জোর আর জনসমর্থন নেই বলেই বিএনপি জনগণের কাছে না গিয়ে বিদেশিদের কাছে দৌড়ে বেড়াচ্ছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি ভুলে গেছে তাদের অতীতের কথা। বিএনপির সৃষ্টি যেভাবে, একটা মিলিটারি ডিক্টেটরের পকেট থেকে বিএনপির সৃষ্টি। আর নির্বাচনের যে প্রহসন, সেটাও তাদের সৃষ্টি, তারা তৈরি করেছে। বরং নির্বাচনটাকে আমরা জনগণের কাছে নিয়ে গেছি।’

বিভিন্ন দূতাবাসের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যদি মাটিতে জোর থাকত, নিজের দেশের মাটিতে যদি তাদের সে রকম সমর্থন থাকত, আর ওই যে বলে না খুঁটিতে যদি জোর থাকত, অর্থাৎ নিজের শেকড়ের জোরটা যদি এখানে থাকত তাহলে তো বিদেশে ধরনা দেয়ার দরকার হতো না।

‘জনসমর্থন থাকলে, জনগণের ওপর আস্থা থাকলে, বিশ্বাস থাকলে জনগণের কাছেই যেত। বিদেশের কাছে দৌড়ে বেড়াত না, এটাই হলো বাস্তবতা।’

আরও পড়ুন:
র‌্যাব তো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শে, ট্রেনিংও তাদের: প্রধানমন্ত্রী
বিশ্বে দুর্ভিক্ষের শঙ্কা, দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী: প্রধানমন্ত্রী
বিদায় নেয়ার জন্য প্রস্তুত আমি: শেখ হাসিনা
সব ধর্মকে সম্মান দেখাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
RAB has been trained on the advice of the United States Prime Minister

র‌্যাব তো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শে, ট্রেনিংও তাদের: প্রধানমন্ত্রী

র‌্যাব তো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শে, ট্রেনিংও তাদের: প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: বাসস
‘র‌্যাবের ওপরে তারা যখন স্যাংশন দিল, আমার প্রশ্নটা হচ্ছে র‌্যাব সৃষ্টি করেছে কে? র‌্যাব সৃষ্টি তো আমেরিকার পরামর্শ। আমেরিকা র‌্যাব সৃষ্টি করার পরামর্শ দিয়েছে। আমেরিকা তাদের ট্রেনিং দেয়। তাদের অস্ত্রশস্ত্র, তাদের হেলিকপ্টার, এমনকি তাদের ডিজিটাল সিস্টেম, আইসিটি সিস্টেম-সবই আমেরিকার দেয়া।’

যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শেই র‌্যাব গঠন করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাদের দেয়া প্রশিক্ষণ অনুযায়ী র‌্যাব তার কার্যক্রম পরিচালনা করে।

বাংলাদেশে সন্ত্রাস দমনে র‌্যাব বিশেষ ভূমিকা রাখায় যুক্তরাষ্ট্র ‘নাখোশ’ হয়েছে কিনা, সে প্রশ্নও তুলেছেন সরকারপ্রধান।

গণভবনে বৃহস্পতিবার বিকেলে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘র‌্যাবের ওপরে তারা যখন স্যাংশন দিল, আমার প্রশ্নটা হচ্ছে র‌্যাব সৃষ্টি করেছে কে? র‌্যাব সৃষ্টি তো আমেরিকার পরামর্শ। আমেরিকা র‌্যাব সৃষ্টি করার পরামর্শ দিয়েছে। আমেরিকা তাদের ট্রেনিং দেয়। তাদের অস্ত্রশস্ত্র, তাদের হেলিকপ্টার, এমনকি তাদের ডিজিটাল সিস্টেম, আইসিটি সিস্টেম-সবই আমেরিকার দেয়া।’

একজন গণমাধ্যমকর্মী সরকার প্রধানের কাছে প্রশ্ন রাখেন সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে কোনো টানাপড়েন চলছে কি না। গণতন্ত্র সম্মেলনে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ না জানানো, র‌্যাবের ওপর দেশটির নিষেধাজ্ঞাসহ নানা প্রসঙ্গ তুলে ধরে এই প্রশ্ন রাখেন সেই গণমাধ্যমকর্মী।

পরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমেরিকা যখন স্যাংশন দেয় বা কোনো কথা বলে, বা অভিযোগ আনে, আমার একটাই কথা, যেমন আপনারা ট্রেনিং দিয়েছেন, তেমন তারা কার্যক্রম করেছে। এখানে আমাদের করার কী আছে? আপনাদের ট্রেনিংটা যদি একটু ভালো হতো, তাহলে না কথা ছিল।’

র‌্যাব তো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শে, ট্রেনিংও তাদের: প্রধানমন্ত্রী
এলিট ফোর্স র‌্যাবের বিভিন্ন কাজের সমালোচনা করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। ফাইল ছবি

‘আমরা শাস্তি দেই, যুক্তরাষ্ট্র দেয় না’

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্য অপরাধ করলে বাংলাদেশে তার শাস্তির বিধান থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে তেমন নজির নেই বলেও দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা সে র‌্যাব হোক, পুলিশ হোক, আর্মি হোক, যে হোক, কেউ যদি অপরাধ করে তার কিন্তু বিচার হয়। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আপনারা দেখেছেন পুলিশ ইচ্ছা মতো গুলি করে মারলেও তাদের কিন্তু সহসা বিচার হয় না।

‘শুধু একটা বিচার হলো, আমেরিকার লোক সবাই যখন আন্দোলনে নামল, তখন ওই একটা বিচারই বোধ হয় তারা সারাজীবনে করতে পেরেছে। তা না হলে তো তারা কথায় কথায় গুলি করে মেরে ফেলে দেয়।

‘একটা বাচ্চা পকেটে হাত দিল, গুলি করে মেরে ফেলে দিল। একটা খেলনা পিস্তল নিয়ে তাকে মেরে ফেলে দিল। আমাদের কতজন বাঙালি মারা গেছে, সেখানে কিন্তু তারা কিছু বলেনি। সেই কথাগুলো আমি স্পষ্ট তাদেরকে বলেছি। আমি কিন্তু বসে থাকিনি। আমি মনে করি এটা আমাদের বলার কথা।’

‘যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদের নিয়ে চিন্তা করা উচিত’

অন্য এক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

তিনি বলেন, ‘স্যাংশন তারা কতোটুকু তুলবে জানি না। তবে স্যাংশন দিয়ে তারা ক্ষতি যতটা করেছে, আমরা যাদের দিয়ে এ দেশে সন্ত্রাস দমন করেছি, তাদের ওপর স্যাংশন দেয়ার অর্থটা কী? সন্ত্রাসীদের মদদ দেয়া?

‘আমার এটাও প্রশ্ন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে, তাহলে কী সন্ত্রাস দমনে তারা নাখোশ? ৪০ বছর ধরে আফগানিস্তানে তালেবানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, সেই তালেবানের হাতে ক্ষমতা দিয়ে ভেগে চলে আসল আমেরিকার সৈন্যরা।’

যুক্তরাষ্ট্র ‘নিজেদের ব্যর্থতা’ স্বীকার করে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভিয়েতনামে ৩০ বছর যুদ্ধ করল, বাংলাদেশে পাকিস্তানিদের মদদ দিল, সেভেন ফ্লিট পাঠাতে চাইল। আমরা কিন্তু আমাদের দেশ স্বাধীন করেছি। তাদের নিজেদের চিন্তা নিজেদের করা উচিত।

‘এখন ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধে সমানে মদদ দিয়ে যাচ্ছে, স্যাংশন দিচ্ছে। স্যাংশন দিয়ে কার ক্ষতি হচ্ছে? সাধারণ মানুষের ক্ষতি হচ্ছে। কথায় কথায় একটা দেশ আরেকটা দেশকে স্যাংশন দেয় এটা কেমন কথা?’

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়— আমরা এই নীতিতে বিশ্বাস করি। রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে সমস্যা থাকতে পারে, থাকে। কিন্তু কারও সঙ্গে আমরা ঝগড়া বিবাদে যাই না। যুক্তরাষ্ট্র সময়ে সময়ে আমাদের ওপর নানা ধরনের স্যাংশন, অথবা একসময় জিএসপি বাদ দিল, নানা রকমের ঘটনা ঘটায়।’

গুম প্রসঙ্গে মরিয়ম মান্নান, ফরহাদ মজহারের কথা স্মরণ

বিরোধীরা সরকারের বিরুদ্ধে যে গুমের অভিযোগ আনেন, সেটি নিয়েও কথা বলেন শেখ হাসিনা। বলেন, ‘কয়েকটা আন্তর্জাতিক সংস্থা খুব উৎফুল্ল, গুম-খুন, গুম-খুন, গুম-খুন। গুমের হিসাব যখন বের হতে শুরু করল তখন তো দেখা গেল সব থেকে বেশি গুম জিয়াউর রহমানের আমলেই শুরু। তারপর থেকে তো চলছে। তারপর আমরা যখন তালিকা চাইলাম, ৭৬ জনের তালিকা পাওয়া গেল। আর এই ৭৬ জনের মধ্যে কী পাওয়া গেছে, সেটা আপনারা নিজেরাই ভালো জানেন।’

সম্প্রতি মাকে গুম করার দাবি তুলে পরে বিব্রতকর অবস্থায় পড়া মরিয়ম মান্নানের ঘটনাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। উঠে আসে কবি ফরহাদ মজহারের গুমের ঘটনাও, যাকে গুম করার অভিযোগ নিয়ে তোলপাড়ের পর দেখা যায়, তিনি খুলনায় রেস্টুরেন্টে বসে খাওয়াদাওয়া করছেন, এমনকি বান্ধবীকে টাকাও পাঠান মোবাইল ব্যাংকিংসেবা ব্যবহার করে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এর মধ্যে এমনও আছে, মাকে লুকিয়ে রেখে অন্যজনকে শায়েস্তা করতেও মাকে খুন করেছে, গুম করেছে, সে ঘটনাও বের হয়ে যাচ্ছে। আমি সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানাই, আপনারা খুঁজে খুঁজে সেগুলো বের করেন, আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদেরকে ধরে। কেউ বোনকে লুকিয়ে রেখে, গুম হয়েছে সেটা বলে। কেউ ঢাকা থেকে চলে গেলেন খুলনা। বলা হলো তাকে গুম করা হয়েছে। দেখা গেল নিউ মার্কেটে ঘুরে বেড়াচ্ছে খুলনায়।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যে তালিকা, সে তালিকায় দেখা যাচ্ছে, ভারত থেকে পলাতক কিছু আসামি, তাদের নামও সেই তালিকায়। এটা কেমন করে হয়?’’

গুমের তালিকায় কোনো কোনো নাম আমেরিকায় লুকিয়ে আছে বলেও দাবি করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘সে রকমও তথ্য আছে। বিষয়গুলো তাদের সামনে তুলে ধরেছি, এই যে গুম গুম করেন আগে দেখেন সেটা কী কারণে?’

এসময় সংবাদকর্মীদের ওপও ক্ষোভ ঝাড়েন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘গুমের ঘটনা যখনই ঘটে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের খুঁজে বের করে। সেই নিউজটা আসেই না বা পত্রিকায়ও আপনারা সেটা বড় করে দেখান না। গুমটা যত বড় করে দেখান, গুমটা যখন উদ্ধার হয়, ওটা যদি সমানভাবে দেখাতেন তাহলে তো বাংলাদেশের এই বদনামটা হতো না।’

অপপ্রচারের অভিযোগ

দেশের কিছু মানুষের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগও আনেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘তারা যেসব স্টেটে থাকে সেখানকার স্থানীয় সিনেটর, কংগ্রেসম্যান, তাদের কাছে নানা রকম বানোয়াট মিথ্যা তথ্য দিয়ে থাকে। দিয়ে দিয়ে একটা পরিবেশ সৃষ্টি করে।

‘আর সেই সঙ্গে দেশের বদনাম করে। যারা করে তারা নিজেরা একেকটা অপকর্ম করে কিন্তু দেশ ছাড়া। কোনো না কোনো অপরাধে তারা অপরাধী অথবা চাকরিচ্যুত।’

মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ও স্বাধীনতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধীদের সন্তান ও তাদের প্রজন্মরাও এসব অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত বলেও অভিযোগ করেন শেখ হাসিনা।

যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই

জাতিসংঘেও যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরার বিষয়টি নিয়েও কথা বলেন তিনি। বলেন, ‘আমি কিন্তু আমার বক্তৃতায় এ কথা স্পষ্টভাবে বলে আসছি, এটাও বলেছি এ যুদ্ধ থামাতে হবে। শুধু অস্ত্র প্রতিযোগিতা আর যুদ্ধ করে শুধু অস্ত্র প্রস্তুতকারী বা বিক্রিকারী দেশ লাভবান হবে আর আমাদের মতো সাধারণ দেশের মানুষ না খেয়ে মরবে, কষ্ট পাবে, আমাদের দেশ কেন, ইউরোপের মানুষ তো কষ্টে আছে।’

দেশে দেশে যুদ্ধের প্রভাব সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ব্রিটেনে বিদ্যুতের দাম ৮০ শতাংশ বাড়িয়েছে। আমি যদি ৪০ পার্সেন্ট বৃদ্ধি করি আপনারা কেমনভাবে চিল্লাবেন? একটা উন্নত দেশ, তাদের সবকিছুই বিদ্যুতে, বাড়ির দরজাও খুলে বিদ্যুতে, চুলাও জ্বলে বিদ্যুতে সবই, আমাদের তো এখনও তা না। আমেরিকারও একই অবস্থা। প্রত্যেকটা জিনিসের দাম বেড়েছে।’

ইউরোপ কয়লা নিয়ে এত কথা বলেও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ফিরে গেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আমাদের ওপরেই প্রচণ্ড চাপ। অনেক কথা শুনতে হয়েছে। আমি তো কোনো চাপের কাছে মাথানত করিনি। যেটা আমার প্রয়োজন সেটা আমি করব। হ্যাঁ তাতে আমার দেশের এনভায়রনমেন্ট নষ্ট না হয়, সে ব্যাপারে আমি সচেতন। সেটা যে হচ্ছে না, তার প্রমাণও আমি দিয়েছি। আন্তর্জাতিক বহু ফোরামে এটা নিয়ে তর্ক হয়েছে। এখন পেলে জিজ্ঞেস করতাম, এখন আপনারা কী বলবেন, সেই আদিযুগেই তো ফিরতে হলো?’

আরও পড়ুন:
বিশ্বে দুর্ভিক্ষের শঙ্কা, দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী: প্রধানমন্ত্রী
বিদায় নেয়ার জন্য প্রস্তুত আমি: শেখ হাসিনা
সব ধর্মকে সম্মান দেখাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
By participating in the voting the protest of the EVM will be zapar

ভোটে অংশ নিয়েই ইভিএমের প্রতিবাদ জাপার

ভোটে অংশ নিয়েই ইভিএমের প্রতিবাদ জাপার নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। ছবি: নিউজবাংলা
ইভিএম ফল উল্টে দেয়ার মতো একটা মেশিন বলে জনমনে ধারণা আছে জানিয়ে চুন্নু বলেন,' মেশিনের দোষ নেই, মেশিন যারা চালায় তাদের দোষ। কাজেই ইভিএমে নির্বাচনের বিষয়ে আমাদের সবসময়ই আপত্তি। আমরা ইভিএমে নির্বাচন চাই না। আপত্তি সত্ত্বেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ধরে রাখার জন্য এই নির্বাচনে গেলাম।’

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএমের বিরোধী হলেও এই যন্ত্রে ভোট হতে যাওয়া গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচনে অংশ নেয়ার কারণ জানিয়েছে সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিবাদের অংশ হিসেবেই এই ভোটে অংশ নিচ্ছে তারা।

বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু।

তিনি বলেন, ‘আমরা ইভিএমের নির্বাচনের পক্ষে না। গাইবান্ধা-৫ উপনির্বাচনটা ইভিএমে হবে। কিন্তু আমাদের পার্টির কালচার আছে আমরা নির্বাচন বর্জন করি না। নির্বাচন বর্জন করাকে আমরা মনে করি গণতন্ত্রকে ব্যাহত করা। তাই আমরা প্রতিবাদ হিসেবে সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি।

‘আমরা বলছি, এই নির্বাচনটা যদি ফেয়ার করতে পারেন, মানুষের কিছুটা আস্থা আসতে পারে। নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য করতে কী কী পদক্ষেপ নেবেন সেই বিষয়ে আমরা তাদের বলেছি। তারাও আমাদের বলেছে।’

ইভিএম ফল উল্টে দেয়ার মতো একটা মেশিন বলে জনমনে ধারণা আছে জানিয়ে চুন্নু বলেন,' মেশিনের দোষ নেই, মেশিন যারা চালায় তাদের দোষ। কাজেই ইভিএমে নির্বাচনের বিষয়ে আমাদের সবসময়ই আপত্তি। আমরা ইভিএমে নির্বাচন চাই না। আপত্তি সত্ত্বেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ধরে রাখার জন্য এই নির্বাচনে গেলাম।

‘আগামী নির্বাচনে কী করব সেটা পরিস্থিতির ওপর সিদ্ধান্ত নেব। আমরা ভোট বর্জনের রাজনীতি করি না। তবে আগামী সংসদ নির্বাচনের পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়ার মৃত্যুতে গত ২৪ জুলাই গাইবান্ধা-৫ আসন শূন্য হয়৷ আগামী ১২ অক্টোবর এ আসনে ভোট হবে।

এই নির্বাচন ছাড়াও জাপা প্রতিনিধি দল কথা বলে আগামী ১৭ অক্টোবর হতে যাওয়া ৬১ জেলা পরিষদ নির্বাচনে। এই নির্বাচনে ভোটার হলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিজয়ী জনপ্রতিনিধিরা, যাদের সিংহভাগই নৌকা নিয়ে জয়ী হয়েছেন, কেউ কেউ দলের বিদ্রোহী নেতা।

গাইবান্ধা উপনির্বাচনের মতো জেলা পরিষদ নির্বাচনও বর্জন করেছে বিএনপি। তবে অংশ নিচ্ছে জাতীয় পার্টি।

জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে চুন্নু বলেন, ‘গাইবান্ধা জেলা পরিষদে অনেক এমপিরা তাদের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রচারণা করছেন। নির্বাচনকাজে বাধা দেয়ার জন্য আওয়ামী লীগের লোকেরা আমাদের প্রার্থীদের গাড়ি ভাঙচুর করেছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রার্থীদের হুমকি দেয়া হচ্ছে। তারা বলছে জোর করে ভোট নিয়ে নেবেন। যারা জাতীয় পার্টির এজেন্ট হবে তাদের এলাকায় থাকতে দেয়া হবে না।’

ভোটে সব কেন্দ্রে সিসিটিভির ক্যামেরার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন বলেও জানান জাপা নেতা।

সিইসি কী বলেছেন, জানতে চাইলে চুন্নু বলেন, ‘তারা বলেছেন ভয় ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে, সৎ থেকে ভালো নির্বাচন দেয়ার মতো মানসিকতা আছে, ইচ্ছা আছে। সেই ইচ্ছার প্রতিফলনটা জেলা পরিষদ নির্বাচন এবং গাইবান্ধা ভোটে দেখতে চাই।

‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার আমাদের বলেছেন, তারা আচরণবিধি ভঙ্গের বিষয়ে খুবই অনড় ও শক্ত অবস্থানে আছেন। সিইসি বলেছেন, এখন পর্যন্ত সংসদের উপনির্বাচনে সিসিটিভি ব্যবহার করার কথা রয়েছে। তবে জেলা পরিষদ নির্বাচনে সিসিটিভি ব্যবহারের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামী কমিশন সভায় জেলা পরিষদ নির্বাচনে সিসিটিভির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।’

আরেক প্রশ্নে চুন্নু বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে আজকে পর্যন্ত কোনো নির্বাচন শতভাগ ফেয়ার হয়েছে বলে কেউ বলতে পারবে না। সব নির্বাচনেই কম-বেশি হয়েছে। যখন যেই দল নির্বাচনে জিতে তখন তারা বলে নির্বাচন ফেয়ার হয়েছে এবং বাকিরা বলে নির্বাচন ফেয়ার হয়নি।

‘আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রমাণ করেছে যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও নির্বাচন ফেয়ার হয় না। জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে আমরা বলছি, বর্তমান সিস্টেমে নির্বাচন ফেয়ার করা সম্ভব না। একমাত্র নির্বাচন সিস্টেম যদি পরিবর্তন করা হয়, যদি আনুপাতিক হারে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয় তাহলেই শতভাগ ফেয়ার নির্বাচন করা সম্ভব। তবে আমরা চাই বেশিরভাগ নির্বাচন ফেয়ার হোক।'

আরও পড়ুন:
এত টাকায় ইভিএম না কিনে কোটি মানুষকে সহায়তা করুন: জাপা
এবার জাপা চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জিয়াউল মৃধাকে অব্যাহতি
জাপা চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হলেন তাপস
জাতীয় পার্টি কি আবার ভাঙবে
জাতীয় নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে: জাপানি রাষ্ট্রদূত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
I am ready to leave Sheikh Hasina

বিদায় নেয়ার জন্য প্রস্তুত আমি: শেখ হাসিনা

বিদায় নেয়ার জন্য প্রস্তুত আমি: শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সফর নিয়ে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: বাসস
‘ক্ষমতায় আমরা একটানা ছিলাম বলে আমরা উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছি। আমার লক্ষ্য ছিল ২০২০ সালের জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী, ২০২১ সালের দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং সুবর্ণজয়ন্তীতে কিন্তু আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। এখন বিদায় নেয়ার জন্য আমি প্রস্তুত।’

বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাওয়ার মধ্য দিয়ে নিজের দায়িত্ব শেষ হয়েছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন এখন তিনি বিদায় নেয়ার জন্য প্রস্তুত।

আওয়ামী লীগের আগামী জাতীয় সম্মেলনে একজন কাউন্সিলরও যদি আপত্তি তোলেন তিনি আর নেতৃত্বে থাকবেন না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন।

যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে গণভবনে বৃহস্পতিবার বিকেলে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় আমরা একটানা ছিলাম বলে আমরা উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছি। আমার লক্ষ্য ছিল ২০২০ সালের জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী, ২০২১ সালের দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং সুবর্ণজয়ন্তীতে কিন্তু আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। এখন বিদায় নেয়ার জন্য আমি প্রস্তুত।’

পরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের একজন কাউন্সিলর যদি বলে যে আমাকে চায় না, আমি কোনোদিনও থাকব না। এটা যেদিন থেকে আমার অবর্তমানে আমাকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট করেছিল, তখন থেকে এই শর্তটা মেনে যাচ্ছি।’

ব্রিটেনের রানি এলিজাবেথের শেষকৃত্যে যোগ দিতে যুক্তরাজ্য এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন। গত ৪ অক্টোবর রাতে তিনি দেশে ফেরেন।

শেখ হাসিনা বিদেশ সফর করলে বরাবর সাংবাদিকদেরকে ব্রিফ করেন। সেই ব্রিফিংয়ে সফরের বিষয়ে একটি সাধারণ বিবৃতি থাকে। এরপর থাকে প্রশ্নোত্তর পর্ব। এই পর্বে আর্থ-সামাজিক বা রাজনৈতিক সবশেষ পরিস্থিতির সম্পর্কে সরকার প্রধানের বক্তব্য উঠে আসে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

আওয়ামী লীগের আগামী জাতীয় সম্মেলন নিয়ে এক প্রশ্নে আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন, নতুন নেতৃত্বকে স্বাগত জানাতেও প্রস্তুত তিনি। বলেন, ‘এটা ঠিক, দীর্ঘ দিন হয়ে গেছে। আমি চাই নতুন নেতৃত্ব আসুক। নেতৃত্ব কাউন্সিলররা সাধারণত ঠিক করে, নির্বাচিত করে। কাউন্সিলরদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আমার তো আসলে সময় হয়ে গেছে।’

স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা পাওয়ার বিষয়টিও ওঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে। কিন্তু জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর বাংলাদেশের গণতন্ত্রহীনতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অনেক চড়াই উৎরাই পার হয়ে আমরা গণতন্ত্র উদ্ধার করি। এখন একটানা তিনবার অর্থাৎ ২০০৮ সালের নির্বাচন থেকে শুরু করে আজকে ২০২২ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম একটানা গণতন্ত্র অব্যাহত আছে। এর মধ্যে অনেক চড়াই উৎরাই, খুন-খারাপি, অগ্নিসংযোগ থেকে শুরু করে অগ্নিসন্ত্রাসসহ নানা কিছু ঘটেছে।’

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গ্রেপ্তার যুবক কারাগারে
বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফেরানোর চেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনার জন্মদিনে ভূমিষ্ঠ শিশুদের উপহার দিল স্বেচ্ছাসেবক লীগ
প্রধানমন্ত্রী জাপান যাচ্ছেন নভেম্বরে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Think of automating the system to avoid grid disruption

গ্রিড বিপর্যয় এড়াতে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয় করার চিন্তা

গ্রিড বিপর্যয় এড়াতে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয় করার চিন্তা গ্রিড বিপর্যয়ে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর দোকানে চার্জার লাইটে চলছে ব্যবসা। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটা অস্বাভাবিক ঘটনা নয়, টেকনিক্যাল ফল্ট হতেই পারে। আমরা আস্তে আস্তে সিস্টেম অটোমেশনের দিকে যাচ্ছি। অটোমেশন হলে এ ধরনের ঘটনা কমে যাবে। ভবিষ্যতে এ ঘটনাটা আমাদের জন্য সতর্কবাণী হিসেবে কাজ করবে।’

গ্রিড বিপর্যয়ের মতো ঘটনা এড়াতে সিস্টেম অটোমেশনের (স্বয়ংক্রিয়) দিকে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘অনেক সময় অনেকগুলো ঘটনা মানুষের ঘটানো থাকে, আবার মানুষের ঘটনা থাকে না। এ বিষয়গুলো ভেরি টেকনিক্যাল। টেকনিক্যাল যে সমস্যাগুলো থাকে সেগুলো আমরা সমাধানের চেষ্টা করি। এ পর্যন্ত গ্রিড সেভাবে আনস্টেবল হয়নি। আগের তদন্তগুলো মাথায় রেখে সেই পর্যায়ে ওই জায়গাগুলো স্টেবল করার জন্য।

‘এটা অস্বাভাবিক ঘটনা নয়, টেকনিক্যাল ফল্ট হতেই পারে। আমরা আস্তে আস্তে সিস্টেম অটোমেশনের দিকে যাচ্ছি। অটোমেশন হলে এ ধরনের ঘটনা কমে যাবে। ভবিষ্যতে এ ঘটনাটা আমাদের জন্য সতর্কবাণী হিসেবে কাজ করবে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত ৪ অক্টোবর দুপুর ১টায় ১১ হাজার ১৯৮ মেগাওয়াট এবং দুপুর ২টায় ১১ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে যথাক্রমে ১০ হাজার ১৯২ মেগাওয়াট এবং ১০ হাজার ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল। কিন্তু দুপুর ২টায় জাতীয় গ্রিডে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় গ্রিডের পূর্বাঞ্চলের পুরো অংশে বিদ্যুৎ বিভ্রাট শুরু হয়। এর ফলে ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও সিলেট জোন একযোগে বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে।’

ঘটনার পরপরই বিদ্যুৎ সংযোগ পুনর্বহাল কার্যক্রম শুরু হয় জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ঘটনার ৩২ মিনিটের মধ্যে ২টায় ৩৬ মিনিটে সিরাজগঞ্জের আশুগঞ্জে ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইন এবং ২টা ৪৩ মিনিটে ঘোড়াশাল জিআইএস থেকে ঘোড়াশাল এআইএস ২৩০ কেভি লাইন চালু করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে গণভবন ও ৫টা ৪০ মিনিটে বঙ্গভবনে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা হয়। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে পিজিসিবি (পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ)।

‘রাত ৯টার মধ্যে সম্পূর্ণ পূর্বাঞ্চলের গ্রিডে বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করা হয়। রাত ৯টায় চাহিদা বিপরীতে সারা দেশে ৮ হাজার ৪৩১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ রেকর্ড করা হয় যা রাত ১২টায় বেড়ে প্রায় ১০ হাজার ৫১৪ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়। প্রকৌশলীদের কর্মতৎপরতায় ৭ ঘণ্টার মধ্যে সম্পূর্ণ রেস্টরেশন (সংযোগ পুনর্বহাল) সম্পন্ন করা হয়েছে।’

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ উদ্ঘাটনে দুটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে জানিয়ে নসরুল হামিদ বলেন, ‘কমিটির সদস্যরা ৫ অক্টোবর ঘোড়াশাল ও আশুগঞ্জে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট গ্রিড উপকেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

‘ঘটনার প্রাথমিক অনুসন্ধোনে দেখা যায় যে ওই সময়ে পূর্বাঞ্চলে বিদ্যুৎ চাহিদার তুলনায় উৎপাদনে ঘাটতি থাকায় এবং পশ্চিমাঞ্চলে বাড়তি উৎপাদন থাকায় পশ্চিমাঞ্চল থেকে পূর্বাঞ্চলে ১১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সঞ্চালন করা হচ্ছিল।’

তিনি বলেন, ‘ঘটনার সময় আশুগঞ্জে ২৩০ কেভির দুটি সার্কিট এবং ঘোড়াশালের এআইএস থেকে ঘোড়াশাল জিআইএস ২৩০ কেভির সার্কিট ট্রিপ করায় পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে পূর্বাঞ্চলে বিদ্যুৎ চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়। সিস্টেম ফ্রিকোয়েন্সি রেঞ্জের নিচে নেমে যায়। আন্ডার ফ্রিকোয়েন্সিজনিত কারণে গ্রিড আনস্টেবল হয়ে পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ট্রিপ করে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সৃষ্টি হয়।

‘গ্রিড বিপর্যয় হলেও গ্রিড সিস্টেম এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে কোনো ফিজিক্যাল ড্যামেজ হয়নি। সে জন্য কমিটির গ্রিড সিস্টেমের বিভিন্ন প্রটেকশন ডাটা, ট্রিপিং রেকর্ড, বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিচালনার ডাটার পরীক্ষা ও পর্যালোচনা করে ঘটনার প্রকৃত কারণ উৎঘাটনে কিছু সময় প্রয়োজন হচ্ছে। আশা করছি এ ধরনের ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয়। আরও দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারেও পরিকল্পনা চলছে।’

আরও পড়ুন:
চাহিদার ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ আসবে পরমাণু থেকে: ইয়াফেস ওসমান
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ভবন থেকে পড়ে রাজমিস্ত্রির মৃত্যু
দেড় ঘণ্টার বৈঠকে জ্বলেছে বরিশাল নগরীর সড়ক বাতি
অন্য মেয়রদের বিদ্যুৎ বিল দেবেন না সাদিক
আকস্মিক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, বরিশালের ৩০ ওয়ার্ডের রাস্তা অন্ধকার

মন্তব্য

p
উপরে