× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
5 billion remittance in two and a half months is a relief to the economy
hear-news
player
google_news print-icon

আড়াই মাসেই ৫ বিলিয়ন রেমিট্যান্স

আড়াই-মাসেই-৫-বিলিয়ন-রেমিট্যান্স
ডলারের বিপরীতে টাকার বড় দরপতনে রেমিট্যান্সপ্রবাহ বেড়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ এবং ব্যাংকাররা। আর এতে অর্থনীতিতে এক ধরনের স্বস্তির বাতাস পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে করছেন তারা। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
সব মিলিয়ে ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২২-২৩ অর্থবছরের আড়াই মাসে (১ জুলাই থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর) ৫১৪ কোটি ২৮ লাখ (৫.১৪ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে দেশে। রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে ডলারের দর ১০৮ টাকা হিসেবে টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ ৫৫ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা।

দেশের অর্থনীতি নিয়ে নানা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বেড়েই চলেছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ১৫ দিনে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

সব মিলিয়ে ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২২-২৩ অর্থবছরের আড়াই মাসে (১ জুলাই থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর) ৫১৪ কোটি ২৮ লাখ (৫.১৪ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে দেশে। রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে ডলারের দর ১০৮ টাকা হিসাবে টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ ৫৫ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা।

গত ২০২১-২২ অর্থবছরের এই আড়াই মাসে ৪৫৪ কোটি ৪৯ লাখ (৪.৫৪ বিলিয়ন) ডলারের প্রবাসী আয় দেশে এসেছিল। এ হিসাবে আলোচ্য সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ১৫ শতাংশ।

ডলারের বিপরীতে টাকার বড় দরপতনে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা। আর এতে অর্থনীতিতে এক ধরনের স্বস্তির বাতাস পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।

অর্থনীতির গবেষক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখন কোনো প্রবাসী ১ ডলার দেশে পাঠালে তার পরিবারের যে সদস্যের নামে পাঠাচ্ছেন তিনি ১০৮ টাকা পাচ্ছেন। তার সঙ্গে আবার আড়াই শতাংশ সরকারের প্রণোদনাও পাচ্ছেন। সব মিলিয়ে তিনি যে টাকা তুলতে পারছেন, তা হুন্ডির মাধ্যমে পাঠালে যা পাওয়া যায়, তার সমান। সে কারণে প্রবাসীরা এখন ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। যার ফলে বাড়ছে এই সূচক; এটা দেশের অর্থনীতির জন্য ভালো।’

‘যেহেতু প্রবাসীরা এখন বেশি টাকা পাচ্ছেন, আমার বিবেচনায় এখন আর আড়াই শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দেয়া উচিত নয়।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ডলারের দর ১০৮ টাকার প্রভাব পড়েছে রেমিট্যান্সে। আগামী দিনগুলোতে এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে। গত দুই মাসের (জুলাই-আগস্ট) মতো সেপ্টেম্বর মাসেও ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসবে বলে আমরা আশা করছি।’

বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল রোববার রেমিট্যান্সের সাপ্তাহিক যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৫ দিনে (১ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর) ১০০ কোটি ৮৭ লাখ (১ বিলিয়নের বেশি) ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ৮৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। শতাংশ হিসাবে বেড়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ।

২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ২০৯ কোটি ৬৯ লাখ ১০ হাজার (২.১ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ছিল গত ১৪ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। আর গত বছরের জুলাই মাসের চেয়ে বেশি ছিল ১২ শতাংশ। পরের মাস আগস্টে আসে ২০৩ কোটি ৭৮ (২.০৪ বিলিয়ন) ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১২ দশমিক ৬০ শতাংশ। এই দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ৪১৩ কোটি ৪১ লাখ (৪.১৩ বিলিয়ন) ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে যা ছিল ১২ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি।

রোববার খোলাবাজার বা কার্ব মার্কেটে ১১৪ টাকায় প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে।

করোনা মহামারির পর ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ধাক্কায় ওলটপালট হয়ে যাওয়া অর্থনীতিতে গত ৫ আগস্ট জ্বালানি তেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধিতে যখন দেশজুড়ে ক্ষোভ-হতাশা এবং আগামী দিনগুলোতে কী হবে? এই প্রশ্ন সবার মধ্যে, তখন চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের শুরু থেকেই স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের প্রবাহ। মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০২০-২১ অর্থবছরের কথা। ভরা করোনা মহামারির মধ্যেও ওই অর্থবছরে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ছিল আগের অর্থবছরের (২০১৯-২০) চেয়ে ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

রেমিট্যান্সের এই উল্লম্ফনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এই কঠিন সময়ে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স আমাদের (সরকার) সাহস জোগাচ্ছে। করোনা মহামারির পর ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ধাক্কায় আমরা বেশ চাপের মধ্যে আছি। আগামী দিনগুলোতে কী হবে? এই দুশ্চিন্তা সবার মধ্যে, তখন স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের প্রবাহ। মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০২০-২১ অর্থবছরের কথা। ভরা করোনা মহামারির মধ্যেও ওই অর্থবছরে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ছিল আগের অর্থবছরের (২০১৯-২০) চেয়ে ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি। প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন ঘটে ওই বছরে। আশা করছি, চলতি অর্থবছরে তার চেয়েও বেশি রেমিট্যান্স পাঠাবেন আমাদের প্রবাসীরা।’

মহামারির মধ্যে ওই সময় অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছিলেন প্রবাসীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় অর্থনীতিতে যে নতুন সংকট দেখা দিয়েছে, সেই সংকট কাটাতেও সবার আগে এগিয়ে এসেছেন প্রবাসীরা। আবার বেশি বেশি রেমিট্যান্স দেশে পাঠাচ্ছেন তারা। এরই মধ্যে রপ্তানিও বাড়ছে। আমদানি কমতে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে এক ধরনের স্বস্তির আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ডলারের বাজারের অস্থিরতাও কমে আসবে বলে মনে হচ্ছে। এতে অনেকটাই চাপমুক্ত হবে দেশ। অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরে আসবে।’

২০২১-২২ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে মন্দা দেখা দেয়। পুরো অর্থবছরে ২ হাজার ১০৩ কোটি (২১.০৩ বিলিয়ন) ডলার এসেছিল। আগের বছরের (২০২০-২১) চেয়ে কমেছিল ১৫ দশমিক ১২ শতাংশ। কিন্তু চলতি অর্থবছরে ঘুরে দাঁড়িয়েছে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক। শুরু থেকেই ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা যাচ্ছে। এই প্রবণতা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

অর্থ মন্ত্রণালয়ও তেমনই পূর্বাভাস দিয়েছে। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত অর্থবছরজুড়ে (২০২১-২২) ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধিতে থাকা প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সে নতুন অর্থবছরে ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।

এই অর্থবছরে রেমিট্যান্স বাড়ার কারণ হিসেবে মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘করোনা-পরবর্তী সময়ে দেশ থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ শ্রমিক নতুন করে বিদেশে যাওয়ায় তাদের কাছ থেকে বাড়তি পরিমাণ রেমিট্যান্স পাওয়া যাবে।’ দেশের অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোর হালচাল নিয়ে তৈরি করা পাক্ষিক প্রতিবেদনেও রেমিট্যান্স নিয়ে সুসংবাদের আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

১৫ আগস্ট প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় বাড়াতে সরকার ইতিমধ্যে রেমিট্যান্সে নগদ প্রণোদনা ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ করেছে। করোনা মহামারি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় সব প্রবাসী তাদের কর্মস্থলে ফিরেছেন। টাকার বিপরীতে ডলার বেশ খানিকটা শক্তিশালী হয়েছে। এই বিষয়টি আগামী মাসগুলোতে রেমিট্যান্স বাড়াতে সাহায্য করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২২-২৩ অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে আশা করা হয়েছে, রেমিট্যান্স ঊর্ধ্বমুখী হবে এবং চলতি অর্থবছরে গত বছরের চেয়ে ১৫ শতাংশ বেশি আসবে।

আরও পড়ুন:
ব্যাংকে রেমিট্যান্স আনা আরও সহজ হলো
রেমিট্যান্সে ফের উল্লম্ফন, ৭ দিনে ৫ হাজার কোটি টাকা
আগস্টের শুরুতে রেমিট্যান্সে ৫৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি
বিদেশি বিনিয়োগের পালেও জোর হাওয়া
রেমিট্যান্সের পর অর্থনীতির চাপ কমাচ্ছে রপ্তানির উল্লম্ফন

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Bangladeshi Arnab selected as a representative at the University of Norway

নরওয়ের ইউনিভার্সিটিতে রিপ্রেজেন্ট নির্বাচিত বাংলাদেশি অর্ণব

নরওয়ের ইউনিভার্সিটিতে রিপ্রেজেন্ট নির্বাচিত বাংলাদেশি অর্ণব রাকিন আবসার অর্ণব
অর্ণব বলেন, ‘আমি নির্বাচনি প্রচারণার সময় লক্ষ্য নিয়েছিলাম ২ জন প্রধান রিপ্রেজেন্টেটিভের মধ্যে আমি একজন হবো। আশা করছি বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া ডিপার্টমেন্টের সমস্যা তুলে ধরা এবং সমাধানের জন্য প্রতিনিধি হিসেবে আমার উপর সকলে যেই আস্থা এনেছেন তা আমি বাস্তবায়ন করতে পারবো।’

নরওয়ের ভলডা ইউনিভার্সিটি কলেজের স্টুডেন্ট পার্লামেন্ট নির্বাচনে মিডিয়া ডিপার্টমেন্টের প্রধান রিপ্রেজেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী রাকিন আবসার অর্ণব ।

অর্ণব সেখানে মিডিয়ায় প্র‍্যাকটিসেস বিষয়ে মাস্টার্স করছেন। নির্বাচনে অন্য প্রার্থীর তুলনায় তিনি অনেক বেশি ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

অর্ণব বলেন, ‘আমি নির্বাচনি প্রচারণার সময় লক্ষ্য নিয়েছিলাম ২ জন প্রধান রিপ্রেজেন্টেটিভের মধ্যে আমি একজন হবো। আশা করছি বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া ডিপার্টমেন্টের সমস্যা তুলে ধরা এবং সমাধানের জন্য প্রতিনিধি হিসেবে আমার উপর সকলে যেই আস্থা এনেছেন তা আমি বাস্তবায়ন করতে পারবো।’

মূলত ভলডা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের স্টুডেন্ট পার্লামেন্ট মেম্বার নির্বাচনে ২২ জন প্রতিনিধি নির্বাচিত হন। এর মধ্যে ১১ জন থাকেন মূল সদস্য এবং ১১ জন সহযোগী সদস্য। প্রতি বিভাগ থেকে চারজন সদস্য নির্বাচিত হন। এর মধ্যে দুইজন মূল সদস্য, আর দুইজন সহযোগী।

এর আগে গত বছর প্রথমবারের মতো কোনো বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হিসেবে ভলডা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের স্টুডেন্ট পার্লামেন্ট মেম্বার নির্বাচনে সহযোগী সদস্য নির্বাচিত হন অর্ণব।

বাংলাদেশে ছাত্রবস্থায় বাম ধারার সংগঠন ছাত্র মৈত্রীর সাথে যুক্ত ছিলেন অর্ণব। দুই দফা নেতৃত্ব পর্যায়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর রাজশাহী জেলা কমিটির সভাপতি ও বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী ঢাকা মহানগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন নরওয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
What do the expatriates think of the new king after the queens death?

রানির মৃত্যুর পর নতুন রাজা, কী ভাবছেন প্রবাসীরা

রানির মৃত্যুর পর নতুন রাজা, কী ভাবছেন প্রবাসীরা ২০১৮ সালের ৯ জুন লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ, প্রিন্স চার্লস, ক্যামিলা পারকারসহ রাজপরিবারের সদস্যরা। ছবি: এএফপি
প্রবাসী নারীদের কয়েকজন জানিয়েছেন, রানির চলে যাওয়া তাদের এতটাই মর্মাহত করেছে যে কেউ কেউ নিজের কাজেও মনঃসংযোগ করতে পারছিলেন না। অন্যদিকে সাত দশক পর ব্রিটেনে নতুন রাজার অভিষেক ঘটল, এমন দুর্লভ ঘটনার সাক্ষী হতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন প্রবাসীরা। এদিকে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রিন্সের ডায়ানার মৃত্যুর পর তার শাশুড়ি রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ও স্বামী প্রিন্স চার্লসের বৈরিতাপূর্ণ আচরণ এখনও মেনে নিতে পারছেন না অনেক প্রবাসী।

ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝেও। প্রবাসী নারীদের কয়েকজন জানিয়েছেন, রানির চলে যাওয়া তাদের এতটাই মর্মাহত করেছে যে কেউ কেউ নিজের কাজেও মনঃসংযোগ করতে পারছিলেন না।

অন্যদিকে সাত দশক পর ব্রিটেনে নতুন রাজার অভিষেক ঘটল, এমন দুর্লভ ঘটনার সাক্ষী হতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন প্রবাসীরা। ৭৩ বছর বয়সী চার্লস রাজা হিসেবে অধিষ্ঠিত হওয়ায় প্রবাসীদের উঠতি বয়সী সন্তানরা মনে করছে তারা হয়তো আরও একটি নতুন রাজা বা রানির রাজকীয় অভিষেক অনুষ্ঠান নিজের চোখে দেখতে পারবেন।

এদিকে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যুর পর তার শাশুড়ি রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ও স্বামী প্রিন্স চার্লসের বৈরিতাপূর্ণ আচরণ এখনও মেনে নিতে পারছেন না অনেক প্রবাসী।

ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যু ও তার জ্যেষ্ঠপুত্র প্রিন্স চার্লসের রাজা হিসেবে অভিষেক হওয়াসহ রাজপরিবারের এমন ঐতিহাসিক পালাবদল নিয়ে বিশ্ববাসীর মনোযোগ যখন যুক্তরাজ্যকে ঘিরে তখন এসব বিষয়ে প্রবাসীদের প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছে নিউজবাংলা।

যুক্তরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশির সংখ্যা পাঁচ লাখের মতো। বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে তাদের।

দুই দশকের বেশি সময় যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা চিকিৎসক আসমা আক্তার মিতা বলেন, ‘রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর ঘটনাটি এখনও বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। আমি ভেবেছিলাম উন্নত ও রাজকীয় চিকিৎসায় এ যাত্রায়ও সেরে উঠবেন রানি। তবে তা আর হয়ে ওঠেনি। কঠিন এক সত্যের মুখোমুখি হয়েছি। আমরা সত্যি সত্যি হারিয়ে ফেলেছি রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথকে।

‘বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাসপাতাল থেকে ফিরে এসে রানির মৃত্যুর খবর শুনে আর কাজে মনোযোগ দিতে পারছিলাম না। ভীষণ আপসেট লাগছে। রানি অনেক বেশি হাসি-খুশি ও জনবান্ধব ছিলেন।’

রানির মৃত্যুর পর নতুন রাজা, কী ভাবছেন প্রবাসীরা
যুক্তরাজ্যের সাউদার্ন হ্যাম্সট্যাডে নিজের বাড়ির ফুলবাগানে চিকিৎসক আসমা আক্তার মিতা (বাঁয়ে), তার স্বামী ও অতিথিরা। ছবি: ফেসবুক

১৯৮৩ সালে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করে মিতা বলেন, ‘রানিকে একপলক দেখতে আমরা অনেকে (ভিকারুন নিসা নূন স্কুলের শিশু শিক্ষার্থী) ছুটে গিয়েছিলাম। আমি দৌড়ে একদম কাছে চলে গিয়েছিলাম রানির। আমার দিকে হাত তুলে মিষ্টি হাসি দিয়েছিলেন রানি। এখনও স্পষ্ট সেই স্মৃতি।’

রানির মৃত্যুর ঘটনায় লন্ডনে সফটওয়্যার কোয়ালিটি অ্যানালিস্ট হিসেবে কর্মরত ফাহমিদা আক্তার জানান, ‘কমনওয়েলথ দেশভুক্ত হিসেবে আমরা একজন অভিভাবককে হারালাম। রানিকে বিদায় জানাতে হবে বলে কষ্ট হচ্ছে। রানির শেষকৃত্যের দিন এখানে সরকারি ছুটি থাকতে পারে। আমরা পরিবার নিয়ে সেখানে যেতে পারি।’

রানির মৃত্যুর পর নতুন রাজা, কী ভাবছেন প্রবাসীরা
যুক্তরাজ্যের একটি স্টেডিয়ামে সফটওয়্যার কোয়ালিটি অ্যানালিস্ট ফাহমিদা আক্তার ও তার ছেলে। ছবি: ফেসবুক

নতুন রাজার অভিষেক প্রসঙ্গে দুই সন্তানের মা আসমা আক্তার মিতা বলেন, ‘আমার দুই ছেলেমেয়েই নতুন রাজার রাজকীয় অভিষেক নিয়ে খুবই উচ্ছ্বসিত। তারা মনে করছে এমন দুর্লভ অভিষেক অনুষ্ঠান হয়তো আরও কয়েকটি দেখতে পারবে।’

এদিকে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্যদের বিতর্কিত জীবনযাপন-বিয়ে ও প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যুতে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ও তার ছেলে এবং ডায়ানার স্বামী প্রিন্স চার্লসের রহস্যময় ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন লন্ডনপ্রবাসী শেখ চৌধুরী।

১৯৮৫ সালে সিলেট থেকে লন্ডনে পাড়ি দেয়া শেখ চৌধুরী আরও বলেন, ‘প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যুর দায় রানি ও প্রিন্স চার্লস এড়াতে পারেন না। রাজপরিবারের সবচেয়ে জনপ্রিয় চরিত্র প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যুর ঘটনায় ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের প্রতি অনেক প্রবাসীরই ক্ষোভ ও ঘৃণা জন্মেছে।’

রানির মৃত্যুর পর নতুন রাজা, কী ভাবছেন প্রবাসীরা
যুক্তরাজ্যে ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানে ১৯৮৫ সালে সিলেট থেকে লন্ডনে পাড়ি দেয়া শেখ চৌধুরী। ছবি: ফেসবুক

বামিংহাম সিটি কাউন্সিলে কর্মরত শেখ চৌধুরী আরও বলেন, ‘ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী, কোনো ডিভোর্সি (তালাকপ্রাপ্ত) নারী (ক্যামিলা পারকার) কখনই রানি হতে পারেন না। তবে তারা নিজেদের সুবিধামতো আইন, এমন একজনকে রানি করেছেন যিনি ডায়ানা হত্যায় পরোক্ষ দায় এড়াতে পারেন না।’

নতুন রাজা চার্লস প্রসঙ্গে ফাহমিদা আক্তার আরও বলেন, ‘অভিষেকের দিনে চার্লসের দেয়া বক্তব্যে সবার জন্য সম-অধিকার গুরুত্ব পাওয়ায় মনে হচ্ছে তিনি রানির আদর্শ ও শিক্ষাকে কিছুটা হলেও ধারণ করতে পেরেছেন।’

মা রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর এক দিন পর শনিবার ব্রিটেনের রাজা হিসেবে সিংহাসনে বসেন প্রিন্স চার্লস ফিলিপ আর্থার জর্জ। তিনি পরিচিতি পাবেন যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লস হিসেবে।

রানির মৃত্যুর পর নতুন রাজা, কী ভাবছেন প্রবাসীরা
যুক্তরাজ্যে প্রবাসী নারীদের সঙ্গে সফটওয়্যার কোয়ালিটি অ্যানালিস্ট ফাহমিদা আক্তার (ডানে)। ছবি: ফেসবুক

স্থানীয় সময় শনিবার সকালে লন্ডনের সেন্ট জেমসেস প্রাসাদে এক সাড়ম্বরপূর্ণ আয়োজন ‘অ্যাকসেশন কাউন্সিলের’ মাধ্যমে চার্লসকে রাজা হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়। আজ যুক্তরাজ্যজুড়ে রাজার অভিষেক অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে।

যুক্তরাজ্যে দীর্ঘ ৭০ বছর সিংহাসনে থাকা রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের কোহিনূরখচিত মুকুটটি পেতে যাচ্ছেন রাজা তৃতীয় চার্লসের দ্বিতীয় স্ত্রী ক্যামিলা পারকার।

আরও পড়ুন:
৭০ বছর পর খেলার মাঠে ‘গড সেভ দ্য কিং’
রানির শেষকৃত্য ১৯ সেপ্টেম্বর
‘অপারেশন লন্ডন ব্রিজ’ আসলে কী?
সিংহাসনে বসলেন রাজা তৃতীয় চার্লস
রানির মৃত্যুতে আইনজীবীর সর্বোচ্চ উপাধিতেও পরিবর্তন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Australia will take six times more immigrants

ছয় গুণ অভিবাসী নেবে অস্ট্রেলিয়া

ছয় গুণ অভিবাসী নেবে অস্ট্রেলিয়া অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের লাইন। ছবি: অস্ট্রেলিয়া প্রতিরক্ষা দপ্তর
চলতি বছর অভিবাসীর সংখ্যা ৩৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৯৫ হাজার করবে ওশেনিয়ার এই দেশটি। গণনার যন্ত্রে এ হিসাব দাঁড়ায় প্রায় ৬ গুণের সমান। মন্ত্রী বলেন, এই সুযোগ ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত থাকবে।

কর্মস্থলে জনবল কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে বছরে প্রায় ছয় গুণ অভিবাসী নেবে অস্ট্রেলিয়া। সেই সঙ্গে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের অপেক্ষার সময়ও কমাবে দেশটি।

স্থানীয় সময় শুক্রবার ক্যানবেরায় সরকারি চাকরির সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্লেয়ার ও’নেইল।

করোনা মহামারির কারণে গত দুই বছর দেশটিতে অভিবাসন প্রক্রিয়া প্রায় বন্ধ থাকার পাশাপাশি কঠোর অভিবাসন প্রক্রিয়ার কারণে সেখানে কর্মীর সংখ্যা কমে গেছে।

চলতি বছর অভিবাসীর সংখ্যা ৩৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৯৫ হাজার করবে ওশেনিয়ার এই দেশটি। গণনার যন্ত্রে এ হিসাব দাঁড়ায় প্রায় ৬ গুণের (৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ) সমান।

ছয় গুণ অভিবাসী নেবে অস্ট্রেলিয়া
চলতি বছর অভিবাসীর সংখ্যা ৩৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৯৫ হাজার করবে অস্ট্রেলিয়া। ছবি: সিএনবিসি

চলতি বছর ব্যাপকসংখ্যক নার্স ও ইঞ্জিনিয়ার নেবে দেশটি। দেশটিতে বেকারত্বের হার গত ৫০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ৩.৪ শতাংশে নেমেছে।

সরকারের ১৪০ প্রতিনিধি, শ্রমিক ইউনিয়ন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্প-কারখানার মালিকরা দুই দিনের এ সম্মেলনে যোগ দেন।

তিনি বলেন, এই সুযোগ ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত থাকবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘তীব্র জনবল সংকটে আমাদের নার্সদের গত দুই বছর দুই বা তিন শিফটেও কাজ করতে হচ্ছে। গ্রাউন্ড স্টাফের অভাবে অনেক ফ্লাইট বাতিল করতে হচ্ছে। কর্মীর অভাবে গাছ থেকে ফল নামানো যাচ্ছে না। এতে করে অনেক ফল বাগানেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’

মহামারির কারণে বিপর্যস্ত দেশটিতে কর্মীর ঘাটতে দেখা দেয়ার ফেডারেল সরকারের দৃষ্টি এখন শিক্ষিত ও দক্ষ অভিবাসীদের দিকে।

গত বছর ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল সরকারের ট্রেজারার জোস ফ্রাইডেনবার্গ জানান, দেশের অর্থনীতিকে জাগাতে হলে এবং দক্ষ জনগোষ্ঠীর ঘাটতি পূরণে সহায়তা করতে স্থায়ী অভিবাসী ৩৫ হাজার থেকে বছরে এক লাখ ৬০ হাজার পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে।

মহামারির কারণে বিপর্যস্ত দেশটিতে কর্মীর ঘাটতে দেখা দেয়ায় ফেডারেল সরকারের দৃষ্টি এখন শিক্ষিত ও দক্ষ অভিবাসীদের দিকে।

আরও পড়ুন:
অস্ট্রেলিয়ায় মূল্যস্ফীতি ২১ বছরে সর্বোচ্চ
অস্ট্রেলিয়া দল থেকে বিশ্রামে কামিন্স

মন্তব্য

বাংলাদেশ
3 expatriates died in an accident in Sylhet

সিলেটে ৩ প্রবাসীর মৃত্যু ‘দুর্ঘটনায়’

সিলেটে ৩ প্রবাসীর মৃত্যু ‘দুর্ঘটনায়’ এই কক্ষ থেকেই উদ্ধার করা হয় প্রবাসী পরিবারের ৫ সদস্যকে। ছবি: নিউজবাংলা
সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘দীর্ঘ তদন্ত প্রক্রিয়ায় পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে, এটি একটি দূর্ঘটনা। তদন্তে প্রবাসী পরিবারের স্বজন ও আশপাশের সংশ্লিষ্ট সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পূর্ব শত্রুতা বা হামলার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’

সিলেটের ওসমানীনগরে এক প্রবাসী পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যু এবং আরও দুই সদস্যের অসুস্থতাকে দুর্ঘটনা বলছে পুলিশ। জেনারেটরের ধোঁয়া থেকে এমনটি ঘটতে পারে বলে ধারণা তাদের।

মঙ্গলবার দুপুরে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন জানান, ভিসেরা রিপোর্টে মারা যাওয়া ৩ প্রবাসীর শরীরে কোনো রাসায়নিক বা বিষক্রিয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘দীর্ঘ তদন্ত প্রক্রিয়ায় পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে, এটি একটি দূর্ঘটনা। তদন্তে প্রবাসী পরিবারের স্বজন ও আশপাশের সংশ্লিষ্ট সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পূর্ব শত্রুতা বা হামলার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’

পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘জেনেরেটরের ধোঁয়া থেকেই তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে। এ বিষয়ে অধিকতর তদন্ত চলছে।’

গত ২৬ জুলাই সিলেটের ওসমানী নগরে শয়নকক্ষ থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় যুক্তরাজ্য প্রবাসী পরিবারের ৫ সদস্যকে। এ সময় শয়নকক্ষের দরজা ছিল ভেতর থেকে বন্ধ। পুলিশ দরজা ভেঙে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠালে প্রথমে গৃহকর্তা রফিকুল ইসলাম ও তার ছেলে মাইকুলকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। এর ১১ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মেয়ে সাদিয়া ইসলামও।

তবে রফিকুল ইসলামের স্ত্রী হুছনারা বেগম ও ছেলে সাদিকুল ইসলাম সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন।

এ ঘটনায় নিহত রফিকের শ্যালক দিলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ওসমানীনগর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে স্বপরিবারে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছিলেন রফিকুল ইসলাম। অসুস্থ ছেলে সাদিকুল ইসলামকে চিকিৎসা দেয়ার জন্য গত ১২ জুলাই স্বপরিবারে তিনি দেশে ফেরেন।

এক সপ্তাহ ঢাকায় ছেলের চিকিৎসা শেষে ১৮ জুলাই উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অরুণোদয় পাল ঝলকের মালিকানাধীন বাসার দ্বিতীয় তলা ভাড়া নেন। ওই বাসায়ই অসুস্থতা ও মৃত্যুর কবলে পড়ে পরিবারটি।

আরও পড়ুন:
জালাল ইউনূসের গৃহকর্মীর মরদেহ উদ্ধার
মাদ্রাসার পুকুরে দুই সহোদরের মরদেহ
ঘরে দম্পতির মরদেহ, হাসপাতালে সন্তানসহ তিনজন
পিকআপের ধাক্কায় প্রাণ গেল মাদ্রাসাছাত্রের
বাসায় ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার, হাসপাতালে মৃত্যু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Large explosion at Russian arsenal in Crimea

ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার অস্ত্রাগারে বড় বিস্ফোরণ

ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার অস্ত্রাগারে বড় বিস্ফোরণ ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেন দাবি করেছে, বিস্ফোরণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত একটি বিদ্যুৎ সাবস্টেশন জাপোরিজ্জিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করত।

মঙ্গলবার ইউক্রেনের রুশ অধীকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপে একটি সামরিক ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হলে ওই এলাকা থেকে ৩ হাজারেরও বেশি লোককে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, মেসকোয়ের একটি গোলাবারুদ সংরক্ষণ কেন্দ্রে বড় আকারের এই বিস্ফোরণটি ঘটে।

২০১৪ সালে দখল করা অঞ্চলটিতে এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল।

প্রাথমিকভাবে এই বিস্ফোরণকে ‘নাশকতা’ হিসেবে অভিহিত করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ। গত সপ্তাহেও ক্রিমিয়ার সাকি বিমান ঘাঁটিতে এক হামলায় ৯টি রুশ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করে দেয়া হয়।

বিস্ফোরণের ঘটনায় ইউক্রেন দায় স্বীকার না করলেও দেশটির প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা মিখাইলো পোদোলিয়াক এক টুইটে মন্তব্য করেন, রুশদের দখলে থাকা ক্রিমিয়া হচ্ছে বিস্ফোরণ এবং আক্রমণকারী ও চোরদের জন্য মৃত্যুর উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন স্থান।

রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডিপোতে আগুন লাগার ফলে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিদ্যুৎলাইন, রেললাইন ও কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এতে কেউ গুরুতর আহত হননি।

ইউক্রেনের পোদোলিয়াক দাবি করেছেন, বিস্ফোরণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত একটি বিদ্যুৎ সাবস্টেশন জাপোরিজ্জিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করত।

আরও পড়ুন:
যুদ্ধের থ্রিল নিতে পর্যটক ডাকছে ইউক্রেনীয় প্রতিষ্ঠান
ইউরোপে রুশ তেলের পাইপলাইন বন্ধ করল ইউক্রেন
ইউরোপে পারমাণবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা জাতিসংঘের
‘রাজাকার’ ধরতে ইউক্রেনীয় শহরে অভিযান
রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধে মুসলমানরা কোন পক্ষে?

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Another jump in remittances is 5 thousand crores in 7 days

রেমিট্যান্সে ফের উল্লম্ফন, ৭ দিনে ৫ হাজার কোটি টাকা

রেমিট্যান্সে ফের উল্লম্ফন, ৭ দিনে ৫ হাজার কোটি টাকা আগস্ট মাসের ৭ দিনেই ৫৫ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ ৫ হাজার ২২৫ কোটি টাকা। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট সূত্রে জানা গেছে, আগস্ট মাসের ৭ দিনেই ৫৫ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ৯৫ টাকা) টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ ৫ হাজার ২২৫ কোটি টাকা, যা গত বছরের আগস্টের একই সময়ের চেয়ে ৪৮ দশমিক ২০ শতাংশ বেশি।

অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বেড়েই চলেছে। জুলাই মাসের পর আগস্ট মাসেও বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভের অন্যতম প্রধান উৎস রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের পালে জোর হাওয়া লেগেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট সূত্রে জানা গেছে, আগস্ট মাসের ৭ দিনেই ৫৫ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ৯৫ টাকা) টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ ৫ হাজার ২২৫ কোটি টাকা, যা গত বছরের আগস্টের একই সময়ের চেয়ে ৪৮ দশমিক ২০ শতাংশ বেশি।

এ হিসাবে প্রতিদিন এসেছে ৭ কোটি ৮৬ লাখ ডলার বা ৭৪৬ কোটি টাকা।

বাজারে ডলারের ব্যাপক চাহিদা থাকায় ব্যাংকগুলো ১১০ টাকার বেশি দরেও রেমিট্যান্স সংগ্রহ করছে। সে হিসাবে টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ আরও বেশি।

মাসের বাকি ২৪ দিনেও এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে- এমন আশার কথা শুনিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জুলাই মাসের মতো আগস্ট মাসেও ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স দেশে আসবে।’

২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ২০৯ কোটি ৬৯ লাখ ১০ হাজার (২.১ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ছিল গত ১৪ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। আর গত বছরের জুলাই মাসের চেয়ে বেশি ১২ শতাংশ।

প্রতি ডলার ৯৫ টাকা হিসাবে টাকার অঙ্কে ওই অর্থের পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা।

গত বছরের আগস্ট মাসের ৭ দিনে (১ থেকে ৭ আগস্ট) ৩৭ কোটি ১০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত (১ মাস ৭ দিনে) ২৬৪ কোটি ৭০ লাখ (২.৬৫ বিলিয়ন) ডলার দেশে এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৮ শতাংশ বেশি।

২০২১-২২ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত ২২৪ কোটি ৩০ লাখ (২.২৪ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

করোনা মহামারির পর ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ধাক্কায় ওলটপালট হয়ে যাওয়া অর্থনীতিতে কয়েক দিন আগে জ্বালানি তেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধিতে যখন দেশজুড়ে ক্ষোভ-হতাশা এবং আগামী দিনগুলোতে কী হবে? এই প্রশ্ন সবার মধ্যে তখন স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের প্রবাহ। মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০২০-২১ অর্থবছরের কথা। ভরা করোনা মহামারির মধ্যেও ওই অর্থবছরে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ছিল আগের অর্থবছরের (২০১৯-২০) চেয়ে ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

‘মহামারির মধ্যে ওই সময় অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছিলেন প্রবাসীরা’ এই মন্তব্য করে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় অর্থনীতিতে যে নতুন সংকট দেখা দিয়েছে, সেই সংকট কাটাতেও সবার আগে এগিয়ে এসেছেন প্রবাসীরা। আবার বেশি বেশি রেমিট্যান্স দেশে পাঠাচ্ছেন।’

চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্সের বিস্ময়কর উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে। চলতি জুলাইয়ের প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এই অর্থবছরে তৈরি হবে নতুন রেকর্ড। এতে অনেকটাই চাপমুক্ত হবে দেশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্য বলছে, ১ জুলাই শুরু হওয়া ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রায় ২১০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এ হিসাবে প্রতিদিন ৬ কোটি ৭৬ লাখ ডলার করে পাঠিয়েছেন তারা; টাকার হিসাবে প্রতিদিন দেশে এসেছিল ৬৪০ কোটি টাকা।

এখন তার চেয়েও বেশি টাকা দেশে পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা।

গত বছরের জুলাই মাসে ১৮৭ কোটি ১৫ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

২০২১-২২ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে মন্দা দেখা দেয়। পুরো অর্থবছরে ২ হাজার ১০৩ কোটি (২১.০৩ বিলিয়ন) ডলার এসেছিল; গড়ে প্রতিদিন ৫ কোটি ৭৬ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন ঘটে ২০২০-২১ অর্থবছরে। সে সময় ২ হাজার ৪৭৮ কোটি (২৪.৭৮ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠান প্রবাসীরা। ওই অর্থবছরে প্রতিদিন গড়ে ৬ কোটি ৭৯ ডলার প্রবাসী আয় হিসেবে দেশে এসেছিল।

এসব হিসাব থেকে দেখা যাচ্ছে, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে রেমিট্যান্সে রয়েছে ঊর্ধ্বগতি। এই প্রবণতা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে এবং এই অর্থবছরে নতুন রেকর্ড তৈরি হবে বলে মনে করছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘গত অর্থবছরে সাড়ে ৭ লাখ লোক কাজের সন্ধানে বিভিন্ন দেশে গেছেন। তারা ইতোমধ্যে রেমিট্যান্স পাঠাতে শুরু করেছেন। সে কারণেই ঈদের পরও রেমিট্যান্স বাড়ছে। এই ইতিবাচক ধারা পুরো অর্থবছর জুড়েই অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশা করছি।’

সাধারণত দুই ঈদের আগে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাড়ে; ঈদের পর কমে যায়। তবে এবার কোরবানির ঈদের আগে যে গতিতে রেমিট্যান্স এসেছে, সেই ধারা ঈদের পরেও অব্যাহত আছে।

দেশে গত ১০ জুলাই কোরবানির ঈদ উদযাপিত হয়। ঈদের আগে রেমিট্যান্স প্রবাহে ঢল নামে। ঈদের ৯০ কোটি ৯৩ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। ঈদের পরে ২১ দিনে এসেছে ১১৮ কোটি ৭৬ লাখ ডলারের কিছু বেশি।

ঈদের পরেও কেন রেমিট্যান্স বাড়ছে- এমন প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত কয়েক মাসে ডলারের দর বেশ খানিকটা বেড়েছে। প্রণোদনার পরিমাণ দুই শতাংশ থেকে আড়াই শতাংশ করা হয়েছে। এসব কারণে প্রবাসীরা এখন ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। সে কারণেই বাড়ছে রেমিট্যান্স।’

তিনি বলেন, ‘এই সময়ে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির খুবই দরকার ছিল। নানা পদক্ষেপের কারণে আমদানি ব্যয় কমতে শুরু করেছে। রপ্তানির পাশাপাশি রেমিট্যান্স বৃদ্ধির কারণে আশা করছি এখন মুদ্রাবাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।’

আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে সোমবার প্রতি ডলার ৯৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে ব্যাংকগুলো এই দরে ডলার কিনেছে। তবে ডলারের ব্যাপক চাহিদা থাকায় ব্যাংকগুলো ১১০ টাকা পর্যন্ত দরে প্রবাসীদের কাছ থেকে ডলার সংগ্রহ করেছে।

সে হিসাবে কোনো প্রবাসী এখন ব্যাংকিং চ্যানেলে ১ ডলার দেশে পাঠালে ১১০ টাকার সঙ্গে নগদ প্রণোদনার ২ টাকা ৫০ পয়সা যুক্ত হয়ে ১১২ টাকা ৫০ পয়সা পাচ্ছেন।

কার্ব মার্কেট বা খোলাবাজারে ডলারের দর প্রায় একই। সে কারণেই প্রবাসীরা এখন অবৈধ হুন্ডির মাধ্যমে ঝুঁকি নিয়ে দেশে টাকা না পাঠিয়ে ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠাচ্ছেন বলে জানান ব্যাংকাররা।

রেমিট্যান্স বাড়ার আরেকটি কারণের কথা বলেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনীতি চাঙা হয়েছে। সেখানে কর্মরত আমাদের প্রবাসীরা বেশি আয় করছেন। দেশেও বেশি টাকা পাঠাতে পারছেন।

‘দেশে ডলারের সংকট চলছে। মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা চলছে। রিজার্ভ কমছে। এই মুহূর্তে রেমিট্যান্স বাড়া অর্থনীতির জন্য খুবই ভালো হবে।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ও তেমন পূর্বাভাস দিয়েছে। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত অর্থবছরজুড়ে (২০২১-২২) ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধিতে থাকা প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সে নতুন অর্থবছরে ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।

এই অর্থবছরে রেমিট্যান্স বাড়ার কারণ হিসেবে মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘করোনা-পরবর্তী সময়ে দেশ থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ শ্রমিক নতুন করে বিদেশে যাওয়ায় তাদের কাছ থেকে বাড়তি পরিমাণ রেমিট্যান্স পাওয়া যাবে।’

দেশের অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোর হালচাল নিয়ে তৈরি করা পাক্ষিক প্রতিবেদনেও রেমিট্যান্স নিয়ে সুসংবাদের আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত ২১ জুলাই প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় বাড়াতে সরকার ইতোমধ্যে রেমিট্যান্সে নগদ প্রণোদনা ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ করেছে। করোনা মহামারি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় সব প্রবাসী তাদের কর্মস্থলে ফিরেছেন। টাকার বিপরীতে ডলার বেশ খানিকটা শক্তিশালী হয়েছে।

‘এই বিষয়গুলো আগামী মাসগুলোতে রেমিট্যান্স বাড়াতে সাহায্য করবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংক গত ৩০ জুন ২০২২-২৩ অর্থবছরের নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। এতে বলা হয়, রেমিট্যান্স ঊর্ধ্বমুখী হবে এবং চলতি অর্থবছরে গত বছরের চেয়ে ১৫ শতাংশ বেশি আসবে।

আরও পড়ুন:
আগস্টের শুরুতে রেমিট্যান্সে ৫৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি
বিদেশি বিনিয়োগের পালেও জোর হাওয়া
মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির আড়ালে অর্থপাচার!
অর্থনীতি সচল: শ্লথ ব্যাংকের আয়ের চাকা

মন্তব্য

p
উপরে