× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Chinukanyas case against 6 journalists under the Digital Security Act
hear-news
player
google_news print-icon

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এবার ৬ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চিনুকন্যার মামলা

ডিজিটাল-নিরাপত্তা-আইনে-এবার-৬-সাংবাদিকের-বিরুদ্ধে-চিনুকন্যার-মামলা
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ৬ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন নাজনীন আনোয়ার। ছবি: সংগৃহীত
চিনুর মেয়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গত ৭ জুন গ্রেপ্তার হন রাঙ্গামাটির দৈনিক পার্বত্য চট্টগ্রাম ও পাহাড় টোয়েন্টিফোর ডটকম সম্পাদক ফজলে এলাহী। তুমুল সমালোচনার চার মাসের মধ্যেই আবার একই আইনে মামলা করলেন তিনি।

গত জুনে একবার মামলা করে তুমুল সমালোচনার শিকার হওয়া রাঙ্গামাটির সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনুর মেয়ে নাজনীন আনোয়ার আবার সেই একই ইস্যুতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আবার মামলা করেছেন। এবার তিনি আসামি করেছেন ছয়জন সাংবাদিককে।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তাদের মধ্যে রাজধানীকেন্দ্রিক দুটি টেলিভিশনের দুজন রিপোর্টার ও রাঙ্গামাটির চারজন সাংবাদিকের নাম রয়েছে।

বিচারক মোহাম্মদ জহিরুল কবির মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে আগামী ১৩ নভেম্বর প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

আসামিদের মধ্যে আছেন দীপ্ত টিভির বিশেষ প্রতিনিধি বায়েজিদ আহমেদ এবং সংবাদভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের অনির্বাণ শাহরিয়ার।

রাঙ্গামাটির দৈনিক পার্বত্য চট্টগ্রাম ও পাহাড় টোয়েন্টিফোর ডটকম সম্পাদক ফজলে এলাহী, রাজধানীকেন্দ্রিক অনলাইন পোর্টাল জাগো নিউজের রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি সাইফুল হাসান, ইংরেজি জাতীয় দৈনিক টিবিএসের খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি দিদারুল আলম ও বাণিজ্যবিষয়ক দৈনিক বণিক বার্তার রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি প্রান্ত রনির নাম রয়েছে এজাহারে। আরও রাখা হয়েছে অজ্ঞাত আসামি।

মামলায় বলা হয়, আসামিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করার কারণে বাদিনী এবং তার মা (সাবেক এমপি ফিরোজা বেগম চিনু) সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে অপদস্থ হয়ে মানসিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। মামলায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮-এর ২৩, ২৫, ২৬, ২৯, ৩১, ৩৪, ৩৫ ও ৩৭ ধারার অভিযোগ আনা হয়েছে।

চিনুর মেয়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গত ৭ জুন গ্রেপ্তার হন রাঙ্গামাটির দৈনিক পার্বত্য চট্টগ্রাম ও পাহাড় টোয়েন্টিফোর ডটকম সম্পাদক ফজলে এলাহী। তুমুল সমালোচনার মুখে পরদিন রাঙ্গামাটির আদালতে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান ফজলে এলাহী। এরপর ১৪ জুন চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালত থেকে স্থায়ী জামিন পান তিনি।

সাংবাদিক ফজলে এলাহী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি বর্তমানে অনেক অসহায়বোধ করছি। বুঝতেছি না কেন এসব হচ্ছে। আগের মামলায় গত ১৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজিরা দিতে গেছি। তখনও জানতাম না নতুন করে মামলা হয়েছে। আজ জানতে পারছি আমিসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।’

ছয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে করা মামলার বিষয়ে নাজনীন আনোয়ার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যা কিছু জানার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। এ বিষয়ে কোনো কিছু কোড করার মতো বলতে চাচ্ছি না। নিউজ করতে চাইলে পিটিশন দেখে সাজিয়ে নিয়েন।’

দৈনিক পাহাড় টোয়েন্টিফোর ডটকমের রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের ডিসি বাংলো পার্কে অবস্থিত ‘পাইরেটস্’ রেস্টুরেন্ট নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে ২০২০ সালে মামলাটি করা হয়।

যে ইস্যুতে চার মাস আগে একটি মামলা হয়েছে, সেই একই ইস্যুতে আবার অন্য সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা কেন, জানতে চাইলে চিনুকন্যার মোবাইল নাম্বারে কল করলে জানান, তিনি ব্যস্ত, বাজার করছেন।

যে ঘটনায় মামলা

পার্বত্য চট্টগ্রাম ও পাহাড় টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনটিতে ছিল রাঙ্গামাটির ডিসি বাংলো পার্ক অবৈধভাবে দখল করে রাখার বিষয়ে।

দুই বছরের জন্য অন্য একজনের নামে পার্কটি ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে নির্ধারিত সময়ের পরও তা দখলে রেখেছিলেন নাজনীন আনোয়ার নিপুণ। তিনি রাঙ্গামাটির সাবেক সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনুর মেয়ে।

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে মোহাম্মদ হোসেন নামে একজনকে বার্ষিক ৩৬ হাজার টাকা ভাড়া চুক্তিতে পার্কটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়। ১৩টি শর্তে দুই বছরের জন্য এই অনুমতি দেয় জেলা প্রশাসন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এবার ৬ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চিনুকন্যার মামলা
ডিসি বাংলো পার্ক। ছবি: সংগৃহীত

আরেকজনের নামে বরাদ্দ নিয়ে প্রকারান্তরে পার্কটির দখলদার হয়ে বসেন নাজনীন আনোয়ার নিপুণ। নাজনীন ও তার সঙ্গীরা পার্কটি ব্যবহারে প্রায় সব শর্ত ভঙ্গ করেন। পুলিশের বিশেষ শাখা ও রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের আলাদা দুটি তদন্ত প্রতিবেদনে এর প্রমাণ মেলে।

প্রতিবেদন দুটির কপি নিউজবাংলার হাতে এসেছে। তাতে দেখা গেছে, ২০২০ সালের ৯ আগস্ট রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক বরাবর তদন্ত প্রতিবেদনটি দাখিল করেন একই জেলার সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বোরহান উদ্দিন মিঠু।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সরকারি সম্পত্তি রক্ষা, মাদকমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা এবং পার্কটি সাধারণ জনগণের ব্যবহার উপযোগী করে উন্মুক্ত রাখার নিমিত্ত অবৈধ পাইরেটস দোকানটি অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।’

এর প্রায় এক মাস পর ২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) ডিআইজি (রাজনৈতিক) বরাবর একটি প্রতিবেদন জমা দেন রাঙ্গামাটি জেলার বিশেষ শাখার পুলিশ সুপার মো. আলমগীর কবীর।

তাতে বলা হয়, ‘সার্বিক বিবেচনায় বলা চলে যে, পার্কটি আবাসিক এলাকায় ও জেলা প্রশাসকের বাংলোর সৌন্দর্যের অংশ হওয়ায় রেস্টুরেন্ট ও বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার কোনোভাবে সমীচীন হবে না।’

জেলা প্রশাসন ও এসবির পৃথক দুটি তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার প্রায় তিন মাস পর ৩ ডিসেম্বর ডিসি বাংলো পার্কে অব্যবস্থাপনা-অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয় স্থানীয় একটি অনলাইন পোর্টালে।

ফজলে এলাহী সম্পাদিত পাহাড় টোয়েন্টিফোর ডটকম নামের ওই পোর্টালে ‘রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের পাইরেটস বিড়ম্বনা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনে এই ডিসি বাংলো পার্কের অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়।

ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক এমপি ফিরোজা বেগম চিনুর কন্যা নাজনীন আনোয়ার নিপুণ নিয়ম লঙ্ঘন করে ডিসি বাংলোর পার্ক এলাকায় ‘পাইরেটস’ নামে একটি রেস্তোরাঁ গড়ে তোলেন। জেলা প্রশাসন পরে উচ্ছেদের নোটিশ দিলে খোদ জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধেই মামলা করেন নিপুণ।

নিপুণের অনিয়মের পেছনে তার মা ফিরোজা বেগম চিনুর প্রভাব রয়েছে বলেও দাবি করা হয় প্রতিবেদনে।

এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর রাঙ্গামাটির কোতোয়ালি থানায় ১২ ডিসেম্বর সাংবাদিক ফজলে এলাহীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন চিনুর কন্যা নিপুণ। পরদিন ১৩ ডিসেম্বর চিনু আরেকটি অভিযোগ করেন।

সেই মামলায় বাদী হিসেবে চিনুর কন্যার নাম থাকলেও নিউজবাংলাকে চিনু জানান, অভিযোগকারী তিনি নিজেই। মেয়ের নাম কীভাবে এলো সেটি তিনি জানেন না।

যা আছে এসবির প্রতিবেদনে

২০২০ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাঙ্গামাটি এসবির পুলিশ সুপার মো. আলমগীর কবীর ডিসি বাংলো পার্ক নিয়ে এসবির ডিআইজি (রাজনৈতিক) বরাবর একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

এসবির ওই প্রতিবেদনে বলা হয়:

‘অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৮/১২/২০১৭ তারিখে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার সাহিদা আক্তার স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে ১৩টি শর্তে রাঙ্গামাটির কোতোয়ালি থানার দেবাশীষ নগরের মো. হোসেনকে বার্ষিক ৩৬ হাজার টাকা ভাড়ায় দুই বছরের জন্য পার্কটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়।

পার্কটি মো. হোসেনের নামে অনুমোদন নিয়ে পক্ষান্তরে নাজনীন আনোয়ার বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করছেন। করোনা মহামারির কারণে ডিসি বাংলো পার্কটি বর্তমানে বন্ধ আছে।

পার্কটি বন্ধ হওয়ার আগে এখানে আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থি কয়েকটি ঘটনা ঘটে। যেমন-

১. গভীর রাত পর্যন্ত পার্কটি খোলা রাখা হতো। সে কারণে সেখানে মাদক বিক্রি ও সেবনের মতো ঘটনা ঘটে এবং উঠতি বয়সী ছেলেমেয়েরা সেখানে রাত অবধি ভিড় করত। ১৪/০৮/২০১৯ তারিখ রাতে ১০-১২ জন উচ্ছৃঙ্খল বখাটে যুবক সেখানে আইনশৃঙ্খলাবহির্ভূত ঘটনা ঘটায়।

২. গভীর রাত পর্যন্ত যুবক ছেলেরা মোটরসাইকেলসহ এখানে অবস্থান করত এবং লেকসংলগ্ন কুঁড়েঘরে মাদক সেবন করে মাতলামি ও হুল্লোড় করত।

৩. গোপন সূত্রে জানা যায় যে, পার্কের পাইরেটস রেস্টুরেন্টের ভেতরে নারীসহ অন্যান্য অসামাজিক কার্যকলাপ সংঘটিত হতো।

৪. অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, বরাদ্দের সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার পরও জেলা প্রশাসক পার্কটি ব্যবহারের অনুমতি বিভিন্ন কারণে বাতিল করতে পারছেন না। যেমন- রাজনৈতিক প্রভাব, জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে মামলা।

৫. পার্কটি জেলা প্রশাসক ও পর্যটকদের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত ছিল। কিন্তু সেটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের অনুমতি দেয়ায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্টসহ জেলা প্রশাসকের বাংলোর ঐতিহ্য ও সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে, যা মোটেও কাম্য নয়।

৬. উঠতি বয়সী ছেলেমেয়েরা গভীর রাত পর্যন্ত পার্কে উচ্চস্বরে সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করায় আশপাশের বাসিন্দাদের শান্তির ব্যাঘাত ঘটত।

৭. পার্ক ব্যবহারের মেয়াদ পার হওয়ার পরও ব্যবহারকারীরা প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ করে অন্যায় ও বেআইনিভাবে পার্কটি দখলে রাখায় উল্লিখিত কার্যকলাপের কারণে প্রশাসনের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। জেলা পুলিশও বিভিন্ন প্রশ্ন ও বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে।

৮. সার্বিক বিবেচনায় বলা চলে যে, পার্কটি আবাসিক এলাকায় ও জেলা প্রশাসকের বাংলোর সৌন্দর্যের অংশ হওয়ায় রেস্টুরেন্ট ও বাণিজ্যিকভাবে এর ব্যবহার কোনোভাবে সমীচীন হবে না।

পার্ক এখন কার দখলে?

ডিসি বাংলো পার্কটি বর্তমানে জেলা প্রশাসনের দখলে রয়েছে বলে গত জুনে নিউজবাংলাকে জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

সে সময় তিনি বলেন, ‘পার্কটি নিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা চলমান। তবে পার্কটি এখন জেলা প্রশাসনের দখলে রয়েছে এবং পার্কটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত আছে।

আরও পড়ুন:
দুই সম্পাদকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা সাংবাদিকের
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ছাত্রলীগ নেতা কারাগারে
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল চান এলাহী
ডিজিটাল আইনে এবার খুলনায় দুই সাংবাদিকের বিচার শুরু
ফজলে এলাহীর প্রতি যাতে অন্যায় না হয় ‘দেখবেন’ তথ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Bholavala Monir is the master of stealing

চুরিতে ওস্তাদ ‘ভোলাভালা’ মনির

চুরিতে ওস্তাদ ‘ভোলাভালা’ মনির অর্ধশতাধিক চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার মনির হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা
তেজগাঁও অঞ্চলের ডিসি জানান, মনির দেখতে ভোলাভালা ভবঘুরে টাইপে। তবে তার এই চেহাররা আড়ালে এক চোর। সম্প্রতি ৪-৫টি চুরির সঙ্গে জড়িত থাকায় তার নাম পাওয়া গেছে।

অনাথ ও পথশিশুদের আশ্রয় এবং পড়াশোনা করতে সহযোগিতা করা প্রতিষ্ঠানের টাকা চুরি করে জুয়া খেলেন, নেশা করেন, আবার দানও করেন মনির হোসেন। অর্ধশতাধিক চুরির ঘটনার সঙ্গেও জড়িত মনির।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের মোহাম্মদীয়া হাউজিং লিমিটেডের ৩ নম্বর সড়কের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রাইটস অ্যান্ড সাইট ফর চিলড্রেন (আরএসসি) অনাথ ও পথশিশুদের আশ্রয় এবং পড়াশোনা করতে সহযোগিতা করে।

গত শনিবার মধ্যরাতে প্রতিষ্ঠানের অফিস রুমের গ্রিল কেটে প্রবেশ করে আলমারি থেকে সাড়ে ১২ লাখ টাকা চুরি করে নিয়েছে অজ্ঞাত এক চোর। এই ঘটনায় পরদিন প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার আব্দুন নাসের রোমেল বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় চুরির মামলা করেন।

এই ঘটনায় জড়িত মনির হোসেন নামের এক পেশাদার চোরকে গ্রেপ্তার করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। তার বাড়ি কেরানীগঞ্জ উপজেলার তারানগর ইউনিয়নের পশ্চিম বাংলানগর গ্রামে। এ সময় চুরি যাওয়া ৭ লাখ ৮৭ হাজার টাকাও উদ্ধার করা হয়।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর শ্যামলীতে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এইচ এম আজিমুল হক।

তিনি বলেন, ‘মোহাম্মদীয়া হাউজিং লিমিটেড ৩ নম্বরের একটি বেসরকারি এনজিও প্রতিষ্ঠান রাইটস অ্যান্ড সাইট ফর চিল্ড্রেন অসহায় ও পথশিশুদের আশ্রয়, পড়াশোনা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করছে। এই প্রতিষ্ঠানের অফিসের গ্রিল কেটে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যায় চোর। তদন্তে নেমে বিভিন্ন তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কেরানীগঞ্জ তারানগর ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে সাত লাখ ৮৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।’

আজিমুল হক আরও বলেন, ‘মনির বিপুল পরিমাণ টাকা চুরি করে নিয়ে যাওয়ার পর এই টাকা দিয়ে জুয়া খেলে অনেক টাকা নষ্ট করেছে। কিছু টাকা নেশার পেছনে খরচ করেছে। এ ছাড়া স্থানীয় দরিদ্র মানুষের মাঝেও দান করেছে।’

মনির পেশাদার চোর উল্লেখ করে তেজগাঁও অঞ্চলের ডিসি জানান, মনির দেখতে ভোলাভালা ভবঘুরে টাইপে। তবে তার এই চেহাররা আড়ালে এক চোর। সম্প্রতি ৪-৫টি চুরির সঙ্গে জড়িত থাকায় তার নাম পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া অর্ধশতাধিক চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত মনির। তাকে মোহাম্মদপুর থানায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে চাওয়া হবে।

আরও পড়ুন:
সাবেক অতিরিক্ত আইজিপির বাসা থেকে ৪৫ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি
হাতকড়া নিয়ে লাফ, ফের গ্রেপ্তার জঙ্গলে
মাস্টার চাবি বানিয়ে ৫০০ বাইক চুরি
রিজার্ভ চুরির মামলা: তদন্ত প্রতিবেদন ২ অক্টোবর
‘চুরি করা’ ১৬ শ লিটার ডিজেলসহ গ্রেপ্তার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Muktar is the owner of hundreds of crores of illegal liquor business from waiter

ওয়েটার থেকে অবৈধ মদের ব্যবসা, শত কোটি টাকার মালিক মুক্তার

ওয়েটার থেকে অবৈধ মদের ব্যবসা, শত কোটি টাকার মালিক মুক্তার কিংফিশার রেস্টুরেন্টের আড়ালে বার চালানোর অভিযোগে ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। ছবি: নিউজবাংলা
ডিবিপ্রধান জানান, মুক্তার ২০০৮ সালের দিকে বারিধারায় এভিনিউ নামে একটি রেস্টুরেন্টে ওয়েটার হিসেবে কাজ করতেন। লেকভিউ নামে গুলশান ২ এলাকার একটি রেস্টুরেন্টেও ছিলেন, সেখানেও ওয়েটার হিসেবেই কাজ করতেন তিনি। সে ওয়েটার থেকে এখন শতকোটি টাকার মালিক। তার যুক্তরাষ্ট্রের বাড়ি-গাড়ি আছে। সেখানে তার স্ত্রী ও বাচ্চা বসবাস করে।

মুক্তার হোসেন। ২০০৮ সালের দিকে বারিধারায় বেভিলিয়ন নামে একটি রেস্টুরেন্টে ওয়েটার হিসেবে কাজ করতেন। লেকভিউ নামে গুলশান ২ এলাকার একটি রেস্টুরেন্টেও তিনি কাজ করতেন ওয়েটার হিসেবে। পরে অবৈধ মদের ব্যবসা করে মুক্তার এখন শতকোটি টাকার মালিক। সেই টাকায় যুক্তরাষ্ট্রে কিনেছেন বাড়ি-গাড়ি।

বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের গরীবে নেওয়াজ অ্যাভিনিউয়ের একটি বাসা থেকে একটি অবৈধ বারের ম্যানেজারসহ ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সেই প্রতিষ্ঠানের মালিক মুক্তার হোসেন, এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

শুক্রবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, উত্তরার সে বারে শত শত ছেলে মেয়ে গানবাজনার নামে ডিজে পার্টি করেন। সেখানে বিক্রি হতো অবৈধ মদ। বিষয়টি নিয়ে উত্তরার সংসদ সদস্যসহ বেশ কয়েকটি জায়গা থেকেও ডিবির কাছে অভিযোগ আসে। পরে সত্যতা যাচাই করার পর বাড়িতে অভিযান চালায় ডিবি।

ডিবির প্রধান বলেন, ‘প্রথমে ভবনের সাত তলায় গিয়ে ডিবির দল দেখে অনেক ছেলে মেয়ে দৌড়াদৌড়ি করছে। পরে ভেতরে গিয়ে দেখেন সেখানে প্রচুর পরিমাণে বিদেশি মদ ও বিয়ার মজুত রয়েছে। ডিবির দলগুলো ৫ ও ৬ তলা গিয়েও একই অবস্থা দেখতে পান। পরে ডিবি এসব বিদেশি মদ ও বিয়ার একত্রিত করে কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চায় এইগুলো তারা কীভাবে দেশে নিয়ে এসেছে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো তথ্যই ডিবিকে জানাতে পারেনি। সে কারণে সেখান থেকে আমরা ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করি এবং তাদের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা করা হয়। সে মামলায় তাদের আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড আবেদন করা হবে।’

ভবনটিতে এই কার্যক্রম কি ব্যানারে চলতো প্রশ্ন করা হলে হারুর অর রশীদ বলেন, ‘কিংফিশার রেস্টুরেন্টে নামে এই ভবনের এসব কার্যক্রম চলত। কথিত এই বারের মালিক মুক্তার হোসেন। তার আরও বেশ কয়েকটি বার রয়েছে রাজধানীসহ নারায়ণগঞ্জে।’

মুক্তার হোসেনের কাছে বারের কয়টি লাইসেন্স আছে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা গতকাল যেই ভবনটিতে অভিযান পরিচালনা করেছি সেখানের ম্যানেজারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। ম্যানেজার আমাদের বলেছেন মুক্তার মিরপুর, গুলশান ও নারায়ণগঞ্জেসহ ৫টি বার চালায়। সেগুলো একই লাইসেন্সের কিনা সেটা আমরা জানি না। তবে গতকাল আমরা উত্তরার যে ভবনটিতে অভিযান পরিচালনা করেছি সেখানে কিংফিশার রেস্টুরেন্টের নামে এসব কার্যক্রম চলত।’

হারুন অর রশীদ জানান, সে বারের ম্যানেজারের মাধ্যমে ডিবি জানতে পেরেছে মুক্তার ২০০৮ সালের দিকে বারিধারায় এভিনিউ নামে একটি রেস্টুরেন্টে ওয়েটার হিসেবে কাজ করতেন। লেকভিউ নামে গুলশান ২ এলাকার একটি রেস্টুরেন্টেও ছিলেন, সেখানেও ওয়েটার হিসেবেই কাজ করতেন তিনি। সে ওয়েটার থেকে এখন শতকোটি টাকার মালিক। তার যুক্তরাষ্ট্রের বাড়ি-গাড়ি আছে। সেখানে তার স্ত্রী ও বাচ্চা বসবাস করে।

মামলায় প্রতিষ্ঠানটির কাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মালিক ও ম্যানেজারসহ অনেকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।’

এই কর্মকাণ্ডে সঙ্গে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কোনো কোরিয়ান নাগরিক জড়িত কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা যাচাই-বাছাই করছি।’

উত্তরার কথিত বারটিতে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের যাতায়াত ছিল। তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে কিনা প্রশ্ন করা হলে ডিবিপ্রধান বলেন, ‘কাদের যাতায়াত ছিল সে বিষয়ে আমরা তদন্ত করব।’

আরও পড়ুন:
ডাচ্‌-বাংলার এটিএম বুথ বন্ধ থাকবে ৩০ ঘণ্টা
নতুন জ্যাকেটে ডিবি, কিউআর কোডেই কর্মকর্তার পরিচয়
ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিংয়ের নাম পরিবর্তন
ডলার মজুত করলে ব্যবস্থা
বাংলাদেশের রপ্তানি প্রত্যাশার চেয়ে জোরালো: এডিবি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Chhatra League attack on memorial meeting of BUET student Abrar Fahad in DU

ঢাবিতে আবরার স্মরণসভায় ছাত্রলীগের হামলা

ঢাবিতে আবরার স্মরণসভায় ছাত্রলীগের হামলা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের স্মরণসভায় ছাত্রলীগের হামলা। ছবি: নিউজবাংলা
আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে এই স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ওই স্মরণসভায় অংশ নেয় ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরাও।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত স্মরণসভায় হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। এতে পণ্ড হয়ে গেছে স্মরণসভা।

আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে এই স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ওই স্মরণসভায় অংশ নেয় ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরাও।

সেখানেই বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হামলার ঘটনা ঘটে।

ছাত্র অধিকার পরিষদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি আসিফ মাহমুদের দাবি, ছাত্রলীগের এই হামলায় অধিকার পরিষদের ১৫ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। তারা সবাই বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আমরা বিকেল ৩টা থেকে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আমাদের স্মরণসভার প্রোগ্রাম শুরু করি। এ সময় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বেসরকারি বিষয়ক সম্পাদক আল আমিন রহমান এবং সুজন শেখ নামের একজন শিক্ষার্থী প্রোগ্রামস্থলে এসে আমাদের প্রোগ্রাম করতে নিষেধ করেন।

‘এ সময় তিনি বলেন, আবরার বুয়েটের শিক্ষার্থী। তাই আমরা তার কোনো স্মরণসভা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে করতে পারব না। এ সময় আল আমিন রহমান আমাদের সবার আইডি কার্ড দেখতে চান। পরে আমরা তাকে সেটি দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা চলে যায়। আর আমরা আমাদের প্রোগ্রাম শুরু করে দেই।’

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘পরে সাড়ে ৩টার দিকে যখন ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বক্তব্য রাখছিলেন তখন আল আমিন রহমান এবং সুজন শেখের নেতৃত্বে ঢাকা মহানগরের ছাত্রলীগ কর্মীদের দিয়ে আমাদের ওপর হামলা করা হয়। এতে প্রোগ্রাম উপলক্ষে আনা বেশ কিছু চেয়ারও তারা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন।’

এই বিষয়ে আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদের আহ্বায়ক এবং ছাত্র অধিকার পরিষদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আখতার হোসেন বলেন, ‘আমাদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী স্মরণসভা শুরু করার পরপরই প্রক্টরিয়াল টিমের উপস্থিতে আমাদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। হামলায় আমাদের অন্তত ১০ জন আহত, দুইজন গুরুতর আহত হয়েছে। একজন রিকশা চালকেরও মাথা ফেটে গেছে।’

‘আহতদের ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে আসা হয়েছে। আমরা কোনো দলীয় ব্যানারেও এই প্রোগ্রাম করিনি, আমরা প্রোগ্রাম করেছি আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদের ব্যানারে। আমরা এই ন্যক্কারজনক হামলায় ধিক্কার জানাই।’

হামলায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এম এম মহিন উদ্দিন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব খান, সাংগঠনিক নাজিম উদ্দীন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক আল আমিন রহমান, উপ-দপ্তর সম্পাদক শিমুল খান, আব্দুর রাহিম, জুহুরুল হক হল ছাত্রলীগের সভাপতি কামাল উদ্দীন রানা, সাধারণ সম্পাদক রুবেল হোসেনসহ কেন্দ্রীয়, বিশ্ববিদ্যালয় ও হল শাখা ছাত্রলীগের অর্ধশতাধিক ছাত্রলীগ নেতাকর্মী অংশ নেয়।

হামলার পর প্রোগ্রাম উপলক্ষে আনা ব্যানার পুড়িয়ে দেয়া হয়। ঘটনার সময় পাটকেলের আঘাতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নাজিম উদ্দীনও আহত হয়।

ছাত্রলীগের অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনায় জড়িত ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব খান বলেন, 'তারা (ছাত্র অধিকার) ক্যাম্পাসে বহিরাগত, মৌলবাদীদের নিয়ে কর্মসূচি পালন করে। আমরা তাদের জিজ্ঞাসা করতে আসি তারা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র কিনা। এ সময় তারা কিছু না দেখিয়ে আমাদের ওপর হামলা করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিরোধ করে।'

আরও পড়ুন:
কওমি মাদ্রাসায় ঢুকল সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট
৩৯ বছর পর ঢাবিতে আ.লীগপন্থি নীল দলের নিরঙ্কুশ জয়
শিক্ষার্থীদের খণ্ডকালীন কাজ দিতে ঢাবিতে ‘সাপোর্ট ইউনিট’
না জানিয়ে ঢাবি ছাত্রদলের কমিটিতে পদ, ক্ষুব্ধ কানেতা
‘পচা মাংস’ দেয়ায় ঢাবি হলের দোকানে ভাঙচুর, মারধর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Arrest of human trafficking in the name of job abroad 2

বিদেশে চাকরির নামে মানবপাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার ২

বিদেশে চাকরির নামে মানবপাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার ২ র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার দুজন। ছবি: নিউজবাংলা
র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, চক্রটি দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্রদের বিদেশে উচ্চ বেতনে চাকরি দেয়ার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তারা দালালের মাধ্যমে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যেতে ইচ্ছুক এমন ব্যক্তিদের পাসপোর্ট সংগ্রহ করতো। গত দুই বছরে ৫২১টি পাসপোর্ট সংগ্রহ করেছে চক্রটি।

ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে মানবপাচারের অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর শান্তিনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় বেশ কিছু পাসপোর্ট, ভুয়া কোর্সের সনদ, ভুয়া মেডিক্যাল সার্টিফিকেট উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন মাহাবুব আল হাসান ও মাহমুদ করিম।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব- ৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন এ সব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘চক্রটি দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্রদের বিদেশে উচ্চ বেতনে চাকরি দেয়ার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তারা দালালের মাধ্যমে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যেতে ইচ্ছুক এমন ব্যক্তিদের পাসপোর্ট সংগ্রহ করতো। গত দুই বছরে ৫২১টি পাসপোর্ট সংগ্রহ করেছে চক্রটি।

‘এর মধ্যে মধ্যেপ্রাচ্যে যেতে আগ্রহীদের কাছ থেকে দুই থেকে তিন লাখ টাকা করে আদায় করা হতো। যারা ইউরোপে যেতে ইচ্ছুক তাদের কাছ থেকে ছয় থেকে সাত লাখ টাকা নেওয়া হতো।’

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, বিদেশে বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে চাকরির ভুয়া নিয়োগপত্র, ভুয়া মেডিক্যাল সার্টিফিকেটসহ নিজস্ব কম্পিউটারে তৈরি করা বিভিন্ন ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে তাদেরকে বিদেশে পাঠানোর বিষয়ে নিশ্চয়তা দিত।

আরিফ মহিউদ্দিন বলেন, ‘এই চক্রটি বিভিন্ন প্রলোভন দেখালেও বিদেশে পাঠানো হতো না। ভুক্তভোগীদের আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করা হতো। পরে ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরতের জন্য তাগাদা দিলেও টাকা ফেরত দিতেন না। এ ছাড়া গত দুই বছরে পাসপোর্ট এবং অর্থ জমা দেয়া কাউকেই চক্রটি বিদেশে পাঠাতে পারেনি।’

তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তার মাহাবুব ২০০০ সাল থেকে সংঘবদ্ধ মানবপাচার ও প্রতারক চক্রের সদস্য। বিভিন্ন কৌশলে প্রতারণা করে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তারা।’

আরিফ মহিউদ্দিন বলেন, ‘এই চক্রের মাধ্যমে বিদেশে পৌঁছানোর পর বিদেশে অবস্থানরত এজেন্ট দিয়ে তাদেরকে আবার প্রতারিত করা হয়। তাদেরকে কাজের নামে অজ্ঞাত জায়গায় নিয়ে বন্দি করে রাখা হয়। বন্দি করে রেখে শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন করা হয়।

‘এ সময় মাহাবুবের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সে ভুক্তভোগীদের অপেক্ষা করতে বলে। সে জানায় কিছুদিন পরে কোম্পানি চালু হবে। তখন তারা বেতন ও কাজের সুযোগ পাবেন।’

এই চক্রটির ট্রাভেল এজেন্সি বা রিক্রুটিং এজেন্সি পরিচালনার কোনো লাইসেন্স নেই বলেও জানান র‍্যাবের এ কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
জঙ্গিদের চেয়ে স্মার্ট র‍্যাব: ডিজি
বিমানবন্দরে ৩০০ জনকে অজ্ঞান করা আমির এবার ধরা
বাধ্য না হলে র‌্যাব গুলি ছোড়ে না: বিদায়ী ডিজি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
BNP went to court for Shaons murder

শাওন হত্যায় আদালতে গেল বিএনপি

শাওন হত্যায় আদালতে গেল বিএনপি মুন্সীগঞ্জের সংঘর্ষে নিহত যুবদলকর্মী শহীদুল ইসলাম শাওন। ছবি: সংগৃহীত
বাদী সালাহ্ উদ্দিন খান বলেন, ‘বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে আমি মামলার বাদী হয়েছি। নিহতের পরিবারের সদস্যরা ভয় পেয়ে মামলা করেননি, তারা পরে এ মামলার সঙ্গে যুক্ত হবেন।’

পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় যুবদল কর্মী শহীদুল ইসলাম শাওনের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার চেয়ে মুন্সীগঞ্জের আদালতে আবেদন জমা দিয়েছে বিএনপি। পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দায়ী করে হত্যা মামলা নিতে এ আবেদন করা হয়।

মুন্সীগঞ্জ আমলী আদালত-১ এর বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মোসাম্মৎ রহিমা আক্তার এ বিষয়ে শুনানি ও আদেশের জন্য ১০ অক্টোবর দিন ঠিক করেছেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে এ মামলা বলে দাবি করেছেন বাদী মো. সালাহ্ উদ্দিন খান।

শাওন হত্যায় আদালতে গেল বিএনপি
মুন্সীগঞ্জের আমলী আদালতে আবেদন জমা দিয়েছে বিএনপি। ছবি: নিউজবাংলা

গত ২১ সেপ্টেম্বর মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুর পুরাতন ফেরীঘাট এলাকায় পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়। এতে সাংবাদিক ও পুলিশসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন। পরদিন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান যুবদল কর্মী শহীদুল ইসলাম শাওন। তিনি পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন বলে দাবি করে আসছেন স্বজন ও বিএনপি নেতারা। অন্যদিকে পুলিশের দাবি, শাওনের মৃত্যু হয়েছে ইটের আঘাতে।

সংঘর্ষের এ ঘটনায় সদর থানার এসআই মাঈনউদ্দিন ও শ্রমিকলীগ নেতা আব্দুল মালেক বাদী হয়ে দুটি মামলা করেন। এতে বিএনপির দেড় সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়।

শাওনের মৃত্যুর ঘটনায় এবার পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দায়ী করে বৃহস্পতিবার আদালতে অভিযোগ জমা দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মামলা ও তথ্য সংরক্ষন কর্মকর্তা মো. সালাহ্ উদ্দিন খান। তিনি কেন্দ্রীয় কৃষক দলের নির্বাহী সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

মুন্সীগঞ্জ আমলী আদালতে দেয়া অভিযোগে আসামি করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মিনহাজ-উ-ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অর্থ) সুমন দেব, সদর থানার ওসি তারিকুজ্জামানসহ পুলিশের ৯ সদস্যকে। এছাড়াও ৪০-৫০ জন পুলিশ সদস্য ও সরকার দলীয় ২০০-৩০০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে শাওন হত্যায়।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্য অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান খান আল-মামুন বলেন, ‘২১ সেপ্টেম্বর মুন্সীগঞ্জে বিএনপি নেতাকর্মীদের সমাবেশ চলছিল। শান্তিপূর্ণ সমাবেশে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিনহাজ-উল-ইসলাম ঢুকে খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমানের ছবি সম্বলিত ব্যানার কেড়ে নেন। তিনি পা দিয়ে ব্যানার মাড়ান এবং পুলিশ নেতাকর্মীদের উপর হামলা করে। তখন শাওনের কপালের ডান দিকে গুলি করা হয়।’

বাদী সালাহ্ উদ্দিন খান বলেন, ‘বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে আমি মামলার বাদী হয়েছি। নিহতের পরিবারের সদস্যরা ভয় পেয়ে মামলা করেননি, তারা পরে এ মামলার সঙ্গে যুক্ত হবেন।’

আরও পড়ুন:
কোন্দলে বিএনপির সভা পণ্ড
বাংলাদেশ পুলিশের জন্য রাজস্থানি ঘোড়া  
৯৬-এর আলোকে তত্ত্বাবধায়কের রূপরেখা করছে বিএনপি
কেবল বিদ্যুৎ নয়, সব কিছুতেই জাতি বিপর্যয়ে: ফখরুল
খুলনায় বিএনপির গণসমাবেশ ২২ অক্টোবর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
DB raid on kingfisher bar in Uttara

উত্তরায় কিংফিশার বারে ডিবির অভিযান

উত্তরায় কিংফিশার বারে ডিবির অভিযান উত্তরায় কিংফিশার বারে বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালায় ডিবি। ছবি: নিউজবাংলা
ডিবি উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার আকরামুল হোসেন বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা বারটিতে অভিযান পরিচালনা করছি। অভিযান শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।’

রাজধানীর উত্তরায় কিংফিশার নামে একটি বারে অভিযান চালিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে উত্তরা-১৩ নম্বর সেক্টরে বারটিতে অভিযান শুরু করে ঢাকা মহানগর ডিবি উত্তরা বিভাগের একটি টিম।

ডিবি উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) আকরামুল হোসেন বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা বারটিতে অভিযান পরিচালনা করছি। অভিযান শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।’

রাত সোয়া ১২টাও অভিযান চলছিল।

ডিবি জানায়, বারে থাকা বিদেশি এসব মদ আমদানির কাগজপত্র দেখাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন:
নাসার চাঁদে অভিযান ফের স্থগিত
দুই ডিলারের গুদামে মিলল ৭ হাজার বস্তা সার
হর্নবিরোধী অভিযানে দুই নীতি নিয়ে তোপের মুখে ম্যাজিস্ট্রেট
অভিযান-১০ লঞ্চ বুঝে পেলেন মালিক
তরকারিতে তেলাপোকাকাণ্ড

মন্তব্য

বাংলাদেশ
SI in jail in Domar rape case

ডোমারে ধর্ষণ মামলায় এসআই কারাগারে

ডোমারে ধর্ষণ মামলায় এসআই কারাগারে এসআই মহাবীর ব্যানার্জী। ছবি: সংগৃহীত
নীলফামারীর ডোমার থানার থানার ওসি মাহমুদ উন নবী জানান, মামলার আসামি মহাবীর ব্যানার্জীকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আদালতে হাজির করা হয়। আর ডাক্তারি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য মেয়েটিকে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়েছে।

নীলফামারীতে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। উপজেলা শহরের এক বাসিন্দা বৃহস্পতিবার বিকেলে ডোমার থানায় মামলাটি করেন।

মামলার আসামি ডোমার থানার সাবেক এসআই মহাবীর ব্যানার্জীকে সন্ধ্যায় আদালতে হাজির করে পুলিশ। তিনি দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার কেউটপাড়ার কালী মোহন ব্যানার্জীর ছেলে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, স্বামী-স্ত্রী বনিবনা না হওয়ায় এক বছর আগে স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন (জিডি) ওই নারী। ওই অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব পান সে সময়ে ডোমার থানায় থাকা এসআই মহাবীর। তদন্তের সুবাদে ওই নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি।

ছয় মাস আগে ডোমার থানা থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা র‌্যাবে বদলি হন মহাবীর ব্যানার্জী। তবে বদলির পরও মোবাইল ফোনে যোগাযোগ অব্যাহত ছিলো তাদের। এক পর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ৫ অক্টোবর বুধবার রাতে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করেন মহাবীর। বিষয়টি বুঝতে পেরে স্থানীয়রা তাকে আটক করেন।

ধর্ষণের শিকার ওই নারী জানান, এর আগে ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করেন মহাবীর ব্যানার্জী। বুধবার রাতের ওই ঘটনার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধির উপস্থিতিতে সালিস মিমাংসার উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু মহাবীর ওই নারীকে বিয়ে করতে রাজি হননি। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার এসআই মহাবীরকে আসামি করে থানায় মামলা করতে হয়েছে।

ডোমার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুম আহমেদ বলেন, ‘পৌরসভার কাউন্সিলরের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। দুজনের কথাবার্তায় মনে হয়েছে তাদের মধ্যে একটা সম্পর্ক ছিল। গতকাল (বুধবার) রাতে পুলিশ কর্মকর্তাকে ওই নারীর নিকটাত্মীয়রা আটক করেন। কিন্তু এসআই মহাবীরের কোনো অভিভাবক না আসায় তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

এ ব্যাপারে ডোমার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদ উন নবী জানান, মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আসামি মহাবীরকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আদালতে হাজির করা হয়। আর ডাক্তারি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য মেয়েটিকে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়েছে।

কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মোমিনুল ইসলাম মোমিন বলেন, ‘এসআই মহাবীর ব্যানার্জীকে সন্ধ্যায় আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
কক্ষে আটকে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, নির্যাতন আরেক শিশুকে
দেশে প্রতি মাসে ধর্ষণের শিকার ৭১ কন্যাশিশু
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা
‘ধর্ষণের পর ১০ তলা থেকে ফেলে হত্যা’, মরদেহ উত্তোলন
দিয়াবাড়ির কাশবনে তরুণীকে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’

মন্তব্য

p
উপরে