× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Postmaster jailed in money embezzlement case
hear-news
player
print-icon

অর্থ আত্মসাৎ মামলায় পোস্টমাস্টারের জেল

অর্থ-আত্মসাৎ-মামলায়-পোস্টমাস্টারের-জেল
দুদক জানায়, পোস্টমাস্টার শ্রীবাস চন্দ্র দে ছয় আমানতকারীর কাছ থেকে ৩৮ লাখ ২৭ হাজার টাকা গ্রহণ করে পাশ বইতে লিপিবদ্ধ করলেও সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। শ্রীবাসের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ৯ বছরের কারাদণ্ড এবং ২৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করে আদালত।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা অর্থ আত্মসাৎ মামলায় লক্ষ্মীপুরের দত্তপাড়া ডাকঘরের পোস্টমাস্টার শ্রীবাস চন্দ্র দেকে ৯ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

সোমবার দুপুরে নোয়াখালীর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক এ এন এম মোর্শেদ খান এ রায় দেন। আদালত একই সঙ্গে তাকে ২৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

সাজাপ্রাপ্ত শ্রীবাস চন্দ্র দে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানার দত্তপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি দত্তপাড়া ডাকঘরের বরখাস্তকৃত পোস্টমাস্টার।

জেলা দুদকের আইনজীবী (পিপি) আবুল কাশেম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

দুদকের নোয়াখালী জেলা কার্যালয় ও আদালত সূত্র জানায়, দত্তপাড়া ডাকঘরের পোস্টমাস্টার পদে চাকরিকালে শ্রীবাস চন্দ্র দে ছয় আমানতকারীর কাছ থেকে ৩৮ লাখ ২৭ হাজার টাকা গ্রহণ করে পাশ বইতে লিপিবদ্ধ করলেও সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনায় ২০১৯ সালের মে মাসে নোয়াখালী বিভাগের পোস্ট অফিস পরিদর্শক আক্রাম উল্ল্যাহ বাদী হয়ে মামলা করেন।

তদন্ত শেষে দুর্নীতি দমন কমিশন নোয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সুবেল আহমেদ শ্রীবাসের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

পিপি আবুল কাশেম বলেন, মামলার তিন ধারায় শ্রীবাসের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ৯ বছরের কারাদণ্ড এবং ২৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করে আদালত।

রায় ঘোষণার সময় আসামি শ্রীবাস আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
ডাক বিভাগের ২৬ লাখ টাকা আত্মসাতে ৩ কর্মকর্তার কারাদণ্ড
১০ লাখ টাকা আত্মসাতে বিআইডব্লিউটিএ কর্মচারীর কারাদণ্ড
অর্থ আত্মসাৎ: আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ পুনঃতদন্তের নির্দেশ
নলছিটির মেয়রের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
অর্থ আত্মসাতের দায়ে ব্যাংক কর্মকর্তার কারাদণ্ড

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Withdrawal of the case footballer Ankhis land is intact

মামলা প্রত্যাহার, ফুটবলার আঁখির জমি নিষ্কণ্টক

মামলা প্রত্যাহার, ফুটবলার আঁখির জমি নিষ্কণ্টক মা-বাবার সঙ্গে ফুটবলার আঁখি। ফাইল ছবি
সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন নাহার জানান, বাদী পক্ষ মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করেছে। ফলে মামলাটি খারিজ হয়ে গেছে। বর্তমানে ফুটবলার আঁখিকে বরাদ্দ দেয়া ওই জমি সম্পূর্ণ নিষ্কণ্টক।

নারী ফুটবলার আঁখি খাতুনকে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ৮ শতাংশ জমির ওপর করা মামলা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। সোমবার দুপুরে মামলার বাদী হাজী মকরম প্রামানিক সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করেন।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন নাহার জানান, বাদী পক্ষ মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করেছে। ফলে মামলাটি খারিজ হয়ে গেছে। বর্তমানে ফুটবলার আঁখিকে বরাদ্দ দেয়া ওই জমি সম্পূর্ণ নিষ্কণ্টক।

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘সাফ উইমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী ফুটবলার আঁখির জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত ৮ শতাংশ জমির একটি প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়। ৪ জুন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার জমির দলিল হস্তান্তর করেন।

‘সম্প্রতি হাজী মকরম প্রামাণিক নামে এক ব্যক্তি ওই জমি তাদের দখলে রয়েছে দাবি করে মামলা করেন। তবে মামলার তফসিলে তিনি খতিয়ান উল্লেখ বা জমিটির মালিকানা দাবি করেননি। সোমবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বাদী নিজেই মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করলে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়।

ফুটবলে অবদান এবং দরিদ্র পরিবারের কথা বিবেচনা করে তিন বছর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিদের্শনায় আঁখিকে জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই জমির মালিকানা দাবি করে শাহজাদপুরের একজন ব্যবসায়ী মামলা করেন।

বিষয়টি নিয়ে নিউজবাংলায় সংবাদ প্রচারের পর সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন ওই জমির বরাদ্দ বাতিল করে ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত ৮ শতাংশ নতুন জমি আঁখির নামে বরাদ্দ দেয়। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার ৪ জুন আঁখির পরিবারের কাছে ওই জমির দলিল হস্তান্তর করেন।

এদিকে সম্প্রতি আঁখি খাতুনকে বরাদ্দ দেয়া সেই জমির দখল নিয়ে হাজী মকরম প্রামানিক আদালতে মামলা করেন। মামলায় আঁখিসহ পাঁচজনকে বিবাদী করা হয়।

বুধবার রাতে মামলার নোটিশ নিয়ে সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মামুনুর রশিদ ও কনস্টেবল আবু মুসা আঁখির গ্রামের বাড়িতে গেলে তার বাবার সঙ্গে বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে আঁখির বাবাকে পুলিশ শাসায় এবং থানায় নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করা হয়। এ নিয়ে সিরাজগঞ্জসহ দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরবর্তীতে ওই দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। এ ঘটনার পাঁচদিন পর স্ব-ইচ্ছায় বাদী মামলাটি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Relatives want the release of those arrested on the issue of Maryams mother

মরিয়মের মা ইস্যুতে গ্রেপ্তারদের মুক্তি চান স্বজনরা

মরিয়মের মা ইস্যুতে গ্রেপ্তারদের মুক্তি চান স্বজনরা দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশার বণিকপাড়ায় মরিয়ম মান্নানদের বাড়ি। ছবি: নিউজবাংলা
কারাগারে থাকা গোলাম কিবরিয়ার স্ত্রী আয়েশা বলেন, ‘আমার স্বামীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে। আমাদের সমাজের কাছে ছোট করা হয়েছে। আমরা রহিমা বেগম, তার মেয়ে মরিয়ম মান্নান, ছেলে মিরাজসহ এ ঘটনার পেছনে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আর যারা মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছে অবিলম্বে তাদের মুক্তি চাই।’

খুলনার মহেশ্বরপাশা থেকে নিখোঁজ হওয়া মরিয়ম মান্নানের মা রহিমা বেগম এখন আছেন পরিবারে স্বজনদের সঙ্গে। তবে তিনি নিখোঁজ হওয়ার মামলায় গ্রেপ্তার ৬ জনের আশু মুক্তি মিলছে না।

মামলাটি তদন্তের দায়িত্বে থাকা পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বলছে, রহিমা বেগমের জবানবন্দির ভিত্তিতে তথ্য উদ্ঘাটনের জন্য গ্রেপ্তার ছয়জনকে রিমান্ডে নেয়া হবে।

অন্যদিকে স্থানীয়রা বলছেন, রহিমা বেগম অপহরণের শিকার হননি; তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মা ও মেয়েরা মিলে এই নাটক সাজিয়েছিলেন।

ফরিদপুরে বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে রহিমা বেগমকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি অপহরণের শিকার বলে দাবি করেন। পরে মেয়ে আদুরী আক্তারের জিম্মায় তাকে মুক্তি দেয় আদালত।

এর আগে ২৭ আগস্ট রাতে দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশার বণিকপাড়ার বাড়ি থেকে রহিমা নিখোঁজ হন বলে অভিযোগ করেন তার মেয়ে মরিয়ম ও তার ভাই-বোনেরা। পরদিন দৌলতপুর থানায় মামলা করেন রহিমার মেয়ে আদুরী। আসামি করা হয় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে। সেই মামলায় প্রতিবেশী মঈন উদ্দিন, গোলাম কিবরিয়া, রফিকুল ইসলাম পলাশ, মোহাম্মদ জুয়েল, হেলাল শরীফ ও রহিমা বেগমের দ্বিতীয় স্বামী বেল্লাল হাওলাদার কারাগারে রয়েছেন।

মরিয়মের মা ইস্যুতে গ্রেপ্তারদের মুক্তি চান স্বজনরা
মরিয়ম মান্নানদের দখলে থাকা এই জমি নিয়ে মামলায় স্থিতাবস্থা দিয়ে রেখেছে আদালত। ছবি: নিউজবাংলা

কারাগারে থাকা গোলাম কিবরিয়ার স্ত্রী আয়েশা বলেন, ‘রহিমা বেগমের সতীনের কাছ থেকে তাদের বাড়ির ২ কাঠা জমি একজন মুহুরি কেনে নেন। সেই মুহুরির কাছ থেকে আমার স্বামী ওই জমি কেনেন। এর পর থেকেই রহিমা বেগম ও তার ছেলে-মেয়েরা আমাদের মিথ্যা মামলাসহ নানাভাবে হয়রানি করে আসছেন। তাদের হয়রানির শিকার প্রতিবেশী সবাই। তাদের সবাইকে এলাকার লোকজন মামলাবাজ হিসেবে চেনে। ভয়ে তাদের সঙ্গে এলাকার কেউ কথা বলে না।’

তিনি বলেন, ‘আমার স্বামীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে। আমাদের সমাজের কাছে ছোট করা হয়েছে। আমরা রহিমা বেগম এবং তার মেয়ে মরিয়ম মান্নান, ছেলে মিরাজসহ এ ঘটনার পেছনে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আর যারা মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছে অবিলম্বে তাদের মুক্তি চাই।’

কারাগারে থাকা নূর আলম জুয়েলের স্ত্রী সুমি বলেন, ‘রহিমা বেগমের পরিবারের সদস্যরা খুব উচ্ছৃঙ্খল। এর আগেও রহিমা বেগম নিজের হাত নিজে কেটে আমাদের নামে মামলা দিয়েছেন। এবার আত্মগোপন করে তার মেয়েকে দিয়ে আমার স্বামীর নামে মিথ্যা মামলা করেছেন। এখন আমার স্বামী কারাগারে বন্দি। আমার এক ও দুই বছরের সন্তান তার বাবার জন্য কান্নাকাটি করছে। আমরা রহিমা বেগম ও তার মেয়ে মরিয়ম মান্নানের কঠোর শাস্তি চাই।’

হেলাল শরীফের স্ত্রী মনিরা আক্তার বলেন, ‘বিনা অপরাধে জেল খাটছেন আমার স্বামী। আগস্টের ৩০ তারিখে আমার স্বামী আটক হন। আর সেপ্টেম্বরের ৬ তারিখে আমার মেয়ে হয়েছে। অক্টোবরে আমার বাচ্চার ডেলিভারির তারিখ ছিল। কিন্তু স্বামী আটক হওয়ার পর আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে আগেই সিজার করা হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আমি আমার স্বামীকে কাছে পাইনি।

‘আমরা নিশ্চিত ছিলাম যে আটককৃতরা কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত না। আমার স্বামী বের হলে আমরা আইনি ব্যবস্থা নেব। আশা করছি, দ্রুত আমার স্বামী ছাড়া পাবে।’

মরিয়মের মা ইস্যুতে গ্রেপ্তারদের মুক্তি চান স্বজনরা
রহিমা বেগম নিখোঁজ উল্লেখ করে তার সন্ধান চেয়ে পোস্টারিং করেন তার সন্তানেরা। ছবি: নিউজবাংলা

রহিমা বেগমের প্রথম স্বামীর নাম মান্নান হাওলাদার। মহেশ্বরপাশায় তিনি কবিরাজি করতেন। এই স্বামীর ঘরে রহিমার পাঁচ মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। প্রথম স্বামী মারা যাওয়ার পর বেল্লাল হাওলাদার রহিমা বেগমের এক মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেন। এরপর রহিমার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা হয়। তিন-চার বছর আগে এই বেল্লালকেই রহিমা বেগম বিয়ে করেন।

প্রতিবেশীরা জানান, প্রথম স্বামীর কাছ থেকে ১৯ দশমিক ৩৪ শতক জমির দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন রহিমা বেগম। সেই স্বামীর প্রথম স্ত্রীকে জমি দেয়ার পর ২০১৯ সালে তার বাড়ির বিপরীত পাশে অবস্থিত গোলাম কিবরিয়া ও হেলাল শরীফের কাছে ৪ দশমিক ৮৬ শতক জমি বিক্রি করেন। এরপর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে জমি নিয়ে শুরু হয় দ্বন্দ্ব। মামলা-পাল্টা মামলা, হুমকি-পাল্টা হুমকির ঘটনা ঘটে একাধিক বার। এ নিয়েই মূলত এতোসব কাহিনী।

মরিয়মের প্রতিবেশী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘জমি দখল করতে গেলে তারা মারামারি শুরু করে। শেষ পর্যন্ত তা থানা পুলিশ ও আদালত পর্যন্ত গড়ায়। এক বছর আগে এ নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তাদের মারামারি হয়। সেই থেকে স্থানীয়রা তাদের সঙ্গে মিশতে চায় না।

‘ওই জমি দখলে রাখতে তারাই নাটক সাজিয়েছে। আমরা আগেও থানা পুলিশকে জানিয়েছিলাম। কারণ অন্যের কেনা জমি তারা দখল করে রাখলেও আদালত একদিন রহিমা বেগমের বিপক্ষে রায় দেবে। সেদিন জমি ছেড়ে দিতে হবে। শুধু জমি দখলছাড়া না করতে তারা এই নাটক সাজিয়েছেন।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে খুলনা পিবিআই পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘রহিমা বেগম আদালতে অপহরণের জবানবন্দি দিয়েছেন। আমরা সেই কপি নিয়ে তার কথার সত্যতা যাচাই করব। এছাড়া যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তারা কারাগারে আছেন। ইতোপূর্বে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। এখনও শুনানি হয়নি। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। তদন্তে সব রহস্য উদঘাটন হবে।’

আরও পড়ুন:
বস্তাবন্দি সেই নারীর পরিচয় নিয়ে এবার ধন্দে পুলিশ
মাত্র ১ হাজার টাকায় ১৩ দিনে ৪ জেলায় মরিয়মের মা!
রহিমার ফরিদপুরে অবস্থানের তথ্য শুক্রবারই জানানো হয় মরিয়মদের
মরিয়ম মান্নানের ডাকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন মা
দালাল সাংবাদিকরা যে যা লিখে দিল: মরিয়ম

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Husband arrested in wifes case under Pornography Act

পর্নোগ্রাফি আইনে স্ত্রীর মামলায় স্বামী গ্রেপ্তার

পর্নোগ্রাফি আইনে স্ত্রীর মামলায় স্বামী গ্রেপ্তার ঢাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর গাংনী থানায় নিয়ে যাওয়া হয় উপহার মিয়াকে। ছবি: নিউজবাংলা
গাংনী থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘উপহার মিয়াকে পর্নোগ্রাফি আইনে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।’

মেহেরপুরে স্ত্রীর করা পর্নোগ্রাফি মামলায় উপহার মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার দিবাগত রাতে ঢাকার আশুলিয়ায় ডেকো গার্মেন্টস থেকে র‌্যাবের সহযোগিতায় উপহারকে গ্রেপ্তার করে গাংনী থানা পুলিশের একটি দল।

৩৫ বছর বয়সী উপহার মিয়া গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামের ক্লাবপাড়া এলাকার হকাজ্জেলের ছেলে। স্থানীয়ভাবে টিকটকার হিসেবেও তিনি বেশ পরিচিত।

সোমবার দুপুরে তাকে গাংনী থানা পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আসা হয়। মঙ্গলবার তাকে আদালতে তোলা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন গাংনী থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক।

এর আগে গ্রেপ্তার উপহার মিয়ার বিরুদ্ধে তার স্ত্রী শাপলা খাতুন পর্নোগ্রাফি আইনে মেহেরপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেছিলেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গাংনী থানার এসআই তুষার ঢাকা থেকে উপহার মিয়াকে গ্রেপ্তারে নেতৃত্ব দেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, আসামি ও ভুক্তভোগীর মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক। তাদের দাম্পত্য সম্পর্কে বেশ কিছু অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ধারণ করেছিলেন উপহার মিয়া।

কিন্তু কিছুদিন পর থেকেই এসব ছবি ও ভিডিও ফাঁস করে দেয়ার হুমকি দিয়ে স্ত্রীর কাছে অর্থ দাবি করতে থাকেন উপহার। একপর্যায়ে তিনি স্ত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করারও চেষ্টা করেন।

দাবি করা অর্থ স্ত্রী দিতে না চাইলে আত্মীয়স্বজনের মেসেঞ্জার ও ইমোতে স্বামী-স্ত্রীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ক্লিপস ও ছবি পাঠাতে শুরু করেন তিনি।

এ বিষয়ে স্বামীকে নানাভাবে অনুরোধ ও সতর্ক করার পরও কোনো কাজে আসেনি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

এ ছাড়া স্ত্রীর নামে ভুয়া টিকটক আইডি খুলে গোপন ছবি আপলোড করারও অভিযোগ আছে উপহারের বিরুদ্ধে। এমনকি এসব ছবিতে স্ত্রীর মোবাইল নম্বরটিও যুক্ত করে তার সঙ্গে যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে।

গাংনী থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘উপহার মিয়াকে পর্নোগ্রাফি আইনে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।’

আরও পড়ুন:
পর্নোগ্রাফি ভিডিও ‘সরবরাহ’, ১০ যুবক গ্রেপ্তার
‘পর্নোগ্রাফি ভিডিও সরবরাহ’, ৬ যুবক গ্রেপ্তার
ইলন মাস্কের রকেটে পর্নোগ্রাফি হবে মহাকাশে
আপত্তিকর ছবি ভাইরাল করায় চকরিয়ায় যুবক গ্রেপ্তার
৪ পর্নোগ্রাফি ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
92 Bar Pechal Sagar Rooney murder case investigation report

৯২ বার পেছাল সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন

৯২ বার পেছাল সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি। ফাইল ছবি
২০১১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি হত্যাকাণ্ডের পর দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে ব্যর্থ হয় ডিবি। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হত্যা মামলার তদন্তভার র‍্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

৯২ বারের মতো পিছিয়েছে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য আগামী ৩১ অক্টোবর দিন ঠিক করেছে আদালত।

সোমবার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমার দিন ঠিক করা ছিল। তবে তদন্ত সংস্থা র‌্যাব প্রতিবেদন জমা দেয়নি। তাই ঢাকা মহানগর হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারী প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য নতুন এই দিন ঠিক করেন।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরোয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি নিজ বাসায় খুন হন। পরদিন ভোরে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় এ ঘটনায় হত্যা মামলা করেন। প্রথমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ওই থানার একজন উপপরিদর্শক (এসআই)। চার দিন পর চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে ব্যর্থ হয় ডিবি। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হত্যা মামলার তদন্তভার র‍্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মামলায় রুনির বন্ধু তানভীর রহমানসহ মোট আসামি আটজন। অন্য আসামিরা হলেন বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু ওরফে মাসুম মিন্টু, কামরুল হাসান অরুন, পলাশ রুদ্র পাল ও আবু সাঈদ।

আরও পড়ুন:
৮৬ বার পেছাল সাগর-রুনি হত্যার প্রতিবেদন
সাগর-রুনী হত্যা রহস্য উদঘাটনে ‘যথেষ্ট দেরি হয়েছে’
সাগর-রুনি হত্যার বিচারে জোর আন্দোলন চান সাংবাদিকরা
সাগর-রুনি হত্যার তদন্ত দ্রুত শেষ করা যাবে: র‍্যাব
অন্তহীন তদন্তের চক্রে সাগর-রুনি হত্যা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Employees should be moderate in using social media

সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক করল প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়

সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক করল প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা’ উদ্ধৃত করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পোস্ট, ছবি, অডিও-ভিডিও আপলোড, কমেন্ট, লাইক, শেয়ার করার ব্যাপারে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজ একাউন্টে ক্ষতিকর কন্টেন্টের জন্য ব্যক্তিগতভাবে দায়ী হবেন। এর জন্য তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা’ উদ্ধৃত করে এমন নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সব পরিচালক/প্রকল্প পরিচালক, সব উপ-পরিচালক/বিভাগীয় উপ-পরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা/সুপারিনটেনডেন্ট, পিটিআই, সব উপজেলা/থানা শিক্ষা কর্মকর্তা/ইনস্ট্রাক্টর, ইউআরসিকে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও কর্মচারীদের করণীয় নির্ধারণ করা এবং এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বলা হয়েছে। এছাড়াও নির্দেশিকায় সামাজিক মাধ্যমে দাপ্তরিক ও ব্যক্ষিগত একাউন্ট তৈরি করা এবং এতে পরিহারযোগ্য বিষয়াদি উল্লেখ রয়েছে।

যেসব নির্দেশনা

চিঠিতে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে সরকার বা রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো পোস্ট, ছবি, অডিও বা ভিডিও আপলোড, কমেন্ট, লাইক, শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। জাতীয় ঐক্য ও চেতনা পরিপন্থী তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে এমন বা ধর্মনিরপেক্ষতা নীতির পরিপন্থী কোনো তথ্য প্রকাশ করা যাবে না। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট বা আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে এমন কোনো পোস্ট, ছবি, অডিও বা ভিডিও আপলোড, কমেন্ট, লাইক, শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কোনো ‘কন্টেন্ট’ বা ‘ফ্রেন্ড’ সিলেকশনে সবাইকে সতর্কতা অবলম্বন এবং অপ্রয়োজনীয় ট্যাগ, রেফারেন্স বা শেয়ার করা পরিহার করতে হবে।

এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার বা নিজ অ্যাকাউন্টে ক্ষতিকারক কন্টেন্টের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারী ব্যক্তিগতভাবে দায়ী হবেন এবং সেজন্য তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো সার্ভিস বা পেশাকে হেয়প্রতিপন্ন করে এমন কোনো পোস্ট দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। লিঙ্গ বৈষম্য বা এ সংক্রান্ত বিতর্কমূলক কোনো তথ্য প্রকাশ করা যাবে না।

জনমনে অসন্তোষ বা অপ্রীতিকর মনোভাব সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো বিষয়ে লেখা, অডিও বা ভিডিও প্রকাশ বা শেয়ার করা যাবে না। ভিত্তিহীন, অসত্য ও অশ্লীল তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকতে হবে।

কোনো রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য সংবলিত কোনো পোস্ট, ছবি, অডিও বা ভিডিও আপলোড, কমেন্ট, লাইক, শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Maryam Mannan in Dhaka with Khulna unsafe mother

খুলনা ‘অনিরাপদ’, মাকে নিয়ে ঢাকায় মরিয়ম মান্নান

খুলনা ‘অনিরাপদ’, মাকে নিয়ে ঢাকায় মরিয়ম মান্নান উদ্ধারের পর পিবিআই কার্যালয়ে মেয়েদের জড়িয়ে ধরেন রহিমা বেগম। ছবি: নিউজবাংলা
নিউজবাংলাকে মরিয়ম বলেন, ‘আদালত থেকে মুক্তি পেয়ে মাকে নিয়ে প্রথমে খুলনার বয়রার বাসায় গেছিলাম। আমরা মায়ের জন্য খুলনাকে নিরাপদ মনে করিনি।’

মা রহিমা বেগমকে নিয়ে ঢাকায় এসেছেন খুলনার আলোচিত তরুণী মরিয়ম মান্নান। আদালতের মাধ্যমে নিজেদের জিম্মায় পাওয়ার পর রোববার রাতেই ছোট বোন আদুরী ও মা রহিমাকে নিয়ে তিনি ঢাকায় চলে আসেন।

ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তাদের নিয়ে উঠেছেন তিনি। জানালেন, সোমবার সকালে মাকে ডাক্তার দেখাতে নিয়েছিলেন।

নিউজবাংলাকে মরিয়ম বলেন, ‘আদালত থেকে মুক্তি পেয়ে মাকে নিয়ে প্রথমে খুলনার বয়রার বাসায় গেছিলাম। আমরা মায়ের জন্য খুলনাকে নিরাপদ মনে করিনি। তাই রাতেই খুলনা ত্যাগ করেছি। সঙ্গে আমাদের এক দুলাভাইও ছিলেন। চারজন ঢাকা এসেছি।’

গত ২৭ আগস্ট রাতে দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশার বণিকপাড়ার বাড়ি থেকে রহিমা নিখোঁজ হন বলে অভিযোগ করেন মরিয়ম ও তার ভাই-বোনেরা। সে রাতে দৌলতপুর থানায় অপহরণের অভিযোগে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন রহিমার ছেলে মিরাজ আল সাদী।

সেই জিডি থেকে জানা যায়, নিখোঁজের সময় রহিমার দ্বিতীয় স্বামী বিল্লাল হাওলাদার বাড়িতে ছিলেন। পানি আনতে বাসা থেকে নিচে নেমেছিলেন রহিমা। দীর্ঘ সময় পরও তার খোঁজ পাওয়া যায়নি।

মাকে পাওয়া যাচ্ছে না জানিয়ে গত ২৮ আগস্টে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন রহিমার মেয়ে আদুরী। আসামী করা হয় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে।

রহিমা নিখোঁজ হয়েছেন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সোচ্চার হন মরিয়ম মান্নান। তার কান্না আর মায়ের খোঁজ পাওয়ার আকুতি ছুঁয়ে যায় সবাইকে।

গত ১ সেপ্টেম্বর খুলনায় সংবাদ সম্মেলন করেন মরিয়ম মান্নান। মায়ের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে জমি নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধের ঘটনাকে সামনে আনেন।

এরপর আদুরীর করা মামলায় প্রতিবেশি মঈন উদ্দিন, গোলাম কিবরিয়া, রফিকুল ইসলাম পলাশ, মোহাম্মাদ জুয়েল, হেলাল শরীফসহ রহিমা বেগমের দ্বিতীয় স্বামী বেল্লাল হাওলাদার কারাগারে রয়েছেন।

গত ২২ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহে ১২ দিন আগে উদ্ধার হওয়া এক নারীর মরদেহকে রহিমা বেগমের দেহ বলে দাবি করেন মরিয়ম। তিনি ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বলেন, ‘আমার মায়ের লাশ পেয়েছি আমি এইমাত্র।’

২৩ সেপ্টেম্বর সকালে রহিমার মেয়ে মরিয়ম মান্নান, মাহফুজা আক্তার ও আদুরী আক্তার ফুলপুর থানায় পৌঁছান।

ওই সময় পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয় ওই নারীর ছবিসহ পরনে থাকা আলামতগুলো মেয়েদের দেখান। মরিয়ম মান্নান ছবিসহ সালোয়ার-কামিজ দেখে দাবি করেন, এটিই তার মায়ের মরদেহ। যা দেশব্যাপী আলোচনার সৃষ্টি করে।

মরিয়ম মান্নান সে সময় সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘২৭ দিন ধরে আমার মা নিখোঁজ। আমরা প্রতিনিয়ত মাকে খুঁজছি। এরই মধ্যে গত ১০ সেপ্টেম্বর ফুলপুর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে আমরা এখানে এসেছি। সালোয়ার-কামিজ ছাড়াও ছবিতে আমার মায়ের শরীর, কপাল ও হাত দেখে মনে হয়েছে, এটাই আমার মা।’

তবে গেল শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুরে বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের একটি ঘর থেকে রহিমা বেগমকে জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। পর দিন তাকে আদালতে হাজির করা হলে নিজেকে অপহরণের শিকার বলে দাবি করেন রহিমা। এরপর তাকে মেয়ে আদুরী জিম্মায় ছেড়ে দেয় আদালত।

আরও পড়ুন:
বস্তাবন্দি সেই নারীর পরিচয় নিয়ে এবার ধন্দে পুলিশ
মাত্র ১ হাজার টাকায় ১৩ দিনে ৪ জেলায় মরিয়মের মা!
রহিমার ফরিদপুরে অবস্থানের তথ্য শুক্রবারই জানানো হয় মরিয়মদের
মরিয়ম মান্নানের ডাকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন মা
দালাল সাংবাদিকরা যে যা লিখে দিল: মরিয়ম

মন্তব্য

বাংলাদেশ
IGP wants CCTV cameras in all pavilions

সব মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা চান আইজিপি

সব মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা চান আইজিপি গত বছর দুর্গাপূজায় কুমিল্লায় একটি মণ্ডপে মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় গ্রন্থ কোরআন শরিফ রাখা হয়। প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন মাজারের মসজিদ থেকে কোরআন শরিফ নিয়ে রওনা হন মণ্ডপের দিকে। সিসিটিভি ফুটেজ থেকে নেয়া ছবি।
গত বছর কুমিল্লায় একটি মণ্ডপে মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় গ্রন্থ কোরআন শরিফ রেখে আসার পর সেখানকার এবং চাঁদপুর, নোয়াখালী ও রংপুরে হিন্দুদের বাড়িঘরে ব্যাপক হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চলে। পুলিশের গুলিতে নিহত হয় বেশ কয়েকজন আক্রমণকারীও। সেই মণ্ডপে কোনো ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা না থাকলেও কোরআন রেখে আসার ঘটনাটি ধরা পড়ে পাশের কয়েকটি বাড়িতে স্থাপন করা ক্যামেরার ফুটেজে।

দুর্গাপূজা ঘিরে কেউ যেন অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড করতে না পারে, সে জন্য বিশেষভাবে সতর্ক থাকার তাগিদ দিয়েছেন পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদ। সব মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

পূজা সামনে রেখে সোমবার সকালে পুলিশ সদর দপ্তরে নিরাপত্তাসংক্রান্ত এক সভায় তিনি এসব নির্দেশ দেন।

বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে আগামী ১ অক্টোবর থেকে। বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসব শেষ হবে ৫ অক্টোবর।
গত বছর কুমিল্লায় একটি মণ্ডপে মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় গ্রন্থ কোরআন শরিফ রেখে আসার পর সেখানেকার এবং চাঁদপুর, নোয়াখালী ও রংপুরে হিন্দুদের বাড়িঘরে ব্যাপক হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চলে। পুলিশের গুলিতে নিহত হয় বেশ কয়েকজন আক্রমণকারীও।

পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে, বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে একটি দরগা থেকে কোরআন শরিফ এনে রাখা হয় কুমিল্লার সেই মণ্ডপে। এরপর ফেসবুকে লাইভ করে তা ছড়িয়ে দেয়া হয়। এর পরই শুরু হয় বিশৃঙ্খলা।

সেই মণ্ডপে কোনো ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা না থাকলেও কোরআন রেখে আসার ঘটনাটি ধরা পড়ে পাশের কয়েকটি বাড়িতে স্থাপন করা ক্যামেরার ফুটেজে।

সব মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা চান আইজিপি

পুলিশের সভায় এবার সব মণ্ডপে ক্যামেরা স্থাপন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে হ্যান্ডহেল্ড মেটাল ডিটেকটর ও আর্চওয়ে গেট স্থাপন, মণ্ডপে সার্বক্ষণিক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা প্রবেশ ও প্রস্থান পথের ব্যবস্থা করা, মণ্ডপ ও বিসর্জন স্থানে পর্যাপ্ত আলো, স্ট্যান্ডবাই জেনারেটর/চার্জার লাইটের ব্যবস্থা করা, আজান ও নামাজের সময় উচ্চশব্দে মাইক ব্যবহার না করার জন্য পূজা উদযাপন কমিটির প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।

কমিউনিটি পুলিশের সদস্য এবং বিট পুলিশ কর্মকর্তাকে সংশ্লিষ্ট পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে পূজার নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকার অনুরোধ জানান আইজিপি।

সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারাও অংশ নেন। তারা এবার নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সভায় জানানো হয়, দুর্গাপূজা নিরাপদে উদযাপনে পুলিশ প্রাক-পূজা, পূজা চলাকালীন ও পূজাপরবর্তী তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯-এ কল করার পরামর্শও দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
আইজিপি ও জাতিসংঘ পুলিশ প্রধানের বৈঠক
আমেরিকার প্রতি অভিযোগ নেই, নিষেধাজ্ঞার পেছনে সেই গোষ্ঠী: বেনজীর
নানা শর্তে আইজিপিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা
জাতীয় শোক দিবসে নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ আইজিপির
পুলিশ-র‍্যাব বেতনের জন্য কাজ করে না: আইজিপি

মন্তব্য

p
উপরে