× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
9 test reports in 25 minutes South Ibn Sina Malik caught
hear-news
player
print-icon

‘২৫ মিনিটে ৯ টেস্ট রিপোর্ট’, সাউথ ইবনে সিনার মালিক ধরা

২৫-মিনিটে-৯-টেস্ট-রিপোর্ট-সাউথ-ইবনে-সিনার-মালিক-ধরা
সাউথ ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিককে আটক করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা
সাউথ ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসক আমেনাকে দেখে ১০ হাজার টাকায় ৯টি পরীক্ষা করতে দেন। ২৫ মিনিটের মধ্যে ৯টি টেস্টের রিপোর্ট দেয়া হয়। এতে সন্দেহ হয় আমেনার। বিষয়টি তিনি এক আত্মীয়কে জানান। ওই আত্মীয় তাকে ঘটনাটি প্রতারণা বলে জানান।

রোগীর সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে বরিশালের সাউথ ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক মো. শাওনকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার দুপুরে নগরীর বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়কের ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, ডাক্তার দেখাতে বরগুনা থেকে বৃহস্পতিবার বরিশালে আসেন বাকপ্রতিবন্ধী আমেনা বেগম। তিনি নগরীর মোখলেছুর রহমান ক্লিনিকে গেলে এক দালালের খপ্পরে পড়েন। তিনি আমেনা বেগমকে সাউথ ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যান।

সেখানে চিকিৎসক আমেনাকে দেখে ১০ হাজার টাকায় ৯টি পরীক্ষা করতে দেন। ২৫ মিনিটের মধ্যে ৯টি টেস্টের রিপোর্ট দেয়া হয়। এতে সন্দেহ হয় আমেনার। বিষয়টি তিনি এক আত্মীয়কে জানান। ওই আত্মীয় তাকে ঘটনাটি প্রতারণা বলে জানান।

পরে আমেনা বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।

থানার উপপরিদর্শক মো. রেজাউল বলেন, ‘দুপুরে সাউথ ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে মালিক শাওনকে আটক করে থানায় আনা হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দেখছে।’

ওই থানার ওসি আজিমুল করিম বলেন, ‘এক রোগীর টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে একজনকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।’

আরও পড়ুন:
একে একে বন্ধ হচ্ছে অবৈধ ক্লিনিক, কারাদণ্ড-জরিমানা
সংস্কারের অভাবে বেহাল বরগুনার শতাধিক কমিউনিটি ক্লিনিক
কমিউনিটি ক্লিনিক: ইচ্ছে হলে খোলে দরজা, যখনতখন বন্ধ
কমিউনিটি ক্লিনিক: সেবা মেলে, ওষুধ মেলে না
অলিগলিতে অনুমোদনহীন ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Doubts about meeting the target of reducing water rabies to zero are increasing

জলাতঙ্ক বাড়ছে, শূন্যে নামানোর লক্ষ্য পূরণে সংশয়

জলাতঙ্ক বাড়ছে, শূন্যে নামানোর লক্ষ্য পূরণে সংশয় বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস উপলক্ষে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ভ্যাকসিনেশন প্রোগ্রাম। ছবি: নিউজবাংলা
জলাতঙ্কে মারা যান ২৯ জন, পরের বছর তা বেড়ে হয় ৩৯ জনে। চলতি বছর ৯ মাসে এ সংখ্যাটি হয়েছে ৩১ জনে। এই হারে মৃত্যু হতে থাকলে তা আগের বছরের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। অথচ সরকারের লক্ষ্য আছে ২০৩০ সালের মধ্যে মৃত্যু শূন্যে নামানোর।

কয়েক বছর ধরেই জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা নিতে আসা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। প্রধানত কুকুরের কামড়ের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা থাকলেও বিড়ালের আঁচড় বা কামড়ের সংখ্যাও কম নয়।

ঢাকার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে টিকা নিতে আসা মানুষের সংখ্যা এখন বছরে ৮০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এর মধ্যে এখনও সিংহভাগই আসছে কুকুরের কামড় খেয়ে। তবে এ সংখ্যাটি কমে আসছে। কিন্তু বিড়ালের আক্রমণের শিকার মানুষদের সংখ্যাটি বাড়ছে।

টিকা নিতে আসা মানুষের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি জলাতঙ্কে মৃত্যুও তিন বছর ধরে ঊর্ধ্বমুখী। এ কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে জলাতঙ্কে মৃত্যু শূন্যে নামানোর যে লক্ষ্য, সেটি পূরণ হবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়।

এই পরিস্থিতিতেও দুই মাস ধরে পথকুকুরের টিকাদান বন্ধ ছিল, অথচ বছরের এই সময়টায় কুকুরের আক্রমণ বেশি থাকে।

আবার কুকুরের টিকাদান কর্মসূচি থাকলেও ঘুরে বেড়ানো বিড়ালকে টিকা দেয়ার কর্মসূচি নেই। যারা ঘরে প্রাণীটি পালেন, তারা অবশ্য নিজ উদ্যোগে টিকা দিয়ে থাকেন বিভিন্ন সেন্টারে।

কুকুরের টিকাদান কর্মসূচিতে জড়িত একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিড়ালের টিকাদানে কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। কারণ হিসেবে বলছেন, ৯৫ থেকে ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রে কুকুরের আক্রমণেই রোগটা হয়ে থাক। তাই কুকুরকেই প্রধানত টিকাগুলো দেয়া হয়। আর বিড়াল ধরাও সহজ নয়।

জলাতঙ্ক প্রতিরোধ দিবসে সংক্রামক প্রতিরোধ হাসপাতালে টিকার লাইন

জলাতঙ্ক প্রতিরোধের ডাক নিয়ে বুধবার বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও জলাতঙ্ক প্রতিরোধ দিবস পালনের দিন মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাাতালে টিকা নিতে আসা মানুষের সারি দেখা যায়।

টিকা নিতে আসা মো. তপনের বাসা মিরপুর ১৩ নম্বরে। আক্রান্ত হয়েছেন পথকুকুরের দ্বারা।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘রাস্তায় হাইটা যাইতেছি। হঠাৎ একটা কুকুর আইসা পায়ে কামড় দিল।’

কুকুরটাকে দেখে ক্ষিপ্ত মনে হয়েছিল কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘কিছুই টের পাই নাই। এই রকম তো অনেক কুকুর প্রতিদিন এলাকায় ঘোরাফেরা করে। তাই জলাতঙ্কের টিকা নিতে আসছি।’

সাত বছর বয়সী রিয়ামনিকেও টিকা দিতে নিয়ে এসেছেন তার মা। তাকেও বুধবার বিকেল ৫টার দিকে আচমকা কুকুর কামড় দেয় বলে জানান মা রশিদা বেগম।

বিড়ালের আক্রমণের শিকার হওয়া ১৩ বছরের মেয়েকে নিয়ে এসেছিলেন মাসাররাত হোসেন। চার দিন আগের ঘটনায় এক দফা টিকা দিয়েছেন আগেও, এবার এসেছেন দ্বিতীয় ডোজ নিতে।

মারাসাত বলেন, ‘বিড়ালটি পোষা নয়, ঘরের মধ্যেই কোথা থেকে এসে ঘোরাঘুরি করছিল। হতে পারে আশপাশের। তারপর কামড় দেয় মেয়েকে।’

আক্রান্ত, বিড়ালের আক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ছে

এই হাসপাতালের তথ্যমতে, ২০১১ সাল থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত ৬ লাখ ২১ হাজার ৬৪৭ জন জলাতঙ্কের টিকা নিয়েছেন।

এর মধ্যে ২০২০ সালে টিকা নেন ৬২ হাজার ২৯৩ জন। এর মধ্যে কুকুরের আক্রমণের কারণে ৪৫ হাজার ৪৪৭ জন এবং বিড়াল ও শিয়ালের আক্রমণের শিকার হন ১৬ হাজার ৮১৬ জন।

ওই বছরে জলাতঙ্কে মারা যান ২৯ জন, যারা আক্রমণের পরও টিকা নেনটি।

২০২১ সালে প্রাণীর আক্রমণ বৃদ্ধির বিষয়টি বোঝা যায় টিকার সংখ্যায়। সে বছর টিকা নেন ৭৪ হাজার ৬৬২ জন। এদের মধ্যে ৫২ হাজার ১২ জন কুকুরের কামড়ে এবং ২২ হাজার ৬৫০ জন বিড়াল বা শিয়াল দ্বারা আক্রান্ত হন।

ওই বছর জলাতঙ্কে মৃত্যু বেড়ে হয় ৩৯ জন।

চলতি বছরের ২৭ সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত টিকা নিয়েছেন ৬০ হাজার ৫০০ জন। বাকি তিন মাস এই হারে টিকা দেয়া হলে সংখ্যাটি বেড়ে ৮ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান।

এখন পর্যন্ত যত মানুষ এসেছেন, তাদের মধ্যে ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন কুকুরের এবং ২২ হাজার ৯৩৩ জন বিড়াল-শিয়াল দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন।

চলতি বছরের ৯ মাসে এখন পর্যন্ত জলাতঙ্কে মারা গেছেন ৩১ জন। একই হারে যদি পরের তিন মাসে মৃত্যু হয়, তাহলে তা আগের বছরের সংখ্যাটি ছাড়িয়ে যেতে পারে।

হাসপাতাল কর্মকর্তা মিজানুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, 'প্রাণীদের কামড় আগের থেকে বেড়েছে। কারণ মানুষ এবং প্রাণীর সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু সচেতনতা বাড়েনি।

‘এখন পর্যন্ত যারা মারা গেছেন, তাদের কেউ টিকা নেননি। আর এই টিকার কার্যকারিতা থাকে তিন মাস। তাই বুস্টার ডোজ নিতে হবে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল ইউনিট-সিডিসির কর্মকর্তা এস এম গোলাম কায়সার বলেন, ‘গণমাধ্যমের কাছে অনুরোধ থাকবে আপনারা সচেতনতা বাড়াতে কাজ করুন। যে মানুষগুলো মারা যাচ্ছে, তারা কেউ টিকা নেয়নি। কিন্তু জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে টিকাদানের সুযোগ আছে। কেউ আক্রান্ত হলে যেন টিকা নেন।’

গত তিন বছরে জলাতঙ্কে মৃত্যু বাড়ার বিষয়টি তুলে ধরে ২০৩০ সালের মধ্যে তা শূন্যে নামানো সম্ভব হবে কি না, এমন প্রশ্নে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা আশা করছি সম্ভব। ২০২০ সালে যে মৃত্যু কম হয়েছিল, সেটি হয়েছিল ওই বছর করোনার কারণে মানুষ বাইরে বেশি না হওয়ায়। তার আগের বছরগুলোতে প্রতি বছর মৃত্যু ৪০ থেকে ৫০ জনের মধ্যে থাকত।’

২০১১ সালে বছরে ৮২ জন মানুষ জলাতঙ্কে মারা গিয়েছিলেন বলে সিডিসির তথ্যে উল্লেখ আছে।

দুই মাস কুকুরের টিকা বন্ধ

প্রাণীর আক্রমণ এবং জলাতঙ্কে মৃত্যু বাড়তে থাকলেও গত দুই মাসে পথকুকুরকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেয়া বন্ধ থাকার তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, চলতি বছর প্রায় ৯০ হাজার কুকুরকে টিকা দেয়া হয়েছে। তবে গত দুই মাস এই কর্মসূচি বন্ধ ছিল।

কেন বন্ধ- এই প্রশ্নে সেই কর্মকর্তা বলেন, ‘২৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবসের প্রস্তুতির জন্য এই কর্মসূচি বন্ধ রাখা হয়। সামনে আবার কর্মসূচি শুরু হবে।’

রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল ইউনিট-সিডিসির কুকুর টিকাদান কর্মসূচির এমডিভির আওতায় পথকুকুরকে এই টিকা দেয়া হয়।

কুকুরকে দুই মাস টিকা দেয়া বন্ধ রাখার কারণ জানতে চাইলে এই বিভাগের কর্মকর্তা এস এম গোলাম কায়সার বলেন, ‘সরকারের অর্থবছর শেষ হয় জুনে। এরপর নতুন বরাদ্দ আসতে আসতে কিছু সময় লেগে যায়। সে সময় কুকুরকে টিকাদান বন্ধ রাখতে হয়।’

এই দুই মাস তাহলে ঝুঁকি তৈরি করে কি না- এমন প্রশ্নে সেই কর্মকর্তা বলেন, ‘বিষয়টি এমন না। আমাদের ক্যালেন্ডার ও হটস্পট অনুযায়ী টিকা দেয়া হয়। যেমন সামনে আমাদের টার্গেট আছে দেশের সব কুকুরকে তিন রাউন্ড টিকা দেব। আগে ঢাকায় দুই রাউন্ড এবং সারা দেশে এক রাউন্ড টিকা দেয়া হতো।’

বিড়ালকে টিকা না দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যারা এই প্রাণী পালেন, তারাই টিকা দিয়ে থাকেন। তবে ঘুরে বেড়ানো প্রাণীকে দেয়া হয় না। এগুলোকে ধরাও সহজ নয়। আর জলাতঙ্কের ক্ষেত্রে যেহেতু ৯৫ থেকে ৯৯ শতাংশ দায়ী কুকুর, তাই কুকুরকেই দেয়া হয়।

ভেট অ্যান্ড পেট কেয়ারের কনসালট্যান্ট রূপ কুমার বলেন, ‘জলাতঙ্ক সাধারণত কুকুর-শিয়ালের রোগ। আমাদের দেশে বা বিশ্বে জলাতঙ্কে আক্রান্ত প্রাণীর মধ্যে বিড়াল মাত্র ৪ শতাংশ। কুকুরের কামড় বা আঁচড় থেকে বিড়ালের শরীরে ভাইরাসটি ছড়ায়। তাই বিড়ালকেও দেয়া হয়।

‘তবে পোষ্য বিড়ালের ক্ষেত্রে ভ্যাকসিন দেয়ার হার বেশি, কারণ এদের মালিকরা হাসপাতাল বা ক্লিনিকে নেয়ার উদ্যোগ নেন।’

বেওয়ারিশ বিড়ালকে টিকার বাইরে রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এসব প্রাণীকে তো ধরা মুশকিল। তবে একেবারে দেয়া হয় না এমন না। আর বাজেটের অভাবও এটা সমস্যা।’

জলাতঙ্ক বাড়ছে, শূন্যে নামানোর লক্ষ্য পূরণে সংশয়
বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ভ্যাকসিনেশন প্রোগ্রামে বেওয়ারিশ বিড়ালকে জলাতঙ্কের টিকা দিচ্ছেন ডা. রূপ কুমার। ছবি: নিউজবাংলা

সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান আরও একটি বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি প্রাণীদের প্রতি সহনশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বলেন, ‘অনেকেই কুকুর দেখলে তাদের আক্রমণ করে। এটা না করে আচরণ বদলাতে হবে। তাদের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করতে হবে।

‘আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। সেটি হলো ডেথ রিভিউ। অর্থাৎ কোন এলাকায় মৃত্যু হয়েছে, সেই এলাকায় সামাজিকভাবে বসে সব কুকুরকে টিকা নিশ্চিত করতে হবে। আর কেউ কামড়ের শিকার হলে তাকে অবশ্যই হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে টিকার জন্য।’

আরও পড়ুন:
শিশুরোগ ‘হ্যান্ড ফুট মাউথ’ নিয়ে উদ্বেগ
জীবন যেভাবে বদলে গেল পুলিশ সুপারের
কুকুরেরও ঝরে আনন্দ-অশ্রু
‘ভুল রক্ত দেয়ায়’ হাসপাতালে প্রসূতির মৃত্যু, তদন্তে কমিটি
ভাতে বিষ মিশিয়ে কুকুর হত্যায় মাসুমের শাস্তি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
1 death due to dengue admission to hospital

ডেঙ্গুতে ১ মৃত্যু, বাড়ছে হাসপাতালে ভর্তি

ডেঙ্গুতে ১ মৃত্যু, বাড়ছে হাসপাতালে ভর্তি দেশে গত বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেয়া এক রোগী। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
বর্তমানে সারা দেশে ১ হাজার ৮২০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ৩৮৮ জন এবং ঢাকার বাইরে ৪৩২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।

কমছে না ডেঙ্গুর প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৫২৪ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আগের দিন মঙ্গলবার ডেঙ্গুতে সারা দেশে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৪৬০ জন।

একই সময়ে ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে মোট মৃত্যু দাঁড়াল ৫৫ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক বিবৃতিতে মঙ্গলবার এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় ৩৭৩ জন এবং ঢাকার বাইরে ১৫১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বর্তমানে সারা দেশে ১ হাজার ৮২০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ৩৮৮ জন এবং ঢাকার বাইরে ৪৩২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।

এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১৫ হাজার ৩৪৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১১ হাজার ৭৬৪ জন এবং ঢাকার বাইরে সারা দেশে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ৫৮২।

একই সময়ে সারা দেশে ছাড়প্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৪৭১ জন। এর মধ্যে ঢাকায় বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১০ হাজার ৩৩৯ জন এবং ঢাকার বাইরে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন ৩ হাজার ১২২ জন।

আরও পড়ুন:
ডেঙ্গু তো আমরাই লালন-পালন করছি: স্বাস্থ্যসচিব
হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির রেকর্ড
চুয়াডাঙ্গায় ৬ ডেঙ্গু রোগী
নগরে এডিস মশার লার্ভা, দেড় লাখ টাকা জরিমানা
ডেঙ্গু বাড়ছে কলকাতাতেও

মন্তব্য

বাংলাদেশ
A few times more than 250 beds and 250 patients

শয্যা আড়াই শ, রোগী কয়েক গুণ

শয্যা আড়াই শ, রোগী কয়েক গুণ ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ রোগী ভর্তি থাকায় হাসপাতালটিতে দেখা দিয়েছে শয্যা সংকট। হাসপাতালে আসা রোগীরা থাকছেন মেঝেতে ও বারান্দায়। ছবি: নিউজাবংলা
জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে হঠাৎ কেন রোগীর সংখ্যা ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি হচ্ছে, জানতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, এটি শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজের হাসপাতাল হিসেবে অস্থায়ীভাবে ব্যবহার হচ্ছে। এ কারণে পাশের কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ এবং শেরপুরের রোগীরাও এখানে আসছেন সেবার জন্য।

জেলার ২৫ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র ভরসাস্থল আড়াইশ শয্যার জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল। এক বছর ধরে প্রায় প্রতিদিনই ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ রোগী ভর্তি থাকায় হাসপাতালটিতে দেখা দিয়েছে শয্যা সংকট। হাসপাতালে আসা রোগীরা মেঝেতে ও বারান্দায় থাকছেন।

হঠাৎ কেন রোগীর সংখ্যা ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি হচ্ছে, তা জানতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, এটি শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজের হাসপাতাল হিসেবে অস্থায়ীভাবে ব্যবহার হচ্ছে। এ কারণে জামালপুরের পাশাপাশি কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ এবং শেরপুরের রোগীরাও এখানে আসছেন সেবার জন্য।

রোগী ও তাদের স্বজনেরা বলছেন, হাসপাতালে কয়েকদিন ভর্তি থাকার পরেও পাওয়া যায় না বেড। শয্যার সংকট থাকায় হাসপাতালের বারান্দা ও মানুষের চলাচলের রাস্তায় থাকতে হয় তাদের। এক বেডে থাকতে হয় একাধিক রোগীকে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে রোগী মশিউর রহমান বলেন, ‘আমি এখানে সাত দিন ধইরে ভর্তি। এখানে কোনো বেড নাই। নিচ থেকে পাটি নিয়ে আইসে থাকতে হয়। তাও অনেক সমস্যা। এক পাটির ভিতরে দুই তিন জন আইসে বইসে থাকে। ফ্লোর অনেক শক্ত। আমাদের থাকতে অনেক কষ্ট হচ্ছে।’

শয্যা আড়াই শ, রোগী কয়েক গুণ

চিকিৎসা সেবা নিতে আসা আরেক রোগী সুজন মিয়া বলেন, ‘এখানে বেডের খুব সমস্যা। এক বিছানার মধ্যে দুই জন বইসে আছি। খুবই কষ্ট হয়ে গেছে। মন চাইলে একটু ভালো মতো শুইতে পারি না, বসতে পারি না। এইভাবে কি থাকা যায়?’

একজন রোগীর স্বজন মানিক মিয়া বলেন, ‘আমরা আসছি আমার নাতি নিয়ে। এই জায়গার পরিবেশ তেমন সুবিধাজনক না। দুর্গন্ধ, জায়গায় জায়গায় ময়লা-টয়লা ফালাই রাখছে। কোনায় কানায় হাবিজাবি রাখছে। সিট নাই। এডা সিটের মধ্যে দুইডা, তিনডা কইরে রোগী। এমন পরিবেশে চলতাছে। এই জায়গায় আইসে রোগী আরো অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে।’

এদিকে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসা সেবা প্রদানের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে ধীরগতি। অতিরিক্ত রোগী ভর্তি থাকায় হাসপাতালে তৈরি হয়েছে নোংরা ও দুর্গন্ধময় পরিবেশ। এতে আরো বিপাকে পড়েছে রোগীরা।

বকুল মিয়া নামে একজন রোগী বলেন, ‘প্রায় ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেল আমি আসছি। আমার কোনো তথ্য, কোনো খোঁজখবর কেউ নেই নাই। ডাক্তারের কোনো সাজেশন পাওয়া যাইতাছে না। এদের তত্ত্বাবধান দুর্বলই। কোনো রোগীর তেমন তদারকি নাই। খুব কষ্টের মধ্যেই আছি।’

রোগীর স্বজন হাফিজুর রহমান বলেন, ‘এই জায়গার পরিবেশ অতো সুবিধাজনক হচ্ছে না। আর ডাক্তারও ঠিকঠাক মতো খোঁজখবর নিচ্ছে না। নার্সেরা ঠিকমতো খোঁজ নিচ্ছে না। আবার ডাক্তার রুমে ঠিকঠাক মতো থাকে না। এরকম অবস্থায় আছি আমরা। খুব সমস্যার মধ্যে আছি। আমরা গরীব মানুষ। তাই এই জায়গায় আসছি। টাকা থাকলে তো প্রাইভেট ডাক্তারের কাছেই যাইতাম।’

পেটের ব্যাথা নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগী শাওন মোল্লা বলেন, ‘এখানে কোনো পরিবেশও নাই। সাইডে কুকুর বইসে আছে, বিড়াল বইসে আছে। একটু যদি সরকার এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়, তাহলে হসপিটালের চিকিৎসার আরো উন্নয়ন হবে।’

শয্যা আড়াই শ, রোগী কয়েক গুণ

হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, ‘আড়াইশ শয্যার হাসপাতাল হলেও এখানে একশ শয্যার জনবল নিয়োগ দেয়া আছে। এর মধ্যেও বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নাই, নার্স নাই, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নাই। সব মিলিয়ে এ হাসপাতাল স্বাস্থ্য সেবার ক্ষেত্রে একটি হযবরল অবস্থা। আমরা শিগগিরই আড়াইশ শয্যার জনবল নিয়োগ চাই।’

এ বিষয়ে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মাহফুজুর রহমান সোহান বলেন, ‘আমাদের এই হাসপাতাল এখন অস্থায়ী শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজের হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহারের কারণে রোগীর চাপ অনেক বেড়ে গেছে। শুধু আমাদের জামালপুর না, পাশাপাশি কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ এবং শেরপুরের সমস্ত রোগী আমাদের এই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সেবার জন্য আসে। আমরা ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী নিয়েও তাদেরকে সেবা দিয়ে যাচ্ছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘রোগীদের ঠিকমতো জায়গা দেওয়াই এখন হাসপাতালের সবচেয়ে বড় সমস্যা। পাশাপাশি ডাক্তার, নার্সদের বসার রুম নেই। আমরা যদি এই আবাসনগত সমস্যার সমাধার করতে পারি, আমাদের হাসপাতালের ভবন যদি আরও সম্প্রসারিত হয়, তাহলে ইনশাল্লাহ আমরা এই রোগীদেরকে ভালো মানের সেবা দিতে পারব।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The doctor was released from the peon while going to jail

জেলে যাওয়ার সময় পিয়ন, ছাড়া পেয়ে ‘ডাক্তার’

জেলে যাওয়ার সময় পিয়ন, ছাড়া পেয়ে ‘ডাক্তার’ করোনার ভুয়া সনদ তৈরি করায় গ্রেপ্তার হন সাঈদ হোসেন। জামিনে মুক্তি পেয়ে গ্রামে গিয়ে হয়েছেন চিকিৎসক। ছবি: নিউজবাংলা
সাঈদ হোসেনের মা সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসকের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। মায়ের অনুরোধে সাঈদকে সাভার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পিওনের চাকরি পাইয়ে দেন সেই চিকিৎসক। করোনার ভুয়া সনদ বিক্রির অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হন ২০২০ সালের ২৫ মে। পরের বছর জামিনে মুক্তি পেয়ে ফেরেন বাড়িতে। সেখানে গিয়ে নামের সঙ্গে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করে শুরু করেন চিকিৎসা।

নওগাঁর সাঈদ হোসেন। ছিলেন ঢাকার সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর অফিস সহায়ক (পিয়ন)। ২০২০ সালে দেশে করোনা মাহামারি শুরু হলে বিদেশগামী যাত্রীদের কাছে করোনার জাল সনদ বিক্রির দায়ে গ্রেপ্তার হয়ে যান কারাগারে। জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি গ্রামের বাড়ি নওগাঁর হোগল বাড়িতে ফিরে বনে গেছেন চিকিৎসক।

সব রোগের ‘চিকিৎসা জানা আছে’ সাঈদের। তাই কাউকে ফেরান না। নামের আগে পদবিও লিখছেন, ‘ডাক্তার’। রোগীদের ওষুধ লিখে ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়।

সেই ব্যবস্থাপত্রে নিজের নামের পাশে ডিগ্রি হিসেবে লিখেছেন, ‘ডিএমএফ’, নিজেকে পরিচয় দিচ্ছেন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার।

কোত্থেকে এই ‘ডিএমএফ’ ডিগ্রি নিয়েছেন, এর মানে কী, কারা এই ডিগ্রি নেন, তার সনদ বা রোল-রেজিস্ট্রেশন নম্বর কী, তার কোনো কিছুই দেখাতে পারেননি সাঈদ।

এই ডিএমএফ ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের একটি ডিগ্রি। তবে যে কেউ এটি করতে পারেন এমন নয়। বিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করে পরীক্ষা দিয়ে এই কোর্সে ভর্তি হতে হয়।

চার বছরের এই ডিগ্রি শেষ করে সদনধারীদের কমিউনিটির ডাক্তার হিসেবে কাজ করতে হবে। তাদেরকে গ্রামে-গঞ্জে থাকতে হবে। শহরে থাকতে পারবেন না।

আবার হাইকোর্টের একটি রায় অনুযায়ী বিকল্প ধারার চিকিৎসা পদ্ধতির পেশাধারীরা নামের সঙ্গে ডাক্তার লিখতে পারবেন না।

চিকিৎসকদের নিবন্ধন দেয় যে সংস্থা, সেই বিএমডিসির আইনেও নিবন্ধনভুক্ত মেডিক্যাল বা ডেন্টাল ইনস্টিটিউট কর্তৃক এমবিবিএস অথবা বিডিএস ডিগ্রিধারী ছাড়া কেউ ডাক্তার পদবি ব্যবহার করতে পারবেন না।

তবে সাঈদ থাকেন শহরে। নওগাঁর সদর উপজেলার হোগল বাড়ি মোড়ে ভাই ভাই মেডিকেয়ার ফার্মেসিতে বসেন। রোগী দেখেন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত।

পরিচিতজনদের কাছ থেকে তথ্য মিলেছে, সাঈদ হোসেনের মা সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসকের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। মায়ের অনুরোধে সাঈদকে সাভার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পিওনের চাকরি পাইয়ে দেন সেই চিকিৎসক।

করোনা শুরু হওয়ার পর সাঈদ জড়িয়ে যান করোনার ভুয়া সনদ তৈরিতে। বিষয়টি জানাজানি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে করে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা। ২০২০ সালের ২৫ মে গ্রেপ্তার হন তিনি।

মামলাটির বিচার এখনও শেষ হয়নি। এর মধ্যে ২০২১ সালে জামিনে মুক্তি পান তিনি। ফিরে আসেন গ্রামের বাড়িতে। সেখানে একটি ফার্মেসি ও চেম্বার বসিয়ে শুরু করেন চিকিৎসা।


চিকিৎসা করাতে এসে প্রাণ যায় যায়

হোগল বাড়ি গ্রামের সাজু হোসেন নামে এক ভুক্তভোগী জানান, মাস তিনেক আগে তার বাচ্চার সুন্নাতে খাৎনা করান সাঈদের কাছে। এরপর থেকে শিশুর রক্তপাত থামছিল না। অবস্থা বেগতিক দেখে রাত দেড়টার দিকে শিশুটিকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান তার বাবা।

সাজু বলেন, ‘আমার বাচ্চা সেদিন মরেই যাচ্ছিল। আল্লাহ পুনরায় হায়াত দিছে।’

সেদিনের ঘটনা গ্রামের মাতব্বরদের জানালে শালিসে সাঈদকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

জেলে যাওয়ার সময় পিয়ন, ছাড়া পেয়ে ‘ডাক্তার’
সাঈদ হোসেনের দেয়া ব্যবস্থাপত্র। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয় মোতাহার হোসেন নামের এক প্রবীণ বলেন, ‘সাঈদ একটা ভুয়া ডাক্তার। আমার একটা সমস্যার জন্য দীর্ঘদিন থেকে তার কাছে চিকিৎসা করছি, কিন্তু রোগ সারেনা। উপায় না পেয়ে আমি শহরে ভালো ডাক্তার দেখাই। তারা আমাকে জানায় অসুখ অনুযায়ী ওষুধ ঠিক হয় নাই, রোগ সারবে কই থেকে?

‘পরে সেই ডাক্তার আমাকে এক শ টাকার ওষুধ দিছে, খেয়ে আমি বর্তমানে সুস্থ। এ তো রোগ-ই ধরতে পারে না, তাহলে কীসের ডাক্তার এই সাঈদ?’

চিকিৎসা নিতে আসা খাদেমুল ইসলাম নামে আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘প্রসাবের জ্বালাপোড়া, মাথা ঘোরানো ও চোখে ঝাপসা এই সমস্যা নিয়ে আসছি। এর আগেও চিকিৎসা নিয়েছি, কিন্তু কোনো উন্নতি হচ্ছে না। বরং সমস্যা আরও বাড়ছে। ১০দিন পর আসতে বলছিল, তাই আবার এসেছি।’

আবুল কালাম আজাদ হোসেন নামে স্থানীয় একজন বলেন, ‘সে (সাঈদ) তো ঢাকায় একটা হাসপাতালের পিওন ছিল। এরপর শুনেছি করোনার জাল সনদ বিক্রি করার জন্য জেলে গেছে। এখন জেল থেকে এসে আবার দেখি ডাক্তার হয়ে গেছে। সে কখন ভর্তি হলো, আর কখন চাকরি করল, আর কীভাবেই বা ডাক্তার হলো বিষয়টা তদন্ত হওয়া দরকার।’


সাঈদ যা বলছেন

সাঈদ হোসেনের চেম্বারে গিয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সাভার প্রিন্স মেডিক্যাল ইনস্টিটিটিউট (ম্যাটস) থেকে আমি ১১-১২ সেশনে ডিএমএফ করেছি।’

এর চেয়ে বেশি কোনো তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

আপনার কোনো সনদ বা পাশ করার প্রমাণ আছে- এমন প্রশ্ন করা হলে জবাব এড়িয়ে চেম্বার ছেড়ে বাইরে চলে যান সাঈদ।

পরে আবার ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সামনে মাসে ২৩ তারিখ আমার মামলার হাজিরা আছে। সেটা শেষ করে এসে সকল তথ্য দেবো, আমার সকল কাগজপত্র আছে।’

এক পর্যায়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ‘এসব ব্যাপারে কোনো তথ্য দিতে পারব না। আপনাদের যা ইচ্ছে করতে পারেন।’

বিষয়টি নিয়ে কথা হলে নওগাঁর সিভিল সার্জন আবু হেনা মোহাম্মদ রায়হানুজ্জামান সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি সম্পর্কে জানলাম। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
রোগীর পেটে কাঁচি ফেলে আসায় চিকিৎসক জেলে
নারী চিকিৎসক হত্যা: রেজাউলের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন পিছিয়েছে
‘ভুল চিকিৎসা’য় প্রসূতির মৃত্যুর জেরে সংঘর্ষ
নিজ হাসপাতালে হয়রানির শিকার হয়ে বিস্মিত চিকিৎসক
বাবার লাশের পাশে ফেসবুক লাইভ: অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
1 death in dengue admitted 460

ডেঙ্গুতে ১ মৃত্যু, ভর্তি ৪৬০

ডেঙ্গুতে ১ মৃত্যু, ভর্তি ৪৬০ দেশে গত বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেয়া এক রোগী। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় ৩২০ জন এবং ঢাকার বাইরে ১৪০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৪৬০ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

একই সময়ে ডেঙ্গুতে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে মোট মৃত্যু দাঁড়ালো ৫৪ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক বিবৃতিতে মঙ্গলবার এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় ৩২০ জন এবং ঢাকার বাইরে ১৪০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বর্তমানে সারা দেশে ১ হাজার ৭৩৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ৩১৪ জন এবং ঢাকার বাইরে ৪২৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।

এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১৪ হাজার ৮২২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১১ হাজার ৩৯১ জন এবং ঢাকার বাইরে সারা দেশে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ৪৩১ জন।

একই সময়ে সারা দেশে ছাড়প্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৩০ জন। এর মধ্যে ঢাকায় বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১০ হাজার ৫০ জন এবং ঢাকার বাইরে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন ২ হাজার ৯৮০ জন।

আরও পড়ুন:
ডেঙ্গুর প্রকোপ ‘অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত’
হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির রেকর্ড
ডেঙ্গুতে ২ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৩৭
ডেঙ্গুতে ১ মৃত্যু, কমেছে হাসপাতালে ভর্তি
ডেঙ্গু তো আমরাই লালন-পালন করছি: স্বাস্থ্যসচিব

মন্তব্য

বাংলাদেশ
A person was burnt in a gas fire in Dakshinkhane

দক্ষিণখানে গ‍্যাসের আগুনে এক ব‍্যক্তি দগ্ধ

দক্ষিণখানে গ‍্যাসের আগুনে এক ব‍্যক্তি দগ্ধ
বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন এস এম আই হোসেন বলেন, ‘রাজধানীর দক্ষিণখান থেকে আগুনে দগ্ধ একজন রোগী এখানে আনা হয়েছে। বাবুল মিয়া নামের ওই রোগীর শরীরের ৪৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক, যেহেতু তার শ্বাসনালী পুড়ে গেছে।’

রাজধানীর দক্ষিণখানে একটি টিনশেড বাড়িতে জমে থাকা গ্যাসের আগুনে বাবুল মিয়া নামে এক ব্যক্তি দগ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে দক্ষিণখানের আটিপাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনার পর তাকে দ্রুত উদ্ধার করে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন এস এম আই হোসেন বলেন, ‘রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকা থেকে আগুনে দগ্ধ একজন রোগী এখানে আনা হয়েছে। বাবুল মিয়া নামের ওই রোগীর শরীরের ৪৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক, যেহেতু তার শ্বাসনালী পুড়ে গেছে।’

আহত ব্যক্তির স্ত্রী সমলা বেগম বলেন, ‘দক্ষিণখান আটিপাড়া বড়বাগ মহিলা মার্কেটের পাশে মামুনের টিনশেড বাড়িতে স্বামী ও সন্তান নিয়ে রাতে ঘুমিয়ে ছিলাম। রাতে আমার স্বামী রান্না ঘরে গিয়ে গ্যাস লাইটার জ্বেলে মশাল কয়েল ধরাতে গেলে আগুন ধরে যায়। এতে তিনি দগ্ধ হন। পরে প্রতিবেশীরাসহ আমরা তাকে উদ্ধার করে রাতেই বার্ন ইউনিটে নিয়ে আসি। আমরা ধারণা করছি, জমে থাকা গ্যাসের আগুনেই তিনি দগ্ধ হয়েছেন।’

তিনি জানান, আহত বাবুল মিয়ার বাড়ি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার টেংরা গ্রামে। বাবার নাম হযরত আলী। পেশায় রিকশার মেকানিক।

আরও পড়ুন:
‘দুর্বৃত্তের’ আগুনে দগ্ধ দম্পতি: মারা গেছেন স্ত্রী
দুর্বৃত্তের আগুনে গুরুতর দগ্ধ দম্পতি
ডেসটিনির গুদামের আগুন নিয়ন্ত্রণে
সিলিন্ডারের আগুনে পুড়ে ছাই বসতঘর
চীনে নিভেছে জ্বলতে থাকা সেই ভবনের আগুন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Dengue patient admission record this year

হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির রেকর্ড

হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির রেকর্ড হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত সন্তানের সেবায় মা ও পরিবারের সদস্যরা। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় ৩২৫ জন এবং ঢাকার বাইরে ১১৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

দেশে চলতি বছর এক দিনে হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির সর্বোচ্চ রেকর্ড হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৪৪০ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছরে এক দিনে এটিই সর্বোচ্চ রোগী ভর্তির রেকর্ড।

রেকর্ড ভর্তির দিনে অবশ্য ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর খবর দেয়নি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক বিবৃতিতে শনিবার এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় ৩২৫ জন এবং ঢাকার বাইরে ১১৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বর্তমানে সারা দেশে ১ হাজার ৬২৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ২৭২ জন এবং ঢাকার বাইরে ৩৫৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।

এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১৩ হাজার ৪৪০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১০ হাজার ৪৩৪ জন এবং ঢাকার বাইরে সারা দেশে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ৬ জন।

একই সময়ে সারা দেশে ছাড়প্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ৭৬২ জন। এর মধ্যে ঢাকায় বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯ হাজার ১৩৯ জন এবং ঢাকার বাইরে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন ২ হাজার ৬২৩ জন।

আরও পড়ুন:
নগরে এডিস মশার লার্ভা, দেড় লাখ টাকা জরিমানা
ডেঙ্গু বাড়ছে কলকাতাতেও
এক দিনে ডেঙ্গুতে ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ৩৪৫
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ঢাকা উত্তরে সপ্তাহব্যাপী অভিযান
ডেঙ্গু পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে: তাপস

মন্তব্য

p
উপরে