× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Free and fair elections were held during the Awami League era PM to BBC
hear-news
player
google_news print-icon

অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন আওয়ামী লীগ আমলেই হয়: বিবিসিকে প্রধানমন্ত্রী

অবাধ-সুষ্ঠু-নির্বাচন-আওয়ামী-লীগ-আমলেই-হয়-বিবিসিকে-প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাতকার নিচ্ছেন বিবিসির সাংবাদিক লরা কুনেসবার্গ। ছবি: বিবিসি
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালে আমার বাবাকে (জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) হত্যার পর সেখানে গণতন্ত্র ছিল না, গণতান্ত্রিক অধিকার ছিল না, তাই আমি আমার দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছি। নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘অনেকেই অভিযোগ করতে পারে, কিন্তু এটা কতদূর সত্য, বিচার করতে হবে। এটা জানার আগে কেউ কোনো মন্তব্য করবেন না।’

দেশের ইতিহাসে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন শুধু আওয়ামী লীগ শাসন আমলেই হয়, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এমনটি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকারপ্রধান আরও বলেন, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন তিনি।

প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথকে শ্রদ্ধা জানাতে যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে দেয়া এই সাক্ষাৎকারে আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে তার সরকারের প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে বিবিসির সাংবাদিক লরা কুনেসবার্গের এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘অবশ্যই, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন প্রতিষ্ঠার জন্যই আমার সংগ্রাম।...শুধু আওয়ামী লীগের আমলেই আপনারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে পাবেন।’

রোববার প্রচারিত সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুমের বিষয়ে অনেকেই অভিযোগ করতে পারেন, কিন্তু তা কতটা সত্য তা বিচার করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বিবিসিকে বলেন, তার দেশে দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, প্রকাশ্যে বা গোপনে সামরিক শাসক ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ সালে আমার বাবাকে (জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) হত্যা করা হয়। তিনি তখন দেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন এবং আপনি জানেন যে আমার পুরো পরিবার, আমার মা, আমার তিন ভাই, দুই ভ্রাতৃবধূ, পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ মোট ১৮ জন সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, তারপর থেকে ২১ বছর ধরে দেশটি বারবার অভ্যুত্থান প্রত্যক্ষ করেছে। তিনি যোগ করেন, যে প্রায় ২০ বার অভ্যুত্থানের চেষ্টা হয়েছে এবং প্রতিবার রক্তপাত হয়েছে।

শেখ হসিনা বলেন, সেখানে গণতন্ত্র ছিল না, গণতান্ত্রিক অধিকার ছিল না, তাই আমি আমার দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছি।

নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘অনেকেই অভিযোগ করতে পারে, কিন্তু এটা কতদূর সত্য, বিচার করতে হবে। এটা জানার আগে কেউ কোনো মন্তব্য করবেন না।’

প্রধানমন্ত্রী বিবিসিকে বলেন, সামরিক শাসকরা দীর্ঘদিন ধরে দেশ শাসন করেছে এবং তারা দল গঠন করেছে এবং ভোটের জন্য তারা কখনো জনগণের কাছে যায়নি।

‘তারা (সামরিক স্বৈরশাসক) সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করেছে, প্রশাসনকে ব্যবহার করেছে এবং ক্ষমতায় থাকার জন্য সব কিছু ব্যবহার করেছে,’ যোগ করেন তিনি।

নিখোঁজের অভিযোগের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বিবিসি সাংবাদিককে প্রশ্ন করেন, “আপনার দেশে এবং অন্যান্য দেশে কত লোক নিখোঁজ হয়েছে? আপনি কী বিচার করতে পারেন। এই সমস্ত বিষয় আমি মনে করি, প্রথমে আপনাকে (বিবেচনায়) নিতে হবে। সমস্ত তথ্য আপনার সংগ্রহ করা উচিত, তারপর আপনি কাউকে অভিযুক্ত করতে পারেন।’

আপনার এবং বাংলাদেশের কাছে কমনওয়েলথের গুরুত্ব কতটা, এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অবশ্যই (এর মূল্য অনেক বেশি), যখন আমরা একসঙ্গে থাকি, সেখানে অনেক সুযোগ থাকে, তাই এটা ভালো এবং গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আমাদের একটা জায়গা আছে, যেখানে আমরা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বিনিময় করতে পারি। কিছু ধারণা গ্রহণ করতে পারি বা দেশ বা জনগণের জন্য কিছু ভালো কাজ করতে পারি। তাই আমার মনে হয় এটা ভালো।’

তিনি বলেন, "বর্তমানে, আপনি দেখতে পাচ্ছেন, যে একটি দেশ একা চলতে পারে না। কারণ এটি একটি আন্তনির্ভর বিশ্ব, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী এবং বলেন, ‘সুতরাং, এই পরিস্থিতিতে সদস্য দেশগুলোর জন্য কমনওয়েলথের অর্থ অনেক বড়। প্রতিটি দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে- কারণ অনেক দেশ আছে, উন্নত দেশ, উন্নয়নশীল দেশ এবং দরিদ্র দেশ, ছোট দ্বীপ দেশ'।"

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্মৃতি নিয়ে তিনি বলেন, এটি ১৯৬১ সালে যখন তিনি (রানি) তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সফর করেছিলেন এবং তিনি তাকে (ব্যক্তিগতভাবে প্রথমবার) দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন।

তিনি বলেন, 'তখন আমরা খুব ছোট এবং আমার বাবার (বঙ্গবন্ধুর) অফিসে গিয়েছিলাম, কারণ আমরা জানতাম যে তিনি সেই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাই আমরা সবাই, পুরো পরিবার, দুরবিন নিয়ে জানালায় অপেক্ষা করেছি। ফলে আমরা তাকে আরও স্পষ্টভাবে দেখতে পেয়েছি।'

তিনি যোগ করেন যে যখন প্রধানমন্ত্রী হন, তিনি প্রতিটি কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনে রানির সঙ্গে দেখা করেছেন।

‘আমি প্রায় সাতটি কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছি। প্রতিবারই আমি তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি।’

প্রয়াত রানির আমন্ত্রণে তিনি অলিম্পিক গেমসে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। তারা দীর্ঘদিন একে অপরের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেছেন।

প্রয়াত রানির সঙ্গে সুন্দর স্মৃতির কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তার (রানি) চমৎকার স্মৃতিশক্তি ছিল এবং তিনি আমাকে না দেখলে হাসিনা কোথায় ছিলেন বলতেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহামান্য যুক্তরাজ্যের একজন রানি ছিলেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, তবে তিনি কমনওয়েলথেরও একজন নেতা। কমনওয়েলথ দেশগুলোর একজন সদস্য হিসেবে, তিনি আমাদের কাছে অনেক মূল্যবান ছিলেন।’

প্রয়াত রানি প্রায় ৭০ বছর রাজকার্য পরিচালনা করেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি যে এই বিশ্বের জন্য তিনি কেবল একজন রানিই ছিলেন না, তিনি একজন অত্যন্ত স্নেহময়ী এবং মাতৃত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বও ছিলেন। যখনই আমি তার সঙ্গে দেখা করেছি, আমি এটি অনুভব করেছি।’

আরও পড়ুন:
মিয়ানমারের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সংযম দেখাচ্ছে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী
‘মাতৃতুল্য’ রানির স্মরণে কিছু করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
রানির শেষকৃত্যে অংশ নিতে লন্ডনে প্রধানমন্ত্রী
রানির শেষকৃত্যে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী
রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দোরাইস্বামীর বিদায়ী সাক্ষাৎ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
By participating in the voting the protest of the EVM will be zapar

ভোটে অংশ নিয়েই ইভিএমের প্রতিবাদ জাপার

ভোটে অংশ নিয়েই ইভিএমের প্রতিবাদ জাপার নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। ছবি: নিউজবাংলা
ইভিএম ফল উল্টে দেয়ার মতো একটা মেশিন বলে জনমনে ধারণা আছে জানিয়ে চুন্নু বলেন,' মেশিনের দোষ নেই, মেশিন যারা চালায় তাদের দোষ। কাজেই ইভিএমে নির্বাচনের বিষয়ে আমাদের সবসময়ই আপত্তি। আমরা ইভিএমে নির্বাচন চাই না। আপত্তি সত্ত্বেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ধরে রাখার জন্য এই নির্বাচনে গেলাম।’

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএমের বিরোধী হলেও এই যন্ত্রে ভোট হতে যাওয়া গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচনে অংশ নেয়ার কারণ জানিয়েছে সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিবাদের অংশ হিসেবেই এই ভোটে অংশ নিচ্ছে তারা।

বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু।

তিনি বলেন, ‘আমরা ইভিএমের নির্বাচনের পক্ষে না। গাইবান্ধা-৫ উপনির্বাচনটা ইভিএমে হবে। কিন্তু আমাদের পার্টির কালচার আছে আমরা নির্বাচন বর্জন করি না। নির্বাচন বর্জন করাকে আমরা মনে করি গণতন্ত্রকে ব্যাহত করা। তাই আমরা প্রতিবাদ হিসেবে সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি।

‘আমরা বলছি, এই নির্বাচনটা যদি ফেয়ার করতে পারেন, মানুষের কিছুটা আস্থা আসতে পারে। নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য করতে কী কী পদক্ষেপ নেবেন সেই বিষয়ে আমরা তাদের বলেছি। তারাও আমাদের বলেছে।’

ইভিএম ফল উল্টে দেয়ার মতো একটা মেশিন বলে জনমনে ধারণা আছে জানিয়ে চুন্নু বলেন,' মেশিনের দোষ নেই, মেশিন যারা চালায় তাদের দোষ। কাজেই ইভিএমে নির্বাচনের বিষয়ে আমাদের সবসময়ই আপত্তি। আমরা ইভিএমে নির্বাচন চাই না। আপত্তি সত্ত্বেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ধরে রাখার জন্য এই নির্বাচনে গেলাম।

‘আগামী নির্বাচনে কী করব সেটা পরিস্থিতির উপর সিদ্ধান্ত নেব। আমরা ভোট বর্জনের রাজনীতি করি না। তবে আগামী সংসদ নির্বাচনের পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়ার মৃত্যুতে গত ২৪ জুলাই গাইবান্ধা-৫ আসন শূন্য হয়৷ আগামী ১২ অক্টোবর এ আসনে ভোট হবে।

এই নির্বাচন ছাড়াও জাপা প্রতিনিধি দল কথা বলে আগামী ১৭ অক্টোবর হতে যাওয়া ৬১ জেলা পরিষদ নির্বাচনে। এই নির্বাচনে ভোটার হলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিজয়ী জনপ্রতিনিধিরা, যাদের সিংহভাগই নৌকা নিয়ে জয়ী হয়েছেন, কেউ কেউ দলের বিদ্রোহী নেতা।

গাইবান্ধা উপনির্বাচনের মতো জেলা পরিষদ নির্বাচনও বর্জন করেছে বিএনপি। তবে অংশ নিচ্ছে জাতীয় পার্টি।

জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে চুন্নু বলেন, ‘গাইবান্ধা জেলা পরিষদে অনেক এমপিরা তাদের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রচারণা করছেন। নির্বাচনকাজে বাধা দেয়ার জন্য আওয়ামী লীগের লোকেরা আমাদের প্রার্থীদের গাড়ি ভাঙচুর করেছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রার্থীদের হুমকি দেয়া হচ্ছে। তারা বলছে জোর করে ভোট নিয়ে নেবেন। যারা জাতীয় পার্টির এজেন্ট হবে তাদের এলাকায় থাকতে দেয়া হবে না।’

ভোটে সব কেন্দ্রে সিসিটিভির ক্যামেরার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন বলেও জানান জাপা নেতা।

সিইসি কী বলেছেন, জানতে চাইলে চুন্নু বলেন, ‘তারা বলেছেন ভয় ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে, সৎ থেকে ভালো নির্বাচন দেয়ার মতো মানসিকতা আছে, ইচ্ছা আছে। সেই ইচ্ছার প্রতিফলনটা জেলা পরিষদ নির্বাচন এবং গাইবান্ধা ভোটে দেখতে চাই।

‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার আমাদের বলেছেন, তারা আচরণবিধি ভঙ্গের বিষয়ে খুবই অনড় ও শক্ত অবস্থানে আছেন। সিইসি বলেছেন, এখন পর্যন্ত সংসদের উপনির্বাচনে সিসিটিভি ব্যবহার করার কথা রয়েছে। তবে জেলা পরিষদ নির্বাচনে সিসিটিভি ব্যবহারের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামী কমিশন সভায় জেলা পরিষদ নির্বাচনে সিসিটিভির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।’

আরেক প্রশ্নে চুন্নু বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে আজকে পর্যন্ত কোনো নির্বাচন শতভাগ ফেয়ার হয়েছে বলে কেউ বলতে পারবে না। সব নির্বাচনেই কম-বেশি হয়েছে। যখন যেই দল নির্বাচনে জিতে তখন তারা বলে নির্বাচন ফেয়ার হয়েছে এবং বাকিরা বলে নির্বাচন ফেয়ার হয়নি।

‘আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রমাণ করেছে যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও নির্বাচন ফেয়ার হয় না। জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে আমরা বলছি, বর্তমান সিস্টেমে নির্বাচন ফেয়ার করা সম্ভব না। একমাত্র নির্বাচন সিস্টেম যদি পরিবর্তন করা হয়, যদি আনুপাতিক হারে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয় তাহলেই শতভাগ ফেয়ার নির্বাচন করা সম্ভব। তবে আমরা চাই বেশিরভাগ নির্বাচন ফেয়ার হোক।'

আরও পড়ুন:
জাতীয় পার্টি এখন কারও দালালি করে না: চুন্নু
জাপার সম্মেলন ডাকার ব্যাখ্যা দিলেন রওশন
রওশন-কাদেরকে এক টেবিলে বসানোর চিন্তা
জাপানের ওপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া
ব্যানারে নেতার ছবি না থাকায় জাপার ২ গ্রুপে সংঘর্ষ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
I am ready to leave Sheikh Hasina

বিদায় নেয়ার জন্য প্রস্তুত আমি: শেখ হাসিনা

বিদায় নেয়ার জন্য প্রস্তুত আমি: শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সফর নিয়ে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: বাসস
‘ক্ষমতায় আমরা একটানা ছিলাম বলে আমরা উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছি। আমার লক্ষ্য ছিল ২০২০ সালের জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী, ২০২১ সালের দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং সুবর্ণজয়ন্তীতে কিন্তু আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। এখন বিদায় নেয়ার জন্য আমি প্রস্তুত।’

বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাওয়ার মধ্য দিয়ে নিজের দায়িত্ব শেষ হয়েছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন এখন তিনি বিদায় নেয়ার জন্য প্রস্তুত।

আওয়ামী লীগের আগামী জাতীয় সম্মেলনে একজন কাউন্সিলরও যদি আপত্তি তোলেন তিনি আর নেতৃত্বে থাকবেন না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন।

যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে গণভবনে বৃহস্পতিবার বিকেলে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় আমরা একটানা ছিলাম বলে আমরা উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছি। আমার লক্ষ্য ছিল ২০২০ সালের জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী, ২০২১ সালের দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং সুবর্ণজয়ন্তীতে কিন্তু আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। এখন বিদায় নেয়ার জন্য আমি প্রস্তুত।’

পরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের একজন কাউন্সিলর যদি বলে যে আমাকে চায় না, আমি কোনোদিনও থাকব না। এটা যেদিন থেকে আমার অবর্তমানে আমাকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট করেছিল, তখন থেকে এই শর্তটা মেনে যাচ্ছি।’

ব্রিটেনের রানি এলিজাবেথের শেষকৃত্যে যোগ দিতে যুক্তরাজ্য এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন। গত ৪ অক্টোবর রাতে তিনি দেশে ফেরেন।

শেখ হাসিনা বিদেশ সফর করলে বরাবর সাংবাদিকদেরকে ব্রিফ করেন। সেই ব্রিফিংয়ে সফরের বিষয়ে একটি সাধারণ বিবৃতি থাকে। এরপর থাকে প্রশ্নোত্তর পর্ব। এই পর্বে আর্থ-সামাজিক বা রাজনৈতিক সবশেষ পরিস্থিতির সম্পর্কে সরকার প্রধানের বক্তব্য উঠে আসে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

আওয়ামী লীগের আগামী জাতীয় সম্মেলন নিয়ে এক প্রশ্নে আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন, নতুন নেতৃত্বকে স্বাগত জানাতেও প্রস্তুত তিনি। বলেন, ‘এটা ঠিক, দীর্ঘ দিন হয়ে গেছে। আমি চাই নতুন নেতৃত্ব আসুক। নেতৃত্ব কাউন্সিলররা সাধারণত ঠিক করে, নির্বাচিত করে। কাউন্সিলরদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আমার তো আসলে সময় হয়ে গেছে।’

স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা পাওয়ার বিষয়টিও ওঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে। কিন্তু জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর বাংলাদেশের গণতন্ত্রহীনতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অনেক চড়াই উৎরাই পার হয়ে আমরা গণতন্ত্র উদ্ধার করি। এখন একটানা তিনবার অর্থাৎ ২০০৮ সালের নির্বাচন থেকে শুরু করে আজকে ২০২২ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম একটানা গণতন্ত্র অব্যাহত আছে। এর মধ্যে অনেক চড়াই উৎরাই, খুন-খারাপি, অগ্নিসংযোগ থেকে শুরু করে অগ্নিসন্ত্রাসসহ নানা কিছু ঘটেছে।’

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গ্রেপ্তার যুবক কারাগারে
বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফেরানোর চেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনার জন্মদিনে ভূমিষ্ঠ শিশুদের উপহার দিল স্বেচ্ছাসেবক লীগ
প্রধানমন্ত্রী জাপান যাচ্ছেন নভেম্বরে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Think of automating the system to avoid grid disruption

গ্রিড বিপর্যয় এড়াতে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয় করার চিন্তা

গ্রিড বিপর্যয় এড়াতে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয় করার চিন্তা গ্রিড বিপর্যয়ে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর দোকানে চার্জার লাইটে চলছে ব্যবসা। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটা অস্বাভাবিক ঘটনা নয়, টেকনিক্যাল ফল্ট হতেই পারে। আমরা আস্তে আস্তে সিস্টেম অটোমেশনের দিকে যাচ্ছি। অটোমেশন হলে এ ধরনের ঘটনা কমে যাবে। ভবিষ্যতে এ ঘটনাটা আমাদের জন্য সতর্কবাণী হিসেবে কাজ করবে।’

গ্রিড বিপর্যয়ের মতো ঘটনা এড়াতে সিস্টেম অটোমেশনের (স্বয়ংক্রিয়) দিকে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘অনেক সময় অনেকগুলো ঘটনা মানুষের ঘটানো থাকে, আবার মানুষের ঘটনা থাকে না। এ বিষয়গুলো ভেরি টেকনিক্যাল। টেকনিক্যাল যে সমস্যাগুলো থাকে সেগুলো আমরা সমাধানের চেষ্টা করি। এ পর্যন্ত গ্রিড সেভাবে আনস্টেবল হয়নি। আগের তদন্তগুলো মাথায় রেখে সেই পর্যায়ে ওই জায়গাগুলো স্টেবল করার জন্য।

‘এটা অস্বাভাবিক ঘটনা নয়, টেকনিক্যাল ফল্ট হতেই পারে। আমরা আস্তে আস্তে সিস্টেম অটোমেশনের দিকে যাচ্ছি। অটোমেশন হলে এ ধরনের ঘটনা কমে যাবে। ভবিষ্যতে এ ঘটনাটা আমাদের জন্য সতর্কবাণী হিসেবে কাজ করবে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত ৪ অক্টোবর দুপুর ১টায় ১১ হাজার ১৯৮ মেগাওয়াট এবং দুপুর ২টায় ১১ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে যথাক্রমে ১০ হাজার ১৯২ মেগাওয়াট এবং ১০ হাজার ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল। কিন্তু দুপুর ২টায় জাতীয় গ্রিডে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় গ্রিডের পূর্বাঞ্চলের পুরো অংশে বিদ্যুৎ বিভ্রাট শুরু হয়। এর ফলে ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও সিলেট জোন একযোগে বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে।’

ঘটনার পরপরই বিদ্যুৎ সংযোগ পুনর্বহাল কার্যক্রম শুরু হয় জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ঘটনার ৩২ মিনিটের মধ্যে ২টায় ৩৬ মিনিটে সিরাজগঞ্জের আশুগঞ্জে ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইন এবং ২টা ৪৩ মিনিটে ঘোড়াশাল জিআইএস থেকে ঘোড়াশাল এআইএস ২৩০ কেভি লাইন চালু করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে গণভবন ও ৫টা ৪০ মিনিটে বঙ্গভবনে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা হয়। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে পিজিসিবি (পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ)।

‘রাত ৯টার মধ্যে সম্পূর্ণ পূর্বাঞ্চলের গ্রিডে বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করা হয়। রাত ৯টায় চাহিদা বিপরীতে সারা দেশে ৮ হাজার ৪৩১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ রেকর্ড করা হয় যা রাত ১২টায় বেড়ে প্রায় ১০ হাজার ৫১৪ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়। প্রকৌশলীদের কর্মতৎপরতায় ৭ ঘণ্টার মধ্যে সম্পূর্ণ রেস্টরেশন (সংযোগ পুনর্বহাল) সম্পন্ন করা হয়েছে।’

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ উদ্ঘাটনে দুটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে জানিয়ে নসরুল হামিদ বলেন, ‘কমিটির সদস্যরা ৫ অক্টোবর ঘোড়াশাল ও আশুগঞ্জে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট গ্রিড উপকেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

‘ঘটনার প্রাথমিক অনুসন্ধোনে দেখা যায় যে ওই সময়ে পূর্বাঞ্চলে বিদ্যুৎ চাহিদার তুলনায় উৎপাদনে ঘাটতি থাকায় এবং পশ্চিমাঞ্চলে বাড়তি উৎপাদন থাকায় পশ্চিমাঞ্চল থেকে পূর্বাঞ্চলে ১১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সঞ্চালন করা হচ্ছিল।’

তিনি বলেন, ‘ঘটনার সময় আশুগঞ্জে ২৩০ কেভির দুটি সার্কিট এবং ঘোড়াশালের এআইএস থেকে ঘোড়াশাল জিআইএস ২৩০ কেভির সার্কিট ট্রিপ করায় পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে পূর্বাঞ্চলে বিদ্যুৎ চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়। সিস্টেম ফ্রিকোয়েন্সি রেঞ্জের নিচে নেমে যায়। আন্ডার ফ্রিকোয়েন্সিজনিত কারণে গ্রিড আনস্টেবল হয়ে পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ট্রিপ করে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সৃষ্টি হয়।

‘গ্রিড বিপর্যয় হলেও গ্রিড সিস্টেম এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে কোনো ফিজিক্যাল ড্যামেজ হয়নি। সে জন্য কমিটির গ্রিড সিস্টেমের বিভিন্ন প্রটেকশন ডাটা, ট্রিপিং রেকর্ড, বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিচালনার ডাটার পরীক্ষা ও পর্যালোচনা করে ঘটনার প্রকৃত কারণ উৎঘাটনে কিছু সময় প্রয়োজন হচ্ছে। আশা করছি এ ধরনের ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয়। আরও দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারেও পরিকল্পনা চলছে।’

আরও পড়ুন:
চাহিদার ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ আসবে পরমাণু থেকে: ইয়াফেস ওসমান
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ভবন থেকে পড়ে রাজমিস্ত্রির মৃত্যু
দেড় ঘণ্টার বৈঠকে জ্বলেছে বরিশাল নগরীর সড়ক বাতি
অন্য মেয়রদের বিদ্যুৎ বিল দেবেন না সাদিক
আকস্মিক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, বরিশালের ৩০ ওয়ার্ডের রাস্তা অন্ধকার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The government is looking into whether the grid disaster is sabotage or not

গ্রিড বিপর্যয় নাশকতা কি না দেখছে সরকার

গ্রিড বিপর্যয় নাশকতা কি না দেখছে সরকার প্রতীকী ছবি
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে দুটি জিনিস। একটা হলো এখনও পলিটিক্যাল পার্সনদের কাছে যেটা শুনতেছি, এ রকম ঘটনা আরও হবে। এটা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বললেন। আরও হবে মানে কিন্তু এখানে অন্য রকম ষড়যন্ত্রের কথা। উনি জানেন কীভাবে? জানেন কীভাবে ভবিষ্যতে আরও হবে, এত বছর হলো না। যে ব্যক্তিটা তার নিজের আমলে এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিতে পারেনি, ট্রান্সমিশনের লাইন তো বাদই দিলাম। একমাত্র খাম্বা এবং পুল ছাড়া কিছুই লাগাতে পারেনি। উনি কিন্তু পণ্ডিতের মতো কথা বলে দিলেন, এ রকম ঘটনা আরও হবে। এখানে কোনো অন্য রকম নাশকতা আছে কি না, সেটাও যাচাই-বাছাই চলছে।’

গ্রিড বিপর্যয়ে দেশের অর্ধেক অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটা নাশকতা কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে দুটি জিনিস। একটি হলো এখনও পলিটিক্যাল পার্সনদের কাছে যেটা শুনতেছি, এ রকম ঘটনা আরও হবে। এটা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বললেন। আরও হবে মানে কিন্তু এখানে অন্য রকম ষড়যন্ত্রের কথা। উনি জানেন কীভাবে? জানেন কীভাবে ভবিষ্যতে আরও হবে, এত বছর হলো না। যে ব্যক্তিটা তার নিজের আমলে এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিতে পারেনি, ট্রান্সমিশনের লাইন তো বাদই দিলাম।

‘একমাত্র খাম্বা এবং পুল ছাড়া কিছুই লাগাতে পারেনি। উনি কিন্তু পণ্ডিতের মতো কথা বলে দিলেন, এ রকম ঘটনা আরও হবে। এখানে কোনো অন্য রকম নাশকতা আছে কি না, সেটাও যাচাই-বাছাই চলছে। এটা হচ্ছে একটা বিষয়। আর দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে অবশ্যই টেকনিক্যাল সাইটটাও আমরা দেখতেছি।’

তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালের ঘটনাটি ছিল এক রকম। আর এই ঘটনাটি অন্য রকম। দুইটা দুই রকম ঘটনা। ওইখান থেকে যা নেয়ার, তার থেকে অনেক দূর পিজিসিবি অ্যাডভান্স লেভেলে চলে গেছে। পাওয়ার রিস্টোর করতে মানে কত দ্রুত আনতে পারি, বিভিন্ন উন্নত বিশ্বে কয়েক দিন আগে রেকর্ড আছে, তিন-চার দিন লেগে গেছে, কিন্তু আমরা সেদিকে যাচ্ছি না।

‘সবাই একসঙ্গে কাজ করার কারণে কিন্তু আমরা দ্রুততার সঙ্গে আনতে পেরেছি। এক ঘণ্টা পর থেকেই কিন্তু শুরু হয়ে গিয়েছিল রিস্টোর করা। এটা একটি বড় জিনিস। অবশ্যই টেকনিক্যাল ফল্ট এখানে আছে।

‘একদম পিন টু পিন যদি আমরা ধরতে যাই, তাহলে একটু সময় লাগবে। এ কারণে আমি দুটি কমিটি করে দিয়েছি। একটি কমিটি হলো বিদ্যুৎ বিভাগের ভেতরের লোক, আরেকটি কমিটি হলো বিদ্যুৎ বিভাগের বাইরের লোক।’

বিদ্যুতের লোডশেডিং পরিস্থিতির মধ্যেই পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিড ফেল করায় দেশের অর্ধেক অংশ মঙ্গলবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে।

বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্বে থাকা সরকারি কোম্পানি পাওয়ার গ্রিডের একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা জানান, এই গ্রিডের আওতায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। ফলে এই চার বিভাগে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

আরও পড়ুন:
শাহজালালে কার্যক্রম চলছে জেনারেটরে
জেলা শহরে বিদ্যুৎ ফিরছে দ্রুত, ঢাকায় দেরি
বিদ্যুৎহীন জীবন কাটাবেন যেভাবে
বিদ্যুৎ ফিরেছে বঙ্গভবনে, আলো ফিরছে দেশে
গ্রিড বিপর্যয়েও সচল বন্দর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Roshan explained the calling of Japa conference

জাপার সম্মেলন ডাকার ব্যাখ্যা দিলেন রওশন

জাপার সম্মেলন ডাকার ব্যাখ্যা দিলেন রওশন বৃহস্পতিবার রাজধানীর পল্টনে একটি হোটেলে জাতীয় পার্টির রওশনপন্থিদের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভিডিও বার্তা দেন দলটি প্রধান পৃষ্ঠপোষক বেগম রওশন এরশাদ। ছবি: নিউজবাংলা
কাউন্সিল ডাকার কারণ উল্লেখ করে রওশন এরশাদ বলেন, ‘কাউন্সিলটা ডেকেছি তার কারণ অনেক আছে, বিশেষ করে কিছু কিছু লোকের সঙ্গে...। গত কাউন্সিলে আমাদের গঠনতন্ত্রকে পরিবর্তন করে দিয়েছে, যেখানে যেখানে যার যত ক্ষমতা ছিল তা খর্ব করে দেয়া হয়েছে। এবং অনেক জায়গায় সংশোধন করে নতুন করে গঠনতন্ত্র আনা হয়েছে, এটা ঠিক হয় নাই।’

বিদেশে চিকিৎসাধীন জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক বেগম রওশন এরশাদ হঠাৎ করে ২৬ নভেম্বর দলের সম্মেলন ডাকার কারণ জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর পল্টনের একটি হোটেলে জাতীয় পার্টির রওশনপন্থিদের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভিডিও বার্তায় তিনি সম্মেলন (কাউন্সিল) ডাকার কারণ ব্যাখ্যা করেন।

যদিও রওশন এরশাদের কাউন্সিল ডাকাকে সম্পূর্ণ অবৈধ, অনৈতিক ও গঠনতন্ত্র পরিপন্থি বলেছেন দলটির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

ভিডিও বার্তায় রওশন এরশাদ বলেন, ‘আমার স্বাস্থ্য আল্লাহর রহমতে অনেক ভালো আছে, আমি এখন অনেকটা সুস্থ। পায়ের গিরায় সমস্যা আছে, এখান থেকে সেটার জন্য আমি ফিজিওথেরাপি নিচ্ছি। আর সব কিছু ভালো আছে, আমার ক্যানসার তো নাই ইনশাআল্লাহ।’

কাউন্সিল ডাকার কারণ উল্লেখ করে রওশন এরশাদ বলেন, ‘কাউন্সিলটা ডেকেছি তার কারণ অনেক আছে, বিশেষ করে কিছু কিছু লোকের সঙ্গে...। গত কাউন্সিলে আমাদের গঠনতন্ত্রকে পরিবর্তন করে দিয়েছে, যেখানে যেখানে যার যত ক্ষমতা ছিল তা খর্ব করে দেয়া হয়েছে। এবং অনেক জায়গায় সংশোধন করে নতুন করে গঠনতন্ত্র আনা হয়েছে, এটা ঠিক হয় নাই।’

তিনি বলেন, ‘এরশাদ সাহেবের মৃত্যুর পর পার্টিটা অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছে, এখন আমার মনে হয় পার্টিটা ঠিকমতো পরিচালিত হচ্ছে না। সে জন্য পার্টিটাকে শক্তভাবে দাঁড় করাতে হবে। আমার নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ আছে, তাদের সঙ্গে আমি কথা বলছি। যাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছি তাদের সঙ্গে আমি টেলিফোনে সব সময় যোগাযোগ করি। এবং চিঠিপত্রের মারফতে যোগাযোগ করি।’

তিনি বলেন, পার্টিকে শক্তিশালী করতে হবে, পার্টিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। যাতে করে আমরা আগামী নির্বাচন ভালোভাবে করতে পারি। আমাদের দলের বেশির ভাগ লোকেরই বয়স হয়েছে, নতুন প্রজন্মকে অবশ্যই আনতে হবে, যারা সরকারি কর্মকর্তা আছেন, রিটায়ের্ড করেছেন তাদেরও আনতে হবে। বেসামরিক কর্মকর্তা আছেন তাদের আনতে হবে, তাদের আনার জন্য সাদর আমন্ত্রণ জানাতে হবে। আহ্বান জানাতে হবে। আগামী ইলেকশনে (কাউন্সিল) আমি অবশ্যই নেতা-কর্মীদের ম্যানডেট নিচ্ছি। জাতীয় পার্টির পতাকাতলে আসার জন্য যারা ব্যস্ত, যারা পার্টি থেকে বহিষ্কার হয়ে গেছেন, যারা নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছেন, তারা সক্রিয় হচ্ছেন। এখন আবার জাতীয় পার্টি করার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে।’

ইভিএমে নির্বাচন হলেও ভোট করব

ইভিএম নিয়ে জাতীয় পার্টির বর্তমান নেতৃত্ব যখন ব্যাপক সমালোচনায় মুখর তখন দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ ওই ভিডিও বার্তায় জানালেন তিনি ইভিএমে নির্বাচন হলেও ভোট করবেন।

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচন অবশ্যই করব, ইভিএম হলেও নির্বাচন করব, সারা বিশ্বে এখন ইভিএমে নির্বাচন হচ্ছে। কাজেই আমাদের দেশে এটা হবে তা তো নতুন কথা নয়। যখন আমরা ফাইভজি ব্যবহার করছি, সেখানে ইভিএম ব্যবহার করতে সমস্যা কী।’

‘এখানে যারা নির্বাচনে জয় পায় তারা বলে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে আর যারা হেরে যায় তারা বলে কারচুপি হয়েছে। সুতরাং আমরা ইভিএমে নির্বাচন করব। আগামী মাসে (অক্টোবর) আমি দেশে ফিরে আসব ইনশাআল্লাহ।’

দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নেতা-কর্মীদের বলব, ‘আপনারা দুর্দিনে আমাদের পাশে ছিলেন এখনও আছেন, তারা পার্টিকে শক্তিশালী করবে, সেই বিশ্বাস আমার আছে, তারা নিশ্চয়ই কাজ করবে।’

তিনি বলেন, আমি রংপুরবাসীর জন্য বলছি, তারা দুর্দিনে আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, তারা আমাদের সহযোগিতা করেছে। এরশাদকে সহযোগিতা করেছে।

একদিকে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদপত্নী বেগম রওশন এরশাদ, অন্যদিকে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতার ভাই জি এম কাদের। দুজনের বিপরীতমুখী অবস্থানে ভাঙনের কবলে দল। ওদিকে জাতীয় নির্বাচনের দামামা বাজার অপেক্ষা। এই সময়ে এই দ্বন্দ্ব দলটিকে নতুন কোনো সংকটে ফেলে কি না, তা নিয়ে আছে আলোচনা।

সমস্যার শুরু গত ৩১ আগস্ট। দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ হঠাৎ করেই আগামী ২৬ নভেম্বর দলের সম্মেলন ডেকে বসেন। সেটি আবার জানতেন না দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদের। সেদিনই বিষয়টি স্পষ্ট করেন তার অনুসারী নেতারা।

পরদিন জাতীয় পার্টির সংসদীয় দল বৈঠক করে রওশনকে বিরোধীদলীয় নেতার পদ থেকে সরাতে স্পিকার শিরীন শারমীন চৌধুরীকে চিঠি দেন। ১৪ সেপ্টেম্বর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এরশাদ অনুসারী হিসেবে পরিচিত হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গাকে দল থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

জাতীয় পার্টির নেতারা বলছেন, দলের মধ্যে যে সংকট, তা আসলে আগামী নির্বাচনকে ঘিরে। অতীতেও নির্বাচন এলেই দলটিতে এমন সংকট দেখা গেছে। আগামী দিনে কারা ক্ষমতায় থাকবে, সেদিকেই দৃষ্টি এখন দলের। এ কারণেই বেশ কিছু কৌশল নিয়েছেন দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা।

আরও পড়ুন:
রওশন-কাদেরকে এক টেবিলে বসানোর চিন্তা
জাপানের ওপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে পূজার নিরাপত্তা লজ্জার: জি এম কাদের
কে আর ইসলামকে জাতীয় পার্টি থেকে অব্যাহতি
‘আগামী নির্বাচন হবে সহিংসতার-জবরদস্তির, মেসেজ পাচ্ছি’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The Prime Minister is coming to the press conference in the afternoon

প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে আসছেন বিকেলে

প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে আসছেন বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি
প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম বার্তা সংস্থা বাসসকে জানান, গণভবনে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে সংবাদ সম্মেলন শুরু হবে।

সদ্যঃসমাপ্ত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে এ সংবাদ সম্মেলন শুরু হবে।

সরকারপ্রধানের প্রেসসচিব ইহসানুল করিম বার্তা সংস্থা বাসসকে বুধবার এ তথ্য জানান।

যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে ৪ অক্টোবর দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্যে যাওয়ার মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রায় তিন সপ্তাহের সফর শুরু হয়। দেশটিতে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্য এবং রাজা তৃতীয় চার্লসের সিংহাসনে আরোহণের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে লন্ডন ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জাতিসংঘের বিভিন্ন পার্শ্ব বৈঠকেও অংশ নেন।

পরবর্তী সময়ে কিছু আনুষ্ঠানিকতা শেষে দেশে ফেরেন সরকারপ্রধান।

আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গ্রেপ্তার যুবক কারাগারে
বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফেরানোর চেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনার জন্মদিনে ভূমিষ্ঠ শিশুদের উপহার দিল স্বেচ্ছাসেবক লীগ
প্রধানমন্ত্রী জাপান যাচ্ছেন নভেম্বরে
রোহিঙ্গাদের অবশ্যই ফিরে যেতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Be careful not to mislead people with religion

‘ধর্ম দিয়ে কেউ যেন জনগণকে বিভ্রান্ত করতে না পারে, সজাগ থাকুন’

‘ধর্ম দিয়ে কেউ যেন জনগণকে বিভ্রান্ত করতে না পারে, সজাগ থাকুন’ বঙ্গভবনে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে মতবিনিময় করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। ছবি: পিআইডি
আবদুল হামিদ বলেন, ‘দুর্গাপূজায় আমরা অবশ্যই আনন্দ-উৎসব করব, কিন্তু মনে রাখতে হবে যে আমাদের প্রতিবেশী, বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজন তারাও যেন এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয়।’

যাতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী তাদের হীন স্বার্থে ধর্মকে ব্যবহার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে না পারে সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

বলেছেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাঙালির চিরকালীন ঐতিহ্য। এখানে মেজরিটি বা মাইনরিটির কোনো স্থান নেই।’

বুধবার সন্ধ্যায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বঙ্গভবনে হিন্দু ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও সৌজন্য সাক্ষাতে এ কথা বলেন।

দেশের সামগ্রিক অগ্রযাত্রায় রাষ্ট্রপ্রধান সম্মিলিতভাবে এ ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিতে সবাইকে একযোগে কাজ করারও তাগিদ দেন।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের হিন্দু ধর্মাবলম্বী সবাইকে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানিয়ে আবদুল হামিদ বলেন, ‘দুর্গাপূজায় আমরা অবশ্যই আনন্দ উৎসব করব, কিন্তু মনে রাখতে হবে যে আমাদের প্রতিবেশী, বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজন তারাও যেন এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয়।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সজাগ থাকতে হবে, যাতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী তাদের হীন স্বার্থে ধর্মকে ব্যবহার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে না পারে।’

রাষ্ট্রপতি গত ২৫ সেপ্টেম্বর পঞ্চগড় জেলার করতোয়া নদীতে নৌকাডুবিতে ৭০ জন পুণ্যার্থীর অকাল প্রয়াণে দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতিও গভীর সমবেদনা জানান। রাষ্ট্রপতি আহতদের আশু আরোগ্য কামনা করেন।

সারা বিশ্বে বিরাজমান করোনার ছোবল ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা ও সংঘাতময় পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, ‘বিশ্ববাসী চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রতিনিয়ত মন্দার ধাক্কা লাগছে।’

তিনি বিশ্বাস করেন 'এ অবস্থা থেকে উত্তরণে পরমতসহিষ্ণুতা, পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস আর সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই।’

গতকাল অনাকাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎবিভ্রাটের প্রসঙ্গ টেনে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ জন্য কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে।

তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সামনের দিনগুলোতে ধর্মীয় সব উৎসব আরও সুন্দর ও জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালিত হবে এবং ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সবার মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দের বন্ধন আরও সুসংহত হবে।

অনুষ্ঠানে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান, ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মনোরঞ্জন শীল গোপাল, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত পাল, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জে এল ভৌমিক, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী হরিপ্রেমানন্দ মহারাজ, ঢাকা মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি মনিন্দ্র কুমার নাথ অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন:
মিঠামইনে নির্মাণাধীন সেনানিবাস পরিদর্শনে রাষ্ট্রপতি
হাওরের উন্নয়ন নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার হচ্ছে: রাষ্ট্রপতি
৪ দিনের সফরে কিশোরগঞ্জে রাষ্ট্রপতি
চার দিনের সফরে কিশোরগঞ্জ যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যেন বিনষ্ট না হয়: রাষ্ট্রপতি

মন্তব্য

p
উপরে